Home মূল কাগজ ইন্টেরিয়ার

0 201

৮ মার্চ বিশ্বব্যাপী পালিত হবে আর্ন্তজার্তিক নারী দিবস। নারী দিবসে নারীর ক্ষমতায়ন ও সমতা নিশ্চিতের দাবি ওঠে সর্বত্র। সেই সঙ্গে চিত্রিত হয় নারীর সাফল্যের চিত্রও। সারা বিশ্বে স্থপতি হিসেবে নারীদের অংশগ্রহণ খুবই কম। সেই কম সংখ্যক নারী স্থপতি এবং তাঁদের তৈরি চমকপদ ছয় স্থাপনার গল্প থাকলো এখানে-
অ্যাকুয়া টাওয়ার, শিকাগো
আমেরিকান স্থপতি ম্যার্কআর্থার ফেলো জেনি গ্যাং বর্তমান সময়ের একজন আলোচিত স্থপতি। স্টুডিও গ্যাংয়ের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হিসেবে তিনি নিজেকে অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এটি আরও স্পষ্ট হয়েছে যখন তিনি ৮৫৯ ফুট উচু আকাশচুম্বী অ্যাকুয়া টাওয়ারের স্থাপত্য নকশা করেছিলেন। অ্যাকুয়া টাওয়ার বিশ্বের তৃতীয় উচু আকাশচুম্বী ভবন যার প্রধান স্থপতি একজন নারী।
লাইব হাউস, বার্নেগ্যাট লাইট, নিউ জার্সি
লাইব হাউসটির স্থাপত্য নকশা করেছেন রবার্ট ভেন্টুরি এবং ডেনিস স্কট ব্রাউন দম্পতি। লাইব হাউসটি নিউজার্সির বার্নেগ্যাটের একটি আইকনিক স্থাপনা। ১৯৬৯ সালে ভবনটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়। এরপর থেকে ভবনটি বার্নেগ্যাটের অন্যতম দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। ভবনটির বিশেষত্ব হচ্ছে দুটি ভিন্নধর্মী কালার টোন। এছাড়াও ভবনজুড়ে ছড়ানো অস্বাভাবিক জ্যামিতিক আকৃতির জানালাগুলো ভবনটির সৌন্দর্য্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ভিয়েতনাম ভেটেরান্স মেমোরিয়াল; ওয়াশিংটন ডিসি
ভিয়েতনাম ভেটেরান্স মেমোরিয়ালের অসাধারণ স্থাপত্য নকশার জন্য আমেরিকান বংশোদ্ভুত স্থপতি মায়া লিনকে ২০১৬ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম প্রদান করেছিলেন। নৈঃশব্দ থিমের ওপর ভিত্তি করে মায়া লিন এমনভাবে ভিয়েতনাম ভেটেরান্স মোমোরিয়ালের স্থাপত্য নকশা করেছেন যাতে মনে হয় স্মৃতিসৌধটি নিজেই নিজের ইতিহাস বলছে।
আটলান্টিস কনডোমেনিয়াম, মিয়ামি, ফ্লোরিডা
এলিজাবেথ প্লাটার জাইবার্ক একজন আমেরিকান বংশোদ্ভুত স্থপতি। তিনি মিয়ামি ভিত্তিক আর্কিটেক্টচার ফার্ম ‘আর্কোটেকটোনিকা’তে কাজ করেন। প্লাটার জাইবার্ক ১৯৮০ সালে শুরু হওয়া ‘নিউ আরবানিজম মুভমেন্টের’ একজন সক্রিয় কর্মী। এজন্য তাঁর নকশাকরা আটলান্টিস কনডোমেনিয়ামে নতুন ধারার প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। কনডোমেনিয়ামটিতে হাঁটা ও আড্ডা দেয়ার জন্য খোলা জায়গা রাখা হয়েছে।
সিট্রোয়ান ফ্ল্যাগশীপ স্টোর, প্যারিস, ফ্রান্স
ম্যানুয়েল গৌতান্ড একজন ফরাসি স্থপতি। যিনি চ্যাম্পস ইলিসেসে সিট্রোয়ান ফ্ল্যাগশীপ স্টোরের স্থাপত্য নকশা করে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন। গৌতান্ড শুধুমাত্র চমকপ্রদ স্থাপত্য নকশাই করেন না, তিনি ইউরোপ আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকতাও করেন। শিক্ষার্থীদের তার চমকপ্রদ স্থাপত্য নকশা সম্পর্কে সম্যক ধারণা প্রদান করেন।
এমইটিআই হ্যান্ডমেড স্কুল, রুদ্রপুর, বাংলাদেশ
জার্মান স্থপতি আনা হেরঞ্জার টেকসই আর্কিটেকচার আন্দোলনের অন্যতম নেতা। এমইটিআই হ্যান্ডমেড স্কুল নির্মাণে আনা হেরঞ্জার স্থানীয় এবং ঐতিহ্যবাহী নির্মাণ উপকরণ ব্যবহার করেছেন। এসব নির্মাণ উপকরণ একই সঙ্গে পরিবেশ বান্ধব এবং সাশ্রয়ী।


