Home মূল কাগজ আপন আবাস বেলির সুবাসিত ঘর

বেলির সুবাসিত ঘর

0 2858

বেল, বেলি বা মল্লিকা উদ্ভিদ-শ্রেণিবিন্যাসে একই প্রজাতিভুক্ত। তবে অনেক সময় কেউ কেউ কুন্দ ফুলের সঙ্গে তালগোল পাকিয়ে ফেলেন। কারণ কুন্দ গাছ ও ফুল অনেকটা বেলির মতোই। আবার কুন্দের একটি প্রজাতি সুগন্ধিও। সুগন্ধের জন্য বেলি সব ধরনের বাগানে অনিবার্য। তাছাড়া বেশি জায়গাও প্রয়োজন হয় না। বেলি ফুলের গন্ধ অত্যন্ত মোহনীয় হওয়ায় বিভিন্ন প্রসাধন সামগ্রীতে এই ফুলের কৃত্রিম গন্ধ মেশানো হয়। জেসমিন নামে একটি সুগন্ধিও বাজারে পাওয়া যায়।
বেলি বাগানে যেমন চাষ করা যায়, তেমনি টবেও রাখা যায়। অনেকেই শখ করে ঘরের বারান্দায় দু-একটি বেলি রাখেন। কারণ এ ফুলের মোহনীয় সুবাস মাতিয়ে রাখে ঘর। তবে গাছ সতেজ রাখতে কিছু সময় রোদ ও বৃষ্টি প্রয়োজন। তাই সপ্তাহে অন্তত একবার হলেও খোলা আকাশের নিচে রাখা প্রয়োজন। তাহলে মৌসুমে ভালোভাবে ফুল ফুটবে।

রবীন্দ্রনাথ বিভিন্ন কবিতায় বেল বা বেলি ফুলের কথা বলেছেন। ‘বসন্তে উঠিত ফুটে বনে বেলফুল,/ কেহ বা পরিত মালা, কেহ বা ভরিত ডালা,/ করিত দক্ষিণ বায়ু অঞ্চল আকুল।’ অন্যত্র আছেÑ ‘মল্লিকা চামেলী বেলী/ কুসুম তুলহ বালিকা।’

বেলি (Jasminum sambac) ছোট ঝোপাল ধরনের গাছ, প্রায় ১ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। কচি ডাল রোমশ, পাতা একক, ডিম্বাকার, ৪ থেকে ৮ সেমি লম্বা, গাঢ়-সবুজ ও মসৃণ। সুগন্ধি এ ফুল ফোটে গ্রীষ্ম ও বর্ষায়, কয়েকটি এক থোকায়, ফুলের আকার ও গড়ন অনুসারে কয়েকটি প্রকারভেদ আছে। বংশবৃদ্ধি কলম ও শিকড় থেকে গজানো চারায়। শীতে ছেঁটে দিতে হয়। টবেও ভালো থাকে। এর মধ্যে জেসমিনাম অ্যাঙ্গুস্টিফোলিয়াম প্রজাতিটিই রবীন্দ্রনাথের প্রিয় মল্লিকা বলে ধারণা করা হয়।

মোকারম হোসেন

NO COMMENTS

Leave a Reply