Home মূল রচনা

মির্জা মাহমুদ আহমেদ

পরিকল্পিত সবুজ আবাসন গড়ার প্রত্যয়ে শুরু হয়েছে রিহ্যাব উইন্টার ফেয়ার ২০১৯। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র (বিআইসিসি) প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত আবাসন খাতের সবচেয়ে বড় এ মেলার আয়োজক রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। ২৪ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের ‘হল অব ফেমে’ পাঁচ দিনব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম। মেলা চলবে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শ. ম. রেজাউল করিম বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। সেই উন্নয়নে অবকাঠামোগত দিক দিয়ে রিহ্যাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সেবা সহজীকরণের নির্দেশনা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘প্ল্যান পাস করাতে আগে ১৬টি স্তর অতিক্রম করতে হতো। এখন সেটা চার স্তরে নামিয়ে আনা হয়েছে। বিদ্যমান চারটি স্তরেও যাতে ভোগান্তি না হয় সেজন্য অটোমেশন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। প্ল্যান পাস ছাড়াও ভূমির ছাড়পত্র ও মিউটেশন আগের থেকে দ্রুত সময়ে ও সহজে করা যাচ্ছে।’
আবাসন ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত রেজিস্ট্রেশন ফি কমানো বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আইন মন্ত্রণালয়ে রেজিস্ট্রেশন ফি কমানো-সংক্রান্ত ভেটিং শেষ হয়েছে। আশা করি আগামী সংসদ এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।’
আবাসন ব্যবসায়ীরা যাতে সরকারি টেন্ডারে অংশ নিতে পারেন সেজন্য অচিরেই ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস’ সংশোধন করা হবে বলেও তিনি জানান।
অসাধু ও প্রতারক আবাসন ব্যবসায়ীরা রিহ্যাবের সুনাম ক্ষুণ করছে উলে­খ করে তিনি এদের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে রিহ্যাবকে আহবান জানান। সকলের জন্য আবাসন নিশ্চিত করতে রিহ্যাব-সদস্যদের গুরুত্বগূর্ণ ভূমিকা পালনের ব্যাপারেও আহবান জানান মন্ত্রী।
সরকারি আবাসন প্রকল্পে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি দেশিয় বিনিয়োগকারীরা যাতে বিনিয়োগ করতে পারে সেই সুযোগ সৃষ্টি করা হবে উলে­খ করে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, ‘তুরাগ নদীর পাড়ে নতুন স্যাটেলাইট সিটি, কেরানীগঞ্জ স্যাটেলাইট সিটি, ঝিলমিল প্রকল্প, পূর্বাচল এবং উত্তরা থার্ড ফ্রেজে বিদেশি বিনিয়োগকারীর পাশাপাশি যাতে দেশিয় ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ করতে পারেন সেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট আলমগীর শামসুল আলামিন (কাজল)। রিহ্যাব সদস্য এবং ক্রেতাদের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করতে এই ফেয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট (প্রথম) লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, ভাইস প্রেসিডেন্ট (২) মো. আনোয়ারুজ্জামান, ভাইস প্রেসিডেন্ট কামাল মাহমুদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফিন্যান্স) ও ফেয়ার স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) প্রকৌশলী মোহাম্মদ সোহেল রানা এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. আব্দুল কৈয়ূম চৌধুরীসহ রিহ্যাব পরিচালকবৃন্দ ও অন্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ক্রেতা-দর্শনার্থীদের জন্য উম্মুক্ত মেলার দ্বার
উদ্বোধনের পর বুধবার বেলা দুইটা থেকে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের জন্য উম্মুক্ত হয় মেলার দ্বার। বাকি দিনগুলোতে সকাল ১০টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত ক্রেতা-দর্শনার্থীরা মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন। আয়োজক প্রতিষ্ঠান রিহ্যাব জানিয়েছে, প্লট-ফ্ল্যাট-বাণিজ্যিক স্পেসসহ গৃহায়ন-সংক্রান্ত পণ্যের বিপুল সমাহার রয়েছে এবারের আয়োজনে। পাশাপাশি নির্মাণ পণ্যসামগ্রীরও প্রদর্শনী থাকছে। আর ক্রেতাদের সুবিধার জন্যই থাকছে অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানের স্টল। আয়োজকদের আশা, মেলার প্রভাবে আবাসন খাতে গতির সঞ্চার হবে।
এবারের ফেয়ারে মোট ২৩০টি স্টল রয়েছে। এ বছর ৩০টি বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস ও ১৪টি অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানকে অংশগ্রহণ করার সুযোগ করে দিয়েছে রিহ্যাব।
মেলায় দুই ধরনের টিকিট রয়েছে-সিঙ্গেল এন্ট্রি ও মাল্টিপল এন্ট্রি। সিঙ্গেল এন্ট্রি টিকিট ৫০ টাকা এবং মাল্টিপল এন্ট্রি টিকিটের প্রবেশ মূল্য ১০০ টাকা। মাল্টিপল এন্ট্রি টিকিট দিয়ে একজন দর্শনার্থী মেলা চলাকালীন পাঁচবার প্রবেশ করতে পারবেন। এন্ট্রি টিকিট বিক্রি থেকে প্রাপ্ত সম্পূর্ণ অর্থ দুঃস্থদের সাহায্যার্থে ব্যয় করা হবে।
মেলার এন্ট্রি টিকিটের র‌্যাফল ড্রতে রয়েছে আকর্ষণীয় মূল্যবান পুরস্কার। মেলার শেষ দিন, ২৮ ডিসেম্বর রাত ৯টায় র‌্যাফল ড্র অনুষ্ঠিত হবে। র‌্যাফল ড্রর ১ম পুরস্কার হিসেবে রয়েছে একটি প্রাইভেট কার, ২য় পুরস্কার একটি মোটরসাইকেল, ৩য় পুরস্কার একটি ফ্রিজ, ৪র্থ পুরস্কার একটি ৪৩ ইঞ্চি এলইডি টেলিভিশন, ৫ম পুরস্কার একটি ওয়াশিং মেশিন, ৬ষ্ঠ পুরস্কার একটি ডিপ ফ্রিজ, ৭ম ও ৮ম পুরস্কার একটি করে মোবাইল ফোন, ৯ম পুরস্কার একটি মাইক্রোওয়েভ ওভেন এবং ১০ম পুরস্কার একটি এয়ার-কুলার। এ ছাড়া থাকবে আরও পাঁচটি পুরস্কার। www.rehabwinterfair2019.com ওয়েবসাইটে পুরস্কার বিজয়ীদের নাম প্রকাশ করা হবে।
উলে­খ্য, ২০০১ সাল থেকে রিহ্যাব ঢাকায় আবাসন মেলা শুরু করে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১২বার মেলা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে রিহ্যাব। ২০০৪ সাল থেকে রিহ্যাব বিদেশে হাউজিং ফেয়ার আয়োজন করে আসছে। এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ১২ বার, যুক্তরাজ্য, দুবাই, ইতালির রোম, কানাডা, সিডনি ও কাতারে একবার করে এবং দুবাইতে দু’বার ‘রিহ্যাব হাউজিং ফেয়ার’ আয়োজন করা হয়। এসব ফেয়ার আয়োজনের মাধ্যমে রিহ্যাব দেশে ও বিদেশে গৃহায়ন-শিল্পের বাজার সৃষ্টি ও প্রসারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখছে। অন্যদিকে প্রবাসী ক্রেতারা যেমন দেশে তাদের পছন্দের আবাসন খুঁজে পেয়েছে, পাশাপাশি এই ফেয়ারের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জিত হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি গৃহায়ন-শিল্প এবং লিংকেজ-শিল্প বিকাশেও অনন্য ভূমিকা পালন করে চলেছে রিহ্যাব।

