Home সর্বশেষ

কারিকা প্রতিবেদক

মঙ্গলবার বিকেলে পর্দা নেমেছে নির্মাণ মেলা ২০১৯ এবং আর্ক এশিয়া ফোরাম ২০২০ এর। রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের বঙ্গবন্ধু আর্ন্তজাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তিনব্যাপী আয়োজিত এই মেলায় ২১টিরও বেশি দেশের নির্মাণ সামগ্রী উৎপাদন, আমদানিকারক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অংশ নেয়। স্টল ছিলো ৭৮টি।

আর্কএশিয়া ফোরাম-২০’ শীর্ষক এশীয় স্থপতিদের সম্মেলনের পাশাপাশি এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

এর আগে গত রবিবার (৩রা নভেম্বর) নির্মাণ মেলা ২০১৯ এবং আর্ক এশিয়া ফোরাম ২০২০ এর উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, “বাংলাদেশ যে উন্নত হচ্ছে তা রাস্তায় বের হলেই দেখা যায়। নির্মাণ শিল্পের যে ঝড় উঠেছে তার প্রমাণ পাই রাস্তায় বের হলেই। যেখানেই যাই সেখানেই চোখে পড়ে নির্মাণযজ্ঞ। রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায় লোহা, পাথর, সিমেন্ট, বালুসহ নানা নির্মাণ সামগ্রী, যা দিয়ে তৈরি হচ্ছে বড়-বড় ভবন।”
শুধু নির্মাণ শিল্প নয়,অন্য ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে বলে সন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী।”
পরিকল্পনামন্ত্রী আরও বলেন,“এই নির্মাণ যজ্ঞের কারণে দেশে স্থাপত্যবিদ্যা সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা আগে ছিল না। নির্মাণ যে একটি শিল্প এখন মানুষ তা বুঝতে পেরেছে।”
শুধু নির্মাণ শিল্পে নয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিনির্মাণেও বড় ঝড় উঠেছে বলে জানান মান্নান।

আর্কিটেক্টস রিজিওনাল কাউন্সিল এশিয়ার (আর্কেএশিয়া) প্রেসিডেন্ট রিটা সোহ বলেন, ‘বিল্ডিং নির্মাণের ক্ষেত্রে উন্নত মানের মেটেরিয়াল ব্যবহার করতে হবে। তা না হলে বিল্ডিংয়ের স্থায়িত্ব দীর্ঘদিন হবে না। বর্তমানে বিল্ডিং নির্মাণের জন্য উন্নত প্রযুক্তির মেটেরিয়াল পাওয়া যায়। এসব মেটেরিয়াল ব্যবহারের ফলে যেকোনো বিল্ডিংয়ের স্থায়িত্ব বাড়বে।’

ছবিঃ বিডিনিউজ স্টোয়েন্টি ফোরের সৌজন্যে

নির্মাণ মেলা ২০১৯ এবং আর্ক এশিয়া ফোরাম ২০২০ এ আইএবির সভাপতি জালাল আহমেদ, সাবেক সভাপতি মোবাশ্বের হোসেন, আর্কএশিয়া ফোরাম২০ এর আহ্বায়ক আবু সাঈদ এম আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

দি আর্কিটেক্টস্ রিজিওনাল কাউন্সিল এশিয়া-আর্কএশিয়া সদস্য দেশগুলোর স্থপতিদের জাতীয় প্রতিষ্ঠানের সভাপতিদের সমন্বয়ে গঠিত। সংগঠনটি সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর আঞ্চলিক কার্যক্রম এবং সম্পর্ক প্রসারে কাজ করে থাকে।

আর্কএশিয়া ১৯৬৭ সালে ভারতের নয়াদিল্লিতে প্রতিষ্ঠিত হয়।আর্কএশিয়ার বর্তমান সদস্য দেশ ২১টি। এগুলো হলো-ভুটান, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, লাওস, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, মালয়শিয়া, ব্রুনেই, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, ম্যাকাউ, চীন, হংকং, জাপান, কোরিয়া এবং মঙ্গোলিয়া।

কারিকা প্রতিবেদক
জনসংযোগ, মিডিয়া ও ব্র্যান্ড কমিউনিকেশন্স কৌশল এবং দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঢাকায় প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো ‘পিআর অ্যান্ড ব্র্যান্ড কমস সামিট ২০১৯’। রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) কমপ্লেক্সে ২৬ অক্টোবর দিনব্যাপী এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

কমিউনিকেশন্স ফার্ম র’দিয়া আইএনসি, সুশিক্ষায় স্বপ্ন বুননের প্ল্যাটফর্ম ড্রিম ডিভাইজার ও ডিজিটাল লাইফ স্কিলস শব্দকল্পদ্রুম এর সহযোগিতায় সম্মেলনটি আয়োজিত হয়। প্রধান অতিথি হিসাবে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ডঃ আতিউর রহমান, সমাপনী অনুষ্ঠানে ‘গেস্ট অব অনার’ ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক নীলিমা আকতার এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউনিয়ন ক্যাপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক চৌধুরী মনজুর লিয়াকত ।
ডঃ আতিউর রহমান বলেন, পিআর, কমিউনিকেশনস ও ব্র্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বর্তমান সময়ের তিনটি আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই তিনের সমন্বয়ে একজন ব্যক্তি বা একটি ব্র্যান্ড সবার মাঝে পরিচিতি পায় বা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। যদিও দেখা যায়, অনেক প্রতিষ্ঠানে এ তিন বিষয়ের কাজই একত্রে করে থাকেন একজন ব্যক্তি বা একটি বিভাগ। কালের পরিক্রমায় বিভিন্নভাবে এসব দিকের পরিবর্তন এসেছে। আর এটা সম্ভব করেছে প্রযুক্তি।

সম্মেলনটির সমন্বয়কারী ও র’দিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সৈয়দ রবিউস সামস জানান, এখন থেকে প্রতি বছর সামিটটি অনুষ্ঠিত হবে। এবং এটি মিড-লেভেল ও তরুণ পেশাজীবী, উদ্যোক্তা, ফ্রেশার, শিক্ষার্থী এবং পিআর ও ডিজিটাল মার্কেটিং আগ্রহীদের জন্য আদর্শ সুযোগ। সামিটে অংশগ্রহণকারীরা ক্রিয়েটিভ কমিউনিকেটর, ডোমেন এক্সপার্ট এবং রিয়েল-লাইফ এডুকেটরদের কাছ থেকে একটি ইন্টারেক্টিভ পরিবেশ এবং অভিজ্ঞতা শেয়ার করার প্ল্যাটফর্ম পায়। যেখানে সেশনগুলো গণযোগাযোগ, বিজ্ঞাপন এবং ব্র্যান্ডিং ইকোসিস্টেমের প্রয়োজনীয় জ্ঞান এবং দক্ষতা বৃদ্ধি করে। একই সাথে ছিল- দেশের শীর্ষস্থানীয় কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগ। ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সী ২০০ জন আগ্রহীরা দিনব্যাপী সম্মেলনটিতে অংশগ্রহণ করেন ।

বিশেষ এ পাবলিক রিলেসন্স অ্যান্ড ব্র্যান্ড কমিউনিকেশন্স সামিটে ৩টি প্যানেল আলোচনা, ১টি মূল সেশন, ১টি ব্রেকআউট সেশন এবং ১টি অনুপ্রেরণামূলক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় ।

