Home মূল কাগজ পরামর্শ

রাজধানীতে ২৬ স্থানে কোরবানির পশুর হাট

সোহরাব আলম
কোরবানির পশুর চাহিদা মেটাতে রাজধানীতে স্থায়ী পশুর হাট গাবতলী ছাড়াও বেশকিছু অস্থায়ী হাট বসে। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন এলাকার ২৬টি স্থানে এবার অস্থায়ী পশুর হাট বসবে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন এলাকায় ১৪টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় বসবে ১২টি হাট।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় যে ১৪টি স্থানে হাট বসবে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ধূপখোলা মাঠসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউয়ারটেক মাঠসংলগ্ন আশপাশ এলাকার খালি জায়গা, আশুলিয়া মডেল টাউনের আশপাশের খালি জায়গা, দাওকান্দি ইন্দুলিয়া ভাগাপুরনগর (আফতাবনগর ইস্টার্ন হাউজিং মেরাদিয়া মৌজার সেকশন-১ ও ২) লোহারপুলের পূর্ব অংশ এবং খোলা মাঠসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, উত্তর শাহজাহানপুর খিলগাঁও রেলগেট বাজারের মৈত্রী সংঘের মাঠসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, শ্যামপুর বালুর মাঠসহ আশপাশের এলাকার খালি জায়গা; মেরাদিয়া বাজারসংলগ্ন আশপাশের এলাকার খালি জায়গা, ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সামসাবাদ মাঠসংলগ্ন আশপাশের এলাকার খালি জায়গা, জিগাতলা হাজারীবাগ মাঠসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, লালবাগের রহমতগঞ্জ খেলার মাঠসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, কামরাঙ্গীরচর চেয়ারম্যানের বাড়ির মোড় থেকে দক্ষিণ দিকে বুড়িগঙ্গা নদীর বাঁধসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, শ্যামপুর বালুর মাঠসহ আশপাশের খালি জায়গা, লিটিল ফ্রেন্ডস ক্লাবসংলগ্ন গোপীবাগ বালুর মাঠ ও কমলাপুর স্টেডিয়ামসংলগ্ন বিশ্বরোডের আশপাশের খালি জায়গা এবং শনির আখড়া-দনিয়া মাঠসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা।
অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় যে ১২টি স্থানে হাট বসবে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে কাওলা-শিয়ালডাঙ্গাসংলগ্ন খালি জায়গা, উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের উত্তরার স্লুইসগেট থেকে কামারপাড়া ব্রিজ পর্যন্ত ফাঁকা জায়গা, মিরপুর ডিওএইচএসের উত্তর পাশের সেতু প্রপার্টিসংলগ্ন খালি জায়গা, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট খেলার মাঠ, উত্তরখান ময়নারটেক শহিদনগর হাউজিংয়ের খালি জায়গা, বাড্ডা ইস্টার্ন হাউজিং (আফতাবনগর) ব্লক-ই সেকশন-৩-এর খালি জায়গা, মিরপুর সেকশন-৬ ওয়ার্ড-৬-এর (ইস্টার্ন হাউজিং) খালি জায়গা, খিলক্ষেত বনরূপা আবাসিক প্রকল্পের খালি জায়গা, উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের ১ নম্বর ব্রিজের পশ্চিম অংশ এবং ২ নম্বর ব্রিজের পশ্চিমে গোলচত্বর পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশের ফাঁকা জায়গা, ভাটারা (সাইদনগর) পশুর হাট, মোহাম্মদপুর বুদ্ধিজীবী সড়কসংলগ্ন (বসিলা) পুলিশ লাইনের খালি জায়গা এবং খিলক্ষেত ৩০০ ফুট সড়কসংলগ্ন উভয় পাশের বসুন্ধরা হাউজিংয়ের খালি জায়গা।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সদ্যবিদায়ী প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান কারিকাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, কোরবানির পশুর হাট ইজারার চূড়ান্ত কার্যাদেশ জারির পর দরপত্র অনুযায়ী প্রাপ্যদের ইজারা দিয়ে দেয়া হয়েছে।

কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কারে করণীয়
ঈদুল আজহায় কোরবানির পশু জবাইয়ের পর পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর রাখতে প্রতি বছরই আহবান জানিয়ে থাকে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। এ বিষয়ে প্রতিটি নাগরিকেরও দায়িত্ব আছে। পশু জবাইয়ের পর বর্জ্য যদি খোলা জায়গায় পড়ে থাকে, তবে তা মানবদেহ ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। পশুর রক্ত, ঘাস, লতাপাতা, নাড়িভুঁড়ির উচ্ছিষ্ট ও বর্জ্য রাস্তায় পড়ে থাকলে তার জীবাণু বাতাসের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে। ছড়িয়ে পড়া এই জীবাণু মারাত্মক স্বাস্থ্যহানি ঘটাতে পারে। তাই পশু জবাই ও মাংস বানানোর কাজ শেষ হলে বর্জ্য পরিষ্কারের জন্য নিজ নিজ সিটি করপোরেশনের দায়িত্বরত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। অথবা সিটি করপোরেশনের হটলাইনে যোগাযোগ করতে হবে। তারা বর্জ্য অপসারণে সহযোগিতা করবে।
কোরবানির পর বর্জ্য অপসারণে সচেতন নাগরিক হিসেবে নিজেদেরও কিছু দায়িত্ব পালন করা প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পৌঁছাতে দেরি হলে নিজ দায়িত্বেও কিছু কাজ করা যেতে পারে। এজন্য কোরবানির পশু জবাইয়ের গর্তটি মাটি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। গর্তের মধ্যে কিছু চুন বা ব্লিচিং পাউডার অথবা জীবাণুনাশক পদার্থ দেওয়া যেতে পারে। আশপাশে কোনো বর্জ্য থাকলে তা পরিষ্কার করতে হবে। এছাড়া জবাইকৃত পশুর রক্ত পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোরবানির পশুর দেহ থেকে নাড়িভুঁড়ির উচ্ছিষ্ট (অর্ধহজমযুক্ত খাদ্য/গোঘাষি) বের করে যত্রতত্র না ফেলে যথাযথ স্থানে ফেলতে হবে। সম্ভব হলে পশু জবাই করার স্থানটি গরম বা ঠান্ডা পানি ঢেলে পরিষ্কার করার পর ব্লিচিং পাউডার ছড়িয়ে দিতে হবে। তাহলে দুর্গন্ধ ছড়াবে না এবং স্থানটি জীবাণুমুক্ত হবে। বর্জ্য পরিষ্কারের পর নিজের হাত-পা ও সারা শরীর ভালোভাবে জীবাণুনাশক সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

