Home ফিচার
Featured posts

0 95

আবুল হোসেন আসাদ
হিম হিম ঠান্ডা সকাল। ভোরের আলো তখনো ফোটেনি। সারারাত ঘুম হয়নি ভুবনবিখ্যাত রহস্যময়ীকে দেখব বলে। প্যারিসের হোটেল ডি ভিলা থেকে মেট্রোরেলে চড়ে মিউজি ডি ল্যুভরে এলাম। ল্যুভর মিউজিয়ামের সঙ্গেই লাগোয়া এই মেট্রো স্টেশন। ছোটবেলায় বইয়ে পড়েছি, দেখেছি এক রহস্যময়ীর ছবি : মোনালিসা। লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির তৈলরঙে আঁকা কালজয়ী চিত্র মোনালিসার রহস্যময় হাসিতে উদ্ভাসিত এক জাদুঘর, নাম তার ল্যুভর।
শুধু মোনালিসার জন্যই নয়, স্বীয় স্থাপত্যবৈশিষ্ট্য, নান্দনিক নির্মাণশৈলী, প্রাচীন দুর্গ থেকে রাজপ্রাসাদ, অতঃপর মিউজিয়ামে পরিণত হওয়া- সব মিলিয়ে ল্যুভর নিজেই একটি ইতিহাস। সুবিশাল প্রদর্শনীর জায়গা নিয়ে ইতিহাসের স্মৃতিচিহ্ন বুকে ধারণ করে ল্যুভর নিজেই হয়ে উঠেছে বিশ্বসেরা আর্ট মিউজিয়াম। ফ্রান্সের প্যারিসে সিন নদীর তীরে অবস্থিত এই ল্যুভর মিউজিয়াম সময়ের সিঁড়ি বেয়ে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে সমকালে, মহাকালের ধারক হিসেবে।
প্যারিস। যার উপমা অর্ধেক নগরী, অর্ধেক কল্পনা। এ কল্পনার রাজ্যে একসময়ের রাজপ্রাসাদে অধুনা ল্যুভরের দ্বিতীয় তলার ফ্রেমে ঝুলছে কল্পনার মানবী মোনালিসার ছবি। প্রশস্ত প্রাঙ্গণ পেরিয়ে ল্যুভরে ঢুকতেই পেলাম কাচের পিরামিড। কাচের পিরামিডের ভেতর দিয়ে ল্যুভরের মূল ভবনে প্রবেশ করলাম। কারও কারও মনে হতে পারে ল্যুভরকে জাদুঘর বানানোর জন্যই বুঝি তৈরি করা হয়েছিল। এ ধারণাকে পোক্ত করে দেয় ল্যুভরের কাচের পিরামিড। আদতে ল্যুভর হচ্ছে একটি প্রাচীন দুর্গ। ১২ থেকে ১৩ শতকের মাঝে ল্যুভর নির্মিত হয়েছিল দুর্গ হিসেবে। ধারণা করা হয়, দুর্গটির নির্মাণ শুরুর সময় ১১৯০ সাল। তখন ছিল রাজা দ্বিতীয় ফিলিপের শাসনামল। ভাইকিং দস্যুদের হাত থেকে প্যারিস শহরকে রক্ষা করার জন্য সিন নদীর তীরে শহরের সংযোগস্থলে নির্মিত হয়েছিল ল্যুভর। প্রতিরক্ষার জন্য দুর্গের নকশাটিকে করা হয় চতুষ্কোণ। যার চারপাশ দিয়ে ঘেরা ছিল পরিখায়। বেশকিছু ওয়াচ টাওয়ার বা প্রতিরক্ষামূলক টাওয়ারও ছিল প্রাচীরের সঙ্গে, চারদিকে। প্রধান টাওয়ারটি ছিল ঠিক মাঠের মাঝখানে আলাদা এক পরিখায় ঘেরা। সময়ের আবর্তে নগরীর পরিধি বাড়তে থাকায় দুর্গটি আর ব্যবহৃত হয়নি। এখনো জাদুঘরের বেজমেন্ট বা সবচেয়ে নিচের তলায় পুরনো দুর্গের অংশবিশেষ দেখা যায়, যা ১২২৬ থেকে ১২৭০ সালে নির্মিত হয়েছিল। ১৫৪৬ সালে সম্রাট প্রথম ফ্রান্সিস এতে বসবাস শুরু করে ল্যুভরকে প্রাসাদের মর্যাদা দেন। এরপর থেকেই ফরাসি রাজা কিংবা সম্রাটদের প্রাসাদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে ল্যুভর। ল্যুভরের পশ্চিম দিকের অংশ তৈরি হয়েছিল প্রথম ফ্রান্সিসের সময়। আর ল্যুভরের বেশিরভাগ অংশের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয় সম্রাট ত্রয়োদশ লুইস ও চতুর্দশ লুইসের সময়। সে সময়কালটি সতেরশ’ শতক। তাদের দু’জনই ছিলেন শিল্পের প্রতি প্রচন্ড অনুরক্ত। তাদের মন্ত্রীরা বিভিন্ন স্থান থেকে মূল্যবান শিল্পকর্ম সংগ্রহ করতেন। সম্রাট তৃতীয় নেপোলিয়নের সময় ল্যুভরে আরও দুটি অংশ নির্মাণ করে বর্ধিত করা হয়। সম্রাট নেপোলিয়নের শাসনামলে যুদ্ধের সময় ফরাসি সেনাবাহিনীর বাজেয়াপ্ত করা শিল্পকর্ম দিয়ে ল্যুভরকে সমৃদ্ধ করা হয়। সম্রাট নেপোলিয়নের মৃত্যুর পর বাজেয়াপ্ত করা শিল্পকর্মগুলো আবার মূল মালিকদের কাছে ফেরত দেয়া হয়। ১৬৪২ সালে চতুর্দশ লুইস ল্যুভরকে রাজসংগ্রহ প্রদর্শনীর জন্য ছেড়ে দিয়ে ভার্সাই প্রাসাদে চলে যান। ১৭৯৩ সালের ১০ আগস্ট ল্যুভর পরিপূর্ণ মিউজিয়াম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ৫৩৭টি চিত্রকর্ম প্রদর্শনীর মাধ্যমে। বহু ভবনবিশিষ্ট ল্যুভরের স্থায়ী কাঠামো সম্পূর্ণ হয়ে যায় ১৮৫৭ সালের মধ্যে। মিউজিয়াম হিসেবে আধুনিক সরঞ্জামাদি সংযুক্ত করা হয় ল্যুভরে ১৯৮০ থেকে ১৯৯০-এর মাঝামাঝি সময়ে। ৭২,৭৩৫ বর্গমিটার জায়গাজুড়ে রয়েছে ল্যুভরের প্রদর্শনীর স্থান। স্থপতি আইএমপে কাচের পিরামিড নির্মাণ করেন ল্যুভরে ১৯৮৮ সালে। কাচের পিরামিড আধুনিকতা ও প্রাচীন ঐতিহ্যের মধ্যে এক সমন্বয় তৈরি করেছে। ল্যুভরের রয়েছে তিনটি উইং ডেনন, সুলি ও রিচেলিউ। এর ফ্লোর রয়েছে চারটি। মোনালিসার অবস্থান ডেনন উইংয়ের দোতলায়। দর্শনীয় বস্তুর স্থাপনা অনুযায়ী, নিচতলার ডেনন উইংয়ে রয়েছে ইউরোপীয়, ইতালীয় ও স্প্যানিস ভাস্কর্য, মিসরীয় পুরাকীর্তি এবং গ্রিক ও রোমান পুরাকীর্তি। সুলি উইংয়ের কিছু অংশে রয়েছে প্রাচ্যের নিদর্শন এবং কিছু অংশে গ্রিক ও মিসরীয় নিদর্শন। রিচেলিউ উইংয়ের বড় অংশজুড়ে রয়েছে ফরাসি ভাস্কর্যের বিশাল সমাহার। শিল্পসংগ্রহকে আটটি বিভাগে বিন্যাস করা হয়েছে। মোনালিসা চিত্রকর্মের চারদিক থেকে ঘেরা বুলেটপ্রুফ কাচে এবং পাহারা দেয়ার জন্য রয়েছে সবসময় সশস্ত্র প্রহরী। জলবায়ু ও আলোক নিয়ন্ত্রণের জন্য রয়েছে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। লেজার সিকিউরিটি ও ক্লোজ-সার্কিট সিকিউরিটি ক্যামেরা তো রয়েছেই। এককথায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় আচ্ছাদিত মোনালিসার চিত্রকর্মটি। দেয়ালে ঝোলানো মোনালিসার চিত্রকর্মের সামনে কিছুটা দূরত্বে কাঠের একটি অর্ধবৃত্তাকার রেলিং দিয়ে দর্শকদের জন্য সীমারেখা টানা হয়েছে। ছবি তুলতে হয় দূর থেকে এবং ছবি তুলতে কোনো ধরনের ক্যামেরার ফ্লাশলাইট ব্যবহার করা যায় না ল্যুভরে। ল্যুভরে রয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজারের বেশি দর্শনীয় বস্তু। সবগুলো যদিও প্রদর্শন করা হয় না। বিশ্বসেরা এ ল্যুভর মিউজিয়াম দুনিয়ার সব পুরনো ও বড় মিউজিয়ামগুলোর মধ্যেও অন্যতম।

