Home মূল কাগজ সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয়

0 758

দৈনন্দিন চাহিদা মানবজাতিকে একত্রিত হতে বাধ্য করেছে। আর উত্তর উত্তর জীবন-মানের উন্নয়নকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে নগর। নাগরিক হয়ে ওঠা মানে আপনি একটি সম্মানের স্তরে পৌঁছে গেলেন। আপনার স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা, বসবাসের পরিবেশ, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা একটি স্তরে পৌঁছে গেলো।
এভাবে আমরা একটি আভিজাত্যতার ভেতর ঢুকে গেলাম। আমরা যে সুযোগ-সুবিধার মধ্যে আছি, তা হাজার হাজার গ্রামে বাস করা মানুষের নেই, উপ-শহরে নেই, মফস্বল শহরগুলোর নেই। ফলে মেগাসিটির আস্বাদনে এক তৃপ্তির গোলকে ঢুকে যাই। কিন্তু যখন বিশ্বের অন্যান্য নগর আমাদের সামনে চলে আসে। নাগরিক হয়ে ওঠা, নগরের সুযোগ-সুবিধার কথা উঠে আসে। তখন ফাটা বেলুনের মতো একপাশে কাৎ হয়ে পড়ে থাকে যে একটা শব্দ, তার নাম ‘ঢাকা’।
ঢাকা পৃথিবীর সেরা শহরগুলোর তালিকায় থাকছে তলানিতে, উল্টাদিক থেকে হচ্ছে প্রথম বা দ্বিতীয়। আমরা বলছি, ‘বাসযোগ্য নগরায়ণের চ্যালেঞ্জ’ , বলছি আসলে আশাবাদী হয়ে ওঠার কথাই। বলার যথার্থতা যে নেই, তা নয়। একটি অপরিকল্পিত নগর, হাজারটা সমস্যার নগরকে বাসযোগ্য, বৈশ্বিক নগরের চেহারা দেয়ার কাজ শুরু হয়ে গেছে। সরকার তাদের নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে, নগরপিতা নগরবাসীকে একটি পরিচ্ছন্ন নগরের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। আবাসনপ্রতিষ্ঠানগুলো ঘর তৈরি করে দিচ্ছে, পানি-বিদ্যুৎ-গ্যাস, গণপরিবহনব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষাসেবা সবাই সবার জায়গা থেকে কাজ করে যাচ্ছে। তবে বোধহয় যথার্থ সমন্বয়টা হচ্ছে না। কিন্তু তার জন্য জোরেসোরেই চেষ্টা চলছে।
এই চেষ্টার একটি রূপরেখা দরকার, দরকার পরিকল্পনার। নগর নিয়ে যারা ভাবেন, নগর নিয়ে যারা কাজ করেন, এ ব্যাপারে তাঁরাই সবচেয়ে ভাল পরামর্শটা দিতে পারবেন। ‘কারিকা’ তার দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবাষির্কীতে সেইসব মানুষের দ্বারস্থ হয়েছে। তাঁদের কথা-ভাবনা একত্রিক করেই আমাদের এই আয়োজন।
সঙ্গে কৃতজ্ঞতা তাদের প্রতি, যাঁরা বিজ্ঞাপন দিয়ে আমাদের এই চেষ্টাকে জিইয়ে রাখায় সহযোগিতা করছেন।