কামরুজ্জামান কাজল

বর্ষা আবেগের ঋতু। কদমের ঋতু। ঘনঘোর মেঘে রবীন্দ্রনাথে ডুবে যাওয়ার ঋতু। প্রশান্তিময় প্রকৃতির সঙ্গে আছে কিছু বাস্তব ঝামেলাও। বিশেষ করে শিক্ষার্থী এবং কর্মক্ষেত্রে ছুটতে হয় যাদের, তাদের জন্য বর্ষা বিড়ম্বনাও বয়ে আনে। সেই সঙ্গে আছে পোকা-মাকড়ের ঘরবসতি। আলমারি’র কাপড় থেকে ভ্যাপসা গন্ধের ভোগান্তি। যারা একটু পরিপাটি থাকতে পছন্দ করেন তাদের জন্য বাড়তি বিড়ম্বনা যোগ হয় এই মাসটাতে। কিন্তু চাইলে খুব সহজেই এই বর্ষায় ঘর-গেরস্থালিতে ভালো থাকা সম্ভব। পরামর্শ দিয়েছেন ফারাজানা’স ব্লিজের সত্বাধিকারি ফারজানা গাজী।

না ভিজুক পর্দা
যখনি আকাশ অন্ধকার হয়ে আসে, আমরা কিন্তু আগে ঘরের দরজা-জানালাই বন্ধ করি। তবে এরই মধ্যে বৃষ্টির ছাট এলে ভিজে যেতে পারে জানালায় ঝোলানো পর্দাগুলো। তাই এ সময় এমন কাপড়ের পর্দা ব্যবহার করা উচিত, যেন তা ভিজলেও সহজেই শুকিয়ে যায়। কারণ দীর্ঘক্ষণ পর্দা ভেজা থাকলে পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়তে পারে সোঁদা গন্ধ। পলিয়েস্টার, রেশম বা পাতলা সুতির কাপড়ে তৈরি পর্দা এ সময়টার জন্য বেশ উপযোগী।
বৃষ্টি থেমে গেলে খুলে দিন জানালা, সরিয়ে দিন পর্দা। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রটাও বন্ধ থাক খানিকটা সময়। প্রাকৃতিক হাওয়া ঘরে এলে ঘরের গুমোট ভাব কেটে যাবে।

স্যাঁতস্যাঁতে ভাব নয়
ঘরের স্যাঁতসেঁতে ভাব এড়াতে হলে খেয়াল রাখুন, ঘরে কোনো ভেজা জিনিস যেন না থাকে। ভেজা জুতা-মোজা বা ভেজা কাপড়-যেকোনোটির জন্যই ঘরে সোঁদা গন্ধ পাবেন আপনি। ঘরের ভেতরের দেয়াল বা মেঝে ভেজা অবস্থায় রাখবেন না। দেয়াল বা ছাদ থেকে বৃষ্টির পানি চুঁইয়ে পড়লে নির্মাণকর্মীদের দিয়ে দেয়াল বা ছাদের সমস্যাটি সারিয়ে নিন তাড়াতাড়ি।

প্রিয় বইয়ের যত্ন
যত্ন করে গুছিয়ে রাখা বইগুলোতেও বর্ষার প্রভাব পড়তে পারে। সাধারণত যে বইগুলো একটু কম নাড়াচাড়া হয়, সেগুলো এই মৌসুমে স্যাঁতসেঁতে হয়ে পড়ে। তাই মাঝেমধ্যেই সেগুলোকে তাক থেকে নামিয়ে শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে রাখুন। এতে বইগুলো ভালো থাকবে বহুদিন। এ ছাড়া বইয়ের তাকে শুকনো নিমপাতা রাখতে পারেন। কোনো বইয়ের পাতায় বা মলাটে স্যাঁতসেঁতে ভাব দেখা গেলে অপেক্ষা করুন রোদের জন্য। যেদিন খানিক রোদের দেখা মিলবে, সেদিন বইগুলোকে বারান্দায় রোদে রাখুন কিছুটা সময়ের জন্য।

কাপড়-চোপড়ের যত্ন
আলমারি বা ওয়্যারড্রোব থেকে কাপড় বের করার পর অবশ্যই তা ভালোভাবে আটকে রাখতে হবে। কাঠের তৈরি আসবাবপত্র সঠিকভাবে লাগানো হলো কি না, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখুন, কারণ নিত্য-ব্যবহার্য আসবাবপত্র সঠিকভাবে লাগানো না হলে ভেতরে থাকা কাপড়গুলো বাতাসের আর্দ্রতার কারণে স্যাঁতসেঁতে হয়ে পড়তে পারে।

সুরভিত প্রিয় ঘর
হালকা ঘ্রাণযুক্ত ফুল ঘরে রাখা যেতে পারে। তাজা বেলিফুলের একটা মালা ঘরে রেখে দেখুন, সতেজ হয়ে উঠবে ঘরের পরিবেশ। সুগন্ধি অন্য কোনো ফুলও পানিতে ভিজিয়ে রাখতে পারেন। গন্ধরাজ ফুলের মতো যেসব ফুলের পাপড়ি একটু পুরু, সেগুলো বেশ কিছুদিন পানিতে ভিজিয়ে রাখা যায়। তবে ফুলদানি বা বোতলে পানি দিয়ে ফুল রাখলে অবশ্যই প্রতিদিন পানি পাল্টে দিতে হবে। ফুল সতেজ থাকা অবস্থায় যদি ডাঁটার কোনো অংশ পঁচে যায়, তাহলে পঁচা অংশটুকু কেটে ফেলে দিন।

