Home মূল কাগজ ইন্টেরিয়ার শীতেও ঝলমলে ঘর

শীতেও ঝলমলে ঘর

কারিকা ডেক্স


শীত শীত ওম ওম আমেজ থেকে হঠাৎ শৈত্যপ্রবাহ। শীতের সময়টাই এমন। কখন যে ঝাপিয়ে চলে আসে শীত বুড়ি তার কোনো পহৃর্বাভাস মিলেনা অনেকসময়। শীত থাকবে। শৈত্যপ্রবাহে জবুথবু হয়ে যাবে মানুষ। কিন্তু তাই বলে কী শীতের মতো জবুথবু থাকবে ঘরবাড়ি? তা নয়। বরং শীতের সময়টাতে একটু গুছিয়ে চললে যেমন আপনার ঘরবাড়ির সৌন্দর্য বেড়ে যাবে কয়েকগুণ, তেমনি বাড়িতে থাকা অবস্থায় শীতের হাত থেকেও বেঁচে যাবেন।

শীতে ঘরবাড়ি’র ইন্টেরিয়র নিয়ে কথা বলেছেন ফারজানা’স বিসের সিইও ফারজানা গাজী। তিনি বলেন, শীতের সময় দিনে সূর্যের আলো পাওয়া যায় অল্প পরিমানে। এ অল্প আলোকেও ব্যবহার করে আলোকিত করা যেতে পারে পুরো ঘরটিকে।
সেজন্য ঘরের যে স্থানটিতে আলো পড়ছে সেখানে সুবিধামতো আয়না স্থাপন করে রিফেক্টের মাধ্যমে আলো ছড়িয়ে দিতে পারেন সবখানে। এ সময় ন্যাচারালের তুলনায় ঘরে কৃত্রিম আলোর ওপর বেশি নির্ভরশীল থাকতে হয় বলে লাইটিংয়ের মাধ্যমে ঘরের পরিবেশে আনতে পারেন উষ্ণতার আমেজ।
বাজারে আজকাল নানা ধরনের, নানা সাইজ ও রঙের ল্যাম্পশেড পাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে বেডরুমের লাইটিং এর জন্য ওয়ার্ম আলো (যেমন- হলুদ, লাল, কমলা, বেগুনি ইত্যাদি) ব্যবহার করা যেতে পারে। বেডরুমের বেডের হেড রেস্টের দুইপাশে অথবা সাইড দিয়ে লাইটিং সিস্টেম করতে পারেন। ঘরের কোণে এক কর্নারে অথবা বেডসাইড টেবিলের ওপর রেখে দিতে পারেন ডেকোরেটিভ ল্যাম্পশেড। তাছারা বেডের ওপর অথবা এক কর্নারে ফলস সিলিং ডিজাইন করে সেখানে বিভিন্ন ধরনের লাইট ব্যবহার করে তৈরি করতে পারেন এক অসাধারণ পরিবেশ।

দেয়ালে ব্যবহার করতে পারেন ওয়াল মাউন্ট লাইট। ডাইনিং স্পেসের আলো সাধারণত সলিড হয়ে থাকে। তাই স্যান্ডেলিয়ার ও বিভিন্ন ধরনের ল্যাম্পের ব্যবহার করে রুমে আনা যেতে পারে বৈচিত্র্য। ডাইনিং টেবিলটিকে সাজানো যেতে পারে কালারফুল সব পেট গাছ দিয়ে। সঙ্গে যদি মোমের আলো থাকে তাহলে তো কথাই নেই। অসাধারণ একটা পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে এই ক্যান্ডেল লাইট ডিনার।
বসার ঘরের একপাশ বেছে নিতে পারেন ডেকোরেশনের জন্য। সেই কর্নারে বিভিন্ন ধরনের মাটির পটারির সঙ্গে রাখতে পারেন বাঁশ এবং বেতের ল্যাম্প সেড। আর ফ্লোরে বড় গামলাতে ফুলের পাপড়ি দিয়ে তাতে ছেড়ে দিন ফ্লোটিং মোমবাতি। ফলস সিলিং করে স্পটলাইটের মাধ্যমে কর্নারগুলোকে আলোকিত করে তৈরি করতে পারেন আলো আধাঁরের খেলা। প্রয়োজনে সিলিং থেকে ঝুলিয়ে দিতে পারেন বিভিন্ন ধরনের হ্যাংগিং লাইট।

শীতে দেয়ালের রঙ, সোফা, কুশন কাভার, পর্দা, বেড কাভার প্রভৃতিতেও আসতে পারে পরিবর্তন। রুমের রঙ করার সময় অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে তা যেন ওয়ার্ম কালার হয়।
যেহেতু শীতের দিনে ঠান্ডার একটা ব্যাপার থাকে তাই ট্রান্সপারেন্ট পর্দার সঙ্গে একটু ভারি কাপড়ের পর্দা হলে ভালো। আর যদি ডাবল পর্দা দেয়ার ব্যবস্থা থাকে তাহলে ঘরে তুলানামূলক ঠান্ডা একটু কম লাগবে। পর্দার কাপড়গুলো সাধারণত মখমল, সিল্ক, কটন ইত্যাদি হয়ে থাকে। সোফা, কুশন এবং বেড কভারের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। দেয়ালের রঙ এবং লাইটিংয়ের সঙ্গে যেন সাদৃশ্যপূর্ণ থাকে সে বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।
শীত এলেই বেড়ে যায় কার্পেটের ব্যবহার। উলেন, হ্যান্ডমেড উলেন, অ্যাকরেলিক, পিভিসি ইত্যাদির নানা ধরনের কার্পেট পাওয়া যায় বাজারে। ঘরের রঙ, ফার্নিচার, পর্দা, কুশন এবং বেড কভারের সঙ্গে মিল রেখে বাছাই করুন কী ধরনের এবং কী রঙের কার্পেট আপনি নির্বাচন করবেন। দেশিয় আমেজ আনতে নানা রকমের শতরঞ্জিও ব্যবহার করতে পারেন।