মোকারম হোসেন

ঢাকার শতবর্ষী বা শতাধিকবর্ষী বৃক্ষ সম্পর্কে অনুসন্ধান করতে গিয়ে ঝামেলায় পড়তে হয়। কোথাও কোনো সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। এমনকী ঢাকার বৃক্ষ নিয়ে এযাবৎ কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য-শুমারিও হয়নি। ফলে ঢাকায় এখন থেকে ৪০০ বছর আগে কোথায় কোন ধরনের বৃক্ষ ছিল, বা পরবর্তী সময়ে কি কি ছিল সে সম্পর্কেও কিছু জানা যায় না। তবে এক্ষেত্রে মাত্র ১০০ বছর আগেকার বিক্ষিপ্ত কিছু সূত্র খুঁজে পাওয়া যায়। যা বলধা গার্ডেন বা লন্ডনের কিউ উদ্যানের কর্মী রবার্ট লুইস প্রাউডলকের রমনা নিসর্গের পত্তনের সমসাময়িক। কারণ ‘রমনাগ্রিন’ ও বলধা গার্ডেন নির্মাণের কাজ শুরু হয় একবছর আগে পরে; মানে ১৯০৮ ও ১৯০৯ সালের দিকে। এখানে প্রাউডলকের একটি সংক্ষিপ্ত পরিচিতি আবশ্যক। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের সময়ে রাজধানী হিসেবে ঢাকাকে উদ্যাননগরীর আদলে গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কর্মকাণ্ডে রবার্ট লুইস প্রাউডলক ছিলেন বৃক্ষশোভিত সরণী ও উদ্যান নির্মাণের দায়িত্বে। তিনি ছিলেন লন্ডনের কিউ বোটানিক গার্ডেনের অন্যতম কর্মী। অখিল বাবু তাঁর সহকর্মী হিসেবে কাজ করেন। পঞ্চাশের দশকের আগেকার রমনা ও এ সংলগ্ন এলাকার বৃক্ষসজ্জার সবটুকুই তখনকার সৃষ্টি। বঙ্গভঙ্গ রদ হওয়ায় ঢাকায় রাজধানী নির্মাণের পরিকল্পনা পরিত্যক্ত হয় এবং সম্ভবত প্রাউডলক পূর্ণাঙ্গ উদ্যান নির্মাণের অবকাশ পাননি। প্রাউডলকই মূলত এই জঞ্জালের নগরীতে আমাদের ফুসফুস সচল রাখার ব্যবস্থা করে গিয়েছিলেন। তাঁর পরিকল্পনার হাত ধরেই আমাদের বৃক্ষশোভা বর্ণিল হয়ে ওঠে। একারণেই রমনার অধিকাংশ সুউচ্চ শতবর্ষী বৃক্ষগুলো প্রাউডলকের পরিকল্পনার অংশ বলে মনে করা হয়।
সম্প্রতি চারশ বছর পেরুলো ঢাকা। মানব বসতি এবং ইতিহাস-সংস্কৃতির দিক থেকে চারশ বছর অনেক দীর্ঘ সময়। কিন্তু এই শহরে চারশ বছর তো দূরের কথা, দুশো বছরের পুরনো বৃক্ষও খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। দীর্ঘ পরাধিনতা, রাজনৈতিক পট-পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দূর্যোগ, অসচেতনতা এবং মাত্রাতিরিক্ত লালসা, অপতৎপরতায় এখানকার অনেক ঐতিহ্যের সঙ্গে প্রাচীন বৃক্ষসম্পদও হারিয়ে গেছে। একারণে আমরা সন্ধান করেছি মাত্র শতবর্ষী বৃক্ষগুলোর। এমন বৃক্ষের সংখ্যা মাত্র হাতেগোনা কয়েকটি। যদিও এসব বৃক্ষ রোপণের সঠিক কোনো সন-তারিখ খুঁজে পাওয়া যায় না, তবুও বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্র, জনশ্রুতি এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকেই এই বৃক্ষগুলোকে শতবর্ষী হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। নির্বাচিত বৃক্ষগুলো হচ্ছে রমনার মহুয়া, রমনার কুসুম, রমনার দেশি গাব, হেয়ার রোডের পাদাউক, বেইলি রোডের ব্ল্যাকবিন, ফুলার রোডের তেঁতুল, বাংলা একাডেমি ও মিরপুর বোটানিক গার্ডেনসহ আরো কয়েকটি স্থানের বট, চামেরি হাউজের ছাতিম, বাংলা একাডেমির বহেড়া, তেজগাঁও বিজ্ঞান কলেজের জংলীবাদাম ইত্যাদি।

এবার ঢাকার এমন কিছু উলে­খযোগ্য শতবর্ষী বৃক্ষ সম্পর্কে জানা যাক।

হেয়ার রোডের পাদাউক
প্রধান বিচারপতির বাসভবন থেকে রমনা পার্কের সীমানা পর্যন্ত ছায়ামাখা পথটির দুপাশে বেশ বড়সড় কাণ্ডের গাছগুলোই পাদাউক। পাদাউক আমাদের দেশি গাছ নয়। ধারণা করা হয়, রমনা নিসর্গের গোড়াপত্তনের সময় উষ্ণমণ্ডলীয় অনেক বৃক্ষের পাশাপাশি প্রাউডলক মায়ানমার থেকে এই গাছগুলোও নিয়ে আসেন। গ্রিষ্মে পুষ্পপ্রেমিকদের অনেকেরই সতর্ক দৃষ্টি থাকে পাদাউকের ওপর। অসর্তকতায় একটি উপভোগ্য দৃশ্য থেকে বঞ্চিত হতে পারে এই ভাবনায় প্রতিদিনই নির্দিষ্ট গাছগুলোতে চোখ রাখে সবাই। গোটা বছর ধরে মাত্র একদিনের জন্য ফোটে ফুল। যাঁরা প্রতিদিন হেয়ার রোডে যাতায়াত করেন তাঁদের অনেকেই হয়তো বিষয়টি জানেন না। আপনি কোনো একটি গাছে নিয়মিত চোখ রাখলে হয়তো দেখা পেতে পারেন দুর্লভ এ ফুলটির। দেখবেন অতি প্রত্যুষে সোনালি-হলুদ ফুলে ভরে আছে। সারাদিন পুষ্প-উৎসব শেষে সন্ধ্যায় কোমল পাপড়িগুলো তাদের শেষ পরিণতির জন্য অপেক্ষা করে। পরেরদিন আর কোনো চিহ্নই থাকে না গাছে। প্রস্ফুনের স্বল্পস্থায়িত্বের এমন বৈশিষ্ট্য বিরল। ঢাকায় বিক্ষিপ্তভাবেও চোখে পড়ে। পাদাউক পত্রমেচি উঁচু বৃক্ষ, কাণ্ড অনুচ্চ, শীর্ষ বিশাল, ছত্রাকৃতি, পত্রঘন শাখান্ত দীর্ঘ ও আনত।

রমনার আদি মহুয়া গাছ
রমনা পার্কের অনেকটা পশ্চিম-উত্তর প্রান্তে পার্কের প্রায় সবগুলো পায়েহাটা পথ যে বৃক্ষের পাশে এসে মিশেছে, সেই বৃক্ষটির নামই মহুয়া। গাছটির চারপাশ বেশ বড় আকারে বাঁধানো। গোড়ায় কতগুলো পাথর ছড়ানো। প্রতিদিন পার্কে বেড়াতে এসে অনেকেই এখানে দু’দণ্ড বিশ্রাম নেন। অনতিদূরেই রমনা লেকের ওপর ছোট্ট একটি কালভার্ট। পার্কে নিয়মিত শরীরচর্চাকারীরা এই স্থানটিকে মহুয়াতলা নামেই চেনেন। জানামতে এটি ঢাকার সবচেয়ে বড় ও পুরনো মহুয়া গাছ। প্রস্ফুটন মৌসুমে অসংখ্য বাদুড় এসে জড়ো হয় এখানে। কারণ মহুয়াফুল বাদুড়ের খুব পছন্দ। বয়সের ভারে গাছটির ডালপালা ও পাতার সংখ্যা কমে এসেছে।

ফুলার রোডের পুরনো তেঁতুল গাছ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে জগন্নাথ হল লাগোয়া পথ ধরে একটু এগোলেই উদয়ন স্কুল। স্কুলের মূল ফটকের সামনে দাঁড়ালে বাঁপাশে বিশালাকৃতির একটি তেঁতুল গাছ চোখে পড়বে। অন্য পথে ভিসির বাসভবন থেকে ব্রিটিশ কাউন্সিল হয়ে আরেকটু সামনে এগোলেও পাওয়া যাবে গাছটি। গাছের কালো রঙের কাণ্ড অসংখ্য গুটি ভরতি। সারা গা বিভিন্ন দাগে ক্ষত বিক্ষত। কাটা পড়েছে অনেক ডালপালা। বেশ উপরের দিকে কয়েকটি ডালপালা এখনো সজীব। কালের স্বাক্ষী এই তেঁতুল গাছটি একজীবনে অনেক কিছু দেখেছে। মোকাবেলা করেছে অনেক বৈরি পরিস্থিতির। তুলনামূলকভাবে আরো কম বয়সী কয়েকটি তেঁতুল গাছ দেখা যায় বাংলাদেশ শিশু একাডেমী এবং রমনা পার্কে।
ফুলার রোডের এই তেঁতুল গাছ সম্পর্কে ঐতিহাসিক কোনও তথ্য খুঁজে পাওয়া না গেলেও ফুলার রোড সম্পর্কে ইতিহাসবেত্তা মুনতাসীর মামুন ঢাকা স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী গ্রন্থে লিখেছেন- ‘…. ১৯০৫ সালে পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ গঠিত হলে এর প্রথম লে. গভর্ণর ছিলেন স্যার ব্যামফিল্ড ফুলার। মুসলমান সম্প্রদায়ের তিনি ছিলেন প্রিয়ভাজন।’ তেঁতুলের বৃদ্ধি মন্থর। সেই অর্থে পুরু কাণ্ডের গাছ হতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন। একারণে এগাছের মূল কাণ্ডের আকৃতি দেখেই ধারণা করা হয় যে গাছটি অতি প্রাচীন। একসময় ঢাকায় রমনা গ্রীনের দক্ষিণ ফটক থেকে ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট পর্যন্ত তেঁতুলের একটি দীর্ঘ বীথি ছিল।

