Home চট্টগ্রাম ‘সিলভার স্ক্রিনে’ মুগ্ধ দর্শক

‘সিলভার স্ক্রিনে’ মুগ্ধ দর্শক

ঈদ-পরবর্তী প্রতিটি শো ছিল হাউজফুল

আবদুল্লাহ আল মামুন

‘তরুণ বয়সে চট্টগ্রামের প্রায় সবগুলো সিনেমা হলে সিনেমা দেখেছি। এক পর্যায়ে সিনেমা হলগুলোর পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়। সিনেমার মানও কমে যায়। পরিবার নিয়ে সিনেমা দেখার মতো পরিবেশ তো ছিলই না। দীর্ঘদিন পর সিলভার স্ক্রিনে সিনেমা দেখতে এসে সেই তারুণ্যে ফিরে গেলাম। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ। আরামদায়ক বসার আসন। উন্নত সাউন্ড সিস্টেম। পরিসর ছোট হলেও সিলভার স্ক্রিনে সিনেমা দেখে মুগ্ধ।’ বলছিলেন নগরের হালিশহর থেকে চট্টগ্রামের প্রথম সিনেপ্লেক্স সিলভার স্ক্রিনে স্বপরিবারে সিনেমা দেখতে আসা ব্যবসায়ী হামিদুর রহমান। গত বছরের ১৬ আগস্ট নগরের ২ নম্বর গেইট ফিনলে স্কয়ারে যাত্রা শুরু হয় সিনেপ্লেক্স : সিলভার স্ক্রিন। সাড়া ফেলে চট্টগ্রামের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে। এবার ঈদ-আনন্দেও চট্টগ্রামের লোকজনের জন্য বাড়তি বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে যুক্ত হয়েছে এ সিনেপ্লেক্সটি। যেখানে প্লাটিনাম ও টাইটানিয়াম নামে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির দুটি হল রয়েছে। অর্থাৎ একই সময়ে দুই পর্দায় আলাদা আলাদা সিনেমার প্রদর্শনীর ব্যবস্থা রয়েছে। দুটি হলের একটিতে রয়েছে উন্নত ও আরামদায়ক আসনব্যবস্থা, অন্যটিতে যুক্ত আছে রিক্লাইনিং আসনব্যবস্থা (শোয়ানো যায় এমন)। দুটি হলেই রয়েছে ডিজিটাল সাররাউন্ড ৭.১ সাউন্ড সিস্টেম। গত ১৯ জুন মঙ্গলবার সিলভার স্ক্রিনে নিজের অভিনীত সিনেমা ‘নোলক’ দেখেন অভিনেত্রী ইয়ামিন হক ববি।
সিলভার স্ক্রিন সিনেপ্লেক্সে সিনেমা উপভোগের পর দর্শক অভি আদিত্য বলেন, ‘সিলভার স্ক্রিনের স্ক্রিন ও সাউন্ড কোয়ালিটি খুবই মানসম্মত। সিনেমা হলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আচরণও খুব ভালো। তবে দর্শকদের জন্য সিট ও হল আরও বাড়ানো দরকার। চট্টগ্রামের সিনেমাপ্রেমীদের জন্য মাত্র দুটো হল খুবই অপ্রতুল।’
বন্ধুদের নিয়ে সিনেমা দেখতে এসেছিলেন রেজোয়ান রাজু। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রজন্মের কাছে সিনেমা হল মানে ছিল যত্রতত্র পানের পিক। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ। ভাঙা চেয়ার। ছারপোকা। উৎকট গন্ধ। সিলভার স্ক্রিন সে ধারণা পাল্টে দিয়েছে। এখানে নান্দনিক পরিবেশে আরামদায়ক আসনে বসে সিনেমা উপভোগ করেছি। তবে দর্শকদের ওয়েটিংয়ের পরিসরটি আরও বড় করা দরকার। এ ছাড়া লাইনে দাঁড়িয়ে টিকেট কেটে ছবি দেখা খুবই বিরক্তিকর। অনলাইনে টিকেট কাটার ব্যবস্থা করা হলে খুবই ভালো হয়।’
