Home মূল কাগজ সবুজে সাজুক ঘর

সবুজে সাজুক ঘর

কামরুজ্জামান কাজল


ইট-পাথরে মুড়ে থাকি সারাক্ষণ। ঘরে-কর্মক্ষেত্রে। কিন্তু মন আকুল হয়ে থাকে একটুকু সবুজের জন্য। ঘর তো আমরা নানাভাবেই সাজাই। কিন্তু একটু পরিকল্পনা করে যদি ঘর সাজাই তাহলে আমাদের ছোট্ট নীড়েও দেখা মিলবে সবুজের। প্রশান্তিতে থাকবে আমাদের চোখ-মন।
সবুজে কীভাবে সাজিয়ে নেব ঘরটাকে? নানান দিকনির্দেশনা দিয়েছেন ফারজানা’স ব্লিজ-এর সত্ত্বাধিকারি ফারজানা গাজী। তিনি জানান, ইচ্ছা আর চেষ্টা থাকলে নিজের ঘরটিকে সাজিয়ে তুলতে পারেন বাহারি উদ্ভিদ দিয়ে। ছায়ায় বেঁচে থাকে এমন অনেক উদ্ভিদ ঘরের ভেতরে টবে লাগানো যায়। এসবের (ইনডোর প্ল্যান্টস) মধ্যে আইভি লতা, পাতাবাহার, মানি প্ল্যান্ট, ফাইলো ডেনড্রন, ড্রাসেনা, ক্রোটন, বাহারি কচু, পাম, অ্যানথুরিয়াম, ডাইফেনবেকিয়া, ম্যারান্টা, মনস্টেরা প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

জেনে নিন সবুজে ঘর সাজানোর কিছু উপায়-
• ঘরের প্রবেশ পথে ক্যাকটাস বা রোদ ছাড়া টবে বাঁচতে পারে এমন কিছু গাছ লাগানো যায়। এতে অতিথিরা বাড়িতে আসা মাত্রই আপনার সুরুচির পরিচয় পাবেন।
• গৃহের সৌন্দর্যের মূল ব্যাপারটি যেন বসার ঘরকে কেন্দ্র করে। আমরা এই বসার ঘরটিতে কত রকমের দেশি-বিদেশি শো-পিস দিয়েই তো সাজাই। কিন্তু প্রাকৃতিক দিক চিন্তা করে একবার যদি সবুজ গাছ-পাতা ও ফুল দিয়ে সাজাতে পারি তাহলে একই সঙ্গে ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব-উভয়েরই সমন্বয় ঘটবে। আর বসার ঘরে মানিপ্ল্যান্ট বা ছোট আকৃতির গাছ থাকলে দেখতেও বেশ ভালো লাগবে।
•  আপনার বাসার খাবার ঘরটিতে যদি ছোট একটা টবে লেটুস বা ধনেপাতার মতো গাছ রোপণ করতে পারেন তাহলে এর সুগন্ধে খাবার সময় আপনার ভালোলাগাটা বাড়বে। এছাড়া অন্য কোনো গাছের ব্যবহারও বাড়িয়ে দিতে পারে আপনার ডাইনিং রুমের সৌন্দর্য।
•  শোবার ঘরের বিছানার পাশে সামান্য ফাঁকা জায়গা থাকলে সেই জায়গাটাও কাজে লাগাতে পারেন। সেখানে এমন কোনো গাছ লাগাতে পারেন, যা কিনা একই সঙ্গে ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি আপনার বিশেষ কোনো কাজেও লাগবে। যেমন তুলসীর মতো ছোট্ট গাছটিই লাগিয়ে দেখুন কি চমৎকার কাজে আসবে তার চাক্ষুস প্রমাণ পেয়ে যাবেন। ঘরে তুলসীগাছ থাকলে মশার আনাগোনা রীতিমত কমে যায়। আবার কখনো কখনো থাকেও না। অন্যদিকে ঠা-া-কাশিতে তুলসীর রস বেশ উপকারি।
• আপনার রান্নাঘরে যদি কিঞ্চিত জায়গা থাকে তাহলে সেখানেই একটা মরিচ গাছ লাগিয়ে দিন। নিজের হাতে লাগানো গাছের দুটি মরিচ সালাদ করে খেয়ে দেখুন কি অমায়িক তৃপ্তি পাচ্ছেন! সুতরাং এই স্বাদ নিতে ভুল করবেন না যেন।

