Home মূল কাগজ আপন আবাস

0 71

জাবেদ ওমর বেলিম
জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার

আমি খুব সৌভাগ্যবান এজন্য যে, আমি হোসনি দালানের ছেলে! এখানকার পরিবেশটাই ছিল অন্যরকম। ছোটবেলায় আমি বুয়েট মাঠ, ফজলে রাব্বি হল মাঠ, নবকুমার স্কুল মাঠ-এসব মাঠ পেয়েছি খেলার জন্য। আমার দাদার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ হলেও ওখানে আমার থাকা হয়নি। আমার জন্ম হয়েছে মাহুতটুলী। আমার বয়স যখন তিন বছর তখন আমরা হোসনি দালানে চলে আসি।
আমার ক্রিকেটার হয়ে ওঠার পেছনে ওই বাড়ির অনেক অবদান। বাড়ির আশপাশে খেলতাম, কতজনের বাড়ির জানালার কাচ ভেঙেছিলাম হিসাব নেই। কারও জানালার কাচ ভেঙে বল ঢুকে গেলে সবাই পালিয়ে যেত, পরে পরিস্থিতি একটু শান্ত হলে আস্তে করে গিয়ে বলটা নিয়ে আসতাম। ওই বাড়িটা ছিল দোতলা। ওখানে আমরা প্রায় ৩৮ বছর ভাড়া ছিলাম। তারপর আমরা ভাইরা মিলে বাড়িটা কিনেছি ২০০৯ সালে।
আমাদের পুরনো বাড়িটার পাশে আমগাছ, ডাবগাছ ছিল। পুরান ঢাকায় এত বড় বাড়ি পেয়েছিলাম বলেই আমার ছেলেবেলাটা রঙিন ছিল। বাড়ির পেছনের খালি জায়গাটাতে আমি কুকুর পুষতাম, ছাগল পুষতাম; মুরগিও ছিল আমার। আমি কখনো চাইনি আমার সে বাড়িটা রি-কনস্ট্রাকশন হোক। আমি চেয়েছি বাড়িটা অমনই থাক, ওখানে আমি থেকে যাব। আমার ছেলেমেয়েরা পরে বহুতল ভবন করলে করবে। কিন্তু কী আর করা! পরিবারের সিদ্ধান্তে বাড়িটা ভেঙে এখন নতুন দুটো বাড়ি করা হচ্ছে-আমার ভাইদের একটা, আমার একটা। ওই বাড়িটা কেনার পর আমি বকশীবাজারে ফ্ল্যাট কিনেছি তিন বছর হলো। কিন্তু ওই বাড়িটার কথা ভুলতে পারি না। এই ফ্ল্যাট-বাসায় থেকে আসলে নিজের বাড়ির যে শান্তি, আনন্দ-সেটা পাওয়া যায় না।
আমি যে আমগাছ, জামগাছ, ডাবগাছ দেখে বড় হয়েছি, এখানে ফুলের টবে ছোট ছোট গাছ দেখে তো সেই আনন্দ, সেই বাতাস পাওয়া যায় না। এখানে এসি দিয়ে, ফ্যান দিয়ে বাতাস সৃষ্টি করতে হয়। সেই বাড়িতে গরম লাগলেই বাড়ির পেছনের খালি জায়গাটাতে চলে যেতাম। প্রাকৃতিক বাতাসে শরীর জুড়িয়ে যেত। সেখানে দক্ষিণ হাওয়া লাগত না, জানালা খুলে দিলে সব দিক থেকেই বাতাস আসত। আমার সবচেয়ে খারাপ লেগেছে যখন গাছগুলো কাটা হচ্ছিল। আমার বাড়ির গাছগুলোকে আমি বেশি মিস করি। কারণ আমি বেশি গাছে চড়তাম। ধরুন বল মেরে কারও বাসার কাচ ভেঙে দিতাম। বাড়ির মালিক তাড়া করলে আমি সোজা গাছে উঠে বসে থাকতাম। আসলে প্রকৃতি আমাকে টানত। প্রাকৃতিক সবুজের যে অনুভূতি সেটা আমি ভীষণ রকম উপভোগ করতাম। আমার খেলোয়াড়ি জীবনের কত কথা বলতাম সেই গাছকে, সেই পাতার সঙ্গে অনেকক্ষণ ধরে একা থাকতাম। খারাপ লাগে যে, গাছগুলো আর হয়তো পাব না।
তবে ঢাকা বদলেছে অনেক ইতিবাচক আবার নেতিবাচকভাবে। আগে বকশীবাজারে রাতের বেলা দূরে থাক, দিনের বেলাও হেঁটে যেতে পারতাম না ভয়ে। এত সুনসান, নীরব ছিল। এখন এখানে হাঁটাই যায় না ভিড়-যানজটের কারণে। একসময় ঢাকার নাম ছিল মসজিদের শহর, টাকার শহর। এখন হলো জ্যামের শহর। জ্যামের হাজারটা কারণ আছে। তার মধ্যে আমার মনে হয় ১০টা সমস্যাও যদি আমরা সমাধান করতে পারতাম, তাহলে যানজট ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কমে আসত। যেমন ফুটপাতে এবং রাস্তায় বসে থাকা স্থায়ী হকারদের কারণে রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হয়। তারা রাস্তা, ফুটপাত দখল করে থাকে আর মানুষজন ফুটপাত ছেড়ে রাস্তায় হাঁটে। ফলে বাড়ে যানজট। ঘটে দুর্ঘটনা। তাই প্রত্যেক এলাকায় যদি একটি নির্দিষ্ট জায়গায় হকার্স মার্কেট করে দেয়া হয়, সব হকার সেখানে বসে, আমার মনে হয় রাস্তার জ্যামটা কমত।
এখন আমি খেলোয়াড় হিসেবে আরেকটা বিপর্যয় দেখি। সেটা হলো রাজধানীতে আমাদের মাঠ কমে যাচ্ছে দিনের পর দিন। এটি পরিবেশের জন্য তো হুমকি বটেই, আমাদের ক্রিকেটের জন্যও হুমকির। কারণ মাঠ না থাকলে, অনুশীলন করতে না পারলে, এদেশে ক্রিকেটার তৈরি হবে না। এখন তো ক্রিকেটে একটা বিশ্বমানে পৌঁছে গেছি আমরা, যার মাধ্যমে দেশকে উপস্থাপন করছি বিশ্ব-মানচিত্রে। সে জায়গাটি থেকে এখন মাঠ খুব দরকার। কিন্তু এই শহরে সেটি আর হচ্ছে কই? খালি জায়গা পেলেই বহুতল ভবন হচ্ছে। আমাদের নগরী কিন্তু এই বিল্ডিংয়ে অভ্যস্ত না, যে কারণেই হয়তো ঘনঘন ভূমিকম্প হচ্ছে।
অন্যদিকে, এই যে অনেক বাড়িঘর হচ্ছে, ভবন হচ্ছে, যার কারণে আমরা আত্মীয়-স্বজনদের থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। পারিবারিক বন্ধন কমে যাচ্ছে। সৌহার্দ্য কমে যাচ্ছে। আগে যেমন আমাদের পুরান ঢাকার দোতলা বাড়িতে আমরা পরিবারের সবাই মিলে থাকতাম, এখন বিভিন্ন জায়গায় ফ্ল্যাট কিনে যে যার মতো থাকছে। কিন্তু আমি শেকড়কে ভুলতে পারিনি। আমি আবার ফিরে যাচ্ছি হোসনি দালানে, আমার পুরান এলাকায়। যদিও নতুন বাড়ি, তবুও একটু সান্তনা যে-ওই এলাকাটা আমার, এখানে একটা তৃপ্তি পাওয়া যায়। আর আমার জীবনে প্রাপ্তির জায়গা তো এগুলোই।

অনুলিখন : সুফিয়ান রায়হান

0 417

সুজেয় শ্যাম

ঢাকার ধানমন্ডির কলাবাগানে একটি বহুতল ভবনের চতুর্থ তলায় বাস করছেন স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের কন্ঠযোদ্ধা ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত সঙ্গীত-পরিচালক সুজেয় শ্যাম। জৌলুসহীন কিন্তু সুন্দর, গোছানো বাসা। ড্রয়িংরুমে রাখা দুটি শোকেসে থরে থরে সাজানো অসংখ্য পুরস্কার-সম্মাননার ক্রেস্ট ও সনদ। এক কোনে ছোট বুকশেলফে শোভা পাচ্ছে কিছু মূল্যবান বই। প্রশান্তিদায়ক এই ড্রয়িংরুমে থাকা বেতের সোফায় বসে গুণী এই মানুষটি সোহরাব শান্তকে জানিয়েছেন তার আবাস ও নগর-ভাবনা সম্পর্কে।

