Home ফিচার
Featured posts

0 23

গুলশান বনানী রুটে নতুন বাস সার্ভিস ‘গুলশান চাকা’

কারিকা প্রতিবেদক
সন্ধ্যা। কাকলী বাসট্যান্ডে যাত্রীর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে বাস। অথচ মাসখানেক আগেও চিত্রটা ঠিক এমন ছিল না। অফিস শেষের সময়টাতে বাসের জন্য লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন যাত্রীরা। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর তবেই মিলতো কাঙ্খিত বাস। গত ২৬ জুলাই কাকলী-গুলশান ০২- নতুন বাজার রুটে ‘গুলশান চাকা’ নামে আরেকটি চক্রাকার এসি বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। তাতেই এই রুটের চেনা দৃশ্যের খানিকটা বদল হয়েছে। যানজট না থাকলে যাত্রীর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকছে বাস।
উদ্ধোধনের পর ‘গুলশান চাকা’ কিছুদিন নতুন বাজার থেকে বাড্ডা-গুলশান লিংক রোড ও গুলশান ১ নম্বরে চলাচল করেছিল। তবে নিরাপত্তার কারণে এই গাড়িগুলো গুলশান এলাকার বাইরে চলাচল না করতে গুলশান সোসাইটির পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়। এরপর সেই রুটের পারমিট বাতিল করা হয়েছে। নতুন এই বাস সার্ভিস চালু হওয়ার ফলে যাত্রী ভোগান্তি কমলেও ভাড়া নিয়ে আগের মতো অসন্তোষ রয়ে গেছে। ‘ঢাকা চাকা’র মতো গুলশান চাকার ভাড়াও বেশি বলে জানান যাত্রী জুনাইয়া তাবাসসুম। এক কিলোমিটার দূরত্বে যে ১৫ টাকা ভাড়া, আড়াই কিলোমিটারের ভাড়াও একই। তিনি নতুন বাজার থেকে গুলশান ২ নম্বরের ভাড়া ১০ টাকা হলে ঠিক হতো বলে মনে করেন।
‘গুলশান চাকা লিমিটেড’ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফতাব উদ্দিন বলেন, কাকলী থেকে নতুন বাজার পথে গুলশান চাকা বাস চলছে। কিছুদিন নতুন বাজার থেকে বাড্ডা-গুলশান লিংক রোড ও গুলশান ১ নম্বরে চলেছিল। তবে নিরাপত্তার কারণে এই গাড়িগুলো গুলশান এলাকার বাইরে চলাচল না করতে গুলশান সোসাইটির পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়। এরপর থেকে গুলশান-বনানীর বাইরে যাচ্ছে না এই বাস। তিনি জানান, ২০টি বাসের অনুমোদন দেওয়া আছে। বর্তমানে ১৮টির মতো চলছে। এ ছাড়া গুলশান ১ নম্বর পুলিশ প্লাজা হয়ে তেজগাঁও শিল্প এলাকার জিএমজি মোড় পর্যন্ত রুট পারমিট পাওয়া গেছে। এই রুটেও গাড়ি চলবে।
চক্রাকার বাস সার্ভিস ‘ঢাকার চাকা’ উদ্ধোধন হওয়ার পর প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক বলেছিলেন, বাস চলাচল বাড়লে পর্যায় ক্রমে ঢাকা চাকা’র ভাড়া কমানো হবে। কিন্তু তার মৃত্যুর পর এ ব্যাপারে আর কোন পদক্ষপ নেয়া হয়নি। বেসরকারি চাকরিজীবী সজিব ইসলাম সায়েম বলেন, ‘গুলশান এলাকায় একটিমাত্র কোম্পানির গণপরিবহন চলত আগে। বাসের জন্য দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। তবে নতুন বাসসেবা চালু হওয়ায় এই দাঁড়ানোর কষ্ট কমেছে। যখনই আসছি, একটি না একটি বাস পাচ্ছি। গুলশান চাকা বাসগুলোর সিট বেশ আরামদায়ক ,বাসটিও বেশ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন”
এর আগে চলতি বছরের মার্চে ধানমন্ডি-আজিমপুর রুটে এবং মে মাসে উত্তরাতে চক্রাকার বাস সার্ভিস চালু করে বিআরটিসি। রাজধানীর গণ পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে এলাকা ভিত্তিক চক্রাকার বাস সাার্ভিস সেবার পরিধি বাড়াতে চায় সরকার। সেজন্য পুরান ঢাকা ও মতিঝিল এলাকাকে কেন্দ্র করে আরেকটা চক্রাকার বাস সার্ভিস চালু করার কথা ভাবছেন সংশ্লিষ্টরা।

