Home সর্বশেষ

0 1

আবদুল্লাহ আল মামুন
মন্দা কাটিয়ে সুদিন ফিরতে শুরু করেছে আবাসন খাতে। কয়েক বছর ধরে অবিক্রীত থাকা ফ্ল্যাটের বিক্রিও বেড়েছে। গত বছর থেকে ব্যাংক ঋণে সুদের হার কমে আসায় ফ্ল্যাট কিনতে আগ্রহী হয়েছিল ক্রেতারা। কিন্তু গৃহ ঋণে ব্যাংক সুদের হার আবারও বেড়ে যাওয়ায় এখন কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছে ফ্ল্যাট-প্লট বিকিকিনি। তবে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগে ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে বাজার পরিস্থিতি। ফলে আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরাও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় আছেন। এ জন্য গ্রাহকদের দীর্ঘ মেয়াদে ও এক অংকের সুদে গৃহ ঋণ, ফ্ল্যাটের নিবন্ধন খরচ কমানো ও বিনা প্রশ্নে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ চান আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরা। প্রতিবারের মতো এবারও নগরের তারকা হোটেল রেডিসন ব্লু বে ভিউ চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল চারদিনব্যাপী আবাসন মেলা। এবারের মেলায় বিভিন্ন প্রকল্পের সাত হাজার ফ্ল্যাট ও দেড় হাজার প্লট নিয়ে মেলায় হাজির হয়েছিল ৩৬টি আবাসন নির্মাণ প্রতিষ্ঠান। এরমধ্যে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান রেডি ফ্ল্যাট হাজির করবে ক্রেতাদের সামনে। এছাড়া এবার পাঁচশ কোটি টাকার বিকিকিনিরও টার্গেট নির্ধারণ করেছে রিহ্যাব।
রিহ্যাব চট্টগ্রাম সুত্র জানায়, মেলায় এবার ৫৬টি প্রতিষ্ঠানের ৭৬টি স্টল ছিল। এরমধ্যে আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৩৬টি, ব্যাংক ও অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান ১১টি ও নির্মাণসামগ্রী প্রতিষ্ঠান থাকবে ৯টি। এছাড়া ১৭টি প্রতিষ্ঠান কো-স্পন্সর হিসেবে মেলায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে রিহ্যাব চট্টগ্রাম অঞ্চলের চেয়ারম্যান আবদুল কৈয়ূম চৌধুরী বলেন, ‘এবারের মেলাকে আমরা বিগত মেলাগুলোর চেয়ে আরও অধিক জাঁকজমকভাবে আয়োজন করেছি। মানুষের অন্যতম মৌলিক চাহিদা বাসস্থান নিশ্চিত করাই রিহ্যাবের মূল লক্ষ্য। মেলার মাধ্যমে রিহ্যাব গ্রাহকদের একই ছাদের নিচে তাদের সাধ ও সাধ্যের মধ্যে পছন্দের ফ্ল্যাট ও প্লট বেছে নেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘২০১৬ সাল থেকে আবাসন খাত আস্তে আস্তে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে। ব্যাংক ঋণে সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে আনা গেলে আবাসন খাত আবারো চাঙ্গা হয়ে উঠবে। তবে ফ্ল্যাট বিক্রি আগের চেয়ে বেড়েছে। মানুষের মধ্যে এখনো আস্থার সংকট রয়েছে। আমরা আস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি।’
আবাসন খাতের উদ্যোক্তারা জানান, ২০১২ সাল থেকে আবাসন ব্যবসার মন্দার শুরু হয়। ২০১৪ সালের হিসাবে, চট্টগ্রামে রিহ্যাবের সদস্যভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ১০ হাজার ফ্ল্যাটের মধ্যে অবিক্রিত পড়েছিল প্রায় পাঁচহাজার ফ্ল্যাট। সে সময় অভিজ্ঞ-অনভিজ্ঞ ব্যবসায়ীদের হাতে ছিল এ বাজার। বিশেষ করে মন্দা শুরু হওয়ার পর মৌসুমি ব্যবসায়ীরা গ্রাহকদের প্লট বা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে না দিয়ে সটকে পড়েন। মন্দার কারণে বেচাকেনা কমে যাওয়ায় বিনিয়োগ আটকে যায় প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদেরও। তখন থেকে আবাসন খাতে নতুন প্রকল্পের সংখ্যা কমে আসে। চলমান প্রকল্পগুলোয় গ্রাহকের সাড়া কম থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠান নির্মাণকাজ শেষ করার সময় পিছিয়ে দেন উদ্যোক্তারা। এসবের ফলে গ্রাহকদের আস্থায় ভাটা পড়ে। সারা দেশের মতো চট্টগ্রামেও ছিল এ অবস্থা। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে ব্যবসায়ীরা গত কয়েক বছরে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণে ঝুঁকে পড়েন। তবে মন্দার ধাক্কায় যেসব প্রতিষ্ঠান বাজারে টিকে ছিল, তারাই এখন গ্রাহকদের আস্থা ধরে রেখেছে। কয়েক বছরের মন্দার পর ২০১৫ সালের জুন মাস থেকে স্থবিরতা কাটতে শুরু করেছে আবাসন খাতে। গত তিন বছরে কয়েক হাজার অবিক্রিত ফ্ল্যাট বিক্রি হয়েছে। ফ্ল্যাটের দামও যৌক্তিক পর্যায়ে নেমে এসেছে। নতুন বিনিয়োগের জন্য এখন জমি খুঁজছেন আবাসন ব্যবসায়ীরা। অবিক্রিত ফ্ল্যাটের বিক্রি বাড়ায় খুশি তারা। তবে ফ্ল্যাট বিক্রির চেয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন ও আস্থা অর্জনে জোর দিচ্ছে মেলায় অংশ নেওয়া অধিকাংশ আবাসন প্রতিষ্ঠান।
অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৭ শতাংশ সুদের হার এখন ৯ শতাংশ থেকে সাড়ে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত নেমে এসেছে। মেলায় বিভিন্ন হারে গৃহ ঋণের অফার নিয়ে ১১টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে মেলায় স্পট ঋণ অনুমোদন দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। চাকরিজীবীদের আয়, ব্যবসায়ীদের ব্যাংক টার্নওভার, ভূমি মালিকদের জায়গার উপর নির্ভর করে বিভিন্ন মেয়াদে ঋণ দিবে বিভিন্ন ব্যাংক ও অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান।

সামসুল ওয়ারেস

স্মৃতি সৌধের ধারণাটা আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বরই উনি ঘোষণা দিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে একটা জাতীয় সৌধ নির্মাণ করতে হবে। স্মৃতি সৌধের ইটের কাজ বঙ্গবন্ধুর আমলেই শুরু হয়। পরে ১৯৭৮ সালে একটি নকশা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও স্থাপত্য অধিদপ্তর থেকে। বাংলাদেশের সব স্থপতিদের কাছে আহবান করা হয় নকশা। সেখানে বেশকিছু নকশা জমা পড়ে। এ প্রতিযোগিতায় আমিও একজন বিচারক ছিলাম। স্থপতি মাজহারুল ইসলাম ছিলেন বিচারকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান। যতদূর মনে পড়ে, সেবার ২৫ থেকে ৩০টি নকশা জমা পড়ে। সেই নকশাগুলোর মধ্যে আমরা কোনটাই পছন্দ করতে পারিনি। আমরা তখন সরকারকে বললাম এই প্রতিযোগিতা যেন আবার আহবান করা হয়। দ্বিতীয়বারের প্রতিযোগিতায় প্রায় ৫০টির মত নকশা জমা পড়ে। আমরা একই বিচারকমণ্ডলী মিলে সেগুলোর বিচার করি। এর মধ্যে স্থপতি সৈয়দ মইনুল হোসেনের কাজটাই আমাদের পছন্দ হয়েছিল।
১৯৭৯ সাল থেকে স্মৃতি সৌধের কাজ শুরু হয়ে যায়। সৈয়দ মইনুল হোসেন স্থাপত্য নকশার কাজ করেন। আর স্ট্রাকচারাল নকশার কাজটা করেন আমাদের নামকরা প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ। তবে সামগ্রিকভাবে স্ট্রাকচারাল নকশা ও আর্কিটেকচারাল নকশার সম্পূর্ণ চিন্তা ভাবনা স্থপতি সৈয়দ মইনুল হোসেনের। সব মিলিয়ে এখানে ৮৪ একর জমি ছিল। পরে আরো ২৪ একর জমি যোগ করা হয়। সৌধটির নির্মাণ ১৯৮২ সালে সম্পূর্ণ হয় ।
স্মৃতি সৌধের ভেতর সাতটা অংশ আছে। সাতটি জোড়া ত্রিভুজ একটির পেছনে আরেকটি বসিয়ে পুরো বিষয়টা দাঁড় করানো হয়। সবচেয়ে সামনে যেটি আছে, সেটির নিচের অংশটা কম চওড়া কিন্তু উচুঁ সবচেয়ে বেশি। উচ্চতা ১৫০ ফিট। এর পরেরটা একটু খাটো, কিন্তু চওড়ায় একটু বেশি। এভাবে এর পরেরটা আরো খাটো, আবার প্রস্থ বেশি। একটা বই যেমন অর্ধেকটা খুললে একটা এঙ্গেল হয়, সেরকম ত্রিভুজের কম্পোজিশন করে সাত জোড়া ত্রিভুজ বাসানো হয়েছে স্মৃতি সৌধে।
সাতটি স্তম্ভের কারণ হচ্ছে এর মাধ্যমে আমাদের মুক্তি সংগ্রামের সাতটি ধাপ চিহ্নিত করা। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, চুয়ান্ন সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন, ছাপ্পান্ন সালে শাসনতন্ত্রের অধিকারের দাবিতে আন্দোলন, ৬২ সালে শিক্ষা আন্দোলন, ছিষট্টিতে বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা, উনসত্তরে গণ আন্দোলন এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ এই সাতটা ভাগ।
এই স্মৃতি সৌধকে সামনে থেকে দেখলে এটাকে বক্ররেখার মতো মনে হয়। ডানের অর্ধেক ও বাঁয়ের অর্ধেক সমান ও একইরকম। এই সিমেট্রিক্যাল নকশা একটা বক্ররেখা তৈরি করে। কিন্তু এখানে কোন বক্ররেখা নেই, সবই সোজা লাইন। ভিজ্যুয়াল ইলিউশনের কারণে বক্ররেখা মনে হয়। যেকোনো শিল্পের মধ্যে একটা যাদুকরী ব্যাপার থাকতে হয়। তা নাহলে সেটা শিল্প হয় না। সেই যাদুকরী ব্যাপারটা এখানে আছে। এটার সামনে থেকে পাশে গেলে সবকিছুর পরিবর্তন হয়ে যায়। পাশের সাথে সামনে দেখা দৃশ্যের কোন মিল নেই। এটা কংক্রিটে নির্মিত একটি সৌধ। কিন্তু এর মধ্যে আছে এক ধরনের পবিত্রতা। সুন্দর করে পালিশ করা কিছু নেই এতে। এই ধরনের কাজের জন্য স্মৃতি সৌধে একটা বার্তা রয়েছে। আমরা যে স্বাধীনতা পেয়েছি সেটা মনে রাখতে হবে এবং আমরা যে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার একটা অবস্থানে এসেছি সেটা এই স্থাপত্যের সামনে দাঁড়ালে মনে আসে।
স্মৃতি সৌধের শুরুতেই আমরা দেখতে পাই লাল ইটের ব্যবহার। এ ঐতিহ্য আমাদের অনেক পুরনো। আমাদের বাংলাদেশে প্রায় চার হাজার বছর আগেও ইটের ব্যবহার হতো। যেমন উয়ারি-বটেশ্বরে আমরা দেখছি প্রায় চার হাজার বছর আগেই ইট ছিল। আমাদের দেশীয় উপাদান দিয়েই কাজটা আমরা করতে চেয়েছিলাম। আমরা যদি চাইতাম এটা মার্বেল দিয়ে মোড়ানো হোক, তাহলে মার্বেল আনতে হত পাকিস্তান, ভারত কিংবা ইতালি থেকে। তাহলে তো আমাদের দেশের জিনিস দিয়ে তৈরি হতো না। এটা একটা উদ্দেশ্য ছিল, আমরা যাই তৈরি করি না কেন, যতটা পারা যায় সেটা যেন আমাদের দেশের সামগ্রী দিয়েই তৈরি হয়। ইট কম খরচে হয় এবং এটা সহজে আমাদের এখানে পাওয়া যায়। এর আগে স্থপতি লুই আই কান আমাদের সংসদ ভবন কংক্রিট দিয়ে করেছেন, মাজহারুল ইসলাম চারুকলা ইনিস্টিটিউটে বা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইটের ব্যবহার করেছেন মুক্তিযুদ্ধের অনেক আগেই। তাই আমরা মনে করেছি, ইটটাই আমাদের সঠিক উপাদান। আমাদের এই স্মৃতি সৌধ নির্মাণে খরচ হয়েছে তিন কোটি টাকার মত। এমন একটি অসাধারণ স্থাপত্যের জন্য এ খরচ বেশি নয়।
সত্তরের দশকে তৈরি আমাদের স্মৃতি সৌধ আজও সমসাময়িক বিশ্বের একটি স্থাপত্য। বিদেশি অতিথিরা এ দেশে এলে এখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। তারাও মুগ্ধ হন এই স্থাপত্যের নির্মাণ শৈলী দেখে। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায় অনেক গর্বের এই স্থাপত্য যুগ যুগ ধরে প্রেরণা দেবে বাঙালিকে।
লেখক: স্থপতি, অধ্যাপক