আমার একটাই মেয়ে। একমাত্র সন্তান। আমার বাসা প্রশান্তিময় এক জায়গা। মেয়ের জামাই একজন শিক্ষক। আমার দেখাশোনা করার জন্য মেয়ে চাকরি-বাকরি করলো না। আমার স্ত্রী ছিলেন চিকিৎসক। মেয়ে হওয়ায় কিছুটা মন খারাপ করেছিল! কিন্তু আমরা ভাগ্যবান আমাদের মেয়ে অসাধারণ মানুষ।
মেয়ে আর ছেলেতে পার্থক্য করার সুযোগ কম। ১৯৯৯ সালে স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকে মেয়েই আমার দেখাশোনা করে।
ঢাকার মিরপুরে আমাদের নিজস্ব যে বাড়ি ছিল, আমার চিকিৎসার জন্য কয়েক বছর আগে সেটা বিক্রি করে দিতে হয়েছে। আমার সিলেটের যে জায়গা ছিল, বিক্রি করতে হয়েছে সেটাও।
আমার এই ভাড়া করা ফ্ল্যাট; এখানে বিরাট বড় দুটা ভবন। কিন্তু সামনের রাস্তা সরু। একটা অ্যাম্বুলেন্স ঢুকতে পারবে না। একটা ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢুকতে পারবে না। একটু বৃষ্টি হলে পানি জমে যায়। আশেপাশে কেউ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে; রোগীকে হাসপাতালে নিতে হলে অবস্থাটা কী হবে? কোনো ভবনে আগুন লাগলে কী হবে? কেউ এসব বিষয়ে চিন্তা করে না যে, বাড়ির সামনে একটু চওড়া রাস্তা যদি রাখি সবার জন্যই সুবিধা।
আমরা আধুনিক হচ্ছি। ১০-১২তলা বাড়ি বানাচ্ছি। কিন্তু সচেতনভাবে বানাচ্ছি না। যদি কখনো বড় ধরনের ভূমিকম্প হয়, সরু রাস্তাগুলো দিয়ে ঢুকে লোকজনকে উদ্ধার করাই তো মুশকিল হবে। এই যে পুরান ঢাকা; কোনো কোনো গলিতে একটা রিকশা ঢুকলে আরেকটা রিকশা যাওয়া কষ্টকর। তো, আগুন লাগলে অবস্থাটা কী হবে? চকবাজার বা নিমতলীর ঘটনা তো ঘটেই গেল। তা ছাড়া আগুন নেভাতে পানি নিতে হচ্ছে বাইরে থেকে। পানিটা নেবে কোনদিক দিয়ে? এমনকি আমাদের দেশে যারা পরিকল্পনা এবং স্থাপনা তৈরির সঙ্গে যুক্ত তারা কতটা দায়িত্বশীল? পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া ব্রিজ বা আমাদের সিলেটের কিন ব্রিজ, ভৈরব রেল ব্রিজ এসব শত বছর আগের, ব্রিটিশ আমলে করা। এখনো তো এসব ব্রিজ দিয়ে গড়ি চলে। আর এখন? আজ ব্রিজ বানায় তো কাল ভেঙে পড়ার অবস্থা!
ঢাকা শহরে আগে ময়লা নেওয়ার মানুষ ছিল না। এখন প্রত্যেক পাড়ায় পাড়ায় ময়লা নেওয়ার লোক আছে। আমার বাসা থেকেও নিয়ে যায়। কিন্তু অনেকেই যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলে। গাড়িতে বসে খেয়ে মোড়ক বা প্যাকেটটা রাস্তায় ফেলে। এই স্বভাব দূর করতে হবে। যতদিন এই স্বাভাব পরিবর্তন না হচ্ছে, কোনো পরিকল্পনাতেই শহর পুরোপুরি সুন্দর হবে না। অযথা সরকারকে দোষারোপ করে লাভ নাই। শহর সুন্দর রাখতে নাগরিকদেরই দায়িত্ব পালন করতে হবে।
যানজটমুক্ত শহরের কথা বলছি আমরা। গাড়িটা আমি চালাই বা আমার ড্রাইভার চালাক ড্রাইভার যদি শহরের ভেতরে ১০০ মাইল বেগে চালায়, তাকে বাঁধা দেব। এটাই উচিত। ১০ মাইল বেগেও যদি চালায় হর্নটা যেন কম বাজায়।
আমার বাড়ি সিলেট। গ্রামের বাড়ি ছিল সিলেটের ইন্দ্রেশ্বর। সিলেট শহরের কাষ্টগড়েও বাড়ি ছিল। ১৯৬৪ সালে গিটারবাদক হিসেবে চট্টগ্রাম বেতারে আমার চাকরি হয়। তখন চট্টগ্রাম খুবই সুন্দর একটা জায়গা ছিল। এত মানুষজন ছিল না। এত অট্টালিকাও ছিল না। খুব ভালো লাগত। স্বপ্নপুরীর মতো মনে হতো। সিলেটও খুব সুন্দর ছিল।
এক পর্যায়ে আমি চট্টগ্রাম বেতারের স্টাফ হই। তখন রেডিওতে স্টাফ হওয়া খুব ঝামেলার ব্যাপার ছিল। যা-ই হোক, ১৯৬৮ সালে আমি চট্টগ্রাম বেতারের চাকরি ছেড়ে ঢাকায় চলে আসি। ঢাকা রেডিওতে চাকরি নিই। বাচ্চাদের অনুষ্ঠান করতাম। বড়দের অনুষ্ঠানও করতাম। আর গিটার-পিয়ানো এগুলো বাজাতাম। এর সঙ্গে আমি চলচ্চিত্রেও যুক্ত হলাম। ঢাকা তখন ছিল একটা পরিপূর্ণ সুন্দর চাদরে মোড়ানো শহর। তখন আমি ফার্মগেটে আনন্দ সিনেমা হলের পেছনে থাকতাম। অবশ্য প্রথমে এসে উঠেছিলাম ধানমন্ডিতে, দুই নম্বর রোডে। তখন এত যানজট ছিল না। মানুষের মনও ভালো ছিল। এতো সড়ক দুর্ঘটনাও ছিল না। এখন মানুষ অনেক বেড়েছে। ঢাকা শহরের অনেক পরিবর্তন হয়েছে।
ঢাকা শহরের পরিচ্ছন্নতা ও বিশুদ্ধতার জন্য শুধু সরকারের দিকে চেয়ে থাকলে হবে না। আমার-আপনারও কর্তব্য আছে। আমি যেমন আমার এই ভাড়া বাসাটার দেয়াল থেকে শুরু করে সবকিছু পরিচ্ছন্ন রাখি। এখন আমি যদি অকারণে দেয়াল নোংরা করি, এটা তো আমার দোষ। এই যে ঢাকা শহরে এতো ফুটওভার ব্রিজ, এগুলোতে মানুষ উঠতে চায় না।
নগরীর কোনো দোষ নাই। এই মাটিতে এখনো আমগাছে আম ধরে। জামগাছে জাম ধরে। গন্ডগোলটা হলো আমাদের মধ্যে। ঢাকা শহর কোনো মেয়র এসেই ঠিক করতে পারবে না, যতক্ষণ-না সমস্যাগুলোকে আমরা নিজের করে নিচ্ছি। আমার মেয়ে এবং মেয়ের জামাই প্রতিদিন ঘরটা ঝাড়ু দেয়। মোছে। রান্নাঘর পরিষ্কার করতে সমস্যা হলে অনেক সময় আমার গাড়ির চালক সহায়তা করে। ও ১৮ বছর ধরে আমার সঙ্গে আছে। নিজের ছেলের মতোই দেখি ওকে। আমরা যা খাই, সেও তাই খায়। আসলে যতক্ষণ-না একান্নবর্তী মনোভাব এসেছে, ততক্ষণ কোনো ঘর পরিপূর্ণ সুন্দর হতে পারে না। আমাদের দেশে আগে তো একান্নবর্তী পরিবারই ছিল। এখন প্রায় সবই একক পরিবার।
একটা সময় আমাদের দেশের মায়েদের অধিকাংশেরই অল্প বয়সে বিয়ে হয়েছে। তাদের আট-দশজন করে সন্তান হয়েছে। সন্তানদের মধ্যে কেউ কেউ জজ-ব্যারিস্টার হয়েছে। তারা কিভাবে সন্তান মানুষ করেছেন? বাবারা তো কাজের ব্যস্ততায় সন্তান মানুষ করার দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। মায়েরা পেরেছেন। কারণ তাদের ভালোবাসা ও মমতা ছিল তুলনাহীন। ভালোবাসা একটা বিরাট ব্যাপার।
শহরে আজকাল গাছ নেই বললেই চলে। অথচ চাইলেই সবুজের সঙ্গে থাকা যায়। চাইলে শহরেও টুকটাক কৃষিকাজ করা যায়। বিশেষত ছাদবাগান এবং বারান্দায় সবজি চাষ। সবাই যদি এমন করতো, তাইলে আজ দূষিত খাবার খাওয়ার দরকার ছিল না। এখন কেউ যদি মনে করে, ধুর, পয়সা আছে আমি বাজার থেকে কিনে শাক-সবজি-ফল খাব। তাহলে আর কী করার? বিদেশে বাড়ি বা ফ্ল্যাটের সামনে ফুলের বাগান আছে। আমি লন্ডনে দেখেছি এটা, কারও বাগানের দিকে কেউ হাত বাড়ায় না। এখানে একটা ফুলের বাগান করলে বেড়া দিয়েও নিরাপদ রাখা সম্ভব না।
এ জন্য সচেতনতা দরকার। আমি যদি আমার বাসার সামনে ময়লা ফেলে রাখি, মেয়র কী করতে পারবেন? পাশের বাসায় একজন অসুস্থ মানুষ আছেন। আমি-আপনি উচ্চৈস্বরে গান বাজালাম। এতে রোগির অসুবিধা হয়। রাস্তায় অকারণে হর্ন বাজাতে থাকলাম। এমনও হর্ন আছে শুনলে গাড়িতেই ফিট হয়ে পড়ে যাওয়ার যোগাড় হয়। এটা তো শুধু আইন করে বন্ধ করার ব্যাপার না। এটা বিবেকেরও ব্যাপার।
তাই সুন্দর শহর চাইলে মনটাকে আগে সুন্দর করতে হবে। সচেতন হতে হবে নিজেদেরই।

