Home মূল কাগজ ইন্টেরিয়ার

কারিকা ডেক্স


শীত শীত ওম ওম আমেজ থেকে হঠাৎ শৈত্যপ্রবাহ। শীতের সময়টাই এমন। কখন যে ঝাপিয়ে চলে আসে শীত বুড়ি তার কোনো পহৃর্বাভাস মিলেনা অনেকসময়। শীত থাকবে। শৈত্যপ্রবাহে জবুথবু হয়ে যাবে মানুষ। কিন্তু তাই বলে কী শীতের মতো জবুথবু থাকবে ঘরবাড়ি? তা নয়। বরং শীতের সময়টাতে একটু গুছিয়ে চললে যেমন আপনার ঘরবাড়ির সৌন্দর্য বেড়ে যাবে কয়েকগুণ, তেমনি বাড়িতে থাকা অবস্থায় শীতের হাত থেকেও বেঁচে যাবেন।

শীতে ঘরবাড়ি’র ইন্টেরিয়র নিয়ে কথা বলেছেন ফারজানা’স বিসের সিইও ফারজানা গাজী। তিনি বলেন, শীতের সময় দিনে সূর্যের আলো পাওয়া যায় অল্প পরিমানে। এ অল্প আলোকেও ব্যবহার করে আলোকিত করা যেতে পারে পুরো ঘরটিকে।
সেজন্য ঘরের যে স্থানটিতে আলো পড়ছে সেখানে সুবিধামতো আয়না স্থাপন করে রিফেক্টের মাধ্যমে আলো ছড়িয়ে দিতে পারেন সবখানে। এ সময় ন্যাচারালের তুলনায় ঘরে কৃত্রিম আলোর ওপর বেশি নির্ভরশীল থাকতে হয় বলে লাইটিংয়ের মাধ্যমে ঘরের পরিবেশে আনতে পারেন উষ্ণতার আমেজ।
বাজারে আজকাল নানা ধরনের, নানা সাইজ ও রঙের ল্যাম্পশেড পাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে বেডরুমের লাইটিং এর জন্য ওয়ার্ম আলো (যেমন- হলুদ, লাল, কমলা, বেগুনি ইত্যাদি) ব্যবহার করা যেতে পারে। বেডরুমের বেডের হেড রেস্টের দুইপাশে অথবা সাইড দিয়ে লাইটিং সিস্টেম করতে পারেন। ঘরের কোণে এক কর্নারে অথবা বেডসাইড টেবিলের ওপর রেখে দিতে পারেন ডেকোরেটিভ ল্যাম্পশেড। তাছারা বেডের ওপর অথবা এক কর্নারে ফলস সিলিং ডিজাইন করে সেখানে বিভিন্ন ধরনের লাইট ব্যবহার করে তৈরি করতে পারেন এক অসাধারণ পরিবেশ।

দেয়ালে ব্যবহার করতে পারেন ওয়াল মাউন্ট লাইট। ডাইনিং স্পেসের আলো সাধারণত সলিড হয়ে থাকে। তাই স্যান্ডেলিয়ার ও বিভিন্ন ধরনের ল্যাম্পের ব্যবহার করে রুমে আনা যেতে পারে বৈচিত্র্য। ডাইনিং টেবিলটিকে সাজানো যেতে পারে কালারফুল সব পেট গাছ দিয়ে। সঙ্গে যদি মোমের আলো থাকে তাহলে তো কথাই নেই। অসাধারণ একটা পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে এই ক্যান্ডেল লাইট ডিনার।
বসার ঘরের একপাশ বেছে নিতে পারেন ডেকোরেশনের জন্য। সেই কর্নারে বিভিন্ন ধরনের মাটির পটারির সঙ্গে রাখতে পারেন বাঁশ এবং বেতের ল্যাম্প সেড। আর ফ্লোরে বড় গামলাতে ফুলের পাপড়ি দিয়ে তাতে ছেড়ে দিন ফ্লোটিং মোমবাতি। ফলস সিলিং করে স্পটলাইটের মাধ্যমে কর্নারগুলোকে আলোকিত করে তৈরি করতে পারেন আলো আধাঁরের খেলা। প্রয়োজনে সিলিং থেকে ঝুলিয়ে দিতে পারেন বিভিন্ন ধরনের হ্যাংগিং লাইট।

শীতে দেয়ালের রঙ, সোফা, কুশন কাভার, পর্দা, বেড কাভার প্রভৃতিতেও আসতে পারে পরিবর্তন। রুমের রঙ করার সময় অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে তা যেন ওয়ার্ম কালার হয়।
যেহেতু শীতের দিনে ঠান্ডার একটা ব্যাপার থাকে তাই ট্রান্সপারেন্ট পর্দার সঙ্গে একটু ভারি কাপড়ের পর্দা হলে ভালো। আর যদি ডাবল পর্দা দেয়ার ব্যবস্থা থাকে তাহলে ঘরে তুলানামূলক ঠান্ডা একটু কম লাগবে। পর্দার কাপড়গুলো সাধারণত মখমল, সিল্ক, কটন ইত্যাদি হয়ে থাকে। সোফা, কুশন এবং বেড কভারের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। দেয়ালের রঙ এবং লাইটিংয়ের সঙ্গে যেন সাদৃশ্যপূর্ণ থাকে সে বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।
শীত এলেই বেড়ে যায় কার্পেটের ব্যবহার। উলেন, হ্যান্ডমেড উলেন, অ্যাকরেলিক, পিভিসি ইত্যাদির নানা ধরনের কার্পেট পাওয়া যায় বাজারে। ঘরের রঙ, ফার্নিচার, পর্দা, কুশন এবং বেড কভারের সঙ্গে মিল রেখে বাছাই করুন কী ধরনের এবং কী রঙের কার্পেট আপনি নির্বাচন করবেন। দেশিয় আমেজ আনতে নানা রকমের শতরঞ্জিও ব্যবহার করতে পারেন।

শীতকাল যেহেতু ফুলের জন্য উপযুক্ত সময় তাই ঘরের বিভিন্ন জায়গায় তাজা ফুলের ব্যবহার আপনার মনকে আরো প্রফুল্ল করে দিবে। সামান্য একটি গাছ ঘরের সৌন্দর্য যেমন বাড়িয়ে দিতে পারে, তেমন বৃদ্ধি করতে পারে ঘরে অক্সিজেন। শীতে যেসব গাছের পাতা ঝরে না, সেসব গাছ ঘরে ব্যবহার করতে পারেন। বিশেষ করে ছোটপাতার গাছ।

শীতে শুষ্ক প্রকৃতির কারণে ঘরে প্রচুর ধুলাবালি হয়ে থাকে। তাই ফার্নিচার, কার্পেট, সোফার কুশনের কভার, বেড কভার, ইত্যাদি যত্নে র ক্ষেত্রে সবই যেন সহজে পরিষ্কার হয় সেদিকেও খেয়াল রাখা উচিত। বিশেষ করে যেসব ঘরে শিশু রয়েছে তাদের বেশি সচেতন হতে হবে। সবকিছু কিছুদিন ব্যবহারের পর রোদে দিতে হবে। ঘর যেন স্যাঁতস্যাঁতে  না হয় এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকে সেদিকে নজর দিতে হবে।

