Home মূল কাগজ নগরোদ্যান

কারিকা প্রতিবেদকঃ


১৯০৯ সাল। ঢাকা তখন রাজধানী, নতুন প্রদেশ পূর্ববঙ্গের। বিচিত্র গাছপালায় সুশোভিত করতে হবে ঢাকার পথঘাট, উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ। এই গুরুদায়িত্ব নিয়েই তখন ঢাকায় আসেন লন্ডনের কিউ বোটানিক গার্ডেনের অন্যতম কর্মী রবার্ট লুইস প্রাউডলক। বলধার প্রকৃতিপ্রেমিক জমিদার নরেন্দ্রনারায়ণ রায়ও ঠিক একই সময়েই শুরু করেন তাঁর অমর সৃষ্টি ‘সাইকি’ বাগানের কাজ। নিজেই ছিলেন সাইকির স্থপতি, শিল্পী ও বিশেষজ্ঞ। সাইকি ছিলেন গ্রিক পৌরাণিক উপাখ্যানের প্রেমের দেবতা ‘কিউপিডের’ পরমা সুন্দরী স্ত্রীর নাম। সাইকি মানে আত্মা, যা দেবরাজ ‘জুপিটার’ কর্তৃক অমরত্ব লাভ করেছিল। নরেন্দ্রনারায়ণ রায় প্রায় ২৭ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে ১৯৩৬ সালে সাইকি বাগানের কাজ শেষ করেন। তারপর সিবিলিও গড়ে তোলেন। কিন্তু বৃক্ষপ্রেমী এই জমিদারের মৃত্যুর পর থেকেই বাগানটির ক্রান্তিকাল শুরু হয়। প্রায় ১০০ বছরের ব্যবধানে ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে থাকে বাগানটির জৌলুস আর কমতে থাকে বাগানের সমৃদ্ধ উদ্ভিদপ্রজাতির সংগ্রহ।

আমরা জানি, নানা কারণে আজ বলধা গার্ডেন বিপন্ন। অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং অযত্ন -অবহেলা ও অদূরদর্শিতা এ বাগানের দুস্প্রপ্য উদ্ভিদগুলো হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। ইতোমধ্যেই অনেক দুর্লভ বৃক্ষ হারিয়ে গেছে। গত কয়েক বছরে এই সংখ্যা আরও অনেক বেড়েছে। দেশের প্রকৃতিপ্রেমিক লেখক ও বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে বলধা গার্ডেন সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে আসছে। গুরুত্বপূর্ণ এই বাগানের চারপাশে অনেক সুউচ্চ স্থাপনা তৈরি হওয়ায় সেখানকার উদ্ভিদবৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। পাশাপাশি বর্ষায় সুয়ারেজের উপচেপড়া ময়লা পানিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারণেও প্রতি বছর অনেক গাছপালার মৃত্যু হচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে এখানকার বিলুপ্ত গাছের তালিকা প্রতিনিয়তই দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অচিরেই এই বাগান ধ্বংস হবে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
দেশের উদ্ভিদবিজ্ঞানী ও নিসর্গীদের মতে, মূল গাছগুলো অক্ষত রেখে এবং বর্তমান বাগানকে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করে চারাকলমের মাধ্যমে বাগানের গাছগুলো অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে বলধা গার্ডেনের আদলে আরেকটি বাগান তৈরি করা উচিত। তাহলে বাগানটি নিশ্চিত বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা পাবে। হারিয়ে যাবে না বাগানের দুস্প্রাপ্য গাছগুলো।
আমরা মনে করি, দেশের কোনো সুবিধাজনক স্থানে এ বাগানের সব উদ্ভিদপ্রজাতি নিয়ে হুবহু আরেকটি বাগান তৈরি করে দেশের শত বছরের ঐহিত্য এই বাগানটি রক্ষা করা সম্ভব। এজন্য উপযুক্ত স্থান হতে পারে ঢাকার অদূরে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান বা সংলগ্ন এলাকা। সেখানে বলধা বাগানের জন্য পরিমাণমতো জায়গা নিয়ে বিদ্যমান নকশায় সৃজন করা যায় আরেকটি নতুন বলধা গার্ডেন। এর জন্য প্রয়োজন হবে একটি বিশেষ নার্সারি এবং কয়েকজন সুদক্ষ মালি। তবে খেয়াল রাখতে হবে কোনোভাবেই যেন উদ্যানের পুরনো নকশার বিকৃতি না ঘটে, আদি উদ্যানও অবহেলার শিকার না হয়। কারণ সংরক্ষণের নামে বাগানের নাম ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পরিবর্তন বাঞ্ছনীয় নয়।

বলধা গার্ডেনের বর্তমান হতশ্রী রূপ দেখে খুব সহজেই অনুমান করা যায়, বাগানটি লোকবল ও অর্থ সঙ্কটে ভুগছে। বাগানের সর্বত্র অযত্নের ছাপ। সংরক্ষিত সাইকি অংশের পরিস্থিতিও বেশ নাজুক। স্বল্প সংখ্যক মালি নিয়ে শুধু গাছগুলো বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে। চারপাশের উঁচু দালানে প্রায় ঢাকা পড়েছে বাগানটি। দিনের আলোয়ও পেছনের দিকটা বেশ অন্ধকার। সিবিলি অংশে সারাদিনই দর্শনার্থীদের ভিড়। এই দর্শনার্থীরা মূলত অন্য মতলবে এখানে আসেন। অপ্রয়োজনীয় মানুষের বিক্ষিপ্ত পদচারণা বাগানের গাছগুলোকে বিপন্নতর করে তুলছে। প্রশ্ন হলো, বলধা গার্ডেনের মতো এমন স্পর্শকাতর একটি স্থাপনা কেন টিকিটের বিনিময়ে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হলো! তবুও যারা এখানে বেড়াতে আসেন তারা যদি সত্যিকার অর্থে বৃক্ষের সমঝদার হতেন তাহলে কোনো প্রশ্ন ছিল না। উপরন্তু নিত্যদিনের এই অনিয়ন্ত্রিত জনস্রোত উদ্যানের বিপন্ন গাছগুলোর মৃত্যুকেই শুধু ত্বরান্বিত করছে। এই বাগানের অর্জিত অর্থ ছাড়া কি বন বিভাগের চলছিল না? আবার এখানকার অর্জিত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হলেও বাগান রক্ষণাবেক্ষণে তার সিকিভাগও ব্যয় হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা অচিরেই এসব আত্মঘাতী কাজের সমাপ্তি ঘটবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাগানটি বাঁচিয়ে রাখতে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
বিকল্প বলধা গার্ডেন প্রতিষ্ঠায় সরকারি এবং বেসরকারি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে বিষয় সংশ্লিষ্ট গবেষক এবং বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হলে কাঙ্ক্ষিত সফলতা আসবে বলে মনে করি।

বাগানের উল্লেখযোগ্য সংগ্রহঃ 
বলধা গার্ডেনের সর্বমোট আয়তন শূন্য দশমিক ১ হেক্টর হলেও সাইকি অংশ দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে যথাক্রমে ১০০ ও ৪৫ মিটার। সিবিলি অংশ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হলেও সাইকি সংরক্ষিত। উভয় বাগানে সর্বমোট ৮৭ পরিবারের ৭২০ প্রজাতির ১৭ হাজার উদ্ভিদ ছিল বলে জানা যায়। সাইকি অংশে প্রায় ৪৫০ প্রজাতির উদ্ভিদের বিরলতম সংগ্রহ গড়ে তোলা হয়েছিল। প্রবেশপথের দু’পাশে প্রথমেই শাপলা ও পদ্মপুকুর। সেখানে ১২ প্রজাতির জলজ উদ্ভিদ রয়েছে। দুর্লভ শাপলার মধ্যে হলুদ শাপলা ও থাই-বেগুনি শাপলা উল্লেখযোগ্য। আরেকটু সামনেই ডানদিকে রোজক্যাকটাস, প্যাপিরাস, কনকসুধা। বাঁ দিকে আছে ঘৃতকুমারী। তারপর ঔষধি গাছ-গাছড়া, আমাজন পদ্ম, পদ্ম, অর্কিড ঘর, হংসলতা, তার পাশেই জমিদারের বাড়ি ও জাদুঘর। তার দক্ষিণ পাশেই জ্যাকুইনিয়া, শারদমল্লিকা, কণ্টকলতা, গুস্তাভা, হিং, শ্বেতচন্দন, সাইকাস, স্বর্ণ অশোক, কুর্চি, ভুর্জপত্র। ডানদিকে ক্যাকটাসের দুর্লভ সংগ্রহ নিয়ে একটি ঘর। এখানে ক্যাকটাস ঘরের সংখ্যা ৩টি, পটিংঘর একটি, ছায়াঘর দুটি, অর্কিডঘর একটি। মাঝখানে আছে চারদিকে তাকসমেত পিরামিড আকৃতির একটা ঘর। তাকগুলোতে থরে থরে সাজানো ক্যাকটাস। একেবারে দক্ষিণ প্রান্তে ছায়াঘর। সেখানে নানা জাতের ফার্ন, ফার্নঘরের ভেতর কৃত্রিম সুড়ঙ্গের মাধ্যমে চমৎকার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। স্বর্ণ অশোকের পাশেই সাদা ও গোলাপি রঙের ক্যামেলিয়া, তারপর রাজ অশোক। দক্ষিণ দিকের দেয়ালের পাশে ছোট জাতের কয়েকটি পাম। ছোট-বড় মিলিয়ে সাইকিতে ১৬ প্রজাতির পাম রয়েছে। সাইকির বিরলতম সংগ্রহের মধ্যে আরও আছে লতাচালতা, ক্যানেঙ্গা, ঈশের মূল, নবমল্লিকা, ওলিওপ্রেগরেন্স, জিঙ্গো বাইলোবা, অ্যারোপয়জন, র‌্যাভেনিয়া, আফ্রিকান বকুল, নাগলিঙ্গম, উদয়পদ্ম, রাজ অশোক ইত্যাদি।

