Home সর্বশেষ

মির্জা মাহমুদ আহমেদ

পরিকল্পিত সবুজ আবাসন গড়ার প্রত্যয়ে শুরু হয়েছে রিহ্যাব উইন্টার ফেয়ার ২০১৯। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র (বিআইসিসি) প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত আবাসন খাতের সবচেয়ে বড় এ মেলার আয়োজক রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। ২৪ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের ‘হল অব ফেমে’ পাঁচ দিনব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম। মেলা চলবে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শ. ম. রেজাউল করিম বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। সেই উন্নয়নে অবকাঠামোগত দিক দিয়ে রিহ্যাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সেবা সহজীকরণের নির্দেশনা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘প্ল্যান পাস করাতে আগে ১৬টি স্তর অতিক্রম করতে হতো। এখন সেটা চার স্তরে নামিয়ে আনা হয়েছে। বিদ্যমান চারটি স্তরেও যাতে ভোগান্তি না হয় সেজন্য অটোমেশন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। প্ল্যান পাস ছাড়াও ভূমির ছাড়পত্র ও মিউটেশন আগের থেকে দ্রুত সময়ে ও সহজে করা যাচ্ছে।’
আবাসন ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত রেজিস্ট্রেশন ফি কমানো বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আইন মন্ত্রণালয়ে রেজিস্ট্রেশন ফি কমানো-সংক্রান্ত ভেটিং শেষ হয়েছে। আশা করি আগামী সংসদ এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।’
আবাসন ব্যবসায়ীরা যাতে সরকারি টেন্ডারে অংশ নিতে পারেন সেজন্য অচিরেই ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস’ সংশোধন করা হবে বলেও তিনি জানান।
অসাধু ও প্রতারক আবাসন ব্যবসায়ীরা রিহ্যাবের সুনাম ক্ষুণ করছে উলে­খ করে তিনি এদের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে রিহ্যাবকে আহবান জানান। সকলের জন্য আবাসন নিশ্চিত করতে রিহ্যাব-সদস্যদের গুরুত্বগূর্ণ ভূমিকা পালনের ব্যাপারেও আহবান জানান মন্ত্রী।
সরকারি আবাসন প্রকল্পে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি দেশিয় বিনিয়োগকারীরা যাতে বিনিয়োগ করতে পারে সেই সুযোগ সৃষ্টি করা হবে উলে­খ করে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, ‘তুরাগ নদীর পাড়ে নতুন স্যাটেলাইট সিটি, কেরানীগঞ্জ স্যাটেলাইট সিটি, ঝিলমিল প্রকল্প, পূর্বাচল এবং উত্তরা থার্ড ফ্রেজে বিদেশি বিনিয়োগকারীর পাশাপাশি যাতে দেশিয় ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ করতে পারেন সেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট আলমগীর শামসুল আলামিন (কাজল)। রিহ্যাব সদস্য এবং ক্রেতাদের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করতে এই ফেয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট (প্রথম) লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, ভাইস প্রেসিডেন্ট (২) মো. আনোয়ারুজ্জামান, ভাইস প্রেসিডেন্ট কামাল মাহমুদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফিন্যান্স) ও ফেয়ার স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) প্রকৌশলী মোহাম্মদ সোহেল রানা এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. আব্দুল কৈয়ূম চৌধুরীসহ রিহ্যাব পরিচালকবৃন্দ ও অন্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ক্রেতা-দর্শনার্থীদের জন্য উম্মুক্ত মেলার দ্বার
উদ্বোধনের পর বুধবার বেলা দুইটা থেকে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের জন্য উম্মুক্ত হয় মেলার দ্বার। বাকি দিনগুলোতে সকাল ১০টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত ক্রেতা-দর্শনার্থীরা মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন। আয়োজক প্রতিষ্ঠান রিহ্যাব জানিয়েছে, প্লট-ফ্ল্যাট-বাণিজ্যিক স্পেসসহ গৃহায়ন-সংক্রান্ত পণ্যের বিপুল সমাহার রয়েছে এবারের আয়োজনে। পাশাপাশি নির্মাণ পণ্যসামগ্রীরও প্রদর্শনী থাকছে। আর ক্রেতাদের সুবিধার জন্যই থাকছে অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানের স্টল। আয়োজকদের আশা, মেলার প্রভাবে আবাসন খাতে গতির সঞ্চার হবে।
এবারের ফেয়ারে মোট ২৩০টি স্টল রয়েছে। এ বছর ৩০টি বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস ও ১৪টি অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানকে অংশগ্রহণ করার সুযোগ করে দিয়েছে রিহ্যাব।
মেলায় দুই ধরনের টিকিট রয়েছে-সিঙ্গেল এন্ট্রি ও মাল্টিপল এন্ট্রি। সিঙ্গেল এন্ট্রি টিকিট ৫০ টাকা এবং মাল্টিপল এন্ট্রি টিকিটের প্রবেশ মূল্য ১০০ টাকা। মাল্টিপল এন্ট্রি টিকিট দিয়ে একজন দর্শনার্থী মেলা চলাকালীন পাঁচবার প্রবেশ করতে পারবেন। এন্ট্রি টিকিট বিক্রি থেকে প্রাপ্ত সম্পূর্ণ অর্থ দুঃস্থদের সাহায্যার্থে ব্যয় করা হবে।
মেলার এন্ট্রি টিকিটের র‌্যাফল ড্রতে রয়েছে আকর্ষণীয় মূল্যবান পুরস্কার। মেলার শেষ দিন, ২৮ ডিসেম্বর রাত ৯টায় র‌্যাফল ড্র অনুষ্ঠিত হবে। র‌্যাফল ড্রর ১ম পুরস্কার হিসেবে রয়েছে একটি প্রাইভেট কার, ২য় পুরস্কার একটি মোটরসাইকেল, ৩য় পুরস্কার একটি ফ্রিজ, ৪র্থ পুরস্কার একটি ৪৩ ইঞ্চি এলইডি টেলিভিশন, ৫ম পুরস্কার একটি ওয়াশিং মেশিন, ৬ষ্ঠ পুরস্কার একটি ডিপ ফ্রিজ, ৭ম ও ৮ম পুরস্কার একটি করে মোবাইল ফোন, ৯ম পুরস্কার একটি মাইক্রোওয়েভ ওভেন এবং ১০ম পুরস্কার একটি এয়ার-কুলার। এ ছাড়া থাকবে আরও পাঁচটি পুরস্কার। www.rehabwinterfair2019.com ওয়েবসাইটে পুরস্কার বিজয়ীদের নাম প্রকাশ করা হবে।
উলে­খ্য, ২০০১ সাল থেকে রিহ্যাব ঢাকায় আবাসন মেলা শুরু করে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১২বার মেলা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে রিহ্যাব। ২০০৪ সাল থেকে রিহ্যাব বিদেশে হাউজিং ফেয়ার আয়োজন করে আসছে। এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ১২ বার, যুক্তরাজ্য, দুবাই, ইতালির রোম, কানাডা, সিডনি ও কাতারে একবার করে এবং দুবাইতে দু’বার ‘রিহ্যাব হাউজিং ফেয়ার’ আয়োজন করা হয়। এসব ফেয়ার আয়োজনের মাধ্যমে রিহ্যাব দেশে ও বিদেশে গৃহায়ন-শিল্পের বাজার সৃষ্টি ও প্রসারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখছে। অন্যদিকে প্রবাসী ক্রেতারা যেমন দেশে তাদের পছন্দের আবাসন খুঁজে পেয়েছে, পাশাপাশি এই ফেয়ারের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জিত হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি গৃহায়ন-শিল্প এবং লিংকেজ-শিল্প বিকাশেও অনন্য ভূমিকা পালন করে চলেছে রিহ্যাব।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভার্টিক্যাল রোলার মিল (ভিআরএম) এখন বাংলাদেশে