মোকারম হোসেন

ঢাকার শতবর্ষী বা শতাধিকবর্ষী বৃক্ষ সম্পর্কে অনুসন্ধান করতে গিয়ে ঝামেলায় পড়তে হয়। কোথাও কোনো সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। এমনকী ঢাকার বৃক্ষ নিয়ে এযাবৎ কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য-শুমারিও হয়নি। ফলে ঢাকায় এখন থেকে ৪০০ বছর আগে কোথায় কোন ধরনের বৃক্ষ ছিল, বা পরবর্তী সময়ে কি কি ছিল সে সম্পর্কেও কিছু জানা যায় না। তবে এক্ষেত্রে মাত্র ১০০ বছর আগেকার বিক্ষিপ্ত কিছু সূত্র খুঁজে পাওয়া যায়। যা বলধা গার্ডেন বা লন্ডনের কিউ উদ্যানের কর্মী রবার্ট লুইস প্রাউডলকের রমনা নিসর্গের পত্তনের সমসাময়িক। কারণ ‘রমনাগ্রিন’ ও বলধা গার্ডেন নির্মাণের কাজ শুরু হয় একবছর আগে পরে; মানে ১৯০৮ ও ১৯০৯ সালের দিকে। এখানে প্রাউডলকের একটি সংক্ষিপ্ত পরিচিতি আবশ্যক। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের সময়ে রাজধানী হিসেবে ঢাকাকে উদ্যাননগরীর আদলে গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কর্মকাণ্ডে রবার্ট লুইস প্রাউডলক ছিলেন বৃক্ষশোভিত সরণী ও উদ্যান নির্মাণের দায়িত্বে। তিনি ছিলেন লন্ডনের কিউ বোটানিক গার্ডেনের অন্যতম কর্মী। অখিল বাবু তাঁর সহকর্মী হিসেবে কাজ করেন। পঞ্চাশের দশকের আগেকার রমনা ও এ সংলগ্ন এলাকার বৃক্ষসজ্জার সবটুকুই তখনকার সৃষ্টি। বঙ্গভঙ্গ রদ হওয়ায় ঢাকায় রাজধানী নির্মাণের পরিকল্পনা পরিত্যক্ত হয় এবং সম্ভবত প্রাউডলক পূর্ণাঙ্গ উদ্যান নির্মাণের অবকাশ পাননি। প্রাউডলকই মূলত এই জঞ্জালের নগরীতে আমাদের ফুসফুস সচল রাখার ব্যবস্থা করে গিয়েছিলেন। তাঁর পরিকল্পনার হাত ধরেই আমাদের বৃক্ষশোভা বর্ণিল হয়ে ওঠে। একারণেই রমনার অধিকাংশ সুউচ্চ শতবর্ষী বৃক্ষগুলো প্রাউডলকের পরিকল্পনার অংশ বলে মনে করা হয়।
সম্প্রতি চারশ বছর পেরুলো ঢাকা। মানব বসতি এবং ইতিহাস-সংস্কৃতির দিক থেকে চারশ বছর অনেক দীর্ঘ সময়। কিন্তু এই শহরে চারশ বছর তো দূরের কথা, দুশো বছরের পুরনো বৃক্ষও খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। দীর্ঘ পরাধিনতা, রাজনৈতিক পট-পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দূর্যোগ, অসচেতনতা এবং মাত্রাতিরিক্ত লালসা, অপতৎপরতায় এখানকার অনেক ঐতিহ্যের সঙ্গে প্রাচীন বৃক্ষসম্পদও হারিয়ে গেছে। একারণে আমরা সন্ধান করেছি মাত্র শতবর্ষী বৃক্ষগুলোর। এমন বৃক্ষের সংখ্যা মাত্র হাতেগোনা কয়েকটি। যদিও এসব বৃক্ষ রোপণের সঠিক কোনো সন-তারিখ খুঁজে পাওয়া যায় না, তবুও বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্র, জনশ্রুতি এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকেই এই বৃক্ষগুলোকে শতবর্ষী হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। নির্বাচিত বৃক্ষগুলো হচ্ছে রমনার মহুয়া, রমনার কুসুম, রমনার দেশি গাব, হেয়ার রোডের পাদাউক, বেইলি রোডের ব্ল্যাকবিন, ফুলার রোডের তেঁতুল, বাংলা একাডেমি ও মিরপুর বোটানিক গার্ডেনসহ আরো কয়েকটি স্থানের বট, চামেরি হাউজের ছাতিম, বাংলা একাডেমির বহেড়া, তেজগাঁও বিজ্ঞান কলেজের জংলীবাদাম ইত্যাদি।

এবার ঢাকার এমন কিছু উলে­খযোগ্য শতবর্ষী বৃক্ষ সম্পর্কে জানা যাক।

হেয়ার রোডের পাদাউক
প্রধান বিচারপতির বাসভবন থেকে রমনা পার্কের সীমানা পর্যন্ত ছায়ামাখা পথটির দুপাশে বেশ বড়সড় কাণ্ডের গাছগুলোই পাদাউক। পাদাউক আমাদের দেশি গাছ নয়। ধারণা করা হয়, রমনা নিসর্গের গোড়াপত্তনের সময় উষ্ণমণ্ডলীয় অনেক বৃক্ষের পাশাপাশি প্রাউডলক মায়ানমার থেকে এই গাছগুলোও নিয়ে আসেন। গ্রিষ্মে পুষ্পপ্রেমিকদের অনেকেরই সতর্ক দৃষ্টি থাকে পাদাউকের ওপর। অসর্তকতায় একটি উপভোগ্য দৃশ্য থেকে বঞ্চিত হতে পারে এই ভাবনায় প্রতিদিনই নির্দিষ্ট গাছগুলোতে চোখ রাখে সবাই। গোটা বছর ধরে মাত্র একদিনের জন্য ফোটে ফুল। যাঁরা প্রতিদিন হেয়ার রোডে যাতায়াত করেন তাঁদের অনেকেই হয়তো বিষয়টি জানেন না। আপনি কোনো একটি গাছে নিয়মিত চোখ রাখলে হয়তো দেখা পেতে পারেন দুর্লভ এ ফুলটির। দেখবেন অতি প্রত্যুষে সোনালি-হলুদ ফুলে ভরে আছে। সারাদিন পুষ্প-উৎসব শেষে সন্ধ্যায় কোমল পাপড়িগুলো তাদের শেষ পরিণতির জন্য অপেক্ষা করে। পরেরদিন আর কোনো চিহ্নই থাকে না গাছে। প্রস্ফুনের স্বল্পস্থায়িত্বের এমন বৈশিষ্ট্য বিরল। ঢাকায় বিক্ষিপ্তভাবেও চোখে পড়ে। পাদাউক পত্রমেচি উঁচু বৃক্ষ, কাণ্ড অনুচ্চ, শীর্ষ বিশাল, ছত্রাকৃতি, পত্রঘন শাখান্ত দীর্ঘ ও আনত।