কারিকা ডেস্ক

হোটেল কালিমালা

স্থাপত্য ডিজাইনের দিক থেকে ইতালির মিলান শহরকে সবচেয়ে শৈল্পিক শহর হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং ভেনিসকে বলা হয় প্রদর্শনীর শহর। কিন্তু এই দুই শহরের বাইরে সবকিছু ছাপিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ফ্লোরেন্স তার একটি নিজস্ব রেনেসাঁ তৈরি করতে পেরেছে।
আজকাল কারিগররা প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী মোজাইক এবং চামড়াজাত কারুপণ্যগুলো সংরক্ষণ করে থাকেন। প্রাচীন ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি ফ্লোরেন্সের অধিবাসীরা সমসাময়িক আর্ট এবং ডিজাইন সংরক্ষণেও সমান মনোযোগী। শহরে নতুন ভবন নির্মাণের সময় স্থপতিরা কনটেম্পোরারি, ফ্রেশ লুক দেয়ার চেষ্টা করেন। এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ হতে পারে হোটেল কালিমালা। হোটেল কালিমালার ভবনটি দেখে শহরের অন্যসব ভবনের স্থাপত্য নকশা সম্পর্কে খুব সহজেই জরিপ করে নেয়া যায়। কনটেম্পোরারি ধাঁচে তৈরি হোটেল কালিমালার ৩৮টি বিলাসবহুল কক্ষ এই বছরের সেপ্টেম্বরেই ব্যবহারের জন্য খুলে দেয়া হবে।
অ্যালেক্স মাইটলিসের স্থাপত্য নকশাকৃত হোটেলটি শহরের অন্যান্য হোটেল থেকে নতুন এবং আরও বেশি অত্যাধুনিক। অ্যালেক্স এর আগে লন্ডনের অটোলেঙ্গি রেস্তোরাঁর ডিজাইন করেছিলেন। হোটেল কালিমালার কক্ষগুলোর অভ্যন্তরে ১৯ শতকের পুরনো প্যালাজো দেগলি অ্যাঞ্জেলি পাথরখন্ড ব্যবহার করা হয়েছে। পাথরের দেয়ালের সঙ্গে হাল আমলের আসবাব। সেই সঙ্গে ঘরের ভেতরে উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার- সব মিলিয়ে হোটেলের কক্ষগুলোতে এক শৈল্পিক আবহ এনে দিয়েছে। চোখধাঁধানো মার্বেল পাথরের বাথরুম এই হোটেলের অন্যতম আকর্ষণ।
আশা করা যাচ্ছে, হোটেলটি উদ্বোধনের পর এর রুফটপ রেন্টুরেন্ট, বার এবং ডিজে পার্টি এলাকা আলোর রোশনাইয়ে ঝলমলিয়ে উঠবে।
স্থপতি অ্যালেক্স মাইটলিস বলেন, ‘হোটেল কালিমালার স্থাপত্য নকশা করার সময় আমি চমৎকার প্যালাজো স্টোনের প্রতি বিশেষভাবে অনুরক্ত হয়ে পড়েছিলাম। আমি চাইছিলাম, ঐতিহাসিক এ শহরটিতে আধুনিক একজন ভ্রমণকারীর অভিজ্ঞতা বাড়িয়ে দিতে।’
অ্যালেক্স বলেন, ‘এই হোটেলে ব্যবহৃত সব উপকরণ স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে। হোটেলটিতে ব্যবহৃত টেবিল, চেয়ার, কার্পেট এবং অন্যান্য হালকা জিনিসপত্র এই হোটেলের জন্য কাস্টমাইজডভাবে তৈরি। এমনকি প্রতিটি অতিথিকক্ষের ডোর নাম্বারের ফ্রন্ট সাইড হোটেল কালিমালার জন্য কাস্টম ডিজাইন করা হয়েছে।
স্থপতি অ্যালেক্স মাইটলিস মনে করেন, হোটেলের অতিথিদের উদ্দেশে সমর্পিত সব আয়োজন অতিথিরা সাদরে গ্রহণ ও উপভোগ করবেন।
হোটেল কালিমালার রঙ, টেক্সচার এবং উপকরণ মিলেমিশে একটি ভালোবাসার গান রচিত হয়েছে। ফ্লোরেন্স শহরের বাতাসে কান পাতলেই সে গান শোনা যায়।

কারিকা ডেস্ক

0 336

মাদ্রিদভিত্তিক ইন্টেরিয়র ডিজাইনার পাসকুয়া অরতেগার জন্ম বার্সেলোনাতে। মানসপটে স্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে-এমন ইন্টেরিয়র ডিজাইনের জন্য তিনি বেশ সুপরিচিত। অরতেগা নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড অব ফিন্যান্সে তার কর্মজীবন শুরু করেন। সেখানে বিশ্বের খ্যাতনামা সব ইন্টেরিয়র ডিজাইন এবং ডেকোরেশনের সঙ্গে পরিচিত হন। সেই সময়ে অরতেগার জীবনে একটি নতুন দুয়ার উন্মোচিত হয় এবং তিনি করপোরেট বিশ্বে দুঃসাহসিক সৃজনশীল কাজ করার সাহস সঞ্চয় করেন।
ইন্টেরিয়র ডিজাইনের জগতে নতুন এবং অভিনব স্টাইল উদ্ভাবনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ১৯৭৭ সালে পাসকুয়া অরতেগারের নিজস্ব ইন্টেরিয়র ফার্ম যাত্রা করে। প্রচুরসংখ্যক প্রকল্প এবং পূর্ণাঙ্গ একটি ব্যবসায়িক মডেল নিয়ে ইন্টেরিয়র ফার্মটি শুরু হয়েছিল। যার লক্ষ্য ছিল ইন্টেরিয়র ডিজাইনের সৃজনশীল ধারণাগুলো বাস্তবে রূপ দেয়া। ফার্মটি প্রতিষ্ঠার পর অরতেগা অনেক বেসরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ইন্টেরিয়র ডিজাইন করেছেন।
পাসকুয়া অরতেগারের অনন্য সব কাজের মধ্যে স্পেনের রাজকীয় বিয়ের ‘ওয়েডিং ডিজাইনে’র কথা না বললেই নয়। তাকে বলা হয় ‘রাজকীয় বিয়ের শৈল্পিক পরিচালক’। ডোন ফিলিপ দে বোর্বানের সঙ্গে লেটিজিয়া অর্টিজের রাজকীয় বিয়ের সময় অরতেগা রাজকীয় বিয়ের শৈল্পিক পরিচালক হিসেবে মনোনীত হন। সে সময় তিনি মাদ্রিদের রাস্তা, ভবন ও বাগান-এলাকা সজ্জিতকরণের দায়িত্বে ছিলেন।

