Home ‘স্থাপত্যের ছাত্রী থাকতেই হুমায়ূন আহমেদের স্কুলের নকশা করেছিলাম’

‘স্থাপত্যের ছাত্রী থাকতেই হুমায়ূন আহমেদের স্কুলের নকশা করেছিলাম’

সাবরিনা মিলি


কারিকাঃমেহের আফরোজ শাওন এই নামটা বিনোদন জাগতের সেলিব্রেটি হিসেবেই জানা, আড়ালে তিনি একজন স্থপতিও, কিন্তু সেদিকে কেন গেলেন না?
মেহের আফরোজ শাওন : একটা মানুষের যখন অনেকগুলো ফেস বা অংশ থাকে, তখন একটা পর্যায়ে গিয়ে তাকে বাছাই করতে হয় কোন দিকটা নিয়ে সে সামনের দিকে এগোবে। কিছু থাকে পছন্দের জায়গা। আর কিছু ক্ষেত্রে মানুষ তার কাছে কিছু প্রত্যাশা করে। এখন আমি হয়তো পছন্দ করছি না, কিন্তু আমার দর্শক বা শুভাকাক্সক্ষী যারা আছে তাদের হয়তো একধরনের পছন্দ। তো দুটের মধ্যে তাল মেলানো কিন্তু খুব কঠিন হয়ে যায়। সেটা করতে গিয়ে আমাকে বেশ কিছু ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। প্রায় ৫-৬ বছর হলো আমি অভিনয়টা করছি না। নাচটাও আমাকে ছাড়তে হয়েছে। কিন্তু বাকি কোনোটাই কিন্তু আমি একেবারে ছেড়ে দেইনি। যদি বলেন সরাসরি কোনগুলো করছেন, আমি বলব এখন করছি পরিচালনা, গান এবং স্থাপত্য চর্চা। আর্কিটেকচারে একেবারে যাওয়া হয়নি এটা ঠিক না। আমি পাস করার পর তখন বাচ্চাগুলো ছোট ছিল, কিন্তু তখনও কাজ করেছি। তখন শুধু বাসা কিংবা অফিসের ইন্টেরিয়র করেছি। অবশ্য অপরিচিতদের জন্য না। নিজেদের পরিচিতদের মধ্যে। তারপর ২০১২ সালে আমার যারা আর্কিটেক্ট বন্ধু এমনকি আমার শিক্ষকরাও বলতে থাকলেন, তুমি কেন কাজ করছ না। আমার ক্ষেত্রে আসলে ১০টা-৫টা চাকরি করা কখনোই সম্ভব ছিল না। আর আর্কিটেকচারে তো আরও বেশি সময় দিতে হয়। ব্যাপারটা এমন যে ডিরেকশনও পুরো সময় নিয়ে। আবার এই আর্কিটেকচারও পুরো সময় নিয়ে নেয়। পার্টটাইম বলে কিছু নেই। যখন আমার দু’জন ব্যাচমেট বলল, আমরা চাই তুমি কাজ কর, তো আমরা তিনজনে মিলে কিছু একটা করতে পারি। যখন তুমি অনেক ব্যস্ত থাকবে তখন আমরা সামলে নিলাম। আমার যে প্রজেক্টটা তুমি সামলাতে চাও সেটা তুমি করলে। আমার দুই কাছের বন্ধুর কাছ থেকে যখন আমি প্রস্তাবটা পেলাম তখন ভাবলাম টুকটাক কাজ তো করছি। ওদের সঙ্গে কাজ যখন করছি তখন আমি বড় কাজগুলো তো সাহস করে হাতে নিতে