শীতকাল যেহেতু ফুলের জন্য উপযুক্ত সময় তাই ঘরের বিভিন্ন জায়গায় তাজা ফুলের ব্যবহার আপনার মনকে আরো প্রফুল্ল করে দিবে। সামান্য একটি গাছ ঘরের সৌন্দর্য যেমন বাড়িয়ে দিতে পারে, তেমন বৃদ্ধি করতে পারে ঘরে অক্সিজেন। শীতে যেসব গাছের পাতা ঝরে না, সেসব গাছ ঘরে ব্যবহার করতে পারেন। বিশেষ করে ছোটপাতার গাছ।

শীতে শুষ্ক প্রকৃতির কারণে ঘরে প্রচুর ধুলাবালি হয়ে থাকে। তাই ফার্নিচার, কার্পেট, সোফার কুশনের কভার, বেড কভার, ইত্যাদি যত্নে র ক্ষেত্রে সবই যেন সহজে পরিষ্কার হয় সেদিকেও খেয়াল রাখা উচিত। বিশেষ করে যেসব ঘরে শিশু রয়েছে তাদের বেশি সচেতন হতে হবে। সবকিছু কিছুদিন ব্যবহারের পর রোদে দিতে হবে। ঘর যেন স্যাঁতস্যাঁতে  না হয় এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকে সেদিকে নজর দিতে হবে।

15cm-ball-wall-light-fixture-lamp-scone-glass
এদিকে শীতে অ্যাজমা ও হাঁপানি রোগের পরিমাণ বেড়ে যায়। এ সময় যদি ঘরে ধুলাবালি থাকে, তবে অ্যাজমা ও হাঁপানি রোগ বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা থাকে আরও বেশি। তাই শীতে ঘরবাড়ি ধুলাবালি ও জীবাণুমুক্ত রাখা জরুরি।
সবার কাছেই নিজের শোবার ঘরটি অন্যান্য ঘরের তুলনায় সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ ঘরটাতেই কাটে অধিকাংশ সময়। তাই শোবার ঘর পরিষ্কারে একটু বেশিই যত্নবান হোন। প্রতিদিন ঘরের পর্দা, বিছানা, পাপোশ, ড্রাইফুল ঝেড়ে পরিষ্কার করুন। ঘরের মেঝে টাইলসের হলে গরম পানিতে ডিটারজেন্ট মিশিয়ে মেঝে পরিষ্কার করলে ঘর থাকবে ঝকঝকে। আর জীবাণুমুক্ত করতে চাইলে ডিটারজেন্ট দিয়ে পরিষ্কার করার পর আরও একবার ডেটল পানি দিয়ে পরিষ্কার করুন।
রান্নাঘরে জীবাণুর প্রাদুর্ভাব সব থেকে বেশি। তাই রান্নাঘর সব সময় পরিষ্কার রাখুন। কুসুম গরম পানিতে ডিটারজেন্ট ভিজিয়ে সিংক, রান্নাঘরের চুলা, টাইলস প্রভৃতি পরিষ্কার করতে পারেন। এতে রান্নাঘরটি জীবাণুমুক্ত থাকবে। রান্নাঘর জীবাণুমুক্ত রাখতে ব্যবহার করতে পারেন স্যাভলন কিংবা ডেটল। বাসনকোসন ধোয়া থাকলেও খাওয়ার আগে আরও একবার ধুয়ে নিন।

শীতে বাইরের ধুলাবালি পর্দা, কার্পেট আর পাপোশেই সবচেয়ে বেশি আটকায়। তাই এগুলো পরিষ্কারে সচেতন হোন। সপ্তাহে একদিন পর্দা ঝাড়ু দিয়ে ঝেড়ে পরিষ্কার করুন। সম্ভব হলে মাসে একদিন ধুয়ে দিন। কার্পেট পরিষ্কারে ব্যবহার করতে পারেন ভ্যাকুয়াম কিনার। সোফা ও চেয়ার পরিষ্কারেও ভ্যাকুয়াম কিনার কাজে দেবে। ১৫ দিন অন্তর কার্পেট কড়া রোদে শুকিয়ে নিন। এতে কার্পেটের জীবাণু ছড়াবে না।
যতই আটকে রাখুন না কেন, এ সময় বাইরের ধুলাবালি দরজা-জানালা দিয়ে প্রবেশ করবেই। এ সময় ঘর ধুলাবালিমুক্ত রাখতে প্রতিদিন দরজা-জানালা ঝেড়ে পরিষ্কার রাখুন। প্রতিদিন সম্ভব না হলেও অন্তত একদিন পরপর পরিষ্কার করুন।

NO COMMENTS

Leave a Reply