কারিকা ডেস্ক

কয়েক শতাব্দী ধরে ইন্টেরিয়র ডিজাইন ও হোম ডেকোরেশনের ক্ষেত্রে পৃথিবীজুড়ে স্প্যানিশ ট্রেন্ড জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। স্প্যানিশ ট্রেন্ডে মাটির টালি থেকে শুরু করে খিলান করা দরজা, পলেস্তারা করা দেয়াল এবং প্রবেশপথ সবকিছুতেই স্প্যানিশ সংস্কৃতির প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। আর্কিটেকচারাল এবং ইন্টেরিয়র ডিজাইনের ক্ষেত্রে স্প্যানিশ সংস্কৃতি সমগ্র দক্ষিণ আমেরিকাজুড়ে তুমুল জনপ্রিয় হয়েছিল।
আপনি মাদ্রিদ, ক্যালিফোর্নিয়া কিংবা বাংলাদেশ যেখানেই বসবাস করেন না কেন, স্প্যানিশ ট্রেন্ডে আপনার বাড়ির ইন্টেরিয়র ডিজাইন করা কঠিন কিছু নয়। স্প্যানিশ স্টাইল হোমগুলোর কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য আছে। স্প্যানিশ হোমগুলোতে উন্মুক্ত কাঠের সিলিং বিম ব্যবহার করা হয়।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যদি বিম পরিবর্তন করা সম্ভব না হয়, তবে আপনি স্টুকো-ওয়াল পেইন্ট বা প্রাচীরে রঙ করতে পারেন। স্প্যানিশ স্টাইলের বাড়িগুলোর ইন্টেরিয়র ডিজাইনে আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যায়। সেটা হলো, ডেকোরেটিভ রুট আয়রন একসেন্টিংয়ের ব্যবহার। বাড়িতে ডেকোরেটিভ রুট আয়রন লাগানোর উপযুক্ত জায়গাগুলো হচ্ছে ঝাড়বাতি, সাইড টেবিল, সিঁড়ির রেলিং বা প্রশস্ত মেডলিয়ন। চাইলে বাড়ির এন্টিক ওয়াল কনসেসে আয়রন পিসও যুক্ত করা যায়।
রঙের কথা যদি বলতে হয়, স্প্যানিশ স্টাইলের ঘরগুলোতে প্রচুর পরিমাণে ন্যাচারাল কালার টোন থাকে। যেমন গাঢ় কাঠ, সাদা বা বালি রঙের দেয়াল এবং বাদামি টাইলসের মেঝে। ঘরগুলোতে ন্যাচারাল কালার ছাড়াও অনেক সময় লাল, হলুদ বা নীলের মতো উজ্জ্বল রঙও ব্যবহার করা হয়। বাড়ির বাইরে খোলা প্রান্তরে স্প্যানিশ ফিল আনতে ছোট ঝরনা, হাঁটার পথে ইট বা টেরাকোটা ব্যবহার করতে পারেন। যদি স্থানীয় জলবায়ু সায় দেয়, তবে ছোট আকারের তালজাতীয় বৃক্ষ এবং জলপাই গাছও লাগাতে পারেন।