0 947

দেশবরেণ্য অর্থনীতিবিদ ও পরিবেশবিদ ড. কাজী খলিকুজ্জমান আহমদ। বর্তমানে উন্নয়ন সংস্থা পল্লীকর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর চেয়ারম্যান। দেশ-বিদেশে নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তিনি জীবনের বর্ণিল সময় কাটিয়েছেন। জীবনের নানা সময়ে থাকতে হয়েছে বিভিন্ন বাড়িতে। তার আপন আবাসের স্মৃতি-অভিজ্ঞতা লিখেছেন ফারিয়া মৌ।


সিলেটের করিমগঞ্জ। এক সময় এই এলাকাটা ভারতের একটা অংশ ছিল। করিমগঞ্জ সাবডিভিশনের রাতারগুল থানায় পরিবারের সঙ্গে প্রথম বসবাস শুরু হয়। তার বাবা তৎকালীন ভারত সরকারের বিধানসভার একজন এমএলএ ছিলেন। পরে, ১৯৫২ সালে পরিবারের সঙ্গে বসবাস শুরু করেন মৌলভীবাজারের রাজনগরে। সেখানে বিশাল বাড়ি ছিল তাদের। বাড়িতে প্রচুর লোকসমাগম হতো তখন। এমএলএ-বাবার কাছে প্রতিদিন অনেক মানুষ তাদের সুবিধা-অসুবিধা কিংবা নানা বিষয়ে পরামর্শ নিতে আসতেন। ফলে অনেক মানুষের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হতো সে-সময়। তখন বাড়িতে আগত অতিথিদের এক ধরনের বিশেষ চা দিয়ে আপ্যায়নের একটা প্রচলিত নিয়ম ছিল। ফলে সবার মুখে মুখে ছিল এমএলএ-বাড়ির চায়ের প্রশংসা। তাই কিছু উৎসাহী মানুষ এই বিশেষ চা নিয়ে একটা গানও বেঁধেছিল। বাড়ির পাশেই ছিল দিগন্তজোড়া মাঠ। সেই মাঠে প্রতিদিন নিয়ম করে খেলতে যেতেন।
বর্তমানে রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেনে একটি পনের তলা অ্যাপার্টমেন্ট-বাড়ির দোতলায় সস্ত্রীক থাকছেন। ফ্ল্যাটের ভেতরটা দেখলে মনে হবে যেন একটা গোটা লাইব্রেরি। বাড়ির প্রবেশপথে ঢুকতেই একটা সরু করিডোর। করিডোর ধরে এগিয়ে গেলেই সুসজ্জিত ড্রইংরুম। ড্রইংরুমে বেশ কয়েকটা চিত্রকর্ম। প্রয় সবগুলো দেয়াল ঘেঁষে সাজানো অজস্র বই। প্রথম দেখায় বসার ঘর না ভেবে একটা ব্যক্তিগত লাইব্রেরি ভেবে ভুল করতে পারেন  যেকেউ। বাড়ির অন্য ঘরগুলো বেশ সাদামাটা। মাত্রাতিরিক্ত কোনো আসবাবও নেই সেখানে। তার স্ত্রী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষকও তার মতোই সাদামাটা জীবন যাপন করেন। ফলে গোটা বাড়িটাই বেশ ছিমছাম, রুচিশীল। বাড়িজুড়ে একটা প্রাণের ছোঁয়া আছে। প্রবীণ বয়সে এসেও পেশাগত কারণে তাকে প্রতিনিয়ত ছুটে বেড়াতে হচ্ছে দেশ-বিদেশে। গত কয়েকবছর ধরে ড. খলীকুজ্জমান আহমদ পিকেএসএফ থেকে একটি বিশেষ প্রজেক্ট ‘সমৃদ্ধ বাড়ি’ নিয়ে কাজ করছেন। বলাবাহুল্য, এই প্রজেক্টটি বেশ সফল হয়েছে। এই প্রজেক্টের সাফল্যের জন্য তিনি ইতোমধ্যে ব্যাপক সুনাম কুড়িয়েছেন। প্রজেক্টের মূল থিম হচ্ছে যেকোনো মানুষ তার বসতবাড়িকে কাজে লাগিয়ে কিভাবে অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী হতে পারেন। একটা সমৃদ্ধ বাড়ির বৈশিষ্ট্যের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, বাড়ির পতিত জায়গায় ফল ও সবজি এবং ঔষধি গাছ লাগাতে হবে। এছাড়া হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল, কবুতরসহ অন্যান্য গৃহপালিত পশু-পাখি পালন করে আর্থিক স্বচ্ছলতা নিশ্চিত করতে হবে। গবাদি পশুর বিষ্ঠা থেকেই প্রাকৃতিক সার উৎপাদন সম্ভব, যা স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য বিশেষভাবে উপকারি। এছাড়া প্রতিটি বাড়িতে একটি পুকুর থাকবে, যেখানে মাছের চাষ করে পরিবারের দৈনন্দিন মাছের চাহিদা মিটিয়ে মাছ বিক্রি করে আর্থিক স্বছলতা পাওয়া সম্ভব। এই সমৃদ্ধ বাড়ির একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, প্রতিটি বাড়িতে ন্যূনতম একটি নিমগাছ ও সজনেগাছ থাকতে হবে, যা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত উপকারি।  এছাড়া বাড়িতে অবশ্যই স্যানিটেশন-ব্যবস্থা ও বিশুদ্ধ খাবারযোগ্য সুপেয় পানির জন্য টিউবওয়েলের ব্যবস্থা  অথবা জলকুপের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
মানব উন্নয়নে তথা সমাজে যোগ্য মর্যাদা পেতে এবং মানবিক জীবনযাপনে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার কোনো বিকল্প নেই। তাই পিকেএসএফ-এর প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ একটি বাড়িতে বসবাসকারীদের জন্য আর্থিক স্বচ্ছলতা নিশ্চিত করতে এই বিশেষ প্রজেক্ট নিয়ে কাজ শুরু হয়। তিনি মনে করেন সারা বাংলাদেশে সমৃদ্ধ বাড়ির এই ধারণাকে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।

