Home সর্বশেষ

কামরুজ্জামান কাজল

বর্ষা আবেগের ঋতু। কদমের ঋতু। ঘনঘোর মেঘে রবীন্দ্রনাথে ডুবে যাওয়ার ঋতু। প্রশান্তিময় প্রকৃতির সঙ্গে আছে কিছু বাস্তব ঝামেলাও। বিশেষ করে শিক্ষার্থী এবং কর্মক্ষেত্রে ছুটতে হয় যাদের, তাদের জন্য বর্ষা বিড়ম্বনাও বয়ে আনে। সেই সঙ্গে আছে পোকা-মাকড়ের ঘরবসতি। আলমারি’র কাপড় থেকে ভ্যাপসা গন্ধের ভোগান্তি। যারা একটু পরিপাটি থাকতে পছন্দ করেন তাদের জন্য বাড়তি বিড়ম্বনা যোগ হয় এই মাসটাতে। কিন্তু চাইলে খুব সহজেই এই বর্ষায় ঘর-গেরস্থালিতে ভালো থাকা সম্ভব। পরামর্শ দিয়েছেন ফারাজানা’স ব্লিজের সত্বাধিকারি ফারজানা গাজী।

না ভিজুক পর্দা
যখনি আকাশ অন্ধকার হয়ে আসে, আমরা কিন্তু আগে ঘরের দরজা-জানালাই বন্ধ করি। তবে এরই মধ্যে বৃষ্টির ছাট এলে ভিজে যেতে পারে জানালায় ঝোলানো পর্দাগুলো। তাই এ সময় এমন কাপড়ের পর্দা ব্যবহার করা উচিত, যেন তা ভিজলেও সহজেই শুকিয়ে যায়। কারণ দীর্ঘক্ষণ পর্দা ভেজা থাকলে পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়তে পারে সোঁদা গন্ধ। পলিয়েস্টার, রেশম বা পাতলা সুতির কাপড়ে তৈরি পর্দা এ সময়টার জন্য বেশ উপযোগী।
বৃষ্টি থেমে গেলে খুলে দিন জানালা, সরিয়ে দিন পর্দা। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রটাও বন্ধ থাক খানিকটা সময়। প্রাকৃতিক হাওয়া ঘরে এলে ঘরের গুমোট ভাব কেটে যাবে।

স্যাঁতস্যাঁতে ভাব নয়
ঘরের স্যাঁতসেঁতে ভাব এড়াতে হলে খেয়াল রাখুন, ঘরে কোনো ভেজা জিনিস যেন না থাকে। ভেজা জুতা-মোজা বা ভেজা কাপড়-যেকোনোটির জন্যই ঘরে সোঁদা গন্ধ পাবেন আপনি। ঘরের ভেতরের দেয়াল বা মেঝে ভেজা অবস্থায় রাখবেন না। দেয়াল বা ছাদ থেকে বৃষ্টির পানি চুঁইয়ে পড়লে নির্মাণকর্মীদের দিয়ে দেয়াল বা ছাদের সমস্যাটি সারিয়ে নিন তাড়াতাড়ি।

প্রিয় বইয়ের যত্ন
যত্ন করে গুছিয়ে রাখা বইগুলোতেও বর্ষার প্রভাব পড়তে পারে। সাধারণত যে বইগুলো একটু কম নাড়াচাড়া হয়, সেগুলো এই মৌসুমে স্যাঁতসেঁতে হয়ে পড়ে। তাই মাঝেমধ্যেই সেগুলোকে তাক থেকে নামিয়ে শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে রাখুন। এতে বইগুলো ভালো থাকবে বহুদিন। এ ছাড়া বইয়ের তাকে শুকনো নিমপাতা রাখতে পারেন। কোনো বইয়ের পাতায় বা মলাটে স্যাঁতসেঁতে ভাব দেখা গেলে অপেক্ষা করুন রোদের জন্য। যেদিন খানিক রোদের দেখা মিলবে, সেদিন বইগুলোকে বারান্দায় রোদে রাখুন কিছুটা সময়ের জন্য।

কাপড়-চোপড়ের যত্ন
আলমারি বা ওয়্যারড্রোব থেকে কাপড় বের করার পর অবশ্যই তা ভালোভাবে আটকে রাখতে হবে। কাঠের তৈরি আসবাবপত্র সঠিকভাবে লাগানো হলো কি না, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখুন, কারণ নিত্য-ব্যবহার্য আসবাবপত্র সঠিকভাবে লাগানো না হলে ভেতরে থাকা কাপড়গুলো বাতাসের আর্দ্রতার কারণে স্যাঁতসেঁতে হয়ে পড়তে পারে।

সুরভিত প্রিয় ঘর
হালকা ঘ্রাণযুক্ত ফুল ঘরে রাখা যেতে পারে। তাজা বেলিফুলের একটা মালা ঘরে রেখে দেখুন, সতেজ হয়ে উঠবে ঘরের পরিবেশ। সুগন্ধি অন্য কোনো ফুলও পানিতে ভিজিয়ে রাখতে পারেন। গন্ধরাজ ফুলের মতো যেসব ফুলের পাপড়ি একটু পুরু, সেগুলো বেশ কিছুদিন পানিতে ভিজিয়ে রাখা যায়। তবে ফুলদানি বা বোতলে পানি দিয়ে ফুল রাখলে অবশ্যই প্রতিদিন পানি পাল্টে দিতে হবে। ফুল সতেজ থাকা অবস্থায় যদি ডাঁটার কোনো অংশ পঁচে যায়, তাহলে পঁচা অংশটুকু কেটে ফেলে দিন।

  • মনে রাখা দরকার
    স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়া ঘর আরও বেশি গরম করে তোলে। এই সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে গোসল বা কাপড়-চোপড় ধোঁয়ার কাজটি হয় একদম সকালে, না-হয় বিকেলের দিকে করা ভালো। কারণ দুপুর বা দিনের গরম সময়ের দিকে এই কাজগুলো করলে ঘরের পরিবেশ আরও আর্দ্র বা স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে যায়। তখন ঘর আরও গরম হয়ে ওঠে।
    ক্স ঘরের মেঝের স্যাঁতস্যাঁতে ভাব থেকে রেহাই পেতে ঘরে মাঝে মাঝে ব্যবহার করুন রুম ফ্রেশনার। এতে ঝরঝরে থাকবে ঘরের আবহাওয়া।
    ক্স বাতাস চলাচলের জায়গা রাখতে হবে ঘরের ভেতর। সেটা সম্ভব হলে ঘরের দক্ষিণ পাশটাকে প্রাধান্য দিয়ে রাখুন।
    ক্স ঘরের দেয়ালের ছাদকে ছায়ায় রাখার চেষ্টা করতে হবে। সম্ভব হলে বারান্দা, সানশেড, কার্নিশ ব্যবহার করুন।
    ক্স আমরা অনেকেই বারো মাস কার্পেট ব্যবহার করি। সেটা বর্ষাকালে উপেক্ষা করাই ভালো। বর্ষাকাল দেয়াল-ঘরের মেঝে স্যাঁতস্যাঁতে হয় বলে এ-সময় কার্পেট উঠিয়ে রেখে তা শীতের দিন ব্যবহার করাই ভালো।
    ক্স পোকামাকড়ের অত্যাচার থেকে রেহাই পেতে জীবাণুনাশক দিয়ে নিয়মিত মেঝে পরিস্কার করে নিতে হবে।