0 5

মির্জা মাহমুদ আহমেদ
বিমান বন্দর সড়কের বনানী ধরে পূরবী সিনেমার মোড় কিংবা মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বর হয়ে আগারগাঁও পর্যন্ত সড়কে গেলে দেখা মিলবে পিলারে স্প্যানে গড়ে উঠছে রাজধানীবাসীর স্বপ্নের মেট্রোরেল। উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত চলছে মেট্রোরেল প্রকল্পের প্রথম অংশের কাজ। হাজার হাজার শ্রমিক আর প্রকৌশলীদের দিন রাতের পরিশ্রমে যানজটের শহরে বাস্তব রুপ পাচ্ছে আশা জাগানিয়া মেট্রোরেল। মেট্রোরেল প্রকল্পের প্রথম অংশে কংক্রীটের বেড়ার আড়ালে উঁকি দিচ্ছে পিলার। কোথাও কোথাও দৃশ্যমান হয়েছে স্প্যান। বড় বড় মেশিনের সার্হায্যে চলছে পাইলিং। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত কাজের সার্বিক অগ্রগ্রতি ৩৩ ভাগ। অন্যদিকে মতিঝিল থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত কাজের সার্বিক অগ্রগতি ২০ ভাগের মতো।
রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি জাপানে চলছে মেট্রোরেলের রেলকোচ তৈরির কাজ। জাপানের কাওয়াসাকি-মিতসুবিশি কনসোর্টিয়াম ইতিমধ্যে মেট্রোরেলের কোচ প্রস্তুত করেছে। এখন চলছে পরিদর্শন ও পর্যালোচনা কাজ। মেট্রোরেলের ট্র্যাক নির্মাণ শেষ হওয়ার পর জাপানে তৈরি কোচগুলো ট্র্যাকে বসিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হবে। প্রাথমিক পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে চলতে শুরু করবে স্বপ্নের মেট্রোরেল। বাংলাদেশের ঐতিহ্যের কথা মাথায় রেখে লাল-সবুজের আদলে নির্মিত হচ্ছে মেট্রোরেলের কোচ।
রাজধানীর উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত হবে রাজধানীবাসীর স্বপ্নের মেট্রোরেল। পুরো পথে ৩৭৭ টি পিলারের উপর ৩৭৬ টি স্প্যানে চলবে মেট্রোরেল।
সম্পূর্ণ এলিভেটেড এবং বিদ্যুৎ চালিত এমআরটি-৬ উভয় পাশের চলাচলে ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন করতে পারবে। উত্তরা-মতিঝিল রুটে মোট ১৬টি স্টেশনের প্রতিটিতে ৪৫ সেকেন্ডের জন্য থামবে রেল।
উত্তরা নর্থ স্টেশন থেকে শুরু করে উত্তরা সেন্টার, উত্তরা দক্ষিণ, পল­বী, মিরপুর-১১, মিরপুর-১০, কাজিপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কাওরান বাজার, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ সচিবালয় ও মতিঝিল স্টেশনগুলোতে উঠানামা করতে পারবেন যাত্রীরা। ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগবে মাত্র ৩৮ মিনিট। আন্তর্জাতিক মানের ২৪ সেট মেট্রোরেল ট্রেন নিয়ে শুরু হবে এমআরটি লাইন-৬ এর যাত্রা। প্রতি সেটে প্রাথমিকভাবে ছয়টি করে কোচ থাকবে। পরে আরো দুইটি কোচ যোগ করে প্রতিটি ট্রেনে কোচের সংখ্যা ৮টিতে উন্নীত করা হবে। মেট্রোরেলের সুষ্ঠু পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে থাকবে অত্যাধুনিক অপারেশন কন্ট্রোল সেন্টার। যাত্রীদের চলাচল ও ব্যবহারের সুবিধায় মেট্রোরেলের স্টেশনগুলো হবে এলিভেটেড।
দোতলায় থাকবে টিকিট কাউন্টার ও অন্যান্য ব্যবস্থা। ট্রেনে চড়ার প্ল্যাটফরম থাকবে তিনতলায়। প্রত্যেকটি স্টেশনে লিফট, চলন্ত সিঁড়ি, সার্বক্ষণিক ক্লোজসার্কিট ক্যামেরায় পর্যবেক্ষণ, প্রবেশপথে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টিকিট সংগ্রহের মেশিনসহ আন্তর্জাতিক মানের সব ধরনের ব্যবস্থা থাকবে মেট্রোরেলের স্টেশনে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে নিরাপত্তা বেষ্টনী বা ‘প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর’ স্থাপন করা হবে। নারী-পুরুষ, ছোট-বড়, প্রতিবন্ধীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে ও আরামদায়ক পরিবেশে মেট্রোরেলে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন। পরিবেশবান্ধব মেট্রোরেলের কোচগুলো হবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, থাকবে সুবিন্যস্ত আসনব্যবস্থা, যাত্রা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য সংবলিত ডিসপ্লে প্যানেলসহ থাকবে নানা ব্যবস্থা। কোচের ভেতরের তাপমাত্রা হবে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী যাত্রীদের জন্য প্রতিটি ট্রেনের কোচগুলোতে থাকবে নির্ধারিত স্থান। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে থাকবে নিজস্ব বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাও। সড়কের বিভাজক বরাবর মাটি থেকে প্রায় ১৩ মিটার উপর দিয়ে নির্মিত এলিভেটেড মেট্রোরেলের কম্পন নিয়ন্ত্রণে থাকবে ফ্লোটিং স্ল্যাব ট্র্যাক ও বিরামহীন ওয়েল্ডেড রেল। দ্রুতগতিতে চলা ট্রেনের শব্দ নিয়ন্ত্রণের জন্য স্থাপন করা হবে শব্দ নিরোধক দেয়াল।
এমন সব ব্যবস্থার কারণে মেট্রোরেলের রুটে অবস্থিত ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে সম্ভাব্য সব ধরনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষ। দিনের ব্যস্ততম সময়ে প্রতি সাড়ে চার মিনিট পরপর প্রতিটি স্টেশনের উভয় দিকে মেট্রোরেল থামবে। এমআরটি-৬ চালু হলে ২০২১ সালে প্রতিদিন প্রায় ৫ লাখ যাত্রী মেট্রোরেলে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন। উত্তরা থেকে মতিঝিল রুটে ২০.১ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশের দূরত্ব ১১.৭৩ কিলোমিটার আর আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত অংশের দূরত্ব হবে ৮.৩৭ কিলোমিটার। মেট্রোরেলের ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৫৩৯০ কোটি টাকা আর বাকি ১৬ হাজার ৬৯৪ কোটি টাকার যোগান দেবে উন্নয়ন সংস্থা জাইকা।
চলতি বছরের শেষ নাগাদ উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১২ কিলোমিটারের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ডিএমটিসিএল সূত্রে জানা গেছে, মেট্রোরেলের কাজ ২০২৪ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দ্রুতগতিতে মেট্রোরেলের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে জাপান সরকারের দাতা সংস্থা জাইকা জানিয়েছে ২০২২ সাল নাগাদ মেট্রোরেলের পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।
জাইকার আবাসিক প্রতিনিধি হিতোশি হিরাতাসহ তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ফ্রেরুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করে এই তথ্য জানান।


