Home মূল কাগজ আপন আবাস মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নে সরকারের সহযোগী হয়ে কাজ করছে রিহ্যাব

মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নে সরকারের সহযোগী হয়ে কাজ করছে রিহ্যাব

0 262

প্রকৌশলী মোহাম্মদ সোহেল রানা
ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফিন্যান্স), রিহ্যাব ও
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, রিহ্যাব উইন্টার ফেয়ার ২০১৯ স্ট্যান্ডিং কমিটি

সাক্ষাৎকার গ্রহণ : মির্জা মাহমুদ আহমেদ

রিহ্যাব উইন্টার ফেয়ার ২০১৯-এর লক্ষ্য কী?
এবার আমাদের ৩৭তম আয়োজন। এর আগে ৩৬টি রিহ্যাব ফেয়ার আয়োজনের মধ্য দিয়ে আবাসন খাতে আমরা বাংলাদেশে নিজেদের একটা ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। এই ব্র্যান্ডটা হচ্ছে দেশের সবচেয়ে বড় আবাসন মেলা আয়োজনের দিক দিয়ে।
রিহ্যাব ফেয়ারের লক্ষ্য থাকে ক্রেতা, ডেভেলপার এবং হাউজ ফাইন্যান্সিং প্রতিষ্ঠান যারা আছে, বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস বিক্রেতা যেসব কোম্পানি আছে-সবাইকে এক প্ল্যাটফর্মে আনা। যেখানে ক্রেতা সেরা জিনিসটা পছন্দ করে, যাচাই-বাচাই করে কিনে নিতে পারেন। অন্যদিকে ডেভেলপার যেন তার সবচেয়ে ভালো পণ্যটি ভালো মূল্যে বিক্রি করতে পারেন। এ ছাড়াও হাউজ ফাইন্যান্সিং যেসব প্রতিষ্ঠান আছে, তারা যেন সঠিক উপায়ে তাদের সার্ভিস ইমপ্লিমেন্ট করতে পারে-এটাও আমাদের লক্ষ্য। সব মিলিয়ে আবাসন ব্যবসাকে আরও বর্ধিত এবং আরও উন্নত করাই রিহ্যাব ফেয়ারের লক্ষ্য।

সাম্প্রতিক সময়ে সরকার গৃহঋণের সীমা বাড়ানোসহ আবাসন খাত বিষয়ে কিছু ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত রিহ্যাব ফেয়ারে কেমন প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন?
সরকারের এসব সিদ্ধান্ত আবাসন খাতে সু-বাতাস নিয়ে এসেছে। গৃহঋণের সীমা বাড়িয়ে দেওয়ায় উচ্চ এবং মধ্যম মূল্যের ফ্ল্যাট বিক্রি বাড়বে। বর্তমানে ঢাকায় উচ্চ ও মধ্যমমানের কোনো ফ্ল্যাট কোটি টাকার নিচে পাওয়া যায় না। ব্যক্তিগত পর্যায়ে গৃহঋণের সীমা বর্ধিত করায় ফ্ল্যাট বিক্রিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা যায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের এটি একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। এ ছাড়াও রেজিস্ট্রেশন ফি কমানোর ঘোষণা ইতিমধ্যে দেয়া হয়েছে। আমরা আশা করব ঘোষণাটি দ্রুত গেজেট আকারে প্রকাশ করে আইনে পরিণত করা হবে এবং রেজিস্ট্রেশন ফি নির্ধারণ করে দেয়া হবে। সার্কভুক্ত এবং অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে রেজিস্ট্রেশন ফি অনেক বেশি। রেজিস্ট্রেশন ফি কমালে আবাসন ব্যবসা আরও চাঙ্গা হবে এবং রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে সরকার আরও বেশিমাত্রায় রাজস্ব আদায় করতে পারবে।

মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের আবাসনে রিহ্যাব কী ধরনের ভূমিকা রাখছে?
উচ্চবিত্তদের জন্য রিহ্যাব সদস্যভুক্ত আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন ফ্ল্যাট তৈরি করছে, তেমনি মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তদের জন্য ঠিক একই পরিমাণ ফ্ল্যাট তৈরি করছে। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেশি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হচ্ছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তদের কথা মাথায় রেখে নিদিষ্ট কিছু এলাকায় রিহ্যাব সদস্যভুক্ত আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলো বেশ কম দামে ফ্ল্যাট বিক্রি করছে। নির্মাণ-ব্যয়ের বাইরে খুব বেশি যে তারা লাভ করছে-এমনটা নয়। আমাদের ব্যবসাটা প্রধানত মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তদের নিয়েই। এটাকে ফোকাস করেই আমরা আমাদের ব্যবসা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।

বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে একটি বিশেষ অঙ্গীকার ছিল : গ্রাম হবে শহর। এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে রিহ্যাব কী কাজ করছে?
আবাসন ব্যবসা করার মতো উপযোগী পরিবেশ পেলে রিহ্যাব সেখানে পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তুলতে আগ্রহী। আমরা অবশ্যই শহর গড়ার কারিগর। যেখানে শহর গড়ে উঠছে সেখানে আমরা সরকারের সঙ্গেও আছি, জনগণের সঙ্গেও আছি। যেখানে উন্নয়ন হবে সেখানে আমরা পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তুলব।
আবাসন ব্যবসাকে রিহ্যাব শুধু ব্যবসা হিসেবে দেখে না। আমাদের সংবিধানে বাসস্থানকে মৌলিক অধিকার হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। সেই মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নে রিহ্যাব সরকারের সহযোগী হয়ে কাজ করছে।

NO COMMENTS

Leave a Reply