Home সর্বশেষ

0 248

কারিকা প্রতিবেদক
রাজধানীর সদরঘাটে অত্যাধুনিক ‘জলবায়ু উদ্বাস্তু আশ্রয়কেন্দ্র’ নির্মাণ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।
৮৪ হাজার বর্গফুট আয়তনবিশিষ্ট ছয়তলা ভবনের এই আশ্রয়কেন্দ্রে প্রতিদিন আটশ’ থেকে এক হাজার মানুষ বিভিন্ন ধরনের সেবা ও সহায়তা পাচ্ছেন। ইতোমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রটি জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশন সূত্র জানিয়েছে, এই সেবাকেন্দ্রটি থেকে নারী ও শিশুসহ সবার জন্য জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা যাবে; সেই সঙ্গে অসহায় মানুষের জন্য বৃদ্ধাশ্রম, পথবাসী নারীদের জন্য প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও প্রাথমিক শিক্ষাকেন্দ্র, কম্পিউটার ল্যাব, মনোসামাজিক কাউন্সিলিংকেন্দ্র, শিশুদের জন্য প্রারম্ভিক বিকাশ কার্যক্রম (ইসিডি) ও দিবাযত্নকেন্দ্র, শারীরিক বা মানসিকভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য বিশেষ শিক্ষা কার্যক্রম ও সচেতনতামূলক শিক্ষা সেশন রয়েছে।
এছাড়া শিশুদের জন্য পুষ্টিকর খাদ্য, বিনোদনের ব্যবস্থা এবং পথবাসী নারীদের জন্য আবাসন সুবিধাসহ জীবিকা উন্নয়ন ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। আশ্রয় গ্রহণকারীদের সুবিধার্থে ভবনসংলগ্ন একটি উন্নতমানের প্রতিবন্ধীবান্ধব সেবাকেন্দ্র; একটি অত্যাধুনিক পাবলিক টয়লেট এবং মানবিক অধিকার নিশ্চিতকরণে রয়েছে একটি মাতৃদুগ্ধ পানকেন্দ্র। রয়েছে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কমিউনিটিভিত্তিক মনোসামাজিক সহায়তা প্রদানের সুব্যবস্থা।
সিটি করপোরেশন বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রতিনিয়ত বন্যা, খরা, জলোচ্ছাস, নদীভাঙনসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং দারিদ্র্যের কারণে উদ্বাস্তু হয়ে অসংখ্য মানুষ ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য বড় বড় মেট্রোপলিটন শহরে পাড়ি জমাচ্ছে। শহরেও আছে অগণিত দরিদ্র আর উদ্বাস্তু মানুষ। মহাপ্রান্তিক এসব মানুষের মধ্যে প্রায় ৭ লাখ লোক পথ বা ঝুপড়িবাসী, যারা খোলা আকাশের নিচে অত্যন্ত অমানবিক জীবনযাপন করেন। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজার লোক বসবাস অনুপযোগী বস্তিতে বসবাস করছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই রয়েছেন প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ও শারীরিক বা মানসিকভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি।
বাংলাদেশ আরবান হেলথ সার্ভে ২০১৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৮ সাল নাগাদ নগরের জনসংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ৮ কোটি। এখনই উদ্যোগ না নিলে তাদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক মানুষ উদ্বাস্তু থাকবে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর শুমারি অনুযায়ী, ২০১৪ সালে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় বাস্তুহারা মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় দেড় লাখ। যাদের মধ্যে প্রায় ৩০ হাজারই বস্তি, ঝুপড়ি অথবা রাস্তায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
এই পরিপ্রেক্ষিতে, বিশেষত পথবাসী মানুষের বিপন্ন অবস্থার কথা চিন্তা করেই উদ্যোগটি নেওয়া হয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সার্বিক সহযোগিতায় সাজেদা ফাউন্ডেশন, কনসার্ন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড এবং ওয়াটার এইডের যৌথ প্রচেষ্টায় ২০১৫ সালে মানিকনগরে একটি পথবাসী সেবাকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। যেটির ভ‚মি দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এই কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জীবিকা উন্নয়ন, মানসিক স্বাস্থ্য ইত্যাদি নিয়ে সমন্বিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়ে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় সদরঘাটে প্রায় ৮৪ হাজার বর্গফুট আয়তন জায়গা নিয়ে একটি জলবায়ু উদ্বাস্তু সেন্টারের নির্মাণকাজ সম্প্রতি শেষ হয়েছে।
ছয় তলাবিশিষ্ট ভবনটির নিচতলায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবাসহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে ডায়াগনস্টিক, গাইনি, শিশু, মেডিসিন, চর্ম ও দন্ত্যসেবা প্রদান করা হয়। দ্বিতীয় তলার বাম পাশে রয়েছে ৭৫ জন বয়স্ক মানুষের জন্য দিবাযত্নকেন্দ্র এবং ডান পাশের কক্ষগুলোর মধ্যে একটি প্রশিক্ষণ ও অপরটি কম্পিউটার ল্যাব, একটি মনোসামাজিক কাউন্সিলিংকেন্দ্র। এর একটি কক্ষে রয়েছে ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়।
ভবনের তৃতীয় তলার বাম পাশে রয়েছে দুই থেকে ছয় বছর বয়সী ৮৫ জন শিশুর জন্য প্রারম্ভিক বিকাশ কার্যক্রম (ইসিডি) ও দিবাযত্নকেন্দ্র। এছাড়া ৭ থেকে ১০ বছরের শিশুদের শিক্ষাসহ সব শিশুর জন্য পুষ্টিকর খাদ্য ও বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। ডান পাশে ৮৫ জন স্কুলপড়ুয়া শিশুর জন্য শিক্ষা, শারীরিক বা মানসিকভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য বিশেষ শিক্ষা কার্যক্রম ও সচেতনতামূলক শিক্ষা সেশন রয়েছে। আর চতুর্থ ও পঞ্চম তলায় রয়েছে ৪৫২ জনের জন্য আবাসন সুবিধাসহ জীবিকা উন্নয়ন ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের সুবিধা। ভবনসংলগ্ন একটি উন্নতমানের প্রতিবন্ধীবান্ধব সেবাকেন্দ্র এবং পাবলিক টয়লেট এবং মানবিক অধিকার নিশ্চিতকরণে রয়েছে একটি মাতৃদুগ্ধ পানকেন্দ্র। এছাড়া সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য রয়েছে কমিউনিটিভিত্তিক মনোসামাজিক সহায়তা প্রদানের সুব্যবস্থা।
গত ২৮ জানুয়ারি কেন্দ্রটি ঘুরে দেখেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। এ সময় তিনি সেখানকার সুবিধাভোগীদের সঙ্গে কথা বলেন।
কেন্দ্রটি সম্পর্কে জানতে চাইলে সাঈদ খোকন বলেন, ‘আমরা প্রায়ই দেখি দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নদীভাঙনসহ নানা কারণে গৃহহীন হয়ে মানুষ শহরে আসছেন। তারা সন্তানদের নিয়ে রাস্তায় দিনাতিপাত করছেন। আমরা চাই এসব অসহায় মানুষকে ফুটপাত থেকে সরিয়ে জলবায়ু উদ্বাস্তু কেন্দ্রটিতে নিয়ে আসতে। এখানে তাদের নানা প্রশিক্ষণ দিয়ে সক্ষমতা করে পুনর্বাসনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। কেন্দ্রটিতে শিশুদের পুষ্টিকর খাবার সরবরাহসহ পড়াশোনার ব্যবস্থা রয়েছে। অসহায় বয়স্ক মানুষের জন্য রয়েছে বৃদ্ধাশ্রম। প্রকল্পটি শেষ করতে পেরে আমরা অত্যন্ত খুশি।’

