Home মূল কাগজ বিশেষ রচনা ভাড়াটের তথ্য সংগ্রহ বন্ধে আইনি নোটিশ

ভাড়াটের তথ্য সংগ্রহ বন্ধে আইনি নোটিশ

কারিকা ডেস্ক : রাজধানীতে বাড়ির মালিকদের মাধ্যমে ভাড়াটেদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের কাজ থেকে পুলিশকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়ে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। এ ছাড়া এ তথ্য সংগ্রহের আইনগত ভিত্তি কী, তা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে নোটিশে।
আইন ও স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকে মঙ্গলবার রেজিস্ট্রার ডাকে ওই নোটিশ পাঠানো হয়। পরে জ্যোতির্ময় বড়ুয়া সাংবাদিকদের বলেন, এভাবে ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়ার কোনো আইনি ভিত্তি পুলিশের নেই। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না পেলে তিনি আদালতে সুরক্ষা চাইবেন।
জ্যোতির্ময় বড়ুয়া আরও বলেন, নাগরিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয় তথ্য পুলিশ যেভাবে সংগ্রহ করছে, তার অপব্যবহার হওয়ার যথেষ্ট আশঙ্কা আছে। এসব তথ্য যদি কোনো ভুল ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হাতে পড়ে, তাহলে ব্যক্তির ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা আছে। সংবিধানে নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার যে অধিকার দেওয়া হয়েছে, পুলিশের এ উদ্যোগে সেটাও লঙ্ঘিত হতে পারে।
মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, রাজধানীর সব বাড়ির মালিক ও ভাড়াটেকে তাঁদের তথ্য দিয়ে ১৫ মার্চের মধ্যে পুলিশের সরবরাহ করা ফরম পূরণ করে থানায় জমা দিতে হবে। জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমন এবং নিরাপদ ঢাকা গড়তে এসব তথ্য হালনাগাদ করে একটি তথ্যভান্ডার করা হবে বলে কমিশনার জানান।
ওই সংবাদ সম্মেলনে কমিশনার আরও বলেন, রাজধানীর সব বাসায় ফরম পাঠানো হয়েছে। যাঁরা এখনো ফরম পাননি, তাঁরা থানায় যোগাযোগ করে ফরম সংগ্রহ করবেন। প্রতিটি থানাকে তার আওতাধীন প্রত্যেক ভাড়াটে ও বাড়ির মালিকের সব তথ্য সংগ্রহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মহল্লা, হোল্ডিং, লেনভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে। একজন ভাড়াটে চলে গেলে নিকটস্থ থানাকে তিনি জানিয়ে যাবেন, তাঁর নাম কেটে দেওয়া হবে এবং নতুন ভাড়াটের তথ্য যুক্ত করা হবে।
পুলিশের সরবরাহ করা ফরমে বাড়ির মালিক/ভাড়াটের নাম, পিতার নাম, জন্মতারিখ, স্থায়ী ঠিকানা, বৈবাহিক অবস্থা, মোবাইল ফোন, পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, পেশা-কর্মস্থল, পরিবারের সদস্যদের নাম, গৃহকর্মীর নাম-ঠিকানাসহ কিছু তথ্য চাওয়া হয়েছে।
এর আগেও বিভিন্ন থানা থেকে তথ্য চেয়ে বাড়ি বাড়িতে ফরম পাঠানো হয়েছিল। তবে বেশির ভাগ বাড়ির মালিক ও ভাড়াটে পুলিশকে তথ্য দেননি। পুলিশের দেওয়া সর্বশেষ হিসাবে রাজধানীতে দুই লাখের বেশি ফরম বিতরণ করা হয়েছিল।

NO COMMENTS

Leave a Reply