Home মূল কাগজ ইন্টেরিয়ার

0 49

স্থাপত্য জগতে সফল দুই ভাই

১৯১৩ সালে ইতালীর মিলান শহরে জন্ম নেয়া পিয়ের গিয়াকোমো কাস্টিগ্লিওনি স্থাপত্যে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন ১৯৩৭ সালে মিলান পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তারপরই লুগি কাক্সিয়া ডোমিনিওনি এবং তার ভাই লিভিও এর সঙ্গে যৌথভাবে প্লাস্টিকের তৈরি প্রথম রেডিও যন্ত্র আবিস্কার করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরপর তিনি ছোটভাই অ্যাকিলের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা শুরু করেন। নগর পরিকল্পনা, নগর স্থাপত্য, আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক জীবন, শিল্প কারখানার ডিজাইন ইত্যাদি ছিলো তাদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। ১৯৫৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এসোসিয়েশন অব ইন্ড্রাষ্টিয়াল ডিজাইন (এডিআই)। পিয়ের গিয়াকোমো কাস্টিগ্লিওনি এডিআই এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। ইন্ড্রাষ্টিয়াল ডিজাইনে তার বিস্ময়কর দক্ষতা ও প্রতিভা অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে তিনি শিক্ষকতা পেশায় এসেছিলেন।
১৯৫৮ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত পিয়ের গিয়াকোমো কাস্টিগ্লিওনি মিলানের পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য অনুষদের আর্কিটেকটনিক কমপোজিশন বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন।
এ সময় তিনি ফাইভ কম্পাসো ডি ওরো, গ্রান প্রিমি অব মিলান ট্রিইননালেসহ অসংখ্য সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। পিয়ের গিয়াকোমো কাস্টিগ্লিওনি’র অনেক স্থাপত্যকর্ম বহু আন্তর্জাতিক পুরস্কার জিতে নিয়েছে। তার স্থাপত্যকর্ম নিউ ইর্য়কের এমওএমএ জাদুঘরসহ বিশ্বের অনেক জাদুঘরে ঠাঁই পেয়েছে। লাইটিং, ইন্ড্রাটিয়াল ইন্টিরিয়র ডিজাইন এর জন্য পিয়ের গিয়াকোমো কাস্টিগ্লিওনি সারা বিশ্বে সুপরিচিত ছিলেন। ১৯৬৮ সালে ইতালীর মিলানে গুণী এই স্থপতির জীবনাবসান ঘটে।

গিয়াকোমো কাস্টিগ্লিওনির ছোট ভাই ও কর্মজীবনের ঘনিষ্ঠ সহচর অ্যাকিল কাস্টিগ্লিওনির জন্ম ১৯১৮ সালে, ইতালীর মিলান শহরে। বড়ভাই গিয়াকোমো’র মতোই অ্যাকিল কাস্টিগ্লিওনি ১৯৪৪ সালে মিলানের পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থাপত্যে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগে থেকেই তিনি অপরাপর দুইভাই লাইভিও এবং পিয়ের গিয়াকোমোর সঙ্গে শিল্প উৎপাদন গবেষণায় নিয়োজিত হন। ১৯৫৬ সালে এসেসিয়েশন অব ইন্ড্রাষ্টিয়াল ডিজাইন (এডিআই) প্রতিষ্ঠিত হলে বড় ভাই গিয়াকোমোর মতো অ্যকিলও সংগঠনটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে নাম লেখান।
১৯৬৯ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত তিনি তুরিনের পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য অনুষদের ইন্ড্রাষ্টিয়াল ডিজাইন বিভাগে এবং পরে মিলানে অধ্যাপনা করেন।

কর্মজীবনে অ্যাকিল কাস্টিগ্লিওনির নাইন কমপাসো ডি ওরো, গ্রান প্রিমি অব মিলান ট্রিইননালেসহ অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন। তার অনেক স্থাপত্যকর্ম আর্ন্তজাতিক পুরস্কার জিতে নিয়েছে।
নিজ কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ অ্যাকিল লন্ডনের রয়েল সোসাইটি অব আর্টের সদস্যপদ লাভ করেন। এছাড়াও লন্ডনের রয়েল কলেজ অব আর্ট তাকে সম্মানসূচক ডিগ্রী প্রদান করে।
প্রিমভেভার ডেল ডিজাইন পুরস্কার প্রাপ্তি উপলক্ষ্যে ১৯৯৫ সালে বার্সোলোনাতে অ্যাকিল কাস্টিগ্লিওনির একটি একক প্রর্দশনী অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত সারা বিশ্বে প্রর্দশনীটি চলতে থাকে। লাইটিং, হোম এবং ইন্ড্রাষ্টি ইন্টেরিয়রের জন্য বিখ্যাত গুণী এই স্থপতি ২০০২ সালে ইতালীর মিলানে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

কারিকা ডেস্ক

ইতালীয় শিল্প-ডিজাইনার ও স্থপতি পাওলো রিজাত্তোর অনন্য সৃষ্টি ফ্লোরসের ২৬৫ ওয়াল লাইট চার দশক পর এখনও প্রাসঙ্গিক। দূরদর্শী পাওলো জানতেন তার সৃষ্টিশীলতা দিয়ে তিনি এমন কিছু তৈরি করতে পারবেন যেটা চার দশক পরও স্বমহিমায় উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।
ঝকঝকে আলো, অভিজাত ডিজাইন ও উজ্জ্বল উপস্থিতির কারণে পাওলা রিজাত্তোর ডিজাইন করা লাইট লাইটিংশিল্পে বেশ সমাদৃত।
সৃষ্টিশীল ডিজাইনার পাওলো রিজাত্তো পলিটেকনিকো ডি মিলানো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থাপত্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তার অনেক সহকর্মী এবং পূর্বসূরিদের মতে, সে সময় তিনি এলিয়াস, আর্টেলুস, আর্টেমাইড, ক্যাসিনা, গিজিনি, লেন্সভেল্ট, কার্টেল, নল, লুসেপলান, ম্যান্ডারিনা ডক, মোলেটেনি, মন্টিনা, নিমো, ফিলিপস, থোনেটসহ ইতালির অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক ডিজাইন কোম্পানির জন্য কিছু অনন্য সৃষ্টিকর্ম (মাস্টারপিস) তৈরি করেছিলেন।


পাওলো তার সৃজনশীল শিল্পকর্ম শুধু লাইট ডিজাইন এবং আসবাবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেননি, বরং বিভিন্ন প্রজেক্টে পুরোমাত্রার স্থাপত্য ডিজাইনও করেছেন।
ইতালির মিলান শহরে ১৯৪১ সালে জন্ম নেয়া পাওলো রিজাত্তো ১৯৬৫ সালে মিলান পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার পর ইতালির বিখ্যাত লাইটিং এবং ইন্টেরিয়র ডিজাইন কোম্পানি আর্টলুসে যোগ দেন।
পরে তিনি ১৯৬৮ সালে নিজস্ব একটি ডিজাইন ও আর্কিটেকচারাল স্টুডিও চালু করেন। তিনি এমন সময় ডিজাইন স্টুডিওটি চালু করেন, যখন স্থপতি ও ডিজাইনার হিসেবে তার নাম ইতালিসহ বিশ্বের অন্য প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে।
১৯৭২ থেকে ১৯৭৬ সালের মধ্যে তিনি একটি নার্সারি স্কুল, একটি অবকাশযাপনকেন্দ্র, শহরতলির কয়েকটি বাড়ি ও একটি পূর্ণাঙ্গ আবাসিক এলাকার ডিজাইন করেছিলেন।
সমগ্র ইতালিজুড়ে পাওলোর স্থাপত্যকর্মের সংখ্যা কম। তবুও তার সময়ে করা সৃষ্টিশীল স্থাপত্যকর্মের জন্য বিশ্বে তার প্রতিভা বিকাশ সময়ের ব্যাপার ছিল মাত্র। বিশ্বস্বীকৃতি তার জন্য অপেক্ষায় ছিল।

কারিকা ডেস্ক

কামরুজ্জামান কাজল
‘এসো হে বৈশাখ…এসো…এসো…’ গানের সঙ্গে সঙ্গে বরণ করা হয়ে গেল নতুন বছরকে। নতুন বছরে নিজের ঘরবাড়ি-গুছিয়ে নিয়েছেন অনেকেই। কেউবা আবার সময়ের সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে পারেননি। গোছানো হয়নি প্রিয় শান্তির নীড়। কিন্তু মনের কোণে তো উঁকি দিয়ে আছেই নিজের ঘরটাকে সুন্দর করে গুছিয়ে রাখার। ঘর-দোর স্বপ্নের মতো কিংবা শান্তির পরশে সাজিয়ে নিতে চান যারা, তাদের জন্য পরামর্শ দিয়েছেন ফারজানা’স ব্লিজের স্বত্বাধিকারী ফারজানা গাজী।

