Home মূল কাগজ সাক্ষাৎকার

এম এম জসিম উদ্দিন
হেড অব অপারেশন, বসুন্ধরা এলপি গ্যাস
বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় একটি শিল্পগ্রুপ বসুন্ধরা। এলপি গ্যাসখাতে আপনাদের বিনিয়োগের পেছনে কী চিন্তা কাজ করেছে?
শুধু এলপি গ্যাস নয়, বাংলাদেশে শিল্পায়নের বহু খাতই আমরা প্রথম শুরু করেছি। বাংলাদেশের সিমেন্ট, কাগজসহ অন্য অনেক শিল্প আগে আমদানি-নির্ভর ছিল। এই আমদানি-নির্ভরতা কাটাতে আমরা এসব শিল্প স্থাপন করি।
এলপি গ্যাসখাতে বাংলাদেশের প্রথম ও সর্ববৃহৎ বেসরকারি বিনিয়োগ বসুন্ধরা এলপি গ্যাস। এর পেছনে কাজ করেছে বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান সাহেবের দূরদৃষ্টি। আমরা শুরু করি ১৯৯৯ সালে। বিপিসির পরে আমরাই প্রথম বেসরকারি খাত যারা এলপি গ্যাসে বিনিয়োগ করে। চলতি বছরের শেষে আমরা এখন দ্বিতীয় প্ল্যান্ট শুরু করতে যাচ্ছি। এ প্ল্যান্ট উদ্বোধনের ফলে আমাদের উৎপাদন-ক্ষমতা এখনকার চেয়ে দ্বিগুণে রূপ নেবে।
বর্তমানে বাংলাদেশে এলপি গ্যাসের বাজার কী রকম?
আমাদের এ-খাতে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি আছে ৪০ শতাংশ। আগে উপশহর এলাকায় এলপি গ্যাসের প্রচলন বেশি ছিল। বসুন্ধরাই সর্বপ্রথম ছোট ছোট দোকানে এলপি গ্যাসের প্রচলন শুরু করে। আমরা তাদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছি যে এটি রান্নার অন্যতম অনুসঙ্গ। আমরা তাদের উপযোগী করে সিলিন্ডারে এলপি গ্যাস বিক্রি শুরু করি।
শুধু ব্যবসার জন্য আমরা এ খাতে এগিয়ে আসিনি। আমাদের একটি সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা রয়েছে। কারণ একটি দেশের পরিবেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখার জন্য ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের দেশে আছে মাত্র ৬ শতাংশ। যে কারণে আমাদের গাছ কেটে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ নেই। সরকারও এ-বিষয়ে এখন মনোযোগী হয়েছে।
আরেকটি বিষয় হচ্ছে, বর্তমানে এলপি গ্যাসের দাম অনেক কমে এসেছে। যদি কেউ লাকড়ি কিনে ব্যবহার করে তাহলে এলপি গ্যাসের চেয়ে বেশি খরচ পড়বে। তাই দিনে দিনে এ-খাতের বাজার বিস্তৃত হচ্ছে। প্রয়োজন বাড়ছে বলেই মানুষ এ গ্যাসের ওপর ঝুঁকে পড়ছে। আগামীতে এ-খাতের বাজার আরো বাড়বে বলে আমি বিশ্বাস করি।
বর্তমানে আবাসিক খাতে গ্যাস-সংযোগ বন্ধ করার ঘোষণা এসেছে। এটি এলপি গ্যাস খাতের ওপর কিভাবে প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন?
আবাসিক খাতে এলপি গ্যাস ব্যবহারের কিছু সুবিধা আছে। আবার অসুবিধাও আছে। কারণ বহুতল ভবনে গ্যাস-সংযোগ দিতে গেলে উঁচু জায়গায় গ্যাস নেয়া একটি চ্যালেঞ্জ। আমরাই সর্বপ্রথম এলপি গ্যাসের ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্ল্যান্ট করেছি। ইতিমধ্যে আমরা রাজউকের প্রকল্প ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনির কয়েকটি প্রকল্পে এ-ধরনের কাজে হাত দিয়েছি। আমরা সিলিন্ডার-ব্যাংক স্থাপন করেছি। এই ব্যাংক থেকে গ্যাস ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে। গ্যাস রিচার্জ করলেই হবে। এর জন্য আমরা ছোট ছোট পাঁচ টনের সিলিন্ডারবাহী ট্যাংকার কিনেছি। আবাসনখাতে এলপি গ্যাস ব্যবহার আমাদের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলে আমি মনে করি। এক্ষেত্রে সরকার আমাদের ব্যাপক সহযোগিতা করছে।

এলপি গ্যাসের দাম বেশি এমন একটি অভিযোগ শোনা যায়…
একসময় অন্য জ্বালানির চেয়ে এলপি গ্যাসের দাম বেশি ছিল। বর্তমানে বারো কেজির প্রতি সিলিন্ডার মাত্র ১,০০০ থেকে ১,১০০ টাকায় পাওয়া যায়। আগের চেয়ে সিলিন্ডার-প্রতি প্রায় ৫০০ টাকা কমে গেছে। এখন এটি অনেক সাশ্রয়ী ও ভোক্তাবান্ধব হয়েছে।
এলপি গ্যাসের নিরাপত্তা বিষয়টিও উল্লেখ করতে হয়। এটি বিস্ফোরণের ভয় আছে…
নিরাপত্তার বিষয়টি ভোক্তার ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে। সিলিন্ডারটি যথাযথভাবে সিল করা হয়েছে কিনা সেটি ভালো করে দেখতে হবে। বসুন্ধরার ওপর ভোক্তাদের আস্থা আছে। দেশে সিলিন্ডার টেস্ট করার একমাত্র প্রতিষ্ঠানটি আমাদের। এটি অন্য কোম্পানিও ব্যবহার করে। আমাদের এ কারখানাটি মংলায় অবস্থিত। আমাদের ভোক্তা-গৃহিনিদের প্রতি আমার অনুরোধ, ভালো কোম্পানির সিলিন্ডার ব্যবহার করুন। সিলিন্ডারের সিল-ক্যাপটি যথাযথভাবে আছে কিনা সেটি পরীক্ষা করে দেখবেন। আমরা এক্ষেত্রে হলোগ্রামিক স্টিকার ব্যবহার করি।
এলপি গ্যাস নিয়ে আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
ভবিষ্যতে বেশি পরিমাণ উৎপাদনে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে। এছাড়া আমরা এলপি গ্যাসের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে চাই। বেশি পরিমাণ উৎপাদন করা গেলে দামও কমে আসবে।
বাজেটে সরকারের কাছে কোনো প্রস্তাব রাখছেন আপনারা?
এ খাতের জন্য আমাদের কিছু কাঁচামাল আমদানি করতে হয়। এসব বিষয়ে শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দিয়েছি আমরা। আমরা জানি সরকার এ-খাতের প্রতি মনোযোগী। তাই এলপি গ্যাসকে জনগণের আরো কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকার উদ্যোগী হবে বলে মনে করছি।

