Home সর্বশেষ লবণ সহিষ্ণু সিমেন্ট আনছে ডায়মন্ড সিমেন্ট

লবণ সহিষ্ণু সিমেন্ট আনছে ডায়মন্ড সিমেন্ট

কারিকা ডেস্ক :
বাংলাদেশের বিশাল উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই স্থাপনা নির্মাণের জন্য লবণসহিঞ্চু বিশেষায়িত সিমেন্ট বাজারে আনছে দেশের খ্যাতনামা শিল্প প্রতিষ্ঠান ডায়মন্ড সিমেন্ট লিমিটেড (ডিসিএল)। ডায়মন্ড কোস্টাল প্লাস নামের প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে তৈরি এই সিমেন্ট উপকূলীয় রুক্ষ জলবায়ুর বিরুদ্ধে স্থাপনাকে দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরোধের শক্তি দেবে বলে জানিয়েছে উ‍ৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটি।
সম্প্রতি চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডায়মন্ড কোস্টাল প্লাস সিমেন্ট বাজারে আনার ঘোষণা দেন ডায়মন্ড সিমেন্টের পরিচালক লায়ন হাকিম আলী।
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার নাফ নদীর মোহনা থেকে সাতক্ষীরার রায়মঙ্গল কালিন্দী নদী পর্যন্ত বাংলাদেশের উপকূল অঞ্চলের দৈর্ঘ্য ৭১০ কিলোমিটার।  চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের মোট ১৪টি উপকূলীয় জেলায় বিস্তৃত বিশাল এই অঞ্চলে বাস করে চার কোটিরও বেশি মানুষ।
বিশাল এই উপকূলীয় অঞ্চলে কংক্রিট স্থাপনার সুরক্ষার কথা চিন্তা করে ব্যাপক গবেষণার মাধ্যমে ডায়মন্ড কোস্টাল প্লাস সিমেন্ট তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন হাকিম আলী।
উপকূলীয় অঞ্চলে বাঁধ, জেটি, আশ্রয়কেন্দ্র, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, জলাধার, সাগরের পানি ও সালফেটে উন্মুক্ত মেরিন কংক্রিট এবং জলে ডুবে থাকা যে কোন স্ট্রাকচার, পানি ও পয়:নিস্কাশন পাইপলাইন ও ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, ব্রিজ, কালভার্ট, বহুতল ভবনসহ যে কোন ধরনের কংক্রিট কাঠামো নির্মাণে ডায়মন্ড কোস্টাল প্লাস একটি আদর্শ সিমেন্ট বলে মন্তব্য করেন হাকিম আলী।
সংবাদ সম্মেলনে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণসহিঞ্চু সিমেন্ট ব্যবহারের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম প্রযুক্তি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুর:প্রকৌশল বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক ড. সাদেকুল ইসলাম সাদী।
উপকূলীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থাপনার ছবি উপস্থাপন করে ড.সাদী বলেন, সমুদ্র লবণে থাকা ক্লোরাইড আয়রণের প্রভাবে উপকুলীয় এলাকায় কংক্রিট নির্মিত স্থাপনার ইস্পাতে সহজেই মরিচা ধরে যায়।  কংক্রিটের ভেতরে অতিমাত্রায় নুন ও আর্দ্রতা জমে গিয়ে ইস্পাতে মরিচা পড়ে এবং পুরো কাঠামোয় ক্ষয় ও ফাটল দেখা দেয়।  এর ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দূর্বল হয়ে পড়ে স্থাপনা।
‘তাই ক্লোরাইড আয়ন বা লবনাক্ততার অনুপ্রবেশ ঠেকানোর জন্যে ঘনবদ্ধ অভেদ্য কংক্রিট ব্যবহার জরুরি।  কিন্তু বাংলাদেশের বাজারে সেই ধরনের বিশেষায়িত কোন সিমেন্ট নেই।  ডায়মন্ড কোস্টাল প্লাস বাজারে এলে সেটি উপূকলীয় এলাকার স্থাপনার সুরক্ষার জন্য সহায়ক হবে। ’ বলেন ড.সাদী।
তিনি বলেন, ডায়মন্ড কোস্টাল প্লাস সিমেন্ট বিশেষ প্রক্রিয়ায় তৈরি ব্লাস্টফার্নেস পোর্টল্যান্ড স্ল্যাগ সিমেন্ট।  বাজারে এখন যেসব সিমেন্ট আছে অর্থাৎ অর্ডিনারি পোর্টল্যান্ড সিমেন্ট (ওপিসি) এবং পোর্টল্যান্ড কম্পোজিট সিমেন্টের লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ ঠেকানোর ক্ষমতা নেই।  এক্ষেত্রে স্ল্যাগ সিমেন্টই একমাত্র উপযোগী।
সংবাদ সম্মেলনে ডায়মন্ড সিমেন্ট লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক (সেলস এন্ড মার্কেটিং) জসীম উদ্দিন খোন্দকার, মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) এবিএম কামালউদ্দিন এবং উপ-মহাব্যবস্থাপক (সেলস এন্ড মার্কেটিং) আবদুর রহিম।
এছাড়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক ও জনপথ বিভাগের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

NO COMMENTS

Leave a Reply