Home ফিচার
Featured posts

0 50

সোহরাব আলম

রাজধানীর ৩০০ ফুট সড়ক ও সংলগ্ন-এলাকার উন্নয়নে নতুন প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। গত ৪ নভেম্বর একনেক সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। আবাসন প্রকল্পের বাইরে রাজউকের সবচেয়ে বড় এই উন্নয়ন প্রকল্পটি মূলত ২০১৫ সালে পাস হওয়া ‘কুড়িল-পূর্বাচল লিংক রোডের উভয় পাশে (কুড়িল থেকে বালু নদ পর্যন্ত) ১০০ ফুট চওড়া খাল খনন ও উন্নয়ন’ প্রকল্পের সংশোধিত রূপ।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজধানীর পূর্বাংশের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি খাল ডুমনি, বোয়ালিয়া ও এডি-৮ সংস্কার করবে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। খালগুলো দিয়ে একসময় বিমানবন্দর, নিকুঞ্জ, বারিধারাসহ আশপাশের এলাকার বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন হতো। কিন্তু তিনটি খালই প্রায় ভরাট হয়ে গেছে। এসব খালের পাশাপাশি ৩০০ ফুট সড়ক চওড়া করা হবে। এ ছাড়া সড়কের দুই পাশের ১০০ ফুট খালকে কেন্দ্র করে আরও কিছু উন্নয়নকাজ করবে রাজউক। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ৩০০ ফুট সড়ক ও আশপাশের এলাকা গড়ে উঠবে আধুনিক সাজে। বদলে যাবে পুরো এলাকার চিত্র।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২০১৫ সালে প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৫ হাজার ২৮৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এর সঙ্গে আরও তিনটি খাল, সড়ক, সেতুসহ আনুষঙ্গিক বিষয় যুক্ত হওয়ায় সংশোধিত প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৫ হাজার ৪২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এতে প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৩২৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, ২০১৫ সালের মূল প্রকল্পে কুড়িল-পূর্বাচল ৩০০ ফুট সড়কের দুই পাশে ১০০ ফুট করে খাল খনন করতে ৯০ দশমিক ১৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে করা এই অধিগ্রহণ বাবদ খরচ হয় প্রায় ৪ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া প্রকল্প-এলাকায় ক্ষতিপূরণ বাবদ ব্যয় হয় ২০৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা। অধিগ্রহণ শেষে ২০১৭ সালের জুলাই মাসে ১০০ ফুট খালের খননকাজ শুরু হয়।
রাজউকের গত আগস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকল্পটির ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তবে এর আগেই প্রকল্পটি সংশোধনের উদ্যোগ নেয় সংস্থাটি। সংশোধিত প্রকল্প অনুযায়ী, আরও ৫৫ দশমিক ১ একর জমি নতুন করে অধিগ্রহণ করা হবে। নতুন জমি অধিগ্রহণে ব্যয় হবে আরও ১ হাজার ৪৪২ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এ ছাড়া ক্ষতিপূরণ বাবদ আরও দিতে হবে ৫২৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা। সংশোধনী অনুযায়ী, পুরো প্রকল্পে মোট অধিগ্রহণ করা জমি হবে ১৪৫ দশমিক ২৫ একর।
সংশোধিত প্রকল্পে তিনটি খাল যুক্ত করা প্রসঙ্গে রাজউকের কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, বর্ষা মৌসুমে নিকুঞ্জ, বারিধারা, বারিধারা ডিওএইচএস, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, জোয়ারসাহারা, সেনানিবাস, কালাচাঁদপুর, কাওলা, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকাসহ বিস্তীর্ণ এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য ১০০ ফুট খালটি খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে শুধু ১০০ ফুট খাল দিয়ে বিশাল এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভব নয়। তাই প্রকল্পের সঙ্গে নতুন করে ডুমনি, বোয়ালিয়া ও এডি-৮ খাল তিনটি যুক্ত করা হয়েছে। খালগুলো খননের পাশাপাশি পাড় বাঁধাইসহ আনুষঙ্গিক কাজ করা হবে। এসব কাজ শেষ হলে নিকুঞ্জ-১, নিকুঞ্জ-২, জোয়ারসাহারা, সেনানিবাস, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কালাচাঁদপুর, কাওলা, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আর জলাবদ্ধতা হবে না।
সংশোধিত প্রকল্পে ৩০০ ফুট সড়ক আরও প্রশস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, বর্তমানে কুড়িল থেকে বালু নদ পর্যন্ত উভয় পাশে দুই লেন করে মোট চার লেনের সড়ক আছে। প্রতি লেনের প্রস্থ সাড়ে তিন মিটার। লেনের প্রস্থ একই রেখে কুড়িল থেকে বালু নদ পর্যন্ত চার লেনের সড়কটি আট লেনের এক্সপ্রেসওয়েতে রূপান্তর করা হবে। এক্সপ্রেসওয়ের দুই পাশে দুটি করে সার্ভিস-লেনও থাকবে। এ ছাড়া বালু নদ থেকে কাঞ্চন পর্যন্ত ছয় লেনের এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হবে।
এক্সপ্রেসওয়েতে যান চলাচলের জন্য ২০১৫ সালের মূল প্রকল্পে ছয়টি বড় সেতু নির্মাণের কথা বলা ছিল। সংশোধিত প্রকল্পে ১০টি বড় সেতু নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া হাতিরঝিলের আদলে ১৩টি আর্চ ব্রিজ (বাঁকানো সেতু) নির্মাণ করা হবে। এতে ব্যয় হবে ২২৭ কোটি টাকা। এক্সপ্রেসওয়ের পাশের এলাকার লোকজনের মূল সড়কের সঙ্গে সংযুক্তির জন্য ব্যবস্থা থাকবে। এ ছাড়া পাতালপথ থাকবে চারটি।
সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, প্রকল্প-এলাকায় চার কিলোমিটার বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের লাইন, দুটি কালভার্ট, ১২টি ওয়াটার বাসস্ট্যান্ড নির্মাণ করা হবে। মূল প্রকল্পে উল্লেখ থাকা পদচারী-সেতুর সংখ্যা চারটি থেকে বাড়িয়ে ১২টি, পাম্পহাউস একটি থেকে বাড়িয়ে পাঁচটি, স্লুইসগেট চারটি থেকে বাড়িয়ে ১০টি করা হয়েছে।
এ সম্পর্কে রাজউকের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। ২০১৯ সালের মার্চের মধ্যে ১০০ ফুট খাল উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। বাকি কাজ ২০২১ সাল পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
‘প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বিমানবন্দর থেকে পূর্বাংশের বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা হবে না। কুড়িল থেকে কাঞ্চন ব্রিজ পর্যন্ত ট্রাফিক সিগন্যাল ছাড়াই লোকজন যাতায়াত করতে পারবেন।’ যোগ করেন রাজউক চেয়ারম্যান।

0 48

রুখসানা মিলি
একটা ভবন নির্মাণ করতে যত সময় বা পরিশ্রম লাগে তারচেয়ে অনেক বেশি ভোগান্তি হয় ভবনের নকশা অনুমোদন করাতে। সরকার, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন কোনো পক্ষই এই সমস্যা সমাধানে আন্তরিক না হওয়ায় বছরের পর বছর ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন আবাসন ব্যবসায়ীরা আক্ষেপের সঙ্গে জানালেন একজন আবাসন ব্যবসায়ী।
সময়ের প্রয়োজনে আবাসনের চাহিদা মেটাতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের আবাসন ব্যবসায়ীদের অবদান অনস্বীকার্য। তবে ভবন নির্মাণে এর অনুমোদনের দুর্ভোগ কমাতে দীর্ঘদিনের দাবি, কর্তৃপক্ষের প্রতিশ্রুতি, কমিটি গঠন বা তারিখ নির্ধারণ এমন বহু পদক্ষেপ নেওয়া হলেও বাস্তবে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ বা ‘এক-দরজা-সেবা’ আশাতেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে।
রাজউক, ওয়াসা, সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন, ট্রাফিক বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, পরিবেশ অধিদপ্তর, সিভিল অ্যাভিয়েশন ও বিদ্যুৎ বিভাগসহ ১১টি, কখনও কখনও ১২টি প্রতিষ্ঠানে যেতে হয় একটি ভবনের নকশা অনুমোদন পেতে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে নকশা অনুমোদনের দাবি থাকলেও একটি নকশা অনুমোদনে এক থেকে দেড় বছর, কখনও কখনও দুই বছর বা তারও বেশি সময় পর্যন্ত লেগে যায়। একাধিক ব্যবসায়ী জানান, এতগুলো দপ্তরে ঘুরতে সময় নষ্ট আর ভোগান্তি তো থাকেই, তার সঙ্গে বাড়তে থাকে খরচও। এ প্রক্রিয়াটি সহজ করতে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ বা এক-দরজা-সেবা’র কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করেন তারা।
আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) দীর্ঘদিন ধরে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুর দাবি জানিয়ে আসছে। সরকারের পক্ষ থেকে নানা সময়ে আশ্বাসও মিলেছে কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি।
এ প্রসঙ্গে রিহ্যাবের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে যেসব সংস্থার সমন্বয় দরকার, তাদের আন্তরিকতার অভাব রয়েছে। আবার রিহ্যাবের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ যেন বাস্তবায়ন হয় সেই দাবি আরও জোরালোভাবে উপস্থাপনেও ঘাটতি আছে। এসব কারণেই ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
রাজউক চেয়ারম্যান অবশ্য বলেছেন সরকারি নিয়ম-কানুনের কথা। এ বিষয়ে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে রাজউক চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান বলেন, ‘অনুমোদনের কাজ দ্রত বাস্তবায়ন হোক, তা আমরাও চাই। আবাসন ব্যবসায়ীরা আমাদের সহায়ক। আমরা চেষ্টা করছি কিন্তু সরকারি সিস্টেম এমনই। সে ক্ষেত্রে ভবন নির্মাণের অনুমতি পাওয়ার জন্য সব দপ্তরেই যেতে হচ্ছে আবাসন ব্যবসায়ীদের।’
জমির ওপর চাপ কমাতে বহুতল ভবন নির্মাণে উৎসাহিত করা হচ্ছে। বহুতল ভবন নির্মাণে একই স্থানে বেশিসংখ্যক লোকের আবাসন চাহিদা পূরণ করা যায় এ কারণেই সারা পৃথিবীতে এখন বহুতল ভবন নির্মাণ রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে আমাদের দেশে ১০ তলার উপরে ভবন নির্মাণের অনুমোদন পেতে আরও বেশি ভোগান্তি হয় বলে জানিয়েছেন আবাসন ব্যবসায়ীরা।
রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিনও এক সাক্ষাৎকারে একই মত দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এটি এমন একটি খাত, যেখানে মালিকানা-সংক্রান্ত কাগজপত্র সামান্যতম বাকি থাকলেও কাজ শুরু করা যায় না। এরপর সব ধরনের কাজ শেষ করে নকশা অনুমোদনের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরতে হয়। আর ভবনের উচ্চতা ১০ তলার বেশি হলে আরও অনেক সংস্থার কাছে অনুমোদনের জন্য যেতে হয়, যা দুর্ভোগের বিষয়।’
রিহ্যাব সভাপতি আরও দাবি করেন, ভবনের অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ হলে ফ্ল্যাটের দাম আরও কমে আসবে।
আবাসন খাতে গতিশীলতা এনে আগামী দিনের আবাসন-চাহিদা যথাযথভাবে পূরণে আবাসন ব্যবসায়ীরা এবং তাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে যেসব দাবি জানানো হচ্ছে, তার মধ্যে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুর দাবি অন্যতম। নতুন বছরে সেই দাবি আরও সুসংহত রূপে আদায়ে সব পক্ষ আন্তরিক হবে বলে প্রত্যাশা সবার।