লেখক : সাইক্লিস্ট ও সাইকেলে বিশ্বভ্রমণকারী

0 58

সোহরাব আলম

বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রাক-বর্ষা মৌসুমে কালবৈশাখী বা বজ্রঝড় আঘাত হানে। বিশেষ করে এপ্রিল-মে মাসে এর পরিমাণ থাকে বেশি। বিগত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান বলছে, দেশে বজ্রপাতে মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। চলতি বছরের মার্চ মাসের শেষ দিক থেকেই ঝড় বইতে শুরু করেছে, সঙ্গে ঘটেছে বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনাও।
বাংলাদেশের হাওর অঞ্চল (সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া), সাতক্ষীরা-যশোরের বিল অঞ্চল আর উত্তরের চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও দিনাজপুর অঞ্চলে বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনা বেশি ঘটে। অধিকাংশই মারা যান মাঠে অথবা জলাধারে (নদী-খাল-বিল) কাজ করার সময়। রাজধানী ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে বজ্রপাত হলেও তা টের পাওয়া যায় কম। হতাহতের পরিমাণও হাতেগোনা। ধারণা করা হয়, বৈদ্যুতিক তারের আধিক্যের কারণে শহরে বজ্রপাতে হতাহতের পরিমাণ কম।
বজ্রপাতে চলতি বছরের ৩১ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের তিন জেলায় চারজনের মৃত্যুর খবর এসেছে। বজ্রপাতে মৃত্যু শুধু বাংলাদেশেরই সমস্যা নয়। দক্ষিণ এশিয়ার বড় দেশ ভারতে প্রতি বছর অনেক মানুষ মারা যায় বজ্রপাতে। এ অঞ্চলের আরেক দেশ নেপালে গত ৩১ মার্চ ভয়াবহ বজ্রঝড়ে ২৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় গুরুতর আহত হয় সাড়ে ৪০০ জন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রীষ্মকালে দিনের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বাতাস গরম হয়ে উপরে ওঠে। পরে জলীয়বাম্পের সঙ্গে মিশে এই গরম বাতাস যখন দ্রুত ঠান্ডা হয় তখনই বজ্রমেঘের সৃষ্টি হয়। জলবায়ুজীবীরা বজ্রপাতের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের একটা সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন। নাসার গডার্ড ইনস্টিটিউট অব স্পেস স্টাডিজের (জিআইএসএস) কলিন প্রাইস আর কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভিড রিন্ড তাদের প্রকাশিত নিবন্ধে (পসিবল ইমপ্লিকেশন অব গ্লোবাল ক্লাইমেট চেঞ্জ অন গ্লোবাল লাইটেনিক) জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তন দুটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন বজ্রপাত আর দাবানল বা ফরেস্ট ফায়ারকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করবে। তাদের পরীক্ষাগারের তত্ত্ব অনুযায়ী (যাকে তারা জিআইএসএস মডেল বলছেন), পরিবেশে এখন যে পরিমাণ কার্বন আছে, তা যদি কোনোভাবে দ্বিগুণ হয়ে যায়, তাহলে বজ্রপাতের পরিমাণ প্রায় ৩২ ভাগ বেড়ে যাবে। ঢাকার বাতাসে কার্বণের পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। তাই বাড়ছে বজ্রপাতের ঝুঁকিও।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, দেশের কিছু জায়গা বজ্রপাত-প্রবণ। এর মধ্যে উত্তরাঞ্চল এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল অন্যতম। গ্রীষ্মকালে এ অঞ্চলে তাপমাত্রা বেশি থাকায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়। গ্রীষ্মকালে যেসব এলাকায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে, সেসব এলাকায় যে মেঘের সৃষ্টি হয়, সেখান থেকেই বজ্রপাতের আশঙ্কা থাকে। বজ্রপাতে মৃত্যুর বিষয়টিকে এখন অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতোই বিবেচনা করছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। শহরে বজ্রপাতে হতাহতের সংখ্যা কম হলেও সতর্ক থাকা জরুরি।

বজ্রপাতের সময় করণীয় সম্পর্কে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি বলছে
মাথা ঠান্ডা রাখুন, ভড়কে যাবেন না।
আশপাশে উঁচু কোনো গাছ থাকলে, তার থেকে দূরে সরে যান।
ওপরে ছাদ আছে এমন জায়গায় চলে যান।
সম্ভব হলে টিনের ছাদ এড়িয়ে চলুন।
গাড়ির ভেতরেও নিরাপদ। গাড়ির ধাতব বডির সঙ্গে শরীরের সংযোগ না থাকলেই হলো
শুধু গাছ নয়, যেকোনো উঁচু জিনিস; যেমন বিদ্যুতের খুঁটি, টাওয়ার এসব থেকে দূরে থাকুন।
ঘন ঘন বজ্রপাতের সময় যদি ঘরের ভেতরে থাকেন, তাহলে ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রপাতি যেমন মোবাইল ফোন, ট্যাব, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, কর্ডলেস ফোন, ল্যান্ডফোন ব্যবহার না করাই ভালো।
আশপাশে নদী, পুকুর বা কোনো জলাশয় থাকলেও সেখান থেকে দূরে সরে যেতে হবে।

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির আইআর এবং কমিউনিকেশন ডিপার্টমেন্টের সহকারী পরিচালক খন্দকার এনায়েতুল্লাহ আকরাম পলাশের সঙ্গে কথা হয় এ ব্যাপারে। তিনি বলেন, ‘বজ্রপাত হওয়ার মতো পরিবেশ টের পেলেই নিজেকে আগে নিরাপদ জায়গায় নিতে হবে। বাড়ির ছাদে ধাতব কোনো বস্তু রাখলে সেটা আর্থিং হিসেবে কাজ করতে পারে। বৃষ্টির পরপরই বাড়ি থেকে বের হওয়া যাবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার পর অন্তত ১৫-২০ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। অনেকে বৃষ্টির পরপরই বেরিয়ে যায়। ছাতাও সঙ্গে নেয় না। হাতে ছাতা থাকলে কিন্তু সরাসরি শরীরে বজ্রপাতের আশঙ্কা অনেকটা কমে আসে। সাধারণত বৃষ্টির পরপরই বজ্রপাত হয়। তাই এ-সময় খোলা জায়গায় থাকা যাবে না। যেকোনো একটা শেডের নিচে থাকতে হবে।’

বজ্রপাতের সময় নিরাপদ থাকার আরও কিছু পরামর্শ
উঁচু গাছপালা বা বিদ্যুতের খুঁটিতে বিদ্যুৎ-স্পর্শের আশঙ্কা বেশি থাকে। এ-সময় গাছ বা খুঁটির কাছাকাছি থাকা নিরাপদ নয়। ফাঁকা জায়গায় যাত্রী ছাউনি বা বড় গাছে বজ্রপাত হওয়ার আশঙ্কাও বেশি থাকে। তাই এসব স্থান এড়িয়ে চলুন।

ঘন ঘন বজ্রপাতের সময় খোলা বা উঁচু জায়গায় না থেকে দালানের নিচে আশ্রয় নিন। বজ্রপাতের সময় ঘরের জানালার কাছে উঁকিঝুঁকি মারা থেকে বিরত থাকুন।

বজ্রপাত ও ঝড়ের সময় বাড়ির ধাতব কল, সিঁড়ির রেলিং, পাইপ, জানালার গ্রিলসহ যেকোনো ধাতব পদার্থ সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকুন। এ সময় মোবাইল ও ল্যান্ডফোন ব্যবহার থেকেও বিরত থাকুন।

