Home মূল কাগজ পরামর্শ

কারিকা ডেস্ক :
শীতের এই সময়টায় চারপাশ হয়ে থাকে শুস্ক। প্রায়ই শোনা যায় অগ্নিকান্ডের ঘটনা। নিমিষেই পুড়ে যায় জীবন ও বহুমূল্য সম্পদ। তাই একটু খরচ করে হলেও কিছু যন্ত্রপাতি ভবনে স্থাপন করলে তা যেমন আগুন নেভাতে সক্ষম তেমন বহু মূল্যবান জানমালের নিরাপত্তা বিধানেও কার্যকর। এ ধরনের কিছু যন্ত্রপাতির কথা তুলে ধরা হলো এখানে-
ফায়ার স্প্রিংকলার- স্বয়ংক্রিয়ভাবে পানি ছিটায়:
আগুন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেভানোর জন্য এ যন্ত্রটি সারা বিশ্বে ব্যবহৃত হয়। অত্যন্ত কার্যকর এ যন্ত্রটি ব্যবহার করে প্রতি বছর বহু অগ্নিকাণ্ড রোধ করা সম্ভব হচ্ছে। যদিও প্রাথমিক অবস্থায় বিপণী বিতান ও বাণিজ্যিক স্থাপনায় এটি স্থাপন করা একটু ব্যয়সাধ্য। তবে একবার স্থাপন হয়ে গেলে তা অত্যন্ত কার্যকরভাবে আগুন নেভাতে পারে।
কোথাও আগুন লেগে গেলে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলেও রাস্তায় জ্যামসহ নানা কারণে তাদের আসতে সময় রাগে। এরপর পাইপ স্থাপন করে কাজ শুরু করতেও কিছুটা সময় নষ্ট হয়।  আর এ সময়ের মধ্যে প্রায়ই আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। কিন্তু স্প্রিংকলার এসব ঝামেলা থেকে দূরে রাখে।
এটি মূলত পানির পাইপের নেটওয়ার্ক ও তার স্থানে স্থানে স্থাপিত স্বয়ংক্রিয় পানি ছেটানোর ব্যবস্থা। স্প্রিংকলারের কাজ পানি ছিটানো। বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থাপনার স্থানে স্থানে স্প্রিংকলার বসানো থাকে। কোথাও আগুন লেগে গেলে এ স্প্রিংকলারগুলোর মুখের সংবেদনশীল অংশটি অবমুক্ত হয়ে যায়। ফলে তা থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পানি ছিটানো শুরু হয়। এতে আগুন নিয়ন্ত্রণে চলে আসে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই।
ফায়ার হাইড্রেন্ট- পানি সংকট কাটায় :
বাংলাদেশে অগ্নিকাণ্ডের সময় প্রায়ই পানির সংকটের কথা জানা যায়। ফায়ার সার্ভিসের গাড়িতে খুব বেশি পানি থাকে না। কয়েক মিনিটেই এ পানি শেষ হয়ে যায়। আর তাই প্রয়োজন হয়  অগ্নিকাণ্ডের কাছাকাছি স্থানে পানির ব্যবস্থা। এক্ষেত্রে উন্নত বিশ্বে ব্যবহৃত হয় ফায়ার হাইড্রেন্ট। এটি মূলত একটি পানির সংরক্ষণাগারের সঙ্গে সংযুক্ত আগুন নেভানোর জন্য পানির ব্যবস্থা। এখানে উচ্চচাপে পানি সংরক্ষিত হয়। ফলে কাছাকাছি কোথাও আগুন লাগলে এ পয়েন্টে পাইপ লাগিয়ে অগ্নি নির্বাপকরা সহজেই আগুন নেভান। বাংলাদেশে এখনও ফায়ার হাইড্রেন্ট স্থাপন শুরু না হলেও এ ব্যবস্থা চালু করা এখন সময়ের দাবি।
আগুন নিয়ন্ত্রণ নয়, প্রতিরোধ করুন
আমাদের দেশের অধিকাংশ বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আগুন লাগার পর তা কিভাবে নেভানো হবে, সে সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করেন। যদিও বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করা উচিত আগুন লাগার আগেই। কিন্তু বাংলাদেশের পরিস্থিতিতে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তা পাওয়া সহজ নয়। কারণ রাস্তায় জ্যাম লেগেই থাকে। এছাড়া রয়েছে বিভিন্ন স্থানের সংকীর্ণ রাস্তাঘাট। ফলে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের পক্ষে ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানো সম্ভব হয় না। বড় বিপণী বিতান বা আবাসনে আগুন লাগলে তা কিছুক্ষণ পর নেভানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই আগুন লাগলে তা কিভাবে নেভানো হবে তার একটি পরিকল্পনা আগেই করে রাখতে হবে। এক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা ও আগুন শনাক্ত ও নেভানোর যন্ত্রপাতি এবং সেগুলো চালানোর মতো প্রশিক্ষিত জনবল থাকা প্রয়োজন।