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফ্যান্টাসি কিংডম, ঢাকার নিকটস্থ সাভারের আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় গড়ে উঠেছে এই আনন্দময় জগৎ। ২০ একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত পার্কটি প্রথমে থিমপার্ক পরিচয়ে যাত্রা করে, সেটা ছিল ২০০২ সাল। পরবর্তী সময়ে অ্যামিউজমেন্ট পার্ক হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পায়। এখন এটি একটি বিনোদনের আলাদা জগৎ বলাই উত্তম। পার্কটির প্রতিষ্ঠাতা কনকর্ড গ্রপ। বিশাল এই বিনোদন জোনে প্রবেশ করে একটি দিন কাটিয়ে দেয়া যায় অনায়াসেই।
ফ্যান্টাসি কিংডমে প্রবেশ করে প্রথমেই হেরিটেজ পার্ক। এখানে রয়েছে বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নানা নিদর্শন। এ পার্কটিতে জাতীয় স্মৃতিসৌধ, আহ্সান মঞ্জিল, চুনাখোলা মসজিদ, কান্তজির মন্দির, জাতীয় সংসদ ভবন, ষাটগম্বুজ মসজিদ, পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার, সীতাকোট বিহার, পুটিয়া রাজবাড়ি ও গ্রিক মেমোরিয়ালসহ ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের রেপ্লিকা নিয়েই গড়ে উঠেছে। দেশের অনেক বৃহৎ এবং প্রাচীন স্থাপনা এমন ছোট এবং নিখুঁত যে চমকে যেতে হয়। মনে হয় ঘুরে ঘুরে সারাটা দিন দেখি কান্তজির মন্দির, স্মৃতিসৌধ এসব। সামনেই বিরাট এক নাগরদোলা। নাগরদোলায় চড়ে আপনার আকাশ দেখার অভিজ্ঞতা হবে। এছাড়া আছে রাইড, লেক, কোনো পাইপ ছাড়াই ট্যাপ দিয়ে পানি পড়ার দৃশ্য। আছে পালকি, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, রিকশাসহ বাংলার ঐতিহ্যবাহী নানা উপকরণ।
এরপর বিশাল ফটক পেরিয়ে ফ্যান্টাসি কিংডম। এখানে প্রবেশ করেই আপনি হারিয়ে যাবেন বিপুল এক আনন্দজগতে। কোথাও গাড়ির ধাক্কার শব্দ, কোথাও রাইডে চড়ার আনন্দ-চিৎকার। কোথাও বিশালাকার ডাইনোসর পানি খাচ্ছে। কোথাও প্রিন্স আশু আর প্রিন্সেস লিয়া দাঁড়িয়ে। মাথার ওপর দিয়ে চিৎকার করে ছুটে যাচ্ছে রোলার কোস্টার। হ্যাঁ, মজার মজার সব রাইড এখানেই। ছোটদের জন্য আছে ঘোড়ার গাড়ি, অ্যারোপ্লেনসহ মজার আরও অনেক কিছু। বড়দের উত্তেজনাকর রাইডের মধ্যে আছে জায়ান্ট ফেরিস হুইল, জুজু ট্রেন, হ্যাপি ক্যাঙ্গারু, বাম্পার কার, ম্যাজিক কার্পেট, সান্তা মারিয়া, জিপ অ্যারাউন্ড, পানি অ্যাডভেঞ্চার, ইজি ডিজি। রাইড ছাড়াও খাবারের পর্যাপ্ত দোকান রয়েছে। আনন্দ-উল্লাসের ফাঁকে ভেতরেই সেরে নিতে পারেন দুপুরের খাবার।
ফ্যান্টাসি কিংডম শেষ করে চলে যেতে পারেন ওয়াটার কিংডমে। ফ্যান্টাসি কিংডমের শেষ প্রান্তে মাটির নিচ দিয়ে মনোমুগ্ধকর ও আকর্ষণীয় ভার্চুয়াল অ্যাকুয়ারিয়াম টানেল পার হয়ে প্রবেশ করতে হয় ওয়াটার কিংডমে। সেই পথের দুই পাশে ভেসে বেড়াচ্ছে তিমি-হাঙরসহ নানা সামুদ্রিক প্রাণী। সুড়ঙ্গপথের অপর প্রান্তে উঠেই চোখে পড়বে রিসোর্ট আটলান্টিকস। এ রিসোর্টে চাইলে আসা যায় অবকাশযাপনে, সারাদিন পার্ক ঘুরে রাতে রিসোর্ট থেকে যাওয়াও আরেক সুখের অভিজ্ঞতা। এ রিসোর্টে অবকাশযাপনকারী ফ্যান্টাসি কিংডম, ওয়াটার কিংডম ও হেরিটেজ পার্কের মনোরম সৌন্দর্য ও রাইড উপভোগ করার সুযোগ পাবেন বিনাখরচে। ইকোনমি, ডিলাক্স, সুপার ডিলাক্স ও স্যুট এই চার ধরনের রুম রয়েছে রিসোর্টে।
রিসোর্টটিতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার মধ্যে রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুম, ক্যাবল টিভি, রেস্টুরেন্ট, ক্রেডিট কার্ড সুবিধা, সাইবার ক্যাফে, টেলিফোন, কার পার্কিং, লন্ড্রি সার্ভিস, কনফারেন্স সেন্টারসহ অনেক কিছু। এছাড়া বিনোদনের জন্য রয়েছে ডলবি ডিজিটাল সাউন্ড সিস্টেম হল, বিলিয়ার্ড, পুল ও এয়ার হকিসহ বিভিন্ন রকম গেমের আয়োজন। রিসোর্ট আটলান্টিসে আগত অতিথিদের জন্য রয়েছে বার-বি-কিউ নাইট ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের চমৎকার সব আয়োজন। আরও রয়েছে রুম ভাড়ার সঙ্গে সকালের নাশতা। এই রিসোর্ট থেকে চোখে পড়ে ওয়াটার কিংডমের সৌন্দর্য। রিসোর্টের তিন পাশে জলাশয়। কোথাও বৃষ্টি ঝরছে, কোথাও সমুদ্রের ঢেউ। কোথাও এমনি এমনি পানি। ওয়াটার কিংডমের ভাষায় এখানে আছে স্পাইড ওয়ার্ল্ড, ফ্যামিলি পুল, টিউব স্পাইড, লেজি রিভার, মাল্টি স্পাইড, ওয়াটার ফল, ডুম স্পাইড, লস্ট কিংডম, ড্যান্সিং জোনসহ মজাদার সব রাইড। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে পার্কটিতে রয়েছে পুরুষ ও মহিলাদের জন্য দুটি আলাদা চেঞ্জ রুম ও লকারের ব্যবস্থা। দর্শনার্থীরা নিজেদের সঙ্গে অতিরিক্ত কাপড় ও তোয়ালে আনতে পারেন। এছাড়া এখানে তোয়ালে ও সুইম স্যুট ভাড়া নেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। কেনাকাটা ও খাওয়া-দাওয়ার জন্য রয়েছে গিফট শপ, একাধিক ফুডকোর্ট ও আইসক্রিম শপ।
ফ্যান্টাসি কিংডম সপ্তাহের সাত দিনই খোলা থাকে। সাধারণ দিনগুলোতে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এবং সরকারি ছুটির দিনগুলোতে সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত।
গাড়ি নিয়ে ঢাকা থেকে রওনা দিলে আশুলিয়ার জামগড়া সহজেই চলে যাওয়া যায়। ফ্যান্টাসি কিংডম প্রধান সড়কের পাশে হওয়ায় খুঁজে পেতে অসুবিধা হয় না। যারা বাসে যেতে চায়, তাদের জন্য রয়েছে ঢাকার মতিঝিল থেকে মঞ্জিল বাস সার্ভিস। মঞ্জিল বাস মহাখালী, কাকলী, উত্তরা, টঙ্গী, কামারপাড়া হয়ে ফ্যান্টাসি কিংডমের প্রবেশমুখে এসে থামে। এছাড়াও মহাখালী ও মিরপুর থেকে সরাসরি বাস পাওয়া যায়। সাভার রুটে সাভার গিয়ে আবার অন্য বাসে ফ্যান্টাসি কিংডমে যাওয়া যায়।