15cm-ball-wall-light-fixture-lamp-scone-glass
এদিকে শীতে অ্যাজমা ও হাঁপানি রোগের পরিমাণ বেড়ে যায়। এ সময় যদি ঘরে ধুলাবালি থাকে, তবে অ্যাজমা ও হাঁপানি রোগ বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা থাকে আরও বেশি। তাই শীতে ঘরবাড়ি ধুলাবালি ও জীবাণুমুক্ত রাখা জরুরি।
সবার কাছেই নিজের শোবার ঘরটি অন্যান্য ঘরের তুলনায় সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ ঘরটাতেই কাটে অধিকাংশ সময়। তাই শোবার ঘর পরিষ্কারে একটু বেশিই যত্নবান হোন। প্রতিদিন ঘরের পর্দা, বিছানা, পাপোশ, ড্রাইফুল ঝেড়ে পরিষ্কার করুন। ঘরের মেঝে টাইলসের হলে গরম পানিতে ডিটারজেন্ট মিশিয়ে মেঝে পরিষ্কার করলে ঘর থাকবে ঝকঝকে। আর জীবাণুমুক্ত করতে চাইলে ডিটারজেন্ট দিয়ে পরিষ্কার করার পর আরও একবার ডেটল পানি দিয়ে পরিষ্কার করুন।
রান্নাঘরে জীবাণুর প্রাদুর্ভাব সব থেকে বেশি। তাই রান্নাঘর সব সময় পরিষ্কার রাখুন। কুসুম গরম পানিতে ডিটারজেন্ট ভিজিয়ে সিংক, রান্নাঘরের চুলা, টাইলস প্রভৃতি পরিষ্কার করতে পারেন। এতে রান্নাঘরটি জীবাণুমুক্ত থাকবে। রান্নাঘর জীবাণুমুক্ত রাখতে ব্যবহার করতে পারেন স্যাভলন কিংবা ডেটল। বাসনকোসন ধোয়া থাকলেও খাওয়ার আগে আরও একবার ধুয়ে নিন।

শীতে বাইরের ধুলাবালি পর্দা, কার্পেট আর পাপোশেই সবচেয়ে বেশি আটকায়। তাই এগুলো পরিষ্কারে সচেতন হোন। সপ্তাহে একদিন পর্দা ঝাড়ু দিয়ে ঝেড়ে পরিষ্কার করুন। সম্ভব হলে মাসে একদিন ধুয়ে দিন। কার্পেট পরিষ্কারে ব্যবহার করতে পারেন ভ্যাকুয়াম কিনার। সোফা ও চেয়ার পরিষ্কারেও ভ্যাকুয়াম কিনার কাজে দেবে। ১৫ দিন অন্তর কার্পেট কড়া রোদে শুকিয়ে নিন। এতে কার্পেটের জীবাণু ছড়াবে না।
যতই আটকে রাখুন না কেন, এ সময় বাইরের ধুলাবালি দরজা-জানালা দিয়ে প্রবেশ করবেই। এ সময় ঘর ধুলাবালিমুক্ত রাখতে প্রতিদিন দরজা-জানালা ঝেড়ে পরিষ্কার রাখুন। প্রতিদিন সম্ভব না হলেও অন্তত একদিন পরপর পরিষ্কার করুন।

আবদুল্লাহ আল মামুন


ভবন নির্মাণে বাড়ছে কাচের ব্যবহার। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আবাসনের অন্দর সজ্জায়ও জনপ্রিয়তা পাচ্ছে কাচ। কাচের এ চাহিদা মেটাচ্ছে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। এর মধ্যে অন্যতম পিএইচ ফ্লোট গ্লাস ইন্ড্রাস্ট্রিজ লিমিটেড। দেশে সর্বশেষ প্রযুক্তির ফ্লোট গ্লাস উৎপাদন করছে দেশীয় এ প্রতিষ্ঠানটি। দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও। ২০০৪ সাল থেকে দৈনিক ১৫০ টন উৎপাদন দিয়ে শুরু করলেও জাপানের সহায়তায় উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়ে এক বছরের মধ্যে তা ৩০০ টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
নব্বইয়ের দশকের পর থেকে দেশে ব্যাপকভাবে আবাসন শিল্পের বিকাশ ঘটে। দেশের বড় বড় শহরগুলোতে গড়ে উঠতে থাকে অট্টালিকা। ভবনে শুরু হয় কাচের ব্যবহারও। তখন শতভাগ কাচ আমদানি হতো বিদেশ থেকে। বাংলাদেশে একচেটিয়াভাবে এই বাজার ছিল চীন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার দখলে। আবাসন শিল্পে কাচের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশীয় উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগ শুরু করে। আগে সরকারি প্রতিষ্ঠান উসমানিয়া গ্লাস শীট ফ্যাক্টরি লিমিটেড ও এমইবি গ্লাস ফ্যাক্টরি লিমিটেড এ দুটো প্রতিষ্ঠান শীট গ্লাস উৎপাদন করতো। ২০০৫ সাল থেকে আধুনিক প্রযুক্তির ফ্লোট গ্লাস উৎপাদন শুরু করে পিইচপি ও নাসির গ্লাস।
২০০৪ সালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুন্ডে পিএইচপি ফ্লোট গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড যাত্রা শুরু করে। ২০০৫ সালে এ কারখানায় গ্লাস উৎপাদন শুরু হয়। শুরুতে দৈনিক ১০০ টন গ্লাস উৎপাদন করলেও বিক্রি হতো মাত্র ৫০টন। বর্তমানে ১৫০টন উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও প্রতিদিন উৎপাদন করে ১০০ টন। কাচের ব্যবহার বেড়ে কারখানা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। জাপানের সহায়তায় আগামী বছর থেকে উৎপাদন ৩০০ টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ফিলিপাইনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে আসছে। তবে বিদেশ থেকে কাচ আমদানি, দুর্বল পরিবহন ব্যবস্থা, গ্যাস ও অবকাঠামোর অভাবের কারণে কাচ শিল্পের বিকাশ ও প্রসারে প্রধান বাধা বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।
পিএইচপি ফ্লোট গ্লাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আমির হোসেন চৌধুরী বলেন, কাচ তৈরিতে ব্যবহৃত বালি ও গ্যাস দুটোই আমাদের দেশে সহজলভ্য। কাচ উৎপাদনের ৮০ ভাগ কাঁচামালই এ দুটো উপাদান। বাকি ২০ ভাগ কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। অথচ অন্য শিল্পে বেশিরভাগ কাঁচামাল আমদানি করতেই কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়। কাচ শিল্পের উৎপাদিত পণ্যের ভ্যালু অ্যাড হয় সবচেয়ে বেশি। ভারতের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের সেভেন সিস্টার খ্যাত সাত রাজ্য, নেপাল ও ভুটানে বাজার ধরতে পারে বাংলাদেশ। এই বাজার ধরতে পারলে কাচ রপ্তানির বিশাল সুযোগ তৈরি হবে। এক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। সরকারি সহায়তা ছাড়া পৃথিবীতে কোন শিল্পের বিকাশ কখনও হয়নি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হলো এই শিল্পের জন্য এমন নীতিমালা প্রণয়ন দরকার যাতে কাচশিল্পের বিকাশ ও প্রসার হয়। তাছাড়া বিদেশ থেকে কাচ আমদানি নিরুৎসাহিত করা হলে দ্রুত এই শিল্পের বিকাশ সম্ভব হবে। বর্তমানে প্রতিমাসে ছয় থেকে সাত হাজার টন বিভিন্ন ধরনের কাচ বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়।
বিশ্বের উন্নত দেশে বহুল ব্যবহৃত লো-ই গ্লাস উৎপাদনের পরিকল্পনা পিএইচপি’র রয়েছে জানিয়ে আমির হোসেন বলেন, ইউরোপ, আমেরিকা, জাপানসহ উন্নত বিশ্বে বহুল ব্যবহৃত লো-ই গ্লাস ও ডিজাইন কাচসহ বিভিন্ন ধরনের বিশেষ কাচ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে পিএইচপি’র। কারণ লো-ই কাচ তাপ নিরোধক, অতিরিক্ত স্বচ্ছ ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী। বিদ্যুৎ সংকটের বাংলাদেশে এই লো-ই গ্লাসের কার্যকারিতা অনেক বেশি।
শব্দ দূষণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় শব্দ নিরোধক কাচের চাহিদা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়ে আমির হোসেন বলেন, দেশের এই চাহিদা মেটাতে সাউন্ডপ্রুপ গ্লাস উৎপাদন শুরু করবে পিএইচপি। আগামী ৩ বছরের মধ্যে এই বিশেষায়িত কাচ বাজারে আসবে।
গ্লাস শিল্পে এ উদ্যোক্তা জানান, কাচ উৎপাদনের পরিমাণ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। সর্বোত্তম মান বজায় রাখতে ‘অনলাইন ইনস্পেকশন’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। ফলে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কোন সমস্যা দেখা দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা ক্রাশ করা হবে। এতে গ্লাসের মান হবে নিখুঁত। এছাড়া উৎপাদন ক্ষমতা ও মান বাড়াতে প্রযুক্তি সহায়তা নেওয়া হবে বিশ্বের প্রযুক্তি নির্ভরতার এক নম্বর দেশ জাপানের।