কারিকা প্রতিবেদক
মেগাসিটি ঢাকাকে শৃঙ্খলায় আনার দাবি সব শ্রেণির নাগরিকের। তাই বিগত সময়ে জারি করা পৃথক সব নীতিমালা একত্রিত করে যুগোপযোগী ‘জাতীয় নগরায়ণ নীতিমালা-২০১৯’ প্রণয়ন করতে যাচ্ছে সরকার। নীতিমালা অনুযায়ী এখন থেকে মেগাসিটিতে আর শিল্প ও অন্যান্য প্রধান খাতে বড় বিনিয়োগ করা যাবে না। পরিবর্তে মেগাসিটির বাইরে কোনো নগর ও অঞ্চলে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হবে। দরিদ্রদের জন্য বিশেষ অঞ্চল, নগরের স্থানীয় প্রশাসনকে শক্তিশালীকরণ, মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী নগরের উন্নয়ন, ভূমি ব্যবহারের যথোপযুক্ত নির্দেশনা, যানজট নিরসনে গণপরিবহনের উন্নয়ন ও আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়নে নানা ধরনের পরিকল্পনা ঠাঁই পেয়েছে এই নীতিমালায়। ইতোমধ্যে নগর-নীতিমালার একটি খসড়া তৈরি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। শিগগিরই এটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে মন্ত্রিসভার বৈঠকে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্রে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘নগরগুলোকে পরিকল্পনামাফিক গড়ে তোলার তাগিদ থেকেই এ নীতিমালা করা হচ্ছে। ঢাকার দিকে তাকালেই বোঝা যায় পরিকল্পিত নগরের প্রয়োজন কতটুকু। এটি আগেই হওয়া দরকার ছিল। যেহেতু হয়নি, তাই এর সঙ্গে জড়িত সবার মতামত নিয়ে একটি নীতিমালা করা হচ্ছে।’
স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের জাতীয় উন্নয়নে শহর ও নগর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বর্তমানে নগর-জনগোষ্ঠী দেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ২৮ ভাগ। প্রতিনিয়ত নগরের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অব্যাহতভাবে দ্রুত নগরায়ণে সৃষ্ট অবকাঠামো ও পরিষেবার বিপুল চাপ এবং টেকসই নগরায়ণের ক্ষেত্রে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া বর্ধিত এ জনগোষ্ঠীর জন্য আবাসন, পানি , পয়োনিষ্কাশন, শিক্ষা, চিকিৎসা, বিদ্যুৎ, যোগাযোগসহ নগর সুবিধাদিও বড় ধরনের সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই অবস্থায় পরিকল্পিত নগরায়ণ না হলে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা সম্ভব হবে না সরকারের পক্ষে-এমন উপলদ্ধি থেকে সরকার পরিকল্পিতভাবে নগরায়ণে নগর-নীতিমালা তৈরি করছে।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, এ নীতিমালা বাস্তবায়ন করা হলে নগরায়ণের ইতিবাচক দিকগুলো বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্জিত হবে নগরের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও। ভবিষ্যতে নগরবাসীকে কার্যকর নাগরিক-সুবিধাও দেয়া হবে যথাযথভাবে। এতে মাস্টারপ্ল্যান বা মহাপরিকল্পনাকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে বলে জানা গেছে। নীতিমালার ভবিষ্যৎ রূপকল্প অংশে বলা হয়েছে, নীতিমালা কার্যকর করার পর নগর ও শহরগুলো বিকেন্দ্রীকৃত ও কার্যকর স্থানীয় সরকার দ্বারা পরিচালিত হবে, যেখানে সুশীল সমাজ ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীসহ স্থানীয় নগরবাসীর আশা-আকাংখা প্রতিফলিত হবে। সুষ্ঠু নগরায়ণ-নীতিমালা প্রণয়নের ফলে প্রধান প্রধান নগরে অবৈধ বস্তির সংখ্যাও কমবে বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। নীতিমালায় ‘নগরের ক্রমবিন্যাস’ অংশে বলা হয়েছে, অধিকতর ভারসাম্যপূর্ণ ও বিকেন্দ্রীকৃত নগর-ব্যবস্থা গড়ে তুলতে জাতীয় নগর-কৌশল প্রণীত হবে। জাতীয় নগর-নীতিমালার আওতায় সর্বাগ্রে একটি নগর ক্রমবিন্যাস তৈরি করা হবে। সব নগর ও শহরের অবস্থানকে সুনির্দিষ্ট করে চিহ্নিত করা হবে সেখানে। জাতীয় নগর ক্রমবিন্যাসের জন্য ছয়টি ধাপে নগরকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে জনসংখ্যা ১০০ লাখ বা অনূর্ধ্বকে মেগাসিটি, পাঁচ লাখ থেকে ১০০ লাখ বা অনূর্ধ্বকে মহানগর বা মেট্রোপলিটন সিটি, দুই লাখ থেকে অনূর্ধ্ব পাঁচ লাখ জনসংখ্যার এলাকাকে আঞ্চলিক শহর বা শিল্পশহর বলা হবে। এছাড়া জনসংখ্যা পঞ্চাশ হাজার থেকে অনূর্ধ্ব দুই লাখ পর্যন্ত মাঝারি শহর বা জেলা শহর, এরপর ক্রমান্বয়ে উপজেলা শহর, ছোট শহর ও কমপ্যাক্ট টাউন বা বিকাশমান অনুকেন্দ্র বলা হয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী মেগাসিটিতে অর্থাৎ রাজধানী ঢাকায় শিল্প খাতসহ অন্যান্য বড় খাতে আর বিনিয়োগ করা যাবে না। মহানগর বা অন্যান্য আঞ্চলিক শহরে শিল্প খাতে বিনিয়োগ করা যাবে। খসড়ায় ‘মাস্টারপ্ল্যান’ তথা কৌশলগত পরিকল্পনার জন্য সব উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ/সিটি করপোরেশন/পৌরসভা ব্যবস্থা নেবে। যতদিন সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সংস্থা নিজে পরিকল্পনা তৈরি করতে না পারে ততদিন কেন্দ্রীয় সংস্থা, যেমন নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর বা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে এ কাজ সম্পাদন করবে। সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে মাস্টারপ্ল্যানের আওতাভুক্ত স্কিমগুলোর মধ্যে থেকে অগ্রাধিকার স্কিম গ্রহণ করবে।
নীতিমালা অনুযায়ী নগরের মধ্যবিত্ত ও দরিদ্রদের আবাসনে ভূমি ও অর্থ সরবরাহে এবং আবাসনের যথাযথ পরিবেশ সৃষ্টিতে সরকার সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। অতিদরিদ্র, নিম্ন আয়ের মানুষ এবং গৃহহীনদের জন্য আবাসন প্রকল্প গ্রহণ করবে সরকার। এছাড়া দরিদ্রদের জন্য বস্তি উন্নয়নে কাজ করবে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে বস্তি উচ্ছেদ করা যাবে না। বস্তিগুলোতে রক্ষাযোগ্য ও অযোগ্য তালিকা তৈরি করবে সরকার। যোগাযোগ-অযোগ্য বস্তিগুলো উচ্ছেদ করা হবে। কিন্তু তার আগে বস্তিবাসীদের পুনর্বাসন করতে হবে। নীতিমালায় নগর পরিবহনের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। নগরে চলাফেরায় ব্যক্তি-মোটরযানের পরিবর্তে গণপরিবহনকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। নগরের রাস্তায় পথচারীদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের কথা বলা হয়েছে এ নীতিমালায়। অগ্রাধিকার অনুযায়ী, প্রতিটি সড়কে পর্যাপ্ত ফুটপাত রাখার সুযোগ রাখা হয়েছে হাঁটার জন্য। এ ক্ষেত্রে রাস্তার পাশে অবৈধ দখলদারিত্ব উচ্ছেদের কথা বলা হয়েছে। ফুটপাতে ব্যবসায়ীদের জন্য নির্দিষ্ট একটি অঞ্চল তৈরি করে ব্যবসার সুযোগের কথাও উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া রাস্তার প্রতিটি পরিবহনের চলাচলের ক্ষেত্রে পৃথক লেন নির্দিষ্ট করার কথা বলা হয়েছে।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, প্রতিটি শহরে জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে খেলার মাঠ, পার্ক এবং বিনোদনের জন্য জায়গা রাখতে হবে। পাশাপাশি কবরস্থান ও শ্মশানঘাটের জন্য রাখতে হবে আলাদা জায়গা। নগরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সব স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ব্যাপারেও জোর দেয়া হয়েছে নীতিমালায়। নগরের যুবসমাজের উন্নয়নেও নানা ধরনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে যুবসমাজকে আত্মনির্ভরশীল করতে সহজলভ্য ঋণ-সুবিধা প্রদান। তাদের আবাসনে ব্যাচেলর হোস্টেল নির্মাণ, দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণের কথাও বলা হয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। এছাড়া নগরের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটি গঠনের কথাও বলা হয়েছে নীতিমালায়।

কারিকা প্রতিবেদক
মহাখালী ওয়্যারলেস থেকে গুলশান-১-এর দিকে একটু যেতেই জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় পরীক্ষাগার। এর দেয়াল ঘেঁষেই হ্যাঙ্গারে ঝুলছে হরেক রকমের কাপড়, যা ঘিরে মানুষের জটলা। ঢাকার রাস্তায় হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে কিংবা কাগজের কার্টনের ওপর কাপড় বিক্রির দৃশ্য হরহামেশাই চোখে পড়ে। কিন্তু এখানে যে কাপড়গুলো ঝুলছে সেগুলো নতুন নয়, পুরোনো।
দেয়ালের গায়ে পুরোনো কাপড় কেন? এমন প্রশ্ন জাগতেই পারে। দেয়ালের লেখাটা পড়ে মিলল উত্তর। লেখা রয়েছে : আপনার অপ্রয়োজন হতে পারে অন্য কারো প্রয়োজন। এর ডান দিকে লেখা : আপনার বা আপনার সন্তানের অপ্রয়োজনীয় কাপড় দিয়ে যান। বাম দিকে লেখা : আপনার বা আপনার সন্তানের প্রয়োজনে নিয়ে যান।
গত শীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের সুবাদে ঢাকার কয়েকটি জায়গায় এমন উদ্যোগ দেখা গিয়েছিল, যা ধীরে ধীরে পুরো ঢাকায় ছড়িয়ে গেছে।
২০১৫ সালে ইরানের উত্তর-পূর্বের শহর মাশাদে প্রথম এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেখানে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র পৌঁছে দিতে অজ্ঞাত কোনো ব্যক্তি এমন উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
সেই উদ্যোগে উদ্বুদ্ধ হয়ে ২০১৫ সালের নভেম্বরে মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরপর লক্ষীপুরের রায়পুর উপজেলার চর আবাবিল এসসি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০১৭ সালে এমন উদ্যোগ নিতে দেখা যায়।
ঢাকায় ‘মানবতার দেয়াল’ প্রথম চালু করে পুরান ঢাকার লালবাগ স্পোর্টিং ক্লাব। ক্লাবের দেয়ালের বাইরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে সারি সারি পুরোনো কাপড়। নিজের প্রয়োজনমতো যেকেউ সেখান থেকে কাপড় নিতে পারবেন এবং নতুন বা পুরোনো কাপড় অন্যের জন্য রেখে যেতে পারেন।
লালবাগের ঢাকেশ্বরী রোড দিয়ে লালবাগ কেল্লার দিকে যেতেই বাম পাশে পড়বে পুরোনো একটি বাড়ি। একতলা। গোলাপি রঙের বাড়িতেই লালবাগ স্পোর্টিং ক্লাবের কার্যালয়। ১৯৬২ সালে যাত্রা করে ক্লাবটি। ভবনের বাইরের দিকে ডান পাশের দেয়ালে সাজিয়ে রাখা হয়েছে কিছু পুরোনো কাপড়। দেয়ালের নাম রাখা হয়েছে : মানবতার দেয়াল। ব্যানারের এক পাশে লেখা : আপনার অপ্রয়োজনীয় জিনিস এখানে রেখে যান এবং অন্য পাশে লেখা : আপনার প্রয়োজনীয় একটি জিনিস এখান থেকে নিয়ে যান।
লালবাগ ও মহাখালী ছাড়াও মানবতার দেয়ালের এই মহতি উদ্যোগ ছড়িয়ে পড়েছে রাজধানীর মিরপুর, ভাষানটেক, উত্তরা, মোহাম্মদপুর, বনশ্রীসহ বিভিন্ন এলাকায়।
মহাখালীর মানবতার দেয়ালের উদ্যোক্তা সাইদুর রহমান বলেন, ‘বাসায় এত রকমের কাপড় জমে, সেগুলো যদি কারও কাজে লাগে, ক্ষতি কী? যে কাপড়গুলো আমরা ব্যবহার করছি না, সেটা বাইরে ঝুলিয়ে দিলে কেউ না কেউ নিয়ে যাবে-এই চিন্তা থেকেই এই উদ্যোগ নিয়েছি।’
এক রিকশাচালক বলেন, ‘একটা প্যান্ট কিনতে গেলে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা লাগে। আমি এমনিতেই পেয়ে গেলাম, এটা আমার জন্য অনেক উপকার হলো।’
প্রতিদিনের সংবাদপত্র কিংবা টিভির পর্দা খুললেই যেখানে পাওয়া যায় হানাহানি আর বিদ্বেষের খবর, সেখানে দৃষ্টান্ত হতে পারে মানবতার দেয়াল। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, আদর্শ রাষ্ট্রব্যবস্থায় অসহায় মানুষকে সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার বিকল্প নেই। এজন্য প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন। মানবতার দেয়ালের মতো মহতি উদ্যোগ হতে পারে সেই আন্দোলনের সূতিকাগার।