0 89

সংরক্ষণে নেই কোনো উদ্যোগ

মির্জা মাহমুদ আহমেদ
রাজধানী ঢাকা তার গৌরবোজ্জ্বল ৪০০ বছর অতিক্রম করে এসেছে। ৪০০ বছরের এই পথপরিক্রমায় ঢাকা শাসন করেছে সুলতান, বার ভূইয়া, মোগল ও ব্রিটিশ। এসব শাসনামলের নিদর্শন হিসেবে প্রাচীন স্থাপত্যগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ঢাকাজুড়ে। প্রাচীন রাজধানী হিসেবে যেসব স্থাপত্য নিদর্শন ঢাকার গৌরব প্রকাশ করে, তার অনেকগুলো এখন দখল আর সংস্কারের অভাবে বিলীনপ্রায়। মোগল আমলে নির্মিত ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য নিদর্শন বড় কাটরা, ছোট কাটরা, ফরাশগঞ্জের রূপলাল হাউজ এর মধ্যে অন্যতম।
মধ্য এশিয়ার ক্যারাভাট সরাইয়ের ঐতিহ্য অনুসারে নির্মিত বড় কাটরা। এ ধরনের স্থাপত্য নিদর্শন সারা বিশ্বে এখন খুব কমই টিকে আছে। ইতিহাস থেকে জানা যায়, সম্রাট শাহজাহানের পুত্র শাহ সুজার নির্দেশে ১৬৪১ খ্রিস্টাব্দে বুুড়িগঙ্গা তীরে বড় কাটরা নির্মাণ করা হয়। কাটরা শব্দের অর্থ মঞ্চ বা ঘর।
মোগল সাম্রাজ্যের মীর-ই-ইমারত আবুল কাসেম ইমারতটি নির্মাণ করেন। শাহ সুজার এ ভবনটিতে বসবাস করার কথা থাকলেও পরে এটি মুসাফিরখানা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
একসময় নান্দনিক স্থাপত্যশৈলীর কারণে বড় কাটরার সুনাম থাকলেও দখল আর সংরক্ষণের অভাবে বড় কাটরা তার প্রাচীন সৌন্দর্য হারিয়েছে বহু আগেই। মূল স্থাপনা বিলীন হয়ে বড় কাটরার ভাঙা ফটক এখনো দাঁড়িয়ে আছে কালের সাক্ষী হয়ে। চকবাজারের বিকিকিনির ব্যস্ততায় আলাদাভাবে খেয়াল না করলে বড় কাটরার ভাঙা ফটকটিও পথিকের চোখ এড়িয়ে যায়।
বড় কাটরার বেশিরভাগ জায়গাজুড়ে রয়েছে বড় কাটরা মাদ্রাসা। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ নিজেদের মতো করে এই প্রাচীন স্থাপত্যের পরিবর্তন ও সংস্কার করেছে। বড় কাটারার মূল ফটকের দুইপাশে রয়েছে অনেক দোকান। যেগুলো এখন ব্যবহৃত হচ্ছে ফটোকপি, জুতার কারখানা আর হোটেল হিসেবে। দখল আর সংরক্ষণের অভাবে প্রাচীন এ স্থাপত্যটির ইট-সুরকি বেরিয়ে এসেছে। অনেক স্থানে বাসা বেঁধেছে পরগাছা। হেরিটেজ আইন অনুযায়ী সংরক্ষিত এসব স্থাপনার ২৫০ মিটারের মধ্যে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করার নিয়ম না থাকলেও বড় কাটরার আশপাশে অপরিকল্পিত বহুতল ভবন নির্মাণ করে প্রাচীন এ স্থাপনাটিকে ঘিরে ফেলা হয়েছে।
মোগল আমলে নির্মিত আরেক স্থাপত্যশৈলী ছোট কাটরা। বড় কাটরার মতো ছোট কাটরাও একই পরিণতি বরণ করেছে। দখল আর সংরক্ষণের অভাবে মোগল আমলে নির্মিত স্থাপনাটি এখন বিলীনের পথে।
চকবাজারের দক্ষিণে সরু গলির ভেতরে অবস্থিত ছোট কাটরার ভগ্নাংশ দেখে এখন আর বোঝার উপায় নেই, মোগল আমলে কী জৌলুস ছড়িয়েছে প্রাচীন এ ইমারতটি। বেদখল হয়ে প্রাচীন এ স্থাপত্যটি এখন জুতার কারখানা, হোটেল এবং বই বাইন্ডিং কারখানা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। নবাবের বংশধর কিংবা লিজসূত্রে প্রাপ্ত দাবি করে দখলদাররা যথেচ্ছভাবে প্রাচীন এ ইমারতটি ব্যবহার করছে। ইমারত আইন অমান্য করে ছোট কাটরার চারদিকে গড়ে উঠেছে অপরিকল্পিত বহুতল ভবন।
অনেকটা বড় কাটরার আদলে নির্মিত গম্বুজ আকৃতির ছোট কাটরা নির্মিত হয়েছিল সরাইখানা কিংবা প্রশাসনিক কাজে ব্যবহারের জন্য। বড় কাটরার চেয়ে আকারে ছোট হওয়ায় ইমারতটির নামকরণ করা হয়েছিল ছোট কাটরা। আনুমানিক ১৬৬৩ থেকে ১৬৬৪ সালের দিকে শায়েস্তা খান ইমারতটির নির্মাণকাজ শুরু করেন। ১৬৭১ সাল নাগাদ ছোট কাটরার নির্মাণকাজ শেষ হয়। এটির অবস্থান ছিল বড় কাটরার পূর্বদিকে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে। কোম্পানি আমলে ১৮১৬ সালে মিশনারি লিওনার্দ ছোট কাটরায় গড়ে তুলেছিলেন ঢাকার প্রথম ইংরেজি স্কুল।
ঢাকার আরেক প্রাচীন স্থাপত্য নিদর্শন রূপলাল হাউজ। বুড়িগঙ্গার তীরে ফরাশগঞ্জে অবস্থিত ২০০ বছরের প্রাচীন নান্দনিক স্থাপত্যশৈলীর অনন্য কীর্তি ‘রূপলাল হাউজ’। কালের বিবর্তনে রূপ হারিয়ে এখন মশলার গুদাম ও সরকারি কর্মচারীদের আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে। এক সময় যে বাড়িতে বসত শিল্প-সংস্কৃতির আসর, সে বাড়িতে এখন কেবলই পেঁয়াজ, মরিচ ও রসুনের ঝাঁজ।
১৮৪০ সালে ঢাকার বিখ্যাত আর্মেনীয় জমিদার আরাতুনের কাছ থেকে একটি পুরনো ভবন কিনে নেন অভিজাত ব্যবসায়ী রূপলাল দাস এবং রঘুনাথ দাস। পরে কলকাতার মার্টিন কোম্পানির একজন স্থপতিকে দিয়ে রূপলাল হাউজ তৈরির কাজ শেষ করেন তারা।
জানা যায়, ১৮৮৮ সালে লর্ড ডাফরিনের ঢাকা সফরকালে তার সম্মানে বল রুমে নাচের আয়োজন করা হয়েছিল। আর সেজন্য রূপলাল হাউজের হলঘরটি দু’দিনের জন্য ভাড়া নিয়েছিলেন ইংরেজরা। তখন ঢাকায় শুধু আহসান মঞ্জিল এবং রূপলাল হাউজেই বল নাচের উপযোগী হলঘর ছিল।
১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় দাস পরিবারের লোকেরা ভারতে পাড়ি জমান। এরপর থেকে একটু একটু করে দখল হতে থাকে প্রাচীন এ স্থাপনাটি।
২০০৯ সালের ২ ফ্রেরুয়ারি ৯৩টি স্থাপনাকে ঢাকার ঐতিহ্য বা হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছিল রাজউক। মহানগর ইমারত বিধিমালা অনুযায়ী এসব ঐতিহাসিক স্থাপনার প্রকৃত অবস্থার পরিবর্তন-পরিবর্ধন, সংস্কার-অপসারণ বা পুরোপুরি ধ্বংস করার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এ নিষেধাজ্ঞা কেউ মানছে না। ২০১৭ সালের ১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে হেরিটেজ বা ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে পরিচিত রাজধানীর ৯৩টি প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও স্থান সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে সরেজমিন ঘুরে এ প্রতিবেদন তৈরির সময় প্রাচীন এ নিদর্শনগুলো সংরক্ষণে কোনো উদ্যোগ দেখা

0 592

কারিকা ডেক্স


ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী
উপাচার্য, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক

আমার শৈশব কেটেছে ঢাকায়। সে সময়ে ঢাকা সত্যিকার অর্থেই বসবাসের জন্য এক আকর্ষণীয় শহর ছিল। ১৯৫২ সাল থেকে আমরা ঢাকায় আছি। গত ৬৫ বছরে চোখের সামনেই দেখেছি কিভাবে ছোট একটি প্রাদেশিক রাজধানী থেকে ঢাকা আজ কোটি মানুষের শহর হিসেবে পরিণত হয়েছে। পঞ্চাশের দশকে পুরো ঢাকা শহরে মানুষ ছিল সব মিলিয়ে তিন লাখের মতো। যেহেতু আয়োজনে ছোট ছিল, তাই তখন পুরোনো ঢাকার দিকেই মানুষজন ছিল বেশি। বেশিরভাগ এলাকাতে হেঁটেই যাওয়া যেত। বাসের দুটি রুট ছিল এবং অল্প কিছু বাস চলতো। যে বাসগুলো চলতো সেগুলো বেশ নিয়ন্ত্রিত ছিল। ঢাকা মটর ভেহিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের তত্ত্বাবধানে বাসগুলো চলাচল করতো। কোনো বাস যদি দেরি করে তাহলে তাকে জরিমানা করা হতো। আমাদের সময়ে যারা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ছিলেন তাদের বেশির ভাগেরই স্কুলে যাওয়া-আসা হতো হেঁটে কিংবা বাসে। ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার খুব কমই হতো। যানজট খুব একটা ছিল না তবে কিছুটা থাকতো পুরোনো ঢাকা আর চকবাজারে। খুব একটা বায়ুদূষণ ছিল না। ছোটবেলা থেকে যারা ঢাকায় বড় হয়েছে তাদের জন্য বিনোদন বা খেলাধুলার পর্যাপ্ত খোলা জায়গা ছিল। পাড়ায় পাড়ায় মাঠ ছিল, ক্লাব ছিল। যেখানে বিভিন্ন বয়সি কিশোর-তরুণদের সে বয়সে মানসিক বিকাশ ও শরীরচর্চার জন্য যা যা দরকার সেসব সুযোগ-সুবিধা ছিল। ১৯৫৮ সালে ঢাকার জন্য একটা মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়। সেখানেও স্টেডিয়াম, খেলার মাঠ, আবাসিক এলাকা ইত্যাদি কী কোথায় থাকবে সে বিষয়গুলো চিহ্নিত করা হয়। ঢাকার মধ্যে অনেকগুলো খাল ছিল। এসব খাল দিয়ে নৌকা চলাচল করতো। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল ধোলাইখাল। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল মতিঝিল। যদিও এখন নাম মতিঝিলই আছে কিন্তু ঝিলটি আর নেই। আমার মনে আছে, এ ঝিল দিয়ে নৌকা চলাচল করতো। এ ঝিল থেকে খাল দিয়ে নৌকাগুলো বুড়িগঙ্গায় গিয়ে নৌকাবাইচে অংশ নিত। একইভাবে ধানমন্ডিতে, এখন যেখানে পান্থপথ সেখানে একটা খাল ছিল। এখন যেখানে রাসেল স্কয়ার সেখানে বাজার বসতো এবং বিভিন্ন ধরনের মাছ, সবজি পাওয়া যেত। এর এক দিকে ধানমন্ডি লেক ছিল, অন্যদিকে ছিল খাল।
আসলে সে সময়ে খোলামেলা এলাকা থাকায় অনেকেই সময়টাকে ভালোভাবে কাজে লাগাতে পেরেছে। এখন তো খালগুলো সব ভরাট হয়ে যাচ্ছে। যার ফলে অবকাঠামোগত এলাকাগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এখনও প্রায়ই খবর দেখা যায় বিভিন্ন মাঠ কিংবা খাল সিটি করপোরেশন হয়তো নিজেই দখল করে কিছু করছে বা প্রভাবশালীরা দখল করে ভবন নির্মাণ করে ফেলছে। আরেকটা ব্যাপার ছিল ভবনের ঘনত্ব। আবাসিক এলাকাগুলোতে উঁচু ভবন ছিল না বললেই চলে। এলাকাভিত্তিক অনেক আন্তরিকতা ছিল আবাসিক এলাকাগুলোতে এবং বিভিন্ন ধরনের আপদে-বিপদে, আনন্দ-উৎসবে সবাই একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকতো। এখন বড় বড় ভবন নির্মাণ হচ্ছে, ফ্ল্যাটভিত্তিক বাসায় সবাই বসবাস করছে কিন্তু পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দার সঙ্গেই যোগাযোগ নেই। আগে দেখা যেত একই এলাকার কেউ অসুস্থ হলে বা আহত হলে সবাই মিলে তার চিকিৎসা বা সুস্থতার জন্য লেগে যেত। এখন পাশের কেউ অসুস্থ হলেও অনেকেই জেনেও না জানার ভান করে। ফলে নাগরিক হিসেবে বসবাস করার জন্য যে মানবিকতা থাকা দরকার, সেটা ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলছি।
আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখন হয়ে উঠেছে যানজট। আগে দেখা যেত সবাই খুব সহজে ঘন ঘন একে অন্যের বাসায় যেত। সামাজিক বন্ধনটা অনেক শক্ত ছিল। এখন যানজটের ভয়ে কেউ চাইলেও আত্মীয়-স্বজনের বাসায় যেতে চায় না। ফলে আসলে সামাজিক বন্ধনটা আগের মতো থাকছে না, দূর্বল হয়ে পড়ছে।
এসব প্রতিকারের জন্য যেটা জরুরি প্রয়োজন, সেটা হচ্ছে একটি দীর্ঘ পরিকল্পনার আওতায় আনা। এ জন্য মেট্রোপলিটন এরিয়া ডেভলপমেন্ট প্ল্যান করা হলো এবং এরই অংশ হিসেবে ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান করা হয়েছিল। যেখানে খোলা মাঠের অভাব পূরণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় করার একটা রূপরেখা ছিল।
জলাবদ্ধতা আরেকটা বড় সমস্যা এখন। কিভাবে এটি প্রতিরোধ করা যেত সেটিও ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যানে ছিল। এখনও যারা জমিতে ভবণ নির্মাণে আছেন তারা যদি নির্দিষ্ট জায়গা ভরাট করার আগে নিয়মটা মানেন তাহলে জলাবদ্ধতা অনেক কমানো সম্ভব। এছাড়া খালগুলোকে উদ্ধার করলেও অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব। যে পুকুরগুলো আছে সেগুলোও উদ্ধারের দিকে নজর দেয়া যেতে পারে। আগে দেখা যেত এসব পুকুরেও সাঁতার কাটা যেত যার সাহায্যে শারীরিক চর্চাও হতো আবার অন্যান্য কাজও হতো। তবে আমার মনে হয় এখনও অনেক কিছু করা সম্ভব যার সাহায্যে ঢাকাকে একটি মানবিক শহর হিসেবে গড়ে তোলা যেতে পারে। বিশেষ করে এখন প্রয়োজন ‘ঢাকা মহানগরকে বাঁচাতে চাই’ এমন লক্ষ্য নিয়ে রাজনৈতিক সদিচ্ছা। এখন যারা ঢাকায় বড় হচ্ছে তারা যাতে সামাজিক বন্ধনের বিষয়টাতে আরো বেশি যুক্ত হতে পারে।
আরেকটা বিষয় গুরুত্বপূর্ণ, সেটা হচ্ছে ঢাকায় যেভাবে মানুষ সারাদেশ থেকে ক্রমাগত আসছে সেটা কিন্তু টেকসই হিসেবে শহরের জন্য ভালো না। এ জন্য যদি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবিকা নির্বাহের মতো ব্যবস্থাগুলো অন্যান্য শহরে স্থানান্তর করা যায় তাহলে ঢাকাকেন্দ্রিক মানুষের স্রোত অনেক কমে যাবে। পাশাপাশি ঢাকার আশেপাশে অনেকগুলো শহর আছে যেগুলোর সঙ্গে ট্রেনের ব্যবস্থা করতে পারলে অনেক ভালো হবে। এতে করে এসব জেলা-শহর থেকে ঢাকায় মানুষরা আসবে ঠিকই কিন্ত থাকবে না। ট্রেনে আসবে এবং কাজ শেষ করে আবার চলে যাবে।
মানবিক শহর হিসেবে ঢাকাকে গড়ে তুলতে চাইলে ঢাকার যে বিষয়গুলো ছিল সেগুলোকে আবার ফিরিয়ে আনতে হবে। এখন প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা অনুযায়ী সদিচ্ছা দিয়ে এগিয়ে যাওয়া।

কারিকা প্রতিবেদকঃ


১৯০৯ সাল। ঢাকা তখন রাজধানী, নতুন প্রদেশ পূর্ববঙ্গের। বিচিত্র গাছপালায় সুশোভিত করতে হবে ঢাকার পথঘাট, উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ। এই গুরুদায়িত্ব নিয়েই তখন ঢাকায় আসেন লন্ডনের কিউ বোটানিক গার্ডেনের অন্যতম কর্মী রবার্ট লুইস প্রাউডলক। বলধার প্রকৃতিপ্রেমিক জমিদার নরেন্দ্রনারায়ণ রায়ও ঠিক একই সময়েই শুরু করেন তাঁর অমর সৃষ্টি ‘সাইকি’ বাগানের কাজ। নিজেই ছিলেন সাইকির স্থপতি, শিল্পী ও বিশেষজ্ঞ। সাইকি ছিলেন গ্রিক পৌরাণিক উপাখ্যানের প্রেমের দেবতা ‘কিউপিডের’ পরমা সুন্দরী স্ত্রীর নাম। সাইকি মানে আত্মা, যা দেবরাজ ‘জুপিটার’ কর্তৃক অমরত্ব লাভ করেছিল। নরেন্দ্রনারায়ণ রায় প্রায় ২৭ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে ১৯৩৬ সালে সাইকি বাগানের কাজ শেষ করেন। তারপর সিবিলিও গড়ে তোলেন। কিন্তু বৃক্ষপ্রেমী এই জমিদারের মৃত্যুর পর থেকেই বাগানটির ক্রান্তিকাল শুরু হয়। প্রায় ১০০ বছরের ব্যবধানে ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে থাকে বাগানটির জৌলুস আর কমতে থাকে বাগানের সমৃদ্ধ উদ্ভিদপ্রজাতির সংগ্রহ।

আমরা জানি, নানা কারণে আজ বলধা গার্ডেন বিপন্ন। অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং অযত্ন -অবহেলা ও অদূরদর্শিতা এ বাগানের দুস্প্রপ্য উদ্ভিদগুলো হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। ইতোমধ্যেই অনেক দুর্লভ বৃক্ষ হারিয়ে গেছে। গত কয়েক বছরে এই সংখ্যা আরও অনেক বেড়েছে। দেশের প্রকৃতিপ্রেমিক লেখক ও বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে বলধা গার্ডেন সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে আসছে। গুরুত্বপূর্ণ এই বাগানের চারপাশে অনেক সুউচ্চ স্থাপনা তৈরি হওয়ায় সেখানকার উদ্ভিদবৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। পাশাপাশি বর্ষায় সুয়ারেজের উপচেপড়া ময়লা পানিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারণেও প্রতি বছর অনেক গাছপালার মৃত্যু হচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে এখানকার বিলুপ্ত গাছের তালিকা প্রতিনিয়তই দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অচিরেই এই বাগান ধ্বংস হবে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
দেশের উদ্ভিদবিজ্ঞানী ও নিসর্গীদের মতে, মূল গাছগুলো অক্ষত রেখে এবং বর্তমান বাগানকে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করে চারাকলমের মাধ্যমে বাগানের গাছগুলো অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে বলধা গার্ডেনের আদলে আরেকটি বাগান তৈরি করা উচিত। তাহলে বাগানটি নিশ্চিত বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা পাবে। হারিয়ে যাবে না বাগানের দুস্প্রাপ্য গাছগুলো।
আমরা মনে করি, দেশের কোনো সুবিধাজনক স্থানে এ বাগানের সব উদ্ভিদপ্রজাতি নিয়ে হুবহু আরেকটি বাগান তৈরি করে দেশের শত বছরের ঐহিত্য এই বাগানটি রক্ষা করা সম্ভব। এজন্য উপযুক্ত স্থান হতে পারে ঢাকার অদূরে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান বা সংলগ্ন এলাকা। সেখানে বলধা বাগানের জন্য পরিমাণমতো জায়গা নিয়ে বিদ্যমান নকশায় সৃজন করা যায় আরেকটি নতুন বলধা গার্ডেন। এর জন্য প্রয়োজন হবে একটি বিশেষ নার্সারি এবং কয়েকজন সুদক্ষ মালি। তবে খেয়াল রাখতে হবে কোনোভাবেই যেন উদ্যানের পুরনো নকশার বিকৃতি না ঘটে, আদি উদ্যানও অবহেলার শিকার না হয়। কারণ সংরক্ষণের নামে বাগানের নাম ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পরিবর্তন বাঞ্ছনীয় নয়।

বলধা গার্ডেনের বর্তমান হতশ্রী রূপ দেখে খুব সহজেই অনুমান করা যায়, বাগানটি লোকবল ও অর্থ সঙ্কটে ভুগছে। বাগানের সর্বত্র অযত্নের ছাপ। সংরক্ষিত সাইকি অংশের পরিস্থিতিও বেশ নাজুক। স্বল্প সংখ্যক মালি নিয়ে শুধু গাছগুলো বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে। চারপাশের উঁচু দালানে প্রায় ঢাকা পড়েছে বাগানটি। দিনের আলোয়ও পেছনের দিকটা বেশ অন্ধকার। সিবিলি অংশে সারাদিনই দর্শনার্থীদের ভিড়। এই দর্শনার্থীরা মূলত অন্য মতলবে এখানে আসেন। অপ্রয়োজনীয় মানুষের বিক্ষিপ্ত পদচারণা বাগানের গাছগুলোকে বিপন্নতর করে তুলছে। প্রশ্ন হলো, বলধা গার্ডেনের মতো এমন স্পর্শকাতর একটি স্থাপনা কেন টিকিটের বিনিময়ে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হলো! তবুও যারা এখানে বেড়াতে আসেন তারা যদি সত্যিকার অর্থে বৃক্ষের সমঝদার হতেন তাহলে কোনো প্রশ্ন ছিল না। উপরন্তু নিত্যদিনের এই অনিয়ন্ত্রিত জনস্রোত উদ্যানের বিপন্ন গাছগুলোর মৃত্যুকেই শুধু ত্বরান্বিত করছে। এই বাগানের অর্জিত অর্থ ছাড়া কি বন বিভাগের চলছিল না? আবার এখানকার অর্জিত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হলেও বাগান রক্ষণাবেক্ষণে তার সিকিভাগও ব্যয় হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা অচিরেই এসব আত্মঘাতী কাজের সমাপ্তি ঘটবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাগানটি বাঁচিয়ে রাখতে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
বিকল্প বলধা গার্ডেন প্রতিষ্ঠায় সরকারি এবং বেসরকারি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে বিষয় সংশ্লিষ্ট গবেষক এবং বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হলে কাঙ্ক্ষিত সফলতা আসবে বলে মনে করি।