রমনার আদি মহুয়া গাছ
রমনা পার্কের অনেকটা পশ্চিম-উত্তর প্রান্তে পার্কের প্রায় সবগুলো পায়েহাটা পথ যে বৃক্ষের পাশে এসে মিশেছে, সেই বৃক্ষটির নামই মহুয়া। গাছটির চারপাশ বেশ বড় আকারে বাঁধানো। গোড়ায় কতগুলো পাথর ছড়ানো। প্রতিদিন পার্কে বেড়াতে এসে অনেকেই এখানে দু’দণ্ড বিশ্রাম নেন। অনতিদূরেই রমনা লেকের ওপর ছোট্ট একটি কালভার্ট। পার্কে নিয়মিত শরীরচর্চাকারীরা এই স্থানটিকে মহুয়াতলা নামেই চেনেন। জানামতে এটি ঢাকার সবচেয়ে বড় ও পুরনো মহুয়া গাছ। প্রস্ফুটন মৌসুমে অসংখ্য বাদুড় এসে জড়ো হয় এখানে। কারণ মহুয়াফুল বাদুড়ের খুব পছন্দ। বয়সের ভারে গাছটির ডালপালা ও পাতার সংখ্যা কমে এসেছে।

ফুলার রোডের পুরনো তেঁতুল গাছ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে জগন্নাথ হল লাগোয়া পথ ধরে একটু এগোলেই উদয়ন স্কুল। স্কুলের মূল ফটকের সামনে দাঁড়ালে বাঁপাশে বিশালাকৃতির একটি তেঁতুল গাছ চোখে পড়বে। অন্য পথে ভিসির বাসভবন থেকে ব্রিটিশ কাউন্সিল হয়ে আরেকটু সামনে এগোলেও পাওয়া যাবে গাছটি। গাছের কালো রঙের কাণ্ড অসংখ্য গুটি ভরতি। সারা গা বিভিন্ন দাগে ক্ষত বিক্ষত। কাটা পড়েছে অনেক ডালপালা। বেশ উপরের দিকে কয়েকটি ডালপালা এখনো সজীব। কালের স্বাক্ষী এই তেঁতুল গাছটি একজীবনে অনেক কিছু দেখেছে। মোকাবেলা করেছে অনেক বৈরি পরিস্থিতির। তুলনামূলকভাবে আরো কম বয়সী কয়েকটি তেঁতুল গাছ দেখা যায় বাংলাদেশ শিশু একাডেমী এবং রমনা পার্কে।
ফুলার রোডের এই তেঁতুল গাছ সম্পর্কে ঐতিহাসিক কোনও তথ্য খুঁজে পাওয়া না গেলেও ফুলার রোড সম্পর্কে ইতিহাসবেত্তা মুনতাসীর মামুন ঢাকা স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী গ্রন্থে লিখেছেন- ‘…. ১৯০৫ সালে পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ গঠিত হলে এর প্রথম লে. গভর্ণর ছিলেন স্যার ব্যামফিল্ড ফুলার। মুসলমান সম্প্রদায়ের তিনি ছিলেন প্রিয়ভাজন।’ তেঁতুলের বৃদ্ধি মন্থর। সেই অর্থে পুরু কাণ্ডের গাছ হতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন। একারণে এগাছের মূল কাণ্ডের আকৃতি দেখেই ধারণা করা হয় যে গাছটি অতি প্রাচীন। একসময় ঢাকায় রমনা গ্রীনের দক্ষিণ ফটক থেকে ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট পর্যন্ত তেঁতুলের একটি দীর্ঘ বীথি ছিল।

তেজগাঁও বিজ্ঞান কলেজের জংলিবাদাম
তেজগাঁও সরকারি বিজ্ঞান কলেজের গেইট লাগোয়া বিশালাকৃতির গাছটিই জংলিবাদাম। গাছটির উচ্চতা ও ডালপালার বিস্তৃতি দেখেই বয়সটা অনুমান করা যায়। জংলিবাদাম বেশ আকর্ষণীয় গড়নের একটি গাছ। এই গাছের কাণ্ড, ডালপালা, পাতা এবং ফুল ও ফল ভারি সুন্দর। ঢাকায় এই গাছ খুব একটা দেখা যায় না। তবে দেশের উপকূলীয় জেলাগুলোতে মোটামুটি সহজলভ্য।

বেইলি রোডের ব্ল্যাকবিন
প্রায় ৮ বছর আগে গাছটি প্রথম দেখি রমনা পার্কের অদূরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার উত্তর পাশের সীমানায়। তখন গাছের কাণ্ড ও ডালপালায় ফুলের উৎসব দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম। বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি থেকে প্রকাশিত ফ্লোরা অ্যান্ড ফউনা অষ্টম খণ্ডের তথ্যমতে ড. সালার খান ১৯৯৬ সালে প্রকাশিত একটি জার্নালে এই গাছটির কথা উল্লেখ করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার উপ-উষ্ণমণ্ডলের এই গাছ আমাদের দেশে কখন ও কিভাবে এসেছে তা এখন আর জানা যায় না। ব্ল্যাকবিন চিরসবুজ গাছ, সাধারণত ২৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। কাণ্ড সরল, কালো ও ডালপালাগুলো ঝুলন্ত। বিজোড়পত্রী, পত্রিকা সংখ্যা প্রায় ১৬টি, ৫ইঞ্চি লম্বা। শীর্ষ পত্রিকা ছোট। পাতা লম্বায় ৫ সেমি.। ফুলের বৈশিষ্ট্য অশোকের কাছাকাছি। কমলা-লাল রঙের নজরকাড়া ফুলগুলো ডালপালা ও পাতার কক্ষে গুচ্ছবদ্ধভাবে থাকে। প্রস্ফুটনকাল এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত।

রমনার কুসুম
রমনাপার্কের অরুণোদয় গেইট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলেই বীথিবদ্ধ সুউচ্চ কুসুম গাছগুলো চোখে পড়বে। বসন্তে রক্তিম কচিপাতার উচ্ছাসে ভরে ওঠে এই গাছ। তখন সারিবদ্ধ গাছে যে মনোরম শোভা ফুটে ওঠে তার কোনো তুলনা হয় না। বর্ণিল পাতার এসব গাছ দূর থেকে দেখলে মনে হবে, এ যেন পাতা নয় ফুলে ফুলে ভরা কোনো এক পুষ্পবীথি। আসলে রক্তিম কচি পাতাগুলোই এগাছের প্রাণ। কারণ পাতার এমন আলো ঝলমল রূপ থাকতে থাকতে ফুল ফুটলেও ফুলের সৌন্দর্য আমাদের ততটা আকৃষ্ট করে না। এই গাছ কোথাও কোথাও লটকন নামেও পরিচিত। তবে রঞ্জক উদ্ভিদ লটকন বা দইগোটার সঙ্গে এগাছের কোনো সম্পর্ক নেই। কুসুম বিশাল আকৃতির পাতাঝরা বৃক্ষ। এই গাছ সাধারণত ৩০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। গাছের মাথার দিকটা বেশ বড়সড় এবং অসংখ্য ডালপালায় ছায়ানিবিড়।