কারিকা ডেক্স


অনিমেশ কুন্ডু
ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অটবি

আমার বাবা নিতুন কুন্ডু, অনেকটা আনকনভেশনাল ওয়েতেই ইন্ডাস্ট্রিতে আসেন। আনইউজুয়াল জিনিসপত্র বানানোর জন্য তিনি একটা স্টুডিও বানিয়েছিলেন। বাবার একটা অস্বাভাবিক দক্ষতা ছিল। বই পড়ে কোনোকিছু শিখে ফেলতে পারতেন। বাবা কিন্তু কোনোদিন ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলে যান নি। আর্কিটেকচারাল স্কুলেও যান নি। বাবা কতগুলো বইপত্র জোগাড় করেছিলেন, সেগুলো ঘেঁটেই তিনি শিখতেন। শিখে তিনি হাতে-কলমে কাজে লেগে যেতেন। বাবা চারুকলার ছাত্র ছিলেন, তবুও নিজের আগ্রহ থেকে স্কাল্পটিং শিখেছেন বই পড়ে আর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে।
কলকাতা বিশ্ববিদ্য্যালয়ের অধীনে যে চারুকলা, সেখানে চিন্তামনি কর নামে একজন নামকরা স্কাল্পটার ছিলেন। বাবা তাকে মাস্টারমশাই ডাকতেন। যদিও তিনি বাবার সরাসরি শিক্ষক ছিলেন না। বাবা তাকে কিছু গাইডলাইন নিয়ে দিলেন। বললেন, আমি এভাবে কাজ করছি। পরে কাজটা যদি একটু দেখে দিতেন আর কি। তিনি বললেন, ‘তোমার কাজ রাম কিঙ্কর বেইজকেও ছাড়িয়ে গেছে।’ উল্লেখ্য, ভারতের নামকরা স্কাল্পটার রাম কিঙ্কর বেইজ।

বাবার স্টুডিওতে আনকমন কাজ করা হতো। যেগুলো সাধারণত বাংলাদেশে কেউ করে না। শুরুতে কোটপিন, ক্রেস্ট, কার্ড বানাতেন। সোনা দিয়ে কাজ করা; ক্রেস্ট বানানো বা ট্রফি বানানো কঠিন। তাও তিনি করেছেন। সেগুলো করতে করতেই হঠাৎ একবার বিদেশি একটা কোম্পানির ফার্নিচার দরকার হলো। ওই সময়কার সবচেয়ে আধুনিক যে চেয়ার, সেই ডিজাইনের। বাবা বললেন, আমি একটা চেয়ার বানাই? ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বললেন, চেয়ার বানাবেন! কিন্তু আপনি তো এই কাজের লোক নন। আপনার তো এমন কোনো কারখানা বা স্টুডিও নেই। বাবা বললেন, আমি বানাই। তারপর আপনি দেখেন।

বাবার কনফিডেন্স ছিল এ কারণে, তিনি যেহেতু ১২ বছর ইউএস কালচারাল সেন্টারে কাজ করেছেন, এ ধরনের ডিজাইন খুব কাছ থেকে দেখেছেন। তখন থেকেই বাবা প্রোডাকশনগুলো কৌতুহল নিয়ে দেখতেন। বুঝতেন। শিখতেন।

বাবা তার স্টুডিওতেই চেয়ার বানালেন। যারা কিনল, তারা তো খুব খুশি। এত ভালো প্রোডাক্ট বাংলাদেশে কী করে তৈরি হয়! এরপর ওরা টেবিলসহ অন্যান্য ফার্নিচারও বানিয়ে দিতে বলে। বাবা তাও করলেন। তারা খুশি হলেন। বাবার যেহেতু প্রচুর বন্ধু-বান্ধব ছিল, তারা জানল। সেভাবেই তখন কাজ বাড়তে থাকল। একজন হয়তো বলল, অমুককে বানিয়ে দিয়েছেন আমাকেও বানিয়ে দিন। আস্তে আস্তে বাবার নাম ছড়াতে থাকল। অবশ্য তখন ‘অটবি’ নামটা ছিল না। ওই স্টুডিও থেকেই কাজ হতো।

এ প্রসঙ্গে বাহা স্কুলের নাম উল্লেখ করতে হয়। বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশক থেকে তৃতীয় দশক পর্যন্ত, প্রথমে জার্মানিতে; জার্মানিতে যখন নাৎসিরা চলে আসল, ওরা পারল না তখন আমেরিকায় চলে গেল। এর আগ পর্যন্ত ইউরোপে যে ব্যবহারিক জিনিসপত্র তৈরি হতো, সেগুলোর সবই বড়লোকদের জন্য। সেগুলো অনেক কারুকার্যসম্পন্ন ছিল। শুধুমাত্র বড়লোকরা এফোর্ট করতে পারত। সাধারণ মানুষের জন্য সাধারণ ডিজাইন ছিল। সেভাবেই চিন্তা করে বানানো হতো। সেটারও একটা মাত্রা ছিল। মডার্ন ডিজাইনের যে কনসেপ্ট সেগুলো তখন আসা শুরু করেছে। যেমন আমরা এখন কিছু প্রোডাক্ট ব্যবহার করি, এটার জন্ম কিন্তু প্রায় একশ বছরেরও আগে। যেটা এখন দেখে হয়তো ভাবছি এটা খুবই মডার্ন। আসলে কিন্তু একশ বছর আগে কোনো ডিজাইনার এভাবে প্রথম নিয়ে আসে। বাংলাদেশে অনেক পরে এসেছে বলে হয়তো আমরা মনে করি এটা খুব মডার্ন। আসলে এখন যে ডিজাইন পৃথিবীব্যাপী চলে সেটা পোস্ট-মডার্ন ডিজাইন। বাংলাদেশে এখন আমরা আসলে পোস্ট-মডার্ন ডিজাইন নয়, মডার্ন ডিজাইনই বেশি পছন্দ করি। এই কনসেপ্টটা বাবার মাথায় ছিল।

শুরুর দিকে এক/দুটা প্রোডাক্ট তৈরি হতো। তখন এত চাহিদা ছিল না। ইন্ডাস্ট্রিয়ালি এগোনোর কনসেপ্টও ছিল না। ধীরে ধীরে যখন সবগুলো কম্পোনেন্ট তৈরির চাহিদা ও সক্ষমতা তৈরি হলো, তখন, ১৯৮৩ সালের দিকে তিনি বড় পরিসরে এগোলেন। ঢাকার মিরপুরে প্রথম একটা আধুনিক ফ্যাক্টরি হলো। প্রথম স্টুডিও থেকে যে ডিজাইন কনসেপ্টগুলো বেরুতো, ওই ডিজাইনগুলো যখন একসময় জনপ্রিয় হয়ে উঠল তখন বাবা ভাবলেন এটাকে বড় পরিসরে নিয়ে যেতে হবে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাসেম্বলি লাইন বসাতে হবে। দ্রুত প্রোডাকশনের জন্য মেশিন কিনতে হবে। আপনি একটা কম্পোনেন্ট একটা পার্টিকুলার মেশিনে হয়তো আধাঘণ্টায় বানাতে পারেন, আরেক ধরনেরর মেশিন আছে সেটা হয়ত এক মিনিটে পারে। অন্য একটা মেশিন হয়তো তিরিশ সেকেন্ডে পারে। উনি চিন্তা করলেন কোন মেশিন বসাবেন। মেশিন কেনার সময় আমাদের তেমন পুঁজি ছিল না। অনেক সময় মেশিন কিনতেন না। ধোলাইখাল থেকে যন্ত্রাংশ কিনে নিজে কিছু জোড়াতালি দিয়ে মেশিন বানিয়ে ফেলতেন। সেভাবেই শুরুতে কিছুটা মেশিনের সহায়তায় কিছুটা হাতের সংস্পর্শে নান্দনিক ফার্নিচার তৈরি হতে থাকল।