কারিকা প্রতিবেদক

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম উঠেছে শাহ্ সিমেন্টের। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভার্টিক্যাল রোলার মিল (ভিআরএম) স্থাপন করে এই রেকর্ড গড়ল বাংলাদেশের সিমেন্ট উৎপাদনে অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠানটি। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সিমেন্ট-শিল্পও পৌঁছে গেল নতুন এক মাইলফলকে।
এই ভার্টিক্যাল রোলার মিলের গ্রাইন্ডিং টেবিল ডায়ামিটার ৮.০৮ মিটার এবং রোলার টেবিল ডায়ামিটার ২.৬৪ মিটার। ছয়টি রোলার সমন্বিত এই ভিআরএম প্রতিদিন ১৫ হাজার এবং বছরে ৬০ লক্ষ টন সিমেন্ট উৎপাদন করতে সক্ষম। সিমেন্ট উৎপাদনে একই সঙ্গে আকারে বৃহৎ এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ের উদাহরণ পৃথিবীতে এটাই প্রথম। এ কারণে এই ভিআরএমকে ‘পৃথিবীর একক বৃহত্তম’ হিসেবে সত্যায়িত এবং নথিভুক্ত করেছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস।
সিমেন্টের উন্নত মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বালানি সাশ্রয়ী হিসেবে ভিআরএম প্রযুক্তি তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বে সমাদৃত। ভিআরএম প্রযুক্তিতে ডেনমার্কের এফএলস্মিথের বিশ্বব্যাপী সুখ্যাতি রয়েছে। শাহ্ সিমেন্টের নতুন এই ভিআরএম স্থাপনে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দিয়েছে এফএলস্মিথ।
নতুন এই ভার্টিক্যাল রোলার মিলে সর্বাধুনিক ডিজিটাল এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স (এআই) প্রযুক্তি সংযুক্ত করা হয়েছে। নিজেদের অগ্রযাত্রাকে আরেক ধাপ এগিয়ে নিতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভিআরএম প্রযুক্তি সংযুক্ত করার পরিকল্পনা হাতে নেয় শাহ্ সিমেন্ট। ডেনমার্কের এফএলস্মিথ ও বাংলাদেশের শাহ্ সিমেন্টের পারস্পরিক সহযোগিতায় আলোর মুখ দেখে ‘পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ভার্টিক্যাল রোলার মিল’।
এ প্রসঙ্গে আবুল খায়ের গ্রুপের পরিচালক (ব্র্যান্ড মার্কেটিং) নওশাদ চৌধুরী বলেছেন, ‘ক্রেতাদের আস্থাই শাহ্ সিমেন্টের মূল ভিত্তি। ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক ক্রেতা নিজের বাড়ি নির্মাণে শাহ্ সিমেন্টের ওপর আস্থা রেখেছেন। ক্রেতাদের এই অবিচল আস্থা আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে বড় স্বপ্ন দেখার; শাহ্ সিমেন্টকে নিয়ে, বাংলাদেশকে নিয়ে। আমরা যখন উৎপাদন-সক্ষমতা বাড়ানোর কথা ভাবছিলাম, তখন এমন উৎপাদন প্রক্রিয়ার কথা ভেবেছি, যা দেশজুড়ে শাহ্ সিমেন্টের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহই শুধু নিশ্চিত করবে না, প্রতিটি ব্যাগে সেরা মানের সিমেন্টের নিশ্চয়তাও দেবে।’
শাহ্ সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের পরিচালক (অপারেশন্স) হাফিজ সিকান্দার বলেছেন, ‘ক্রেতাদের নিরবচ্ছিন্নভাবে উন্নতমানের সিমেন্ট সরবরাহ শাহ্ সিমেন্টের মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রযুক্তিগতভাবে বড় একটি ধাপ এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল। আমরা প্রযুক্তিগত এই উৎকর্ষের জন্য এফএলস্মিথকে বেছে নিই, সিমেন্ট প্রযুক্তিতে যাদের রয়েছে ৪০ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা।’
তিনি জানিয়েছেন, শাহ্ সিমেন্টের ভিআরএম প্রযুক্তির সুফল পেতে আরও সংযোজিত হয়েছে ‘মাল্টি কম্পার্টমেন্ট সাইলো’। যার মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন বড় প্রকল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট কম্পোজিশনের সিমেন্ট উৎপাদন সহজেই সম্ভব। এর ফলে সাধারণ ক্রেতাদের পাশাপাশি দেশের বড় বড় অবকাঠামোগত প্রকল্পের জন্য সুনির্দিষ্ট কম্পোজিশনের সিমেন্ট সরবরাহও নিশ্চিত করতে পারবে শাহ্ সিমেন্ট।
শুধু আকারে বড় কিংবা অনেক বেশি উৎপাদন-সক্ষম বলেই নয়; এর সঙ্গে যুক্ত আছে ‘ইন্টেলিজেন্ট মনিটরিং কন্ট্রোল সিস্টেম’। যার মাধ্যমে কম্পিউটার-নিয়ন্ত্রিত প্যানেল থেকে পুরো প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করা হয়। ফলে উৎপাদিত সিমেন্টের গুণগত মান সূক্ষ থেকে সূক্ষতরভাবে বিশ্লেষণ সম্ভব হয়। একই সঙ্গে উৎপাদনের বিভিন্ন স্তরের সমন্বয়ও করা যায় যথাযথভাবে। এই ভিআরএমের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) উৎপাদন-প্রক্রিয়ায় কোনো সমস্যা দেখা দিলে নিজেই বিল্ট-ইন-টুলস দিয়ে বেশিরভাগ সমস্যার সমাধান করতে পারে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভিআরএম প্রযুক্তি সম্পর্কে এফএলস্মিথের ভাইস প্রেসিডেন্ট সরেন হোম বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমরা এর কারিগরি দিকগুলো উন্নয়নে নজর দিয়েছি, পাশাপাশি সিমেন্ট উৎপাদনকারীদের পরামর্শ নিয়ে এর অপারেশনে বিভিন্ন নতুন প্রযুক্তিও সংযোজিত হয়েছে। আমাদের যে ওকে মিলটি বাংলাদেশের শাহ্ সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজে স্থাপিত হয়েছে, একক মিল হিসেবে এই সময়ে তা বিশ্বে সর্ববৃহৎ। আমরা আশা করি, এর ফলে তারা গ্রাহকদের আরও উন্নত প্রযুক্তিতে উৎপাদিত সিমেন্ট সরবরাহে সক্ষম হবেন।’
সিমেন্ট-খাতে যুক্ত বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, এই শিল্পের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষে বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে আরও এগিয়ে নিল শাহ্ সিমেন্টের এই অর্জন।

হর্ন বাজালেই জেল-জরিমানা

কারিকা প্রতিবেদক

বাংলাদেশ সচিবালয়ের চারপাশ ‘নীরব এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে রাজধানী ঢাকার জিরো পয়েন্ট, পল্টন মোড় ও সচিবালয় লিংক রোড হয়ে চলাচলকারী যানবাহন চালকরা হর্ন বাজাতে পারবেন না। ১৭ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকালে ‘নীরব এলাকা’ বাস্তবায়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
সচিবালয়ের এক নম্বর গেটের সামনে বেলুন উড়িয়ে ‘নীরব এলাকা’ বাস্তবায়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন। এ সময় মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, উদ্বোধনের পর থেকে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আইন অমান্য করে এ এলাকায় হর্ন বাজানো গাড়ির চালকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
‘নীরব এলাকা’ বাস্তবায়ন কার্যক্রম সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ‘এখান (সচিবালয়) থেকে শুরু করা হলো। পর্যায়ক্রমে পুরো ঢাকাসহ সারা দেশে এটা কার্যকর করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘‘শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬ অনুযায়ী ‘নীরব জোন’ এলাকায় কেউ হর্ন বাজালে প্রথমবার সর্বোচ্চ এক মাসের কারাদন্ড বা সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন। একই অপরাধ পরবর্তী সময়ে কেউ করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদন্ড বা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন।’’
বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের অধীনে প্রণীত ‘শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬’ অনুযায়ী ‘নীরব এলাকা’ বলতে হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত বা একই জাতীয় অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান এবং এর চারিদিকে ১০০ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকাকে বোঝায়।
এর আগে, গত ২৫ নভেম্বর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় ১৭ ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশ সচিবালয়ের চারপাশ অর্থাৎ জিরো পয়েন্ট, পল্টন মোড়, সচিবালয় লিংক রোড হয়ে জিরো পয়েন্ট এলাকাকে নীরব জোন বা হর্নবিহীন এলাকা হিসেবে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে নিরব এলাকার বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না কেন জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘পরবর্তীতে আমরা হাসপাতাল এলাকাতেও যাব।’