রমনার দেশি গাব
রূপসী বৃক্ষ হওয়া সত্ত্বেও গাব গাছের সৌন্দর্যের প্রতি আমরা অনেকটাই উদাসীন। ভালো কাঠ হয় না বলে মানুষের কাছে এই গাছের তেমন গুরুত্ব নেই। কিন্তু ঝড়-ঝঞ্ঝা ও ভূমির ক্ষয়রোধে এই গাছ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে। আমাদের ছায়াসুনিবিড় গ্রামগুলোতে এখনো দু’চারটি করে গাব গাছ চোখে পড়ে।
ঢাকায় রমনা পার্কে একটি শতবর্ষী দেশি গাবগাছ দেখা যায়।

0 202

রুখসানা মিলি
গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও ঢাকা প্রায় শীর্ষে! তবে বসবাস অযোগ্যতার তালিকায়। গত বছরের দ্বিতীয় অবস্থান থেকে একধাপ এগিয়ে এবার ঢাকা তৃতীয়। তবে স্কোর আগের মতোই। আন্তর্জাতিক এক সংস্থার সনদে মিশ্র মতামত দিয়েছেন ঢাকার নাগরিকরা।
যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত বাণিজ্যবিষয়ক প্রভাবশালী সাময়িকী দি ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) প্রকাশিত ‘গ্লোবাল লিভিয়াবিলিটি ইনডেক্স-২০১৯’-এ ৫৫ স্কোর নিয়ে ঢাকার অবস্থান ১৩৮তম। ঢাকার চেয়ে বাজে অবস্থানে রয়েছে কেবল যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার দামেস্ক ও নাইজেরিয়ার লাগোস। ২০১৮ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৩৯তম। এবারের সূচকে স্বাস্থ্যসেবা খাতে ২৯.২, ঐতিহ্য ও পরিবেশগত বিষয়ে ৪০.৫, শিক্ষায় ৪১.৭ এবং অবকাঠামো খাতে ২৬.৮ স্কোর করেছে ঢাকা।
ইআইইউয়ের সূচকে যাদের নম্বর ৮০-এর উপরে কেবল সেসব শহরকে বসবাসের উপযুক্ত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। বসবাস অযোগ্যতায় চার ও পাঁচ নম্বরে আছে যথাক্রমে লিবিয়ার ত্রিপোলি এবং পাকিস্তানের করাচি।
রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাওলী বলেন, ‘বাসায় ঠিকমতো গ্যাস থাকে না। এ ছাড়াও যানজট, ঢাকার রাস্তায় গণপরিবহনে যাদের নিত্য যাতায়াত, তারা শহরের বসবাস যোগ্যতার বিষয়টি হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করতে পারবেন।’
তবে কর্মজীবী মাহমুদ হাসানের মতটা আবার ভিন্ন। তিনি বলেন, ‘ঢাকার নানান সমস্যা আছে, তবু বসবাসের যোগ্য নয়- বিষয়টি মেনে নেয়া অসম্ভব।’
স্থপতি ইকবাল হাবিবও ইআইইউয়ের এই প্রতিবেদনকে প্রত্যাখ্যান করেন। এ বিষয়ক এক লেখায় তিনি লিখেছেন, এই জরিপের মধ্যে ত্রুটি রয়েছে।
তার মতে, ঢাকার রায়েরবাজারে যে পরিমাণ জনঘনত্ব রয়েছে সেই পরিমাণ জনগণ যদি আমি মেলবোর্ন শহরে ঢুকিয়ে দেই, তবে মেলবোর্ন শহরের সব ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়বে। ঢাকার প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনঘনত্ব ৪৭ হাজার ৮০০। এই জরিপে জনঘনত্বের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়নি। কিন্তু অন্যান্য মাপকাঠিতে বিবেচনা করা হয়েছে। বিষয়টি আসলেই শুভঙ্করের ফাঁকি।
ইকবাল হাবিবের মতে, যেসব শহরের সঙ্গে ঢাকাকে তুলনা করার মধ্য দিয়ে বোঝা যায়, তারা আসলে প্রাণের শহর, মানবিক শহর, মানুষের শহরের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করতে ব্যর্থ হয়েছে বলেই আমাদেরকে এতটা নিচে নামিয়েছে। যে শহরে একুশের প্রভাতফেরি এবং পয়লা বৈশাখে লাখ লাখ মানুষ নির্বিঘ্নে আনন্দ করতে পারে, সে শহরকে কোনোভাবেই যুদ্ধবিধ্বস্ত শহরের সঙ্গে তুলনা করা যায় না।
ইআইইউয়ের প্রতিবেদনে সবচেয়ে বসবাসযোগ্য শহরের স্বীকৃতি পেয়েছে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা। এর পরই আছে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ও জাপানের ওসাকা শহর।

