Home মূল কাগজ সাধ ও সাধ্যের মধ্যে ফ্ল্যাট পাওয়া যাবে এবারের রিহ্যাব ফেয়ারে

সাধ ও সাধ্যের মধ্যে ফ্ল্যাট পাওয়া যাবে এবারের রিহ্যাব ফেয়ারে

0 102

কামাল মাহমুদ
ভাইস প্রেসিডেন্ট, রিহ্যাব ও
কো-চেয়ারম্যান, রিহ্যাব উইন্টার ফেয়ার ২০১৯ স্ট্যান্ডিং কমিটি

সাক্ষাৎকার গ্রহণ : মির্জা মাহমুদ আহমেদ

দেশে আবাসন ব্যবসার সার্বিক অবস্থা এখন কেমন?
সরকারি কর্মকর্তাদের ৫ শতাংশ সুদে যে গৃহঋণ দেয়া হচ্ছে, এর ফলে সরকারি কর্মকর্তারা রেডি ফ্ল্যাট কেনার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করছেন। স্বল্পসুদে গৃহঋণ অনুমোদন হওয়ার পর আবাসন ব্যবসায় সার্বিক প্রবৃদ্ধি ১০-১৫ শতাংশ বেড়েছে। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার ওপরে অনেক কিছু নির্ভর করে। অর্থনৈতিক অবস্থা যত গতিশীল হবে আবাসন ব্যবসার প্রসারও ততটা বাড়বে। আমাদের দেশে যারা ফ্ল্যাট কেনেন, তারা মূলত সরকারি ব্যাংক থেকে দীর্ঘমেয়াদী গৃহঋণ প্রত্যাশা করেন। যেকোনো অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলো যদি সহায়তা করে তাহলে যারা ফ্ল্যাট কিনতে চান তাদের জন্য ভালো হয়। পৃথিবীর কোনো দেশেই গৃহঋণ-সুবিধা ছাড়া ফ্ল্যাট বিক্রি হয় না। উন্নত দেশগুলোতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এমন দীর্ঘমেয়াদী কিস্তি-ব্যবস্থা চালু আছে, যাতে ভাড়ার টাকার মাধ্যমেই কিস্তি পরিশোধ করা যায়। আমরা আশা করি, এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদী কিস্তি-সুবিধা বাস্তবায়নে সরকার এগিয়ে আসবে।

এবার রিহ্যাব উইন্টার ফেয়ারে কী ধরনের আয়োজন থাকছে?
এবারের মেলায় সব ধরনের আয়োজনই থাকছে। সাধ ও সাধ্যের মধ্যে সবার প্রত্যাশা অনুয়ায়ী ফ্ল্যাট পাওয়া যাবে এবারের রিহ্যাব ফেয়ারে। মধ্যবিত্ত পরিবার, যারা ষাট থেকে আশি লাখের মধ্যে ফ্ল্যাট চাচ্ছেন- তাদের জন্য অনেক ফ্ল্যাট থাকবে। এ ছাড়া উচ্চবিত্তদের জন্য দুই থেকে চার কোটি টাকার ফ্ল্যাটও মেলায় পাওয়া যাবে। নিম্নবিত্তদের জন্যও এলাকাভেদে ৩০ লক্ষ টাকার ফ্ল্যাটও বিক্রি হবে। এ ছাড়াও এবারের মেলায় রেডি ফ্ল্যাট অনেক বেশি থাকবে। ২০১৩ সালের পরে এবারই অনেক বেশিসংখ্যক আবাসন প্রতিষ্ঠান রিহ্যাব উইন্টার ফেয়ারে অংশগ্রহণ করছে।

ঢাকার ওপর প্রতিনিয়ত চাপ বাড়ছে। ঢাকার বাইরে পরিকল্পিত আবাসন গড়তে রিহ্যাব কী কাজ করছে?
আগামী দশ বছরে আবাসন গড়ার মতো আর কোনো জমি ঢাকায় থাকবে না। ঢাকায় জমির সংকট তৈরি হবে। ঢাকার বাইরে পরিকল্পিত আবাসন গড়তে সরকারের পক্ষ থেকে রিহ্যাবের মাধ্যমে যদি আবাসন ব্যবসায়ীদের জমি দেয়া হয়, তাহলে আমরা মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের জন্য পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তুলতে পারব। সেই সঙ্গে জনসংখ্যার তুলনায় আবাসনের যে সংকট-সেটাও কাটিয়ে উঠতে পারব।

আবাসন ব্যবসা প্রসারে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া উচিত বলে মনে করেন?
বর্তমানে গৃহঋণে সরল সুদের প্রবর্তন করা জরুরি বলে মনে করি। কিছু কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান আছে, যারা প্রথমে ঋণ দেয়ার সময় সুদের হার ১০ শতাংশ বললেও একটা পর্যায়ে সুদের হার ১৩ শতাংশ থেকে ১৪ শতাংশে নিয়ে যায়। হাউজ বিল্ডিং ফিন্যান্স করপোরেশনসহ রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলো সরল সুদে গৃহঋণ দেয়। ব্যক্তি মালিকানাধীন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যদি সরল সুদে গৃহঋণ দেয়, তবে গ্রাহকের জন্য বোঝা হবে না।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রেশন ফি কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন। আবাসন খাতের প্রসারে প্রজেক্ট লোন, থোক বরাদ্দ ও দীর্ঘমেয়াদী গৃহঋণের ব্যবস্থা করলে আবাসন খাত আবার ঘুরে দাঁড়াবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

NO COMMENTS

Leave a Reply