0 813

কারিকা ডেক্স


ফুলের চাহিদা সারা বছরই। তবে শীত-মৌসুমে বিয়েসহ নানা আয়োজন বেশি হয়ে থাকে বলে চাহিদা আরও বেড়ে যায়। তাই চাইলে আপনার বাড়ির ছাদেই চাষ করতে পারেন শীতকালীন নানা ফুলের। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, আঙিনা, ট্যারেস, ভয়েড, করিডোরসহ যেখানে দিনে অন্তত তিন থেকে চার ঘণ্টা সূর্যের আলো পড়ে সেখানেই সাজিয়ে নিতে পারেন বাহারি সব শীতের ফুল দিয়ে। শীত এলেই ঢাকার আগারগাঁও, গুলশান, বনানী, বসুন্ধরা ও কার্জন হল-সংলগ্ন রাস্তার দু’পাশের নার্সারিগুলো নানা রঙের ফুলের পসরা সাজিয়ে বসে। নার্সারিগুলোতে শীতের ফুলগাছের চারা, টব, মাটি, সার কিংবা টবসহ ফুটন্ত ফুলগাছ সবই কিনতে পাওয়া যায়। দাম বিশ টাকা থেকে শুরু করে গাছভেদে একশ টাকার মধ্যে। এসব নার্সারিতে শীতের ফুলের মধ্যে গাঁদা, ইনকা গাঁদা, ডালিয়া, পিটুনিয়া, সিলভিয়া, ডায়ানথাস ও চন্দ্রমল্লিকা, কসমস, পানসি, এস্টার, পপি, ফ্লক্স, গাজানিয়া, জারবেরা, গ্ল্যাডিওলাস, ক্যালেন্ডুলা, ডেইজি, ভারবেনা, হেলিক্রিসাম, লুপিন, কারনেশন, ইত্যাদি ফুল বেশি পাওয়া যায়। শীতের ফুল লাগানোর জন্য বেলে-দোআঁশ মাটি এবং ৮  থেকে ১২ ইঞ্চি মাপের টব যথেষ্ট। ছোট আকৃতির গাছ যেমন ডায়ান্থাস, গাঁদা, পিটুনিয়া, ভারবেনা, গাজানিয়া ইত্যাদি ছোট টবে লাগানো যেতে পারে। তবে ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা এগুলো ১০-১২ ইঞ্চি টবে লাগানো যায়।
প্রতি টবের জন্য বেলে-দোআঁশ মাটির সঙ্গে তিন ভাগের এক ভাগ পরিমাণ জৈব সার বা পঁচা শুকনো গোবর মিশিয়ে মাটি তৈরি করতে হবে। এর সঙ্গে এক মুঠো হাড়ের গুঁড়ো, দুই চা-চামচ চুন, দু-মুঠো ছাই মিশিয়ে নিতে পারলে ভালো হয়। এতে টবের মাটি দীর্ঘদিন উর্বর থাকবে। টবে মাটি ভরাট করার আগে টবের গোড়ায় ছিদ্রটি ইটের সুরকি বা টবের ভাঙা টুকরো দিয়ে ঢেকে দিতে হবে, যাতে মাটির ভারে ছিদ্রটি বন্ধ হয়ে না যায় এবং সেই ছিদ্র দিয়ে যাতে তলানিতে জমতে থাকা অতিরিক্ত পানি বের হয়ে যেতে পারে। চারা লাগানোর পর আস্তে আস্তে চাপ দিয়ে গোড়ার মাটি শক্ত করে দিতে হবে।  গাছে প্রতিদিন সকালে অথবা বিকালে পরিমিত পানি সেচ দিতে হবে যাতে শুধু গোড়ার মাটি  ভেজা থাকে কিন্তু উপচে না পড়ে। শুধু গাছের গোড়ায় পানি না দিয়ে ঝাঁঝরি দিয়ে গাছের ওপর থেকে বৃষ্টির মতো গাছ-পাতা ভিজিয়ে নিয়মিত হালকা পানি দেয়া ভালো। এতে গাছ  বেশি সতেজ থাকে।
গাঁদা, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, সূর্যমুখী ইত্যাদি ফুলগাছকে খাড়া রাখার জন্য অবলম্বনের প্রয়োজন হয়। গাছের চারা অবস্থা থেকেই এ ব্যবস্থা করতে হয়। এ কাজে বাঁশের কঞ্চি বা স্টিক ব্যবহার করা যেতে পারে। টবে গাছের গোড়ার মাটি একেবারে গুঁড়ো না করে চাকা চাকা করে খুঁচে দেওয়া ভালো। এক্ষেত্রে মাটি খোঁচানোর গভীরতা হবে টবের উচ্চতাভেদে ৩-১০ সেন্টিমিটার বা ১ থেকে ৪ ইঞ্চি। এ কাজটি প্রতি ৭ থেকে ১০ দিন পর পর একবার করে করতে হবে।
গাছে কুঁড়ি আসতে দেরি করলে সরিষার খইল চারগুণ পানির সঙ্গে মিশিয়ে ৭ থেকে ১০ দিন একটি পাত্রে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর আবার মিশ্রণটি চারগুণ পানির সঙ্গে গুলে ১৫ দিন পর পর শুধু গাছের গোড়ার চারদিকে কুঁড়ি না আসা পর্যন্ত দিন। কুঁড়ি আসার লক্ষণ প্রকাশ  পেলে ৫০ গ্রাম টিএসপি (কালো সার), ১০০ গ্রাম ইউরিয়া (সাদা সার) ও ২৫ গ্রাম এমওপি (লাল সার) একসঙ্গে মিশিয়ে প্রতি গাছে এক চা-চামচ করে ১০ দিন অন্তর দিতে হবে। তবে এক মৌসুমে এই রাসায়নিক সার তিনবারের বেশি দেওয়ার দরকার নেই। রাসায়নিক সার ব্যবহারের সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন সার কোনোভাবেই শিকড়ের ওপর না পড়ে।
ফুল ফোটা শুরু হওয়ার পর থেকে ফুল-পাতা ভিজিয়ে পানি না দেওয়াই ভালো। বেশি দিন ধরে গাছে ফুল রাখতে চাইলে গাছে কখনো ফুল শুকাতে দিতে নেই। ফুল শুকানো শুরু হলেই সিকেচার বা কাঁচি দিয়ে কেটে দিতে হয়। এতে বেশি ফুল পাওয়া যায়। তবে পর্যাপ্ত পরিমাণে সরাসরি সূর্যের আলো না পেলে একদিকে যেমন গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে অন্যদিকে ফুলের আকার, সংখ্যা ও স্থায়িত্ব তুলনামূলকহারে হ্রাস পেতে পারে।

0 919

সাবরিনা মিলি


বিশ্বের ১৫টি দেশের ২৫০টি প্রতিষ্ঠানের ৩৫০টি স্টল নিয়ে আজ ২৬ অক্টোবর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায়  সেমস গ্লোবাল আয়োজিত ১৯তম পাওয়ার বাংলাদেশ এক্সপো ২০১৭, ১৪তম সোলার বাংলাদেশ এক্সপো ২০১৭, ২১তম কন- এক্সপো ২০১৭, ১৮তম রিয়াল এস্টেট এক্সপো ২০১৭, ২য় ইন্টারন্যাশনাল সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপো বাংলাদিশ ২০১৭। এবং পানি সম্পদ মন্ত্রনালয় ও সেমস যৌথভাবে আয়োজিত ওয়াটার বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো ২০১৭ উদ্বোধন করা হয়।

সকাল ১১,০০টায় এই প্রদর্শনীগুলো উদ্বোধন করেন গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা জনাব এইচ টি ইমাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার জনাব হার্স ভার্ধন শ্রীংলা; জিনাব জাফর আহমেদ খান, সিনিয়র সেক্রেটারি, পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়, গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার; জনাব মোঃ সাইফুল ইসলাম মহিউদ্দীন, সভাপতি, ফেডারেশন অব চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি(এফবিসিসিয়াই) এবং ডা.রাজিব শিং, ডিরেক্টর জেনারেল, ইন্ডিয়া চেম্বার অব কমার্স(আইসিসি)।

প্রদর্শনীর পাশাপাশি বিকাল ৩.০০ টা থেকে ৫.০০টা পর্যন্ত “Application of Innovation Tools and Techniques in water Resource Management (WRM)”   শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটির বসুন্ধারা সিটির কক্ষে।

পদর্শনী চলবে আগামি ২৬-২৮ অক্টোবর সকাল ১০.০০টা থেকে ৭.৩০টা পর্যন্ত।

 

কারিকা ডেক্সঃ
রাজধানী ঢাকার আলোচিত সমস্যাগুলোর একটি ‘বাড়িভাড়া’। এই সমস্যা আছে দেশের অন্যান্য মহানগরীতেও। অতিরিক্ত ভাড়া গুনেও প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা পরিপূর্ণভাবে না পাওয়ার অভিযোগ ভাড়াটিয়াদের।
ঢাকা মহানগরীর বাসিন্দাদের বড় একটা অংশই বিভিন্ন আবাসিক ভবনে ভাড়ায় থাকেন। এর মধ্যে প্রায় সবাই মধ্যবিত্ত ও নিন্মবিত্ত শ্রেণির। জনসংখ্যার ঘনত্ব থাকায় বাড়িওয়ালারা আছেন সুবিধাজনক অবস্থানে। নিয়ম-নীতি ও আইনের তোয়াক্কা না করে বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ বেশিরভাগ বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে।
জীবন-জীবিকার তাগিদে ঢাকা মহানগরীতে থাকতে বাধ্য, এমন মানুষেরা বাড়িভাড়া নিয়ে খুব একটা উচ্চবাচ্য করেন না। তবে অসন্তোষ যে চরমে, তা একটু খোঁজ নিলেই পরিষ্কার বোঝা যায়। এই অসন্তোষের সঙ্গে সম্প্রতি যোগ হয়েছে নতুন ঝামেলা। রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার পর ভাড়াটিয়া-বাড়িওয়াল দু’পক্ষই আছে অসুবিধায়। বিশেষত ঢাকা শহরের অসংখ্য ব্যাচেলর সবচেয়ে ঝামেলায় রয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া দিতে চেয়েও অনেক এলাকায় বাড়িভাড়া পেতে ঝক্কি পোহাতে হচ্ছে তাদের।