‘ঘর সাজাতে কার না ভালো লাগে? নতুন বছরে নিজেকে নতুন করে পেতে আমরা নতুন পোশাকে সেজেছি। সাজিয়েছি পরিবারের সবাইকে। অনেকে সাজিয়েছি ঘর-দুয়ারও। যারা পারেননি তারা এবার সময়-সুযোগ করে সাজিয়ে নিতে পারেন। গত বছরের নতুন সব হোম ইন্টেরিয়র ছিল থ্রিডি ফ্লোর ডিজাইন, ভিন্ন মাত্রার কিচেন ক্যাবিনেট, অন্দর আলোকিত করতে একসেন্ট লাইটিং, দেয়ালে ইলুশনের ছোঁয়া, ঘর সাজাতে আয়নার ব্যবহার, বহুদিনের অব্যবহৃত অ্যান্টিক পিস দিয়ে ঘর সাজানো। এমন অনেক বিষয় এসেছে অন্দরসজ্জায়।’ বিগত বছরে ঘর সাজানোতে কোন কোন বিষয় উল্লেখযোগ্য ছিল তা বর্ণনা করেন ফারজানা।
আপনার সাজানো-গোছানো ঘরটি আপনাকে প্রফুল্ল করে তুলবে প্রতি মুহূর্তে। ঘরের পরিবেশ সুন্দর তো মনের পরিবেশও সুন্দর। ঘরের সাজ অনুষঙ্গ সবসময়ই ব্যক্তিত্বের পরিচয়কে ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করে। তাই ঘরদুয়ার এবার সাজিয়ে নিতে পারেন সুন্দর করে।
বসার ঘরটাতেই বরণ করা হয় অতিথিদের। এই ঘরটা তাই একটু গোছানো দরকার নিয়ম করে। ঘরে যদি বড় কোনো পরিবর্তন আনতে চান, তবে প্রথমেই বদলে ফেলতে পারেন ঘরের পর্দা। যদি কেনার দরকার না হয় তবে আগেরগুলোকে পরিষ্কার করে ধুয়ে ইস্ত্রি করলেই দেখবেন ঘর কেমন ঝকঝকে। এতে করে উজ্জ্বল হবে পুরো ঘরের সাজসজ্জাই। আসবাবগুলো দীর্ঘদিন ধরে হয়তো একই স্থানে রয়েছে। সেগুলো জায়গা বদল করে রাখুন। বেশ পরিবর্তন চলে আসবে ঘরে। কাঠের আসবাবগুলোর রঙ বিবর্ণ হয়ে গেলে পলিশ করিয়ে নিন। নতুনের মতোই চকচকে হয়ে উঠবে। বসার ঘরে ক্যাকটাস কিংবা বনসাই রাখতে পারেন। দরজার বাইরে পাম ট্রি রাখা যেতে পারে। দেয়ালজুড়ে পাতাবাহারও রাখতে পারেন।
ঘরের পরিবেশে থাকা চাই স্নিগ্ধতা। মিষ্টি টুংটাং শব্দে অতিথিকে স্বাগত জানাতে দরজার সামনে ঝুলিয়ে নিন নজরকাড়া ডিজাইনের একটি উইন্ড চাইম। ফুল সাজিয়ে রাখার জন্য ক্রিস্টালের ফুলদানি কিনতে পারেন। মেঝেতে বিছানো শতরঞ্জি বা কার্পেটটি বদলে নতুন ডিজাইনের একটি বিছিয়ে দিন। পাশেই বসার ব্যবস্থা করে আরামদায়ক কিছু কুশন ছড়িয়ে দিন। একঘেয়েমি সাজ থেকে মুক্তি মিলবে কিছুটা হলেও। ঘরে মাটির পটারি থাকলে সেখানে নতুন রঙ লাগিয়ে ঝকঝকে করে তুলুন। চাইলে আইকা দিয়ে ছোট ছোট গ্লাস বসিয়ে সাধারণ পটারিকে নতুন আমেজ দিতে পারেন। সম্ভব হলে দেয়ালগুলোতেও দিতে পারেন রঙের ছোঁয়া। দেয়ালে সুন্দর একটি পেইন্টিং টানিয়ে দিতে পারেন।

একরাশ ক্লান্তি নিমিষে মুছে দিতে পারে আপনার প্রিয় শোবার ঘরটি। এই ঘরটাতে নিয়ে আসতে পারেন খানিকটা বিশেষত্ব। বিছানার চাদর ও পর্দা বদলে ফেলার পাশাপাশি পরিবর্তন করে ফেলতে পারেন দীর্ঘদিনের টেবিল ল্যাম্পটিও। ভিন্নতা চলে আসবে ঘরের সাজে। মাঝে মাঝে এই ঘরের আসবাবপত্রও জায়গা বদলে নিতে পারেন। এতে করে একঘেযেমি কেটে যাবে অনেকখানি। অগোছালো অবস্থায় থাকা টেবিল কিংবা বুক শেলফটিকে একটু যত্ন নিয়ে গুছিয়ে ফেলুন। ঘরের যেখানেই যা কিছু থাকুক না কেন তা যদি একটু পরিপাটি করে গুছিয়ে রাখেন, তাহলে দেখবেন সেই ঘর মন ছুঁয়ে যাবে আপনার। ঘরের ফ্যান ও লাইটও মুছে নিন। ঝকঝকে শোবার ঘর স্বস্তি নিয়ে আসবে মনে। শোবার ঘরে শেলফের ওপরে রাখতে পারেন তরতাজা কিছু ফুল। ফুলের স্নিগ্ধ সুবাস চারপাশ মাতিয়ে রাখবে। সেই সঙ্গে মেতে থাকবে আপনার মনও।
অতিথিদের খাবার পরিবেশন করতে হয় ডাইনিং রুমে। সেজন্য আকর্ষণীয়ভাবে খাবার রুম ও টেবিল সাজিয়ে তুলুন। টেবিল ক্লথটি পরিষ্কার করে ফেলতে পারেন। চাইলে ক্লথের পাড় ঘেঁষে লেইস লাগিয়ে নিতে পারেন। তবে পুরনোটা বদলে নতুন একটি কিনে নিলেই ভালো করবেন। টেবিল ম্যাটগুলোও পরিবর্তন করে নেওয়া যায়। পর্দা ও দেয়ালের রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাছাই করুন টেবিল ক্লথ। খাবারের টেবিল কিংবা খাবারের ঘরের এককোণে রাখতে পারেন কিছু গাছ। সবুজে ছেয়ে থাকলে তা প্রশান্তি দেবে মনে। অতিথি যখন আপনার ঘরে আপ্যায়িত হবেন, তখন না হয় রাখলেন ফুলদানি ভর্তি তাজা ফুল। ঘর ও মন মাতিয়ে রাখবে যা সবসময়।

কামরুজ্জামান কাজল

মাথার উপর সুবিশাল আকাশ। সেই আকাশে তাকিয়ে কেটে যাবে বেলা। এমন কাব্যিক ভাবনা মনের অগোচরে থাকলেও দিনশেষে আমাদের নিজ নীড়েই ফিরতে হয়। নিজ ঘর। আপন ভুবনে মনের মধ্যে বসত করে ছড়ানো -ছিটানো বিশাল এক বাসা। আলো-বাতাসের খেলায় মেতে উঠবে প্রতিটিক্ষণ। কিন্তু সাধ আর সাধ্য তো আমাদের এক হয় না। যেমন বিশাল পরিসরের বাসা আমরা চাই তেমন কি আমরা পাই? নিজের হোক কিংবা ভাড়া-ই হোক ইচ্ছেমত বিশাল পরিসরের বাসায় আর হয়না থাকা। কিন্তু মনের মধ্যে আফসোস থেকেই যায়…। ইস আমার বাসাটা যদি একটু বড় হতো!
এই আফসোস কিছুটা মেটাতে আপনাদের কিছু কৌশলেে পরামর্শ দিয়েছেন ইন্টেরিয়র ডিজাইনার ফারজানা গাজী।

আসবাবপত্রে বুদ্ধিমত্তা

ঘরের কোন জায়গায় কেমন আসবাব দিবেন সেক্ষেত্রে সচেতন হবেন। যেমন এর একটি উপায় হতে পারে প্রথমে বড় একটি বিছানা দিয়ে আপনার বেডরুমে একটি সম্পূর্ণতার অনুভূতি তৈরি। এরপর কক্ষের সঙ্গে মানানসই ছোট আকারের শেলফ ও অন্যান্য ফার্নিচার দিয়ে সাজান। একই কৌশল আপনার অন্যান্য ঘরেও খাটাতে পারেন। ছোট বাড়ির জন্য মাল্টিফাংশনাল ফার্নিচার একটি ভালো সমাধান। বর্তমানে বহু ধরনের মাল্টিফাংশনাল ফার্নিচার পাওয়া যায়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ভাজ করে রাখা চেয়ার, টেবিল কিংবা সোফা কাম বেড। আপনার দেয়ালের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে ফার্নিচারের রং পছন্দ করুন। পুরনো ফার্নিচার বাড়িতে যথেষ্ট স্থান নেয়। তাই আপনি যদি আধুনিক ছোট বাড়িতে থাকেন তাহলে পুরনো ফার্নিচার বদলে নতুন ও স্থান সাশ্রয়ী ফার্নিচার কিনুন। আপনার অব্যবহৃত জিনিসপত্রের ওপর নজর রাখুন। কোনো জিনিস যদি এক বছরেও ব্যবহৃত না হয় তাহলে এটি সরিয়ে ফেলুন।