0 294

কারিকা প্রতিবেদক

নভেল করোনাভাইরাস তথা কভিড-১৯ রোগে কাঁপছে বিশ্ব। ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব আগেও দেখেছে মানুষ। এইচআইভি ভাইরাস মোকাবিলা করেই বেঁচে থাকার পথ খুঁজছে মানবজাতি। কিন্তু করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা নিয়ে আতঙ্কিত সবাই। একের পর এক দেশে কভিড-১৯ রোগ ছড়িয়ে পড়ায় নভেল করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সতর্ক বাংলাদেশ। প্রাণঘাতী এই ভাইরাস এখনও বাংলাদেশে না ঢুকলেও তা প্রতিরোধে তিন ধাপের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকারের রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আইইডিসিআরের সমন্বয়ে তিন ধাপে প্রস্তুতির খসড়া তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসমূহসহ স্থল, নৌ ও সমুদ্রবন্দরসমূহে আগে থেকেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা করোনাভাইরাস নিয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বাংলাদেশে এবার অনেক আগে থেকেই করোনাভাইরাসের পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছিলাম আমরা। যদি রোগী পাওয়া যায় তখন কী করা হবে-সেসব প্রস্তুতির খসড়া আমরা তৈরি করেছি। সেটা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।
তিন ধাপে পরিকল্পনার বিষয়ে ডা. ফ্লোরা বলেন, একটা হচ্ছে অ্যালার্ট লেভেল, যখন কোনো রোগী নেই-এখন সেই কর্মসূচি আমরা পালন করছি। যখন বিদেশ থেকে আসা কোনো রোগী পাওয়া যাবে, অল্প সংখ্যায়-সেটা আরেকটা লেভেল। আর শেষ লেভেলটা হলো-যদি অনেক রোগী হয়ে যায়।
তবে বাংলাদেশে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে না বলে আশা করলেও প্রতিরোধের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি রাখা হচ্ছে না বলে জানান তিনি।
ডা. ফ্লোরা বলেন, সম্মিলিতভাবে আমরা যে কার্যক্রম নিচ্ছি, তাতে আশঙ্কা করি না যে এ রোগটা দ্রæত ছড়িয়ে পড়বে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরীক্ষার উপকরণের কোনো সমস্যা নেই। কিট পাইপলাইনে আছে, কিট আসতেই থাকবে। চীন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে আসছে। আমরা নমুনা পরীক্ষার ক্ষেত্রে তো কাউকে ফিরিয়ে দিইনি এখনও। আর যদি ১০০ বা ২০০ জন আক্রান্ত হন, সেক্ষেত্রে পরীক্ষার প্রয়োজন নেই বলে নির্দেশনা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দিলে ধরে নিতে হবে যে, করোনাভাইরাসের রোগী তারা। সেই অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে হবে।
চিকিৎসার বিষয়ে আইইডিসিআরের পরিচালক বলেন, করোনার তো কোনো আলাদা চিকিৎসা নেই। কমন কোল্ডের চিকিৎসা দিতে হবে এবং যেহেতু রোগটা ছোঁয়াচে তাই তাদের আইসোলেশনে রাখতে হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের ৮০ ভাগের বেশি মৃদু, ১৪ শতাংশের হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হয়েছে এবং ৬ শতাংশ জটিল অবস্থা নিয়ে আইসিইউ সাপোর্টে চিকিৎসায় রয়েছে।

করোনাভাইরাস পৌঁছেছে ৭০ দেশে
বছরের শুরুতে চীনের উহানে নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর তা ইতোমধ্যে প্রায় ৭০টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়েছে। এতে আক্রান্ত হয়েছে ৮০ হাজারের বেশি মানুষ, মারা গেছেন তিন হাজারের বেশি মানুষ। আফগানিস্তান, ওমান, বাহরাইন ও ইরাকেও সংক্রমণ ঘটেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।
তিনি বলেন, চীনের বাইরে সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান ও ইতালিকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে সেসব দেশে থাকা বাংলাদেশিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। যে দেশগুলোতে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি এবং সুস্থ রোগীদের আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস রয়েছে, সেসব দেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সতর্কতা এবং ভ্রমণ শেষে স্ক্রিনিংয়ের মধ্য দিয়ে আসার অনুরোধ করেন তিনি।

0 262

কারিকা প্রতিবেদক

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা তখন তুঙ্গে। ঠিক সে সময়ই বেসরকারি সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো) ‘বাংলাদেশে লেমিনেটেড পোস্টার, লিফলেট, স্টিকার ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে ‘থার্মাল লেমিনেশন ফিল্মস : অ্যান ইনসিজিং হেল্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট হ্যাভক অব ঢাকা সিটি’ শীর্ষক একটি গবেষণা প্রতিবেদনের ফল প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর পর প্রায় ১২ দিনের মধ্যে ২ হাজার ৪৭২ টন লেমিনেটেড প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপন্ন হয়েছে। সংস্থাটি ধারণা করেছে, পুরো নির্বাচনে শুধু পোস্টার থেকেই ২ হাজার ৫০০ টন প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপন্ন হয়েছে। নির্বাচনী পোস্টারসহ অন্যসব প্রচার সামগ্রী মিলিয়ে ২০১৯ সাল জুড়ে সমগ্র ঢাকায় ১০ হাজার টন লেমিনেটেড পোস্টার বর্জ্য তৈরি হয়েছে।
এসডোর গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর পরিবেশবাদী থেকে শুরু করে নগরবাসীর কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে। এমনিতেই নানা রকম দূষণে জর্জরিত ঢাকা। তার ওপর নির্বাচনী পোস্টার থেকে উৎপন্ন ২৫’শ টন বর্জ্য ঢাকার পরিবেশকে আরও ভারাক্রান্ত করে তুলবে- এমন আশঙ্কাই জেঁকে বসেছিল সবার মনে।
অথচ নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে ‘গ্রিন ঢাকা’র স্বপ্ন দেখানো স্বপ্নবাজরাই ঢাকা ঢেকেছিলেন পলিথিনের পোস্টারে। পরিবেশবাদীরা বলছেন, যাদের হাতে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী গড়ার দায়িত্ব, তারাই যদি নগরীর পরিবেশের ক্ষতিকর কার্যক্রমে জড়িয়ে যান, তাহলে এ নগরী রক্ষা করবে কে, পরিচ্ছন্ন রাখবে কে?
সিটি নির্বাচনসহ বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে অবৈধ পলিথিন দিয়ে তৈরি লেমিনেটেড পোস্টারের যথেচ্ছ ব্যবহারের বিষয়টি হাইকোর্টের নজরেও এসেছে। সিটি নির্বাচনে লেমিনেটেড পোস্টারের ব্যবহার বন্ধে গত ২২ জানুয়ারি নিষেধাজ্ঞা জারি করেন হাইকোর্ট। সিটি নির্বাচনের প্রচারণা চলাকালীন এই নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া লেমিনেটেড পোস্টার লাগানো কেন বেআইনি নয়- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
সিটি নির্বাচনের প্রায় সপ্তাহখানেক আগে হাইকোর্ট লেমিনেটেড পোস্টার নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও প্রচারণার বাকি দিনগুলোতে লেমিনেটেড পোস্টার ব্যবহারের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন কার্যত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। নির্বাচনী আচরণবিধি তদারকির জন্য নিয়োগকৃত ম্যাজিস্ট্রেট লেমিনেটেড পোস্টার ব্যবহারের বিষয়টি তদারকি করেননি। লেমিনেটেড পোস্টার ব্যবহারের অভিযোগে কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। তবে ঢাকা উত্তরের রিটার্নিং অফিসার আবুল কাশেম সাংবাদিকদের বলেন, ‘সিটি করপোরেশন (নির্বাচনী আচরণ) বিধিমালায় পলিথিন মোড়ানো পোস্টার ব্যবহার বিষয়ে কিছু বলা নেই। সে জন্য এর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা এখনো নেওয়া হয়নি।’
এসডো বলছে, ঢাকা শহরে প্রতি বছর বিভিন্ন উৎস থেকে গড়ে প্রায় ১০ হাজার টনের ওপর লেমিনেটেড প্লাস্টিকের বর্জ্য উৎপন্ন হয়, যা মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। গবেষণামতে, ২০১৯ সালে ৭ হাজার ১৪৫ দশমিক ২ টন লেমিনেটেড প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপন্ন হয়েছে। ২০২০ সালে আনুমানিক ১০ হাজার ৪৩৮ টন বর্জ্য উৎপন্ন হবে, যেগুলো পূর্ণ প্রক্রিয়াজাতকরণ (রিসাইক্লিং) সম্ভব নয়। বিশেষ করে অমর একুশে বইমেলা ও অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রদর্শনীতে লেমিনেটেড পোস্টার, লিফলেট এবং স্টিকার বিতরণ নিষিদ্ধ করতে কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়।
এসডোর মহাসচিব ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, প্রাথমিক ব্যবহারের পরে ফেলে দেয়া এ বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য প্লাস্টিক দূষণের অংশীদার হবে। এসব একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক-বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াবে, পরিবেশ বিপর্যয় ঘটবে। এ ছাড়া বায়ু ও পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