সিবিলি বাগানের বিশেষত্ব হচ্ছে এর প্রবেশপথ। কারণ প্রবেশপথের দু’পাশ উদয়পদ্মে সুসজ্জিত। এ পথ একেবারে উত্তরপ্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত। এছাড়াও মনোলোভা সব ক্যামেলিয়ার ঘর এ বাগানেই। এখানেও চারপাশে ঘোরানো পথ আছে। বাঁ পাশে পুকুরের কোনায় আছে সুউচ্চ মুচকুন্দ আর ডানপাশে পোর্টল্যান্ডিয়া। আরেকটু এগোলে চোখে পড়বে কলকে, অ্যারোপয়জন, কপসিয়া, হলদু, দেবকাঞ্চন, কনকসুধা, কনকচাঁপা, লতা জবা, স্কারলেট কর্ডিয়া, কাউফল। শঙ্খনিধি পুকুরে নানান জাতের জলজ ফুলের চাষ হয়। সারাবছরই কিছু না কিছু ফুল থাকে। পুকুরের চারপাশে তাক আছে, দু’পাশে আছে শানবাঁধানো ঘাট। পথের শেষ প্রান্তে আছে কয়েকটি দুর্লভ রাজ অশোক, তারপর বাঁ দিকে ঘুরলে আফ্রিকান টিউলিপ (রুদ্রপলাশ), গড়শিঙ্গা, ক্যামেলিয়ার ঘর, দেয়াল লাগোয়া পশ্চিম পাশে আছে একসারি ক্যানেঙ্গা ও ইয়ক্কা, দু’জাতের কেয়া ইত্যাদি। এ বাগানে দুটি ঘর আছে, একটিতে থাকে অর্কিড, অন্যটি চারাগাছের ভান্ডার। শঙ্খনিধি পুকুরের পশ্চিম পাড়ের দোতলা ঘরটি এখন পরিত্যক্ত। এখানে আরও আছে মাধবী, অশোক, লুকলুকি, পান্থপাদপ, শতায়ু উদ্ভিদ, পাখিফুল, কৃষ্ণবট ইত্যাদি। এ বাগানের গোলাপ এক সময় উপমহাদেশে প্রসিদ্ধ ছিল।

খালিদ জামিলঃ


দ্য মেনিয়াপলিস স্কাল্পচার গার্ডেন, যুক্তরাষ্ট্রঃ
কানাডার ধার ঘেঁষে অবস্থিত আমেরিকার অঙ্গরাজ্য মিনেসোটা। এই মিনেসোটার মাথার মুকুট বলা হয় মেনিয়েস স্কাল্পচার গার্ডেনকে। বাগানটি গড়ে উঠেছে মূলত একটি ভাস্কর্যকে কেন্দ্র করে। চামচের আদলে তৈরি একটি সেতু, তার ওপর একটি চেরি ফল। এটি বর্তমানে গোটা মিনেসোটা রাজ্যেরই আইকন হিসেবে বিবেচিত। মার্কিন ভাস্কর ক্লেস ওলডেনবার্গ তার স্বকীয়তা আর অদ্ভুত চিন্তাভাবনার জন্য বিখ্যাত। তার স্ত্রী চোজে ভ্যান বার্গেনও বেশ কয়েকটি বড় ভাস্কর্য নির্মাণ করে পরিচিতি পেয়েছেন। যেগুলোর মধ্যে শিকাগোর ব্যাটকলাম অন্যতম। তাদেরকেই এই মেনিয়াপলিস বাগানের জন্য একটি ঝরনাভিত্তিক ভাস্কর্য নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। ওলডেনবার্গের কাজে এর আগের বেশ কয়েক বছর ধরেই চামচ আকৃতির প্রাধান্য ছিল। ধারণাটা তিনি পেয়েছিলেন ১৯৬২ সালের একটি কাজে। এরই ধারাবাহিকতায় একটা বিশাল আকৃতি দেওয়া হয় মেনিয়াপলিস প্রজেক্টে। তার ওপর চেরি বসিয়ে দেওয়ার আইডিয়াটা অবশ্য নেওয়া হয়েছে চতুর্দশ লুইসের কাছ থেকে।

খালিদ জামিল


শালিমার গার্ডেন, পাকিস্তানঃ
পারসিয়ান আদলের এই বাগানটি নির্মাণ করেছিলেন মোগল সম্রাট শাহজাহান। বর্তমান লাহোরে এর অবস্থান। ১৬৪১ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়। সময় লাগে এক বছর। পুরো প্রজেক্টটির তত্ত্বাবধানে ছিলেন খলিলুল্লা খান। তার সঙ্গে ছিলেন আলি মারদান খান ও মোল্লা আলাওল মুলক তুনি। শালিমার আয়তাকার যেটি নকশাকাটা ইটের উঁচু প্রাচীরে বেষ্টিত। পুরো বাগানটি উত্তর-দক্ষিণে ৬৫৮ আর পূর্ব-পশ্চিমে ২৫৮ মিটার। ১৯৫৮ সালে শালিমার গার্ডেনসহ লাহোর ফোর্টকে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ইউনেস্কো কনভেনশন অনুযায়ী ১৯৭২ সাল থেকে সংস্থাটি বিশ্বের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের সংরক্ষণের কাজ করে আসছে।