রুচিসম্মত পর্দা

ঘরের পর্দা মন ভালো করে দেয় অনেকখানি। পর্দা সাজানোর উপর বাসার সৌন্দর্য নির্ভর করছে। কক্ষে পর্দা লাগানোর সময় লক্ষ্য রাখুন এটি যেন আপনার দেয়ালের রঙের সঙ্গে মিলে যায়। আর এতে কক্ষের আকার অনেক বড় মনে হবে। এছাড়া উঁচুতে পর্দা স্থাপন করে তা নিচ পর্যন্ত বিন্যস্ত রাখলে ভালো হয়। হালকা প্রিন্ট কিংবা একরঙা পর্দা ব্যবহার করুন। এটি ছোট ঘরকে বড় দেখাতে সহায়তা করবে।

স্লাইডিং দরজা
একঘর থেকে আরেকঘর। মাঝখানে দরজা। ঘরের দরজার কারণে জিনিসপত্রও ঠিকমত রাখতে পারছেন না আপনি।
ভেতরের বিভিন্ন কক্ষের মাঝের দরজা ও কাপবোর্ডের দরজা মূল্যবান স্থান নষ্ট করতে পারে। এক্ষেত্রে সমস্যা হলে দরজা সরিয়ে ফেলা যেতে পারে। বিকল্প হিসেবে স্লাইডিং দরজা ব্যবহার করুন।

ফ্লোর টু সিলিং
বাসায় প্রচুর বই? কোথায় রাখবেন বুঝে উঠতে পারেন না। এইঘরে ছোট সেলফ তো অন্যঘরে আরেকটি। এইভাবে বই রাখার চিন্তা মাথায় নিয়ে না ঘুরে উপায় খুঁজুন ভিন্নভাবে। বই রাখার জন্য ফ্লোর টু সিলিং বিস্তৃত সেলফ ব্যবহার করুন। এটি আপনার সিলিংয়ের উচ্চতা বাড়ানোর অনুভূতি দেবে। এছাড়া প্রচুর জিনিসও রাখা যাবে।

রঙের বাহার

আপনার ঘরের দেয়ালে যে রঙ ব্যবহার করবেন সে বিষয়ে সচেতন হতে হবে। হালকা ও প্রাকৃতিক রঙের ওপর গুরুত্ব দিন। এগুলো আপনার ছোট স্থানকেও বড় দেখাতে সহায়তা করবে। কক্ষের ভেতর সূর্যের আলো প্রতিফলন ঘটাতে বড় আয়না খুবই কার্যকর। ছোট কক্ষকে এটি বড় করে দেখাবে।

এছাড়াও মাথায় রাখতে পারেন যা…

নীড় ছোট। প্রস্থও কম। নজর তাই একটু আমরা ভিন্ন দিকে দেই। চারদেয়ালের বাইরে, ছাদের দিকে যাক না নজর। এজন্য আপনার দেয়ালের উঁচু স্থানে ছোট ছোট কিছু ছবি ঝুলান। চারদেয়ালের বাইরেও তখন যাবে চোখ। এতে ভিন্নধরনের অনুভূতি তৈরি হবে।সব ফার্নিচার সর্বদা দেয়ালের সঙ্গে রাখতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। কখনো কখনো মাঝামাঝি স্থানে বসালেও তা বড় অনুভূতি তৈরি করে। একটি ঘরের সবটুকু জায়গা আসবাব দিয়ে ঠেসে রাখবেন না। কক্ষের সব স্থানই ব্যবহার করবেন না। কিছু খালি স্থান রাখবেন। যেমন শেলফের সবগুলো খোপ ভর্তি না করে কিছু খালি রাখুন।
সবকটা জানালা খুলে দাওনা…। গানের কথামত খোলা রাখুন সব জানালা। এতে আপনার ছোট স্থানেরও আলাদা গভীরতা তৈরি হবে। আলো আসুক ঘরে। ঘরের ভেতর পর্যাপ্ত সূর্যের আলোর ব্যবস্থা করুন। যদিও আমাদের এই নগরীতে ঠাসা-ঠাসি করেই থাকতে হয় হয় আমাদের। এক বাড়ির দেয়াল ঘেষে অারেক বাড়ি। তারপরও যতটুকু আলো বাতাস আসার কিছুটা সুযোগ থাকে তার সবটুকুই ঘরে আসতে দিন। প্রাকৃতিক আলোবাতাসে ছোট ঘরও হয়ে উঠবে স্বাস্থ্যকর। সবুজে সাজুক আপনার ঘর। এজন্য যে বড় বাগান কিংবা মূল্যবান গাছ লাগাতে হবে, তা নয়। ঘরের ভেতর টবে রাখা একটি ছোট গাছই এজন্য যথেষ্ট। ইচ্ছে করলে পছন্দমত মানিপ্ল্যান্টে সাজিয়ে নিতে পারেন ঘরের বিভিন্ন কোনগুলো।

স্থাপত্য-জীবনের শুরুতেই ইতালীয় নকশার কিংবদন্তি অ্যাকিল কাস্টিগ্লিওনের সান্নিধ্য পেয়েছিলেন প্যাট্রিসিয়া ইউক্রুইওলা। তাই প্যাট্রিসিয়ার স্থাপত্যকর্মেও নান্দনিকতা ও আভিজাত্যের ছোঁয়া দেখা যায়। তিনি তার কর্মজীবন শুরু করেন লাক্সারি লেবেল দ্য পাডোভাতে। আর্কিটেক্ট এবং প্রোডাক্ট ডিজাইনার হিসেবে সুপরিচিত প্যাট্রিসিয়া ইউক্রুইওলা তার এক্সপেরিমেন্টাল ইউনিক ফিউশন স্টাইলের জন্য বিখ্যাত। মুর্টিনা, কার্টেল, ফসকারিনি এবং মোরেসার মতো শীর্ষস্থানীয় ডিজাইন-হাউজের জন্য তার ডিজাইন করা টাইলস, লাইটিং, ফার্নিচার, ফ্রেবিক্স কিংবা কার্পেট যা-ই হোক-না কেন, আলাদা অনুভূতি তৈরি করে। তার স্টাইল, প্যাটার্ন এবং উপকরণ সম্মিলনের দক্ষতা, পুস্পশোভিত সাজসজ্জা এবং সঠিক অনুভূতির ব্যবহার সবাইকে অবাক করে।
প্যাট্রিসিয়া তার সৃষ্টিকর্মে এমন কৌতূহল সৃষ্টি করেন যে, তার শিল্পকর্ম যেন বলে ওঠে ছোঁও আমাকে।’
২০০৮ সালে এক্সওরের সঙ্গে যৌথভাবে বাথরুম ডিজাইন করে বোদ্ধামহলের নজর কাড়েন প্যাট্রিসিয়া। তিনি দেখিয়েছেন বাথরুম কিভাবে ব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটায়। স্টাইল ফিউশনে বাথরুমের নকশা করে প্যাট্রিসিয়া বিশ্বে অন্যরকম পরিচিতি লাভ করেন।
প্যাট্রিসিয়া ইউক্রুইওলার বেড়ে ওঠা স্পেনের ওভিডিও শহরে। স্থাপত্য বিষয় অধ্যায়নের জন্য তিনি মাদ্রিদে যান। সেখান থেকে পরে মিলানের পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। প্যাট্রিসিয়া ইউক্রুইওলা অসংখ্যবার ‘বর্ষসেরা ডিজাইনার’ নির্বাচিত হন। তিনি স্প্যানিশ সরকারের পক্ষে ফাইন আর্টসে গোল্ড মেডেলও লাভ করেছেন।

ফাইজুল ইসলাম
সাম্প্রতিককালে বিশ্বে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বা সংক্ষেপে ভিআর প্রযুক্তির বিরাট অগ্রগতি হয়েছে। ইংরেজি শব্দগুচ্ছ ভার্চুয়াল রিয়েলিটি অর্থ যা বাস্তব না হলেও বাস্তব বলে গণ্য। আগে ভিআর প্রযুক্তিতে ভারী ভারী সরঞ্জাম ব্যবহৃত হতো। এখন তা বহনযোগ্য ও ব্যয়সাশ্রয়ী। মোবাইল ও হেডসেট ব্যবহার করেই এই প্রযুক্তি থেকে পাওয়া যাচ্ছে এর উপকারিতা। এই কারণে এ ধরনের ডিভাইসের কেনাবেচা ক্রমেই বাড়ছে। এর কনটেন্টও হচ্ছে অধিক মানসমৃদ্ধ ও বাস্তবসম্মত। ভিআর প্রযুক্তির ব্যবহারিক ও বাণিজ্যিক আবেদনও আছে। যেমন- রিয়েল এস্টেটে তথা প্লট, ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট ব্যবসার প্রসারে এই প্রযুক্তির ব্যবহারের কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়। রিয়েল এস্টেট এজেন্সিগুলো কাস্টমারদের আকর্ষণে এবং প্রপার্টিগুলো পরিদর্শনের খরচ কমাতে এখন ভিআর প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন অবলীলায়।
২০১৫ সাল থেকে ভিআর প্রযুক্তি রিয়েল এস্টেটসহ বিভিন্ন শিল্পে একটি নতুন মার্কেটিং কৌশল হিসেবে আবিভূত হয়েছে। এজেন্সিগুলো স্যামসাং ভিআর হেডসেটের মাধ্যমে আমেরিকার লসঅ্যাঞ্জেলেস, নিউইয়র্ক ও হামটনসহ অভিজাত শহরের মাল্টিমিলিয়ন ডলার মূল্যের অ্যাপার্টমেন্ট ও বাড়িগুলো তাদের ভিআইপি ক্রেতাদের দেখাতে শুরু করল। তারপর থেকে অসংখ্য ভিআর রিয়েল এস্টেট প্রজেক্ট তৈরি হতে থাকল। ভিআর প্রযুক্তিও বহুমুখী কর্মশক্তিসম্পন্ন ও ডাইনেমিক তথা গতিশীল হলো। বিশেষজ্ঞরা ভবিষ্যদ্বাণী করলেন এই বলে যে, রিয়েল এস্টেটে ভিআর প্রযুক্তির উত্থান হবে অপ্রতিরোধ্য। ২০২৫ সাল নাগাদ এই শিল্পে ভিআর/এআর সফটওয়্যার থেকে মোট আয় হবে ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। তারপরও এই শিল্পে এখনো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। এই চ্যালেঞ্জগুলো হলো হাইকোয়ালিটির কনটেন্ট তৈরি করা, কনটেন্ট তৈরিতে কম সময় নেয়া এবং হেডসেটের মূল্য ক্রয়সীমার মধ্যে রাখা ইত্যাদি।