পরিত্যক্ত পোস্টারের কাগজে লিখবে সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা, ব্যানার দিয়ে তৈরি হচ্ছে স্কুলব্যাগ
এসডোর গবেষণা প্রতিবেদনের ফলাফল পরিবেশবাদী ও নগরবাসীর কপালে যতটা চিন্তার ভাঁজ ফেলেছিল, পরিত্যক্ত পোস্টারের কাগজে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য খাতা তৈরির খবর ততটাই স্বস্তি জুগিয়েছে। নির্বাচনের পর এসব পোস্টার কী হবে-তা নিয়ে নানা আলোচনার মধ্যে ‘বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন’ পোস্টার দিয়ে শিক্ষা উপকরণ বানানোর ঘোষণা দেয়। তাদের স্লোগান ছিল : আপনার কাছে যা বর্জ্য, অন্যের জন্য তা সম্পদ।
ভোটের পর সংগ্রহ করা প্রায় ২০ টন পোস্টার, ব্যানার ও লিফলেটে এসব উপকরণ তৈরির কর্মযজ্ঞ চালাচ্ছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। ইতিমধ্যে কিছু খাতা শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।
পোস্টার সংগ্রহ করতে গিয়ে মেয়রসহ অনেক কাউন্সিলর প্রার্থীর কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন বলে জানালেন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাকর্মী সালমান ইয়াসির। তিনি বলেন, ‘মানুষের সাড়া ছিল প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। অনেক প্রার্থী, সাধারণ মানুষ নিজেদের উদ্যোগে পোস্টার পৌঁছে দিয়ে গেছেন। আমরা চিন্তায় ছিলাম মানুষের সাড়া পাব কি না। কিন্তু আমরা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সাড়া পেয়েছি।’
সালমান জানান, সব পোস্টার দিয়ে খাতা বানানো যাবে না। বাকিগুলো দিয়ে খাবারের প্যাকেটসহ অন্যান্য শিক্ষা উপকরণ, ব্যানার দিয়ে স্কুলব্যাগ, বাজারের ব্যাগ এবং কলম- পেন্সিল রাখার ব্যাগ তৈরি হবে।
পোস্টার দিয়ে শিক্ষা উপকরণ তৈরির কর্মসূচির ফলে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক থেকে অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে পোস্টার সরে গেছে।
উল্লেখ্য, এবার ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে উত্তর ও দক্ষিণ মিলিয়ে ১৩ মেয়র ও সাড়ে সাত’শ কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলেন। মেয়র প্রার্থীদের প্রত্যেকে গড়ে ৪ লাখের বেশি পোস্টার ছাপিয়েছেন। কাউন্সিলর প্রার্থীরা ছেপেছেন ৫ থেকে ১০ হাজার করে।
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সিটি নির্বাচনে পরিত্যক্ত, অব্যবহৃত পোস্টার, ব্যানার, লেমিনেটিংয়ের কাজে ব্যবহৃত পলিথিন জনহিতকর কাজে ব্যবহার করায় পরিবেশবাদী সংগঠন, জনপ্রতিনিধি, নগরবাসীসহ সকলেই স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে লেমিনেটেড পোস্টারের ব্যবহার আর মাত্রাতিরিক্ত শব্দদূষণের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনে লেমিনেটেড পোস্টার নিষিদ্ধ এবং মাইকের ব্যবহার সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই সিদ্ধান্তে উপনির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ছয় প্রার্থী সম্মত হয়েছেন।

0 187

কারিকা প্রতিবেদক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার সড়ক বাতিতে পরিবর্তন আসার পর বদলে গেছে নগরীর এ অংশের চেহারা। পুরনো সোডিয়াম বাতির বদলে এখন অত্যাধুনিক বিদেশি এলইডি বাতির আলোয় সন্ধ্যা হলেই ঝলমলে হয়ে উঠছে দক্ষিণ ঢাকা। অত্যাধুনিক বাতি জ্বলে ওঠায় রাতের ফাঁকা সড়কে অনেকেই এখন ঘুরতে বের হচ্ছেন।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত ঢাকা সিটি নির্বাচনে ঢাকা শহরকে আধুনিক ও ঝকঝকে বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি ছিল তৎকালীন মেয়র সাঈদ খোকনের। সবুজ ও আধুনিক ঢাকা গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি নগরবাসীর মনোযোগ আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেছিলেন। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নির্বাচিত হওয়ার পর সাঈদ খোকন বিষয়টি সরকারের কাছে উপস্থাপনে সক্ষম হন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর গুরুত্ব অনুধাবন করেন। ফলে উন্নত বিশ্বের আদলে গ্রহণ করা হয় এলইডি বাতি প্রকল্প। প্রায় ২৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৬ সালে দক্ষিণ ঢাকার সড়কে ৪১ হাজার ১৩৩টি এলইডি সড়কবাতি লাগানো হয়েছে। এ ছাড়া নবগঠিত ১৮টি ওয়ার্ডেও ১৫ হাজার এলইডি বাতি স্থাপনের কাজ শেষ পর্যায়ে।
ডিএসসিসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এখানকার পুরনো ৫টি অঞ্চলের জন্য মোট ১০টি প্যাকেজের মাধ্যমে ৪০ ওয়াটের ২৭ হাজার ৫১টি, ৮০ ওয়াটের চার হাজার ৪৩টি, ১২০ ওয়াটের তিন হাজার ২০২টি, ১৫০ ওয়াটের তিন হাজার ৮১১টিসহ মোট ৩৮ হাজার ৯৮টি বাতি স্থাপন করা হয়। পরবর্তী সময়ে সংশোধিত প্রকল্পে নতুন করে আরও তিন হাজার ৩৫টি বাতি লাগানো হয়। প্রতিটি বাতির গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে ৫০ হাজার ঘণ্টা। এই হিসেবে দিনের ১২ ঘণ্টা বাদ দিলে এই বাতির গ্যারান্টি দাঁড়ায় প্রায় ১১ বছরের বেশি। বাতিগুলো এমনভাবে নিয়ন্ত্রিত যে, দিনের আলো শেষে রাতের অন্ধকার নেমে আসার সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জ্বলে উঠবে।
ডিএসসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্প-পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, দেশে এই প্রথম ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সড়কে এলইডি বাতি স্থাপন করা হয়েছে। এই বাতির অনেক সুফল রয়েছে। সড়কে এখন ছিনতাই কম হচ্ছে। মানুষ রাতে অনায়াসে হাঁটতে পারেন। নারীরাও নির্ভয়ে চলতে-ফিরতে পারছেন।
তিনি আরও বলেন, বাতিগুলো যেকোনো স্থান থেকে সফটওয়্যারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বাতি নিয়ন্ত্রণে অত্যাধুনিক পাওয়ার লাইট কম্পিউটার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। রাতে প্রয়োজন অনুপাতে আলো নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে। প্রতিদিন সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিগুলো জ্বলে ও নেভে। প্রতিটি বাতি দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ডিজাইন করা হয়েছে। বাতির আলো চোখের জন্যও কোনোরকম ক্ষতিকর নয়।