  • মনে রাখা দরকার
    স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়া ঘর আরও বেশি গরম করে তোলে। এই সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে গোসল বা কাপড়-চোপড় ধোঁয়ার কাজটি হয় একদম সকালে, না-হয় বিকেলের দিকে করা ভালো। কারণ দুপুর বা দিনের গরম সময়ের দিকে এই কাজগুলো করলে ঘরের পরিবেশ আরও আর্দ্র বা স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে যায়। তখন ঘর আরও গরম হয়ে ওঠে।
    ক্স ঘরের মেঝের স্যাঁতস্যাঁতে ভাব থেকে রেহাই পেতে ঘরে মাঝে মাঝে ব্যবহার করুন রুম ফ্রেশনার। এতে ঝরঝরে থাকবে ঘরের আবহাওয়া।
    ক্স বাতাস চলাচলের জায়গা রাখতে হবে ঘরের ভেতর। সেটা সম্ভব হলে ঘরের দক্ষিণ পাশটাকে প্রাধান্য দিয়ে রাখুন।
    ক্স ঘরের দেয়ালের ছাদকে ছায়ায় রাখার চেষ্টা করতে হবে। সম্ভব হলে বারান্দা, সানশেড, কার্নিশ ব্যবহার করুন।
    ক্স আমরা অনেকেই বারো মাস কার্পেট ব্যবহার করি। সেটা বর্ষাকালে উপেক্ষা করাই ভালো। বর্ষাকাল দেয়াল-ঘরের মেঝে স্যাঁতস্যাঁতে হয় বলে এ-সময় কার্পেট উঠিয়ে রেখে তা শীতের দিন ব্যবহার করাই ভালো।
    ক্স পোকামাকড়ের অত্যাচার থেকে রেহাই পেতে জীবাণুনাশক দিয়ে নিয়মিত মেঝে পরিস্কার করে নিতে হবে।

কারখানা ঘুরে

মির্জা মাহমুদ আহমেদ
বাংলাদেশের নির্মাণ শিল্পে প্লাইউড বহুল ব্যবহৃত হলেও জিপসাম বোর্ডের ব্যবহার এখনো অতটা প্রচলিত নয়। অথচ স্থাপনা নির্মাণ কিংবা সাজসজ্জায় সাধারণ প্লাইউড বা ইটের চেয়ে জিপসাম সিলিং কিংবা জিপসাম ওয়াল বোর্ড অধিক টেকসই ও সাশ্রয়ী। বাংলাদেশের মতো অগ্নিদুর্ঘটনাপ্রবণ দেশে আগুনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারে জিপসাম ফায়ার রেজিস্ট্যান্ট বোর্ড।
এক সময় বাংলাদেশের জিপসাম সিলিং ও জিপসাম বোর্ডের পুরো বাজারটি ছিল চীন ও থাইল্যান্ডের দখলে। নিম্নমানের বিদেশি জিপসাম বোর্ডের কারণে ক্রেতারা পরিবেশবান্ধব এই নির্মাণসামগ্রীর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন।
বাংলাদেশে পারটেক্সই প্রথম নিজস্ব কারখানায় বিশ্বমানের জিপসাম বোর্ড ও জিপসাম সিলিং উৎপাদন শুরু করেছে। পারটেক্সের উৎপাদিত জিপসাম বোর্ড, জিপসাম ফায়ার রেজিস্ট্যান্ট বোর্ড ও জিপসাম সিলিং দেশীয় বাজারের শতভাগ চাহিদা মিটিয়ে ভারতসহ অনান্য পার্শ¦বর্তী দেশে রফতানি করা সম্ভব।
গত বছরের মে থেকে দেশেই বিশ্বমানের জিপসাম সিলিং, জিপসাম স্ট্যান্ডার্ড বোর্ড, জিপসাম ফায়ার রেজিস্ট্যান্ট বোর্ড তৈরি করছে পারটেক্স জিপসাম বোর্ড মিলস লিমিটেড। বাংলাদেশের আর্দ্র আবহাওয়ার কথা বিবেচনায় রেখে খুব শিগগিরই বাজারে আসছে পারটেক্স জিপসাম ময়েশ্চার রেজিস্ট্যান্ট বোর্ড।
নারায়ণগঞ্জের মদনপুরে ১ লাখ ২০ হাজার স্কয়ার ফিটের বিশাল আয়তনজুড়ে গড়ে উঠেছে পারটেক্স জিপসাম বোর্ড মিলস। পারটেক্সের জিপসাম বোর্ডের কারখানায় গিয়ে দেখা যায় সম্পূর্ণ অটোমেটিক মেশিনে তৈরি হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের সিলিং, স্ট্যান্ডার্ড ও ফায়ার রেজিস্ট্যান্ট জিপসাম বোর্ড। কমপ্লায়েন্স এ কারখানাটিতে পাঁচ শতাধিক শ্রমিক কর্মকর্তার দিন-রাতের পরিশ্রম ও মেধায় তৈরি হচ্ছে পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী।
জিপসাম বোর্ড তৈরির বিশাল এই কর্মযজ্ঞ ঘুরে দেখা যায় জিপসাম পাউডার মিশ্রণ থেকে শুরু করে প্যাকেজিং পর্যন্ত চলছে কঠোর নজরদারি।
কারখানার টেকনিক্যাল কনসালট্যান্ট মোহাম্মদ ইমদাদুল হক জানালেন, বোর্ড তৈরির কোনো পর্যায়েই তারা মানের সঙ্গে আপস করেন না। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের জিপসাম বোর্ড কারখানায় ৩২ বছর কাজ করে আসা ইমদাদুল হক জানালেন, তাদের কারখানাতে উৎপাদিত জিপসাম বোর্ড সম্পর্কে ক্রেতারা খুবই সন্তুষ্ট। সঠিক স্থাপনায় সঠিক পুরুত্বের জিপসাম বোর্ড ও সিলিং ব্যবহার করলে এটি লাইফ টাইম ব্যবহারেও কিছু হয় না বলে জানালেন তিনি।
পারটেক্স জিপসাম সিলিং বোর্ড ওজনে হালকা, তাই ভূমিকম্পে সাধারণ ইটের দেয়ালের চেয়ে বেশি সহনীয়। শব্দ ও তাপ প্রতিরোধক বোর্ডগুলোতে পোকামাকড়ও আক্রমণ করতে পারে না। পারটেক্সের ফায়ার রেজিস্ট্যান্ট বোর্ড ২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আগুন প্রতিরোধ করতে পারে।
বাংলাদেশে অপেক্ষাকৃত নতুন জিপসাম প্রযুক্তির সঙ্গে সারাদেশের নির্মাণ শ্রমিকদের পরিচিত করে দিতে সামাজিক দায়বদ্ধতার আওতায় নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেছে পারটেক্স জিপসাম। ‘স্বনির্ভর’ নামের এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারী নির্মাণ শ্রমিকদের সনদপত্র দেয়া হবে।
জিপসাম বোর্ড তৈরির মূল উপাদান জিপসাম পাউডারের উৎপত্তি প্রাকৃতিক পাথরের খনি থেকে। পারটেক্স মূলত এসব জিপসাম পাউডার সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি করে থাকে।
পারটেক্স স্টার জিপসাম বোর্ড মিলস লিমিটেডের হেড অব প্ল্যান্ট মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান ভূইয়া কারিকাকে জানান, চায়না থেকে আমদানিকৃত জিপসাম বোর্ডগুলো তৈরি হয় কয়লাভিত্তিক পাওয়ার প্ল্যান্টের বর্জ্য থেকে। যাতে স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকে। কিন্তু পারটেক্সের আমদানিকৃত জিপসাম পাউডার সরাসরি খনি থেকে সংগৃহীত। এই জিপসাম পাউডার থেকে উৎপাদিত জিপসাম বোর্ডে কোনো স্বাস্থঝুঁকি নেই। তিনি আরও বলেন, চায়না থেকে যেসব জিপসাম বোর্ড আমদানি করা হয়, সেগুলোর পুরুত্ব ও স্থায়িত্ব কম।
দেশীয় ব্র্যান্ড হিসেবে পারটেক্সের সুনাম ও দায়বদ্ধতা থাকায় পারটেক্স স্থানীয় বাজারে ইউরোপিয়ান স্ট্যান্ডার্ড বোর্ড সরবরাহ করে থাকে বলে জানান তিনি।
মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান ভূইয়া বলেন, বর্তমান সরকার পরিবেশবান্ধব স্থাপনা ও নির্মাণসামগ্রীর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। সেই সূত্র ধরে দেশীয় ব্র্যান্ড হিসেবে পারটেক্স এই প্রথম নিজেদের কারখানায় পরিবেশবান্ধব জিপসাম বোর্ড উৎপাদন শুরু করেছে। কিন্তু ট্যারিক ভ্যালু ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে চায়না থেকে আমদানিকৃত কমদামি নিম্নমানের জিপসাম বোর্ডের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে বেশি দূর এগোনো যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।
দেশীয় পরিবেশবান্ধব শিল্প রক্ষায় সরকারের কাছে নীতি সহায়তা চান মনিরুজ্জামান ভূইয়া। তিনি জানান, স্থানীয় বাজারে জিপসাম বোর্ডের চাহিদা কম থাকায় কারখানাটি বর্তমানে সক্ষমতার মাত্র ২০ শতাংশ বোর্ড উৎপাদন করছে। পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী জিপসাম বোর্ডের ব্যবহার বাড়াতে সরকার, রিহ্যাব ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট মহল যদি এগিয়ে আসে তাহলে জিপসাম বোর্ড আবাসন খাতে বিপ্লব ঘটাতে পারবে বলে আশবাদ ব্যক্ত করেন মনিরুজ্জামান ভূইয়া। তিনি বলেন, দেশীয় শিল্পের বিকাশ হলে একদিকে যেমন হাজারো বেকারের কর্মসংস্থান হবে, অন্যদিকে দেশে স্থাপনা নির্মাণে পরিবেশবান্ধব জিপসাম বোর্ডের ব্যবহারও বাড়বে।
কারখানা দেখে ফেরার সময় হেড অব প্ল্যান্ট মনিরুজ্জামান একটি চমকপ্রদ তথ্য জানালেন, এত বড় কারখানাটি চলছে কোনো কাঠ-কয়লা না পুড়িয়েই। পাশের পারটেক্স প্লাইউড কারখানার ফেলে দেয়া জুট ডাস্ট ও উড ডাস্ট থেকেই জ্বালানির জোগান আসছে এত বিশাল এই কারখানাটিতে। পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী জিপসাম বোর্ড তৈরিও হচ্ছে পরিবেশের কোনো ক্ষতি না করেই।