কারিকা ডেস্ক

একহারা গড়নের ছোটখাটো পেন্নি ড্রু বাইর্ডকে দেখতে সাধারণ মানুষ মনে হলেও কাজের ক্ষেত্রে তিনি হচ্ছেন ‘পাওয়ার হাউজ’। নিউইয়র্কে জন্ম নেয়া এই স্থপতির ইন্টেরিয়র ডিজাইনে বিষয়বস্তুর প্রতি ফোকাস, নিপুণতা ও সংকল্পবদ্ধতা লক্ষ্য করা যায়। পেন্নি ড্রু বাইর্ডকে ‘রুচিশীল ইন্টেরিয়র ডিজাইনের প্রবর্তক’ বলা হয়। তার স্থাপত্যকর্মে নকশার প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়।
ইন্টেরিয়র ডিজাইন ফার্ম পরিচালনার পাশাপাশি সংসারও সামলাচ্ছেন পেন্নি। অন্যসব স্থপতির মতো তিনি কখনো তীব্রভাবে প্যারিসে থাকার আকুলতা অনুভব করেননি। কিন্তু কয়েক বছর আগে হঠাৎ করে তিনি স্বামী ও তিন সন্তানসহ এক বছরের জন্য প্যারিসে বসবাস শুরু করেন। সেই সঙ্গে প্যারিসে থাকার তার সুপ্ত বাসনাও পূরণ হয়।
প্যারিসের দক্ষিণমুখী একটি বাড়িতে বেশ কয়েকটি গ্রীষ্ম কাটানোর পর পেন্নি খুব করে চাইছিলেন তার সন্তানরা দ্বিভাষিক হয়ে উঠুক। সেই সঙ্গে তিনি আরও চাইছিলেন তারা ইউরোপিয়ান সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত হোক। পেন্নি বাইর্ডের স্বামীরও একই চাওয়া ছিল।
পেন্নি বলেন, ‘প্যারিসে আমি অবকাশযাপন করতে আসিনি। প্যারিস ও লন্ডনে আমার অনেক কাজ আছে।’
তিনি জানতেন তার দক্ষ ও বিশ্বস্ত টিম নিউইয়র্কের সব কাজ সামাল দিতে পারবে। তাই তিনি নিউইয়র্কে টিম মেম্বারদের সঙ্গে মাসে একবার মিটিং করতেন এবং প্যারিস থেকে ইন্টেরিয়র ফার্ম পরিচালনা করতেন।
নিজের দৃঢ়চেতা মনোভাব আর স্বামীর সমর্থন থাকায় তিনি প্যারিসে একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানির কয়েকটি অ্যাপার্টমেন্ট রিনোভেশন করার দায়িত্ব পান।
নিজেকে ভাগ্যবান দাবি করে পেন্নি বলেন, ‘একদিন আমি তিন-চারটি নিখুঁত অ্যাপার্টমেন্ট দেখছিলাম। সেখান থেকেই রিনোভেশন করার জন্য তিনটি ব্লক বেছে নিলাম।’
পেন্নি ড্রু বাইর্ড যেসব অ্যাপার্টমেন্ট রিনোভেশন করার দায়িত্ব পেয়েছিলেন সেসব অ্যাপার্টমেন্ট ছিল প্যারিসের অভিজাত মানুষের আবাসস্থল। ১৯ শতকের শেষভাগে নির্মিত অ্যাপার্টমেন্টগুলো থেকে শহরের সৌন্দর্য পুরোপুরি উপভোগ করা যায়।
চার হাজার স্কয়ার ফিটের বিশাল অ্যাপার্টমেন্টে বিশাল আকারের ড্রইং রুম ছাড়াও একটি লিভিং রুম, একটি ডাইনিং রুম, একটি লাইব্রেরি রুম, একটি কিচেন ও পাঁচটি বেড রুম ছিল। এগুলোর সবকিছুই ভালো অবস্থায় ছিল, যা রিনোভেশন করার কোনো প্রয়োজন ছিল না। তাই বাইর্ড শুধু পুরনো রান্নাঘর এবং বাথরুমের বদলে নতুন রান্নাঘর ও বাথরুম তৈরি করলেন। তুলে দিলেন লিভিং রুম আর লাইব্রেরির মাঝখানের দরজাটা।
প্যারিসের অধিবাসীরা যেহেতু ঐতিহ্যগতভাবেই সংস্কৃতি-সচেতন, তাই অ্যাপার্টমেন্টগুলো রিনোভেশন করার সময় পেন্নিকে অনেক সতর্ক থাকতে হয়েছে।
পেন্নি বলেন, ‘আমি বাড়ি থেকে অনেক দূরে বসবাসকারী ফেঞ্চ-পরিবারের জন্য একটি দুর্দান্ত ফেঞ্চ-সংস্কৃতির সংস্করণ তৈরি করতে চেয়েছিলাম। ফ্রান্স যেভাবে ডেকোরেশন করা হয়েছে, আমিও অ্যাপার্টমেন্টটি সেভাবে ডেকোরেশন করেছি।’
পেন্নি মনে করেন অ্যাপার্টমেন্টের ইন্টেরিয়র ডেকোরেশনের ক্ষেত্রে পছন্দসই ডেকোরেশন আইটেমের ব্যবহার-ই মূল কথা নয়। পছন্দ করা ডেকোরেশন আইটেমটি অ্যাপার্টমেন্টের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করল কিনা, সেটাই বিবেচ্য বিষয়।
পেন্নি ড্রু বাইর্ড ইন্টেরিয়র ডিজাইন করার ক্ষেত্রে সস্তা কিন্তু এক্সক্লুসিভ ডেকোরেশন আইটেম ব্যবহার করে থাকেন। তিনি ফ্রান্সের বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে এসব এক্সক্লুসিভ ডেকোরেশন আইটেম খুঁজে বের করেন। তিনি বলেন, ‘ফ্রান্সের মার্কেট ঘুরে আমি একবার একটি প্রাচীন লম্বা কেসঘড়ি খুঁজে পেলাম। সম্ভবত ওই কেসঘড়িটি ছিল আমার সেরা অনুসন্ধান।’
প্যারিসে পেন্নি ড্রু বাইর্ডের দিনগুলো ভালোই কাটছিল। কাজের পাশাপাশি তিনি ওই সময়টাতে প্যারিসের সমৃদ্ধিশালী সংস্কৃতির অনুরক্ত হয়ে উঠেছিলেন।

কারিকা ডেস্ক

0 482

স্থাপত্য জগতে সফল দুই ভাই

১৯১৩ সালে ইতালীর মিলান শহরে জন্ম নেয়া পিয়ের গিয়াকোমো কাস্টিগ্লিওনি স্থাপত্যে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন ১৯৩৭ সালে মিলান পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তারপরই লুগি কাক্সিয়া ডোমিনিওনি এবং তার ভাই লিভিও এর সঙ্গে যৌথভাবে প্লাস্টিকের তৈরি প্রথম রেডিও যন্ত্র আবিস্কার করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরপর তিনি ছোটভাই অ্যাকিলের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা শুরু করেন। নগর পরিকল্পনা, নগর স্থাপত্য, আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক জীবন, শিল্প কারখানার ডিজাইন ইত্যাদি ছিলো তাদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। ১৯৫৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এসোসিয়েশন অব ইন্ড্রাষ্টিয়াল ডিজাইন (এডিআই)। পিয়ের গিয়াকোমো কাস্টিগ্লিওনি এডিআই এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। ইন্ড্রাষ্টিয়াল ডিজাইনে তার বিস্ময়কর দক্ষতা ও প্রতিভা অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে তিনি শিক্ষকতা পেশায় এসেছিলেন।
১৯৫৮ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত পিয়ের গিয়াকোমো কাস্টিগ্লিওনি মিলানের পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য অনুষদের আর্কিটেকটনিক কমপোজিশন বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন।
এ সময় তিনি ফাইভ কম্পাসো ডি ওরো, গ্রান প্রিমি অব মিলান ট্রিইননালেসহ অসংখ্য সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। পিয়ের গিয়াকোমো কাস্টিগ্লিওনি’র অনেক স্থাপত্যকর্ম বহু আন্তর্জাতিক পুরস্কার জিতে নিয়েছে। তার স্থাপত্যকর্ম নিউ ইর্য়কের এমওএমএ জাদুঘরসহ বিশ্বের অনেক জাদুঘরে ঠাঁই পেয়েছে। লাইটিং, ইন্ড্রাটিয়াল ইন্টিরিয়র ডিজাইন এর জন্য পিয়ের গিয়াকোমো কাস্টিগ্লিওনি সারা বিশ্বে সুপরিচিত ছিলেন। ১৯৬৮ সালে ইতালীর মিলানে গুণী এই স্থপতির জীবনাবসান ঘটে।