তেজগাঁও বিজ্ঞান কলেজের জংলিবাদাম
তেজগাঁও সরকারি বিজ্ঞান কলেজের গেইট লাগোয়া বিশালাকৃতির গাছটিই জংলিবাদাম। গাছটির উচ্চতা ও ডালপালার বিস্তৃতি দেখেই বয়সটা অনুমান করা যায়। জংলিবাদাম বেশ আকর্ষণীয় গড়নের একটি গাছ। এই গাছের কাণ্ড, ডালপালা, পাতা এবং ফুল ও ফল ভারি সুন্দর। ঢাকায় এই গাছ খুব একটা দেখা যায় না। তবে দেশের উপকূলীয় জেলাগুলোতে মোটামুটি সহজলভ্য।

বেইলি রোডের ব্ল্যাকবিন
প্রায় ৮ বছর আগে গাছটি প্রথম দেখি রমনা পার্কের অদূরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার উত্তর পাশের সীমানায়। তখন গাছের কাণ্ড ও ডালপালায় ফুলের উৎসব দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম। বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি থেকে প্রকাশিত ফ্লোরা অ্যান্ড ফউনা অষ্টম খণ্ডের তথ্যমতে ড. সালার খান ১৯৯৬ সালে প্রকাশিত একটি জার্নালে এই গাছটির কথা উল্লেখ করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার উপ-উষ্ণমণ্ডলের এই গাছ আমাদের দেশে কখন ও কিভাবে এসেছে তা এখন আর জানা যায় না। ব্ল্যাকবিন চিরসবুজ গাছ, সাধারণত ২৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। কাণ্ড সরল, কালো ও ডালপালাগুলো ঝুলন্ত। বিজোড়পত্রী, পত্রিকা সংখ্যা প্রায় ১৬টি, ৫ইঞ্চি লম্বা। শীর্ষ পত্রিকা ছোট। পাতা লম্বায় ৫ সেমি.। ফুলের বৈশিষ্ট্য অশোকের কাছাকাছি। কমলা-লাল রঙের নজরকাড়া ফুলগুলো ডালপালা ও পাতার কক্ষে গুচ্ছবদ্ধভাবে থাকে। প্রস্ফুটনকাল এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত।

রমনার কুসুম
রমনাপার্কের অরুণোদয় গেইট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলেই বীথিবদ্ধ সুউচ্চ কুসুম গাছগুলো চোখে পড়বে। বসন্তে রক্তিম কচিপাতার উচ্ছাসে ভরে ওঠে এই গাছ। তখন সারিবদ্ধ গাছে যে মনোরম শোভা ফুটে ওঠে তার কোনো তুলনা হয় না। বর্ণিল পাতার এসব গাছ দূর থেকে দেখলে মনে হবে, এ যেন পাতা নয় ফুলে ফুলে ভরা কোনো এক পুষ্পবীথি। আসলে রক্তিম কচি পাতাগুলোই এগাছের প্রাণ। কারণ পাতার এমন আলো ঝলমল রূপ থাকতে থাকতে ফুল ফুটলেও ফুলের সৌন্দর্য আমাদের ততটা আকৃষ্ট করে না। এই গাছ কোথাও কোথাও লটকন নামেও পরিচিত। তবে রঞ্জক উদ্ভিদ লটকন বা দইগোটার সঙ্গে এগাছের কোনো সম্পর্ক নেই। কুসুম বিশাল আকৃতির পাতাঝরা বৃক্ষ। এই গাছ সাধারণত ৩০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। গাছের মাথার দিকটা বেশ বড়সড় এবং অসংখ্য ডালপালায় ছায়ানিবিড়।

রমনার দেশি গাব
রূপসী বৃক্ষ হওয়া সত্ত্বেও গাব গাছের সৌন্দর্যের প্রতি আমরা অনেকটাই উদাসীন। ভালো কাঠ হয় না বলে মানুষের কাছে এই গাছের তেমন গুরুত্ব নেই। কিন্তু ঝড়-ঝঞ্ঝা ও ভূমির ক্ষয়রোধে এই গাছ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে। আমাদের ছায়াসুনিবিড় গ্রামগুলোতে এখনো দু’চারটি করে গাব গাছ চোখে পড়ে।
ঢাকায় রমনা পার্কে একটি শতবর্ষী দেশি গাবগাছ দেখা যায়।

0 146

কারিকা প্রতিবেদক
কথায় আছে, চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে। বিপদের মুহূর্তে বা জরুরি প্রয়োজনের সময় আমরা অনেকেই কী করব ঠিক বুঝে উঠতে পারি না। এখন আর এ কথা খাটবে না! যেকোনো বিপদ বা জরুরি সেবার জন্য আছে হটলাইন ৯৯৯, যা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর। জরুরি মুহূর্তে পুলিশি সহায়তা, ফায়ার সার্ভিসের সেবা বা অ্যাম্বুলেন্স পেতে ৯৯৯ নম্বরে একটি ফোনকলই যথেষ্ট হতে পারে। আপনার কল পেয়ে ছুটে আসবে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস কর্মী বা অ্যাম্বুলেন্স। এ সেবা পেতে হাতে মোবাইল ফোন থাকলেই চলবে, অন্য কোনো খরচ বা ঝামেলার বালাই নেই। কারণ ৯৯৯ নম্বরে কল করা যায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।
‘৯৯৯’ নাগরিকের জরুরি যেকোনো প্রয়োজনে কোনো একটি মুঠোফোন থেকে সম্পূর্ণ টোল ফ্রি বা বিনামূল্যে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স-সেবা দিয়ে থাকে। ৯৯৯ সার্ভিসের প্রশিক্ষিত কর্মীরা প্রয়োজন অনুযায়ী ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ বা অ্যাম্বুলেন্স-সেবা প্রদানকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন। সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা চালু থাকে এই সেবা।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর কার্যক্রম পরিচালিত হয় রাজধানীর আবদুল গণি রোডের পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে। ২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর যাত্রা হয়েছিল। বাংলাদেশে এ ধরনের সেবা এটিই প্রথম। শুধু রাজধানী ঢাকার লোকজনই নয়, দেশের যেকোনো জায়গা থেকে ৯৯৯-এ ফোন করে সমস্যার কথা জানিয়ে দরকারি সহায়তা নেওয়া যায়। বিপদগ্রস্ত বা সহায়তাপ্রত্যাশী মানুষকে সেবা দিতে সার্বক্ষণিক অবস্থান করেন জরুরি সেবা ৯৯৯-এর কর্মকর্তা ও কর্মীরা।
নিজে বিপদগ্রস্ত হলে যেমন ৯৯৯-এ ফোন করে প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস বা অ্যাম্বুলেন্স-সহায়তা নেওয়া যায়, তেমনি রাস্তায় কাউকে অপরাধের শিকার বা দুর্ঘটনায় ভুগতে দেখলেও পুলিশকে জানানো যায়। প্রয়োজন হলে ডাকা যায় ফায়ার সার্ভিস বা অ্যাম্বুলেন্স। তিন ক্ষেত্রেই কল করতে হবে ৯৯৯-এ। এমনকি রাস্তার সরকারি গাছ রক্ষায়, বিপদগ্রস্ত পশু-পাখিকে উদ্ধারের জন্য সহায়তা চেয়ে ৯৯৯-এ ফোন করা যায়। আপনার ফোন পেয়ে সংশ্লিষ্ট থানা, ফায়ার সার্ভিস ইউনিট বা অ্যাম্বুলেন্স-সার্ভিসকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে দেবে জাতীয় জরুরি সেবার কর্মী বা কর্মকর্তারা। এছাড়া ধর্ষণচেষ্টা, বাল্যবিয়ে রোধের মতো কাজেও আপনি ৯৯৯-এর সহায়তা নিতে পারেন। বিভিন্ন ধরনের অপরাধী গ্রেফতার, গৃহকর্মী নির্যাতন রোধ, পারিবারিক নির্যাতন বন্ধ ইত্যাদি প্রয়োজনে ৯৯৯-এ তথ্য দিয়ে সহায়তা করা যায়। এ পর্যন্ত ৯৯৯-এ ফোন করে ঝামেলা এড়িয়ে সহজে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা পেয়েছেন লাখো মানুষ।
তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক জানিয়েছেন, চলতি (সেপ্টেম্বর) মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ১ কোটি ৪২ লাখ ফোন রিসিভ হয়েছে। ১২ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য দেন।
জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘এর মধ্যে বেশিরভাগ মানুষ সেবা পেয়েছেন। ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি সার্ভিসে এ মুহূর্তে ১৪২ কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করছেন।’ তিনি জানান, এ সার্ভিসে জনবলের সংখ্যা পাঁচশ’তে উন্নীতকরণের চেষ্টা চলছে।
জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কর্মরত একজন কর্মকর্তা জানান, ধর্ষণ-সংক্রান্ত ঘটনা, গৃহকর্মী নির্যাতন, কাউকে আটকে রাখা, পাচার চেষ্টা, লিফটে আটকে পড়া, অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকা, দুর্ঘটনা, অগ্নিকান্ডের ঘটনা, অ্যাম্বুলেন্স, প্রাণনাশের আশঙ্কা, পারিবারিক সমস্যা সমাধান, নিখোঁজ শিশু উদ্ধার, গাছকাটা বন্ধ করা, শব্দদূষণ, ছিনতাইসহ নানা ধরনের সমস্যায় সাধারণ ও বিপদগ্রস্ত মানুষকে তারা এ পর্যন্ত সহযোগিতা করেছেন।
জাতীয় জরুরি সেবা হেল্প ডেস্ক ৯৯৯-এর পুলিশ সুপার মো. তবারক উল্লাহ বলেন, ‘প্রতিদিন নানা সমস্যায় মানুষ এখানে ফোন করছেন। জরুরি সহায়তা পেয়ে উপকৃত হচ্ছেন। তবে শুরুতে কৌতুহলী মানুষের প্রচুর ফোন আসত। এখন এই সমস্যা নেই বললেই চলে।’ শুরুতে ৩৩টি ওয়ার্কস্টেশন ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন ১০০টির মতো ওয়ার্কস্টেশন। তাতে এখন আগের চেয়ে ভালোভাবে সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।’
৯৯৯-এ ফোন করে কাউকে পরবর্তী সময়ে কোনো আইনি ঝামেলা পোহাতে হবে না উল্লেখ করে তবারক উল্লাহ বলেন, ‘এখানে তথ্যদাতার গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়।’ কোনো ক্ষেত্রে তথ্যদাতার পরিচয় প্রয়োজন হলে সেটাও নিজস্ব চ্যানেলে মোকাবেলা করা হয় বলে জানান তিনি।