দ্বিতীয় অংশের কাজ শুরু হওয়ায় সংকুচিত হচ্ছে ঢাকার পথ
আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল প্রকল্পের দ্বিতীয় অংশের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। মতিঝিল থেকে বিমান বন্দর, ভিআইপি সড়ক নামে পরিচিত এ সড়কের ফার্মগেট, কাওরান বাজার, বাংলামোটর, শাহবাগের অনেক অংশে সড়ক বিভাজক তুলে কংক্রীটের বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে প্রকল্প এলাকা। প্রাথমিক খোঁড়াখুঁড়িসহ এখন চলছে ইউটিলিটি লাইন সরানোর কাজ। যার ফলে সড়কের দৈর্ঘ্য নেমে এসেছে অর্ধেকে। যানজটের সাথে বেড়েছে দুর্ভোগও। ইতিমধ্যে কয়েকটি রুটের প্রায় শতাধিক বাসের গতিপথ বদলে গেছে। গতিপথ বদলে দেওয়ায় গাবতলী থেকে মতিঝিল বা সদরঘাটমুখী বাস ফার্মগেটের পরিবর্তে সাইন্সল্যাবরেটরী হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে রামপুরা, মালিবাগমুখী যানবাহন ফার্মগেটের পরিবর্তে বিজয় সরণি ও সাতরাস্তা হয়ে যাচ্ছে। ফলে এসব যানবাহনে করে ফার্মগেট ও কাওরান বাজারমুখী যাত্রীরা বিপাকে পড়ছেন। গাবতলী- সদরঘাট রুটে চলাচলকারী ৮ নাম্বার বাসের চালক হাবিব জানান, ফার্মগেট, কাওরানবাজারগামী যাত্রীদের অন্য জায়গায় নামিয়ে দিলে যাত্রীরা বিরক্ত হচ্ছেন। মাঝে মাঝে চালক ও সহকারির সাথে বচসার ঘটনাও ঘটছে। আগের থেকে যাত্রীও কমে গেছে বলে জানালেন তিনি। সাভার-মতিঝিল রুটের স্বজন পরিবহনের চালক মকবুল জানালেন রুট পরিবর্তন করায় যাত্রীর পাশাপাশি যানজটের কারণে ট্রিপের সংখ্যাও কমে গেছে।
এদিকে ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে মেট্রোরেলের দ্বিতীয় অংশের কাজ পুরোদমে শুরু হলে আরও কিছু বাসের গতিপথ বদলে যেতে পারে। যানজট কমাতে ফার্মগেট থেকে শাহবাগ পর্যন্ত সড়কে পিক আওয়ারে প্রাইভেট কার বন্ধ রাখার চিন্তা করছে ট্রাফিক বিভাগ।
ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পিক আওয়ার হিসেবে সকাল আটটা থেকে সকাল সাড়ে দশটা এবং বিকেল পাঁচটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত সপ্তাহে রবি থেকে বৃহস্পতিবার প্রতিদিন মোট সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ফার্মগেট থেকে শাহবাগ পর্যন্ত প্রাইভেটকার চলাচল বন্ধ রাখা হবে।
প্রথম দিকে রাজধানীতে ১৫০০-১৮০০ সিসির ‘গ’ সিরিজের প্রাইভেট কার বন্ধ রাখার চিন্তা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুকূলে না এলে পরবর্তী সময়ে ৮০০ সিসির ‘ক’ ও ১০০০-১৩০০ সিসির ‘খ’ সিরিজের প্রাইভেট কারগুলো বন্ধ রাখার চিন্তা করা হচ্ছে। তবে অ্যাম্বুলেন্স, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, রোগী বহনকারী ও ওষুধ পরিবহনের মতো জরুরি সেবার গাড়িগুলো এর আওতার বাইরে থাকবে বলে জানা গেছে।
বিজয় সরণী থেকে কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউগামী প্রাইভেট কার গুলোকে আল রাজী হাসপাতালের পাশ দিয়ে তেজগাঁও সাতরাস্তা মোড়ের দিকে ডাইভারশন হবে। এর অংশ হিসেবে আল রাজী হাসপাতালের সামনের সড়কের বিভাজক তুলে সড়ক প্রশস্ত করা হবে। নির্বির্ঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করতে সড়কটি রিকশামুক্ত রাখা হবে। এ ছাড়া তেজগাঁও ট্রাক টার্মিনালের সামনে রেলক্রসিংয়ে বাঁক তুলে সড়কটি সোজা করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, যাঁরা গুলশান বা মগবাজার দিয়ে প্রাইভেট কারে কারওয়ান বাজার এলাকার দিকে আসবেন, বিকল্প হিসেবে তাঁদের এফডিসি সড়ক দিয়ে হোটেল সোনারগাঁও মোড়ের কাছাকাছি নেমে যেতে হবে। একইভাবে মিরপুর বা ধানমন্ডি থেকে আসা প্রাইভেট কারের যাত্রীদের বসুন্ধরা সিটি শপিং মলের কাছাকাছি নেমে যেতে হবে।
ফার্মগেট-শাহবাগ সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে মোটরসাইকেলকে প্রাধান্য দেওয়ার চিন্তা করছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ।
বাণিজ্য মেলা, বিপিএল এবং আবাসন মেলা শেষ হলেও যানজটের ভোগান্তি থেকে মিরপুরবাসীর মুক্তি মিলছে না। অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুরু এবং শেষের সময় যানজটের ভোগান্তি মাত্রা ছাড়িয়ে যায় বলে জানালেন স্থানীয়রা। মেট্রোরেলের কর্মীরা যানজট নিরসনে কাজ করলেও সড়ক সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় যানজট নিয়ন্ত্রণে আসছে না। বেসরকারি চাকরিজীবী আদনান আহমেদ বলেন, আগে দেড়ঘন্টায় মিরপুর থেকে মতিঝিলের অফিসে যাওয়া যেত। এখন সকাল সাতটার সময় বাসা থেকে বের হয়েও ঠিক কখন অফিসে পৌছাবো সেটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। সন্ধ্যায় বাসায় ফেরার সময়েও একই ভোগান্তি পোহাতে হয়। মেট্রোরেল চালু হলে হয়ত ভোগান্তি কমবে কিন্তু তাঁর আগে যানজট নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

0 2

রুখসানা মিলি

সিটি কর্পোরেশন, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষ, ওয়াসা, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ, গ্যাস সরবরাহকারী কর্তৃপক্ষ, ওয়াসা, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষসহ ১২ প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনেক্রমে সম্পন্ন হতো ভবনের নকশা অনুমোদন। এতে যেমন সময় বেশি লাগত তেমনি ছিল অধিক খরচ আর ভোগান্তিও। ১২টি প্রতিষ্ঠানে দৌড়ঝাপ আর ১৫০ দিন বা তারচেয়ে বেশি সময় লাগত কেবল নকশার অনুমোদন নিতে।
এবার ভবনের নকশার অনুমোদন-প্রক্রিয়া সহজ করে চার ধাপ আর সর্বোচ্চ ৫৩ দিনের মধ্যেই মিলবে ভবনের নকশার অনুমোদন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সচিবালয়ে ‘বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সমন্বয়ে রাজউক-চউকের সেবা সহজীকরণ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা শেষে এ কথা জানান গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।
মন্ত্রী জানান, সবকিছু ঠিক থাকলে এবং যথাযথভাবে হলে সাত দিনের মধ্যেও ফল পেয়ে যেতে পারেন আবেদনকারী। তিনি বলেন, ‘রাজউক ও চউকের মতো আমাদের অন্য কর্তৃপক্ষ যেগুলো রয়েছে সেগুলো থেকে নির্মাণের জন্য নকশার অনুমোদন নিতে হয়। এ অনুমোদন-প্রক্রিয়ায় ১৬টি স্তর অতিক্রম করতে হতো। এতে সীমাহীন ভোগান্তির অভিযোগ রয়েছে এটি আমরা গভীরভাবে পর্যালোচনা করেছি। বিডা আমাদের এ বিষয়ে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নকশা অনুমোদনে অটোমেশন পদ্ধতি কার্যকর করছি। ফলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদনকারীরা রাজউক বা চউকে না এসেও আবেদন করতে পারবে। এতে সময় বাঁচবে। আগামী মে মাসের ১ তারিখের পর নকশাসহ কোনো বিষয়ের জন্য আর কাগজ-কলমে আবেদন করা যাবে না। সব অনলাইনেই করতে হবে।’
আর এর ফলে দালালদের দৌরাত্বও থাকবে না বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
এ বিষয়ে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)-এর প্রথম সহ-সভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া কারিকাকে বলেন, ‘এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। এ সেবা আবাসন খাতকে আরও গতিশীল করবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।’