পারব। আমাদের কো¤পানির নাম ডটস। আমরা দু’জন মেয়ে একজন ছেলে। ঢাকার বাইরে অনেকে প্রজেক্টের কথা বলতেন। কিন্তু ঢাকার বাইরে প্রজেক্ট নিয়ে আসলে মেয়েদের দৌড়াদৌড়ি একটু কঠিন হয়ে যায়। তারপর বিল্ডিং কনসালট্যান্সি করতে গেলে দেখা যায় ঢালাই হচ্ছে, সাইটে যেতে হচ্ছে। মাঝেমধ্যেই দেখা যায়, একজন ছেলে পার্টনার থাকলে অফিসের মধ্যে সুবিধা হয়। আমাদের তিনজনের সিনক্রোনাইজেশন খুবই ভালো। আমি, নায়লা হাসান ও মান্না রাব্বি। আমরা যখন স্টুডেন্ট প্রজেক্ট করতাম তখনো আমাদের সিনক্রোনাইজেশন খুবই ভালো ছিল। ২০১২ সালে আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম এবং কো¤পানি স্থাপন করলাম। আর্কিটেকচার পেশাটাই এমন, পুরোটাই আসলে অভিজ্ঞতার ওপরে। গান বা অভিনয়ে যেটা হয়, একটা রিয়েলিটি শোতে প্রথম হলো আর অভিনয়ে চলে এলো। একটা অ্যালবাম হিট করল আর সেই সঙ্গে বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী হয়ে গেল। কিন্তু আর্কিটেকচার এমন একটা পেশা, যেখানে যত অভিজ্ঞতা হবে তত আস্তে আস্তে ভালো প্রজেক্ট পাওয়া যাবে। তো সেই দিক থেকে বলতে গেলে বলতে হবে আমি এখনো আসলে অভিজ্ঞতাই অর্জন করছি। বলছি না এমন বড় কোনো কাজ করছি। তবে অভিজ্ঞতা যে অর্জন করছি সেটাই অনেক বড় পাওয়া। যে বিষয়টাতে পড়াশোনা করেছি সেটা একেবারে ভুলে যেতে চাইনি। আমার খুব শখের একটা বিষয় ছিল আর্কিটেকচার। অন্য অনেক বিষয় পড়লে আরও আগে পাস করতে পারতাম। মিডিয়াতে আমার যে ক্ষেত্র সেখানে বেশি সময় দিতে পারতাম। স্টুডেন্ট থাকা অবস্থায় অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। এমনও হয়েছে, আমার আর্কিটেকচারের ফাইনাল জুরি, পাশাপাশি শ্যামল ছায়া ছবির শুটিং। আমি জুরি করতে এসেছি শুটিংয়ের অর্ধেক শেষ করে। আমার জুরি বিকেলে পড়েছে, আমি সকালে শুটিং করেছি। এসেছিলাম হিন্দু বউয়ের শাড়ি পরা আর শাখা-সিঁদুর পরা। আমার শিক্ষকরাও বুঝতে পেরেছিলেন আমি শুটিং করে এসেছি। জুরি শেষ করে আবার রাতে শুটিংয়ে গেছি। এই পড়াশোনার জন্য যে এত কষ্ট করেছি সেই কাজটাও যে করতে পেরেছি সেটাই অনেক কিছু।

কারিকা : স্থাপত্য পেশায় বাংলাদেশে নারীদের অবস্থানকে কীভাবে দেখেন?