কারিকা প্রতিবেদক

প্রায় দুই কোটি মানুষের এই ঢাকা শহরে গণপরিবহন যেন গণভোগান্তির অপর নাম। রাজধানী ঢাকায় কার্যকর গণপরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে ইতোমধ্যে অনেক পরিকল্পনা ও প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। মেট্রোরেল, বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি), ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ বেশকিছু পরিকল্পনা ও প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
রাজধানীর গণপরিবহন-ব্যবস্থায় শৃঙ্খলার অভাব রয়েছে-বিশেষজ্ঞ থেকে সাধারণ মানুষ সবাই একবাক্যে স্বীকার করবেন। অন্যদিকে নাগরিকদের মধ্যে আইন মানার প্রবণতা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের চিরায়ত যে নিয়ম-সেটারও ঘাটতি আছে। তাই সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে সিগন্যাল বাতির প্রচলন থাকলেও ঢাকার অধিকাংশ ইন্টারসেকশনগুলোতে যানচলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয় হাতের ইশারায় অর্থাৎ ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে। কখনো কখনো যানবাহন ও পথচারীর বিশৃঙ্খল চলাচল নিয়ন্ত্রণে রশি, বাঁশ ও উঁচু লোহার ব্যারিকেডের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়।
ঢাকার গণপরিবহন-ব্যবস্থার বেহাল দশায় বীতশ্রদ্ধ হয়ে অনেকেই ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছেন। যাদের গাড়ি কেনার সামর্থ্য নেই তারা রাইড শেয়ারিং সেবার দ্বারস্থ হচ্ছেন। গণপরিবহনের বদলে নাগরিকরা ব্যক্তিগত ছোট গাড়ির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় যানজট বাড়ছে সড়কে।
২০১৭ সালে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, ৬ শতাংশ ব্যক্তিগত গাড়ি ঢাকার ৭৬ শতাংশ সড়ক দখল করে রাখে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিত্তিক সংগঠন ডোমোক্রেসি ওয়াচের ওই জরিপে আরও বলা হয়, ঢাকার ১৬৮টি রুটে গণপরিবহনের সংখ্যা ৫ হাজার ৪০৭, যা ন্যূনতম ১৩ হাজার হওয়া প্রয়োজন।
যাত্রী ওঠা-নামার ক্ষেত্রে নির্ধারিত বাস স্টপেজ থাকলেও যাত্রী, চালক ও পরিবহনের সহকারি কেউ-ই গণপরিবহনে ওঠা-নামার ক্ষেত্রে নির্ধারিত বাস স্টপেজ ব্যবহার করেন না। গণপরিবহনের বিশৃঙ্খল চলাচলে একদিকে যেমন সড়কে যানজট বাড়ছে, অন্যদিকে রয়েছে দুঘর্টনার ঝুঁকিও।
বিআরটিএর আইনে সিটিং সার্ভিসের কোনো অস্তিত্ব নেই। অথচ রাজধানীজুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ সিটিং সার্ভিস। আবার ‘সিটিং সার্ভিসে’র নাম করে অতিরিক্ত ভাড়া নিলেও অনেক বাসে আসনের অতিরিক্ত যাত্রী তোলা হচ্ছে, বাড়তি ভাড়া দিলেও তাদের যেতে হচ্ছে দাঁড়িয়ে। যাত্রী ওঠা-নামার জন্য এসব গাড়ি যত্রতত্র দাঁড়াচ্ছে। ফলে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েও সেবা পাচ্ছেন না যাত্রীরা। ঢাকার রাস্তায় ভাড়া নিয়ে যাত্রী ও গণপরিবহনের সহকারির বাগবিতন্ডা এখন নিত্য ঘটনা।
রাজধানীর মিরপুর, আগারগাঁও হয়ে গুলিস্তান ও যাত্রাবাড়ী রুটে চলছে প্রায় ২০টি কোম্পানির এক হাজারেরও বেশি বাস-মিনিবাস। এসব কোম্পানির নামে আরও কয়েক’শ বাস ও মিনিবাস নামানোর অনুমতি আছে। অথচ সড়কের ধারণক্ষমতা বা যাত্রীসংখ্যার অনুপাতে কী পরিমাণ বাস বা মিনিবাস দরকার-এ ধরনের কোনো সমীক্ষা নেই। সরকার বা বাসমালিক-কারও কাছে নেই এ-সংক্রান্ত তথ্য। শুধু মিরপুর নয়, উত্তরা, যাত্রাবাড়ী, মতিঝিল, সাভারসহ কয়েকটি রুটেও প্রায় অভিন্ন চিত্র দেখা গেছে।
পরিবহন-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো ধরনের সমীক্ষা ছাড়াই একই রুটে অনেক কোম্পানির বাসের রুট পারমিট দেয়া হচ্ছে। বেশিরভাগ কোম্পানির মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এ ছাড়া একই কোম্পানিতে অনেক মালিকের গাড়ি থাকায় বেশি আয়ের আশায় সড়কে গণপরিবহনের রেষারেষি বাড়ছে। যাত্রী বেশি পাওয়া এবং দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছে আরেকটি ট্রিপের সিরিয়ালের আশায় নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করছেন না চালকরা। তারা রাস্তার মাঝখানে গাড়ি রেখেই যাত্রী ওঠা-নামা করাচ্ছেন।
এসব সমস্যা নিরসনে এবং রাজধানীর গণপরিবহন-ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে ঢাকা ও আশেপাশের এলাকায় ২২টি রুট নির্ধারণ করা হয়েছে। রুটগুলোতে মহানগরীর সব বাস ছয়টি কোম্পানির অধীনে যাত্রী পরিবহন করবে। ছয়টি কোম্পানির বাস ছয় রঙের (গোলাপি, কমলা, সবুজ, বেগুনি, মেরুণ ও নীল) হবে। গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে গঠিত বাস রুট রেশনালাইজেশন-সংক্রান্ত কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
বাস রুট রেশনালাইজেশন-সংক্রান্ত কমিটির বৈঠক শেষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন সাংবাদিকদের বলেন, ‘২০২০ সালকে “মুজিববর্ষ” ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমরা এই বছরের মধ্যেই গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনতে চাই। নাগরিকদের একটি নিরাপদ নগরী উপহার দিতে চাই। সেই লক্ষ্য নির্ধারণ করে কাজ করছে বাস রুট রেশনালাইজেশন-সংক্রান্ত কমিটি।’
বাসভাড়া নিয়ে বিদ্যমান নৈরাজ্য কমাতে এবং গণপরিবহনে ওঠা-নামায় নির্ধারিত বাস স্টপেজ ব্যবহার নিশ্চিত করতে রাজধানীর গণপরিবহনে টিকিট বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে গঠিত এই কমিটির নবম বৈঠকে মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ‘ঢাকা শহরের কোথাও টিকিট ছাড়া গণপরিবহনে যাত্রী চলাচল করতে পারবে না বলে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এতে করে বিদ্যমান যে বাস-সংকট এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ তার অবসান হবে। তাই ডিটিসি, বিআরটিএ, বিআরটিসি, ডিএসসিসি ও ডিএনসিসি এবং পরিবহন মালিকদের সমন্বয়ে বাসের টিকিট এবং কাউন্টার স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন করে পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘শিগগিরই যাতে এ ব্যবস্থা কার্যকর করা যায় সেজন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে সড়কের জায়গা যাতে বেদখল না হয় সেজন্য সব পরিবহনের টিকিট কাউন্টার এক জায়গায় হবে।’
রাজধানীর গণপরিবহন-ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনয়নের অংশ হিসেবে চলতি বছরের মার্চে ধানমন্ডিতে এবং মে মাসে উত্তরাতে চক্রাকার এসি বাস-সার্ভিস চালু করা হয়। ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ও ডিএমপির সমন্বয়ে রাজধানীর মতিঝিল ও সদরঘাট এলাকাতেও চক্রাকার বাস-সার্ভিস চালু হওয়ার কথা রয়েছে।