0 4

কারিকা প্রতিবেদক
চোখ বন্ধ করে ভাবুন তো, সকালে উঠে দেখলেন আপনার শরীরে অক্সিজেন ফুরিয়ে এসেছে। সিলিন্ডার প্রায় খালি, কাজে যাওয়ার আগে আপনাকে ছুটতে হচ্ছে অক্সিজেন সংগ্রহ করার দীর্ঘ লাইনে। আমাদের ভাগ্য ভাল যে প্রতিদিনকার শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য অক্সিজেন সংগ্রহ করতে আমাদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয় না। পিঠে করে বইতে হয়না অক্সিজেনের ভারী সিলিন্ডার। প্রাকৃতিক নিয়মেই আমরা আশেপাশের সবুজ বৃক্ষরাজি থেকে অক্সিজেন সংগ্রহ করি এবং বিষাক্ত কার্বণ ড্রাই অক্সাইড নিঃসরণ করি। তবে প্রাকৃতিক নিয়মে অক্সিজেন সংগ্রহ করার এই প্রক্রিয়াটাও স্বস্তিকর থাকছে না এখন আর। বিশেষ করে আমরা যারা ঢাকায় থাকি তাঁদের জন্য খবরটি বেশ উদ্বেগের। সম্প্রতি এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানা গেছে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত ৩০ শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ১৭তম। বিশ্বের সবচেয়ে বায়ু দূষিত শহরের তালিকায় আছে বাংলাদেশের নাম। ২০১৮ সালে বায়ু দূষণের মাত্রা নিয়ে চলতি বছরের ৫ মার্চ গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে বেসরকারি সংস্থা এয়ারভিস্যুয়াল ও গ্রিণপিস। পিএম২.৫ র মাত্রা সর্বোচ্চ ১০০ ধরে এ তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এই পিএম২.৫ মানুষের ফুসফুসের ক্ষতি ও রক্তপ্রবাহে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
তালিকায় দেশ হিসেবে শীর্ষ অবস্থানে থাকা বাংলাদেশের বাতাসে পিএম২.৫র গড় মাত্রা ৯৭ দশমিক ১ শতাংশ। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে থাকা পাকিস্তান ও ভারতে এর মাত্রা যথাক্রমে ৭৪ দশমিক ৩ ও ৭২ দশমিক ৫ শতাংশ। চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে আফগানিস্তান ও বাহরাইন। এরপর রয়েছে যথাক্রমে মঙ্গোলিয়া, কুয়েত, নেপাল, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও নাইজেরিয়া।
এছাড়াও ২০১৭ সালে প্রকাশিত বৈশ্বিক বায়ু পরিস্থিতি প্রতিবেদনে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয়। ঢাকার পরেই রয়েছে পাকিস্তানের করাচি ও চীনের বেইজিং। বৈশ্বিক বায়ু পরিস্থিতি প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ১৯৯০ সাল থেকে ২০১৫ পর্যন্ত বায়ু দূষণ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ভারত ও বাংলাদেশে।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক সংস্থা ইপিএর সর্বশেষ প্রতিবেদনও বলছে একই কথা, বিশ্বে সবচেয়ে দূষিত বায়ুর দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। সংগঠনটির তথ্য মতে, বিশ্বের শীর্ষ দূষিত বায়ুর দেশ হিসেবে প্রথম অবস্থানে নেপাল, তারপর পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ, ভারত, চীন, পাকিস্তান ও কঙ্গোর নাম উঠে এসেছে। আর নির্মল বায়ুর দেশ হিসেবে প্রথমে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। এরপর রয়েছে বার্বাডোজ, জর্ডান, কানাডা ও ডেনমার্ক।
পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রগুলোর অবস্থান-বিষয়ক প্রতিবেদনটি গত বছরের জানুয়ারীতে ইপিএ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি বিশ্বের ১৮০টি দেশ সামগ্রিকভাবে পরিবেশ সুরক্ষায় কী ধরনের ভূমিকা রাখছে, তা নিয়ে একটি সূচক তৈরি করেছে। তাতে বাংলাদেশ ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৭৯তম স্থানে নেমে এসেছে। ২০০৬ সালে সর্বপ্রথম ওই সূচকটি তৈরি করা হয়েছিল, সে বছর বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১২৫তম। অর্থাৎ গত এক যুগে দূষণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ৫৪ ধাপ নিচে নেমেছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ (কেইস) প্রকল্প থেকে দেশের আটটি শহরের বায়ুর মান প্রতিদিন পর্যবেক্ষণ করা হয়। তাতে দুই মাস ধরে ঢাকার পাশাপাশি রাজশাহী, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল ও খুলনা শহরের বায়ুর মান মারাত্মক ও খুব অস্বাস্থ্যকর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহর হলো রাজধানী ঢাকা। এরপর রয়েছে রাজশাহী। বরিশাল সবচেয়ে কম দূষিত শহর হলেও এর বায়ু মানমাত্রার চেয়ে খারাপ, অর্থাৎ আশঙ্কাজনক।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা হেলথ ইফেক্টস ইনস্টিটিউট এবং ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিকস অ্যান্ড ইভালুয়েশনের যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন বলছে, বায়ুতে যেসব ক্ষতিকর উপাদান আছে, তার মধ্যে মানবদেহের জন্য সবচেয়ে মারাত্মক উপাদান হচ্ছে পিএম ২.৫। এত দিন এই উপাদান সবচেয়ে বেশি নির্গত করত চীন। গত দুই বছরে চীনকে টপকে ওই দূষণকারী স্থানটি দখল করে নিয়েছে ভারত। চীন ও ভারতের পরেই রয়েছে বাংলাদেশের অবস্থান।
পিএম২.৫ হচ্ছে এমন এক ধরনের কঠিন বা জলীয় অতি সূক্ষকণা যা আড়াই মাইক্রোন বা তার কম চওড়া। পিএম২.৫ এর কণাগুলো এত সূক্ষ যে খুব সহজেই প্রশ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসের গভীরে পৌঁছে যায়। সেখান থেকে হার্ট হয়ে রক্তের মাধ্যমে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। তারপর শ্বাসতন্ত্রের নানাবিধ রোগ যেমন হাঁচি, কাশি, শ্বাসকষ্ট, নাক দিয়ে পানি পড়া থেকে শুরু করে এমন ছোটখাট অসুখ, ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিসসহ হার্ট অ্যাটাক এবং ক্যান্সারের মতো প্রাণঘাতী রোগ সৃষ্টি করতে পারে। এ কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক ক্যান্সার গবেষণা সংস্থা পিএম২.৫ কে ‘জি-১ কার্সিনোজেন ‘ এর তালিকাভুক্ত করেছে। অর্থাৎ এ কণা মানদেহের ক্যান্সার সৃষ্টিতে একদম প্রথম সারিতে অবস্থান করছে। তাছাড়া, বৃদ্ধ এবং বাচ্চাদের জন্য এ কণা আরো বেশি ক্ষতিকর বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
বায়ু দূষণের কারণে ঢাকার ৪০ শতাংশ বাসিন্দা শ্বাসনালীর রোগে আক্রান্ত বলে জানিয়েছে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন এবং নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম। ফ্রেরুয়ারিতে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন এবং নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এ তথ্য জানানো হয়। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, অপরিকল্পিত নির্মাণ কাজ ,নির্মাণ সামগ্রী খোলা স্থানে ফেলে রাখা, উম্মুক্তভাবে বালু ও মাটি পরিবহন, যানবাহন ও কল কারখানার কালো ধোঁয়ার কারণে বায়ু দূষণ হচ্ছে। ইটভাটা ,মেট্রোরেল ও অনান্য সেবামূলক কাজের জন্য ঢাকার বায়ু দূষণ পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। বায়ু দূষণ বন্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরকে আরও কার্যকর

ফাইজুল ইসলাম
সাম্প্রতিককালে বিশ্বে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বা সংক্ষেপে ভিআর প্রযুক্তির বিরাট অগ্রগতি হয়েছে। ইংরেজি শব্দগুচ্ছ ভার্চুয়াল রিয়েলিটি অর্থ যা বাস্তব না হলেও বাস্তব বলে গণ্য। আগে ভিআর প্রযুক্তিতে ভারী ভারী সরঞ্জাম ব্যবহৃত হতো। এখন তা বহনযোগ্য ও ব্যয়সাশ্রয়ী। মোবাইল ও হেডসেট ব্যবহার করেই এই প্রযুক্তি থেকে পাওয়া যাচ্ছে এর উপকারিতা। এই কারণে এ ধরনের ডিভাইসের কেনাবেচা ক্রমেই বাড়ছে। এর কনটেন্টও হচ্ছে অধিক মানসমৃদ্ধ ও বাস্তবসম্মত। ভিআর প্রযুক্তির ব্যবহারিক ও বাণিজ্যিক আবেদনও আছে। যেমন- রিয়েল এস্টেটে তথা প্লট, ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট ব্যবসার প্রসারে এই প্রযুক্তির ব্যবহারের কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়। রিয়েল এস্টেট এজেন্সিগুলো কাস্টমারদের আকর্ষণে এবং প্রপার্টিগুলো পরিদর্শনের খরচ কমাতে এখন ভিআর প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন অবলীলায়।
২০১৫ সাল থেকে ভিআর প্রযুক্তি রিয়েল এস্টেটসহ বিভিন্ন শিল্পে একটি নতুন মার্কেটিং কৌশল হিসেবে আবিভূত হয়েছে। এজেন্সিগুলো স্যামসাং ভিআর হেডসেটের মাধ্যমে আমেরিকার লসঅ্যাঞ্জেলেস, নিউইয়র্ক ও হামটনসহ অভিজাত শহরের মাল্টিমিলিয়ন ডলার মূল্যের অ্যাপার্টমেন্ট ও বাড়িগুলো তাদের ভিআইপি ক্রেতাদের দেখাতে শুরু করল। তারপর থেকে অসংখ্য ভিআর রিয়েল এস্টেট প্রজেক্ট তৈরি হতে থাকল। ভিআর প্রযুক্তিও বহুমুখী কর্মশক্তিসম্পন্ন ও ডাইনেমিক তথা গতিশীল হলো। বিশেষজ্ঞরা ভবিষ্যদ্বাণী করলেন এই বলে যে, রিয়েল এস্টেটে ভিআর প্রযুক্তির উত্থান হবে অপ্রতিরোধ্য। ২০২৫ সাল নাগাদ এই শিল্পে ভিআর/এআর সফটওয়্যার থেকে মোট আয় হবে ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। তারপরও এই শিল্পে এখনো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। এই চ্যালেঞ্জগুলো হলো হাইকোয়ালিটির কনটেন্ট তৈরি করা, কনটেন্ট তৈরিতে কম সময় নেয়া এবং হেডসেটের মূল্য ক্রয়সীমার মধ্যে রাখা ইত্যাদি।