0 2044

সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পরিবর্তন হচ্ছে মানুষের রুচি ও পছন্দ। দৈনন্দিন ব্যবহার্য সামগ্রী এবং উপকরণের এক নিটোল ছাপ জীবনকে যেমন করে তুলেছে উপভোগ্য, তেমনি জীবনের প্রতিটি রেখা আর বাঁকে রেখে চলেছে ছন্দের নিবিড় অনুরণন। সেটা হোক ঘর বা অফিসে, ফার্নিচার বা ইন্টেরিয়রে। ব্যস্ত এই সময়েও নিজের অফিস বা বাসাটি আরও একটু সুন্দর করতে কমতি রাখে না কেউ। যতটুকু সাধ্য তার মধ্যে থেকেই বিশেষ করে বাসা-বাড়ি বা অফিসের ফার্নিচার এবং ইন্টেরিয়র ডিজাইন এখন গৃহের সদস্য বা অফিসের কর্তার পছন্দমতোই করে দেওয়া সম্ভব।

গত কয়েক বছরে ইন্টেরিয়র ডিজাইন এবং ফার্নিচারে যে পরিবর্তন এসেছে, সেটাকে বৈপ্লবিক না বললেও বেশ ইতিবাচক হিসেবে বিবেচনা করাই যায়। বর্তমানে বাড়ি তৈরির পর বসবাসের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় দুটি অনুষঙ্গÑ ইন্টেরিয়র এবং ফার্নিচার প্রসঙ্গে কারিকার মুখোমুখি হলেন তারা দু’জন :

সেলিম এইচ রহমান
সভাপতি, বাংলাদেশ ফার্নিচার শিল্প মালিক সমিতি ও
ব্যবস্থাপনা পরিচালক, হাতিল
গত কয়েক বছরে ফার্নিচার শিল্পে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। সেটি ইতিবাচক এবং নেতিবাচকÑ দুই ক্ষেত্রেই। বসবাস এবং ঘর সাজানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি উপকরণ হলো ফার্নিচার। ফার্নিচার তৈরির উপকরণগুলোর মধ্যে ভিন্নতা আছে। অনেকেরই পছন্দ কাঠের তৈরি ফার্নিচার। এছাড়া অন্য উপকরণ দিয়ে তৈরির প্রবণতা বর্তমানে ফার্নিচার কোম্পানিগুলোর মধ্যে দেখা যাচ্ছে। অবশ্য উপকরণগুলোর ভিন্নতার জন্যও কাঠের ভিন্নতা হয়ে থাকে।

খাট, আলমিরা, ওয়্যারড্রোব, চেয়ার, টেবিল, ডাইনিং টেবিল, রিডিং টেবিল, শো-কেস, সোফা ইত্যাদির রঙ এবং আকারে ভিন্নতা আসছে। মানুষের আর্থিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে অনেক কোম্পানি ফার্নিচার তৈরি করে। তবে বর্তমানে খুব বেশি নকশার চেয়ে সাধারণ ডিজাইনের ফার্নিচারই মানুষের বেশি পছন্দ।

অফিস ফার্নিচারেও এসেছে নান্দনিক পরিবর্তন। একটা অফিস রুম অথবা পুরো অফিসকে শৈল্পিক রূপে কেন্দ্রীয়ভাবে ইন্টেরিয়র ডেকোরেট করাটাও ইদানীং বেশ চোখে পড়ছে।

ব্র্যান্ডেড প্রতিষ্ঠানের বাইরেও ফার্নিচার শিল্পে একটা উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে ব্যক্তি-উদ্যোগে গড়ে ওঠা ফার্নিচার মার্কেটগুলো। এই মার্কেটেরও রয়েছে বিশাল ক্রেতাগোষ্ঠী। বিশেষ করে মধ্যবিত্তের চাহিদা এই ব্যক্তি-উদ্যোগের মার্কেট ঘিরেই গড়ে উঠেছে। আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে পান্থপথে গড়ে ওঠে এই ফার্নিচার মার্কেট। যেখান থেকে স্বল্পমূল্যে গৃহ-আসবাব সংগ্রহ করা হতো। এখনও হয় এবং তা আরও ব্যাপক এবং বিস্তৃতভাবে।

ঢাকা শহরে এখন দেড় কোটিরও বেশি মানুষের বাস। ফলে ধীরে ধীরে ঢাকার চারপাশই ঝুঁকে পড়েছে নগরায়ণের দিকে। গড়ে উঠছে বাড়িঘর। আবাসন প্রকল্পও শহরের উপকণ্ঠের সীমানায় এসে দাঁড়িয়েছে। আর এর সুফলও পাচ্ছে আবাসন খাতের সঙ্গে জড়িত সবাই। আশা করি এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে এবং অন্যান্য শিল্পের মতো ফার্নিচার-শিল্পও এগিয়ে যাবে।

ওমর সোহেল
ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এনএক্স সিটি ডিজাইন অ্যান্ড ইন্টেরিয়র

এতদিন অনেকের মধ্যে একটি ধারণা ছিল এ রকমÑ একটি ঘর থাকবে আর থাকবে ঘুমানোর জন্য কোনো একটা উপকরণÑ তাহলেই তো হলো। ঘরের জন্য এত সাজের কী দরকার! কিন্তু ধারণাটি খুব দ্রুতই পরিবর্তন হচ্ছে। বর্তমানে অনেকেই প্রিয় ঘরটি সুন্দর করে সাজাতে চেষ্টার কমতি রাখে না। অনেকেই ভাবেন ঘরের ইন্টেরিয়র মানেই এক কাঁড়ি টাকা খরচ। কিন্তু না, মধ্যবিত্ত-উচ্চবিত্ত সবাই এখন চাইলে সাধ্যের মধ্যেই ইন্টেরিয়রের মাধ্যমে ঘরটি সাজিয়ে তুলতে পারেন।