কারিকা ডেস্ক :
শীতের এই সময়টায় চারপাশ হয়ে থাকে শুস্ক। প্রায়ই শোনা যায় অগ্নিকান্ডের ঘটনা। নিমিষেই পুড়ে যায় জীবন ও বহুমূল্য সম্পদ। তাই একটু খরচ করে হলেও কিছু যন্ত্রপাতি ভবনে স্থাপন করলে তা যেমন আগুন নেভাতে সক্ষম তেমন বহু মূল্যবান জানমালের নিরাপত্তা বিধানেও কার্যকর। এ ধরনের কিছু যন্ত্রপাতির কথা তুলে ধরা হলো এখানে-
ফায়ার স্প্রিংকলার- স্বয়ংক্রিয়ভাবে পানি ছিটায়:
আগুন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেভানোর জন্য এ যন্ত্রটি সারা বিশ্বে ব্যবহৃত হয়। অত্যন্ত কার্যকর এ যন্ত্রটি ব্যবহার করে প্রতি বছর বহু অগ্নিকাণ্ড রোধ করা সম্ভব হচ্ছে। যদিও প্রাথমিক অবস্থায় বিপণী বিতান ও বাণিজ্যিক স্থাপনায় এটি স্থাপন করা একটু ব্যয়সাধ্য। তবে একবার স্থাপন হয়ে গেলে তা অত্যন্ত কার্যকরভাবে আগুন নেভাতে পারে।
কোথাও আগুন লেগে গেলে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলেও রাস্তায় জ্যামসহ নানা কারণে তাদের আসতে সময় রাগে। এরপর পাইপ স্থাপন করে কাজ শুরু করতেও কিছুটা সময় নষ্ট হয়।  আর এ সময়ের মধ্যে প্রায়ই আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। কিন্তু স্প্রিংকলার এসব ঝামেলা থেকে দূরে রাখে।
এটি মূলত পানির পাইপের নেটওয়ার্ক ও তার স্থানে স্থানে স্থাপিত স্বয়ংক্রিয় পানি ছেটানোর ব্যবস্থা। স্প্রিংকলারের কাজ পানি ছিটানো। বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থাপনার স্থানে স্থানে স্প্রিংকলার বসানো থাকে। কোথাও আগুন লেগে গেলে এ স্প্রিংকলারগুলোর মুখের সংবেদনশীল অংশটি অবমুক্ত হয়ে যায়। ফলে তা থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পানি ছিটানো শুরু হয়। এতে আগুন নিয়ন্ত্রণে চলে আসে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই।
ফায়ার হাইড্রেন্ট- পানি সংকট কাটায় :
বাংলাদেশে অগ্নিকাণ্ডের সময় প্রায়ই পানির সংকটের কথা জানা যায়। ফায়ার সার্ভিসের গাড়িতে খুব বেশি পানি থাকে না। কয়েক মিনিটেই এ পানি শেষ হয়ে যায়। আর তাই প্রয়োজন হয়  অগ্নিকাণ্ডের কাছাকাছি স্থানে পানির ব্যবস্থা। এক্ষেত্রে উন্নত বিশ্বে ব্যবহৃত হয় ফায়ার হাইড্রেন্ট। এটি মূলত একটি পানির সংরক্ষণাগারের সঙ্গে সংযুক্ত আগুন নেভানোর জন্য পানির ব্যবস্থা। এখানে উচ্চচাপে পানি সংরক্ষিত হয়। ফলে কাছাকাছি কোথাও আগুন লাগলে এ পয়েন্টে পাইপ লাগিয়ে অগ্নি নির্বাপকরা সহজেই আগুন নেভান। বাংলাদেশে এখনও ফায়ার হাইড্রেন্ট স্থাপন শুরু না হলেও এ ব্যবস্থা চালু করা এখন সময়ের দাবি।
আগুন নিয়ন্ত্রণ নয়, প্রতিরোধ করুন
আমাদের দেশের অধিকাংশ বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আগুন লাগার পর তা কিভাবে নেভানো হবে, সে সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করেন। যদিও বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করা উচিত আগুন লাগার আগেই। কিন্তু বাংলাদেশের পরিস্থিতিতে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তা পাওয়া সহজ নয়। কারণ রাস্তায় জ্যাম লেগেই থাকে। এছাড়া রয়েছে বিভিন্ন স্থানের সংকীর্ণ রাস্তাঘাট। ফলে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের পক্ষে ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানো সম্ভব হয় না। বড় বিপণী বিতান বা আবাসনে আগুন লাগলে তা কিছুক্ষণ পর নেভানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই আগুন লাগলে তা কিভাবে নেভানো হবে তার একটি পরিকল্পনা আগেই করে রাখতে হবে। এক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা ও আগুন শনাক্ত ও নেভানোর যন্ত্রপাতি এবং সেগুলো চালানোর মতো প্রশিক্ষিত জনবল থাকা প্রয়োজন।