কারিকা প্রতিবেদক
মহাখালী ওয়্যারলেস থেকে গুলশান-১-এর দিকে একটু যেতেই জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় পরীক্ষাগার। এর দেয়াল ঘেঁষেই হ্যাঙ্গারে ঝুলছে হরেক রকমের কাপড়, যা ঘিরে মানুষের জটলা। ঢাকার রাস্তায় হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে কিংবা কাগজের কার্টনের ওপর কাপড় বিক্রির দৃশ্য হরহামেশাই চোখে পড়ে। কিন্তু এখানে যে কাপড়গুলো ঝুলছে সেগুলো নতুন নয়, পুরোনো।
দেয়ালের গায়ে পুরোনো কাপড় কেন? এমন প্রশ্ন জাগতেই পারে। দেয়ালের লেখাটা পড়ে মিলল উত্তর। লেখা রয়েছে : আপনার অপ্রয়োজন হতে পারে অন্য কারো প্রয়োজন। এর ডান দিকে লেখা : আপনার বা আপনার সন্তানের অপ্রয়োজনীয় কাপড় দিয়ে যান। বাম দিকে লেখা : আপনার বা আপনার সন্তানের প্রয়োজনে নিয়ে যান।
গত শীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের সুবাদে ঢাকার কয়েকটি জায়গায় এমন উদ্যোগ দেখা গিয়েছিল, যা ধীরে ধীরে পুরো ঢাকায় ছড়িয়ে গেছে।
২০১৫ সালে ইরানের উত্তর-পূর্বের শহর মাশাদে প্রথম এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেখানে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র পৌঁছে দিতে অজ্ঞাত কোনো ব্যক্তি এমন উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
সেই উদ্যোগে উদ্বুদ্ধ হয়ে ২০১৫ সালের নভেম্বরে মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরপর লক্ষীপুরের রায়পুর উপজেলার চর আবাবিল এসসি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০১৭ সালে এমন উদ্যোগ নিতে দেখা যায়।
ঢাকায় ‘মানবতার দেয়াল’ প্রথম চালু করে পুরান ঢাকার লালবাগ স্পোর্টিং ক্লাব। ক্লাবের দেয়ালের বাইরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে সারি সারি পুরোনো কাপড়। নিজের প্রয়োজনমতো যেকেউ সেখান থেকে কাপড় নিতে পারবেন এবং নতুন বা পুরোনো কাপড় অন্যের জন্য রেখে যেতে পারেন।
লালবাগের ঢাকেশ্বরী রোড দিয়ে লালবাগ কেল্লার দিকে যেতেই বাম পাশে পড়বে পুরোনো একটি বাড়ি। একতলা। গোলাপি রঙের বাড়িতেই লালবাগ স্পোর্টিং ক্লাবের কার্যালয়। ১৯৬২ সালে যাত্রা করে ক্লাবটি। ভবনের বাইরের দিকে ডান পাশের দেয়ালে সাজিয়ে রাখা হয়েছে কিছু পুরোনো কাপড়। দেয়ালের নাম রাখা হয়েছে : মানবতার দেয়াল। ব্যানারের এক পাশে লেখা : আপনার অপ্রয়োজনীয় জিনিস এখানে রেখে যান এবং অন্য পাশে লেখা : আপনার প্রয়োজনীয় একটি জিনিস এখান থেকে নিয়ে যান।
লালবাগ ও মহাখালী ছাড়াও মানবতার দেয়ালের এই মহতি উদ্যোগ ছড়িয়ে পড়েছে রাজধানীর মিরপুর, ভাষানটেক, উত্তরা, মোহাম্মদপুর, বনশ্রীসহ বিভিন্ন এলাকায়।
মহাখালীর মানবতার দেয়ালের উদ্যোক্তা সাইদুর রহমান বলেন, ‘বাসায় এত রকমের কাপড় জমে, সেগুলো যদি কারও কাজে লাগে, ক্ষতি কী? যে কাপড়গুলো আমরা ব্যবহার করছি না, সেটা বাইরে ঝুলিয়ে দিলে কেউ না কেউ নিয়ে যাবে-এই চিন্তা থেকেই এই উদ্যোগ নিয়েছি।’
এক রিকশাচালক বলেন, ‘একটা প্যান্ট কিনতে গেলে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা লাগে। আমি এমনিতেই পেয়ে গেলাম, এটা আমার জন্য অনেক উপকার হলো।’
প্রতিদিনের সংবাদপত্র কিংবা টিভির পর্দা খুললেই যেখানে পাওয়া যায় হানাহানি আর বিদ্বেষের খবর, সেখানে দৃষ্টান্ত হতে পারে মানবতার দেয়াল। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, আদর্শ রাষ্ট্রব্যবস্থায় অসহায় মানুষকে সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার বিকল্প নেই। এজন্য প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন। মানবতার দেয়ালের মতো মহতি উদ্যোগ হতে পারে সেই আন্দোলনের সূতিকাগার।