অতিরিক্ত ভাড়ার চাপে ভাড়াটিয়ারা
রাজধানীর বাড়িওয়ালাদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, ভাড়ার রশিদ না দেয়া, ইচ্ছেমতো ভাড়া বৃদ্ধি, জোর করে ভাড়াটিয়া তুলে দেওয়াসহ নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে। ভাড়াটিয়ারা জানিয়েছেন, অগ্রিম ভাড়া, বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ কাজের খরচ, ইউটিলিটি বিল নেওয়ার ক্ষেত্রেও নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছেন না বাড়ি-মালিকরা। রাজধানীর মোহাম্মদপুর, আগারগাঁও ও রামপুরা এলাকার কয়েকজন ভাড়াটিয়ার সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। ঢাকা মহানগরীর এমন কোনো এলাকা নেই যেখানে গত পাঁচ-ছয় বছরে বাড়িভাড়া প্রায় দ্বিগুণ হয়নি। অভিজাত ফ্ল্যাটগুলোতে ভাড়া বেড়েছে। তেমনি বেড়েছে বস্তিতেও। গত বছর বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে রাজধানীর বাড়িভাড়া আরেক দফা বাড়ান বাড়িওয়ালারা। কোথাও কোথাও আবার ভাড়া বাড়ে ষান্মাসিক হিসেবে!
বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণে ২৪ বছর আগে করা ত্রুটিপূর্ণ আইনের সুযোগে বাড়িওয়ালাদের স্বেচ্ছাচারিতার যেন শেষ নেই। বাড়িভাড়া বাড়ানো নিয়ে নৈরাজ্য ঠেকাতে ১৯৯১ সালে ‘বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন’ প্রণয়ন করা হয়েছিল। বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন এলাকায় নিয়ন্ত্রক, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রক ও উপনিয়ন্ত্রক নিয়োগেরও বিধান রাখা হয়েছে আইনে। আইনটি প্রণয়নের পর ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকা ও অবস্থানভেদে ভাড়ার হারও নির্ধারণ করে। কিন্তু পরে এসবের কিছুই আর বাস্তবায়ন করা হয়নি। সর্বশেষ গত বছরের শেষদিকে ‘ছয় মাসের মধ্যে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিশন’ গঠন করে বাড়িভাড়া নিয়ে বিরোধের কারণ চিহ্নিত করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।
কামাল হোসেন নামের একজন ভাড়াটিয়া জানান, গত বছর সরকারের বিদ্যুৎ-গ্যাসের দাম বাড়ানোর অজুহাতে বাড়িওয়ালারা নতুন বছরের শুরুতে বর্ধিত ভাড়ার স্লিপ ধরিয়ে দেন। একই তথ্য দেন অন্যরাও। ভাড়া বৃদ্ধির পরিমাণ এলাকাভেদে সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত। বর্তমানে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে, তা বাস্তবায়ন হলে সমস্যা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন তারা। কারণ গ্যাসের দাম বাড়লে বাড়িভাড়াও অনেক বেড়ে যাবে। যদিও বর্তমানে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানির মূল্য ভাড়াটিয়ারাই পরিশোধ করেন। এ ধরনের বিল আগে বাড়িভাড়ার সঙ্গে যুক্ত ছিল।
মূলত বাড়িভাড়া বৃদ্ধি ভাড়াটিয়াদের জন্য আতঙ্কের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, প্রতি বছরই বাড়িভাড়া গড়ে ১৬ শতাংশ বাড়ছে। নিয়ন্ত্রণের কোনো উদ্যোগ না থাকায় যে যেভাবে পারছেন ইচ্ছেমতো ভাড়া নির্ধারণ করছেন বাড়িওয়ালারা। বাধ্য হয়েই রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে বসবাসকারী নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত, গার্মেন্ট শ্রমিকসহ নিন্মবিত্ত আয়ের মানুষকে তাদের কষ্টার্জিত আয়ের বেশিরভাগই বাড়িভাড়ার পেছনে ব্যয় করতে হচ্ছে।
এদিকে বাড়ির মালিকদের কাছে ঢাকাসহ দেশের বড় শহরের প্রায় পাঁচ কোটি ভাড়াটিয়া জিম্মি হয়ে পড়লেও সরকার এ বিষয়ে উদ্যোগী হচ্ছে না বলে অভিযোগ ভাড়াটিয়া কল্যাণ সমিতির। বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে তারা এ অভিযোগ করেছে। সমিতির দেওয়া তথ্যমতে, একদিকে লাগামহীন বাড়িভাড়া বৃদ্ধি ও অন্যদিকে যখন-তখন স্বল্প নোটিশে ভাড়াটিয়াদের বাড়িছাড়া করছেন ভবন-মালিকরা। রসিদের পরিবর্তে হাতে হাতে লেনদেন হওয়ায় এ নিয়ে আইনের আশ্রয়ও নেওয়া যাচ্ছে না। গত ২৫ বছরে (১৯৯০ থেকে ২০১৫) ছয়টি বিভাগীয় শহরে বাড়িভাড়া আড়াইশ’ শতাংশ বেড়েছে বলে সংগঠনটির এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়।

ব্যাচেলর ভাড়াটিয়ারা জটিল সমস্যায়
‘ব্যাচেলরদের বাসা ভাড়া দেওয়া বিপজ্জনক’ ঢাকাসহ অন্যান্য বড় শহরগুলোর বাড়িওয়ালাদের মনোভাব এখন এমনই। কয়েকমাস আগেও কিছু বাড়িওয়ালা ব্যাচেলর ভাড়াটিয়া পেয়ে খুশি থাকতেন। কারণ ব্যাচেলরদের কাছ থেকে তুলনামূলক বেশি ভাড়া পাওয়া যায়। গণেশ উল্টে যায় ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার পর।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ব্যাচেলরদের ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্ক হতে। গুলশান হামলায় জড়িতরা রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাড়ির ফ্ল্যাটে নাম-পরিচয় গোপন করে ভাড়া নেয় এবং বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়ার তথ্য সংগ্রহ করে থানায় জমা দেয়নি। এ অভিযোগে ফ্ল্যাটের মালিকসহ বাড়ির কেয়ারটেকারকে জেলে যেতে হয়। একই ঘটনা ঘটে কল্যাণপুরের অভিযানে জঙ্গি নিহত হওয়ার পরও। ‘জাহাজবাড়ি’ খ্যাত বাড়িটার মালিককে যেতে হয় জেলে। এ দুই ঘটনায় বাড়িওয়ালাদের মনে ঢুকে যায় আতঙ্ক।
তাছাড়া আগে থেকেই পুলিশ ভাড়াটিয়ার তথ্য-সংরক্ষণ ও থানায় জমা দেওয়ার ব্যাপারে কড়াকড়ি করছিল। সব মিলিয়ে বাড়িওয়ালারা এখন ব্যাচেলর শুনলেই সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছেন। পারতপক্ষে কোনো ব্যাচেলরকে ফ্ল্যাট ভাড়া দিতে চান না তারা। জঙ্গি ইস্যুতে অনেক ব্যাচেলরকে ফ্ল্যাট ছাড়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কাউকে কাউকে ফ্ল্যাট ছাড়তে বাধ্যও করা হয়েছে।
এদিকে বাসাভাড়া দেওয়া নিয়ে বাড়িওয়ালারাও বিপাকে পড়েছেন। প্রতিদিনই ভাড়াটিয়াদের ওপর বিশেষ নজর রাখতে হচ্ছে। পুলিশের নির্দেশনা অনুসারে নতুন-পুরনো ভাড়াটিয়ার বিস্তারিত তথ্য থানায় জমা দিতে হচ্ছে। ভাড়াটিয়ার জাতীয় পরিচয়পত্র নেওয়া হলেও তা সত্য না মিথ্যা সেই চিন্তায় থাকতে হচ্ছে। বর্তমানে বাড়ির মালিকরা বাসাভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে যেমন সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন, তেমনি জঙ্গিবাদের আতঙ্কও রয়েছে তাদের মধ্যে। ফলে বাসা খালি থাকলেও পরিবার ছাড়া ভাড়া দিচ্ছেন না।
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীর আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে এবং সন্ত্রাসীসহ অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে বছরখানেক আগে নাগরিক তথ্য ভান্ডার তৈরির লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এ লক্ষ্যে ২০ লাখ ১৫ হাজার ৩৭৪টি ফরম বিতরণ করে রাজধানীর ৪৯ থানা পুলিশ।
তবে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শেখ মুহাম্মদ মারুফ হাসান সম্প্রতি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ব্যাচেলরদের বাড়িভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশের কোনো বিধিনিষেধ নেই। বাড়িওয়ালাদের কোনো ভীতি থাকাও উচিত নয়। যাদের কাছেই (ব্যাচেলর বা ফ্যামিলি) বাসা ভাড়া দেওয়া হোক না কেন, সেই তথ্য পুলিশকে জানাতে বলা হয়েছে।

যা আছে বাড়িভাড়া আইনে
‘বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯৯১’ অনুযায়ী প্রতি দুই বছর পর (নিয়ন্ত্রকের মাধ্যমে) ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা যাবে। কিন্তু ঢাকায় বছরে দুইবার ভাড়া বৃদ্ধির নজিরও আছে। ভাড়ার রসিদ ও বাড়ি ছাড়ার জন্য নোটিশের কথা বলা হয়েছে আইনে। বাড়িভাড়া আইন অনুযায়ী নিয়ন্ত্রকের লিখিত আদেশ ছাড়া কোনো অগ্রিম ভাড়া আদায় করা যাবে না। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ এক মাসের অগ্রিম ভাড়া গ্রহণ করা যেতে পারে।
আইনে বলা হয়েছে, ভাড়াটিয়া যদি নিয়মিতভাবে ভাড়া পরিশোধ করতে থাকেন এবং বাড়িভাড়ার শর্ত মেনে চলেন তাহলে যতদিন ভাড়াটিয়া চাইবেন ততদিন থাকবেন, তাকে উচ্ছেদ করা যাবে না। এমনকি বাড়ির মালিক পরিবর্তিত হলেও ভাড়াটিয়া যদি আইনসম্মত ভাড়া দিতে রাজি থাকেন, তবে তাকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা যাবে না। আইন অনুযায়ী, ভাড়ার আগে দু’পক্ষের মধ্যে লিখিত চুক্তি থাকতে হবে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, ভাড়ার রসিদ দিতে ব্যর্থসহ নানা অপরাধের জন্য জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইনে।

0 2198

যখন আপনি বাড়ি থেকে বাইরে, অফিসে কিংবা কোনো আড্ডায়Ñ ছোট ছোট কিছু সন্দেহ তখন ভিড় করে আপনার মাথায়। কফি মেকারটা কি বন্ধ করেছিলাম? নিরাপত্তা-ধ্বনি (সিকিউরিটি অ্যালার্ম) কি সেট করে এসেছি? শিশুরা কি তাদের হোমওয়ার্ক করছে নাকি টিভি সেটে তাদের চোখ?