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, সিলভার স্ক্রিনের নজরকাড়া পরিবেশ। হলে প্রবেশ করতেই চকচকে মেঝে চোখে পড়ে। একপাশে একটি টিকেট কাউন্টার। চার পাশেই নানা রঙের পোস্টার। রয়েছে কয়েকটি স্ক্রিন। যেখানে হলে প্রদর্শন হওয়া সিনেমার অংশবিশেষ দেখানো হচ্ছে। হলের সামনে স্বল্পপরিসরের জায়গা। যেখানে বসার ব্যবস্থা রয়েছে। রয়েছে চকচকে ওয়াশরুমও। প্লাটিনাম হলে প্রবেশ করে দেখা গেল, উন্নত ও আরামদায়ক আসনব্যবস্থা। টাইটানিয়ামের আসনগুলোও নজরকাড়া। রিক্লাইনিং সিটগুলোতে যেকেউ সুইচ টিপেই শুয়ে কিংবা কাত হয়ে উপভোগ করতে পারবেন সিনেমা। আসনে থাকা সুইচ টিপে অর্ডার করা যাবে খাবারও।
সিলভার স্ক্রিনের অন্যতম উদ্যোক্তা ফারুক আহমেদ বলেন, ‘প্রায় এক বছর আগে যাত্রা শুরু করেছে সিলভার স্ক্রিন। এর মধ্যে চট্টগ্রামের সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে ভালো সাড়া ফেলেছে। তবে আমাদের দেশীয় ছবির প্রতি দর্শকদের আগ্রহ কম দেখা যাচ্ছে। দেবী যেভাবে সাড়া ফেলেছিল, গত এক বছরে অন্য কোনো সিনেমা সেভাবে সাড়া ফেলেনি। কনটেন্ট ভালো না হলে দর্শকরা আগ্রহী হন না। তবে বিদেশী সিনেমার প্রতি দর্শকদের আগ্রহ রয়েছে। অ্যাকশন ও হরর টাইপের ছবিগুলো বেশি দেখতে চান তারা। দীর্ঘদিন সিনেমা হলের প্রতি দর্শকদের দূরত্ব ছিল। যার কারণে কাহিনি-নির্ভর সিনেমার প্রতি আগ্রহ কমে গেছে। তবে ভালো কনটেন্টের সিনেমা তৈরি হলে ভালো ব্যবসাও হবে। আমরা ভালো কনটেন্টের অভাবে ভুগছি। এবার ঈদে সিনেমাপ্রেমীদের যথেষ্ট সাড়া পেয়েছি। ঈদের পরদিন থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যা ও বিকেলের শো ছিল হাউজফুল।’
সিলভার স্ক্রিনের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিদিন বেলা সাড়ে ১১টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চারটি প্রদর্শনী (শো) হয়। প্লাটিনামে বাংলাদেশি ছবির মর্নিং ও ম্যাটিনি শোর টিকেটমূল্য ৩৫০ টাকা। প্রিমিয়াম সিট ৫০০ টাকা। বিদেশী ছবির মর্নিং ও ম্যাটিনি শোর টিকেট ৪০০ টাকা। প্রিমিয়াম সিট ৪০০ টাকা। বাংলাদেশি ছবির সন্ধ্যা ও নাইট শোর টিকেট মূল্য ৪০০ টাকা। প্রিমিয়াম সিট ৬০০টাকা। বিদেশী ছবির সন্ধ্যা ও নাইট শোর টিকেট মূল্য ৫০০ টাকা। প্রিমিয়াম সিট ৭০০টাকা।
টাইটানিয়ামে বাংলাদেশি ছবির টিকেট ১ হাজার ২০০ টাকা এবং বিদেশি ছবির টিকেট ১ হাজার ৫০০ টাকা। প্রাথমিকভাবে কাউন্টারে নিয়মিত শো’র টিকিট পাওয়া যাবে। কাউন্টার থেকে এক থেকে পাঁচদিন আগে পর্যন্ত অগ্রিম টিকিট কাটা যায়। পরবর্তীতে অনলাইনেও টিকিট কাটার ব্যবস্থা রাখা হবে। দুটি হলের মধ্যে প্লাটিনামে আসনসংখ্যা ৭০টি। টাইটানিয়ামে আসনসংখ্যা ১৮টি। বর্তমানে হল দুটিতে চলছে বাংলাদেশি ছবি নোলক। বিদেশী ছবির মধ্যে চলছে অ্যাভেঞ্জার : এন্ড গেম, আলাদ্দিন, গডজিলা : কিং অব মনস্টারস ও ডার্ক ফনিক্স।

NO COMMENTS

Leave a Reply