0 50

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর

সোহরাব আলম

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত স্মৃতি সম্বলিত আধুনিক জাদুঘর ‘মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর’। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক দেশের প্রধান এই প্রতিষ্ঠান রাজধানীর আগারগাঁওয়ে প্রায় দুই বিঘা জায়গার ওপর নির্মিত। স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোর লড়াকু বাঙালির স্মৃতি, সত্তা ও আবেগ সংরক্ষণ করা হয়েছে এই জাদুঘরে। জাদুঘরটিতে রয়েছে প্রাচীন বাংলা থেকে বর্তমান বাংলাদেশের (১৯৭০ পর্যন্ত) পরম্পরার বিন্যাস। এটি নতুন প্রজন্মকে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানানোর এক পরিকল্পিত স্থান। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে গবেষণা, প্রকাশনা, ভ্রাম্যমাণ প্রদর্শনী, মৌখিক ইতিহাস সংগ্রহসহ বহুমুখী কার্যক্রমে সম্প্রসারিত এ জাদুঘর।
মুক্তিযুদ্ধের স্মারক প্রদর্শনের জন্য মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে রয়েছে চারটি গ্যালারি। ভবনের চতুর্থ ও পঞ্চম তলায় গ্যালারিগুলোতে স্থান পেয়েছে মুক্তিযুদ্ধের প্রতিনিধিত্বমূলক প্রত্ননিদর্শন। রয়েছে আলো-আঁধারির খেলাও। ২০ টাকায় প্রবেশ টিকিট কেটে র‌্যাম্পে হেঁটে যেতে হয় চতুর্থ তলায়। জাদুঘরের চারটি গ্যালারির দুটি এই তলায়। প্রথম গ্যালারিতে ঢুকলেই দেখা যায়, প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত; ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, পাকিস্তান পর্ব, রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন হয়ে সত্তরের সাধারণ নির্বাচন, দেশের ভূপ্রকৃতির বৈশিষ্ট্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতি, এ জনপদের প্রতিনিধিত্বমূলক বিভিন্ন প্রত্ননিদর্শন।
প্রথম প্রদর্শনকক্ষটির নাম : আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের সংগ্রাম। ফসিল, প্রাচীন টেরাকোটা, মৃৎপাত্র, শিলাখন্ডসহ নানা প্রকার নিদর্শনের সঙ্গে রয়েছে ঐতিহাসিক ঘটনা ও ব্যক্তির আলোকচিত্র।
দ্বিতীয় প্রদর্শনকক্ষের নাম : আমাদের অধিকার, আমাদের ত্যাগ। এই কক্ষ থেকেই দর্শক সরাসরি ঢুকে পড়বেন মহান মুক্তিযুদ্ধের পর্বে। স্বাধীনতার ঘোষণা, ৪ এপ্রিল কুষ্টিয়ার যুদ্ধ ও সারা দেশের গণহত্যার নিদর্শন রয়েছে এ গ্যালারিতে। আছে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সম্পৃক্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিসপত্র। আরও রয়েছে ১ জানুয়ারি ১৯৭১ সাল থেকে ৩০ এপ্রিল ১৯৭১ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সংগ্রহ। শব্দ ও আলোর প্রক্ষেপণের বিশেষ প্রদর্শনীর এ গ্যালারি আমাদের অধিকার, আমাদের ত্যাগের। আলোকচিত্র, নিদর্শন আর স্থাপনাকর্মে ফুটে উঠেছে রেসকোর্স ময়দানে ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ, ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মম হত্যাযজ্ঞ, প্রতিরোধযুদ্ধ ও মুজিবনগর সরকার গঠন।
এরপর সিঁড়ি বা লিফটে পঞ্চম তলায় গিয়ে দেখা যাবে বাকি দুটি। গ্যালারি দুটির নাম ‘আমাদের যুদ্ধ, আমাদের মিত্র’ আর ‘আমাদের জয়, আমাদের মূল্যবোধ’।
‘আমাদের যুদ্ধ, আমাদের মিত্র’ গ্যালারিতে রয়েছে ১ মে থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সব স্মৃতি। এরমধ্যে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া উদ্বাস্তুদের জীবনযাপন, তাদের সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ও যুদ্ধের বিভিন্ন প্রশিক্ষণকে সামনে আনা হয়েছে আলোকচিত্রের মধ্য দিয়ে। এ ছাড়া শরণার্থীদের ব্যাগ, কম্বল, যুদ্ধের সার্টিফিকেটসহ মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধ উপলক্ষে তৈরি বিভিন্ন পোস্টার, শহীদদের ব্যবহৃত সামগ্রী ও আন্তর্জাতিক সমর্থনকে তুলে ধরা হয়েছে।
‘আমাদের জয়, আমাদের মূল্যবোধ’ গ্যালারিতে ‘বিলোনিয়া যুদ্ধের মডেল’ ব্যবহার করে দর্শকদের দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ চলার সময়ের অভিজ্ঞতা স্বাদ। এখানে ঠাঁই পেয়েছে চিথলিয়া রেল স্টেশনে যুদ্ধের ধ্বংসাবশেষ। আছে ৭১-এর যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহৃত বিভিন্ন মেশিনগান, নারী নির্যাতনের বিভিন্ন চিত্র, মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহৃত অ্যাশট্রে, কলম, চশমা; যুদ্ধে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর নানা কার্যক্রম, দগ্ধ ঘরবাড়ির অংশসহ পাক হানাদারবাহিনীর আত্মসমর্পণের চিত্র।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ইতিহাস-সমৃদ্ধ চারটি গ্যালারি যেন জাতির গৌরবদীপ্ত ইতিহাসের সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার অন্যতম একটি মাধ্যম। একইসঙ্গে এ ইতিহাস সবসময় প্রেরণা সঞ্চার করে বিকশিত একটি সমাজ গঠনের।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের স্থপতি তানজিম হাসান সেলিম। তিনি কারিকা’কে বলেন, ‘আমার জীবনের এখন পর্যন্ত করা সবচেয়ে বড় কাজ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, যা নিয়ে আমি গর্ব করি। আমার চিন্তা ছিল, এটি যেন সারা বিশ্বের মুক্তি-সংগ্রামীদের আবেগের জায়গাটা ধরতে পারে। বিশেষত আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ মানুষের যে সংগ্রাম, রাজনৈতিক নেতাদের কূটনৈতিক তৎপরতা, সামরিক বাহিনীর ভূমিকা এবং সাধারণ মানুষকে প্রশিক্ষিত করায় ভূমিকা নেওয়া-সবগুলো বিষয়ই ধরার একটা প্রয়াস।’
স্থপতি তানজিম হাসান সেলিম আরও বলেন, ‘ভাগ্যক্রমে আমরা খুব কম সময়ে; মাত্র ৯ মাসে স্বাধীনতা পেয়েছি। কিন্তু এই ৯ মাসে অনেক জীবন গেছে, অনেক রক্ত ঝরেছে। অনেক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। যে হারিয়েছে, তার দুঃখ আমরা মুছে পারব না। অনেক মানুষ আছে, যারা হয়তো সে অর্থে স্বীকৃত নন কিন্তু যুদ্ধে তার অনেক অবদান আছে। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে এসে যেন তারা অনুভব করে, এটা তার আবেগের জায়গা।’
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর রোববার ও সরকারি ছুটির দিন ছাড়া সোম থেকে শনিবার প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। শীতকালে (অক্টোবর থেকে ফ্রেরুয়ারি) খোলা থাকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আর রমজান মাসে বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত।