একপলকেই এসব দুশ্চিন্তা ঝেড়ে ফেলে শান্ত থাকতে পারেন, যদি আপনার হাতে থাকে একটা স্মার্টফোন বা একটা ট্যাবলেট। আর যদি তার সঙ্গে বাড়ির সব যন্ত্রপাতি ও মেশিনের সংযোগ জুড়ে দেওয়া থাকে তাহলে যন্ত্রগুলো নিজেদের মধ্যে এবং আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে ওই স্মার্টফোনের মাধ্যমে।

একটি আধুনিক বাড়িতে নানারকম সিস্টেম থাকে। যেমনÑ ফায়ার সিস্টেম, সেন্ট্রাল হিটিং সিস্টেম, সিকিউরিটি সিস্টেম। হরেক পদের ডিভাইস তো থাকেই। যেমনÑ টিভি, মিউজিক সিস্টেম, লাইট, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ সরঞ্জাম ইত্যাদি। কিন্তু এসব সিস্টেম ও ডিভাইসগুলো একটি অপরটি থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন থাকে। স্মার্টহোমে এসব ডিভাইস এবং সিস্টেম একে অপরের সঙ্গে তথ্য দেওয়া-নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন কাজ সম্পাদন করার জন্য সিগন্যাল পাঠাতে পারে।

স্মার্টফোনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায় এমন বাড়িঘরকে এখন বলা হচ্ছে স্মার্টহোম। বৈদ্যুতিক সংযোগ আছে এমন যে কোনো ডিভাইসকেই স্মার্টহোমের নেটওয়ার্কের আওতায় আনা যায় এবং আপনার কমান্ড মেনেই চলবে এসব ডিভাইস। কণ্ঠ দিয়ে, রিমোট কন্ট্রোল, ট্যাবলেট কিংবা স্মার্টফোনের মাধ্যমে আপনি কমান্ড করতে পারেন।
হোম অটোমেশনের এই প্রযুক্তির প্রয়োগ তিনটি ক্ষেত্রে বেশিÑ বাতি জ্বালানো (লাইটিং), তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং বাড়ির নিরাপত্তা। এছাড়া পারিবারিক বিনোদনের ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তির প্রয়োগ শুরু হয়েছে।

সিকিউরিটি অ্যালার্ম
স্মার্টহোম সিকিউরিটি অ্যালার্ম প্যানেল নামে মাইক্রোপ্রসেসর যুক্ত ডিভাইস রয়েছে। একে টেলিফোনের মাধ্যমে বাইরে থেকে কিছু নির্দিষ্ট কাজ করার জন্য কমান্ড দেওয়া যায় এবং একই সঙ্গে একে আনসারিং মেশিন হিসেবে ব্যবহার করা যায়। একে কমান্ড দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট একটি পিন নম্বর দিতে হয়, যেটিকে সিকিউরিটি নম্বর বলা হয়। ফলে স্মার্টহোমের ব্যবহারকারী ছাড়া আর কেউ কমান্ড দিতে পারে না।

ধরুন, আপনি বাসায় নেই এমন সময় কোনো অতিথি বাসায় গেলেন। তখন? সিকিউরিটি অ্যালার্ম প্যানেল আপনাকে মোবাইলে ফোন করে কিংবা এসএমএসের মাধ্যমে বিষয়টা জানিয়ে দেবে। আপনি তখন আপনার অতিথির সঙ্গে ফোনে কথা বলে নেবেন, হিসাব করে সময় জানিয়ে দেবেন কখন এলে আপনার দেখা বাসায় পাওয়া যাবে।
বাসায় ফেরার আগেই কমান্ড দিয়ে সেন্ট্রাল হিটিং সিস্টেমও অন করে রাখতে পারবেন এই প্রযুক্তি দিয়ে।

এক সুইচেই এত্তকিছু!
অফিসে যাওয়ার সময় কী কী জিনিস মাথায় রাখতে হয়? বাসার সব লাইট অফ করলাম তো, জানালাগুলো বন্ধ করেছি তো? এ রকম যতসব কাজ আছে, দরজার বাইরে এসে স্মার্টফোনটা হাতে নিন। আর একটা বোতাম চাপুন। ব্যস সবগুলো প্রশ্নের জবাব ‘হ্যাঁ’ হয়ে গেল। পাশাপাশি, নিচতলায় গাড়ির আল্যার্মও অন হয়ে গেল ওই এক সুইচেই! অফিস থেকে বাড়ি ফেরার সময়, একটিমাত্র সুইচেই জানালাগুলো খুলে দিতে পারেন, সব বাতি জ্বালিয়ে দিতে পারেন।

ধরুন, বাড়ি ছেড়ে কয়েকদিনের জন্য ঘুরতে যাচ্ছেন দূরে কোথাও। স্মার্টহোমের সমন্বিত নিরাপত্তা-ব্যবস্থা আপনা থেকেই দিনের বেলায় প্রতিটি ঘরের লাইট বন্ধ রাখবে। আবার রাতে অন করে দেবে, জানালার পর্দা টেনে দেবে, যেন বাইরে থেকে মনে না করেÑ বাড়িতে কেউ নেই।

আগুন লাগলে?
ঘরে যদি আগুন লাগে তাহলে কাজ করবে স্মোক এবং হিট ডিটেক্টর। সঙ্গে সঙ্গে সিকিউরিটি প্যানেল থেকে ফায়ার ব্রিগেডে ফোন চলে যাবে। ঘরের সবগুলো লাইট ফ্ল্যাশ করার সঙ্গে সঙ্গে সাইরেন বাজাতে থাকবে। আর ঘরে যদি কেউ থাকে, তবে সবগুলো দরজা খুলে দেবে যেন দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে যেতে পারে লোকটি।

হারানো গেলে হন্যে হতে হবে না
চাবি, মানিব্যাগ, সানগ্লাস, রিমোটÑ এসব যন্ত্রপাতি হুটহাট হারিয়ে ফেলি আমরা। খোঁজার সময় যেন কোনোমতেই মিলবে না। স্মার্টহোম আপনাকে এই বাড়তি ঝামেলা থেকে মুক্তি দিতে পারে। কীভাবে?

এতে আছে ট্র্যাকিং অ্যান্ড সেন্সিং টেকনোলজি। যেসব জিনিস হারিয়ে যাচ্ছে ওইসব ডিভাইসের সঙ্গে একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস যুক্ত করা থাকবে এই প্রযুক্তিতে। কম ফ্রিকোয়েন্সির বেতার তরঙ্গের মাধ্যমে স্মার্টহোমের মূল সিস্টেমের প্রতিটি জিনিস আলাদাভাবে চিহ্নিত করা যায়। কোনো একটি ডিভাইস হারিয়ে গেলে এই তরঙ্গই সন্ধান দেবে।

এই ঘরে গ্রীষ্ম, ওই ঘরে শীত
ঘরের তাপমাত্রা ইচ্ছেমতো নিয়ন্ত্রণ করার স্বাধীনতা দেবে স্মার্টফোন। ঘরের বাইরে হয়তো প্রচ তাপ, তাতে কী, স্মার্টহোমে তার কোনো ছাপই যেন নেই। শুধু তা-ই নয়, স্মার্টফোনের মাধ্যমে স্মার্টহোমের প্রতিটি ঘরেরই আবহাওয়া আলাদা করা যায়।

কীভাবে এত স্মার্টলি কাজ করে
ধরা যাক, সাধারণ একটি লাইট-সুইচের কথা। সুইচ অন করলেই বিদ্যুৎ প্রবাহ ঘটে, জ্বলে ওঠে বাতি। সুইচ অফ করলে প্রবাহ বন্ধ হয়, নিভে যায় বাতি। কিন্তু স্মার্টহোমে? না, এখানে ঘটনাটা ঘটে একটু ভিন্নভাবে। সুইচের মাধ্যমে বিদ্যুৎপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে একটি সিগন্যাল পাঠানো হয় কমিউনিকেশন নেটওয়ার্কে। কন্ট্রোলার সার্কিট নামের একটি সার্কিট জুড়ে দেওয়া থাকে এক বা একাধিক লাইটের সঙ্গে। সুইচের কাছ থেকে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সিগন্যাল পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা সাড়া দেয়, অন হয় লাইট। কমিউনিকেশন নেটওয়ার্কে একাধিক লাইটের পাশাপাশি অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসও যুক্ত থাকে। ফলে সুইচ অন করে একাধিক ডিভাইস একই সঙ্গে অন করা যায়।

