Home সর্বশেষ

মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ

মির্জা মাহমুদ আহমেদ
চারদেয়ালে ঘেরা প্রতিষ্ঠানটির মূল ফটক পেরোতেই চোখ জুড়াবে সবুজ মাঠ। অপরিকল্পিত নগরায়ণের চাপে যখন নাগরিক প্রাণ রুদ্ধ, তখন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির খোলা সবুজ প্রান্তর শিক্ষার্থীদের একটুখানি ছোটাছুটির ফুরসত এনে দেয়। মাঠ ধরে একটু এগোলেই মূল ভবনের সামনে ‘বিশ্বজয় ভাস্কর্য’। শিক্ষকের মুষ্টিবদ্ধ হাত যেন শিক্ষার্থীদের জানাচ্ছে বিশ্বজয়ের আহবান।
নিচতলায় শিশুদের ক্লাসরুম, করিডোর, বসার জায়গা সবই রঙিন। যেন রঙিন এক প্রজাপতি রাঙিয়ে দিয়ে গেছে পরম যত্নে। দ্বিতীয় তলা থেকে পঞ্চম তলার প্রতিটি করিডোর সাজানো হয়েছে বিষয়ভিত্তিক আয়োজন দিয়ে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস দিয়ে সাজানো ‘অপরাজেয় বাংলা’ গ্যালারিটি। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণসহ সেখানে ঠাঁই পেয়েছে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের সব উল্লেখযোগ্য ঘটনা। বাংলাদেশের গুণী কবি-সাহিত্যিকদের জীবনী ও আলোকচিত্র দিয়ে সাজানো ‘শিল্পাঙ্গন’ গ্যালারি। হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতির ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে সাজানো হয়েছে ‘লোক ও কারুশিল্প কর্নার’। আর ‘সুরের ভুবন’ গ্যালারিটি সাজানো হয়েছে বাংলাদেশের প্রথিতযশা সংগীতশিল্পীদের জীবনী ও ছবি দিয়ে।
এ ছাড়াও বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও চলমান উন্নয়ন-কর্মকান্ডের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে ‘বিউটিফুল বাংলাদেশ’ ও ‘দুর্বার বাংলাদেশ’ গ্যালারিতে। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভ‚মিকা তুলে ধরা হয়েছে ‘সশস্ত্রবাহিনী’ নামক গ্যালারিটিতে। অন্যদিকে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয়ভিত্তিক মূল বিষয়গুলো সচিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে বিজনেস, স্পোর্টস ও লাইসিয়াম গ্যালারিতে।
পুরো প্রতিষ্ঠানের করিডোরগুলো ঘুরে দেখলে জাদুঘর ভেবে বসতে পারেন নতুন কেউ। যেখানে তুলে আনা হয়েছে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, গ্রামবাংলার অবারিত রূপসহ সশস্ত্র বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা। জাদুঘরের আদলে সাজানো ইতিহাস-ঐতিহ্যের এমন ছবি দেখে ও বর্ণনা পড়ে গতানুগতিক পাঠ্যবইয়ের বাইরেও শিক্ষার্থীরা শিখছে-জানছে নিজের মতো করে।
ভালো কাজের স্বীকৃতি আরও ভালো কাজ করার উৎসাহ জোগায়। সেই ধারণার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, সহশিক্ষা এবং শৃঙ্খলা ও নৈতিকতায় অসাধারণ পারদর্শিতার জন্য শ্রেণিশিক্ষকরা গ্রিনকার্ড দিয়ে উৎসাহিত করেন। প্রতি মাসে সর্বোচ্চ-সংখ্যক গ্রিনকার্ড পাওয়া শিক্ষার্থীরা আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে লাভ করে অধ্যক্ষের কাছ থেকে গোল্ডকার্ড।
স্কুল শাখার উপাধ্যক্ষ শায়েলা মনোয়ার কারিকাকে বলেন, ‘ভালো শিক্ষার্থী গড়ার পাশাপাশি ভালো মানুষও গড়তে চাই আমরা। তাই পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের পাশাপাশি যেসব শিক্ষার্থী শৃঙ্খলা ও নৈতিকতায় ভালো পারফরম্যান্স দেখায় তাদের গ্রিনকার্ড দেয়া হয়। এটি অর্জন করতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা গড়ে উঠেছে।’ ভালো ফলাফল ও আচরণে একে অন্যকে ছাড়িয়ে যাওয়ার মানসিকতাও তাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি।
শায়েলা মনোয়ার জানান, পরিবেশ ও পারিপার্শ্বিকতার কারণে স্কুলের শিক্ষার্থীরা প্রায়ই অশোভন উক্তি ও আচরণ করে থাকে। এগুলো প্রতিহত করতে প্রতিষ্ঠানটিতে ‘অ্যান্টি বুলিং স্কোয়াড’ গঠন করা হয়েছে। স্কোয়াডের নির্বাচিত প্রতিনিধি নিজেরা অশোভন উক্তি ও আচরণ করে না, অন্য সহপাঠীদেরও এ ধরনের আচরণ থেকে বিরত রাখে।
শিশু-কিশোরদের মনের আঙিনায় কত মধুর স্মৃতিই তো দোলা দিয়ে যায়, স্মরণীয় হয়ে থাকে নানা ঘটনা। অনেকের ভাবুক মনের বিকাশও হয় এ সময়েই। যথাযথ মূল্যায়ন বা পরিচর্চা না পেয়ে সেগুলো হারিয়েও যায় অনেক সময়। তাদের সেই ছোট ছোট ভাবনা ও স্মরণীয় ঘটনাগুলো ‘বন্দি’ করে রাখতে প্রতিষ্ঠানটিতে ‘আইডিয়া প্যাড’ নামে এক অভিনব ডায়েরি লেখার প্রচলন আছে। যেখানে শিক্ষার্থীরা নিজেদের স্মরণীয় মজার কোনো ঘটনা, ভাবনা, ভালোলাগা, মন্দলাগা ইত্যাদি লিখে রাখতে পারে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মানেই যেখানে চক-ব্ল্যাকবোর্ড আর টেবিল-বেঞ্চির কাঠখোট্টা জায়গা; শিক্ষকের চোখ রাঙানি আর কঠোর অনুশাসন সেখানে স্কুলে গ্যালারি, বিনোদন পার্ক, অ্যাম্পিথিয়েটার প্রতিষ্ঠা বা অ্যান্টি বুলিং স্কোয়াড ও আইডিয়া প্যাডের মতো অভিনব উদ্যোগের ভাবনা কার? জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির উপাধ্যক্ষ শায়েলা মনোয়ার জানান, অভিনব এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করেছেন মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মেফতাউল করিম, অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ এ কে এম সাব্বির আহমেদ ও প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা-অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াজ আহমেদ।
যুগোপযোগী শিক্ষাদান পদ্ধতি, অত্যাধুনিক শিক্ষা উপকরণ, অভিজ্ঞ শিক্ষকমন্ডলী ও কঠোর শৃঙ্খলার কারণে প্রতিষ্ঠার অল্প সময়ের মধ্যেই অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছে এ প্রতিষ্ঠানটি। বিগত বছরে অনুষ্ঠিত পিইসি, জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় শতভাগ পাসসহ এ প্রতিষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য-সংখ্যক শিক্ষার্থী জিপিএ ফাইভ অর্জন করেছে। ২০১৭ সালের এইচএসসি পরীক্ষা এবং সহ-শিক্ষা কার্যক্রমে সাফল্যের ভিত্তিতে দেশের ৩১টি ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজের মধ্যে প্রথম রানার-আপ হয়ে সেনাবাহিনীপ্রধান ট্রফি অর্জন করার গৌরব অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠানটির মূল ভবনের সামনে আড্ডা দেয়ার জন্য রয়েছে চমৎকার একটি জায়গা। জানা গেল, দেশের প্রথিতযশা সফল মানুষেরা মাঝে মাঝে এখানে এসে তাদের সফলতার গল্প শুনিয়ে যান। ‘স্বপ্নসিঁড়ি’ নামের এই আয়োজনে সম্প্রতি এখানে এসেছিলেন ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মর্তুজা।
জনবসতির তুলনায় মিরপুরে ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কম বলে আক্ষেপ ছিল এখানকার বাসিন্দাদের। ২০১৪ সালে মিরপুর সেনানিবাসে ৩.৮৩ একর জমির ওপর মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর সেই আক্ষেপ অনেকটাই ঘুচেছে। বর্তমানে শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়ে ভালো মানুষ হওয়ার ব্রত নিচ্ছে চার হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী।

