Home মূল কাগজ ইন্টেরিয়ার রেনেসাঁর শহরে সমকালীন স্থাপত্য

রেনেসাঁর শহরে সমকালীন স্থাপত্য

হোটেল কালিমালা

স্থাপত্য ডিজাইনের দিক থেকে ইতালির মিলান শহরকে সবচেয়ে শৈল্পিক শহর হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং ভেনিসকে বলা হয় প্রদর্শনীর শহর। কিন্তু এই দুই শহরের বাইরে সবকিছু ছাপিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ফ্লোরেন্স তার একটি নিজস্ব রেনেসাঁ তৈরি করতে পেরেছে।
আজকাল কারিগররা প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী মোজাইক এবং চামড়াজাত কারুপণ্যগুলো সংরক্ষণ করে থাকেন। প্রাচীন ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি ফ্লোরেন্সের অধিবাসীরা সমসাময়িক আর্ট এবং ডিজাইন সংরক্ষণেও সমান মনোযোগী। শহরে নতুন ভবন নির্মাণের সময় স্থপতিরা কনটেম্পোরারি, ফ্রেশ লুক দেয়ার চেষ্টা করেন। এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ হতে পারে হোটেল কালিমালা। হোটেল কালিমালার ভবনটি দেখে শহরের অন্যসব ভবনের স্থাপত্য নকশা সম্পর্কে খুব সহজেই জরিপ করে নেয়া যায়। কনটেম্পোরারি ধাঁচে তৈরি হোটেল কালিমালার ৩৮টি বিলাসবহুল কক্ষ এই বছরের সেপ্টেম্বরেই ব্যবহারের জন্য খুলে দেয়া হবে।
অ্যালেক্স মাইটলিসের স্থাপত্য নকশাকৃত হোটেলটি শহরের অন্যান্য হোটেল থেকে নতুন এবং আরও বেশি অত্যাধুনিক। অ্যালেক্স এর আগে লন্ডনের অটোলেঙ্গি রেস্তোরাঁর ডিজাইন করেছিলেন। হোটেল কালিমালার কক্ষগুলোর অভ্যন্তরে ১৯ শতকের পুরনো প্যালাজো দেগলি অ্যাঞ্জেলি পাথরখন্ড ব্যবহার করা হয়েছে। পাথরের দেয়ালের সঙ্গে হাল আমলের আসবাব। সেই সঙ্গে ঘরের ভেতরে উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার- সব মিলিয়ে হোটেলের কক্ষগুলোতে এক শৈল্পিক আবহ এনে দিয়েছে। চোখধাঁধানো মার্বেল পাথরের বাথরুম এই হোটেলের অন্যতম আকর্ষণ।
আশা করা যাচ্ছে, হোটেলটি উদ্বোধনের পর এর রুফটপ রেন্টুরেন্ট, বার এবং ডিজে পার্টি এলাকা আলোর রোশনাইয়ে ঝলমলিয়ে উঠবে।
স্থপতি অ্যালেক্স মাইটলিস বলেন, ‘হোটেল কালিমালার স্থাপত্য নকশা করার সময় আমি চমৎকার প্যালাজো স্টোনের প্রতি বিশেষভাবে অনুরক্ত হয়ে পড়েছিলাম। আমি চাইছিলাম, ঐতিহাসিক এ শহরটিতে আধুনিক একজন ভ্রমণকারীর অভিজ্ঞতা বাড়িয়ে দিতে।’
অ্যালেক্স বলেন, ‘এই হোটেলে ব্যবহৃত সব উপকরণ স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে। হোটেলটিতে ব্যবহৃত টেবিল, চেয়ার, কার্পেট এবং অন্যান্য হালকা জিনিসপত্র এই হোটেলের জন্য কাস্টমাইজডভাবে তৈরি। এমনকি প্রতিটি অতিথিকক্ষের ডোর নাম্বারের ফ্রন্ট সাইড হোটেল কালিমালার জন্য কাস্টম ডিজাইন করা হয়েছে।
স্থপতি অ্যালেক্স মাইটলিস মনে করেন, হোটেলের অতিথিদের উদ্দেশে সমর্পিত সব আয়োজন অতিথিরা সাদরে গ্রহণ ও উপভোগ করবেন।
হোটেল কালিমালার রঙ, টেক্সচার এবং উপকরণ মিলেমিশে একটি ভালোবাসার গান রচিত হয়েছে। ফ্লোরেন্স শহরের বাতাসে কান পাতলেই সে গান শোনা যায়।

কারিকা ডেস্ক

NO COMMENTS

Leave a Reply