একটা পর্যায়ে যখন চাহিদা বেড়ে গেল, ১৯৮৩ সালে ফ্যাক্টরি তৈরি করা হয়। যেখানে বিভিন্ন ধরনের ফার্নিচার একইসঙ্গে বেশি পরিমাণে বানানে শুরু হলো। ফ্যাক্টরিতে অ্যাসেম্বলি লাইন প্রোডাকশন ছিল, কম্পোনেন্ট প্রোপারলি বানানো হতো। ১৯৯৪ সালে আমরা আরেকটা ফ্যাক্টরি বানালাম। প্রথমে আমরা শুধু মেটাল দিয়ে ফার্নিচার বানাতাম। পরে বোর্ড আর মেটালের সংমিশ্রনে বানানো শুরু হলো। তারপর কাঠের-প্লাস্টিকের। অনেক কিছু আমরা করেছি। একটা সময় প্লাস্টিক মোল্ড আমরা নিজেরাই বানাতাম। সেটা ছোট পরিসরে।
আমাদের প্রথম শো-রুম করি ১৯৭৭ সালে, এলিফ্যান্ট রোডে। প্রথমে ভাড়া নিয়েছিলাম। পরবর্তীতে সেটা আমরা কিনে নিই। আমরা ওই ফ্লোরটা নেওয়ার আগে ওখানে যারাই যে ব্যবসার শো-রুম করেছে, সবাই লোকসান করেছে। আমরাই টিকে যাই এবং এখন পর্যন্ত আছি। এলিফ্যান্ট রোড কিন্তু তখনো এতটা জমজমাট ছিল না।

শুধু কাঠের (সলিড উড) ফার্নিচার আগে আমাদের ছিল না। আমরা শুধু স্টিল, বোর্ড, প্লাস্টিক ইত্যাদি দিয়ে ফার্নিচার বানাতাম। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর পুরো কাঠের ফার্নিচার বানানো শুরু করি। বাবা মারা যাওয়ার পর (২০০৬ সালে) কাঠের ফার্নিচার বানানোর জন্য আমরা সবচেয়ে বড় ও আধুনিক ফ্যাক্টরিটা বানাই সাভারে, ২০০৭-০৮ এর দিকে। কাঠ তো বিভিন্ন রকমের হয়। একেক রকমের কাঠের প্রকৃতি একেকরকম। কাঠের ফার্নিচার সবসময়ই ইউনিক। মানুষ সেটাকে অন্য চোখে দেখে। কাঠের ফার্নিচারে অনেক বেশি ডিজাইন করার সুযোগ থাকে। এ ধরণের ফার্নিচারের স্থায়িত্বও অনেক বেশি।

শুরু থেকে অফিস ফার্নিচারের জন্য আমরা বিখ্যাত। হাউজহোল্ড ফার্নিচারে আমরা এসেছি অনেক পরে। আমরা যখন কাঠের ফার্নিচার বানানো শুরু করলাম, তখন থেকেই হোম ফার্নিচারের দিকে বিশেষ নজর দেই। কারণ পৃথিবীব্যাপীই মানুষজন বাসা-বাড়িতে কাঠের ফার্নিচার ব্যবহার করা পছন্দ করে। এর আগে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত হোম ফার্নিচার ছিল। এখন অফিস ফার্নিচার এবং হোম ফার্নিচার প্রায় সমান-সমান।

বর্তমানে ফার্নিচারের কনসেপ্ট পরিবর্তন হয়ে গেছে। আগে মানুষ পুরনো দিনের ফার্নিচার ঐতিহ্য হিসেবেই ব্যবহার করত। এখন হয়ত বাস্তবিক কারণেই সেই ট্রেন্ডটা কমে আসছে। কারণ থাকার জায়গা বা অ্যাপার্টমেন্ট ছোট হয়ে আসছে। তাই ফার্নিচারও ছোট হয়ে আসছে।

অটবি এখনো দেশীয় মার্কেটেই বেশি ফোকাস করছে। কারণ বাংলাদেশের মার্কেট এখনো বাড়ছে। দেশের বাইরে ভারত, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা এই মার্কেটগুলোকে ফোকাস করছি। আমেরিকা-ইউরোপের মতো মার্কেটগুলো তাদের অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে কিছুটা ধীরগতিসম্পন্ন। সেই মার্কেটগুলোতে আমরা আস্তে আস্তে ঢুকছি। কারণ এই মার্কেটগুলো সহসাই এক্সপেনশন করার সুযোগ নাই।

 

 