কারখানা ঘুরে

মির্জা মাহমুদ আহমেদ
বাংলাদেশের নির্মাণ শিল্পে প্লাইউড বহুল ব্যবহৃত হলেও জিপসাম বোর্ডের ব্যবহার এখনো অতটা প্রচলিত নয়। অথচ স্থাপনা নির্মাণ কিংবা সাজসজ্জায় সাধারণ প্লাইউড বা ইটের চেয়ে জিপসাম সিলিং কিংবা জিপসাম ওয়াল বোর্ড অধিক টেকসই ও সাশ্রয়ী। বাংলাদেশের মতো অগ্নিদুর্ঘটনাপ্রবণ দেশে আগুনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারে জিপসাম ফায়ার রেজিস্ট্যান্ট বোর্ড।
এক সময় বাংলাদেশের জিপসাম সিলিং ও জিপসাম বোর্ডের পুরো বাজারটি ছিল চীন ও থাইল্যান্ডের দখলে। নিম্নমানের বিদেশি জিপসাম বোর্ডের কারণে ক্রেতারা পরিবেশবান্ধব এই নির্মাণসামগ্রীর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন।
বাংলাদেশে পারটেক্সই প্রথম নিজস্ব কারখানায় বিশ্বমানের জিপসাম বোর্ড ও জিপসাম সিলিং উৎপাদন শুরু করেছে। পারটেক্সের উৎপাদিত জিপসাম বোর্ড, জিপসাম ফায়ার রেজিস্ট্যান্ট বোর্ড ও জিপসাম সিলিং দেশীয় বাজারের শতভাগ চাহিদা মিটিয়ে ভারতসহ অনান্য পার্শ¦বর্তী দেশে রফতানি করা সম্ভব।
গত বছরের মে থেকে দেশেই বিশ্বমানের জিপসাম সিলিং, জিপসাম স্ট্যান্ডার্ড বোর্ড, জিপসাম ফায়ার রেজিস্ট্যান্ট বোর্ড তৈরি করছে পারটেক্স জিপসাম বোর্ড মিলস লিমিটেড। বাংলাদেশের আর্দ্র আবহাওয়ার কথা বিবেচনায় রেখে খুব শিগগিরই বাজারে আসছে পারটেক্স জিপসাম ময়েশ্চার রেজিস্ট্যান্ট বোর্ড।
নারায়ণগঞ্জের মদনপুরে ১ লাখ ২০ হাজার স্কয়ার ফিটের বিশাল আয়তনজুড়ে গড়ে উঠেছে পারটেক্স জিপসাম বোর্ড মিলস। পারটেক্সের জিপসাম বোর্ডের কারখানায় গিয়ে দেখা যায় সম্পূর্ণ অটোমেটিক মেশিনে তৈরি হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের সিলিং, স্ট্যান্ডার্ড ও ফায়ার রেজিস্ট্যান্ট জিপসাম বোর্ড। কমপ্লায়েন্স এ কারখানাটিতে পাঁচ শতাধিক শ্রমিক কর্মকর্তার দিন-রাতের পরিশ্রম ও মেধায় তৈরি হচ্ছে পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী।
জিপসাম বোর্ড তৈরির বিশাল এই কর্মযজ্ঞ ঘুরে দেখা যায় জিপসাম পাউডার মিশ্রণ থেকে শুরু করে প্যাকেজিং পর্যন্ত চলছে কঠোর নজরদারি।
কারখানার টেকনিক্যাল কনসালট্যান্ট মোহাম্মদ ইমদাদুল হক জানালেন, বোর্ড তৈরির কোনো পর্যায়েই তারা মানের সঙ্গে আপস করেন না। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের জিপসাম বোর্ড কারখানায় ৩২ বছর কাজ করে আসা ইমদাদুল হক জানালেন, তাদের কারখানাতে উৎপাদিত জিপসাম বোর্ড সম্পর্কে ক্রেতারা খুবই সন্তুষ্ট। সঠিক স্থাপনায় সঠিক পুরুত্বের জিপসাম বোর্ড ও সিলিং ব্যবহার করলে এটি লাইফ টাইম ব্যবহারেও কিছু হয় না বলে জানালেন তিনি।
পারটেক্স জিপসাম সিলিং বোর্ড ওজনে হালকা, তাই ভূমিকম্পে সাধারণ ইটের দেয়ালের চেয়ে বেশি সহনীয়। শব্দ ও তাপ প্রতিরোধক বোর্ডগুলোতে পোকামাকড়ও আক্রমণ করতে পারে না। পারটেক্সের ফায়ার রেজিস্ট্যান্ট বোর্ড ২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আগুন প্রতিরোধ করতে পারে।
বাংলাদেশে অপেক্ষাকৃত নতুন জিপসাম প্রযুক্তির সঙ্গে সারাদেশের নির্মাণ শ্রমিকদের পরিচিত করে দিতে সামাজিক দায়বদ্ধতার আওতায় নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেছে পারটেক্স জিপসাম। ‘স্বনির্ভর’ নামের এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারী নির্মাণ শ্রমিকদের সনদপত্র দেয়া হবে।
জিপসাম বোর্ড তৈরির মূল উপাদান জিপসাম পাউডারের উৎপত্তি প্রাকৃতিক পাথরের খনি থেকে। পারটেক্স মূলত এসব জিপসাম পাউডার সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি করে থাকে।
পারটেক্স স্টার জিপসাম বোর্ড মিলস লিমিটেডের হেড অব প্ল্যান্ট মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান ভূইয়া কারিকাকে জানান, চায়না থেকে আমদানিকৃত জিপসাম বোর্ডগুলো তৈরি হয় কয়লাভিত্তিক পাওয়ার প্ল্যান্টের বর্জ্য থেকে। যাতে স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকে। কিন্তু পারটেক্সের আমদানিকৃত জিপসাম পাউডার সরাসরি খনি থেকে সংগৃহীত। এই জিপসাম পাউডার থেকে উৎপাদিত জিপসাম বোর্ডে কোনো স্বাস্থঝুঁকি নেই। তিনি আরও বলেন, চায়না থেকে যেসব জিপসাম বোর্ড আমদানি করা হয়, সেগুলোর পুরুত্ব ও স্থায়িত্ব কম।
দেশীয় ব্র্যান্ড হিসেবে পারটেক্সের সুনাম ও দায়বদ্ধতা থাকায় পারটেক্স স্থানীয় বাজারে ইউরোপিয়ান স্ট্যান্ডার্ড বোর্ড সরবরাহ করে থাকে বলে জানান তিনি।
মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান ভূইয়া বলেন, বর্তমান সরকার পরিবেশবান্ধব স্থাপনা ও নির্মাণসামগ্রীর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। সেই সূত্র ধরে দেশীয় ব্র্যান্ড হিসেবে পারটেক্স এই প্রথম নিজেদের কারখানায় পরিবেশবান্ধব জিপসাম বোর্ড উৎপাদন শুরু করেছে। কিন্তু ট্যারিক ভ্যালু ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে চায়না থেকে আমদানিকৃত কমদামি নিম্নমানের জিপসাম বোর্ডের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে বেশি দূর এগোনো যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।
দেশীয় পরিবেশবান্ধব শিল্প রক্ষায় সরকারের কাছে নীতি সহায়তা চান মনিরুজ্জামান ভূইয়া। তিনি জানান, স্থানীয় বাজারে জিপসাম বোর্ডের চাহিদা কম থাকায় কারখানাটি বর্তমানে সক্ষমতার মাত্র ২০ শতাংশ বোর্ড উৎপাদন করছে। পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী জিপসাম বোর্ডের ব্যবহার বাড়াতে সরকার, রিহ্যাব ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট মহল যদি এগিয়ে আসে তাহলে জিপসাম বোর্ড আবাসন খাতে বিপ্লব ঘটাতে পারবে বলে আশবাদ ব্যক্ত করেন মনিরুজ্জামান ভূইয়া। তিনি বলেন, দেশীয় শিল্পের বিকাশ হলে একদিকে যেমন হাজারো বেকারের কর্মসংস্থান হবে, অন্যদিকে দেশে স্থাপনা নির্মাণে পরিবেশবান্ধব জিপসাম বোর্ডের ব্যবহারও বাড়বে।
কারখানা দেখে ফেরার সময় হেড অব প্ল্যান্ট মনিরুজ্জামান একটি চমকপ্রদ তথ্য জানালেন, এত বড় কারখানাটি চলছে কোনো কাঠ-কয়লা না পুড়িয়েই। পাশের পারটেক্স প্লাইউড কারখানার ফেলে দেয়া জুট ডাস্ট ও উড ডাস্ট থেকেই জ্বালানির জোগান আসছে এত বিশাল এই কারখানাটিতে। পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী জিপসাম বোর্ড তৈরিও হচ্ছে পরিবেশের কোনো ক্ষতি না করেই।