কারিকা প্রতিবেদক

পরিবেশগত ছাড়পত্র ও তরল বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) ছাড়া বুড়িগঙ্গা নদীর দুই তীরে থাকা সব শিল্পকারখানা এক মাসের মধ্যে বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। গত ৮ ডিসেম্বর পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতি এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদেশ বাস্তবায়ন করে পরিবেশ অধিদপ্তরকে আগামী ৮ জানুয়ারি এ ব্যাপারে হাইকোর্টে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিতে হবে।
একই দিনে বুড়িগঙ্গার সঙ্গে যুক্ত ড্রেন ও স্যুয়ারেজ লাইনগুলো পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার অগ্রগতির প্রথম প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আদেশ দেওয়া হয়েছে ঢাকা ওয়াসাকে।
পরিবেশ অধিদপ্তর হাইকোর্টকে জানায়, বুড়িগঙ্গা নদীর দক্ষিণ পাড়ে অবৈধভাবে পরিচালিত ৫২টি কারখানা নদীর পানিতে বর্জ্য ফেলে দূষণ ঘটাচ্ছে। কারখানাগুলোর পরিবেশগত ছাড়পত্র ও তরল বর্জ্য শোধনাগার বা ইটিপি প্ল্যান্ট নেই। এগুলোকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নদীটির উত্তর পাড়েও কিছু কারখানা অবৈধভাবে চলছে। হাইকোর্টের আগের নির্দেশ অনুযায়ী কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে বলে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়। ২০১৭ সালে এ রকম ২৭টি কারখানা ও চলতি বছর ১৮টি কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে জানায় পরিবেশ অধিদপ্তর।
অন্যদিকে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ হলফনামা দিয়ে বলেছে, যেসব পয়নিষ্কাশন লাইন দিয়ে বুড়িগঙ্গায় বর্জ্য পড়ছে, সেগুলো আগামী ছয় মাসের মধ্যে তারা বন্ধ করে দেবে। এ বিষয়ে কর্মপরিকল্পনার জন্য নতুন একটি কমিটি গঠন করা হবে। প্রতি মাসে ওয়াসা প্রতিবেদন দিয়ে অগ্রগতি জানাবে। ওয়াসার কোনো পয়নিষ্কাশন লাইন দিয়ে বুড়িগঙ্গায় বর্জ্য নিঃসরিত হয় না বলে গত জুনে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের প্রতিবেদন আকারে দেওয়া হলফনামা সঠিক নয়। এজন্য নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করে আগের প্রতিবেদনটি উপস্থাপন না করার আর্জি জানান ওয়াসার আইনজীবী।
আদালত বলেছেন, ওইসব পয়নিষ্কাশন লাইন বন্ধে ওয়াসার কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ভিত্তিতে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা মঞ্জুর করে রুল থেকে অব্যাহতির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। পয়নিষ্কাশন লাইন বন্ধে ওয়াসার অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
ওয়াসার পক্ষ থেকে গত ১৮ জুন আদালতকে জানানো হয়, ওয়াসার কোনো পয়নিষ্কাশন লাইন দিয়ে বুড়িগঙ্গায় বর্জ্য নিঃসরিত হয় না। তবে বিআইডব্লিউটিএ’র দাখিল করা অপর প্রতিবেদন অনুসারে, ৬৮টি পয়নিষ্কাশন লাইন বা ড্রেন রয়েছে, যার মধ্যে ওয়াসার ৫৬টি লাইন। এমন প্রেক্ষাপটে গত ১৭ নভেম্বর আদালত দূষণ রোধে পদক্ষেপ না নেওয়ায় ও বুড়িগঙ্গায় পয়নিষ্কাশন সংযোগ না থাকা বিষয়ে দৃশ্যত অসত্য তথ্যের বিষয়ে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) ১৫ দিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলেছিলেন।
আদালতে আবেদনকারী মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া ও রিপন বাড়ৈ। পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আমাতুল করীম। ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী উম্মে সালমা।
বুড়িগঙ্গা নদীর পানি দূষণ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে এইচআরপিবির পক্ষে ২০১০ সালে একটি রিট করা হয়। চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১১ সালের ১ জুন তিন দফা নির্দেশনাসহ রায় দেওয়া হয়। এর মধ্যে বুড়িগঙ্গায় বর্জ্য ফেলা বন্ধে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে এবং বুড়িগঙ্গা নদীতে সংযুক্ত সব পয়ঃপ্রণালির লাইন (স্যুয়ারেজ) ও শিল্পকারখানার বর্জ্য নিঃসরণের লাইন ছয় মাসের মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশনা রয়েছে। তবে ওই নির্দেশনা পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়ায় গত ৩০ এপ্রিল সম্পূরক আবেদন করে এইচআরপিবি। এর পরিপ্রেক্ষিতে নির্দেশনা বাস্তবায়নে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জানিয়ে বিবাদীদের আদালতে অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

মোহাম্মদ আবদুর রশিদ টিপু
রাজধানী ঢাকাসহ ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলো রয়েছে আগুনের ঝুঁকিতে। চলতি বছর ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টা ও বনানীর এফ আর টাওয়ারে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের প্রাণ গেছে শতাধিক মানুষের। ফলে আবাসিক, দাপ্তরিক ও বাণিজ্যিক ভবনসহ কল-কারখানায় অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়টি এখন খুবই গুরুত্ব দিয়ে ভাবা হচ্ছে। কীভাবে আগুন থেকে নিরাপদ থাকা যাবে-এ সম্পর্কে কারিকা’র সঙ্গে কথা বলেছেন দেশের একমাত্র সার্টিফায়েড অগ্নিনিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ আবদুর রশিদ টিপু। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা স্টেট ইউনিভার্সিটির কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং আর্কিটেকচার অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে প্রথম সার্টিফায়েড ফায়ার সেফটি ইঞ্জিনিয়ার। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সোহরাব শান্ত

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অগ্নিনিরাপত্তার দিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান কেমন?
আগুন লাগার ঘটনা যেকোনো সময়ই ঘটতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে উন্নত দেশগুলো এসব ব্যাপারে সচেতন। তারা যেকোনো ভবনের অগ্নিপ্রতিরোধ ব্যবস্থায় জোর দেয়। ফলে যেকোনো অগ্নিকান্ডকে সহজে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে পারে এবং ওইসব দেশে প্রাণহানিও অনেক কম।
অগ্নিনিরাপত্তার দিক দিয়ে গড়পড়তায় আমাদের দেশের অবস্থান খুব ভালো- তা বলা যাবে না। তবে গার্মেন্টস সেক্টর এর ব্যতিক্রম। বাংলাদেশের প্রায় সব গার্মেন্টস কারখানা এখন অনেক সুরক্ষিত। সাভারের রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পর কারখানাগুলো অগ্নিনিরাপত্তায় ব্যাপক সতর্কতামূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তবে ভারী শিল্প-কারখানাগুলো এদিক দিয়ে অনেক পিছিয়ে আছে। বাণিজ্যিক ভবনসহ অন্যান্য ভবনেও অগ্নিনিরাপত্তায় ঘাটতি আছে।

অগ্নিনিরাপত্তায় ঘাটতির কারণ কী বলে মনে করেন? এ থেকে উত্তরণের উপায় কী?
অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটা ব্যয়বহুল ব্যাপার। আমাদের দেশের ভবন মালিক বা কারখানার মালিকরা খরচের ভয়ে এ দিকটিতে ততটা গুরুত্ব দেন না। আবার অনেক কারখানা মালিক তা করতে গিয়ে খরচ মেটাতে হিমশিম খান। এর কারণ হলো দক্ষ ফায়ার সেফটি ইঞ্জিনিয়ার এবং দক্ষ লোকবলের অভাব। যারা বাংলাদেশে ফায়ার সেফটি নিয়ে কাজ করেন, তাদের স্বল্প জ্ঞান ও অনেক ক্ষেত্রে ওভার ডিজাইনের কারণে খরচ বেড়ে যায়। আবার সঠিক ডিজাইনেরও ভুলভাবে স্থাপনের কারণে সিস্টেম কাজ করে না। তাই কারখানার মালিকদের উচিত একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ ফায়ার সেফটি ইঞ্জিনিয়ার দ্বারা ডিজাইন করা। এতে খরচ কমবে এবং সিস্টেমও কাজ করবে। পাশাপাশি দেশে ফায়ার সেফটির ওপর প্রাতিষ্ঠানিক কোর্স চালু করতে হবে। এতে দেশে গড়ে উঠবে দক্ষ ফায়ার সেফটি ইঞ্জিনিয়ার।