বাগানের উল্লেখযোগ্য সংগ্রহঃ 
বলধা গার্ডেনের সর্বমোট আয়তন শূন্য দশমিক ১ হেক্টর হলেও সাইকি অংশ দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে যথাক্রমে ১০০ ও ৪৫ মিটার। সিবিলি অংশ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হলেও সাইকি সংরক্ষিত। উভয় বাগানে সর্বমোট ৮৭ পরিবারের ৭২০ প্রজাতির ১৭ হাজার উদ্ভিদ ছিল বলে জানা যায়। সাইকি অংশে প্রায় ৪৫০ প্রজাতির উদ্ভিদের বিরলতম সংগ্রহ গড়ে তোলা হয়েছিল। প্রবেশপথের দু’পাশে প্রথমেই শাপলা ও পদ্মপুকুর। সেখানে ১২ প্রজাতির জলজ উদ্ভিদ রয়েছে। দুর্লভ শাপলার মধ্যে হলুদ শাপলা ও থাই-বেগুনি শাপলা উল্লেখযোগ্য। আরেকটু সামনেই ডানদিকে রোজক্যাকটাস, প্যাপিরাস, কনকসুধা। বাঁ দিকে আছে ঘৃতকুমারী। তারপর ঔষধি গাছ-গাছড়া, আমাজন পদ্ম, পদ্ম, অর্কিড ঘর, হংসলতা, তার পাশেই জমিদারের বাড়ি ও জাদুঘর। তার দক্ষিণ পাশেই জ্যাকুইনিয়া, শারদমল্লিকা, কণ্টকলতা, গুস্তাভা, হিং, শ্বেতচন্দন, সাইকাস, স্বর্ণ অশোক, কুর্চি, ভুর্জপত্র। ডানদিকে ক্যাকটাসের দুর্লভ সংগ্রহ নিয়ে একটি ঘর। এখানে ক্যাকটাস ঘরের সংখ্যা ৩টি, পটিংঘর একটি, ছায়াঘর দুটি, অর্কিডঘর একটি। মাঝখানে আছে চারদিকে তাকসমেত পিরামিড আকৃতির একটা ঘর। তাকগুলোতে থরে থরে সাজানো ক্যাকটাস। একেবারে দক্ষিণ প্রান্তে ছায়াঘর। সেখানে নানা জাতের ফার্ন, ফার্নঘরের ভেতর কৃত্রিম সুড়ঙ্গের মাধ্যমে চমৎকার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। স্বর্ণ অশোকের পাশেই সাদা ও গোলাপি রঙের ক্যামেলিয়া, তারপর রাজ অশোক। দক্ষিণ দিকের দেয়ালের পাশে ছোট জাতের কয়েকটি পাম। ছোট-বড় মিলিয়ে সাইকিতে ১৬ প্রজাতির পাম রয়েছে। সাইকির বিরলতম সংগ্রহের মধ্যে আরও আছে লতাচালতা, ক্যানেঙ্গা, ঈশের মূল, নবমল্লিকা, ওলিওপ্রেগরেন্স, জিঙ্গো বাইলোবা, অ্যারোপয়জন, র‌্যাভেনিয়া, আফ্রিকান বকুল, নাগলিঙ্গম, উদয়পদ্ম, রাজ অশোক ইত্যাদি।

সিবিলি বাগানের বিশেষত্ব হচ্ছে এর প্রবেশপথ। কারণ প্রবেশপথের দু’পাশ উদয়পদ্মে সুসজ্জিত। এ পথ একেবারে উত্তরপ্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত। এছাড়াও মনোলোভা সব ক্যামেলিয়ার ঘর এ বাগানেই। এখানেও চারপাশে ঘোরানো পথ আছে। বাঁ পাশে পুকুরের কোনায় আছে সুউচ্চ মুচকুন্দ আর ডানপাশে পোর্টল্যান্ডিয়া। আরেকটু এগোলে চোখে পড়বে কলকে, অ্যারোপয়জন, কপসিয়া, হলদু, দেবকাঞ্চন, কনকসুধা, কনকচাঁপা, লতা জবা, স্কারলেট কর্ডিয়া, কাউফল। শঙ্খনিধি পুকুরে নানান জাতের জলজ ফুলের চাষ হয়। সারাবছরই কিছু না কিছু ফুল থাকে। পুকুরের চারপাশে তাক আছে, দু’পাশে আছে শানবাঁধানো ঘাট। পথের শেষ প্রান্তে আছে কয়েকটি দুর্লভ রাজ অশোক, তারপর বাঁ দিকে ঘুরলে আফ্রিকান টিউলিপ (রুদ্রপলাশ), গড়শিঙ্গা, ক্যামেলিয়ার ঘর, দেয়াল লাগোয়া পশ্চিম পাশে আছে একসারি ক্যানেঙ্গা ও ইয়ক্কা, দু’জাতের কেয়া ইত্যাদি। এ বাগানে দুটি ঘর আছে, একটিতে থাকে অর্কিড, অন্যটি চারাগাছের ভান্ডার। শঙ্খনিধি পুকুরের পশ্চিম পাড়ের দোতলা ঘরটি এখন পরিত্যক্ত। এখানে আরও আছে মাধবী, অশোক, লুকলুকি, পান্থপাদপ, শতায়ু উদ্ভিদ, পাখিফুল, কৃষ্ণবট ইত্যাদি। এ বাগানের গোলাপ এক সময় উপমহাদেশে প্রসিদ্ধ ছিল।

