Home অন্তর্জাতিক সবুজে একাকার সাত স্থাপনা

সবুজে একাকার সাত স্থাপনা

0 89

মানব-বসতির যত সম্প্রসারণ ঘটছে, ততই বিনাশ ঘটছে প্রকৃতির। অতীতে মানুষ নিজেদের বসতি গড়ার লক্ষ্যে বনভূমি ও সবুজ উজাড় করেছে। সেই ধ্বংসযজ্ঞ আজ অবধি চলছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্থপতিরা সবুজ রক্ষায় আরও মনোযোগী হয়েছেন, সেই সঙ্গে অবকাঠামো নির্মাণে বিভিন্ন প্রাকৃতিক পদ্ধতির উন্মেষ ঘটেছে। নতুন ট্রেন্ডের স্থাপত্য-নকশায় প্রকৃতিকে প্রতিস্থাপনের পরিবর্তে অন্তর্ভুক্তকরণের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। নতুন ট্রেন্ডের এই স্থাপত্য-নকশায় বন উজাড় বন্ধ হবে না-একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। তবে মানসিকতায় অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে। যার ফল একদিন আমরা পাব। তাই সবুজ আঁকড়ে থাকা নতুন ট্রেন্ডের স্থাপত্য-নকশার সঙ্গে পরিচিত হতে ক্ষতি কী!

গাছ ঘিরে কিন্ডারগার্টেন
৫০ বছরের পুরনো একটি জেলকোভা গাছ। সেটিকে ঘিরে জাপানের তাচিকায়ায় গড়ে উঠেছে ফুজি কিন্ডারগার্টেন। প্রাচীন জেলকোভা গাছটি ঘিরে কাঠের পাটাতন ও সিঁড়ি দিয়ে কিন্ডারগার্টেনটি নির্মাণ করা হয়েছে। কাঠের স্থাপনাটির কাঠামো হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে স্টিল। রোদ, বৃষ্টি ও ধুলো থেকে বাঁচতে কিংবা ওপর থেকে পড়ে যাওয়া এড়াতে স্থাপনাটির দেয়াল হিসেবে কাচ ব্যবহার করা হয়েছে।
কিন্ডারগার্টেনটির পরিবেশবান্ধব শৈল্পিক নির্মাণশৈলীর কারণে একদিকে যেমন শিশুরা প্রাকৃতিক পরিবেশে খেলছে, তেমনি শিখছেও। জেলকোভা গাছ ও প্রকৃতিকে আপন করে নিবিড়ভাবে জীবনের প্রথম পাঠ নিচ্ছে জাপানের ফুজি কিন্ডারগার্টেনের শিশু-শিক্ষার্থীরা।

গাছের সঙ্গে বসবাস
স্থপতি আলেসান্দ্রো সার্তোর ব্রাজিলে একটি বাড়ির নকশা করেছেন। বাড়িটির লিভিংরুমের ছাদ ফুঁড়ে গাছের কান্ড আকাশ ছুঁয়েছে। ভূমির প্ররোচনায় যে গাছগুলো তরতর করে বেড়ে উঠেছিল, সার্তোরের নতুন ধরনের স্থাপত্য-নকশায় সেগুলো আরও আস্কারা পেয়েছে। সেই সঙ্গে ছাদের ফাঁকা অংশ দিয়ে অবিরত আলো-বাতাস-ছায়া খেলা করছে। তিন মিটার প্রশস্ত বৃত্তাকার খোলা অংশটি দিয়ে মন চাইলে খানিকটা আকাশও দেখে নেয়া যায়।

নিয়াভারান রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্স
ইরানের প্রখ্যাত স্থপতি মোহাম্মদ রেজা নিকবাখত নিয়াভারান রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্স নামে একটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের নকশা করেছেন। পাঁচতলা এই অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে ৩০টি ফ্ল্যাট আছে। যে প্লটে এটি নির্মাণ করা হয়েছে, সেখানে অনেকগুলো পুরনো গাছ আছে। স্থপতি মোহাম্মদ রেজা নিকবাখত পুরনো গাছগুলো বাঁচিয়ে অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সটির নকশা করেছেন। স্থাপত্য-নকশা করার সময় গাছগুলো সংরক্ষণের বিষয়ে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। ফলে গাছগুলো অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সটির অপরিহার্য অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে।