স্মার্ট, তবু কেন পিছিয়ে
প্রশ্ন উঠতেই পারে, এত্তসব সুবিধা। কত্ত স্মার্ট একটা বাড়ির ধারণা। তাহলে আমাদের শহরে (কিংবা বিদেশি শহরগুলোতেও) এই প্রযুক্তি তেমন বিস্তার লাভ করেনি কেন? সম্ভাব্য কারণগুলো এ রকমÑ এখন পর্যন্ত স্মার্টহোম তৈরির ক্ষেত্রে কোনো স্ট্যান্ডার্ড নির্ধারণ করা হয়নি। ফলে কোম্পানিগুলো এ সিস্টেম ইনস্টল এবং ইন্টিগ্রেড করতে সাহস পাচ্ছে না।
স্মার্টহোম অপারেশনকে অনেকেই বেশ জটিল মনে করছেন।
যন্ত্রপাতির দাম বেশ চড়া।

প্রেক্ষাপট বাংলাদেশে
আমাদের দেশে স্মার্টহোমের জন্য রয়েছে সম্ভাবনাময় বাজার। হোম অটোমেশন প্রযুক্তি যদি আমাদের জানা হয়ে যায়, এরপর ছোটখাটো প্রকল্প হাতে নেওয়া যেতে পারে। প্রতিবছরই বিভিন্ন ইউনিভার্সিটি এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে একাধিক প্রজেক্টে শিক্ষার্থীরা পিসির সাহায্যে পুরোপুরি নিজেদের মেধা ও শ্রম দিয়ে হোম অটোমেশনের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প তৈরি করছেন।
বিভিন্ন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা প্রাতিষ্ঠানিক সাহায্য ছাড়াই রিমোট বা মোবাইলের সাহায্যে ঘরের লাইট ও ফ্যান, এমনকি ঘরের নিরাপত্তাও নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছেন।

জাহাঙ্গীর সুর

0 3014

বেল, বেলি বা মল্লিকা উদ্ভিদ-শ্রেণিবিন্যাসে একই প্রজাতিভুক্ত। তবে অনেক সময় কেউ কেউ কুন্দ ফুলের সঙ্গে তালগোল পাকিয়ে ফেলেন। কারণ কুন্দ গাছ ও ফুল অনেকটা বেলির মতোই। আবার কুন্দের একটি প্রজাতি সুগন্ধিও। সুগন্ধের জন্য বেলি সব ধরনের বাগানে অনিবার্য। তাছাড়া বেশি জায়গাও প্রয়োজন হয় না। বেলি ফুলের গন্ধ অত্যন্ত মোহনীয় হওয়ায় বিভিন্ন প্রসাধন সামগ্রীতে এই ফুলের কৃত্রিম গন্ধ মেশানো হয়। জেসমিন নামে একটি সুগন্ধিও বাজারে পাওয়া যায়।
বেলি বাগানে যেমন চাষ করা যায়, তেমনি টবেও রাখা যায়। অনেকেই শখ করে ঘরের বারান্দায় দু-একটি বেলি রাখেন। কারণ এ ফুলের মোহনীয় সুবাস মাতিয়ে রাখে ঘর। তবে গাছ সতেজ রাখতে কিছু সময় রোদ ও বৃষ্টি প্রয়োজন। তাই সপ্তাহে অন্তত একবার হলেও খোলা আকাশের নিচে রাখা প্রয়োজন। তাহলে মৌসুমে ভালোভাবে ফুল ফুটবে।

রবীন্দ্রনাথ বিভিন্ন কবিতায় বেল বা বেলি ফুলের কথা বলেছেন। ‘বসন্তে উঠিত ফুটে বনে বেলফুল,/ কেহ বা পরিত মালা, কেহ বা ভরিত ডালা,/ করিত দক্ষিণ বায়ু অঞ্চল আকুল।’ অন্যত্র আছেÑ ‘মল্লিকা চামেলী বেলী/ কুসুম তুলহ বালিকা।’

বেলি (Jasminum sambac) ছোট ঝোপাল ধরনের গাছ, প্রায় ১ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। কচি ডাল রোমশ, পাতা একক, ডিম্বাকার, ৪ থেকে ৮ সেমি লম্বা, গাঢ়-সবুজ ও মসৃণ। সুগন্ধি এ ফুল ফোটে গ্রীষ্ম ও বর্ষায়, কয়েকটি এক থোকায়, ফুলের আকার ও গড়ন অনুসারে কয়েকটি প্রকারভেদ আছে। বংশবৃদ্ধি কলম ও শিকড় থেকে গজানো চারায়। শীতে ছেঁটে দিতে হয়। টবেও ভালো থাকে। এর মধ্যে জেসমিনাম অ্যাঙ্গুস্টিফোলিয়াম প্রজাতিটিই রবীন্দ্রনাথের প্রিয় মল্লিকা বলে ধারণা করা হয়।

মোকারম হোসেন

0 2995

সারাদিনের কর্মব্যস্ততা কিংবা কোথাও বেড়াতে যাওয়া, একসময় ফিরতে হয় আপন নীড়ে। নিজের আবাসের মতো শান্তি কোথাও খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। ক্লান্ত শরীরটা বিছানায় এলিয়ে ঘুমরাজ্যে চলে যাওয়া এ তো একান্ত আপন শোবার ঘরেই পাওয়া যাবে। তাই সবাই চান বসার ঘরে অতিথিদের মন জয় করার জন্য যেমনটা ইন্টেরিয়র, তেমনি শোবার ঘরটায় শুধু জয় থাকুক নিজের মনের, নিজের প্রশান্তির। শোবার ঘর কেমন হবে এ নিয়ে বলেছেন ইন্টেরিয়র ডিজাইনার নাজরানা লোপা

ঝকঝকে, প্রফুল্ল, কর্মোদ্দীপক নতুন আরেকটি দিনের প্রস্তুতি শুরু হয় শোবার ঘর থেকেই। শরীরের প্রতিটি কোষে কোষে ক্লান্তি আর সারাদিনের দৌড়ঝাঁপের পর মাথায় প্রথমেই যে বিষয়টি আসে তা হচ্ছে বিশ্রাম। ক্লান্তি দূর করতে ঘুমের বিকল্প নেই। আর ঘুমের জন্য প্রয়োজন একটি আরামদায়ক পরিচ্ছন্ন শোবার ঘর। বাড়ির অন্যসব ঘর থেকে তখন প্রিয় হয়ে ওঠে শোবার ঘরটি। ক্লান্তি কাটাতে বা প্রিয়জনের সঙ্গে সারাদিনের হার-জিত, লাভ-লোকসান বা নিভৃতে গল্প করার জন্য একটি আরামদায়ক শোবার ঘরের জুড়ি নেই। তাই শোবার ঘরের ডেকোরেশন বা ফার্নিচার-প্ল্যানিং নিয়েও থাকে একেকজনের একেকরকম পরিকল্পনা। নিজস্ব প্রয়োজন, বাজেট আর ব্যক্তি-রুচির ওপর নির্ভর করেই গড়ে ওঠে ভিন্ন সাজসজ্জার শোবার ঘর।

যে যেমন বাজেটেই বেডরুম ডেকোরেশন করেন না কেন তা যেন স্বাস্থ্যসম্মত, আরামদায়ক এবং সুরুচির পরিচয় বহন করে সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখা উচিত। মাস্টার বেডরুমে আমরা সাধারণত বিশ্রাম নিই। সেজন্য এ রুমটি এমন হওয়া উচিত যেন ঘরে প্রবেশ করলেই একটা শীতল পরশ কাজ করে। বেডরুমের রঙের ক্ষেত্রে চোখ-সওয়া রঙ বাছাই করা উচিত। বয়সভেদে অবশ্য রঙের ভিন্নতা নির্ভর করে। যদি বয়োবৃদ্ধ অর্থাৎ যারা অবসরে চলে গেছেন তাদের কথা ধরি, তবে অবশ্যই হোয়াইট বা অফহোয়াইট কালার আসতে পারে। যাতে তারা সবকিছু স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন দেখতে পারে। টিনএজারদের কালার পছন্দের ব্যাপারটা যার যার সাইকোলজির ওপর নির্ভর করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় টিনএজাররা কালারফুল বেডরুম পছন্দ করে। এক্ষেত্রে তারা বেছে নেয় পিঙ্ক, লেমন ইয়েলো বা গাঢ় নীল কালার। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে তাদের শোবার ঘরটি অবশ্যই রঙিন হবে। অনেক সময় বাচ্চাদের শোবার ঘরের দেয়ালজুড়ে নানা কার্টুন বা নকশা বা ফুলেল মোটিফ আঁকা যায়। এতে বাচ্চাদের মনও বেশ প্রফুল্ল থাকে।

এখন আসা যাক ফার্নিচারের কথায়। শোবার ঘরের ফার্নিচার অবশ্যই বাহুল্যবর্জিত হবে। এখানেও বয়সভেদে ফার্নিচারের প্রয়োজনীয়তা নির্ভর করে। বেডরুমে একটা বেড তো অবশ্যই থাকবে। জবরজং নকশাম-িত, হালকা নকশা বা একেবারেই নকশাবিহীন সিম্পল বেড যে কেউ প্রয়োজন ও পছন্দমাফিক ব্যবহার করতে পারেন। সঙ্গে থাকতে পারে কেবিনেট, রকিং চেয়ার। বই পড়ার অভ্যাস থাকলে বুকশেলফও অনেকে রাখতে পারেন। টিনএজারদের বেলায় একটি বেড, স্টাডি টেবিল, কম্পিউটার, কেবিনেট, একটি ছোট সাইজের ড্রেসিং টেবিলও রাখা যেতে পারে। যাদের টিভি দেখার অভ্যাস আছে, বেডরুমে তারা টিভির ব্যবস্থা রাখতে পারেন। যারা রকিং চেয়ার ইউজ করবেন তারা শোবার ঘরের এক কোনায় চেয়ারটি রাখলে ভালো, যাতে চলাচলে কোনো অসুবিধা না হয়।