কারিকা ডেক্স


আমার নিজের অভিজ্ঞতায় ঢাকার বাইরে, বিদেশের অনেকগুলো শহরের কথা বলা যায়। তবে আমার কাছে বেশি প্রাসঙ্গিক মনে হয় ঢাকার পর ব্যাঙ্কক। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাঙ্কক। ঢাকায় আমি সারাজীবনই ছিলাম, কয়েক বছর বাদে। ব্যাঙ্ককে আমি চার বছর বসবাস করেছি। ১৯৮২ থেকে ১৯৮৬ এই সময়টায়। আশির দশকের প্রথম দিকে ব্যাঙ্কক বিশাল একটি শহর ছিল তা কিন্তু নয়। তবে ঢাকার চেয়ে বড় ছিল। তখন ঢাকায় ছিল প্রায় ১৫ লাখ মানুষ। ব্যাঙ্ককে ২৫-৩০ লাখ মানুষ। গত ৩০ বছরে এখন ব্যাঙ্ককে পৌনে দুই কোটি মানুষ, ঢাকায়ও পৌনে দুই কোটি। পরিবহনের কথা যদি বলি সেই সময়ে ব্যাঙ্ককে ব্যক্তিগত মোটরগাড়ির প্রচলন ছিল এবং জনপ্রিয় ছিল। তখন থাইল্যান্ড আয়ের দিক থেকে উঠে এসেছিল। ব্যাঙ্কক আরও বেশি এগিয়েছিল। ব্যাঙ্কক থাইল্যান্ডের সবচেয়ে বড় শহর। সেখানে দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর চিয়াংমাই অনেক ছোট। চিয়াংমাই থেকে প্রায় ৩০ গুণ বড় ব্যাঙ্কক। ঢাকা হলো বাংলাদেশের রাজধানী, বৃহত্তম শহর। দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার লোকসংখ্যা আড়াই থেকে তিনগুণ বেশি। ব্যাঙ্কক শহরও ঢাকার মতো দেশের কেন্দ্রে অবস্থান। থাইল্যান্ডের কেন্দ্রে হলো ব্যাঙ্কক, বাংলাদেশের কেন্দ্রে হলো ঢাকা। আশির দশকে ঢাকায় পরিবহন বলতে কিছু পাবলিক বাস ছিল, বিআরটিসি বাস। সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ার মতো ছিল রিকশা। এখনও আছে রিকশা। এখন দুই সিটি করপোরেশন মিলে প্রায় পাঁচ লাখ রিকশা। সেই সময়ে দুই লাখের মতো রিকশা ছিল। আর ছিল বেবিট্যাক্সি। এছাড়া আর ছিল প্রাইভেট গাড়ি। প্রাইভেট গাড়ির সংখ্যা ব্যাঙ্ককের তুলনায় অনেক কম ছিল। আমি ব্যাঙ্কক শহরের বাইরে বসবাস করতাম। এআইটি, এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, সেখানে অধ্যাপনা করতাম। সেটা ব্যাঙ্কক শহরের কেন্দ্র থেকে ৪০ কিমি দূরে। সেখান থেকে আমার গাড়ি চালিয়ে ব্যাঙ্ককে যেতে ৪৫ মিনিট লাগত। ১৯৮৬ সালে যখন আমি ব্যাঙ্কক থেকে চলে আসি, তখন কিন্তু অনেক সময় লাগত। তখন এত বেশি গাড়ি হয়ে গিয়েছিল, আগে ওই ৪০ কিলোমিটার রাস্তা ৪৫ মিনিট লাগত। চার বছরে সেটা আড়াই ঘণ্টা সময়ে পৌঁছানো যেত। তখন ব্যাঙ্কক ছিল খুব যানজটের শহর। এখন যেমনটা বলি ঢাকাকে। সেখান থেকে ব্যাঙ্কক কিন্তু উত্তরণ হয়েছে। সেটা কীভাবে পারল তারা? এই যে গণপরিবহন বা বাস ট্রানজিট তারা প্রভূত উন্নয়ন সাধন করেছে। একটা হলো প্রাইভেট গাড়ি সহজ চলাচলের জন্য তারা ১২ লেনের হাইওয়ে করেছে। ১২ লেন কেন কোথাও কোথাও আরও বেশি। নিচে ১২ ওপরে ৬ এই ১৮ লেনের রাস্তা। এগুলো হলো গাড়ির জন্য। নিচে দিয়ে বাস চলত। গাড়ি নিচে নিয়ে এবং ওপর দিয়ে। তার ফলে শহরতলি থেকে কেন্দ্রে যাওয়া, এয়ারপোর্ট থেকে কেন্দ্রে যাওয়া  সময়টা অনেক সাশ্রয় হতো। আরও পরে ব্যাঙ্কক শহরে বড় রকমের গণপরিবহন ব্যবস্থা চালু হয়। সেটা হলো স্কাই ট্রেন। মাথার ওপর দিয়ে ট্রেন। সেটা প্রথম দিকে এতটা জনপ্রিয় ছিল না। পরে খুব জনপ্রিয় হয়েছে। এখন সেখানে স্কাই ট্রেন, মেট্রো ট্রেন হচ্ছে। এক্সওয়ে এগুলো তো আছেই। সেখানে সবই মোটরচালিত যানবাহন। ট্রেন তো আছেই, রিকশা নেই। সিএনজি অটোরিকশা যেটাকে বলি, সেটাকে ওরা বলে টুকটুক। তিন চাকার এই বাহন আছে প্রচুর। এখন গাড়ির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় মনে হয় টুকটুকের সংখ্যা কম। টুকটুক মিটারে চলে এবং খুব নিয়মের মধ্যে। আরেকটা বাহন ব্যাঙ্ককে ইউনিক সেটা হলো মোটরবাইক ট্যাক্সি। মোটরসাইকেলই ভাড়ায় চলে। এটাকেই ট্যাক্সি বলে। একজন যাত্রী নেয়। এটা আমি যখন প্রথম যাই তখনই দেখেছি। পরে আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এই বাহন চালকদের আলাদা পোশাকও আছে। বাহক পুরুষ, যাত্রী মেয়ে এতে কোনোই অসুবিধা নেই এবং খুবই নিরাপদ। খুবই স্বস্তিতে চলাফেরা করতে পারে। হাইওয়েতে এটা ওরা অনুমোদন দেয় না। হাইওয়ের পাশের লোকাল রোড এবং অলিগালিতে এই বাহন চলে। ব্যাঙ্ককের বিশেষ একটা পরিবহন এই মোটরসাইকেল ট্যাক্সি। ব্যক্তিগত সাইকেল আছে, তবে কম। আর আছে টেম্পো বা লেগুনা। পিকআপ কনভার্ট করে লেগুনা তৈরি করেছে। খুব নিরাপদ, সব নতুন ঝরঝরে গাড়ি। একটি বড় শহরের জন্য সবচেয়ে বেশি যেটা জরুরি সেটা হলো ট্যাক্সি। ব্যাঙ্কক শহরে যে কোনো জায়গায় যে কোনো সময়ে ট্যাক্সি পাওয়া যায়। দুই রকমের ট্যাক্সি তখন ছিল, এখনও হয়তো আছে। একটি চলে মিটারে। অন্যটি দরদাম করে। কয়েকটা কোম্পানির হাজার হাজার ট্যাক্সি। বিভিন্ন রঙের সেসব ট্যাক্সি হাত দেখানো মাত্রই সামনে এসে থামে। মানুষের আয়ের তুলনায় এই ট্যাক্সি খুবই সাশ্রয়ী। আমাদের এখানে ট্যাক্সি অত্যন্ত দুর্মূল্য। আয়ের লোক না হলে, বাধ্য না হলে, বিপদে না পড়লে ট্যাক্সিতে ওঠে না। আমাদের এখানে সংখ্যাও কম, দামও বেশি। ব্যাঙ্ককে বাস সার্ভিসও সুন্দর। আমাদের এখানের মতো শত শত কোম্পানি নেই। মাত্র দু’চারটি কোম্পানি বাস সার্ভিস দিয়ে থাকে। একটি হলো বিএমএ, ব্যাঙ্কক মেট্রোপলিটন অখরিটি। সেখানে এসি গাড়িই বেশি। সেসব বাসে খুব আরামে চলাচল করা যায়। মিনিবাসও আছে, তবে কম। এসব কারণে দুই কোটি মানুষ খুব সহজে চলাচল করতে পারছে। আরেকটা বিষয় যেটা ঢাকায় হতে পারত। সেটা হচ্ছে ব্যাঙ্ককের খালে অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে। ওদের বড় একটি নদী আছে। নদীটির দুই তীরেই ব্যাঙ্কক শহর গড়ে উঠেছে। একদিকে মূল শহর, অন্যদিকে কেরানীগঞ্জের মতো নতুন শহর। সেই নদীতে প্রচুর নৌবাস চলাচল করে। ঢাকায় দু’বার চেষ্টা করল ওয়াটারবাস চালাতে। একটা-দুইটা করে ছাড়ে আবার বন্ধ করে দেয়। এখানের পরিকল্পনা একেবারে দুর্বল। খামাখাই একটু বেশি দামের ওয়াটারবাস আনে। সাধারণ নৌকার মতো থাকলেই চলে। সঙ্গে একটু ছাউনি, ইঞ্জিনচালিত হলে মানুষ চলাচল করতে পারে। এখানে দুই কোটি টাকার বাস দরকার নেই। দশ লাখ টাকার নৌযান হলেই হয়। ব্যাঙ্ককের নদীতে শত শত সাধারণ নৌবাস। নদী পারাপারের জন্য আছে, দূরে যাওয়ার জন্য আছে। বেড়ানোর জন্য আছে। এখানে আমি বলব ব্যাঙ্কক থেকে বাংলাদেশের অনেক শেখার আছে। দুটি শহর প্রায় একই রকম। আমাদেরটি চারশ’ বছরের পুরনো। ওদেরটা তিনশ’ বছরের পুরনো। দুটি শহরই সমতল। তবে ওদের অর্থনৈতিক অবস্থা অনেক ভালো। যে কারণে ওরা উন্নতমানের ট্রান্সপোর্ট গ্রহণ করতে পারে।
একটা শহর বাসযোগ্য করতে হলে একটা হলো গাড়ি-ঘোড়া যানবাহন, আরেকটা হলো ট্রাফিক ব্যবস্থা ম্যানেজমেন্ট। ভালো যোগাযোগ ক্ষেত্রে ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থাটাই আসল। এটা থাইল্যান্ডে অত্যন্ত ভালো, সুচারু এবং নিয়মের বাইরে চলা যাবে না, একেবারেই না। এক সময় ছিল থাইল্যান্ডের পুলিশ দুর্নীতির আশ্রয় নিত। মাঝে মাঝে ঘুষ নিয়ে ছেড়ে দিত। এখন নেই বললেই চলে। নিয়মের মধ্যে সবাইকে চলতে হবে। লেনের গাড়ি লেনে চলতে হবে। যেখানে-সেখানে ক্রস করা যাবে না। অটোমেটিক সিগন্যাল, টাইমার সিগন্যাল। কতক্ষণ পর সবুজ বাতি জ্বলবে তা তো দেখাই যায়। ঢাকায় সিগন্যাল বাতি থাকলেও এর ব্যবহার নেই। ব্যাঙ্ককে ট্রাফিক আইন মানতেই হবে। একেবারেই মানতে হবে। এর বিকল্প হতেই পারে না। আমি চার বছর ব্যাঙ্কক শহরে গাড়ি চালিয়েছি। আমাকে দু’বার জরিমানা দিতে হয়েছে। প্রথমবার হলো আমি ইউটার্ন নিয়েছি যেখানে ইউটার্ন নেয়ার কথা নয়। আমি বুঝতে পারিনি। পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যে পুলিশ এসে বলে তুমি তো এই কাজ করেছ। আমি জরিমানা দিতে বাধ্য হলাম। আরেকবার আমি লেন চেঞ্জ করেছি শুধু। ইনার লেন থেকে মাঝখানের লেনে চলে এসেছি। আমি লেন চেইঞ্জ করেছি। আমাকে ধরেছে, জরিমানা দিতে বাধ্য হয়েছি। এর আর কোনো বিকল্প নেই।
একটা জিনিস বলা খুব দরকার বাস বা পাবলিক পরিবহনকে প্রাধান্য দিতে হবে। ব্যাঙ্ককের প্রধান সড়কের একটা লেন আছে বাসের জন্য। এখানে আর কেউ আসতে পারবে না। বাস লেন নির্দিষ্ট করে দেওয়া। ওখানে কোনো যানবাহন আসতে পারবে না। এলেও বাস আসার আগে সরে যেতে হবে। ব্যাঙ্ককের সব রাস্তাই চওড়া। তবে ব্যাঙ্ককের একেবারে কেন্দ্রে জ্যাম নেই বলব না, বলব এখানে যানবাহন খুব স্লো চলে। উল্টাপাল্টা আসার কোনো উপায় নেই। এই পথটুকু স্লো গতিতে এগোতে হবে। এটা অল্প কিছু জায়গায়। এটা তো বাস বা গাড়ির বেলায়। স্কাই ট্রেন, মেট্রো রেল কিন্তু গতিতেই থাকে। বলেছিলাম শহরের অসংখ্য খাল ওরা পরিবহনের যোগ্য করে তুলেছে। ওই পানিতে পা রাখা যাবে না। ময়লা পানি। কিন্তু যাত্রীবাহী নৌকা চলে। ইঞ্জিনচালিত নৌকা শাঁ শাঁ করে যাচ্ছে অথবা মালামাল নিয়ে যাচ্ছে। ব্যাঙ্ককে আরেকটি বিষয় নদী ও খালগুলোতে নৌকার ওপর বাজার। নৌকার ওপর ফলের বাজার, ফুলের বাজার, তরিতরকারির বাজার। এটা আমাদের এখানে হতে পারত। ব্যাঙ্ককের পরিবহনে আধুনিকায়ন হয়েছে। গণপরিবহনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশৃঙ্খলামুক্ত করা হয়েছে। কঠিন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সব যানবাহন যন্ত্রচালিত। রিকশা বলে কিছু নেই। মিক্স ট্রান্সপোর্ট বলে কিছু নেই, গতি কম আর বেশি বলে কিছু নেই। আরেকটা বিষয় পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা। ব্যাঙ্ককে পার্কিং ব্যবস্থা না থাকলে হাসপাতাল বা শপিং সেন্টার করার পারমিশনই দেবে না। শহরে রয়েছে পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা। এর বাইরে পার্কিং করার উপায় নেই।
আমাদের এখানে যে পরিকল্পনাটা হয় সেটা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হয় না। আর আইন মানতে বাধ্য করতেই হবে। তা না হলে হবে না। যদি বিশৃঙ্খল হয়, আইন বহির্ভূত চলে, আইন মানানো না যায়, তাহলে কিছুতেই উন্নতি হবে না। ঢাকায় এখন খুবই বিশৃঙ্খল অবস্থা। পরিবহনের ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত দুর্বল। যদিও একটা মহাপরিকল্পনা আছে স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান (এসটিপি)। এটা ২০০৬ সালে করেছিল। অনুমোদন দিয়েছিল ২০০৯ সালে। আবার সেটাকে রিভাইজ করেছে। প্রথমে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের অর্থায়নে করেছিল। পরে আবার জাইকার অর্থায়নে করেছে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে হয়তো ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতি হবে। কিন্তু সে দীর্ঘ মেয়াদটা অনেক সুদূরে, কাছাকাছি হচ্ছে না। কারণ ওখানে আছে ছয়টি মেট্রোলাইন। মাথার ওপর দিয়ে অথবা পাতাল দিয়ে যাবে। বাস ট্রাফিক ট্রানজিট হবে চারটি মনে হয়। কমিউটার ট্রেন সার্ভিস হবে, ওয়াটারওয়ে হবে। কিন্তু এই হবে হবে শুনি আজকে ৯-১০ বছর। শুরু হয়েছে মাত্র একটি মেট্রো লাইনের। সেটাও এক বছরে অতি সামান্য অগ্রগতি হয়েছে। যে দক্ষতার সঙ্গে এটা পরিচালিত হচ্ছে বা অদক্ষতার সঙ্গে। তাতে ভয় হয় পাঁচ বছরে একটা লাইন শেষ হবে কি না। কিন্তু হওয়া উচিত ওই পরিকল্পনা মতে ছয়টি লাইন। তারপর এই যে দেড়-দুইশ’ বাস কোম্পানি আছে, সেটাকে একটা শৃঙ্খলার মধ্যে আনার কথা আমরা শুনি। পরিকল্পনায় এটা বলা হয়েছে। সেটা করতে পারছে না। কিছু করতে গেলেই রাজনৈতিক একটা আন্দোলন শুরু হয়। পরিবহন খাতে যারা স্বার্থসংশ্লিষ্ট তারা এমন একটা বিশৃঙ্খলা তৈরি করে সরকার ভয় পেয়ে সরে যায়। তার মানে পরিবহন খাতটা গোটা জনগণকে, শহরবাসীকে, সরকারকেও জিম্মি করে রেখেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতি অদূর ভবিষ্যতে হবে বলে আমার মনে হয় না। এসটিপি এবং ঢাকা মাস্টারপ্ল্যান, রাজউক যেটা করেছে। এই দুটো যদি পাশাপাশি রেখে সরকার বা কর্তৃপক্ষ যারা আছে তারা যদি গভীর মনোনিবেশ করে, প্রশাসন বা শাসন যদি নগরশাসন ব্যবস্থার উন্নতি করতে পারে, তাহলে কিছু হবে। তা নাহলে দীর্ঘমেয়াদি দুর্ভোগ পোহাতেই হবে ঢাকাবাসীকে।

