Home চট্টগ্রাম রডের দাম বাড়ায় অসন্তোষ

রডের দাম বাড়ায় অসন্তোষ

কারিকা ডেক্স


দেশের বাজারে হঠাৎই বেড়ে গেছে রডের দাম। এ নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে নির্মাণখাত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। ইস্পাত শিল্প-মালিকদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে পরিবহন-খরচ বৃদ্ধি, টাকার অবমূল্যায়ন, ব্যাংকের সুদের হার বৃদ্ধি এবং চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাস বিলম্বের কারণে রডের দাম বেড়েছে। তবে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রির (বিএসিআই) অভিযোগ, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দাম বাড়ানো হয়েছে।
গত ২৯ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলনে বিএসিআই’র পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, অধিক মুনাফা হাতিয়ে নিতে দেশের ইস্পাত শিল্প-মালিকরা নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়ে চলেছে। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) অনুষ্ঠিত ওই সংবাদ সম্মেলনে বিএসিআই সভাপতি মুনীর উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘রডের দাম এতটা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি যুক্তিযুক্ত নয়। প্রকৃতপক্ষে এসব কারণে দর বৃদ্ধির মধ্যে ধরলে দেশের বাজারে রডের মূল্য সর্বোচ্চ ৭ থেকে ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। কিন্তু গত ৬ মাসে দেশে রডের দাম ৫০ শতাংশ বেড়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া তথ্যানুসারে, দেশে গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে প্রতি টন রডের দাম ছিল ৪৮ হাজার টাকা। যা এখন ৭২ হাজার টাকায় উঠেছে। ছয় মাস ব্যবধানে পণ্যটির দাম ৯ দফা বাড়িয়েছে উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো। তবে এ সময়ের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক বাজারে রডের কাঁচামালের দাম উল্টো কমেছে। কারণ গত সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক বাজারে রডের দাম ছিল ৫৬০ ডলার, যা এখন নেমেছে ৫২৫ ডলারে।
বিএসিআই’র সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএসিআই’র সাবেক সভাপতি শেখ মো. রফিকুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি সফিকুল আলম ভুইয়া, সাবেক সভাপতি আতিকুর রহমান, সাবেক সভাপতি আফতাব উদ্দিন আহমেদ ও সহ-সভাপতি এসএম খোরশেদ আলম।
এদিকে, একই দিন অপর এক অনুষ্ঠানে ‘রডের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির’ কারণ জানতে চায় ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। রাজধানীর মতিঝিলে ফেডারেশন ভবনে এক মতবিনিময় সভায় এ বিষয়ে জানতে চান এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন। আসন্ন ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের বাজেট উপলক্ষে রাজস্ব নীতিমালা, আমদানি শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর (মুসক) ও আয়কর এবং মাঠ পর্যায়ে মুসক ও কর সম্পর্কিত নানাবিধ সমস্যা নিয়ে ওই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে ইস্পাত শিল্প-মালিকদের উদ্দেশে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘আপনাদের কত টাকা উৎপাদন খরচ বেড়েছে? আর বাজারে দাম বাড়িয়েছেন কত? দাম বাড়ানোর যৌক্তিকতা কতটুকু বলেন। এটার সঙ্গে ব্যবসায়ীদের ভাবমূর্তি জড়িত হয়ে পড়েছে।’
প্রতিউত্তরে রড ব্যবসায়ীদের একজন প্রতিনিধি বলেন, ‘দাম বাড়ার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো রডের কাঁচামাল যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করতে হয়। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র এ কাঁচামালের ওপর কর বাড়িয়েছে। আগে যেখানে আমদানি খরচ ৩০০ ডলার লাগতো, এখন লাগে ৪৩০ ডলার। এ ছাড়া বন্দর ও পরিবহন খরচ বেড়েছে।’
এরপর এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি রড ব্যবসায়ীদের দাম বাড়ার যৌক্তিক কারণ লিখিত আকারে জানাতে বলেন।
শুধু রড নয়, বাজারে নির্মাণ-খাতের অন্য প্রধান উপকরণ সিমেন্টের দামও বেড়েছে বস্তাপ্রতি ৬০ টাকা। সার্বিক এ পরিস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলনে সরকারের হস্তক্ষেপে আহব্বান করে বিএসিআই। অন্যথায় ১৫ এপ্রিল থেকে সমস্ত নির্মাণ-কাজ বন্ধ করে দেওয়ারও হুমকি দিয়েছে সংগঠনটি।
সংগঠনটির সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ভৌত অবকাঠামো নির্মাণে রড-জাতীয় পণ্যের পরিমাণ হয় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। তাই রডের মূল্য বৃদ্ধি পেলে পুরো স্থাপনার নির্মাণ-ব্যয় ৭ থেকে ৮ শতাংশ বেড়ে যায়। এতে পূর্বে চুক্তিবদ্ধ কাজে লোকসান করে ঠিকাদাররা। এছাড়া গ্রাম-গঞ্জে ব্যক্তিগত স্থাপনা নির্মাণ বাধাগ্রস্ত হয়। ইতিমধ্যে এমন পরিস্থিতিতে সারা দেশে প্রচুর নির্মাণ-কার্যক্রম বন্ধ হয়ে রয়েছে।
মুনীর উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আগে কয়েকবার সরকারের বিভিন্ন মহলকে চিঠি দিয়েছি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে অবগতও রয়েছে। এরমধ্যে এফবিসিসিআই আমাদের সঙ্গে ইস্পাত শিল্প-ব্যবসায়ীদের একটি বৈঠকের আশ্বাস দিয়েছে। সকলে আন্তরিক হলে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান সম্ভব। নতুবা কাজ বন্ধ করা ছাড়া আমাদের কোনো উপায় থাকবে না।’
অপরদিকে রড ও সিমেন্টের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে দেশে আবাসন খাতের কোম্পানিগুলো। তারা বলছে, এতে নির্মাণ-ব্যয় বাড়বে এবং ফ্ল্যাটের দামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করে আবাসন খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। সম্মেলনে রড সিমেন্টসহ অন্যান্য নির্মাণ-সামগ্রীর দাম বাড়ানোকে অযৌক্তিক বলে দাবি করে সংগঠনটি।

NO COMMENTS

Leave a Reply