মির্জা মাহমুদ আহমেদ
বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল শহরগুলোর মধ্যে ঢাকা অন্যতম এবং বর্তমানে ঢাকার জনসংখ্যা প্রায় দুই কোটি। পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক রাজধানী হওয়ার পর মতিঝিল ছিল ঢাকার প্রধানতম বাণিজ্যিক এলাকা। পাকিস্তান আমলের শুরুতে ঢাকার পরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য ঢাকা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট গঠন করা হয়, যা ‘ডিআইটি’ নামে বহুল পরিচিত। ১৯৫৬ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ২০ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনায় মতিঝিল ও কারওয়ান বাজারকে বাণিজ্যিক এলাকা হিসেবে দেখানো হয়। গুলশান-বনানী, উত্তরাকে তখন বিবেচনা করা হয় আবাসিক এলাকা হিসেবে। স্বাধীনতার পূর্ববতী সময়ে এবং পরবর্তী কয়েক দশক মতিঝিলকে ঘিরে আবর্তিত হতো দেশের সব ব্যবসা-বাণিজ্য। ব্যাংক-বীমাসহ বড় বড় বহুজাতিক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের অফিসগুলো সব মতিঝিলেই ছিল।
দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটলে এবং অর্থনীতি বিকশিত হলে মতিঝিল ছাড়িয়ে বাণিজ্যিক এলাকা বিস্তৃত হয় গুলশানে। এক সময় অভিজাত আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত থাকলেও গুলশান এখন বাংলাদেশের অন্যতম বাণিজ্যিক এলাকা। অনেক বহুজাতিক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা এখন গুলশানে। নামি-দামি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের অফিসসহ এখানে গড়ে উঠেছে খ্যাতনামা অনেক করপোরেট অফিস।
পুরনো স্থাপত্যশৈলীর বদলে এসব করপোরেট অফিসের নির্মাণশৈলীতে ব্যবহৃত হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি। শুধু কংক্রিট-স্ট্রাকচারের বদলে এখন মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে গ্লাস, কংক্রিট ও স্টিলের সংমিশ্রণে আধুনিক প্রযুক্তিতে নির্মিত অত্যাধুনিক সব বাণিজ্যিক ভবন। গুলশান অ্যাভিনিউয়ে রাস্তার দু’পাশে দেখা মিলবে সারি সারি ঝা-চকচকে আধুনিক সব বাণিজ্যিক বহুতল ভবন। যার বেশিরভাগই নির্মিত হয়েছে কংক্রিট, গ্লাস ও স্টিলের সমন্বয়ে। বাংলাদেশের বাণিজ্যিক স্থাপনার স্থাপত্যশৈলীতে যে নতুন ধারার সূচনা হয়েছে, আধুনিক বাণিজ্যিক ভবনগুলো দেখলে সেটা সহজেই অনুমান করা যায়। একসময়ের পাট ও চা রফতানিনির্ভর অর্থনীতি মোকাম বা গদিঘর ছেড়ে এখন ঝা-চকচকে আলিশান সুসজ্জিত করপোরেট ভবনে ঠাঁই করে নিয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির বিকাশমান এই দিকটি লক্ষ্য করলেই উত্থান-পর্বটা সহজেই টের পাওয়া যায়।
১৮৫০ সালে নির্মাণশিল্পে প্রথমবারের মতো বৃহৎ আকারে গ্লাসের ব্যবহার শুরু হয়। ইংল্যান্ডের হাইড পার্কে ক্রিস্টাল প্রাসাদ নির্মাণে প্রথমবারের মতো ব্যাপকভাবে গ্লাস ফ্রেম ও স্টিলের অবকাঠামো ব্যবহার করা হয়। প্রাসাদটি নির্মাণে সে-সময় তিন লাখ কাচের টুকরো ব্যবহৃত হয়েছিল। কাচের বড় বড় প্যানেলের সঙ্গে লোহার ফ্রেমগুলো সেট করে সেগুলো থেকে প্রাসাদটির দেয়াল এবং সিলিং তৈরি করা হয়েছিল। কাচের প্যানেল ও স্টিলের ফ্রেম দিয়ে নির্মিত প্রাচীন ক্রিস্টাল প্রাসাদের সঙ্গে হাল-আমলের গ্লাস স্ট্রাকচার ও স্টিল স্ট্রাকচারের মিল রয়েছে।
যদিও স্টিল আবিষ্কারের শতাব্দী পূর্ণ হতে চলল, তবুও নির্মাণশিল্পে স্টিলের ব্যবহার খুব বেশি পুরনো নয়, বিশেষত বহুতল ভবনে স্টিল স্ট্রাকচারের ব্যবহার। ১,৮০০ দশকের শেষদিকে বহুতল ভবন নির্মাণে প্রথম স্টিল স্ট্রাকচারের ব্যবহার শুরু হয়। বিশ শতকের শুরুর দিকে স্টিল স্ট্রাকচার নির্মিত বহুতল ভবন ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।
তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বহুতল ভবনে গ্লাস স্ট্রাকচারের ব্যবহার বেশ পুরনো হলেও একদম নিরুপায় না হলে স্টিল স্ট্রাকচার ব্যবহারের পক্ষপাতি নন স্থপতি মুস্তাফা খালিদ পলাশ। তিনি কারিকাকে বলেন, ‘স্টিল বিল্ডিং সেসব জায়গায় ব্যবহার করা উচিত, যেখানে মাটির বহনক্ষমতা কম। ঢাকার সয়েল খুব ভালো। আর ঢাকায় পনের-বিশতলা ভবনকেই আমরা বহুতল ভবন মনে করে থাকি। সেক্ষেত্রে স্টিল বিল্ডিং করার কোনো অবকাশ নেই, দরকারও নেই। ভবন নির্মাণে স্টিল স্ট্রাকচারের যেমন সুবিধা আছে, তেমনি অসুবিধাও কম নয়। কংক্রিটের তুলনায় স্টিল খুব ব্যয়বহুল। আমরা যে অবস্থানে এখন আছি, তাতে এখনো আমরা স্টিল ব্যবহারে বাধ্য নই। স্টিল স্ট্রাকচারের বিল্ডিংয়ে অগ্নিপ্রতিরোধক একটা প্রলেপ (ফায়ার কোটিং) দিতে হয়। ফায়ার কোটিং দেয়াটা খুব ব্যয়বহুল।’
ওয়ান এলিভেনে টুইন টাওয়ারে বিমান হামলার ঘটনা স্মরণ করে মুস্তাফা খালিদ পলাশ বলেন, ‘আমরা দেখেছি টুইন টাওয়ারের স্টিল স্ট্রাকচারের বিল্ডিংয়ে আগুন লেগে খুব সহজে সেটা ধসে পড়েছিল। তাপমাত্রায় স্টিল প্রসারিত হয়ে বিম ঝুলে পড়ে নাট-বল্টু খুলে সব একসঙ্গে কলাপস করার ঝুঁকি থাকে।’
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সুউচ্চ ভবন নির্মাণে স্টিলের বদলে কংক্রিট বেশি উপযোগী বলে মনে করেন তিনি। কংক্রিটের আরসিসিতে স্টিল ব্যবহার করা হচ্ছে উল্লেখ করে মুস্তাফা খালিদ পলাশ বলেন, ‘কংক্রিটের সুবিধা হচ্ছে, এটি একটি কম্প্রিহেনসিভ ম্যাটেরিয়াল। সেই কম্প্রিহেনসিভটা কংক্রিট নিতে পারে। আবার স্টিল ভেতরে যেটা থাকে, সেটা টেনশাইল ম্যাটেরিয়াল। স্টিল টেনশাইল বহন করে। স্টিল ও কংক্রিট যুগপৎভাবে একটা স্ট্রাকচারকে ধারণ করে।’
আমাদের জলবায়ু, আর্দ্র আবহাওয়া, অগ্নিপ্রতিরোধমূলক জ্ঞানের অভাব এবং সচেতনতার ঘাটতি বহুতল ভবনে স্টিল স্ট্রাকচারের ব্যবহার বিপজ্জনক হতে পারে। বনানীর এফআর টাওয়ারে অগ্নিকান্ডের ঘটনা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘এফআর টাওয়ারের অগ্নিদুর্ঘটনা যদি কোনো স্টিল বিল্ডিংয়ে ঘটত, তাহলে হয়তো পুরো দালানটিই ধসে পড়ত।’
রাজধানীর গুলশানে গড়ে উঠছে হাল আমলের অন্যতম করপোরেট ডেস্টিনেশন বিটিআই ল্যান্ডমার্ক। মুস্তাফা খালিদ পলাশের স্থাপত্য-নকশা করা বিটিআই ল্যান্ডমার্ক বাণিজ্যিক ভবন সম্পর্কে তিনি কারিকাকে বলেন, ‘বিটিআই ল্যান্ডমার্কে সহজ লাগসই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ভবনটিতে কংক্রিটের পাশাপাশি যেসব কাচ ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলো লোই কাচ। লোই কাচ তাপ প্রতিরোধ করে। স্যান্ডউইচ গ্লাস হওয়ার ফলে বাইরের তাপ ভেতরে ঢুকছে না, ভেতরের তাপ বাইরে বের হচ্ছে না। এতে করে বিদ্যুৎ খরচ কম হয়। এয়ার কন্ডিশনিং লোডটা কম পড়ে।
কৃষিনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন তৈরি পোশাক, চামড়া, সফটওয়্যার, কনজিউমার গুডস, টেলিযোগাযোগ, ফার্মাসিউটিক্যাল ও গ্যাসের মতো বিকাশমান সেক্টরগুলোতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। সেই সঙ্গে করপোরেট ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অফিসগুলোর স্থাপত্যনকশাতেও এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া, যা বাংলাদেশের বাণিজ্যিক স্থাপনায় নতুন ধারা যোগ করেছে।

 

লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান
পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স), ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর

চকবাজারের চুড়িহাট্টার রাসায়নিক গুদামে আগুন লাগার পর বনানীর এফআর টাওয়ারের অগ্নিদুর্ঘটনা। একের পর এক ধারাবাহিক অগ্নিদুর্ঘটনা ফায়ার সার্ভিসসহ পুরো দেশবাসীকে কতটা আশঙ্কায় ফেলেছিল, সচেতন মানুষমাত্রই জানেন। ধারাবাহিক অগ্নিদুর্ঘটনার পুরো ধকল সামলিয়েছে ‘দ্য লাইফ সেভিংস ফোর্স’ খ্যাত বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁচিয়েছে বহু প্রাণ ও মূল্যবান সম্পদ। অগ্নিনির্বাপণে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জসহ অগ্নিদুর্ঘটনা ও সচেতনতার নানা বিষয় নিয়ে কারিকার সঙ্গে কথা বলেছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের নবনিযুক্ত পরিচালক (অপারেশন্স অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান।