রিয়েল এস্টেটে ভিআর প্রযুক্তির ব্যবহারিক আবেদন
রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় কয়েকটি ক্ষেত্রে ভিআর প্রযুক্তির প্রায়োগিক আবেদন রয়েছে। যেমন-
১. ভার্চুয়াল ট্যুরসঃ ব্যক্তিগত ব্যবহার বা ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য কোনো প্রপার্টি ক্রয় করা অনেক ঝক্কি-ঝামেলার ব্যাপার। এজন্য সময়ও লাগে অনেক। দিতে হয় সীমাহীন ধৈর্য্যের পরিচয়। যদি প্রপার্টি ও ক্রেতার ভৌগোলিক অবস্থান হয় ভিন্ন ও বেশি দূরত্বের, তাহলে তা ক্রয় করা হয়ে পড়ে আরও কঠিন। এক্ষেত্রে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি সময় ও অর্থ বাঁচাতে সহায়তা করে। রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে প্রজেক্ট এরিয়া ঘুরে আসা যায় কয়েক মুহুর্তের মধ্যে। প্রপার্টি সম্পর্কে প্রিভিউ বা একটি আগাম ধারণা দেওয়াও সম্ভব হয়। এ ধরনের রিয়েল এস্টেট ভার্চুয়াল ট্যুর প্রদর্শনের জন্য যে কোনো আধুনিক ভিআর হেডসেটই যথেষ্ট। সেই ট্যুর হতে পারে ৩৬০-ভিডিও ফরম্যাটে অথবা নৌ বা বিমান যাত্রার মধ্য দিয়েও তা দেখানো যেতে পারে, যা হবে আরো প্রাণবন্ত ও উপভোগ্য।
২. ভার্চুয়াল ভিজ্যুয়ালাইজেশনঃ রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় যেসব প্রপার্টি নির্মাণাধীন রয়েছে, ভিআর প্রযুক্তি তার বিক্রয়ের ক্ষেত্রেও ব্যাপক সহায়তা করতে পারে। মার্কেটিংয়ের কর্মী ও রিয়েল এস্টেট এজেন্টরা এ ধরনের হাউজিংয়ের বিজ্ঞাপনে বহু কষ্ট করে থাকেন। কেননা সেখানে দেখার মতো আসলে বাস্তব জিনিসের অভাব রয়েছে। কিন্তু ভার্চুয়াল ভিজ্যুয়ালাইজেশনের মাধ্যমে তা সহজে দেখানো যায়। স্থাপত্যগত থ্রিডি ভিজ্যুয়ালাইজেশন প্রপার্টির ভবিষ্যৎ চেহারা কেমন হবে তা প্রদর্শন করে অতি সহজে। এর ভেতর ও বাইরের ডিজাইনও প্রদর্শন করে চমৎকারভাবে।
৩. ভার্চুয়াল স্টেজিংঃ ম্লান দেয়াল, ফার্নিচারের অনুপস্থিতি, ডেকোরেশনের অভাব ইত্যাদি ক্ষেত্রে অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রির সুযোগ কমে যায়। ১৯৮৫ সালের দিকে রিয়েল এস্টেট এজেন্সিগুলো ইন্টেরিয়র ডিজাইনারদের সহযোগিতা নিতে শুরু করেন। তাদের সাহায্যে প্রপার্টি শো বাড়াতে থাকেন। একেই বলা হয় ভার্চুয়াল স্টেজিং। তারা দেখলেন স্টেজিং করা হাউস বা ফার্নিচার দিয়ে সাজানো-গোছানো অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি হচ্ছে হু হু করে। এতে অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি হতে লাগছে ৮০ ভাগ কম সময়। এই পদ্ধতি ভার্চুয়াল শোকেসের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে। তাছাড়া এমন সব উপাদান দিয়ে ভার্চুয়াল স্টেজিং করা হয়, যাতে তেমন একটা খরচ হয় না।
৪. ভি-কমার্সঃ প্রপার্টির স্টেজিংয়ের অন্য এক উপকারিতাও আছে। এতে রিয়েল এস্টেট এজেন্ট ও অ্যাপার্টমেন্ট মালিক উভয়ই একসঙ্গে উপকৃত হন। এজেন্টরা ব্যবসা করেন আর অ্যাপার্টমেন্ট মালিকরা অ্যাপার্টমেন্ট সাজাতে ভালো ধারণা পেয়ে যান। এজন্য ভার্চুয়াল ইন্টেরিয়র ডিজাইন হলো ভি-কমার্সেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

রিয়েল এস্টেটে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির উপকারিতা

আমাদের জীবনযাপনকে আরো সহজ ও সুবিধাজনক করে তোলার জন্য আজ ভিআর প্রযুক্তির গুরুত্ব সর্বাধিক। কাজের পরিবেশ আরো টেকসই করতেও এর কোনো জুড়ি নেই। রিয়েল এস্টেটের মতো ব্যবসায় ভার্চুয়াল রিয়েলিটির বেশকিছু সুবিধা রয়েছে, যেমনঃ

১. সময়ের সাশ্রয়ঃ আমাদের জীবনে সময়ের চেয়ে কোনো কিছুই মূল্যবান নয়। ভার্চুয়াল রিয়েলিটিকে ধন্যবাদ। এতে নতুন সম্পদের অনুসন্ধান ও পর্যালোচনা সম্পন্ন হতে পারে দ্রুত প্রক্রিয়ায়। ভার্চুয়াল ট্যুরের মাধ্যমে দিনের পর দিন ও ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্লট ও ফ্ল্যাট পরিদর্শনের আর দরকার পড়ে না। ক্রেতা ও বিক্রেতা কোনো ঝুট-ঝামেলা ছাড়াই অফিসে বা বাসায় বসে যে কোনো সময় ভিআর হেডসেট ব্যবহার করে তার সমাধান করে ফেলতে পারেন।
২. অর্থের সাশ্রয়ঃ প্রথমে ভিআর প্রযুক্তিকে অনেকে ব্যয়বহুল মনে করতে পারেন। মনে হতে পারে, এটা একটা হাই-টেকনোলজির ব্যাপার। তার কারণ ভার্চুয়াল ট্যুরে লাগে মানসম্মত গ্রাফিকস ও কমার্শিয়াল ফিচার। কিন্তু এটা ব্যয়বহুল হলেও মূল্যবান মুনাফাও এনে দেয়। প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ায় বিজ্ঞাপনের পেছনে যে খরচ হয় তা কমিয়ে দেয়। খরচ কমিয়ে দেয় ভার্চুয়াল স্টেজিংয়ের ক্ষেত্রেও। রিয়েল এস্টেটের ইন্টেরিয়র ডিজাইন, ফার্নিচার প্লেসমেন্ট ইত্যাদি থ্রিডি মডেল ব্যবহার করে উপস্থাপন করা যেতে পারে। পৃথক লোকেশনে আবার এটাই পুনঃব্যবহারযোগ্যও বটে।
৩. আবেগ তৈরি করা্রঃ টুডি প্রিন্ট ভিজ্যুয়ালাইজেশনের মতো নয়, ভার্চুয়াল ট্যুরস আসলে মানুষকে এমনভাবে সম্পৃক্ত করে যাতে বাস্তব উপস্থিতির অনুভূতি দেয়। সেখানে কোনো তাড়াহুড়োর প্রয়োজন নেই। একজন দর্শকের জন্য এতে আছে ভ্রমণের মাধ্যমে এক ধরনের আবিষ্কারের অনুভূতি ও মিথস্ক্রিয়ার স্বাধীনতা। বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও দেখার মাধ্যমে অ্যাপার্টমেন্টের এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে খুব সহজেই প্রবেশ করা যায়। এর মাধ্যমে এক ধরনের চেতনা ও আবেগ জাগিয়ে তোলে ভিআর প্রযুক্তি।
৪. পৃথিবীব্যাপী ব্যবসা করা যায়ঃ ভিআর প্রযুক্তি আমাদের দূরত্ব কমিয়ে দেয়। এ কারণে প্রথম ভিআর ট্যুর-ই তাদের ক্লায়েন্ট বাড়াতে শুরু করে। এটা শুধু স্থানীয় পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকে না, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। পৃথিবী আজ অনেক বেশি কসমোপলিটন বা সংকীর্ণতামুক্ত। ক্রমেই বাড়ছে বিশ্বনাগরিকের সংখ্যা। মানুষ আজ একস্থান থেকে আরেক স্থানে যাচ্ছে সহজেই। এমনকি এক গোলার্ধ থেকে অন্য গোলার্ধেও যাচ্ছে। তাই রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় ভার্চুয়াল রিয়েলিটির আবেদনও বিশ্বময়।