প্রতিটি বাড়ি বা বিল্ডিংয়ে বজ্রনিরোধক দন্ড স্থাপন নিশ্চিত করুন। খোলা স্থানে অনেকে একত্রে থাকাকালীন বজ্রপাত শুরু হলে প্রত্যেকে ৫০ থেকে ১০০ ফুট দূরত্বে সরে যান।
কোনো বাড়িতে যদি পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে সাবাই এক কক্ষে না থেকে আলাদা আলাদা কক্ষে যান। ঘন কালো মেঘ দেখা দিলে অতি জরুরি প্রয়োজনে রাবারের জুতা পরে বাইরে বের হতে পারেন এবং প্লাস্টিক বা কাঠের হাতলযুক্ত ছাতা ব্যবহার করুন।
বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে থাকলে পায়ের আঙুলের ওপর ভর দিয়ে এবং কানে আঙুল দিয়ে মাথা নিচু করে বসে পড়ুন।

বজ্রপাতে আহতদের বৈদ্যুতিক শকের মতো করেই চিকিৎসা করতে হবে।

0 65

কারিকা প্রতিবেদক
চকবাজারের চুড়িহাট্টা ট্র্যাজেডির পর বনানীর এফআর টাওয়ারে আগুন। রাজধানীর বহুতল ভবনগুলোতে একের পর এক অগ্নিকান্ডের ঘটনায় অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়টি আবারো সামনে চলে এসেছে। ফায়ার সার্ভিস সূত্র বলছে রাজধানীতে এরকম আরও সাড়ে ১১ হাজার বহুতল ভবন আগুনের ঝুঁকিতে রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এসব ভবনে অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র বা ফায়ার সেফটি প্ল্যান নেই। এমন বাস্তবতায় বহুতল ভবনে নিজস্ব অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ও জন সচেতনতার উপর গুরুত্ব আরোপ করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন কেবলমাত্র সচেতন থাকলে এবং অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ৮০ শতাংশ অগ্নি দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব। আজ থাকল বহুতল ভবনে অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ক কিছু টিপস।
বহুতল ভবনে আগুন থেকে বাঁচতে প্রথমেই একটি জরুরি নির্গমন পথ তৈরি রাখতে হবে। যাতে আগুন লাগলে দ্রুত সেখান থেকে বের হয়ে আসা যায়। জরুরি নির্গমন পথ পরিস্কার রাখা ছাড়াও জরুরি নির্গমন পথে ভালো মানের ফায়ার ডোর সংযোজন করতে হবে। যেটি প্রায় দুই ঘন্টা আগুন ও ধোঁয়া প্রতিরোধ করতে সক্ষম। সিঁড়িগুলো যাতে তালাবাদ্ধ ও ক্রুটিপূর্ণ না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। শুধু জরুরি নির্গমন পথ তৈরি রাখলেই চলবে না, পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীদের জরুরি নির্গমন পথ সর্ম্পকে অবগত করতে হবে। যদি দেখেন আগুন কিংবা ধোঁয়ায় আপনি আটকে গেছেন তখন বারান্দা অথবা অপেক্ষাকৃত খোলা জায়গায় অবস্থান করুন। ভুলেও লাফ দেয়ার কথা ভাববেন না। মাথা ঠান্ডা রেখে ফায়ার সার্ভিস এবং উদ্ধারকারী দলের জন্য অপেক্ষা করুন। আগুন লাগলে দূঘর্টনা কবলিত ভবন ছাড়তে লিফটের পরিবর্তে সব সময় সিঁড়ি অথবা জরুরি নির্গমন পথ ব্যবহার করুন। যদি ভবনের অন্য কোন ফ্ল্যাটে আগুন লাগে তবে যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি নিজের ফ্ল্যাটে নিরাপদ বোধ করছেন ততক্ষণ পর্যন্ত ফ্ল্যাট ছেড়ে যাবেন না। এক্ষেত্রে আগুন ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধে ফ্ল্যাট কিংবা অফিসের জরুরী নির্গমন পথে ফায়ার ডোরের ব্যবহার আপনাকে নিরাপদ রাখবে।
বাংলাদেশে পারটেক্সসহ অনেক প্রতিষ্ঠান এখন বিশ্বমানের ফায়ার ডোর তৈরি করছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র পারটেক্সের ফায়ার ডোরই ইউএল সাটিফাইড। যেটি দুই ঘন্টা আগুন ও ধোঁয়া প্রতিরোধে সক্ষম।
ফায়ার ডোর অগ্নিকান্ডের স্থান থেকে মানুষের নিরাপদ বর্হিগমন নিশ্চিত করে। আগুন ও ধোঁয়া নিদিষ্ট গন্ডির ভেতর থাকার কারণে ফায়ার ফাইটারদের যাতায়াতের পথ সুগম হয়।
সম্প্রতি বনানীর এফআর টাওয়ারের অগ্নিকান্ডের ঘটনায় দেখা গেছে বেশিরভাগ মানুষের মৃত্যু হয়েছে ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে এবং ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে। ফায়ার কোড মেনে ভবনটির প্রতিটি ফ্লোরে যদি ফায়ার ডোর লাগানো থাকত তবে অনেক মানুষের প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো যেত বলে মত প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইউএল সার্টিফাইড পারটেক্স ফায়ার ডোরে পজেটিভ প্রেসার রেটেড থাকায় নিরাপত্তা নিয়ে কোন শস্কা নেই। এছাড়াও সহজ প্রতিস্থাপন সুবিধা, তিনটি মনোরম রঙ, সার্বক্ষনিক কাস্টমার কেয়ার সুবিধা থাকায় পারটেক্স ফায়ার বোর্ড চাহিদার শীর্ষে অবস্থান করছে । অগ্নি দুঘর্টনা রোধে বহুতল ভবনে ফায়ার কোড মেনে চলাসহ বিশ্বমানের অগ্নি নিরপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহারের পর্রামশ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা ।