0 918
কারিকা ডেস্ক :
পঞ্জিকার হিসেবে এখন আশ্বিন মাস। কিন্তু বৃষ্টি পিছু ছাড়েনি এখনো। এই সময়ে বাড়ির পানির ট্যাংকের বাড়তি পরিচর্যা করতে হবে। বর্ষায় পানির ট্যাংকের পরিচর্যায় কিছু বাড়তি সতর্কতা থাকলেই আপনি থাকতে পারবেন চিন্তামুক্ত।
ভূগর্ভস্থ পানির ট্যাংক
ভূগর্ভস্থ ট্যাংক বর্ষাকালে বৃষ্টির সময় বেশি লক্ষ রাখতে হবে। বর্ষার অতিরিক্ত বৃষ্টিতে অনেক সময় ট্যাংক ডুবে যায়। তাই বৃষ্টি হলে ভূগর্ভস্থের ট্যাংকে যেন বৃষ্টির পানি অথবা ম্যানহোলের ময়লা না ঢুকতে পারে, সেদিকে নজর রাখতে হবে। প্রয়োজনে ভূগর্ভস্থের ট্যাংকের চারদিকে ইটের দেয়াল তুলে দেওয়া যেতে পারে। আর যদি তা করা না যায়, তবে যে রাস্তা দিয়ে ট্যাংকে পানি ঢোকে তা বন্ধ করে দিতে হবে। তার পরও যদি বৃষ্টির পানি ঢুকে যায়, তবে ভূগর্ভস্থের ট্যাংকের পানি মোটর দিয়ে সেচে ফেলতে হবে। তারপর ব্লিচিং পাউডার দিয়ে ভালোভাবে ট্যাংক পরিষ্কার করতে হবে। পরিষ্কার করার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যাতে কোনো জীবাণু না থাকে। প্রয়োজন হলে কয়েকবার ব্লিচিং পাউডার দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। পরিষ্কার করার পর ব্লিচিং পাউডার মেশানো পানি মোটর দিয়ে তুলে ফেললে ভালো হয়।
বাসার ছাদের পানির ট্যাংক
বাসার ছাদের ট্যাংকের ক্ষেত্রে বৃষ্টি বা ম্যানহোলের পানি ঢোকার আশঙ্কা না থাকলেও বৃষ্টির সময় বাড়তি খেয়াল রাখতে হবে। ছাদের ট্যাংক যেখানে বসানো হয়েছে, সেই স্থানটি ছাদের অন্য স্থান থেকে উঁচু হলে ভালো হয়। লাগাতার বৃষ্টিতে ছাদে যেন পানি জমে না যায়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। পানি ফেলে দিয়ে ব্লিচিং পাউডার দিয়ে ট্যাংক পরিষ্কার করতে হবে। পরিষ্কার করা হয়ে গেলে ব্লিচিং পাউডারের পানি ফেলে দিন। কয়েকবার ব্লিচিং পাউডার মেশানো পানি পরিষ্কার করে গন্ধ যাওয়ার পর ব্যবহার করুন।
আরও কিছু কথা
— পানি রাখার ট্যাংক সেটা ভূগর্ভস্থ হোক অথবা বাড়ির ছাদেই হোক, নিয়মিত পরিষ্কার করা উচিত।
— ট্যাংকের ভেতর স্যাঁতসেঁতে না হয়ে যায়, সেদিকে নজর রাখতে হবে।
— ট্যাংকের ঢাকনা সব সময় বন্ধ করে রাখবেন।
— ট্যাংকে পানি সরবরাহ লাইনে কোনো ফুটো বা লিক আছে কি না, থাকলে বন্ধ করে দিন।
— পরিষ্কার করার পর ব্লিচিং পাউডারের গন্ধ না যাওয়া পর্যন্ত অন্য পানি ব্যবহার করুন।
— মাঝেমধ্যে ট্যাংকের পানি পরীক্ষা করুন।
— ময়লা-আবর্জনা যাতে ট্যাংকের মধ্যে না পড়ে, সেদিকে নজর রাখুন।

কারিকা ডেস্ক :
ঘরের দেয়ালে রং ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাসিন্দাদের পছন্দ বা রুচি ও মনস্তাত্ত্বিক দিকগুলো প্রাধান্য পায়। সাধারণত বিভিন্ন ঘরের রং আলাদা হলেই ভালো হয়। তবে ঘরের তিন দেয়াল অফ-হোয়াইট কিংবা সাদা রেখে বাকি এক দিকের দেয়ালে রঙের ভিন্নতা আনলে সব দিক থেকেই ভালো।
ড্রয়িংরুমের দেয়ালের রং হতে পারে লাল। রংটি চিত্তাকর্ষক এবং জমজমাট পরিবেশের সঙ্গে মানানসই। সবার আগে যেহেতু এ ঘরই বাইরের মানুষের চোখে পড়ে, রুচির পরিচয় অনেকখানি তুলে ধরা যায় অতিথিকক্ষের মাধ্যমে। খাবারঘরের দেয়ালটিতেও উজ্জ্বল রং (যেমন: কমলা) ব্যবহার করতে পারেন। এ ঘরে সাধারণত হই-হুল্লোড়, আড্ডা খুব বেশি হয়। তাই উজ্জ্বল রংগুলো সেখানে সুন্দর অনুষঙ্গ হিসেবে কাজ করে। ছোট শিশুদের ঘরের রং বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ছেলেদের জন্য নীল আর মেয়েদের জন্য গোলাপি ধাঁচের রং ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ছাড়া একরঙা দেয়ালের পরিবর্তে একটি ফিচার দেয়ালে বিভিন্ন রঙের বৈচিত্র্য রাখা যেতে পারে। শোবারঘরের জন্য বেগুনির মতো রং জুতসই। বয়স্ক মানুষেরা বেশি রঙের ব্যবহার অপছন্দ করলে তাঁদের ঘরের জন্য চার দেয়ালেই হালকা বা অফ-হোয়াইট ধরনের রং ব্যবহার করতে পারেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিভিন্ন রঙের মিশ্রণ বা ইলিউশন ব্যবহার করলে ফ্লোরাল কিংবা লতাপাতা নকশার ইলিউশনকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। পুরো বাড়ির ছাদ ও মেঝেতেও সাদার ব্যবহার থাকলে ভালো। এতে ঘরগুলোকে প্রশস্ত মনে হয়। অফ-হোয়াইট কিংবা সাদার পরিবর্তে চার দেয়ালজুড়ে একই রং ব্যবহার করলে হিজিবিজি ও আবদ্ধ পরিবেশ সৃষ্টি হয়। তাই দেরি না করে এখনই রাঙিয়ে নিন আপনার বাড়ির অন্দর মহল।