সারুহান বে সায়েন্স, কালচার অ্যান্ড এডুকেশন ফাউন্ডেশন, তুরস্ক
তুর্কি কর্তৃপক্ষ যখন জানাল ৩২৫ বছরের পুরনো গাছ কাটা যাবে না, তখন স্থপতিরা গাছ বাঁচিয়ে ভবন নির্মাণের একটি অভিনব পথ বের করলেন। নবনির্মিত ভবনের ছাদে ও বারান্দায় ফোকর তৈরি করে প্রাচীন গাছের ডালগুলোকে উপরে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়া হলো। অভিনব পরিবেশবান্ধব নির্মাণশৈলীর কারণে ‘সারুহান বে সায়েন্স কালচার বিল্ডিং’ তুরস্কের অন্যতম পরিবেশবান্ধব ভবন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। সেই সঙ্গে প্রাচীন গাছ বাঁচিয়ে যে এমন ভবন নির্মাণ করা যায়- সেই উদাহরণও তৈরি হয়েছে।

গ্রিন রেসিডেন্স
ইতালীয় স্থপতি লুসিয়ানো পিয়া ১৫০টিরও বেশি গাছকে আবাসিক ভবনে ব্যবহারের জন্য নির্বাচিত করেছেন, যা দিয়ে নির্মাণ করেছেন ‘গ্রিন রেসিডেন্স’। গ্রিন রেসিডেন্সে ব্যবহৃত গুল্মজাতীয় গাছ পরিবেশ ও শব্দদূষণ কমায়। সেই সঙ্গে যানবাহন থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া শোষণ করে। গাছগুলো থেকে তৈরি ‘মাইক্রোক্লিমেট’ গরমকালে অ্যাপার্টমেন্ট ভবন শীতল রাখে এবং শীতকালে ভবনটিকে উষ্ণ করে তোলে।

দ্য টি হাউজ, চায়না
সুউচ্চ ভবনের ভিড়ে চীনের সাংহাই প্রদেশের একটি ছোট বাড়ি পথচারীদের নজর কাড়ে। বাড়িটির নাম- দ্য টি হাউজ। বাড়িটি সিঙ্গাপুরের স্থপতিদের সংগঠন ‘আর্কি ইউনিয়নে’র সাংহাই অফিসের পেছনের দিকে অবস্থিত।
পরিত্যক্ত একটি গুদামের ধসে যাওয়া ছাদের উদ্ধারকৃত অংশে টি হাউজটি নির্মাণ করা হয়েছে। জমিটির তিনদিকে দেয়াল থাকার ফলে স্থানটি সংকুচিত ছিল। উঠানে ছিল একটি পূর্ণবয়স্ক গাছ। আর্কি ইউনিয়নের স্থপতিরা বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে উঠানের গাছটিকে বাড়ির ভেতরে নিয়ে নিলেন। দেখলে মনে হবে গাছটি যেন বাড়িরই অবিচ্ছেদ্য কোনো অংশ।

বাড়ির মধ্যে গাছ
কাজাখের স্থপতি আইবেক আলমাসোভ পাথরের বিস্তার রোধ করার উপায় হিসেবে গাছের চারপাশে এই কাচের বাড়িটির স্থাপত্য-নকশা করেছেন। টাওয়ার-সদৃশ্য বাড়িটি গাছের চারপাশ ঘিরে নির্মাণ করা হবে। দেখে মনে হবে কংক্রিটের বাড়িটি পরম মমতায় সবুজ গাছটিকে জড়িয়ে রয়েছে।
আইবেক ২০১৩ সালে বাড়িটির নকশা করেন। কিন্তু বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী না হওয়ায় বাড়িটি নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। আশার কথা হচ্ছে, সম্প্রতি একটি কাচ এবং সৌর প্যানেল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ভবনটি নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। খুব শিগগিরই হয়তো বাড়িটি বাস্তবে রূপ পেতে যাচ্ছে।

কারিকা ডেস্ক

NO COMMENTS

Leave a Reply