Home মূল রচনা

কারিকা প্রতিবেদক
মহাখালী ওয়্যারলেস থেকে গুলশান-১-এর দিকে একটু যেতেই জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় পরীক্ষাগার। এর দেয়াল ঘেঁষেই হ্যাঙ্গারে ঝুলছে হরেক রকমের কাপড়, যা ঘিরে মানুষের জটলা। ঢাকার রাস্তায় হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে কিংবা কাগজের কার্টনের ওপর কাপড় বিক্রির দৃশ্য হরহামেশাই চোখে পড়ে। কিন্তু এখানে যে কাপড়গুলো ঝুলছে সেগুলো নতুন নয়, পুরোনো।
দেয়ালের গায়ে পুরোনো কাপড় কেন? এমন প্রশ্ন জাগতেই পারে। দেয়ালের লেখাটা পড়ে মিলল উত্তর। লেখা রয়েছে : আপনার অপ্রয়োজন হতে পারে অন্য কারো প্রয়োজন। এর ডান দিকে লেখা : আপনার বা আপনার সন্তানের অপ্রয়োজনীয় কাপড় দিয়ে যান। বাম দিকে লেখা : আপনার বা আপনার সন্তানের প্রয়োজনে নিয়ে যান।
গত শীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের সুবাদে ঢাকার কয়েকটি জায়গায় এমন উদ্যোগ দেখা গিয়েছিল, যা ধীরে ধীরে পুরো ঢাকায় ছড়িয়ে গেছে।
২০১৫ সালে ইরানের উত্তর-পূর্বের শহর মাশাদে প্রথম এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেখানে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র পৌঁছে দিতে অজ্ঞাত কোনো ব্যক্তি এমন উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
সেই উদ্যোগে উদ্বুদ্ধ হয়ে ২০১৫ সালের নভেম্বরে মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরপর লক্ষীপুরের রায়পুর উপজেলার চর আবাবিল এসসি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০১৭ সালে এমন উদ্যোগ নিতে দেখা যায়।
ঢাকায় ‘মানবতার দেয়াল’ প্রথম চালু করে পুরান ঢাকার লালবাগ স্পোর্টিং ক্লাব। ক্লাবের দেয়ালের বাইরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে সারি সারি পুরোনো কাপড়। নিজের প্রয়োজনমতো যেকেউ সেখান থেকে কাপড় নিতে পারবেন এবং নতুন বা পুরোনো কাপড় অন্যের জন্য রেখে যেতে পারেন।
লালবাগের ঢাকেশ্বরী রোড দিয়ে লালবাগ কেল্লার দিকে যেতেই বাম পাশে পড়বে পুরোনো একটি বাড়ি। একতলা। গোলাপি রঙের বাড়িতেই লালবাগ স্পোর্টিং ক্লাবের কার্যালয়। ১৯৬২ সালে যাত্রা করে ক্লাবটি। ভবনের বাইরের দিকে ডান পাশের দেয়ালে সাজিয়ে রাখা হয়েছে কিছু পুরোনো কাপড়। দেয়ালের নাম রাখা হয়েছে : মানবতার দেয়াল। ব্যানারের এক পাশে লেখা : আপনার অপ্রয়োজনীয় জিনিস এখানে রেখে যান এবং অন্য পাশে লেখা : আপনার প্রয়োজনীয় একটি জিনিস এখান থেকে নিয়ে যান।
লালবাগ ও মহাখালী ছাড়াও মানবতার দেয়ালের এই মহতি উদ্যোগ ছড়িয়ে পড়েছে রাজধানীর মিরপুর, ভাষানটেক, উত্তরা, মোহাম্মদপুর, বনশ্রীসহ বিভিন্ন এলাকায়।
মহাখালীর মানবতার দেয়ালের উদ্যোক্তা সাইদুর রহমান বলেন, ‘বাসায় এত রকমের কাপড় জমে, সেগুলো যদি কারও কাজে লাগে, ক্ষতি কী? যে কাপড়গুলো আমরা ব্যবহার করছি না, সেটা বাইরে ঝুলিয়ে দিলে কেউ না কেউ নিয়ে যাবে-এই চিন্তা থেকেই এই উদ্যোগ নিয়েছি।’
এক রিকশাচালক বলেন, ‘একটা প্যান্ট কিনতে গেলে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা লাগে। আমি এমনিতেই পেয়ে গেলাম, এটা আমার জন্য অনেক উপকার হলো।’
প্রতিদিনের সংবাদপত্র কিংবা টিভির পর্দা খুললেই যেখানে পাওয়া যায় হানাহানি আর বিদ্বেষের খবর, সেখানে দৃষ্টান্ত হতে পারে মানবতার দেয়াল। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, আদর্শ রাষ্ট্রব্যবস্থায় অসহায় মানুষকে সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার বিকল্প নেই। এজন্য প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন। মানবতার দেয়ালের মতো মহতি উদ্যোগ হতে পারে সেই আন্দোলনের সূতিকাগার।