0 35

কারিকা প্রতিবেদক
মুক্তিযোদ্ধাদের বিনাসুদে এবং নিম্ন আদালতের বিচারক ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের স্বল্পসুদে গৃহঋণ দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ ছাড়াও সরকারি চাকরিজীবীদের গৃহঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বয়সসীমা বাড়ানো হয়েছে। আগে ৫৬ বছর বয়সী সরকারি চাকরিজীবীরা গৃহঋণ পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হতেন। নতুন নীতিমালায় বয়সসীমা দুই বছর বাড়িয়ে ৫৮ বছর করা হয়েছে। সেই সঙ্গে নতুন গৃহঋণ নীতিমালায় বিচারকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর স্বল্প সুদের গৃহঋণ-সুবিধার আওতায় বিচারকদের অন্তর্ভুক্ত করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায় আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়। অর্থ সচিবকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়, গৃহনির্মাণ-ঋণ নীতিমালাটি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের ঋণসুবিধা দেওয়ার জন্য প্রযোজ্য হলেও বিচারকদের জন্য প্রযোজ্য কিনা, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কিছু উল্লেখ নেই। তবে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় মনে করে, জুডিশিয়াল সার্ভিস (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ-২০১৬-এর আওতাধীন কর্মচারীদের গৃহঋণ-সুবিধা দেওয়া সমীচীন হবে।
এর পরই নীতিমালাটি নতুন করে তৈরির কাজে হাত দেয় অর্থ বিভাগ। নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসে স্থায়ীভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত সদস্যরা সরকারি কর্মচারী হিসেবে গণ্য হবেন এবং এই নীতিমালার আওতাভুক্ত হবেন।’
বিচারকদের অন্তর্ভুক্ত করার আগে অর্থ বিভাগের এক হিসাব অনুযায়ী, স্বল্পসুদে গৃহঋণ দিতে সরকারকে প্রতি বছর ১ হাজার কোটি টাকা করে ভর্তুকি দিতে হবে। এখন তা আরও বাড়বে। অর্থ বিভাগের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারীর মধ্যে অন্তত অর্ধেক গৃহঋণ-সুবিধা নেবেন। আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নিম্ন আদালতে বর্তমানে দেড় হাজারের বেশি বিচারক রয়েছেন।
নীতিমালা অনুযায়ী, চাকরি স্থায়ী হওয়ার পাঁচ বছর পর থেকে সরকারি কর্মচারীরা ২০ থেকে ৭৫ লাখ টাকা গৃহঋণ-সুবিধা পাবেন। আবেদনের জন্য সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৫৮ বছর এবং ২০ বছরের মধ্যে এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে। বাজারে সুদের হার যা-ই থাকুক-না কেন, ঋণগ্রহীতাকে পরিশোধ করতে হবে ৫ শতাংশ সরল সুদ। সুদের বাকি অর্থ সরকার ভর্তুকি হিসেবে পরিশোধ করবে।
সরকারি কর্মচারীদের ঋণ দিতে ইতোমধ্যে জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক এবং বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের (বিএইচবিএফসি) সঙ্গে আলাদা সমঝোতা স্মারক সই করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
বিচারকদের গৃহঋণ-সুবিধার আওতায় আনার পর দেশের ৪৫টি পাবলিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তারাও সহজ শর্তে গৃহঋণ প্রাপ্তির দাবি জানান। প্রথম দিকে কোনো সিদ্ধান্ত না হলেও পরে নতুন গৃহঋণ নীতিমালায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ঢালাওভাবে এ ঋণ-সুবিধা দেওয়া হবে না। শুধু পদস্থ কর্মকর্তারা এর আওতায় আসবেন। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা গৃহনির্মাণ-ঋণের সুবিধা পেলেও স্বল্পসুদে বা ভর্তুকিতে ঋণ-সুবিধা পান না। অথচ শিক্ষকের সংখ্যা খুব বেশি নয়। এটি বাস্তবায়ন করলে বাজেটেও খুব একটা চাপ পড়বে না।
সরকারি কর্মচারী, বিচারক, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ৫ শতাংশ সরল সুদে গৃহঋণ দেওয়ার পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের বিনাসুদে গৃহঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরকারি হিসাব মতে, এই ঋণের সম্ভাব্য প্রার্থী হবেন ১ লাখ ৬১ হাজার ২৪৪ জন। সে হিসাবে দরকার পড়বে ১৬ হাজার ১২৪ কোটি টাকা। ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে ভূমিহীন ও অসচ্ছল জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। মুক্তিযোদ্ধা গৃহঋণ প্রকল্পের আওতায় প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধাকে পাকাবাড়ি নির্মাণের জন্য বিনাসুদে ১০ লাখ টাকা ঋণ দেয়া হবে। বিনাসুদে বলা হলেও, ৫ শতাংশ সুদ ব্যাংকগুলোকে ভর্তুকি আকারে দেবে সরকার। প্রতি বছরের বাজেটেই এ ব্যাপারে বরাদ্দ রাখা হবে। ২ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে নেওয়া হবে সেবা মাশুল হিসেবে। আর ১ শতাংশ ব্যাংকগুলো তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ব্যয় করবে।
ঋণগ্রহীতা মুক্তিযোদ্ধা মারা গেলে মুক্তিযোদ্ধার অবর্তমানে যিনি ভাতা পান, তিনিই হবেন বাড়ির উত্তরাধিকারী।
সরকার বর্তমানে সোনালী, জনতা, অগ্রণী, বাংলাদেশ কৃষি ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা দিয়ে থাকে। তাই বর্ধিত এ ঋণ-সুবিধা এসব ব্যাংকের মাধ্যমে দেয়ার প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

0 80

সর্বনিম্ন ১০ এবং সর্বোচ্চ ভাড়া ৩০ টাকা

কারিকা প্রতিবেদক
রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে গুলশান-বনানীর আদলে আজিমপুর-ধানমন্ডি রুটেও চক্রাকার বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। গত ২৭ মার্চ ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের দুই মেয়র যৌথভাবে এই চক্রাকার বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করেন। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিসি) ২০ থেকে ২৫টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বাস আজিমপুর-নিউমার্কেট-সাইন্সল্যাব-ধানমন্ডি-২ নম্বর রোড, সাতমসজিদ রোড (জিগাতলা, শংকর), ধানমন্ডি-২৭, সোবহানবাগ, রাসেল স্কয়ার, কলাবাগান, সাইন্সল্যাব, বাটা ক্রসিং, কাঁটাবন, নীলক্ষেত ও পলাশী হয়ে আবারও আজিমপুর যাতায়াত করবে। এর বিপরীত দিক থেকে আজিমপুর, নিউমার্কেট, সাইন্সল্যাব, কলাবাগান, সোবহানবাগ, ধানমন্ডি-২৭ নম্বর রোডের পূর্ব মাথা থেকে পশ্চিম মাথা, সাতমসজিদ রোড, বিজিবি-২ নম্বর গেট, ৩ নম্বর রোডে ইউটার্ন নিয়ে ফের সাইন্সল্যাব-বাটা ক্রসিং-কাঁটাবন, নীলক্ষেত, পলাশী হয়ে আজিমপুর রুটে চলাচল করবে বলে জানা গেছে।
আপাতত চারটি বাস দিয়ে বর্তমানে দুটি রুটে এই চক্রাকার বাস সার্ভিস চালু আছে। আগামী জুলাইয়ে ভারত থেকে নতুন বাস এলে চক্রাকার সার্ভিসে আরও ২১টি বাস যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন বিআরটিসির ম্যানেজার নায়েব আলী। ৩৬টি স্টপেজ সংবলিত চক্রাকার এসি বাস সার্ভিসের সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ভাড়া ৩০ টাকা। নির্ধারিত বাস স্টপেজ থেকে যাত্রীরা ৫ মিনিট পরপর লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কেটে অথবা র‌্যাপিড পাস ব্যবহার করে কাংখিত গন্তব্যে ভ্রমণ করতে পারবেন।
চক্রাকার বাস সার্ভিসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ‘গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ও যাত্রীদের আরামদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা রয়েছে। তারই অংশ হিসেবে নগরে চক্রাকার এই বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে। ফলে সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ির চাহিদা কমবে। ধানমন্ডি তথা মিরপুর রোডসহ আশপাশের সড়কগুলোয় যানজট কমবে।’ চক্রাকার বাস সার্ভিস চালুর ফলে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘সবাই একসঙ্গে কাজ করে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করব। শিগগিরই তা দৃশ্যমান হবে।’


ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক গণপরিবহন খাতে শৃঙ্খলা আনতে রোড র‌্যাশনালাইজেশন ও ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতিতে বাস চলাচলের প্রস্তাব করেছিলেন। আনিসুল হকের মৃত্যুর পর সেই কার্যক্রম থমকে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি সড়ক দুর্ঘটনা ও এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ফলে গণপরিবহন খাতে শৃঙ্খলা আনার বিষয়টি আবার নতুন করে সামনে চলে আসে। তারই ধারাবাহিকতায় আজিমপুর-ধানমন্ডি রুটে চালু হলো চক্রাকার বাস সার্ভিস। সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, শিগগিরই উত্তরা ও মতিঝিলেও চালু করা হবে আরও দুটি চক্রাকার বাস সার্ভিস।
উল্লেখ্য, গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার পর কাকলী, বনানী ও গুলশানের একটি অংশে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। কূটনৈতিক এলাকা গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতনের নিরাপত্তার স্বার্থে সেখানে চক্রাকার এসি বাস ‘ঢাকা চাকা’ চালু হয়। একইভাবে হাতিরঝিল প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর সেখানেও পর্যটক ও সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে চক্রাকার বাস সার্ভিস চালু করা হয়।

