Home সর্বশেষ
মূল রচনা

0 75

কারিকা ডেক্স


সহজ উপায়ে নগরবাসীদের মাঝে ফ্লাটের ব্যবস্থা করতে নিটল আয়াত প্রপার্টিজ লিঃ এর সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে রিয়েল এস্টেট এ্যান্ড হাউজিং এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। আজ বৃহস্পতিবার মহাখালীস্থ নিটল আয়াত প্রপার্টিজ লিঃ এর অফিসে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
রিহ্যাব এর পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট আলমগীর শামসুল আলামিন। অপরদিকে নিটল আয়াত প্রপার্টিজ এর পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মারিব আহমেদ (নিলয়)। এসময় নিটল-নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান, এফবিসিসিআই এর সাবেক প্রেসিডেন্ট আবদুল মাতলুব আহমাদ এবং রিহ্যাব এর সহ সভাপতি (প্রথম) লিয়াকত আলী ভূইয়া উপস্থিত ছিলেন।
সমঝোতা স্মারকের আওতায় নিটল আয়াত প্রপার্টিজ দীর্ঘ মেয়াদী ঋণে নাগরিকদের কাছে ফ্ল্যাট বিক্রি করবেন। ২০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দেওয়ার পর বাকি টাকা ২০ বছরের কিস্তিতে পরিশোধ করতে পারবেন ফ্ল্যাট ক্রেতা। ২০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দেওয়ার পরই ফ্ল্যাটের চাবি বুঝে নিতে পারবেন ক্রেতা সাধারণ। এই উদ্যোগ গৃহায়ন খাতকে গতিশীল করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

0 63

সাবরিনা মিলি


কোলাহলপূর্ণ এই নগরীতে ফুডকোর্ট বা রেস্টুরেন্টগুলো যেন মানুষে-মানুষে আরও জনাকীর্ণ হয়ে উঠেছে। এসব রেস্টুরেন্টের অধিকাংশটিতেই মিলবে থাই, চাইনিজ, ইতালিয়ান, আমেরিকান ধাঁচের বাহারি খাবার। তরুণ প্রজন্মও অনেকটাই অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে এসব খাবারে। ছোট মাছ বা কাঁটাওয়ালা মাছ, ভর্তা, ভাজি এবং দেশি মুরগিতেও নাকি তাদের রুচি হয় না! চিতল মাছের কোপ্তা, সরষে ইলিশ, লাবড়া, ইঁচড়, ভেটকি কিংবা চিংড়ি পাতুরি কী জিজ্ঞেস করলে অনেকে অবাক হয়।
অথচ এগুলোই আমাদের ঐতিহ্যবাহী খাবার, যা অন্যদের থেকে আলাদা করেছে বাঙালিকে। কালের আবর্তে হারিয়ে যাওয়া এই খাবারগুলোকে একশ্রেণির মানুষ এই শহুরে পরিবেশে ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন তাদের জন্য, যারা এখনো এই ধরনের খাবারের স্বাদ ভুলে যাননি। যারা মা কিংবা নানি-দাদির হাতের খাবারের স্বাদ পেতে চান তাদের জন্য বাহারি খাবারের আয়োজন নিয়ে অপেক্ষা করছে ‘পাতুরি’।

রেস্টুরেন্টে প্রবেশের সময় একপাশে টেরাকোটার কাজ, অন্যপাশে বাঁশের সারি, কলাবতী আর বাহারি লতার ফাঁকে ফাঁকে দেখা দেবে সবুজ ঘাস। কিছুদূর এগোলেই মূল ভবনের দরজা। দোতলা ভবনটির ভেতরের আলো-বাতাসের প্রাচুর্যতা আপনাকে ঠিক মুগ্ধ করবে তা নয়, বরং কিছুটা অবাক হবেন। প্রতিটি রুমের সঙ্গেই রয়েছে বড় বড় গ্লাস প্যানেল। ধবধবে সাদা এবং বাদামি রঙের দেয়ালে শোভা পাচ্ছে নানান ধরনের চিত্রকল্প। যা খাওয়ার সময় দেবে ভিন্ন এক অনুভূতির জোগান। ভবনটির নিচতলায় বাইরে বাঁশের সারি, কলাবতী আর বাহারি লতার ফাঁকে ফাঁকে সবুজের সমারোহে রয়েছে বসার ব্যবস্থা। শীতের সময় এটাই মুখর হয়ে ওঠে বারবিকিউ-পার্টিতে।
সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতেই নজরে পড়বে সাদা ধবধবে দেয়ালজুড়ে থাকা নানা ধরনের চিত্রকল্প। দোতলাও খোলামেলা পরিপাটি পরিবেশ। প্রতিটি দেয়ালে চিত্রকল্প। এছাড়া যেকোনো পাশ থেকেই তাকালে ভার্টিক্যাল সবুজের পাশাপাশি কলা গাছ, বাঁশ অথবা কোনো-না-কোনো সবুজে চোখ আটকাবেই।
আসা যাক খাবারের মেন্যুতে। গরুর মাংসের বাহারি পদের নাম পড়তে পড়তেই জিভে জল এসে যাবে। গরুর মাংসের ভুনা, কাঁঠালের বিচি দিয়ে গরুর মাংস, গরুর মাংসের রোস্ট, ঝুরা গরুর মাংস, গরুর চাপ, গরুর শাহি চাপ, মগজ ভুনা, কলিজা ভুনা ইত্যাদি। এ ছাড়াও পালংশাক, গোটা রসুন, সাতকড়া, বাঁধাকপি দিয়ে গরুর মাংসের আলাদা রেসিপির পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন এলাকার সব লোভনীয় মাংসের রেসিপি।

মুরগির মাংসপ্রিয়দের জন্য পাতুরির নিয়মিত আয়োজনের পাশাপাশি রয়েছে আচারি মুরগি, কাঁঠালের বিচি দিয়ে মুরগির মাংস, গোটা রসুন দিয়ে মুরগির মাংস এবং চিকেন তান্দুরি।
মাছপ্রেমীদের জন্য এখানে রয়েছে নানান আয়োজন। চিংড়ি ও ভেটকি মাছের পাতুরির পাশাপাশি রয়েছে সরষে ইলিশ, ইলিশ কারি, চিতল কোপ্তা, আইড় মাছ, চিংড়ির দোপেঁয়াজা, কাঁচকি চচ্চড়ি, শুঁটকি ভুনাসহ বেশকিছু মাছের কারি।
যদি মাছে-ভাতে বাঙালিয়ানার পাক্কা স্বাদ নিতে চান, তবে অর্ডার দেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই আপনার নাকে বাসমতি চালের গরম ভাতের গন্ধ খিদেটাকে আরেকটু চাঙা করে দেবে। সঙ্গে পছন্দ অনুযায়ী বেছে নিতে পারেন ভর্তা, ভাজি, মাছ কিংবা মাংসের যেকোনো পদ। তবে পাতুরিতে গিয়ে ভেটকি পাতুরি না খেয়ে ফিরলে যাওয়াটা একটু অপূর্ণই থেকে যায়। বাসমতি চালের গরম ভাতের সঙ্গে ভেটকি পাতুরির স্মোকি স্বাদটা চমৎকার!
ডেজার্ট আইটেমেও রয়েছে ঐতিহ্যের ছোঁয়া। ফিরনি, মিষ্টিদই, পাকান পিঠা, পাটিসাপটা ও নারকেল পিঠার পাশাপাশি কুলফিপ্রেমীরা কুষ্টিয়ার বিখ্যাত আদি কুলফির স্বাদ নিতে পারবেন চাইলেই। আর বন্ধুদের নিয়ে বিকেলের আড্ডায় চা-কফিতে চুমুক দিতে চাইলে পাতুরিতে মিলবে মসলা চা, রোজ চা, তাজা পুদিনা পাতার চা, রোস্টেড কফি ইত্যাদি।

ঠিকানা : পাতুরি, বাড়ি : ০৩, রোড : ১০বি, ব্লক : এইচ, বনানী, ঢাকা। ফোন : ০১৮৪১-৭৭৯৮৮৯

0 50

কারিকা ডেক্স


শিল্পকলা একাডেমিঃ

এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে সন্ধ্যা ৭.০০ টায় মঞ্চায়িত হবে শত নারী এক পুরুষ।

