Home মূল কাগজ সুপেয় পানির অভাব, দুই যুগেও বসতি গড়ে ওঠেনি কর্ণফুলী আবাসিক প্রকল্পে

সুপেয় পানির অভাব, দুই যুগেও বসতি গড়ে ওঠেনি কর্ণফুলী আবাসিক প্রকল্পে

0 1125

আবদুল্লাহ আল মামুন


পানি-সংযোগের অভাবে দুই যুগেও বসতি গড়ে ওঠেনি কর্ণফুলী আবাসিক এলাকায়। পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অন্যতম বৃহৎ এ প্রকল্প। পরিণত হয়েছে মাদকের আখড়ায়। দিনের বেলা ব্যবহার হয় গো চারণভূমি হিসেবে। রাতে পরিণত হয় মাদকসেবী ও সন্ত্রাসীদের নিরাপদ অভয়ারণ্যে।
প্লট মালিকদের অভিযোগ, আবাসিক প্রকল্পে পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও টেলিফোন সংযোগের প্রধান লাইন স্থাপনের দায়িত্ব সিডিএ’র। আট বছর আগে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু পানির সংযোগ দেওয়া হয়নি।
চট্টগ্রামের তৃতীয় কর্ণফুলী সেতুর (শাহ আমানত সেতু) দক্ষিণ পাড়ে প্রায় ৫০ একর জায়গায় এ প্রকল্প অবস্থিত। সিডিএ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরের আবাসন-সঙ্কট ও যানজট সমস্যা নিরসনে ১৯৯২-৯৩ অর্থবছরে এ প্রকল্প হাতে নেয় সিডিএ। তখন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ১২ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
প্রকল্প এলাকায় প্রথম প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয় ১৯৯৪ সালে। তিন ও চার কাঠা আয়তনের মোট ৫১৭টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রথম দফায় প্রতি কাঠার দাম ছিল ৮০ হাজার টাকা। পরে কাঠাপ্রতি দাম ছিল দেড় লাখ টাকা।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রকল্প এলাকায় প্লটের মালিকদের অর্থে ওয়াসার মাধ্যমে পানির সংযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। এতে প্লট মালিক সমিতি রাজি ছিল। কিন্তু সেখানে পানি পাওয়ার কথা জানিয়ে পিছিয়ে আসে তারা। নদীর ওপারে ওয়াসা নতুন একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। সেটি বাস্তবায়ন হলে পানির আর কোনো সমস্যা থাকবে না।’
সিডিএ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকল্প এলাকায় ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনে ‘এক্সপ্ল্যানেশন অব ইন্টারেস্ট’ দরপত্র প্রকাশ করে সিডিএ। এ ছাড়া সুপেয় পানির জন্য প্রকল্প এলাকায় ১০০ ফুট গভীর কূপ খনন করা হয়েছিল। কিন্তু পানিতে আয়রন ও লবণাক্ততা থাকার কারণে সে উদ্যোগও ভেস্তে যায়। এর আগে বিভিন্নভাবে পানির সংযোগ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু কোনোবারই সফলতার মুখ দেখা যায়নি।
সিডিএ কর্ণফুলী আবাসিক প্লট মালিক কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি জিয়া হাবিব আহসান বলেন, ‘এটি সিডিএ’র প্রকল্প। এ প্রকল্পে পানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা তাদের দায়িত্ব। কিন্তু তারা কথা রাখেনি। সুপেয় পানির ব্যবস্থা না করায় দুই যুগেও বসতি গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। পানি সরবরাহের জন্য বারবার ধরনা দিলেও কোনো সুফল মেলেনি।’
তিনি বলেন, ‘অনেকে শহরতলিতে একটি বাড়ি বানানোর স্বপ্ন নিয়ে প্লটগুলো কিনেছিল। কিন্তু সিডিএ’র অবহেলার কারণে তা দেখে যেতে পারেনি। প্লট মালিকদের অনেকে ইতোমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন।’

NO COMMENTS

Leave a Reply