কারিকা ডেক্স


আমার নিজের অভিজ্ঞতায় ঢাকার বাইরে, বিদেশের অনেকগুলো শহরের কথা বলা যায়। তবে আমার কাছে বেশি প্রাসঙ্গিক মনে হয় ঢাকার পর ব্যাঙ্কক। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাঙ্কক। ঢাকায় আমি সারাজীবনই ছিলাম, কয়েক বছর বাদে। ব্যাঙ্ককে আমি চার বছর বসবাস করেছি। ১৯৮২ থেকে ১৯৮৬ এই সময়টায়। আশির দশকের প্রথম দিকে ব্যাঙ্কক বিশাল একটি শহর ছিল তা কিন্তু নয়। তবে ঢাকার চেয়ে বড় ছিল। তখন ঢাকায় ছিল প্রায় ১৫ লাখ মানুষ। ব্যাঙ্ককে ২৫-৩০ লাখ মানুষ। গত ৩০ বছরে এখন ব্যাঙ্ককে পৌনে দুই কোটি মানুষ, ঢাকায়ও পৌনে দুই কোটি। পরিবহনের কথা যদি বলি সেই সময়ে ব্যাঙ্ককে ব্যক্তিগত মোটরগাড়ির প্রচলন ছিল এবং জনপ্রিয় ছিল। তখন থাইল্যান্ড আয়ের দিক থেকে উঠে এসেছিল। ব্যাঙ্কক আরও বেশি এগিয়েছিল। ব্যাঙ্কক থাইল্যান্ডের সবচেয়ে বড় শহর। সেখানে দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর চিয়াংমাই অনেক ছোট। চিয়াংমাই থেকে প্রায় ৩০ গুণ বড় ব্যাঙ্কক। ঢাকা হলো বাংলাদেশের রাজধানী, বৃহত্তম শহর। দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার লোকসংখ্যা আড়াই থেকে তিনগুণ বেশি। ব্যাঙ্কক শহরও ঢাকার মতো দেশের কেন্দ্রে অবস্থান। থাইল্যান্ডের কেন্দ্রে হলো ব্যাঙ্কক, বাংলাদেশের কেন্দ্রে হলো ঢাকা। আশির দশকে ঢাকায় পরিবহন বলতে কিছু পাবলিক বাস ছিল, বিআরটিসি বাস। সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ার মতো ছিল রিকশা। এখনও আছে রিকশা। এখন দুই সিটি করপোরেশন মিলে প্রায় পাঁচ লাখ রিকশা। সেই সময়ে দুই লাখের মতো রিকশা ছিল। আর ছিল বেবিট্যাক্সি। এছাড়া আর ছিল প্রাইভেট গাড়ি। প্রাইভেট গাড়ির সংখ্যা ব্যাঙ্ককের তুলনায় অনেক কম ছিল। আমি ব্যাঙ্কক শহরের বাইরে বসবাস করতাম। এআইটি, এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, সেখানে অধ্যাপনা করতাম। সেটা ব্যাঙ্কক শহরের কেন্দ্র থেকে ৪০ কিমি দূরে। সেখান থেকে আমার গাড়ি চালিয়ে ব্যাঙ্ককে যেতে ৪৫ মিনিট লাগত। ১৯৮৬ সালে যখন আমি ব্যাঙ্কক থেকে চলে আসি, তখন কিন্তু অনেক সময় লাগত। তখন এত বেশি গাড়ি হয়ে গিয়েছিল, আগে ওই ৪০ কিলোমিটার রাস্তা ৪৫ মিনিট লাগত। চার বছরে সেটা আড়াই ঘণ্টা সময়ে পৌঁছানো যেত। তখন ব্যাঙ্কক ছিল খুব যানজটের শহর। এখন যেমনটা বলি ঢাকাকে। সেখান থেকে ব্যাঙ্কক কিন্তু উত্তরণ হয়েছে। সেটা কীভাবে পারল তারা? এই যে গণপরিবহন বা বাস ট্রানজিট তারা প্রভূত উন্নয়ন সাধন করেছে। একটা হলো প্রাইভেট গাড়ি সহজ চলাচলের জন্য তারা ১২ লেনের হাইওয়ে করেছে। ১২ লেন কেন কোথাও কোথাও আরও বেশি। নিচে ১২ ওপরে ৬ এই ১৮ লেনের রাস্তা। এগুলো হলো গাড়ির জন্য। নিচে দিয়ে বাস চলত। গাড়ি নিচে নিয়ে এবং ওপর দিয়ে। তার ফলে শহরতলি থেকে কেন্দ্রে যাওয়া, এয়ারপোর্ট থেকে কেন্দ্রে যাওয়া  সময়টা অনেক সাশ্রয় হতো। আরও পরে ব্যাঙ্কক শহরে বড় রকমের গণপরিবহন ব্যবস্থা চালু হয়। সেটা হলো স্কাই ট্রেন। মাথার ওপর দিয়ে ট্রেন। সেটা প্রথম দিকে এতটা জনপ্রিয় ছিল না। পরে খুব জনপ্রিয় হয়েছে। এখন সেখানে স্কাই ট্রেন, মেট্রো ট্রেন হচ্ছে। এক্সওয়ে এগুলো তো আছেই। সেখানে সবই মোটরচালিত যানবাহন। ট্রেন তো আছেই, রিকশা নেই। সিএনজি অটোরিকশা যেটাকে বলি, সেটাকে ওরা বলে টুকটুক। তিন চাকার এই বাহন আছে প্রচুর। এখন গাড়ির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় মনে হয় টুকটুকের সংখ্যা কম। টুকটুক মিটারে চলে এবং খুব নিয়মের মধ্যে। আরেকটা বাহন ব্যাঙ্ককে ইউনিক সেটা হলো মোটরবাইক ট্যাক্সি। মোটরসাইকেলই ভাড়ায় চলে। এটাকেই ট্যাক্সি বলে। একজন যাত্রী নেয়। এটা আমি যখন প্রথম যাই তখনই দেখেছি। পরে আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এই বাহন চালকদের আলাদা পোশাকও আছে। বাহক পুরুষ, যাত্রী মেয়ে এতে কোনোই অসুবিধা নেই এবং খুবই নিরাপদ। খুবই স্বস্তিতে চলাফেরা করতে পারে। হাইওয়েতে এটা ওরা অনুমোদন দেয় না। হাইওয়ের পাশের লোকাল রোড এবং অলিগালিতে এই বাহন চলে। ব্যাঙ্ককের বিশেষ একটা পরিবহন এই মোটরসাইকেল ট্যাক্সি। ব্যক্তিগত সাইকেল আছে, তবে কম। আর আছে টেম্পো বা লেগুনা। পিকআপ কনভার্ট করে লেগুনা তৈরি করেছে। খুব নিরাপদ, সব নতুন ঝরঝরে গাড়ি। একটি বড় শহরের জন্য সবচেয়ে বেশি যেটা জরুরি সেটা হলো ট্যাক্সি। ব্যাঙ্কক শহরে যে কোনো জায়গায় যে কোনো সময়ে ট্যাক্সি পাওয়া যায়। দুই রকমের ট্যাক্সি তখন ছিল, এখনও হয়তো আছে। একটি চলে মিটারে। অন্যটি দরদাম করে। কয়েকটা কোম্পানির হাজার হাজার ট্যাক্সি। বিভিন্ন রঙের সেসব ট্যাক্সি হাত দেখানো মাত্রই সামনে এসে থামে। মানুষের আয়ের তুলনায় এই ট্যাক্সি খুবই সাশ্রয়ী। আমাদের এখানে ট্যাক্সি অত্যন্ত দুর্মূল্য। আয়ের লোক না হলে, বাধ্য না হলে, বিপদে না পড়লে ট্যাক্সিতে ওঠে না। আমাদের এখানে সংখ্যাও কম, দামও বেশি। ব্যাঙ্ককে বাস সার্ভিসও সুন্দর। আমাদের এখানের মতো শত শত কোম্পানি নেই। মাত্র দু’চারটি কোম্পানি বাস সার্ভিস দিয়ে থাকে। একটি হলো বিএমএ, ব্যাঙ্কক মেট্রোপলিটন অখরিটি। সেখানে এসি গাড়িই বেশি। সেসব বাসে খুব আরামে চলাচল করা যায়। মিনিবাসও আছে, তবে কম। এসব কারণে দুই কোটি মানুষ খুব সহজে চলাচল করতে পারছে। আরেকটা বিষয় যেটা ঢাকায় হতে পারত। সেটা হচ্ছে ব্যাঙ্ককের খালে অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে। ওদের বড় একটি নদী আছে। নদীটির দুই তীরেই ব্যাঙ্কক শহর গড়ে উঠেছে। একদিকে মূল শহর, অন্যদিকে কেরানীগঞ্জের মতো নতুন শহর। সেই নদীতে প্রচুর নৌবাস চলাচল করে। ঢাকায় দু’বার চেষ্টা করল ওয়াটারবাস চালাতে। একটা-দুইটা করে ছাড়ে আবার বন্ধ করে দেয়। এখানের পরিকল্পনা একেবারে দুর্বল। খামাখাই একটু বেশি দামের ওয়াটারবাস আনে। সাধারণ নৌকার মতো থাকলেই চলে। সঙ্গে একটু ছাউনি, ইঞ্জিনচালিত হলে মানুষ চলাচল করতে পারে। এখানে দুই কোটি টাকার বাস দরকার নেই। দশ লাখ টাকার নৌযান হলেই হয়। ব্যাঙ্ককের নদীতে শত শত সাধারণ নৌবাস। নদী পারাপারের জন্য আছে, দূরে যাওয়ার জন্য আছে। বেড়ানোর জন্য আছে। এখানে আমি বলব ব্যাঙ্কক থেকে বাংলাদেশের অনেক শেখার আছে। দুটি শহর প্রায় একই রকম। আমাদেরটি চারশ’ বছরের পুরনো। ওদেরটা তিনশ’ বছরের পুরনো। দুটি শহরই সমতল। তবে ওদের অর্থনৈতিক অবস্থা অনেক ভালো। যে কারণে ওরা উন্নতমানের ট্রান্সপোর্ট গ্রহণ করতে পারে।