কারিকা ডেক্স


বিদেশে অনেক শহর দেখেছি। তার মধ্যে একটা জায়গা আমার কাছে অন্যরকম। ২০০৬ সালে একটা স্কলারশিপ নিয়ে গিয়েছিলাম সেখানে। সেখারকার ঘর-বাড়ি, প্রাকৃতিক দৃশ্য, নদী, পাহাড় এবং মানুষজন। শহরটার নাম অমরিয়া। ইতালির একটা ছোট্ট শহর। লোকসংখ্যা কম, তবে খুব গোছালো। শহরজুড়ে বাড়িগুলোর সবই প্রায় পুরনো। পাথরের তৈরি সবই প্রায় দোতলা-একতলা ডুপ্লেক্স বাড়ি, দুয়েকটা তিনতলা। বাড়িগুলোর ওপরে ছাদ নেই, টালি দিয়ে ছাওয়া। শহরের ওপরে গিয়ে দেখলে চোখে পড়ে শুধু লাল টালি। আমি একটি বাড়িতে গিয়ে উঠেছিলাম, সেটা ছিল একটি রাজবাড়ি। সেটা বোধহয় চৌদ্দশ’ শতকের গড়া। সে রাজবাড়িটি এখনও ইনটেক্ট আছে। ইতালির এই শহরটি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল। এখানে অনেক ভূমিকম্প হয়েছে, কিন্তু এই রাজবাড়িটির কিছু হয়নি। বাড়িটিতে বাগান। সকাল হলেই পাখির শব্দ। ময়ূরের ওড়াউড়ি। আমার খুবই ভালো লেগেছে।
একদিন গবি নামের অন্য একটি এলাকায় উৎসব দেখতে গেলাম। সেটা অসাধারণ উৎসব। অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে বাড়িগুলোয় নানা রঙের পতাকা দিয়ে ছাওয়া। তাদের কাছে জেনেছি এক এক ধর্মযাজকের এক এক রঙের পতাকা। যে যে ধর্মযাজকের নীতির অনুসারী সে রকম পতাকা বাড়িতে টানিয়ে রাখে। কোনো বাড়িতে লাল-হলুদ, কোনো বাড়িতে লাল-নীল, কোনো বাড়িতে আবার সাদা-নীল পতাকা ঝোলানো আছে। মাঠে অনুষ্ঠান। সবাই পতাকার রঙ মিলিয়ে পোশাক পরেছে। যার যার ধর্মযাজকের মূর্তি একটা পিলারের মতো কাঁধে করে ২০-২৫ জন লোক যাচ্ছে। যাজকের মূর্তি নিয়ে অনেকগুলো দল। সবাই খুব দ্রুত দৌড়ে যাচ্ছে। এভাবে যাচ্ছে আর আসছে। সেই মূর্তি অনেক সময় হেলে যায়, আবার সেটাকে সোজা করে। অনেক লোক এসেছে শুধু দেখার জন্য। সব শেষে সবাই একটা জায়গায় গিয়ে জড়ো হয়। সেখান থেকে বর্তমান যে ধর্মযাজক বা এ উৎসবের প্রধান তিনি রঙিন পাথর ছিটিয়ে দেন। আকিব পাথরের মতো রঙিন সে পাথর কুড়িয়ে যে যেটা পাচ্ছে সেটাই ভাগ্যবান মনে করে। মনে করে ভাগ্যবান বলেই সে এটা পেয়েছে। সব লোকই খুঁজছে। কেউ পাচ্ছে, কেউ পাচ্ছে না।
তার পাশেই মন্টি নামের আরেকটা শহরে গেলাম। পাহাড়ের ভেতর অসাধারণ একটা গুহা। গুহাটার ভেতরটা ক্রিস্টালে ঝকঝক করছে। যারা এটা আবিষ্কার করেছে তাদের তথ্য অনুসারে হাজার হাজার বছরের আগে এটা সৃষ্টি হয়েছে। পাহাড়ের ওপর থেকে যে পানি পড়ে তার সঙ্গে কেমিক্যাল মিশ্রণে এমনটি হয়েছে। বিশাল ক্রিস্টাল এরিয়া কোথাও মানুষের মতো, কোথাও গাছ, কোথাও মোমবাতির মতো। আমরা যখন গিয়েছি তখনও টিপটিপ করে পানি পড়ছিল। দেখা গেল, পাঁচ-সাত বছরে এক ইঞ্চি বড় হয়। দেখতে অসাধারণ একটা সুন্দর। সেখান থেকে ফেরার পথে একটা গ্রামে গেলাম। সেখানে শুধু সিরামিকের পটারি আর পটারি। রাস্তার দুই পাশে পটারি সাজানো। এগুলো ট্যুরিস্টদের জন্য ওরা তৈরি করে।
এই শহরের প্রধান বিষয় হলো ল্যান্ডস্কেপট। দেখতে মনে হয় ল্যান্ডস্কেপট পেইন্টিং। শহরের যেখানেই যাবে খুব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। ওদের সব কিছুই চলে নিয়ম-কানুনের মধ্যে। ওখানের নাগরিকরা সবাই শান্তিপ্রিয়। মারামারি-কাটাকাটি নেই, উচ্চশব্দ নেই। মানুষের বড় গ্যাদারিং নেই। বাজারে সব সাজানো আছে। কেনাকাটায় বেশি সময় ব্যয় হয় না। ওদের সব রেডিমেড। ওখানের নাগরিকদের দেখেছি কারো উপকার করতে পারলে খুশি হয়। কথা শুনতে পারলে ওরা খুশি হয়। রেস্তোরাঁয় খাওয়ার পর বিলটা দিতে চায়। যে পাক করে খাওয়ার পর তাকে ধন্যবাদ দিতে হয়। যে ঝাড়ু–দার, ঘর পরিষ্কার করার পর তাকে ধন্যবাদ দিতে হয়। ঝাড়ু–দার, বাবুর্চি যে বেতন পায় ডাইরেক্টরও একই বেতন পায়। যার ফলে কোনো ভেদাভেদ নেই। মালি আর ডাইরেক্টর একই। ডাইরেক্টরও কাগজ পড়ে থাকতে দেখলে কুড়িয়ে নেয়। এই বিষয়গুলো তারা যুগ যুগ ধরে ঠিক রাখছে। কোনোরকম ভেদাভেদ করেনি। আমি যে ক্যাম্পাসে ছিলাম সেখানে এত পরিষ্কার ছিল, একটা কাগজের টুকরো ছিল না। রাস্তাঘাটও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। কেউ বাইরে কিছু ফেলে না। আমাদের এখানে একজনে একটা করে ফেলে। দশজনে ফেললে অনেক নোংরা হয় সহজেই। ওদের কেউ কল্পনাই করতে পা্রেনা বাইরে কিছু ফেলবে। ওদের অনেক কিছু দেখে বুঝেছি সভ্য জাতি হলে এমন হয়। শহরজুড়েই অটোমেটিক সিগন্যাল বাতি। কোনো পুলিশ-টুলিশ কিছুই থাকে না। তবে সবাই সিগন্যাল বাতি মেনে চলাচল করে। পুরো শহরটাই শব্দহীন। অনুষ্ঠানগুলো হয় হোটেলে।
অমরিয়ায় আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে একটা পেইন্টিং মিউজিয়াম। বড় এক পেইন্টার আলবার্তো ভুরি’র একক মিউজিয়াম। সে ছিল একজন সার্জারির ডাক্তার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আমেরিকাতে চাকরি করত। ইতালির পক্ষে কাজ করার দায়ে আমেরিকার সৈন্যরা তাকে গ্রেফতার করে। পরে সে মুক্তি পায়। তখন সে ডাক্তার পেশা বাদ দিয়ে আঁকাআঁকি শুরু করে। তার বিষয়টা সাধারণ। দুটো ক্যানভাস সেলাই করে তার মধ্যে রঙ দিয়ে এঁকেছে। প্লাস্টিক জোড়া দিয়ে ছবি এঁকেছে। এ রকম তার অসংখ্য ছবি আছে। মিউজিয়ামটাও উদ্ভট টাইপের। আগে যে তামাকপাতা শুকানোর বিল্ডিং ছিল, তেমনই একটা বিল্ডিংয়ে মিউজিয়ামটা বানিয়েছে। একজন পেইন্টারকে তার নিজের এলাকায় স্টাবলিশ করা হয়েছে। আমাদের এখানে ব্যক্তির জন্মস্থানে হওয়া সম্ভব নয়। এখানে লোক খারাপ বলেই হয় না। আমাদের এখানে নগর পরিকল্পনা নিয়ে কথা হয়। আর ওদের সব কিছুই হয় পরিকল্পনার মধ্যে। পুরনো কোনো বাড়ি কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ভাঙতে পারবে না। নতুন বাড়ি করতে গেলেও অনুমতি ছাড়া উপায় নেই। কেউ গাছ কাটবে না। আমাদের ওখানে যেতে হলে জেনারেশনকে আরও শেখাতে হবে।
সন্ধ্যায় গিয়ে সেখনে পৌঁছলাম। ওদের সন্ধ্যা হয় ৭-৮টার দিকে। প্রতিষ্ঠানের ডাইরেক্টর এলো গাড়ি নিয়ে। গাড়ি যাচ্ছে শহরের দিকে। পথের দুই পাশে চমৎকার ল্যান্ডস্কেপট। ওখানে যার গাড়ি সে চালায়। ড্রাইভার, অসম্ভব। ড্রাইভার রাখবে কী করে? ড্রাইভারের তো একই বেতন। যাদের গাড়ি নেই তারা ট্রেনে বা বাসে চলাচল করে। অমরিয়ার রাস্তার মোড়ে ভাস্কর্য বা সাজানো নেই। রোমে দেখেছি রাস্তার মোড়ে রাজাদের ঘোড়ার ওপর ভাস্কর্য বা কোনো গ্রুপ স্ট্যাচু। তাও সেটা প্রাচীনামলে রাজাদের করা। আধুনিক স্কাপচার চোখে পড়েছে বাগানে বা শহরের বিশেষ কোনো জায়গায়। যেখানে-সেখানে ভাস্কর্য করার উপায় নেই। সেটাও উদ্ভট কোনো কিছু বসানো সম্ভব নয়। শিল্পসম্মত হতে হবে। না হলে পারমিশনই পাবে না। আমি একটা কিছু বানালাম, নিজেই নিয়ে বসিয়ে দিলাম, সেটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। নিজের বাড়ির সামনেও নয়। বাড়ির সামনে কাঠামোর চিন্তা জাপানে আছে। তারা গাছ বা তার কাজ বাড়ির সামনে রাখে। ইতালিতে বসেই করতে হবে বাড়ির ভেতরে। ওদের পরিকল্পনা ভালো, ওরা পেরেছে। আমরা পারি না কারণ আমাদের পরিকল্পনার অভাব। আরেকটা হলো, যে যেমনে পারে নীতিতে টাকা রোজগারের প্রতিযোগিতা। সবচেয়ে বেশি দায়ী হলো যারা অ্যাড দেয়। বিচার বিশ্লেষণ না করেই একটা কজে অ্যাড দিয়ে দেয়। আর একটা বিষয় হলো, যে যেটা পারে সেটা তাকে করতে দেয়া হয় না। আবার, যে পারেনা সে-ই করে কাজটা। যার জন্য আমাদের হ-য-ব-র-ল অবস্থা। একটা ভালো জিনিসের তো জাজমেন্ট করতে হবে, যে এইটা ভালো। এই ধান্ধাবাজি জিনিসগুলো শুরু হয়েছে অনেক আগে থেকে। কাউকে দিয়ে একটা কিছু করিয়ে বসিয়ে দিল। তার জন্য পাঁচজন জুরি বোর্ডের মেম্বার দালালি করল। তারপর পয়সাটা ভাগ-বাটোয়ারা হলো। একমাত্র সৈয়দ আবদুল্লাহ খালেদের ‘অপরাজেয় বাংলা’ ভাস্কর্য তৈরির সময় কোনো ঝামেলায় পড়েনি। সে সময় ছাত্র সংসদে ম. হামিদ এরা ছিল। ভালো শিল্পী-ভাস্কর যে এখানে নেই তা নয়। অনেক জঞ্জাল হয়েছে। এখন আমাদের পরিকল্পনামাফিক নতুন করে ভাবতে হবে।

