Home মূল কাগজ ইন্টেরিয়ার ভ্যাপসা গরমে প্রশান্তির ঘর

ভ্যাপসা গরমে প্রশান্তির ঘর

কামরুজ্জামান কাজল


রিনিঝিনি বরষার সময় শেষের দিকে। শেষ শ্রাবণে একটা ভ্যপসা গরমে ছাপিয়ে যায় প্রকৃতি। ঘরের বাইরে এই ভ্যাপসা ভাব অসহনীয় হয়ে যখন ঘরে ফিরলেন সেখানেও যদি দু-দন্ড প্রশান্তি না মিলে তাহলে কীভাবে হয়? ঘরকে তাই ভ্যাপসা গরম থেকে মুক্তি দিয়ে প্রশান্তিময় করার পরমর্শ দিলেন ফারজানা’স ব্লিজ এর স্বত্বাধিকারী ফারাজানা গাজী। তার মতে- গরমের তীব্রতা ইদানিং এতো বেশি যে জীবন অসহনীয় লাগে। রোদ আর বৃষ্টির ফাঁকে পরিত্রাণ মিলছে না ভ্যাপসা গরমের হাত থেকে। ক্ষনে ক্ষনে বৃষ্টির আগমনে আশেপাশের পরিবেশ হয়ে উঠেছে স্যাঁতসেঁতে। ঘরবাড়ি, জামা-কাপড়, আসবাবপত্রেও থাকছে ভেজা ভাব। বাড়তি সমস্যা হিসেবে যোগ হচ্ছে পোকা-মাকড়ের উপদ্রব। বাইরে গরমের উপর নিজেদের হাত না থাকলেও ঘরটাকে আমরা ঠান্ডা করে নিতে পারি খুব সহজেই। সেই সাথে দহৃর করতে পারি ভ্যাপসা ভাবও।
ঘর ঠাণ্ডা রাখার জন্য দুপুরের সূর্যের প্রখর তাপ ঘরে ঢুঁকতে দেয়া যাবে না। সেক্ষেত্রে দক্ষিন ও পশ্চিম পাশের জানালা বা যেগুলোতে সরাসরি সূর্যের আলো পড়ে সেসব জানালার পর্দা টেনে রাখুন। পর্দা ভারি হলে বেশি ভালো হয়। এসময় জানালাও বন্ধ রাখুন। আর রাতের বেলা অবশ্যই জানালা খুলে দিতে হবে, যাতে বাইরের ঠাণ্ডা বাতাস ঘরে প্রবেশ করতে পারে।ফ্যানের বাতাস দ্বিগুন পেতে এবং ভ্যাপসা গরম থেকে বাঁচতে রাতের বেলা আপনার টেবিল বা পোর্টেবল ফ্যানটি জানালার কাছে চালিয়ে দিন। এটি বাইরের ঠাণ্ডা হাওয়া ভেতরে নিয়ে আসবে এবং ঘরের অসহনীয় গরম দূর হবে ।
ইনস্ট্যান্ট এসির সুবিধা পেতে টেবিল ফ্যানের সামনে গামলা ভর্তি বরফ রেখে ফ্যান চালিয়ে দিন। আবার একটি পানির বোতল বরফ করে ফ্যানের সামনে রাখতে পারেন। এতে যখনই ফ্যান চালাবেন বাতাসের সঙ্গে বরফের ঠাণ্ডা হাওয়া যোগ হয়ে এসির মতই কাজ করবে । বাসা অতিরিক্ত গরম থাকার আরও একটি কারণ হচ্ছে বিনা প্রয়োজনে ইলেক্ট্রনিক জিনিস অন করে রাখা। অনেককেই দেখা যায় কারণ ছাড়াই টেলিভিশন, ফ্যান, বাতি, কম্পিউটার ইত্যাদি অন করে রাখেন। এর ফলে ঘরের তাপমাত্রা আরও বেড়ে গিয়ে অতিরিক্ত গরম আবহাওয়া তৈরি করে। তাই বিনা প্রয়োজনে এসব জিনিস বন্ধ করে রাখতে হবে। এর ফলে অত্যধিক গরম থেকে বাঁচার সঙ্গে সঙ্গে ইলেক্ট্রিসিটি বিলও কম আসবে। আর যদি দিনের বেশির ভাগ সময়ই বাসায় থাকতে হয় তবে এসব ইলেকট্রিক জিনিস যতটা সম্ভব এমন সময়ে চালাবেন যখন তুলনামূলক কম গরম থাকে। বিছানা চাদর, বালিশের কাভার সবকিছুই হালকা রঙের হলে গরম কম ধরে। নমনীয় রঙে চোখের প্রশান্তি আসবে আবার গরমও কম লাগবে। রান্নার কাজ সকালেই সেরে নেয়া ভালো। রান্নাবান্নার কাজ ছাড়া গ্যাসের চুলা বন্ধ রাখতে হবে। আমাদের অনেকেরই অভ্যাস রয়েছে সারাদিন প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে রাখা। এর ফলেও ঘরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। জানালার কাঁচের মধ্য দিয়ে সূর্যের তাপ শোষিত হয়ে ঘরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে তোলে অনেকখানি। এসব ক্ষেত্রে যেসব জানালা সরাসরি সূর্যের আলোতে পড়ে সেসব জানালায় হিট প্রটেক্টিং উইন্ডো ফিল্ম লাগান। এতে করে জানালার ভিতর
দিয়ে সূর্যের তাপ শোষণ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায় এবং ঘরও ঠাণ্ডা থাকে। এছাড়াও জানালার বাইরের দিকে সাদা রঙ করে দিলে সূর্যের আলো প্রতিফলিত হয়ে যাবে এবং কম তাপ শোষণ করবে ।যদি সম্ভব হয় তবে বাড়ির পূর্ব ও পশ্চিম পাশে বেশি করে গাছ লাগান। বাসার আশেপাশে গাছ থাকলে সরাসরি সূর্যের আলো পড়ে না যার ফলে ঘরের পরিবেশ
ঠাণ্ডা থাকে । বহুতল ভবনে যে বাসিন্দারা একেবারে ওপরের তলায় (টপ ফোর) থাকেন, তাঁরা অন্যদের তুলনায় বেশি গরমে থাকেন। সেক্ষেত্রে শীতলীকরণের বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। সম্ভব হলে আরেকটি জলছাদ তৈরি কিংবা ফাঁপা ইটের (হলো ব্রিক) মাধ্যমেও গরমের প্রকোপ কামানো যেতে পারে। এ ছাড়া ছাদে বাগান করলেও তাপ সরাসরি ঘরে আসবে না। শুধু ছাদের বাসিন্দাদের ক্ষেত্রেই নয়, ঘর শীতল রাখতে বারান্দায় গাছ রাখতে পারেন সবাই। রোদের তাপ গাছ শোষণ করে, ঘর ঠান্ডা থাকবে।
স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া ঘর আরও বেশি গরম করে তোলে। এই সমস্যা থেকে রা পেতে গোসল বা কাপড় চোপড় ধোয়ার কাজটি হয় একদম সকালে না হয় বিকেলের দিকে করা ভালো। কারণ দুপুর বা দিনের গরম সময়ের দিকে এই কাজ গুলো করলে ঘরের পরিবেশ আরও আর্দ্র বা স্যাঁতসেঁতে হয়ে যায়। তখন ঘর আরও গরম হয়ে উঠে। মনে রাখতে পারেন আরো যা কিছু