0 117

হাইকোর্টের মন্তব্য

কারিকা প্রতিবেদক

বুড়িগঙ্গার তীরে পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া অবৈধ কল-কারখানা গড়ে ওঠায় ঢাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। বুড়িগঙ্গার পানি দূষণের বিষয়ে এক রিটের সম্পূরক আবেদনের শুনানিতে গত ২২ জানুয়ারি বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ’র সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে আদালতের রায় ও আদেশ অনুসারে বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় এবং অসত্য তথ্য দিয়ে আদালতকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। ওয়াসার এমডি’র পক্ষে ছিলেন আইনজীবী উম্মে সালমা। আর পরিবেশ অধিদফতরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আমাতুল করিম।
এর আগে ২০১০ সালে বুড়িগঙ্গার পানি দূষণ বন্ধে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে মনজিল মোরসেদ একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। ২০১১ সালে রায় দিয়ে আদালত ছয় মাসের মধ্যে বুড়িগঙ্গার ভেতরে যে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিসচার্জ লাইনগুলো (শিল্পবর্জ্য নিঃসরণ লাইন) আছে, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়ার জন্য ওয়াসার এমডির প্রতি নির্দেশ দেন। ২০১৪ সালে পরিবেশ অধিদফতর বিদুৎ-সংযোগ কেটে দেয়। ২০১৬ সালে আপিল বিভাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর পরিবেশ অধিদফতরের কার্যক্রম বৈধ হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু তিন বছরেও কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ায় ফের ২০১৯ সালে একটি সম্পূরক আবেদন করা হয়। ২০১৯ সালের জুলাই মাসে ওয়াসার এমডির বিরুদ্ধে বুড়িগঙ্গার দূষণ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হয়।
ওই অভিযোগের ভিত্তিতে ওয়াসাকে বুড়িগঙ্গায় থাকা স্যুয়ারেজ লাইন সম্পর্কে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত। পরে ওয়াসার প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াসার কোনও লাইন বুড়িগঙ্গায় নেই। অন্যদিকে বিআইডব্লিউটিএ’র প্রতিবেদন বলছে, বুড়িগঙ্গায় থাকা ৬৮টি লাইনের মধ্যে ৫৮টি ওয়াসার।
এরপর আদালতে অসত্য তথ্য দেওয়ার জন্য ওয়াসার এমডির বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা জানতে চান হাইকোর্ট। এবং আদালতের নির্দেশ পালনে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেন। নির্দেশের পর ২/৩ বার আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয় ওয়াসা। কিন্তু কোনো প্রতিবেদনে আদালতের নির্দেশ পালনের পদক্ষেপ তারা দেখাতে পারেনি। তাই ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

স্মাধীনতার ৪৯ বছর

আবদুল্লাহ আল মামুন
মহান মুক্তিযুদ্ধে গৌরবজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে চট্টগ্রামের। ১৯৭১ সালের মার্চে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণাও পাঠ করা হয় এ চট্টগ্রামেই। রয়েছে অসংখ্য বধ্যভূমি। দেশ মাতৃকার স্বাধীনতার জন্য প্রাণ উৎসর্গ করেছেন এখানকার কয়েক লাখ মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু সেই শহীদদের স্মরণে স্বাধীনতার ৪৯ বছরেও চট্টগ্রামে নির্মিত হয়নি কোন স্মৃতিসৌধ। ফলে স্মাধীনতা ও বিজয় দিবসে ভাষা শহীদদের স্মরণে নির্মিত শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণ করেন চট্টগ্রামের বাসিন্দারা। চট্টগ্রামে স্মৃতিসৌধ না থাকায় আক্ষেপ রয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদেরও।
স্মৃতিসৌধ নির্মাণে মন্ত্রী-মেয়ররা বিভিন্ন সময় প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবে আলোর মুখ দেখেনি। সর্বশেষ গত বছরের ১৯ এপ্রিল নগরের দামপাড়ায় এক অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক চট্টগ্রামে শহীদদের স্মরণে স্মৃতিসৌধ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে বাস্তবে চোখে পড়ার মতো কোন তৎপরতা দেখা যায়নি। এর আগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর নগরের কাজির দেউড়িতে পুরনো সার্কিট হাউসের সামনে বর্তমান শিশু পার্কের স্থানে স্মৃতিসৌধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আ জ ম নাছির উদ্দীন। কিন্তু বাস্তবে কোন উদ্যোগ নেননি তিনি। উল্টো শিশুপার্কের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা গবেষক ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের মুক্তি আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার চট্টগ্রাম। মুক্তিযুদ্ধের অনেক গৌরবের সাক্ষীও বন্দরনগরী। অথচ এই অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য এখানে নেই কোনো স্মৃতিসৌধ। এটি একই সঙ্গে বিস্ময়কর ও হতাশার। নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস পৌঁছানো এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি যথার্থ সম্মান প্রদর্শনের স্বার্থে চট্টগ্রামেও একটি স্মৃতিসৌধ থাকা উচিত।’
ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য ১৯৬৯ সালে চট্টগ্রামের নন্দনকাননের মুসলিম ইনস্টিটিউট হলের সামনে নির্মাণ করা হয় শহীদ মিনার। শুরুতে এখানে মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা জানানো হতো। স্মৃতিসৌধ নির্মাণ না হওয়ায় পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসেও এখানে শ্রদ্ধা জানানো শুরু হয়। দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্স ও স্মৃতিসৌধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছে সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসে এ দাবি জোরালো হয়। আশ্বাস দেন মন্ত্রী ও মেয়র। পরবর্তীতে এ দাবি প্রতিশ্রুতি হিসেবেই ঝুলে থাকে।
গত ১৯ এপ্রিল মুক্তিযুদ্ধে পাঁচ শহীদের স্মরণে চট্টগ্রাম নগরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছিলেন, ‘সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সারাদেশের প্রতিটি জেলায়, উপজেলায় ও ইউনিয়নে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ নির্মাণের। চট্টগ্রামে স্মৃতিসৌধ নেই। চট্টগ্রামের মেয়রকে অনুরোধ করবো জায়গা দেওয়ার জন্য। স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হবে।’
২০১৬ সালের ২৬ ডিসেম্বর নগরের থিয়েটার ইনস্টিটিউটে সিটি করপোরেশনের ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা’ অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছিলেন, ‘চট্টগ্রামে আমাদের সবেধন নীলমণি একটি শহীদ মিনার। ২১ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ ও বিজয় দিবসে আমরা এ শহীদ মিনারেই যাই। গুরুত্বের দিক বিবেচনা করে চট্টগ্রামে স্মৃতিসৌধ প্রয়োজন।’ তিনি পুরনো সার্কিট হাউসের সামনের শিশুপার্কের স্থানটিকে সুবিধাজনক স্থান উল্লেখ করে বলেন, ‘সেখানেই স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা যুক্তিযুক্ত হবে। শিশুপার্কের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে সে মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না। এ স্থানেই স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হবে।’ এমন ঘোষণা দিলেও কথা রাখেননি সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। শিশু পার্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করা হয়। গত বছরের ১৮ নভেম্বর শিশু পার্কটির আধুনিকায়ন কাজেরও উদ্বোধন করেন তিনি।
পরবর্তীতে এ বিষয়ে ব্যাখা দিয়ে মেয়র নাছির বলেন, ‘জমিটি আমাদের না, এটি শিশু পার্ক করার শর্তে আমাদের দেওয়া হয়। আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যদি তাদের (বরাদ্দ গ্রহীতা) বাদ দিই, তাহলে হয়তো তারা আদালতে যেতে পারে। আবার অন্য কিছু করলে জমির বরাদ্দও বাতিল হয়ে যাবে। এমনিতে আমরা মামলায় জর্জরিত। সাড়ে তিনশ থেকে চারশ মামলা। এগুলো শুরু হয়, কিন্তু শেষ হয় না। কাজ করবো নাকি মামলা চালাবো।’