অগ্নিকান্ডের কারণ কী কী?
বৈদ্যুতিক ত্রুটির পাশাপাশি সিগারেটের আগুন, গ্যাসের চুলা, গ্যাস সিলিন্ডার, রাসায়নিক দ্রব্য, বিস্ফোরণ, আগুন নিয়ে খেলা ও অসতর্কতাসহ নানা কারণে ঘটে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড। বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ও রান্নার সরঞ্জাম, ওয়াশিং মেশিন, হিটার, ড্রায়ার, এয়ার কন্ডিশনার, ফ্যান, রাসায়নিক গ্যাস, প্রাকৃতিক গ্যাস ও এলপি গ্যাসের কারণে আগুন লাগতে পারে। ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক তারও অগ্নিকান্ডের কারণ হয়। বৈদ্যুতিক তারের লুজ কানেকশন, প্ল্যাগ ওভার লোডেড, পুরনো বৈদ্যুতিক ইকুইপমেন্ট ব্যবহার ইত্যাদি অগ্নিকান্ডের কারণ হতে পারে। এছাড়া যেকোনো দাহ্য বস্তুর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বড় অগ্নিকান্ডের কারণ হতে পারে। পাইপলাইনের মাধ্যমে বা সিলিন্ডার ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে অসতর্কতায় রান্নাঘরে গ্যাস জমে থাকলে দেয়াশলাইয়ের কাঠি জ্বালালে এমনকি মশা মারার ব্যাট চালু করলেও আগুন লাগতে পারে। এছাড়া বজ্রপাত থেকেও আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।

ছোট-বড় ভবনগুলোকে অগ্নিকান্ড থেকে রক্ষায় কী করা উচিত?
চারটি বিষয় বিবেচনা করে ভবন নির্মাণ করলে আমরা সহজেই ভয়াবহ অগ্নিকান্ড থেকে রক্ষা পেতে পারি-
১. অগ্নিপ্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ফায়ার প্রটেকশন
২. ফায়ার অ্যালার্ম সিস্টেম
৩. আগুনকে আবদ্ধ করে রাখার ব্যবস্থা ও
৪. নিরাপদ বহির্গমন পথ।
অগ্নিপ্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ফায়ার প্রটেকশনের মধ্যে ‘স্প্রিংকলার সিস্টেম’ অন্যতম। অগ্নিকান্ডে স্প্রিংকলার সিস্টেম একটি সক্রিয় অগ্নিসুরক্ষা পদ্ধতি। এই সিস্টেম পর্যাপ্ত পানিপ্রবাহ দ্বারা পরিচালিত। সিস্টেমটি বৃহৎ বাণিজ্যিক ভবন, হাসপাতাল, হোটেল, শিল্প-কারখানা, ঘরবাড়ি এবং ছোট ভবনে স্থাপন করা যায়। যদিও পদ্ধতিটি ব্যয়বহুল, সারা বিশ্বে এই পদ্ধতি ব্যবহার হচ্ছে। অ্যামব্রোস গডফ্রে ১৭২৩ সালে প্রথম সফল স্বয়ংক্রিয় স্প্রিংকলার সিস্টেম তৈরি করেন। আমেরিকায় ১৮৭৪ সাল থেকে স্প্রিংকলার সিস্টেম ব্যবহার শুরু হয়। উন্নত বিশ্বে স্প্রিংকলার সিস্টেম স্থাপনে টোটাল কনস্ট্রাকশন খরচের মাত্র ১ শতাংশ খরচ হয়। আমাদের দেশে খরচ হয় প্রায় ২ থেকে আড়াই শতাংশ। কারণ আমাদের দেশে সব সরঞ্জাম বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। অগ্নিপ্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ফায়ার প্রটেকশনে আরেকটি বিষয় হলো-স্ট্যান্ডপাইপ সিস্টেম, যা ফায়ার পাম্পের সঙ্গে পাইপের মাধ্যমে সংযুক্ত করা থাকে।
ফায়ার অ্যালার্ম সিস্টেম প্রাণহানি রোধে খুবই কার্যকর। কোনো ভবনে আগুন লাগলে, কেউ যদি দেখতে পায়, তাহলে সেই ব্যক্তি অ্যালার্ম সুইচে চাপ দিলে সেন্ট্রালি বেল বেজে উঠবে এবং লোকজন সহজে ভবনে আগুন ছড়ানোর আগেই বের হয়ে আসতে পারবে। ফায়ার ডিটেকশন সিস্টেম আগুন লাগার প্রাক্কালে ধোঁয়াকে শনাক্ত করে এবং ফায়ার অ্যালার্ম কন্ট্রোল প্যানেলে সংকেত পৌঁছায়। এতে করে সহজেই মানুষ অগ্নিকান্ডের উৎপত্তিস্থল এবং অগ্নিকান্ড সম্পর্কে অবগত হতে পারে।
আগুনকে আবদ্ধ করে রাখার ব্যবস্থা (ফায়ার কনটেইনমেন্ট) হলো, যে কক্ষে বা ফ্লোরে আগুন লাগে সেখানেই আগুনকে আটকে রাখার ব্যবস্থা। অর্থাৎ আগুনকে ছড়াতে না দেওয়া। এর জন্য ফায়ার ডোর স্থাপন এবং ফ্লোর টু ফ্লোর পেনিটেশন বন্ধ করা উচিত। তাতে সহজেই এক ফ্লোর থেকে অন্য ফ্লোরে আগুন যেতে পারবে না।
নিরাপদ বহির্গমন পথ বা বের হয়ে যাওয়ার ব্যবস্থাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেক ভবনের ফ্লোর থেকে সিঁড়ি যদি আলাদা করা থাকে, তাহলে লোকজন নিরাপদে ও সহজে ভবন থেকে অক্ষত অবস্থায় বের হয়ে আসতে পারবে।
এই চারটি বিষয় মেনে বহুতল ভবন, কল-কারখানা, হোটেল, স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, আবাসিক ভবন ইত্যাদি নির্মাণ করা হলে আমাদের দেশে বড় ধরনের অগ্নিকান্ড ঘটার ঝুঁকি কমে যাবে। আগুন লাগলেও কোনো প্রাণহানি ঘটবে না। দেশের সরকারি ও বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে ফায়ার প্রটেকশন এবং ডিটেকশনের আওতায় আনা উচিত। বিভিন্ন ভবনে এই সুবিধা না থাকলে এসব ভবনের অভ্যন্তরে অবস্থানকারী কেউ জানতে পারবে না আকস্মিক অগ্নিকান্ডের তথ্য।

অগ্নিকান্ড রোধে সচেতনতার বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখেন?
অগ্নিদুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেতে সবাইকে সচেতন হতে হবে। ফায়ার ব্রিগেডসহ জনগণকে অধিক সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। বর্তমানে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে অগ্নিকান্ডের খবর আসছে। তাই সিলিন্ডার ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার পরিহার করতে হবে। গ্যাস সিলিন্ডারে সাংকেতিকভাবে মেয়াদ উল্লেখ থাকে। যেমন সিল্ডিারের গায়ে ই২২ লেখা থাকলে বুঝতে হবে ওই সিলিন্ডারটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার তারিখ ২০২২ সালের জুন মাস। এলপিজি বছরকে মোট চারটি ভাগে ভাগ করে। সেগুলো হলো-A, B,C ও D
Aমানে জানুয়ারি থেকে মার্চ, B মানে এপ্রিল থেকে জুন,Cমানে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর এবং D মানে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর। মেয়াদের তারিখ এই কোড অনুযায়ীই নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।