কামরুজ্জামান কাজল


রিনিঝিনি বরষার সময় শেষের দিকে। শেষ শ্রাবণে একটা ভ্যপসা গরমে ছাপিয়ে যায় প্রকৃতি। ঘরের বাইরে এই ভ্যাপসা ভাব অসহনীয় হয়ে যখন ঘরে ফিরলেন সেখানেও যদি দু-দন্ড প্রশান্তি না মিলে তাহলে কীভাবে হয়? ঘরকে তাই ভ্যাপসা গরম থেকে মুক্তি দিয়ে প্রশান্তিময় করার পরমর্শ দিলেন ফারজানা’স ব্লিজ এর স্বত্বাধিকারী ফারাজানা গাজী। তার মতে- গরমের তীব্রতা ইদানিং এতো বেশি যে জীবন অসহনীয় লাগে। রোদ আর বৃষ্টির ফাঁকে পরিত্রাণ মিলছে না ভ্যাপসা গরমের হাত থেকে। ক্ষনে ক্ষনে বৃষ্টির আগমনে আশেপাশের পরিবেশ হয়ে উঠেছে স্যাঁতসেঁতে। ঘরবাড়ি, জামা-কাপড়, আসবাবপত্রেও থাকছে ভেজা ভাব। বাড়তি সমস্যা হিসেবে যোগ হচ্ছে পোকা-মাকড়ের উপদ্রব। বাইরে গরমের উপর নিজেদের হাত না থাকলেও ঘরটাকে আমরা ঠান্ডা করে নিতে পারি খুব সহজেই। সেই সাথে দহৃর করতে পারি ভ্যাপসা ভাবও।
ঘর ঠাণ্ডা রাখার জন্য দুপুরের সূর্যের প্রখর তাপ ঘরে ঢুঁকতে দেয়া যাবে না। সেক্ষেত্রে দক্ষিন ও পশ্চিম পাশের জানালা বা যেগুলোতে সরাসরি সূর্যের আলো পড়ে সেসব জানালার পর্দা টেনে রাখুন। পর্দা ভারি হলে বেশি ভালো হয়। এসময় জানালাও বন্ধ রাখুন। আর রাতের বেলা অবশ্যই জানালা খুলে দিতে হবে, যাতে বাইরের ঠাণ্ডা বাতাস ঘরে প্রবেশ করতে পারে।ফ্যানের বাতাস দ্বিগুন পেতে এবং ভ্যাপসা গরম থেকে বাঁচতে রাতের বেলা আপনার টেবিল বা পোর্টেবল ফ্যানটি জানালার কাছে চালিয়ে দিন। এটি বাইরের ঠাণ্ডা হাওয়া ভেতরে নিয়ে আসবে এবং ঘরের অসহনীয় গরম দূর হবে ।
ইনস্ট্যান্ট এসির সুবিধা পেতে টেবিল ফ্যানের সামনে গামলা ভর্তি বরফ রেখে ফ্যান চালিয়ে দিন। আবার একটি পানির বোতল বরফ করে ফ্যানের সামনে রাখতে পারেন। এতে যখনই ফ্যান চালাবেন বাতাসের সঙ্গে বরফের ঠাণ্ডা হাওয়া যোগ হয়ে এসির মতই কাজ করবে । বাসা অতিরিক্ত গরম থাকার আরও একটি কারণ হচ্ছে বিনা প্রয়োজনে ইলেক্ট্রনিক জিনিস অন করে রাখা। অনেককেই দেখা যায় কারণ ছাড়াই টেলিভিশন, ফ্যান, বাতি, কম্পিউটার ইত্যাদি অন করে রাখেন। এর ফলে ঘরের তাপমাত্রা আরও বেড়ে গিয়ে অতিরিক্ত গরম আবহাওয়া তৈরি করে। তাই বিনা প্রয়োজনে এসব জিনিস বন্ধ করে রাখতে হবে। এর ফলে অত্যধিক গরম থেকে বাঁচার সঙ্গে সঙ্গে ইলেক্ট্রিসিটি বিলও কম আসবে। আর যদি দিনের বেশির ভাগ সময়ই বাসায় থাকতে হয় তবে এসব ইলেকট্রিক জিনিস যতটা সম্ভব এমন সময়ে চালাবেন যখন তুলনামূলক কম গরম থাকে। বিছানা চাদর, বালিশের কাভার সবকিছুই হালকা রঙের হলে গরম কম ধরে। নমনীয় রঙে চোখের প্রশান্তি আসবে আবার গরমও কম লাগবে। রান্নার কাজ সকালেই সেরে নেয়া ভালো। রান্নাবান্নার কাজ ছাড়া গ্যাসের চুলা বন্ধ রাখতে হবে। আমাদের অনেকেরই অভ্যাস রয়েছে সারাদিন প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে রাখা। এর ফলেও ঘরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। জানালার কাঁচের মধ্য দিয়ে সূর্যের তাপ শোষিত হয়ে ঘরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে তোলে অনেকখানি। এসব ক্ষেত্রে যেসব জানালা সরাসরি সূর্যের আলোতে পড়ে সেসব জানালায় হিট প্রটেক্টিং উইন্ডো ফিল্ম লাগান। এতে করে জানালার ভিতর
দিয়ে সূর্যের তাপ শোষণ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায় এবং ঘরও ঠাণ্ডা থাকে। এছাড়াও জানালার বাইরের দিকে সাদা রঙ করে দিলে সূর্যের আলো প্রতিফলিত হয়ে যাবে এবং কম তাপ শোষণ করবে ।যদি সম্ভব হয় তবে বাড়ির পূর্ব ও পশ্চিম পাশে বেশি করে গাছ লাগান। বাসার আশেপাশে গাছ থাকলে সরাসরি সূর্যের আলো পড়ে না যার ফলে ঘরের পরিবেশ
ঠাণ্ডা থাকে । বহুতল ভবনে যে বাসিন্দারা একেবারে ওপরের তলায় (টপ ফোর) থাকেন, তাঁরা অন্যদের তুলনায় বেশি গরমে থাকেন। সেক্ষেত্রে শীতলীকরণের বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। সম্ভব হলে আরেকটি জলছাদ তৈরি কিংবা ফাঁপা ইটের (হলো ব্রিক) মাধ্যমেও গরমের প্রকোপ কামানো যেতে পারে। এ ছাড়া ছাদে বাগান করলেও তাপ সরাসরি ঘরে আসবে না। শুধু ছাদের বাসিন্দাদের ক্ষেত্রেই নয়, ঘর শীতল রাখতে বারান্দায় গাছ রাখতে পারেন সবাই। রোদের তাপ গাছ শোষণ করে, ঘর ঠান্ডা থাকবে।
স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া ঘর আরও বেশি গরম করে তোলে। এই সমস্যা থেকে রা পেতে গোসল বা কাপড় চোপড় ধোয়ার কাজটি হয় একদম সকালে না হয় বিকেলের দিকে করা ভালো। কারণ দুপুর বা দিনের গরম সময়ের দিকে এই কাজ গুলো করলে ঘরের পরিবেশ আরও আর্দ্র বা স্যাঁতসেঁতে হয়ে যায়। তখন ঘর আরও গরম হয়ে উঠে। মনে রাখতে পারেন আরো যা কিছু

* বর্ষায় ঘরের মেঝেতে স্যাঁতসেঁতে ভাব হয় সহজে। এই ভেজাভাব দূর করতে রুম ফ্রেশনার স্প্রে করুন। দেখবেন ঘরের ভেতর একটা ফ্রেশ ভাব ফুটে উঠবে।
* ঘরের দেয়ালের ছাদকে ছায়ায় রাখার চেষ্টা করতে হবে। সম্ভব হলে বারান্দা, সানশেড, কার্নিশ ব্যবহার করুন।
* বাতাস চলাচলের জন্য দণি, পূর্ব-দণি দিকে যতটা পারা যায় খোলা জায়গা রাখতে হবে।
* বেশি ব্যবহৃত কগুলো দণি, দণি-পূর্ব দিকে রাখা ভালো।
* উত্তর দিকে সূর্য আসে না, তাই বাড়তি উত্তাপও হয় না। তবে গরমকালে বাতাসও আসে না, তাই ভেতরের আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ার উপক্রম হবে। পশ্চিমে সূর্যের আলো অনেকটা হেলানভাবে দেয়ালে পড়ায় দেয়ালে ছায়া পাওয়া যায় না। পশ্চিমের দেয়াল তাতে গরম হয়।
* মেঝেতে কার্পেট ব্যবহার করছেন? সেটা উঠিয়ে রাখতে পারেন শীতকালের জন্য। কার্পেটসহ তাপ ধরে রাখে এমন আবরণ ব্যবহার না করা ভালো। তাহলে ভ্যাপসা গরমে কিছুটা স্বস্তির খোঁজ পাবেন আপন নীড়ে।

 

কারিকা ডেক্স


অফিস কিংবা ঘরের অন্দর সাজসজ্জা নিয়ে বরাবরই আলোচনা চলে খাবার টেবিল থেকে ড্রইংরুমেও। গৃহশৈলীর নিত্যনতুন সামগ্রী সাধ আর সাধ্যের মধ্যে রেখে বসবাসের ঘরটি আকর্ষণীয় করে তুলতে চায় সবাই। এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখে আলোকসজ্জা। জেনে নিন লাইট ব্যবহারে কিছু প্রয়োজনীয় বি

