Home চট্টগ্রাম ৩০ লাখ টাকায় ফ্ল্যাট দেওয়া সম্ভব

৩০ লাখ টাকায় ফ্ল্যাট দেওয়া সম্ভব

আবদুল কৈয়ূম চৌধুরী

সম্প্রতি চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হলো রিহ্যাবের আবাসন মেলা। এই আয়োজন সামনে রেখে আবাসন খাতের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলতে কারিকার মুখোমুখি হয়েছিলেন সংগঠনটির চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি আবদুল কৈয়ূম চৌধুরী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আবদুল্লাহ আল মামুন

রিহ্যাব চট্টগ্রাম ফেয়ারের এবারের লক্ষ্য কি?

প্রতিবছরই আমরা মেলার আয়োজন করে থাকি। এবারের মেলার লক্ষ্য একটাই সেটা হচ্ছে, রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলো এক ছাদের নিচে বসে ব্র্যান্ডিং করা। গ্রাহকরাও একই ছাদের নিচে সব কোম্পানির প্রোডাক্ট সম্পর্কে জানতে পারবে। এছাড়া আবাসন খাতে বিভিন্ন সমস্যা আছে, দাবি দাওয়া আছে, সেগুলো মেলা চলাকালে নানান অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সরকারের কাছে তুলে ধরা।

চট্টগ্রামে আবাসন খাতের সার্বিক পরিস্থিতি এখন কেমন?
২০১৬ সাল থেকে আবাসন খাত আস্তে আস্তে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু যেভাবে ঘুরে দাঁড়াবে চিন্তা করেছিলাম সেভাবে দাঁড়াতে পারেনি। গতবছরের দিকে ঘুরে দাঁড়ানো শুরু করেছিল। কিন্তু সেভাবে গতি পায়নি। গতবছরও ব্যাংক ও অর্থলগ্নিকারী অনেক প্রতিষ্ঠান ৮ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে ঋণ দিয়েছিল। ফলে মানুষ ফ্ল্যাট কিনতে আগ্রহী হয়েছিল। এখন আবার বিভিন্ন ব্যাংক সুদের হার ৯ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে। ব্যাংক ঋণে সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে আনা গেলে আবাসন খাত আবারো চাঙ্গা হয়ে উঠবে। তবে ফ্ল্যাট বিক্রি আগের চেয়ে বেড়েছে। মানুষের মধ্যে এখনো আস্থার সংকট রয়েছে। আমরা আস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি।

আবাসন খাতে এখন প্রধান সমস্যাগুলো কী?
ফ্ল্যাটের নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) ফি ক্ষেত্র-বিশেষে ১৪ থেকে ১৭ শতাংশ পর্যন্ত দিতে হয়। বিশ্বের কোথাও ৭ থেকে ৮ শতাংশের উপর নিবন্ধন ফি নেই। নিবন্ধন ফি বেশি হওয়ায় অনেকে ফ্ল্যাট কিনতে আগ্রহী হন না। এটা ৭ থেকে ৮ শতাংশের মধ্যে আনতে পারলে গ্রাহকরা ফ্ল্যাট কিনতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন। এছাড়া ফ্ল্যাটের সেকেন্ডারি মার্কেট তৈরি করতে হবে। এ জন্য একটা ফ্ল্যাট যখন দু’বার বিক্রি হবে দ্বিতীয়বার বিক্রির ক্ষেত্রে নিবন্ধন ফি নূন্যতম পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে। এখন নতুন ফ্ল্যাট বিক্রিতে যে নিবন্ধন ফি, পুরনো ফ্ল্যাট বিক্রিতেও একই নিবন্ধন ফি দিতে হয়। এটা ৩ থেকে ৪ শতাংশে নিয়ে আসলে এ খাতে নতুন বিনিয়োগ আসবে। এছাড়া গ্রাহকদের কম সুদে দীর্ঘ মেয়াদি কিস্তিতে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে মানুষ বাসা ভাড়ার টাকায় ফ্ল্যাটের মালিক হতে পারেন। এ খাতের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনে সরকারের কাছে প্রস্তাব করেছিলাম আমরা। এছাড়া অপ্রদর্শিত টাকা বিনাপ্রশ্নে বিনিয়োগের সুযোগ দিতে হবে। এখন যে শর্তে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে এ শর্তে কেউ বিনিয়োগে আসছে না।

স্বল্প ও মধ্য-আয়ের মানুষের বাসস্থান নিশ্চিতে সরকারের কি ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন?
সরকার সহযোগিতা না করলে কখনোই এটি সম্ভব নয়। সরকারের সাহায্য ছাড়া পৃথিবীর কোনো দেশেই স্বল্প ও মধ্য আয়ের মানুষের জন্য আবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। দিন দিন জনসংখ্যা বাড়ছে। ভ‚মির পরিমাণ কমছে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্লট বরাদ্দ দিচ্ছে। প্লট বরাদ্দ না দিয়ে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে যদি ভ‚মি দেওয়া হয় তাহলে ৩০ লাখ টাকার মধ্যে গ্রাহকদের ফ্ল্যাট দেওয়া সম্ভব।

মেলা থেকে ফ্ল্যাট কিনতে আগ্রহী ক্রেতাদের জন্য আপনার পরামর্শ কি?
গ্রাহকদের উদ্দেশ্যে বলবো ফ্ল্যাটের মূল্য এখনো সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। আবাসন খাতে কয়েক বছর মন্দা চলায় একেকজন ব্যবসায়ী অনেক জায়গায় আটকে ছিলেন। যার কারণে নূন্যতম মূল্য, অনেক ক্ষেত্রে লোকসান দিয়ে ফ্ল্যাট বিক্রি করে সে জায়গা থেকে বেরিয়ে আসতে চেষ্টা করছেন। সুতরাং মেলায় এসে গ্রাহকরা বুকিং দিলে ঠকবেন না। এক ছাদের নিচে সব নামিদামি প্রতিষ্ঠান থাকবে। আগামী পাঁচ বছর যেহেতু সরকার পরিবর্তনের কোন সম্ভাবনা নেই। সরকারও আবাসন খাত নিয়ে কাজ করছে। সুতরাং মার্কেট ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়াবে। তখন লোকসান পুষিয়ে নিতে ফ্ল্যাটের দাম বেড়ে যেতে পারে। সুতরাং তাড়াতাড়ি ফ্ল্যাট কিনে নেওয়ায় হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

NO COMMENTS

Leave a Reply