কারিকা ডেস্ক :
চুলায় গ্যাস সরবরাহের আগে রেগুলেটরটির সঠিক মাপ পরীক্ষা করে নিন।
নিজে নিজে গ্যাসকেট পরিবর্তন করবেন না।
ভালভের ভেতরে গ্যাসকেট (কালো রঙের রাবারের গোল রিং) আছে কি না নিশ্চিত হোন।
ভালভে ছিদ্র আছে—এমন সন্দেহ হলে ম্যাচ বা আগুন জ্বালিয়ে পরীক্ষা করতে যাবেন না। সে ক্ষেত্রে সাবান–পানি দিয়ে হোস কানেকশনটি পরীক্ষা করুন এবং প্রতি দুই বছরে একবার হোস পাইপ পরিবর্তন করুন।
আপনার ট্রাকটি কখেনা এলপি গ্যাস সিলিন্ডারবোঝাই অবস্থায় আগুনের কাছাকাছি রাখবেন না।
সিলিন্ডার ওঠানো এবং নামানোর সময় সর্বদা নিরাপত্তা সরঞ্জাম পরিধান করুন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিলিন্ডার পরিবহনে সর্বদা সতর্ক থাকুন।
সিলিন্ডারটি সর্বদা খাড়াভাবে, সূর্যতাপ এবং আগুনের উৎস থেকে দূরে রেখে সংরক্ষণ করুন।
পেট্রল, তরল দাহ্য পদার্থ এবং অ্যারোসল–জাতীয় পদার্থ সর্বদা সিিলন্ডার থেকে দূরে রাখুন।
এলপি গ্যাস সিলিন্ডার সংরক্ষণাগারে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জামের ব্যবস্থা রাখুন।
ভুল এড়াতে খালি সিলিন্ডার এবং পূর্ণ সিলিন্ডার পৃথকভাবে সংরক্ষণ করুন।
এলপি গ্যাস বাতাসের চেয়ে ভারী এবং এটি বাষ্পীভূত হওয়ার সময় জায়গা দখল করে। তাই এলপি গ্যাস সিলিন্ডার সংরক্ষণাগারে অবশ্যই বাতাস চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখুন।

কারিকা ডেস্ক :
জমি কেনার আগে কিছু বিষয়ে অবশ্যই আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে। বিশেষ করে জমি বিক্রেতার মালিকানা এবং জমির বিভিন্ন দলিল ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করতে হবে; নইলে পড়তে পারেন বিপদে, হতে পারেন প্রতারিত। জমি কেনার প্রধান পূর্বশর্ত হচ্ছে ক্রেতা হিসেবে আপনাকে সাবধান এবং সচেতন হতে হবে। হুট করে দলিলপত্রাদি যাচাই না করে জমি কেনা উচিত নয়। অনেক সময় জমির দালালদের কথায় প্ররোচিত হয়ে জমি কিনতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ার ঘটনাও দেখা যায়।
জমি কেনার আগে জমির মালিকানা সঠিকভাবে যাচাই করতে হবে। মাঝেমধ্যে দেখা যায়, একজনের নামের জমি অন্য একজন ভুয়া দলিল দেখিয়ে বিক্রি করেছে। পরে আসল মালিক ক্রেতাকে জড়িয়েও মামলা ঠুকে দেন। যে ব্যক্তি জমিটি বিক্রয় করবেন ওই জমিতে বিক্রয়কারীর জমির পূর্ণ মালিকানা আছে কি না, প্রথমে সে বিষয়টি নিশ্চিত হতে হবে। এ জন্য প্রস্তাবিত জমিটির সর্বশেষ রেকর্ডে বিক্রয়কারীর নাম উল্লেখ আছে কি না এবং সিএস, আরএসসহ অন্যান্য খতিয়ানের ক্রম মিলিয়ে দেখতে হবে। বিক্রয়ের জন্য প্রস্তাবিত জমিটি বিক্রয়কারীর দখলে থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে। এ জন্য সরেজমিনে নকশার সঙ্গে জমিটির বাস্তব অবস্থা মিলিয়ে দেখতে হবে। প্রয়োজনে পার্শ্ববর্তী ভূমির মালিকদের কাছ থেকে দাগ ও খতিয়ান নম্বর জেনে মিলাতে হবে। জমিটি বিক্রেতা কী উপায়ে মালিক হলেন। তিনি উত্তরাধিকারসূত্রে মালিক নাকি ক্রয়সূত্রে মালিক তা জেনে নিতে হবে। জমিটি সরকারি কোনো সংস্থা অধিগ্রহণ করেছে কি না,খাসজমির অন্তর্ভুক্ত কি না কিংবা অর্পিত সম্পত্তি কি না—তা জেনে নিতে হবে।
জমিটির মালিক কোনো আমমোক্তার বা অ্যাটর্নি নিয়োগ করেছে কি না, জেনে নিন। বিক্রেতা যদি আমমোক্তারনামার মাধ্যমে ক্ষমতা পেয়ে থাকে, এর বৈধতা যাচাই করতে হবে। প্রকৃত মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে দেখতে হবে প্রকৃত মালিক যথাযথ কি না এবং আমমোক্তারটি যথাযথ হয়েছে কি না। ২০০৫ সাল থেকে নতুন ফরমেট বা ছকবদ্ধ আকারে জমির বিক্রয় দলিল সম্পাদন করার নিয়ম চালু হয়েছে। এতে জমি পূর্ববর্তী ন্যূনতম ২৫ বছরের মালিকানার ধারাবাহিক বিবরণ উল্লেখ করতে হয়। জমি কেনার সময় অবশ্যই এই বিবরণের সঙ্গে বাস্তব অবস্থা মিলিয়ে দেখতে হবে।
মিউটেশন বা নামজারি করা হয়েছে কি না এবং সে অনুযায়ী খতিয়ানে হস্তান্তরিত দাগের মোট জমির পরিমাণ এবং দাগের অবশিষ্ট পরিমাণ মিলিয়ে দেখতে হবে। জমিটির হালনাগাদ ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। ভূমির কর না দেওয়ার কারণে কোনো সার্টিফিকেট মামলা আছে কি না, এ বিষয়ে খোঁজ নিতে হবে। জমিটির ওপর অন্য কোনো মামলা আছে কি না, জেনে নিতে হবে।

