Home অন্তর্জাতিক ভবিষ্যতের সবুজ ভবন

ভবিষ্যতের সবুজ ভবন

কারিকা ডেক্স


সবুজ ভবনের ধারণা শুরুতে যতটা মনে করা হয়েছিল, তারচেয়ে বেশি দ্রুততার সঙ্গে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। একেকটা ভবন যেমন মানুষের কাজের জন্য নির্মিত হয়, একইভাবে এটা অবসর আর বিনোদনের কাজেও আসে। দালান-কোঠাকে এড়িয়ে চলা আধুনিক এই নগর জীবনে সম্ভব নয়। যুগের চাহিদা থাকার কারণে ইট-কাঠ-পাথরের ভবনই এখন পরিবেশ রক্ষায় রাখছে ভূমিকা।

কিন্তু পৃথিবীর মোট ব্যবহৃত শক্তির ৪০ শতাংশ এই ভবনগুলোর পেছনে ব্যয় হয়। মোট কার্বন নিঃসরণের ৪০ শতাংশও আসে এসব ভবন থেকে। তাই সম্প্রতি এক হাজার পরিবেশবান্ধব মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে ইন্দোনেশিয়ায়। রেকর্ডসংখ্যক কোম্পানি একত্রিত হয়েছে সারা বিশ্বে অতিমাত্রায় ব্যবহারের কারণে বালির যে সংকট তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করতে।

টেকসই উন্নয়নের পথে হাঁটছে রেকর্ডসংখ্যক রিয়েল স্টেট ফার্ম
রেকর্ডসংখ্যক রিয়েল স্টেট কোম্পানি আগ্রহ প্রকাশ করেছে সবুজ প্রকল্প নিয়ে কাজ করতে এবং তাদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে সামাজিক সেবার মান। শক্তির ব্যবহার, বর্জ্য-ব্যবস্থাপনা ও সেটার পুনর্ব্যবহার, পানির ব্যবহার সবকিছুতে আধুনিকায়নের কারণে এসবের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক টেকসই রিয়েল স্টেট বেঞ্চমার্ক জরিপে। এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের ১২৪টি কোম্পানি নিজেদের পরিবেশবান্ধব টেকসই উন্নয়নে অংশীদার হয়েছে। এর অর্ধেকের বেশি কোম্পানি এসেছে অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ড থেকেও।

৩.৪ ট্রিলিয়ন ডলারের সুযোগ
দ্রুতগতিতে নগরায়ণের কারণে বর্তমানের চেয়ে ভবনের সংখ্যা ২০১৫ সালে ২৫ শতাংশ বাড়বে। ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশনের জরিপ বলছে, একই সময় সবুজ ভবন নির্মাণে বিনিয়োগ বেড়ে দাঁড়াবে ৩.৪ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত। ফিলিপাইনের আইএফসি কান্ট্রি ম্যানেজার ইউয়ান জু বলেন, ‘সবুজ ভবনের যে বাজার সেখানে আলোড়ন তুলতে পারলে এই খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ আরো বাড়বে।’

 

biophilia-1024x683

ভালো মানের নির্মাণের জন্য ভালো মানের উপকরণ
আগেকার সেই মাটির ঘরের যুগে ফিরে যাওয়া গেলে সেটাই পরিবেশের জন্য সবচেয়ে বেশি ভালো হতো। হতো আর্থিকভাবেও অনেক সাশ্রয়ী। সম্প্রতি শ্রীলংকার এক গবেষণা বলছে এমন কথা। এমআইটির গবেষকরা কংক্রিটকে কীভাবে আরও পরিবেশবান্ধব করে তোলা যায়, সেটা নিয়ে কাজ করছেন। টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানের বাজারও দিন দিন বেড়েই চলেছে। ২০২৬ সাল নাগাদ এটা উঠতে পারে ১২৭ বিলিয়ন ইউএস ডলার পর্যন্ত!
অবশ্য এতকিছুর পরও ভবন নির্মাণে সেই বালুর চাহিদা কিন্তু কমছে না মোটেও। এ ব্যাপারটা পরিবেশকে আরো বেশি হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

সবুজ ভবনের চেয়েও বেশিকিছু
কেবল সবুজ ভবন নির্মাণ করেই কার্বনের পরিমাণ যতটা কমানো দরকার, ততটা সম্ভব নয়। অন্তত জার্মান পরিবেশ প্রকৌশল ফার্ম ট্রান্সসোলারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক থমাস অর তেমনটাই মনে করেন। গেল বছর হংকংয়ে ওয়ার্ল্ড সাসটেইনেবল এনভায়রনমেন্ট কনফারেন্সে ইকো-বিজনেসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় না এই প্রযুক্তি আমাদের যেখানে পৌঁছানো দরকার, সেখানে পৌঁছে দিতে পারবে। তবে এটাও সত্যি, পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এই সবুজ ভবনের ধারণা। কিন্তু একই সঙ্গে আমাদের আচরণেও পরিবর্তন আনতে হবে। তাহলেই লক্ষ্য অর্জিত হবে।’

পরিবেশবান্ধব মসজিদ
মুসলমানদের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হিসেবে এক হাজার পরিবেশবান্ধব মসজিদ নির্মিত হচ্ছে ইন্দোনেশিয়ায়। দেশটির শীর্ষ ধর্মীয় সংগঠন ইন্দোনেশিয়ান উলেমা কাউন্সিলের (এনইউআই) উদ্যোগে নির্মিতব্য এসব মসজিদে ব্যবহার করা হবে নবায়নযোগ্য শক্তি। পানির যাতে সর্বোচ্চ সাশ্রয় করা যায় থাকবে সে ব্যবস্থা। থাকছে উন্নত বর্জ্য-ব্যবস্থাপনাও। একই সঙ্গে এই মসজিদগুলো হবে পরিবেশ-সংক্রান্ত শিক্ষার কেন্দ্র।
এমইউআইয়ের এক মুখপাত্র বলেন, ‘ইন্দোনেশিয়ার মুসলিমরা সরকারের চেয়ে এই ধর্মীয় সংগঠনের সিদ্ধান্তকে বেশি মানেন। তাই তাদের এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে দেশের জনপ্রিয় প্রজেক্ট হতে যাচ্ছে।’

NO COMMENTS

Leave a Reply