রফিক আজম

চেন্নাই, ঢাকা, সিঙ্গাপুর বা অস্ট্রেলিয়ার কোনো শহরে রফিক আজমের কাজ সহজেই চেনা যায়। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের স্থপতিদের মধ্যে রফিক আজম তাঁর কাজের মাধ্যমে দেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষভাবে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। ওয়ার্ল্ড আর্কিটেকচার কমিউনিটি পুরস্কার, কেনেথ এফ ব্রাউন এশিয়া প্যাসিফিক কালচার অ্যান্ড আর্কিটেকচার ডিজাইন পুরস্কার, এআর অ্যাওয়ার্ড ফর ইমার্জিং আর্কিটেক্টস পুরস্কার, সাউথ এশিয়া আর্কিটেকচার কমেন্ডেশন পুরস্কারসহ স্থাপত্যে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পুরস্কারও পেয়েছেন।
অথচ রফিক আজম কখনো স্থপতি হতে চাননি। হতে চেয়েছিলেন চিত্রশিল্পী। এমনকি ১৯৭৬ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে ছবি আঁকায় তিনি ‘জওহরলাল নেহরু’ স্বর্ণপদক লাভ করেন। কিন্তু পরিবারের ইচ্ছায় বুয়েটে ভর্তি হতে হয় তাঁকে। স্থাপত্যের জ্ঞান আর শিল্পী মনের যোগসাজশে রফিক আজম বাংলাদেশের স্থাপত্যশিল্পে বিরাট পরিবর্তন ঘটিয়েছেন। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের নানা দেশে রয়েছে তার দৃষ্টিনন্দন সব স্থাপনা। প্রকৃতির সঙ্গে বিরুদ্ধতা নয়, যেন প্রকৃতির ভেতর থেকেই গড়ে ওঠে এসব স্থাপনা।
রফিক আজমের জন্ম ও বেড়ে ওঠা পুরান ঢাকায়, লালবাগে। পরিবারেই ছিল সাংস্কৃতিক আবহ। ফলে পরিবার থেকেই তিনি শিল্পের শিক্ষাটা পেয়েছেন। নয় ভাইবোনের মধ্যে রফিক আজম ষষ্ঠ। মায়ের বাগান করার শখ ছিল। ভাই-বোনেরা গান করতেন, ছবি আঁকতেন, রাতের বেলায় সবাই মিলে গল্পের আসর বসাতেন। যৌথ জীবনযাপনের শিক্ষাটা তাঁর ছোটবেলার। বিচ্ছিন্নতার এ যুগে সবাই যখন আত্মকেন্দ্রিক জীবনযাপনে ব্যস্ত, রফিক আজমের স্থাপত্যশৈলী, তাঁর নির্মাণ আমাদের যূথবদ্ধতার প্রেরণা জোগায়। প্রথাগত স্থাপত্যের সঙ্গে রফিক আজমের স্থাপত্যের বেশকিছু অমিল রয়েছে। যেমন, তিনি স্থাপনা থেকে দেয়ালের ধারণা তুলে দিতে চান। নিরাপত্তার বিষয়টি ঠিকই থাকবে কিন্তু কোনো দেয়াল থাকবে না। মানুষে মানুষে সম্পর্কের ক্ষেত্রে দেয়াল একটি বড় মনোজাগতিক বাধা বলে মনে করেন তিনি। দেয়াল যেন দু’পাশের মানুষের মধ্যে এক বৈরিতা তৈরি করে এমনই ভাবনা তাঁর। এজন্য বসতবাড়ি থেকে দেয়াল উঠিয়ে দিয়েছেন তিনি। পথিকের জন্য বিশ্রামের জায়গা এবং খাবার পানির ব্যবস্থা রাখার চেষ্টা করেন। পথচলা মানুষ যেন দেয়াল দেখে বাড়ির মালিককে অন্য পক্ষ মনে না করে, বিরূপ না হয়, ওই বোধ যেন পথিকের মধ্যে তৈরি না হয়, সেটাই রফিক আজমের চাওয়া।
রফিক আজম জানলেন, গ্রামীণ বৈশিষ্ট্যকে শহুরে বহুতল ভবনে তুলে আনতে চান তিনি। যেমন, আগেকার গ্রামীণ বাড়িগুলোতে এক চিলতে উঠোন ছিল, পুকুর ছিল, ছিল ফুল ও সবজির বাগান। জাতি হিসেবে আমরা খুব অতিথিপরায়ণ। মেহমানদের জন্য বৈঠকঘর, বসার জায়গা ইত্যাদি থাকত। তাছাড়া পথিক এলে বিশ্রাম ও জলপানের ব্যবস্থা থাকত আমাদের গ্রামবাংলার বাড়িগুলোতে। বাতাসের প্রবাহ যাতে ঠিকঠাক পাওয়া যায়, এজন্য বাড়িগুলোর ডিজাইন সেভাবে করা হতো। তাছাড়া আলোর বিষয়টাও প্রাধান্য পেত তখনকার বাড়িগুলোতে। শহরে এখন বাড়ির জন্য অত জায়গা পাওয়া সম্ভব না। কেননা আমাদের শহরগুলো গড়ে উঠেছে পরিকল্পনাহীনতার মধ্য দিয়ে। উঠোন-পুকুরওয়ালা বাড়ির জায়গায় তরতর করে উঠে যাচ্ছে বহুতল ভবন।
স্থপতি হিসেবে রফিক আজমের যাত্রা শুরু হয় বুয়েটে তিনি যখন তৃতীয় বর্ষে পড়েন, তখন। তাদের নিজেদের বাড়ির ডিজাইন করতে দেওয়া হয়েছিল অন্য একজন স্থপতিকে। কিন্তু সেই স্থপতির ডিজাইন পছন্দ হয়নি রফিক আজমের মায়ের। তখন দায়িত্ব নেন রফিক আজম। ১৯৮৭ সালে নির্মিত বাড়িটিই সম্ভবত প্রথম বাড়ি যার দোতলায় বাগান আছে। মায়ের শখ ছিল বাগানের। রফিক আজম সেদিকে খেয়াল রেখে বাড়িটি সেভাবে ডিজাইন করেন। বাড়ির উঠোনে যেমন বসার জায়গা থাকে, তেমনই খোলা জায়গা রেখেছেন দোতলায়। অর্থাৎ, মায়ের ইচ্ছা পূরণের জন্য প্রথম বাড়ির ডিজাইন করেন রফিক আজম।
সবুজ স্থাপত্যের স্বপ্ন নিয়ে ১৯৯৫ সালে রফিক আজম গড়ে তুলেছেন নিজের প্রতিষ্ঠান ‘সাতত্য’। সাতত্য অর্থ প্রবহমানতা। তাঁর প্রতিষ্ঠানের অন্যতম লক্ষ্য হলো প্রকৃতি ও মানুষের মধ্যে আত্মিক সংযোগ স্থাপন করা।
সাতত্যের প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য নিয়ে রফিক আজম বলেন, ‘বাংলাদেশের স্থাপত্যের এক সমৃদ্ধ অতীত রয়েছে। একদম শুরু থেকে আমাদের হিন্দু ও বৌদ্ধ সংস্কৃতির প্রচুর দৃষ্টিনন্দন মন্দির ছিল। স্থাপত্য হিসেবে এগুলো খুব উঁচু মানের। এরপর প্রাক মুঘল আমল থেকে ব্রিটিশ আমল, পাকিস্তান আমল হয়ে স্বাধীনতার আগে পর্যন্ত আমাদের স্থাপত্যশিল্প দারুণ উন্নত। এসব স্থাপত্যে প্রতিটি সময়কে সফলভাবে ধরা রয়েছে। ১৯৫০ দশকের মাঝামাঝি থেকে ৬০-এর দশকের শেষ পর্যন্ত আধুনিক স্থাপত্য বিকশিত হয়েছে আমাদের এখানে। তখন আমাদের এখানে মাজহারুল ইসলাম, লুই আই কান, পল রুডলফ, কনস্টানটিনো ডজিডাসের মতো স্থপতিরা কাজ করেছেন। এরপর দুঃখজনকভাবে এ অগ্রযাত্রাটি থেমে যায়। সদ্য স্বাধীন হওয়া দেশে শুরু হয় রাজনৈতিক অস্থিরতা। বিশ্বের অন্যান্য দরিদ্র দেশের মতো জলবায়ু, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের বিষয় আমলে না নিয়ে গড়ে উঠতে থাকে একের পর এক অপরিকল্পিত স্থাপনা। এ রকম একটা পরিপ্রেক্ষিতে স্থাপত্যশিল্পে আমাদের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে ও এটিকে কিছুটা সুশৃঙ্খল রূপ দিতেই সাতত্য যাত্রা শুরু করে।’
রফিক আজম যে সবুজের চর্চা করতে চান, তার জন্য সৌখিন নার্সারিতে যেতে হয় না। বাড়ির উঠোন, বাগানে যেসব উদ্ভিদ জন্মে, সেগুলোকেই তিনি নিয়ে আসেন বহুতল ভবনে। দেশে-বিদেশে নানা মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার পেয়েছেন রফিক আজম। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে খÐকালীন শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি ভারত, পাকিস্তান, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়াসহ অন্যান্য দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ক্লাস নেন।
ঠাস বুনোটের এ শহরে রফিক আজম তাঁর কাজের ভেতরে মানুষের জন্য ফাঁকা জায়গা নির্মাণ করতে চান। তাঁর মতে, ওই শূন্যতার অনুভব আনতেই আশপাশে কিছু পূর্ণ স্থান দরকার পড়ে। কেননা, শূন্যতাকে বোঝার জন্য অন্যান্য অনুষঙ্গ লাগে। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের আত্মিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য স্থাপত্যের ভ‚মিকাকে প্রাধান্য দেন তিনি।
বাংলাদেশের প্রকৃতির মধ্যে যে বৈচিত্র্য, রফিক আজম তার স্থাপত্যে সেসবই তুলে আনতে চান। ফলে, তাঁর স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্যের মধ্যে লক্ষ্য করা যায় বাংলার প্রকৃতির আদল। বহুতল ভবনের ওপরে পুকুর! সেখানে আবার ছোট্ট নৌকা রাখা! কে ভাবতে পেরেছিল এসব? রফিক আজম ভিন্নভাবে ভাবতে পেরেছেন বলেই বিশ্বের অনেক জায়গায় তাঁর দর্শনের প্রতিফলন দেখা যায় এখন। বাংলাদেশের স্থাপত্যও অনেকটা তাঁর কারণে বহির্বিশ্বে আলোচিত। নিসর্গের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনে হঠাৎ দেখা যাবে ছাদের ফাঁকা জায়গা থেকে আলো আসছে, সূর্যের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ রাখেন তাঁর ভাবনায়। আলো ও বাতাসের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন রফিক আজম। তার স্থাপনাগুলোর প্রধান বৈশিষ্ট্যই সম্ভবত প্রকৃতির সঙ্গে এক ধরনের একাত্মতা। স্থাপনাগুলো ভেতরমুখী নয় যেন বহির্মুখী। রফিক আজম মনে করেন, ‘মানুষ কিন্তু সামগ্রিকভাবে প্রকৃতির অংশ। সুতরাং সবুজ প্রকৃতি এবং সতেজ বাতাস ছাড়া মানুষের টিকে থাকা অসম্ভব। সবুজ প্রকৃতি হলো অক্সিজেনের প্রধান উৎস।’
ব্যক্তিগত অনেক স্থাপনা নির্মাণ করেছেন তিনি, এখন পুরো শহরের মানুষের জন্য কিছু করতে চান। মানুষের সঙ্গে থেকে কাজ করে হতে চান মানুষের স্থপতি।
পুরনো ঢাকার বেশকিছু পার্ক নতুনভাবে তৈরি করছেন তিনি। পুরান ঢাকা বা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ওই প্রকল্পের নাম ‘জল সবুজে ঢাকা’। এ প্রকল্পে সর্বমোট ৩১টি পার্কের কাজ চলছে এর প্রধান স্থপতি রফিক আজম। এগুলোর মধ্যে তিনি সরাসরি যুক্ত আছেন ১৭টি পার্কের সঙ্গে।
রফিক আজম মনে করেন সমাজ ও রাষ্ট্র পরিবর্তনে রাজনৈতিক নেতারা সবচেয়ে বড় ভ‚মিকা রাখতে পারেন। স্থাপত্য সমাজ পরিবর্তনে কাজ করতে পারলেও এ শিল্পটিকে কাজ করতে হবে রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে থেকেই। ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে তিনি সব সাধারণ মানুষের বসবাসের উপযোগী একটি রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চান।