মির্জা মাহমুদ আহমেদ
বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল শহরগুলোর মধ্যে ঢাকা অন্যতম এবং বর্তমানে ঢাকার জনসংখ্যা প্রায় দুই কোটি। পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক রাজধানী হওয়ার পর মতিঝিল ছিল ঢাকার প্রধানতম বাণিজ্যিক এলাকা। পাকিস্তান আমলের শুরুতে ঢাকার পরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য ঢাকা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট গঠন করা হয়, যা ‘ডিআইটি’ নামে বহুল পরিচিত। ১৯৫৬ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ২০ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনায় মতিঝিল ও কারওয়ান বাজারকে বাণিজ্যিক এলাকা হিসেবে দেখানো হয়। গুলশান-বনানী, উত্তরাকে তখন বিবেচনা করা হয় আবাসিক এলাকা হিসেবে। স্বাধীনতার পূর্ববতী সময়ে এবং পরবর্তী কয়েক দশক মতিঝিলকে ঘিরে আবর্তিত হতো দেশের সব ব্যবসা-বাণিজ্য। ব্যাংক-বীমাসহ বড় বড় বহুজাতিক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের অফিসগুলো সব মতিঝিলেই ছিল।
দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটলে এবং অর্থনীতি বিকশিত হলে মতিঝিল ছাড়িয়ে বাণিজ্যিক এলাকা বিস্তৃত হয় গুলশানে। এক সময় অভিজাত আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত থাকলেও গুলশান এখন বাংলাদেশের অন্যতম বাণিজ্যিক এলাকা। অনেক বহুজাতিক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা এখন গুলশানে। নামি-দামি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের অফিসসহ এখানে গড়ে উঠেছে খ্যাতনামা অনেক করপোরেট অফিস।
পুরনো স্থাপত্যশৈলীর বদলে এসব করপোরেট অফিসের নির্মাণশৈলীতে ব্যবহৃত হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি। শুধু কংক্রিট-স্ট্রাকচারের বদলে এখন মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে গ্লাস, কংক্রিট ও স্টিলের সংমিশ্রণে আধুনিক প্রযুক্তিতে নির্মিত অত্যাধুনিক সব বাণিজ্যিক ভবন। গুলশান অ্যাভিনিউয়ে রাস্তার দু’পাশে দেখা মিলবে সারি সারি ঝা-চকচকে আধুনিক সব বাণিজ্যিক বহুতল ভবন। যার বেশিরভাগই নির্মিত হয়েছে কংক্রিট, গ্লাস ও স্টিলের সমন্বয়ে। বাংলাদেশের বাণিজ্যিক স্থাপনার স্থাপত্যশৈলীতে যে নতুন ধারার সূচনা হয়েছে, আধুনিক বাণিজ্যিক ভবনগুলো দেখলে সেটা সহজেই অনুমান করা যায়। একসময়ের পাট ও চা রফতানিনির্ভর অর্থনীতি মোকাম বা গদিঘর ছেড়ে এখন ঝা-চকচকে আলিশান সুসজ্জিত করপোরেট ভবনে ঠাঁই করে নিয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির বিকাশমান এই দিকটি লক্ষ্য করলেই উত্থান-পর্বটা সহজেই টের পাওয়া যায়।
১৮৫০ সালে নির্মাণশিল্পে প্রথমবারের মতো বৃহৎ আকারে গ্লাসের ব্যবহার শুরু হয়। ইংল্যান্ডের হাইড পার্কে ক্রিস্টাল প্রাসাদ নির্মাণে প্রথমবারের মতো ব্যাপকভাবে গ্লাস ফ্রেম ও স্টিলের অবকাঠামো ব্যবহার করা হয়। প্রাসাদটি নির্মাণে সে-সময় তিন লাখ কাচের টুকরো ব্যবহৃত হয়েছিল। কাচের বড় বড় প্যানেলের সঙ্গে লোহার ফ্রেমগুলো সেট করে সেগুলো থেকে প্রাসাদটির দেয়াল এবং সিলিং তৈরি করা হয়েছিল। কাচের প্যানেল ও স্টিলের ফ্রেম দিয়ে নির্মিত প্রাচীন ক্রিস্টাল প্রাসাদের সঙ্গে হাল-আমলের গ্লাস স্ট্রাকচার ও স্টিল স্ট্রাকচারের মিল রয়েছে।
যদিও স্টিল আবিষ্কারের শতাব্দী পূর্ণ হতে চলল, তবুও নির্মাণশিল্পে স্টিলের ব্যবহার খুব বেশি পুরনো নয়, বিশেষত বহুতল ভবনে স্টিল স্ট্রাকচারের ব্যবহার। ১,৮০০ দশকের শেষদিকে বহুতল ভবন নির্মাণে প্রথম স্টিল স্ট্রাকচারের ব্যবহার শুরু হয়। বিশ শতকের শুরুর দিকে স্টিল স্ট্রাকচার নির্মিত বহুতল ভবন ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।
তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বহুতল ভবনে গ্লাস স্ট্রাকচারের ব্যবহার বেশ পুরনো হলেও একদম নিরুপায় না হলে স্টিল স্ট্রাকচার ব্যবহারের পক্ষপাতি নন স্থপতি মুস্তাফা খালিদ পলাশ। তিনি কারিকাকে বলেন, ‘স্টিল বিল্ডিং সেসব জায়গায় ব্যবহার করা উচিত, যেখানে মাটির বহনক্ষমতা কম। ঢাকার সয়েল খুব ভালো। আর ঢাকায় পনের-বিশতলা ভবনকেই আমরা বহুতল ভবন মনে করে থাকি। সেক্ষেত্রে স্টিল বিল্ডিং করার কোনো অবকাশ নেই, দরকারও নেই। ভবন নির্মাণে স্টিল স্ট্রাকচারের যেমন সুবিধা আছে, তেমনি অসুবিধাও কম নয়। কংক্রিটের তুলনায় স্টিল খুব ব্যয়বহুল। আমরা যে অবস্থানে এখন আছি, তাতে এখনো আমরা স্টিল ব্যবহারে বাধ্য নই। স্টিল স্ট্রাকচারের বিল্ডিংয়ে অগ্নিপ্রতিরোধক একটা প্রলেপ (ফায়ার কোটিং) দিতে হয়। ফায়ার কোটিং দেয়াটা খুব ব্যয়বহুল।’
ওয়ান এলিভেনে টুইন টাওয়ারে বিমান হামলার ঘটনা স্মরণ করে মুস্তাফা খালিদ পলাশ বলেন, ‘আমরা দেখেছি টুইন টাওয়ারের স্টিল স্ট্রাকচারের বিল্ডিংয়ে আগুন লেগে খুব সহজে সেটা ধসে পড়েছিল। তাপমাত্রায় স্টিল প্রসারিত হয়ে বিম ঝুলে পড়ে নাট-বল্টু খুলে সব একসঙ্গে কলাপস করার ঝুঁকি থাকে।’
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সুউচ্চ ভবন নির্মাণে স্টিলের বদলে কংক্রিট বেশি উপযোগী বলে মনে করেন তিনি। কংক্রিটের আরসিসিতে স্টিল ব্যবহার করা হচ্ছে উল্লেখ করে মুস্তাফা খালিদ পলাশ বলেন, ‘কংক্রিটের সুবিধা হচ্ছে, এটি একটি কম্প্রিহেনসিভ ম্যাটেরিয়াল। সেই কম্প্রিহেনসিভটা কংক্রিট নিতে পারে। আবার স্টিল ভেতরে যেটা থাকে, সেটা টেনশাইল ম্যাটেরিয়াল। স্টিল টেনশাইল বহন করে। স্টিল ও কংক্রিট যুগপৎভাবে একটা স্ট্রাকচারকে ধারণ করে।’
আমাদের জলবায়ু, আর্দ্র আবহাওয়া, অগ্নিপ্রতিরোধমূলক জ্ঞানের অভাব এবং সচেতনতার ঘাটতি বহুতল ভবনে স্টিল স্ট্রাকচারের ব্যবহার বিপজ্জনক হতে পারে। বনানীর এফআর টাওয়ারে অগ্নিকান্ডের ঘটনা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘এফআর টাওয়ারের অগ্নিদুর্ঘটনা যদি কোনো স্টিল বিল্ডিংয়ে ঘটত, তাহলে হয়তো পুরো দালানটিই ধসে পড়ত।’
রাজধানীর গুলশানে গড়ে উঠছে হাল আমলের অন্যতম করপোরেট ডেস্টিনেশন বিটিআই ল্যান্ডমার্ক। মুস্তাফা খালিদ পলাশের স্থাপত্য-নকশা করা বিটিআই ল্যান্ডমার্ক বাণিজ্যিক ভবন সম্পর্কে তিনি কারিকাকে বলেন, ‘বিটিআই ল্যান্ডমার্কে সহজ লাগসই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ভবনটিতে কংক্রিটের পাশাপাশি যেসব কাচ ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলো লোই কাচ। লোই কাচ তাপ প্রতিরোধ করে। স্যান্ডউইচ গ্লাস হওয়ার ফলে বাইরের তাপ ভেতরে ঢুকছে না, ভেতরের তাপ বাইরে বের হচ্ছে না। এতে করে বিদ্যুৎ খরচ কম হয়। এয়ার কন্ডিশনিং লোডটা কম পড়ে।
কৃষিনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন তৈরি পোশাক, চামড়া, সফটওয়্যার, কনজিউমার গুডস, টেলিযোগাযোগ, ফার্মাসিউটিক্যাল ও গ্যাসের মতো বিকাশমান সেক্টরগুলোতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। সেই সঙ্গে করপোরেট ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অফিসগুলোর স্থাপত্যনকশাতেও এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া, যা বাংলাদেশের বাণিজ্যিক স্থাপনায় নতুন ধারা যোগ করেছে।