রিয়েল এস্টেট ভিআরের উদাহরণ
ভার্চুয়াল স্টেজিং সেবার জন্য রিয়েল এস্টেট এজেন্সিগুলোতে রয়েছে রুমি প্লাটফর্ম। তারা হাউস স্টেজিংকে গুরুত্ব দেন যাতে তা দ্রত ও উচ্চমূল্যে বিক্রি হয়। এর কল্যাণে শুধু রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীরাই নন, সাধারণ মানুষও তার নিজস্ব অ্যাপার্টমেন্ট বা বাড়ির ইন্টেরিয়র ডিজাইনার হিসেবে আর্বিভূত হতে পারেন।
যেহেতু প্রিন্ট ইমেজ বা ছবি আজ সেকেলে, এমনকি প্রথম যুগের ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হোম ট্যুরগুলোও আজ আর যুগোপযোগী নয়, কেননা এটা ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা দিয়ে তৈরি, তাই অত্যাধুনিক ভিআর প্রযুক্তি ব্যবহার করাই শ্রেয়। এমন একটি প্রযুক্তির নাম ম্যাটেপোর্ট। এর মাধ্যমে থ্রিডি ক্যামেরার সাহায্যে তৈরি হয় চমৎকার হোম ট্যুর, যা ‘একের মধ্যে সব’ হিসেবে কাজ করে। এই বিশেষ ক্যামেরা ফোর কে রেজল্যুশনে রিয়েল এস্টেটের জন্য ভিআর ট্যুর উৎপাদনে সহায়তা করে।
যেসব প্রপার্টি নির্মাণাধীন, সেখানে বিশেষ করে ‘ভার্চুয়াল এক্সপেরিয়েন্স’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমে কনস্ট্রাকশন কোম্পানির জন্য তৈরি হয় ভিআর কনটেন্ট। এটা অসম্পূর্ণ অ্যাপার্টমেন্ট পরিদর্শন করে সুন্দরভাবে। আবার অনলাইন ব্যবহারের জন্য থ্রিডি ভিজ্যুয়ালাইজেশন খুবই সহজলভ্য। কিংবা অকুলাস রিফট ও এইচটিসি ভাইভের মতো ভিআর হেডসেটও পাওয়া যায় সহজেই।

কামরুজ্জামান কাজল
শীতের আমেজ শেষ হলো। বসন্তের রঙে সাজবে ঘর। কোকিলের কুহু-কুহু আর লিলুয়া বাতাসে মেতে উঠবে মন। মেতে ওঠা মনের সঙ্গে এবার না-হয় মেতে উঠুক ঘরের সাজসজ্জাও। বসন্তের বাতাসে হু-হু করে দোলা দিয়ে উঠুক ঘরের পর্দাগুলো। এই নরম আবহাওয়ায় বৈচিত্র্যময় পর্দায় সাজিয়ে তুলতে পারেন আপনার প্রিয় নিবাস। সেটা কীভাবে? পরামর্শ দিয়েছেন ফারজানা’স ব্লিজের স্বত্বাধিকারী ফারজানা গাজী।
তিনি জানান, বসার ঘর থেকে শুরু করে খাবার ঘর, ঘরে রাখা আসবাবের আকৃতি, দেয়ালের রঙ ও আসবাবের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে পর্দা বাছাই করা ভালো। অন্যদিকে আবহাওয়া বুঝে দুই সেট পর্দা বানিয়ে নিলে সুবিধা। মূলত গরম ও শীতকালের জন্য। গরমের জন্য বাছাই করুন হালকা রঙের পাতলা পর্দা, এতে বাতাস চলাচল সহজ হবে, গরমে পাবেন স্বস্তি। আর শীতে পর্দা অপেক্ষাকৃত মোটা বা ভারী কাপড়ের ও গাঢ় রঙের হওয়া উচিত। এ সময় ধুলাবালি বেশি হয়, তাই পর্দা ময়লা হলেও বোঝা যাবে না আর রুমে ঠান্ডাও লাগবে কম।

বসার ঘরে পর্দা
অতিথি আপ্যায়নে বসার ঘরটাই মুখ্য। পরিবারের সবাই মিলে একসঙ্গে টিভি দেখা কিংবা অতিথিদের সঙ্গে সময় কাটানো হয় বসার ঘরেই। তাই বসার ঘরের পর্দায় মনোযোগী হতে হবে একটু বেশি।
এই ঘরে ব্যবহার করতে পারেন সিল্ক, সার্টিন, জর্জেট, ভেলভেট কিংবা কাতান কাপড়ের পর্দা। বসার ঘরের পর্দা মেঝে পর্যন্ত বড় হলে দেখতে সুন্দর লাগে। খাটো পর্দা ঘরের সঙ্গে মানায় না। তাই বসার ঘরে খাটো পর্দা না রাখাই ভালো। আর রঙ বাছাইয়ের চিন্তা যদি করতে হয়, তবে নির্বাচন করতে পারেন হালকা সবুজ, চকোলেট, নীল, গোলাপি কিংবা বাদামি রঙ। ইচ্ছে হলে একরঙা কাপড় ব্যবহার করতে পারেন। কিংবা চেক কাপড়েও ভালো মানাবে।

শোয়ার ঘর
ক্লান্ত শরীরে নিজেকে বিশ্রাম দিতে শোয়ার ঘরের ইন্টেরিয়রেও মনোযোগ দিতে হবে। শোয়ার ঘরের ক্ষেত্রে ভারী পর্দায় প্রাধান্য দিতে পারেন। কাপড় বাছাইয়ে মোটা কাপড় বাছাই করতে হবে। রঙ পছন্দের ক্ষেত্রে অফ হোয়াইট, গোলাপি বা হালকা সবুজকে প্রাধান্য দিতে পারেন।

সাজবে শিশুর ঘর
শিশুদের রঙিন দুনিয়া। সেটা তাদের কল্পনাতেও। আর বাস্তবে বাবা-মায়েরাও চান শিশুর ঘরটাকে সুন্দর করে রাঙিয়ে দিতে। সেই রাঙানোর ক্ষেত্রে মনোযোগ দিতে হবে রঙিন পর্দার দিকে। ছেলে-বাচ্চাদের ক্ষেত্রে নীল আর মেয়েদের ক্ষেত্রে পছন্দের তালিকায় রাখতে পারেন গোলাপি। তবে আপনার শিশুর পছন্দের দিকে আগে নজর দিন। নানা কার্টুন চরিত্র দিয়ে সাজিয়ে দিতে পারেন তার ঘরটি।

পর্দা শুধু ঘর সাজানোর অনুষঙ্গ হিসেবে নয়, এটি বহন করে আপনার রুচি ও ব্যক্তিত্ব। তাই বাসার সুবিধার্থে দুই সেট পর্দা রাখতে পারেন। একসেট সবসময় ব্যবহার করবেন। আরেক সেট রেখে দিতে পারেন অতিথিদের জন্য কিংবা বাড়িতে কোনো উৎসবের জন্য।
প্রতিদিন বা একদিন পরপর ভেজা কাপড়ে গ্রিল ও শুকনো কাপড়ে ফার্নিচার মুছে নিলে পর্দা কম ময়লা হয়।
যারা দেশি আমেজে ঘর সাজাতে চান, তারাও পর্দার দিকে মনোযোগী হতে পারেন। তাদের জন্য ভালো সমাধান হচ্ছে চেক, ব্লক প্রিন্ট, বাটিক ও নকশিকাঁথার পর্দা বেছে নেয়া। কারণ এ ধরনের পর্দায় ষোলআনা বাঙালিয়ানা ফুটিয়ে তোলা সম্ভব।
আপনার যে কক্ষে বেশি আলো-বাতাস খেলা করে সেই ঘরে দরজা-জানালায় হালকা রঙের নেটের পর্দা ভালো লাগবে। শুধু তা-ই নয়, ধুলাবালিতে নোংরা হলেও সমস্যা নেই, কারণ নেটের পর্দা ধুয়ে ফেলা সহজ।

কারিকা ডেক্স


শীত শীত ওম ওম আমেজ থেকে হঠাৎ শৈত্যপ্রবাহ। শীতের সময়টাই এমন। কখন যে ঝাপিয়ে চলে আসে শীত বুড়ি তার কোনো পহৃর্বাভাস মিলেনা অনেকসময়। শীত থাকবে। শৈত্যপ্রবাহে জবুথবু হয়ে যাবে মানুষ। কিন্তু তাই বলে কী শীতের মতো জবুথবু থাকবে ঘরবাড়ি? তা নয়। বরং শীতের সময়টাতে একটু গুছিয়ে চললে যেমন আপনার ঘরবাড়ির সৌন্দর্য বেড়ে যাবে কয়েকগুণ, তেমনি বাড়িতে থাকা অবস্থায় শীতের হাত থেকেও বেঁচে যাবেন।