গিয়াকোমো কাস্টিগ্লিওনির ছোট ভাই ও কর্মজীবনের ঘনিষ্ঠ সহচর অ্যাকিল কাস্টিগ্লিওনির জন্ম ১৯১৮ সালে, ইতালীর মিলান শহরে। বড়ভাই গিয়াকোমো’র মতোই অ্যাকিল কাস্টিগ্লিওনি ১৯৪৪ সালে মিলানের পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থাপত্যে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগে থেকেই তিনি অপরাপর দুইভাই লাইভিও এবং পিয়ের গিয়াকোমোর সঙ্গে শিল্প উৎপাদন গবেষণায় নিয়োজিত হন। ১৯৫৬ সালে এসেসিয়েশন অব ইন্ড্রাষ্টিয়াল ডিজাইন (এডিআই) প্রতিষ্ঠিত হলে বড় ভাই গিয়াকোমোর মতো অ্যকিলও সংগঠনটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে নাম লেখান।
১৯৬৯ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত তিনি তুরিনের পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য অনুষদের ইন্ড্রাষ্টিয়াল ডিজাইন বিভাগে এবং পরে মিলানে অধ্যাপনা করেন।

কর্মজীবনে অ্যাকিল কাস্টিগ্লিওনির নাইন কমপাসো ডি ওরো, গ্রান প্রিমি অব মিলান ট্রিইননালেসহ অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন। তার অনেক স্থাপত্যকর্ম আর্ন্তজাতিক পুরস্কার জিতে নিয়েছে।
নিজ কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ অ্যাকিল লন্ডনের রয়েল সোসাইটি অব আর্টের সদস্যপদ লাভ করেন। এছাড়াও লন্ডনের রয়েল কলেজ অব আর্ট তাকে সম্মানসূচক ডিগ্রী প্রদান করে।
প্রিমভেভার ডেল ডিজাইন পুরস্কার প্রাপ্তি উপলক্ষ্যে ১৯৯৫ সালে বার্সোলোনাতে অ্যাকিল কাস্টিগ্লিওনির একটি একক প্রর্দশনী অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত সারা বিশ্বে প্রর্দশনীটি চলতে থাকে। লাইটিং, হোম এবং ইন্ড্রাষ্টি ইন্টেরিয়রের জন্য বিখ্যাত গুণী এই স্থপতি ২০০২ সালে ইতালীর মিলানে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

কারিকা ডেস্ক

ইতালীয় শিল্প-ডিজাইনার ও স্থপতি পাওলো রিজাত্তোর অনন্য সৃষ্টি ফ্লোরসের ২৬৫ ওয়াল লাইট চার দশক পর এখনও প্রাসঙ্গিক। দূরদর্শী পাওলো জানতেন তার সৃষ্টিশীলতা দিয়ে তিনি এমন কিছু তৈরি করতে পারবেন যেটা চার দশক পরও স্বমহিমায় উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।
ঝকঝকে আলো, অভিজাত ডিজাইন ও উজ্জ্বল উপস্থিতির কারণে পাওলা রিজাত্তোর ডিজাইন করা লাইট লাইটিংশিল্পে বেশ সমাদৃত।
সৃষ্টিশীল ডিজাইনার পাওলো রিজাত্তো পলিটেকনিকো ডি মিলানো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থাপত্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তার অনেক সহকর্মী এবং পূর্বসূরিদের মতে, সে সময় তিনি এলিয়াস, আর্টেলুস, আর্টেমাইড, ক্যাসিনা, গিজিনি, লেন্সভেল্ট, কার্টেল, নল, লুসেপলান, ম্যান্ডারিনা ডক, মোলেটেনি, মন্টিনা, নিমো, ফিলিপস, থোনেটসহ ইতালির অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক ডিজাইন কোম্পানির জন্য কিছু অনন্য সৃষ্টিকর্ম (মাস্টারপিস) তৈরি করেছিলেন।


পাওলো তার সৃজনশীল শিল্পকর্ম শুধু লাইট ডিজাইন এবং আসবাবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেননি, বরং বিভিন্ন প্রজেক্টে পুরোমাত্রার স্থাপত্য ডিজাইনও করেছেন।
ইতালির মিলান শহরে ১৯৪১ সালে জন্ম নেয়া পাওলো রিজাত্তো ১৯৬৫ সালে মিলান পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার পর ইতালির বিখ্যাত লাইটিং এবং ইন্টেরিয়র ডিজাইন কোম্পানি আর্টলুসে যোগ দেন।
পরে তিনি ১৯৬৮ সালে নিজস্ব একটি ডিজাইন ও আর্কিটেকচারাল স্টুডিও চালু করেন। তিনি এমন সময় ডিজাইন স্টুডিওটি চালু করেন, যখন স্থপতি ও ডিজাইনার হিসেবে তার নাম ইতালিসহ বিশ্বের অন্য প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে।
১৯৭২ থেকে ১৯৭৬ সালের মধ্যে তিনি একটি নার্সারি স্কুল, একটি অবকাশযাপনকেন্দ্র, শহরতলির কয়েকটি বাড়ি ও একটি পূর্ণাঙ্গ আবাসিক এলাকার ডিজাইন করেছিলেন।
সমগ্র ইতালিজুড়ে পাওলোর স্থাপত্যকর্মের সংখ্যা কম। তবুও তার সময়ে করা সৃষ্টিশীল স্থাপত্যকর্মের জন্য বিশ্বে তার প্রতিভা বিকাশ সময়ের ব্যাপার ছিল মাত্র। বিশ্বস্বীকৃতি তার জন্য অপেক্ষায় ছিল।