 

লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান
পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স), ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর

চকবাজারের চুড়িহাট্টার রাসায়নিক গুদামে আগুন লাগার পর বনানীর এফআর টাওয়ারের অগ্নিদুর্ঘটনা। একের পর এক ধারাবাহিক অগ্নিদুর্ঘটনা ফায়ার সার্ভিসসহ পুরো দেশবাসীকে কতটা আশঙ্কায় ফেলেছিল, সচেতন মানুষমাত্রই জানেন। ধারাবাহিক অগ্নিদুর্ঘটনার পুরো ধকল সামলিয়েছে ‘দ্য লাইফ সেভিংস ফোর্স’ খ্যাত বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁচিয়েছে বহু প্রাণ ও মূল্যবান সম্পদ। অগ্নিনির্বাপণে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জসহ অগ্নিদুর্ঘটনা ও সচেতনতার নানা বিষয় নিয়ে কারিকার সঙ্গে কথা বলেছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের নবনিযুক্ত পরিচালক (অপারেশন্স অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান।

ঢাকার মতো জনবহুল শহরে অগ্নিনির্বাপণের চ্যালেঞ্জগুলো কী?
আমরা জানি, ঢাকা শহরের বেশিরভাগ স্থাপনা অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে। একটি ভবনের সঙ্গে গা লাগিয়ে আরেকটি ভবন। এসব ক্ষেত্রে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। চকবাজারের ঘটনায় আমরা দেখেছি, পুরান ঢাকার আবাসিক ভবনগুলোতে কীভাবে অবৈধভাবে রাসায়নিক মজুদ করা হয়েছে। সেখানে আগুন লাগলে নেভানো কষ্টসাধ্য। পুরান ঢাকায় একই সঙ্গে পানির অপ্রতুলতাও রয়েছে। সেখানকার সড়ক ও গলিপথগুলোও প্রশস্ত নয়। অপ্রশস্ত সড়ক ও গলিপথের কোনো স্থাপনায় আগুন লাগলে সেখানে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো যেতে পারে না। আর যানজটের সমস্যা তো আছেই। যানজটের কারণে অনেক সময় আমাদের দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছতে দেরি হয়। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে অগ্নিনির্বাপণে প্রতিনিয়ত আমাদের কাজ করে যেতে হয়।