স্টার সিনেপ্লেক্সঃ    
বসুন্ধরা সিনেপ্লেক্সে ২ডি চলচ্চত্রের মধ্যে চলবে হ্যালুয়িন, দেবী, জনি ইংলিশ স্ট্রাইক এগেইন, ফিফত ওয়ে্ডিং এবং দ্যা নান।

থ্রিডি চলচ্চিত্রের মধ্যে চলবে ভেনম।

ব্লকবাস্টারঃ

যমুনা ব্লকবাস্টারে ২ডি চলচ্চত্রের মধ্যে চলবে জনি ইংলিশ-৩, হ্যালুয়িন, অ্যা সিম্পল ফেভর, দ্যা নান এবং দেবী।

থ্রিডি চলচ্চিত্রের মধ্যে চলবে মিশনঃ ইম্পসিবল- ফলআউট এবং ভেনম।

0 103

কারিকা  ডেক্স


রাজধানীতে তৃতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হল ‘ইন্টেরিয়র-এক্সটেরিয়র ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো-২০১৮’ এবং ‘বাংলাদেশ লাইটিং এক্সপো-২০১৮’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক দুটি প্রদর্শণী।

আন্তর্জাতিক এই প্রদর্শনী দুটিতে এবার ইন্টেরিয়র-এক্সটেরিয়র সংশ্লিষ্ট নতুন নতুন উদ্ভাবন, আর্ন্তজাতিক নকশার বিভিন্ন ডেকোর, ফার্নিশিং অ্যান্ড ফার্নিচার, লাইফস্টাইল এবং লাইটিং এর সর্বাধুনিক প্রযুক্তিপণ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। দর্শণার্থীদের জন্য ইন্টেরিয়রের অত্যাধুনিক ডিজাইনের টাইলস, স্যানিটারী ওয়্যার, বৈচিত্র্যপূর্ণ আসবাব-পত্র, আধুনিক ডেকোরেটিভ গ্লাস, ওয়াল ডেকোরেশন তুলে ধরা হয়েছে।

মেলায় অংশগ্রহন করে দেশের সর্বাধুনিক লাক্সারী স্যানিটারী ওয়্যার ব্রান্ড স্টেলা।

বাংলাদেশ ছাড়াও ৭টি দেশের অর্ধশত কোম্পানির অংশগ্রহনে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) ১১ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর  তিনদিনের প্রদর্শণী দু’টি অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকেরা মনে করছেন এধরনের আয়োজন ক্রেতা ও উৎপাদকদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করবে।

এফ টাচ ইভেন্টস লিমিটেডের সাথে যৌথভাবে এ প্রর্দশনীর আয়োজন করেছে এএসকে ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশনস প্রাইভেট লিমিটেড।

 

খালিদ জামিল


যারা ভবনের নকশা করেন তাদের মনে রাখতে হয় বেশকিছু বিষয়। সবচেয়ে বেশি কাজে লাগাতে হয় কল্পনাশক্তিকে। তবে বর্তমান সময়ে ভবনের নকশার ক্ষেত্রে সেটাকে আইকন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পাশাপাশি নিজের সৃষ্টির যাতে সর্বোচ্চ ব্যবহার মানুষ করতে পারে খেয়াল রাখতে হয় সেদিকেও। স্থপতি স্টিভেন হল তার ফার্মের নকশায় নির্মিত বেইজিংয়ের আবাসিক ও বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স লিঙ্কড হাইব্রিডের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘আপনি ব্যাপারটা কোনোভাবেই বুঝবেন না যদি এর ওপর, ভেতর এবং চারদিক সম্পর্কে না জানেন।’
হল বলছেন, ‘এই স্থাপনা একটি ‘আল্ট্র গ্রিন প্রজেক্ট’, যেখানে রয়েছে ৬৫৫টি জিওথারমাল দেয়াল। এগুলো কমপ্লেক্সের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। আবহাওয়ার কথা বিবেচনায় নিয়েই এই বিষয়গুলো রাখতে হয়েছে।’
রেইকজাভিক’স হারপা কনসার্ট হল ও কনফারেন্স সেন্টারের উদাহরণও আসতে পারে এখানে। এই স্থাপনাটি স্থাপত্য ফার্ম হেনিং লারসন, বাটেরিও ও শিল্পী ওলাফুর ইলিয়াসনের যৌথ প্রচেষ্টায় তৈরি। অ্যাসাইমেট্রিক্যাল ধাঁচের এই স্থাপনাতে ব্যবহার করা হয়েছে এলইডি-অ্যালুমিনেটেড কাচ আর স্টিলের ইট। যে-কারণে প্রতিদিন সন্ধ্যায় স্থাপনাটি আভির্ভূত হয় অন্যরকম সৌন্দর্য নিয়ে। বিশ্বের এমন সেরা ১০ স্থাপনার শেষ পাঁচ নিয়ে আমাদের আয়োজন।

১। প্যারট মিউজিয়াম অব ন্যাচার অ্যান্ড সায়েন্স
ডালাস
মেট্রোপলিস আর্কিটেক্টস (২০১২)
স্থপতি থম মায়ান ‘মরফোসিসে’র নকশা করে জিতেছিলেন বিশ্বখ্যাত পুলিৎজার পুরস্কার। স্থাপত্যবিদ্যার বাধাধরা নিয়মের বাইরে ভাবতে পারায় বিশেষ পরিচিতি আছে তার। প্যারট মিউজিয়ামও এমনই সৃষ্টি। খাঁজকাটা কংক্রিটে নির্মিত পাঁচতলা কিউব। কোণগুলোতে আছে টেক্সাস ঘাস। নিচ থেকে কাচে মোড়ানো এস্কেলেটর দর্শনার্থীদের নিয়ে যায় সরাসরি ওপরের মূল প্রদর্শনীতে।

২। প্যারিস আর্ট মিউজিয়াম
ওয়াটার মিল, নিউইয়র্ক
জারজগ অ্যান্ড ডিমেউরন (২০১২)
ত্রিকোণ দ্বিতল ছাদ, সেগুলো আবার সাদা ঢেউ তোলা ধাতুতে নির্মিত। অনেকটা প্রাচীন শস্যাগারের মতো। সেই সঙ্গে কুঁড়েঘরের মতো আর্টিস্ট স্টুডিওটা সংযুক্ত লং আইল্যান্ডের পূর্ব প্রান্তের সঙ্গে।
কংক্রিটের এই স্থাপত্যর নকশা মূলত সুইস ফার্মটির সিনিয়র অংশীদার আসকান মারগেনথালারের। ভেতরটা ঠান্ডা রাখতে মূলত গ্যালারির ছাদের নিচে তিনি প্রাকৃতিক কাঠের সিলিং দিয়েছেন। পাশাপাশি ছাদের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে পর্যাপ্তসংখ্যক জানালা।

৩। গুয়ানজু অপেরা হাউজ
গুয়ানজু, চীন
জাহা হাদিদ আর্কিটেক্টস (২০১০)
সাম্প্রতিক সময়ের চীনা ভবনগুলো অন্যরকম সংস্কৃতি তৈরি করেছে। তবে জাহা হাদিদের মতো এমন স্থাপনার দেখা মেলা ভার। এটা মূলত দুই ভাগে বিভক্ত। বড়টা ১,৮০০ সিটের হলরুম আর ছোটটার ধারণক্ষমতা ৪০০।
দুই অংশেই আছে স্টিল-ফ্রেমের ওপর কাচের দেয়ালের ব্যবহার। আছে গ্রানাইটের প্যানেলও। এই উপকরণ ব্যবহারের কারণে এর নির্মাণের সময় এবং বর্তমানে দেখভালের জন্য বড় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তবে কমপ্লেক্সটি একুশ শতকের চীনের একটি অনন্য নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হতে বাধ্য।

৪। মেট্রোপোল পারাসোল
সেভিয়া, স্পেন
জে মায়ার এইচ আর্কিটেক্টস (২০১১)
গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য নির্মিত সেভিয়ার প্লাজা ডি লা এনকারনেসিওনকে বিসর্জন দিয়েই এই প্রজেক্টের পক্ষে মত দিয়েছিলেন শহরের কর্তারা। এর ছাদের উচ্চতা ৯০ ফুট আর দৈর্ঘ্য ৫০০ ফুট। এর মধ্যেই রয়েছে একটি রেস্টুরেন্ট এবং একটি প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর।