শীতে ঘরবাড়ি’র ইন্টেরিয়র নিয়ে কথা বলেছেন ফারজানা’স বিসের সিইও ফারজানা গাজী। তিনি বলেন, শীতের সময় দিনে সূর্যের আলো পাওয়া যায় অল্প পরিমানে। এ অল্প আলোকেও ব্যবহার করে আলোকিত করা যেতে পারে পুরো ঘরটিকে।
সেজন্য ঘরের যে স্থানটিতে আলো পড়ছে সেখানে সুবিধামতো আয়না স্থাপন করে রিফেক্টের মাধ্যমে আলো ছড়িয়ে দিতে পারেন সবখানে। এ সময় ন্যাচারালের তুলনায় ঘরে কৃত্রিম আলোর ওপর বেশি নির্ভরশীল থাকতে হয় বলে লাইটিংয়ের মাধ্যমে ঘরের পরিবেশে আনতে পারেন উষ্ণতার আমেজ।
বাজারে আজকাল নানা ধরনের, নানা সাইজ ও রঙের ল্যাম্পশেড পাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে বেডরুমের লাইটিং এর জন্য ওয়ার্ম আলো (যেমন- হলুদ, লাল, কমলা, বেগুনি ইত্যাদি) ব্যবহার করা যেতে পারে। বেডরুমের বেডের হেড রেস্টের দুইপাশে অথবা সাইড দিয়ে লাইটিং সিস্টেম করতে পারেন। ঘরের কোণে এক কর্নারে অথবা বেডসাইড টেবিলের ওপর রেখে দিতে পারেন ডেকোরেটিভ ল্যাম্পশেড। তাছারা বেডের ওপর অথবা এক কর্নারে ফলস সিলিং ডিজাইন করে সেখানে বিভিন্ন ধরনের লাইট ব্যবহার করে তৈরি করতে পারেন এক অসাধারণ পরিবেশ।

দেয়ালে ব্যবহার করতে পারেন ওয়াল মাউন্ট লাইট। ডাইনিং স্পেসের আলো সাধারণত সলিড হয়ে থাকে। তাই স্যান্ডেলিয়ার ও বিভিন্ন ধরনের ল্যাম্পের ব্যবহার করে রুমে আনা যেতে পারে বৈচিত্র্য। ডাইনিং টেবিলটিকে সাজানো যেতে পারে কালারফুল সব পেট গাছ দিয়ে। সঙ্গে যদি মোমের আলো থাকে তাহলে তো কথাই নেই। অসাধারণ একটা পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে এই ক্যান্ডেল লাইট ডিনার।
বসার ঘরের একপাশ বেছে নিতে পারেন ডেকোরেশনের জন্য। সেই কর্নারে বিভিন্ন ধরনের মাটির পটারির সঙ্গে রাখতে পারেন বাঁশ এবং বেতের ল্যাম্প সেড। আর ফ্লোরে বড় গামলাতে ফুলের পাপড়ি দিয়ে তাতে ছেড়ে দিন ফ্লোটিং মোমবাতি। ফলস সিলিং করে স্পটলাইটের মাধ্যমে কর্নারগুলোকে আলোকিত করে তৈরি করতে পারেন আলো আধাঁরের খেলা। প্রয়োজনে সিলিং থেকে ঝুলিয়ে দিতে পারেন বিভিন্ন ধরনের হ্যাংগিং লাইট।

শীতে দেয়ালের রঙ, সোফা, কুশন কাভার, পর্দা, বেড কাভার প্রভৃতিতেও আসতে পারে পরিবর্তন। রুমের রঙ করার সময় অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে তা যেন ওয়ার্ম কালার হয়।
যেহেতু শীতের দিনে ঠান্ডার একটা ব্যাপার থাকে তাই ট্রান্সপারেন্ট পর্দার সঙ্গে একটু ভারি কাপড়ের পর্দা হলে ভালো। আর যদি ডাবল পর্দা দেয়ার ব্যবস্থা থাকে তাহলে ঘরে তুলানামূলক ঠান্ডা একটু কম লাগবে। পর্দার কাপড়গুলো সাধারণত মখমল, সিল্ক, কটন ইত্যাদি হয়ে থাকে। সোফা, কুশন এবং বেড কভারের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। দেয়ালের রঙ এবং লাইটিংয়ের সঙ্গে যেন সাদৃশ্যপূর্ণ থাকে সে বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।
শীত এলেই বেড়ে যায় কার্পেটের ব্যবহার। উলেন, হ্যান্ডমেড উলেন, অ্যাকরেলিক, পিভিসি ইত্যাদির নানা ধরনের কার্পেট পাওয়া যায় বাজারে। ঘরের রঙ, ফার্নিচার, পর্দা, কুশন এবং বেড কভারের সঙ্গে মিল রেখে বাছাই করুন কী ধরনের এবং কী রঙের কার্পেট আপনি নির্বাচন করবেন। দেশিয় আমেজ আনতে নানা রকমের শতরঞ্জিও ব্যবহার করতে পারেন।

শীতকাল যেহেতু ফুলের জন্য উপযুক্ত সময় তাই ঘরের বিভিন্ন জায়গায় তাজা ফুলের ব্যবহার আপনার মনকে আরো প্রফুল্ল করে দিবে। সামান্য একটি গাছ ঘরের সৌন্দর্য যেমন বাড়িয়ে দিতে পারে, তেমন বৃদ্ধি করতে পারে ঘরে অক্সিজেন। শীতে যেসব গাছের পাতা ঝরে না, সেসব গাছ ঘরে ব্যবহার করতে পারেন। বিশেষ করে ছোটপাতার গাছ।

শীতে শুষ্ক প্রকৃতির কারণে ঘরে প্রচুর ধুলাবালি হয়ে থাকে। তাই ফার্নিচার, কার্পেট, সোফার কুশনের কভার, বেড কভার, ইত্যাদি যত্নে র ক্ষেত্রে সবই যেন সহজে পরিষ্কার হয় সেদিকেও খেয়াল রাখা উচিত। বিশেষ করে যেসব ঘরে শিশু রয়েছে তাদের বেশি সচেতন হতে হবে। সবকিছু কিছুদিন ব্যবহারের পর রোদে দিতে হবে। ঘর যেন স্যাঁতস্যাঁতে  না হয় এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকে সেদিকে নজর দিতে হবে।

15cm-ball-wall-light-fixture-lamp-scone-glass
এদিকে শীতে অ্যাজমা ও হাঁপানি রোগের পরিমাণ বেড়ে যায়। এ সময় যদি ঘরে ধুলাবালি থাকে, তবে অ্যাজমা ও হাঁপানি রোগ বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা থাকে আরও বেশি। তাই শীতে ঘরবাড়ি ধুলাবালি ও জীবাণুমুক্ত রাখা জরুরি।
সবার কাছেই নিজের শোবার ঘরটি অন্যান্য ঘরের তুলনায় সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ ঘরটাতেই কাটে অধিকাংশ সময়। তাই শোবার ঘর পরিষ্কারে একটু বেশিই যত্নবান হোন। প্রতিদিন ঘরের পর্দা, বিছানা, পাপোশ, ড্রাইফুল ঝেড়ে পরিষ্কার করুন। ঘরের মেঝে টাইলসের হলে গরম পানিতে ডিটারজেন্ট মিশিয়ে মেঝে পরিষ্কার করলে ঘর থাকবে ঝকঝকে। আর জীবাণুমুক্ত করতে চাইলে ডিটারজেন্ট দিয়ে পরিষ্কার করার পর আরও একবার ডেটল পানি দিয়ে পরিষ্কার করুন।
রান্নাঘরে জীবাণুর প্রাদুর্ভাব সব থেকে বেশি। তাই রান্নাঘর সব সময় পরিষ্কার রাখুন। কুসুম গরম পানিতে ডিটারজেন্ট ভিজিয়ে সিংক, রান্নাঘরের চুলা, টাইলস প্রভৃতি পরিষ্কার করতে পারেন। এতে রান্নাঘরটি জীবাণুমুক্ত থাকবে। রান্নাঘর জীবাণুমুক্ত রাখতে ব্যবহার করতে পারেন স্যাভলন কিংবা ডেটল। বাসনকোসন ধোয়া থাকলেও খাওয়ার আগে আরও একবার ধুয়ে নিন।

শীতে বাইরের ধুলাবালি পর্দা, কার্পেট আর পাপোশেই সবচেয়ে বেশি আটকায়। তাই এগুলো পরিষ্কারে সচেতন হোন। সপ্তাহে একদিন পর্দা ঝাড়ু দিয়ে ঝেড়ে পরিষ্কার করুন। সম্ভব হলে মাসে একদিন ধুয়ে দিন। কার্পেট পরিষ্কারে ব্যবহার করতে পারেন ভ্যাকুয়াম কিনার। সোফা ও চেয়ার পরিষ্কারেও ভ্যাকুয়াম কিনার কাজে দেবে। ১৫ দিন অন্তর কার্পেট কড়া রোদে শুকিয়ে নিন। এতে কার্পেটের জীবাণু ছড়াবে না।
যতই আটকে রাখুন না কেন, এ সময় বাইরের ধুলাবালি দরজা-জানালা দিয়ে প্রবেশ করবেই। এ সময় ঘর ধুলাবালিমুক্ত রাখতে প্রতিদিন দরজা-জানালা ঝেড়ে পরিষ্কার রাখুন। প্রতিদিন সম্ভব না হলেও অন্তত একদিন পরপর পরিষ্কার করুন।