0 118

কারিকা প্রতিবেদক
জাতীয় সংসদ ভবনকে বিশ্বখ্যাত স্থপতি লুই আই কানের মূল নকশায় ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে মূল সংসদ ভবনের শতাধিক অস্থায়ী কক্ষ ভেঙে ফেলার কাজ চলতি মাসেই শুরু করতে যাচ্ছে সংসদ সচিবালয়। অস্থায়ী কক্ষের বর্তমান অফিসগুলো মূল ভবনের বাইরে সচিব হোস্টেলে স্থানান্তর করা হবে। সেখানে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
তবে কতগুলো কক্ষ ভাঙা হবে সে ব্যাপারে এখনও কিছু নিশ্চিত করা যায়নি। এছাড়া সংসদের সীমানায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর এবং স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবনসহ অন্যান্য স্থাপনার বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিদেশ থেকে মূল নকশা সংগ্রহের পরও জিয়ার কবর সংসদের সীমানায় পড়েছে কিনা, তা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি স্থাপত্য অধিদপ্তর।
মূল নকশায় ফেরার উদ্যোগ সম্পর্কে সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান বলেন, ‘মূল ভবনের অভ্যন্তরে অস্থায়ী কক্ষগুলো পর্যায়ক্রমে সরিয়ে নেওয়া হবে। চেষ্টা থাকবে যতদূর সম্ভব লুই আই কানের মূল নকশায় ফিরে যাওয়ার।’ তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে প্রয়োজনের তাগিদে সংসদের ভেতরে কাঠের প্রাচীর দিয়ে অস্থায়ী কক্ষগুলো তৈরি করা হয়েছিল। সংসদের কাজে সরাসরি সম্পৃক্ত এমন বিভাগগুলো রেখে বাকিগুলো পর্যায়ক্রমে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।’
তিনি জানান, সচিব হোস্টেলে অবস্থানরতদের সরিয়ে নেওয়া এবং সংসদের অন্যদের আবাসনের জন্য পূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছে ৫০০ ফ্ল্যাট চাওয়া হবে। এসব ফ্ল্যাট পাওয়া গেলে সচিব হোস্টেল খালি করে সেখানেই কিছু অফিস স্থানান্তর করা হবে।
স্থপতি লুই কান প্রকৃতির সঙ্গে সংগতি রেখে এ ভবনের নকশা করেছেন। ভবনের ছাদে ব্যবহার করা হয়েছে কাচের ইট। বাতাস ও সূর্যের আলো যাতে অনায়াসে প্রবেশ করতে পারে, সেজন্য প্রতি ব্লকের চার ভাগের এক ভাগ খালি বা ভয়েড হিসেবে রাখা হয়েছে। যাতে বৈদ্যুতিক আলো ছাড়াই দিনের বেলায় কাজ করা যায়। কিন্তু বর্তমানে সংসদ ভবনে বৈদ্যুতিক আলো ছাড়া কাজ করার সুযোগ নেই। কারণ আলো ও বাতাস ঢোকার বেশিরভাগ পথ বন্ধ হয়ে গেছে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরির ফলে। এমনকি লেকের পাড়ে অবস্থিত কক্ষগুলোর বেশিরভাগেও এখন দিনের বেলা বিদ্যুৎ ছাড়া অন্ধকার থাকে।
৫৮ হাজার ৩২৭ দশমিক ৫৯ বর্গমিটার এলাকায় অবস্থিত সংসদ এলাকার মধ্যে পার্লামেন্ট ভবনের অবস্থান ৩ দশমিক ৪৪ একর জমিতে। পাশাপাশি উত্তর প্লাজা ১ দশমিক ৪৬ একর, দক্ষিণ প্লাজা ৪ দশমিক ৯৮ একর এবং বাকি জমিতে আবাসিক ভবন, হোস্টেল, বাগান, রাস্তা, লেক ইত্যাদি রয়েছে। ভবন কমপ্লেক্সে ৫০টি সোপান, ৩৪০টি শৌচাগার, ১ হাজার ৬৩৫টি দরজা, ৩৩৫টি জানালা, ৩০০টি পার্টিশন দেয়াল, ৩ হাজার ৩৩০ দশমিক ৫৭ বর্গমিটার কাচের শাটার, ৫ হাজার ৪৩৪ দশমিক ৮৩ বর্গমিটার কাঠের শাটার এবং ৩ হাজার ৭৩৮ ঘনমিটার কাঠের প্যানেল রয়েছে। ভবনের সর্বোচ্চ তলাটি বা লেভেল ১০ ব্যবহার্য বিভিন্ন যন্ত্রপাতির জন্য নির্ধারিত।
গণপূর্ত বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, লুই কানের নকশায় ভবনের কক্ষের সংখ্যা থাকার কথা ৪০০। কিন্তু এখন আছে ৫০০-এরও বেশি। বড় কক্ষগুলোতে কাঠের বিভাজন দিয়ে অনেক ছোট কক্ষ তৈরি করা হয়েছে। এই ভবনে কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকলেও নকশাবহিভূত এসব কক্ষের জানালার পাশে আলাদা শীতাতপ যন্ত্র লাগানো হয়েছে। এটা করতে গিয়ে অনেক জানালা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পশ্চিম ব্লকে সচিবের কক্ষের সামনের উন্মুক্ত জায়গা কাচ দিয়ে ঘিরে নতুন একটি কক্ষ বানানো হয়েছে। প্রাকৃতিকভাবে আলোকিত এই জায়গাটি এখন প্রায় অন্ধকার।
সংসদের গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফজলুল হক বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে কতগুলো কক্ষ ভাঙা হবে, তা এখনও যাচাই-বাছাই করা হয়নি। তবে লাইটিং এরিয়া বন্ধ করে বানানো কক্ষগুলো ভাঙার বিষয়ে নির্দেশনা পাওয়া গেছে।’
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর থেকেই সংসদের ভেতরে-বাইরে জিয়ার কবর অপসারণের বিষয়ে পক্ষে-বিপক্ষে নানা আলোচনা সামনে আসে। বিভিন্ন সময়ে এ নিয়ে রাজনৈতিক মাঠও গরম করেছেন রাজনীতিবিদরা। জুলাইয়ে শেষ হওয়া সর্বশেষ বাজেট অধিবেশনেও জিয়ার কবর সরিয়ে নেওয়ার দাবি তুলেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।
২০১৪ সালে এ নিয়ে তুমুল রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনার নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মহাফেজখানায় সংরক্ষিত মূল নকশা সংগ্রহের উদ্যোগ নেয় সংসদ সচিবালয়। সরকারের পক্ষ থেকেও জানানো হয়, মূল নকশা হাতে পাওয়ার পরই জিয়ার কবর সরানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। গত বছরের ২৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী এই নকশা দেখেন। এরপর ওই নকশার কপি ন্যাশনাল আর্কাইভ, স্থাপত্য অধিদপ্তর ও সংসদ সচিবালয়ে সংরক্ষণের জন্য রাখা হয়।
মূল নকশা প্রধানমন্ত্রীকে প্রদর্শনের সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি কাজী গোলাম নাসির। তিনি জানান, সংসদের মূল নকশার কপি তাদের দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে তারা সরকার বা সংসদের কাছ থেকে কোনো লিখিত নির্দেশনা এখনও পাননি। তাই নকশা অনুযায়ী মূল ভবনের মধ্যে বা সংসদের সীমানায় নকশাবহিভূত স্থাপনা কোনটি তা যাচাই-বাছাই করা হয়নি। জিয়ার কবর সংসদের নকশার মধ্যে রয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া কিছুই বলা সম্ভব নয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, লুই আই কানের মূল নকশার প্রথম ধাপ ছিল ২০৮ একর জায়গার ওপর জাতীয় সংসদ ভবন নির্মাণ। যার সামনে ও পেছনেও বিস্তীর্ণ সবুজ খোলা মাঠ থাকবে। চারদিকে আট লেনের সড়ক, মাঝখানে লেক। দ্বিতীয় ধাপে লেকের পর বিস্তীর্ণ সবুজ। এছাড়া বাকি জায়গায় গড়ে তোলা হবে সচিবালয়, লাইব্রেরি, জাদুঘর, হাসপাতালসহ প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক বলয়।
১৯৬১ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের আমলে বর্তমান সংসদ ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। তখন স্থপতি মাজহারুল ইসলামকে এই ভবনের স্থপতি নিয়োগ করা হয়। তার প্রস্তাবেই লুই আই কান এই প্রকল্পের প্রধান স্থপতি হিসেবে নিয়োগ পান। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ১৯৮২ সালের ২৮ জানুয়ারি এ ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়।