চারদিকে আকাশ ছোঁয়া কংক্রিটের বাড়িঘর এবং প্রচ তাপদাহে মন চায় একটু সবুজের ছোঁয়া। বেড়িয়ে আসতে ইচ্ছে করে দূরে কোথাও। অথচ যদি সেই সবুজের ছোঁয়া পাওয়া যায় নিজের বাড়িতে অথবা শোয়ার ঘরের ভেতরেইÑ তাহলে তো কথাই নেই। আপনি চাইলে খুব সহজেই একটু বুদ্ধি ও চিন্তা খাটিয়ে গাছ দিয়ে সাজিয়ে তুলতে পারেন আপনার বাড়ির অন্দরমহলটি। তবে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে ঘরের আয়তন ও আকৃতির ওপর।

আয়তন ও আকৃতি অনুযায়ী গাছ দিয়ে সাজালে ঘরের শোভা পাল্টে যাবে। সাজানোর জন্য বেশি দামি আসবাবপত্রের প্রয়োজন হবে না। তাছাড়াও গাছ ঘর ঠা া রাখতে সহায়তা করে। তবে ফার্নিচারের সঙ্গে মিল রেখে গাছ নির্বাচন করতে হবে। শুধু শোবার ঘরই নয়, বর্তমানে ঘরের প্রতিটি রুমেই ইন্টেরিয়র করা হয়ে থাকে। মানুষের মধ্যে এখন সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন বাসা-অফিস সাজানোর জন্য ইন্টেরিয়র ডিজাইনের প্রতি ঝুঁকছে মানুষ।

কারিকা প্রতিবেদক

0 1046

প্রকৌশলী এস এম আবু সুফিয়ান
চেয়ারম্যান, চিটাগাং জোনাল স্ট্যান্ডিং কমিটি, রিহ্যাব

আবাসন খাতের বর্তমান অবস্থা, এ শিল্পকে কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায় তা নিয়ে কারিকার পক্ষ থেকে কথা হয় রিহ্যাব চিটাগাং জোনাল স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী এস এম আবু সুফিয়ানের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার ভূঁইয়া নজরুল

চট্টগ্রামে আবাসন শিল্পের রমরমা অবস্থা এখন ঠিক দৃশ্যমান নয়। গত কয়েক বছর ধরে এই খাতে যে ভাটা যাচ্ছে তা থেকে কবে উত্তরণ হতে পারে?
আবাসন খাত শুধু কোনো একটি বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল নয়। অনেকগুলো ফ্যাক্টর এখানে কাজ করে। এর মধ্যে প্রধানতম ফ্যাক্টর হলো টাকার প্রবাহ কমে যাওয়া। টাকার বিনিময় তথা সার্কুলেশন কমে যাওয়ায় এই খাত থমকে আছে। ব্যাংক সুদের হার বেড়ে যাওয়া, সরকার মাঝারি সাইজের ফ্ল্যাট কিনতে যে ঋণের সুযোগ দিয়েছিল, তা বন্ধ করে দেওয়া এবং পলিসিগত কিছু সিদ্ধান্তের কারণে এই শিল্পটি স্থবির হয়ে আছে। তবে এই শিল্প বন্ধ হবে না, মানুষের নিজের প্রয়োজনেই এই খাত টিকে থাকবে।

মানি সার্কুলেশন হচ্ছে না কেন?
মানি সার্কুলেশন না হওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ দেশে এখন বেসিক শিল্পে বিনিয়োগ হচ্ছে না। আর বিনিয়োগ না হওয়ায় রড, সিমেন্ট, গ্লাস, সিরামিকসহ প্রায় ৩০০টি লিংকেজ প্রতিষ্ঠান প্রায় অলস বসে আছে। আর সেসবের প্রভাব পড়ছে আবাসন খাতে। তাই সবার আগে বেসিক ইনভেস্ট বাড়াতে হবে।

এক সময় চট্টগ্রামে বড় আকারের ফ্ল্যাটের চাহিদা বেশি ছিল, এখন ডেভেলপাররা কোন ধরনের ফ্ল্যাট বেশি তৈরি করছে?
প্রথমদিকে আরাম-আয়েশের জন্য মানুষ ফ্ল্যাট কিনত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফ্ল্যাট এখন প্রয়োজনীয়তার পর্যায়ে চলে এসেছে। দাম ও প্রয়োজনের সমন্বয়ে এখন ১২০০ থেকে ১৫০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাটের চাহিদা বেশি। আর গ্রাহকদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে ডেভেলপাররাও এই ধরনের ফ্ল্যাট বেশি নির্মাণ করছে।

একসময় উচ্চবিত্তরা ফ্ল্যাট কিনত। বর্তমানে কোন ধরনের মানুষ ফ্ল্যাটের ক্রেতা।

হ্যাঁ, একসময় ব্যবসায়ী তথা উচ্চবিত্তরা ফ্ল্যাট কিনত, আর এই সংখ্যাটা ১০ থেকে ১৫ শতাংশ। তাছাড়া নগদ টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট কেনে মূলত প্রবাসীরা, তাদের সংখ্যাও ১৫ থেকে ২০ শতাংশের বেশি নয়। বিভিন্ন ব্যাংক ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে ফ্ল্যাট কেনার হার ১৫ থেকে ২০ শতাংশ। এই হিসাবে ৪০ থেকে ৫৫ শতাংশ ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে, বাকি ৬০ থেকে ৪৫ শতাংশ হলো সাধারণ ক্রেতা, যারা সারা জীবনের সঞ্চিত টাকার সঙ্গে ব্যাংক ঋণ নিয়ে ফ্ল্যাট কেনে। বিশাল এই অংশটি এখন ফ্ল্যাট কিনতে পারছে না অতিরিক্ত ব্যাংক সুদ ও টাকার অভাবে। সুদের হার কমিয়ে দিলেই মানুষ ফ্ল্যাট কিনতে আগ্রহী হতো। এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে একসময় ১২০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে কম সুদে ঋণ দেওয়ার একটি প্রকল্প ছিল, তা বন্ধ করে দেওয়ায়ও সাধারণ ক্রেতারা এখন ফ্ল্যাট কিনতে পারছে না।