আবদুল্লাহ আল মামুন


ভবন নির্মাণে বাড়ছে কাচের ব্যবহার। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আবাসনের অন্দর সজ্জায়ও জনপ্রিয়তা পাচ্ছে কাচ। কাচের এ চাহিদা মেটাচ্ছে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। এর মধ্যে অন্যতম পিএইচ ফ্লোট গ্লাস ইন্ড্রাস্ট্রিজ লিমিটেড। দেশে সর্বশেষ প্রযুক্তির ফ্লোট গ্লাস উৎপাদন করছে দেশীয় এ প্রতিষ্ঠানটি। দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও। ২০০৪ সাল থেকে দৈনিক ১৫০ টন উৎপাদন দিয়ে শুরু করলেও জাপানের সহায়তায় উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়ে এক বছরের মধ্যে তা ৩০০ টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
নব্বইয়ের দশকের পর থেকে দেশে ব্যাপকভাবে আবাসন শিল্পের বিকাশ ঘটে। দেশের বড় বড় শহরগুলোতে গড়ে উঠতে থাকে অট্টালিকা। ভবনে শুরু হয় কাচের ব্যবহারও। তখন শতভাগ কাচ আমদানি হতো বিদেশ থেকে। বাংলাদেশে একচেটিয়াভাবে এই বাজার ছিল চীন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার দখলে। আবাসন শিল্পে কাচের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশীয় উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগ শুরু করে। আগে সরকারি প্রতিষ্ঠান উসমানিয়া গ্লাস শীট ফ্যাক্টরি লিমিটেড ও এমইবি গ্লাস ফ্যাক্টরি লিমিটেড এ দুটো প্রতিষ্ঠান শীট গ্লাস উৎপাদন করতো। ২০০৫ সাল থেকে আধুনিক প্রযুক্তির ফ্লোট গ্লাস উৎপাদন শুরু করে পিইচপি ও নাসির গ্লাস।
২০০৪ সালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুন্ডে পিএইচপি ফ্লোট গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড যাত্রা শুরু করে। ২০০৫ সালে এ কারখানায় গ্লাস উৎপাদন শুরু হয়। শুরুতে দৈনিক ১০০ টন গ্লাস উৎপাদন করলেও বিক্রি হতো মাত্র ৫০টন। বর্তমানে ১৫০টন উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও প্রতিদিন উৎপাদন করে ১০০ টন। কাচের ব্যবহার বেড়ে কারখানা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। জাপানের সহায়তায় আগামী বছর থেকে উৎপাদন ৩০০ টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ফিলিপাইনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে আসছে। তবে বিদেশ থেকে কাচ আমদানি, দুর্বল পরিবহন ব্যবস্থা, গ্যাস ও অবকাঠামোর অভাবের কারণে কাচ শিল্পের বিকাশ ও প্রসারে প্রধান বাধা বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।
পিএইচপি ফ্লোট গ্লাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আমির হোসেন চৌধুরী বলেন, কাচ তৈরিতে ব্যবহৃত বালি ও গ্যাস দুটোই আমাদের দেশে সহজলভ্য। কাচ উৎপাদনের ৮০ ভাগ কাঁচামালই এ দুটো উপাদান। বাকি ২০ ভাগ কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। অথচ অন্য শিল্পে বেশিরভাগ কাঁচামাল আমদানি করতেই কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়। কাচ শিল্পের উৎপাদিত পণ্যের ভ্যালু অ্যাড হয় সবচেয়ে বেশি। ভারতের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের সেভেন সিস্টার খ্যাত সাত রাজ্য, নেপাল ও ভুটানে বাজার ধরতে পারে বাংলাদেশ। এই বাজার ধরতে পারলে কাচ রপ্তানির বিশাল সুযোগ তৈরি হবে। এক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। সরকারি সহায়তা ছাড়া পৃথিবীতে কোন শিল্পের বিকাশ কখনও হয়নি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হলো এই শিল্পের জন্য এমন নীতিমালা প্রণয়ন দরকার যাতে কাচশিল্পের বিকাশ ও প্রসার হয়। তাছাড়া বিদেশ থেকে কাচ আমদানি নিরুৎসাহিত করা হলে দ্রুত এই শিল্পের বিকাশ সম্ভব হবে। বর্তমানে প্রতিমাসে ছয় থেকে সাত হাজার টন বিভিন্ন ধরনের কাচ বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়।
বিশ্বের উন্নত দেশে বহুল ব্যবহৃত লো-ই গ্লাস উৎপাদনের পরিকল্পনা পিএইচপি’র রয়েছে জানিয়ে আমির হোসেন বলেন, ইউরোপ, আমেরিকা, জাপানসহ উন্নত বিশ্বে বহুল ব্যবহৃত লো-ই গ্লাস ও ডিজাইন কাচসহ বিভিন্ন ধরনের বিশেষ কাচ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে পিএইচপি’র। কারণ লো-ই কাচ তাপ নিরোধক, অতিরিক্ত স্বচ্ছ ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী। বিদ্যুৎ সংকটের বাংলাদেশে এই লো-ই গ্লাসের কার্যকারিতা অনেক বেশি।
শব্দ দূষণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় শব্দ নিরোধক কাচের চাহিদা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়ে আমির হোসেন বলেন, দেশের এই চাহিদা মেটাতে সাউন্ডপ্রুপ গ্লাস উৎপাদন শুরু করবে পিএইচপি। আগামী ৩ বছরের মধ্যে এই বিশেষায়িত কাচ বাজারে আসবে।
গ্লাস শিল্পে এ উদ্যোক্তা জানান, কাচ উৎপাদনের পরিমাণ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। সর্বোত্তম মান বজায় রাখতে ‘অনলাইন ইনস্পেকশন’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। ফলে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কোন সমস্যা দেখা দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা ক্রাশ করা হবে। এতে গ্লাসের মান হবে নিখুঁত। এছাড়া উৎপাদন ক্ষমতা ও মান বাড়াতে প্রযুক্তি সহায়তা নেওয়া হবে বিশ্বের প্রযুক্তি নির্ভরতার এক নম্বর দেশ জাপানের।

কারিকা ডেক্স


অনিমেশ কুন্ডু
ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অটবি

আমার বাবা নিতুন কুন্ডু, অনেকটা আনকনভেশনাল ওয়েতেই ইন্ডাস্ট্রিতে আসেন। আনইউজুয়াল জিনিসপত্র বানানোর জন্য তিনি একটা স্টুডিও বানিয়েছিলেন। বাবার একটা অস্বাভাবিক দক্ষতা ছিল। বই পড়ে কোনোকিছু শিখে ফেলতে পারতেন। বাবা কিন্তু কোনোদিন ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলে যান নি। আর্কিটেকচারাল স্কুলেও যান নি। বাবা কতগুলো বইপত্র জোগাড় করেছিলেন, সেগুলো ঘেঁটেই তিনি শিখতেন। শিখে তিনি হাতে-কলমে কাজে লেগে যেতেন। বাবা চারুকলার ছাত্র ছিলেন, তবুও নিজের আগ্রহ থেকে স্কাল্পটিং শিখেছেন বই পড়ে আর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে।
কলকাতা বিশ্ববিদ্য্যালয়ের অধীনে যে চারুকলা, সেখানে চিন্তামনি কর নামে একজন নামকরা স্কাল্পটার ছিলেন। বাবা তাকে মাস্টারমশাই ডাকতেন। যদিও তিনি বাবার সরাসরি শিক্ষক ছিলেন না। বাবা তাকে কিছু গাইডলাইন নিয়ে দিলেন। বললেন, আমি এভাবে কাজ করছি। পরে কাজটা যদি একটু দেখে দিতেন আর কি। তিনি বললেন, ‘তোমার কাজ রাম কিঙ্কর বেইজকেও ছাড়িয়ে গেছে।’ উল্লেখ্য, ভারতের নামকরা স্কাল্পটার রাম কিঙ্কর বেইজ।

বাবার স্টুডিওতে আনকমন কাজ করা হতো। যেগুলো সাধারণত বাংলাদেশে কেউ করে না। শুরুতে কোটপিন, ক্রেস্ট, কার্ড বানাতেন। সোনা দিয়ে কাজ করা; ক্রেস্ট বানানো বা ট্রফি বানানো কঠিন। তাও তিনি করেছেন। সেগুলো করতে করতেই হঠাৎ একবার বিদেশি একটা কোম্পানির ফার্নিচার দরকার হলো। ওই সময়কার সবচেয়ে আধুনিক যে চেয়ার, সেই ডিজাইনের। বাবা বললেন, আমি একটা চেয়ার বানাই? ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বললেন, চেয়ার বানাবেন! কিন্তু আপনি তো এই কাজের লোক নন। আপনার তো এমন কোনো কারখানা বা স্টুডিও নেই। বাবা বললেন, আমি বানাই। তারপর আপনি দেখেন।