ধকল কাটবে দূষণ-দখলের

মির্জা মাহমুদ আহমেদ
দূষণে-দখলে বিপর্যস্ত ঢাকার চারপাশের নদী রক্ষা ও এর সৌন্দর্যবর্ধনে মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীর তীরভূমিতে পিলার স্থাপন, তীররক্ষা, ওয়াকওয়ে, জেটিসহ আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণে একটি প্রকল্প বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন আছে।
বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার চারপাশে নদীতীর রক্ষা ও সৌন্দর্যবর্ধনের এই প্রকল্প বাস্তবায়নে চলতি (২০১৮-১৯) অর্থবছরে ৮৪৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে প্রকল্পের খসড়া নকশা প্রণয়ন শুরু করা হয়েছে।
ঐতিহাসিক আহসান মঞ্জিলকে কেন্দ্র করে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে গড়ে তোলা হবে দৃষ্টিনন্দন এলাকা। ঢাকার চারটি নদীকে কেন্দ্র করে নির্মাণ করা হবে সবুজে ঘেরা তিনটি ইকোপার্ক। বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু আর শীতলক্ষ্যার তীরে নির্মাণ করা হবে ২২০ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে। নদীতীরের বিভিন্ন স্থানে নির্মাণ করা হবে ১০০টিরও বেশি ঝুলন্ত সিঁড়ি। থাকবে ৪০৯টি বসার স্থান। পণ্য ওঠানামার জন্য নির্মিত হবে ১৯টি আধুনিক আরসিসি জেটি। বাবুবাজার থেকে সদরঘাট এলাকার নদীর পাড় দখলমুক্ত করে সেখানে নদীর পর্যবেক্ষণ ডেক এবং দৃষ্টিনন্দন দোকান নির্মাণ করা হবে। সংস্কৃতি চর্চার জন্য থাকবে উন্মুক্ত অপেরা হাউজ। নদীতীরের চারদিক থাকবে সবুজে ঘেরা। শিশুদের জন্য থাকবে আলাদা শিশু কর্নার। মনজুড়ানো আলোকসজ্জায় পাল্টে যাবে বুড়িগঙ্গাসহ চার নদীর রাতের দৃশ্য।
বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীর দূষণ রোধ, দখল প্রতিরোধ ও সৌন্দর্যবর্ধনে ধাপে ধাপে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২২-এর জুন মাস নাগাদ এই প্রকল্পের কাজ শেষ হতে পারে।
নদীতীর দখল ঠেকাতে প্রায় ১০ হাজার সীমানা পিলার বসানো হবে। প্রতিটি সীমানা পিলারের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে সাড়ে তিন লাখ টাকা। যার স্থায়িত্ব হবে ন্যূনতম ১০০ বছর। আরসিসি ঢালাই করা সীমানা পিলারের ৩০ থেকে ৩৫ ফুট থাকবে মাটির নিচে এবং পিলারের ওপরে ১৬ ফুট দৃশ্যমান থাকবে।
এই প্রকল্পের উপপরিচালক প্রকৌশলী এএসএম আশরাফুজ্জামান বলেন, ইতোমধ্যে সরাসরি নিয়োগযোগ্য জনবল ও আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগের কাজ শেষ হয়েছে। পরামর্শক সেবা গ্রহণের জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বেশকিছু এক্সক্যাভেটর ও পন্টুন কেনার জন্য চুক্তি হয়েছে। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় ঢাকা নদীবন্দর এলাকায় ২ হাজার ৬টি সীমানা পিলার নির্মাণের দরপত্র আহবান করা হয়েছে। পাশাপাশি রামচন্দ্রপুর থেকে বছিলা ও রায়েরবাজার খাল থেকে কামরাঙ্গীর চর পর্যন্ত ওয়াকওয়ে, কিওয়াল, ওয়ানওয়ে অন পাইল ইত্যাদি স্থাপনা নির্মাণের দরপত্র আহবান করা হয়েছে। সব মিলিয়ে গত এক বছরে প্রকল্পের ১০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।
ঢাকার চারপাশের নদীতীর উন্নয়নে গৃহীত মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে স্থপতি ইকবাল হাবীব কারিকাকে বলেন, প্রথমত, নদীর পাড়জুড়ে যে ধরনের পরিকল্পনাই নেয়া হোক না কেন তার পরিবেশগত এবং সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন করে দেখা দরকার। এ প্রকল্পে যে ব্যয় হবে তার ফিন্যান্সিয়াল রিটার্ন ক্যালকুলেশন করে দেখতে হবে। এই প্রাক সমীক্ষাগুলো অতন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের বৃহৎ প্রকল্পগুলোতে পরিবেশগত সামাজিক এবং অর্থনৈতিক প্রাক সমীক্ষার গুরুত্ব আইনগতভাবেই রয়েছে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সমীক্ষা না করে যেন প্রকল্পটি শুরু করা না হয়। দ্বিতীয়ত নদীর পাড় উদ্ধারের পাশাপাশি উদ্ধারকৃত জায়গা সুনির্দিষ্ট করে সংরক্ষণের প্রক্রিয়া যদি না শুরু করা হয়, তাহলে সমীক্ষানির্ভর কার্যক্রম শেষ হয়ে আসতে আসতে তা আবার বেদখল হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে আমরা বলেছিলাম, প্রয়োজন হলে ডিজিটাল পদ্ধতিতে অর্থাৎ আইওটি বেজ ডিজিটাল পদ্ধতিতে জমির সীমা চিহ্নিতকরণ এবং দখলী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে এক ধরনের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সেই কার্যক্রমগুলোও গুরুত্বপূর্ণ। নদীপাড়ের যেসব এলাকায় সৌন্দর্যবর্ধন ও উন্নয়নকাজ করা হবে, সেসব এলাকায় ভূমির মূল্য বেড়ে যাবে। নাগরিকদের বসবাসের হারও বেড়ে যাবে। সেজন্য ওইসব অঞ্চলে অবকাঠামোগত সুবিধা ও ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমও পরিকল্পনার মধ্যে আনতে হবে। তা করা না হলে প্রকল্প বাস্তবায়নের পর সেখানে খাবার পানির সংকট এবং নানারকম নাগরিক সমস্যা দেখা দেবে। ট্রাফিক কনজাকশন সৃষ্টি হবে। ঢাকার চার নদী দিয়ে পুরো ঢাকা শহরের কঠিন ও তরল বর্জ্য প্রবাহিত হয়। সেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। নদীতীর রক্ষা ও উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে তরল ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও এই প্রকল্পের সঙ্গে অর্ন্তভুক্ত করে সেটার কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে। সেটা করা না হলে জনসাধারণ এই বৃহৎ প্রকল্পের সুফল পাবে না।
বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর এম মাহবুব উল ইসলাম বলেন, যেভাবে উন্নয়নমূলক কাজ করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে, তা টেকসই হবে। চলতি বছরের মধ্যেই খুঁটি বসানোর কাজ শুরু হবে। বাকি কাজ দ্রুত সময়ে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীর তীরভূমিতে পিলার স্থাপন, তীররক্ষা, ওয়াকওয়ে, জেটিসহ আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্পের অংশ হিসেবে গত ২৯ জানুয়ারি থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ঢাকার চারপাশে নদ-নদী তীরে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ৩ হাজার ৫৭৫টি স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে বিআইডব্লিউটিএ। ৩৬ দিনের এই অভিযানে ৯১ একর জমি উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযান চলাকালে জব্দ করা বালু, মাটি ও পাথর নিলামে তুলে ৫ কোটি ২ লাখ ২৬ হাজার টাকা বিক্রি করা হয়েছে। জরিমানা করা হয়েছে ৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।