0 1757
কারিকা ডেস্ক :
পঞ্জিকার হিসেবে এখন আশ্বিন মাস। কিন্তু বৃষ্টি পিছু ছাড়েনি এখনো। এই সময়ে বাড়ির পানির ট্যাংকের বাড়তি পরিচর্যা করতে হবে। বর্ষায় পানির ট্যাংকের পরিচর্যায় কিছু বাড়তি সতর্কতা থাকলেই আপনি থাকতে পারবেন চিন্তামুক্ত।
ভূগর্ভস্থ পানির ট্যাংক
ভূগর্ভস্থ ট্যাংক বর্ষাকালে বৃষ্টির সময় বেশি লক্ষ রাখতে হবে। বর্ষার অতিরিক্ত বৃষ্টিতে অনেক সময় ট্যাংক ডুবে যায়। তাই বৃষ্টি হলে ভূগর্ভস্থের ট্যাংকে যেন বৃষ্টির পানি অথবা ম্যানহোলের ময়লা না ঢুকতে পারে, সেদিকে নজর রাখতে হবে। প্রয়োজনে ভূগর্ভস্থের ট্যাংকের চারদিকে ইটের দেয়াল তুলে দেওয়া যেতে পারে। আর যদি তা করা না যায়, তবে যে রাস্তা দিয়ে ট্যাংকে পানি ঢোকে তা বন্ধ করে দিতে হবে। তার পরও যদি বৃষ্টির পানি ঢুকে যায়, তবে ভূগর্ভস্থের ট্যাংকের পানি মোটর দিয়ে সেচে ফেলতে হবে। তারপর ব্লিচিং পাউডার দিয়ে ভালোভাবে ট্যাংক পরিষ্কার করতে হবে। পরিষ্কার করার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যাতে কোনো জীবাণু না থাকে। প্রয়োজন হলে কয়েকবার ব্লিচিং পাউডার দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। পরিষ্কার করার পর ব্লিচিং পাউডার মেশানো পানি মোটর দিয়ে তুলে ফেললে ভালো হয়।
বাসার ছাদের পানির ট্যাংক
বাসার ছাদের ট্যাংকের ক্ষেত্রে বৃষ্টি বা ম্যানহোলের পানি ঢোকার আশঙ্কা না থাকলেও বৃষ্টির সময় বাড়তি খেয়াল রাখতে হবে। ছাদের ট্যাংক যেখানে বসানো হয়েছে, সেই স্থানটি ছাদের অন্য স্থান থেকে উঁচু হলে ভালো হয়। লাগাতার বৃষ্টিতে ছাদে যেন পানি জমে না যায়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। পানি ফেলে দিয়ে ব্লিচিং পাউডার দিয়ে ট্যাংক পরিষ্কার করতে হবে। পরিষ্কার করা হয়ে গেলে ব্লিচিং পাউডারের পানি ফেলে দিন। কয়েকবার ব্লিচিং পাউডার মেশানো পানি পরিষ্কার করে গন্ধ যাওয়ার পর ব্যবহার করুন।
আরও কিছু কথা
— পানি রাখার ট্যাংক সেটা ভূগর্ভস্থ হোক অথবা বাড়ির ছাদেই হোক, নিয়মিত পরিষ্কার করা উচিত।
— ট্যাংকের ভেতর স্যাঁতসেঁতে না হয়ে যায়, সেদিকে নজর রাখতে হবে।
— ট্যাংকের ঢাকনা সব সময় বন্ধ করে রাখবেন।
— ট্যাংকে পানি সরবরাহ লাইনে কোনো ফুটো বা লিক আছে কি না, থাকলে বন্ধ করে দিন।
— পরিষ্কার করার পর ব্লিচিং পাউডারের গন্ধ না যাওয়া পর্যন্ত অন্য পানি ব্যবহার করুন।
— মাঝেমধ্যে ট্যাংকের পানি পরীক্ষা করুন।
— ময়লা-আবর্জনা যাতে ট্যাংকের মধ্যে না পড়ে, সেদিকে নজর রাখুন।