0 241

কারিকা প্রতিবেদক

প্রায় দুইকোটি মানুষের এই মেগাসিটিকে ঘিরে নগরবাসীর প্রত্যাশা কম নয়। প্রত্যাশার পারদ যেমনি উপরের দিকে তেমনি প্রাপ্তির খাতাও বলা চলে প্রায় শূন্য! । এরই মধ্যে ঢাকা পেয়ে গেছে দুই নগরপিতাকে। নতুন দায়িত্ব নেয়া এই দু’জনের প্রতি প্রত্যাশা কী- কারিকার পাঠকদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিলো তারা কেমন ঢাকা প্রত্যাশা করেন? এমন প্রশ্নে পাঠকদের কাছ থেকে স্বর্তঃফূর্ত সাড়া পাওয়া গেছে। পাঠকরা জানিয়েছেন তাঁদের প্রত্যাশার কথা তাঁদের ভাবনার কথা।
নগরপিতার কাছে পরিস্কার পরিচ্ছন, দূষণ ও যানজটমুক্ত ঢাকার প্রত্যাশা করেন এনআরবি ব্যাংকের কর্মকর্তা মোহাম্মদ খালেদ হোসেন। বেসরকারি চাকরিজীবী দিলশাম মাহ্জাবিন মৌরির প্রত্যাশাও দুনীর্তি, যানজটমুক্ত সবুজ ঢাকার। সংবাদকর্মী স্বপ্ন রোজ রাজধানীর প্রতিটি বাস স্ট্যান্ডে নারীদের জন্য পৃথক টয়লেট ও স্তন্যদান কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার দাবী জানিয়েছেন।
প্রকৌশলী মির্জা নূর আহমেদের মতে, মেয়রদের কার্যপরিধি সীমিত থাকায় তাঁদের কাজের গন্ডিও ছকে বাঁধা। তাই নির্ধারিত কয়েকটি কাজ ছাড়া সিটি করপোরেশন স্বাধীনভাবে আর কোন কাজ করতে পারে না। নাগরিকদের প্রত্যাশা পূরণে যানজট প্রশমন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশার উপদ্রব কমানো এবং নিরবিচ্ছিন পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে নগর কর্তৃপক্ষকে আরও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে বলে মনে করেন তিনি। সিটি করপোরেশনকে সড়ক ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি ট্রাফিক শৃঙ্খলার দায়িত্ব নিতে হবে। এছাড়া সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সিটি করপোরেশনের নিজস্ব বাহিনী গড়ে তুলতে হবে। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তোলার লক্ষ্যে উন্নত দেশের আদলে জরিমানার ব্যবস্থা করতে হবে। যেসব বাড়ি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এর সামনে ময়লা আবর্জনা থাকবে, তাদেরকে জরিমানার আওতায় আনতে হবে। ময়লা আবর্জনা পরিস্কারের পাশাপাশি এসব বিষয় দেখভালের জন্য সিটি করপোরেশনের কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে। মশা এবং অন্যান্য পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে আলাদা সেল গঠন করতে হবে এবং পরিবেশের কোন ক্ষতি না করে এগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ঢাকা ওয়াসাকে সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রনাধীন করতে হবে। অবৈধভাবে ফুটপাত ও রাস্তা দখলকারীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং নির্মাণ সামগ্রী রাস্তায় বা ফুটপাতে রাখলে জরিমানার বিধান চালু করতে হবে, দুনীর্তি প্রতিরোধে মেয়র এবং কাউন্সিলারদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে তবেই সিটি করপোরেশন নগরবাসীর কাঙ্খিত প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে বলে মত দেন অনেকেই।
বাংলাদেশ ইনষ্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলসের) তথ্য কর্মকর্তা মামুন অর রশিদ মনে করেন, যানজট, গণপরিবহনের সংকট, ময়লা আবর্জনা, জলাবদ্ধতা, মশার উপদ্রব এবং গ্যাস-পানির দুঃপ্রাপ্যতা ঢাকার নিত্যসঙ্গী।
শুধু ধনিক শ্রেনীর কথা ভাবলেই চলবে না একই সঙ্গে নগরের খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষের কথাও ভাবতে হবে। যারা এ নগরের প্রাণ। নাগরিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সিটি করপোরেশন দলমত নির্বিশেষে জনগণের প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠবে, জনমতকে প্রাধান্য দিয়ে জনহিতকর কাজ করবে এমনটাই প্রত্যাশা করি।
পিতার কাছে সন্তানের যেমন চাওয়া মেগাসিটি ঢাকার বাসিন্দা হিসেবে নগরপিতার কাছে ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সংবাদকর্মী জিকো সালেহীনের প্রত্যাশাটাও ঠিক তেমনি। তিনি বলেন, ঢাকা সিটিকে যানজট,দূষণ ও ডেঙ্গু মুক্ত শহর হিসেবে দেখতে চাই। সেই সঙ্গে পরিচ্ছন্ন বাধাহীন ফুটপাতে চলতে চাই। প্রতিটি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ চাই,দখল হয়ে যাওয়া খাল এবং নালার পুনরুদ্ধার চাই। প্রতিটি আঞ্চলিক সিটি করপোরেশন অফিসে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সুবিধা চাই। প্রতিদিনের কাঁচাবাজার মনিটরিং এবং দ্রব্য-মূল্যের দাম নিয়ন্ত্রণ চাই। পোষ্টার মুক্ত নগরী দেখতে। চাই মাদক মুক্ত সমাজ। নাগরিক হিসেবে আমাদের চাওয়া পাওয়ার শেষ নাই। প্রত্যাশা করি নবনির্বাচিত মেয়রেরা অতীতের না হওয়া কাজ দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করবেন।