অনুলিখনঃ মেহেদী রাসেল

0 95

আবুল হোসেন আসাদ
হিম হিম ঠান্ডা সকাল। ভোরের আলো তখনো ফোটেনি। সারারাত ঘুম হয়নি ভুবনবিখ্যাত রহস্যময়ীকে দেখব বলে। প্যারিসের হোটেল ডি ভিলা থেকে মেট্রোরেলে চড়ে মিউজি ডি ল্যুভরে এলাম। ল্যুভর মিউজিয়ামের সঙ্গেই লাগোয়া এই মেট্রো স্টেশন। ছোটবেলায় বইয়ে পড়েছি, দেখেছি এক রহস্যময়ীর ছবি : মোনালিসা। লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির তৈলরঙে আঁকা কালজয়ী চিত্র মোনালিসার রহস্যময় হাসিতে উদ্ভাসিত এক জাদুঘর, নাম তার ল্যুভর।
শুধু মোনালিসার জন্যই নয়, স্বীয় স্থাপত্যবৈশিষ্ট্য, নান্দনিক নির্মাণশৈলী, প্রাচীন দুর্গ থেকে রাজপ্রাসাদ, অতঃপর মিউজিয়ামে পরিণত হওয়া- সব মিলিয়ে ল্যুভর নিজেই একটি ইতিহাস। সুবিশাল প্রদর্শনীর জায়গা নিয়ে ইতিহাসের স্মৃতিচিহ্ন বুকে ধারণ করে ল্যুভর নিজেই হয়ে উঠেছে বিশ্বসেরা আর্ট মিউজিয়াম। ফ্রান্সের প্যারিসে সিন নদীর তীরে অবস্থিত এই ল্যুভর মিউজিয়াম সময়ের সিঁড়ি বেয়ে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে সমকালে, মহাকালের ধারক হিসেবে।
প্যারিস। যার উপমা অর্ধেক নগরী, অর্ধেক কল্পনা। এ কল্পনার রাজ্যে একসময়ের রাজপ্রাসাদে অধুনা ল্যুভরের দ্বিতীয় তলার ফ্রেমে ঝুলছে কল্পনার মানবী মোনালিসার ছবি। প্রশস্ত প্রাঙ্গণ পেরিয়ে ল্যুভরে ঢুকতেই পেলাম কাচের পিরামিড। কাচের পিরামিডের ভেতর দিয়ে ল্যুভরের মূল ভবনে প্রবেশ করলাম। কারও কারও মনে হতে পারে ল্যুভরকে জাদুঘর বানানোর জন্যই বুঝি তৈরি করা হয়েছিল। এ ধারণাকে পোক্ত করে দেয় ল্যুভরের কাচের পিরামিড। আদতে ল্যুভর হচ্ছে একটি প্রাচীন দুর্গ। ১২ থেকে ১৩ শতকের মাঝে ল্যুভর নির্মিত হয়েছিল দুর্গ হিসেবে। ধারণা করা হয়, দুর্গটির নির্মাণ শুরুর সময় ১১৯০ সাল। তখন ছিল রাজা দ্বিতীয় ফিলিপের শাসনামল। ভাইকিং দস্যুদের হাত থেকে প্যারিস শহরকে রক্ষা করার জন্য সিন নদীর তীরে শহরের সংযোগস্থলে নির্মিত হয়েছিল ল্যুভর। প্রতিরক্ষার জন্য দুর্গের নকশাটিকে করা হয় চতুষ্কোণ। যার চারপাশ দিয়ে ঘেরা ছিল পরিখায়। বেশকিছু ওয়াচ টাওয়ার বা প্রতিরক্ষামূলক টাওয়ারও ছিল প্রাচীরের সঙ্গে, চারদিকে। প্রধান টাওয়ারটি ছিল ঠিক মাঠের মাঝখানে আলাদা এক পরিখায় ঘেরা। সময়ের আবর্তে নগরীর পরিধি বাড়তে থাকায় দুর্গটি আর ব্যবহৃত হয়নি। এখনো জাদুঘরের বেজমেন্ট বা সবচেয়ে নিচের তলায় পুরনো দুর্গের অংশবিশেষ দেখা যায়, যা ১২২৬ থেকে ১২৭০ সালে নির্মিত হয়েছিল। ১৫৪৬ সালে সম্রাট প্রথম ফ্রান্সিস এতে বসবাস শুরু করে ল্যুভরকে প্রাসাদের মর্যাদা দেন। এরপর থেকেই ফরাসি রাজা কিংবা সম্রাটদের প্রাসাদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে ল্যুভর। ল্যুভরের পশ্চিম দিকের অংশ তৈরি হয়েছিল প্রথম ফ্রান্সিসের সময়। আর ল্যুভরের বেশিরভাগ অংশের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয় সম্রাট ত্রয়োদশ লুইস ও চতুর্দশ লুইসের সময়। সে সময়কালটি সতেরশ’ শতক। তাদের দু’জনই ছিলেন শিল্পের প্রতি প্রচন্ড অনুরক্ত। তাদের মন্ত্রীরা বিভিন্ন স্থান থেকে মূল্যবান শিল্পকর্ম সংগ্রহ করতেন। সম্রাট তৃতীয় নেপোলিয়নের সময় ল্যুভরে আরও দুটি অংশ নির্মাণ করে বর্ধিত করা হয়। সম্রাট নেপোলিয়নের শাসনামলে যুদ্ধের সময় ফরাসি সেনাবাহিনীর বাজেয়াপ্ত করা শিল্পকর্ম দিয়ে ল্যুভরকে সমৃদ্ধ করা হয়। সম্রাট নেপোলিয়নের মৃত্যুর পর বাজেয়াপ্ত করা শিল্পকর্মগুলো আবার মূল মালিকদের কাছে ফেরত দেয়া হয়। ১৬৪২ সালে চতুর্দশ লুইস ল্যুভরকে রাজসংগ্রহ প্রদর্শনীর জন্য ছেড়ে দিয়ে ভার্সাই প্রাসাদে চলে যান। ১৭৯৩ সালের ১০ আগস্ট ল্যুভর পরিপূর্ণ মিউজিয়াম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ৫৩৭টি চিত্রকর্ম প্রদর্শনীর মাধ্যমে। বহু ভবনবিশিষ্ট ল্যুভরের স্থায়ী কাঠামো সম্পূর্ণ হয়ে যায় ১৮৫৭ সালের মধ্যে। মিউজিয়াম হিসেবে আধুনিক সরঞ্জামাদি সংযুক্ত করা হয় ল্যুভরে ১৯৮০ থেকে ১৯৯০-এর মাঝামাঝি সময়ে। ৭২,৭৩৫ বর্গমিটার জায়গাজুড়ে রয়েছে ল্যুভরের প্রদর্শনীর স্থান। স্থপতি আইএমপে কাচের পিরামিড নির্মাণ করেন ল্যুভরে ১৯৮৮ সালে। কাচের পিরামিড আধুনিকতা ও প্রাচীন ঐতিহ্যের মধ্যে এক সমন্বয় তৈরি করেছে। ল্যুভরের রয়েছে তিনটি উইং ডেনন, সুলি ও রিচেলিউ। এর ফ্লোর রয়েছে চারটি। মোনালিসার অবস্থান ডেনন উইংয়ের দোতলায়। দর্শনীয় বস্তুর স্থাপনা অনুযায়ী, নিচতলার ডেনন উইংয়ে রয়েছে ইউরোপীয়, ইতালীয় ও স্প্যানিস ভাস্কর্য, মিসরীয় পুরাকীর্তি এবং গ্রিক ও রোমান পুরাকীর্তি। সুলি উইংয়ের কিছু অংশে রয়েছে প্রাচ্যের নিদর্শন এবং কিছু অংশে গ্রিক ও মিসরীয় নিদর্শন। রিচেলিউ উইংয়ের বড় অংশজুড়ে রয়েছে ফরাসি ভাস্কর্যের বিশাল সমাহার। শিল্পসংগ্রহকে আটটি বিভাগে বিন্যাস করা হয়েছে। মোনালিসা চিত্রকর্মের চারদিক থেকে ঘেরা বুলেটপ্রুফ কাচে এবং পাহারা দেয়ার জন্য রয়েছে সবসময় সশস্ত্র প্রহরী। জলবায়ু ও আলোক নিয়ন্ত্রণের জন্য রয়েছে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। লেজার সিকিউরিটি ও ক্লোজ-সার্কিট সিকিউরিটি ক্যামেরা তো রয়েছেই। এককথায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় আচ্ছাদিত মোনালিসার চিত্রকর্মটি। দেয়ালে ঝোলানো মোনালিসার চিত্রকর্মের সামনে কিছুটা দূরত্বে কাঠের একটি অর্ধবৃত্তাকার রেলিং দিয়ে দর্শকদের জন্য সীমারেখা টানা হয়েছে। ছবি তুলতে হয় দূর থেকে এবং ছবি তুলতে কোনো ধরনের ক্যামেরার ফ্লাশলাইট ব্যবহার করা যায় না ল্যুভরে। ল্যুভরে রয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজারের বেশি দর্শনীয় বস্তু। সবগুলো যদিও প্রদর্শন করা হয় না। বিশ্বসেরা এ ল্যুভর মিউজিয়াম দুনিয়ার সব পুরনো ও বড় মিউজিয়ামগুলোর মধ্যেও অন্যতম।