কারিকা প্রতিবেদক
নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে রাজধানীর পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলো। রাতের অন্ধকারে ভেঙে ফেলা হচ্ছে এসব স্থাপনা। সম্প্রতি পুরান ঢাকার জাহাজ বাড়ি ভেঙে ফেলায় এই শঙ্কা আরও বেড়েছে। উচ্চ আদালত এসব ভবনের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করে সেটা রক্ষণাবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়ার পরও সেই আদেশ মানছে না দায়িত্বশীল কেউ।
রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ঠিকমতো কাজ করছে না বলে অভিযোগ করেছে হেরিটেজ স্থাপনা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো। তাদের দাবি, অতিদ্রুত নিরাপত্তা না বাড়ালে প্রভাবশালীদের ‘আক্রমণে’ হারিয়ে যাবে পুরান ঢাকার সব ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা।
ঈদের আগের দিন রাতে পুরান ঢাকার চক সার্কুলার রোডের ‘জাহাজ বাড়ি’ ভেঙে ফেলা হয়। ভবনটি ভাঙার সময় আরবার স্টাডি গ্রুপের প্রধান নির্বাহী তাইমুর ইসলাম চকবাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তখন পুলিশ গিয়ে ভবনটি ভাঙার কাজ বন্ধ করে দিলেও শেষ পর্যন্ত বাড়িটি রক্ষা করা যায়নি। পুলিশও এর সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করেনি।
এর আগে সূত্রাপুর থানা ভবনসহ পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকার বেশ কয়েকটি হেরিটেজ বাড়ি ভাঙা শুরু হলে পুলিশের সহযোগিতায় তা বন্ধ করা হয়। কিন্তু জাহাজ বাড়ি রক্ষা করতে না পারায় সংশ্লিষ্টদের মনে শঙ্কা বেড়েছে।
২০০৯ সালের ২ ফ্রেরুয়ারী পুরান ঢাকার চারটি অঞ্চলকে ঢাকার ঐতিহ্য বা হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে রাজউক। গেজেটে ৯৩টি স্থাপনা ও ১৩টি সড়ককে ঐতিহ্যবাহী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ২০১৭ সালে হেরিটেজের সংখ্যা ৭৫টিতে নামিয়ে আনা হয়। ১৩টি সড়কও তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
রাজউকের তালিকাকে ক্রুটিপূর্ণ দাবি করে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা নিয়ে কাজ করা আরবান স্টাডি গ্রুপ। ২০০৪ সালে নিজেদের উদ্যোগে ঢাকার প্রায় ২ হাজার ৭০০ ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার তালিকা তৈরি করে সংগঠনটি। এর মধ্যে গ্রেড-১ ও ২-এ ২ হাজার ২০০ ভবন রয়েছে। এই তালিকা রাজউক, সিটি করপোরেশন, প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরে জমা দিয়ে কোনও লাভ হয়নি। পরে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা সংরক্ষণের দাবিতে ২০১২ সালে উচ্চ আদালতে রিট করে আরবান স্টাডি গ্রুপ।
রিটের রায়ে আদালত বলেন, কোন কোন ভবন ঐতিহ্যবাহী ও সংরক্ষণ করা প্রয়োজন তার তালিকা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত আরবান স্টাডি গ্রুপের খসড়া তালিকাভুক্ত ভবনে কোনো প্রকার পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করা যাবে না। তালিকাভুক্ত এসব বাড়ি বা স্থাপনা নির্মাণের নকশা অনুমোদন না দিতে রাজউককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তালিকাভুক্ত এসব স্থাপনা যথাযথ আছে কিনা তা পরীক্ষার জন্য একটি উপদেষ্টা কমিটি করতে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই কমিটিকে তিন মাস পরপর কাজের অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে হবে। ওই তালিকায় গ্রেড-১-এ জাহাজ বাড়িটিও অন্তর্ভুক্ত আছে।
খোদ রাজধানীতে জাহাজ বাড়ির মতো ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়া প্রসঙ্গে স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সবসময় ঐতিহ্য এবং হেরিটেজ সংরক্ষণের প্রতি দরদী হওয়ার কথা বলে আসছে। তারপরও জাহাজ বাড়ির মতো ঐতিহ্যবাহী ভবন ভেঙে দেয়ার মতো ঘটনা প্রমাণ করছে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা সংরক্ষণে সিরিয়াস না।
জাহাজ বাড়ি ভাঙা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আরবান স্টাডি গ্রুপের প্রধান নির্বাহী তাইমুর ইসলাম বলেন, ‘এটা স্পষ্ট, ঐতিহ্যবাহী ভবনগুলো নিয়ে এখন প্রভাবশালীরা অঘোষিত যুদ্ধই ঘোষণা করেছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর, রাজউক ও পুলিশ কেউ আদালতের আদেশ মানছে না। ভবনগুলো ভাঙার ক্ষেত্রে দস্যুদের মতো আচরণ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘শঙ্কায় আছি যেভাবে ভবনগুলো ভাঙা হচ্ছে, তাতে ঐতিহ্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে যাবে। আর রাজউক যে গেজেট করেছে, প্রত্নতত্ত্ব আইন অনুযায়ী সেটা তারা করতে পারে না।’
জানা গেছে, উনিশ শতকের মাঝামাঝিতে নির্মিত এই ভবনটি ঢাকার প্রথম বাণিজ্যিক ভবন হিসেবে বিবেচিত হতো। ওই ভবনের বিভিন্ন দোকানের ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভবনটি ওয়াকফ এস্টেট হিসেবে ছিল। তারা নিয়মিত ওয়াকফ প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রতিনিধিকে ভাড়া দিয়ে আসছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ‘জাহাজ বাড়ি’ ভবনটি তৈরি করা হয়েছে আনুমানিক ১৮৭০ সালে। ভবনের মালিক ১৯২০ সালে বদু হাজির নামে ওয়াকফ সম্পত্তি করে দিয়ে যান। বদু হাজির মৃত্যুর পর তার বড় সন্তান ফেকু হাজি ভবনটির দায়িত্বে ছিলেন। ফেকু হাজির মৃত্যুর পর তার বড় ছেলে হাজি আবদুল হক ভাঙার আগ পর্যন্ত ভবনটি তত্ত্ববধায়ন করছিলেন।
তিনতলা ‘জাহাজ বাড়ি’র দোতলায় নকশা করা রেলিং, ছাদওয়ালা টানা বারান্দা ছিল। আর অবয়বজুড়ে ছিল নানা রকম কারুকাজসমৃদ্ধ। কোনাকৃতি আর্চের সারি, কারুকাজ করা কার্নিশ। কলামে ব্যবহার করা হয়েছে আয়নিক ও করিন্থিয়ান ক্যাপিটাল। ভবনের পশ্চিম প্রান্তে আর্চ ও কলামের সঙ্গেও নানা রকম অলংকরণের ব্যবহার দেখা যায়। সব মিলিয়ে এই ভবনটিতে যে ধরনের অলংকরণের ব্যবহার রয়েছে, তা একে এক অনন্য মাত্রা দিয়েছে। এই ধরনের অলংকরণ পুরান ঢাকায় আর কোনো ভবনে দেখা যায় না। সেদিক থেকে এর নান্দনিক গুরুত্বের জন্যই ভবনটি সংরক্ষণ করার প্রয়োজন ছিল বলে মনে করেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।

ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক

কারিকা প্রতিবেদক
বিশ্বে বসবাসের সবচেয়ে অযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয়, খবরটি প্রায় সবারই জানা। বসবাসযোগ্যতার দিক দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শহরের একটি তালিকা তৈরি করেছে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট। রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা, অপরাধের মাত্রা, শিক্ষার সুযোগ ও স্বাস্থ্যসেবার মানের মতো বেশকিছু সূচক বিবেচনায় নিয়ে সারা বিশ্বের ১৪০টি শহরের ভালো-মন্দ দিক বিবেচনায় নিয়ে তালিকাটি করা হয়েছে। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকার নিচে অবস্থান করছে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক।
তবে দুঃসংবাদের পাশাপাশি ঢাকাবাসীর জন্য স্বস্তির সংবাদও আছে। ঢাকার পাশে চারটি উপশহর গড়তে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে ৮৫০ কোটি টাকা দেবে বিশ্বব্যাংক।
বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সমিতির (আইডিএ) আওতায় আগামী ৩০ বছরের মেয়াদে শতকরা শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জে ও ১ দশমিক ২৫ শতাংশ সুদে এই ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক।
গত মে মাসের শেষের দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ-সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব জাহিদুল হক ও বিশ্বব্যাংকের পক্ষে ভারপ্রাপ্ত আবাসিক প্রতিনিধি জাহিদ হোসেন নিজ নিজ সংস্থার পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
‘ঢাকা সিটি নেইবারহুড আপগ্রেডিং প্রজেক্টের আওতায়’ রাজধানী কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ, সূত্রাপুর-নয়াবাজার-গুলিস্তান, খিলগাঁও-মুগদা-বাসাবোতে চারটি উপশহর গড়ে তুলতে এই ঋণ দেয়া হবে। প্রকল্পের আওতাভুক্ত এলাকায় খেলার মাঠ, পার্ক, জলপ্রপাত, রাস্তা, হাঁটার পথ, উন্মুক্ত সবুজ স্থান ও নাগরিক সুবিধা-সংবলিত কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ করা হবে। যাতে করে প্রকল্প-এলাকার ১০ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ সুবিধা ভোগ করার পাশাপাশি এসব এলাকায় বসবাসরত নারী, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও উপকৃত হবেন।
প্রকল্প সম্পর্কে বিশ্বব্যাংকের আবাসিক প্রতিনিধি জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের মোট উৎপাদনশীলতার দিক দিয়েই ঢাকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সমন্বিত সড়ক নেটওয়ার্ক তৈরির পাশাপাশি খেলাধুলার মাঠ ও খালি জায়গা তৈরি করে সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির পরিবেশ নিশ্চিত করাই এ প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য।’