0 286

মির্জা মাহমুদ আহমেদ

রাস্তার পাশের চা-দোকানকে বলা হয় পাবলিক পার্লামেন্ট! শতপথ শত মতের সম্মিলন ঘটে চা-দোকানকে ঘিরে। কখনও কখনও মতের অমিল হলে চায়ের কাপেই ওঠে ঝড়! শহুরে জীবনছকে বাঁধা, ব্যস্ত। ফলে এখন আর সেভাবে চায়ের দোকানে আড্ডা জমে না। এছাড়া রাজপথ থেকে পাড়া-মহল্লার অলিগলি-সবখানেই গড়ে উঠেছে ছোট ছোট কফিশপ ও ক্যাফে। সব মিলিয়ে চা-দোকানের আড্ডাটা অনেকটাই যেন মান্না দে’র কফি হাউজের ভাগ্য বরণ করেছে এই সময়ে এসে। মান্না দে যেমনটা গেয়েছিলেন ‘কফি হাউজের আড্ডাটা আজ আর নেই, আজ আর নেই…।’
ঘড়িতে তখন দুপুর সাড়ে ১২টার কিছু বেশি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাকিম চত্বরের চা-দোকানগুলো ঘিরে শিক্ষার্থীদের ছোট ছোট জটলা। একটি জটলার কাছে গিয়ে জানা গেল, তারা সবাই আসন্ন সেমিস্টার ফাইনাল নিয়ে কথা বলছেন। কারও হয়তো নোট জোগাড় হয়নি। কারো পুরো বই-ই বাকি। কেউ হয়তো শেষ সময়ে প্রয়োজনীয় চ্যাপ্টারগুলো দাগিয়ে নিচ্ছেন। জটলার মধ্যেই কথা হয় অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন বিভাগের শিক্ষার্থী নাজিয়া আফরিন মৌমিতার সঙ্গে। মৌমিতা বললেন, ‘সামনেই আমাদের পরীক্ষা, তাই চায়ের আড্ডায় এখন পড়াশোনা নিয়েই বেশি কথা হচ্ছে। এমনিতে চায়ের আড্ডায় কথার কোনো লাগাম থাকে না। সিনেমা, ফেসবুক, গসিপ, ট্যুর-প্ল্যান-এসব বিষয় নিয়েই কথা হয় বেশি। এছাড়া আড্ডায় যখন ছেলেরা থাকে তখন ক্রিকেট, পলিটিক্স, হল পলিটিক্স, গেম, মুভি, গার্লফ্রেন্ড, ফেসবুক-এসব বিষয় নিয়েই কথা হয়। আর মেয়েদের আড্ডায় অবশ্যই বড় অংশজুড়ে থাকে ড্রেস আর সাজগোজ।
তেজগাঁওয়ের নাবিস্কো বিস্কিট কারখানা পার হয়ে খানিকটা এগিয়ে ডানে ঘুরলে ছোট একটা টং দোকান। কিছুক্ষণ জিরিয়ে নিতে টং দোকানের সামনে রাখা কাঠের বেঞ্চিতে বসলাম। দোকানি তখন এক মনে টুংটাং শব্দ তুলে চা বানিয়ে যাচ্ছেন। কান পাততেই শোনা গেল নতুন বছরে বাড়িভাড়া বৃদ্ধি, বাসা বদলানোর ঝক্কি, ছেলেমেয়েদের স্কুলে ভর্তি, শীতের সবজির দাম কিংবা বেড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে আলাপ। সেই সঙ্গে আলাপে উঠে এলো অন্যান্য বছরের তুলনায় ঢাকায় এবার শীতের তীব্রতার কথাও। চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতেই কেউ সেরে নিলেন ব্যবসায়িক, পারিবারিক কিংবা অফিশিয়াল আলাপ।
৩০ বছরের বেশি সময় ধরে তেজগাঁওয়ের এ জায়গাটিতে চা বিক্রি করছেন মজিদ মিয়া। বললেন,‘এখানে যারা চা খেতে আসেন, অধিকাংশই আশপাশের ফ্যাক্টরি অথবা অফিসে কাজ করেন। পাশেই মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল হওয়ায় অনেক যাত্রী, পথচারীও চায়ে চুমুক দিয়ে ক্লান্তিদূর করতে আসেন।’
শীতের মৌসুমে চায়ের বিকিকিনি রমরমা হলেও চায়ের দোকানে আগের মতো আড্ডা জমে না বলে জানালেন মজিদ মিয়া। কিন্তু কেন জমে না? উত্তরটা দিলেন কেটলি থেকে কাপে চা ঢালতে ঢালতেই, ‘এখন সবাই ব্যস্ত। দুই দন্ড বসার ফুরসত নেই। যদিওবা বসে, মোবাইল হাতে নিয়ে টিপতে থাকে। চোখ দুইটা থাকে মোবাইলের দিকে।’
বাংলাদেশের জন্ম-ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে দুটি চা-দোকানের নাম। প্রথমটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুদা’র ক্যান্টিন, অন্যটি পাবনার রূপপুরের বিবিসি বাজার।
১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে এদেশের মানুষের অধিকার আদায়ে যত আন্দোলন-সংগ্রাম হয়েছে তার সঙ্গে ‘মধুর ক্যান্টিন’ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ক্যাম্পাসে একটি কথা প্রচলিত রয়েছে, মধুর ক্যান্টিনে না এলে ভালো রাজনীতিবিদ হওয়া যায় না। এ কথার প্রমাণ মেলে বর্তমান ছাত্র সংগঠনগুলোর ‘মধু’কেন্দ্রিক কার্যক্রমে। ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা প্রতিদিনই সকাল-বিকাল জমায়েত হন মধুর ক্যান্টিনে। আজও দেশের যেকোনো সংকটকালে ও গণমানুষের অধিকার আদায়ে ছাত্রদের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার ডাক দেওয়া হয় এখান থেকে। ’৪৮-এর ভাষা আন্দোলন, ’৪৯-এর বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের আন্দোলন, ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ’৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ’৭০-এর সাধারণ নির্বাচন ও সর্বশেষ মুক্তিযুদ্ধের সময় বলিষ্ঠ নেতৃত্ব আসে এ ক্যান্টিন থেকেই।
’৬৯ থেকে ’৭১ পর্যন্ত বহু বৈঠক মধুর ক্যান্টিনে হয়েছে। যার কারণে মধুদার ক্যান্টিনটি ক্রমেই ছাত্র রাজনীতির মূল ঘাঁটিতে রূপান্তরিত হয়। মধুদার আন্তরিক ব্যবহার ও সততার জন্য খুব অল্প সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের বিশ্বস্ত হয়ে ওঠেন। সেই বিশ্বস্ততার দামও দিতে হয় তাকে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে প্রবেশ করে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায় মধুদাকে। মধুদার ছেলে অরুণ কুমার দে’র ভাষ্যমতে, সেই রাতে তার বাবা অর্থাৎ মধুদার হাতে প্রথম গুলি লাগার পর ওই দৃশ্য দেখে তার মা’ও মারা যান। একই রাতে আরও মারা যান মধুদার সদ্যবিবাহিত পুত্র রণজিৎ কুমার ও তার স্ত্রী রিনা রানী।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ক্র্যাকডাউনের পর কাশেম মোল্লা পাকশীর রূপপুরে নিজ গ্রামে চলে যান। সেখানে নিজ হাতে লাগান একটি কড়ই গাছ। গাছের পাশেই দেন ছোট্ট একটি চায়ের দোকান। তখন স্ত্রী আনোয়ারা বেগমের ইচ্ছায় কাশেম মোল্লা ‘থ্রি ব্র্যান্ডের একটি রেডিও কেনেন। তখন ‘থ্রি ব্র্যান্ড’ রেডিওর মালিক হওয়া ছিল রীতিমতো গর্বের। চায়ের দোকানে ক্রেতাদের ভিড় জমানোর জন্য রেডিওটি তিনি প্রতিদিন দোকানে নিয়ে যেতেন। পুরোদমে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে বিবিসি বাংলায় খবর প্রচারিত হতো। খবর শোনার জন্য মুক্তিযোদ্ধারা কাশেম মোল্লার চায়ের দোকানে আসতেন। রাতে স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র, বিবিসি, ভয়েস অব আমেরিকা ও কলকাতা বেতারের খবর শোনার জন্য আশপাশের মানুষ নিয়মিত ভিড় জমাত তার চায়ের দোকানে। খবরে মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের কথা শুনে একদিকে যেমন অবরুদ্ধ দেশবাসী উদ্দীপ্ত হতেন, তেমনি দেশজুড়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর চালানো বর্বরতা সম্পর্কেও জানা যেত।
পাকহানাদার বাহিনীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে তিনি রেডিওতে মুক্তিযোদ্ধাদের খবর শোনাতেন। চা খেতে আসা লোকজনের কাছ থেকে পাওয়া নানারকম তথ্য থাকত কাশেম মোল্লার কাছে। গোপনে মুক্তিযোদ্ধাদের দেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর ও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সম্পর্কে তথ্য দিতেন তিনি।
ক্রমেই ভিড় বাড়তে থাকে তার দোকানে। মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে তার গড়ে ওঠে সখ্য। দেশ স্বাধীন হওয়ার কয়েকদিন আগে রাজাকারদের খবরের ভিত্তিতে পাকিস্তানি সেনারা হানা দেয় কাশেম মোল্লার চায়ের দোকানে। রাইফেলের বাঁট দিয়ে তার পায়ে আঘাত করে। সেই থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত খুঁড়িয়ে হাঁটতেন কাশেম মোল্লা।
মুক্তিযুদ্ধের সময় সন্ধ্যা হলেই রূপপুর গ্রামে হাঁকডাক শুরু হয়ে যেত। গ্রামের লোকেরা একে অন্যকে বলত, ‘চলো বিবিসি শুনতে যাই। এভাবে কাশেম মোল্লার চায়ের দোকানে বিবিসি’র খবর শোনাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে আরও কয়েকশ’ দোকান, বিস্তার লাভ করতে থাকে বাজার, যা দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ‘বিবিসি শোনার বাজার’ থেকে মানুষের মুখে মুখে ‘বিবিসি বাজার’ নামে পরিচিত হয়।