কারিকা প্রতিবেদক
বায়ুদূষণের মাত্রায় লাগাম টানতে দেশে প্রথমবারের মতো বায়ুদূষণবিরোধী আইন করতে যাচ্ছে সরকার।
‘নির্মল বায়ু আইন’ শিরোনামের আইনের মাধ্যমে বায়ুদূষণকারীদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে যেতে চায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।
খসড়া আইন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বায়ুদূষণের অপরাধ প্রমাণিত হলে দুই বছরের কারাদন্ড অথবা অনূর্ধ্ব ২ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দন্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আইনটি পাস হলে প্রথমবার শাস্তি ভোগ করার পর আবার বায়ুদূষণ করা হলে দুই থেকে দশ বছর পর্যন্ত কারাদন্ড দেওয়া হবে। জরিমানা গুনতে হবে ২ থেকে ১০ লাখ টাকার মধ্যে। কিংবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হতে হবে। তৃতীয়বার একই অপরাধ করলে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালত, বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট ও পরিবেশ আদালত- এই তিনটি আদালতে বায়ুদূষণের মামলা চলবে। খসড়া আইনটি তৈরি করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা)।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আইনটি বাস্তবায়ন করা কতটা সহজ হবে- জানতে চাইলে বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘বাংলাদেশে এমন অসংখ্য আইন আছে। আইনে কঠোর শাস্তির কথাও বলা আছে। কিন্তু আইন বাস্তবায়িত হয় না। আমরা ভারত, ভিয়েতনামসহ কয়েকটি দেশের বায়ুদূষণ আইন পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের বাস্তবতায় ‘নির্মল বায়ু আইন’টির খসড়া তৈরি করে দিয়েছি। দেখার বিষয়, আইনটির যথাযথ বাস্তবায়ন হয় কিনা। আমরা চাই, যারা বায়ুদূষণ করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। সেটা বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব সরকারের।’
বায়ুদূষণের অপরাধী চিহ্নিত করার উপায় সম্পর্কে খসড়া আইনে বলা হয়েছে, আইনের মাধ্যমে সরকার প্রথমে বায়ুদূষণের মানমাত্রা ঠিক করে দেবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সরকারের বেঁধে দেওয়া মানমাত্রা অতিক্রম করলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। আইনটি পাস হওয়ার এক বছরের মধ্যে সরকার বায়ুদূষণের মানমাত্রা, এর পদ্ধতি ও মানদন্ড নির্ধারণ করে দেবে। সরকারি সংস্থা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তি- যারা-ই নির্ধারিত মানমাত্রার চেয়ে বেশি বায়ুদূষণ করবে, তাদের একটি তালিকা করা হবে। সেই তালিকা ধরে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।
জানা গেছে, খসড়া আইনটি নিয়ে গত মাসে দিনভর বৈঠক হয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তরে। খসড়াটি পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে সংসদীয় কমিটি হয়ে পাঠানো হবে মন্ত্রিসভায়। তার আগে বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়া হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানান, বেশ কয়েকটি দিক বিবেচনা করে অর্থদন্ড কিংবা কারাদন্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। প্রথমেই দেখা হবে ওই ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানের বায়ুদূষণের পেছনে অবহেলা ও অসাবধানতার মাত্রা কতটা। জনস্বাস্থ্য, জনকল্যাণ ও পরিবেশের জন্য ওই অপরাধ কতটা প্রভাব রাখছে- এসব দিক বিবেচনা করে শাস্তি দেওয়া হবে। তবে দ্বিতীয়বার শাস্তি পাওয়ার পরও যদি কেউ বায়ুদূষণ করে তাহলে তার ওই শিল্প-কারখানা কিংবা প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়া হবে।
বাংলাদেশে কোন কোন খাত থেকে বায়ুদূষণ হয় এবং কাদের এই আইনের আওতায় আনা হবে, সে বিষয়ে আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্র, ইটভাটা, সিমেন্ট, বয়লার, ইস্পাত, লৌহ ও ঢালাই, অ্যালুমিনিয়াম, কাগজ, চামড়া, ওষুধ, সার, ব্যাটারি, রাসায়নিক, সিরামিক, কাচ, বর্জ্য, চুল্লি, কাঠ, কয়লা ও জাহাজভাঙা শিল্পের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের এই আইনের আওতায় আনা হবে। এছাড়া যানবাহন, ইঞ্জিন শক্তি, অভ্যন্তরীণ নৌযানের সঙ্গে যুক্তদেরও এই আইনের আওতায় আনা হবে।
এই আইনের আওতায় কোনো কোম্পানি নির্ধারিত মানমাত্রার বেশি বায়ুদূষণ করলে অপরাধটি সংঘটনের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত সব ব্যক্তি দায়ী হবে। তাদের বিরুদ্ধে যথারীতি আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কেউ যদি প্রমাণ করতে পারেন, অপরাধটি তার অজ্ঞাতসারে হয়েছে বা অপরাধটি না হওয়ার জন্য তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন, তাহলে তাকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে না। কোনো শিল্প-কারখানা ও প্রতিষ্ঠানে সরকারের বেঁধে দেওয়া মানমাত্রার চেয়ে বেশি পাওয়া যায় এবং সেখানে যদি প্রমাণিত হয় ওই অপরাধটি ওই কোম্পানির পরিচালক, ব্যবস্থাপক ও সচিবের সম্মতি এবং যোগসাজশে হয়েছে, তাহলে তাকে যথারীতি আইনি প্রক্রিয়ায় শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। সরকারি সংস্থার ক্ষেত্রেও একই বিধান রাখা হয়েছে।
আইনের সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক জিয়াউল হক বলেন, ‘বিদ্যমান পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে বায়ুদূষণের বিরুদ্ধে শক্ত কোনো ধারা নেই। শুধু বলা আছে, কেউ বায়ুদূষণ করলে পরিবেশ অধিদপ্তর ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বায়ুদূষণ বন্ধ করতে লিখিত নির্দেশ দিতে পারে। কিন্তু সরকার চায় একটা শক্ত আইন। যে আইনে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে শাস্তির আওতায় আনা যায়। আইনটি পাস হলে পরিবেশ অধিদপ্তরের ক্ষমতা আরও বাড়বে।’
খসড়া আইনটি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আইনের মাধ্যমে একটি বায়ুমান উন্নয়ন তহবিল গঠন করবে সরকার। সে তহবিলে টাকা আসবে সরকারের বাজেট অনুদান, বায়ুদূষণকারী ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া জরিমানা এবং আন্তর্জাতিক উৎস থেকে পাওয়া অনুদান থেকে। এই তহবিলের টাকা দিয়ে অভিযান, মামলা পরিচালনা করা হবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি বায়ুদূষণ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ, বায়ুর গুণগত মান রক্ষা ও উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখে, তাহলে সরকার সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করবে।
সম্প্রতি এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানা গেছে, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত ৩০ শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ১৭তম। বিশ্বের সবচেয়ে বায়ুদূষিত শহরের তালিকায় আছে বাংলাদেশের নাম। ২০১৮ সালের বায়ুদূষণের মাত্রা নিয়ে চলতি বছরের মার্চ মাসে গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে বেসরকারি সংস্থা এয়ারভিজ্যুয়াল ও গ্রিনপিস। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর বায়ুদূষণ রোধে নড়ে-চড়ে বসেন নীতিনির্ধারকরা। এরপরই বায়ুদূষণ রোধে কঠোর আইন প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। রাজধানীতে বছরজুড়েই খোঁড়াখুঁড়ি করে ওয়াসাসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থা। এতে বায়ুদূষণ হয় মারাত্মকভাবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৫৮ শতাংশ বায়ুদূষণ হয় ইটভাটা থেকে, যেসব ইটভাটা পরিচালনা করেন রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা। ফলে নতুন আইন পাস হলেও এটি কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় আছে পরিবেশবাদীদের মধ্যে।