•  আধুনিক অ্যাপার্টমেন্টগুলোতে বসবাসকারী মানুষের উঠোনের চাহিদা মেটাতে ভরসা করতে হয় ছোট্ট বারান্দার মাধ্যমে। এখানকার ছোট পরিসরটুকু কাজে লাগিয়ে আপনি পেতে পারেন খানিক প্রশান্তি। পছন্দমতো গাছ কিনে এনে গাছে গাছে ভরে তুলুন আপনার অবসরে একটু প্রশান্তির আশ্রয়স্থলটুকু। যেন ভোরে ঘুম ভেঙে এখানে এসেই সারাদিনের জন্য অন্তত কিছুটা হলেও জীবনীশক্তি সঞ্চয় করে নিতে পারেন।
•  যদি আপনার নিজের একটা বাড়ি থাকে তাহলে তো সোনায় সোহাগা। চাইলেই ছাদে আপনি আপনার পছন্দের ফল-ফুল কিংবা ঔষধি গাছও লাগাতে পারেন।

একটু বুদ্ধি খাটিয়ে আমরা যদি ঘরে কিছু ঔষধি গাছ রাখতে পারি তাহলে ঘরের দূষিত বাতাস থেকেও মুক্তি মিলবে। ঘরে কিছু স্বাস্থ্যকর গাছ রাখলে তা ঘরের বাতাস থেকে ক্ষতিকর পদার্থ শুষে নিয়ে স্বাস্থ্যকর আবহাওয়া তৈরি করতে সাহায্য করে। এমনই কিছু গাছের কথা জেনে নিন-
মানি প্ল্যান্ট
ঘরের ফ্রিজ কিংবা অন্যান্য যন্ত্র যা থেকে প্রতিনিয়ত সিএফসি গ্যাস নির্গত হয়, তা আমাদের বুকে ব্যথা এবং গলার খুসখুসে কাশির জন্য দায়ী। এমনকি এই সামান্য গ্যাসও বুকে ব্যথা ও গলা খুসখুস তৈরি করে। প্যান স্টেটের গবেষকদের মতে, বাসাবাড়িতে মানি প্ল্যান্ট রাখলে এটি ক্ষতিকারক সিএফসি এবং ওজোন গ্যাস শুষে নিয়ে আমাদের রক্ষা করে। তাই ঘরে রাখুন এই মানি প্ল্যান্ট।

পুদিনা
ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব নিউরোসায়েন্সের একটি গবেষণায় জানা যায়, পুদিনা গাছ মস্তিষ্ককে সচল রাখতে এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এর সঙ্গে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ এবং ওজন নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে ঘরের কোণে রাখা পুদিনা গাছ।

ইংলিশ আইভি
বেশিক্ষণ কম্পিউটার বা অন্যান্য মেশিন ব্যবহার করলে আমাদের মাথাব্যথা শুরু হয়। এর কারণ হচ্ছে, কম্পিউটার বা অন্যান্য মেশিন থেকে কিছু উদ্বায়ী কেমিক্যাল বাতাসে মিশে যায় যা আমাদের নিঃশ্বাসের সঙ্গে মস্তিষ্কে যায় এবং মাথাব্যথার সৃষ্টি করে। ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ার একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ইংলিশ আইভিনামক এই গাছটি বাতাস থেকে ক্ষতিকর কেমিক্যাল শুষে নেয়। ফলে ঘরের ভেতরকার বাতাস থাকে স্বাভাবিক। তাই ঘরের একটি সুন্দর টবে লাগিয়ে দিতে পারেন এই গাছটি।

লেমন বাম
আমরা যখন মানসিক চাপে থাকি তখন এই লেমন বামনামক গাছটি আমাদের সাহায্য করবে। ওহিও স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষণা অনুযায়ী, এই গাছে রয়েছে একপ্রকার সুগন্ধ যা মস্তিষ্কে এন্ডোরফিন-নামক ভালোলাগার হরমোনের নিঃসরণ ঘটায়। এই হরমোন মানুষের মানসিক চাপ বা দুঃখ কমিয়ে হাসিখুশি করে তুলতে সাহায্য করে।

বাটারফ্লাই পাম গাছ
আমাদের দেশে এটি খুবই জনপ্রিয় একটি ঘরোয়া গাছ। বাসার দরজা-জানালা খোলা রাখার ফলে আশেপাশের ক্ষতিকর দূষিত বাতাস ঘরে ঢুকলে এই গাছটি সেই বাতাস শোধন করতে সাহায্য করে। তাই ঘরের এক কোনে রাখতে পারেন এই গাছটি।

সঙ্গে একটু সচেতনতা
গৃহসজ্জায় গাছ লাগাতে হলে একটু বাড়তি সতর্কতারও প্রয়োজন আছে। লক্ষ্য রাখতে হবে যেন টবের গোড়ায় পানি না জমে। এছাড়া গাছগুলো যদি ছায়ায় রাখা হয় তাহলে সময় করে মাঝে মাঝে আপনার সুবিধামতো সময়ে গাছকে কিছু সময়ের জন্য রোদে দিতে পারেন। এতে আপনার গাছগুলো আরো বেশি ভালো থাকবে।

NO COMMENTS

Leave a Reply