0 124

কারিকা প্রতিবেদক
বনানীর এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকান্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারো গুলশান ১ ডিএনসিসি মার্কেট সংলগ্ন কাঁচা বাজারে আগুন লেগে পুড়ে গেছে অন্তত দেড়শ’টি দোকান। ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যাক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে শনিবার ভোর ৫টা ৪৮ মিনিটে আগুনের সূত্রপাত হয়। রাজধানীতে আগুনের ঝুঁকিতে আছে এরকম আরও সাড়ে ১১ হাজার বহুতল ভবন। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, বহুতল এসব ভবনে ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র বা ফায়ার সেফটি অনুমোদন নেই। অগ্নিকান্ডের ঝুঁকি কমাতে ২০০৩ সালে অগ্নিপ্রতিরোধ ও নির্বাপন নামে একটি আইন করে সরকার। এই আইন অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরে বহুতল ভবন নির্মাণে ফায়ার সার্ভিস থেকে ছাড়পত্র নিতে হয়। ভবনের সামনের সড়কে প্রশস্ততা, নকশা অনুসারে ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনা,ভবন থেকে বের হওয়ার বিকল্প পথ, কাছাকাছি পানির সংস্থান এসব বিষয় পর্যবেক্ষণ করে ছাড়পত্র দেয় ফায়ার সার্ভিস। তারপর এই ছাড়পত্র দেখিয়ে রাজউক থেকে ভবনের নকশার অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু বাস্তবে রাজউকের পর্যবেক্ষন শিথীলতার কারণে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই নির্মিত হচ্ছে বহুতল ভবন। রাজউকের ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) এর অংশ হিসেবে ২০১৬ সালে করা এক জরিপে দেখা যায় ঢাকা মহানগর এলাকায় সাততলা বা তার চেয়ে উঁচু ভবন আছে ১৬ হাজার ৯৩০টি। কিন্তু ২০০০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস থেকে ছাড়পত্র নিয়েছে মাত্র ৫ হাজার ২৪টি ভবন। এর বাইরে ঢাকা মহানগর এবং সারা দেশে বাকি সব ভবনই রয়েছে অগ্নিকান্ডের ঝুঁকিতে।
দুঘর্টনা কবলিত এফ আর টাওয়ারের ক্ষতিগ্রস্থ ফ্লোরগুলো ঘুরে দেখা গেছে সেখানে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঘাটতি ছিল। অগ্নিনির্বাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না থাকার পাশাপাশি বহুতল ভবনের তুলনায় সাধারণ ও জরুরী নির্গমনের সিড়িঁটিও ছিল অপ্রশস্ত। চারতলার জরুরি নির্গমন পথটিও ছিল তালাবদ্ধ।
এছাড়াও ভবনের সাজসজ্জায় দাহ্য পর্দাথ ব্যবহার করায় ভবনটিতে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এফ আর টাওয়ারের বাইরের অংশে ব্যবহৃত কাঁচগুলোও আগুন নিরোধক নয়। ভবনটি থেকে প্রাণ নিয়ে বেঁচে ফেরা কয়েকজন জানিয়েছেন অগ্নিকান্ডের সময় ভবনটিতে কোন ফায়ার অ্যার্লাম বাজেনি। ছিলনা কোন এসেম্বলী পয়েন্টও। তাই ভবনটিতে আগুনের তীব্রতা কম থাকলেও ধোঁয়ার শ্বাস বন্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন অনেক মানুষ।

নদী দখলকারীরা নির্বাচন ও ঋণ পাওয়ার অযোগ্য/ ‘তুরাগ নদকে’ জীবনসত্তা ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট

মির্জা মাহমুদ আহমেদ
ঢাকার বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী তীর অবৈধ দখলমুক্ত করতে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে মার্চ পর্যন্ত অভিযান চালায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। প্রথম দফায় চার পর্বের উচ্ছেদ অভিযানে বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ তীরে ১ হাজার ৮৪৩টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।
১২ দিন বিরতির পর গত ৫ মার্চ থেকে বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ তীরে দ্বিতীয় দফা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ জানায়, দ্বিতীয় দফার এ উচ্ছেদ অভিযান চলবে ২৮ মার্চ পর্যন্ত।
বুড়িগঙ্গা নদীর তীর সংলগ্ন কামরাঙ্গীর চরের হুজুরপাড়া, আশ্রাফাবাদ, সাইনবোর্ড, খোলামোড়া ঘাট, লালবাগ কিল­ার মোড়, শশ্মানঘাট, লোহার ব্রিজ, ঝাউচর ও তুরাগ তীরবর্তী বসিলা ঢাকা উদ্যান ও কেরানীগঞ্জের মধু সিটি এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। উচ্ছেদ অভিযানে বেশ কয়েকটি বহুতল ভবনসহ অনেক আধা পাকা স্থাপনা ও সীমানা দেয়াল উচ্ছেদ করা হয়। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংক হাজারীবাগ শাখার নিকট দায়বদ্ধ একটি ভবনও ভেঙ্গে দেয়া হয়।
উচ্ছেদ অভিযান পরিদর্শনে এসে নৌ-পরিবহন সচিব মোঃ আবদুস সামাদ নদীতীর উদ্ধার অভিযানে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বনের কথা বলেন। এছাড়া যত প্রভাবশালী লোকই হোক না কেন দল-মত-নির্বিশেষে এবং প্রভাব প্রতিপত্তি বিবেচনা না করে নদীতীরে সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেন ঢাকা নদী বন্দরের যুগ্ন পরিচালক একেএম আরিফ উদ্দিন।
সরেজমিন কামরাঙ্গীর চরের আশ্ররাফাবাদ, হুজুরপাড়া, সাইনবোর্ড, খোলামুড়া এলাকা ঘুরে দেখা গেছে যেসব জায়গায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে সেখানে ভবনের ধংস্বস্তুপ পড়ে আছে। এদিক সেদিক ভবনের ভাঙ্গা ইট সুরকি পড়ে থাকতে দেখা গেছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, অবৈধ জায়গা উদ্ধার করতে গিয়ে বিআইডব্লিউটিএ তাঁদের বৈধ স্থাপনাও ভেঙ্গে দিয়েছে। বৈধ কাগজপত্র থাকলেও বিআইডব্লিউটিএ সেসব দেখেনি এবং উচ্ছেদের আগে তাঁদের নোটিশ দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। বসিলা ব্রিজের নিচে একটি আধা-পাকা বাড়ির মালিক জমিলাতুন নেসা অভিযোগ করে বলেন, তাঁর স্বামী জনৈক ইসহাক মিঞার কাছ থেকে ১৯৭৭ সালে আড়াই কাটা জমি কিনেন। তাঁদের কাছে দলিলও আছে। কিন্তু কয়েকদিন আগে বিআইডব্লিউটিএ অবৈধ স্থাপনা দাবি করে তাঁর বাড়ি ভেঙ্গে দিয়ে গেছে।
ঢাকা নদী বন্দরের যুগ্ন পরিচালক একেএম আরিফ উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীর উদ্ধারকৃত জায়গায় ওর্য়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে। বৃক্ষরোপন করে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলার পাশাপাশি পথচারীদের বসার জন্য বেঞ্চ থাকবে। বিনোদনের জন্য ৩টি ইকোপার্ক নির্মাণ করা হবে। এছাড়াও নদীতীর দখল করে যাতে ব্যবসায়িক মালামাল ওঠা-নামা না করতে পারে এজন্য নদীতীরে ১৯টি আরসিসি জেটি নির্মাণ করা হবে।
উদ্ধার অভিযান চলছে কর্ণফুলীতেও
ঢাকার বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ তীরে উদ্ধার অভিযান চালানোর পাশাপাশি চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতেও উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে চট্রগ্রাম জেলা প্রশাসন।
৪ ফ্রেরুয়ারি কর্ণফুলী নদীতীরে শুরু হওয়া প্রথম দফার প্রথমদিনের উচ্ছেদ অভিযানে সাম্পান সমবায় সমিতির কার্যালয়, যাত্রী ছাউনি, বিআইডব্লিউটিএ’র লোহার স্থাপনা, কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্সের অবৈধ স্থাপনাসহ প্রায় ৫০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। চট্রগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায় প্রথম দফার ৫ দিনের উচ্ছেদ অভিযানে সদরঘাট থেকে বারিক বিল্ডিং পর্যন্ত প্রায় ২৩০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ১০ একর ভূমি। কর্ণফুলী নদীতীরের ভূমি উদ্ধারের পর সেখানে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করছে জেলা প্রসাশন। এরপর দ্বিতীয় দফায় পতেঙ্গা থেকে চাক্তাই পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল মন্নান জানান, সরকারের সবুজ সংকেত পেলে উদ্ধারকৃত জায়গায় বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। ওয়াকওয়ে, বিনোদন কেন্দ্র ও হাতিরঝিলের আদলে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হবে। যেখানে মানুষ স্বস্তির বাতাস নিতে পারবে। মুক্ত থাকবে যান্ত্রিক কোলাহল থেকে।
এদিকে নগরীর মাঝির ঘাট এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরির্দশনে এসে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেছেন, কর্ণফুলী নদীর তীরে গড়ে উঠা কোনো অবৈধ স্থাপনা থাকবে না। ধীরে ধীরে সব স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। উচ্ছেদ করতে গিয়ে যারা হুমকি দিচ্ছেন তারা কেউ পার পাবে না। হুমকি দিলে উচ্ছেদ অভিযানের গতি আরও বাড়বে।
হাইকোর্টের রায়ে গতি পায় উদ্ধার অভিযান
ঢাকার তুরাগ নদকে ‘জীবন্ত সত্তা’ ঘোষণা করে দেশের সকল নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয় রক্ষার জন্য জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে ‘আইনগত অভিভাবক’ ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট।
বাংলাদেশের ইতিহাসে ‘মাইলফলক’ এই রায়ে নদী দখলকারীদের নির্বাচন করার ও ঋণ পাওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। নদী রক্ষা কমিশন যাতে নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয় রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে, সেজন্য আইন সংশোধন করে ‘কঠিন শাস্তির’ ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে সরকারকে। পাশাপাশি জলাশয় দখলকারী ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকারীদের তালিকা প্রকাশ, স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দেশের সব নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয়ের ডিজিটাল ডেটাবেইজ তৈরি এবং সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্প-কারখানায় নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি নিতে বলা হয়েছে হাই কোর্টের রায়ে।
তুরাগ নদী রক্ষায় একটি রিট মামলার বিচার শেষে ৩ ফ্রেরুয়ারি রোববার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের হাই কোর্ট বেঞ্চ ঐতিহাসিক এ রায় দেয়।
হাইকোর্টের এই রায়ের পর বুড়িগঙ্গায় চলমান উচ্ছেদ অভিযান গতি পায়। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ছাড়াও দেশের অনান্য নদ নদী উদ্ধারে জোরালো অভিযান শুরু করে জেলা প্রশাসন।
হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের একটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে তুরাগ নদীর অবৈধ দখলদারদের নাম ও স্থাপনার তালিকা হাই কোর্টে দাখিল করেছিল বিচার বিভাগীয় একটি তদন্ত কমিটি। ওই তালিকায় আসা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিরা পরে এ মামলায় পক্ষভুক্ত হন।
উভয়পক্ষের দীর্ঘ শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট নদী রক্ষায় গত ৩ ফ্রেরুয়ারি রায় ঘোষণা করে। সেদিন তুরাগ নদীকে ‘লিগ্যাল পারসন’ বা ‘জুরিসটিক পারসন’ ঘোষণা করা হয়, যা দেশের সব নদ-নদীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে বলে রিটকারীপক্ষের আইনজীবী জানান।
‘প্যারেন্স প্যট্রিয়া জুরিসডিকশনের আওতায় আদালত তুরাগ নদকে জীবন্ত সত্তা, জুরিসটিক ও লিগ্যাল পারসন হিসেবে ঘোষণা করছে।’ রায়ে বলা হয়েছে, দেশের সকল নদ-নদী খাল-বিল জলাশয় রক্ষার জন্য ‘পারসন ইন লোকো পেরেনটিস’ বা ‘আইনগত অভিভাবক’ হবে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন। ফলে দেশের সকল সকল নদ-নদী খাল-বিল জলাশয়ের সুরক্ষা, সংরক্ষণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, শ্রীবৃদ্ধিসহ সকল দায়িত্ব বর্তাবে নদী রক্ষা কমিশনের ওপর।
এছাড়া দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদকে নিজের এলাকার নদ-নদী, খাল-বিল, জলাশয়ের অবৈধ দখলদারদের চিহ্নিত করে তাদের নামের তালিকা জনসম্মুখে ও পত্রিকায় প্রকাশ, জাতীয় বা স্থানীয়- কোনো ধরনের নির্বাচনে প্রার্থীর বিরুদ্ধে নদী দখলের অভিযোগ থাকলে তাকে নির্বাচনের অযোগ্য ঘোষণা, দেশের সকল সরকারি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতি দুই মাসে কমপক্ষে এক ঘণ্টা ‘নদী রক্ষা, সুরক্ষা, দূষণ প্রতিরোধ’, নদ-নদীর প্রয়োজনীতার বিষয়ে সচেতনতামূলক পাঠদানের ব্যবস্থাসহ নদীরক্ষায় রায়ে আরও কিছু নির্দেশনা দিয়েছে হাইকোর্ট।
রায়ের একটি অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর কাছেও পাঠাতে বলেছে আদালত, যাতে এ রায়ের ভিত্তিতে তিনি অবৈধ দখলকারী বা স্থাপনা নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন।