রিয়েল এস্টেটে ভিআর প্রযুক্তির ব্যবহারিক আবেদন
রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় কয়েকটি ক্ষেত্রে ভিআর প্রযুক্তির প্রায়োগিক আবেদন রয়েছে। যেমন-
১. ভার্চুয়াল ট্যুরসঃ ব্যক্তিগত ব্যবহার বা ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য কোনো প্রপার্টি ক্রয় করা অনেক ঝক্কি-ঝামেলার ব্যাপার। এজন্য সময়ও লাগে অনেক। দিতে হয় সীমাহীন ধৈর্য্যের পরিচয়। যদি প্রপার্টি ও ক্রেতার ভৌগোলিক অবস্থান হয় ভিন্ন ও বেশি দূরত্বের, তাহলে তা ক্রয় করা হয়ে পড়ে আরও কঠিন। এক্ষেত্রে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি সময় ও অর্থ বাঁচাতে সহায়তা করে। রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে প্রজেক্ট এরিয়া ঘুরে আসা যায় কয়েক মুহুর্তের মধ্যে। প্রপার্টি সম্পর্কে প্রিভিউ বা একটি আগাম ধারণা দেওয়াও সম্ভব হয়। এ ধরনের রিয়েল এস্টেট ভার্চুয়াল ট্যুর প্রদর্শনের জন্য যে কোনো আধুনিক ভিআর হেডসেটই যথেষ্ট। সেই ট্যুর হতে পারে ৩৬০-ভিডিও ফরম্যাটে অথবা নৌ বা বিমান যাত্রার মধ্য দিয়েও তা দেখানো যেতে পারে, যা হবে আরো প্রাণবন্ত ও উপভোগ্য।
২. ভার্চুয়াল ভিজ্যুয়ালাইজেশনঃ রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় যেসব প্রপার্টি নির্মাণাধীন রয়েছে, ভিআর প্রযুক্তি তার বিক্রয়ের ক্ষেত্রেও ব্যাপক সহায়তা করতে পারে। মার্কেটিংয়ের কর্মী ও রিয়েল এস্টেট এজেন্টরা এ ধরনের হাউজিংয়ের বিজ্ঞাপনে বহু কষ্ট করে থাকেন। কেননা সেখানে দেখার মতো আসলে বাস্তব জিনিসের অভাব রয়েছে। কিন্তু ভার্চুয়াল ভিজ্যুয়ালাইজেশনের মাধ্যমে তা সহজে দেখানো যায়। স্থাপত্যগত থ্রিডি ভিজ্যুয়ালাইজেশন প্রপার্টির ভবিষ্যৎ চেহারা কেমন হবে তা প্রদর্শন করে অতি সহজে। এর ভেতর ও বাইরের ডিজাইনও প্রদর্শন করে চমৎকারভাবে।
৩. ভার্চুয়াল স্টেজিংঃ ম্লান দেয়াল, ফার্নিচারের অনুপস্থিতি, ডেকোরেশনের অভাব ইত্যাদি ক্ষেত্রে অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রির সুযোগ কমে যায়। ১৯৮৫ সালের দিকে রিয়েল এস্টেট এজেন্সিগুলো ইন্টেরিয়র ডিজাইনারদের সহযোগিতা নিতে শুরু করেন। তাদের সাহায্যে প্রপার্টি শো বাড়াতে থাকেন। একেই বলা হয় ভার্চুয়াল স্টেজিং। তারা দেখলেন স্টেজিং করা হাউস বা ফার্নিচার দিয়ে সাজানো-গোছানো অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি হচ্ছে হু হু করে। এতে অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি হতে লাগছে ৮০ ভাগ কম সময়। এই পদ্ধতি ভার্চুয়াল শোকেসের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে। তাছাড়া এমন সব উপাদান দিয়ে ভার্চুয়াল স্টেজিং করা হয়, যাতে তেমন একটা খরচ হয় না।
৪. ভি-কমার্সঃ প্রপার্টির স্টেজিংয়ের অন্য এক উপকারিতাও আছে। এতে রিয়েল এস্টেট এজেন্ট ও অ্যাপার্টমেন্ট মালিক উভয়ই একসঙ্গে উপকৃত হন। এজেন্টরা ব্যবসা করেন আর অ্যাপার্টমেন্ট মালিকরা অ্যাপার্টমেন্ট সাজাতে ভালো ধারণা পেয়ে যান। এজন্য ভার্চুয়াল ইন্টেরিয়র ডিজাইন হলো ভি-কমার্সেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

রিয়েল এস্টেটে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির উপকারিতা

আমাদের জীবনযাপনকে আরো সহজ ও সুবিধাজনক করে তোলার জন্য আজ ভিআর প্রযুক্তির গুরুত্ব সর্বাধিক। কাজের পরিবেশ আরো টেকসই করতেও এর কোনো জুড়ি নেই। রিয়েল এস্টেটের মতো ব্যবসায় ভার্চুয়াল রিয়েলিটির বেশকিছু সুবিধা রয়েছে, যেমনঃ

১. সময়ের সাশ্রয়ঃ আমাদের জীবনে সময়ের চেয়ে কোনো কিছুই মূল্যবান নয়। ভার্চুয়াল রিয়েলিটিকে ধন্যবাদ। এতে নতুন সম্পদের অনুসন্ধান ও পর্যালোচনা সম্পন্ন হতে পারে দ্রুত প্রক্রিয়ায়। ভার্চুয়াল ট্যুরের মাধ্যমে দিনের পর দিন ও ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্লট ও ফ্ল্যাট পরিদর্শনের আর দরকার পড়ে না। ক্রেতা ও বিক্রেতা কোনো ঝুট-ঝামেলা ছাড়াই অফিসে বা বাসায় বসে যে কোনো সময় ভিআর হেডসেট ব্যবহার করে তার সমাধান করে ফেলতে পারেন।
২. অর্থের সাশ্রয়ঃ প্রথমে ভিআর প্রযুক্তিকে অনেকে ব্যয়বহুল মনে করতে পারেন। মনে হতে পারে, এটা একটা হাই-টেকনোলজির ব্যাপার। তার কারণ ভার্চুয়াল ট্যুরে লাগে মানসম্মত গ্রাফিকস ও কমার্শিয়াল ফিচার। কিন্তু এটা ব্যয়বহুল হলেও মূল্যবান মুনাফাও এনে দেয়। প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ায় বিজ্ঞাপনের পেছনে যে খরচ হয় তা কমিয়ে দেয়। খরচ কমিয়ে দেয় ভার্চুয়াল স্টেজিংয়ের ক্ষেত্রেও। রিয়েল এস্টেটের ইন্টেরিয়র ডিজাইন, ফার্নিচার প্লেসমেন্ট ইত্যাদি থ্রিডি মডেল ব্যবহার করে উপস্থাপন করা যেতে পারে। পৃথক লোকেশনে আবার এটাই পুনঃব্যবহারযোগ্যও বটে।
৩. আবেগ তৈরি করা্রঃ টুডি প্রিন্ট ভিজ্যুয়ালাইজেশনের মতো নয়, ভার্চুয়াল ট্যুরস আসলে মানুষকে এমনভাবে সম্পৃক্ত করে যাতে বাস্তব উপস্থিতির অনুভূতি দেয়। সেখানে কোনো তাড়াহুড়োর প্রয়োজন নেই। একজন দর্শকের জন্য এতে আছে ভ্রমণের মাধ্যমে এক ধরনের আবিষ্কারের অনুভূতি ও মিথস্ক্রিয়ার স্বাধীনতা। বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও দেখার মাধ্যমে অ্যাপার্টমেন্টের এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে খুব সহজেই প্রবেশ করা যায়। এর মাধ্যমে এক ধরনের চেতনা ও আবেগ জাগিয়ে তোলে ভিআর প্রযুক্তি।
৪. পৃথিবীব্যাপী ব্যবসা করা যায়ঃ ভিআর প্রযুক্তি আমাদের দূরত্ব কমিয়ে দেয়। এ কারণে প্রথম ভিআর ট্যুর-ই তাদের ক্লায়েন্ট বাড়াতে শুরু করে। এটা শুধু স্থানীয় পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকে না, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। পৃথিবী আজ অনেক বেশি কসমোপলিটন বা সংকীর্ণতামুক্ত। ক্রমেই বাড়ছে বিশ্বনাগরিকের সংখ্যা। মানুষ আজ একস্থান থেকে আরেক স্থানে যাচ্ছে সহজেই। এমনকি এক গোলার্ধ থেকে অন্য গোলার্ধেও যাচ্ছে। তাই রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় ভার্চুয়াল রিয়েলিটির আবেদনও বিশ্বময়।

রিয়েল এস্টেট ভিআরের উদাহরণ
ভার্চুয়াল স্টেজিং সেবার জন্য রিয়েল এস্টেট এজেন্সিগুলোতে রয়েছে রুমি প্লাটফর্ম। তারা হাউস স্টেজিংকে গুরুত্ব দেন যাতে তা দ্রত ও উচ্চমূল্যে বিক্রি হয়। এর কল্যাণে শুধু রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীরাই নন, সাধারণ মানুষও তার নিজস্ব অ্যাপার্টমেন্ট বা বাড়ির ইন্টেরিয়র ডিজাইনার হিসেবে আর্বিভূত হতে পারেন।
যেহেতু প্রিন্ট ইমেজ বা ছবি আজ সেকেলে, এমনকি প্রথম যুগের ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হোম ট্যুরগুলোও আজ আর যুগোপযোগী নয়, কেননা এটা ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা দিয়ে তৈরি, তাই অত্যাধুনিক ভিআর প্রযুক্তি ব্যবহার করাই শ্রেয়। এমন একটি প্রযুক্তির নাম ম্যাটেপোর্ট। এর মাধ্যমে থ্রিডি ক্যামেরার সাহায্যে তৈরি হয় চমৎকার হোম ট্যুর, যা ‘একের মধ্যে সব’ হিসেবে কাজ করে। এই বিশেষ ক্যামেরা ফোর কে রেজল্যুশনে রিয়েল এস্টেটের জন্য ভিআর ট্যুর উৎপাদনে সহায়তা করে।
যেসব প্রপার্টি নির্মাণাধীন, সেখানে বিশেষ করে ‘ভার্চুয়াল এক্সপেরিয়েন্স’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমে কনস্ট্রাকশন কোম্পানির জন্য তৈরি হয় ভিআর কনটেন্ট। এটা অসম্পূর্ণ অ্যাপার্টমেন্ট পরিদর্শন করে সুন্দরভাবে। আবার অনলাইন ব্যবহারের জন্য থ্রিডি ভিজ্যুয়ালাইজেশন খুবই সহজলভ্য। কিংবা অকুলাস রিফট ও এইচটিসি ভাইভের মতো ভিআর হেডসেটও পাওয়া যায় সহজেই।