0 44

বাজেটে আবাসন খাতে নিবন্ধন ফি কমেছে

কারিকা প্রতিবেদক

২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে আবাসন খাতে বিভিন্ন ধরনের ফি কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে খুশি রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। সংগঠনটি এই প্রস্তাবকে ‘যুগান্তকারী প্রস্তাব’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে আবাসন খাতে স্ট্যাম্প ডিউটিসহ নিবন্ধন ফি ১৪ থেকে ১৬ শতাংশের পরিবর্তে কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত রয়েছে। পাশাপাশি সুযোগ রাখা হয়েছে অপ্রদর্শিত অর্থ তথা কালোটাকা বিনিয়োগের। আবাসন ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, সরকারের এ সিদ্ধান্তে সুদিন ফিরবে তাদের ব্যবসায়।
জাতীয় সংসদে গত ১৩ জুন নতুন অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ‘সবার জন্য আবাসন, কেউ থাকবে না গৃহহীন’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ ঘোষণা বাস্তবায়নে নতুন অর্থবছরে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের জন্য ৬ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া বেসরকারি আবাসন খাতের জন্য বেশকিছু প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।
পরে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের আবাসন খাত দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে রয়েছে। এ খাতটি বিকশিত না হওয়ার অন্যতম কারণ স্ট্যাম্প ডিউটি ও রেজিস্ট্রেশন ফি অনেক বেশি। এর ফলে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। আর অপ্রদর্শিত আয়ের পরিমাণও বাড়ছে। আমরা সব রেজিস্ট্রেশন ফি যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করব। এর ফলে আবাসন খাত সম্প্রসারিত হবে এবং রাজস্ব আয়ও বাড়বে। একই সঙ্গে অপ্রদর্শিত আয়ের প্রবণতাও কমে যাবে বলে অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।
প্রস্তাবিত বাজেটে অপ্রদর্শিত বা কালোটাকার বিনিয়োগে রাজধানীর গুলশান, বনানী, ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকায় এবং চট্টগ্রামের কয়েকটি এলাকায় আবাসিক ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে প্রতি বর্গমিটারে আগের তুলনায় এক থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত কর ছাড় দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভাগীয়, জেলা বা পৌর এলাকায় কালোটাকার বিনিয়োগে জমি কিনতেও নির্দিষ্ট করা হয়েছে কর-হার। বাজেট বক্তৃতায় আছে ফ্ল্যাটের নিবন্ধন ফি কমানোর ঘোষণাও।
প্রসঙ্গত, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের জন্য ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাজেট বরাদ্দ ছিল ৪ হাজার ৯৬৩ কোটি টাকা। পরে সংশোধিত আকারে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা, যা মূল বাজেটের চেয়ে ১ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা বেশি। সংশোধিত বাজেটের তুলনায়ও ৪৫৭ কোটি টাকা বেশি।
এদিকে, নতুন অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উত্থাপনের পর রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট (১) সভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়ার পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি এই প্রস্তাবকে ‘যুগান্তকারী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
এতে বলা হয়েছে, ‘২০১৯-২০ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট বক্তৃতায় সরকার আবাসন খাতে নিবন্ধন ফি এবং স্ট্যাম্প ফি হ্রাস করার যে প্রস্তাব করেছে তার জন্য প্রধানমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রীকে রিহ্যাবের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সরকারের এই যুগান্তকারী প্রস্তাবের ফলে আবাসন খাতে বিদ্যমান স্থবিরতা বহুলাংশে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে বিশ্বাস করে রিহ্যাব।’
বাজেটে সরকার আবাসন খাতে যে বিনিয়োগ-সুবিধার প্রস্তাব করেছে, তা এই খাতে ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখবে এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে অভিমত দেওয়া হয়েছে।
এতে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্তরা যাতে ভাড়ার টাকায় মাথা গোঁজার একটা ঠিকানা খুঁজে পায় সেজন্য স্বল্প সুদের দীর্ঘমেয়াদি একটি তহবিল গঠনসহ রিহ্যাবের অন্য দাবিগুলো আগামীতে সরকার বাস্তবায়ন করবে।
রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট (১) লিয়াকত আলী ভূঁইয়া মনে করেন, আবাসন খাতে প্রস্তাবিত বাজেটে দেওয়া সুযোগ-সুবিধা এ খাতের সঙ্গে জড়িত প্রায় আড়াই’শ শিল্পখাত পরোক্ষভাবে পাবে, যা অর্থনীতির জন্য সুফল বয়ে আনবে।
তিনি বলেন, ‘কালো টাকা একসময় দেশের বাইরে চলে যেত। এখন সুযোগ থাকার ফলে এই টাকাটা দেশেই বিনিয়োগ করার সুযোগ পাওয়া যাবে।’

ঈদ-পরবর্তী প্রতিটি শো ছিল হাউজফুল

আবদুল্লাহ আল মামুন

‘তরুণ বয়সে চট্টগ্রামের প্রায় সবগুলো সিনেমা হলে সিনেমা দেখেছি। এক পর্যায়ে সিনেমা হলগুলোর পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়। সিনেমার মানও কমে যায়। পরিবার নিয়ে সিনেমা দেখার মতো পরিবেশ তো ছিলই না। দীর্ঘদিন পর সিলভার স্ক্রিনে সিনেমা দেখতে এসে সেই তারুণ্যে ফিরে গেলাম। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ। আরামদায়ক বসার আসন। উন্নত সাউন্ড সিস্টেম। পরিসর ছোট হলেও সিলভার স্ক্রিনে সিনেমা দেখে মুগ্ধ।’ বলছিলেন নগরের হালিশহর থেকে চট্টগ্রামের প্রথম সিনেপ্লেক্স সিলভার স্ক্রিনে স্বপরিবারে সিনেমা দেখতে আসা ব্যবসায়ী হামিদুর রহমান। গত বছরের ১৬ আগস্ট নগরের ২ নম্বর গেইট ফিনলে স্কয়ারে যাত্রা শুরু হয় সিনেপ্লেক্স : সিলভার স্ক্রিন। সাড়া ফেলে চট্টগ্রামের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে। এবার ঈদ-আনন্দেও চট্টগ্রামের লোকজনের জন্য বাড়তি বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে যুক্ত হয়েছে এ সিনেপ্লেক্সটি। যেখানে প্লাটিনাম ও টাইটানিয়াম নামে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির দুটি হল রয়েছে। অর্থাৎ একই সময়ে দুই পর্দায় আলাদা আলাদা সিনেমার প্রদর্শনীর ব্যবস্থা রয়েছে। দুটি হলের একটিতে রয়েছে উন্নত ও আরামদায়ক আসনব্যবস্থা, অন্যটিতে যুক্ত আছে রিক্লাইনিং আসনব্যবস্থা (শোয়ানো যায় এমন)। দুটি হলেই রয়েছে ডিজিটাল সাররাউন্ড ৭.১ সাউন্ড সিস্টেম। গত ১৯ জুন মঙ্গলবার সিলভার স্ক্রিনে নিজের অভিনীত সিনেমা ‘নোলক’ দেখেন অভিনেত্রী ইয়ামিন হক ববি।
সিলভার স্ক্রিন সিনেপ্লেক্সে সিনেমা উপভোগের পর দর্শক অভি আদিত্য বলেন, ‘সিলভার স্ক্রিনের স্ক্রিন ও সাউন্ড কোয়ালিটি খুবই মানসম্মত। সিনেমা হলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আচরণও খুব ভালো। তবে দর্শকদের জন্য সিট ও হল আরও বাড়ানো দরকার। চট্টগ্রামের সিনেমাপ্রেমীদের জন্য মাত্র দুটো হল খুবই অপ্রতুল।’
বন্ধুদের নিয়ে সিনেমা দেখতে এসেছিলেন রেজোয়ান রাজু। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রজন্মের কাছে সিনেমা হল মানে ছিল যত্রতত্র পানের পিক। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ। ভাঙা চেয়ার। ছারপোকা। উৎকট গন্ধ। সিলভার স্ক্রিন সে ধারণা পাল্টে দিয়েছে। এখানে নান্দনিক পরিবেশে আরামদায়ক আসনে বসে সিনেমা উপভোগ করেছি। তবে দর্শকদের ওয়েটিংয়ের পরিসরটি আরও বড় করা দরকার। এ ছাড়া লাইনে দাঁড়িয়ে টিকেট কেটে ছবি দেখা খুবই বিরক্তিকর। অনলাইনে টিকেট কাটার ব্যবস্থা করা হলে খুবই ভালো হয়।’
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, সিলভার স্ক্রিনের নজরকাড়া পরিবেশ। হলে প্রবেশ করতেই চকচকে মেঝে চোখে পড়ে। একপাশে একটি টিকেট কাউন্টার। চার পাশেই নানা রঙের পোস্টার। রয়েছে কয়েকটি স্ক্রিন। যেখানে হলে প্রদর্শন হওয়া সিনেমার অংশবিশেষ দেখানো হচ্ছে। হলের সামনে স্বল্পপরিসরের জায়গা। যেখানে বসার ব্যবস্থা রয়েছে। রয়েছে চকচকে ওয়াশরুমও। প্লাটিনাম হলে প্রবেশ করে দেখা গেল, উন্নত ও আরামদায়ক আসনব্যবস্থা। টাইটানিয়ামের আসনগুলোও নজরকাড়া। রিক্লাইনিং সিটগুলোতে যেকেউ সুইচ টিপেই শুয়ে কিংবা কাত হয়ে উপভোগ করতে পারবেন সিনেমা। আসনে থাকা সুইচ টিপে অর্ডার করা যাবে খাবারও।
সিলভার স্ক্রিনের অন্যতম উদ্যোক্তা ফারুক আহমেদ বলেন, ‘প্রায় এক বছর আগে যাত্রা শুরু করেছে সিলভার স্ক্রিন। এর মধ্যে চট্টগ্রামের সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে ভালো সাড়া ফেলেছে। তবে আমাদের দেশীয় ছবির প্রতি দর্শকদের আগ্রহ কম দেখা যাচ্ছে। দেবী যেভাবে সাড়া ফেলেছিল, গত এক বছরে অন্য কোনো সিনেমা সেভাবে সাড়া ফেলেনি। কনটেন্ট ভালো না হলে দর্শকরা আগ্রহী হন না। তবে বিদেশী সিনেমার প্রতি দর্শকদের আগ্রহ রয়েছে। অ্যাকশন ও হরর টাইপের ছবিগুলো বেশি দেখতে চান তারা। দীর্ঘদিন সিনেমা হলের প্রতি দর্শকদের দূরত্ব ছিল। যার কারণে কাহিনি-নির্ভর সিনেমার প্রতি আগ্রহ কমে গেছে। তবে ভালো কনটেন্টের সিনেমা তৈরি হলে ভালো ব্যবসাও হবে। আমরা ভালো কনটেন্টের অভাবে ভুগছি। এবার ঈদে সিনেমাপ্রেমীদের যথেষ্ট সাড়া পেয়েছি। ঈদের পরদিন থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যা ও বিকেলের শো ছিল হাউজফুল।’
সিলভার স্ক্রিনের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিদিন বেলা সাড়ে ১১টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চারটি প্রদর্শনী (শো) হয়। প্লাটিনামে বাংলাদেশি ছবির মর্নিং ও ম্যাটিনি শোর টিকেটমূল্য ৩৫০ টাকা। প্রিমিয়াম সিট ৫০০ টাকা। বিদেশী ছবির মর্নিং ও ম্যাটিনি শোর টিকেট ৪০০ টাকা। প্রিমিয়াম সিট ৪০০ টাকা। বাংলাদেশি ছবির সন্ধ্যা ও নাইট শোর টিকেট মূল্য ৪০০ টাকা। প্রিমিয়াম সিট ৬০০টাকা। বিদেশী ছবির সন্ধ্যা ও নাইট শোর টিকেট মূল্য ৫০০ টাকা। প্রিমিয়াম সিট ৭০০টাকা।
টাইটানিয়ামে বাংলাদেশি ছবির টিকেট ১ হাজার ২০০ টাকা এবং বিদেশি ছবির টিকেট ১ হাজার ৫০০ টাকা। প্রাথমিকভাবে কাউন্টারে নিয়মিত শো’র টিকিট পাওয়া যাবে। কাউন্টার থেকে এক থেকে পাঁচদিন আগে পর্যন্ত অগ্রিম টিকিট কাটা যায়। পরবর্তীতে অনলাইনেও টিকিট কাটার ব্যবস্থা রাখা হবে। দুটি হলের মধ্যে প্লাটিনামে আসনসংখ্যা ৭০টি। টাইটানিয়ামে আসনসংখ্যা ১৮টি। বর্তমানে হল দুটিতে চলছে বাংলাদেশি ছবি নোলক। বিদেশী ছবির মধ্যে চলছে অ্যাভেঞ্জার : এন্ড গেম, আলাদ্দিন, গডজিলা : কিং অব মনস্টারস ও ডার্ক ফনিক্স।