0 115

চকবাজার ট্র্যাজেডি

কারিকা প্রতিবেদক
পুরনো ঢাকার নিমতলী ট্র্যাজেডির ৯ বছর পর আবারো সেই পুরনো ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ আগুনে প্রাণ হারালো ৭১ জন মানুষ। ২০ ফ্রেরুয়ারি রাতে আগুন লাগার পর সরকারের তরফ থেকে ৬৭ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়। আগুনের উৎপত্তি নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও ফায়ার সাভিসের উদ্ধারকারীদল, সরকারের তদন্ত সংস্থা, প্রত্যক্ষদর্শী প্রত্যোকে এক বাক্যে স্বীকার করেছেন আগুনের ভয়াবহতা বাড়িয়েছে ওয়াহেদ ম্যানশনের দোতলায় থাকা গ্যাস লাইটের রিফিল ও পারফিউমের গোডাউন। চকবাজারের চুড়িহাট্টায় লাগা সেই আগুনে ওয়াহেদ ম্যানশন ছাড়াও আরও ৪ টি ভবন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
ইতিমধ্যে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) তাঁদের তদন্ত প্রতিবেদনে দাবি করেছে ওয়াহেদ ম্যানশনের দোতলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ভবনে প্রচুর কেমিক্যাল থাকায় বৈদ্যুতিক সুইচ অন করার সময় স্ফুলিঙ্গ বা অসাবধানতাবশত জ্বালানো আগুন থেকে অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে বলে আইইবি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
আগুনের সূত্রপাত যে ওয়াহেদ ম্যানশন থেকে সেই ভবনের দোতলায় পারফিউম-বডি স্প্রের গোডাউন, লাইটার রিফিল করার কাঁচামাল; তৃতীয় তলায় চার ইউনিটের মধ্যে একটিতে পারফিউম-বডি স্প্রের গোডাউন; চতুর্থ তলায় কসমেটিক ও পারফিউম-বডি স্প্রের গোডাউন ছিল। আগুন নিভানোর পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ওয়াহেদ ম্যানশনের বেজমেন্টে বিপুল পরিমাণ রাসায়নিকের মজুদ দেখতে পেয়েছেন।
যদিও স্থানীয়রা প্রথমে দাবি করেছিলেন আগুনের সূত্রপাত হয়েছে চুড়িহাট্টার সামনের রাস্তায় থাকা পিকআপের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে। পরে দেখা যায় পিকআপটি ডিজেল চালিত। সেখানে পোড়া যাওয়া সব কয়টি গাড়ি এবং পাশ্ববর্তী হোটেলের গ্যাস সিলিন্ডার পরীক্ষা করে দেখা গেছে ঘটনাস্থলের আশপাশে কোন গ্যাস সিলিন্ডারের বিস্ফোরণ ঘটেনি। ডিপিডিসিও নিশ্চিত করেছে চকবাজারে চুড়িহাট্টায় যেখানে আগুন লেগেছে তাঁর আশেপাশে বিদ্যুতের কোন ট্রান্সফরমার নেই।
চকবাজারের চুড়িহাট্টায় লাগা সেই আগুনের সূত্রপাত নিয়ে যখন ধোঁয়াশা কাজ করছিল সবার মাঝে ঠিক তখনই রাজ মহল হোটেলের দুটি সিটি টিভি ফুটেজ গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ ম্যাধমে প্রচারিত হয়।
রাজমহল হোটেলের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা একটি ফুটেজে দেখা গেছে, রাত ১০টা ৩২ মিনিটে প্রথমে একটি ছোট বিস্ফোরণ ও তার এক সেকেন্ডেরও কম সময়ের ব্যবধানে আরও একটি বড় বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে উপর থেকে জিনিসপত্র ভেঙে নিচে পড়তে থাকে। এই নিচে পড়া জিনিসপত্রের মধ্যে বডি স্প্রের ক্যান ও কার্টন নিচে পড়তে দেখা গেছে। একই সঙ্গে ভারি জিনিসপত্রও উপর থেকে নিচে পড়তে দেখা যায়। ঘটনাস্থলের পাশে থাকা মসজিদ সংলগ্ন একটি ভবনের সিসিটিভিতে ধারণ করা অপর একটি ভিডিও ফুটেজ পাওয়া গেছে। সেই ফুটেজেও বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে বডি স্প্রের ক্যান উড়ে এসে মসজিদের গলিতে পড়তে দেখা যায়। উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়া ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা জানান ওয়াহেদ ম্যানশনে, পারফিউ ও বডি স্প্রের বিশাল মজুদ ছিল। অতিরিক্ত তাপমাত্রা বা কোনও একটি ক্যানে অতিরিক্ত গ্যাসের প্রেসারের কারণে বিস্ফোরিত হতে পারে পুরো গোডাউন।
ওয়াহেদ ম্যানশনে ছিল না অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা: আবাসিক ভবনে অবৈধভাবে রাসায়নিক মজুদ করার পরও ওয়াহেদ ম্যানশনে অগ্নি নির্বাপনের কোন ব্যবস্থা ছিলো না। অতি মাত্রায় দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ যথাযথ নিয়মে মজুদ না করার পাশপাশি ভবনটিতে ছিলো না আগুনের নেভানোর নূন্যতম কোন সাজ সরঞ্জাম। আগুনে ওয়াহেদ ম্যানশনের ওপরের তলা ক্ষতিগ্রস্থ হলেও বেজমেন্ট ছিলো সম্পূর্ণ অক্ষত। কার পার্কিয়ের বদলে সেখানে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক মজুদ করে রাখা হয়েছিলো। রাসায়নিক মজুদের ক্ষেত্রে নিয়ম নীতির কোন তোয়াক্কা করা হয়নি। নেয়া হয়নি অগ্নি নির্বাপনের নূন্যতম প্রাথমিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাও। এছাড়া চুড়িহাট্টার সরু গলি ও ওয়াহেদ ম্যানশনের ছোট প্রবেশপথের কারণে ফায়ার সার্ভিসকে আগুন নেভাতে অনেক বেগ পোহাতে হয়েছে। চকবাজারের চুড়িহাট্টার কাছাকাছি পানির কোন উৎস না থাকায় প্রায় আধা কিলোমিটার দুরে পুরনো জেলখানার পুকুর থেকে পানি এনে আগুন নেভাতে হয়েছে। এর জন্য পানির গতিও ছিলো কম। উৎসুক জনতার পায়ের চাপে মাঝে মাঝে থেমে যাচ্ছিল পানি সঞ্চালনের পাইপ। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকতারা বলেছেন, আগুন বেজমেন্ট পর্যন্ত পৌঁছলে বিস্ফোরণের মাত্রা হতো অকল্পনীয়। এতে আগুন নেভাতে সময় লাগত অনেক বেশি। ফলে হতাহতের সংখ্যাও যেত বেড়ে।