* বর্ষায় ঘরের মেঝেতে স্যাঁতসেঁতে ভাব হয় সহজে। এই ভেজাভাব দূর করতে রুম ফ্রেশনার স্প্রে করুন। দেখবেন ঘরের ভেতর একটা ফ্রেশ ভাব ফুটে উঠবে।
* ঘরের দেয়ালের ছাদকে ছায়ায় রাখার চেষ্টা করতে হবে। সম্ভব হলে বারান্দা, সানশেড, কার্নিশ ব্যবহার করুন।
* বাতাস চলাচলের জন্য দণি, পূর্ব-দণি দিকে যতটা পারা যায় খোলা জায়গা রাখতে হবে।
* বেশি ব্যবহৃত কগুলো দণি, দণি-পূর্ব দিকে রাখা ভালো।
* উত্তর দিকে সূর্য আসে না, তাই বাড়তি উত্তাপও হয় না। তবে গরমকালে বাতাসও আসে না, তাই ভেতরের আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ার উপক্রম হবে। পশ্চিমে সূর্যের আলো অনেকটা হেলানভাবে দেয়ালে পড়ায় দেয়ালে ছায়া পাওয়া যায় না। পশ্চিমের দেয়াল তাতে গরম হয়।
* মেঝেতে কার্পেট ব্যবহার করছেন? সেটা উঠিয়ে রাখতে পারেন শীতকালের জন্য। কার্পেটসহ তাপ ধরে রাখে এমন আবরণ ব্যবহার না করা ভালো। তাহলে ভ্যাপসা গরমে কিছুটা স্বস্তির খোঁজ পাবেন আপন নীড়ে।

 

NO COMMENTS

Leave a Reply