১. ঝাড়বাতির জন্য চাই বড় আয়তনের বসার ঘর। কারণ বড় বসার ঘরে ইচ্ছেমতো ঝাড়বাতি স্থাপন করা যায়। অন্যদিকে ছোট বাসার ঘরে ঝাড়বাতি বেমানান লাগে।
২. মাঝারি ধরনের বসার ঘরের জন্য সিলিং ছোট আকারের লাগোয়া ঝাড়বাতি বেছে নিতে পারেন। এক্ষেত্রে ফুলের নকশা বা চার কোণাকৃতির ঝাড়বাতি ভালো মানায়।
৩. ঘরের ইন্টেরিয়র পরিকল্পনার শুরুতেই লাইটিং প্ল্যান করে নেয়া ভালো। অন্দরসজ্জায় তিন ধরনের বাতির ব্যবহার হয়। জেনারেল, টাস্ক এবং একসেন্ট লাইটিং। আপনি পছন্দমতো এবং ইন্টেরিয়র ডিজাইনারের সঙ্গে আলোচনা করে পরিকল্পনামাফিক ব্যবহার করলে অতি সহজেই ঘরে জমকালো আমেজ এনে দেবে।
৪. ঘরের প্রতিটি অংশে পর্যাপ্ত আলো পৌঁছে দিতে জেনারেল লাইট ব্যবহার করা হয়। সিলিং লাইট, টেবিল এবং ফ্লোর ল্যাম্প, আপ অ্যান্ড ডাউন ওয়াল লাইট ইত্যাদি জেনারেল লাইটিংয়ের মধ্যে পড়ে।
৫. জরুরি কাজের জায়গাগুলো আলোকিত করার জন্য টাস্ক লাইট ব্যবহার করা হয়। যেমন শোবার ঘরের স্টাডি টেবিল, রান্নাঘরের কাউন্টারটপ ইত্যাদি।
৬. ঘরের কোণ কিংবা একটি নির্দিষ্ট জিনিসকে হাইলাইট করার জন্য একসেন্ট লাইটিং ব্যবহৃত হয়। দেয়ালের পেইন্টিং, স্কাল্পচার, গাছ অথবা কোনো বিশেষ শোপিস এর মাধ্যমে হাইলাইটেড হয়।
৭. বসার ঘরে লাগাতে পারেন রকমারি ওয়াল ব্র্যাকেট। ঝাড়বাতির সঙ্গে মিল রেখে স্টিল, পিতল ইত্যাদি ধরনের ওয়াল ব্রাকেট পাওয়া যায়। ব্রাকেট ব্যবহার করতে চাইলে বসার ঘরের জানালার ওপর স্থাপন করাই ভালো।
৮. বড় বসার ঘরে অথবা ফলস সিলিং বসানো থাকলে সোফার এক পাশে রাখতে পারেন গাছের আদলের স্ট্যান্ডিং লাইট। অ্যালুমিনিয়াম স্ট্যান্ডে ক্রিস্টাল আর কাচের তৈরি এই লাইট বেশ জমকালো ভাব আনবে ঘরে।
৯. খাবার টেবিলের ওপর পছন্দসই শেডযুক্ত পেনডেন্ট লাইটের ব্যবস্থা রাখতে পারেন।
১০. ঘর বড় হলে ওয়াল লাইট ব্যবহার করতে পারেন। বিশেষ কিছু হাইলাইট করার জন্য ব্যবহার করতে পারেন স্পটলাইটও।
১১. খাবার টেবিল বরাবর সিলিং থেকে ছোট-বড় কয়েকটি হ্যাংগিং লাইটও ঘরের পরিবেশে যোগ করবে ভিন্ন মাত্রা।
১২. শোবার ঘরে ওয়াল লাইটের সঙ্গে ঘরের এক কোণে পেনডেন্ট লাইটও লাগিয়ে নিন।
১৩. বিছানার পাশে ওয়াল ব্রাকেট লাগালে বই পড়ার কাজে লাগবে। শোবার ঘরে ডিমার লাইটিংয়ের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। আবার ড্রেসিং টেবিলের ওপর লাগানোর জন্য স্পটলাইটই উপযুক্ত।
১৪. ঘরের প্যাসেজ বা প্রবেশপথে দরকার পর্যাপ্ত আলো। তাই সিলিং লাইট কিংবা আপ অ্যান্ড ডাউন লাইটের ব্যবহার এখানে বেশি মানানসই।
১৫. দেয়ালে কোনো পেইন্টিং, আয়না বা শিল্পকর্ম থাকলে তার ওপর ব্যবহার করুন স্পটলাইটের মতো একসেন্ট লাইটিং।
১৬. ছোটদের ঘরেও ব্যবহার করুন বিভিন্ন ডেকোরেটিভ লাইট। যেমন খেলার ঘর সাজাতে পারেন রিকশা, সাইকেল, জিপ, ফুটবল ইত্যাদির আদলে তৈরি সিলিং হ্যাংগিং দিয়ে। পড়ার টেবিলে রাখার জন্য মজার কবিতা লেখা ল্যাম্পশেডও এখন বাজারে পাওয়া যায়।

0 2952

কারিকা ডেক্সঃ


প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও শুরু হচ্ছে ভবন নির্মানের কাজ। অর্থাৎভবন নির্মাণের হার  বাড়ছে। এতে বিপুল পরিমাণে ইট ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব ইট তৈরিতে প্রচুর পরিমাণে মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ছাড়া ইট পোড়াতে কয়লা এবং কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে প্রাকৃতিক সম্পদের উপর চাপ বাড়ে যাচ্ছে।একদিকে ফসলি জমির পরিমান কমে যাচ্ছে।পাশাপাশি বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে গিয়ে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। সব মিলিয়ে পরিবেশের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

বর্তমান বিসগ্ব প্রযুক্তি নির্ভর। তাই আমরা যদি প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইটের বিকল্প কিছু এবং পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করতে পারি তাহলে প্রাকৃতিক সম্পদ কম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এসব দিক মাথায় রেখেই পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী তৈরি করছে হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট। রাজধানীর টেকনিক্যাল রোডে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানে চার বছর ধরে নির্মাণ করা হচ্ছে এসব সামগ্রী। কিন্তু সঠিকভাবে প্রচারের উদ্যোগ না থাকায় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানপর্যায়ে বিষয়টি অজানা থেকে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এসব সামগ্রীর প্রচার হলে মাটিতে পোড়ানো ইটের প্রতি নির্ভরশীলতা কমে আসবে।

বর্তমানে বাজারে তৈরি আগুনে পোড়া একটি ইটের দাম পড়ে ৭ থেকে ৮ টাকা। অথচ পরিবেশবান্ধব এই ইটের (হলো ব্লক) দাম পড়ে ৬ থেকে ৭ টাকা। ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ জানান, বর্তমানে সাধারণ ভবনে এক বর্গফুটের নির্মাণ খরচ পড়ে এক হাজার ৮০০ টাকা। অথচ এ ধরনের ডেমোনেস্ট্রেশন বিল্ডিং তৈরি করতে প্রতি বর্গফুটে খরচ হয় মাত্র ১ হাজার ১৫০ টাকা।

পাশাপাশি সাধারণ বহুতল ভবনগুলো ভূমিকম্প সহায়ক নয়। অথচ এ ভবনগুলো ভূমিকম্প সহায়ক। এটা রিখটার স্কেলে ১০-১২ মাত্রার ভূমিকম্প হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।

পঞ্চগড়ে কাঁচামাল বালু আর পাথরের গুঁড়ার সাথে সিমেন্ট মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে পরিবেশবান্ধব আন্তর্জাতিক মানের টাইল্স ও হলো ব্লক। জেলা শহরের উপকণ্ঠে তালমা নদীর তীরে হাবিব অ্যান্ড সান ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরীামূলকভাবে উৎপাদন করছে টাইল্স ও হলো ব্লক। শুরুতে স্বল্প পরিসরে হলেও আগামীতে আরো বৃহৎ পরিসরে উৎপাদনে যাবে এই শিল্প কারখানা।এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান হবে।

 

বর্তমানে ইটের জন্য মাটি কাটতে হয় বলে প্রতি বছর ফসলি জমির পরিমাণ ১ শতাংশ কমে যায়। এভাবে ফসলি জমি কমলে পাঁচ কোটি লোকের খাবারে ঘাটতি পড়বে। এ জন্য এখন থেকেই ভিন্ন ধরনের ভবন তৈরির কথা ভাবতে হবে।

 