শাওন : এক্ষেত্রে আমাকে একটু পক্ষপাতদুষ্ট মনে হবে। তবুও বলি, সৃষ্টিশীল কাজের দিক থেকে নারীরা অনেক এগিয়ে। একমাত্র নারীরাই মাল্টিটাস্কিং করতে পারে। এটা নিয়ে আমরা তিন পার্টনার মাঝেমধ্যে খুব হাসাহাসি করি যে, আমাদের মধ্যে যে ছেলে আছে সে দেখা যাচ্ছে শুধু অফিস নিয়েই থাকছে। আমরা অফিসে কাজ করতে করতে বাসায় রান্না কী হলো, বাচ্চাটা স্কুল থেকে এসে কী খেল সেগুলো চিন্তা করছি। আবার সহকর্মী বন্ধু মিস্ত্রির সঙ্গে গিয়ে রাগারাগি করে আসছে, আমরা অন্যভাবে বলি। এই যে আচরণটা, এই বিষয়গুলো সামলানো, ইঞ্জিনিয়ারকে সামলানো এক রকম। কিন্তু একটা মেয়ে যখন বাসায় থাকে তাকে বুয়া থেকে শুরু করে বাচ্চা, স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি সবাইকে সামলাতে হয়। এই যে তার অভিজ্ঞতাটা, আমার মনে হয় এটা মেয়েরা সবচেয়ে বেশি কাজে লাগাতে পারে সৃজনশীল ক্ষেত্রে। আমার যেটা মনে হয় আর্কিটেকচার পেশাতে মেয়েরা অনেক এগিয়ে আছে, তাদের কাজ করার অনেক সুযোগ আছে। ঢাকার বাইরের কাজগুলোতে, মেয়ে বলে বলছি না, দেখা যায় মন পড়ে থাকে বাচ্চাটার কাছে। এমন তো অনেক সময় হয়, চট্টগ্রামের প্রজেক্ট, রাতে থাকতেই হবে। এই সময়ে খুব কষ্ট লাগে। আমাদের একটা প্রজেক্ট চলছে ফেনীতে। হাসপাতাল। আমি এখনও সাইটটাই দেখতে পারিনি। আমাদের মান্না গেছে, ছবি তুলে নিয়ে এসেছে। সে আমাদের বোঝাচ্ছে। ভিডিও করে নিয়ে এসেছে। না দেখে দেখে কাজ। তখন এমন হয়কি, একটু মনে হয় অবহেলাই কী করলাম।

কারিকা : মেয়েদের জন্যই আর্কিটেকচার এমন একটা কথা বলা হয়। কতটা সত্য বলে মনে করেন?
শাওন : সত্য মনে করি না। আমি বলব, মেয়েদের জন্য কিংবা ছেলেদের জন্য বলে কোনো কথা নেই। ব্যাপারটা হচ্ছে, প্রত্যেকটা মানুষের একটা স্বপ্নের কাজ থাকে। যেমন শচীন টেন্ডুলকার ভালো খেলবে। ওকে এখন ধরে যদি বলা হয় তুমি খেলতে পারবে না। এটা ছেলেদের জন্য নয়, তোমার জন্য অন্যকিছু। আবার অনেক ছেলে আছে ভালো রান্না করে। তাকে যদি বলা হয় সেটা মেয়েদের কাজ। কার ভেতরে যে কোন গুণ আছে সেটা তো আমরা জানি না।

কারিকা : তাহলে কি বিষয়টা এ রকম যে, আমরা আসলে নারীকে অবহেলার চোখে দেখছি?
শাওন : আমরা দু’রকম। মুখোশধারী। কখনও আমরা নারীকে মাথার ওপর তুলে ফেলি, আবার কখনও পায়ের নিচে ফেলি। মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র আমাদের দেশেই একবারে ¯িপকার থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত নারী। এটা আমরা মানছি। আবার এই নারীর পান থেকে চুন খসলেই বলি এই দেখ, এই জন্যই তো ইভটিজিং হয়। সব ক্ষেত্রেই দোষ। বাচ্চাটা অন্যায় করলেই বলবে, মা নিশ্চয় ঠিকমতো শেখায়নি। স্বামীর ক্ষেত্রে বলবে, বউটা খেয়াল রাখে না, তাই সে অন্যদিকে যাচ্ছে।

কারিকা : স্থপতি হওয়ার ক্যারিয়ারটা কি প্রলম্বিত করার পরিকল্পনা আছে?