লাইটিংয়ের বিষয়টিও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। শোবার ঘরে কখনোই ওয়ার্ম লাইটিং করা উচিত নয়। যারা অবসরে চলে গেছেন তাদের শোবার ঘরের লাইটিং ক্লিয়ার হোয়াইট হওয়া ভালো। তাছাড়া যে যার পছন্দমতো বাজার থেকে বিভিন্ন কালার শেডের লাইট-গ্রিন, ব্লু, লেমন-গ্রিন, অফহোয়াইট শেড বেছে নিতে পারেন। ঝোলানো বা হ্যাংগিং ল্যাম্পশেড, স্ট্যান্ড ল্যাম্পশেড শোবার ঘরে না থাকাই ভালো। বাচ্চাদের ঘরে তো অবশ্যই নয়। তবে কেউ যদি প্রয়োজন মনে করেন তাহলে রাখতে পারেন।

শোবার ঘরের ফ্লোর একটা বিশেষ প্রভাব ফেলে। তাই ফ্লোর সেটিংয়ের বেলায় টাইলস ব্যবহার না করাই ভালো। এক্ষেত্রে মার্বেল পাথর ব্যবহার করে পুরো ঘরে একটা শীতল ভাব আনা যায়। তবে মোজাইক এখনও বেশ দাপটের সঙ্গে চলছে। যাদের ডাস্ট-অ্যালার্জি আছে তারা বেডরুমে কখনোই সফট কার্পেট ব্যবহার করবেন না। এক্ষেত্রে গ্রাস কার্পেট ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে কেউ প্রয়োজন মনে করলে কার্পেট ইউজ করতে পারেন। অ্যাটাচড বেডসাইড টেবিলও বেডরুমের একটি জরুরি অনুষঙ্গ। বেডসাইড টেবিলে রাখতে পারেন টেলিফোন, শো-পিস, প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র, পানি প্রভৃতি জিনিস। মনে রাখতে হবে বেডরুমে অ্যাটাচড বাথটা কিন্তু জরুরি।

এবার আসি বেডশিট, কুশন আর বালিশ প্রসঙ্গে। এক্ষেত্রে অবলীলায় বলা যায়, অবশ্যই আরামদায়ক পাতলা সুতিকাপড় বেডশিট হিসেবে ব্যবহার করবেন। বেডশিটে সিল্কের কাপড় ব্যবহার না করাই ভালো। বালিশ, কুশন বা বেডশিটে কাজ করা অর্থাৎ মেটেরিয়ালস বসানো কাভার ইউজ না করাই ভালো। বাজারে এখন নানা শেপের কুশন পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে যে যার পছন্দমতো কুশন কিনতে পারেন বা ডিফারেন্ট লুক আনতে অর্ডার দিয়েও বানিয়ে নিতে পারেন। বেডরুমের ক্ষেত্রে অলঙ্কারের চেয়ে আরামের দিকে বেশি নজর দেওয়া উচিত। টিনএজারদের বেডশিট নীল, হলুদ, গোলাপি অর্থাৎ কালারফুল হলে ভালো লাগবে। বাচ্চাদের ঘরেও অবশ্যই কালারফুল বেডশিট ব্যবহার করবেন। এক্ষেত্রে লেমন গ্রিন, ইয়োলো যে-কোনো কালার ব্যবহার করা যায়। বেডশিটের সঙ্গে মিলিয়ে একই শেডের বা কন্ট্রাস্ট কালারের পর্দা ব্যবহার করলে শোবার ঘর হবে আরও আকর্ষণীয়। পর্দার কাপড় ভারী না হওয়াই বাঞ্ছনীয়। শোবার ঘরে যাতে প্রচুর আলো-বাতাস যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। খুব সুন্দর করে সাজানো শোবার ঘর যদি অপরিচ্ছন্ন থাকে, তাহলে আপনার সব চেষ্টাই বৃথা হয়ে যাবে।

মনে রাখা প্রয়োজন
শোবার ঘর রাখবেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, প্রচুর আলো-বাতাসযুক্ত।

অপ্রয়োজনীয় আসবাব এড়িয়ে চলতে পারেন। অপ্রয়োজনীয় লোকের যাতায়াত না থাকাই ভালো। অতিরিক্ত আলোকসজ্জা
পরিহার করুন।

0 10735

সুউচ্চ ইমারতের শহর রাজধানী ঢাকার অলিগলিতে এখনও টিনের ঘরের দেখা মেলে। ছায়াঘেরা এসব বাড়ির নির্মল পরিবেশ দেখে যে-কারোর মনে হবে যান্ত্রিকতার এ শহরে, শহর বোধহয় এখানে একটু দম ফেলার ফুরসত পেল।

আবাসনে প্রতিদিনই যুক্ত হচ্ছে নিত্যনতুন প্রযুক্তি। ফলে বদলে যাচ্ছে আবাসন নির্মাণের ধাঁচ এমনকি উপকরণও। সেই গতিধারায় পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। নগর সভ্যতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সাধ্যানুযায়ী এগিয়ে চলছে এ-দেশের আবাসন-সংস্কৃতি। এত কিছুর হাতছানি সত্ত্বেও দেশটির আদি ঐতিহ্য নিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে এখনও টিকে আছে টিনের ঘর। অনেকের কাছে এখনও বসবাসে আয়েশী জীবনের জন্য টিনের ঘরের বিকল্প নেই।

তাকে সবাই চেনে চন্দ্রা ছৈয়াল নামে। পুরো নাম চন্দন সূত্রধর। বয়স ষাটের কোটায়। বাড়ি নরসিংদীর শহর এলাকায়। দু’যুগ আগে ভীষণ ব্যস্ত ছিলেন টিনের ছাউনির কাঠ খেউরি ঘর বানানোতে। এখন সে কাজে ভাটা। রোজগারের প্রয়োজনে ফার্নিচার বানানো তার পেশার প্রধান অবলম্বন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্প্রতি কথা হয় চন্দন সূত্রধরের সঙ্গে। তিনি তুলে ধরেন একটি সুখী পরিবারের বসবাসের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত টিনের ঘর নির্মাণের বিভিন্ন তথ্য।

চন্দন বলেন, ঝড়ের গতিবেগ থেকে টিকে থাকার জন্য টিনের ঘর চৌচালা হওয়া দরকার। চৌচালা ঘর বাতাস কাটতে পারে অনায়াসে। সেজন্য খুঁটির উচ্চতা রাখতে হবে ১২ ফুট। আর ঘরের সংযুক্ত-বারান্দার খুঁটির উচ্চতা হবে ৯ ফুট। ঘরটি লম্বায় ১৪ হাত, প্রস্থে সাড়ে ৮ হাত হতে হবে। ঘরে খুঁটি লাগবে ১৬টি আর বারান্দায় খুঁটি লাগবে ৬টি। খুঁটিগুলো হতে হবে পাকা বরাক বাঁশের অথবা ঢালাই সিমেন্টের। খুঁটির সঙ্গে সংযুক্ত কাঠের বা বাঁশের ধন্যা লাগবে ৬টি। যার দৈর্ঘ্য হবে ১৪ ফুট। আর কাঠের পাইর লাগবে ৩/২ ইঞ্চি পুরুত্বের ২৫ ফুট দৈর্ঘ্যরে ২টি। বারান্দায় ভেলকির প্রয়োজন হবে ঘরের আকৃতি অনুযায়ী। বারান্দাসহ পুরো ঘরটির ছাউনিতে স্ক্রুর প্রয়োজন পড়বে প্রায় ৩ কেজি।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু ৪ সদস্যের বসবাসের ঘর, মাঝে একটি পার্টিশন বা বিভাজন হলে ভালো হয়। প্রতি বিভাজনের বিপরীতে সামনে ও পেছনে ৩/২ ফুটের ২টি করে মোট ৪টি জানালা এবং ৬/২.৫ ফুটের ১টি করে মোট ২টি দরজা সংযোজন করতে হবে। ঘরটির চালের ছাউনিতে ভালো মানের ৯ ফুট দৈর্ঘ্যরে টিন লাগাতে হবে। এজন্য এ-আকৃতির ২২টি টিন লাগতে পারে। আর বারান্দার ছাউনির জন্য ৭ ফুট দৈর্ঘ্যরে ১১টি টিন খরচ হতে পারে। টুয়া লাগবে ৬ ফুট দৈর্ঘ্যরে ৯টি। সিলিংয়ের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে বাঁশের তৈরি বেড়া। ঘরটি নির্মাণে বর্তমান বাজারে খরচ পড়বে সবনিম্ন ৬০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা।

কারিকা প্রতিবেদক