মিলছে না পাঁচ হাজার কোটি টাকার চলমান প্রকল্পের সুফল

আবদুল্লাহ আল মামুন

১৫ জুন। দুপুর দেড়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম নগরে বৃষ্টি হয় ২২ মিলিমিটার। আষাঢ়ের প্রথম বর্ষণে ডুবে যায় নগরের একাংশ। কোথাও হাঁটু-পানি, কোথাও আবার কোমর-পানি। বর্ষার ভারি বর্ষণে কী হবে-তা নিয়ে শঙ্কায় নগরবাসী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও এবারও জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে রেহাই মিলছে না নগরবাসীর। তবে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলছেন, খাল ও নালা-নর্দমা খনন করায় বৃষ্টি হলে পানি আগের মতো জমবে না।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন বিগ্রেডের সদর দপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভীর মাজহার সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেন, ‘নগরের খালগুলোর যে প্রশস্ততা থাকার কথা-তা নেই। বিভিন্ন জায়গায় খালের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এতে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। অবৈধ স্থাপনা থাকলে প্রকল্প বাস্তবায়নের সুফল পাওয়া যাবে না।’
শিগগিরই খালের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে বলেও জানানো হয়।
জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের অতিরিক্ত প্রকল্প-পরিচালক ও সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবু সাদাত মোহাম্মদ তানভীর বলেন, ‘নগরে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকার কারণে ভারী বর্ষণের পরপরই সড়কে পানি জমে যায়। তবে প্রকল্পের কাজ শুরুর আগে যেখানে এক-দুদিন পানি জমে থাকত, এখন দেড়-দুই ঘণ্টার মধ্যে পানি নেমে যাচ্ছে। আগামী দিনেও এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যে পানি নেমে যাবে।’
জলাবদ্ধতা-সমস্যা নিরসনে বিভিন্ন পদক্ষেপের পাশাপাশি স্থানীয় কাউন্সিলরসহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগস্টে ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সিডিএর ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’শীর্ষক একটি প্রকল্পের অনুমোদন দেয় একনেক। অনুমোদনের পৌনে দুই বছর পার হলেও এখনো পর্যন্ত নগরবাসীকে আশার আলো দেখাতে পারছে না সিডিএ।
প্রকল্প অনুমোদনের প্রায় আট মাস পর গত বছরের এপ্রিলে খাল ও নালা-নর্দমার খননকাজ শুরু হয়। প্রকল্পের অধীনে ৩৬টি খাল খননের কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ১৩টি খাল খনন হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ আছে মাত্র এক বছর। কিন্তু প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ১৫ শতাংশ। এই সময়ে ব্যয় হয়েছে ৪১৮ কোটি টাকা। আগামী বছরের জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে।
আষাঢ়ের প্রথম বর্ষণে নগরের চকবাজার, প্রবর্তক মোড়, জিইসি মোড়, ষোলশহর দুই নম্বর গেইট, মুরাদপুর মোড়, আগ্রাবাদ, হালিশহর, খুলশী, ওয়ারলেস মোড়, বহদ্দারহাট, বাদুরতলা, শুলকবহর, কাতালগঞ্জ, বাকলিয়া, ষোলশহর আল ফালাহ গলিসহ বিভিন্ন এলাকা হাঁটু থেকে কোমর-পানিতে তলিয়ে যায়।
গত ২৪ মে রাতে ১৫ মিলিমিটারের অল্প বৃষ্টিতেই চট্টগ্রাম নগরের প্রবর্তক মোড়, দুই নম্বর গেট, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু পরিমাণ পানি জমে যায়। এর আগে, গত ২ এপ্রিল রাতে বৃষ্টিতে নগরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বর্ষা মৌসুমের আগেই জলাবদ্ধতা হওয়ায় পরদিন ৩ এপ্রিল নগর ভবনে জরুরি বৈঠকে বসেন সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলররা। ওই বৈঠকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীর গতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
প্রকল্প-সূত্র জানায়, প্রকল্পের অধীনে ৩৬টি খাল খনন করা হবে। তিন পর্যায়ে নগরের খালগুলো খনন ও সংস্কার করা হচ্ছে। প্রথম দফায় গুরুত্ব অনুযায়ী ১৬টি আবর্জনা পরিষ্কার কাজ চলছে। এর মধ্যে রয়েছে মহেশখাল, বির্জা খাল, ডোমখালী খাল, চাক্তাই খাল, খন্দকিয়া খাল, রাজাখালী খাল, চাক্তাই সংযোগ খাল, মহেশখালী খাল, মির্জাখাল, নোয়াখাল, ফিরিঙ্গীবাজার খাল, কলাবাগিচা খাল, সদরঘাট খাল, নাছির খাল, বামনশাহী খাল ও হিজরা খাল। গত বছর খালগুলো থেকে ১ কোটি ২৫ লাখ ৮৮ হাজার ঘনফুট এবং চলতি বছরের প্রথম চার মাসে ৪২ লাখ ঘনফুট মাটি উত্তোলন করা হয়েছে। বাকি খালগুলো থেকে পরবর্তী পর্যায়ে মাটি উত্তোলন করা হবে।
তবে সরেজমিন চাক্তাইখাল ঘুরে দেখা গেছে, খালটি খনন করা হয়েছে দাবি করা হলেও খালটির অধিকাংশ এলাকাই আবর্জনায় ভরাট হয়ে আছে। খালটির চকবাজার ধুনিরপুল এলাকায় আবর্জনার স্তরের ওপর হেঁটে পার হচ্ছে শিশুরা। একই অবস্থা খালটির মিয়াখান নগর ব্রিজ ও কোরবানিগঞ্জ এলাকায়ও।
খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর মো. জামাল হোসেন বলেন, ‘প্রতিবছর বর্ষায় জলাবদ্ধতার কারণে খাতুনগঞ্জ-চাক্তাইয়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হাজার কোটি টাকার পণ্য নষ্ট হয়ে যায়। এবারও জলাবদ্ধতার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। কারণ চাক্তাইখালের অনেক জায়গা আবর্জনায় ভরাট হয়ে আছে। বর্ষা চলে এসেছে অথচ এখনো এসব আবর্জনা অপসারণ করা হয়নি।’
ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশের (আইইবি) চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সাবেক চেয়ারম্যান দেলোয়ার মজুমদার বলেন, ‘সিডিএ অপরিকল্পিতভাবে প্রকল্প নেওয়ার কারণে দৃশ্যমান কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। গত বছর প্রকল্পের কাজ শুরুর সময় সিডিএর তৎকালীন চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেছিলেন, ‘‘আগামী (২০১৯ সাল) বর্ষাতেই নগরবাসী সুফল পাবেন।’’ কিন্তু এবার কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। সামনের দিনগুলোতেও সুফল পাওয়ার দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না। জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজে সিডিএর পূর্ব-অভিজ্ঞতা না থাকায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।’