এই চ্যালেঞ্জ উত্তরণে আপনারা কী ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছেন?
হঠাৎ লাগা আগুনের বিরুদ্ধে যাতে ন্যূনতম ২০ মিনিট প্রতিরোধ গড়ে তোলা যায়, সেজন্য বহুতল আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনসহ যেকোনো স্থাপনায় নিজস্ব ফায়ার ফাইটিং সিস্টেম গড়ে তোলার ওপর আমরা এখন জোর দিচ্ছি। এ ছাড়াও ইউএনডিপির সহায়তায় ফায়ার সার্ভিসে আধুনিক প্রযুক্তির অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম যুক্ত হচ্ছে। অন্যদিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে যাতে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারি, সেজন্য বর্তমানে আধুনিক রেডিও সেট, অত্যাধুনিক ভিএইচএফ প্রযুক্তির রেডিও ব্যবহার করা হচ্ছে। মোবাইল ফোন প্রযুক্তিও তথ্য আদান-প্রদানে আমাদের অনেক সহায়তা করছে। যানজটের কারণে যাতে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছতে দেরি না হয়, সেজন্য নির্ধারিত ফায়ার স্টেশন ছাড়াও মহাখালী-বাংলামোটরসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আমাদের ফায়ার ফাইটিং ইউনিট সবসময় প্রস্তুত আছে।

সেক্ষেত্রে বহুতল আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনে নিজস্ব ফায়ার ফাইটিং সিস্টেম গড়ে তুলতে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি বলে আপনি মনে করেন?
ছয়তলার বেশি কোনো ভবন নির্মাণ করলে ফায়ার সার্ভিস থেকে অনুমতি নিতে হয়। অনুমতি নেয়া বাধ্যতামূলক। এছাড়া বহুতল আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনে নিজস্ব ফায়ার ফাইটার, ভালো মানের ফায়ার ডোরসহ ফায়ার এক্সিট রুট, ফায়ারপ্রুফ সিলিং, আলাদা পাওয়ার সাপ্লাই সিস্টেমসহ ইমার্জেন্সি লিফট, ফায়ার এক্সটিংগুইশার, ফায়ার অ্যালার্ম, হোস পাইপ, ফায়ার হাইডেন্ট সিস্টেম ইত্যাদি থাকতে হবে।

রেগুলেটরি বডি হিসেবে ফায়ার সার্ভিসকে বিচারিক ক্ষমতা দেয়ার কথা শোনা যাচ্ছিল অনেকদিন থেকে। বিষয়টির অগ্রগতি কেমন হলো?
আগামী মাস থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে ফায়ার সার্ভিসের মোবাইল কোর্ট পরিচালনার বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার পথে। এর ফলে অগ্নিনির্বাপণ আইন লঙ্ঘনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দায়ীদের শাস্তি দিতে পারবে ফায়ার সার্ভিস। সেই সঙ্গে স্থাপনা পরিদর্শন করে নোটিস দেয়ার নিয়মিত কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে।

বনানীর এফআর টাওয়ারে অগ্নিকান্ডের পর অগ্নিনির্বাপণ সামগ্রী কেনার হিড়িক পড়ে গিয়েছিল। তখন অনেকেই নিম্নমানের সামগ্রী কিনে প্রতারিত হয়েছেন। অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামের মান দেখভালের জন্য ফায়ার সার্ভিসের কোনো তদারকি কি আছে?
না, বর্তমানে এ নিয়ে কোনো কার্যক্রম নেই। তবে আপনি যেহেতু বিষয়টি উত্থাপন করলেন, এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া যায় কিনা, আমি মহাপরিচালক মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলব। অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম কেনার সময় ক্রেতা যদি একটু সচেতন থাকেন, একটু দাম বেশি হলেও ভালো ব্র্যান্ডের সরঞ্জাম কেনেন, তাহলে আর নিম্নমানের পণ্য কেনার ঝুঁকি থাকে না।
আমি মনে করি গণমাধ্যম, ফায়ার সার্ভিস অধিদফতর- সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হবে। তখন আমরা অগ্নিজনিত দুর্ঘটনা অনেকাংশেই কমিয়ে আনতে পারব বলে আশা রাখি।

