Home বাজার দর অন্যান্য বুড়িগঙ্গা দূষণকারী সব কারখানা বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ

বুড়িগঙ্গা দূষণকারী সব কারখানা বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ

কারিকা প্রতিবেদক

পরিবেশগত ছাড়পত্র ও তরল বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) ছাড়া বুড়িগঙ্গা নদীর দুই তীরে থাকা সব শিল্পকারখানা এক মাসের মধ্যে বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। গত ৮ ডিসেম্বর পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতি এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদেশ বাস্তবায়ন করে পরিবেশ অধিদপ্তরকে আগামী ৮ জানুয়ারি এ ব্যাপারে হাইকোর্টে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিতে হবে।
একই দিনে বুড়িগঙ্গার সঙ্গে যুক্ত ড্রেন ও স্যুয়ারেজ লাইনগুলো পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার অগ্রগতির প্রথম প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আদেশ দেওয়া হয়েছে ঢাকা ওয়াসাকে।
পরিবেশ অধিদপ্তর হাইকোর্টকে জানায়, বুড়িগঙ্গা নদীর দক্ষিণ পাড়ে অবৈধভাবে পরিচালিত ৫২টি কারখানা নদীর পানিতে বর্জ্য ফেলে দূষণ ঘটাচ্ছে। কারখানাগুলোর পরিবেশগত ছাড়পত্র ও তরল বর্জ্য শোধনাগার বা ইটিপি প্ল্যান্ট নেই। এগুলোকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নদীটির উত্তর পাড়েও কিছু কারখানা অবৈধভাবে চলছে। হাইকোর্টের আগের নির্দেশ অনুযায়ী কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে বলে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়। ২০১৭ সালে এ রকম ২৭টি কারখানা ও চলতি বছর ১৮টি কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে জানায় পরিবেশ অধিদপ্তর।
অন্যদিকে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ হলফনামা দিয়ে বলেছে, যেসব পয়নিষ্কাশন লাইন দিয়ে বুড়িগঙ্গায় বর্জ্য পড়ছে, সেগুলো আগামী ছয় মাসের মধ্যে তারা বন্ধ করে দেবে। এ বিষয়ে কর্মপরিকল্পনার জন্য নতুন একটি কমিটি গঠন করা হবে। প্রতি মাসে ওয়াসা প্রতিবেদন দিয়ে অগ্রগতি জানাবে। ওয়াসার কোনো পয়নিষ্কাশন লাইন দিয়ে বুড়িগঙ্গায় বর্জ্য নিঃসরিত হয় না বলে গত জুনে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের প্রতিবেদন আকারে দেওয়া হলফনামা সঠিক নয়। এজন্য নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করে আগের প্রতিবেদনটি উপস্থাপন না করার আর্জি জানান ওয়াসার আইনজীবী।
আদালত বলেছেন, ওইসব পয়নিষ্কাশন লাইন বন্ধে ওয়াসার কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ভিত্তিতে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা মঞ্জুর করে রুল থেকে অব্যাহতির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। পয়নিষ্কাশন লাইন বন্ধে ওয়াসার অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
ওয়াসার পক্ষ থেকে গত ১৮ জুন আদালতকে জানানো হয়, ওয়াসার কোনো পয়নিষ্কাশন লাইন দিয়ে বুড়িগঙ্গায় বর্জ্য নিঃসরিত হয় না। তবে বিআইডব্লিউটিএ’র দাখিল করা অপর প্রতিবেদন অনুসারে, ৬৮টি পয়নিষ্কাশন লাইন বা ড্রেন রয়েছে, যার মধ্যে ওয়াসার ৫৬টি লাইন। এমন প্রেক্ষাপটে গত ১৭ নভেম্বর আদালত দূষণ রোধে পদক্ষেপ না নেওয়ায় ও বুড়িগঙ্গায় পয়নিষ্কাশন সংযোগ না থাকা বিষয়ে দৃশ্যত অসত্য তথ্যের বিষয়ে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) ১৫ দিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলেছিলেন।
আদালতে আবেদনকারী মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া ও রিপন বাড়ৈ। পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আমাতুল করীম। ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী উম্মে সালমা।
বুড়িগঙ্গা নদীর পানি দূষণ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে এইচআরপিবির পক্ষে ২০১০ সালে একটি রিট করা হয়। চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১১ সালের ১ জুন তিন দফা নির্দেশনাসহ রায় দেওয়া হয়। এর মধ্যে বুড়িগঙ্গায় বর্জ্য ফেলা বন্ধে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে এবং বুড়িগঙ্গা নদীতে সংযুক্ত সব পয়ঃপ্রণালির লাইন (স্যুয়ারেজ) ও শিল্পকারখানার বর্জ্য নিঃসরণের লাইন ছয় মাসের মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশনা রয়েছে। তবে ওই নির্দেশনা পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়ায় গত ৩০ এপ্রিল সম্পূরক আবেদন করে এইচআরপিবি। এর পরিপ্রেক্ষিতে নির্দেশনা বাস্তবায়নে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জানিয়ে বিবাদীদের আদালতে অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

NO COMMENTS

Leave a Reply