কারিকা ডেস্ক :
আপনি সারা জীবনের সঞ্চয় দিয়ে একটি ফ্ল্যাট কিনতে চান।কিন্তু জানেন কি আপনার স্বপ্নকে পুঁজি করে অর্থ লুট করতে পারে অর্থলোভী প্রতারক ব্যবসায়ীরা। অনেক সময় তারা এমন সব অফার- চটকদার বিজ্ঞাপন দেয় যে আপনি প্রলুদ্ধ হয়ে  তাদের গ্যারাকলে আটকে যাবেন। পরবর্তীতে   নাকের জল চোখের জল একাকার হয়ে পুরো জীবনটাই শেষপর্যন্ত দুর্বিসহ হয়ে ওঠে। অনেক ক্রেতা আছেন যারা সারা জীবনের সঞ্চয়ই কেবল হারান না, ব্যাংক ঋণেও  জর্জরিত হয়ে সর্বশান্ত হয়ে যান।
সরকার আইন করার সময় যদিও ক্রেতাদের বেশ কিছু স্বার্থ রক্ষা করেছে। কিন্তু এ আইনের ফাঁক ফোকরও কম নয়। সে কারণে ক্রেতা হিসাবে আপনাকেই  বেশি সাবধান হতে হবে। চুক্তি করার সময় সবদিক খেয়াল রেখে চুক্তি করবেন।
১। বুকিং দেয়ার আগেই প্রজেক্টটা দেখে নিন। ডেভেলপার আইনানুগ নিবন্ধিত কিনা তা যাচাই করে নিন। তাদের আগের কোন অভিজ্ঞতা আছে কিনা, কিংবা কোন বদনাম আছে কিনা তা-ও দেখুন। অতীতে তারা কাউকে ঠকিয়েছে কিনা তাও দেখুন।
২। জমির মালিকের সাথে ডেভেলপারের চুক্তিপত্র ও আমমোক্তারনামাটি দেখে নিন। কি কি মালামাল দেয়া হবে তা বিশ্লেষণ করে দেখুন। ফিটিংস কি উন্নতমানের নাকি মানসম্পন্ন তা দেখে নিন। এতে একটা বড় ধরনের শুভঙ্করের ফাঁকি আছে। মানসম্পন্ন যে টাইলস ১০০/-টাকায় পাওয়া যায়, উন্নতমানের সেই টাইলস এর দাম ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা।
৩। মালামালের গুণগত মান, অনুমোদিত প্ল্যান, নক্সা এবং জমির স্বত্বের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দেখুন। অনেক সময় দেখা যায়, নিম্নমানের রড ব্যবহার করে ইমারত নির্মাণ করায় ৪ তলার বেশী যেখানে করা উচিত নয়, সেখানে ৬-৭ তলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছে। মাটির নীচের ফাউন্ডেশন এবং উপকরনের গুনগত মান যাচাই করা জরুরী। এসব দেখার জন্যে একজন ভাল আইনজীবীর পরামর্শ নিন।
৪। ফ্ল্যাট-এর সাথে অনেকগুলো বিষয় জড়িত থাকে। যেমন, মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল, সুয়ারেজ, পানি সরবরাহসহ আরো অনেক বিষয়। স্যানিটারী ফিটিংস, লিফট, জেনারেটর, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, পানি উত্তোলন ব্যবস্থা এর সব কিছুই চুক্তিতে উল্লেখ করুন।
৪। জমির মালিক এর সাথে ফ্ল্যাট ভাগাভাগি কিভাবে হয়েছে, তা দেখে নিন। জমির মালিক কোন কোন ফ্ল্যাট পাবেন তাও দেখে নিন।
৫। ডেভেলপারের কাছ থেকে ফ্ল্যাট কেনার চুক্তি করার সময় সর্বশেষ কিন্তি দেয়ার সময়ের সাথে ফ্ল্যাট হস্তান্তরের সময় সম্পৃক্ত করুন। ফ্ল্যাট রেডি করে হস্তান্তর ও দলিল সম্পাদন ও রেজিষ্ট্রী দেয়ার সময় সর্বশেষ কিস্তির টাকা পরিশোধ করবেন মর্মে চুক্তিতে উল্লেখ করুন। কেননা, অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, ডেভেলপারের বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে ক্রেতারা নির্ধারিত সময়ে কিস্তির টাকা পরিশোধ করে দেয়ার পরও দখল দেয়া হয় না এবং দলিল রেজিষ্ট্রী করে দেয়া হয় না। তারা ক্রেতা থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কিস্তির সব টাকা নিয়ে ফেললেও, প্রজেক্ট শেষ করতে অনেক বিলম্ব করে।
৬। আপনি কত বর্গফুটের ফ্ল্যাট কিনছেন, তার মধ্যে কমন স্পেস কতটুকু, আর মুল ফ্ল্যাট কতটুকু তা চুক্তিপত্রে সুষ্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন। সরেজমিনে বুঝিয়ে দেয়ার সময় কমবেশী হলে, কি করতে হবে তা আগেই নির্ধারন করে ফেলুন এবং চুক্তিপত্রে তা সুষ্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন।
৭। কাজ অসম্পূর্ণ রেখে ডেভেলপাররা যাতে পালাতে না পারেন, সে ব্যাপারে নিশ্চিত হবে হবে যতটা পারা যায়। ফ্ল্যাট হস্তান্তরে বিলম্ব হলে ক্রেতা কি কি প্রতিকার পাবেন, তার বিস্তারিত আগেই ঠিক করে নিতে হবে।
৮। কত তলা পর্যস্ত অনুমোদন পাওয়া গেছে তা দেখে ফ্ল্যাট কিনুন। অনেক সময় দেখা যায়, ৪-৫তলার অনুমোদন থাকলেও ৭-৮ তলা পর্যন্ত ক্রেতাদের নিকট আগাম বিক্রীর চুক্তি করে বসেছে।
৯। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রিহ্যাবের সদস্য কিনা তা-ও যাচাই করে নিন। কেননা সমস্যা হলে রিহ্যাব তা সমাধানে উদ্যোগ নেয়। কিন্তু তাদের সদস্য না হলে সেটা সম্ভব হয় না।
১০। জমির স্বত্বের ব্যাপারে খোঁজ খবর নিন। কেননা পরবর্তীতে আইনী জটিলতায় আটকে গেলে ক্রেতারাই বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হন।
১১। চুক্তির শর্তগুলোর দিকে ভালভাবে লক্ষ্য রাখুন। কোন শর্ত ভঙ্গ হলেই কিছু অসাধু নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ঐ চুক্তি বাতিল করে দিয়ে ফ্ল্যাট পুনরায় অন্যের নিকট বিক্রী করে দেয়। এভাবে একই ফ্ল্যাট কয়েকবার বিক্রী করার নজির আছে।
১৩। প্রলুদ্ধ হয়ে তাড়াহুড়ো করে চুক্তি করে ফেলবেন না।