0 48

কারিকা প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
বারবার উদ্যোগ নেওয়ার পরও নগরের ৪১টি ওয়ার্ডের সবগুলোতে ডিজিটাল সেন্টার (তথ্য সেবা কেন্দ্র) স্থাপন করতে পারেনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। সাড়ে পাঁচ বছরে মাত্র ১৬টি ওয়ার্ডে সেন্টারের কার্যক্রম পুরোপুরি চালু হয়েছে। ২০১৩ সালের এপ্রিলে প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে ডিজিটাল সেন্টার চালুর উদ্যোগ নিয়েছিল করপোরেশন। দীর্ঘ সময়েও ডিজিটাল সেন্টার চালু না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন নিয়োগ পাওয়া উদ্যোক্তারা। অনেকে অন্য পেশা বা ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন। অনেকে সেন্টারগুলো চালু হওয়ার আশায় বসে আছেন। সেন্টার চালু না হওয়ার জন্য জায়গা সংকটকে প্রধান কারণ বলছেন সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের সব সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ড কার্যালয়ের একটি কক্ষ ডিজিটাল সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করা হবে। এসব কক্ষে বসে অর্থের বিনিময়ে নাগরিকদের বিভিন্ন সেবা দেবেন উদ্যোক্তারা। সরকারের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্পের আওতায় ২০১০ সালের নভেম্বরে ইউনিয়ন পর্যায়ে তথ্যসেবা কেন্দ্র চালু করা হয়। এরপর দেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় ডিজিটাল সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনার পর ২০১৩ সালের এপ্রিলে নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে ডিজিটাল সেন্টার চালুর উদ্যোগ নিয়েছিল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। ওই মাসে প্রতি ওয়ার্ডে দুজন করে উদ্যোক্তা নির্বাচন করা হয়। ৮২ উদ্যোক্তার মধ্যে নারী ছিলেন মাত্র ১৫ জন। অথচ প্রতিটি সেন্টারে একজন পুরুষের পাশাপাশি একজন নারী উদ্যোক্তা নির্বাচন করার বিধান ছিল। আবার সেন্টার চালু না হওয়ায় এদের ৬৮জনই অন্য পেশায় চলে গেছেন।
প্রায় তিন বছর পর ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে আবার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয় করপোরেশন। দ্বিতীয় দফায় ৬৫ নকে নিয়োগ দেওয়া হয়। পুরনো উদ্যোক্তাদের মধ্যে ১০জন পুরুষ ও চারজন নারী এই দফায় নিয়োগ পান। প্রথম তিন বছরে মাত্র একটি সেন্টার চালু হয়েছিল। পরে বিভিন্ন সময়ে আরও ২১টি ওয়ার্ডে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে।
২০১৬ সালের ১৬ মার্চ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে ডিজিটাল সেন্টার চালুর নির্দেশ দেয়। ওই মাসেই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাউন্সিলরদের ওয়ার্ড কার্যালয়ে ডিজিটাল সেন্টারের জন্য কক্ষ বরাদ্দ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে একটি চিঠি দেন। চিঠিতে বলা হয়, ডিজিটাল সেন্টার চালুর জন্য প্রতিটি ওয়ার্ড কার্যালয়ের প্রবেশমুখে নূন্যতম ১৮০ বর্গফুট আয়তনের একটি কক্ষ বরাদ্দ দিতে হবে। এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা আছে।
২০১৬ সালের মার্চে মন্ত্রণালয়ে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন বিষয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বলা হয়, ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে সেন্টার স্থাপন ও কার্যক্রম সন্তোষজনক হলেও সিটি করপোরেশনগুলোর পদক্ষেপ আশানুরূপ নয়।
সর্বশেষ গত ১৪ আগস্ট করপোরেশনের কয়টি ওয়ার্ডে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে তা জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছে মন্ত্রণালয়। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন জানায়, ৪১ ওয়ার্ডের মধ্যে ২২টিতে কার্যক্রম চালু আছে।
তবে করপোরেশনের একটি সূত্র জানায়, ২২টির মধ্যে পুরোদমে চালু রয়েছে মাত্র ১৬টি। বাকিগুলো কার্যক্রম ঠিকভাবে পরিচালনা করা যাচ্ছে না।
সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, অনেক ওয়ার্ডে ডিজিটাল সেন্টার চালু করার মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই। আবার অনেকগুলো ওয়ার্ড কার্যালয় পুরোনো হয়ে গেছে। তাই ইচ্ছে থাকা সত্তে¡ও সবগুলো ওয়ার্ডে ডিজিটাল সেন্টার চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে এখন বিভিন্ন ওয়ার্ড কার্যালয় ভেঙে নতুনভাবে করা হচ্ছে। তখন জায়গা দেওয়া হবে।

হতাশ উদ্যোক্তারা
২০১৩ সালের এপ্রিলে নগরের দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডের ডিজিটাল সেন্টারের জন্য উদ্যোক্তা নির্বাচিত হয়েছিলেন মো. জামশেদ হোসাইন। দীর্ঘদিন ধরে ওয়ার্ড কার্যালয়ে সেন্টারের জন্য জায়গা পাননি তিনি। পরে চলতি বছরের মার্চে করপোরেশনের অনুমতি নিয়ে বাইরে কক্ষ ভাড়া করে সেন্টার চালু করেন তিনি।
নগর ডিজিটাল সেন্টার উদ্যোক্তা উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ জামশেদ হোসাইন বলেন, বারবার বলার পরও ওয়ার্ড কার্যালয়ে তিনি জায়গা পাননি। পরে নিজের খরচে বাইরে সেন্টার চালু করতে হয়েছে। এখন তাকে ঘর ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, ইন্টারনেট বিল সব ধরনের খরচ দিতে হয়। যদি কার্যালয়ে কক্ষ পেতেন তাহলে তাকে এই বাড়তি টাকা খরচ করতে হতো না। অনেকের পক্ষে তা সম্ভব না হওয়ায় বসে আছেন।
একজন নারী উদ্যোক্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, দীর্ঘদিন অপেক্ষায় থাকার পরও জায়গা না পাওয়ায় এখন আর তার আগ্রহ নেই।
ডিজিটাল সেন্টার চালুর উদ্দেশ্য হচ্ছে ওয়ার্ড কার্যালয়ে সেবা নিতে আসা নাগরিকেরা যাতে এক জায়গা থেকেই সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের তথ্য ও অনলাইন সেবা (জন্মসনদ, নাগরিকত্ব সনদ তৈরি, পাসপোর্টের ফরম পূরণ করা, ফটোকপি করা, কম্পিউটার প্রিন্ট করা, বিভিন্ন ফরম ডাউনলোড করে দেওয়া) পেতে পারেন। এসব সেন্টার থেকে ১০৬ ধরনের সেবা দেওয়া হয়। সেন্টারগুলো যারা পরিচালনা করবেন, তাদের পরিচয় হবে ‘উদ্যোক্তা’। তারা সরকার বা সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে বেতন পাবেন না। সেবার ধরন অনুযায়ী নাগরিকদের কাছ থেকে অর্থ নেবেন তারা।