কারিকা ডেস্ক

কামরুজ্জামান কাজল
‘এসো হে বৈশাখ…এসো…এসো…’ গানের সঙ্গে সঙ্গে বরণ করা হয়ে গেল নতুন বছরকে। নতুন বছরে নিজের ঘরবাড়ি-গুছিয়ে নিয়েছেন অনেকেই। কেউবা আবার সময়ের সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে পারেননি। গোছানো হয়নি প্রিয় শান্তির নীড়। কিন্তু মনের কোণে তো উঁকি দিয়ে আছেই নিজের ঘরটাকে সুন্দর করে গুছিয়ে রাখার। ঘর-দোর স্বপ্নের মতো কিংবা শান্তির পরশে সাজিয়ে নিতে চান যারা, তাদের জন্য পরামর্শ দিয়েছেন ফারজানা’স ব্লিজের স্বত্বাধিকারী ফারজানা গাজী।

‘ঘর সাজাতে কার না ভালো লাগে? নতুন বছরে নিজেকে নতুন করে পেতে আমরা নতুন পোশাকে সেজেছি। সাজিয়েছি পরিবারের সবাইকে। অনেকে সাজিয়েছি ঘর-দুয়ারও। যারা পারেননি তারা এবার সময়-সুযোগ করে সাজিয়ে নিতে পারেন। গত বছরের নতুন সব হোম ইন্টেরিয়র ছিল থ্রিডি ফ্লোর ডিজাইন, ভিন্ন মাত্রার কিচেন ক্যাবিনেট, অন্দর আলোকিত করতে একসেন্ট লাইটিং, দেয়ালে ইলুশনের ছোঁয়া, ঘর সাজাতে আয়নার ব্যবহার, বহুদিনের অব্যবহৃত অ্যান্টিক পিস দিয়ে ঘর সাজানো। এমন অনেক বিষয় এসেছে অন্দরসজ্জায়।’ বিগত বছরে ঘর সাজানোতে কোন কোন বিষয় উল্লেখযোগ্য ছিল তা বর্ণনা করেন ফারজানা।
আপনার সাজানো-গোছানো ঘরটি আপনাকে প্রফুল্ল করে তুলবে প্রতি মুহূর্তে। ঘরের পরিবেশ সুন্দর তো মনের পরিবেশও সুন্দর। ঘরের সাজ অনুষঙ্গ সবসময়ই ব্যক্তিত্বের পরিচয়কে ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করে। তাই ঘরদুয়ার এবার সাজিয়ে নিতে পারেন সুন্দর করে।
বসার ঘরটাতেই বরণ করা হয় অতিথিদের। এই ঘরটা তাই একটু গোছানো দরকার নিয়ম করে। ঘরে যদি বড় কোনো পরিবর্তন আনতে চান, তবে প্রথমেই বদলে ফেলতে পারেন ঘরের পর্দা। যদি কেনার দরকার না হয় তবে আগেরগুলোকে পরিষ্কার করে ধুয়ে ইস্ত্রি করলেই দেখবেন ঘর কেমন ঝকঝকে। এতে করে উজ্জ্বল হবে পুরো ঘরের সাজসজ্জাই। আসবাবগুলো দীর্ঘদিন ধরে হয়তো একই স্থানে রয়েছে। সেগুলো জায়গা বদল করে রাখুন। বেশ পরিবর্তন চলে আসবে ঘরে। কাঠের আসবাবগুলোর রঙ বিবর্ণ হয়ে গেলে পলিশ করিয়ে নিন। নতুনের মতোই চকচকে হয়ে উঠবে। বসার ঘরে ক্যাকটাস কিংবা বনসাই রাখতে পারেন। দরজার বাইরে পাম ট্রি রাখা যেতে পারে। দেয়ালজুড়ে পাতাবাহারও রাখতে পারেন।
ঘরের পরিবেশে থাকা চাই স্নিগ্ধতা। মিষ্টি টুংটাং শব্দে অতিথিকে স্বাগত জানাতে দরজার সামনে ঝুলিয়ে নিন নজরকাড়া ডিজাইনের একটি উইন্ড চাইম। ফুল সাজিয়ে রাখার জন্য ক্রিস্টালের ফুলদানি কিনতে পারেন। মেঝেতে বিছানো শতরঞ্জি বা কার্পেটটি বদলে নতুন ডিজাইনের একটি বিছিয়ে দিন। পাশেই বসার ব্যবস্থা করে আরামদায়ক কিছু কুশন ছড়িয়ে দিন। একঘেয়েমি সাজ থেকে মুক্তি মিলবে কিছুটা হলেও। ঘরে মাটির পটারি থাকলে সেখানে নতুন রঙ লাগিয়ে ঝকঝকে করে তুলুন। চাইলে আইকা দিয়ে ছোট ছোট গ্লাস বসিয়ে সাধারণ পটারিকে নতুন আমেজ দিতে পারেন। সম্ভব হলে দেয়ালগুলোতেও দিতে পারেন রঙের ছোঁয়া। দেয়ালে সুন্দর একটি পেইন্টিং টানিয়ে দিতে পারেন।