শাওন : হ্যাঁ, অবশ্যই। প্রলম্বিত করার পরিকল্পনা আছে বলেই তো কাজটা করছি। সব কিছুর একটা বয়স থাকে। যেমন নায়িকা হওয়ার ক্ষেত্রে। নায়িকা হওয়ার কিন্তু একটা বয়স থাকে। এই বয়সটা পেরিয়ে গেলে কিন্তু আর নায়িকা হওয়া যায় না। নায়িকা বলতে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে যেটাকে বোঝায় সেটাকে বোঝাচ্ছি। কিন্তু কেন্দ্রীয় চরিত্রে যে অভিনেত্রী থাকেন সে-ই নায়িকা, সেটা চল্লিশোর্ধ্ব হলেও। আমরা সিথিলমেন্ট নায়িকা যেটাকে বলি, তার একটা সময় থাকে। আবার একটা ম্যাচিওরিটির পর কেউ হয়তো ডিরেক্টর হতে পারে। আবার অনেকদিন গান শেখার পর কেউ গায়ক হতে পারে। সে রকম আর্কিটেকচার ব্যাপারটা এমন যেন শুরুতে এসেই একটা বড় কিছু করে ফেললাম এটা হয় না। খুবই কম, আস্তে আস্তে কাজ করতে করতে স্বপ্নের কোনো একটা কাজ হয়, যে কাজটা আর্কিটেক্ট হিসেবে নিজের পরিচিতিটাকে স্ট্রং করার মতো। আমাদের দেশে এতজন আর্কিটেক্ট কাজ করে যাচ্ছেন, অথচ হাতেগোনা কয়েকজনের নামই সেভাবে পরিচিতি পেয়েছে। তুমি নিজেও যেহেতু আর্কিটেক্ট, তুমি অবশ্যই বুঝবে। সে চেষ্টাটা আমাদের সব আর্কিটেক্টের মনেও কিন্তু থাকে, যে আমরা কাজ করছি আমরা কিন্তু অনেক সময় মন খারাপ করে থাকি যে আমরা জানি ক্লায়েন্ট চাচ্ছে বলে দিচ্ছি কিন্তু বুঝতে পারছি যে এটা ঠিক হচ্ছে না। আমরা চেষ্টা করি যে ক্লায়েন্টের রুচিটাকে পরিবর্তন করার, বারবার বলি এটা এই কারণে দিচ্ছি এবং তার মধ্যেও অনেক ক্লায়েন্ট চায়, উনাদের মধ্যে একটু বেশি চাওয়া থাকে। যেগুলো আসলে আমাদের মতের সঙ্গে মিলছে না, লজিক্যাল না এই একটা দুঃখ কিন্তু শুরুর দিকে থাকে। এখন আমি
মনে করি, কিছুটা অভিজ্ঞতার পর একজন স্থপতি বলতে পারেন যে ‘না, আমি এটাই চাই।’
আপনার আমার কথায় বিশ্বাস রাখতে হবে। আমি খুব অল্প সময়ে ২০১২ থেকে ২০১৬ এই পাঁচ বছরে এই জায়গাটাতে আমরা এসেছি। কিন্তু শুরুর দিকে আমরা কিছু বললে হয়তো ক্লায়েন্টকে শোনাতে পারতাম না, নতুন কো¤পানি। যেহেতু অভিজ্ঞার বিষয় ছিল। কিন্তু এখন যখন আমরা বলি তখন আবশ্যই সেই বিশ্বাসটা থাকে। আজ থেকে আর পাঁচ বছর পরে, আর্কিটেকচারের সঙ্গে চুল পাকার একটা ব্যাপার আছে, বলবে : এ অনেকদিনের পাকা আর্কিটেক্ট। চুল-টুল পাকলে তারপর হয়তোবা পাকা আর্কিটেক্ট হিসেবে… (হাসি) প্রলম্বিত করার অবশ্যই ইচ্ছে আছে এবং বেশকিছু ভালো কাজ করার ইচ্ছে আছে যেটা মানুষ মনে রাখবে।

কারিকা : শুনেছি, আপনি হুমায়ূন আহমেদ প্রতিষ্ঠিত স্কুলের ডিজাইনার। সেটা স¤পর্কে জানতে চাই।