৫। অ্যাবসল্যুট ওয়ার্ল্ড
মিসিসাউগা, ওন্টারিও
ম্যাড আর্কিটেক্টস (২০১২)
টরেন্টোর সবচেয়ে বড় শহরতলিতে গড়ে উঠেছে এই বহুতল আবাসিক স্থাপনা। টানা বারান্দা আর উপবৃত্তাকার মেঝের বিন্যাস ৫০ ও ৫৬তলা ভবনকে আলাদা রূপ দিয়েছে। বেইজিংয়ের নতুন একটি ফার্ম এই স্থাপত্যের নকশা করেছে। তাদের সহযোগী হিসেবে অবশ্য ছিল বুরকা আর্কিটেক্টস। ২০০৪ সালে ম্যাড প্রতিষ্ঠা করেন ইয়ানসং মা। মঙ্গোলিয়ার অরডোস জাদুঘরের নকশা করে তারা বেশ খ্যাতি অর্জন করেন। অ্যাবসল্যুট ওয়ার্ল্ড প্রজেক্টের নকশাও তারা করেছেন আর ১০টা ভবনের তুলনায় বেশ আলাদাভাবে।

0 200

সোহরাব আলম


শহরের ভেতরে থাকা ফাঁকা জায়গাগুলোতেও দ্রুত মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে ইট-পাথরের ভবন। নগরায়ণের এই অদৃশ্য পাগলা ঘোড়া মাড়িয়ে দিচ্ছে হাজারো গাছের প্রাণ। ফলে আশঙ্কাজনক হারে কমছে নগরের সবুজ। বিশেষত ঢাকা শহরে এই সমস্যা বেশ প্রকট। দরকারি অক্সিজেনসমৃদ্ধ নির্মল বায়ু পেতে এবং সৌন্দর্যের জন্য যে পরিমাণ গাছপালা তথা সবুজ থাকা দরকার তা ঢাকায় কতুটুকু আছে?
বিদ্যমান এই পরিস্থিতিতে সরকারের সঙ্গে নগর-পরিকল্পনাবিদ, পরিবেশবিদ থেকে শুরু করে সচেতন নাগরিকরা ঢাকায় সবুজায়নে কাজ করে যাচ্ছে। কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগে, কেউ সাংগঠনিকভাবে। ব্যক্তিগত উদ্যোগকে কেউ কেউ পরবর্তী সময়ে সাংগঠনিক রূপ দিয়ে সবুজায়নে কাজ করছেন এমন উদাহরণও আছে। ঢাকা মহানগরীতে এখন বিভিন্ন সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনের কার্যক্রমের বদৌলতে শহরের অনেক বাসা-বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে বারান্দা সবুজ হয়ে উঠেছে ফুল-ফল-সবজির গাছে। ছাদে শোভা পাচ্ছে পরিকল্পিত বাগান। এমনকি সবুজ হয়ে উঠছে সরকারি-বেসরকারি অফিস ভবন, সড়কসহ বিভিন্ন কারখানা। সংগঠনগুলো ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় গাছ লাগানোসহ বাসা-বাড়ি, অফিস ও কারখানায় সবুজায়নে কাজ করছে। সেবা দিচ্ছে রোপণ করা বা টবে লাগানো গাছের নিয়মিত যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রেও। ঢাকা শহরে এই ছাদবাগান কার্যক্রমকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করেছেন কিছু সংগঠন ও ব্যক্তি।
একটা সময় ছিল যখন স্বল্পসংখ্যক বাড়ির মালিক ছাদে বাগান করতেন। এখন রাজধানী ঢাকাসহ অন্য শহরগুলোর অনেক বাড়িতেও দেখা যায় ছোট বাগান। বিশেষ করে আগের তুলনায় গত ৫-৭ বছরে ছাদবাগান ও বারান্দায় নান্দনিকভাবে গাছ লাগানোর চর্চা শুরু হয়েছে জোরেশোরে। কেউ কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগে এসব বাগান করলেও বেশিরভাগই উৎসাহী হচ্ছেন সবুজ ছড়িয়ে দিতে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে। সবুজ নিয়ে কাজ করা সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানগুলো গাছ দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে অফিস সাজাতেও এগিয়ে আসছে।
ঢাকা শহরে ছাদবাগান কার্যক্রমকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করা ব্যক্তিদের অন্যতম একজন আহসান রনি। সবুজ বাঁচাতে তার গড়ে তোলা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘গ্রীন সেভারসে’র সদস্যরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
আহসান রনি জানান, ২০১১ সাল থেকে ছাদবাগান কার্যক্রম শুরু করে গ্রীন সেভারস। এরপর ২০১৪ সাল নাগাদ প্রায় তিন হাজার বাড়ির ছাদ ও বারান্দায় বাগান গড়ে দিয়েছে সংগঠনটি। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সবুজায়নে কাজ করেছে তারা। এছাড়া প্রতি মাসে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণের আয়োজন করছে। ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্কুলে স্থাপন করেছে ‘অক্সিজেন ব্যাংক’। এখানে স্কুলের শিশুদের জমানো টিফিনের পয়সায় তাদের স্কুলে হয় ‘বাগান’।
‘ভ্রাম্যমাণ বৃক্ষ ক্লিনিক’ গ্রীন সেভারসের একটি অনন্য উদ্যোগ। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষকে গাছ কিনতে ও লাগাতে উৎসাহিত করা হয়। শহরবাসীর দোরগোড়ায় গাছ লাগানোর উপকরণ, মাটি, সার ও গাছের চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেয়া হয়। ‘প্ল্যান্টস ডক্টর’ নামে সংগঠনটির একটি মোবাইল অ্যাপ রয়েছে। এই অনলাইন অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে গাছপালাবিষয়ক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
বিস্তারিত জানতে ফেসবুক পেজ : Green Savers.
ঠিকানা : গ্রীন সেভারস, ই-১৬, শেরেবাংলা নগর, আগারগাঁও, বেতার ভবনের কাছে, পরিবেশ অধিদফতরের সামনে। ফোন : ০১৫৫৮-১৬৬২৬৪।