0 50

সোহরাব আলম

রাজধানীর ৩০০ ফুট সড়ক ও সংলগ্ন-এলাকার উন্নয়নে নতুন প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। গত ৪ নভেম্বর একনেক সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। আবাসন প্রকল্পের বাইরে রাজউকের সবচেয়ে বড় এই উন্নয়ন প্রকল্পটি মূলত ২০১৫ সালে পাস হওয়া ‘কুড়িল-পূর্বাচল লিংক রোডের উভয় পাশে (কুড়িল থেকে বালু নদ পর্যন্ত) ১০০ ফুট চওড়া খাল খনন ও উন্নয়ন’ প্রকল্পের সংশোধিত রূপ।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজধানীর পূর্বাংশের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি খাল ডুমনি, বোয়ালিয়া ও এডি-৮ সংস্কার করবে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। খালগুলো দিয়ে একসময় বিমানবন্দর, নিকুঞ্জ, বারিধারাসহ আশপাশের এলাকার বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন হতো। কিন্তু তিনটি খালই প্রায় ভরাট হয়ে গেছে। এসব খালের পাশাপাশি ৩০০ ফুট সড়ক চওড়া করা হবে। এ ছাড়া সড়কের দুই পাশের ১০০ ফুট খালকে কেন্দ্র করে আরও কিছু উন্নয়নকাজ করবে রাজউক। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ৩০০ ফুট সড়ক ও আশপাশের এলাকা গড়ে উঠবে আধুনিক সাজে। বদলে যাবে পুরো এলাকার চিত্র।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২০১৫ সালে প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৫ হাজার ২৮৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এর সঙ্গে আরও তিনটি খাল, সড়ক, সেতুসহ আনুষঙ্গিক বিষয় যুক্ত হওয়ায় সংশোধিত প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৫ হাজার ৪২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এতে প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৩২৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, ২০১৫ সালের মূল প্রকল্পে কুড়িল-পূর্বাচল ৩০০ ফুট সড়কের দুই পাশে ১০০ ফুট করে খাল খনন করতে ৯০ দশমিক ১৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে করা এই অধিগ্রহণ বাবদ খরচ হয় প্রায় ৪ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া প্রকল্প-এলাকায় ক্ষতিপূরণ বাবদ ব্যয় হয় ২০৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা। অধিগ্রহণ শেষে ২০১৭ সালের জুলাই মাসে ১০০ ফুট খালের খননকাজ শুরু হয়।
রাজউকের গত আগস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকল্পটির ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তবে এর আগেই প্রকল্পটি সংশোধনের উদ্যোগ নেয় সংস্থাটি। সংশোধিত প্রকল্প অনুযায়ী, আরও ৫৫ দশমিক ১ একর জমি নতুন করে অধিগ্রহণ করা হবে। নতুন জমি অধিগ্রহণে ব্যয় হবে আরও ১ হাজার ৪৪২ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এ ছাড়া ক্ষতিপূরণ বাবদ আরও দিতে হবে ৫২৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা। সংশোধনী অনুযায়ী, পুরো প্রকল্পে মোট অধিগ্রহণ করা জমি হবে ১৪৫ দশমিক ২৫ একর।
সংশোধিত প্রকল্পে তিনটি খাল যুক্ত করা প্রসঙ্গে রাজউকের কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, বর্ষা মৌসুমে নিকুঞ্জ, বারিধারা, বারিধারা ডিওএইচএস, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, জোয়ারসাহারা, সেনানিবাস, কালাচাঁদপুর, কাওলা, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকাসহ বিস্তীর্ণ এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য ১০০ ফুট খালটি খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে শুধু ১০০ ফুট খাল দিয়ে বিশাল এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভব নয়। তাই প্রকল্পের সঙ্গে নতুন করে ডুমনি, বোয়ালিয়া ও এডি-৮ খাল তিনটি যুক্ত করা হয়েছে। খালগুলো খননের পাশাপাশি পাড় বাঁধাইসহ আনুষঙ্গিক কাজ করা হবে। এসব কাজ শেষ হলে নিকুঞ্জ-১, নিকুঞ্জ-২, জোয়ারসাহারা, সেনানিবাস, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কালাচাঁদপুর, কাওলা, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আর জলাবদ্ধতা হবে না।
সংশোধিত প্রকল্পে ৩০০ ফুট সড়ক আরও প্রশস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, বর্তমানে কুড়িল থেকে বালু নদ পর্যন্ত উভয় পাশে দুই লেন করে মোট চার লেনের সড়ক আছে। প্রতি লেনের প্রস্থ সাড়ে তিন মিটার। লেনের প্রস্থ একই রেখে কুড়িল থেকে বালু নদ পর্যন্ত চার লেনের সড়কটি আট লেনের এক্সপ্রেসওয়েতে রূপান্তর করা হবে। এক্সপ্রেসওয়ের দুই পাশে দুটি করে সার্ভিস-লেনও থাকবে। এ ছাড়া বালু নদ থেকে কাঞ্চন পর্যন্ত ছয় লেনের এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হবে।
এক্সপ্রেসওয়েতে যান চলাচলের জন্য ২০১৫ সালের মূল প্রকল্পে ছয়টি বড় সেতু নির্মাণের কথা বলা ছিল। সংশোধিত প্রকল্পে ১০টি বড় সেতু নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া হাতিরঝিলের আদলে ১৩টি আর্চ ব্রিজ (বাঁকানো সেতু) নির্মাণ করা হবে। এতে ব্যয় হবে ২২৭ কোটি টাকা। এক্সপ্রেসওয়ের পাশের এলাকার লোকজনের মূল সড়কের সঙ্গে সংযুক্তির জন্য ব্যবস্থা থাকবে। এ ছাড়া পাতালপথ থাকবে চারটি।
সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, প্রকল্প-এলাকায় চার কিলোমিটার বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের লাইন, দুটি কালভার্ট, ১২টি ওয়াটার বাসস্ট্যান্ড নির্মাণ করা হবে। মূল প্রকল্পে উল্লেখ থাকা পদচারী-সেতুর সংখ্যা চারটি থেকে বাড়িয়ে ১২টি, পাম্পহাউস একটি থেকে বাড়িয়ে পাঁচটি, স্লুইসগেট চারটি থেকে বাড়িয়ে ১০টি করা হয়েছে।
এ সম্পর্কে রাজউকের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। ২০১৯ সালের মার্চের মধ্যে ১০০ ফুট খাল উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। বাকি কাজ ২০২১ সাল পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
‘প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বিমানবন্দর থেকে পূর্বাংশের বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা হবে না। কুড়িল থেকে কাঞ্চন ব্রিজ পর্যন্ত ট্রাফিক সিগন্যাল ছাড়াই লোকজন যাতায়াত করতে পারবেন।’ যোগ করেন রাজউক চেয়ারম্যান।

আহসান রনি
চোখের সামনে ঘন গাঢ় সবুজ দেখতে কার-না ভালো লাগে। বিশেষ করে কম্পিউটারের সামনে একটানা তাকিয়ে থাকতে থাকতে হঠাৎ বারান্দা বা জানালার গ্রিল জড়িয়ে কাঁপতে থাকা কচি সবুজ পাতার দিকে তাকালেই যেন দু’চোখ জুড়িয়ে যায়। কিংবা পড়তে পড়তে, লিখতে লিখতে বা একাধারে কাজ করতে করতে যে একঘেয়েমি ও বিষণœতার ছাপ পড়ে চোখে-মুখে, তা দূর করতেও চাই চোখের সামনে শুধুই সবুজ আর সবুজ। সকালে ঘুম থেকে উঠে চোখ মেলেই ঘরের দেয়ালজুড়ে সবুজ দেখতে পারাটা চোখ ও মনের শান্তি ভরপুর মিটিয়ে দেয়। আর সবুজের এসব অসম্ভব আবদার কেবল সম্ভব করতে পারে ভার্টিক্যাল গার্ডেন।
বাগান সৃজনের একটি বিশেষ পদ্ধতি ‘ভার্টিক্যাল গার্ডেন’, যেখানে অল্প জায়গায় অধিক গাছ রোপণ করে স্থানটি সবুজে সাজিয়ে তোলা যায়। যাদের ছাদে বা আঙিনায় বাগান করার সুযোগ নেই, তাদের জন্য ভার্টিক্যাল গার্ডেন বা উলম্ব^ বাগান ইদানীং খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। যদিও ভার্টিক্যাল গার্ডেন বাড়ির ছাদে কিংবা যেকোনো পরিসরেই করা সম্ভব, তবুও শহরের সবুজপ্রিয় মানুষ বিকল্প জায়গা না পেয়ে বারান্দা ও ঘরের দেয়ালকেই বেছে নিচ্ছে।
যেহেতু ভার্টিক্যাল গার্ডেনে স্তরে স্তরে বা ধাপে ধাপে তুলনামূলক কম দূরত্বে একটার পর একটা গাছ রোপণ করা হয়, তাই অগভীরমূলীয় প্রায় সব বীরুৎজাতির উদ্ভিদ ভার্টিক্যাল গার্ডেনের জন্য সবচেয়ে বেশি উপযোগী। তবে রোদ বা আলো-বাতাসের প্রাপ্যতাভেদে অগভীরমূলীয় ফুল, সবজি, ফল কিংবা পাতাবাহারি গাছের চারা রোপণ করেও ভার্টিক্যাল গার্ডেন গড়ে তোলা যায়।
ছাদে বা বারান্দায়, যেখানে দিনে অন্তত ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা সরাসরি আলো পৌঁছে, সেসব জায়গায় চাইলেই ফুল বা শাক-সবজি লাগিয়ে ভার্টিক্যাল গার্ডেন গড়ে তোলা যায়। বিশেষত শীতের ফুল, যেমন- পিটুনিয়া, ভার্বেনা, ডায়ানথাস, এসটার, ফ্লক্স, সিলভিয়া, জিনিয়া ইত্যাদি ফুল দিয়ে সহজেই ভার্টিক্যাল গার্ডেন করা যায়। পাশাপাশি প্রায় সারা বছর ফোটে এমন ফুল যেমন মর্নিং ডোয়ার্ফ গøরি, পানিকা, চাইনিজ টগর ও পুর্তলিকা দিয়েও ভার্টিক্যাল গার্ডেন করা যায়। একইভাবে বারান্দা ও ছাদে ভার্টিক্যাল গার্ডেন করে তাতে শাক-সবজি লাগিয়েও ভালো ফলন পাওয়া যায়। টমেটো, চেরি টমেটো, লেটুস, ব্রোকলি, মরিচ, ক্যাপসিকাম, লালশাক, পালংশাক, ডাঁটাশাক ইত্যাদি শাক-সবজি সহজেই ভার্টিক্যাল গার্ডেন করে চাষাবাদ করা যায়।
ঘরের ভেতরে, লিভিং রুম বা অফিসেও চাইলে ছায়াবান্ধব পাতাবাহারি গাছ দিয়ে ভার্টিক্যাল গার্ডেন তৈরি করা যায়। মানিপ্ল্যান্ট, এলোকেশিয়া, ফার্ন, স্পাইডার, লিলি, এনথোরিয়াম, বোট লিলি, ড্রাসেনা, মেরেন্টা, মনস্টেরা ইত্যাদি গাছ দিয়ে ভার্টিক্যাল গার্ডেন করে অফিস বা বাসাবাড়ির ভেতরের দেয়ালগুলো নান্দনিকভাবে সাজিয়ে তোলা যায়। ইদানীং বিভিন্ন পদ্ধতিতে প্লাস্টিক, লোহা, স্টিল বা কাঠের ফ্রেম বানিয়ে দেয়ালে সেট করে তাতে পোর্টেবল টব ঝুলিয়ে ভার্টিক্যাল গার্ডেন তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেয়ালের ধাপে ধাপে সিমেন্টের স্থায়ী বেড বানিয়েও ভার্টিক্যাল গার্ডেন করা যায়। তবে আধুনিক পদ্ধতির ভার্টিক্যাল গার্ডেনের অনেক উপকরণ আমাদের দেশে উৎপাদন না হওয়ায় দেশের বাইরে থেকে আমদানি করতে হয়। ফলে বেশ খানিকটা খরচ পড়ে যায় উন্নত প্রযুক্তির ভার্টিক্যাল গার্ডেন সৃজনে। একই সঙ্গে দেশীয় প্রচলিত পদ্ধতিতে বাঁশ, কাঠ ও রডের মতো সহজলভ্য উপকরণ দিয়ে তুলনামূলক কম খরচেও ভার্টিক্যাল গার্ডেন করা সম্ভব। ভার্টিক্যাল গার্ডেনে যেহেতু পরিচিত ও দেশীয় সহজলভ্য গাছগুলোই রোপণ করা হয়, তাই এর যতœ ও পরিচর্যা-পদ্ধতি খুব একটা জটিল নয়। পরিমিত পানি ও প্রতি এক-দুই মাস অন্তর পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার, সার, ভিটামিন সরবরাহ করলেই গার্ডেন সবুজ ও সতেজ থাকে। এ ছাড়াও অটোমেটিক ড্রিপ ইরিগেশন সিস্টেম চালু করে তার সঙ্গে টাইমার কিংবা সেন্সর সেট করে সঠিক পানি-ব্যবস্থাপনা করা যায় ভার্টিক্যাল গার্ডেনে। আর একসঙ্গে যেহেতু পাশাপাশি অনেকগুলো গাছ থাকে, তাই রোগবালাই যেমন ছত্রাক বা ভাইরাসের আক্রমণ হলে তা দ্রæত ছড়ায়। ফলে আক্রান্ত গাছকে দ্রæত প্রতিস্থাপন করে সহজেই প্রতিকার পাওয়া সম্ভব। পাশাপাশি কিছু জৈব বালাইনাশক ও প্রাকৃতিক উপাদান থেকে তৈরি বায়ো পেস্টিসাইড স্প্রে করেও প্রতিকার পাওয়া সম্ভব।
ভার্টিক্যাল গার্ডেন আয়তনে বড় হলে মাটির পরিবর্তে কোকোডাস্ট, পার্লাইট, পিটমস, কম্পোস্ট কিংবা অর্ধেক মাটি অর্ধেক কোকোডাস্ট বা কম্পোস্ট মিশিয়েও গ্রোইং মিডিয়া তৈরি করা যায়। মাটিবিহীন ভার্টিক্যাল গার্ডেন একদিকে যেমন হালকা ও টেকসই হয়, অন্যদিকে কাদা-ময়লা ও রোগবালাইও তুলনামূলক কম হয়। পাশাপাশি হাইড্রোফোবিক বা জলচাষ পদ্ধতিতেও মাটিবিহীন ভার্টিক্যাল গার্ডেন করা যায়।