বাবার কনফিডেন্স ছিল এ কারণে, তিনি যেহেতু ১২ বছর ইউএস কালচারাল সেন্টারে কাজ করেছেন, এ ধরনের ডিজাইন খুব কাছ থেকে দেখেছেন। তখন থেকেই বাবা প্রোডাকশনগুলো কৌতুহল নিয়ে দেখতেন। বুঝতেন। শিখতেন।

বাবা তার স্টুডিওতেই চেয়ার বানালেন। যারা কিনল, তারা তো খুব খুশি। এত ভালো প্রোডাক্ট বাংলাদেশে কী করে তৈরি হয়! এরপর ওরা টেবিলসহ অন্যান্য ফার্নিচারও বানিয়ে দিতে বলে। বাবা তাও করলেন। তারা খুশি হলেন। বাবার যেহেতু প্রচুর বন্ধু-বান্ধব ছিল, তারা জানল। সেভাবেই তখন কাজ বাড়তে থাকল। একজন হয়তো বলল, অমুককে বানিয়ে দিয়েছেন আমাকেও বানিয়ে দিন। আস্তে আস্তে বাবার নাম ছড়াতে থাকল। অবশ্য তখন ‘অটবি’ নামটা ছিল না। ওই স্টুডিও থেকেই কাজ হতো।

এ প্রসঙ্গে বাহা স্কুলের নাম উল্লেখ করতে হয়। বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশক থেকে তৃতীয় দশক পর্যন্ত, প্রথমে জার্মানিতে; জার্মানিতে যখন নাৎসিরা চলে আসল, ওরা পারল না তখন আমেরিকায় চলে গেল। এর আগ পর্যন্ত ইউরোপে যে ব্যবহারিক জিনিসপত্র তৈরি হতো, সেগুলোর সবই বড়লোকদের জন্য। সেগুলো অনেক কারুকার্যসম্পন্ন ছিল। শুধুমাত্র বড়লোকরা এফোর্ট করতে পারত। সাধারণ মানুষের জন্য সাধারণ ডিজাইন ছিল। সেভাবেই চিন্তা করে বানানো হতো। সেটারও একটা মাত্রা ছিল। মডার্ন ডিজাইনের যে কনসেপ্ট সেগুলো তখন আসা শুরু করেছে। যেমন আমরা এখন কিছু প্রোডাক্ট ব্যবহার করি, এটার জন্ম কিন্তু প্রায় একশ বছরেরও আগে। যেটা এখন দেখে হয়তো ভাবছি এটা খুবই মডার্ন। আসলে কিন্তু একশ বছর আগে কোনো ডিজাইনার এভাবে প্রথম নিয়ে আসে। বাংলাদেশে অনেক পরে এসেছে বলে হয়তো আমরা মনে করি এটা খুব মডার্ন। আসলে এখন যে ডিজাইন পৃথিবীব্যাপী চলে সেটা পোস্ট-মডার্ন ডিজাইন। বাংলাদেশে এখন আমরা আসলে পোস্ট-মডার্ন ডিজাইন নয়, মডার্ন ডিজাইনই বেশি পছন্দ করি। এই কনসেপ্টটা বাবার মাথায় ছিল।

শুরুর দিকে এক/দুটা প্রোডাক্ট তৈরি হতো। তখন এত চাহিদা ছিল না। ইন্ডাস্ট্রিয়ালি এগোনোর কনসেপ্টও ছিল না। ধীরে ধীরে যখন সবগুলো কম্পোনেন্ট তৈরির চাহিদা ও সক্ষমতা তৈরি হলো, তখন, ১৯৮৩ সালের দিকে তিনি বড় পরিসরে এগোলেন। ঢাকার মিরপুরে প্রথম একটা আধুনিক ফ্যাক্টরি হলো। প্রথম স্টুডিও থেকে যে ডিজাইন কনসেপ্টগুলো বেরুতো, ওই ডিজাইনগুলো যখন একসময় জনপ্রিয় হয়ে উঠল তখন বাবা ভাবলেন এটাকে বড় পরিসরে নিয়ে যেতে হবে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাসেম্বলি লাইন বসাতে হবে। দ্রুত প্রোডাকশনের জন্য মেশিন কিনতে হবে। আপনি একটা কম্পোনেন্ট একটা পার্টিকুলার মেশিনে হয়তো আধাঘণ্টায় বানাতে পারেন, আরেক ধরনেরর মেশিন আছে সেটা হয়ত এক মিনিটে পারে। অন্য একটা মেশিন হয়তো তিরিশ সেকেন্ডে পারে। উনি চিন্তা করলেন কোন মেশিন বসাবেন। মেশিন কেনার সময় আমাদের তেমন পুঁজি ছিল না। অনেক সময় মেশিন কিনতেন না। ধোলাইখাল থেকে যন্ত্রাংশ কিনে নিজে কিছু জোড়াতালি দিয়ে মেশিন বানিয়ে ফেলতেন। সেভাবেই শুরুতে কিছুটা মেশিনের সহায়তায় কিছুটা হাতের সংস্পর্শে নান্দনিক ফার্নিচার তৈরি হতে থাকল।

একটা পর্যায়ে যখন চাহিদা বেড়ে গেল, ১৯৮৩ সালে ফ্যাক্টরি তৈরি করা হয়। যেখানে বিভিন্ন ধরনের ফার্নিচার একইসঙ্গে বেশি পরিমাণে বানানে শুরু হলো। ফ্যাক্টরিতে অ্যাসেম্বলি লাইন প্রোডাকশন ছিল, কম্পোনেন্ট প্রোপারলি বানানো হতো। ১৯৯৪ সালে আমরা আরেকটা ফ্যাক্টরি বানালাম। প্রথমে আমরা শুধু মেটাল দিয়ে ফার্নিচার বানাতাম। পরে বোর্ড আর মেটালের সংমিশ্রনে বানানো শুরু হলো। তারপর কাঠের-প্লাস্টিকের। অনেক কিছু আমরা করেছি। একটা সময় প্লাস্টিক মোল্ড আমরা নিজেরাই বানাতাম। সেটা ছোট পরিসরে।
আমাদের প্রথম শো-রুম করি ১৯৭৭ সালে, এলিফ্যান্ট রোডে। প্রথমে ভাড়া নিয়েছিলাম। পরবর্তীতে সেটা আমরা কিনে নিই। আমরা ওই ফ্লোরটা নেওয়ার আগে ওখানে যারাই যে ব্যবসার শো-রুম করেছে, সবাই লোকসান করেছে। আমরাই টিকে যাই এবং এখন পর্যন্ত আছি। এলিফ্যান্ট রোড কিন্তু তখনো এতটা জমজমাট ছিল না।

শুধু কাঠের (সলিড উড) ফার্নিচার আগে আমাদের ছিল না। আমরা শুধু স্টিল, বোর্ড, প্লাস্টিক ইত্যাদি দিয়ে ফার্নিচার বানাতাম। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর পুরো কাঠের ফার্নিচার বানানো শুরু করি। বাবা মারা যাওয়ার পর (২০০৬ সালে) কাঠের ফার্নিচার বানানোর জন্য আমরা সবচেয়ে বড় ও আধুনিক ফ্যাক্টরিটা বানাই সাভারে, ২০০৭-০৮ এর দিকে। কাঠ তো বিভিন্ন রকমের হয়। একেক রকমের কাঠের প্রকৃতি একেকরকম। কাঠের ফার্নিচার সবসময়ই ইউনিক। মানুষ সেটাকে অন্য চোখে দেখে। কাঠের ফার্নিচারে অনেক বেশি ডিজাইন করার সুযোগ থাকে। এ ধরণের ফার্নিচারের স্থায়িত্বও অনেক বেশি।

শুরু থেকে অফিস ফার্নিচারের জন্য আমরা বিখ্যাত। হাউজহোল্ড ফার্নিচারে আমরা এসেছি অনেক পরে। আমরা যখন কাঠের ফার্নিচার বানানো শুরু করলাম, তখন থেকেই হোম ফার্নিচারের দিকে বিশেষ নজর দেই। কারণ পৃথিবীব্যাপীই মানুষজন বাসা-বাড়িতে কাঠের ফার্নিচার ব্যবহার করা পছন্দ করে। এর আগে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত হোম ফার্নিচার ছিল। এখন অফিস ফার্নিচার এবং হোম ফার্নিচার প্রায় সমান-সমান।

বর্তমানে ফার্নিচারের কনসেপ্ট পরিবর্তন হয়ে গেছে। আগে মানুষ পুরনো দিনের ফার্নিচার ঐতিহ্য হিসেবেই ব্যবহার করত। এখন হয়ত বাস্তবিক কারণেই সেই ট্রেন্ডটা কমে আসছে। কারণ থাকার জায়গা বা অ্যাপার্টমেন্ট ছোট হয়ে আসছে। তাই ফার্নিচারও ছোট হয়ে আসছে।

অটবি এখনো দেশীয় মার্কেটেই বেশি ফোকাস করছে। কারণ বাংলাদেশের মার্কেট এখনো বাড়ছে। দেশের বাইরে ভারত, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা এই মার্কেটগুলোকে ফোকাস করছি। আমেরিকা-ইউরোপের মতো মার্কেটগুলো তাদের অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে কিছুটা ধীরগতিসম্পন্ন। সেই মার্কেটগুলোতে আমরা আস্তে আস্তে ঢুকছি। কারণ এই মার্কেটগুলো সহসাই এক্সপেনশন করার সুযোগ নাই।