0 583

খালিদ জামিল


দ্যা গার্ডেন অব কসমিক স্পেকুলেশন, স্কটল্যান্ডthe-garden-of-cosmic-speculation
সাধারণ মানুষ হিসেবে বছরে কেবল একবার এই বাগান নিজ চোখে দেখার সুযোগ মিলবে আপনার। আর সেটা যদি কাজে লাগাতে পারেন তবেই বুঝবেন বিজ্ঞান আর গণিতের কী অপূর্ব সমন্বয় ঘটানো হয়েছে এখানে। সোজা কথা বললে এমন বাগান পৃথিবীতে আর একটিও নেই। এটার কারিগর চার্লস জেনকেস ও তার স্ত্রী ম্যাগি কেসউইক। ডামফ্রাইজের কাছে পোর্ট্রেক হাউসে এর অবস্থান। জায়গাটা স্কটল্যান্ডে। বাগান করার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ শুরুতে যেমনটা ভাবেন, জেনকেস ও ম্যাগি তা থেকে ভিন্ন কিছু করার এমন উদ্যোগ নেন ১৯৮৯ সালে।

নুরুন্নবী চৌধুরী


খুব গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেট ম্যাচের মাঝখানে হঠাৎ ডিশের লাইন বন্ধ হয়ে গেল কিংবা পছন্দের কোনো নাটক দেখতে দেখতে নেটওয়ার্ক নেই বলে টেলিভিশন সেটের মাঝ বরাবর একটা লাইন ভেসে উঠল! মন-মেজাজের কী দশা হয় তখন তা হয়তো ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়! তবে কম-বেশি আমাদের সবারই কিন্তু টেলিভিশন দেখা নিয়ে এমন বিরক্তিকর অভিজ্ঞতা রয়েছে।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ দেখাতে এসে গেল ডিজিটাল মাধ্যম। এখন আপনার টেলিভিশনও হয়ে যাবে ডিজিটাল, তার জন্য প্রয়োজন শুধু একটি সেটটপ বক্সের। টেলিভিশনে ভালো মানের ছবি ও শব্দ নিশ্চিত করতে সারা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও এখন ব্যবহৃত হচ্ছে এই ‘জাদুর বাক্স’।

যেভাবে কাজ করে সেটটপ বক্স
সেটটপ বক্সের মাধ্যমে ফাইবার অপটিক্যাল কেবলের সাহায্যে টিভিতে দেখা যায় ঝকঝকে ছবি। নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে সেটটপ বক্সের সঙ্গে স্থাপন করা হয় জেনারেটর ও অনলাইন ইউপিএস, কল সেন্টার, সার্ভিস মনিটরিং প্যানেলসহ বিভিন্ন সুবিধা-সংবলিত একটি পূর্ণাঙ্গ সেবাকাঠামো।

কী সুবিধা দিচ্ছে?
অ্যানালগ টিভিতে কম-বেশি ১০০-১৫০টি চ্যানেল দেখার সুযোগ থাকে বলা হলেও আদতে প্রকৃত সংখ্যাটি ৭০ ছাড়াবে কিনা সন্দেহ রয়েছে। সেটটপ বক্সের সাহায্যে আপনি প্রায় ১১০টির বেশি চ্যানেল দেখতে পাবেন নিশ্চিন্তে। এতদিন যেসব এইচডি বলে জেনে এসেছেন, সেটটপ বক্স ব্যবহার করলে এবার সত্যিই সেই চ্যানেলগুলো এইচডি ভিউতে দেখতে পাবেন। তাছাড়া ঝড়-বৃষ্টি কিংবা রাস্তার খননকাজে কেবল কাটা পড়লে বিকল্প ব্যবস্থায় সংযোগ চালু থাকবে।

বাংলাদেশে সেটটপ বক্স
বাংলাদেশে টেলিভিশন সম্প্রচার শুরু হয়েছে প্রায় ৫২ বছর আগে। ১৯৬৪ সালে ছিল সাদা-কালোর একটি চ্যানেল। আশির দশকের শুরুতে যা রঙিন পর্দায় রূপ নেয়। আর ১৯৯২ সাল থেকে শুরু হয় ডিশ অ্যান্টেনার যুগ। এতে রয়েছে দেশ-বিদেশের রকমারি সব চ্যানেল। অ্যানালগ কেবল টিভির এই সেবায় খানিকটা ঘোলাটে ছবি, ঝড়-বৃষ্টিতে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়াসহ নানা ঝক্কি-ঝামেলা থাকে। দর্শকের এই অতৃপ্ত মনের হাল বুঝতে পেরেই সচকিত হয়ে ওঠেন কর্তৃপক্ষ।
২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশে প্রথম ডিজিটাল কেবল লাইনের ঘোষণাটি আসে বেঙ্গল ডিজিটালের পক্ষ থেকে। শুরুতে শুধু ঢাকা শহরকে টার্গেট করে কার্যক্রম পরিচালনা করা হলেও পরবর্তী সময়ে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম থেকে শুরু করে বিভাগীয় শহরগুলোতেও এই সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।

খরচ কেমন?
সেটটপ বক্স নামের যন্ত্রটির দাম পড়বে ৩,৫০০ টাকার মতো। একবার এই বক্সটি কিনে প্রতিমাসে কার্ডের মাধ্যমে রিচার্জ করে দেখতে পারবেন পছন্দের ও প্রয়োজনীয় চ্যানেলগুলো। এজন্য বেছে নিতে হবে আপনার সুবিধামতো প্যাকেজটি।
দর্শকদের চাহিদা, বয়স, রুচি ও ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনা করে একাধিক চ্যানেলের বিভিন্ন প্যাকেজ রাখা হয়েছে সেটটপ বক্সের সঙ্গে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৩০০ টাকার প্যাকেজে ৯০টি চ্যানেল দেখা যাবে। এর মধ্যে বাংলাদেশের সব চ্যানেলসহ ৭০টি ফ্রি চ্যানেল রয়েছে। এছাড়া ২০টি পে-চ্যানেল থাকবে। অন্যদিকে ৬০০ টাকার প্যাকেজে বর্তমানে ১৫১টি চ্যানেল দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে বাংলাদেশি চ্যানেলসহ ৭৬টি ফ্রি চ্যানেল ও ৭৫টি পে-চ্যানেল রয়েছে।
একটি সেটটপ বক্স দিয়ে একটি টিভিতে অনুষ্ঠান দেখা যাবে। তবে বাসায় দুটি টিভি সেট থাকলে পুরনো অ্যানালগ লাইন থেকে ওই টিভিতে সংযোগ দেওয়া যাবে। এতে ৯০টির মতো চ্যানেল দেখা যাবে। সেক্ষেত্রে খরচ কিছুটা বাড়বে। ৩০০ টাকার প্যাকেজসহ মোট খরচ হবে ৪৫০ টাকা। আর ৬০০ টাকার প্যাকেজে সব মিলিয়ে পড়বে ৭০০ টাকার মতো।

কীভাবে পাবেন জাদুর বাক্সের সংযোগ?
বর্তমানে অ্যানালগ সেবাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে সেটটপ বক্স। অর্থাৎ আপনি যাদের কাছ থেকে ডিশের সংযোগ নিয়েছেন তাদেরকে সেটটপ বক্সের চাহিদার কথা জানালে সংগ্রহ এবং সেটিং করে দেবে। তারপর একদম নির্ঝঞ্ঝাটে উপভোগ করতে পারবেন ডিজিটাল টেলিভিশনের জাদু!