কারিকা ডেস্ক :
ঘরের দেয়ালে রং ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাসিন্দাদের পছন্দ বা রুচি ও মনস্তাত্ত্বিক দিকগুলো প্রাধান্য পায়। সাধারণত বিভিন্ন ঘরের রং আলাদা হলেই ভালো হয়। তবে ঘরের তিন দেয়াল অফ-হোয়াইট কিংবা সাদা রেখে বাকি এক দিকের দেয়ালে রঙের ভিন্নতা আনলে সব দিক থেকেই ভালো।
ড্রয়িংরুমের দেয়ালের রং হতে পারে লাল। রংটি চিত্তাকর্ষক এবং জমজমাট পরিবেশের সঙ্গে মানানসই। সবার আগে যেহেতু এ ঘরই বাইরের মানুষের চোখে পড়ে, রুচির পরিচয় অনেকখানি তুলে ধরা যায় অতিথিকক্ষের মাধ্যমে। খাবারঘরের দেয়ালটিতেও উজ্জ্বল রং (যেমন: কমলা) ব্যবহার করতে পারেন। এ ঘরে সাধারণত হই-হুল্লোড়, আড্ডা খুব বেশি হয়। তাই উজ্জ্বল রংগুলো সেখানে সুন্দর অনুষঙ্গ হিসেবে কাজ করে। ছোট শিশুদের ঘরের রং বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ছেলেদের জন্য নীল আর মেয়েদের জন্য গোলাপি ধাঁচের রং ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ছাড়া একরঙা দেয়ালের পরিবর্তে একটি ফিচার দেয়ালে বিভিন্ন রঙের বৈচিত্র্য রাখা যেতে পারে। শোবারঘরের জন্য বেগুনির মতো রং জুতসই। বয়স্ক মানুষেরা বেশি রঙের ব্যবহার অপছন্দ করলে তাঁদের ঘরের জন্য চার দেয়ালেই হালকা বা অফ-হোয়াইট ধরনের রং ব্যবহার করতে পারেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিভিন্ন রঙের মিশ্রণ বা ইলিউশন ব্যবহার করলে ফ্লোরাল কিংবা লতাপাতা নকশার ইলিউশনকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। পুরো বাড়ির ছাদ ও মেঝেতেও সাদার ব্যবহার থাকলে ভালো। এতে ঘরগুলোকে প্রশস্ত মনে হয়। অফ-হোয়াইট কিংবা সাদার পরিবর্তে চার দেয়ালজুড়ে একই রং ব্যবহার করলে হিজিবিজি ও আবদ্ধ পরিবেশ সৃষ্টি হয়। তাই দেরি না করে এখনই রাঙিয়ে নিন আপনার বাড়ির অন্দর মহল।

কারিকা ডেস্ক :
চুলায় গ্যাস সরবরাহের আগে রেগুলেটরটির সঠিক মাপ পরীক্ষা করে নিন।
নিজে নিজে গ্যাসকেট পরিবর্তন করবেন না।
ভালভের ভেতরে গ্যাসকেট (কালো রঙের রাবারের গোল রিং) আছে কি না নিশ্চিত হোন।
ভালভে ছিদ্র আছে—এমন সন্দেহ হলে ম্যাচ বা আগুন জ্বালিয়ে পরীক্ষা করতে যাবেন না। সে ক্ষেত্রে সাবান–পানি দিয়ে হোস কানেকশনটি পরীক্ষা করুন এবং প্রতি দুই বছরে একবার হোস পাইপ পরিবর্তন করুন।
আপনার ট্রাকটি কখেনা এলপি গ্যাস সিলিন্ডারবোঝাই অবস্থায় আগুনের কাছাকাছি রাখবেন না।
সিলিন্ডার ওঠানো এবং নামানোর সময় সর্বদা নিরাপত্তা সরঞ্জাম পরিধান করুন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিলিন্ডার পরিবহনে সর্বদা সতর্ক থাকুন।
সিলিন্ডারটি সর্বদা খাড়াভাবে, সূর্যতাপ এবং আগুনের উৎস থেকে দূরে রেখে সংরক্ষণ করুন।
পেট্রল, তরল দাহ্য পদার্থ এবং অ্যারোসল–জাতীয় পদার্থ সর্বদা সিিলন্ডার থেকে দূরে রাখুন।
এলপি গ্যাস সিলিন্ডার সংরক্ষণাগারে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জামের ব্যবস্থা রাখুন।
ভুল এড়াতে খালি সিলিন্ডার এবং পূর্ণ সিলিন্ডার পৃথকভাবে সংরক্ষণ করুন।
এলপি গ্যাস বাতাসের চেয়ে ভারী এবং এটি বাষ্পীভূত হওয়ার সময় জায়গা দখল করে। তাই এলপি গ্যাস সিলিন্ডার সংরক্ষণাগারে অবশ্যই বাতাস চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখুন।