মির্জা মাহমুদ আহমেদ

পরিকল্পিত সবুজ আবাসন গড়ার প্রত্যয়ে শুরু হয়েছে রিহ্যাব উইন্টার ফেয়ার ২০১৯। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র (বিআইসিসি) প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত আবাসন খাতের সবচেয়ে বড় এ মেলার আয়োজক রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। ২৪ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের ‘হল অব ফেমে’ পাঁচ দিনব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম। মেলা চলবে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শ. ম. রেজাউল করিম বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। সেই উন্নয়নে অবকাঠামোগত দিক দিয়ে রিহ্যাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সেবা সহজীকরণের নির্দেশনা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘প্ল্যান পাস করাতে আগে ১৬টি স্তর অতিক্রম করতে হতো। এখন সেটা চার স্তরে নামিয়ে আনা হয়েছে। বিদ্যমান চারটি স্তরেও যাতে ভোগান্তি না হয় সেজন্য অটোমেশন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। প্ল্যান পাস ছাড়াও ভূমির ছাড়পত্র ও মিউটেশন আগের থেকে দ্রুত সময়ে ও সহজে করা যাচ্ছে।’
আবাসন ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত রেজিস্ট্রেশন ফি কমানো বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আইন মন্ত্রণালয়ে রেজিস্ট্রেশন ফি কমানো-সংক্রান্ত ভেটিং শেষ হয়েছে। আশা করি আগামী সংসদ এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।’
আবাসন ব্যবসায়ীরা যাতে সরকারি টেন্ডারে অংশ নিতে পারেন সেজন্য অচিরেই ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস’ সংশোধন করা হবে বলেও তিনি জানান।
অসাধু ও প্রতারক আবাসন ব্যবসায়ীরা রিহ্যাবের সুনাম ক্ষুণ করছে উলে­খ করে তিনি এদের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে রিহ্যাবকে আহবান জানান। সকলের জন্য আবাসন নিশ্চিত করতে রিহ্যাব-সদস্যদের গুরুত্বগূর্ণ ভূমিকা পালনের ব্যাপারেও আহবান জানান মন্ত্রী।
সরকারি আবাসন প্রকল্পে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি দেশিয় বিনিয়োগকারীরা যাতে বিনিয়োগ করতে পারে সেই সুযোগ সৃষ্টি করা হবে উলে­খ করে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, ‘তুরাগ নদীর পাড়ে নতুন স্যাটেলাইট সিটি, কেরানীগঞ্জ স্যাটেলাইট সিটি, ঝিলমিল প্রকল্প, পূর্বাচল এবং উত্তরা থার্ড ফ্রেজে বিদেশি বিনিয়োগকারীর পাশাপাশি যাতে দেশিয় ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ করতে পারেন সেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট আলমগীর শামসুল আলামিন (কাজল)। রিহ্যাব সদস্য এবং ক্রেতাদের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করতে এই ফেয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট (প্রথম) লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, ভাইস প্রেসিডেন্ট (২) মো. আনোয়ারুজ্জামান, ভাইস প্রেসিডেন্ট কামাল মাহমুদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফিন্যান্স) ও ফেয়ার স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) প্রকৌশলী মোহাম্মদ সোহেল রানা এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. আব্দুল কৈয়ূম চৌধুরীসহ রিহ্যাব পরিচালকবৃন্দ ও অন্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ক্রেতা-দর্শনার্থীদের জন্য উম্মুক্ত মেলার দ্বার
উদ্বোধনের পর বুধবার বেলা দুইটা থেকে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের জন্য উম্মুক্ত হয় মেলার দ্বার। বাকি দিনগুলোতে সকাল ১০টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত ক্রেতা-দর্শনার্থীরা মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন। আয়োজক প্রতিষ্ঠান রিহ্যাব জানিয়েছে, প্লট-ফ্ল্যাট-বাণিজ্যিক স্পেসসহ গৃহায়ন-সংক্রান্ত পণ্যের বিপুল সমাহার রয়েছে এবারের আয়োজনে। পাশাপাশি নির্মাণ পণ্যসামগ্রীরও প্রদর্শনী থাকছে। আর ক্রেতাদের সুবিধার জন্যই থাকছে অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানের স্টল। আয়োজকদের আশা, মেলার প্রভাবে আবাসন খাতে গতির সঞ্চার হবে।
এবারের ফেয়ারে মোট ২৩০টি স্টল রয়েছে। এ বছর ৩০টি বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস ও ১৪টি অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানকে অংশগ্রহণ করার সুযোগ করে দিয়েছে রিহ্যাব।
মেলায় দুই ধরনের টিকিট রয়েছে-সিঙ্গেল এন্ট্রি ও মাল্টিপল এন্ট্রি। সিঙ্গেল এন্ট্রি টিকিট ৫০ টাকা এবং মাল্টিপল এন্ট্রি টিকিটের প্রবেশ মূল্য ১০০ টাকা। মাল্টিপল এন্ট্রি টিকিট দিয়ে একজন দর্শনার্থী মেলা চলাকালীন পাঁচবার প্রবেশ করতে পারবেন। এন্ট্রি টিকিট বিক্রি থেকে প্রাপ্ত সম্পূর্ণ অর্থ দুঃস্থদের সাহায্যার্থে ব্যয় করা হবে।
মেলার এন্ট্রি টিকিটের র‌্যাফল ড্রতে রয়েছে আকর্ষণীয় মূল্যবান পুরস্কার। মেলার শেষ দিন, ২৮ ডিসেম্বর রাত ৯টায় র‌্যাফল ড্র অনুষ্ঠিত হবে। র‌্যাফল ড্রর ১ম পুরস্কার হিসেবে রয়েছে একটি প্রাইভেট কার, ২য় পুরস্কার একটি মোটরসাইকেল, ৩য় পুরস্কার একটি ফ্রিজ, ৪র্থ পুরস্কার একটি ৪৩ ইঞ্চি এলইডি টেলিভিশন, ৫ম পুরস্কার একটি ওয়াশিং মেশিন, ৬ষ্ঠ পুরস্কার একটি ডিপ ফ্রিজ, ৭ম ও ৮ম পুরস্কার একটি করে মোবাইল ফোন, ৯ম পুরস্কার একটি মাইক্রোওয়েভ ওভেন এবং ১০ম পুরস্কার একটি এয়ার-কুলার। এ ছাড়া থাকবে আরও পাঁচটি পুরস্কার। www.rehabwinterfair2019.com ওয়েবসাইটে পুরস্কার বিজয়ীদের নাম প্রকাশ করা হবে।
উলে­খ্য, ২০০১ সাল থেকে রিহ্যাব ঢাকায় আবাসন মেলা শুরু করে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১২বার মেলা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে রিহ্যাব। ২০০৪ সাল থেকে রিহ্যাব বিদেশে হাউজিং ফেয়ার আয়োজন করে আসছে। এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ১২ বার, যুক্তরাজ্য, দুবাই, ইতালির রোম, কানাডা, সিডনি ও কাতারে একবার করে এবং দুবাইতে দু’বার ‘রিহ্যাব হাউজিং ফেয়ার’ আয়োজন করা হয়। এসব ফেয়ার আয়োজনের মাধ্যমে রিহ্যাব দেশে ও বিদেশে গৃহায়ন-শিল্পের বাজার সৃষ্টি ও প্রসারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখছে। অন্যদিকে প্রবাসী ক্রেতারা যেমন দেশে তাদের পছন্দের আবাসন খুঁজে পেয়েছে, পাশাপাশি এই ফেয়ারের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জিত হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি গৃহায়ন-শিল্প এবং লিংকেজ-শিল্প বিকাশেও অনন্য ভূমিকা পালন করে চলেছে রিহ্যাব।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভার্টিক্যাল রোলার মিল (ভিআরএম) এখন বাংলাদেশে