0 112

কারিকা প্রতিবেদক
শীত বিদায় নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতিতে লেগেছে গরমের ছটা। এমন দিনে দুরন্ত কিশোর মন চায় সারা দুপুর পুকুরে সাঁতরে, ঝাপাঝাপি করে চোখ লাল করে বাড়ি ফিরতে। আর মাায়ের বকুনির ভয়ে জড়সড় হয়ে থাকতে। কিন্তু ব্যস্ত নাগরিক জীবনে পুকুরে ঝাপাঝাপি আর সাঁতরে চোখ লাল করার সুযোগ কোথায়? সেই আক্ষেপ অনেকটাই ঘোচাতে পারে হাল আমলের নাগরিক সুইমিং পুল। গরমের হাসফাঁস থেকে বাঁচতেই শুধু নয় নদী মাতৃক বাংলাদেশে নিজের ও শিশুর নিরাপত্তার জন্যও সাঁতার শেখা প্রয়োজন।
এছাড়া নিয়মিত সাঁতার কাটা একটি ভালো ব্যায়াম। যা জীবনের কার্যক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এক গবেষণায় জানা গেছে, যে ব্যক্তি নিয়মিত সাঁতার কাটেন তার অকাল মৃত্যুর আশঙ্কা সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক কম। সপ্তাহে আড়াই ঘণ্টাও যদি কেউ নিয়মিত সাঁতার কাটেন তবে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগের ঝুঁকি অনেক কমে যায়। এছাড়া মেদভুঁড়ি কমাতে এবং মানসিক প্রশান্তি বাড়াতেও সাহায্য করে সাঁতার।
রাজধানী ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামে অনেক স্পোর্টিং ক্লাব, জিম এবং অভিজাত হোটেলে ইচ্ছে মতো সাঁতার কাটার পাশাপাশি সেখানে মিলবে সাঁতার শেখারও সুযোগ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সুইমিং পুল
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইমিংপুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বহিরাগতরাও সাঁতার শিখতে পারবেন। শিশুদের সাঁতার শেখার ব্যবস্থাও আছে। সাত বছরের উপরের শিশুরা সাঁতার শিখতে পারবে এখানে। পুরুষ ও নারীদের জন্য আলাদা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আছে। কোর্সের মেয়াদ একমাস। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ভর্তি ফি ১০০ টাকা। সপ্তাহে ২ দিন করে মাসে মোট ৮ দিন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক,কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারবর্গের জন্য ভর্তি ফি ২৬০ টাকা। সপ্তাহে ২ দিন করে মাসে ৮ দিন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বহিরাগতদের ভর্তি ফি ২০০০ টাকা। তাদের জন্য সপ্তাহে ৪ দিন করে মাসে ১৬ দিন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম সুইমিংপুল
এই সুইমিংপুলে বর্তমানে শুধু ছেলেরা সাঁতার শিখতে পারবেন। সাত বছরের ওপরে যেকোনো বয়সীরা ভর্তি হতে পারবেন। প্রথম মাসে দুই হাজার টাকা দিতে হবে। পরের মাস থেকে মাসিক দেড় হাজার টাকা। এই সুইমিংপুলে সপ্তাহে পাঁচ দিন সাঁতার শেখানো হয়।
মিরপুর জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্স
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামের ঠিক পাশেই রয়েছে সাঁতার শেখার একটি দারুণ জায়গা। রবি ও সোমবার বাদে সুইমিংপুলটি প্রতিদিন খোলা। এখানে ছেলে, মেয়ে যে কেউ সাঁতার শিখতে পারবেন। ভর্তি ফি ২ হাজার ৫০০ টাকা। পরের মাস থেকে নিয়মিত সাঁতার শিখতে ২ হাজার টাকা। দৈনিক ৫০ টাকা দিয়ে যে কেউ সাঁতার কাটতে পারবেন।
সুলতানা কামাল মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স
ধানমন্ডির সুলতানা কামাল মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে মূলত মেয়েরা সাঁতার শিখতে পারে। তবে সাড়ে সাত বছরের কম বয়সী ছেলেদেরও সাঁতার শিখার ব্যবস্থা আছে। ভর্তি ফি দুই হাজার টাকা এবং প্রতি মাসে দিতে হবে দেড় হাজার টাকা করে।
হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও
হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও এ রয়েছে আর্ন্তজাতিক মানের ২৫ মিটার লম্বা সুইমিং পুল।
শুক্র থেকে সোমবার ছেলে-মেয়েদের আলাদাভাবে সাঁতার শেখানো হয়। ১৬টি ক্লাসের জন্য যেকোন বয়সীদের ভর্তি ফি ২১ হাজার ৫০০ টাকা। ৬ থেকে ১২ বছর বয়সীদের জন্য ভর্তি ফি ১৭ হাজার ৫০০ টাকা। একই পরিবারের দুইজন একসাথে শিখলে প্রতিজনের জন্য দুই হাজার টাকা ছাড়।

অফিসার্স ক্লাব

ঢাকা অফিসার্স ক্লাবে পাঁচ বছর বয়স থেকে যে কেউ সাঁতার শেখার জন্য ভর্তি হতে পারবেন। ভর্তি ফি পাঁচ হাজার টাকা। সাঁতারের পোশাক নিতে চাইলে ছেলেদের অতিরিক্ত ৭০০ টাকা এবং মেয়েদের ১১০০ টাকা দিতে হবে। বুধবার ছাড়া সপ্তাহের অন্য ছয় দিন ছেলে ও মেয়েদের আলাদা কোর্সে সাঁতার শেখানো হয়।

ক্যাডেট কলেজ ক্লাব

গুলশানের ক্যাডেট কলেজ ক্লাবে ছেলে ও মেয়ে যে কেউ সাঁতার শিখতে পারে। সাঁতার শেখার জন্য মাসিক ফি ৪৬০০ টাকা। সপ্তাহের সাতদিনই এখানে সাঁতার শেখা যায়।