একরাশ ক্লান্তি নিমিষে মুছে দিতে পারে আপনার প্রিয় শোবার ঘরটি। এই ঘরটাতে নিয়ে আসতে পারেন খানিকটা বিশেষত্ব। বিছানার চাদর ও পর্দা বদলে ফেলার পাশাপাশি পরিবর্তন করে ফেলতে পারেন দীর্ঘদিনের টেবিল ল্যাম্পটিও। ভিন্নতা চলে আসবে ঘরের সাজে। মাঝে মাঝে এই ঘরের আসবাবপত্রও জায়গা বদলে নিতে পারেন। এতে করে একঘেযেমি কেটে যাবে অনেকখানি। অগোছালো অবস্থায় থাকা টেবিল কিংবা বুক শেলফটিকে একটু যত্ন নিয়ে গুছিয়ে ফেলুন। ঘরের যেখানেই যা কিছু থাকুক না কেন তা যদি একটু পরিপাটি করে গুছিয়ে রাখেন, তাহলে দেখবেন সেই ঘর মন ছুঁয়ে যাবে আপনার। ঘরের ফ্যান ও লাইটও মুছে নিন। ঝকঝকে শোবার ঘর স্বস্তি নিয়ে আসবে মনে। শোবার ঘরে শেলফের ওপরে রাখতে পারেন তরতাজা কিছু ফুল। ফুলের স্নিগ্ধ সুবাস চারপাশ মাতিয়ে রাখবে। সেই সঙ্গে মেতে থাকবে আপনার মনও।
অতিথিদের খাবার পরিবেশন করতে হয় ডাইনিং রুমে। সেজন্য আকর্ষণীয়ভাবে খাবার রুম ও টেবিল সাজিয়ে তুলুন। টেবিল ক্লথটি পরিষ্কার করে ফেলতে পারেন। চাইলে ক্লথের পাড় ঘেঁষে লেইস লাগিয়ে নিতে পারেন। তবে পুরনোটা বদলে নতুন একটি কিনে নিলেই ভালো করবেন। টেবিল ম্যাটগুলোও পরিবর্তন করে নেওয়া যায়। পর্দা ও দেয়ালের রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাছাই করুন টেবিল ক্লথ। খাবারের টেবিল কিংবা খাবারের ঘরের এককোণে রাখতে পারেন কিছু গাছ। সবুজে ছেয়ে থাকলে তা প্রশান্তি দেবে মনে। অতিথি যখন আপনার ঘরে আপ্যায়িত হবেন, তখন না হয় রাখলেন ফুলদানি ভর্তি তাজা ফুল। ঘর ও মন মাতিয়ে রাখবে যা সবসময়।

কামরুজ্জামান কাজল

মাথার উপর সুবিশাল আকাশ। সেই আকাশে তাকিয়ে কেটে যাবে বেলা। এমন কাব্যিক ভাবনা মনের অগোচরে থাকলেও দিনশেষে আমাদের নিজ নীড়েই ফিরতে হয়। নিজ ঘর। আপন ভুবনে মনের মধ্যে বসত করে ছড়ানো -ছিটানো বিশাল এক বাসা। আলো-বাতাসের খেলায় মেতে উঠবে প্রতিটিক্ষণ। কিন্তু সাধ আর সাধ্য তো আমাদের এক হয় না। যেমন বিশাল পরিসরের বাসা আমরা চাই তেমন কি আমরা পাই? নিজের হোক কিংবা ভাড়া-ই হোক ইচ্ছেমত বিশাল পরিসরের বাসায় আর হয়না থাকা। কিন্তু মনের মধ্যে আফসোস থেকেই যায়…। ইস আমার বাসাটা যদি একটু বড় হতো!
এই আফসোস কিছুটা মেটাতে আপনাদের কিছু কৌশলেে পরামর্শ দিয়েছেন ইন্টেরিয়র ডিজাইনার ফারজানা গাজী।

আসবাবপত্রে বুদ্ধিমত্তা

ঘরের কোন জায়গায় কেমন আসবাব দিবেন সেক্ষেত্রে সচেতন হবেন। যেমন এর একটি উপায় হতে পারে প্রথমে বড় একটি বিছানা দিয়ে আপনার বেডরুমে একটি সম্পূর্ণতার অনুভূতি তৈরি। এরপর কক্ষের সঙ্গে মানানসই ছোট আকারের শেলফ ও অন্যান্য ফার্নিচার দিয়ে সাজান। একই কৌশল আপনার অন্যান্য ঘরেও খাটাতে পারেন। ছোট বাড়ির জন্য মাল্টিফাংশনাল ফার্নিচার একটি ভালো সমাধান। বর্তমানে বহু ধরনের মাল্টিফাংশনাল ফার্নিচার পাওয়া যায়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ভাজ করে রাখা চেয়ার, টেবিল কিংবা সোফা কাম বেড। আপনার দেয়ালের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে ফার্নিচারের রং পছন্দ করুন। পুরনো ফার্নিচার বাড়িতে যথেষ্ট স্থান নেয়। তাই আপনি যদি আধুনিক ছোট বাড়িতে থাকেন তাহলে পুরনো ফার্নিচার বদলে নতুন ও স্থান সাশ্রয়ী ফার্নিচার কিনুন। আপনার অব্যবহৃত জিনিসপত্রের ওপর নজর রাখুন। কোনো জিনিস যদি এক বছরেও ব্যবহৃত না হয় তাহলে এটি সরিয়ে ফেলুন।

রুচিসম্মত পর্দা

ঘরের পর্দা মন ভালো করে দেয় অনেকখানি। পর্দা সাজানোর উপর বাসার সৌন্দর্য নির্ভর করছে। কক্ষে পর্দা লাগানোর সময় লক্ষ্য রাখুন এটি যেন আপনার দেয়ালের রঙের সঙ্গে মিলে যায়। আর এতে কক্ষের আকার অনেক বড় মনে হবে। এছাড়া উঁচুতে পর্দা স্থাপন করে তা নিচ পর্যন্ত বিন্যস্ত রাখলে ভালো হয়। হালকা প্রিন্ট কিংবা একরঙা পর্দা ব্যবহার করুন। এটি ছোট ঘরকে বড় দেখাতে সহায়তা করবে।

স্লাইডিং দরজা
একঘর থেকে আরেকঘর। মাঝখানে দরজা। ঘরের দরজার কারণে জিনিসপত্রও ঠিকমত রাখতে পারছেন না আপনি।
ভেতরের বিভিন্ন কক্ষের মাঝের দরজা ও কাপবোর্ডের দরজা মূল্যবান স্থান নষ্ট করতে পারে। এক্ষেত্রে সমস্যা হলে দরজা সরিয়ে ফেলা যেতে পারে। বিকল্প হিসেবে স্লাইডিং দরজা ব্যবহার করুন।