একটা শহর বাসযোগ্য করতে হলে একটা হলো গাড়ি-ঘোড়া যানবাহন, আরেকটা হলো ট্রাফিক ব্যবস্থা ম্যানেজমেন্ট। ভালো যোগাযোগ ক্ষেত্রে ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থাটাই আসল। এটা থাইল্যান্ডে অত্যন্ত ভালো, সুচারু এবং নিয়মের বাইরে চলা যাবে না, একেবারেই না। এক সময় ছিল থাইল্যান্ডের পুলিশ দুর্নীতির আশ্রয় নিত। মাঝে মাঝে ঘুষ নিয়ে ছেড়ে দিত। এখন নেই বললেই চলে। নিয়মের মধ্যে সবাইকে চলতে হবে। লেনের গাড়ি লেনে চলতে হবে। যেখানে-সেখানে ক্রস করা যাবে না। অটোমেটিক সিগন্যাল, টাইমার সিগন্যাল। কতক্ষণ পর সবুজ বাতি জ্বলবে তা তো দেখাই যায়। ঢাকায় সিগন্যাল বাতি থাকলেও এর ব্যবহার নেই। ব্যাঙ্ককে ট্রাফিক আইন মানতেই হবে। একেবারেই মানতে হবে। এর বিকল্প হতেই পারে না। আমি চার বছর ব্যাঙ্কক শহরে গাড়ি চালিয়েছি। আমাকে দু’বার জরিমানা দিতে হয়েছে। প্রথমবার হলো আমি ইউটার্ন নিয়েছি যেখানে ইউটার্ন নেয়ার কথা নয়। আমি বুঝতে পারিনি। পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যে পুলিশ এসে বলে তুমি তো এই কাজ করেছ। আমি জরিমানা দিতে বাধ্য হলাম। আরেকবার আমি লেন চেঞ্জ করেছি শুধু। ইনার লেন থেকে মাঝখানের লেনে চলে এসেছি। আমি লেন চেইঞ্জ করেছি। আমাকে ধরেছে, জরিমানা দিতে বাধ্য হয়েছি। এর আর কোনো বিকল্প নেই।
একটা জিনিস বলা খুব দরকার বাস বা পাবলিক পরিবহনকে প্রাধান্য দিতে হবে। ব্যাঙ্ককের প্রধান সড়কের একটা লেন আছে বাসের জন্য। এখানে আর কেউ আসতে পারবে না। বাস লেন নির্দিষ্ট করে দেওয়া। ওখানে কোনো যানবাহন আসতে পারবে না। এলেও বাস আসার আগে সরে যেতে হবে। ব্যাঙ্ককের সব রাস্তাই চওড়া। তবে ব্যাঙ্ককের একেবারে কেন্দ্রে জ্যাম নেই বলব না, বলব এখানে যানবাহন খুব স্লো চলে। উল্টাপাল্টা আসার কোনো উপায় নেই। এই পথটুকু স্লো গতিতে এগোতে হবে। এটা অল্প কিছু জায়গায়। এটা তো বাস বা গাড়ির বেলায়। স্কাই ট্রেন, মেট্রো রেল কিন্তু গতিতেই থাকে। বলেছিলাম শহরের অসংখ্য খাল ওরা পরিবহনের যোগ্য করে তুলেছে। ওই পানিতে পা রাখা যাবে না। ময়লা পানি। কিন্তু যাত্রীবাহী নৌকা চলে। ইঞ্জিনচালিত নৌকা শাঁ শাঁ করে যাচ্ছে অথবা মালামাল নিয়ে যাচ্ছে। ব্যাঙ্ককে আরেকটি বিষয় নদী ও খালগুলোতে নৌকার ওপর বাজার। নৌকার ওপর ফলের বাজার, ফুলের বাজার, তরিতরকারির বাজার। এটা আমাদের এখানে হতে পারত। ব্যাঙ্ককের পরিবহনে আধুনিকায়ন হয়েছে। গণপরিবহনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশৃঙ্খলামুক্ত করা হয়েছে। কঠিন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সব যানবাহন যন্ত্রচালিত। রিকশা বলে কিছু নেই। মিক্স ট্রান্সপোর্ট বলে কিছু নেই, গতি কম আর বেশি বলে কিছু নেই। আরেকটা বিষয় পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা। ব্যাঙ্ককে পার্কিং ব্যবস্থা না থাকলে হাসপাতাল বা শপিং সেন্টার করার পারমিশনই দেবে না। শহরে রয়েছে পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা। এর বাইরে পার্কিং করার উপায় নেই।
আমাদের এখানে যে পরিকল্পনাটা হয় সেটা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হয় না। আর আইন মানতে বাধ্য করতেই হবে। তা না হলে হবে না। যদি বিশৃঙ্খল হয়, আইন বহির্ভূত চলে, আইন মানানো না যায়, তাহলে কিছুতেই উন্নতি হবে না। ঢাকায় এখন খুবই বিশৃঙ্খল অবস্থা। পরিবহনের ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত দুর্বল। যদিও একটা মহাপরিকল্পনা আছে স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান (এসটিপি)। এটা ২০০৬ সালে করেছিল। অনুমোদন দিয়েছিল ২০০৯ সালে। আবার সেটাকে রিভাইজ করেছে। প্রথমে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের অর্থায়নে করেছিল। পরে আবার জাইকার অর্থায়নে করেছে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে হয়তো ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতি হবে। কিন্তু সে দীর্ঘ মেয়াদটা অনেক সুদূরে, কাছাকাছি হচ্ছে না। কারণ ওখানে আছে ছয়টি মেট্রোলাইন। মাথার ওপর দিয়ে অথবা পাতাল দিয়ে যাবে। বাস ট্রাফিক ট্রানজিট হবে চারটি মনে হয়। কমিউটার ট্রেন সার্ভিস হবে, ওয়াটারওয়ে হবে। কিন্তু এই হবে হবে শুনি আজকে ৯-১০ বছর। শুরু হয়েছে মাত্র একটি মেট্রো লাইনের। সেটাও এক বছরে অতি সামান্য অগ্রগতি হয়েছে। যে দক্ষতার সঙ্গে এটা পরিচালিত হচ্ছে বা অদক্ষতার সঙ্গে। তাতে ভয় হয় পাঁচ বছরে একটা লাইন শেষ হবে কি না। কিন্তু হওয়া উচিত ওই পরিকল্পনা মতে ছয়টি লাইন। তারপর এই যে দেড়-দুইশ’ বাস কোম্পানি আছে, সেটাকে একটা শৃঙ্খলার মধ্যে আনার কথা আমরা শুনি। পরিকল্পনায় এটা বলা হয়েছে। সেটা করতে পারছে না। কিছু করতে গেলেই রাজনৈতিক একটা আন্দোলন শুরু হয়। পরিবহন খাতে যারা স্বার্থসংশ্লিষ্ট তারা এমন একটা বিশৃঙ্খলা তৈরি করে সরকার ভয় পেয়ে সরে যায়। তার মানে পরিবহন খাতটা গোটা জনগণকে, শহরবাসীকে, সরকারকেও জিম্মি করে রেখেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতি অদূর ভবিষ্যতে হবে বলে আমার মনে হয় না। এসটিপি এবং ঢাকা মাস্টারপ্ল্যান, রাজউক যেটা করেছে। এই দুটো যদি পাশাপাশি রেখে সরকার বা কর্তৃপক্ষ যারা আছে তারা যদি গভীর মনোনিবেশ করে, প্রশাসন বা শাসন যদি নগরশাসন ব্যবস্থার উন্নতি করতে পারে, তাহলে কিছু হবে। তা নাহলে দীর্ঘমেয়াদি দুর্ভোগ পোহাতেই হবে ঢাকাবাসীকে।