অনেক কোম্পানি দ্বারা ক্রেতারা বিভিন্নভাবে প্রতারিত হচ্ছে। এজন্য ক্রেতারাও এখন যাচাই-বাছাই বেশি করছে এবং ফ্ল্যাট বেচা-কেনাতে ধীরতা আসছে বলে অনেকে মনে করেন। এ বিষয়ে আপনি কী মনে করেন?
কথাটি অমূলক নয়। রিয়েল এস্টেট কোম্পানি অনেক লাভজনক জেনে কয়েক বছর আগে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান গজিয়ে ওঠে। কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণার আশ্রয় নেয়। ফলে ক্রেতারা বিশ্বাস হারাচ্ছে এবং যাতে প্রতারিত না হতে হয়, তার জন্য যাচাই-বাছাই বেশি করছে।

এসব প্রতিষ্ঠান কি মনিটরিংয়ের আওতায় আনা উচিত নয়?
অবশ্যই সব প্রতিষ্ঠানকে নজরদারির আওতায় আনা উচিত। যেমনÑ যেসব প্রতিষ্ঠান রিহ্যাবের সদস্য, সেসব প্রতিষ্ঠান যদি কোনো ধরনের প্রতারণা করে, তাহলে তারা আমাদের কাছে অভিযোগ করতে পারে। ‘কাস্টমার সার্ভিস’ নামে আমাদের একটি সেল রয়েছে, সেই সেলের মাধ্যমে আমরা অভিযোগগুলো মীমাংসার চেষ্টা করি। আর বর্তমান রিয়েল এস্টেট আইনেও এই সেল অতিক্রম করে কোনো মামলা করা যাবে না। কিন্তু যেসব প্রতিষ্ঠান রিহ্যাবের সদস্য নয়, তাদের ক্ষেত্রে তো ক্রেতারা কারও কাছে যেতে পারবে না। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে আবাসন খাত। অবশ্য নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) এবং শহরের বাইরে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষকেই মনিটরিংয়ের দায়িত্ব নিতে হবে।

চট্টগ্রামকে এগিয়ে নিতে, নগরবাসীর আবাসন নিশ্চিত করতে এখন কী করা প্রয়োজন?
সরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে ব্যবসা করার মানসিকতা থেকে সরে এসে নিয়ন্ত্রণকারী ও মনিটরিং সংস্থা হিসেবে কাজ করতে হবে। সরকারি জায়গা উন্নয়নের জন্য দিয়ে দেওয়া হলে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানগুলো কম খরচে ফ্ল্যাট নির্মাণ করে কম মূল্যে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতে পারবে। এছাড়া সরকারের বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পে (অনন্যা, কল্পলোক প্রভৃতি) প্রয়োজনে বড় আয়তনের একটি জায়গা ডেভেলপারদের দেওয়া যেতে পারে। এতে ডেভেলপাররা নগরবাসীর কাছে কম মূল্যে ফ্ল্যাট দিতে পারবে।

0 755

ড. আকতার মাহমুদ বর্তমানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সুইডেনের ‘দি রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি’ থেকে স্নাতকোত্তর ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। নগর পরিকল্পনা বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করে যাচ্ছেন। তার গবেষণা-প্রবন্ধ দেশি-বিদেশি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে ‘ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড’ প্রণয়ন প্রকল্পের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সকে প্রতিনিধিত্ব করছেন। সাক্ষাৎকার ম. শাফিউল আল ইমরান

দেশের সামগ্রিক সমৃদ্ধি ও উন্নয়নে নগর পরিকল্পনার গুরুত্ব কতটুকু?
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং নগরায়ণের মধ্যে একটা পজিটিভ বা ধনাত্মক স¤পর্ক রয়েছে। নগরকেন্দ্রগুলো বর্তমানে দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। বাংলাদেশের মোট নগরায়ণ ২৫ ভাগ হলেও দেশের জিডিপিতে অবদান ৪৫ ভাগ। সমীক্ষা থেকে দেখা যায়, ২০৫০-এর মধ্যে বাংলাদেশের ৫০ ভাগ মানুষ নগরে বসবাস করবে। সেজন্য নগরগুলো কি প্রস্তুত আছে? অদক্ষ নগর-ব্যবস্থাপনা সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে মন্থর করে দেবে। বাংলাদেশের ২০২১ সালের লক্ষ্য অর্জন এবং মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করতে দেশের নগরকেন্দ্রগুলোর পরিকল্পিত সুষম ও যথার্থ ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই।

বাংলাদেশে নগর-পরিকল্পনার অর্জন কী কী?
বাংলাদেশে নগর-পরিকল্পনা পেশা নতুুন হলেও গত ৬০-এর দশকে বিদেশি উপদেষ্টা নিয়োগ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী শহরের জন্য মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হয়েছে। সেসব প্রস্তাবনার কিছু বাস্তবায়ন করা হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে ব্যতয় ঘটিয়ে শহরের উন্নয়ন করা হয়েছে। সেই বিচারে পরিকল্পনাগুলোর অর্জন ও ব্যর্থতা দুটোই দেখতে পাই। আশির দশকে এসে নগর উন্নয়ন অধিদফতরের অধীনে দেশের অনেক জেলা শহর ও উপজেলার মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।

ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী শহরের পূর্ববর্তী পরিকল্পনার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে শহরগুলোর নতুন করে আবার মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়। বর্তমানে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের অধীনে ২২৩টি উপজেলা ও ২৪টি জেলা শহরের মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলছে। দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন সময়ে শহরের পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হলেও সেগুলো যতœসহকারে বাস্তবায়ন করা হয়নি। তার প্রধান কারণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে উদ্যোগ গ্রহণ না করা এবং উন্নয়ন কর্তৃপক্ষগুলো ও পৌরসভাগুলোর আর্থিক সক্ষমতার অভাব। এছাড়া দক্ষ জনবলের অভাবও বিশেষভাবে উল্লেখ করা যেতে পারে।

বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে নগর-পরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তবায়নের প্রতিবন্ধকতা বা সমস্যা কোথায়?
বাংলাদেশে নগরায়ণের হার যেমন বেশি, তেমনি নগরগুলোর জনসংখ্যার ঘনত্বও অত্যাধিক বেশি। তাই শহরে জমি অধিগ্রহণ করে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন। পরিকল্পনা অনুযায়ী উন্নয়ন করা যায় না। উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ করতে সংস্থাগুলোর ব্যর্থতাও আছে। ফলে শহরগুলো পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ছাড়া অনিয়ন্ত্রিত ও অপরিকল্পিতভাবে বড় হচ্ছে।

পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আরেকটি প্রতিবন্ধকতা হলো উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোতে উপযুক্ত লোকবলের অভাব। পর্যাপ্ত সংখ্যক পরিকল্পনাবিদের অভাবে শহরের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে শহরের সামগ্রিক পরিকল্পনাকে না মেনে ব্যক্তিগত লাভের আশায়ও অনেকেই পরিকল্পনার ব্যতয় করে উন্নয়ন করে।

পরিকল্পিত নগরায়ণ ও আবাসন শিল্পের মধ্যে স¤পর্ক কোথায়?
আবাসন পরিকল্পিত নগরায়ণের খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শহরের মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের সময়ও ভবিষ্যতের সম্ভাব্য জনসংখ্যা বিচার করে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কথা বিবেচনায় রেখে আবাসনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

আবাসন প্রদান প্রক্রিয়া (ঐড়ঁংরহম উবষরাবৎু ঝুংঃবস) কী হবে? পুরোপুরি সরকারি নিয়ন্ত্রণ থাকবে? এই খাতে বেসরকারি সংস্থাগুলোর আবাসন প্রদানের ক্ষেত্রে কোন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করবে, কোন কোন শর্তসাপেক্ষে অংশগ্রহণ করবে তা পরিষ্কার থাকতে হবে। বিশ্বের বর্তমান বাস্তবতায় আবাসন সেক্টরে বেসরকারি অংশগ্রহণ জরুরি। ১৯৯৩ সালে প্রণীত জাতীয় গৃহায়ণ নীতিমালার কোনো বাস্তব প্রয়োগ দেখা যায় না। জাতীয় গৃহায়ণ নীতিমালার বাস্তবায়নের জন্য সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোর যৌথভাবে কাজ করা প্রয়োজন। ভালোমানের আবাসন প্রদান এত বড় এবং আর্থিকভাবে ব্যয়সাপেক্ষ যে, সরকারের পক্ষে তা করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাই শহরের মাস্টারপ্ল্যানের গুরুত্বপূর্ণ এই আবাসন-পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য নির্মাণ পর্যায়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা প্রয়োজন।

আবাসন সমস্যা সমাধানে পরিকল্পিত উপায়ে আবাসন খাতের উন্নয়নে সরকারের করণীয় কী?
এই খাতের সমস্যা সমাধানে সরকরের মোটাদাগে ৩টি বিষয় করণীয় আছে

১. জাতীয় আবাসন নীতিমালার আলোকে গ্রাম-শহরসহ সমগ্র দেশে আবাসন সমস্যা সমাধানে দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ।
২. মাস্টারপ্ল্যানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘আবাসন পরিকল্পনা’ সরকারিভাবে করা এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য বেসরকারি আবাসন সংস্থাগুলোকে স¤পৃক্ত করে পরিকল্পিত সময়ের মধ্যে শেষ করা। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এক্ষেত্রে শুধু নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা হিসেবে কাজ করবে।
৩. আবাসন ক্ষেত্রে এখনও এ দেশে আর্থিক ঋণ প্রদান অপ্রতুল ও জটিল, সুদের হার উচ্চ এবং কঠিন শর্তসাপেক্ষ। অর্থায়নের এসব সমস্যা সমাধান না করা হলে নগর ও গ্রামে আবাসন সমস্যা সমাধান করা যাবে না।

বাংলাদেশে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নগরায়ণের রূপরেখা স¤পর্কে আপনার মতামত কী?
আশার কথা এই যে, দেশের ২২৩টি উপজেলাভিত্তিক পৌরসভা এবং ২৪টি জেলাভিত্তিক পৌরসভার মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলছে স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল বিভাগের মাধ্যমে। এছাড়া নগর উন্নয়ন অধিদফতরও এ মুহূর্তে বেশকিছু জেলা ও উপজেলা শহরের পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ করছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা মহানগরের জন্য মহাপরিকল্পনা আছে। এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো এই মাস্টারপ্ল্যানগুলোর প্রস্তাবনাগুলোর বাস্তবায়ন।

ভবিষ্যতের বাংলাদেশের নগরায়ণের জন্য জাতীয় পর্যায়ের ৩টি নীতিমালা খুব প্রয়োজন

১. জাতীয় ভূমি ব্যবহার নীতিমালা : সমগ্র বাংলাদেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব এত বেশি যে, অনেক দেশে শহরেও এত ঘনত্ব দেখা যায় না। এ দেশের প্রতি ইঞ্চি জমি অনেক মূল্যবান এবং এর সঠিকভাবে পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যবহার করা প্রয়োজন। সে কারণে সমগ্র দেশের ভূমি ব্যবহার নীতিমালা প্রয়োজন এবং সেই আলোকে সমগ্র দেশের ভৌত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হলে দেশের নগর উন্নয়নের পাশাপাশি কৃষি জমি, বনভূমি ও অন্যান্য প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

২. জাতীয় নগরায়ণ নীতিমালা : দেশের পাঁচ শতাধিক নগরকেন্দ্র আছে যার বিভাগীয় ও জেলা শহর ছাড়াও ৩১৭টি পৌরসভা ও উপজেলা শহর। দেশের সুষম নগর উন্নয়নের জন্য একটি জাতীয় নগরায়ণ নীতিমালার খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে, যা সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায়। ৩. জাতীয় গৃহায়ণ নীতিমালা : গ্রাম ও শহর নির্বিশেষে আবাসন সমস্যা একটি বিরাট সমস্যা। এখনও এদেশে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো আবাসন বলতে কিছু ‘সাইট অ্যান্ড সার্ভিসেস স্কিম’-এর মাধ্যমে ধনী ও উচ্চ-মধ্যবিত্তের মানুষদের মধ্যে প্লট বিতরণকে বুঝে থাকে। ফলে ধানম-ি, বনানী, গুলশান, উত্তরার মতো আবাসিক এলাকা তৈরি হলেও মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের জন্য আবাসন একটি বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। তাই জাতীয় গৃহায়ণ নীতিমালার আলোকে সারাদেশে মানুষের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করা জরুরি।