0 44

কারিকা প্রতিবেদক
প্রাচ্যের ডান্ডি হিসেবে খ্যাত নারায়নগঞ্জের দেওভোগে নির্মিত হচ্ছে দেশের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন মসজিদ। দেওভোগ পাকা রোড জামে মসজিদটির স্থ্যাপত্য নকশা করেছে স্যানমার ইন্টেরিয়র অ্যান্ড আর্কিটেকচার। মধ্যপ্রাচ্যের অ্যারাবিয়ান স্থ্যাপত্য শৈলীর আদলে নির্মিত আন্তর্জাতিক মানের এই মসজিদটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে নারায়নগঞ্জ, ঢাকা তথা সমগ্র বাংলাদেশের জন্য মসজিদটি একটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে বিবেচিত হবে।
রাফিউদ্দিন রিয়াদ, মুজাফফর মাহামুদ গিলান, রায়হান আহমেদ ভূঁইয়ার তত্ত্বাবধানে এবং স্থানীয় এলাকাবাসীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় মসজিদটির নির্মাণ কাজ খুব দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। ছয়তলা ভিত্তি সম্পন্ন মসজিদটিতে বর্তমানে চতুর্থ তলার কাজ চলছে। আশা করা যাচ্ছে এ বছরের শেষ নাগাদ মুসল্লিরা মসজিদটিতে নামাজ আদায় করতে পারবেন।
স্থপতি আমিনুল ইসলামের স্থ্যাপত্য নকশা করা মসজিদটির পুরোটা জুড়ে থাকছে অ্যারাবিয়ান আর্কিটেক্ট এবং মেটাল ক্যালিওগ্রাফি। মসজিদটির মেহরাব এর নকশাতেও থাকবে ভিন্নতা। মেহরাবের ভেতরে অন্ধকারাচ্ছনতা দুর করতে সেখানে ডে লাইট প্রবেশের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যাতে মনে হবে ঐশ্বরিক কোন আলোয় মেহরাবটি আচ্ছন। প্রাচীন আমলের মসজিদের মতো আধুনিক এই মসজিদটিতেও স্যান্ডিলিয়্যার লাইট ব্যবহার করা হয়েছে। মসজিদের বড় জানালা দিয়ে অবারিত আলো-বাতাস প্রবেশের সুযোগ রাখা হয়েছে। ইমামের সঙ্গে মুসল­ীদের ভিজ্যুয়াল কানেকশন বজায় রাখার জন্য মসজিদটির প্রথমতলা থেকে দ্বিতীয়তলার ফ্লোরের মধ্যে ভয়েড রাখা হয়েছে। ঘন বসতিপূর্ণ এলাকাটিতে অপরাপর স্থাপনা থেকে নির্মিতব্য মসজিদটির ভিন্নতা আনতে এর বাইরের অংশে অফ হোয়াইট রং ব্যবহার করা হয়েছে।
মসজিদ নির্মাণ কাজের অন্যতম উদ্যোক্তা রায়হান আহমেদ ভূঁইয়া কারিকাকে জানান, ‘মসজিদটির নির্মাণ কাজের শুরুর দিকে আমি মসজিদটির স্থ্যাপত্য নকশা করার জন্য একটি ভালো ইন্টেরিয়র ফার্ম খুঁজছিলাম। পরে ইন্টারনেট সার্চ করে স্যানমার ইন্টেরিয়র ও আর্কিটেকচার এর খোঁজ পাই। প্রথমদিকে মসজিদটির স্থ্যাপত্য নকশা করার জন্য ১২ লক্ষ টাকা বিল ধরা করা হয়। আমি প্রতিষ্ঠানটিকে কিছু টাকা কম নেয়ার অনুরোধ করলে স্যানমার গ্রুপের ডিরেক্টর আতিকা হক পুরো ডিজাইনটি বিনামূল্যে করে দেন।
রায়হান আহমেদ ভূইয়া জানান, মসজিদটির সর্ম্পূণ নির্মাণ কাজ শেষ হলে এতে ১২০০-১৪০০ মুসলি­ একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারবেন। তিনি আরও জানান মসজিদটির প্রবেশ দ্বারে একটি ডিজিটাল টার্চ স্ক্রীণবোর্ড থাকবে যাতে নামাজের সময় সূচি ছাড়াও কোরআন তেলাওয়াত শোনার ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়াও মসজিদ সংলগ্ন একটি লাশ ঘর থাকবে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত লাশ ঘরটিতে ব্যবস্থা কয়েক ঘন্টা লাশ সংরক্ষন করা যাবে। মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পটি তত্ত্বাবধান করছেন প্রকৌশলী কাওসারুল হক সিদ্দিকী এবং রাফাতুল রাজিব।