আবদুল্লাহ আল মামুন
সড়ক খোঁড়াখুঁড়ির দুর্ভোগ থেকে সহসা মুক্তি মিলছে না চট্টগ্রাম নগরবাসীর। চট্টগ্রাম ওয়াসার সড়ক খোঁড়াখুঁড়ির মধ্যে এবার সড়ক কাটার অনুমতি পেয়েছে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)। এরপর মাটির নিচে কেবল (তার) স্থাপনের কাজ শুরু করবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। ফলে নগরবাসীর দুর্ভোগ আরো বাড়বে। সড়ক কাটার পর তাৎক্ষণিক সংস্কার না করায় শুষ্ক মৌসুমে ধুলা এবং বৃষ্টির সময় কাদার যন্ত্রণায় ভুগতে হয় লোকজনকে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন আগামী এক দশকেও এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে না নগরবাসী। তবে সেবা সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীন প্রকল্প নেওয়ার কারণে জনদুর্ভোগ বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত সব সেবা প্রদানকারী সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর প্রধানকে করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করতে ২০১৬ সালের ২৭ জুন পরিপত্র জারি করে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়। কিন্তু এই নির্দেশ মানছে না সেবা সংস্থাগুলো।
চট্টগ্রাম নগরের পানি সরবরাহ বাড়ানোর জন্য ‘কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প-২’ এবং ‘চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ উন্নীতকরণ ও স্যানিটেশন প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করছে। এই দুটি প্রকল্পের আওতায় নগরের সাড়ে ৬০০ কিলোমিটার সড়ক কাটছে ওয়াসা। ৬০০-এর বেশি সড়ক ধাপে ধাপে কাটা হচ্ছে। এরপর শুরু হবে চট্টগ্রাম মহানগরীর পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা স্থাপন প্রকল্প। ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকার এ প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৩ সাল পর্যন্ত। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুতগতিতে কাজ চলছে। এ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে ২০৩০ সালে। কাজের গতি ধীর হলে ২০৪০ সালে গিয়ে ঠেকবে। ‘মডার্নাইজেশন অব টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক ফর ডিজিটাল কানেকটিভিটি’ প্রকল্পের আওতায় অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল স্থাপনে নগরের প্রায় ১০৪ কিলোমিটার সড়ক খোঁড়ার অনুমতি পেয়েছে বিটিসিএল। গত ৩ অক্টোবর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন তাদের এ অনুমতি দেয়। আগামী বছরের শুরুতে মাটির নিচে বৈদ্যুতিক তার স্থাপনের কাজ শুরু করবে পিডিবি। ইতোমধ্যে তারা মাটির নিচে সাবস্টেশন ও ট্রান্সফরমার স্থাপনের কাজ শুরু করেছে। নগরে মোট সড়কের দৈর্ঘ্য ১ হাজার ১০৪ কিলোমিটার। এর মধ্যে পিচঢালা সড়ক রয়েছে ১ হাজার ১৯৭টি, যার মোট দৈর্ঘ্য ৭৪৪ কিলোমিটার।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রকল্প গ্রহণ না করায় দুর্ভোগ বাড়ছে। ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়ির কারণে মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। যখন ওয়াসার কাটা সড়কগুলো সংস্কারে কার্যক্রম শুরু করেছি, তখন বিটিসিএল অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল স্থাপনে সড়ক কাটার অনুমতি চেয়েছে। প্রতিটি সংস্থার উচিত প্রকল্প নেয়ার সময় সমন্বয় করা। আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করে সমন্বয়ের মাধ্যমে সেবা সংস্থাগুলো তাদের প্রকল্পগুলো নিতে পারত। বারবার তাগিদ দেওয়ার পরও তারা সমন্বয়ের কাজটি করেন না। যার কারণে সিটি করপোরেশনকে দুর্নামের ভাগিদার হতে হয়।’
ওয়াসা সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম মহানগরীর পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা স্থাপন প্রকল্প একটি পয়োশোধনাগার, প্রায় ছয় কিলোমিটার গভীর পয়োলাইন, ১৮৯ কিলোমিটার গ্রাভিটি পাইপ, ৩ হাজার ৬২০টি ম্যানহোল ও চেম্বার, ৩ দশমিক ৩১ কিলোমিটার ফোর্স মেইন, ১৮৯ কিলোমিটার ইউটিলিটি রি-অ্যালাইনমেন্ট, ১২টি পয়োপাম্পস্টেশন, ১৪৪ কিলোমিটার সার্ভিস লাইন, ৭২ হাজার ৫০২টি বাড়ির সংযোগ, ফিকেল স্ল্যাজ শোধনাগার এবং অনসাইট স্যানিটেশন উন্নয়ন করা হবে। এসব কাজে কত কিলোমিটার সড়ক খোঁড়া লাগবে তা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।
চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী একেএম ফজলুল্লাহ বলেন, ২০২২ সালের মধ্যে পানি সরবরাহ লাইন স্থাপনের কাজ শেষ হবে। এর মধ্যে শুরু হবে পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা স্থাপনের কাজ। জনদুর্ভোগ কমাতে ছয় ভাগে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে ২০৩০ সাল পর্যন্ত লেগে যাবে।
পিডিবি সূত্র জানায়, বিদ্যুৎ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৪১টি সাবস্টেশন স্থাপন করা হবে। ৭টি সাবস্টেশন আধুনিকায়ন করা হবে। এছাড়া প্রায় ৫০০ কিলোমিটার ক্যাবল মাটির নিচে স্থাপন করা হবে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (দক্ষিণাঞ্চল) প্রধান প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেন বলেন, প্রথম পর্যায়ে ১৫টি সাবস্টেশন স্থাপন ও ৭টি সাবস্টেশন আধুনিকায়নের কাজ চলছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ২৬টি সাবস্টেশন স্থাপন কাজ শুরু করা হবে। ইতোমধ্যে ভূমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার তার মাটির নিচে স্থাপনের কাজ শুরু হয়ে যাবে।
বিটিসিএল সূত্রে জানা গেছে, উচ্চ গতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ‘মডার্নাইজেশন অব টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক ফর ডিজিটাল কানেকটিভিটি’ প্রকল্পের আওতায় মাটির নিচে অপটিক্যাল স্থাপন করা হবে। সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি চলতি বছরের অক্টোবরে শুরু করে আগামী বছরের ৩০ জানুয়ারির মধ্যে শেষ করা হবে বলে জানানো হয়। তবে সিটি করপোরেশন আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি শেষ করার শর্তে অনুমোদন দিয়েছে। এজন্য নগরের মোট ১ লাখ ৪ হাজার ২৫ মিটার সড়ক কাটা হবে, যার মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ১০৪ কিলোমিটার।