কারিকা প্রতিবেদকঃ


কানাডার পশ্চিমাঞ্চলীয় ভ্যানকুভারে ট্রাম্প টাওয়ারে দুই বেডের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের দাম হাঁকা হয়েছে ২১ লাখ ৯৮ হাজার কানাডিয়ান ডলার। মার্কিন মুদ্রায় এর মূল্য দাঁড়ায় ১৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার। ভবনটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মালিকানাধীন ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যান্ড টাওয়ার ব্র্যান্ডের অধীনে নির্মাণ করা হয়েছে। এটি নির্মাণের আগেই এর ২৯০টি ফ্ল্যাটের সবগুলো বিক্রি হয়ে যায়। গত বছরের নভেম্বর মাসে ভবনটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়।
তবে ভ্যানকুভারের ট্রাম্প টাওয়ারের যে ফ্ল্যাটটি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তার বিশেষত্ব অন্য জায়গায়। এই ভবনের অন্যসব ফ্ল্যাটের তুলনায় এর দাম যথেষ্ট বেশি। ২০১৪ সালে এক বিনিয়োগকারী এটি কিনে নেন, তবে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর এখন পর্যন্ত সেখানে কেউ বসবাস করেনি। সেই সঙ্গে বিক্রির পর এর দাম হয়ে গেছে দ্বিগুণ। ফ্ল্যাটটির সজ্জা দেখলে মনে হবে, এটা কোনো চমকপ্রদ শোরুম।
‘প্যাঁচ খেয়ে’ উঠে যাওয়া ৬১৬ ফুট উঁচু ট্রাম্প টাওয়ারটি ৬৯ তলার। এর ২৯তম তলায় ওই ফ্ল্যাট। এতে দুটি শোবার ঘর রয়েছে। ঘর দুটোর সঙ্গেই একটা করে বাথরুম সংযুক্ত। বাথরুমের মেঝে মসৃণ মার্বেল পাথরে তৈরি, আর সিঙ্কটা তৈরি করা হয়েছে আগ্নেয়গিরির চুনাপাথর দিয়ে। ১ হাজার ১৮০ বর্গমিটারের এই ফ্ল্যাটে একটি অত্যাধুনিক রান্নাঘরও রয়েছে। এ ছাড়া আছে একটি ব্যালকনি, যেখান থেকে সাগর, তুষার-আবৃত পর্বত দেখা যায়। ফ্ল্যাটের তাপমাত্রা, আলোর ব্যবস্থা, নিরাপত্তা শুধু একটা বোতাম স্পর্শ করেই নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। এ কাজে সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেসটন হোমের সরবরাহ করা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা।
রঙের দিক থেকেও ফ্ল্যাটটি বিশেষ। চার ধরনের রঙ ব্যবহার করা হয়েছে। হালকা ধূসর, বাদামি, গোলাপি আর সাদা। যে রঙটা যে জায়গায় সবচেয়ে ভালো মানায়, সেখানেই সেটা ব্যবহার করা হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল সম্পদ-বাজার কানাডার ভ্যানকুভার। এ শহরে ট্রাম্প টাওয়ার নির্মাণের আগেই যেসব বিনিয়োগকারী সেখানে ফ্ল্যাট কিনেছিলেন, বর্তমান মূল্যে তা বিক্রি করে দিলেও তারা বেশ লাভের প্রত্যাশা করতেই পারেন।
স্থানীয় আবাসন এজেন্ট লেস তোয়ারগের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প টাওয়ারের অন্তত অর্ধেক সংখ্যক ফ্ল্যাটের মালিকই বিদেশি, যেমন চীন ও কোরিয়ার ক্রেতারা। তিনি দাবি করেন, ওই ভবনের বহু ফ্ল্যাট খালি পড়ে রয়েছে। এগুলোর মালিকরা ভাড়া দেওয়ার ঝামেলা এবং সেখান থেকে অতিরিক্ত আয়ের পথ এড়াতে চাইছেন। তাদের লক্ষ্য লাভসহ মূলধনটা তুলে নেওয়া।
শহরের নতুন নিয়মও হয়তো এই ফ্ল্যাট খালি পড়ে থাকার দৃশ্যের পরিবর্তন আনতে পারে। আগামী জুলাই মাস থেকে ছয় মাস বা তার বেশি সময় ধরে ফ্ল্যাট বা বাসাবাড়ি খালি পড়ে থাকলে বাসিন্দাহীন অবস্থার জন্য এক শতাংশ অতিরিক্ত কর দিতে হবে।
ট্রাম্প টাওয়ারের অবস্থান সম্পর্কে এজেন্ট লেস তোয়ারগ বলেন, শহরের ওই জায়গাটা বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত কাক্সিক্ষত একটা জায়গা। গত তিন বছরে ওই এলাকার সম্পত্তির মূল্য ৪০ শতাংশ বেড়েছে।
এখানে উল্লেখ্য, ভ্যানকুভারের ওই ভবনের মালিকানা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নয়। তবে তিনি তার নাম ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন। (ভ্যানকুভারের ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল হোটেল এবং টাওয়ারের মালিক ও নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান মূলত টিএ গ্লোবাল বিএইচডি।)
ভবনের বাসিন্দাদের যে কোনো সময় হোটেলে যাতায়াত ও সেখান থেকে সেবা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই ভবনে আরও আছে ফিটনেস সেন্টার ও সুইমিংপুল। এ ছাড়া এখানকার বাসিন্দারা ভবনের মট-৩২ নামের চাইনিজ রেস্তোরাঁ এবং দ্য স্পা বাই ইভানকা ট্রাম্প থেকে ১০ শতাংশ ছাড় সুবিধায় সেবা নিতে পারবেন।
ট্রাম্প টাওয়ারের যে বিলাসবহুল ফ্ল্যাটটি নিয়ে মূল আলোচনা, সেটি বিক্রির বিষয়টি দেখভাল করছে অ্যাঞ্জেল অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের এজেন্ট পিটার জুডাকি। তার মতে, ‘বহু ক্রেতাই ফ্ল্যাটটি দেখতে আসছেন। তাদের মধ্যে চীনা তরুণের সংখ্যাই বেশি। তারা এখানকার অবিশ্বাস্য সুযোগ-সুবিধা আর ভবনের নাম ট্রাম্প টাওয়ার হওয়ায় বেশি আকৃষ্ট হচ্ছেন, কারণ বিশ্বজুড়ে বিলাসবহুল আর আভিজাত্যের সমার্থক শব্দ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই নাম।’

0 523

কারিকা প্রতিবেদকঃ


গরমকাল এলেই চাহিদা বাড়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসির। উচ্চবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত সবাই ঝুঁকছে এসির দিকে। তীব্র গরমে নিজের থাকার ঘর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত না হলে যেন চলেই না। নিজের বাড়িতে না থাকুক, বাইরে পা রাখলে কোনো কোনো পরিবহনে, অফিসে, শপিংমল এসির আরাম। আরাম তো বটেই! কিন্তু জানেন কি, এই আরাম অলক্ষ্যেই ডেকে আনছে শরীরের জন্য বিপদ!
বিভিন্ন স্বাস্থ্য বিষয়ক ওয়েবসাইট ঘেঁটে জানা যায়, অনেকক্ষণ এসিতে থাকলে শরীরের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে যায়। দেহের প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা টেনে নেয় এসির হাওয়া। দিন দিন রূক্ষ-শুষ্ক হতে থাকে ত্বক। দীর্ঘক্ষণ এসিতে থাকার কুপ্রভাব পড়ে চোখেও। চোখ লাল হয়ে যাওয়া কিংবা চোখে ড্রাইনেসের মতো সমস্যায় পড়েন অনেকেই। আবার নাক দিয়ে পানি পড়া, সর্দিকাশি-ফ্লু ইত্যাদি উপসর্গের পেছনের কারণ কিন্তু হতে পারে আপনার ঘরের এসির অস্বাভাবিক ঠান্ডা। অতি গরমের মতো অতি ঠান্ডাতেও রক্তসঞ্চালনে সমস্যা হতে পারে, সেই সঙ্গে ঠা-াজনিত অসুখ-বিসুখের আশঙ্কা তো আছেই।
সবসময় এসি ছেড়ে রাখলে তা শরীরের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। ঘরের তাপমাত্রার কৃত্রিম পরিবর্তনে শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াগুলো কিছুটা হলেও ব্যাহত হয়, আবার এসির অনুপস্থিতিতে প্রাকৃতিক ঋতু-পরিবর্তনের সঙ্গে শরীর নিজেকে যেভাবে মানিয়ে নেওয়ার কথা ছিল, এসির উপস্থিতি তা হতে দেয় না। সেই সঙ্গে এসির রিসাইকেলড বায়ুসেবনের অভ্যস্ততা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে করে ফেলে দুর্বল।
অনেক সময় এসির মেশিন থেকে হাওয়া বেরোনোর ছিদ্রগুলো বা ফিল্টার নিয়মিত ঠিকঠাক পরিষ্কার হয় না। ফলে হাওয়া বেরোনোর মুখগুলোতে ময়লা জমে জন্ম নেয় বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া। এসির মধ্যে ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক জমলে শ্বাস নেওয়ার সময় বাতাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করতে পারে। ছড়িয়ে পড়ে ঘরের আনাচে-কানাচে। ছড়াতে পারে খাবারে কিংবা পরিধেয় জামাকাপড়ে। এসির ঠান্ডা হাওয়ার সঙ্গে ব্যাকটেরিয়া মিলেমিশে শরীরে ডেকে আনে নানা বিপদ।
টানা এসিতে থাকলে অনেকেরই শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দেয়। শরীরে নানা ইনফেকশনেরও কারণ হতে পারে এসির জীবাণুমিশ্রিত হিমেল হাওয়া। এসির আরেক ধরনের প্রভাব আছে। অনেকেই এসির মধ্যে টানা কাজ করতে করতে মাত্রাতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভব করেন। তাই এসি ব্যবহারে থাকতে হবে সতর্ক।