0 14

পথ নেই পথচারী পারাপারের

আবদুল্লাহ আল মামুন
দেশের অন্যতম ব্যস্ততম শহর চট্টগ্রাম। লাখ লাখ মানুষের বসতি। নানা কাজে নগরে আসা যাওয়া করেন আরো কয়েক লাখো মানুষ। চলাচলের সময় অনেক মানুষকে সড়কের এক পাশ থেকে আরেক পাশে যেতে হয়। হাঁটতে হয় ফুটপাত ধরে। কিন্তু সরেজমিনে অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, নির্বিঘ্নে নিরাপদে সড়ক পারাপারের কোন ব্যবস্থায় নেই মূল সড়কগুলোতে। চলন্ত গাড়ির সামনে প্রাণ হাতে নিয়ে সড়ক পার হচ্ছেন পথচারীরা। রীতিমতো নগরের অর্ধশত মোড় মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। নিয়মিত বিরতিতে ঘটছে দুর্ঘটনা, ঘটছে প্রাণহানিও। নগরের ১৪টি এমন বিপজ্জনক মোড় চিহ্নিত করেছে ট্রাফিক বিভাগ। এসব মোড়ে জরুরী ভিত্তিতে পদচারী সেতু (ফুটওভার ব্রিজ) নির্মাণে সিটি করপোরেশনকে চিঠি দেওয়া হলেও কোন ব্যবস্থায় নেওয়া হচ্ছে না।
৬০ লাখ নগরবাসীর ১৬০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের নগরীতে সর্বসাকুল্যে পদচারী সেতু আছে মাত্র ৯টি। যানবাহনের চাপ সামাল দিতে নগরের বিভিন্ন সড়কে নির্মাণ করা হয়েছে ফ্লাইওভার। ফ্লাইওভারের নিচে সড়কের মাঝখানে ডিভাইডার দেওয়া হলেও পথচারীদের সড়ক পারাপারের তেমন কোন ব্যবস্থা রাখা হয়নি। পদচারী সেতু না থাকায় সড়ক পারাপারে ভোগান্তিও পোহাতে হচ্ছে পথচারীদের। তবে পথচারীদের রাস্তা পারাপারে পদচারী সেতু নির্মাণ কোনো সমাধান নয় বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, নিরাপদ সড়ক পারাপারের জন্য জেব্রা ক্রসিং ও উন্নত ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থাই হচ্ছে সমস্যা সমাধানের মূল উপায়।
এ প্রসঙ্গে নগর পুলিশের উপ কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) হারুন উর রশিদ হাযারী বলেন, ‘অনেক মোড়ে পথচারী পারাপারের কোনো ব্যবস্থা নেই, এটা সত্য। মানুষ ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছেন। যেখানে পদচারী সেতু ছাড়া কোনো উপায় নেই, সেখানে পদচারী সেতু নির্মাণ করতে হবে। নগরের ১৪টি মোড়ে পদচারী সেতু নির্মাণের জন্য সিটি করপোরেশনের কাছে বার বার অনুরোধ করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি।’
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নগরের জাকির হোসেন রোডের ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতালের সামনে একটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের জন্য ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। বাকি ফুটওভার ব্রিজগুলো পর্যায়ক্রমে নির্মাণ করা হবে।’
তবে ভিন্ন মন্তব্য করেছেন পরিবহন ও সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. শামসুল হক। তিনি বলেন, ‘মোড়গুলো পথচারী ও গাড়ি উভয়ের জন্য। দুই পক্ষকে সহাবস্থানে রাখার জন্য দরকার কার্যকর ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা। গাড়ি যখন থামবে, পথচারী তখন পার হবেন। উন্নত দেশে পদচারী সেতু সব সময় নিরুৎসাহিত করা হয়।’
তিনি বলেন, ‘পদচারী সেতু বানিয়ে পথচারীদের চলাচলের সমাধান করার উদ্যোগ পঞ্চাশ-ষাটের দশকে ছিল। এখন সভ্যতা এগিয়েছে। জ্ঞান-বিজ্ঞান এগিয়েছে। এখন সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতার কথা চিন্তা করে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের চিন্তা করছে আধুনিক বিশ্ব। যেখানে শিশু, অসুস্থ রোগী ও প্রতিবন্ধীরাও পারাপার হতে পারেন।’
সরেজমিন নগরের বিভিন্ন মোড় ঘুরে দেখা গেছে, পথচারীরা চলন্ত গাড়ির সামনে হাত উঁচিয়ে পার হচ্ছেন সড়ক। পথচারী পারাপারের জন্য আলাদা কোনো সিগন্যালও দেন না ট্রাফিক পুলিশ। প্রাণ হাতে নিয়ে সড়ক পার হচ্ছেন পথচারীরা। নগরের ব্যস্ততম মোড় লালখান বাজার মোড়ে পথচারী পার হওয়ার কোনো উপায় নেই। পথচারীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডিভাইডারের ফাঁকফোকর দিয়ে পার হচ্ছেন সড়ক। একই অবস্থা দেওয়ানহাট মোড় এলাকায়ও। এই দুই মোড়ে সড়কের মাঝখানে ডিভাইডার বসিয়ে নিরবচ্ছিন্ন গাড়ি চলাচল নিশ্চিত করা হয়েছে।
লালখানবাজার মোড় পার হওয়ার সময় চাকুরিজীবী ইসমত আরা বলেন, প্রতিদিন এ মোড় পার হয়ে চলাচল করতে হয়। আমার মতো হাজারো মানুষ প্রতিদিন পার হন। কিন্তু পথচারী পারাপারের কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি এখানে। মোড়ের আশপাশেও নেই কোনো জেব্রা ক্রসিং। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ির ফাঁকফোকর গলে সড়ক পার হতে হয় পথচারীদের।
এ ছাড়া নগরের একেখান, কর্নেলহাট, অলংকার, বহদ্দারহাট, ষোলশহর, দুই নম্বর গেট, জিইসি, ওয়াসা, টাইগারপাস, চৌমুহনী, বাদামতলী, গোসাইলডাঙ্গা, বারিক বিল্ডিং, কাস্টমস, সল্টগোলা, বন্দরটিলা, নিউমার্কেট, কোতোয়ালি, কর্ণফুলী সেতু চত্বর, অক্সিজেন মোড়েও মিলেছে একই চিত্র। দ্রুতগতির গাড়ির সামনে হাত উঁচিয়ে পার হচ্ছেন পথচারীরা। এদিকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর নগরের বিভিন্ন মোড়ে জেব্রাক্রসিং একেঁ দিয়েছিল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল না থাকায় এসব জেব্রাক্রসিং পথচারীদের কোন কাজে আসেনি। জেব্রাক্রসিংগুলো এখন মুছে গেছে।
ব্যাংককর্মী শর্মিলা আহমেদ বলেন, ‘চতুর্মুখী দেওয়ানহাট মোড় এখন দ্বিমুখী করে দেওয়া হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন দেওয়ানহাট মোড় পার হতে হয়। সিগন্যাল নেই বলে অনেক সময় গাড়ি গায়ের ওপর উঠে যায়। অথচ বিষয়টি দেখার কেউ নেই।’