কাটা হবে যেসব সড়ক
সিটি করপোরেশনে জমা দেওয়া তালিকা অনুযায়ী, বিটিসিএল মুরাদপুর টেলিফোন এক্সচেঞ্জের আওতায় কাটা হবে ১৬ হাজার ৮৮২১ মিটার সড়ক। এগুলো হচ্ছেÑ মোহাম্মদপুর, সুগন্ধা, মির্জাপুল, পাঁচলাইশ, ওআর নিজাম রোড, আব্দুল লতিফ, আবদুল্লাহ খান, হামদু মিয়া, চট্টগ্রাম-হাটহাজারী, আবদুল হামিদ, সিডিএ অ্যাভিনিউ, চাঁদ মিয়া, ওমর আলী মাতব্বর, খতিবের হাট, আবদুল করিম, ফরিদের পাড়া, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার হাইওয়ে, বারইপাড়া, খাজা, নাজিরপাড়া, এ জি বায়েজিদ বোস্তামী, হাজী নূর আহমেদ, মসজিদ লেন, হিলভিউ ও কেবি ফজলুল কাদের সড়ক।
পাহাড়তলী এলাকায় কালুরঘাট টেলিফোন এক্সচেঞ্জের আওতায় কাটা হবে ১২ হাজার ৮৮ মিটার। এগুলো হচ্ছে- পাহাড়তলী কলেজ রোড, জাকির হোসেন রোড, বিএডিসি রোড, কৃষ্ণচ‚ড়া, আবদুল হান্নান, হাবিব লেন, পশ্চিম খুলশী, আমবাগান, শহীদ লেন, পাঞ্জাবি লেন, আকবর শাহ, জাকির হোসেন রোড, ফয়’স লেক, লেকভিউ আবাসিক এলাকা, রোজ ভ্যালি আবাসিক এলাকা, ফ্লোরা পাস, দক্ষিণ খুলশী ও আবদুল মালেক লেন সড়ক।
বিটিসিএল কালুরঘাট টেলিফোন এক্সচেঞ্জের আওতায় কাটা হবে ৪ হাজার ৪৬৪ মিটার সড়ক। সড়কগুলো হচ্ছে- বিএফআইডিসি সড়ক, চাঁদ মিয়া সড়ক ও অক্সিজেন সড়কের পাশ বরাবর।
বায়েজিদ টেলিফোন এক্সচেঞ্জের আওতায় কাটা হবে ২৬ হাজার ৪৭৯ মিটার সড়ক। এখানে কাটা হবে- বসির মার্কেট, হামজারবাগ, সুন্নিয়া মাদ্রাসা, হাসেম বাজার, পিলখানা, হামজা খাঁ লেন, বায়েজিদ বোস্তামী, অক্সিজেন-কুয়াইশ, স্টাফ কলোনি, মাজার শাহ গায়েবি মসজিদ, ইয়াকুব আলী, পলিটেকনিক, কাজী মুজাফ্ফর আহমেদ, চৌধুরী সড়ক, নুরুল আলম, তুলাতলি, রহমান নগর, চশমা হিল আবাসিক এলাকা, বিসিক শিল্পনগরী, বায়েজিদ আবাসিক এলাকা, চট্টগ্রাম-রাঙামাটি এবং চট্টগ্রাম-হাটহাজারী সড়ক এলাকা।
নন্দনকানন টেলিফোন এক্সচেঞ্জের আওতায় কাটা হবে ৪৪ হাজার ১৭৩ মিটার সড়ক। সড়কগুলো হচ্ছেÑ ইকবাল সড়ক, বংশাল সড়ক, আশরাফ আলী সড়ক, নতুন রাস্তা, সতীশ বাবু লেন, কোর্ট সড়ক, লালচাঁদ সড়ক, কে বি আমান আলী সড়ক, নবাব সিরাজউদ্দৌলা রোড, কলেজ রোড, ডিসি রোড, মদিনা মসজিদ লেন, সিঅ্যান্ডবি কলোনি সড়ক, মোমিন রোড, জামালখান রোড, সিডিএ অ্যাভিনিউ রোড, জাকির হোসেন রোড, নূরবাড়ি সড়ক, লাভ লেন সড়ক, হেমসেন লেন সড়ক, নেভি কলোনি, রেবোতি মোহন লেন, বড়–য়া সড়ক, ভিক্টোরিয়া কলেজ রোড, তালপুকুর সড়ক, ডিসি হিল সড়ক, বৌদ্ধমন্দির সড়ক, আন্দরকিল্লা সড়ক, জে এম সেন লেন, টেরিবাজার সড়ক, জুবিলি রোড সড়ক, গোলাপ সেন লেন, লালদীঘি পাড় সড়ক, হাজারী লেন, চৈতন্য গলি, সদরঘাট সড়ক, খাতুনগঞ্জ সড়ক ও আমবাগান সড়ক।

0 50

কারিকা প্রতিবেদক
ঢাকার কেরানীগঞ্জের ঝিলমিল আবাসিক এলাকায় প্রায় ১৪ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণের কাজ শুরু করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। ২০২৩ সালের মধ্যে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি হতে যাচ্ছে দেশের অন্যতম প্রধান বহুতল ভবনবিশিষ্ট আবাসন প্রকল্প। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে মালয়েশিয়ার ‘বিএনজি গ্লোবাল হোল্ডিংস অ্যান্ড কনসোর্টিয়াম’।
রাজউক সূত্রে জানা গেছে, ‘ঝিলমিল রেসিডেন্সিয়াল পার্ক’ প্রকল্পের আওতায় ফ্ল্যাটগুলো নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ২০১৭ সালের নভেম্বরে বিএনজি গ্লোবাল হোল্ডিংস অ্যান্ড কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি করেছিল রাজউক। চুক্তি অনুযায়ী, ঝিলমিল আবাসিক এলাকায় ১৬০ একর জমিতে হবে এই প্রকল্প। প্রকল্পের আওতায় মোট ৮৫টি ভবন নির্মাণ করবে বিএনজি। ভবনগুলোর মধ্যে ৬০টি হবে সেমি বেসমেন্টসহ ২০ তলা ও ২৫টি হবে বেসমেন্টসহ ২৫ তলার। মোট তিনটি শ্রেণিতে ফ্ল্যাট হবে ১৩ হাজার ৭২০টি। ‘এ’ শ্রেণির ১ হাজার ৫৫০ বর্গফুট আয়তনের ফ্ল্যাট হবে ৯ হাজার ১২০টি, ‘বি’ শ্রেণির ১ হাজার ৭৫০ বর্গফুটের হবে ২ হাজার ৫৭৬টি এবং ‘সি’ শ্রেণির ২ হাজার ৪০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট হবে ২ হাজার ২৪টি। আগামী ডিসেম্বর বা জানুয়ারি নাগাদ ফ্ল্যাট বরাদ্দের আবেদন আহবান করা হবে।
ঝিলমিল প্রকল্পের অবস্থান বুড়িগঙ্গা নদীর চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু থেকে দুই কিলোমিটার পশ্চিমে। প্রকল্পের পাশ দিয়ে গেছে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক। তা ছাড়া ঢাকা শহরে যাতায়াতের জন্য একটি উড়ালসড়ক নির্মাণেরও পরিকল্পনা আছে। প্রকল্প-এলাকার ভেতরে চলাচলের জন্য ১২ দশমিক ১৯ মিটার থেকে ৩৬ দশমিক ৫৮ মিটার প্রশস্ত রাস্তা তৈরি করা হবে। এলাকার চারপাশে থাকবে মোট ছয়টি প্রবেশপথ। মূল প্রবেশপথের সামনে থাকবে ৬০ দশমিক ৪০ মিটার প্রশস্ত রাস্তা, যা হবে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত। পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলে এখান থেকে ঢাকা শহরের পাশাপাশি দেশের দক্ষিণাঞ্চলে যোগাযোগ সহজ হয়ে যাবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ঝিলমিল প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৯৭৯ কোটি ২০ লাখ টাকা। পুরো টাকা বিনিয়োগ করবে বিএনজি। এরপর ছয় কিস্তিতে বিনিয়োগের টাকা পরিশোধ করবে রাজউক।
চুক্তি অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হওয়ার দুই বছর পর বিএনজিকে ৪০০ কোটি টাকা দেবে রাজউক। এর পরের বছর অর্থাৎ চতুর্থ বর্ষে আরও ৪০০ কোটি টাকা এবং পঞ্চম থেকে অষ্টম বছর পর্যন্ত প্রতি বছর একটি করে আরও চার কিস্তিতে ২ হাজার ২৯৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা করে পরিশোধ করা হবে।
রাজউক সূত্র জানিয়েছে, ঝিলমিল প্রকল্পের ভবনগুলো ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল বিল্ডিং সিস্টেম’ (ভবন নির্মাণের আধুনিক একটি প্রক্রিয়া) প্রযুক্তির মাধ্যমে নির্মাণ করা হবে। এখানে ইটের ব্যবহার থাকবে না, পুরো কাজ হবে আরসিসি ঢালাই দিয়ে। তাই ভবনগুলো মজবুত ও ভূমিকম্প সহনীয় হবে। প্রকল্প এলাকার মোট জমির ৩২ শতাংশে থাকবে ভবন, বাকি ৬৮ শতাংশ উন্মুক্ত থাকবে। এতে লেক, পার্ক, খেলার মাঠ, ওয়াকওয়ে, জগিং ট্র্যাক, কৃত্রিম ঝরনা, রাস্তা নির্মাণ করা হবে। এখানে যারা বসবাস করবেন, তাদের জন্য স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, মসজিদ, মার্কেট, কমিউনিটি স্পেসের ব্যবস্থা রাখা হবে। থাকবে পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ব্যবস্থাও।
নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রতি বর্গফুট ফ্ল্যাটের নির্মাণ ব্যয় ধরেছে ৩,৬৯৬ টাকা। আনুষ্ঠানিকভাবে নির্মাণকাজ শুরু করার পর প্রতি বর্গফুট ৪,৯০০-৫,১০০ টাকায় বিক্রি করবে রাজউক। বিক্রির জন্য রাজউকের অন্যান্য ফ্ল্যাট প্রকল্পের মতো এ ক্ষেত্রেও আবেদন আহবান করা হবে। লটারির মাধ্যমে ফ্ল্যাট বরাদ্দ চূড়ান্ত করা হবে। এ ক্ষেত্রেও কিস্তি সুবিধা থাকবে।