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফ্যান্টাসি কিংডম, ঢাকার নিকটস্থ সাভারের আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় গড়ে উঠেছে এই আনন্দময় জগৎ। ২০ একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত পার্কটি প্রথমে থিমপার্ক পরিচয়ে যাত্রা করে, সেটা ছিল ২০০২ সাল। পরবর্তী সময়ে অ্যামিউজমেন্ট পার্ক হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পায়। এখন এটি একটি বিনোদনের আলাদা জগৎ বলাই উত্তম। পার্কটির প্রতিষ্ঠাতা কনকর্ড গ্রপ। বিশাল এই বিনোদন জোনে প্রবেশ করে একটি দিন কাটিয়ে দেয়া যায় অনায়াসেই।
ফ্যান্টাসি কিংডমে প্রবেশ করে প্রথমেই হেরিটেজ পার্ক। এখানে রয়েছে বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নানা নিদর্শন। এ পার্কটিতে জাতীয় স্মৃতিসৌধ, আহ্সান মঞ্জিল, চুনাখোলা মসজিদ, কান্তজির মন্দির, জাতীয় সংসদ ভবন, ষাটগম্বুজ মসজিদ, পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার, সীতাকোট বিহার, পুটিয়া রাজবাড়ি ও গ্রিক মেমোরিয়ালসহ ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের রেপ্লিকা নিয়েই গড়ে উঠেছে। দেশের অনেক বৃহৎ এবং প্রাচীন স্থাপনা এমন ছোট এবং নিখুঁত যে চমকে যেতে হয়। মনে হয় ঘুরে ঘুরে সারাটা দিন দেখি কান্তজির মন্দির, স্মৃতিসৌধ এসব। সামনেই বিরাট এক নাগরদোলা। নাগরদোলায় চড়ে আপনার আকাশ দেখার অভিজ্ঞতা হবে। এছাড়া আছে রাইড, লেক, কোনো পাইপ ছাড়াই ট্যাপ দিয়ে পানি পড়ার দৃশ্য। আছে পালকি, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, রিকশাসহ বাংলার ঐতিহ্যবাহী নানা উপকরণ।
এরপর বিশাল ফটক পেরিয়ে ফ্যান্টাসি কিংডম। এখানে প্রবেশ করেই আপনি হারিয়ে যাবেন বিপুল এক আনন্দজগতে। কোথাও গাড়ির ধাক্কার শব্দ, কোথাও রাইডে চড়ার আনন্দ-চিৎকার। কোথাও বিশালাকার ডাইনোসর পানি খাচ্ছে। কোথাও প্রিন্স আশু আর প্রিন্সেস লিয়া দাঁড়িয়ে। মাথার ওপর দিয়ে চিৎকার করে ছুটে যাচ্ছে রোলার কোস্টার। হ্যাঁ, মজার মজার সব রাইড এখানেই। ছোটদের জন্য আছে ঘোড়ার গাড়ি, অ্যারোপ্লেনসহ মজার আরও অনেক কিছু। বড়দের উত্তেজনাকর রাইডের মধ্যে আছে জায়ান্ট ফেরিস হুইল, জুজু ট্রেন, হ্যাপি ক্যাঙ্গারু, বাম্পার কার, ম্যাজিক কার্পেট, সান্তা মারিয়া, জিপ অ্যারাউন্ড, পানি অ্যাডভেঞ্চার, ইজি ডিজি। রাইড ছাড়াও খাবারের পর্যাপ্ত দোকান রয়েছে। আনন্দ-উল্লাসের ফাঁকে ভেতরেই সেরে নিতে পারেন দুপুরের খাবার।
ফ্যান্টাসি কিংডম শেষ করে চলে যেতে পারেন ওয়াটার কিংডমে। ফ্যান্টাসি কিংডমের শেষ প্রান্তে মাটির নিচ দিয়ে মনোমুগ্ধকর ও আকর্ষণীয় ভার্চুয়াল অ্যাকুয়ারিয়াম টানেল পার হয়ে প্রবেশ করতে হয় ওয়াটার কিংডমে। সেই পথের দুই পাশে ভেসে বেড়াচ্ছে তিমি-হাঙরসহ নানা সামুদ্রিক প্রাণী। সুড়ঙ্গপথের অপর প্রান্তে উঠেই চোখে পড়বে রিসোর্ট আটলান্টিকস। এ রিসোর্টে চাইলে আসা যায় অবকাশযাপনে, সারাদিন পার্ক ঘুরে রাতে রিসোর্ট থেকে যাওয়াও আরেক সুখের অভিজ্ঞতা। এ রিসোর্টে অবকাশযাপনকারী ফ্যান্টাসি কিংডম, ওয়াটার কিংডম ও হেরিটেজ পার্কের মনোরম সৌন্দর্য ও রাইড উপভোগ করার সুযোগ পাবেন বিনাখরচে। ইকোনমি, ডিলাক্স, সুপার ডিলাক্স ও স্যুট এই চার ধরনের রুম রয়েছে রিসোর্টে।
রিসোর্টটিতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার মধ্যে রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুম, ক্যাবল টিভি, রেস্টুরেন্ট, ক্রেডিট কার্ড সুবিধা, সাইবার ক্যাফে, টেলিফোন, কার পার্কিং, লন্ড্রি সার্ভিস, কনফারেন্স সেন্টারসহ অনেক কিছু। এছাড়া বিনোদনের জন্য রয়েছে ডলবি ডিজিটাল সাউন্ড সিস্টেম হল, বিলিয়ার্ড, পুল ও এয়ার হকিসহ বিভিন্ন রকম গেমের আয়োজন। রিসোর্ট আটলান্টিসে আগত অতিথিদের জন্য রয়েছে বার-বি-কিউ নাইট ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের চমৎকার সব আয়োজন। আরও রয়েছে রুম ভাড়ার সঙ্গে সকালের নাশতা। এই রিসোর্ট থেকে চোখে পড়ে ওয়াটার কিংডমের সৌন্দর্য। রিসোর্টের তিন পাশে জলাশয়। কোথাও বৃষ্টি ঝরছে, কোথাও সমুদ্রের ঢেউ। কোথাও এমনি এমনি পানি। ওয়াটার কিংডমের ভাষায় এখানে আছে স্পাইড ওয়ার্ল্ড, ফ্যামিলি পুল, টিউব স্পাইড, লেজি রিভার, মাল্টি স্পাইড, ওয়াটার ফল, ডুম স্পাইড, লস্ট কিংডম, ড্যান্সিং জোনসহ মজাদার সব রাইড। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে পার্কটিতে রয়েছে পুরুষ ও মহিলাদের জন্য দুটি আলাদা চেঞ্জ রুম ও লকারের ব্যবস্থা। দর্শনার্থীরা নিজেদের সঙ্গে অতিরিক্ত কাপড় ও তোয়ালে আনতে পারেন। এছাড়া এখানে তোয়ালে ও সুইম স্যুট ভাড়া নেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। কেনাকাটা ও খাওয়া-দাওয়ার জন্য রয়েছে গিফট শপ, একাধিক ফুডকোর্ট ও আইসক্রিম শপ।
ফ্যান্টাসি কিংডম সপ্তাহের সাত দিনই খোলা থাকে। সাধারণ দিনগুলোতে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এবং সরকারি ছুটির দিনগুলোতে সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত।
গাড়ি নিয়ে ঢাকা থেকে রওনা দিলে আশুলিয়ার জামগড়া সহজেই চলে যাওয়া যায়। ফ্যান্টাসি কিংডম প্রধান সড়কের পাশে হওয়ায় খুঁজে পেতে অসুবিধা হয় না। যারা বাসে যেতে চায়, তাদের জন্য রয়েছে ঢাকার মতিঝিল থেকে মঞ্জিল বাস সার্ভিস। মঞ্জিল বাস মহাখালী, কাকলী, উত্তরা, টঙ্গী, কামারপাড়া হয়ে ফ্যান্টাসি কিংডমের প্রবেশমুখে এসে থামে। এছাড়াও মহাখালী ও মিরপুর থেকে সরাসরি বাস পাওয়া যায়। সাভার রুটে সাভার গিয়ে আবার অন্য বাসে ফ্যান্টাসি কিংডমে যাওয়া যায়।