0 1864

কর্মব্যস্ত দিন। মন প্রফুল্ল রাখার কত উপায়ই না আমরা খুঁজি আজকাল। কীভাবে নিজেকে সুস্থ রাখা যায়, সেই সঙ্গে ঘরবাড়ি এবং প্রকৃতিতে কতটা আনা যায় সবুজের ছোঁয়া। একটা সময় গাছপালার সবুজ আমাদের ঘিরে রাখত। আর এখন এক টুকরো সবুজের আশায় আমাদের ছুটতে হয় ঢাকার বাইরে। রাজধানীতে সবুজের দেখা মেলা ভার। এমন একটা সময় ছিল যখন বাড়ির উঠোনে থাকত ফুলের বাগান। পেছন দিকে থাকত ফল-কিংবা সবজির আবাদ; এখন যা শুধুই স্মৃতি। স্মৃতি হাতড়িয়ে শুধু আফসোস না করে আপনি আপনার বারান্দা কিংবা ছাদটাকেই বানিয়ে নিতে পারেন ছোট্ট এক টুকরো বাগান। বর্ষাকালের দরুন এখন বিভিন্ন স্থানে হচ্ছে বৃক্ষমেলা। তাই গাছ সংগ্রহ করে মনের মতো বাগান বানিয়ে নিন ছাদ বা বারান্দায়। কীভাবে আপনার বাসায় গাছের পরিমাণ বাড়িয়ে এই বর্ষায় ইন্টেরিয়রে আনতে পারেন নজরকাড়া পরিবর্তন, তারই নানা পরামর্শ দিয়েছেন ইন্টেরিয়র ডিজাইনার নাজরানা লোপা

বারান্দায় সন্ধ্যায় হাসনাহেনার সুবাস কে না নিতে চায়? কিংবা বেলি ফুলের স্নিগ্ধতা? আর নানারূপের পাতাবাহারে চনমনে মনের অনুভূতি কার না কাম্য? এজন্য বারান্দায় গ্রিল ঘেঁষে আপনি টবেই লাগাতে পারেন নানা ফুল এবং পাতাবাহারের গাছ। ইচ্ছে করলে ছাদেও করতে পারেন ফুলবাগান। আর বারান্দার পরিসর যদি একটু বড় হয়, তাহলে ফুলের পাশাপাশি টুকটাক করে নিতে পারেন কিছু সবজির চাষ।

বাসার বারান্দা কিংবা ছাদে ফুলের দৃষ্টিনন্দন গাছ তো থাকবেই, সেই সঙ্গে টবেই এখন ইচ্ছে করলে চাষ করতে পারেন পুঁইশাক বা ডাঁটাশাকের মতো সবজিগুলো। তাই ফুলের পাশাপাশি ভোজনরসিকদের স্বাদ মেটাবে নিজের চাষ করা এসব সবজি।
ছাদে যদি সবজি ফলানোর জন্য বেড তৈরি করার কোনো সুযোগ থাকে, তাহলে প্রথমেই ১০ ফুট দীর্ঘ এবং ১ ফুট প্রস্থের একটি বেড তৈরি করে নিন। আর বারান্দায় টবেই লাগাতে পারেন এসব। তবে ছাদ থেকে একটু উঁচুতে বেড বানানো ভালো। তাহলে জমানো মাটি ছাদে জলাবদ্ধতা তৈরি করতে পারবে না। এ ক্ষেত্রে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা যথাযথ হওয়া চাই। তারপর প্রস্তুত করে নিতে হবে মাটি। এজন্য ঝুরঝুরে দোআঁশ মাটিই ভালো হবে। মাটির এক-তৃতীয়াংশ শুকনো গোবর সার, ২৫০ গ্রাম সরিষার খৈল এবং ১০ গ্রাম পটাশ ও টিএসপি পানি মিশিয়ে সাত দিন ভিজিয়ে রাখতে হবে। মাটি শুকিয়ে গেলে বেড বা টবে রাখার পর চারা লাগানোর কাজ শুরু করতে হবে। এই মৌসুমে আপনি চাষ করতে পারেন বরবটি, করলা, শসা, ক্যাপসিকাম, ডাঁটাশাক, কলমিশাক, ঢেঁড়শ, পুঁইশাক, পাটশাক, পুদিনা ও থানকুনির। আশপাশের বিভিন্ন নার্সারিতে এসব গাছের চারা মোটামুটি সহজলভ্য। এ ধরনের শাকসবজির জন্য খুব বেশি গভীর মাটি বা বেডের প্রয়োজন হয় না। যদি বেড করার কোনো সুযোগ না থাকে, তাহলে বড় মাপের টবে যেসব গাছ রয়েছে, তার গোড়ায়ই বুনে দিতে পারেন এসব শাকসবজি। এ মৌসুমে ভালো ফলন পেতে হলে দুইবেলা সেচ দেওয়া প্রয়োজন। ভালোভাবে পরিচর্যা করতে পারলে অল্প সময়ের মধ্যেই ফলন পাওয়া সম্ভব। নিজের হাতে বোনা বাগানের এসব টাটকা শাকসবজি খাওয়ার চেয়ে দেখেই অনেক আনন্দ।

শাকসবজিতে পোকামাকড়ের আক্রমণ একটু বেশিই থাকে। সুতরাং এ ক্ষেত্রে কীটনাশক ব্যবহার জরুরি। রাসায়নিক কীটনাশকের চেয়ে প্রাকৃতিক ও স্বাস্থ্যসম্মত কীটনাশক ব্যবহার করাই উত্তম। নিজেই বানিয়ে নিতে পারেন কীটনাশক। ১০০ গ্রাম শুকনো মরিচের গুঁড়ো ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে এক রাত ভিজিয়ে রেখে সকালে কাপড় দিয়ে ছেঁকে নিতে হবে। তারপর অল্প পরিমাণ গুঁড়ো সাবান মিশিয়ে ঝাঁকিয়ে একটু ফেনা করে নিলেই ¯েপ্র করা যাবে। রোদ থাকা অবস্থায় ¯েপ্র করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
নিয়ম করে বিকেলে সন্তানের সান্নিধ্যে বাবা-মা খুব সহজেই করতে পারেন এই ছাদ বাগান কিংবা বারান্দা বাগান। মনের খোরাক বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ঝিরিঝিরি সবুজের সমারোহে হেসে উঠবে আপনার আবাস।