ফ্লোর টু সিলিং
বাসায় প্রচুর বই? কোথায় রাখবেন বুঝে উঠতে পারেন না। এইঘরে ছোট সেলফ তো অন্যঘরে আরেকটি। এইভাবে বই রাখার চিন্তা মাথায় নিয়ে না ঘুরে উপায় খুঁজুন ভিন্নভাবে। বই রাখার জন্য ফ্লোর টু সিলিং বিস্তৃত সেলফ ব্যবহার করুন। এটি আপনার সিলিংয়ের উচ্চতা বাড়ানোর অনুভূতি দেবে। এছাড়া প্রচুর জিনিসও রাখা যাবে।

রঙের বাহার

আপনার ঘরের দেয়ালে যে রঙ ব্যবহার করবেন সে বিষয়ে সচেতন হতে হবে। হালকা ও প্রাকৃতিক রঙের ওপর গুরুত্ব দিন। এগুলো আপনার ছোট স্থানকেও বড় দেখাতে সহায়তা করবে। কক্ষের ভেতর সূর্যের আলো প্রতিফলন ঘটাতে বড় আয়না খুবই কার্যকর। ছোট কক্ষকে এটি বড় করে দেখাবে।

এছাড়াও মাথায় রাখতে পারেন যা…

নীড় ছোট। প্রস্থও কম। নজর তাই একটু আমরা ভিন্ন দিকে দেই। চারদেয়ালের বাইরে, ছাদের দিকে যাক না নজর। এজন্য আপনার দেয়ালের উঁচু স্থানে ছোট ছোট কিছু ছবি ঝুলান। চারদেয়ালের বাইরেও তখন যাবে চোখ। এতে ভিন্নধরনের অনুভূতি তৈরি হবে।সব ফার্নিচার সর্বদা দেয়ালের সঙ্গে রাখতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। কখনো কখনো মাঝামাঝি স্থানে বসালেও তা বড় অনুভূতি তৈরি করে। একটি ঘরের সবটুকু জায়গা আসবাব দিয়ে ঠেসে রাখবেন না। কক্ষের সব স্থানই ব্যবহার করবেন না। কিছু খালি স্থান রাখবেন। যেমন শেলফের সবগুলো খোপ ভর্তি না করে কিছু খালি রাখুন।
সবকটা জানালা খুলে দাওনা…। গানের কথামত খোলা রাখুন সব জানালা। এতে আপনার ছোট স্থানেরও আলাদা গভীরতা তৈরি হবে। আলো আসুক ঘরে। ঘরের ভেতর পর্যাপ্ত সূর্যের আলোর ব্যবস্থা করুন। যদিও আমাদের এই নগরীতে ঠাসা-ঠাসি করেই থাকতে হয় হয় আমাদের। এক বাড়ির দেয়াল ঘেষে অারেক বাড়ি। তারপরও যতটুকু আলো বাতাস আসার কিছুটা সুযোগ থাকে তার সবটুকুই ঘরে আসতে দিন। প্রাকৃতিক আলোবাতাসে ছোট ঘরও হয়ে উঠবে স্বাস্থ্যকর। সবুজে সাজুক আপনার ঘর। এজন্য যে বড় বাগান কিংবা মূল্যবান গাছ লাগাতে হবে, তা নয়। ঘরের ভেতর টবে রাখা একটি ছোট গাছই এজন্য যথেষ্ট। ইচ্ছে করলে পছন্দমত মানিপ্ল্যান্টে সাজিয়ে নিতে পারেন ঘরের বিভিন্ন কোনগুলো।

স্থাপত্য-জীবনের শুরুতেই ইতালীয় নকশার কিংবদন্তি অ্যাকিল কাস্টিগ্লিওনের সান্নিধ্য পেয়েছিলেন প্যাট্রিসিয়া ইউক্রুইওলা। তাই প্যাট্রিসিয়ার স্থাপত্যকর্মেও নান্দনিকতা ও আভিজাত্যের ছোঁয়া দেখা যায়। তিনি তার কর্মজীবন শুরু করেন লাক্সারি লেবেল দ্য পাডোভাতে। আর্কিটেক্ট এবং প্রোডাক্ট ডিজাইনার হিসেবে সুপরিচিত প্যাট্রিসিয়া ইউক্রুইওলা তার এক্সপেরিমেন্টাল ইউনিক ফিউশন স্টাইলের জন্য বিখ্যাত। মুর্টিনা, কার্টেল, ফসকারিনি এবং মোরেসার মতো শীর্ষস্থানীয় ডিজাইন-হাউজের জন্য তার ডিজাইন করা টাইলস, লাইটিং, ফার্নিচার, ফ্রেবিক্স কিংবা কার্পেট যা-ই হোক-না কেন, আলাদা অনুভূতি তৈরি করে। তার স্টাইল, প্যাটার্ন এবং উপকরণ সম্মিলনের দক্ষতা, পুস্পশোভিত সাজসজ্জা এবং সঠিক অনুভূতির ব্যবহার সবাইকে অবাক করে।
প্যাট্রিসিয়া তার সৃষ্টিকর্মে এমন কৌতূহল সৃষ্টি করেন যে, তার শিল্পকর্ম যেন বলে ওঠে ছোঁও আমাকে।’
২০০৮ সালে এক্সওরের সঙ্গে যৌথভাবে বাথরুম ডিজাইন করে বোদ্ধামহলের নজর কাড়েন প্যাট্রিসিয়া। তিনি দেখিয়েছেন বাথরুম কিভাবে ব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটায়। স্টাইল ফিউশনে বাথরুমের নকশা করে প্যাট্রিসিয়া বিশ্বে অন্যরকম পরিচিতি লাভ করেন।
প্যাট্রিসিয়া ইউক্রুইওলার বেড়ে ওঠা স্পেনের ওভিডিও শহরে। স্থাপত্য বিষয় অধ্যায়নের জন্য তিনি মাদ্রিদে যান। সেখান থেকে পরে মিলানের পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। প্যাট্রিসিয়া ইউক্রুইওলা অসংখ্যবার ‘বর্ষসেরা ডিজাইনার’ নির্বাচিত হন। তিনি স্প্যানিশ সরকারের পক্ষে ফাইন আর্টসে গোল্ড মেডেলও লাভ করেছেন।