নগরে সবুজ ছড়িয়ে দিতে কাজ করা আরেকটি সংগঠন ‘সবুজ ঢাকা’। এর প্রতিষ্ঠাতা রূপাই ইসলাম। ২০১২ সাল থেকে সংগঠনটি কাজ শুরু করে। তবে ব্যাপক কাজ শুরু করে ২০১৪ সাল থেকে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সঙ্গে মিলে ছাদবাগান তৈরিসহ বিভিন্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণে কাজ করেছে সংগঠনটি। কিছু স্কুলে গড়ে তুলেছে ফলের বাগান। বড় কিছু কাজে নামার প্রস্তুতি হিসেবে সংগঠনটি সম্প্রতি নিজেদের কার্যক্রম একটু ধীরলয়ে চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন রূপাই ইসলাম। এর মধ্যে সরকারের সঙ্গে মিলে বেশকিছু কাজ করছে তারা। তবে কেউ ছাদবাগান করতে চাইলে এখনো পাশে পাবে ‘সবুজ ঢাকা’কে।
রূপাই ইসলাম বলেন, আমারা শুরুতে বিনামূল্যেই এ ধরনের কাজ করে দিতাম। আমাদের একটা পরিকল্পনা ছিল ‘আইডিয়া গার্ডেনিং’ নামে। কেউ যদি তার বাড়ির ছাদটাকে সবুজ করতে চায়, তাহলে কীভাবে করবে, কী ধরনের গাছ হলে ভালো হয়, ছাদের ওপর গল্পের জন্য বসার জায়গা বা ঘাসের ওপর শোয়ার জায়গা তৈরি এ রকম পরিকল্পনা চাইলেও আমরা করে দেব। যে কেউ আমাদের ‘সবুজ ঢাকা’ ফেসবুক পেজে যোগাযোগ করতে পারেন।
ঠিকানা : সবুজ ঢাকা, বাড়ি : ২, রোড : ১৮, ব্লক : সি, মিরপুর-১০, ঢাকা-১২১৬। ফোন : ০১৮৩০-০৬৯৪৯৪।
সবুজায়ন নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে কাজ করছে ‘এনি’স গার্ডেন’। বাড়ির বারান্দা বা ছাদে বাগান তৈরি করা, অফিসে গাছ ভাড়া দেয়া ও গাছের পরিচর্যা করা, কারখানায় বাগান করে দেয়া, ফলের বাগান করে দেয়া এবং বাগানে ফোয়ারা স্থাপন করে দেয়ার মতো কাজ করে সংগঠনটি। এ প্রসঙ্গে এনি’স গার্ডেনের স্বত্বাধিকারী শাহানাজ চৌধুরী এনি বলেন, ‘ঢাকায় বাড়ি করার সময় আগের গাছগুলো কাটা পড়ে। ওই অক্সিজেন থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। ভবনের ছাদে ও বারান্দায় বাগান করে আমরা সেই অক্সিজেন পেতে পারি। একই সঙ্গে পরিবেশ বিপর্যয় রোধ করতে পারি।’
ইনডোর প্লান্ট-সার্ভিস সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী গাছগুলোকে সাজিয়ে দেই। এরপর আমাদের কর্মীরা সপ্তাহে দু’দিন যায়, গাছের যতœ নেয়। গাছগুলো পরিষ্কার করে। কোনো গাছ নষ্ট হয়ে গেলে মাস শেষে বদলে দেওয়া হয়। মাস শেষে আমরা একটা সার্ভিস চার্জ নিই। আলোচনা সাপেক্ষে ঢাকা শহরসহ দেশের যেকোনো শহরে গাছ সরবরাহ করা হয় বলেও জানান তিনি।
বিস্তারিত জানতে ফেসবুক পেজ : anys garden। ফোন : ০১৮৪১-৪৬৬৯৯৯।
ঢাকায় সবুজায়নে কাজ করা আরেকটি প্রতিষ্ঠান ‘স্মার্ট গার্ডেন’। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আলিমুজ্জামান মিলটন জানান, তারা মূলত আধুনিক কৃষি নিয়ে কাজ করেন। পাশাপাশি নগর-বাগান নিয়েও কাজ করছেন। তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরকে আধুনিকায়ন করার জন্য এখন মেট্রোরেল ও ফ্লাইওভারের মতো বড় উন্নয়নকাজ হচ্ছে। এসব করতে গিয়ে অনেক গাছ কাটা পড়ছে। এতে পরিবেশের যে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে, এটা পুষিয়ে নিতে কীভাবে সবুজায়ন করা যায়, এগুলো আধুনিকভাবে ডিজাইন করে এবং মেইনটেন্যান্সে কী হবে এই বিষয়গুলো নিয়ে আমরা কাজ করি। বেশকিছু কাজ চূড়ান্ত পরিকল্পনার পর্যায়ে আছে। শিগগিরই এসব কাজ শুরু হবে। এর মধ্যে কেপিসি ইন্ডাস্ট্রি এবং ধানমন্ডিতে একটি আধুনিক ছাদবাগানের কাজ হবে।’
গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী ‘স্মার্ট গার্ডেন’ কাজ করে জানিয়ে মিলটন বলেন, ‘আমরা বাগান করার পরিকল্পনা করতে সহায়তা করি। তাছাড়া গার্ডেনিং ইকুইপমেন্ট হোম ডেলিভারি করি। আমাদের ইতোমধ্যে তিন শতাধিক গ্রাহক আছে। আমরা সরাসরি এবং কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পণ্য পৌঁছে দেই।
বিস্তারিত জানতে ফেসবুক পেজ : ঝসধৎঃ Smart Garden।
ঠিকানা : স্মার্ট গার্ডেন ৭/৫, সলিমুল্লাহ রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা। ফোন : ০১৭১৭-৯১২৫৮২।

খালিদ জামিল


যারা ভবনের নকশা করেন তাদের মনে রাখতে হয় বেশকিছু বিষয়। সবচেয়ে বেশি কাজে লাগাতে হয় কল্পনাশক্তিকে। তবে বর্তমান সময়ে ভবনের নকশার ক্ষেত্রে সেটাকে আইকন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পাশাপাশি নিজের সৃষ্টির যাতে সর্বোচ্চ ব্যবহার মানুষ করতে পারে খেয়াল রাখতে হয় সেদিকেও। স্থপতি স্টিভেন হল তার ফার্মের নকশায় নির্মিত বেইজিংয়ের আবাসিক ও বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স লিঙ্কড হাইব্রিডের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘আপনি ব্যাপারটা কোনোভাবেই বুঝবেন না যদি এর ওপর, ভেতর এবং চারদিক সম্পর্কে না জানেন।’
হল বলছেন, ‘এই স্থাপনা একটি ‘আল্ট্র গ্রিন প্রজেক্ট’, যেখানে রয়েছে ৬৫৫টি জিওথারমাল দেয়াল। এগুলো কমপ্লেক্সের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। আবহাওয়ার কথা বিবেচনায় নিয়েই এই বিষয়গুলো রাখতে হয়েছে।
রেইকজাভিক’স হারপা কনসার্ট হল ও কনফারেন্স সেন্টারের উদাহরণও আসতে পারে এখানে। এই স্থাপনাটি স্থাপত্য ফার্ম হেনিং লারসন, বাটেরিও ও শিল্পী ওলাফুর ইলিয়াসনের যৌথ প্রচেষ্টায় তৈরি। অ্যাসাইমেট্রিক্যাল ধাঁচের এই স্থাপনাতে ব্যবহার করা হয়েছে এলইডি-অ্যালুমিনেটেড কাচ আর স্টিলের ইট। যে-কারণে প্রতিদিন সন্ধ্যায় স্থাপনাটি আভির্ভূত হয় অন্যরকম সৌন্দর্য নিয়ে। বিশ্বের এমন সেরা ১০ স্থাপনা নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজনের ১ম পর্ব।

১. হারপা কনসার্ট হল
রেইজাভিক আইল্যান্ড
হেনিং লারসন আর্কিটেক্ট এবং বাতেরিও আর্কিটেক্ট (২০১১)
আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার বেশ আগে থেকেই এই কনসার্ট হল আইল্যান্ডের চেহারাই বদলে দেয়। এক সময়ের ঘুমন্ত সৈকত যেন জেগে ওঠে। এর বিভিন্ন রঙের কাচ মানুষকে মোহিত করার ক্ষমতা রাখে। আর সে-কারণেই একে দেখতে স্থানীয়রা তো বটেই, বাইরে থেকেও মানুষ আসেন। শিল্পী ওলাফুর এলিসনের ক্রিস্টাল লাইন শেলটা পুরো স্থাপনার সঙ্গে মানিয়েছে অদ্ভুতভাবে। সাগরতীরে রাতে যখন এলইডি লাইটগুলো জ্বলে ওঠে, সেই সৌন্দর্য অবর্ণনীয়।

২. বুর্জ খলিফা
দুবাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত
স্কিডমোর, ওইংস অ্যান্ড মেরিল (২০১০)
মরুভূমির বুকে সবকিছুকে পেছনে ফেলে যেন মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে ২,৭১৭ ফুট উচ্চতার এই সুপার টাওয়ার। বাগিয়ে নিয়েছে বিশ্বের উচ্চতম ভবনের তকমা। ১৬২তলা এই ভবনটিতে অফিস থেকে শুরু করে বাসা, রেস্টুরেন্ট এমনকি একটি আরমানি হোটেলও রয়েছে। অবজারভেশন ডেকটা ১২৪তলায়। কেবল উচ্চতার দিক দিয়ে নয়, নকশার আরো অনেক দিক দিয়ে পৃথিবীর অন্যান্য স্থাপনাকে পেছনে ফেলেছে। স্টিলের ফ্রেমের ওপর গ্লাস-কার্টেন দেয়াল, যেটা আরবের প্রখর সূর্য থেকে ভবনের ভেতরটা রক্ষা করে। নিচ থেকে ধীরে ধীরে ওপরের দিকে ভবনটি ‘ওয়াই’ আকৃতি ধারণ করেছে।