ঢাকার মতো জনবহুল শহরে অগ্নিনির্বাপণের চ্যালেঞ্জগুলো কী?
আমরা জানি, ঢাকা শহরের বেশিরভাগ স্থাপনা অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে। একটি ভবনের সঙ্গে গা লাগিয়ে আরেকটি ভবন। এসব ক্ষেত্রে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। চকবাজারের ঘটনায় আমরা দেখেছি, পুরান ঢাকার আবাসিক ভবনগুলোতে কীভাবে অবৈধভাবে রাসায়নিক মজুদ করা হয়েছে। সেখানে আগুন লাগলে নেভানো কষ্টসাধ্য। পুরান ঢাকায় একই সঙ্গে পানির অপ্রতুলতাও রয়েছে। সেখানকার সড়ক ও গলিপথগুলোও প্রশস্ত নয়। অপ্রশস্ত সড়ক ও গলিপথের কোনো স্থাপনায় আগুন লাগলে সেখানে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো যেতে পারে না। আর যানজটের সমস্যা তো আছেই। যানজটের কারণে অনেক সময় আমাদের দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছতে দেরি হয়। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে অগ্নিনির্বাপণে প্রতিনিয়ত আমাদের কাজ করে যেতে হয়।

এই চ্যালেঞ্জ উত্তরণে আপনারা কী ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছেন?
হঠাৎ লাগা আগুনের বিরুদ্ধে যাতে ন্যূনতম ২০ মিনিট প্রতিরোধ গড়ে তোলা যায়, সেজন্য বহুতল আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনসহ যেকোনো স্থাপনায় নিজস্ব ফায়ার ফাইটিং সিস্টেম গড়ে তোলার ওপর আমরা এখন জোর দিচ্ছি। এ ছাড়াও ইউএনডিপির সহায়তায় ফায়ার সার্ভিসে আধুনিক প্রযুক্তির অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম যুক্ত হচ্ছে। অন্যদিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে যাতে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারি, সেজন্য বর্তমানে আধুনিক রেডিও সেট, অত্যাধুনিক ভিএইচএফ প্রযুক্তির রেডিও ব্যবহার করা হচ্ছে। মোবাইল ফোন প্রযুক্তিও তথ্য আদান-প্রদানে আমাদের অনেক সহায়তা করছে। যানজটের কারণে যাতে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছতে দেরি না হয়, সেজন্য নির্ধারিত ফায়ার স্টেশন ছাড়াও মহাখালী-বাংলামোটরসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আমাদের ফায়ার ফাইটিং ইউনিট সবসময় প্রস্তুত আছে।

সেক্ষেত্রে বহুতল আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনে নিজস্ব ফায়ার ফাইটিং সিস্টেম গড়ে তুলতে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি বলে আপনি মনে করেন?
ছয়তলার বেশি কোনো ভবন নির্মাণ করলে ফায়ার সার্ভিস থেকে অনুমতি নিতে হয়। অনুমতি নেয়া বাধ্যতামূলক। এছাড়া বহুতল আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনে নিজস্ব ফায়ার ফাইটার, ভালো মানের ফায়ার ডোরসহ ফায়ার এক্সিট রুট, ফায়ারপ্রুফ সিলিং, আলাদা পাওয়ার সাপ্লাই সিস্টেমসহ ইমার্জেন্সি লিফট, ফায়ার এক্সটিংগুইশার, ফায়ার অ্যালার্ম, হোস পাইপ, ফায়ার হাইডেন্ট সিস্টেম ইত্যাদি থাকতে হবে।

রেগুলেটরি বডি হিসেবে ফায়ার সার্ভিসকে বিচারিক ক্ষমতা দেয়ার কথা শোনা যাচ্ছিল অনেকদিন থেকে। বিষয়টির অগ্রগতি কেমন হলো?
আগামী মাস থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে ফায়ার সার্ভিসের মোবাইল কোর্ট পরিচালনার বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার পথে। এর ফলে অগ্নিনির্বাপণ আইন লঙ্ঘনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দায়ীদের শাস্তি দিতে পারবে ফায়ার সার্ভিস। সেই সঙ্গে স্থাপনা পরিদর্শন করে নোটিস দেয়ার নিয়মিত কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে।

বনানীর এফআর টাওয়ারে অগ্নিকান্ডের পর অগ্নিনির্বাপণ সামগ্রী কেনার হিড়িক পড়ে গিয়েছিল। তখন অনেকেই নিম্নমানের সামগ্রী কিনে প্রতারিত হয়েছেন। অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামের মান দেখভালের জন্য ফায়ার সার্ভিসের কোনো তদারকি কি আছে?
না, বর্তমানে এ নিয়ে কোনো কার্যক্রম নেই। তবে আপনি যেহেতু বিষয়টি উত্থাপন করলেন, এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া যায় কিনা, আমি মহাপরিচালক মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলব। অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম কেনার সময় ক্রেতা যদি একটু সচেতন থাকেন, একটু দাম বেশি হলেও ভালো ব্র্যান্ডের সরঞ্জাম কেনেন, তাহলে আর নিম্নমানের পণ্য কেনার ঝুঁকি থাকে না।
আমি মনে করি গণমাধ্যম, ফায়ার সার্ভিস অধিদফতর- সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হবে। তখন আমরা অগ্নিজনিত দুর্ঘটনা অনেকাংশেই কমিয়ে আনতে পারব বলে আশা রাখি।

