Home ঠিকানা মুক্তিযোদ্ধারা বিনাসুদে, বিচারক ও বিশ্ববিদ্যালয়-শিক্ষকদের স্বল্পসুদে গৃহঋণ

মুক্তিযোদ্ধারা বিনাসুদে, বিচারক ও বিশ্ববিদ্যালয়-শিক্ষকদের স্বল্পসুদে গৃহঋণ

0 146

কারিকা প্রতিবেদক
মুক্তিযোদ্ধাদের বিনাসুদে এবং নিম্ন আদালতের বিচারক ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের স্বল্পসুদে গৃহঋণ দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ ছাড়াও সরকারি চাকরিজীবীদের গৃহঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বয়সসীমা বাড়ানো হয়েছে। আগে ৫৬ বছর বয়সী সরকারি চাকরিজীবীরা গৃহঋণ পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হতেন। নতুন নীতিমালায় বয়সসীমা দুই বছর বাড়িয়ে ৫৮ বছর করা হয়েছে। সেই সঙ্গে নতুন গৃহঋণ নীতিমালায় বিচারকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর স্বল্প সুদের গৃহঋণ-সুবিধার আওতায় বিচারকদের অন্তর্ভুক্ত করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায় আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়। অর্থ সচিবকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়, গৃহনির্মাণ-ঋণ নীতিমালাটি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের ঋণসুবিধা দেওয়ার জন্য প্রযোজ্য হলেও বিচারকদের জন্য প্রযোজ্য কিনা, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কিছু উল্লেখ নেই। তবে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় মনে করে, জুডিশিয়াল সার্ভিস (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ-২০১৬-এর আওতাধীন কর্মচারীদের গৃহঋণ-সুবিধা দেওয়া সমীচীন হবে।
এর পরই নীতিমালাটি নতুন করে তৈরির কাজে হাত দেয় অর্থ বিভাগ। নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসে স্থায়ীভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত সদস্যরা সরকারি কর্মচারী হিসেবে গণ্য হবেন এবং এই নীতিমালার আওতাভুক্ত হবেন।’
বিচারকদের অন্তর্ভুক্ত করার আগে অর্থ বিভাগের এক হিসাব অনুযায়ী, স্বল্পসুদে গৃহঋণ দিতে সরকারকে প্রতি বছর ১ হাজার কোটি টাকা করে ভর্তুকি দিতে হবে। এখন তা আরও বাড়বে। অর্থ বিভাগের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারীর মধ্যে অন্তত অর্ধেক গৃহঋণ-সুবিধা নেবেন। আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নিম্ন আদালতে বর্তমানে দেড় হাজারের বেশি বিচারক রয়েছেন।
নীতিমালা অনুযায়ী, চাকরি স্থায়ী হওয়ার পাঁচ বছর পর থেকে সরকারি কর্মচারীরা ২০ থেকে ৭৫ লাখ টাকা গৃহঋণ-সুবিধা পাবেন। আবেদনের জন্য সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৫৮ বছর এবং ২০ বছরের মধ্যে এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে। বাজারে সুদের হার যা-ই থাকুক-না কেন, ঋণগ্রহীতাকে পরিশোধ করতে হবে ৫ শতাংশ সরল সুদ। সুদের বাকি অর্থ সরকার ভর্তুকি হিসেবে পরিশোধ করবে।
সরকারি কর্মচারীদের ঋণ দিতে ইতোমধ্যে জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক এবং বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের (বিএইচবিএফসি) সঙ্গে আলাদা সমঝোতা স্মারক সই করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
বিচারকদের গৃহঋণ-সুবিধার আওতায় আনার পর দেশের ৪৫টি পাবলিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তারাও সহজ শর্তে গৃহঋণ প্রাপ্তির দাবি জানান। প্রথম দিকে কোনো সিদ্ধান্ত না হলেও পরে নতুন গৃহঋণ নীতিমালায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ঢালাওভাবে এ ঋণ-সুবিধা দেওয়া হবে না। শুধু পদস্থ কর্মকর্তারা এর আওতায় আসবেন। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা গৃহনির্মাণ-ঋণের সুবিধা পেলেও স্বল্পসুদে বা ভর্তুকিতে ঋণ-সুবিধা পান না। অথচ শিক্ষকের সংখ্যা খুব বেশি নয়। এটি বাস্তবায়ন করলে বাজেটেও খুব একটা চাপ পড়বে না।
সরকারি কর্মচারী, বিচারক, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ৫ শতাংশ সরল সুদে গৃহঋণ দেওয়ার পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের বিনাসুদে গৃহঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরকারি হিসাব মতে, এই ঋণের সম্ভাব্য প্রার্থী হবেন ১ লাখ ৬১ হাজার ২৪৪ জন। সে হিসাবে দরকার পড়বে ১৬ হাজার ১২৪ কোটি টাকা। ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে ভূমিহীন ও অসচ্ছল জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। মুক্তিযোদ্ধা গৃহঋণ প্রকল্পের আওতায় প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধাকে পাকাবাড়ি নির্মাণের জন্য বিনাসুদে ১০ লাখ টাকা ঋণ দেয়া হবে। বিনাসুদে বলা হলেও, ৫ শতাংশ সুদ ব্যাংকগুলোকে ভর্তুকি আকারে দেবে সরকার। প্রতি বছরের বাজেটেই এ ব্যাপারে বরাদ্দ রাখা হবে। ২ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে নেওয়া হবে সেবা মাশুল হিসেবে। আর ১ শতাংশ ব্যাংকগুলো তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ব্যয় করবে।
ঋণগ্রহীতা মুক্তিযোদ্ধা মারা গেলে মুক্তিযোদ্ধার অবর্তমানে যিনি ভাতা পান, তিনিই হবেন বাড়ির উত্তরাধিকারী।
সরকার বর্তমানে সোনালী, জনতা, অগ্রণী, বাংলাদেশ কৃষি ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা দিয়ে থাকে। তাই বর্ধিত এ ঋণ-সুবিধা এসব ব্যাংকের মাধ্যমে দেয়ার প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

NO COMMENTS

Leave a Reply