৩. গার্ডেন্স বাই দ্য বে
সিঙ্গাপুর
উইলকিনসন আয়ের আর্কিটেক্টস, গ্র্যান্ট অ্যাসোসিয়েটস (২০১২)
২০১২ সালের ওয়ার্ল্ড আর্কিটেকচার ফেস্টিভ্যালে ‘বিল্ডিং অব দ্য ইয়ার’ মনোনীত হয় গার্ডেন্স বাই দ্য বে। মেরিনা বে ডিস্ট্রিক্টে প্যারাবোলিক আকৃতির বোটানিক্যাল গার্ডেন এটা। শুকনো এবং বর্ষা দুই মৌসুমের কথা মাথায় রেখেই এই নকশা করে উইলকিনসন আয়ের আর্কিটেক্টস। যে-কারণে তৃণভূমি কিংবা পাহাড়ি বনের মতোই আকর্ষণ এখানে। ভার্টিক্যাল বাগানটি তৈরিতে খুব বড় কিছু অবশ্য করেনি গ্র্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস। দর্শকদের হাঁটার জন্য শুধু এলিভেটেড ওয়াকওয়ের ব্যবস্থা করা আছে, যেটা গিয়ে মিলেছে ‘সুপার স্ট্রিটের’ সঙ্গে। সঙ্গেই রয়েছে কয়েকটি জায়গায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের জন্য সোলার প্যানেল।

৪. লিঙ্কড হাইব্রিড
বেইজিং
স্টিভেন হল আর্কিটেক্টস (২০০৯)
এটা মূলত আটটি টাওয়ারের সমন্বয়। প্রত্যেকটি পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত। আবাসিক ও বাণিজ্যিক দুই ধরনের কাজেই এটা ব্যবহৃত হয়। একুশ শতকের নগর উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রাকে মাথায় রেখেই নির্মাণ করা হয়েছে এই স্থাপনা। অভিজাত আবাসিক অংশটি যাতে স্থাপনার বাকি অংশ থেকে আলাদা না হয়ে পড়ে সেজন্য নিচতলায় খোলা প্যাসেজ রাখা হয়েছে। পাবলিক স্পেস যেমন বাগান, দোকান, রেস্টুরেন্ট এবং স্কুলগুলোতে যাওয়ার জন্য সব অংশ থেকেই রাখা হয়েছে পায়ে-চলার পথ। বাসিন্দা আর বাইরে থেকে আসা মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য রয়েছে কাচ আর ইস্পাতের মিশেলে তৈরি কয়েকটি সেতুও।

৫. দ্য শার্ড
লন্ডন
রেনজো পিয়ানো বিল্ডিং ওয়ার্কশপ (২০১২)
লন্ডনে আয়োজিত সর্বশেষ সামার অলিম্পিক যারা দেখেছেন তাদের কাছে ৭২তলাবিশিষ্ট এই ভবন পরিচিতই মনে হবে। পশ্চিম ইউরোপের সবচেয়ে উঁচু ভবন এটি। টেমস নদীর তীরে দাঁড়িয়ে ব্রিটিশ রাজধানীর স্কাইলাইনকে নতুন রূপ দিয়েছে এই বহুতল ভবন। কাচের আউটলাইনটার আটটি কোণ থাকায় শহরের প্রতিটা দিক যেমন এখান থেকে দেখা যায়, তেমনি ভেতরে সূর্যের আলো ঢুকতে পারে ভালোভাবেই। অফিস, অ্যাপার্টমেন্ট, রেস্টুরেন্ট আর হোটেল এ সবকিছু থাকায় ভবনটাকে বলা হয় ‘ভার্টিক্যাল ভিলেজ’। এ ছাড়া শহরটা অন্যভাবে দেখার জন্যও এখানে আসেন অনেকে। যেকোনো দিকে এখান থেকে দেখা যায় ৪০ মাইল পর্যন্ত।

 

0 196

সোহরাব আলম


রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত দেশের প্রথম আন্তর্জাতিকমানের পাঁচতারকা হোটেল ‘ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা’ ৩৫ বছর পর পুনরায় চালু হলো আগের নামে। মাঝে এটি ‘ঢাকা শেরাটন হোটেল’ ও ‘রূপসী বাংলা হোটেল’ নামে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। দীর্ঘ প্রায় চার বছরের সংস্কারকাজ শেষে ‘ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা’ গত ১৩ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
স্থপতি উইলিয়াম বি ট্যাবলারের ডিজাইন করা ‘হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা’ ১৯৬৬ সালে যাত্রা শুরু করে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত কার্যক্রম চালায়। এরপর স্টারউড কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি হওয়ায় ১৯৮৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ‘ঢাকা শেরাটন হোটেল’ নামে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলে। সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর হোটেল রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেড (বিএসএল) নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ‘রূপসী বাংলা হোটেল’ নামে এটি চালিয়েছে। পরে ২০১৩ সালে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল গ্রুপের (আইএইচজি) সঙ্গে বিএসএলের চুক্তি সম্পাদিত হয়। ওই চুক্তির আওতায় ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে সংস্কারের জন্য হোটেলটি বন্ধ রাখা হয়। নতুন সাজে এবং পূর্বনামে উদ্বোধনের পর নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করবে হোটেলটি।

আইএইচজি বিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশে তাদের হোটেল ব্যবসা পরিচালনা করছে। এ গ্রুপের টপ ব্র্যান্ড হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল। বর্তমানে ৬০টি দেশে এই ব্র্যান্ডের ১৮০টি হোটেল পরিচালিত হচ্ছে। আইএইচজির অন্য ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্রাউন প্লাজা, হলিডে ইন, হলিডে ইন এক্সপ্রেস, ক্যান্ডেলউড সুইট, হোটেল ইনডিগো, কিম্পটন হোটেল প্রভৃতি। সব মিলিয়ে এই গ্রুপের ছয় হাজার হোটেল রয়েছে সারা বিশ্বে।
নতুন সাজে ‘হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা’র সেবার মান আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী হয়েছে জানিয়ে হোটেলটির মার্কেটিং ও বিজনেস প্রমোশন ডিরেক্টর সহিদুস সাদেক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আইএইচজির চেইন ব্র্যান্ড হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল। এই ব্র্যান্ডটির নির্দিষ্ট একটা স্ট্যান্ডার্ড আছে। বিশ্বের সর্বত্রই ওই স্ট্যান্ডার্ড বজায় রেখে তারা ব্যবসা পরিচালনা করে। তাই আইএইচজির চাহিদা অনুযায়ী ব্র্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড বজায় রেখেই আমাদের এই হোটেলটি সাজানো হয়েছে।’

সহিদুস সাদেক আরও জানান, পুরনো ভবনের বাইরের কাঠামো ঠিক রেখে ভেতরের সবকিছু ঢেলে সাজানো হয়েছে। আগের নকশা অনুযায়ী রুমগুলো ছিল ২৬ বর্গমিটারের। কিন্তু বর্তমানে সারা বিশ্বের পাঁচতারকা হোটেলগুলোর রুম হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪৫ বর্গমিটার পরিসরের। আগের রুমগুলো ভেঙে ৪০ থেকে ৪২ বর্গমিটারের করা হয়েছে। এজন্য কমেছে হোটেলে রুমের সংখ্যা।
হোটেল কর্তৃপক্ষ জানায়, আগে হোটেলটির বলরুম ছিল একদিকে, আর ‘উইন্টার গার্ডেন’ নামে সবচেয়ে বড় হলরুমের অবস্থান ছিল আরেকদিকে। এখন দুটোকেই আনা হয়েছে একসঙ্গে। উইন্টার গার্ডেনের নাম পাল্টে রাখা হয়েছে ‘রূপসী বাংলা গ্র্যান্ড বলরুম’। সুইমিংপুলটি স্থানান্তর করে সাজানো হয়েছে নতুন করে। প্রকৃতির ছোঁয়া দেয়ার জন্য এটাকে নেয়া হয়েছে তিনতলায়, যেখান থেকে রমনা পার্কের প্রাকৃতিক দৃশ্য নজরে আসবে। জিমনেশিয়ামকে করা হয়েছে যুগোপযোগী। নতুন করে যুক্ত হয়েছে অত্যাধুনিক স্পা সেন্টার। বিশ্বের সেরা স্পা প্রতিষ্ঠান এটি পরিচালনা করবে। অডিও-ভিজ্যুয়াল লাইটিং সুবিধাসহ পাবলিক এরিয়া, ব্যাংকুয়েট হল ও মিটিং রুমের ব্যাপক সংস্কার করা হয়েছে। এছাড়া রন্ধনশালা ও লন্ড্রির সরঞ্জামাদি প্রতিস্থাপনসহ সংস্কার এবং মেকানিক্যাল-ইলেকট্রিক্যাল-প্লাম্বিং সিস্টেমের আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে। কার পার্কিংয়ে স্বয়ংক্রিয় কিছু ব্যবস্থা যুক্ত করে সুষ্ঠু পরিকল্পনার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।

হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকার ফুড সার্ভিসে খাবারের স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি সেটাকে স্বাস্থ্যকর করার জন্য রয়েছে নানা আয়োজন। উপমহাদেশের খাবারের মধ্যে সুপরিচিত জনপ্রিয় সব ধরনের খাবারই এখানে পরিবেশন করা হচ্ছে। বিশেষভাবে স্টেক হাউজ ও সি-ফুড বার রয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে আন্তর্জাতিকমানের পেস্ট্রি ও কফিশপ। পাল্টানো হয়েছে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকার প্রবেশপথের স্থাপত্য। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে অভ্যর্থনাকক্ষের কারুকাজ করা হয়েছে। দেশীয় ঐতিহ্যের ভিত্তিতে ডিজাইন করা নতুন আসবাবপত্র প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। পাঁচতারকা হোটেলের আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ইন্টারকন্টিনেন্টালের সর্বাধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন রুমগুলোর মধ্যে রয়েছে ডিলাক্স, ডিলাক্স টুইন, সুপার ডিলাক্স, লাক্সারি ডিলাক্স, এক্সিকিউটিভ স্যুইট, কিং স্যুইট, প্রিমিয়ার স্যুইট, বাঙালি স্যুইট প্রভৃতি। এসব রুম এবং স্যুইটগুলোর মধ্যে কয়েকটিতে যুক্ত করা হয়েছে সিটি ভিউ সুবিধা।
হোটেলের অভ্যন্তরীণ সুবিধার মধ্যে রয়েছে মিনি বার, বার, লন্ড্রি, রেস্টুরেন্ট, হলরুম, বলরুম, কনফারেন্স রুম, ইনডোর গেমস, সুইমিংপুল, পার্লার, সেলুন, ব্যায়ামাগার এবং স্টিম বাথ, রুম সার্ভিস, স্যুভেনির শপ, শপিং কর্নার, এটিএম বুথ, ফরেন মানি এক্সচেঞ্জ, গিফট শপ, কার রেন্টাল, ফ্যাক্স, কপিয়ার, স্কোয়াশ কোর্ট, টেনিস কোর্ট, ২৪ ঘণ্টা রিসেপশন, হুইয়ারপুল, চিকিৎসাকেন্দ্র, বাণিজ্যিক অফিস, এয়ারপোর্ট ট্রিপ, নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা ও সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা।
বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেডের (বিএসএল) সঙ্গে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল গ্রুপের চুক্তি অনুযায়ী আগামী ৩০ বছর এটি ‘হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা’ নামেই পরিচালিত হবে।

0 90

খালিদ জামিল


বাংলাদেশের ফুটবল-উন্মাদনা কতটা বেশি তা ভালোভাবে টের পাওয়া যায় ফুটবল বিশ্বকাপের সময়। ফুটবলের সেই মহামঞ্চে খেলার অভিজ্ঞতা আছে, এমন কোনো ফুটবলার বাংলাদেশি ক্লাবের হয়ে খেলবেন স্বাভাবিকভাবেই সেটা অনেক বড় ব্যাপার। তেমনটাই ঘটেছে এ-বছর। দেশের ঘরোয়া ফুটবলের সংস্কৃতিকে ভেঙে কোস্টারিকার স্ট্রাইকার ড্যানিয়েল কলিন্দ্রেসকে দলে ভিড়িয়েছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের নবাগত ক্লাব ‘বসুন্ধরা কিংস’। কয়েক মাস আগে শেষ হওয়া রাশিয়া বিশ্বকাপে কলিন্দ্রেস খেলেছেন দুটো ম্যাচ। তারপর দক্ষিণ আমেরিকা আর ভারতীয় ক্লাবের প্রস্তাব ফিরিয়ে ‘হ্যাঁ’ বলেছেন বসুন্ধরাকে।
কেবল খেলোয়াড় নয়, ইউরোপ থেকে হেভিওয়েট কোচিং স্টাফদের এনেও দেশের ফুটবল-পাড়ায় হইচই ফেলে দিয়েছে বসুন্ধরা। স্পেনের অস্কার ব্রুজন দায়িত্ব নিয়েছেন হেডকোচের। এর আগে মালদ্বীপের নিউ রেডিয়েন্টে থেকে দেখিয়েছেন নিজের মুন্সিয়ানা। তার আগে ভারতে কাজ করেছেন বলে উপমহাদেশের ফুটবলটা ব্রুজনের নখদর্পণে। তার সহকারী কোচ হিসেবে আছেন দু’জন। একজন ট্রেইনার। গোলকিপিং কোচসহ মোট ছয়জনের কোচিং টিম কাজ করবে টিম বসুন্ধরা কিংসের জন্য। তবে স্প্যানিশ হেডকোচ ব্রুজনের লবিংয়ে বেশকিছু বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে ক্লাবটি। রাশিয়া বিশ্বকাপ খেলা স্ট্রাইকার কলিন্দ্রেস এসেছে তার সুবাদেই। তাছাড়া ব্রুজনের সাবেক ক্লাব নিউ রেডিয়েন্টের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ খেলেও নিজেদের ঝালিয়ে নেয়া যাচ্ছে।
ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আবাসিক ক্যাম্প করেছে ক্লাবটি। সিনিয়র-জুনিয়র মিলিয়ে ৬০ জন খেলোয়াড়ের থাকার বন্দোবস্ত সেখানে। বসুন্ধরা আবাসিকের ভেতরেই ক্লাবের নিজস্ব মাঠ। নতুন মৌসুম শুরুর বেশ আগে থেকেই শুরু হয়ে গেছে অনুশীলন।
কিংসদের মূল ভেন্যু অবশ্য নীলফামারীতে। সাফ ফুটবল শুরুর আগে নীলফামারীর যে স্টেডিয়ামে শ্রীলংকার সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ জাতীয় দল, সেটাই মূলত বসুন্ধরা কিংসের হোমগ্রাউন্ড। আর সে কারণে নীলফামারীতেই স্থায়ী ঘাঁটি গাড়তে হচ্ছে বসুন্ধরা কিংসকে। রাজধানীর সুযোগ-সুবিধা নেই কিন্তু ভেন্যু হিসেবে মিলছে আন্তর্জাতিকমানের স্টেডিয়াম। নীলফামারী সরকারি কলেজের উল্টোদিকেই সেটার অবস্থান। ২১ হাজার দর্শক-ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এই মাঠের আয়তন প্রায় ১৬ হাজার বর্গফুট। বসুন্ধরা কিংসের হোমগ্রাউন্ড হলেও মাঠের মালিকানা এবং দেখভালের দায়িত্ব জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের। ফুটবলের পাশাপাশি তাই টুকটাক ক্রিকেটেরও অনুশীলন করে থাকে স্থানীয় দলগুলো।
নীলফামারী ইপিজেডের ভেতরে করা হয়েছে ক্লাবের আবাসিক ক্যাম্প। সেখানে একই সঙ্গে থাকতে পারেন ৭০ থেকে ৮০ জন খেলোয়াড়। দেশের ঘরোয়া ফুটবলের সাম্প্রতিক অবস্থা বিবেচনায় নিলে ব্যাপক তোড়জোড়ই শুরু করেছে বসুন্ধরা কিংস। ক্লাবটির সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম কারিকাকে বলেন, ‘আমরা অনুশীলন বেশ আগে থেকেই শুরু করেছি। বিদেশি ক্লাবের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচকেও গুরুত্ব দিচ্ছি। কারণ বড় টার্গেট নিয়েই মাঠে নামছি আমরা। যদিও প্রথমবারের মতো প্রিমিয়ার লিগ খেলছি কিন্তু এবারই শিরোপাটা জিততে চাই।’
২০১৩ সালে গঠিত হলেও শুরুতে কার্যক্রমের দিক দিয়ে বেশ পিছিয়ে ছিল ক্লাবটা। ২০১৬ সালে পাইওনিয়ার লিগ জয় করে তারা। এরপর কিছু শর্ত পূরণ করে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে। সেটা জিতেই বসুন্ধরা কিংস ২০১৮-১৯ মৌসুমে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। নাম শুনেই বোঝা যায় ক্লাবের পেছনে অর্থায়ন করছে বসুন্ধরা গ্রুপ। স্থানীয় ক্লাবের বদলে বড় ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের ফুটবল ক্লাব শক্তিশালী হয়ে উঠলে গ্যালারিতে দর্শক টানা কঠিন হবে অনেক ক্রীড়া সংগঠক এমন ধারণা পোষণ করেন। কিন্তু ক্লাবকে ঠিকঠাকভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান স্থানীয় ক্লাবগুলোতে নেই। সে কারণে বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পরিচালিত ফুটবল ক্লাবগুলোই হয়ে উঠছে দেশের ঘরোয়া ফুটবলের জায়ান্ট।
প্রিমিয়ার লিগের গত মৌসুমে প্রথমবারের মতো অংশ নিয়ে ভালোই চমক দেখিয়েছিল সাইফ স্পোর্টিং। বসুন্ধরা কিংসের মতো এতটা না হলেও বড় বিনিয়োগ করেছিল তারা দল গঠনে। কিন্তু লিগ ট্রফি শেষ পর্যন্ত জেতা হয়নি। চার নম্বরে থেকে মৌসুম শেষ করে তারা। তবে শর্ত পূরণ করতে পারায় খেলতে পেরেছিল এএফসি কাপে। বসুন্ধরা কিংসও হাঁটছে সেই পথেই। তবে আরও বড় আয়োজন করে নিজেদের প্রমাণ করার উদ্যোগ নিয়েছে ক্লাবটি।
এ তো গেল মূল দলের কথা। ফুটবলের পাইপলাইন মজবুত করতেও বেশ সচেষ্ট বসুন্ধরা কিংস। ক’দিন আগেই তারা শেষ করেছে অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবলার বাছাই প্রক্রিয়া। সারা দেশ থেকে ট্রায়ালের মাধ্যমে বাছাই করা হয়েছে সেরা ফুটবলারদের। পাঁচ হাজার আবেদনকারীর মধ্যে প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয় দেড় হাজার ফুটবলারকে। তাদের মধ্যে আবার ট্রায়ালের মাধ্যমে পাওয়া সেরাদের নিয়ে গঠন করা হয়েছে বসুন্ধরা কিংস অনূর্ধ্ব-১৭ দল।