আপনাকে ধন্যবাদ।
আপনাকেও ধন্যবাদ।

একহারা গড়নের ছোটখাটো পেন্নি ড্রু বাইর্ডকে দেখতে সাধারণ মানুষ মনে হলেও কাজের ক্ষেত্রে তিনি হচ্ছেন ‘পাওয়ার হাউজ’। নিউইয়র্কে জন্ম নেয়া এই স্থপতির ইন্টেরিয়র ডিজাইনে বিষয়বস্তুর প্রতি ফোকাস, নিপুণতা ও সংকল্পবদ্ধতা লক্ষ্য করা যায়। পেন্নি ড্রু বাইর্ডকে ‘রুচিশীল ইন্টেরিয়র ডিজাইনের প্রবর্তক’ বলা হয়। তার স্থাপত্যকর্মে নকশার প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়।
ইন্টেরিয়র ডিজাইন ফার্ম পরিচালনার পাশাপাশি সংসারও সামলাচ্ছেন পেন্নি। অন্যসব স্থপতির মতো তিনি কখনো তীব্রভাবে প্যারিসে থাকার আকুলতা অনুভব করেননি। কিন্তু কয়েক বছর আগে হঠাৎ করে তিনি স্বামী ও তিন সন্তানসহ এক বছরের জন্য প্যারিসে বসবাস শুরু করেন। সেই সঙ্গে প্যারিসে থাকার তার সুপ্ত বাসনাও পূরণ হয়।
প্যারিসের দক্ষিণমুখী একটি বাড়িতে বেশ কয়েকটি গ্রীষ্ম কাটানোর পর পেন্নি খুব করে চাইছিলেন তার সন্তানরা দ্বিভাষিক হয়ে উঠুক। সেই সঙ্গে তিনি আরও চাইছিলেন তারা ইউরোপিয়ান সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত হোক। পেন্নি বাইর্ডের স্বামীরও একই চাওয়া ছিল।
পেন্নি বলেন, ‘প্যারিসে আমি অবকাশযাপন করতে আসিনি। প্যারিস ও লন্ডনে আমার অনেক কাজ আছে।’
তিনি জানতেন তার দক্ষ ও বিশ্বস্ত টিম নিউইয়র্কের সব কাজ সামাল দিতে পারবে। তাই তিনি নিউইয়র্কে টিম মেম্বারদের সঙ্গে মাসে একবার মিটিং করতেন এবং প্যারিস থেকে ইন্টেরিয়র ফার্ম পরিচালনা করতেন।
নিজের দৃঢ়চেতা মনোভাব আর স্বামীর সমর্থন থাকায় তিনি প্যারিসে একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানির কয়েকটি অ্যাপার্টমেন্ট রিনোভেশন করার দায়িত্ব পান।
নিজেকে ভাগ্যবান দাবি করে পেন্নি বলেন, ‘একদিন আমি তিন-চারটি নিখুঁত অ্যাপার্টমেন্ট দেখছিলাম। সেখান থেকেই রিনোভেশন করার জন্য তিনটি ব্লক বেছে নিলাম।’
পেন্নি ড্রু বাইর্ড যেসব অ্যাপার্টমেন্ট রিনোভেশন করার দায়িত্ব পেয়েছিলেন সেসব অ্যাপার্টমেন্ট ছিল প্যারিসের অভিজাত মানুষের আবাসস্থল। ১৯ শতকের শেষভাগে নির্মিত অ্যাপার্টমেন্টগুলো থেকে শহরের সৌন্দর্য পুরোপুরি উপভোগ করা যায়।
চার হাজার স্কয়ার ফিটের বিশাল অ্যাপার্টমেন্টে বিশাল আকারের ড্রইং রুম ছাড়াও একটি লিভিং রুম, একটি ডাইনিং রুম, একটি লাইব্রেরি রুম, একটি কিচেন ও পাঁচটি বেড রুম ছিল। এগুলোর সবকিছুই ভালো অবস্থায় ছিল, যা রিনোভেশন করার কোনো প্রয়োজন ছিল না। তাই বাইর্ড শুধু পুরনো রান্নাঘর এবং বাথরুমের বদলে নতুন রান্নাঘর ও বাথরুম তৈরি করলেন। তুলে দিলেন লিভিং রুম আর লাইব্রেরির মাঝখানের দরজাটা।
প্যারিসের অধিবাসীরা যেহেতু ঐতিহ্যগতভাবেই সংস্কৃতি-সচেতন, তাই অ্যাপার্টমেন্টগুলো রিনোভেশন করার সময় পেন্নিকে অনেক সতর্ক থাকতে হয়েছে।
পেন্নি বলেন, ‘আমি বাড়ি থেকে অনেক দূরে বসবাসকারী ফেঞ্চ-পরিবারের জন্য একটি দুর্দান্ত ফেঞ্চ-সংস্কৃতির সংস্করণ তৈরি করতে চেয়েছিলাম। ফ্রান্স যেভাবে ডেকোরেশন করা হয়েছে, আমিও অ্যাপার্টমেন্টটি সেভাবে ডেকোরেশন করেছি।’
পেন্নি মনে করেন অ্যাপার্টমেন্টের ইন্টেরিয়র ডেকোরেশনের ক্ষেত্রে পছন্দসই ডেকোরেশন আইটেমের ব্যবহার-ই মূল কথা নয়। পছন্দ করা ডেকোরেশন আইটেমটি অ্যাপার্টমেন্টের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করল কিনা, সেটাই বিবেচ্য বিষয়।
পেন্নি ড্রু বাইর্ড ইন্টেরিয়র ডিজাইন করার ক্ষেত্রে সস্তা কিন্তু এক্সক্লুসিভ ডেকোরেশন আইটেম ব্যবহার করে থাকেন। তিনি ফ্রান্সের বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে এসব এক্সক্লুসিভ ডেকোরেশন আইটেম খুঁজে বের করেন। তিনি বলেন, ‘ফ্রান্সের মার্কেট ঘুরে আমি একবার একটি প্রাচীন লম্বা কেসঘড়ি খুঁজে পেলাম। সম্ভবত ওই কেসঘড়িটি ছিল আমার সেরা অনুসন্ধান।’
প্যারিসে পেন্নি ড্রু বাইর্ডের দিনগুলো ভালোই কাটছিল। কাজের পাশাপাশি তিনি ওই সময়টাতে প্যারিসের সমৃদ্ধিশালী সংস্কৃতির অনুরক্ত হয়ে উঠেছিলেন।

কারিকা ডেস্ক

0 641

কারিকা ডেক্স


শিল্পকলা একাডেমিঃ

এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে সন্ধ্যা ৭.০০ টায় মঞ্চায়িত হবে শত নারী এক পুরুষ।

স্টার সিনেপ্লেক্সঃ    
বসুন্ধরা সিনেপ্লেক্সে ২ডি চলচ্চত্রের মধ্যে চলবে হ্যালুয়িন, দেবী, জনি ইংলিশ স্ট্রাইক এগেইন, ফিফত ওয়ে্ডিং এবং দ্যা নান।

থ্রিডি চলচ্চিত্রের মধ্যে চলবে ভেনম।

ব্লকবাস্টারঃ

যমুনা ব্লকবাস্টারে ২ডি চলচ্চত্রের মধ্যে চলবে জনি ইংলিশ-৩, হ্যালুয়িন, অ্যা সিম্পল ফেভর, দ্যা নান এবং দেবী।

থ্রিডি চলচ্চিত্রের মধ্যে চলবে মিশনঃ ইম্পসিবল- ফলআউট এবং ভেনম।

0 518

কারিকা ডেক্স


শিল্পকলা একাডেমিঃ

স্টুডিও থিয়েটার হলে সন্ধ্যা ৭.০০টায় মঞ্চায়িত হবে নননপুরের মেলায় একজন কমলাসুন্দরী ও একটি বাঘ আসে।

স্টার সিনেপ্লেক্সঃ  
বসুন্ধরা সিনেপ্লেক্সে ২ডি চলচ্চত্রের মধ্যে চলবে জিও পাগলা, গহীন বালুচর, ডার্কেস্ট আওয়ার এবং হালদা।

থ্রিডি চলচ্চিত্রের মধ্যে চলবে জুম্যানজিঃ ওয়েলকাম টু দ্যা জংগল , মেজ রানারঃ দ্যা ডেথ কিওর এবং জাস্টিক লিগ।

ব্লকবাস্টারঃ
যমুনা ফিউচার পার্কের ব্লকবাস্টারে ২ডি চলচ্চিত্রের মধ্যে ঢাকা অ্যাটাক, ডাউনসিজিং, ওন্ডার, ড্যাডিস হোম টু, ডার্কেস্ট আওয়ার, হালদা, গহীন বালুচর এবং জিও পাগলা।

থ্রিডি চলচ্চিত্রের মধ্যে চলবে জুম্যানজিঃ ওয়েলকাম টু দ্যা জংগল।