0 876
কারিকা ডেস্ক
ঘরে নানা পোকামাকড়ের উপদ্রব খুব সাধারণ একটি সমস্যা। তবে এটি শুধু ঝামেলাই বাড়ায় না, নানা রোগও ছড়ায়। কীভাবে ঘরে পোকার উপদ্রব কমানো যায় তার কিছু টিপস দেওয়া হল :
বাজারে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ পাওয়া যায়। আরশোলার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের চক, ইঁদুরের হাত থেকে রেহাই পেতে লাল গমের দানার মতো লানির্যাট ওষুধ, জাঁতাকল, বাক্সকল ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে। অন্যান্য পোকার উপদ্রব থেকে রেহাই পেতে ব্যবহার করতে পারেন বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড় মারার স্প্রে।
এসব ছাড়াও কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি রয়েছে, যার সাহায্যে সহজে পোকামাকড়ের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এগুলো হল-
আলমারিতে বা কাপড় রাখার যেকোনো স্থানে নিমপাতা শুকনো করে কাপড়ে বেঁধে কিংবা কালোজিরা কাপড়ের পুঁটলি করে রেখে দিলে কাপড়চোপড়ে পোকা আক্রমণ করে কম।
আবার অনেক সময় কাপড়ের ভেতর ন্যাপথলিন ব্যবহার করলে পোকা ধরার আশঙ্কা কম থাকে এবং কাপড়ে সুগন্ধও থাকে।
মাঝেমধ্যে রোদে দিলে কাপড়ে পোকা ধরে না।
রান্নাঘরে চিনির কৌটায় দু-একটা লবঙ্গ রেখে দিলে পিঁপড়ের উপদ্রব কম হয়।
ঘরের দেয়ালে উইপোকার উপদ্রব বেশি দেখা যায়। এ থেকে রেহাই পেতে দেয়ালের যে স্থান থেকে উইপোকা বের হয়, সেখানে কর্পূরের গুঁড়ার সঙ্গে লিকুইড প্যারাফিন মিশিয়ে দ্রবণ তৈরি করে দেওয়া যেতে পারে।
শুকনো নিমপাতার গুঁড়ো রান্নাঘরের যেকোনো স্থানে ছড়িয়ে রাখলে পোকার উপদ্রব কম হয়ে থাকে।
যেকোনো খাবার পোকার হাত থেকে রক্ষার জন্য খাবার টেবিলের ওপর যেন কোনো লাইট না রাখা হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। অবশ্যই বাড়ির নকশা করার সময় ডাইনিং রুমের খাবার টেবিলের ওপর কিংবা রান্নাঘরে চুলার ওপর লাইটের ব্যবস্থা রাখা যাবে না। কারণ, কোনো কোনো ঋতুতে লাইটে পোকার উপদ্রব বেশি থাকে।
তেলাপোকা, ইঁদুর, মশা, মাছি—এসব পোকার হাত থেকে রক্ষা করতে অবশ্যই প্রতিটা ঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