ড. আকতার মাহমুদ

চতুর্থবারের মতো চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান মনোনীত হয়েছেন দেশের অন্যতম শিল্প প্রতিষ্ঠান ওয়েল গ্র“পের কর্ণধার ও মহানগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আবদুচ ছালাম। ২০০৯ সালের ২২ এপ্রিল সিডিএ’র প্রধান হিসেবে তিনি নিয়োগ পান। এ নিয়ে টানা ছয় বছর চট্টগ্রাম উন্নয়নের দায়িত্বে থাকছেন আবদুচ ছালাম। নতুন করে দায়িত্ব পাওয়ার পর কারিকার পক্ষ থেকে কথা হয় তাঁর সঙ্গে-

পরপর চার দফা সিডিএ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেলেন। প্রকৌশলী বা নগর পরিকল্পনাবিদ না হয়েও রাজনৈতিক বিবেচনায় বার বার এই দায়িত্ব পাওয়াকে কীভাবে দেখছেন?
উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার মাধ্যমে চট্টগ্রামের উন্নয়নের কাজ করাতে চেয়েছেন, আমি তা করার চেষ্টা করেছি। আর তা করতে গিয়ে সিডিএ চেয়ারম্যানের পদটিকে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি আকর্ষণীয় ও লোভনীয় করা হয়েছে। আগে এই চেয়ারের কী কাজ তা নগরবাসী জানত না। কিন্তু গত পাঁচ বছরে যে পরিমাণ উন্নয়ন কাজ হয়েছে, তাতে সিডিএ’র কাজ সম্পর্কে নগরবাসী জানতে পেরেছে। আর প্রধানমন্ত্রী হয়তো আমাকে দিয়ে চট্টগ্রামের উন্নয়নের আরো কাজ করাতে চাইছেন, তাই আবারো আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন।

কিন্তু আপনি ২০০৯ সালের ২২ এপ্রিল প্রথম সিডিএ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে পাঁচ বছরে চট্টগ্রামের নতুন সংযোজন কী কী?
পাঁচ বছর আগে প্রথম যেদিন সিডিএ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিই, সেদিন ঘোষণা করেছিলাম ‘সিডিএ ইজ ফর চিটাগাং’, এই স্লোগান ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই স্লোগান নিয়ে চট্টগ্রামের উন্নয়ন করে যাচ্ছি। আর পাঁচ বছর আগের চট্টগ্রাম ও এখানকার চট্টগ্রামের পার্থক্যের ভার আমি নগরবাসীর ওপর ছেড়ে দিয়েছি। তারাই বিচার করবে কী উন্নয়ন হয়েছে, আর কী হয়নি।

এই দীর্ঘ সময়ে আপনি উল্লেখযোগ্য কী কী উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন?
সিডিএ সরকারের ভিশন ২০২০ স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করেছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। বিগত সময়ে কেউ কখনো দেওয়ানহাট থেকে অলঙ্কার মোড় পর্যন্ত ঢাকা ট্রাঙ্ক রোডটি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিতে পারেনি, আমি শুধু উদ্যোগই নেইনি, বাস্তবায়নও করেছি। ঢাকা ট্রাঙ্ক রোড ছাড়াও কমার্স কলেজ রোড, কার্পাসগোলা রোড, চট্টগ্রাম কলেজ রোড, পাঠানটুলী রোডগুলো সম্প্রসারণ করা ছিল দুঃসাহসিক কাজ। রাস্তার উভয়পাশের জায়গার মালিকদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছি, সড়কটি সম্প্রসারণ করা চট্টগ্রামের জন্য প্রয়োজন। জায়গার মালিকরা আমার কথা বুঝতে পেরে চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য জায়গা ছেড়ে দিয়েছে এবং আমি এসব রোড সম্প্রসারণ করতে পেরেছি।
এসব উন্নয়ন প্রকল্প ছাড়াও বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজ শুরু ও শেষ করতে পেরেছি, করা হয়েছে দেওয়ানহাট ফ্লাইওভার ও সমাপ্তের পথে রয়েছে কদমতলী ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজ। এছাড়া আরো অনেক উন্নয়ন প্রকল্পও বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী আপনি আর কী কী প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চান?
চট্টগ্রামের উন্নয়নে আমি আরো কিছু প্রকল্প একনেক থেকে অনুমোদন নিয়েছি। এসব প্রকল্পের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোÑ মুরাদপুর থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত ৫ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভার, ডিটি ও বায়েজীদ সংযোগ সড়ক, আউটার রিং রোডের আওতায় পতেঙ্গার নেভাল একাডেমি থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত উপকূলীয় বেড়িবাঁধ কাম চার লেন সড়ক নির্মাণ। এসব উন্নয়ন প্রকল্প মাঠপর্যায়ে শুরুর অপেক্ষায় রয়েছে। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই এসব প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে যাবে।

তবে আরো দুটি মেগা প্রকল্প রয়েছে, একটি হলোÑ কর্ণফুলী সেতু থেকে ফিরিঙ্গীবাজার, সদরঘাট, বারিক বিল্ডিং, ইপিজেড হয়ে বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ। অপরটি হলো কর্ণফুলীর তলদেশ দিয়ে টানেল নির্মাণ। এই দুটি প্রকল্প একনেক থেকে অনুমোদন নিয়ে কাজ শুরু করা গেলে চট্টগ্রাম আরো ৫০ বছর এগিয়ে যাবে।
বিগত ৫ বছরে আপনি শুধু চট্টগ্রামের রাস্তাঘাট নির্মাণ ও সম্প্রসারণ কিংবা ফ্লাইওভার নির্মাণ অর্থাৎ যাতায়াত ব্যবস্থার দিকে বেশি নজর দিয়েছেন। নতুনভাবে দায়িত্ব পেয়ে কোনদিকে বেশি নজর দেবেন?
এবার প্রধান কাজ হচ্ছে চট্টগ্রামের জন্য মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন। আগামী বছর শেষ হচ্ছে ২০ বছর মেয়াদি মাস্টারপ্ল্যানের মেয়াদ। ২০১৫ সালে এই মাস্টারপ্ল্যানের মেয়াদ শেষ হতেই যাতে নতুন মাস্টারপ্ল্যানের নির্দেশনা অনুযায়ী সিডিএ তথা চট্টগ্রাম এগিয়ে যেতে পারে সেজন্য কাজ করব।