0 116

অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান


সড়ক নিরাপত্তার দাবিতে সাম্প্রতিক ছাত্র-আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। সড়ক নিরাপত্তা আইন পাসের উদ্যোগসহ নানা পর্যায় থেকে কার্যক্রম চলছে। তৎপর হয়ে উঠেছে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সড়ক নিরাপদ হবে কি? বন্ধ হবে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা? প্রত্যাশিত নিরাপদ সড়ক কীভাবে নিশ্চিত হতে পারে এ নিয়ে কারিকা মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট) পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমানের। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সোহরাব শান্ত

ঢাকা শহরের গণপরিবহনের নৈরাজ্য নিয়ে ইদানীং বেশ আলোচনা হচ্ছে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে একটা বড় আন্দোলনও হয়ে গেল। এ বিষয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?
ড. মো. মিজানুর রহমান : ঢাকা শহরের যে পরিমাণ জনসংখ্যা এবং সে অনুযায়ী প্রতিদিন যে ট্রিপের (ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ভাষায়) চাহিদা তা কয়েক মিলিয়ন। আমাদের বিদ্যমান যে গণপরিবহন-ব্যবস্থা; শুধু বেসরকারি এবং বিআরটিসির বাস আর কিছু হিউম্যান হলার দিয়ে সেই ট্রিপ-চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এগুলোর জন্য প্রয়োজন ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এক সঙ্গে অনেক যাত্রী পরিবহন করতে পারে)। এ ধরনের গণপরিবহন-ব্যবস্থার দিকে যেতে কিছু কাজ শুরু হয়েছে। মেট্রোরেলের কাজ চলছে, বিআরটিএ’র বাসের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
ঢাকা শহরে বর্তমানে যে বাসগুলো চলছে, মালিকরা চালকদের কাছে চুক্তিভিত্তিক বাস দিচ্ছে। এর ফলে যেটা হয়, বাসের চালকের ওপর সাংঘাতিক রকমের চাপ তৈরি হয়। মালিককে যে টাকাটা দিতে হবে প্রথমে কিন্তু চালককে সেই টাকা আয় করতে হয়। তারপর অতিরিক্ত যে টাকাটা আয় করবে সেই টাকা থেকে সে নেবে এবং বাসের হেলপার ও সুপারভাইজারের আয় নির্ধারিত হয়। এ কারণে চালকের মধ্যে যাত্রী তুলতে প্রতিযোগিতার মনোভাব চলে আসে। কোথাও কয়েকজন যাত্রী দেখলে বেপরোয়াভাবে তাদের সংগ্রহের জন্য দ্রুতগতিতে এগিয়ে যায়। এ কারণে দুর্ঘটনাও ঘটছে। ঢাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী নিহতসহ কয়েকজন আহত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এবার নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্র-আন্দোলন হয়ে গেল। এই যে প্রতিযোগিতার মনোভাব এটা যতদিন আমরা বন্ধ করতে না পারছি ততদিন পর্যন্ত ঢাকা শহরের গণপরিবহনের নৈরাজ্য বন্ধ হবে না।

এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার যে উদ্যোগগুলো নিয়েছে, সেগুলো কতটা কার্যকর বলে আপনি মনে করেন?
মিজানুর রহমান : সরকারের বর্তমান উদ্যোগগুলো সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কিছুটা ভূমিকা রাখবে। কিন্তু সম্পূর্ণরূপে নৈরাজ্য বন্ধে এসব পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। ঢাকা শহরে বাসের প্রায় ২৭৯টি রুট রয়েছে। একটা ছোট শহরের জন্য এতগুলো রুট কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা যদি ঢাকা শহরকে চারটি বা পাঁচটি রুটে ভাগ করে সেখানে অল্প কয়েকটি (চার-পাঁচটি হতে পারে) কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে দেই; এখন যেসব বাস রয়েছে, সেগুলোকে যদি এই চার-পাঁচটার অধীনে নিয়ে আসতে পারি, তাহলে যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতা থাকবে না। প্রতিদিন যে মুনাফা অর্জিত হবে, তা যার যে ক’টি বাস রয়েছে সেই অনুযায়ী লভ্যাংশটা তাদের মধ্যে ভাগ হয়ে যাবে। মালিকদের ভয়, কোম্পানির সিস্টেমে চলে গেলে তাদের মুনাফা কমে যাবে। আসলে এখানে মুনাফা কমার কোনো আশঙ্কা নেই, বরং বাড়বে।
ভারতের মুম্বাই শহর আর বাংলাদেশের ঢাকা শহরের জনঘনত্ব অনেকটা একই রকম। মুম্বাই শহরে যে বাস ফ্রাঞ্চাইজ করা হয়েছে, সেখানে প্রতিটি বাস গড়ে প্রতিদিন ১,৩৩০ (এক হাজার তিনশ তিরিশ) জন যাত্রী পরিবহন করতে পারে। অথচ ঢাকা শহরে একটি বাস গড়ে ৫০০ (পাঁচশ) জন যাত্রী পরিবহন করে। তার মানে কোম্পানির অধীনে শৃঙ্খলার ভিত্তিতে চললে একই বাসে ৮০০/১,০০০ যাত্রী, এমনকি ১,২০০ (এক হাজার দুইশ) পর্যন্ত্র যাত্রী পরিবহন করতে পারবে। তাহলে ৫০০ যাত্রী পরিবহন করে এখন তারা যে মুনাফা পাচ্ছে, সেই একই বাস যখন ১০০০ যাত্রী পরিবহন করবে, তখন অবশ্যই মুনাফার পরিমাণ বেড়ে যাবে।
বাসচালক ও হেলপারদের যদি মাসিক বেতনের আওতায় আনা যায়, তাদের মধ্যে অতিরিক্ত যাত্রী তোলার বেপরোয়া মনোভাব থাকবে না। একই সঙ্গে আমাদের যে ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিটের কার্যক্রমগুলো এগিয়ে যাচ্ছে; এমআরটি-বিআরটিএ এগুলো যখন দু-তিন বছর পর যাত্রীসেবা দেওয়া শুরু করবে, তখন ঢাকা শহরের গণপরিবহনের নৈরাজ্যের চিত্র সম্পূর্ণ পাল্টে যাবে।