0 2248

দেশে বাড়ছে এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবহার। সাধারণ গ্যাসলাইনে গ্যাস-সঙ্কট বা সংযোগ না পাওয়ার কারণে অনেকে রান্নার কাজে সিলিন্ডারের গ্যাস ব্যবহার করেন। এমনকি গ্রামের অবস্থাসম্পন্ন পরিবারগুলো, যেখানে গ্যাস লাইন নেই, তারা ঝুঁকছে সিলিন্ডার গ্যাসের দিকে। এতে রান্নাবান্নার কষ্ট যেমন কমেছে, সঙ্গে বেড়েছে ঝুঁকিও। সম্প্রতি দেশের কয়েকটি জায়গায় এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে বেশ কয়েকজন হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তাই সামনে চলে আসছে এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার ব্যবহারের নিরাপত্তার বিষয়টি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিখ্যাত গ্যাস কোম্পানি ‘অ্যামিরেটস গ্যাস’-এর এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড সেফটি এনভায়রনমেন্ট (ইএইচএস) ও বিজনেস অ্যাক্সিলেন্স ম্যানেজার রবীন্দ্রন সাম্য মুঠু এ ব্যাপারে দিয়েছেন বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট ‘অ্যামিরেটস টুয়েন্টিফোর/সেভেন.কম’-এ প্রকাশিত একটি ইংরেজি লেখা থেকে সংক্ষেপিতভাবে তা তুলে ধরেছেন সোহরাব শান্ত

গ্যাস সিলিন্ডার স্থাপন
সিলিন্ডার অবশ্যই এমন জায়গায় স্থাপন করতে হবে, যেখানে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করে। তবে সরাসরি সূর্যের আলো পড়ে বা অন্য কোনো গরম বস্তুর স্পর্শ পায়Ñ এমন স্থানে গ্যাস-সিলিন্ডার স্থাপন করা যাবে না। এমনকি বৈদ্যুতিক সকেট বা কোনো দাহ্য পদার্থের কাছেও রাখা যাবে না।
গ্যাস-সিলিন্ডারটি রাখতে হবে খাড়াভাবে। ব্যবহারের সময় সিলিন্ডারের ভাল্ব বা রেগুলেটর ঠিকমতো কাজ করে কিনা তাও দেখে নিতে হবে। তাহলেই আপনি সঠিক সার্ভিস পাবেন।
এছাড়া গ্যাস-সিলিন্ডারটি যদি কোনো কারণে কিছুদিন অব্যবহৃত রাখতে হয় বা স্টোর করতে হয়, তবে সিলিন্ডারটি যেখানে রাখা হবে, সেখানে বাতাস চলাচল আছে কিনা দেখে নিন। অবশ্যই বাতাস চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই বদ্ধ স্থানে রাখা যাবে না।

গ্যাস সিলিন্ডারে ছিদ্র বা লিকেজের ক্ষেত্রে
রান্নাঘরে গ্যাস-সিলিন্ডার তো রাখলেন। নিয়মিত যত্নের পাশাপাশি পর্যবেক্ষণও করতে হবে। আপনার নাকে যদি কখনো গ্যাসের গন্ধ অনুভূত হয়, ধরে নেওয়া যায় আপনার ব্যবহৃত গ্যাস-সিলিন্ডারে সূক্ষ্ম কোনো ছিদ্র আছে। সেখান থেকে গ্যাস লিকেজ করছে। এ অবস্থায় সিলিন্ডারটির গ্যাস দিয়ে রান্নাবান্না করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হবে। ছিদ্রযুক্ত সিলিন্ডারের আশপাশে দিয়াশলাই বা লাইটার জ্বালানো খুবই বিপজ্জনক হতে পারে। তাই দিয়াশলাই বা লাইটার জ্বালানো থেকে বিরত থাকুন।
গ্যাস-সিলিন্ডারের আবরণে সাবান-পানি দিয়ে ছিদ্র আছে কিনা পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। কোথাও ছিদ্র থাকলে সাবান-পানির বুদবুদ দেখে তা চিহ্নিত করা যাবে। এতে করে সম্ভাব্য বিপদ এড়ানো যাবে। গ্যাস ব্যবহারের পর সিলিন্ডারের রেগুলেটর বা ভাল্ব অবশ্যই বন্ধ করে রাখবেন।
গ্যাস সিলিন্ডারের ছিদ্র চিহ্নিত করার প্রয়োজন হলে আগেই দরজা-জানালা খুলে নিন। ছিদ্র বা লিকেজ চিহ্নিত করতে পারলে সিলিন্ডার থেকে গ্যাস-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিন এবং সিলিন্ডারটি কোনো নিরাপদ এবং খোলামেলা স্থানে নিয়ে রেখে দিন। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির এজেন্টকে বুঝিয়ে দিন।