0 1596

কারিকা ডেক্সঃ


সবুজের কাছাকাছি থাকার কী ব্যাকুলতা আমাদের। চাইলেই ইট-কংক্রিটে গড়া ঘরের ভেতরটা আপনি সাজাতে পারেন সবুজে। অনেককেই বাসার বারান্দায়, সিঁড়ির পাশে, বসার ঘরে ইত্যাদি স্থানে গাছের টব রাখতে দেখা যায়। এমনকি অফিসের ডেস্কেও কেউ কেউ সাজিয়ে রাখছেন ‘ইনডোর প্ল্যান্ট’। বাড়ির ছাদেও বাগান দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। বাড়ির আশপাশে খালি জায়গা থাকলে সেখানেও থাকছে নানা রকম গাছ। যদিও আজকাল শহরে বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার বেশিরভাগ বাড়িতে খালি জায়গা খুঁজে পাওয়া কঠিন।
গাছ-প্রেমীদের জন্য বর্তমান সময়টা খুব উপযুক্ত। গাছ লাগানোর সঠিক মৌসুম চলছে। বাসা-বাড়ির টবে, ছাদবাগান বা খোলা জায়গায় বাগান করতে চাইলে এখনই উদ্যোগ নিতে পারেন। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে চমৎকার সব নার্সারি, যেখান থেকে সংগ্রহ করতে পারেন পছন্দের গাছ।
রাজধানীর আগারগাঁও নার্সারি মালিক সমিতির হিসাব অনুযায়ী, আগারগাঁওয়ের পাসপোর্ট অফিস থেকে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র পর্যন্ত ছোট-বড় মিলিয়ে অন্তত ৪০টি নার্সারি আছে। ফুল, ফল, সৌন্দর্যবর্ধনকারী লতাগুল্ম, ঔষধি বৃক্ষ, বনসাইসহ এখানে পাওয়া যায় টব, কীটনাশক, জৈব সার, মাটি, উপকরণসহ গাছের পরিচর্যা বিষয়ক বই।
অপর একটি সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় দুইশ’র মতো নার্সারি রয়েছে। এগুলোতে পরিচিত-অপরিচিত কয়েকশ’ প্রজাতির গাছের চারা পাওয়া যাচ্ছে। বাসাবাড়ির ভেতরে ও ছাদে লাগানোর উপযুক্ত গাছের জন্য ক্রেতারা এসব নার্সারিতে আসেন। এসব নার্সারিতে ১০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দামের গাছ পাওয়া যায়। ফুলের গাছের দাম শুরু ২০ টাকা থেকে। আর শেষ ২০ হাজার টাকা।
আগারগাঁওয়ের কয়েকটি নার্সারির বিক্রেতা ও মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মে থেকে আগস্ট এই চার মাস গাছ লাগানোর উপযুক্ত সময়। এ সময়ের মধ্যে গাছ লাগালে তা উপযুক্ত আবহাওয়ার মধ্যে বেড়ে উঠতে পারে। এ সময় গাছের দ্রুত বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত ও আর্দ্রতা পাওয়া যায়। টবে বা বাগানে লাগানো চারাগুলো এ সময় সহজেই নতুন পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। এ সময় আপনি ফুল, ফল, পাতাবাহার বা বনজ গ সবই লাগাতে পারেন।
রাজধানীর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডের ২ নম্বর গেটের পাশে রোকেয়া সরণিতে বেশ কয়েকটি নার্সারি রয়েছে। এসব নার্সারিতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের ফুল-ফলের চারা পাওয়া যায়। এছাড়া পাওয়া যায় নানা বর্ণের পাতাবাহার ও বনজ গাছের চারা। নাগপুরী কমলা, থাইমিষ্টি তেঁতুল, হলুদ জামরুল, বীজ ছাড়া গাব, পিচ ফল, অ্যাভোকাডোসহ বছরে ৮ বার মুকুল আসে এ রকম অনেক ফলের চারার সংগ্রহ আছে বলে জানান গ্রিন অর্কিড অ্যান্ড ক্যাকটা নার্সারির স্বত্বাধিকারী শাহ আলম তালুকদার।
আগারগাঁও ছাড়াও রাজধানীর গুলশান ১, ফার্মগেটের খামারবাড়ি, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, শাহজাহানপুর, বনানী, শিশু একাডেমির সামনের সড়ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বিপরীতে, মিরপুর ১৪, মিরপুর ২ নম্বর গ্রামীণ ব্যাংকের উল্টো পাশে পাবেন এমন নার্সারি। এছাড়া ব্র্যাক, প্রশিকার মতো বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোও ঢাকা শহরে বাণিজ্যিক নার্সারি গড়ে তুলেছে। ঢুঁ মারতে পারেন এসব গাছপালার দোকানেও।

ঘরের ভেতর গাছ
আপনার ঘরে যদি ছোট ছোট গাছ দিয়ে সবুজায়ন করতে চান, তবে পরিকল্পনা করে এগোতে পারেন। চোখের শ্রান্তিতে সবুজ গাছের কোনো বিকল্প নেই। নিজেদের সুস্বাস্থ্য ও অতিথিদের মুগ্ধতার জন্য আশ্রয় নিতে পারেন এসব গাছের।
ঘরে ঝুলিয়ে ও টব বসিয়ে ইনডোর প্ল্যান্ট রাখা যায়। ঝুলন্ত গাছের মধ্যে লতানো প্রজাতি বেশি। টবে লাগানোর মতো উল্লেখযোগ্য প্রজাতি হলো টেরিস, এসিপ্ল্যান্ট, সিলভার কুইন, চায়নিজ পাম, হাইডেনজিয়া, পিচুটিয়া পাম, রেড পাম, ফনিঙ পাস, কচু পাস, বাঁশপাতা ড্রেসিনা, রাবিস পাস, মনোট্রিট, ড্রাসিনা, গোল্ডেন ড্রাসিনা, ক্যাকটাস, আলপেনিয়া, অর্কিড, ফার্ন ও পাতাবাহারের বিভিন্ন প্রজাতি। ফুলের মধ্যে রঙ্গন, গোলাপ, রজনীগন্ধা, দোলনচাঁপা ইত্যাদি। ঝুলন্ত প্রজাতির মধ্যে অর্কিড, ফার্ন, ফিলোড্রেন, ফিলোড্রেনডন, সিলন গোল্ড, পেলিয়োনিয়া পুলক্রা ইত্যাদি। ফার্নের মধ্যে আছে বেকনাম, অ্যাডিয়ান্টাম, ডাভালিয়া, অ্যামপোনিয়াম ইত্যাদি।
রাবারবট, ক্যাকটাস, পাতাবাহারের মতো গাছগুলোর মাটিতে নিয়মিত পানি দিতে হবে। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে যেন গোড়ায় পানি জমে না যায়। এতে আপনার গাছটি মরে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। রাবার প্ল্যান্টগুলোর পাতা উজ্জ্বল দেখাতে পানি দিয়ে পাতা মুছে দিতে পারেন।
শীতের শেষে কিংবা বসন্তের শুরুতে দেখা দিতে পারে পোকামাকড়ের আক্রমণ। তাই নিমপাতা সেদ্ধ পানির সঙ্গে পরিমাণমতো মরিচের গুঁড়ো মিশিয়ে স্প্রে করা যেতে পারে।

0 541

দ্বিজেন শর্মা


পথতরু শহরে ছায়ার জন্য, সৌন্দর্যের জন্য লাগান হয়। পথতরু হিসেবে আমরা ফুলের গছের দিকে আকৃষ্ট হই। অথবা বড় গাছ, বেশি পাতা আছে, অক্সিজেন দেয়, কার্বডাই অক্সাইড শোষন করে এমন গাছই লাগানো হয়। আমি ফলের গাছ লাগানোর পক্ষে। কাঠাল গাছের ফল বড় বড় হয়। এফল পাকার আগেই লুটপাট হয়ে যাবে। শহরে ফলের গাছ লাগানো উচিত একটু চিন্তা করে। উচু গাছ, ফল ছোট হয় এমন ফলের গাছ শহরের পথতরু হিসেবে ভাল হয়। যেমন আমগাছ, বীজ থেকে যে আমের চারা হয়, সেটা অনেক উচু হয়। উচু গাছের ফল উঠে ফল পাড়া কঠিন। সে গাছের ফল পেকে পড়বে, নিচে পড়লে বাচ্চারা খাবে। গরিব বাচ্চারা, টোকাইরা খাবে। আম পশুপাখিও খেতে পারে। এই ধরনের গাছ পথে লাগানোর পক্ষপাতি আমি। কিন্তু আমাদের নজর থাকে ফুলের দিকে। যাতে শহরে নানা রকম ফুল ফোটে। কিন্তু আমাদের শহরে যে অবস্থা। এতসব বাড়িঘর! তার মধ্যে গাছ খুবই কম। শহরে গাছ লাগাতে গেলে নানা রকম বিবেচনা আছে, বিশেষজ্ঞরা সেটা করতে পারে। কিন্তু আমাদের গাছগুলো লাগায় সাধারণ মালি-টালি দিয়ে। কোন বিশেষজ্ঞ লাগান না। এখানে বিশেষজ্ঞদের কোন কাজ নাই। তাদেরকে বলেওনা। মহাসড়কে এমন গাছ লাগাতে হবে যেটা পাশে ছড়াবেনা, সোজা হয়ে থাকবে। অক্সিজেন দিবে, কার্বনডাই অক্সাইড শোষণ করবে। বাতাস ঠান্ডা রাখবে। এখানে ভেষজ গাছ লাগানো যেতে পারে।
এখন একটা সমস্যা আমি দেখলাম। হাইওয়ে যেগুলি হচ্ছে, মহাসড়ক। ঢাকা-ময়মনসিংহ যে মহাসড়কটি হয়েছে তার মাঝখানে অনেক জায়গা রেখেছে। এখানে আজেবাজে যত গাছ, ছোট গাছ, মেজো গাছ দুনিয়ার জঞ্জাল করে রেখেছে। এটা একটা স্পেস, এটা সাজানোর জন্য পরিকল্পনা থাকা উচিত। মহাসড়কের ওপর রোদ থাকতে হবে, এখানে ছায়া থাকবেনা। মহাসড়কে এমন গাছ লাগতে হবে যাতে ছায়া না দেয়। বড় বড় রেইনটি লাগালে বড় হলে ডালা ভেঙ্গে পরলে অনেক সমস্যা।
জাতীয় সংসদ ভবনের পাশে খেজুর বাগান নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলে। এগুলা আসলে আমাদের দেশের খেজুর। এটা আমাদের গাছ। এটা আরবের গাছ না। আরবের খেজুর আমাদের দেশে ফল ধরেনা। আমরা খেজুরকে ভাবি মরুভূমির গাছ। এটা ঠিকনা। তাল, খেজুর, নারকেল এগুলোসব আমাদের গাছ। এগুলো অবস্থা বিবেচনা করে যেখানে খুশি সেখানে লাগান যায়।

সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দশ লক্ষ তালগাছ লাগাবে। কারন বজ্রপাত হয়ে মানুষ মারা যায় সেটা বন্ধ করার জন্য। তালগাছ উপরে থাকে, উপরেই বিদুৎ ধরেফেলে। সে বিদ্যুৎ গাছের ভিতর দিয়ে মাটিতে চলে যায়। বজ্রপাতের বিদ্যুৎ পৃথিবীতে নামার জন্য কন্ডাকটার খোজে। মানুষ ভাল কনন্ডাকটার। মানুষের ভিতর নামতে গিয়ে মানুষের জীবন শেষ করে। আবার তাল গাছের একটা সমস্যাও আছে, মানুষের ওপর তাল পরে বিপদ হতে পারে।
আমাদের শহরে গাছ লাগাতে কোন পরিকল্পনা নাই। এ ক্ষেত্রে যার যা ইচ্ছা তা করছে। মিড আইল্যান্ড বা রাস্তার মাঝখানে গাছ লাগানোর কথানা। রাস্তার মাঝখানে নানা রকম ভৌতকাঠামো দিয়ে সাজাতে পারে। অথবা শুধু ঘাস থাকতে পারে, ছোট ছোট গাছ থাকতে পারে। রাস্তার দুই পাশে থাকে বড় গাছ। যাতে রাস্তায় ছায়া হয়। আমাদের শহরে দুই পাশ বন্ধ, গাছ লাগানোর কোন জায়গা রাখেনা। গাছ লাগানোর কোন স্কোপও রাখেনা। এইটাতো বিরাট সমস্যা। কোন কোনা জায়গায় রাস্তার দুই পাশে কিছু গাছ আছে। কিন্তু ঐগাছ বড় হবেনা। কারন গাছগুলোর শিকড় নিচে যেতে পারবেনা। সিমেন্ট দিয়ে সব আটকান। খাদ্য সংগ্রহ করতে পারবেনা। রাস্তার পাশের গাছ নিয়ে বিপদ অনেক। এই গাছগুলো দেখার কেউ নেই। যার কারনে গাছ ভেঙ্গে পড়ে মানুষকে প্রাণ দিতে হচ্ছে। বিদেশে প্রত্যেক এরিয়ার জন্য একজন গাছের ডাক্তার থাকে। তার কাজ হচ্ছে ঘুরে ঘুরে প্রত্যেকটা গাছ গিয়ে দেখবে। গাছে খোড়ল হচ্ছে কিনা,  সেটা সিমেন্ট দিয়ে বন্ধ করতে হয়। ক্ষত হচ্ছে কিনা, ক্ষত হলে চিকিৎসা করতে হয় এন্টিবায়োটিক দিয়ে। গাছের কোন ডাল কাটতে হলে তা কেটে সেপ সুন্দর করা ইত্যাদি করে থাকেন।। আমাদের এ বিদ্যাটাও নাই, চর্চাও নাই, ভাবনাও নাই। ফলে গাছে বড় বড় গর্ত হচ্ছে, রাস্তার পাশের গাছ উপরে পড়ছে। রমনা পার্কে মহুয়া গাছটা পড়ল। আমরাতো কোনদিনই ভাবিনাই গাছটা পড়বে। কত সুন্দর শক্তিশলী গাছ ছিল। পড়ার পর দেখলাম ভিতরটা পুরো খোড়ল। রমনা বটমূলে প্রত্যেক বছর পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান উদযাপন করি। অন্যান্য গাছ ঐগাছটাকে চেপে ধরেছে। ঐটাকে খোলা করে দেয়ার জন্য আশপাশের গাছ কেটে দিচ্ছি। গাছটার উপরে উঠে দেখলাম ওটার ভিতরে একটা বড় খোড়ল আছে। অবশ্যা গাছটার বয়স শতবর্ষ হবে। এটাকে কিভাবে চিকিৎসা করতে হবে আমরা তা জানিনা। এ জন্য বিশেষজ্ঞ আমাদের নাই। এ বিষয়ে আমাদের লোকদের ট্রেনিং দিয়ে আনা উচিৎ। গাছের ডাক্তার তৈরি করে আনা উচিৎ। এই গাছটা যদি আগে সিমেন্ট দিয়ে ব্লক করে দেয়া যেত। তাহলেতো ভিতরটা শক্ত থাকত। গাছের ভিতরে সার অংশের কিন্তু প্রাণ নাই। কাঠ এই অংশ ভাল হলেও এই সারি অংশ গাছের কোন উপকারে আসেনা। ওইটা আমাদের কজে লাগে। এটা গাছকে শক্ত করে রাখে। সার অংশ বেশি দিন হলে ক্ষয় হতে থাকে। আর গাছের ভিতর এই অংশ ক্ষয় হলে গাছ দুর্বল হয়ে যায়। গাছ বাঁচানোর মূল কাজ করে বাইরের অংশ, যেটাকে আমরা পলক বলি। এই পলক দিয়েই গাছ খাদ্য, পানি সংগ্রহ করে। আমার রমনা পার্কটাকে নতুন করে গড়ার চেষ্টা করছি। এত এবড়ো থেবড়ো, যেখানে সেখানে যখন খুশি গাছ লাগিয়ে এমন একটা কাঠামো দাঁড় করিয়েছে। কিন্তু গাছতো কেটে ফেলা যায়না। কোন শৃংখলা মেনে এটা করা হয়নি। আমরা যতটুকু পারি চেষ্টা করছি। পহেলা বৈশাখ উদযাপন হয় যে জায়গাটাতে, সেখানে যেন সে সময়ে ফুল ফোটে সে ধরনের গাছ লাগাচ্ছি। পহেলা বৈশাখে দেখা গেল ফুলফোটে ভরেগেছে জায়গাটা। চারপাশে এমন গাছ লাগাচ্ছি যাতে বাইরের শব্দ না আসে। এই জায়গাটুকু গোছান হবে সুন্দর ভাবে।

 

