Home মূল কাগজ সাক্ষাৎকার শত বাধার মুখেও এই শিল্পের মৃত্যু হবে না

শত বাধার মুখেও এই শিল্পের মৃত্যু হবে না

0 1281

প্রকৌশলী এস এম আবু সুফিয়ান
চেয়ারম্যান, চিটাগাং জোনাল স্ট্যান্ডিং কমিটি, রিহ্যাব

আবাসন খাতের বর্তমান অবস্থা, এ শিল্পকে কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায় তা নিয়ে কারিকার পক্ষ থেকে কথা হয় রিহ্যাব চিটাগাং জোনাল স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী এস এম আবু সুফিয়ানের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার ভূঁইয়া নজরুল

চট্টগ্রামে আবাসন শিল্পের রমরমা অবস্থা এখন ঠিক দৃশ্যমান নয়। গত কয়েক বছর ধরে এই খাতে যে ভাটা যাচ্ছে তা থেকে কবে উত্তরণ হতে পারে?
আবাসন খাত শুধু কোনো একটি বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল নয়। অনেকগুলো ফ্যাক্টর এখানে কাজ করে। এর মধ্যে প্রধানতম ফ্যাক্টর হলো টাকার প্রবাহ কমে যাওয়া। টাকার বিনিময় তথা সার্কুলেশন কমে যাওয়ায় এই খাত থমকে আছে। ব্যাংক সুদের হার বেড়ে যাওয়া, সরকার মাঝারি সাইজের ফ্ল্যাট কিনতে যে ঋণের সুযোগ দিয়েছিল, তা বন্ধ করে দেওয়া এবং পলিসিগত কিছু সিদ্ধান্তের কারণে এই শিল্পটি স্থবির হয়ে আছে। তবে এই শিল্প বন্ধ হবে না, মানুষের নিজের প্রয়োজনেই এই খাত টিকে থাকবে।

মানি সার্কুলেশন হচ্ছে না কেন?
মানি সার্কুলেশন না হওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ দেশে এখন বেসিক শিল্পে বিনিয়োগ হচ্ছে না। আর বিনিয়োগ না হওয়ায় রড, সিমেন্ট, গ্লাস, সিরামিকসহ প্রায় ৩০০টি লিংকেজ প্রতিষ্ঠান প্রায় অলস বসে আছে। আর সেসবের প্রভাব পড়ছে আবাসন খাতে। তাই সবার আগে বেসিক ইনভেস্ট বাড়াতে হবে।

এক সময় চট্টগ্রামে বড় আকারের ফ্ল্যাটের চাহিদা বেশি ছিল, এখন ডেভেলপাররা কোন ধরনের ফ্ল্যাট বেশি তৈরি করছে?
প্রথমদিকে আরাম-আয়েশের জন্য মানুষ ফ্ল্যাট কিনত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফ্ল্যাট এখন প্রয়োজনীয়তার পর্যায়ে চলে এসেছে। দাম ও প্রয়োজনের সমন্বয়ে এখন ১২০০ থেকে ১৫০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাটের চাহিদা বেশি। আর গ্রাহকদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে ডেভেলপাররাও এই ধরনের ফ্ল্যাট বেশি নির্মাণ করছে।

