Home মূল কাগজ লোকাল কনটেক্স মানে ক্লাইমেটকে তো কনসিডার করতে হবে

লোকাল কনটেক্স মানে ক্লাইমেটকে তো কনসিডার করতে হবে

0 267

মুস্তফা খালিদ পলাশ
স্থপতি

কৌস্তুভ ইসলাম : শিল্পের নানা দিকে আপনার বিচরণ। আপনি স্থপতি, চিত্রকর, লেখক; আপনি গান করেন, আমরা জানি অসাধারণ সেতার বাজান। এভাবে শুরু করি আপনার বাবা কে এম জি মুস্তাফা এবং মা আফরোজ মুস্তাফা দুজনেই তো চিত্রকর এবং সাংস্কৃতিককর্মী ছিলেন। নানা গুণী মানুষের সমাগম হতো আপনাদের বাড়িতে। আপনাদের বাড়িটা ছিল একটা কালচারাল হাবের মতো…
মুস্তাফা খালিদ পলাশ : এখনো তা-ই আছে। আসলে সন্তান কীভাবে গড়ে উঠবে, তা বাবা-মা’র ওপর নির্ভর করে। লেখাপড়া তো একটা গৎ-বাঁধা বিষয়, সবার জীবনেই আসে। ওটাকে পূর্ণ করতে হয়। কিন্তু এর বাইরে অনেক কিছু থাকে, যে জিনিসগুলো একমাত্র বাবা-মাই পারে তার সন্তানের মধ্যে প্রোথিত করতে। আমার বাবা একজন সঙ্গীতপ্রিয় মানুষ ছিলেন। নিজে বাঁশি বাজাতেন। আমার বোন, যে বেঁচে নেই, বাসার মধ্যে গান গাইতো, আমি সেতার বাজাতাম, আমার ছোটভাই গান করতো, গিটার বাজাতো। বাসার পরিবেশটাই এমন ছিল যে, সন্ধ্যার সময় খেলাধুলার পর পড়ালেখা করার আগে একটু গান-বাজনায় বসতাম আমরা। এটা একটা কালচার ছিল। সেটা করতে গিয়ে আমার পাড়ার যে বন্ধুবান্ধব ছিল, তারা কিন্তু আমার বাবারও বন্ধুর মতো হয়ে গিয়েছিল। আমরা সবাই একসঙ্গে ওসব করতাম।
কৌস্তুভ ইসলাম : নিঃসন্দেহে একটা সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে আপনি বেড়ে উঠেছেন। গানের জগত, ছবি আঁকা ও লেখালেখির জগত এসবকে ছাপিয়ে স্থাপত্য-জগতে আসার অর্থাৎ আপনার স্থপতি হয়ে ওঠার গল্পটা জানতে চাই।
মুস্তাফা খালিদ পলাশ : আসলে আমার স্থপতি হওয়ার কথা ছিল না। শখও ছিল না। এখনো নেই (হাসি)। স্থাপত্যকে যে খুব উপভোগ করি সেটাও কিন্তু না। আমি উপভোগ করি অন্যান্য মাধ্যম। আমার ভালো লাগে ছবি আঁকতে, গান-বাজনা করতে। স্থাপত্যের চাইতে আমার মনে এগুলোই বেশি দাগ কাটে।
তিরিশ বছর ধরে স্থাপত্য-চর্চা করে আসছি; সঙ্গে পড়ালেখা। সব মিলিয়ে ছত্রিশ-সাঁইত্রিশ বছর ধরে এটার সঙ্গে জড়িত। স্থাপত্য পড়তে হয়েছে এ কারণে যে, আমি যেহেতু শিল্পী-দম্পতির সন্তান; শিল্পীদের যে সাংসারিক টানাপোড়েন থাকে, সেটা ছিল। যদি দেখি যে বাবা-মা’র কষ্ট হচ্ছে ঠিকভাবে সংসার চালাতে, তখন কিন্তু একটা দ্বৈততা বা দ্বদ্ব তৈরি হয় নিজের মধ্যে। আমি তারপরও চেয়েছিলাম শিল্পী হতে। বুয়েটে পরীক্ষা দেয়ার পর অনেক ইচ্ছা ছিল আমি যেন চান্স না পাই (হাসি)। তাহলেই একমাত্র আমি চারুকলায় ভর্তি হতে পারব। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমি আর্কিটেকচারে চান্স পাই। তারপরও আমি ছবি আঁকাটা ছাড়িনি। এখনো আমি চারুকলার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আমি স্থপতিদের সঙ্গে ততটা মিশতে পারি না, যতটা পারি চারুকলার যারা আমার বন্ধু রয়েছে, তাদের সঙ্গে। বন্ধু ও গুরুজনরা অসম্ভব স্নেহ করেন আমাকে। একজন ‘অযোগ্য শিল্পী’ হিসেবে আমাকে তারা খুব ভালোভাবেই গ্রহণ করে নিয়েছে। যার কারণে এশিয়ান বিয়েনাল হোক বা যেকোনো ন্যাশনাল এক্সিবিশন হোক সব জায়গায় আমার ডাক পড়ে, একজন চিত্রকর হিসেবে। আবার যেসব সাংগঠনিক কাজ আছে, সেগুলোর সঙ্গেও যুক্ত থাকি সবসময়। তো সেই পরিবারের আমি একজন গর্বিত সদস্য। আর সার্টিফিকেটের জোরে তো স্থাপত্য-চর্চা করছিই!
কৌস্তুভ ইসলাম : আর্কিটেক্ট হিসেবে যখন কাজ শুরু করলেন, গোল ছিল কি না কোনো, সেটা কি এচিভ করা গেছে?
মুস্তাফা খালিদ পলাশ: হ্যাঁ গোল তো ছিল। বিশেষ ভাবে আমি বলব শুদ্ধচর্চা। শুদ্ধচর্চা মানে আমার যদি সেই ঐতিহ্য থাকতো, যেখান থেকে আমি আমার আর্কিটেকচারকে টেনে ওই সূত্রে গাঁথতে পারতাম, তাহলে আমি সেটা নিয়েই কাজ করতে বলতাম। কিন্তু আমাদের মালা গাঁথা শুরুই হয়েছে আমাদের পার্লামেন্ট ভবনের লকেট থেকে, ওই লকেট থেকেই আমরা সুতা ধরতে শুরু করেছি। নিরন্তর চেষ্টা করে যাচ্ছি অনেকেই। অগ্রজ হিসেবে আমি বলি বশিরুল হক স্যারের কথা, মাজহারুল ইসলাম স্যার তো আছেনই। তার সঙ্গে কাজ করেছেন উত্তম কুমার সাহা, এরকম অনেকেই সাইফুল-উল হক আছেন। উনারা কিন্তু একটা যোগসুত্রের মধ্য দিয়ে যেতে চেয়েছেন। ওই পথেই আমরা হাঁটছি। আমি খুবই আশাবাদী। মডার্নিজম, সঙ্গে লোকাল কনটেক্সট ধরেই কাজ হচ্ছে। একটা সময় কিন্তু অনেক উলটাপালটা কাজ করেছি, আমিও করেছি। অন্যরাও করেছে। মডার্ন কিন্তু কনটেক্সটের সঙ্গে যায় না। এটলিস্ট লোকাল কনটেক্সটকে তো অ্যাড্রেস করতে হবে। আর্কিটেকচারাল যে কনটেক্সট ইস্যু, সেটা ইন্টারন্যাশনাল হতেই পারে, কিন্তু লোকাল কনটেক্স মানে ক্লাইমেটকে তো কনসিডার করতে হবে। এখন সেটা আগে কম ছিল, এখন আস্তে আস্তে আমরা সচেতন হচ্ছি। আমরা বুঝতে পারছি যে আর্কিটেক্টের সাস্টেনেবল ইস্যুতে অ্যাড্রেস করার আছে, সেফটি ইস্যুতে অ্যড্রেস করার আছে। তো সেই গোলটাই ছিল আসলে; শুদ্ধ চর্চা করব। খুব সাকসেসফুলি হ্যান্ডেলড। আমি খুবই হ্যাপি যে আমার দেশের আর্কিটেক্টরা এখন সত্যিকার সিম্পল মডার্ন জিনিস নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে।

মুস্তাফা খালিদ পলাশ-এর দীর্ঘ সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হবে ‘কারিকা’ ঈদসংখ্যায়

NO COMMENTS

Leave a Reply