হাসান শাওন

রাজধানীর হাতিরঝিল প্রকল্প এলাকায় বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। সম্প্রতি হাতিরঝিলের বেগুনবাড়ি পয়েন্টে এক অনুষ্ঠানে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন এই বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করেন। প্রাথমিক অবস্থায় ২৭ আসনের চারটি সাধারণ বাস নিয়ে এই সার্ভিস চালু হলো। এক মাসের মধ্যে আরও দুটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস এর সঙ্গে যোগ হবে। যাত্রী ওঠা-নামার জন্য প্রকল্প এলাকার ১০টি জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। টিকিট পাওয়া যাবে রামপুরা, মধুবাগ, এফডিসি মোড়, বৌবাজার, শুটিং ক্লাব ও মেরুল বাড্ডার ছয়টি কাউন্টারে।
হাতিরঝিল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে বাসের ন্যূনতম ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা। বাস ছাড়বে রামপুরা ব্রিজের গোড়া থেকে। সেখান থেকে মহানগর প্রজেক্ট ও মধুবাগ হয়ে হয়ে এফডিসি ক্রসিং পর্যন্ত ভাড়া ১৫ টাকা। আবার এফডিসি ক্রসিং থেকে বেগুনবাড়ি, কুনিপাড়া, পুলিশ প্লাজা এবং মেরুল বাড্ডা হয়ে রামপুরা পর্যন্ত একই ভাড়া কার্যকর হবে। যদি কোনো যাত্রী রামপুরা ব্রিজ থেকে বৃত্তাকার পথ ঘুরে আবার রামপুরায় যেতে চান, তাহলে তাঁকে ৩০ টাকা দিতে হবে। সকাল সাতটা থেকে বিরতিহীনভাবে রাত ১১টা পর্যন্ত এই বাস সার্ভিস চালু থাকবে।
হাতিরঝিল প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল রাজধানীর পূর্ব ও পশ্চিম অংশের মধ্যে যোগাযোগ সহজ করা। কিন্তু ২০১৩ সালের ২ জানুয়ারি প্রকল্পটি উদ্বোধনের পর প্রায় তিন বছর ধরে প্রকল্প এলাকার দুপাশের ১৬ কিলোমিটার রাস্তায় কোনো বাস অথবা মিনি বাস চলাচলের অনুমতি ছিল না। এতে এই এলাকার মধ্য দিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে তেজগাঁও, গুলশান, বাড্ডা, বনশ্রী, রামপুরা, নিকেতন, মধুবাগ, মহানগর প্রজেক্ট, উলন এবং মগবাজার এলাকায় বসবাসরতদের দুর্ভোগ ছিল নিত্যদিনের।
বাস সার্ভিসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণপূর্ত মন্ত্রী বলেন, হাতিরঝিল হয়ে উঠবে ঢাকাবাসীর আনন্দ আয়োজনের কেন্দ্রস্থল। ধীরে ধীরে গুলশান, বনানী ও বারিধারা লেককেও হাতিরঝিলের সংযুক্ত করা হবে। নির্মাণ করা হবে বেশ কিছু দৃষ্টিনন্দন সেতু, অপেরা হাউস, এম্ফিথিয়েটারসহ ফোয়ারা এবং ভাসমান রেস্তোরাঁ। আগে রামপুরা থেকে কারওয়ানবাজার যেতে ৪০ মিনিটের বেশি লাগত। এখন বাসে করে সেটা ১০ মিনিটেই সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গণপূর্ত সচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ, রাজউক চেয়ারম্যান জি এম জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া, প্রকল্প পরিচালক মেজর জেনারেল আবু সাঈদ মো. মাসুদ এবং পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) খন্দকার গোলাম ফারুক।
হাতিরঝিল প্রকল্পটি গড়ে উঠেছে ৩০২ একর জমির ওপর। রাজধানীর পূর্ব ও পশ্চিম অংশের মধ্যে যোগাযোগব্যবস্থাসহ বৃষ্টির পানি ও পয়োনিষ্কাশনের মাধ্যমে রাজধানীর একটি বড় অংশের জলাবদ্ধতা দূর করা, বৃষ্টি ও বন্যাজনিত পানি ধারণ, নগরের নান্দনিক সৌন্দর্য বাড়ানো ও সার্বিক পরিবেশের উন্নয়ন করাই এ প্রকল্পের লক্ষ্য।

0 1008

মহানগর ঢাকার কংক্রিট আর বহুতলের ভারে সবুজ বিলীনপ্রায়। এর মাঝে হঠাৎ মনে হয় খানিক অরণ্যের আভা। সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের গাছ-প্রকৃতি ছড়িয়েছে নগরে অরণ্যের উৎসব।

ছবি : মোহাম্মদ আসাদ

0 958

সকাল সকাল জেগে ওঠা, মৃদুমন্দ বাতাস, বিকেলের নরম রোদে ছাদ-বাগানে সময় কাটানো বা রাতে তারাভরা আকাশ দেখাÑ ঢাকা শহরের অনেক নাগরিকের জন্য স্বপ্নই বটে। ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসম্মত এবং পরিবেশবান্ধব ফ্ল্যাটকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে ক্রেতারা। রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ফ্ল্যাট খুঁজছেন বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা ফুয়াদ আহমেদ। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ-পানির যে অবস্থা তাতে সব শ্রেণির ফ্ল্যাটে এর কিছু বিকল্প ব্যবস্থা থাকা উচিত।

বাড়ির পরিবেশ স্বাস্থ্যসম্মত করতেও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষও নকশার ক্ষেত্রে সেটব্যাকের বিষয়টি বাধ্যতামূলক করেছে। সেটব্যাক মেনে ভবনের নকশা করলে সামনে-পেছনে জমির আয়তন অনুসারে জায়গা ছাড়তে হয়, ফলে ভবন নির্মাণের পর আলো-বাতাসের পর্যাপ্ত উৎস রাখা সম্ভব হয়।

যেসব ভবনে দিনের আলোতেও বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করতে হয়, সেখানে বিদ্যুৎ-খরচও বেশি হয়। বাড্ডা এলাকার লেকপাড় ঘেঁষে গড়ে ওঠা একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানি থেকে ফ্ল্যাট কিনেছে সুমি-রাসেল দম্পতি। তারা জানায়, ভবনের পরিবেশ কতটা স্বাস্থ্যসম্মত সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েই তারা ফ্ল্যাট কিনেছেন।

সাধারণভাবে অনেক ক্ষেত্রেই মনে করা হয় বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের ক্রেতারা ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব বিষয়টিকে ততটা গুরুত্ব দেন না। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের ক্রেতাদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব আবাসনের ব্যাপারে গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। বহুজাতিক প্রোপার্টি পোর্টাল লামুডি ডটকম পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ক্রমবর্ধমান পরিবেশবান্ধব ও যুগোপযোগী আবাসন চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে গত ছয় মাসে বাংলাদেশে লামুডির ওয়েবসাইটে পরিবেশবান্ধব ঘরবাড়ি ও বাণিজ্যিক-ভবনগুলোর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৪২০ শতাংশেরও অধিক। লামুডির গ্লোবাল কো-ফাউন্ডার ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক পল ফিলিপ হারম্যান বলেন, ‘আমাদের মাঝে অনেকেই মনে করেন উন্নয়নশীল দেশগুলোয় ঘরবাড়ি খোঁজ করার ক্ষেত্রে পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় না। নতুন এই গবেষণা-প্রতিবেদন আমাদের এই ধারণা ভুল প্রমাণিত করেছে। এশিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকায় পরিবেশমুখী সবুজ আবাসন দ্রুততার সঙ্গে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা প্রমাণ করে এই দুই অঞ্চলের দেশগুলোর ক্রেতাদের মধ্যে পরিবেশ-বিষয়ক সচেতনতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এটা এখন শুধুই সময়ের ব্যাপার যে, দ্রুত উন্নয়নশীল এই দেশগুলোতে খুব শিগগিরই সবুজ আবাসনের জোগান ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে।’

বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলোও পরিবেশবান্ধব আবাসনের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকারিভাবে সব ভবনের আলোর শতকরা ৩ শতাংশ বিকল্প উৎস হিসেবে সোলার থেকে ব্যবস্থা করার অনুরোধ করা হয়েছে।

বিল্ডিং টেকনোলজিস অ্যান্ড আইডিয়াসের (বিটিআই) ম্যানেজার ও হেড অব মার্কেটিং মো. সাইফুর রহমান বলেন, ‘আমরা পরিবেশবান্ধব আবাসনের বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিই। এ কারণেই নকশার সময় থেকেই বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। আমাদের প্রতিটি প্রকল্পে সোলারের মাধ্যমে বিকল্প আলোর ব্যবস্থা এবং রেইনওয়াটার হার্ভেস্টিং পদ্ধতি সংযুক্ত থাকে। তাছাড়া আলো-বাতাসের পরিপূর্ণ ব্যবস্থা রাখতে সেটব্যাক মেনে পর্যাপ্ত পরিমাণ জায়গা ছেড়ে তবেই ভবন নির্মাণ করা হয়।’

প্রকৃতির সঙ্গে বন্ধুত্ব করেই সুস্থ ও সুন্দর জীবনযাপন সম্ভব। তাই প্রয়োজনের তাগিদে যত কংক্রিটের জঙ্গলই তৈরি হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত পরিবেশবান্ধব বিষয়টি নিশ্চিত না করা গেলে তা সুস্থ-সুন্দর জীবনের পরিপন্থী হয়ে উঠবেÑ এমনটাই বলছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

