Home অন্তর্জাতিক ভ্যানকুভারে ট্রাম্প টাওয়ারে ২২ লাখ ডলারে ফ্ল্যাট!

ভ্যানকুভারে ট্রাম্প টাওয়ারে ২২ লাখ ডলারে ফ্ল্যাট!

কারিকা প্রতিবেদকঃ


কানাডার পশ্চিমাঞ্চলীয় ভ্যানকুভারে ট্রাম্প টাওয়ারে দুই বেডের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের দাম হাঁকা হয়েছে ২১ লাখ ৯৮ হাজার কানাডিয়ান ডলার। মার্কিন মুদ্রায় এর মূল্য দাঁড়ায় ১৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার। ভবনটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মালিকানাধীন ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যান্ড টাওয়ার ব্র্যান্ডের অধীনে নির্মাণ করা হয়েছে। এটি নির্মাণের আগেই এর ২৯০টি ফ্ল্যাটের সবগুলো বিক্রি হয়ে যায়। গত বছরের নভেম্বর মাসে ভবনটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়।
তবে ভ্যানকুভারের ট্রাম্প টাওয়ারের যে ফ্ল্যাটটি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তার বিশেষত্ব অন্য জায়গায়। এই ভবনের অন্যসব ফ্ল্যাটের তুলনায় এর দাম যথেষ্ট বেশি। ২০১৪ সালে এক বিনিয়োগকারী এটি কিনে নেন, তবে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর এখন পর্যন্ত সেখানে কেউ বসবাস করেনি। সেই সঙ্গে বিক্রির পর এর দাম হয়ে গেছে দ্বিগুণ। ফ্ল্যাটটির সজ্জা দেখলে মনে হবে, এটা কোনো চমকপ্রদ শোরুম।
‘প্যাঁচ খেয়ে’ উঠে যাওয়া ৬১৬ ফুট উঁচু ট্রাম্প টাওয়ারটি ৬৯ তলার। এর ২৯তম তলায় ওই ফ্ল্যাট। এতে দুটি শোবার ঘর রয়েছে। ঘর দুটোর সঙ্গেই একটা করে বাথরুম সংযুক্ত। বাথরুমের মেঝে মসৃণ মার্বেল পাথরে তৈরি, আর সিঙ্কটা তৈরি করা হয়েছে আগ্নেয়গিরির চুনাপাথর দিয়ে। ১ হাজার ১৮০ বর্গমিটারের এই ফ্ল্যাটে একটি অত্যাধুনিক রান্নাঘরও রয়েছে। এ ছাড়া আছে একটি ব্যালকনি, যেখান থেকে সাগর, তুষার-আবৃত পর্বত দেখা যায়। ফ্ল্যাটের তাপমাত্রা, আলোর ব্যবস্থা, নিরাপত্তা শুধু একটা বোতাম স্পর্শ করেই নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। এ কাজে সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেসটন হোমের সরবরাহ করা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা।
রঙের দিক থেকেও ফ্ল্যাটটি বিশেষ। চার ধরনের রঙ ব্যবহার করা হয়েছে। হালকা ধূসর, বাদামি, গোলাপি আর সাদা। যে রঙটা যে জায়গায় সবচেয়ে ভালো মানায়, সেখানেই সেটা ব্যবহার করা হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল সম্পদ-বাজার কানাডার ভ্যানকুভার। এ শহরে ট্রাম্প টাওয়ার নির্মাণের আগেই যেসব বিনিয়োগকারী সেখানে ফ্ল্যাট কিনেছিলেন, বর্তমান মূল্যে তা বিক্রি করে দিলেও তারা বেশ লাভের প্রত্যাশা করতেই পারেন।
স্থানীয় আবাসন এজেন্ট লেস তোয়ারগের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প টাওয়ারের অন্তত অর্ধেক সংখ্যক ফ্ল্যাটের মালিকই বিদেশি, যেমন চীন ও কোরিয়ার ক্রেতারা। তিনি দাবি করেন, ওই ভবনের বহু ফ্ল্যাট খালি পড়ে রয়েছে। এগুলোর মালিকরা ভাড়া দেওয়ার ঝামেলা এবং সেখান থেকে অতিরিক্ত আয়ের পথ এড়াতে চাইছেন। তাদের লক্ষ্য লাভসহ মূলধনটা তুলে নেওয়া।
শহরের নতুন নিয়মও হয়তো এই ফ্ল্যাট খালি পড়ে থাকার দৃশ্যের পরিবর্তন আনতে পারে। আগামী জুলাই মাস থেকে ছয় মাস বা তার বেশি সময় ধরে ফ্ল্যাট বা বাসাবাড়ি খালি পড়ে থাকলে বাসিন্দাহীন অবস্থার জন্য এক শতাংশ অতিরিক্ত কর দিতে হবে।
ট্রাম্প টাওয়ারের অবস্থান সম্পর্কে এজেন্ট লেস তোয়ারগ বলেন, শহরের ওই জায়গাটা বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত কাক্সিক্ষত একটা জায়গা। গত তিন বছরে ওই এলাকার সম্পত্তির মূল্য ৪০ শতাংশ বেড়েছে।
এখানে উল্লেখ্য, ভ্যানকুভারের ওই ভবনের মালিকানা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নয়। তবে তিনি তার নাম ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন। (ভ্যানকুভারের ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল হোটেল এবং টাওয়ারের মালিক ও নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান মূলত টিএ গ্লোবাল বিএইচডি।)
ভবনের বাসিন্দাদের যে কোনো সময় হোটেলে যাতায়াত ও সেখান থেকে সেবা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই ভবনে আরও আছে ফিটনেস সেন্টার ও সুইমিংপুল। এ ছাড়া এখানকার বাসিন্দারা ভবনের মট-৩২ নামের চাইনিজ রেস্তোরাঁ এবং দ্য স্পা বাই ইভানকা ট্রাম্প থেকে ১০ শতাংশ ছাড় সুবিধায় সেবা নিতে পারবেন।
ট্রাম্প টাওয়ারের যে বিলাসবহুল ফ্ল্যাটটি নিয়ে মূল আলোচনা, সেটি বিক্রির বিষয়টি দেখভাল করছে অ্যাঞ্জেল অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের এজেন্ট পিটার জুডাকি। তার মতে, ‘বহু ক্রেতাই ফ্ল্যাটটি দেখতে আসছেন। তাদের মধ্যে চীনা তরুণের সংখ্যাই বেশি। তারা এখানকার অবিশ্বাস্য সুযোগ-সুবিধা আর ভবনের নাম ট্রাম্প টাওয়ার হওয়ায় বেশি আকৃষ্ট হচ্ছেন, কারণ বিশ্বজুড়ে বিলাসবহুল আর আভিজাত্যের সমার্থক শব্দ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই নাম।’

NO COMMENTS

Leave a Reply