Home চট্টগ্রাম ৬০ লাখ মানুষের জন্য গণশৌচাগার মাত্র ৩৮টি

৬০ লাখ মানুষের জন্য গণশৌচাগার মাত্র ৩৮টি

0 141

কারিকা প্রতিবেদক


চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, ৪১টি ওয়ার্ডে মানুষ রয়েছে ৬০ লাখ। এই বিপুলসংখ্যক লোকের জন্য পুরো শহরে গণশৌচাগার রয়েছে মাত্র ৪৩টি। এর মধ্যে আবার তিনটি বন্ধ। দুটি ভেঙে সংস্কার করা হচ্ছে। সচল আছে ৩৮টি। নগরের জনসংখ্যার বিবেচনায় গণশৌচাগারের এই সংখ্যা খুবই অপ্রতুল বলে মন্তব্য করেছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। তাদের মতে, আগের তুলনায় গণশৌচাগারগুলোর পরিবেশ কিছুটা উন্নত হয়েছে। তবে এখনো তা পুরোপুরি ব্যবহারকারীবান্ধব হয়ে উঠতে পারেনি। এছাড়া পরিবেশের কারণে গণশৌচাগার ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না নারীরা। শৌচাগারগুলোর পরিবেশ আরও উন্নত ও নারীবান্ধব করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
জনসংখ্যার তুলনায় গণশৌচাগারের সংখ্যা অপর্যাপ্ত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা বলেন, চাকরি ও ব্যবসাসহ বিভিন্ন কাজে প্রতিদিন নগরে ৫ থেকে ৭ লাখ লোক আসেন। আর নগরবাসীও রয়েছেন। এই হিসেবে বলা যেতে পারে, নগরে গণশৌচাগারের সংখ্যা অপর্যাপ্ত। জায়গা সংকুলান করতে পারলে গণশৌচাগারের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা সিটি করপোরেশনের রয়েছে।

সিটি করপোরেশনের রাজস্ব বিভাগের তথ্য মতে, নগরের ৪৩টি গণশৌচাগারের মধ্যে চাক্তাই ড্রামপট্টি, বক্সিরহাট ও ফইল্যাতলী বাজারের গণশৌচাগারগুলো বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। এছাড়া নগরের লালদীঘির দক্ষিণ-পূর্ব পাড়ের গণশৌচাগারটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করা হচ্ছে।
সরেজমিন নগরের স্টেশন রোডের গণশৌচাগারটিতে গিয়ে দেখা যায়, এর সামনের অংশে উন্মুক্ত স্থানে গোসল করছেন পুরুষরা। এজন্য ফুটপাতের ওপর বড় বড় প্লাস্টিকের ড্রাম বসানো হয়েছে। একবার গোসলের জন্য প্রতিজনের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ১০ টাকা। শৌচাগারের প্রতিরোধ দেয়ালে শ্যাওলা জমেছে। পুরনো হয়ে গেছে দরজাগুলো। দরজার সামনে টাইলস করা থাকলেও তাতে বালু জমে আছে।
স্টেশন রোডের গণশৌচাগার থেকে ১০০ গজ দূরে নিউমার্কেটের বিপরীতে রয়েছে আরেকটি শৌচাগার। এই শৌচাগারের পরিবেশ তুলনামূলক ভালো। তবে এর প্রবেশমুখের গলিতে দুটি খাবারের দোকান রয়েছে। এসব খাবারের দোকানে ক্রেতা থাকলে গলি দিয়ে প্রবেশ করতে কষ্ট হয় শৌচাগার ব্যবহারকারীদের। নিউমার্কেট থেকে এক কিলোমিটার দূরে লালদীঘির দক্ষিণ-পূর্ব পাড়ে একটি শৌচাগার ছিল। বর্তমানে তা ভেঙে ফেলা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানান, একটি বেসরকারি সংস্থা এখানে আধুনিক শৌচাগার নির্মাণ করছে।
লালদীঘির পশ্চিম পাড়ে আরেকটি গণশৌচাগার রয়েছে। শৌচাগারের দরজা ও কমোডগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। তবে এই শৌচাগারে নারীদের জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থা নেই। ব্যবহারকারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ী সৈয়দ আবদুল হামিদ বলেন, শৌচাগারটির পরিবেশ ভালো। নিয়মিত পরিষ্কার থাকে।
লালদীঘির পশ্চিম পাড় থেকে ২০০ গজ দূরে কে সি দে সড়কের গণশৌচাগারের সামনের অংশে ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। শৌচাগারের বাইরে উন্মুক্ত স্থানে গোসলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শৌচাগারে নারীদের জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থা নেই।
কে সি দে সড়ক থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত চট্টগ্রাম নগরের ব্যস্ততম কাজীর দেউড়ি মোড়। এই মোড়ে আউটার স্টেডিয়ামসংলগ্ন একটি গণশৌচাগার ছিল। সেটিও ভেঙে ফেলা হয়েছে।
অপর্যাপ্ত গণশৌচাগারের কারণে নগরবাসীকে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয় বলে জানান চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাশিদুল হাসান। তিনি বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে অন্তত দুটি করে গণশৌচাগার থাকা উচিত। আবার নগরের যেসব শৌচাগার রয়েছে, সেগুলোর পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা হিসাব করলে অর্ধেকই ব্যবহার উপযোগী নয়। আর ব্যবস্থাপনার কারণে নারীরা এসব শৌচাগার ব্যবহার করতে স্বাছন্দ্যবোধ করেন না। তাই এক্ষেত্রে পরিবেশ উন্নত করার সুযোগ রয়েছে।

NO COMMENTS

Leave a Reply