কারিকা প্রতিবেদক

0 899

বিজয় সরণির পাশে সবুজ গাছের সারির ভেতর দাঁড়িয়ে ছোট ভাইয়ের ছবি তুলছে আশিক। দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের একটি জেলা শহর থেকে ঢাকায় বেড়াতে এসেছে ওরা। বিজয় সরণির সড়ক-সৌন্দর্য দেখে দু’জনেই মুগ্ধ। তিলোত্তমা নগরীর সড়ক-বিভাজকের সৌন্দর্য দেখে আশিকের মতো অনেকে মুগ্ধ হলেও আদতে সব ক্ষেত্রে কার্যকর হয়ে ওঠেনি এই ‘বিউটিফিকেশন’ প্রচেষ্টা। নগরীতে সুস্থ জীবনমানের জন্য অন্তত ২৫ ভাগ সবুজ থাকা প্রয়োজন। কিন্তু মহানগরীতে সবুজের উপস্থিতি মাত্র ১০ ভাগ। ঢাকায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আসরকে (যেমনÑ বিশ্বকাপ বা সার্ক সম্মেলন) সামনে রেখে ঘষে-মেজে আলোকসজ্জা আর সৌন্দর্যবর্ধক গাছ লাগিয়ে পরিপাটি করে তোলা হলে সড়ক-বিভাজক, সড়ক-দ্বীপ বা ফুটপাতগুলোর পাশে সারা বছরই থাকে বৃক্ষসজ্জা।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন বিপন কুমার সাহা জানান, ‘সড়ক-দ্বীপে গাছ লাগানোর বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে ২০০৪ সালে প্রথমবারের মতো এই উদ্যোগের সঙ্গে দেশের করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংযুক্ত করা হয়। সিটি করপোরেশন বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর এবং সর্বনিম্ন ৬ মাসের জন্য সড়ক-বিভাজক এবং ফুটপাতের পাশে গাছ লাগানোর জন্য চুক্তিবদ্ধ করে থাকে। তবে মূল পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানেই হয়।’

সৌন্দর্যবর্ধনের কাজে অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের ওপর ডিসিসি-কর্তৃপক্ষ কতগুলো শর্ত জুড়ে দেয়। শর্তসাপেক্ষে ঢাকা শহরের প্রধান প্রধান সড়কের কাঁচা অংশ, সড়ক-দ্বীপে ফুলগাছসহ ছায়াযুক্ত ও দৃষ্টিনন্দিত গাছ লাগানো, পরিচর্যা এবং সৌন্দর্যবর্ধনের লক্ষ্যে অনুমোদিত সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ঢাকা সিটি বিউটিফিকেশন সেল-কর্তৃক প্রদত্ত নকশা ও দিকনির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করার অনুমোদন দেয়া হয়। সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর বর্ণিত সড়কে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান তাদের নামে বরাদ্দকৃত স্থানে বরাদ্দকৃত প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ তিনটি অনুমোদিত সৌন্দর্যবর্ধনমূলক বিজ্ঞাপনী সাইনবোর্ড/বিলবোর্ড স্থাপন করতে পারবে। তবে সাইনবোর্ডের আকার ও আকৃতি অবশ্যই ডিসিসি-কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে। এছাড়াও ডিসিসি’র দেওয়া শর্তে বলা হয়েছে, সৌন্দর্যবর্ধিত এলাকা সঠিক পরিচর্যায় ব্যর্থ সংস্থাকে ডিসিসি প্রদত্ত অনুমোদনপত্র বাতিল করে অন্য আগ্রহী প্রতিষ্ঠানকে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হবে।

তবে সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর অনেক সড়কে গাছগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা হয় না। আর পথচারীদের অত্যাচার তো আছেই। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিপন কুমার সাহা বলেন, ‘আমাদের তদারকিতে যখন আমরা দেখি কোনো স্থানের সৌন্দর্য ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে না, তখন চুক্তি বাতিল করে অন্য প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘খালি থাকা সাপেক্ষে নতুন করে রক্ষণাবেক্ষণের কাজে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেওয়া হয়ে থাকে।’

তদারকির বিষয়ে লোকবল সঙ্কটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের লোকবলের মধ্যে সর্বোচ্চ তদারকি করা হয় যেন সৌন্দর্যবর্ধক কার্যক্রমের রক্ষণাবেক্ষণ যথাযথ হয়।’

প্রকৃতিপ্রেমী-বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন
সাহিত্যিক এবং প্রকৃতিপ্রেমী বিপ্রদাশ বড়–য়া বলেন, ‘অন্য সবকিছুর মতো আমাদের এই শহরে সড়ক-দ্বীপের গাছগুলোও অপরিকল্পিতভাবে লাগানো হয়েছে। এমনকি এই শহরের সড়ক-বিভাজকগুলোই পরিকল্পিত নয়। আগে রাস্তা তৈরি হয়েছে, পরে সড়ক-বিভাজক বানানো হয়েছে। এ কারণে অধিকাংশ সড়ক-দ্বীপ ছোট এবং আঁটসাঁট।’

একই ধরনের মতামত দেন নগর-বিশেষজ্ঞ স্থপতি মুশতাক কাদরী। তিনি বলেন, ‘ঢাকা একটি অগণতান্ত্রিক শহর। এখানে শহরের পরিকল্পনা হয় গাড়ি আর যানবাহন দিয়ে, মানুষ দিয়ে নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা শহর বৃক্ষ ধারণ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে, এখন যদি আমরা সত্যিই বৃক্ষ দিয়ে ঢাকা শহরকে সাজাতে চাই তাহলে অনেক দিকে মনোযোগ দিতে হবে।’

বিপ্রদাশ বড়–য়া বলেন, ‘বেশিরভাগ সড়ক-দ্বীপের ক্ষেত্রেই ছোট ছোট গর্ত করে গাছ লাগানো হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে লাগানো হচ্ছে বকুল, দেবদারু বা বড় বটগাছ। দৈনিক বাংলা থেকে ফকিরাপুল সড়কটিতে লাগানো হয়েছে দেবদারু গাছ। সিমেন্টের কারণে এসব গাছ নির্দিষ্ট গি র পরে আর বাড়তে পারছে না। তাছাড়া এত ঘন ঘন গাছ লাগানো হয় যে, এটা কেবলই বৃক্ষরোপণের অংশ হয়ে থাকে, কোনো কাজে আসে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘মতিঝিলে ১০ হাতের মধ্যে প্রায় ৫০টি বকুল-গাছ লাগানো হয়েছে। অথচ বাস্তবিক অর্থে কমপক্ষে দুটো বকুল-গাছের মধ্যে ২০ হাত দূরত্ব রাখা প্রয়োজন। আবার রাজউকের সামনের সড়কের পাশে পর্যাপ্ত মাটি আছে, কিন্তু সেখানে এত বেশি গাছ লাগানো হয়েছে যে, দেখলে এখন জঙ্গল মনে হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সংখ্যাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। কত হাজার গাছ লাগানো হলো সেটাই যেন মুখ্য বিষয়। তবে আসলেই সবুজ চাইলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে নান্দনিক সৌন্দর্য বজায় রেখে এ ধরনের গাছ লাগানো উচিত।’

স্থপতি মুশতাক কাদরী বলেন, ‘সড়ক-দ্বীপে গাছ লাগানোর প্রাথমিক শর্ত হচ্ছে সঠিক স্থানে সঠিক গাছটি লাগানো। দেখতে হবে, যে গাছটি আমরা লাগাতে চাই তার পরিবেশ আছে কিনা, যেখানে গাছ লাগানো হচ্ছে তার মাটির নিচে কী আছে, স্যুয়ারেজ বা গ্যাসের লাইন আছে কিনা, ওপরে বিদ্যুতের লাইনের কী অবস্থাÑ এ রকম নানা কিছু। ভুল গাছ লাগিয়ে যাতে কেটে ফেলতে না-হয় সেটা বিবেচনায় নিতে হবে। কারণ একটি গাছ বড় হতে অনেক সময় লাগে।’

তিনি ঢাকা শহরে গাছ লাগানোর ক্ষেত্রে একটি গাইডলাইন তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বললেন। যেখানে কোথায় কোন গাছ লাগানো যাবে, সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য কোন ধরনের সড়ক-দ্বীপে কী ধরনের গাছ লাগানো যাবে, কোন গাছ লাগানো যাবে নাÑ এসব নির্দেশনা থাকবে। এখন নগরের সড়ক-দ্বীপের গাছগুলো পরিচর্যা করে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। সরকার যদি কোনো গাইডলাইন তৈরি করে দেয় তবে সেটি মেনেই গাছ লাগানোর কাজটি করতে হবে।

সমন্বয়ের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বিপ্রদাশ বড়–য়া বলেন, ‘এসব গাছ লাগানোর জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা খুবই জরুরি।’ বিশ্বের অন্যান্য দেশের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘ভারতের রাজস্থানে দেখেছি ওদের সড়কের জন্য উপযোগী গাছ দিয়ে নান্দনিকভাবে সৌন্দর্য বাড়ানো হয়েছে। আমাদের উচিত এগুলো উদাহরণ হিসেবে নেওয়া। বিশেষ করে গোলাপ, রক্তকরবী বা এ-ধরনের ছোট ছোট গাছ সড়ক-দ্বীপের জন্য খুবই ভালো। শুধু তা-ই নয়, দেশি তালগাছ এক্ষেত্রে আদর্শ হতে পারে। দেশি তালগাছ কেবল উপযোগীই নয়, বরং পাশাপাশি এটা থেকে ফলও পাওয়া যেতে পারে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।’

মিলি মৃন্ময়ী