একসময় উচ্চবিত্তরা ফ্ল্যাট কিনত। বর্তমানে কোন ধরনের মানুষ ফ্ল্যাটের ক্রেতা।

হ্যাঁ, একসময় ব্যবসায়ী তথা উচ্চবিত্তরা ফ্ল্যাট কিনত, আর এই সংখ্যাটা ১০ থেকে ১৫ শতাংশ। তাছাড়া নগদ টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট কেনে মূলত প্রবাসীরা, তাদের সংখ্যাও ১৫ থেকে ২০ শতাংশের বেশি নয়। বিভিন্ন ব্যাংক ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে ফ্ল্যাট কেনার হার ১৫ থেকে ২০ শতাংশ। এই হিসাবে ৪০ থেকে ৫৫ শতাংশ ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে, বাকি ৬০ থেকে ৪৫ শতাংশ হলো সাধারণ ক্রেতা, যারা সারা জীবনের সঞ্চিত টাকার সঙ্গে ব্যাংক ঋণ নিয়ে ফ্ল্যাট কেনে। বিশাল এই অংশটি এখন ফ্ল্যাট কিনতে পারছে না অতিরিক্ত ব্যাংক সুদ ও টাকার অভাবে। সুদের হার কমিয়ে দিলেই মানুষ ফ্ল্যাট কিনতে আগ্রহী হতো। এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে একসময় ১২০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে কম সুদে ঋণ দেওয়ার একটি প্রকল্প ছিল, তা বন্ধ করে দেওয়ায়ও সাধারণ ক্রেতারা এখন ফ্ল্যাট কিনতে পারছে না।

অনেক কোম্পানি দ্বারা ক্রেতারা বিভিন্নভাবে প্রতারিত হচ্ছে। এজন্য ক্রেতারাও এখন যাচাই-বাছাই বেশি করছে এবং ফ্ল্যাট বেচা-কেনাতে ধীরতা আসছে বলে অনেকে মনে করেন। এ বিষয়ে আপনি কী মনে করেন?
কথাটি অমূলক নয়। রিয়েল এস্টেট কোম্পানি অনেক লাভজনক জেনে কয়েক বছর আগে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান গজিয়ে ওঠে। কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণার আশ্রয় নেয়। ফলে ক্রেতারা বিশ্বাস হারাচ্ছে এবং যাতে প্রতারিত না হতে হয়, তার জন্য যাচাই-বাছাই বেশি করছে।

এসব প্রতিষ্ঠান কি মনিটরিংয়ের আওতায় আনা উচিত নয়?
অবশ্যই সব প্রতিষ্ঠানকে নজরদারির আওতায় আনা উচিত। যেমনÑ যেসব প্রতিষ্ঠান রিহ্যাবের সদস্য, সেসব প্রতিষ্ঠান যদি কোনো ধরনের প্রতারণা করে, তাহলে তারা আমাদের কাছে অভিযোগ করতে পারে। ‘কাস্টমার সার্ভিস’ নামে আমাদের একটি সেল রয়েছে, সেই সেলের মাধ্যমে আমরা অভিযোগগুলো মীমাংসার চেষ্টা করি। আর বর্তমান রিয়েল এস্টেট আইনেও এই সেল অতিক্রম করে কোনো মামলা করা যাবে না। কিন্তু যেসব প্রতিষ্ঠান রিহ্যাবের সদস্য নয়, তাদের ক্ষেত্রে তো ক্রেতারা কারও কাছে যেতে পারবে না। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে আবাসন খাত। অবশ্য নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) এবং শহরের বাইরে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষকেই মনিটরিংয়ের দায়িত্ব নিতে হবে।

চট্টগ্রামকে এগিয়ে নিতে, নগরবাসীর আবাসন নিশ্চিত করতে এখন কী করা প্রয়োজন?
সরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে ব্যবসা করার মানসিকতা থেকে সরে এসে নিয়ন্ত্রণকারী ও মনিটরিং সংস্থা হিসেবে কাজ করতে হবে। সরকারি জায়গা উন্নয়নের জন্য দিয়ে দেওয়া হলে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানগুলো কম খরচে ফ্ল্যাট নির্মাণ করে কম মূল্যে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতে পারবে। এছাড়া সরকারের বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পে (অনন্যা, কল্পলোক প্রভৃতি) প্রয়োজনে বড় আয়তনের একটি জায়গা ডেভেলপারদের দেওয়া যেতে পারে। এতে ডেভেলপাররা নগরবাসীর কাছে কম মূল্যে ফ্ল্যাট দিতে পারবে।

NO COMMENTS

Leave a Reply