সড়কে নৈরাজ্যের জন্য গণপরিবহন ছাড়াও তো অনেকের দায় আছে…
মিজানুর রহমান : ঠিক। ঢাকা শহরে গণপরিবহনের পাশাপাশি অন্যান্য পরিবহনও চলছে। নৈরাজ্য বন্ধে আমাদের সবারই দায়িত্ব নিতে হবে। পথচারী, যাত্রী, প্রাইভেটকার যেগুলো রয়েছে, সবার মধ্যেই নিয়ম না-মানার প্রবণতা রয়েছে। ফলে সড়কে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। প্রাইভেট গাড়িগুলো অনেক সময় লেন বা ডিসিপ্লিন ইত্যাদি মেনে চলে না। আবার অনেক পথচারীই ফুটওভার ব্রিজ বা জেব্রাক্রসিং ব্যবহার না করায় যানজট বৃদ্ধির পাশাপাশি দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।

শহরের রাস্তায় পথচারীদের হাঁটার পরিবেশ না থাকার অভিযোগ আছে…
মিজানুর রহমান : ঢাকা শহরে ৬০ ভাগের বেশি লোক পায়ে হেঁটে যাতায়াত করে। অনেক সময় দেখা যায় ফুটপাতের কিছু অংশ পথচারীরা ফাঁকা পাচ্ছে, আবার কিছু অংশে গিয়ে দেখা যাচ্ছে সেটা হকারদের দখলে। তখন কিন্তু তাকে বাধ্য হয়ে রাস্তায় নামতে হচ্ছে। পথচারী যখন রাস্তায় নামে তখন কিন্তু আবার রাস্তার গাড়ি চলার অংশটুকু সংকুচিত হয়ে আসে। ঢাকা শহরের সব ফুটপাত পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত করে দিলে যানবাহনের ওপর চাপ অনেকটা কমে যাবে। কারণ ঢাকা শহরের ৬০ থেকে ৭০ ভাগ ট্রিপ খুব কম দূরত্বের। সেটা ৫০০ মিটার থেকে দেড় কিলোমিটারের মতো। এই দূরত্বগুলো মানুষ সহজেই পায়ে হেঁটে চলাচল করতে পারে। তার জন্য ফুটপাত উন্মুক্ত করে হাঁটার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় যে স্থাপনাগুলো তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে অপসারণ করতে হবে।

পর্যাপ্ত এবং প্রয়োজনীয় রাস্তা কি আছে আমাদের?
মিজানুর রহমান : একটা আদর্শ শহরের জন্য ২০ শতাংশের ওপরে রাস্তা থাকা জরুরি, সেখানে ঢাকার রয়েছে মাত্র ৬ থেকে ৮ শতাংশ। এর মধ্যে ২ শতাংশ বিভিন্নভাবে দখল বা ব্যবহার-অনুপযোগী হয়ে আছে। যে ৮ শতাংশ আছে, সেটা যেন কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়, সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ফুটপাতে মোটরসাইকেল উঠে যাওয়া কঠোরভাবে দমন করতে হবে। রাস্তার উল্টোদিকে চলার যে প্রবণতা, সেটাও বন্ধ করতে হবে।

সড়ক-নিরাপত্তায় জনসচেতনতা বাড়ানোর ব্যাপারে আপনার পরামর্শ কী?
মিজানুর রহমান : পথচারীদের সচেতন করার জন্য সরকার বর্তমানে যেসব উদ্যোগ নিয়েছে, সেটাকে আমি সাধুবাদ জানাই। পুলিশ কিছুদিন আগে ট্রাফিক সপ্তাহ পালন করেছে। এরপর মাসব্যাপী ট্রাফিক সচেতনতা কার্যক্রম শুরু করেছে। পাশাপাশি সরকারের সংশ্লিষ্ট যেসব মন্ত্রণালয় রয়েছে, তাদের ছোট ছোট কিছু বিজ্ঞাপন তৈরি করে সংবাদপত্র, টেলিভিশনে প্রচার করা উচিত। সাংবাদিকদেরও দায়িত্ব সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতন করতে লেখালেখি করা। সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশনগুলো যদি প্রতিদিন সকাল-বিকাল এক মিনিট করেও লোকজনকে ট্রাফিক আইন-কানুন সম্পর্কে সচেতন করার জন্য প্রচার চালায়; সবার সম্মিলিত উদ্যোগে মানুষ সচেতন হয়ে উঠবে।

সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধে আপনার পরামর্শ জানতে চাই।
মিজানুর রহমান : ঢাকা শহরে পথচারী হতাহতের ঘটনা প্রায়ই ঘটে। এ ধরনের দুর্ঘটনা কমে যাবে পথচারীরা যদি সচেতন হয়ে চলাফেরা করে। একই সঙ্গে চালকদের বেপরোয়া মনোভাবও বন্ধ করা জরুরি। একটা বিষয় লক্ষ্য করতে হবে, আমাদের দেশে গাড়ির ড্রাইভারদের নিয়ম করে কোনো প্রশিক্ষণ বা মোটিভেশনাল কার্যক্রমের আওতায় রাখা হয় না। সড়কে যে গাড়িটা চলছে, সেই গাড়িটা যেমন ফিট থাকা জরুরি, তেমনি গাড়ির চালককেও মানসিকভাবে ফিট থাকা জরুরি।
আমাদের দেশে চালকদের অন্য চোখে দেখা হয়। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করা দরকার। চালকদের সঙ্গে ভালো আচরণ করলে অনেক সময় তাদের মধ্যে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। চালকদের মাঝে মাঝে মোটিভেট করতে হবে। এক্ষেত্রে দেশে যারা ‘পাবলিক ফিগার’ রয়েছেন; যেমন নামকরা সাংবাদিক, খেলোয়াড় তাদের দিয়ে চালকদের সামনে অনুপ্রেরণামূলক কথাবার্তা বলাতে পারলে কার্যকরী ফল পাওয়া যাবে। চালকদের এটা বোঝাতে হবে; তিনি খুব গুরুত্বপূর্ণ একজন লোক, তার ওপর চল্লিশ বা পঞ্চাশজন যাত্রীর জীবনের নিরাপত্তা নির্ভর করে।

সড়ক নিরাপত্তা আইন কতটা কার্যকর হবে বলে মনে করেন?
মিজানুর রহমান : শুধু সড়ক নিরাপত্তা আইন দিয়েই যে আমরা সড়ককে নিরাপদ করতে পারব বা বিশৃঙ্খলা রোধ করতে পারব আমার কাছে সেটা মনে হয় না। যারা এই পরিবহন-ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত, যেমন- মালিক, চালক, শ্রমিক, যাত্রী, পথচারী, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য এবং যারা ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং ফিটনেস সার্টিফিকেট দেন সেই বিআরটিএ কর্মকর্তা-কর্মচারী, আমরা যারা সড়ক ডিজাইন করি বা সড়ক নির্মাণ ও নির্মাণ-কাজ তদারকি করি প্রত্যেকেরই নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। আইনের প্রয়োগ অবশ্যই কঠোরভাবে করতে হবে। চালকদের সামনে দৃষ্টান্ত তৈরি করতে হবে যে, দুর্ঘটনা ঘটালে বা অপরাধ করলে শাস্তি পেতে হবেই।