0 1160
কারিকা ডেস্ক :
জমি কেনার আগে কিছু বিষয়ে অবশ্যই আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে। বিশেষ করে জমি বিক্রেতার মালিকানা এবং জমির বিভিন্ন দলিল ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করতে হবে; নইলে পড়তে পারেন বিপদে, হতে পারেন প্রতারিত। জমি কেনার প্রধান পূর্বশর্ত হচ্ছে ক্রেতা হিসেবে আপনাকে সাবধান এবং সচেতন হতে হবে। হুট করে দলিলপত্রাদি যাচাই না করে জমি কেনা উচিত নয়। অনেক সময় জমির দালালদের কথায় প্ররোচিত হয়ে জমি কিনতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ার ঘটনাও দেখা যায়।
জমি কেনার আগে জমির মালিকানা সঠিকভাবে যাচাই করতে হবে। মাঝেমধ্যে দেখা যায়, একজনের নামের জমি অন্য একজন ভুয়া দলিল দেখিয়ে বিক্রি করেছে। পরে আসল মালিক ক্রেতাকে জড়িয়েও মামলা ঠুকে দেন। যে ব্যক্তি জমিটি বিক্রয় করবেন ওই জমিতে বিক্রয়কারীর জমির পূর্ণ মালিকানা আছে কি না, প্রথমে সে বিষয়টি নিশ্চিত হতে হবে। এ জন্য প্রস্তাবিত জমিটির সর্বশেষ রেকর্ডে বিক্রয়কারীর নাম উল্লেখ আছে কি না এবং সিএস, আরএসসহ অন্যান্য খতিয়ানের ক্রম মিলিয়ে দেখতে হবে। বিক্রয়ের জন্য প্রস্তাবিত জমিটি বিক্রয়কারীর দখলে থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে। এ জন্য সরেজমিনে নকশার সঙ্গে জমিটির বাস্তব অবস্থা মিলিয়ে দেখতে হবে। প্রয়োজনে পার্শ্ববর্তী ভূমির মালিকদের কাছ থেকে দাগ ও খতিয়ান নম্বর জেনে মিলাতে হবে। জমিটি বিক্রেতা কী উপায়ে মালিক হলেন। তিনি উত্তরাধিকারসূত্রে মালিক নাকি ক্রয়সূত্রে মালিক তা জেনে নিতে হবে। জমিটি সরকারি কোনো সংস্থা অধিগ্রহণ করেছে কি না,খাসজমির অন্তর্ভুক্ত কি না কিংবা অর্পিত সম্পত্তি কি না—তা জেনে নিতে হবে।
জমিটির মালিক কোনো আমমোক্তার বা অ্যাটর্নি নিয়োগ করেছে কি না, জেনে নিন। বিক্রেতা যদি আমমোক্তারনামার মাধ্যমে ক্ষমতা পেয়ে থাকে, এর বৈধতা যাচাই করতে হবে। প্রকৃত মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে দেখতে হবে প্রকৃত মালিক যথাযথ কি না এবং আমমোক্তারটি যথাযথ হয়েছে কি না। ২০০৫ সাল থেকে নতুন ফরমেট বা ছকবদ্ধ আকারে জমির বিক্রয় দলিল সম্পাদন করার নিয়ম চালু হয়েছে। এতে জমি পূর্ববর্তী ন্যূনতম ২৫ বছরের মালিকানার ধারাবাহিক বিবরণ উল্লেখ করতে হয়। জমি কেনার সময় অবশ্যই এই বিবরণের সঙ্গে বাস্তব অবস্থা মিলিয়ে দেখতে হবে।
মিউটেশন বা নামজারি করা হয়েছে কি না এবং সে অনুযায়ী খতিয়ানে হস্তান্তরিত দাগের মোট জমির পরিমাণ এবং দাগের অবশিষ্ট পরিমাণ মিলিয়ে দেখতে হবে। জমিটির হালনাগাদ ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। ভূমির কর না দেওয়ার কারণে কোনো সার্টিফিকেট মামলা আছে কি না, এ বিষয়ে খোঁজ নিতে হবে। জমিটির ওপর অন্য কোনো মামলা আছে কি না, জেনে নিতে হবে।

কারিকা ডেস্ক :
আপনি সারা জীবনের সঞ্চয় দিয়ে একটি ফ্ল্যাট কিনতে চান।কিন্তু জানেন কি আপনার স্বপ্নকে পুঁজি করে অর্থ লুট করতে পারে অর্থলোভী প্রতারক ব্যবসায়ীরা। অনেক সময় তারা এমন সব অফার- চটকদার বিজ্ঞাপন দেয় যে আপনি প্রলুদ্ধ হয়ে  তাদের গ্যারাকলে আটকে যাবেন। পরবর্তীতে   নাকের জল চোখের জল একাকার হয়ে পুরো জীবনটাই শেষপর্যন্ত দুর্বিসহ হয়ে ওঠে। অনেক ক্রেতা আছেন যারা সারা জীবনের সঞ্চয়ই কেবল হারান না, ব্যাংক ঋণেও  জর্জরিত হয়ে সর্বশান্ত হয়ে যান।
সরকার আইন করার সময় যদিও ক্রেতাদের বেশ কিছু স্বার্থ রক্ষা করেছে। কিন্তু এ আইনের ফাঁক ফোকরও কম নয়। সে কারণে ক্রেতা হিসাবে আপনাকেই  বেশি সাবধান হতে হবে। চুক্তি করার সময় সবদিক খেয়াল রেখে চুক্তি করবেন।
১। বুকিং দেয়ার আগেই প্রজেক্টটা দেখে নিন। ডেভেলপার আইনানুগ নিবন্ধিত কিনা তা যাচাই করে নিন। তাদের আগের কোন অভিজ্ঞতা আছে কিনা, কিংবা কোন বদনাম আছে কিনা তা-ও দেখুন। অতীতে তারা কাউকে ঠকিয়েছে কিনা তাও দেখুন।
২। জমির মালিকের সাথে ডেভেলপারের চুক্তিপত্র ও আমমোক্তারনামাটি দেখে নিন। কি কি মালামাল দেয়া হবে তা বিশ্লেষণ করে দেখুন। ফিটিংস কি উন্নতমানের নাকি মানসম্পন্ন তা দেখে নিন। এতে একটা বড় ধরনের শুভঙ্করের ফাঁকি আছে। মানসম্পন্ন যে টাইলস ১০০/-টাকায় পাওয়া যায়, উন্নতমানের সেই টাইলস এর দাম ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা।
৩। মালামালের গুণগত মান, অনুমোদিত প্ল্যান, নক্সা এবং জমির স্বত্বের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দেখুন। অনেক সময় দেখা যায়, নিম্নমানের রড ব্যবহার করে ইমারত নির্মাণ করায় ৪ তলার বেশী যেখানে করা উচিত নয়, সেখানে ৬-৭ তলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছে। মাটির নীচের ফাউন্ডেশন এবং উপকরনের গুনগত মান যাচাই করা জরুরী। এসব দেখার জন্যে একজন ভাল আইনজীবীর পরামর্শ নিন।
৪। ফ্ল্যাট-এর সাথে অনেকগুলো বিষয় জড়িত থাকে। যেমন, মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল, সুয়ারেজ, পানি সরবরাহসহ আরো অনেক বিষয়। স্যানিটারী ফিটিংস, লিফট, জেনারেটর, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, পানি উত্তোলন ব্যবস্থা এর সব কিছুই চুক্তিতে উল্লেখ করুন।
৪। জমির মালিক এর সাথে ফ্ল্যাট ভাগাভাগি কিভাবে হয়েছে, তা দেখে নিন। জমির মালিক কোন কোন ফ্ল্যাট পাবেন তাও দেখে নিন।
৫। ডেভেলপারের কাছ থেকে ফ্ল্যাট কেনার চুক্তি করার সময় সর্বশেষ কিন্তি দেয়ার সময়ের সাথে ফ্ল্যাট হস্তান্তরের সময় সম্পৃক্ত করুন। ফ্ল্যাট রেডি করে হস্তান্তর ও দলিল সম্পাদন ও রেজিষ্ট্রী দেয়ার সময় সর্বশেষ কিস্তির টাকা পরিশোধ করবেন মর্মে চুক্তিতে উল্লেখ করুন। কেননা, অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, ডেভেলপারের বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে ক্রেতারা নির্ধারিত সময়ে কিস্তির টাকা পরিশোধ করে দেয়ার পরও দখল দেয়া হয় না এবং দলিল রেজিষ্ট্রী করে দেয়া হয় না। তারা ক্রেতা থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কিস্তির সব টাকা নিয়ে ফেললেও, প্রজেক্ট শেষ করতে অনেক বিলম্ব করে।
৬। আপনি কত বর্গফুটের ফ্ল্যাট কিনছেন, তার মধ্যে কমন স্পেস কতটুকু, আর মুল ফ্ল্যাট কতটুকু তা চুক্তিপত্রে সুষ্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন। সরেজমিনে বুঝিয়ে দেয়ার সময় কমবেশী হলে, কি করতে হবে তা আগেই নির্ধারন করে ফেলুন এবং চুক্তিপত্রে তা সুষ্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন।
৭। কাজ অসম্পূর্ণ রেখে ডেভেলপাররা যাতে পালাতে না পারেন, সে ব্যাপারে নিশ্চিত হবে হবে যতটা পারা যায়। ফ্ল্যাট হস্তান্তরে বিলম্ব হলে ক্রেতা কি কি প্রতিকার পাবেন, তার বিস্তারিত আগেই ঠিক করে নিতে হবে।
৮। কত তলা পর্যস্ত অনুমোদন পাওয়া গেছে তা দেখে ফ্ল্যাট কিনুন। অনেক সময় দেখা যায়, ৪-৫তলার অনুমোদন থাকলেও ৭-৮ তলা পর্যন্ত ক্রেতাদের নিকট আগাম বিক্রীর চুক্তি করে বসেছে।
৯। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রিহ্যাবের সদস্য কিনা তা-ও যাচাই করে নিন। কেননা সমস্যা হলে রিহ্যাব তা সমাধানে উদ্যোগ নেয়। কিন্তু তাদের সদস্য না হলে সেটা সম্ভব হয় না।
১০। জমির স্বত্বের ব্যাপারে খোঁজ খবর নিন। কেননা পরবর্তীতে আইনী জটিলতায় আটকে গেলে ক্রেতারাই বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হন।
১১। চুক্তির শর্তগুলোর দিকে ভালভাবে লক্ষ্য রাখুন। কোন শর্ত ভঙ্গ হলেই কিছু অসাধু নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ঐ চুক্তি বাতিল করে দিয়ে ফ্ল্যাট পুনরায় অন্যের নিকট বিক্রী করে দেয়। এভাবে একই ফ্ল্যাট কয়েকবার বিক্রী করার নজির আছে।
১৩। প্রলুদ্ধ হয়ে তাড়াহুড়ো করে চুক্তি করে ফেলবেন না।