আরো কিছু পরামর্শ
সবসময় অনুমোদিত ও স্বনামধন্য কোম্পানির গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করুন। একই কোম্পানির গ্যাস-সিলিন্ডার নিয়মিত ব্যবহার করুন।
আপনার ব্যবহার করা গ্যাস-সিলিন্ডারটি ঠিকমতো কাজ করছে কিনা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন।
ব্যবহার করা সিলিন্ডারের গায়ে লাগানো লেবেল পড়ে নিন। প্রতিবার নতুন সিলিন্ডার নেওয়ার আগে ‘সার্টিফিকেশন লেবেল’ যাচাই করে নিন।
সিলিন্ডারের সঙ্গে চুলার সংযোগ দেওয়ার পরও যদি আগুন জ্বলতে কোনো ধরনের সমস্যা দেখা দেয়, গ্যাস-লাইনটি বন্ধ করে দিন। তারপর অন্তত ৩ মিনিট রান্নাঘরের জানালা খুলে রাখুন। এরপর নতুন করে আগুন ধরানোর চেষ্টা করুন। কোনো অবস্থাতেই জানালা বন্ধ রেখে চুলা জ্বালাবেন না। বাতাস চলাচল না থাকলে গ্যাস সিলিন্ডারের আগুন থেকে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়।
প্রতিটি গ্যাস-সিলিন্ডার প্রতি ১০ বছরের মধ্যে একবার হলেও অনুমোদিত এলপিজি টেস্ট স্টেশন থেকে পরীক্ষা করিয়ে নিন। সর্বশেষ পরীক্ষার তারিখটি সিলিন্ডারের গায়ে স্পষ্টভাবে লিখে রাখুন।
গ্যাস-সিলিন্ডার সবসময় খাড়াভাবে রাখতে হবে। এমনকি পরিবহনের সময়ও এই নীতি মানতে হবে। অবশ্য বিশেষভাবে তৈরি কিছু সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে এর ব্যত্যয় ঘটলেও সমস্যা নেই।
এলপি গ্যাস-সিলিন্ডার মজুদ করতে চাইলে অবশ্যই এমন স্থানে রাখতে হবে, যেখানে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল আছে এবং অতিরিক্ত তাপ ও অন্যান্য কম্প্রেস গ্যাস থেকে দূরে রাখতে হবে।

0 980
কোনো মৌজার দাগ অনুসারে ভূমির মালিকের নাম, বাবার নাম, ঠিকানা, মালিকানার বিবরণ, জমির বিবরণ, মৌজা নম্বর, মৌজার ক্রমিক নম্বর (জেএল নম্বর), সীমানা, জমি শ্রেণী দখলকারীর নাম, অংশ, অংশমতে পরিমাণসংবলিত যে তালিকা বা দলিল তা-ই হলো খতিয়ান। খতিয়ান মানেই এসব বর্ণিত বিষয়ের একটি সুস্পষ্ট হিসাব। একে ভূমি শুমারিও বলা যায়।
সরকার বিভিন্ন সময় খাজনা আদায়ের উদ্দেশে সারা দেশে জরিপ করে এই খতিয়ান প্রস্তুত করে। সরকারের ভূমি-জরিপের মূল উদ্দেশ্য ভূমি দখলকারীর কাছ থেকে খাজনা আদায় করা। সে কারণে ভূমিতে যিনি দখলকার তার নামে ভূমি-জরিপ করা হয়। এই দখলকারী ওই সম্পত্তিতে কী মূলে দখলকার, তার স্বত্ব নির্ধারণ জরিপ কর্মকর্তার কাজ নয়। তাই খতিয়ান হচ্ছে দখলের প্রামাণ্য দলিল, স্বত্ব বা মালিকানার দলিল নয়। খতিয়ানে মালিক ছাড়া অন্য কারো নাম অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেলে ওই ভূমিতে যেমন সেই ব্যক্তির কোনোরূপ মালিকানা সৃষ্টি হয় না, তেমনি প্রকৃত মালিকের মালিকানাও নষ্ট হয় না। কিন্তু খতিয়ান একটি সরকারি দলিল, ভূমি হস্তান্তর, খাজনা বা রাজস্ব আদায়সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে এটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ দলিল।
সর্বপ্রথম সার্ভে আইন ১৮৭৫ এবং বঙ্গীয়  প্রজাস্বত্ব আইন ১৮৮৫-এর অধীনে সরজমিনে ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে (সিএস) বা জরিপ করে সিএস (Cadastral Survey) খতিয়ান প্রস্তুত করা হয়। একই আইনের অধীনে আরএস (Revenue Survey) প্রস্তুত করা হয়। পরবর্তীকালে রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের অধীনে যথাক্রমে এসএ (State Acquisition Survey) এবং বিএস (Bangladesh Survey) খতিয়ান প্রস্তুত করা হয়। সিএস খতিয়ানকে বাংলাদেশি ভূমি ব্যবস্থাপনার মূল ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়।
গ্রন্থনা : সোহরাব আলম

 