0 94

কারিকা প্রতিবেদক
নকশাবহিভূত ভবন নির্মাণ, ফ্ল্যাট বিক্রিতে অনিয়ম, চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে না দেওয়াসহ নানা অভিযোগ রয়েছে আবাসন শিল্পের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের মধ্যে বনানীর এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকান্ডের পর রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নকশাবহিভূত ভবন নির্মাণের অনিয়মের বিষয়টি সামনে চলে আসে। তাই আবাসন খাতের অন্যান্য অভিযোগের পাশাপাশি রাজউকের নকশাবহিভূত ভবন নির্মাণের অনিয়মটি গুরুত্ব সহকারে দেখছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাই এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযানও শুরু করেছে তারা। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য। এ বিষয়ে দুদকের হটলাইন ১০৬ নম্বরে বেশি অভিযোগ আসছে বলেও জানান তিনি। তবে আবাসন খাতের সরকারস্বীকৃত একমাত্র সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) বলছে, ফ্ল্যাট হস্তান্তরসহ নানা সমস্যা নিয়ে রিহ্যাবে ৫০০-এর মতো অভিযোগ জমা আছে। তবে এসব অভিযোগ বিপজ্জনক পর্যায়ে আছে বলে মনে করে না এই সংগঠনটি। প্রসঙ্গত, রিহ্যাবের বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১০৫৪টি। এই সদস্যরা বছরে প্রায় ১১ হাজার ফ্ল্যাট বিক্রি করে থাকে।
রাজধানীর বনশ্রীতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নকশা অমান্য করে বহুতল ভবন নির্মাণ করছে ‘শীতল প্রোপার্টিজ লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। শীতল গ্র্যান্ড প্যালেস নামে ওই বহুতল ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে সম্প্রতি দুদফা নোটিশও পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তারপরও ভবন নির্মাণ বন্ধ না করায় গত ১৮ জুলাই সেখানে অভিযান চালায় দুদক। দুদক প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আফরোজা হক খানের নেতৃত্বে পরিচালিত হয় এই অভিযান। পরে রাজউকের নকশা অমান্য করে ভবন নির্মাণের কারণে শেষবারের মতো চূড়ান্ত নোটিশ পাঠায় দুদক। একই সঙ্গে চূড়ান্ত নোটিশ অমান্য করলে রাজউকের জোন-৬-এর অথরাইজড অফিসারকে ভবনের নির্মিত অংশ উচ্ছেদের সুপারিশ করে দুদক টিম।
হটলাইনে অভিযোগ পেয়ে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম গত ১৫ জুলাই রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অভিযান চালায়। সেখানে ভবন নির্মাণের তদারকিতে থাকা রাজউকের অনিয়মের তথ্য মেলে। তাজমহল রোডে ‘ডি বিল্ডার্স অ্যান্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেড’ নামে একটি আবাসন প্রতিষ্ঠান রাজউকের বিধি লঙ্ঘন করে বহুতল ভবন নির্মাণ করছে বলে অভিযান চলাকালে প্রমাণ পায় দুদক। এ-সময় রাজউক জোন-৩-এর কর্মচারীরাও দুদক টিমের সঙ্গে ছিলেন।
অভিযানের সময় দুদক টিম ও রাজউক জোন-৩-এর সদস্যরা দেখতে পান, ভবনের চারপাশে যে পরিমাণ জায়গা রাখার কথা, তা রাখা হয়নি। ভবন নির্মাণে অনিয়মের বিষয়ে এলকাবাসীর আপত্তিও বেশ পুরনো। আপত্তি বিবেচনায় নিয়ে ডি বিল্ডার্স অ্যান্ড প্রোপার্টিজকে গত বছর ভবন ভেঙে ফেলার জন্য রাজউক চূড়ান্ত নোটিশও দিয়েছিল। পরে ওই নোটিশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট করে আবাসন প্রতিষ্ঠানটি। এ বছরের জানুয়ারিতে ওই রিট খারিজ হয়ে যায়। কিন্তু রিট খারিজ হওয়ার সাত মাস পরও রাজউক নতুন করে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হটলাইন ১০৬-এ বিধি লঙ্ঘন করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ করেন তিনজন ফ্ল্যাট মালিক। এরপর গত ২৬ মে নিউ বেইলি রোডে অভিযান চালায় দুদক। অভিযানের সময় নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নোটিশ দেয় দুদক। এ-সময় দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের সঙ্গে রাজউক জোন-৬-এর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
রাজউকের নকশাবহিভূত ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে নানা অভিযোগ ছাড়াও ফ্ল্যাট কেনা নিয়েও প্রতারণার ঘটনা ঘটছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে রিহ্যাব সচেতন আছে বলে জানিয়েছেন রিহ্যাবের ভাইস প্রেন্সিডেন্ট লিয়াকত আলী ভুঁইয়া। তিনি জানান, আবাসন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে তারা সেটা খতিয়ে দেখেন এবং তদন্ত করে ব্যবস্থা নেন।
রিহ্যাব বলছে, ফ্ল্যাট কেনার পর সময়মতো বুঝে না পাওয়ার অভিযোগ সবচেয়ে বেশি জমা পড়ে। এ তথ্যের সত্যতাও মেলে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এমন অনেক কোম্পানি আছে, যারা ফ্ল্যাট বা বাণিজ্যিকভাবে ফ্লোর বিক্রির নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহের পর উধাও হয়ে গেছে। কোম্পানি ও ব্যক্তির বিরুদ্ধেও এ-ধরনের হয়রানির তথ্য পাওয়া যায়। জানা যায়, কিছু ডেভেলপার ভবনের শুধু কাঠামো তৈরি করে ভেতরের সব কাজ ক্রেতার ওপর চাপিয়ে দেয়। মেয়াদ শেষে চুক্তি অনুযায়ী অন্যান্য সিভিল ওয়ার্ক, স্থাপনা যেমন- ট্রান্সফরমার, জেনারেটর, সোলার প্যানেল, লিফট, ইন্টারকম স্থাপন না করে সটকে পড়ে। আর এক্ষেত্রে রিহ্যাব, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা অন্যান্য সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের তেমন কোনো সহযোগিতা পান না প্রতারিত গ্রাহকরা। অথচ এ খাতে সরকারের যে রাজস্ব আয়, তার জোগানদাতা ক্রেতারা, ডেভেলপাররা নয়।
প্রায় আড়াই বছর আগে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার ৭ নম্বর রোডের ৪২৩ নম্বর ভবনের ৩/এ নম্বর ফ্ল্যাটটি কেনেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা প্রকৌশলী দেওয়ান শামসুল হুদা। ফ্ল্যাটের মালিক মুশরাত জাহানকে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা পরিশোধ করেছেন তিনি। এরপর হুদা-দম্পতি তাদের ফ্ল্যাটে ওঠেন। কিন্তু তখনও ফ্ল্যাটটি তাকে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়নি। গত বছরের ৬ ডিসেম্বর হুদা-দম্পতিকে ওই ফ্ল্যাট থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় গত বছরের ২ অক্টোবর আদালত মুশরাতকে এক বছরের কারাদন্ড ও ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা অর্থদন্ডের রায় দেন। তবে কারাদন্ডের রায় হলেও গ্রেফতার হননি মুশরাত। শামসুল হুদা বলেন, ‘ফ্ল্যাট অথবা টাকা ফেরত চাই আমি।’
ট্রাস্ট অ্যালায়েন্স টেকনোলজি লিমিটেড, রিহ্যাবের সদস্য এই কোম্পানিটি আবাসন ব্যবসা শুরু করে ২০০৯ সালে। বারিধারা, গুলশান, উত্তরাসহ রাজধানীর অভিজাত এলাকায় জমি কিনে ফ্ল্যাট নির্মাণের ঘোষণা দেয় এই প্রতিষ্ঠান। এরপর ২০১০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সাত বছরে গ্রাহকদের কাছ থেকে সর্বনিম্ন ৫০ লাখ টাকা থেকে প্রায় ৭ কোটি টাকা পর্যন্ত অগ্রিম নেয় তারা। এভাবেই প্রতিষ্ঠানটি হাতিয়ে নিয়েছে ৫০ কোটিরও বেশি টাকা। এরপর থেকে কোথাও এই প্রতিষ্ঠানের হদিস মিলছে না।
ট্রাস্ট অ্যালায়েন্সের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের কথা শিকার করেন রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট লিয়াকত আলী ভুঁইয়া। রিহ্যাব জানায়, প্রতারণায় অভিযুক্ত আবাসন কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রিহ্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর রিহ্যাব প্লট ও ফ্ল্যাটের ক্রেতা এবং ভূমির মালিকদের বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে পাঁচটি ডেভেলপার কোম্পানির সদস্যপদ বাতিল করে। ২০১৫ সালে ৮টি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানকে বহিষ্কার করে। ২০১৭ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি চার ডেভেলপার কোম্পানির সদস্যপদ বাতিল করে। আর ২০১৮ সালের ১১ অক্টোবর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইডিয়াল রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের সদস্যপদ বাতিলের তথ্য জানায় রিহ্যাব।