0 1511
কারিকা ডেস্ক
ঘরে নানা পোকামাকড়ের উপদ্রব খুব সাধারণ একটি সমস্যা। তবে এটি শুধু ঝামেলাই বাড়ায় না, নানা রোগও ছড়ায়। কীভাবে ঘরে পোকার উপদ্রব কমানো যায় তার কিছু টিপস দেওয়া হল :
বাজারে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ পাওয়া যায়। আরশোলার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের চক, ইঁদুরের হাত থেকে রেহাই পেতে লাল গমের দানার মতো লানির্যাট ওষুধ, জাঁতাকল, বাক্সকল ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে। অন্যান্য পোকার উপদ্রব থেকে রেহাই পেতে ব্যবহার করতে পারেন বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড় মারার স্প্রে।
এসব ছাড়াও কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি রয়েছে, যার সাহায্যে সহজে পোকামাকড়ের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এগুলো হল-
আলমারিতে বা কাপড় রাখার যেকোনো স্থানে নিমপাতা শুকনো করে কাপড়ে বেঁধে কিংবা কালোজিরা কাপড়ের পুঁটলি করে রেখে দিলে কাপড়চোপড়ে পোকা আক্রমণ করে কম।
আবার অনেক সময় কাপড়ের ভেতর ন্যাপথলিন ব্যবহার করলে পোকা ধরার আশঙ্কা কম থাকে এবং কাপড়ে সুগন্ধও থাকে।
মাঝেমধ্যে রোদে দিলে কাপড়ে পোকা ধরে না।
রান্নাঘরে চিনির কৌটায় দু-একটা লবঙ্গ রেখে দিলে পিঁপড়ের উপদ্রব কম হয়।
ঘরের দেয়ালে উইপোকার উপদ্রব বেশি দেখা যায়। এ থেকে রেহাই পেতে দেয়ালের যে স্থান থেকে উইপোকা বের হয়, সেখানে কর্পূরের গুঁড়ার সঙ্গে লিকুইড প্যারাফিন মিশিয়ে দ্রবণ তৈরি করে দেওয়া যেতে পারে।
শুকনো নিমপাতার গুঁড়ো রান্নাঘরের যেকোনো স্থানে ছড়িয়ে রাখলে পোকার উপদ্রব কম হয়ে থাকে।
যেকোনো খাবার পোকার হাত থেকে রক্ষার জন্য খাবার টেবিলের ওপর যেন কোনো লাইট না রাখা হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। অবশ্যই বাড়ির নকশা করার সময় ডাইনিং রুমের খাবার টেবিলের ওপর কিংবা রান্নাঘরে চুলার ওপর লাইটের ব্যবস্থা রাখা যাবে না। কারণ, কোনো কোনো ঋতুতে লাইটে পোকার উপদ্রব বেশি থাকে।
তেলাপোকা, ইঁদুর, মশা, মাছি—এসব পোকার হাত থেকে রক্ষা করতে অবশ্যই প্রতিটা ঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।