নতুন মাস্টারপ্ল্যান তৈরিতে কীভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন?
নতুন মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নে ইতিমধ্যে একটি ওয়ার্ডের নাগরিকদের মতামত নেয়া হয়েছে। কমিটি গঠনের মাধ্যমে আমরা তাদের কাছ থেকে প্রস্তাব সংগ্রহ করছি। এমনিভাবে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ড থেকে মতামত নেওয়া হবে। আগে কখনো মাঠপর্যায়ে বসবাসকারীদের অর্থাৎ যাদের জন্য এই প্ল্যান তাদের কোনো মতামত নেওয়া হতো না। এবার তাদের মতামতের পাশাপাশি পরিকল্পনাবিদদের সুপারিশের সমন্বয়ে তৈরি হবে মাস্টারপ্ল্যান।

চট্টগ্রামের পরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য কী ক্র্যাশ প্রোগ্রাম নিচ্ছেন?
রাস্তার জন্য জায়গা ছাড়ার কথা বলে সিডিএতে আন্ডারটেকেন দিয়ে ভবন নির্মাণ করে যারা জায়গা ছাড়েনি, তাদের ভবনের বর্ধিতাংশ ভাঙার মাধ্যমে সড়কটিকে চওড়া করতে কাজ শুরু করেছে সিডিএ’র ভিজিল্যান্স টিম। এর মাধ্যমে সড়কগুলো চওড়া হবে, যানজট কমবে।
এছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্যও নেওয়া হচ্ছে বিশেষ পরিকল্পনা।
ডেভেলপারদের আগে ক্রেতাদের স্বার্থ দেখতে হবে
-প্রকৌশলী এসএম আনোয়ার হোসেন
দেশের খ্যাতনামা রিয়েল এস্টেট কোম্পানি অ্যাডভান্সড ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজিস-এর চেয়ারম্যান প্রকৌশলী এসএম আনোয়ার হোসেন দায়িত্ব পালন করেন ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ ফেডারেশন অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের প্রেসিডেন্টের। দুই মেয়াদে ছিলেন ব্রিটিশ-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের রিজিওনাল প্রেসিডেন্ট। দেশের আবাসন খাতের সমস্যা-সম্ভাবনা ও নিজের প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে কথা বলেন কারিকার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার সোহরাব শান্ত
দেশের কোনো আবাসন প্রতিষ্ঠান হিসেবে আপনারাই প্রথম ‘টেকনোলজি’ শব্দটা ব্যবহার করেছেন…
একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে আমি জানি, বর্তমান পৃথিবীটা জ্ঞান, বুদ্ধি ও প্রযুক্তি (টেকনোলজি) নির্ভর। ব্যবসা শুরুর আগে আমার মনে হয়েছিল, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশে যদি প্রযুক্তিনির্ভর কোনো উদ্যোগ নিতে পারি তবে মঙ্গলজনক। প্রতিষ্ঠানের নাম নির্বাচনের ক্ষেত্রে এ বিষয়টাই মাথায় ছিল। সমসাময়িক দুনিয়ায় প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন কর্মকা-ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরা কাজ করার চেষ্টা করি।

এ সেক্টরে ব্যবসার আগ্রহটা কীভাবে তৈরি হলো। চ্যালেঞ্জটাইবা নিলেন কেন?
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করার পর বছর দুয়েক কনসালট্যান্ট ডিজাইনার হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছি। তারপর সরকারি চাকরি করেছি প্রায় সাড়ে চার বছর। তখন মনে হয়েছে, সেখানে মনের মতো করে কাজ করা কঠিন। তাই চাকরি ছেড়ে কয়েক বছর বিদেশে কাজ করেছি। ৮-১০ বছর পর, ১৯৮৫ সালের দিকে দেশে ফিরে আসি। সরকারি চাকরি এবং বিদেশের কাজের অভিজ্ঞতার আলোকে এবং উপার্জিত টাকায় দেশেই ভিন্ন কিছু করার তাগিদেই ১৯৯৪ সালের দিকে ব্যবসা শুরু করি।

আপনি যখন ব্যবসা শুরু করেছিলেন তখনকার অবস্থা আর বর্তমান অবস্থার মধ্যে কী পার্থক্য দেখছেন?
রিয়েল এস্টেট বলতে আমরা সাধারণত ধারণা করি, রাজধানী ঢাকা বা চট্টগ্রাম, খুলনার মতো বড় বিভাগীয় শহরে একটা-দুটা বিল্ডিং করে ফেললাম, বড় কমার্শিয়াল বিল্ডিং বানিয়ে ফেললাম আর রিয়েল এস্টেট হয়ে গেল। ব্যাপারটা মোটেও সে রকম নয়। সারা বিশ্বেই রিয়েল এস্টেট মানে সাধারণ মানুষের জন্য পরিকল্পিত বাসস্থান-ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। এ জায়গাটায় আরো অনেক কাজ করতে হবে। প্রযুক্তির দিক দিয়েও আমরা এখনো অনেকাংশেই পুরনোকে আঁকড়ে ধরে আছি। সারা বিশ্বেই এখন বিল্ডিং মানে ইনসুলেটেড ম্যাটেরিয়াল, নতুন নতুন প্রযুক্তির সমাহার। অপরদিকে পেশাদারিত্বের অভাবের পাশাপাশিও এক্ষেত্রে সরকারের কিছু নীতিমালার প্রভাবও আছে। আবাসন অন্যতম মৌলিক অধিকার হওয়া সত্ত্বেও এ খাতে নানা সরকারি সুবিধা বা ভর্তুকি অলিখিতভাবে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। সবমিলিয়ে পুরো সেক্টরটাই যেন অস্থিরতায় ডুবে আছে।

সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা যতটুকু আছে, তা এ সেক্টরে কতটুকু কার্যকরী বলে মনে করেন? এছাড়া সার্বিক উন্নয়নে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত?
অনেক সীমাবদ্ধতা নিয়ে আমাদের কাজ করতে হয়। জিডিপিতে বড় অবদান রাখা সত্ত্বেও এ খাতে সুবিধা কম দেওয়া হয়। ব্যাংকঋণে সুদের হার বেশি। যা প্রকারান্তরে ক্রেতার ঘাড়েই পড়ে। উন্নয়নের সঙ্গে অনেক বিষয় জড়িত, যেমন- ইমপোর্ট পলিসি, ব্যাংকিং পলিসি, ফিন্যান্সিয়াল পলিসি ইত্যাদি। একটা নতুন প্রযুক্তির মেশিন আনতে গেলে অতিমাত্রায় করসহ নানা জটিলতায় পড়তে হয়। এ খাতের উন্নয়নের জন্য ডেভেলপারদের স্বার্থের আগে ক্রেতাদের স্বার্থ দেখতে হবে। অনেক কষ্টে টাকা জমিয়ে হয়তো একজন একটা অ্যাপার্টমেন্ট কিনছেন। ৫০ লাখ টাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে লাগে দশ লাখ টাকা। আমাদের দেশে ক্রেতাকে সবমিলিয়ে অন্তত ১৪ শতাংশ কর দিয়ে অ্যাপার্টমেন্ট কিনতে হয়। সেকেন্ডারি সেলের ক্ষেত্রেও নতুন ক্রেতাকে আবার সমপরিমাণ ট্যাক্স দিতে হয়। যেটা পৃথিবীর আর কোথাও নেই। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ইত্যাদি দেশে ক্রেতার ট্যাক্স এক থেকে আড়াই শতাংশ। এটা কমানো উচিত। ক্রেতার ব্যাংকঋণের সুদের হার বেশি। সরকারের উচিত এটা এক ডিজিটে নামিয়ে আনা। দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজের সুযোগ দিতে হবে। কিছুদিন আগে মালয়েশিয়ার একটি কোম্পানিকে ডেভেলপমেন্টের জন্য কয়েক একর জমি দেওয়া হলো। অথচ এটা আমাদের দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া যেত। সরকারের অনেক খাসজমি পড়ে আছে। এগুলোকেও উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ দিতে পারে।

প্লট/ফ্ল্যাট বুকিং দেওয়ার পর ক্রেতাকে সময়মতো বুঝিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে নানা ঝামেলার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টাকে কীভাবে দেখছেন?
ইঞ্জিনিয়ারিং দক্ষতা, কোয়ালিটি কন্ট্রোল করা, ম্যানেজিং দক্ষতা, সময়মতো ইম্পি­মেন্ট করা, ক্লোজ মনিটরিং করা ইত্যাদি ক্ষেত্রে আমাদের দেশের ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো ততটা পরিপূর্ণ না। আরেকটা বিষয় হচ্ছে, আমাদের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের লোকজন যতটা না ‘ম্যান’ (মানুষ) তারচেয়ে বেশি ‘বিজনেসম্যান’ অর্থাৎ ব্যবসায়ী মনোভাবের অধিকারী। শুধু রিয়েল এস্টেট না, আমাদের দেশে প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই এটা একটা বড় সমস্যা। সবার আগে আমাদের ম্যান হওয়া উচিত, তারপর বিজনেসম্যান। তাহলেই সমস্যা অনেক কমে যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

ইপিএস প্রযুক্তি নিয়ে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছেন আপনারা। এ নিয়ে পরিকল্পনা কী?
ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ ফেডারেশন অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমাকে ব্রাসেলসে নিয়মিত সভা-সেমিনারে অংশ নিতে হতো। পাশাপাশি ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড ইত্যাদি দেশে গিয়েছি। আমাদের দেশের মতো ইট-সুরকির বাড়ির ধারণা থেকে তারা সরে এসে নতুন নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। নেদারল্যান্ডসে আমি দেখেছি, খুব অল্প সময়ে এবং অল্প খরচে ইপিএস প্রযুক্তিতে টেকসই বাড়ি তৈরি হয়েছে। মাত্র সাড়ে ৯ মিনিটে একটি দুই রুমের বাড়ি বানানোর দৃশ্য নিজ চোখে দেখেছি। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এটি বেশ সময়োপযোগী ভেবেই এই প্রযুক্তি বাংলাদেশে নিয়ে এসেছি। বেশ সাড়াও পাচ্ছি। আমি মনে করি, এই প্রযুক্তির ব্যবহারে বাংলাদেশে সহজে আবাসন সমস্যা মেটানো সম্ভব।

সামনে এ রকম নতুন কোনো প্রযুক্তি নিয়ে আসার পরিকল্পনা আছে কি না?
ইটের বিকল্প হিসেবে কংক্রিট-বেজড নতুন প্রোডাক্ট তৈরির জন্য আমরা আশুলিয়ায় একটা কারখানা স্থাপন করেছি। ইতোমধ্যে জার্মানি থেকে ব্যয়বহুল মেশিন নিয়ে এসেছি। কংক্রিটের যেকোনো পণ্য যেমন- ইট, টাইলস, ছাদের অংশ, ব্লক, পাইপ ইত্যাদি এই মেশিনে তৈরি হবে। এখন পর্যন্ত ভারতীয় উপমহাদেশের অন্য কোনো দেশে এমন কারখানা নেই। আশা করি, অন্তত দুই-তিনশো ইটভাটার সমপরিমাণ সাপ্লাই আমরা একাই করতে পারব।

বর্তমানে অনেক তরুণ-তরুণী উচ্চশিক্ষা নিয়ে বের হচ্ছে। এ সেক্টরে তাদের কর্মসংস্থানের কতটুকু সুযোগ আছে?
মেধাবী অনেক ছেলেমেয়ে দেশ ও দেশের বাইরে থেকে সুনামের সঙ্গে ডিগ্রি নিয়ে আসছেন। তারা চমৎকার সব ডিজাইনও করছেন। ১০-১২ বছর আগেও এমন ডিজাইন খুব কম হতো। এছাড়া এই সেক্টরে প্রশাসনিক থেকে শুরু করে মার্কেটিংয়ের মতো সাধারণ পদগুলোতেও প্রচুর মেধাবী ছেলেমেয়ে আসছে। তারা ভালো করছে। বর্তমানে প্রায় তিরিশ লাখ ছেলেমেয়ে আবাসন খাতে কাজ করছে। ভবিষ্যতে এই সুযোগ আরো বাড়বে।

আবদুচ ছালাম