নান্দনিক কিন্তু নির্মমতার সাক্ষী

আবুল হোসেন আসাদ
গ্লাডিয়েটরদের রক্ত, নির্মমতা ও নিষ্ঠুরতা ছড়িয়ে আছে যে স্থাপত্যটির বুকের জমিনজুড়ে, অপূর্ব নির্মাণশৈলীর যে স্থাপত্যটি আজও মনুষ্যসৃষ্ট নয়নাভিরাম স্থাপত্যের এক সপ্তাশ্চর্য, তা হলো-রোমের কলোসিয়াম। রোমের শহরতলিতে অবস্থিত এটি। রোম থেকে ভ্যাটিকান পর্যন্ত যাওয়ার জন্য খোলা ছাদবিহীন ট্যুরিস্ট বাস রয়েছে অসংখ্য। এগুলোতে নির্দিষ্ট ফি’র বিনিময়ে পুরো দর্শনীয় এলাকা ভালো করে ঘুরে দেখা যায়। নির্দিষ্ট সময় পরপর বিরতি। বাস থেকে কলোসিয়ামের সামনে নামলাম। নিরাপত্তাবেষ্টনী পার হয়ে ঢুকে গেলাম কলোসিয়ামের ভেতরে। অনুভূতি-অসাধারণ। রোমের কলোসিয়ামের কথা শুনেছি, বইয়ে পড়েছি। প্রথমেই ওপরের দিকে ওঠা শুরু করলাম সিঁড়ি বেয়ে। পাথরের সিঁড়ি। একটু খাড়া। ধীরে ধীরে উঠতে থাকলাম। নতুন আবেশ। নতুন পরিবেশ। দুই চোখ মেলে দেখতে থাকি চারপাশ।
উপবৃত্তাকার ছাদবিহীন বিশাল একটি খোলা মঞ্চ এই কলোসিয়াম। ছয় একর জমির ওপর নির্মিত হয়েছে এটি। উচ্চতা প্রায় ৪৮ মিটার, দৈর্ঘ্য ১৮৮ মিটার এবং চওড়ায় ১৫৬ মিটার। প্রত্যেক তলায় ৮০টি করে তিনটি লেভেলে মোট ২৪০টি আর্চ আছে। ৮৬ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৫৪ মিটার প্রস্থের মেঝে আচ্ছাদিত কাঠ ও বালি দিয়ে। গ্লাডিয়েটরদের পশ্চাদপসরণে বাধার সৃষ্টি করত কলোসিয়ামের উপবৃত্তাকার উঁচু দেয়াল। প্রায় এক লাখ কিউবিক মিটারের বেশি ট্র্যাভারটাইন পাথর ব্যবহার করা হয়েছিল এই অ্যাম্ফিথিয়েটার নির্মাণে। ৫০ হাজার লোক একসঙ্গে বসে এখানে গ্লাডিয়েটরদের যুদ্ধ দেখতে পারত। আসন-ব্যবস্থাটি কয়েকটি ভাগে বিভক্ত ছিল। প্রথম লেভেলে তৎকালীন সিনেটররা বসতেন। সম্রাটের নিজস্ব সুসজ্জিত আনন বা মর্বেলের তৈরি বক্সটিও এই লেভেলে অবস্থিত ছিল। দ্বিতীয় লেভেলটি রোমান অভিজাত, যারা সিনেটের সদস্য ছিলেন না, তাদের জন্য সংরক্ষিত ছিল। তৃতীয় লেভেলটিতে সাধারণ মানুষদের বসার ব্যবস্থা ছিল। তৃতীয় লেভেলটি আবার তিন ভাগে বিভক্ত ছিল। নিচের দিককার অংশটিতে ধনী ব্যক্তিরা বসতেন, মাঝের অংশটি মধ্যবিত্তরা বসতেন এবং উপরের অংশে কাঠ দিয়ে নির্মিত একটি কাঠামো ছিল, যেখানে দরিদ্রশ্রেণির মানুষ দাঁড়িয়ে খেলা উপভোগ করতেন। রোমান সাম্রাজ্যের সব নাগরিকের এই জায়গায় বিনামূল্যে প্রবেশাধিকার ছিল।
ভূগর্ভস্থ হাইপোজিয়াম তৈরি করা হয় নির্মাণের পরের দুই বছরে। এতে দুইতলা বিশিষ্ট ভূগর্ভস্থ খাঁচা এবং সুড়ঙ্গের মিলন ঘটানো হয় যেখানে মরণখেলা শুরুর আগে ধরে আনা বন্যপশু এবং অসহায় গ্লাডিয়েটদের রাখা হতো। খাঁচাগুলোতে চলাচলের জন্য অসংখ্য গোপন সুড়ঙ্গ-পথ ছিল। এসব সুড়ঙ্গ ছিল বিশাল আকারের। হাতির মতো বিশালাকার বন্যপ্রাণীও এ সুড়ঙ্গ-পথে চলাচল করতে পারত। কলোসিয়ামের আরেকটি দিক হচ্ছে, দর্শকদের ঠান্ডা বাতাস সরবরাহ করার জন্য এর ‘ভেলারিয়াম’ নামের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ-ব্যবস্থা, যা ছিল দড়ির তৈরি ক্যানভাসের একটি আচ্ছাদন। এ আচ্ছাদনের মাঝখানে একটি ছিদ্র ছিল। আচ্ছাদনটি পুরো কলোসিয়ামের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আবৃত করত এবং বাতাস ধরে রাখার জন্য এর মধ্যখানে ঢালু রাখা হতো। বাতাস সরবরাহ সচল রাখার জন্য বিশেষ প্লাটফর্মে দাঁড়ানো পাঙ্খা-পুলাররা এই দড়ি নিয়ন্ত্রণ করত। কলোসিয়ামে অসংখ্য ভোমিটারিয়া বা প্যাসেজ ছিল, যা সারি সারি আসনের পাশ দিয়ে অবস্থিত ছিল। গ্রাউন্ড লেভেলে ৮০টি প্রবেশদ্বার ছিল। এর মধ্যে ৭৬টি ছিল সাধারণ দর্শকদের ব্যবহারের জন্য। তারা ভোমিটোরিয়াম দিয়ে নিজ আসনে পৌঁছাত। কলোসিয়াম বহু প্রাচীনকালে নির্মিত হলেও এর নির্মাণশৈলীতে রয়েছে অনন্য নিপুণতা। বর্তমান সময়ের প্রকৌশলীরা অনেক স্টেডিয়াম নির্মাণেও কলোসিয়ামের কাঠামো থেকে ধারণা নিয়ে থাকেন।
কলোসিয়াম পাথরের তৈরি। এটি মূলত শুরুতে তৈরি হয়েছিল একটি নাট্যশালা হিসেবে। ৭২ খ্রিস্টাব্দে এটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ফেরিয়াস বংশের সম্রাট ভেসপাসিয়ান এটি নির্মাণ করেন। ভেসপাসিয়ানের মৃত্যুর পর নির্মাণকাজ শেষ করেন তার পুত্র টাইটাস। ধারণা করা হয়, ৭০ খ্রিস্টাব্দের দিকে ইহুদি বিদ্রোহের পর যুদ্ধবন্দি ইহুদি দাসদের দিয়ে এই কলোসিয়ামটি নির্মিত হয়েছে। ১০ বছর ধরে ৬০ হাজার ইহুদি দাসকে কাজে লাগিয়ে ৮০ খ্রিস্টাব্দে কলোসিয়ামের নির্মাণকাজ শেষ করেন টাইটাস। তিনি এটিকে অফিসিয়ালি ‘ফ্ল্যাভিয়ান অ্যাম্পিথিয়েটারিয়াম (গ্যালারি)’ নাম দিয়ে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেন। একদম শুরুতে এটি খেলাধুলার জন্য ব্যবহৃত হতো এবং নাট্যশালার জন্য ব্যবহৃত হতো। কলোসিয়ামে নিয়মিত হতো পশুর লড়াই আর এগুলোর করুণ মৃত্যু দেখতে দেখতে একঘেয়েমি বোধ করেন সম্রাট টাইটাস। তাই পরিশেষে পশুর পরিবর্তে মানুষে-মানুষে লড়াইয়ের হিংস্র আর অমানবিক চিন্তা মাথায় আসে তার। এরপর থেকে শুরু হয় মানুষে-মানুষে, মানুষ-হিংস্র পশুতে জীবন-মরণের লড়াই আর মৃত্যুর করুণ ও বীভৎস কাহিনি। মল্লযুদ্ধ দিয়েই শুরু হয় গ্লাডিয়েটরদের খেলা এবং এই মল্লযুদ্ধের জন্য একজন আরেকজনকে কাঠের তরবারি দিয়ে আঘাত করতে থাকে। ‘গ্লাডিয়াস’ অর্থ খাটো তরবারি। এ তরবারি দিয়ে লড়াইকারীদের বলা হতো-গ্লাডিয়েটর। প্রথমদিকে যুদ্ধবন্দিদের দিয়েই লড়াই শুরু। এ লড়াই দুজনের মধ্যে চলত ততক্ষণ, যতক্ষণ-না একজনের মৃত্যু হতো। পরে প্রচলন হয় গ্লাডিয়েটরদের লড়াই। লড়াই চলাকালে কোনো এক গ্লাডিয়েটর আহত হয়ে পড়ে গেলে উল্লাসে ফেটে পড়ত পুরো কলোসিয়াম। মৃত্যুভয়ে ভীত, ক্ষত-বিক্ষত গ্লাডিয়েটর রেওয়াজ অনুযায়ী হাত তুলে সম্রাটের কাছে করুণা প্রার্থনা করত, প্রাণভিক্ষা চাইত। মঞ্জুর করা না-করা সম্পূর্ণ সম্রাটের মেজাজের ওপর নির্ভর করত। সম্রাট ক্ষমা করলে সে যাত্রায় বেঁচে যেত পরাজিত গ্লাডিয়েটর, আর না করলে নিশ্চিত মৃত্যু। অনেক সময় রোমান মহিলারা নামকরা গ্লাডিয়েটরদের প্রেমে পড়ে গৃহত্যাগও করতেন।
রোম থেকে রোমানরা চলে গেছে অনেক বছর আগে। ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে রয়ে গেছে আজও এই কলোসিয়াম। রোমান সাম্রাজ্যের সূতিকাগার ছিল এই রোম। নিরোর বাঁশি, লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির স্মৃতিবিজড়িত ইতালি আর এই রোম। ইতালির এই রোম নগরীর কেন্দ্রবিন্দুতে নির্মমতা ও নিষ্ঠুরতা, রক্ত, আর্তনাদ ও জীবন সংশয়ের অভিশাপ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে কলোসিয়াম। কলোসিয়ামের মূল স্থাপত্যের দুই-তৃতীয়াংশই ধ্বংস হয়ে গেছে। এই কলোসিয়ামের মাটিতে মিশে আছে সেই সময়ের গ্লাডিয়েটরদের রক্ত। অজস্র বন্যপ্রাণীর করুণ মৃত্যু ও রক্ত। কলোসিয়ামের দেয়ালে কান পাতলে আজও বুঝি শোনা যায় সেই ভয়াবহতা ও নিষ্ঠুরতার শব্দ! তারপরও কলোসিয়াম আজও পৃথিবীর অন্যতম জনপ্রিয় একটি ট্যুরিস্ট-স্পট। ১৯৯০ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী অঞ্চলের স্বীকৃতি দেয় কলোসিয়ামকে। এটি পৃথিবীতে মনুষ্যসৃষ্ট আধুনিক সপ্তাশ্চর্যগুলোর একটি বলে নির্বাচিত হয় ২০০৭ সালে। কলোসিয়াম প্রাচীন স্থাপত্যশিল্পের এক অসাধারণ নিদর্শন, যা একই সঙ্গে রোমানদের হিংস্রতা আর নির্মাণশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন হয়ে টিকে আছে শত শত বছর ধরে।