শাওন : এই স্কুলটা যখন আমি করেছি তখন আমি স্টুডেন্ট ছিলাম এবং স্টুডেন্ট প্রজেক্টে এই স্কুল নিয়েই কাজ করছিলাম। আমাদের তখন শুটিং চলত। শুটিংয়ের ফাঁকে ফাঁকে আমি যেটা করতাম যে ছুটি যখন ছিল উইকেন্ডে তখন শুটিং স্পটে বসেও মডেল বানাতাম। আমি নিজের গাড়ি নিয়ে শুটিং স্পটে যেতাম তো আমার গাড়িতে মডেলের পেপার, কাগজপত্র সব থাকত। ফাঁকে ফাঁকে যখন কাজ করতাম তখন সেই মডেলগুলো সবাই আগ্রহ নিয়ে দেখত। কারণ আমি যে ইউনিটে কাজ করতাম সেই ইউনিটের অনেকেরই আর্কিটেকচার নিয়ে ধারণা কম বা মডেলগুলা কম দেখেছেন। তো আমরা একবার একটা এলিমিনেটরি স্কুলের প্রজেক্ট করছিলাম। ওটা দেখে হুমায়ূন
আহমেদ বললেন, তুমি তো অনেক ভালো স্কুলের ডিজাইন করেছ, তুমি কী সত্যি সত্যি একটা স্কুলের ডিজাইন করবে? পুরো বিষয়টা আমার কাছে মনে হয়েছিল একটা দুষ্টামির মতো। আমি বললাম আমি তো এখনো ছাত্রী, আমি কীভাবে করব? তিমি বললেন এই জিনিসটাই তুমি করতে পার আমার ওখানে। নেত্রকোনায়। তারপর আমি সেখানকার জায়গাটা দেখতে গেলাম। পুরো বিষয়টাই আমার কাছে একটা চ্যালেঞ্জের মতো ছিল। কারণ প্রথমত হুমায়ূন আহমেদের প্রতিষ্ঠিত একটি স্কুল এবং ছাত্রজীবনেই আমি একটি কাজ করতে চাচ্ছি। একটা সুবিধা ছাত্রজীবনের আছে, এখন আমরা অনেক কিছু করতে পারি না, নিয়মের বাইরে যেতে পারি না। কিন্তু ছাত্রজীবনে কিন্তু আমরা অনেক স্বপ্ন দেখতে পেরেছি। এখন বিস্তারিত নিয়ম মানতে গিয়ে কিন্তু আমাদের অনেক স্বপ্ন চলে যায়। বাস্তবতা এসে স্বপ্নগুলোকে নষ্ট করে দেয়। ইঞ্চি আর ফিটের মধ্যে বাধা পড়ে যায়। স্টুডেন্ট প্রজেক্ট যেটা করেছিলেন সেটা ছিল ঢাকার স্কুল হিসেবে। আর আমি যখন গ্রামের একটা স্কুল করব ওখানে তো ফ্যান না-ও থাকতে পারে। তখন সেখানে বিদ্যুৎ ছিল না। তাই আমি ডিজাইনটা বিশেষভাবে করলাম। যাতে একটা বাচ্চা ঘর এবং বাহির দুই ধরনের সুবিধাই পায়। বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকায় এখনও যখন বিদ্যুৎ থাকে না তখনও তাদের কোনো সমস্যা থাকে না। আমি কেবল আর্কিটেকচারাল ড্রইংটা করে দিলাম। তখন আমি খুব স্বাধীনভাবে কাজ করেছিলাম। বাকি কাজটা করেছিলেন আমি যে দখিন হাওয়ায় আছি এই ভবনের যে স্থপতি ফললুল করিম। তিমি আমাকে অনেক স্নেহ করতেন। হুমায়ূন আহমেদের বন্ধু তিনি। তিনি আমাকে বললেন, তোমার স্বপ্ন অনুযায়ী আমাকে আর্কিটেচারাল ড্রয়িংটা শেষ করে দাও। তুমি যেটা চাও সেটাই করে দেব, কেবল স্ট্রাকচারটা আমি করে দেব। এভাবেই শেষ পর্যন্ত আমার স্বপ্ন অনুযায়ী স্কুলটা নির্মিত হয়।