কারিকা প্রতিবেদক

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম উঠেছে শাহ্ সিমেন্টের। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভার্টিক্যাল রোলার মিল (ভিআরএম) স্থাপন করে এই রেকর্ড গড়ল বাংলাদেশের সিমেন্ট উৎপাদনে অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠানটি। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সিমেন্ট-শিল্পও পৌঁছে গেল নতুন এক মাইলফলকে।
এই ভার্টিক্যাল রোলার মিলের গ্রাইন্ডিং টেবিল ডায়ামিটার ৮.০৮ মিটার এবং রোলার টেবিল ডায়ামিটার ২.৬৪ মিটার। ছয়টি রোলার সমন্বিত এই ভিআরএম প্রতিদিন ১৫ হাজার এবং বছরে ৬০ লক্ষ টন সিমেন্ট উৎপাদন করতে সক্ষম। সিমেন্ট উৎপাদনে একই সঙ্গে আকারে বৃহৎ এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ের উদাহরণ পৃথিবীতে এটাই প্রথম। এ কারণে এই ভিআরএমকে ‘পৃথিবীর একক বৃহত্তম’ হিসেবে সত্যায়িত এবং নথিভুক্ত করেছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস।
সিমেন্টের উন্নত মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বালানি সাশ্রয়ী হিসেবে ভিআরএম প্রযুক্তি তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বে সমাদৃত। ভিআরএম প্রযুক্তিতে ডেনমার্কের এফএলস্মিথের বিশ্বব্যাপী সুখ্যাতি রয়েছে। শাহ্ সিমেন্টের নতুন এই ভিআরএম স্থাপনে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দিয়েছে এফএলস্মিথ।
নতুন এই ভার্টিক্যাল রোলার মিলে সর্বাধুনিক ডিজিটাল এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স (এআই) প্রযুক্তি সংযুক্ত করা হয়েছে। নিজেদের অগ্রযাত্রাকে আরেক ধাপ এগিয়ে নিতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভিআরএম প্রযুক্তি সংযুক্ত করার পরিকল্পনা হাতে নেয় শাহ্ সিমেন্ট। ডেনমার্কের এফএলস্মিথ ও বাংলাদেশের শাহ্ সিমেন্টের পারস্পরিক সহযোগিতায় আলোর মুখ দেখে ‘পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ভার্টিক্যাল রোলার মিল’।
এ প্রসঙ্গে আবুল খায়ের গ্রুপের পরিচালক (ব্র্যান্ড মার্কেটিং) নওশাদ চৌধুরী বলেছেন, ‘ক্রেতাদের আস্থাই শাহ্ সিমেন্টের মূল ভিত্তি। ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক ক্রেতা নিজের বাড়ি নির্মাণে শাহ্ সিমেন্টের ওপর আস্থা রেখেছেন। ক্রেতাদের এই অবিচল আস্থা আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে বড় স্বপ্ন দেখার; শাহ্ সিমেন্টকে নিয়ে, বাংলাদেশকে নিয়ে। আমরা যখন উৎপাদন-সক্ষমতা বাড়ানোর কথা ভাবছিলাম, তখন এমন উৎপাদন প্রক্রিয়ার কথা ভেবেছি, যা দেশজুড়ে শাহ্ সিমেন্টের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহই শুধু নিশ্চিত করবে না, প্রতিটি ব্যাগে সেরা মানের সিমেন্টের নিশ্চয়তাও দেবে।’
শাহ্ সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের পরিচালক (অপারেশন্স) হাফিজ সিকান্দার বলেছেন, ‘ক্রেতাদের নিরবচ্ছিন্নভাবে উন্নতমানের সিমেন্ট সরবরাহ শাহ্ সিমেন্টের মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রযুক্তিগতভাবে বড় একটি ধাপ এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল। আমরা প্রযুক্তিগত এই উৎকর্ষের জন্য এফএলস্মিথকে বেছে নিই, সিমেন্ট প্রযুক্তিতে যাদের রয়েছে ৪০ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা।’
তিনি জানিয়েছেন, শাহ্ সিমেন্টের ভিআরএম প্রযুক্তির সুফল পেতে আরও সংযোজিত হয়েছে ‘মাল্টি কম্পার্টমেন্ট সাইলো’। যার মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন বড় প্রকল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট কম্পোজিশনের সিমেন্ট উৎপাদন সহজেই সম্ভব। এর ফলে সাধারণ ক্রেতাদের পাশাপাশি দেশের বড় বড় অবকাঠামোগত প্রকল্পের জন্য সুনির্দিষ্ট কম্পোজিশনের সিমেন্ট সরবরাহও নিশ্চিত করতে পারবে শাহ্ সিমেন্ট।
শুধু আকারে বড় কিংবা অনেক বেশি উৎপাদন-সক্ষম বলেই নয়; এর সঙ্গে যুক্ত আছে ‘ইন্টেলিজেন্ট মনিটরিং কন্ট্রোল সিস্টেম’। যার মাধ্যমে কম্পিউটার-নিয়ন্ত্রিত প্যানেল থেকে পুরো প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করা হয়। ফলে উৎপাদিত সিমেন্টের গুণগত মান সূক্ষ থেকে সূক্ষতরভাবে বিশ্লেষণ সম্ভব হয়। একই সঙ্গে উৎপাদনের বিভিন্ন স্তরের সমন্বয়ও করা যায় যথাযথভাবে। এই ভিআরএমের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) উৎপাদন-প্রক্রিয়ায় কোনো সমস্যা দেখা দিলে নিজেই বিল্ট-ইন-টুলস দিয়ে বেশিরভাগ সমস্যার সমাধান করতে পারে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভিআরএম প্রযুক্তি সম্পর্কে এফএলস্মিথের ভাইস প্রেসিডেন্ট সরেন হোম বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমরা এর কারিগরি দিকগুলো উন্নয়নে নজর দিয়েছি, পাশাপাশি সিমেন্ট উৎপাদনকারীদের পরামর্শ নিয়ে এর অপারেশনে বিভিন্ন নতুন প্রযুক্তিও সংযোজিত হয়েছে। আমাদের যে ওকে মিলটি বাংলাদেশের শাহ্ সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজে স্থাপিত হয়েছে, একক মিল হিসেবে এই সময়ে তা বিশ্বে সর্ববৃহৎ। আমরা আশা করি, এর ফলে তারা গ্রাহকদের আরও উন্নত প্রযুক্তিতে উৎপাদিত সিমেন্ট সরবরাহে সক্ষম হবেন।’
সিমেন্ট-খাতে যুক্ত বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, এই শিল্পের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষে বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে আরও এগিয়ে নিল শাহ্ সিমেন্টের এই অর্জন।