লেখক : সাইক্লিস্ট ও সাইকেলে বিশ্বভ্রমণকারী

কারিকা প্রতিবেদক
সিডনির বিখ্যাত অপেরা হাউসের আদলে রাজধানীর হাতিরঝিলে নির্মিত হবে ‘ঢাকা অপেরা’। অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরের অপেরা হাউসের মতোই মনোমুগ্ধকর বিনোদন আর সৌন্দর্য উপভোগ করা যাবে হাতিরঝিলে।
১০ একর জায়গার ওপর নির্মিত এ প্রকল্পটি হবে আন্তর্জাতিকমানের বিনোদন ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় এ নিয়ে কাজ শুরু করেছে শিল্পকলা একাডেমি। প্রকল্পের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে হাতিরঝিলের ওপর ভাসমান উন্মুক্ত মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। এখানে একই সঙ্গে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারবেন দর্শকরা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সহায়তায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর অপেরা হাউসের অবকাঠামো নির্মাণ করছে। এখানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাবে। ছাদখোলা মুক্তমঞ্চের কাছেই ১০ তলা অত্যাধুনিক গাড়ি পার্কিং ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এ ভবনে গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধা ছাড়াও একটি সম্মেলন কক্ষ থাকবে। এতে থাকবে হাতিরঝিলের ইতিহাস-সংক্রান্ত জাদুঘর, রেস্টুরেন্ট ও অন্যান্য সুবিধা।
সূত্র জানায়, ৯ দশমিক ৪৭৭ একর জমির ওপর নির্মিত হবে হাতিরঝিল সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। প্রায় ৪ লাখ বর্গফুট জায়গার ওপর এ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রণয়নের জন্য ইতোমধ্যে একাধিক দেশি-বিদেশি স্থপতি কাজ করছেন। এতে ৩ থেকে ৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন মূল মিলনায়তন থাকবে। এ ছাড়াও থাকবে আরও দুটি মিনি মিলনায়তন। যে দুটির ধারণক্ষমতা হবে ৩০০ থেকে ৫০০ দর্শকের। ঝড়বৃষ্টি বা রোদ থেকে রক্ষার জন্য উন্মুক্ত মঞ্চের ওপরে ছাউনি থাকবে। যার ফলে সারা বছর দিন-রাত এখানে বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান করা যাবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা। প্রকল্প-এলাকায় থাকবে একটি বিশেষ স্যুভিনিয়র শপ। যেখানে বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির নানা ধরনের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্য প্রদর্শনীর জন্য তুলে ধরা হবে। এখানে সমকালীন বিভিন্ন চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর ব্যবস্থা থাকবে। এ ছাড়া নতুন শিল্পীদের জন্য প্রশিক্ষণ একাডেমিও গড়ে তোলা হবে ঢাকা অপেরা হিসেবে নির্মিত হাতিরঝিল সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে।
গত ১ জুলাই ২৩তম জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংস্কৃৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ বলেন, ‘হাতিরঝিলে ১০টি মিলনায়তনসমৃদ্ধ ঢাকা অপেরা হাউস নির্মাণ করা হবে। এটি হবে শিল্পের বিকাশে এই সরকারের আমলে আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। শিল্পের সব ধরনের শাখায় বিচরণের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা সেখানে থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা অপেরা হাউসের ডিজাইন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজাইনটি দেখেছেন। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য শিগগিরই আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করব। তিনি অনুমোদন দিলেই আমরা কাজ শুরু করব। সংস্কৃতির সব শাখাকে সঙ্গে নিয়েই হাতিরঝিলে নির্মিতব্য ঢাকা অপেরা হাউসকে কেন্দ্র করে একটি সাংস্কৃতিক বলয় গড়ে তুলতে চায় সরকার।’

কারিকা প্রতিবেদক
এ বছর বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজযাত্রী পবিত্র হজ পালনে সৌদি আরব যাবেন। এর মধ্যে ৬৩ হাজার ৫৯৯ জন হজযাত্রী পরিবহন করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
গত ৪ জুলাই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রথম হজ-ফ্লাইট ৪১৭ জন যাত্রী নিয়ে সৌদি আরবের জেদ্দার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মো. আবদুল্লাহ বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে উদ্বোধনী ফ্লাইটের হজযাত্রীদের বিদায় জানান। এ সময় বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইনামুল বারী, সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান, ধর্ম সচিব, বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও, হাব সভাপতি ছাড়াও মন্ত্রণালয়, সিভিল এভিয়েশন ও বিমানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হজযাত্রীদের উদ্দেশে বলেন, সব হজযাত্রী যেন নির্বিঘ্নে ও সুষ্ঠুভাবে হজ পালন সম্পন্ন করতে পারেন সে ব্যাপারে অধিকতর সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হজ-সংক্রান্ত সব বিষয়ে যেকোনো ধরনের অবহেলা, সংকট ও অনিয়মকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে এবং হবে বলে তিনি জানান। দেশ তথা জাতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় অনুভূতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সবার কাছ থেকে ইতিবাচক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
চলতি মৌসুমে হজযাত্রীদের ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে পরিবহনের জন্য বিমানের চারটি নিজস্ব বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজ প্রস্তুত আছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স হজ অপারেশন ২০১৯-এর তথ্য অনুযায়ী, ১১ জুলাই সকাল পর্যন্ত ৩৭টি ডেডিকেটেড এবং ৭টি শিডিউল ফ্লাইট পরিচালিত করেছে বিমান। ৩৭টি ডেডিকেটেড হজ-ফ্লাইটের মাধ্যমে তারা এ পর্যন্ত মোট ১৬ হাজার ২০৬ জন হজযাত্রী পরিবহন করেছে।
এ বছর বিমানের হজযাত্রীরা ওয়ানওয়েতে ১০০ ডলার বা সমপরিমাণ টাকা এবং রিটার্ন যাত্রা ২০০ ডলার বা সমপরিমাণ টাকার বিনিময়ে উড়োজাহাজের সামনের অপেক্ষাকৃত বড় ও আরামদায়ক আসনে যাতায়াত করতে পারবেন।
চলতি বছর থেকে প্রথমবারের মতো কিছু ফ্লাইটের জেদ্দা বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কার্যক্রম ঢাকা থেকেই সম্পন্ন করা হচ্ছে। এ উদ্দেশে সৌদি আরবের ইমিগ্রেশন টিম ঢাকায় অবস্থান করছে। চলতি বছর ধর্ম মন্ত্রণালয় ‘রোড টু মক্কা’র আওতায় ১২২টি ফ্লাইটের ইমিগ্রেশন ঢাকায় সম্পন্ন করার অনুমতি দিয়েছে। ভবিষ্যতে সব ফ্লাইটের ইমিগ্রেশন ঢাকায় সম্পন্ন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
‘রোড টু মক্কা’ কার্যক্রমের আওতায় হজযাত্রীদের ইমিগ্রেশন ঢাকায় সম্পন্ন হওয়ার ফলে মুসল্লিদের জেদ্দা বিমানবন্দরে দীর্ঘ প্রতীক্ষা এবং ভোগান্তির অবসান ঘটেছে।
এ ছাড়াও হজযাত্রীদের যাত্রা সহজীকরণ, গতিশীল ও সফল করার জন্য ‘বিমান হজ-ফ্লাইট’ নামে এ বছর একটি হজ-অ্যাপস চালু করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এটি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অফিসিয়াল অ্যাপস। যেকোনো অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে অ্যাপসটি ডাউনলোড করলে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে হজ-ফ্লাইট সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যাবে। ‘বিমান হজ-ফ্লাইট’ অ্যাপসের মাধ্যমে হজযাত্রীরা সহজেই ফ্লাইট সম্পর্কিত সব তথ্য, ডিলে নোটিফিকেশন্স, হজ-ফ্লাইট স্ট্যাটাস, হজ-ফ্লাইট শিডিউল এবং হজ ইনস্ট্রাকশন্স জানতে পারবেন।