0 1039

নামজারি বা মিউটেশান

আইনগতভাবে স্বীকৃত কারণে জমির মালিকানা পরিবর্তন ঘটলে যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন মালিকদের মালিকানা পরিবর্তিত জমির পরিমাণ বা অংশ, দাগ নম্বর ইত্যাদি বিষয় খতিয়ানে প্রতিফলনের মাধ্যমে রেকর্ড সংশোধন করা হয় তাকে নামজারি, জমিভাগ, জমি একত্রীকরণ, খারিজ ইত্যাদি বলা হয়।
ভূমি ব্যবস্থাপনায় মিউটেশন বা নামজারি গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া। জমি কিনে বা অন্য কোনো উপায়ে জমির মালিক হয়ে থাকলে হালনাগাদ রেকর্ড সংশোধন করার ক্ষেত্রে নামজারি বা মিউটেশন একটি অপরিহার্য প্রক্রিয়া। ইংরেজি মিউটেশন (Mutation) শব্দের বাংলা অর্থ হলো পরিবর্তন। আইনের ভাষায় এই মিউটেশন শব্দটির অর্থই হলো নামজারি।
নামজারি বা নাম খারিজ বলতে নতুন মালিকের নামে জমি রেকর্ড করা বোঝায়। অর্থাৎ পুরনো মালিকের নাম বাদ দিয়ে নতুন মালিকের নামে জমি রেকর্ড করাকে নামজারি/নাম খারিজ বলে। ভূমি মালিকানার রেকর্ড বা খতিয়ান বা স্বত্বলিপি হালকরণের জন্য জরিপ-কার্যক্রম চূড়ান্ত করতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়। যে সময়ের মধ্যে উত্তরাধিকার সূত্রে, এওয়াজ সূত্রে বিক্রয়, দান, খাস জমি বন্দোবস্ত ইত্যাদি ভূমি মালিকানার পরিবর্তন প্রতিনিয়ত ঘটতে থাকে। যে কারণে প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল ভূমি মালিকানার রেকর্ড হালকরণের সুবিধার্থে জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০-এর ১৪৩ ধারায় কালেক্টরকে (জেলা প্রশাসক) ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এই ক্ষমতাবলে জমা, খারিজ ও নামজারি এবং জমা একত্রীকরণের মাধ্যমে রেকর্ড হালনাগাদ সংরক্ষণ করা হয়।
কমিশনার (ভূমি) ভূমি ব্যবস্থাপনা ম্যানুয়েল ১৯৯০-এর ২০ অনুচ্ছেদবলে নামজারি বা মিউটেশনের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। আগে নামজারির বা মিউটেশনের দায়িত্ব উপজেলা রাজস্ব অফিসার বা সার্কেল অফিসার (রাজস্ব) পালন করতেন।

নামজারি করার ক্ষেত্রে যেসব কাগজপত্র ও তথ্য (ডকুমেন্ট) প্রয়োজন
পাসপোর্ট-সাইজের ১ কপি সত্যায়িত ছবি
এস.এ. খতিয়ানের ফটোকপি/ সার্টিফায়েড কপি
আর.এস. খতিয়ান/ মাঠ-জরিপের পর্চার ফটোকপি/ সার্টিফায়েড কপি
খারিজ খতিয়ানের ফটোকপি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
ওয়ারিশ সনদপত্র (অনধিক তিন মাসের মধ্যে ইস্যুকৃত)
মূল দলিলের ফটোকপি/ সার্টিফায়েড কপি
বায়া/ পিট দলিলের ফটোকপি/ সার্টিফায়েড কপি
ভূমি-উন্নয়ন কর পরিশোধের দাখিলা (অবশ্যই দাখিল করতে হবে)
তফসিলে বর্ণিত চৌহদ্দি কলমী নকশা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আদালতের রায়/ আদেশ/ ডিক্রির ফটোকপি/ সার্টিফায়েড কপি
ডিসিআর ব্যতীত কোনো খারিজ খতিয়ান সরবরাহ করা হবে না।

যে প্রক্রিয়ায় নতুন মালিকের নামজারি সম্পাদিত হয়
সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর সরকার নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হয়
আবেদনপত্রের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কোর্ট ফি এবং অন্যান্য ফি জমা দিতে হয়
আবেদনপত্র জমাদানের সময় মামলা নং এবং কবে মামলা নিষ্পত্তি হবে তা সংগ্রহ করতে হয়
তহসিল অফিস কর্তৃক মামলা নথির তদন্ত গ্রহণ এবং নামজারি প্রস্তাব প্রস্তুত করা হয়
ক্ষেত্রবিশেষে সেটেলমেন্ট অফিসে ডকুমেন্ট পাঠানো হয় এবং মতামত গ্রহণ করা হয়
শুনানির জন্য তারিখ নির্ধারণ এবং আবেদনকারীকে নোটিশ প্রদান/ তবে না অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব প্রদান করা হলেও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে নোটিশ প্রদান করা হয়
সহকারী কমিশনারের (ভ‚মি) উপস্থিতিতে শুনানি গ্রহণ এবং রায় ঘোষণা করা হয় অথবা রায় ঘোষণার তারিখ প্রদান করা হয়
মামলার রায় নামজারি রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করা হয়
ইউনিয়ন ভূমি অফিসের রেকর্ড সংশোধন করার জন্য রায়ের কপি পাঠানো হয়
উপজেলা ভূমি অফিসের রেকর্ড বা খতিয়ান সংশোধন এবং সেটেলমেন্ট অফিসের পর্চা সংশোধনের জন্য কপি পাঠানো হয়
উপজেলা ভূমি অফিসে নামজারি মামলার কেস বা নথি ১২ বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা হয়।

কত দিনের মধ্যে নামজারি/ মিউটেশন সম্পাদন হয়?
সিটিজেন চার্টার অনুসারে ৪৫ (পঁয়তাল্লিশ) কর্মদিবসের মধ্যে নামজারি সম্পাদন করা হবে, যদি মালিকানার বিষয় নিয়ে কোনো বিতর্ক না থাকে এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আবেদনের সঙ্গে জমা দেওয়া হয়।
তথ্যসূত্র : সরকারি তথ্যবাতায়ন ও
অন্যান্য ওয়েবসাইট।

গ্রন্থনা : সোহরাব আলম