আপনাকে ধন্যবাদ।
আপনাকেও ধন্যবাদ।

একহারা গড়নের ছোটখাটো পেন্নি ড্রু বাইর্ডকে দেখতে সাধারণ মানুষ মনে হলেও কাজের ক্ষেত্রে তিনি হচ্ছেন ‘পাওয়ার হাউজ’। নিউইয়র্কে জন্ম নেয়া এই স্থপতির ইন্টেরিয়র ডিজাইনে বিষয়বস্তুর প্রতি ফোকাস, নিপুণতা ও সংকল্পবদ্ধতা লক্ষ্য করা যায়। পেন্নি ড্রু বাইর্ডকে ‘রুচিশীল ইন্টেরিয়র ডিজাইনের প্রবর্তক’ বলা হয়। তার স্থাপত্যকর্মে নকশার প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়।
ইন্টেরিয়র ডিজাইন ফার্ম পরিচালনার পাশাপাশি সংসারও সামলাচ্ছেন পেন্নি। অন্যসব স্থপতির মতো তিনি কখনো তীব্রভাবে প্যারিসে থাকার আকুলতা অনুভব করেননি। কিন্তু কয়েক বছর আগে হঠাৎ করে তিনি স্বামী ও তিন সন্তানসহ এক বছরের জন্য প্যারিসে বসবাস শুরু করেন। সেই সঙ্গে প্যারিসে থাকার তার সুপ্ত বাসনাও পূরণ হয়।
প্যারিসের দক্ষিণমুখী একটি বাড়িতে বেশ কয়েকটি গ্রীষ্ম কাটানোর পর পেন্নি খুব করে চাইছিলেন তার সন্তানরা দ্বিভাষিক হয়ে উঠুক। সেই সঙ্গে তিনি আরও চাইছিলেন তারা ইউরোপিয়ান সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত হোক। পেন্নি বাইর্ডের স্বামীরও একই চাওয়া ছিল।
পেন্নি বলেন, ‘প্যারিসে আমি অবকাশযাপন করতে আসিনি। প্যারিস ও লন্ডনে আমার অনেক কাজ আছে।’
তিনি জানতেন তার দক্ষ ও বিশ্বস্ত টিম নিউইয়র্কের সব কাজ সামাল দিতে পারবে। তাই তিনি নিউইয়র্কে টিম মেম্বারদের সঙ্গে মাসে একবার মিটিং করতেন এবং প্যারিস থেকে ইন্টেরিয়র ফার্ম পরিচালনা করতেন।
নিজের দৃঢ়চেতা মনোভাব আর স্বামীর সমর্থন থাকায় তিনি প্যারিসে একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানির কয়েকটি অ্যাপার্টমেন্ট রিনোভেশন করার দায়িত্ব পান।
নিজেকে ভাগ্যবান দাবি করে পেন্নি বলেন, ‘একদিন আমি তিন-চারটি নিখুঁত অ্যাপার্টমেন্ট দেখছিলাম। সেখান থেকেই রিনোভেশন করার জন্য তিনটি ব্লক বেছে নিলাম।’
পেন্নি ড্রু বাইর্ড যেসব অ্যাপার্টমেন্ট রিনোভেশন করার দায়িত্ব পেয়েছিলেন সেসব অ্যাপার্টমেন্ট ছিল প্যারিসের অভিজাত মানুষের আবাসস্থল। ১৯ শতকের শেষভাগে নির্মিত অ্যাপার্টমেন্টগুলো থেকে শহরের সৌন্দর্য পুরোপুরি উপভোগ করা যায়।
চার হাজার স্কয়ার ফিটের বিশাল অ্যাপার্টমেন্টে বিশাল আকারের ড্রইং রুম ছাড়াও একটি লিভিং রুম, একটি ডাইনিং রুম, একটি লাইব্রেরি রুম, একটি কিচেন ও পাঁচটি বেড রুম ছিল। এগুলোর সবকিছুই ভালো অবস্থায় ছিল, যা রিনোভেশন করার কোনো প্রয়োজন ছিল না। তাই বাইর্ড শুধু পুরনো রান্নাঘর এবং বাথরুমের বদলে নতুন রান্নাঘর ও বাথরুম তৈরি করলেন। তুলে দিলেন লিভিং রুম আর লাইব্রেরির মাঝখানের দরজাটা।
প্যারিসের অধিবাসীরা যেহেতু ঐতিহ্যগতভাবেই সংস্কৃতি-সচেতন, তাই অ্যাপার্টমেন্টগুলো রিনোভেশন করার সময় পেন্নিকে অনেক সতর্ক থাকতে হয়েছে।
পেন্নি বলেন, ‘আমি বাড়ি থেকে অনেক দূরে বসবাসকারী ফেঞ্চ-পরিবারের জন্য একটি দুর্দান্ত ফেঞ্চ-সংস্কৃতির সংস্করণ তৈরি করতে চেয়েছিলাম। ফ্রান্স যেভাবে ডেকোরেশন করা হয়েছে, আমিও অ্যাপার্টমেন্টটি সেভাবে ডেকোরেশন করেছি।’
পেন্নি মনে করেন অ্যাপার্টমেন্টের ইন্টেরিয়র ডেকোরেশনের ক্ষেত্রে পছন্দসই ডেকোরেশন আইটেমের ব্যবহার-ই মূল কথা নয়। পছন্দ করা ডেকোরেশন আইটেমটি অ্যাপার্টমেন্টের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করল কিনা, সেটাই বিবেচ্য বিষয়।
পেন্নি ড্রু বাইর্ড ইন্টেরিয়র ডিজাইন করার ক্ষেত্রে সস্তা কিন্তু এক্সক্লুসিভ ডেকোরেশন আইটেম ব্যবহার করে থাকেন। তিনি ফ্রান্সের বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে এসব এক্সক্লুসিভ ডেকোরেশন আইটেম খুঁজে বের করেন। তিনি বলেন, ‘ফ্রান্সের মার্কেট ঘুরে আমি একবার একটি প্রাচীন লম্বা কেসঘড়ি খুঁজে পেলাম। সম্ভবত ওই কেসঘড়িটি ছিল আমার সেরা অনুসন্ধান।’
প্যারিসে পেন্নি ড্রু বাইর্ডের দিনগুলো ভালোই কাটছিল। কাজের পাশাপাশি তিনি ওই সময়টাতে প্যারিসের সমৃদ্ধিশালী সংস্কৃতির অনুরক্ত হয়ে উঠেছিলেন।