চট্টগ্রাম নগরে জলাবদ্ধতার ১২ কারণ
চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে ২০১৮ সালের এপ্রিল থেকে কাজ শুরু করে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। কাজ করতে গিয়ে জলাবদ্ধতার অন্তত ১২টি কারণ চিহ্নিত করেছে তারা। গত ৪ মে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় কারণগুলো উপস্থাপন করা হয়। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে-নগরের খালগুলো অবৈধভাবে দখল হয়ে যাওয়া, পরিষ্কারের পরও নিয়মিতভাবে খালে ময়লা ফেলা, কর্ণফুলী নদী ও সাগরের সঙ্গে যুক্ত খালগুলোর মুখে জোয়ার প্রতিরোধক (টাইডাল রেগুলেটর) ফটকের স্বল্পতা, সেবা সংস্থাগুলোর পাইপের জন্য পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া, খাল ও নালা-নর্দমার মধ্যে সংযোগে ক্রুটি থাকা, বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য পর্যাপ্ত ড্রেনেজ-ব্যবস্থা না থাকা, সঠিক বর্জ্যব্যবস্থাপনা অনুসরণ না করা, ইমারত-বিধি না মেনে ভবন নির্মাণ ও জমির অপব্যবহার, অপরিকল্পিতভাবে বন উজাড় এবং পাহাড় কাটা, বালুর ফাঁদ (সিল্ট ট্র্যাপ) কার্যকর না থাকা ও শিল্পকারখানার বর্জ্য অনিয়ন্ত্রিতভাবে নিষ্কাশন করা। এসব কারণে ভারী বর্ষণের পর নগরের পানি নালা-নর্দমা ও খালের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়ে দ্রæত নদীতে পৌঁছতে না পারার ফলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানানো হয়।

ঢাকার কাছেই রূপগঞ্জে পাঁচ তরুণের স্বপ্নকানন

রুখসানা মিলি

প্রয়োজন পূরণ করার ‘অজুহাতে’ প্রকৃতিকে ‘প্রায় বিদায়’ করে দিয়ে প্রিয় নগরী ঢাকা হয়ে উঠেছে কংক্রিটের জঙ্গল। প্রতিযোগিতায় ছুটে চলা জীবনের ক্লান্তি ধুয়ে একটু সজীবতা ফিরিয়ে আনতে পারে ফুল-পাখি-আকাশ-সবুজ-খোলা প্রান্তর-নির্জনতা-ভরা প্রকৃতি। ঢাকার খুব কাছেই এমন সব প্রাকৃতিক আয়োজন নিয়ে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে জিন্দা পার্ক।
খোলা সবুজ মাঠের পাশে একটি লাইব্রেরি ভবন। কমিউনিটি স্কুল এবং কমিউনিটি ক্লিনিক, মসজিদ, রেস্টুরেন্ট-সব নির্মাণই সাধারণ তবে অনন্য। গাছের ডালে তৈরি মাঁচানে পা ঝুলিয়ে বসে অনায়াসে কাটিয়ে দেয়া যাবে কিছু সময়। কিংবা ছোট্ট স্বচ্ছ জলের দ্বীপটিতে প্যাডেল বোটে করে নামা বা লেকের পানিতে বোটে ঘুরে বেড়ানো নিঃসন্দেহে আনন্দ দেবে। নানান রকম গাছের সারি, সবুজ ঘাস, রঙ্গনের সারি, মাটির রাস্তা বোলাবে শাস্তির পরশ।
ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা রাইসুল ইসলাম জানান, বাচ্চাদের নিয়ে প্রায়ই তারা এখানে আসেন। প্রকৃতির উদারতায় প্রতিবারই ফেরত যান নতুন সজীবতা নিয়ে। ঢাকায় প্রায় বন্দি থাকা সন্তানেরা এখানে এসে পাখির সঙ্গে ফুলের সঙ্গে মেতে ওঠে অপার আনন্দে। মাটি, ঘাসের সঙ্গে ওদের মিতালি আনন্দ দেয় তাকেও।
অনেকে আবার ঘুরতে আসেন দলবেঁধে। এমনকি পিকনিক বা অন্যান্য আয়োজন নিয়ে বড় দলও আসে। উদ্যোক্তারা জানান, সারা বছরই দর্শনার্থীরা থাকেন। তবে ছুটির দিনগুলোতে ভিড় বেশি হয়।
ঢাকার আশেপাশের আরও যেসব রিসোর্ট বা পার্ক গড়ে উঠেছে, সেগুলোর সঙ্গে জিন্দা পার্কের মূল পার্থক্য হলো, এই পার্কটি দর্শনার্থীদের কেবল প্রশান্তি জোগাচ্ছে না, পাশাপাশি হয়ে উঠেছে ওই গ্রামের মানুষের সহায়ও। সমিতির পক্ষ থেকে প্রয়োজন অনুসারে ক্ষুদ্রঋণ দেয়া হয়। শিশুদের জন্য পড়ার ব্যবস্থাও রয়েছে ওখানকার স্কুলটিতে।
আশির দশকে মাত্র ৬০টাকা পুঁজি আর আশেপাশের মানুষের জীবনের ইতিবাচক পরিবর্তনের ছোঁয়া আনার স্বপ্ন নিয়ে পাঁচ কিশোরের হাত ধরে যাত্রা শুরু করে ‘অগ্রপথিক ­পল্লী সমিতি’। সেই পাঁচ কিশোরের সংগঠনের উদ্যোগেই এখন গড়ে উঠেছে ১০০ বিঘার এই ‘শান্তি কানন’।
জিন্দা পার্কের স্বপ্নদ্রষ্টা তবারক হোসেন কুসুম জানান, শান্তিনিকেতনের আদলে এই পার্কের নাম রাখার পরিকল্পনা ছিল : শান্তি কানন। তবে গ্রামের নামানুসারে আশেপাশের লোকের দেয়া নামেই পার্কটি ‘জিন্দা পার্ক’ নামে পরিচিত পেয়েছে।
পার্কটিকে ঘিরে যে জিন্দা গ্রামের দেখা পাওয়া যাবে, তাকে আদর্শ গ্রাম বলা যায়। সামাজিক উদ্যোগে বদলে যাওয়ার উদাহরণ এই গ্রামটি। কুসুম বলেন, ‘ব্যক্তিগত উদ্যোগে আমরা এভাবে এগিয়ে চলেছি। সরকারি উদ্যোগ থাকলে আরও বিস্তৃত হওয়া সম্ভব।’ সারাদেশে একই আদলে এগিয়ে গেলে সব গ্রামই আদর্শ গ্রাম হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
জিন্দা পার্কে রয়েছে ২৫০ প্রজাতির ২৫ হাজারেরও বেশি গাছ। আছে হরেক রকম ফুলের সমারোহ। নানা পাখির বাস এই পার্কে। তবে শীতে আসে অনেক অতিথি পাখি। সব মিলিয়ে পাখিদের অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে পার্কটি।
পার্কটিতে আছে একটি রেস্টুরেন্ট। ‘মহুয়া স্ন্যাকস অ্যান্ড মহুয়া ফুড’ নামের এই রেস্টুরেন্টে দর্শনার্থীরা পাবেন দেশীয় সব খাবার।
পার্কে ঢুকতে চাইলে ১০০ টাকা দিয়ে টিকিট কাটতে হবে। আছে পর্যাপ্ত পার্কিং-ব্যবস্থাও। পার্কের অবস্থান নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে। ব্যক্তিগত গাড়ি না থাকলে পূর্বাচল ৩০০ফিট রাস্তার কুড়িল বিশ্বরোড থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা দিয়ে যাওয়া যাবে। সময় লাগতে পারে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট। এ ছাড়াও রয়েছে বিআরটিসির বাসে যাওয়া-আসার ব্যবস্থা।

ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব

সোহরাব শান্ত

প্রথমবারের মতো যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে বুড়িগঙ্গা নদীতে ক্যাবল কার নির্মাণের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ভারতীয় একটি প্রতিষ্ঠানের এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব দেওয়ার পর বুড়িগঙ্গার সদরঘাট এলাকায় ক্যাবল কার নির্মাণের চিন্তা করছে সরকার। তবে এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ক্যাবল কার নির্মাণে সম্ভাব্যতা যাচাই বা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র বলছে, ক্যাবল কার নির্মাণ হলে বুড়িগঙ্গা নদীর দুই পাশে বসবাসকারী বাসিন্দাদের যোগাযোগ-দুর্ভোগ কমবে, পাশাপাশি কমবে নদীপথে পারাপারে দুর্ঘটনাও। বর্তমানে নৌকায় নদী পারাপারে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়াও পর্যটনে গুরুত্ব বাড়বে বুড়িগঙ্গার।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভারতের কলকাতাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কনভেয়ার ও রোপওয়ে সার্ভিসেস লিমিটেড এরই মধ্যে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে প্রাথমিক প্রস্তাব জমা দিয়েছে। ভারতের একটি প্রতিনিধি দল গত ১৯ মার্চ সদরঘাট-এলাকা পরিদর্শন শেষে ২০ মার্চ নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। ওই বৈঠকে কনভেয়ার ও রোপওয়ে সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখর চক্রবর্তীর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল ‘এরিয়াল রোপওয়ে সিস্টেম’ নামে ক্যাবল কার নির্মাণের বিষয়ে একটি প্রেজেন্টেশন দেন। বৈঠকে নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও সচিব মো. আবদুস সামাদ উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা যানবাহন সমন্বয় বোর্ডের সঙ্গেও বৈঠক করে প্রতিনিধি দলটি। ওই সভায় প্রস্তাব দেওয়া হয়, ক্যাবল কারের সেবা কোনো ধরনের বিপত্তি ছাড়াই তারা সদরঘাট থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারবেন।
এদিকে ৩০ মার্চ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখর চক্রবর্তী নৌ-পরিবহন সচিবের কাছে তাদের প্রস্তাব সংবলিত চিঠি দেন। তবে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ধরনের প্রস্তাব অনানুষ্ঠানিক, বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প-প্রস্তাব অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) মাধ্যমে আসতে হবে।
নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুস সামাদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের ক্যাবল কার নির্মাণের একটা প্রস্তাব পেয়েছি। আমরা এটা পরীক্ষা করে দেখব। কারণ বুড়িগঙ্গার ওপর ক্যাবল কার নির্মাণের বিষয়ে আমাদেরও আগ্রহ রয়েছে। তবে সম্ভাব্যতা যাচাই করে যদি আমরা দেখি এটা করা যুক্তিযুক্ত এবং কারিগরি-বিশেষজ্ঞরা যদি মত দেন, তখনই এ বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’
সূত্র আরও জানায়, সদরঘাটে নানা ধরনের সমস্যা রয়েছে জানিয়ে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানটি প্রস্তাবে বলেছে, সদরঘাট দিয়ে বিপুলসংখ্যক যাত্রী বিশৃঙ্খলভাবে নদী পার হন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লঞ্চে করে যাত্রীরা সদরঘাটে আসেন।
প্রস্তাবে আরও বলা হয়, আমরা মনে করি, যারা নদী পার হন কিংবা সদরঘাট দিয়ে দূর-দূরান্তে যান; সার্বিক এ ব্যবস্থা পৃথক হওয়া উচিত। এ ছাড়া দেখা গেছে, নদী পার হতে গিয়ে ডিঙি নৌকা উল্টে হতাহতের ঘটনাও ঘটে। বুড়িগঙ্গার দুই তীর ক্যাবল কারের মাধ্যমে সংযুক্ত করলে তা প্রতিদিনের যাত্রী পারাপার সহজ করবে এবং নদী ও নদীর তীর পরিস্কার রাখতে সহায়ক হবে। টার্মিনালগুলো দূরপাল্লার লঞ্চ ভেড়া ও ছেড়ে যাওয়ার জন্য নিরাপদ রাখা যাবে।
টুইন রোপওয়ে সিস্টেমের মাধ্যমে সদরঘাটকে সিমসন ঘাট ও লালকুঠি ঘাটের সঙ্গে সংযুক্ত করার প্রস্তাব দিয়ে চিঠিতে আরও বলা হয়, ক্যাবল কারে যাত্রী ওঠানো ও নামানোর জন্য দু’প্রান্তে বহুতল বিশিষ্ট কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে।
জরিপ কার্যক্রমের পর অনুমতি-সাপেক্ষে তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রজেক্ট রিপোর্টের সঙ্গে প্রাক্কলিত প্রকল্প-ব্যয়ের হিসাবও দাখিল করার কথা বলা হয়েছে প্রস্তাবে। প্রতিষ্ঠানটি একটি সার্ভেরও প্রস্তাব দিয়েছে চিঠিতে।
নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) ভোলা নাথ দে বলেন, ‘বিদেশিদের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়ার পদ্ধতি হলো, অর্থনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকলে প্রস্তাব অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) মাধ্যমে আসতে হয়। এ ছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমেও আসতে পারে। প্রস্তাব আসলে প্রথম যে কাজটা হয়, এটার একটা ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি (সম্ভাব্যতা যাচাই) করা হয়। নৌপথ আমাদের, তাই আমরা যদি রোপওয়ে করি, তাহলে সেটা সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় নাকি আমাদের অধীনে হবে-এ বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয় থাকবে।’
নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘সদরঘাটে নৌকায় যাত্রী পারাপারে মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনা ঘটে। নৌকা উল্টে যায়, বড় বড় লঞ্চের সঙ্গে ধাক্কা লেগে হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ সমস্যাগুলো দূর করার জন্যই মূলত ক্যাবল কারের কথা বলা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘তবে ক্যাবল কারের নিরাপত্তার বিষয় আছে। এটা ইংল্যান্ড কিংবা ইউরোপ নয় যে কয়েকজন পর্যটক এটাতে চড়বে। সদরঘাটে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ হাজার গার্মেন্টেসের কর্মী এপার-ওপার যায়। এ ছাড়া এ নদী দিয়ে বড় বড় জাহাজ আসা-যাওয়া করে। বাল্কহেড (বালুবাহী কার্গো) চলে। নৌকা বন্ধ করে রোপওয়ে করলে কতগুলো রোপওয়ে লাগবে। সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্টের যুগে ফলদায়ক হবে না-এমন কিছু তো করা যাবে না। আমি তো ইকোপার্কের জন্য রোপওয়ে করছি না।’
ওই কর্মকর্তার ভাষ্য, ‘মানুষ এখন নৌকায় ১০ টাকায় পার হচ্ছে, রোপওয়েতে কত নেয়া হবে? খরচ বেশি হলে তো মানুষ উঠবে না। পাহাড় থাকা দুর্গম এলাকায় সাধারণত ক্যাবল কার দেখা যায়। সেখানে সদরঘাটের মতো এত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় রোপওয়ের স্থাপনা কীভাবে হবে, সেটাও একটা চ্যালেঞ্জ।’