রুখসানা মিলি
গ্রাহকদের জন্য ফ্ল্যাট কেনায় ঋণের সীমা ৮০ লাখ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। এখন ব্যাংকগুলো ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে একজন ক্রেতাকে সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ দিতে পারবে। গত ১৯ নভেম্বর ২০১৯ বাংলাদেশ ব্যাংক জারীকৃত প্রজ্ঞাপনের আগে এই ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ছিল ১ কোটি ২০ লাখ টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্টের জেনারেল ম্যানেজার মো. রেজাউল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে নতুন এই ঋণসীমা নির্ধারিত হয়। তবে গৃহঋণ এবং মূলধনের পরিমাণ আগের মতোই ৭০:৩০ শতাংশ রাখা হয়েছে।
ঋণ প্রদানকারী ব্যাংকগুলোর দাবির মুখে বাংলাদেশ ব্যাংক এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে পাঠায়।
সূত্রমতে, অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সঙ্গে বৈঠকে গৃহঋণের সর্বোচ্চ সীমা ২ কোটি টাকা নির্ধারণের দাবি জানান।
ঋণের সীমা বাড়ানোর কারণ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গৃহনির্মাণ সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি, দেশে উচ্চতর মধ্যবিত্ত গোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধি, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি ও আবাসনের ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
ব্যাংকের ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ গ্রাহকের পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থাকলেও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এই নিয়ম প্রযোজ্য হচ্ছে না। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এই ৭০:৩০ অনুপাতের বাইরে গিয়েও ঋণ দিতে পারবে।
আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) পক্ষ থেকে ঋণের সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে অভিনন্দন জানিয়ে সংগঠনের সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন জানান, ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং বাস্তবতা বিবেচনা করে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। এতে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েই লাভবান হবেন।
সরকারের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে আবাসন খাতে বিদ্যমান গতিস্বল্পতা অনেকাংশে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে বিশ্বাস করে রিহ্যাব। আবাসন খাতে এই ঋণ-সুবিধা এ-খাতে ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখবে এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
তবে অধিকাংশ ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে গৃহঋণের সুদহার ডাবল ডিজিটে বিদ্যমান। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত গৃহঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিট না হওয়ায় রিহ্যাব উদ্বেগ প্রকাশ করছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তরা যাতে ভাড়ার টাকায় মাথা গোঁজার একটা ঠিকানা খুঁজে পান- সেজন্য স্বল্পসুদের দীর্ঘমেয়াদি একটি তহবিল গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে রিহ্যাব।
তবে রিহ্যাবের দাবির মতো বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে নিচ্ছেন না সংশ্লিষ্ট অনেকেই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন আবাসন ব্যবসায়ী বলেন, এক অঙ্কের স্বল্পসুদে নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঋণের ব্যবস্থা না করা গেলে এই সীমা বাড়ানোর প্রভাব আবাসন খাতে খুব বেশি পড়বে না।

মির্জা মাহমুদ আহমেদ

বাংলাদেশের বাস্তবতায় নারীরা বৃদ্ধ বয়সে পরিবারের বোঝা হিসেবে বিবেচিত হয়। শুধু বয়স্ক নারীদের কথাই বলছি কেন? কম বয়সের অনেক নারীও দারিদ্র, যৌতুক, স্বামীর মাদক গ্রহণ ও বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের কারণে নির্যাতিত হন। বেশিরভাগ নারী মুখ বুজে স্বামীর নির্যাতন মেনে নিলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্যাতন মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে অনেক সময় বিবাহ-বিচ্ছেদের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। বিবাহ-বিচ্ছেদের পর নির্যাতিত নারীরা পারিবারিক ও সামাজিক কোনো সহায়তা পান না। অন্যদিকে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের অভাবে কোনো সম্মানজনক পেশাও তারা বেছে নিতে পারেন না। যার ফলে বেশিরভাগ দারিদ্রপীড়িত নারী স্বল্পবেতনে অসম্মানজনক পেশা বেছে নিতে বাধ্য হন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অনেকে ভিক্ষাবৃত্তি বা অবৈধ-অসামাজিক কাজের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়েন।
অসহায় দারিদ্রপীড়িত এসব নারী ও শিশুদের সহায় হিসেবে কাজ করছে ‘আমব্রেলা ফাউন্ডেশন’। প্রতিষ্ঠার পর থেকে অলাভজনক, অরাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী এ সংস্থাটি দরিদ্র স্বামী পরিত্যাক্তা নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়, পোশাক ও খাদ্যের যোগান দিয়ে যাচ্ছে। বিগত বছরগুলোর মতো সামনেও ‘আমব্রেলা ফাউন্ডেশন’ এ সকল নারী-শিশুদের পুনর্বাসনে সহযোগিতার আন্তরিক কোমল হাত বাড়িয়ে দিতে চায়।
‘আমব্রেলা ফাউন্ডেশন’ এমন একটি সমাজের স্বপ্ন দেখে, যেখানে কোনো নারী ও শিশু মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না। তাই বর্তমানে এ সংস্থায় আশ্রিতদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা, পুষ্টিকর খাবার ও পানীয় জল সরবরাহ করা, অনিরাপদ পরিবেশ থেকে রক্ষা করাসহ মনস্তাত্বিক পরামর্শ ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপদ, অহিংস, বৈষম্য ও অন্যায়মুক্ত স্বপ্নের সমাজ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে সংস্থাটি।
গৃহহীন নারী ও শিশুদের জীবনমান উন্নত করার পদক্ষেপ হিসেবে শিশুদের শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করা ও নারীদের স্বনির্ভর করার উদ্দেশে কাজ করে যাচ্ছে তারা।
বর্তমানে ছয়টি প্রাথমিক পরিষেবার ভিত্তিতে ‘আমব্রেলা ফাউন্ডেশন’ নারী ও শিশুদের জন্য কাজ করছে। যার মধ্যে রয়েছে দরিদ্র, অসহায় নারীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থলের ব্যবস্থা করা, সমাজে পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত আশ্রয় গ্রহনের সুযোগ প্রদান করা, আশ্রিত নারী ও শিশুদের খাদ্য এবং প্রয়োজনীয় সকল উপকরণ সরবরাহ করা এবং নিরাপদ পানি পান, রান্না এবং গৃহস্থালির কাজে ব্যবহারের জন্য টিউবওয়েল স্থাপন করা।
জানা গেছে, আমব্রেলা ফাউন্ডেশনে আশ্রিত নারী ও শিশুদের বিশেষ দক্ষতার বিকাশ ঘটাতে ও সামাজিকভাবে সংগঠিত করতে প্রাথমিক শিক্ষা ও উন্নয়ণ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এ ছাড়াও নারীদের গৃহস্থালি, সেলাই, রান্না, হাঁস-মুরগী পালনবিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদানের পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষা ও পরিবার পরিকল্পনা সংক্রান্ত প্রশিক্ষনও প্রদান করা হচ্ছে।
আশ্রিত নারীদের স্বাস্থ্য ও আইনি সেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে তাদের বিভিন্ন স্থানীয় হাসপাতাল, ক্লিনিক ও আইনি সেবাসংস্থার সঙ্গে নেটওয়ার্ক স্থাপন করে দিয়েছে আমব্রেল ফাউন্ডেশন।
এসব জনহিতকর কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। তাই যেকোনো কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান ও সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিরা এ মানবিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন।
জানা গেছে, ‘আমব্রেলা ফাউন্ডেশন’ কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কৌশলগত অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে স্পন্সরশিপ আহবান করছে। এ ছাড়া ব্যক্তিশ্রেণির ডোনারদের কাজ থেকে ‘লাইফ টাইম মেম্বার’, ‘রেগুলার মেম্বার’ এবং ‘ওয়ান টাইম চ্যারিটি’ ক্যাটাগরিতে অনুদান সংগ্রহ করছে।