রাজধানীর তিন সড়কে রিকশা বন্ধের উদ্যোগ

কারিকা প্রতিবেদক
জুনের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) বৈঠকে ‘ঢাকা মহানগরীর অবৈধ যানবাহন দূর/বন্ধ, ফুটপাত দখলমুক্ত ও অবৈধ পার্কিং বন্ধে’ একটি কমিটি গঠন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। কমিটিকে দুই মাসের মধ্যে সড়কে শৃঙ্খলা আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। সে অনুযায়ী গত ৭ জুলাই থেকে তিন সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধের নির্দেশ দেন কমিটির আহবায়ক ডিএসসিসির মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। মেয়রের নির্দেশের পর গাবতলী থেকে আজিমপুর অর্থাৎ মিরপুর রোড ও সায়েন্স ল্যাব থেকে শাহবাগ পর্যন্ত এবং প্রগতি সরণির কুড়িল থেকে বাড্ডা, রামপুরা, খিলগাঁও হয়ে সায়েদাবাদ পর্যন্ত সড়কে রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়। রাজধানীর তিন সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধের প্রতিবাদে ৮ ও ৯ জুলাই কয়েক হাজার রিকশাচালক ও মালিক সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কুড়িল, বাড্ডা, রামপুরা ও মালিবাগ চৌধুরীপাড়ার বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে একনেকের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রিকশার জন্য আলাদা লেন তৈরির নির্দেশ দিলে অবরোধ তুলে নেন তারা। এর আগে রিকশা-শ্রমিকদের অবরোধ চলাকালীন ডিএসসিসির মেয়র সাঈদ খোকন নগর ভবনে তাদের চায়ের দাওয়াত দিলেও কাঙ্খিত সাড়া মেলেনি।
রাজধানীর তিন সড়কে রিকশা বন্ধের পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি-তর্কে সরগরম হয়ে উঠেছিল সোশ্যাল মিডিয়া, বিশেষ করে ফেসবুক। রাজধানীর যানজট কমাতে রিকশা বন্ধের সিদ্ধান্ত কতটুকু কাজে আসবে-এ নিয়ে সংশয় আছে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মনে। যাত্রী-রিকশাচালক উভয়ের জন্য বিকল্প যাতায়াত ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে রিকশা বন্ধের আহবান জানান বেশিরভাগ ফেসবুক ব্যবহারকারী।
দ্রুতগামী সড়কে রিকশার মতো অযান্ত্রিক যান যে যানবাহনের গতি কমিয়ে দেয়, সে বিষয়ে কারো দ্বিমত নেই। তবে রিকশা বন্ধের আগে সংশ্লিষ্ট সড়কগুলোতে পর্যাপ্ত গণপরিবহনের ব্যবস্থা করার আহবান জানান ভুক্তভোগীরা।
এদিকে স্বল্প দূরত্বের পথ পায়ে হেঁটে চলতে নগরবাসীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। তিনি বলেছেন, ‘এতে স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।’ রাজধানী ঢাকার তিনটি সড়কে রিকশা বন্ধের প্রসঙ্গে সাঈদ খোকন বলেন, ‘যানজটের অন্যতম একটি কারণ রিকশা। পৃথিবীর কোনো শহরে এত রিকশা নেই। আপাতত দুটি সড়কে রিকশা বন্ধ করা হয়েছে। রিকশা যেভাবে চালানো হয়-এটা অমানবিক। দু-তিনজন রিকশায় ওঠে আর সেটা চালিয়ে নিয়ে যান একজন চালক। এভাবে চলতে পারে না। রিকশা-চালকরা অন্য কাজ করতে পারেন।’
মেয়র বলেন, ‘আমরা রিকশায় অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। মাত্র ৫০০ গজ দূরত্বের জন্য রিকশায় বসে পড়ি। রাইড শেয়ারিং পরিবহন চলছে। উবার চলছে, পাঠাও চলছে। ধীরে ধীরে রিকশাটাকে ছেড়ে দিতে পারি। এজন্য আমরা সার্কুলার বাস চালু করছি।’
রিকশা বন্ধের সিদ্ধান্তে নাগরিক এবং যাত্রীদের সাময়িক কিছু অসুবিধা হতে পারে বলে স্বীকার করেছেন ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম। ৬ জুলাই নগর ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে আতিক বলেন, ‘দীর্ঘস্থায়ী সুবিধার জন্য সাময়িক অসুবিধা মেনে নিতে হবে। হয়তো কারও কিছু অসুবিধা হবে। বড় কিছু পেতে গেলে আমাদের অবশ্যই কিছু বিষয়ে ছাড় দিতেই হবে।’

কার-ফ্রি সড়ক নিয়ে ভাবছে উত্তর সিটি করপোরেশন
ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন এলাকার নির্দিষ্ট কিছু স্থানে যানবাহন-ফ্রি তথা যানবাহনমুক্ত সড়ক নিয়ে ভাবছে ডিএনসিসি। কার-ফ্রি সেসব সড়ক উন্মুক্ত থাকবে শিশু-কিশোরদের জন্য। শিশুদের শারীরিক ও মেধাবিকাশের প্রয়োজনে খেলাধুলার পরিবেশ দিতে এই উদ্যোগ সহায়ক হবে বলে আশা বিশেষজ্ঞদের। গত ২ জুলাই রাজধানীর গুলশানে ডিএনসিসি কার্যালয়ে এক কর্মশালায় উদ্যোগের সম্ভাব্যতা নিয়ে আলোচনা করেন নগর-পরিকল্পনাবিদ ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা। নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন ও নগর-পরিকল্পনা নিয়ে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে ডিএনসিসির বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা এ কর্মশালায় অংশ নেন।
কর্মশালায় প্রধান বিশেষজ্ঞ হিসেবে নগর-পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এ-সময় নগর-বিশেষজ্ঞরা জানান, পরীক্ষামূলকভাবে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে মাসের প্রথম শুক্রবার কার-ফ্রি ডে হিসেবে পালন করা হচ্ছে। এভাবে রাজধানীর অন্য এলাকায়ও সপ্তাহের বা মাসের নির্দিষ্ট কিছু দিনে কার-ফ্রি ডের আয়োজন করা যেতে পারে।
নগর-পরিকল্পনাবিদরা বলেন, শহরে শিশুদের জন্য খেলার মাঠ বা অন্য স্থানের অনেক অভাব। যেগুলো আছে, বেশিরভাগই আবার সংস্কারের অভাবে খেলাধুলার অযোগ্য। যানবাহনের ভয়ে শিশুরা বাসার নিচের সড়কেও হাঁটাচলা করতে পারে না। এমন সমস্যার সমাধানে কার-ফ্রি ডে দারুণ এক সমাধান হতে পারে বলে আশা বিশেষজ্ঞদের।
কর্মশালায় ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘সিটি করপোরেশন তার দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট রয়েছে। তবে নগরবাসীকেও সুনাগরিক হতে হবে। একজন সুনাগরিক যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলতে পারেন না; একজন সুনাগরিক ফুটওভার ব্রিজ দিয়ে রাস্তা পার হবেন; ট্রাফিক আইন মেনে চলবেন। শিশুদের বিকাশে তাদের খেলাধুলার সুযোগ দিতে হবে। তারা তাদের মতো অবাধ বিচরণ করবে-কোনো ধরনের ভয় ছাড়া। তাদের সেই পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের সবার।’

