Home সর্বশেষ ব্যবসায় সুদিন ফেরার আশা

ব্যবসায় সুদিন ফেরার আশা

0 45

বাজেটে আবাসন খাতে নিবন্ধন ফি কমেছে

কারিকা প্রতিবেদক

২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে আবাসন খাতে বিভিন্ন ধরনের ফি কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে খুশি রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। সংগঠনটি এই প্রস্তাবকে ‘যুগান্তকারী প্রস্তাব’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে আবাসন খাতে স্ট্যাম্প ডিউটিসহ নিবন্ধন ফি ১৪ থেকে ১৬ শতাংশের পরিবর্তে কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত রয়েছে। পাশাপাশি সুযোগ রাখা হয়েছে অপ্রদর্শিত অর্থ তথা কালোটাকা বিনিয়োগের। আবাসন ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, সরকারের এ সিদ্ধান্তে সুদিন ফিরবে তাদের ব্যবসায়।
জাতীয় সংসদে গত ১৩ জুন নতুন অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ‘সবার জন্য আবাসন, কেউ থাকবে না গৃহহীন’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ ঘোষণা বাস্তবায়নে নতুন অর্থবছরে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের জন্য ৬ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া বেসরকারি আবাসন খাতের জন্য বেশকিছু প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।
পরে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের আবাসন খাত দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে রয়েছে। এ খাতটি বিকশিত না হওয়ার অন্যতম কারণ স্ট্যাম্প ডিউটি ও রেজিস্ট্রেশন ফি অনেক বেশি। এর ফলে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। আর অপ্রদর্শিত আয়ের পরিমাণও বাড়ছে। আমরা সব রেজিস্ট্রেশন ফি যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করব। এর ফলে আবাসন খাত সম্প্রসারিত হবে এবং রাজস্ব আয়ও বাড়বে। একই সঙ্গে অপ্রদর্শিত আয়ের প্রবণতাও কমে যাবে বলে অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।
প্রস্তাবিত বাজেটে অপ্রদর্শিত বা কালোটাকার বিনিয়োগে রাজধানীর গুলশান, বনানী, ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকায় এবং চট্টগ্রামের কয়েকটি এলাকায় আবাসিক ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে প্রতি বর্গমিটারে আগের তুলনায় এক থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত কর ছাড় দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভাগীয়, জেলা বা পৌর এলাকায় কালোটাকার বিনিয়োগে জমি কিনতেও নির্দিষ্ট করা হয়েছে কর-হার। বাজেট বক্তৃতায় আছে ফ্ল্যাটের নিবন্ধন ফি কমানোর ঘোষণাও।
প্রসঙ্গত, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের জন্য ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাজেট বরাদ্দ ছিল ৪ হাজার ৯৬৩ কোটি টাকা। পরে সংশোধিত আকারে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা, যা মূল বাজেটের চেয়ে ১ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা বেশি। সংশোধিত বাজেটের তুলনায়ও ৪৫৭ কোটি টাকা বেশি।
এদিকে, নতুন অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উত্থাপনের পর রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট (১) সভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়ার পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি এই প্রস্তাবকে ‘যুগান্তকারী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
এতে বলা হয়েছে, ‘২০১৯-২০ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট বক্তৃতায় সরকার আবাসন খাতে নিবন্ধন ফি এবং স্ট্যাম্প ফি হ্রাস করার যে প্রস্তাব করেছে তার জন্য প্রধানমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রীকে রিহ্যাবের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সরকারের এই যুগান্তকারী প্রস্তাবের ফলে আবাসন খাতে বিদ্যমান স্থবিরতা বহুলাংশে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে বিশ্বাস করে রিহ্যাব।’
বাজেটে সরকার আবাসন খাতে যে বিনিয়োগ-সুবিধার প্রস্তাব করেছে, তা এই খাতে ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখবে এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে অভিমত দেওয়া হয়েছে।
এতে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্তরা যাতে ভাড়ার টাকায় মাথা গোঁজার একটা ঠিকানা খুঁজে পায় সেজন্য স্বল্প সুদের দীর্ঘমেয়াদি একটি তহবিল গঠনসহ রিহ্যাবের অন্য দাবিগুলো আগামীতে সরকার বাস্তবায়ন করবে।
রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট (১) লিয়াকত আলী ভূঁইয়া মনে করেন, আবাসন খাতে প্রস্তাবিত বাজেটে দেওয়া সুযোগ-সুবিধা এ খাতের সঙ্গে জড়িত প্রায় আড়াই’শ শিল্পখাত পরোক্ষভাবে পাবে, যা অর্থনীতির জন্য সুফল বয়ে আনবে।
তিনি বলেন, ‘কালো টাকা একসময় দেশের বাইরে চলে যেত। এখন সুযোগ থাকার ফলে এই টাকাটা দেশেই বিনিয়োগ করার সুযোগ পাওয়া যাবে।’

NO COMMENTS

Leave a Reply