কারিকা ডেস্ক

0 448

কারিকা ডেক্স


শিল্পকলা একাডেমিঃ

এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে সন্ধ্যা ৭.০০ টায় মঞ্চায়িত হবে শত নারী এক পুরুষ।

স্টার সিনেপ্লেক্সঃ    
বসুন্ধরা সিনেপ্লেক্সে ২ডি চলচ্চত্রের মধ্যে চলবে হ্যালুয়িন, দেবী, জনি ইংলিশ স্ট্রাইক এগেইন, ফিফত ওয়ে্ডিং এবং দ্যা নান।

থ্রিডি চলচ্চিত্রের মধ্যে চলবে ভেনম।

ব্লকবাস্টারঃ

যমুনা ব্লকবাস্টারে ২ডি চলচ্চত্রের মধ্যে চলবে জনি ইংলিশ-৩, হ্যালুয়িন, অ্যা সিম্পল ফেভর, দ্যা নান এবং দেবী।

থ্রিডি চলচ্চিত্রের মধ্যে চলবে মিশনঃ ইম্পসিবল- ফলআউট এবং ভেনম।

0 359

কারিকা ডেক্স


শিল্পকলা একাডেমিঃ

স্টুডিও থিয়েটার হলে সন্ধ্যা ৭.০০টায় মঞ্চায়িত হবে নননপুরের মেলায় একজন কমলাসুন্দরী ও একটি বাঘ আসে।

স্টার সিনেপ্লেক্সঃ  
বসুন্ধরা সিনেপ্লেক্সে ২ডি চলচ্চত্রের মধ্যে চলবে জিও পাগলা, গহীন বালুচর, ডার্কেস্ট আওয়ার এবং হালদা।

থ্রিডি চলচ্চিত্রের মধ্যে চলবে জুম্যানজিঃ ওয়েলকাম টু দ্যা জংগল , মেজ রানারঃ দ্যা ডেথ কিওর এবং জাস্টিক লিগ।

ব্লকবাস্টারঃ
যমুনা ফিউচার পার্কের ব্লকবাস্টারে ২ডি চলচ্চিত্রের মধ্যে ঢাকা অ্যাটাক, ডাউনসিজিং, ওন্ডার, ড্যাডিস হোম টু, ডার্কেস্ট আওয়ার, হালদা, গহীন বালুচর এবং জিও পাগলা।

থ্রিডি চলচ্চিত্রের মধ্যে চলবে জুম্যানজিঃ ওয়েলকাম টু দ্যা জংগল।