সোহরাব আলম
রাজধানীর মগবাজার-মৌচাক উড়ালসড়ক (ফ্লাইওভার) উদ্বোধন হয়েছে প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেছে। অথচ গুরুত্বপূর্ণ বহুমুখী এ উড়ালসড়কে স্থাপিত বাতিগুলো জ্বলছে না। ফলে রাতে অন্ধকার থাকছে ৮ দশমিক ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই উড়ালসড়ক। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। এছাড়া সিগন্যাল বাতিও জ্বলছে না। এতে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। সংশ্লিষ্টদের দাবি, কয়েক দফা বৈদ্যুতিক তার (ক্যাবল) ও বাক্স চুরি হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানীর মগবাজার, মৌচাক, বাংলামোটর, রাজারবাগ, মালিবাগ, শান্তিনগর ও তেজগাঁওয়ের যানজট নিরসন এবং অবাধ যান চলাচল নিশ্চিত করতে ২০১১ সালে মগবাজার-মৌচাক উড়ালসড়ক নির্মাণ-প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। মোট ১ হাজার ২১৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত চার লেনের উড়ালসড়কটি যান চলাচলের জন্য ২০১৭ সালে পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের সীমানাভুক্ত উড়ালসড়কটির ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রশি টানাটানি চলে। গত বছরের নভেম্বরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) দায়িত্ব বুঝে নিলেও উড়ালসড়কটির রক্ষণাবেক্ষণে তেমন কোনো ভূমিকা রাখেনি। রক্ষণাবেক্ষণ ও লাইট লাগানোর জন্য পিপিপি তৈরি করা হলেও তার কোনো অগ্রগতি নেই।
দুই সিটি করপোরেশনের সূত্র জানায়, এই উড়ালসড়কটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাস্তবায়ন করেছে। উদ্বোধনের সময় লাইটপোস্টের বাতি জ্বললেও বর্তমানে প্রায় সবগুলো অকেজো। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফ্লাইওভারে দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মীরা বলেন, গত বছরের মার্চের দিক থেকেই এ উড়ালসড়কের সিগন্যাল বাতি জ্বলে না। তাই যানবাহনগুলো নিজেদের খেয়াল-খুশিমতো চলাচল করে। বাতি না জ্বলায় রাতে যানবাহনের গতি কমে যায়। নিরাপত্তা-ঝুঁকি নিয়ে পরিবহনগুলো চলাচল করে। যেকোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারটির বাংলামোটর, মগবাজার, তেজগাঁও, মালিবাগ রেলগেট ও রামপুরা অংশ পড়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতায়। আর বাকি অংশ মৌচাক, মালিবাগ মোড়, রাজারবাগ ও শান্তিনগর অংশ পড়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতায়। বহুমুখী উড়ালসড়কটির ১৫ স্থানে ওঠানামা করার ব্যবস্থা রয়েছে। এগুলো হলো তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা, এফডিসি, মগবাজার, হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল, বাংলামোটর, মালিবাগ, রাজারবাগ পুলিশ লাইন ও শান্তিনগর মোড়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উড়ালসড়কটিতে চার শতাধিক লাইটপোস্ট রয়েছে। বর্তমানে এর একটিও জ্বলে না। লাইটপোস্ট লাগানোর দায়িত্ব ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের ছিল। তা ছিল খুবই নিম্নমানের। ফলে উদ্বোধনের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বেশিরভাগ লাইট অকেজো হয়ে যায়। নিরাপত্তার ব্যবস্থা না থাকায় তার-বাল্ব চুরি করে নিয়ে যায় মাদকসেবীরা। এরপর দীর্ঘদিন ধরেই অন্ধকারে ডুবে আছে পুরো উড়ালসড়ক। নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান, বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা এলজিইডি এবং রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন-কেউই ফ্লাইওভারের দেখভালের দায়িত্বে ছিল না দীর্ঘদিন। তবে গত বছরের নভেম্বরে এলজিইডি থেকে দায়িত্ব বুঝে নেয় ডিএসসিসি। কীভাবে ফ্লাইওভার চলবে, সেজন্য সিটি করপোরেশনের ১৬ ইঞ্জিনিয়ারকে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয় বুয়েট থেকে। কিন্তু এরপরও সংশ্লিষ্টরা বাতি লাগানো, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাসহ কোনো কাজেই হাত দেয়নি। এমনকি ফ্লাইওভারে আলোকোজ্জ্বল করার বাতির জন্য পিপিপি তৈরি করা হলেও এ বিষয়ে আর কোনো অগ্রগতি নেই।
সরেজমিন রাতে উড়ালসড়কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা যায়, তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা থেকে রমনা থানা (পুরনো) পর্যন্ত একটি লাইটপোস্টেও আলো জ্বলে না। মালিবাগের চৌধুরীপাড়ার আবুল হোটেল থেকে শান্তিনগর বাজার এবং রাজারবাগ পুলিশ লাইন পর্যন্ত একই অবস্থা। মৌচাক থেকে বাংলামোটর পর্যন্ত উড়ালসড়কের বাতিগুলোও জ্বলে না। তাই উড়ালসড়কটির এসব অংশে রাতে বিরাজ করে ভুতুড়ে পরিবেশ। ইস্কাটন থেকে মগবাজার ওয়্যারলেস গেটে নামার মুখেও থাকে অন্ধকার।
সদরঘাট থেকে উত্তরায় চলাচলকারী আকাশ পরিবহনের একজন চালক জানান, রাতে উড়ালসড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয় খুব সতর্কতার সঙ্গে। মালিবাগ মোড় ও মৌচাক মোড়ে সিগন্যাল বাতিও জ্বলে না। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। যানবাহনের আলোয় কিছুটা সময় আলোর বিচ্ছুরণ ঘটলেও ভোরের আলো ফোটার আগ পর্যন্ত আলো-আঁধারের খেলায় মেতে থাকে উড়ালসড়কটি। তা ছাড়া সন্ধ্যার পর থেকে উড়ালসড়কের ওপরে মোটরসাইকেল নিয়ে আড্ডা দেয় একশ্রেণির লোক। দাঁড়িয়ে থাকা এসব মোটরসাইকেলের সঙ্গে চলন্ত প্রাইভেটকারের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে কয়েকবার।
সংশ্লিষ্টরা জানান, উদ্বোধনের সময় সব বাতিই সচল ছিল। এরপর ক্রমান্বয়ে সব অকেজো হয়ে যায় নজরদারির অভাবে। তবে উড়ালসড়ক ব্যবহারকারী গাড়ির চালক ও যাত্রীদের দাবি, দৈর্ঘ্যের দিক দিয়ে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই বহুমুখী উড়ালসড়কের অনেক অংশে বাতিতে বিদ্যুৎ-সংযোগ ছাড়াই উদ্বোধন করা হয়েছিল। আজিজুর রহমান নামের ভিক্টর ক্ল্যাসিক পরিবহনের এক যাত্রী বলেন, ‘মালিবাগ ফ্লাইওভারে শুরু থেকেই বাতি জ্বলে না। অফিস থেকে রাতে বাসায় ফেরার সময় আগে ভয় করত। এখন ব্যাপারটা অনেকটা গা-সওয়া হয়ে গেছে। তবে সিগন্যাল বাতি না জ্বলায় মৌচাক অংশে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। উড়ালসড়ক ব্যবহারকারী কয়েকটি বাসের চালকও নাম প্রকাশ না করার শর্তে একই কথা বলেন।
এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) জনসংযোগ কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায় কারিকাকে বলেন, ‘উড়ালসড়কটির রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে। মন্ত্রণালয়ে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) পাঠানো হয়েছে। সেটা পাস হয়ে এলেই বাতি লাগানোর কাজ সম্পন্ন করা হবে।’