লেখক : সাইক্লিস্ট ও সাইকেলে বিশ্বভ্রমণকারী

0 65

কারিকা প্রতিবেদক
চকবাজারের চুড়িহাট্টা ট্র্যাজেডির পর বনানীর এফআর টাওয়ারে আগুন। রাজধানীর বহুতল ভবনগুলোতে একের পর এক অগ্নিকান্ডের ঘটনায় অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়টি আবারো সামনে চলে এসেছে। ফায়ার সার্ভিস সূত্র বলছে রাজধানীতে এরকম আরও সাড়ে ১১ হাজার বহুতল ভবন আগুনের ঝুঁকিতে রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এসব ভবনে অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র বা ফায়ার সেফটি প্ল্যান নেই। এমন বাস্তবতায় বহুতল ভবনে নিজস্ব অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ও জন সচেতনতার উপর গুরুত্ব আরোপ করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন কেবলমাত্র সচেতন থাকলে এবং অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ৮০ শতাংশ অগ্নি দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব। আজ থাকল বহুতল ভবনে অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ক কিছু টিপস।
বহুতল ভবনে আগুন থেকে বাঁচতে প্রথমেই একটি জরুরি নির্গমন পথ তৈরি রাখতে হবে। যাতে আগুন লাগলে দ্রুত সেখান থেকে বের হয়ে আসা যায়। জরুরি নির্গমন পথ পরিস্কার রাখা ছাড়াও জরুরি নির্গমন পথে ভালো মানের ফায়ার ডোর সংযোজন করতে হবে। যেটি প্রায় দুই ঘন্টা আগুন ও ধোঁয়া প্রতিরোধ করতে সক্ষম। সিঁড়িগুলো যাতে তালাবাদ্ধ ও ক্রুটিপূর্ণ না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। শুধু জরুরি নির্গমন পথ তৈরি রাখলেই চলবে না, পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীদের জরুরি নির্গমন পথ সর্ম্পকে অবগত করতে হবে। যদি দেখেন আগুন কিংবা ধোঁয়ায় আপনি আটকে গেছেন তখন বারান্দা অথবা অপেক্ষাকৃত খোলা জায়গায় অবস্থান করুন। ভুলেও লাফ দেয়ার কথা ভাববেন না। মাথা ঠান্ডা রেখে ফায়ার সার্ভিস এবং উদ্ধারকারী দলের জন্য অপেক্ষা করুন। আগুন লাগলে দূঘর্টনা কবলিত ভবন ছাড়তে লিফটের পরিবর্তে সব সময় সিঁড়ি অথবা জরুরি নির্গমন পথ ব্যবহার করুন। যদি ভবনের অন্য কোন ফ্ল্যাটে আগুন লাগে তবে যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি নিজের ফ্ল্যাটে নিরাপদ বোধ করছেন ততক্ষণ পর্যন্ত ফ্ল্যাট ছেড়ে যাবেন না। এক্ষেত্রে আগুন ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধে ফ্ল্যাট কিংবা অফিসের জরুরী নির্গমন পথে ফায়ার ডোরের ব্যবহার আপনাকে নিরাপদ রাখবে।
বাংলাদেশে পারটেক্সসহ অনেক প্রতিষ্ঠান এখন বিশ্বমানের ফায়ার ডোর তৈরি করছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র পারটেক্সের ফায়ার ডোরই ইউএল সাটিফাইড। যেটি দুই ঘন্টা আগুন ও ধোঁয়া প্রতিরোধে সক্ষম।
ফায়ার ডোর অগ্নিকান্ডের স্থান থেকে মানুষের নিরাপদ বর্হিগমন নিশ্চিত করে। আগুন ও ধোঁয়া নিদিষ্ট গন্ডির ভেতর থাকার কারণে ফায়ার ফাইটারদের যাতায়াতের পথ সুগম হয়।
সম্প্রতি বনানীর এফআর টাওয়ারের অগ্নিকান্ডের ঘটনায় দেখা গেছে বেশিরভাগ মানুষের মৃত্যু হয়েছে ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে এবং ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে। ফায়ার কোড মেনে ভবনটির প্রতিটি ফ্লোরে যদি ফায়ার ডোর লাগানো থাকত তবে অনেক মানুষের প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো যেত বলে মত প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইউএল সার্টিফাইড পারটেক্স ফায়ার ডোরে পজেটিভ প্রেসার রেটেড থাকায় নিরাপত্তা নিয়ে কোন শস্কা নেই। এছাড়াও সহজ প্রতিস্থাপন সুবিধা, তিনটি মনোরম রঙ, সার্বক্ষনিক কাস্টমার কেয়ার সুবিধা থাকায় পারটেক্স ফায়ার বোর্ড চাহিদার শীর্ষে অবস্থান করছে । অগ্নি দুঘর্টনা রোধে বহুতল ভবনে ফায়ার কোড মেনে চলাসহ বিশ্বমানের অগ্নি নিরপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহারের পর্রামশ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা ।

আবদুল্লাহ আল মামুন
লুসাই পাহাড় থেকে উৎপন্ন হয়ে কর্ণফুলী নদী বঙ্গোপসাগরের যেখানে মিশেছে, সেই মোহনায় নির্মাণ হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল, যা চট্টগ্রামবাসীর স্বপ্নের ‘কর্ণফুলী টানেল’ হিসেবে পরিচিত। দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে কাজ। ২০২২ সালের পর উন্মুক্ত হবে টানেলের এই স্বর্ণালি দ্বার। ফলে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীর আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলা টানেলের মাধ্যমে মূল নগরের সঙ্গে যুক্ত হবে। চীনের সাংহাইয়ের আদলে গড়ে উঠবে দুই শহরের সমন্বয়ে একটি নগর। ভবিষ্যতে এশিয়ান হাইওয়ে নেটওয়ার্কেও যুক্ত হবে এই টানেল। ঢাকার সঙ্গে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সরাসরি সংযোগ স্থাপন হবে।
এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের প্রকল্প পরিচালক হারুনুর রশিদ চৌধুরী বলেন, ‘ইতিমধ্যে প্রকল্পের ৩৬ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। নদীর তলদেশে টানেল বোরিং মেশিনের মাধ্যমে ১২০ মিটার খনন করা হয়েছে। এই মেশিনের মাধ্যমে নদীর তলদেশে দুটি টিউব নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি টিউবে দুই লেনের সড়ক নির্মাণ করা হবে। আশা করছি, ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।’
২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে কর্ণফুলী টানেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সড়ক ও সেতু বিভাগ। প্রকল্পটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না কমিউনিকেশন অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড (সিসিসিসি)। প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় হবে ৩ হাজার ৯৬৭ কোটি টাকা। চীন সরকার সহায়তা করবে ৫ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা নেভাল একাডেমি থেকে শুরু হয়ে এই টানেল দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি (কাফকো) এবং চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) মাঝামাঝি প্রান্তে যুক্ত হবে। নদীর তলদেশে টানেলের দৈর্ঘ্য হবে ৩ হাজার ৪০০ মিটার (প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার)। কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে গাড়ি যাওয়ার জন্য একটি এবং আসার জন্য আরেকটি টিউব তৈরি হবে, যা ‘টানেল’ নামে পরিচিত। প্রতিটি টিউবের প্রস্থ হবে ১০ দশমিক ৮ মিটার। দুটি টিউবে গাড়ি চলাচলের জন্য থাকবে দুটি করে লেন। টিউব দুটির ন্যূনতম দূরত্ব থাকবে ১১ মিটার। আর টানেলটি নদীর তলদেশ থেকে সর্বোচ্চ ৩৬ মিটার এবং সর্বনিম্ন ১২ মিটার মাটির গভীরে নির্মিত হবে।
নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ করা হবে টানেল বোরিং মেশিন (টিবিএম) যন্ত্রের মাধ্যমে। মেশিনটি চীন থেকে আনা হয়েছে। এটি নদীর তলদেশে খননের পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সড়কপথও নির্মাণ করবে। মেশিনটি বসানো হয়েছে পতেঙ্গা অংশে। গত ২৪ ফ্রেরুয়ারি টিবিএমের মাধ্যমে মূল টানেল খননের কাজ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর থেকে ১২০ মিটার খনন করা হয়েছে। এভাবে খনন ও সড়ক তৈরির মাধ্যমে নদীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চলে যাবে মেশিনটি। দক্ষ প্রকৌশলীরা সার্বক্ষণিক কম্পিউটারাইজ পদ্ধতিতে মেশিনটি পরিচালনা করছেন। নির্মাণকাজে অংশ নিচ্ছে ১ হাজার থেকে ১২শ’ শ্রমিক।


প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টানেল নির্মাণের মাধ্যমে চট্টগ্রাম নগরে নিরবচ্ছিন্ন ও যুগোপযোগী সড়ক-যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, বিদ্যমান সড়ক-যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন, কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরে গড়ে ওঠা শহরের সঙ্গে ডাউন টাউনকে যুক্ত করা এবং উন্নয়নকাজ ত্বরান্বিত করা, চট্টগ্রাম বন্দরের বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং গভীর সমুদ্রবন্দরের নির্মাণকাজ ত্বরান্বিত করা ও ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের মধ্যে নতুন একটি সড়ক-যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
টানেল নির্মাণকে কেন্দ্র করে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরে বিনিয়োগ শুরু করেছে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো। বর্তমানে সেখানে আংশিক চালু রয়েছে কোরিয়ান ইপিজেড। পাশাপাশি বিচ্ছিন্নভাবে গড়ে উঠেছে কিছু শিল্প-কারখানা। টানেল নির্মাণের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সরকার আনোয়ারায় একটি ইকোনমিক জোন স্থাপন করছে। পাশাপাশি চীনের বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ ‘চায়না ইকোনমিক জোন’ বাস্তবায়িত হচ্ছে।
২০০৮ সালে চট্টগ্রামে লালদীঘি মাঠের এক জনসভায় কর্ণফুলী টানেল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তখন বিষয়টিকে বাংলাদেশের জন্য অসম্ভব মনে করেছিল অনেকেই। অবশেষে সেই অসম্ভবের টানেল ক্রমে দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।