মিথ্যা তথ্যে হোম লোন নিলে জেল-জরিমানা
মিথ্যা তথ্য দিয়ে হোম লোন (বাড়ি নির্মাণের জন্য ঋণ) নিলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদন্ড বা ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রেখে ‘বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন আইন, ২০১৯’-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গত ২৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে আইনটি অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, ‘দি বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন অর্ডার ১৯৭৩’-এর অধীনে বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন গঠন করা হয়েছিল। ওই অর্ডারটি পরিমার্জন করে নতুন আইনটি নিয়ে আসা হয়েছে। নতুন আইনে খুব কম পরিবর্তন আনা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আগের শাস্তি বাড়ানো হয়েছে।

0 88

আগা খান অ্যাওয়ার্ড ফর আর্কিটেকচার ২০১৯

কারিকা প্রতিবেদক
কেরানীগঞ্জের দক্ষিণ কানারচরের ‘আর্কেডিয়া এডুকেশন প্রজেক্ট’ এ বছর আগা খান অ্যাওয়ার্ড ফর আর্কিটেকচার ২০১৯ জিতেছে। প্রজেক্টটির স্থপতি সাইফ উল হক।
গত ২৯ আগস্ট রুশ ফেডারেশনের তাতারস্তানের রাজধানী কাজানে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়।
‘আর্কেডিয়া এডুকেশন প্রজেক্ট’ একটি উভচর কাঠামোর স্কুল। এমন এলাকায় স্কুলটি অবস্থিত, যেখানে বছরের কয়েক মাস পানিতে নিমজ্জিত থাকে। যখন পানি আসে, তখন স্কুলটি ভেসে থাকে; পানি চলে গেলে সেটি মাটিতে দাঁড়িয়ে থাকে। স্কুলের পুরো কাঠামোটি তৈরি করা হয়েছে ড্রাম, বাঁশ ও দড়ি দিয়ে।
বিভিন্ন দেশের ছয়টি প্রজেক্ট এবার আগা খান অ্যাওয়ার্ড ফর আর্কিটেকচার পেয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও বাহরাইন, ফিলিস্তিন, রুশ ফেডারেশন, সেনেগাল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রকল্প পুরস্কার জিতেছে। বিজয়ীরা ১০ লাখ ডলার অর্থমূল্যের পুরস্কার ভাগ করে নেবে।
এ বছর পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় ছিল ২০টি প্রজেক্ট। এর মধ্যে দুটি প্রজেক্ট ছিল বাংলাদেশের। আর্কেডিয়া এডুকেশন ছাড়া অন্যটি হলো গাজীপুরের আম্বার ডেনিম লুম শেড।
আর্কেডিয়া এডুকেশন প্রজেক্টটি সম্পর্কে প্রতিযোগিতার বিচারকরা বলেছেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির সময় স্থানীয় সামগ্রী ব্যবহার করে কীভাবে সাশ্রয়ী ও টেকসই সমাধান সম্ভব, তা বাঁশের তৈরি স্কুলটি দেখিয়েছে। প্রজেক্টটি স্থপতি, নির্মাতা ও গ্রাহকের দলীয় প্রচেষ্টার ফল। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে তারা স্কুলটি নির্মাণে উদ্ভাবনী ক্ষমতা দেখিয়েছেন।
কেরানীগঞ্জের দক্ষিণ কানারচরের ইটাভাড়া সেতু-সংলগ্ন বুড়িগঙ্গার শাখা-নদীর তীরে বাঁশ ও ড্রাম দিয়ে তৈরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি নদীতে ভাসছিল। ঝকঝকে তকতকে স্কুল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক বিভাগের মো. আবদুস সালাম জানান, এখানে বছরে নয় মাস ক্লাস চলে। বর্ষার সময় নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রাখতে হয়। এখন স্কুল বন্ধ রয়েছে।
স্থপতি সাইফ উল হক বলেন, ‘বাংলাদেশের কোনো স্থাপনার জন্য আগা খান অ্যাওয়ার্ড ফর আর্কিটেকচার পাওয়া সম্মানের। প্রজেক্টে আমার সঙ্গে অনেকে কাজ করেছেন, তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’
মালেকা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের জন্য আর্কেডিয়া এডুকেশন প্রজেক্টটির নকশা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছিল ২০১২ সালের ডিসেম্বরে। নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে। ২০১৬ সালের ফ্রেরুয়ারিতে এটির নির্মাণ শেষ হয়। নির্মাণে ব্যয় হয় ৪৩ লাখ ৩০ হাজার ৭০০ টাকা।
প্রজেক্টটি সাধারণ হলেও এটি নদীর স্রোতে বাধা দেওয়া এবং বর্জ্য-ব্যবস্থাপনার মতো জটিল বিষয়গুলোর সমাধান করেছে বলে পুরস্কারের বিচারকরা মনে করেছেন। তারা বলেন, জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার মতো বৈশ্বিক সমস্যা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষার সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে প্রজেক্টটি সমাধানের পথ দেখিয়েছে।
উল্লেখ্য, স্থাপত্য পুরস্কারের ক্ষেত্রে প্রাচীন ও সম্মানজনক আগা খান অ্যাওয়ার্ড দেওয়া শুরু হয় ১৯৭৭ সাল থেকে। প্রতি তিন বছর পর এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
এর আগে ২০১৬ সালে এই পুরস্কার জিতেছিলেন দুই বাংলাদেশি স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম ও কাশেফ মাহবুব চৌধুরী। তাদের আগে বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশিদের দ্বারা নির্মিত তিনটি স্থাপনা পেয়েছিল এ পুরস্কার। সেগুলো হলো জাতীয় সংসদ ভবন, গ্রামীণ ব্যাংক হাউজিং প্রকল্প ও রুদ্রপুর স্কুল।

0 56

রুখসানা মিলি
গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও ঢাকা প্রায় শীর্ষে! তবে বসবাস অযোগ্যতার তালিকায়। গত বছরের দ্বিতীয় অবস্থান থেকে একধাপ এগিয়ে এবার ঢাকা তৃতীয়। তবে স্কোর আগের মতোই। আন্তর্জাতিক এক সংস্থার সনদে মিশ্র মতামত দিয়েছেন ঢাকার নাগরিকরা।
যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত বাণিজ্যবিষয়ক প্রভাবশালী সাময়িকী দি ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) প্রকাশিত ‘গ্লোবাল লিভিয়াবিলিটি ইনডেক্স-২০১৯’-এ ৫৫ স্কোর নিয়ে ঢাকার অবস্থান ১৩৮তম। ঢাকার চেয়ে বাজে অবস্থানে রয়েছে কেবল যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার দামেস্ক ও নাইজেরিয়ার লাগোস। ২০১৮ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৩৯তম। এবারের সূচকে স্বাস্থ্যসেবা খাতে ২৯.২, ঐতিহ্য ও পরিবেশগত বিষয়ে ৪০.৫, শিক্ষায় ৪১.৭ এবং অবকাঠামো খাতে ২৬.৮ স্কোর করেছে ঢাকা।
ইআইইউয়ের সূচকে যাদের নম্বর ৮০-এর উপরে কেবল সেসব শহরকে বসবাসের উপযুক্ত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। বসবাস অযোগ্যতায় চার ও পাঁচ নম্বরে আছে যথাক্রমে লিবিয়ার ত্রিপোলি এবং পাকিস্তানের করাচি।
রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাওলী বলেন, ‘বাসায় ঠিকমতো গ্যাস থাকে না। এ ছাড়াও যানজট, ঢাকার রাস্তায় গণপরিবহনে যাদের নিত্য যাতায়াত, তারা শহরের বসবাস যোগ্যতার বিষয়টি হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করতে পারবেন।’
তবে কর্মজীবী মাহমুদ হাসানের মতটা আবার ভিন্ন। তিনি বলেন, ‘ঢাকার নানান সমস্যা আছে, তবু বসবাসের যোগ্য নয়- বিষয়টি মেনে নেয়া অসম্ভব।’
স্থপতি ইকবাল হাবিবও ইআইইউয়ের এই প্রতিবেদনকে প্রত্যাখ্যান করেন। এ বিষয়ক এক লেখায় তিনি লিখেছেন, এই জরিপের মধ্যে ত্রুটি রয়েছে।
তার মতে, ঢাকার রায়েরবাজারে যে পরিমাণ জনঘনত্ব রয়েছে সেই পরিমাণ জনগণ যদি আমি মেলবোর্ন শহরে ঢুকিয়ে দেই, তবে মেলবোর্ন শহরের সব ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়বে। ঢাকার প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনঘনত্ব ৪৭ হাজার ৮০০। এই জরিপে জনঘনত্বের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়নি। কিন্তু অন্যান্য মাপকাঠিতে বিবেচনা করা হয়েছে। বিষয়টি আসলেই শুভঙ্করের ফাঁকি।
ইকবাল হাবিবের মতে, যেসব শহরের সঙ্গে ঢাকাকে তুলনা করার মধ্য দিয়ে বোঝা যায়, তারা আসলে প্রাণের শহর, মানবিক শহর, মানুষের শহরের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করতে ব্যর্থ হয়েছে বলেই আমাদেরকে এতটা নিচে নামিয়েছে। যে শহরে একুশের প্রভাতফেরি এবং পয়লা বৈশাখে লাখ লাখ মানুষ নির্বিঘ্নে আনন্দ করতে পারে, সে শহরকে কোনোভাবেই যুদ্ধবিধ্বস্ত শহরের সঙ্গে তুলনা করা যায় না।
ইআইইউয়ের প্রতিবেদনে সবচেয়ে বসবাসযোগ্য শহরের স্বীকৃতি পেয়েছে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা। এর পরই আছে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ও জাপানের ওসাকা শহর।

0 100

গুলশান বনানী রুটে নতুন বাস সার্ভিস ‘গুলশান চাকা’

কারিকা প্রতিবেদক
সন্ধ্যা। কাকলী বাসট্যান্ডে যাত্রীর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে বাস। অথচ মাসখানেক আগেও চিত্রটা ঠিক এমন ছিল না। অফিস শেষের সময়টাতে বাসের জন্য লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন যাত্রীরা। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর তবেই মিলতো কাঙ্খিত বাস। গত ২৬ জুলাই কাকলী-গুলশান ০২- নতুন বাজার রুটে ‘গুলশান চাকা’ নামে আরেকটি চক্রাকার এসি বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। তাতেই এই রুটের চেনা দৃশ্যের খানিকটা বদল হয়েছে। যানজট না থাকলে যাত্রীর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকছে বাস।
উদ্ধোধনের পর ‘গুলশান চাকা’ কিছুদিন নতুন বাজার থেকে বাড্ডা-গুলশান লিংক রোড ও গুলশান ১ নম্বরে চলাচল করেছিল। তবে নিরাপত্তার কারণে এই গাড়িগুলো গুলশান এলাকার বাইরে চলাচল না করতে গুলশান সোসাইটির পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়। এরপর সেই রুটের পারমিট বাতিল করা হয়েছে। নতুন এই বাস সার্ভিস চালু হওয়ার ফলে যাত্রী ভোগান্তি কমলেও ভাড়া নিয়ে আগের মতো অসন্তোষ রয়ে গেছে। ‘ঢাকা চাকা’র মতো গুলশান চাকার ভাড়াও বেশি বলে জানান যাত্রী জুনাইয়া তাবাসসুম। এক কিলোমিটার দূরত্বে যে ১৫ টাকা ভাড়া, আড়াই কিলোমিটারের ভাড়াও একই। তিনি নতুন বাজার থেকে গুলশান ২ নম্বরের ভাড়া ১০ টাকা হলে ঠিক হতো বলে মনে করেন।
‘গুলশান চাকা লিমিটেড’ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফতাব উদ্দিন বলেন, কাকলী থেকে নতুন বাজার পথে গুলশান চাকা বাস চলছে। কিছুদিন নতুন বাজার থেকে বাড্ডা-গুলশান লিংক রোড ও গুলশান ১ নম্বরে চলেছিল। তবে নিরাপত্তার কারণে এই গাড়িগুলো গুলশান এলাকার বাইরে চলাচল না করতে গুলশান সোসাইটির পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়। এরপর থেকে গুলশান-বনানীর বাইরে যাচ্ছে না এই বাস। তিনি জানান, ২০টি বাসের অনুমোদন দেওয়া আছে। বর্তমানে ১৮টির মতো চলছে। এ ছাড়া গুলশান ১ নম্বর পুলিশ প্লাজা হয়ে তেজগাঁও শিল্প এলাকার জিএমজি মোড় পর্যন্ত রুট পারমিট পাওয়া গেছে। এই রুটেও গাড়ি চলবে।
চক্রাকার বাস সার্ভিস ‘ঢাকার চাকা’ উদ্ধোধন হওয়ার পর প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক বলেছিলেন, বাস চলাচল বাড়লে পর্যায় ক্রমে ঢাকা চাকা’র ভাড়া কমানো হবে। কিন্তু তার মৃত্যুর পর এ ব্যাপারে আর কোন পদক্ষপ নেয়া হয়নি। বেসরকারি চাকরিজীবী সজিব ইসলাম সায়েম বলেন, ‘গুলশান এলাকায় একটিমাত্র কোম্পানির গণপরিবহন চলত আগে। বাসের জন্য দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। তবে নতুন বাসসেবা চালু হওয়ায় এই দাঁড়ানোর কষ্ট কমেছে। যখনই আসছি, একটি না একটি বাস পাচ্ছি। গুলশান চাকা বাসগুলোর সিট বেশ আরামদায়ক ,বাসটিও বেশ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন”
এর আগে চলতি বছরের মার্চে ধানমন্ডি-আজিমপুর রুটে এবং মে মাসে উত্তরাতে চক্রাকার বাস সার্ভিস চালু করে বিআরটিসি। রাজধানীর গণ পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে এলাকা ভিত্তিক চক্রাকার বাস সাার্ভিস সেবার পরিধি বাড়াতে চায় সরকার। সেজন্য পুরান ঢাকা ও মতিঝিল এলাকাকে কেন্দ্র করে আরেকটা চক্রাকার বাস সার্ভিস চালু করার কথা ভাবছেন সংশ্লিষ্টরা।