হোটেল রেসিডন ব্লু বে চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু বে হোটেলের আন্তর্জাতিক মানের সুইমিংপুলে সাঁতার কাটার এবং সাঁতার শেখার ব্যবস্থা আছে। রেডিসন ব্লু হোটেলে হেলথ ক্লাবের সদস্য হয়ে সাঁতার শেখা যায়।
মাসিক সদস্য ফি পিক আওয়ারে (সকাল সাড়ে ৬ টা থেকে সাড়ে ১০ টা পর্যন্ত) ১২ হাজার ৫০০ টাকা। কাপলদের ক্ষেত্রে মাসিক ১৮০০০ টাকা। অফ পিক আওয়ারে (সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা) মাসিক ফি ৮৫০০ টাকা কাপলদের ক্ষেত্রে ১২৫০০ টাকা।

এছাড়াও ওয়েস্টিন ঢাকা হোটেল, লেকশোর হোটেল, গুলশানের ইয়ুথ ক্লাব, তেজগাঁও শিল্প এলাকার ম্যানপাওয়ার সুইমিংপুল, বাংলাদেশ সুইমিং ফেডারেশন, রামপুরার আশরাফি সুইমিংপুল অ্যান্ড ফিটনেস, পিলখানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সুইমিং কমপ্লেক্স, পুরানা পল্টনের আইভি রহমান সুইমিং কমপ্লেক্সসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সুইমিং শেখা ও নিয়মিত সাঁতার করার সুযোগ রয়েছে।
সাঁতারের জন্য প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ

সাঁতার শিখতে পোশাক, চশমা, নোজ ক্লিপ, ইয়ার প্লাগসহ আরও বিভিন্ন জিনিসপত্র যেমন কিকবোর্ড, পুলবয়েজ, ফিন,কাঁধব্যাগ কিনতে পারেন। সাঁতারের সময় পায়ের দিকে লাগানো হয় কিকবোর্ড। এটি পানিতে ভেসে থাকতে সহায়তা করে, এর দাম পড়বে ৫৫০ থেকে এক হাজার ৭০০ টাকা। দ্রুতগতিতে ও সাবলীলভাবে সাঁতার কাটার জন্য ফিন ব্যবহার করতে হয়। সাঁতারুর পায়ে মাছের পাখনার মতো ফিন লাগানো হয়। বিভিন্ন সাইজের ফিনের দাম পড়বে এক হাজার ২০০ থেকে আট হাজার টাকা। সাবলীলভাবে সাঁতারের জন্য পুলবয়েজ ব্যবহার করা হয় এর দাম পড়বে ৩০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা। হ্যান্ড প্যাডেলের দাম পড়বে ৬০০ থেকে আড়াই হাজার টাকা । সাঁতারের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো গুলশান সিটি করপোরেশন মার্কেট, যমুনা ফিউচার পার্ক, বসুন্ধরা সিটি, গুলিস্তান স্পোর্টস সরঞ্জামের দোকানে কিনতে পাওয়া যায়।

0 104

সোহরাব শান্ত

রাজধানীর সিনেপ্রেমীদের জন্য নতুন তিনটি শাখা খোলার কাজ করছে দেশের সবচেয়ে অভিজাত ও জনপ্রিয় মাল্টিপ্লেক্স‘স্টার সিনেপ্লেক্স’ কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে ধানমন্ডির সীমান্ত সম্ভারে (সাবেক রাইফেল স্কয়ার) স্টার সিনেপ্লেক্সের শাখা চালু হয়েছে। এবার মহাখালী ও মিরপুরে মাল্টিপ্লেক্স নির্মাণ করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে পৃথক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। স্টার সিনেপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।
সূত্রমতে, মিরপুরে স্টার সিনপ্লেক্সের চেইন চালু হবে ২ নম্বর সেকশনের সনি সিনেমা হলের নতুন নির্মিত ভবনে, যা আগামী ঈদুল আযহার আগে উদ্বোধন হবে। রাজধানীর মহাখালীতে নবনির্মিত এসকেএস (সেনাকল্যাণ সংস্থা) টাওয়ারে আগামী মে মাসে নিজেদের আরেকটি শাখা চালু করা হবে বলে জানিয়েছে স্টার সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ।
এর আগে গত ২৬ জানুয়ারি ধানমন্ডির সীমান্ত সম্ভারে নিজেদের শাখা চালু করে স্টার সিনেপ্লেক্স। রাজধানীর ধানমন্ডি, জিগাতলাসহ আশেপাশের এলাকার দর্শকদের কথা চিন্তা করে অনেকদিন থেকেই এখানে হল নির্মাণের পরিকল্পনা করছিল স্টার সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ। দেশের কোনো সিনেপ্লেক্সের এটিই প্রথম শাখা। ২০১৯ সালের মধ্যে ঢাকার উত্তরা, পূর্বাচলসহ বিভিন্ন স্থানে আরও ২০টির মতো হল নির্মাণ এবং পর্যায়ক্রমে দেশব্যাপী ১০০টি হল নির্মাণে স্টার সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ পরিকল্পনা নিয়েছে বলেও জানা গেছে।
স্টার সিনেপ্লেক্সের মিডিয়া মার্কেটিং বিভাগের সিনিয়র ম্যানেজার মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ কারিকাকে জানিয়েছেন, ধানমন্ডির সীমান্ত সম্ভারে সম্প্রতি চালু হওয়া নতুন শাখায় বসুন্ধরা সিটির মূল শাখার মতোই শো চলছে। সেখানে দর্শক সমাগমও ভালো।
মহাখালী ও মিরপুরে স্টার সিনেপ্লেক্সের পৃথক দুটি শাখা চালুর ব্যপারে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত করে মেজবাহ উদ্দিন জানান, রাজধানীর উত্তরা ও পূর্বাচলে স্টার সিনপ্লেক্সের চেইন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। উত্তরার শাখাটি আগামী বছর চালু করা হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ঢাকা ও ঢাকার বাইরে কয়েকটি শাখা করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই অনুযায়ী আমরা এগোচ্ছি। স্টার সিনেপ্লেক্সের নতুন শাখায় আন্তর্জাতিক-মানসম্পন্ন নান্দনিক পরিবেশ, সর্বাধুনিক প্রযুক্তি-সম্বলিত অ্যাটমস ডলবি সাউন্ড সিস্টেম, সিলভার স্ক্রিনসহ একটি পূর্ণাঙ্গ মাল্টিপ্লেক্সের সব ধরনের সুবিধা থাকবে।
স্টার সিনেপ্লেক্সের সীমান্ত সম্ভার শাখায় দর্শক-সাড়া ভালো জানিয়ে মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের টার্গেট পিপলস ছিল ধানমন্ডি-ঝিগাতলার লোকজন। তারা আসছেন। নতুন হিসেবে যতটুকু আশা ছিল, সেই অনুযায়ী দর্শক হচ্ছে। ধীরে ধীরে মানুষ জানবে। আমরা আশা করছি তখন আরও বেশি দর্শক হবে।’
স্টার সিনেপ্লেক্সের একেকটা হলে ২৬০ জন দর্শক বসার সুবিধা আছে উল্লেখ করে তিনি জানান, আগামী ঈদুল আযহার আগেই মিরপুরের সিনেপ্লেক্সটি উদ্বোধন হবে। মিরপুরের এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করে সেখানে টিকিটের দাম একটু কম রাখা হবে। মহাখালীর সিনেপ্লেক্স আগামী ঈদুল ফিতরের আগেই উদ্বোধন হবে।
‘যেখানেই শাখা হোক, আমাদের হল ও শো পরিচালনার ধরনে কোনো পরিবর্তন আসবে না। প্রতিটা সিনেপ্লেক্সে তিনটা করে হল থাকছে। শো-টাইম বসুন্ধরা সিটি শাখার মতোই থাকবে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একেকটা হলে চারটা করে শো থাকবে। সব জায়গায়ই বাংলা ও ইংরেজি সিনেমা থাকবে।’ যোগ করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালের ৮ অক্টোবর রাজধানীর পান্থপথের বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে প্রথম যাত্রা শুরু করে স্টার সিনেপ্লেক্স। হলিউডের নতুন সিনেমার পাশাপাশি দেশীয় সিনেমাও নিয়মিত প্রদর্শন করছে মাল্টিপ্লেক্সটি।