নগরে বাতিঘর

রুখসানা মিলি
একটা সময় পর্যন্ত কাদা দেখলেই আরিয়ানা লাফ দিয়ে দূরে সরে যেত। আর এখন কাদামাটি নিয়ে মনের আনন্দে খেলায় মেতে ওঠে সে। কাদা দিয়ে ছোট্ট হাঁড়ি, একটা পুতুল বা আরও নানান আকার দিতে এখন আরিয়ানা সানন্দে আগ্রহী।
মেগাসিটি ঢাকার নাগরিক জীবনের চাপে যতকিছু হারিয়ে গেছে, তার মধ্যে অন্যতম শিশুদের খেলাধুলা-সামাজিকতা-প্রকৃতিঘনিষ্ঠ জীবন। আর সে কারণেই বেশিরভাগ শিশুর সময় কাটে ট্যাব অথবা অন্য কোনো প্রযুক্তিপণ্যের সঙ্গে। প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়ার জন্য স্কুলের বাইরে ঢাকার শিশুদের আলাদা একটা জগৎ আছে এমন সংখ্যা নগণ্য।
এখন স্কুল হোক বা বাসা খেলার মাঠ নেই বললেই চলে। লেখাপড়ার ক্ষেত্রেও কতটা শিখল তা নয়, বেশিরভাগ অভিভাবকই গুরুত্ব দেন কত নম্বর পেল সেটির ওপর। একটি ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ফেরদৌসি আক্তার বলেন, ‘বিজ্ঞান বিষয়ে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বেশিরভাগ খারাপ করেছে।’ কারণ হিসেবে তিনি জানান, ওদেরকে আমি যখন বেগুন বা নারকেল গাছ বা আমগাছ বলি, অনেক শিশুই তার পুরোপুরি অর্থ বুঝতে পারে না। কারণ প্রকৃতির সঙ্গে ওদের পরিচয় খুব সামান্য। এ কারণেই আমরা অভিভাবকদের উৎসাহিত করি শিশুকে প্রকৃতিঘনিষ্ঠ করতে।
এসব বিষয় উপলব্ধি করেই যাত্রা শুরু করেছে বাতিঘর সাংস্কৃতিক বিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠান। যেখানে আরিয়ানার মতো অনেক শিশুই কাদা দিয়ে খেলার শৈশব ফিরে পেয়েছে।
বাতিঘরের উদ্যোক্তারা জানান, বৈরী সময় আর পরিবেশের ভেতরে থেকেও শিশুদের মন-বুদ্ধি-স্বভাব যেন বিকশিত হতে পারে, তাদের ভেতরে ন্যায়নীতির শুভবোধ, রুচিবোধ আর সৌন্দর্য্যবোধ কিছুটা হলেও যেন জন্মে, তারই প্রয়াস চালানো আমাদের লক্ষ্য।
নাচ-গান-অভিনয়-আবৃত্তি-অংকন এমন নির্দিষ্ট কোনো সাংস্কৃতিক চর্চার বা শিক্ষার আবর্তে বন্দি থাকে না বাতিঘরের শিশুরা।
উদ্যোক্তাদের মতে, শিশুদের শুধু একেকটি চারুবিদ্যায় দক্ষ করে তোলাই নয়, কবিতায়, গানে, অভিনয়ে, ছবি আঁকায়, নাচে আর কথায় তারা যেন নিজেদের প্রকাশ করার আনন্দ পায় সেটাই বাতিঘরের চাওয়া। গতানুগতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মতো একটি বা দুটি বিষয় শেখানো নয়, বরং অনেকগুলো বিষয়ের সঙ্গে প্রাথমিক পরিচয় করিয়ে দিতে চাই আমরা। যাতে করে সে নিজেই ঠিক করে নিতে পারে তার গতিপথ।
একটা যথাযথ সামাজিক পারিপাশ্বিক অবস্থায় শিশুদের শৈশব শেখার পরিবেশ দিতে এ ধরনের উদ্যোগ নিয়ে সন্তুষ্ট অভিভাবকরাও। এমনকি নানান সামাজিক অপরাধ সম্পর্কে শিশুকে অবহিত করা এবং সেসব পরিস্থিতিতে কীভাবে নিজেকে সামলে চলতে হবে বা সেখানে কোনটা ঠিক কোনটা ভুল এমন বিষয়গুলো সম্পর্কেও গল্পের ছলে শিশুকে অবহিত করা হয়। প্রতিভা বিকাশের মঞ্চ হিসেবে শিশুদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক উপস্থাপনার কার্যক্রমও পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানটি। বাতিঘরের বাতিদের নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের তাসের দেশ নাটকের সফল মঞ্চায়নও হয়েছে।
ছয় বছরে পড়েছে বাতিঘর সাংস্কৃতিক বিদ্যালয়। ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও চট্টগ্রামেও একটি শাখা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
আরিয়ানার মা তাসলিমা সুলতানা বলেন, ‘আরিয়ানা আমাদের একমাত্র সন্তান। আমি ও আমার স্বামী দুজনই চাকরি করি। বাতিঘর আমার সন্তানকে এমন একটা শৈশব এনে দিয়েছে, যেটা আমরা পেয়েছিলাম। খেলার সাথী, খেলা, বই পড়া, গাছের সঙ্গে, ফুলের সঙ্গে, পাখির সঙ্গে বড় হওয়া। বাতিঘর থেকে ওদের গাছ-পাখি-ফুল আলাদা করে চেনানো হয়। আরিয়ানার মতো আরও অনেক শিশু এখানে এসে খুদের ভাত, নানান রকম ফল আর অনেক দেশি খাবারের সঙ্গে প্রথমবার স্বাদ পেয়েছে।’
তাসলিমা আরও বলেন, ‘এখন শিশুদের সময় কাটানোর মাধ্যম হিসেবে ট্যাব বা অন্য ডিভাইস দিয়ে দেয়া হয়। বাতিঘরে বই পড়ার অভ্যাসও গড়ে তোলা হয়। আমরা অনেকেই শিক্ষাজীবনে বা কর্মজীবনে এসে কোনো প্রেজেন্টেশন দিতে গিয়ে নানান সমস্যায় পড়ি। বাতিঘর শিশুদের নিয়মিত উপস্থাপনার আয়োজন করে। ফলে ওদের জড়তা, ভয় দূর হয়ে যায় সহজেই। সব মিলিয়ে কেবল নম্বর আর পরীক্ষা ছাড়াও শিশুরা শিখতে শিখতে যে বড় হতে পারে, সেই জায়গাটুকু তৈরি করতেই আমি আমার সন্তানকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রেখেছি।’

0 80

সর্বনিম্ন ১০ এবং সর্বোচ্চ ভাড়া ৩০ টাকা

কারিকা প্রতিবেদক
রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে গুলশান-বনানীর আদলে আজিমপুর-ধানমন্ডি রুটেও চক্রাকার বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। গত ২৭ মার্চ ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের দুই মেয়র যৌথভাবে এই চক্রাকার বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করেন। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিসি) ২০ থেকে ২৫টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বাস আজিমপুর-নিউমার্কেট-সাইন্সল্যাব-ধানমন্ডি-২ নম্বর রোড, সাতমসজিদ রোড (জিগাতলা, শংকর), ধানমন্ডি-২৭, সোবহানবাগ, রাসেল স্কয়ার, কলাবাগান, সাইন্সল্যাব, বাটা ক্রসিং, কাঁটাবন, নীলক্ষেত ও পলাশী হয়ে আবারও আজিমপুর যাতায়াত করবে। এর বিপরীত দিক থেকে আজিমপুর, নিউমার্কেট, সাইন্সল্যাব, কলাবাগান, সোবহানবাগ, ধানমন্ডি-২৭ নম্বর রোডের পূর্ব মাথা থেকে পশ্চিম মাথা, সাতমসজিদ রোড, বিজিবি-২ নম্বর গেট, ৩ নম্বর রোডে ইউটার্ন নিয়ে ফের সাইন্সল্যাব-বাটা ক্রসিং-কাঁটাবন, নীলক্ষেত, পলাশী হয়ে আজিমপুর রুটে চলাচল করবে বলে জানা গেছে।
আপাতত চারটি বাস দিয়ে বর্তমানে দুটি রুটে এই চক্রাকার বাস সার্ভিস চালু আছে। আগামী জুলাইয়ে ভারত থেকে নতুন বাস এলে চক্রাকার সার্ভিসে আরও ২১টি বাস যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন বিআরটিসির ম্যানেজার নায়েব আলী। ৩৬টি স্টপেজ সংবলিত চক্রাকার এসি বাস সার্ভিসের সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ভাড়া ৩০ টাকা। নির্ধারিত বাস স্টপেজ থেকে যাত্রীরা ৫ মিনিট পরপর লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কেটে অথবা র‌্যাপিড পাস ব্যবহার করে কাংখিত গন্তব্যে ভ্রমণ করতে পারবেন।
চক্রাকার বাস সার্ভিসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ‘গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ও যাত্রীদের আরামদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা রয়েছে। তারই অংশ হিসেবে নগরে চক্রাকার এই বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে। ফলে সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ির চাহিদা কমবে। ধানমন্ডি তথা মিরপুর রোডসহ আশপাশের সড়কগুলোয় যানজট কমবে।’ চক্রাকার বাস সার্ভিস চালুর ফলে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘সবাই একসঙ্গে কাজ করে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করব। শিগগিরই তা দৃশ্যমান হবে।’


ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক গণপরিবহন খাতে শৃঙ্খলা আনতে রোড র‌্যাশনালাইজেশন ও ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতিতে বাস চলাচলের প্রস্তাব করেছিলেন। আনিসুল হকের মৃত্যুর পর সেই কার্যক্রম থমকে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি সড়ক দুর্ঘটনা ও এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ফলে গণপরিবহন খাতে শৃঙ্খলা আনার বিষয়টি আবার নতুন করে সামনে চলে আসে। তারই ধারাবাহিকতায় আজিমপুর-ধানমন্ডি রুটে চালু হলো চক্রাকার বাস সার্ভিস। সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, শিগগিরই উত্তরা ও মতিঝিলেও চালু করা হবে আরও দুটি চক্রাকার বাস সার্ভিস।
উল্লেখ্য, গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার পর কাকলী, বনানী ও গুলশানের একটি অংশে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। কূটনৈতিক এলাকা গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতনের নিরাপত্তার স্বার্থে সেখানে চক্রাকার এসি বাস ‘ঢাকা চাকা’ চালু হয়। একইভাবে হাতিরঝিল প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর সেখানেও পর্যটক ও সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে চক্রাকার বাস সার্ভিস চালু করা হয়।

বঙ্গভবনের ভেতরের পাখি পরিবার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশপ্তক, ফার্মগেট মোড়ের ইলিশ, পটুয়াখালীতে জয় বাংলা ভাস্কর্যের শিল্পী হামিদুজ্জামান খান। আমাদের ভাস্কর্য-শিল্পে তার অসামান্য অবদান থাকলেও চিত্রকলায়ও তার দক্ষতা কম নয়। পড়াশোনা করেছেন চিত্রকলার ওপর। ভারতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন ভাস্কর্য বিষয়ে। ভাস্কর্য ও চিত্রকলা দুই মাধ্যমেই তিনি কাজ করে যাচ্ছেন সমান তালে। অগুণিত ভাস্কর্য গড়েছেন দেশে এবং বিদেশে। তার বেশিরভাগই করেছেন মুক্তিযুদ্ধকে বিষয় করে। কিছু ভাস্কর্য গড়েছেন স্পেসটাকে ইন্টারেস্টিং করার জন্য। শিল্পকলা একাডেমি থেকে পেয়েছেন চারটি পুরস্কার। ২০০৬ সালে পেয়েছেন একুশে পদক। সম্প্রতি বহুমাত্রিক এই শিল্পীর নামে ভাস্কর্য উদ্যান উদ্বোধন হলো গাজীপুর সামিট পাওয়ার প্ল্যাণ্টে। শিল্পী হামিদুজ্জামান খানের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মোহাম্মদ আসাদ

হামিদুজ্জামান ভাস্কর্য উদ্যান’ উদ্বোধন হলো। এটির বিশেষত্ব কী?
একটি ম্যুরাল বা দেয়ালচিত্র কেন্দ্র করে এই উদ্যানের সৃষ্টি। সাড়ে তিনশ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ২২ উচ্চতার একটি দেয়ালচিত্র। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দেয়ালচিত্র। বহিরাঙ্গণে এত বড় দেয়ালচিত্র দেশের বাইরেও আমার চোখে পড়েনি।

এই উদ্যানের শুরুটা হলো কীভাবে?
সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজিজ খানের সঙ্গে আমি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি। তিনি বিভিন্ন জায়গা থেকে আমাকে বহু জিনিস মেইল করেন। একবার আমাকে মেসেজ দিলেন একটা দেয়াল হচ্ছে, এখানে কিছু করা যায় কি না। আমার মাথায় বহুদিন ধরেই বহিরাঙ্গণের স্পেস চেইঞ্জ করার জন্য কাজের পরিকল্পনা চলছিল। বাড়ির সামনে, বাগানে একটা ভাস্কর্য থাকলে সে জায়গার চেহারাটাই বদলে যায়। সে-রকম অনেক কাজ করেছি। একটু বড় আকারের করার ইচ্ছা ছিল বহু দিনের। এই দেয়ালটা পেয়ে আমার স্বপ্নপুরণের একটা স্পেস পেলাম। এটা একটা পাওয়ার প্ল্যাণ্টের দেয়াল। আমি বলব, এটা শিল্পের প্রনোদানা, শিল্পকর্মেও অনুপ্রেরণা দেয়া। বিশাল এই কর্মযজ্ঞ পুরোপুরি শেষ করতে সময় লেগেছে এক বছর।

এত বড় একটি কাজ করতে গিয়ে স্বাধীনতা পেয়েছিলেন কেমন?
আমি যা চেয়েছি তাই হয়েছে। আজিজ খান সাহেব শুধু একজন বড় ব্যবসায়ী নয়, তিনি শিল্পের সমঝদার। সেই দেয়ালের কত যে পরিবর্তন করেছি তা বলে শেষ করা কঠিন। সাড়ে তিনশ ফুট লম্বা দেয়ালের মাঝে মাঝে পিলার দিয়ে খোপ খোপ। আমি এই খোপ খোপ ভরাট করে প্লেইন একটা দেয়াল বানিয়ে দিতে বললাম। আর উপরে জানালায় কালার প্লাস ছিল সেটা বাদ দিয়ে সাদা কাচ লাগিয়ে দিতে বললাম। তিনি ইঞ্জিনিয়ারকে এর সমাধান দিতে বললেন। ইঞ্জিনিয়ার বলল, এটা সম্ভব কিন্তু দেয়াল মোটা হয়ে যাবে। খরচ বাড়বে। আজিজ খান বললেন, খরচ যা-ই হোক, দেয়াল স্ট্রেইট করে দেন। এই দেয়ালটি ক্যানভাসে রূপান্তর করতে দেয়ালের পুরুত্ব দাঁড়াল ১৫ ইঞ্চি। সাড়ে তিনশ ফুট এই দেয়ালটি প্লাস্টার করে দেওয়ার পর আমি এটা নিয়ে ভাবতে শুরু করলাম। বলে রাখা ভালো, গাজীপুরের কড্ডায় অবস্থিত সামিট পাওয়ার প্ল্যাণ্ট দেশের সবচেয়ে বড় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। ৪৬৪ মেগাওয়ার্ড বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী এই প্রতিষ্ঠানটি তৈরি করা হয়েছে মাত্র নয় মাসে। তার জন্য আন্তর্জাতিক সম্মানও পেয়েছে। বিশাল এই প্রতিষ্ঠানের একটি বিশাল দেয়াল ইন্টারেস্টিং করার চেষ্টা করেছি আমি।

এই কাজে কী কী বিষয় স্থান পেয়েছে?
এটা একটা বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী ইন্ডাস্ট্রি। ইন্ডাস্ট্রির মেশিনপত্রের মূল অংশটিই চাকা। মেশিন চালু করলেই চাকা ঘুরতে থাকে। চাকা ঘুরলেই উৎপাদন। উৎপাদন মানে উন্নয়ন, এগিয়ে যাওয়া। বিদ্যুৎ উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ হলো টারবাইন। আমি এই দেয়ালটিতে চাকা, টারবাইন দিয়ে সাজিয়েছি। নানা আকারের চাকা। কোথাও বড়, কোথাও ছোট, নানান আকারের। কোথাও আবার চাকার অংশবিশেষ। চাকাগুলো কোনোটা মার্বেল পাথরের, কোনোটা স্টেইনলেস স্টিলের, কোনোটা সাধারণ লোহার। চাকাগুলো পুনঃপুনঃ ব্যবহার করে ইন্টারেস্টিং করা হয়েছে। আরও বড় বিষয় হলো, কাজটিতে অনেক স্পেস আছে। বিদ্যুৎ তো একটা লাইন, ছুটে চলে। তাই নিচে একটা স্টিলের পাইপ দিয়ে লাইন বানিয়ে সাবজেক্টগুলোকে একটার সঙ্গে আরেকটার সম্পর্ক করলাম। পরস্পরের কাছাকাছি নিয়ে আসলাম।

কী কী উপকরণ ব্যবহার করেছেন এই দেয়ালে, সেগুলোর স্থায়িত্ব কেমন?
খোলা জায়গায় এই দেয়াল। রোদে পুড়বে, বৃষ্টিতে ভিজবে। এর জন্য আমি স্টোন ব্যবহার করেছি। এখানে গ্রানাইট পাথর ব্যবহার করেছি। কোনো-কোনোটায় পাথর কেটে নকশা করেছি। এক পাথরের ভেতর অন্য রঙের পাথর বসিয়েছি। তারপর স্টেইনলেস স্টিল আছে। লোহাও আছে। লোহার তৈরি চাকাগুলো লেকার দিয়ে ফিক্সড করে দেয়া হয়েছে। সবই রয়েল বোল্ট দিয়ে আটকে দেয়া হয়েছে। প্রথমে শেওলা ধরা দেয়ালে লাগানোর পর দেখতে তেমন ভালো দেখায়নি। পরে পুরো দেয়ালটাকে সাদা রঙ করার পর সাবজেক্টগুলো ফুটে উঠল। এই ম্যাটেরিয়াল সম্পর্কে আমার ভালো ধারণা আছে। এগুলো দীর্ঘসময় টিকে থাকবে।

উদ্যানের গল্পটা শুনতে চাই ।
বড় এই দেয়ালের পাশেই আছে আরও একশ ফুটের মতো দেয়াল। সেটাও এই দেয়ালের সঙ্গে লিং করালাম। দেয়ালের সামনে অনেকটুকু খোলা জায়গা পেলাম। সেখানে সবুজ ঘাস লাগিয়ে দেয়া হলো। বিশাল এই সবুজের মঝে মাঝে রয়েছে ভাস্কর্য। এখানে নানা আকৃতির, নানা রকম বিষয়ের ১২টি ভাস্কর্য। ভাস্কর্যের মধ্যে আছে এক শিশু বিদ্যুতের খুঁটির নিচে বসে বই পড়ছে। একাত্তরে লাশ পরে থাকা সেই রিকশা আছে। এগুলো লোহার। পাথরের আছে নানা রকমের শেইপ। সেগুলোর কোনো-কোনোটা বসার বেঞ্চি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

নদী দখলকারীরা নির্বাচন ও ঋণ পাওয়ার অযোগ্য/ ‘তুরাগ নদকে’ জীবনসত্তা ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট

মির্জা মাহমুদ আহমেদ
ঢাকার বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী তীর অবৈধ দখলমুক্ত করতে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে মার্চ পর্যন্ত অভিযান চালায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। প্রথম দফায় চার পর্বের উচ্ছেদ অভিযানে বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ তীরে ১ হাজার ৮৪৩টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।
১২ দিন বিরতির পর গত ৫ মার্চ থেকে বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ তীরে দ্বিতীয় দফা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ জানায়, দ্বিতীয় দফার এ উচ্ছেদ অভিযান চলবে ২৮ মার্চ পর্যন্ত।
বুড়িগঙ্গা নদীর তীর সংলগ্ন কামরাঙ্গীর চরের হুজুরপাড়া, আশ্রাফাবাদ, সাইনবোর্ড, খোলামোড়া ঘাট, লালবাগ কিল­ার মোড়, শশ্মানঘাট, লোহার ব্রিজ, ঝাউচর ও তুরাগ তীরবর্তী বসিলা ঢাকা উদ্যান ও কেরানীগঞ্জের মধু সিটি এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। উচ্ছেদ অভিযানে বেশ কয়েকটি বহুতল ভবনসহ অনেক আধা পাকা স্থাপনা ও সীমানা দেয়াল উচ্ছেদ করা হয়। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংক হাজারীবাগ শাখার নিকট দায়বদ্ধ একটি ভবনও ভেঙ্গে দেয়া হয়।
উচ্ছেদ অভিযান পরিদর্শনে এসে নৌ-পরিবহন সচিব মোঃ আবদুস সামাদ নদীতীর উদ্ধার অভিযানে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বনের কথা বলেন। এছাড়া যত প্রভাবশালী লোকই হোক না কেন দল-মত-নির্বিশেষে এবং প্রভাব প্রতিপত্তি বিবেচনা না করে নদীতীরে সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেন ঢাকা নদী বন্দরের যুগ্ন পরিচালক একেএম আরিফ উদ্দিন।
সরেজমিন কামরাঙ্গীর চরের আশ্ররাফাবাদ, হুজুরপাড়া, সাইনবোর্ড, খোলামুড়া এলাকা ঘুরে দেখা গেছে যেসব জায়গায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে সেখানে ভবনের ধংস্বস্তুপ পড়ে আছে। এদিক সেদিক ভবনের ভাঙ্গা ইট সুরকি পড়ে থাকতে দেখা গেছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, অবৈধ জায়গা উদ্ধার করতে গিয়ে বিআইডব্লিউটিএ তাঁদের বৈধ স্থাপনাও ভেঙ্গে দিয়েছে। বৈধ কাগজপত্র থাকলেও বিআইডব্লিউটিএ সেসব দেখেনি এবং উচ্ছেদের আগে তাঁদের নোটিশ দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। বসিলা ব্রিজের নিচে একটি আধা-পাকা বাড়ির মালিক জমিলাতুন নেসা অভিযোগ করে বলেন, তাঁর স্বামী জনৈক ইসহাক মিঞার কাছ থেকে ১৯৭৭ সালে আড়াই কাটা জমি কিনেন। তাঁদের কাছে দলিলও আছে। কিন্তু কয়েকদিন আগে বিআইডব্লিউটিএ অবৈধ স্থাপনা দাবি করে তাঁর বাড়ি ভেঙ্গে দিয়ে গেছে।
ঢাকা নদী বন্দরের যুগ্ন পরিচালক একেএম আরিফ উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীর উদ্ধারকৃত জায়গায় ওর্য়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে। বৃক্ষরোপন করে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলার পাশাপাশি পথচারীদের বসার জন্য বেঞ্চ থাকবে। বিনোদনের জন্য ৩টি ইকোপার্ক নির্মাণ করা হবে। এছাড়াও নদীতীর দখল করে যাতে ব্যবসায়িক মালামাল ওঠা-নামা না করতে পারে এজন্য নদীতীরে ১৯টি আরসিসি জেটি নির্মাণ করা হবে।
উদ্ধার অভিযান চলছে কর্ণফুলীতেও
ঢাকার বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ তীরে উদ্ধার অভিযান চালানোর পাশাপাশি চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতেও উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে চট্রগ্রাম জেলা প্রশাসন।
৪ ফ্রেরুয়ারি কর্ণফুলী নদীতীরে শুরু হওয়া প্রথম দফার প্রথমদিনের উচ্ছেদ অভিযানে সাম্পান সমবায় সমিতির কার্যালয়, যাত্রী ছাউনি, বিআইডব্লিউটিএ’র লোহার স্থাপনা, কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্সের অবৈধ স্থাপনাসহ প্রায় ৫০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। চট্রগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায় প্রথম দফার ৫ দিনের উচ্ছেদ অভিযানে সদরঘাট থেকে বারিক বিল্ডিং পর্যন্ত প্রায় ২৩০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ১০ একর ভূমি। কর্ণফুলী নদীতীরের ভূমি উদ্ধারের পর সেখানে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করছে জেলা প্রসাশন। এরপর দ্বিতীয় দফায় পতেঙ্গা থেকে চাক্তাই পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল মন্নান জানান, সরকারের সবুজ সংকেত পেলে উদ্ধারকৃত জায়গায় বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। ওয়াকওয়ে, বিনোদন কেন্দ্র ও হাতিরঝিলের আদলে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হবে। যেখানে মানুষ স্বস্তির বাতাস নিতে পারবে। মুক্ত থাকবে যান্ত্রিক কোলাহল থেকে।
এদিকে নগরীর মাঝির ঘাট এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরির্দশনে এসে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেছেন, কর্ণফুলী নদীর তীরে গড়ে উঠা কোনো অবৈধ স্থাপনা থাকবে না। ধীরে ধীরে সব স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। উচ্ছেদ করতে গিয়ে যারা হুমকি দিচ্ছেন তারা কেউ পার পাবে না। হুমকি দিলে উচ্ছেদ অভিযানের গতি আরও বাড়বে।
হাইকোর্টের রায়ে গতি পায় উদ্ধার অভিযান
ঢাকার তুরাগ নদকে ‘জীবন্ত সত্তা’ ঘোষণা করে দেশের সকল নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয় রক্ষার জন্য জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে ‘আইনগত অভিভাবক’ ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট।
বাংলাদেশের ইতিহাসে ‘মাইলফলক’ এই রায়ে নদী দখলকারীদের নির্বাচন করার ও ঋণ পাওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। নদী রক্ষা কমিশন যাতে নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয় রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে, সেজন্য আইন সংশোধন করে ‘কঠিন শাস্তির’ ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে সরকারকে। পাশাপাশি জলাশয় দখলকারী ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকারীদের তালিকা প্রকাশ, স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দেশের সব নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয়ের ডিজিটাল ডেটাবেইজ তৈরি এবং সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্প-কারখানায় নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি নিতে বলা হয়েছে হাই কোর্টের রায়ে।
তুরাগ নদী রক্ষায় একটি রিট মামলার বিচার শেষে ৩ ফ্রেরুয়ারি রোববার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের হাই কোর্ট বেঞ্চ ঐতিহাসিক এ রায় দেয়।
হাইকোর্টের এই রায়ের পর বুড়িগঙ্গায় চলমান উচ্ছেদ অভিযান গতি পায়। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ছাড়াও দেশের অনান্য নদ নদী উদ্ধারে জোরালো অভিযান শুরু করে জেলা প্রশাসন।
হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের একটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে তুরাগ নদীর অবৈধ দখলদারদের নাম ও স্থাপনার তালিকা হাই কোর্টে দাখিল করেছিল বিচার বিভাগীয় একটি তদন্ত কমিটি। ওই তালিকায় আসা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিরা পরে এ মামলায় পক্ষভুক্ত হন।
উভয়পক্ষের দীর্ঘ শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট নদী রক্ষায় গত ৩ ফ্রেরুয়ারি রায় ঘোষণা করে। সেদিন তুরাগ নদীকে ‘লিগ্যাল পারসন’ বা ‘জুরিসটিক পারসন’ ঘোষণা করা হয়, যা দেশের সব নদ-নদীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে বলে রিটকারীপক্ষের আইনজীবী জানান।
‘প্যারেন্স প্যট্রিয়া জুরিসডিকশনের আওতায় আদালত তুরাগ নদকে জীবন্ত সত্তা, জুরিসটিক ও লিগ্যাল পারসন হিসেবে ঘোষণা করছে।’ রায়ে বলা হয়েছে, দেশের সকল নদ-নদী খাল-বিল জলাশয় রক্ষার জন্য ‘পারসন ইন লোকো পেরেনটিস’ বা ‘আইনগত অভিভাবক’ হবে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন। ফলে দেশের সকল সকল নদ-নদী খাল-বিল জলাশয়ের সুরক্ষা, সংরক্ষণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, শ্রীবৃদ্ধিসহ সকল দায়িত্ব বর্তাবে নদী রক্ষা কমিশনের ওপর।
এছাড়া দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদকে নিজের এলাকার নদ-নদী, খাল-বিল, জলাশয়ের অবৈধ দখলদারদের চিহ্নিত করে তাদের নামের তালিকা জনসম্মুখে ও পত্রিকায় প্রকাশ, জাতীয় বা স্থানীয়- কোনো ধরনের নির্বাচনে প্রার্থীর বিরুদ্ধে নদী দখলের অভিযোগ থাকলে তাকে নির্বাচনের অযোগ্য ঘোষণা, দেশের সকল সরকারি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতি দুই মাসে কমপক্ষে এক ঘণ্টা ‘নদী রক্ষা, সুরক্ষা, দূষণ প্রতিরোধ’, নদ-নদীর প্রয়োজনীতার বিষয়ে সচেতনতামূলক পাঠদানের ব্যবস্থাসহ নদীরক্ষায় রায়ে আরও কিছু নির্দেশনা দিয়েছে হাইকোর্ট।
রায়ের একটি অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর কাছেও পাঠাতে বলেছে আদালত, যাতে এ রায়ের ভিত্তিতে তিনি অবৈধ দখলকারী বা স্থাপনা নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন।