Home মূল কাগজ আপন আবাস

0 12481

সুউচ্চ ইমারতের শহর রাজধানী ঢাকার অলিগলিতে এখনও টিনের ঘরের দেখা মেলে। ছায়াঘেরা এসব বাড়ির নির্মল পরিবেশ দেখে যে-কারোর মনে হবে যান্ত্রিকতার এ শহরে, শহর বোধহয় এখানে একটু দম ফেলার ফুরসত পেল।

আবাসনে প্রতিদিনই যুক্ত হচ্ছে নিত্যনতুন প্রযুক্তি। ফলে বদলে যাচ্ছে আবাসন নির্মাণের ধাঁচ এমনকি উপকরণও। সেই গতিধারায় পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। নগর সভ্যতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সাধ্যানুযায়ী এগিয়ে চলছে এ-দেশের আবাসন-সংস্কৃতি। এত কিছুর হাতছানি সত্ত্বেও দেশটির আদি ঐতিহ্য নিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে এখনও টিকে আছে টিনের ঘর। অনেকের কাছে এখনও বসবাসে আয়েশী জীবনের জন্য টিনের ঘরের বিকল্প নেই।

তাকে সবাই চেনে চন্দ্রা ছৈয়াল নামে। পুরো নাম চন্দন সূত্রধর। বয়স ষাটের কোটায়। বাড়ি নরসিংদীর শহর এলাকায়। দু’যুগ আগে ভীষণ ব্যস্ত ছিলেন টিনের ছাউনির কাঠ খেউরি ঘর বানানোতে। এখন সে কাজে ভাটা। রোজগারের প্রয়োজনে ফার্নিচার বানানো তার পেশার প্রধান অবলম্বন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্প্রতি কথা হয় চন্দন সূত্রধরের সঙ্গে। তিনি তুলে ধরেন একটি সুখী পরিবারের বসবাসের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত টিনের ঘর নির্মাণের বিভিন্ন তথ্য।

চন্দন বলেন, ঝড়ের গতিবেগ থেকে টিকে থাকার জন্য টিনের ঘর চৌচালা হওয়া দরকার। চৌচালা ঘর বাতাস কাটতে পারে অনায়াসে। সেজন্য খুঁটির উচ্চতা রাখতে হবে ১২ ফুট। আর ঘরের সংযুক্ত-বারান্দার খুঁটির উচ্চতা হবে ৯ ফুট। ঘরটি লম্বায় ১৪ হাত, প্রস্থে সাড়ে ৮ হাত হতে হবে। ঘরে খুঁটি লাগবে ১৬টি আর বারান্দায় খুঁটি লাগবে ৬টি। খুঁটিগুলো হতে হবে পাকা বরাক বাঁশের অথবা ঢালাই সিমেন্টের। খুঁটির সঙ্গে সংযুক্ত কাঠের বা বাঁশের ধন্যা লাগবে ৬টি। যার দৈর্ঘ্য হবে ১৪ ফুট। আর কাঠের পাইর লাগবে ৩/২ ইঞ্চি পুরুত্বের ২৫ ফুট দৈর্ঘ্যরে ২টি। বারান্দায় ভেলকির প্রয়োজন হবে ঘরের আকৃতি অনুযায়ী। বারান্দাসহ পুরো ঘরটির ছাউনিতে স্ক্রুর প্রয়োজন পড়বে প্রায় ৩ কেজি।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু ৪ সদস্যের বসবাসের ঘর, মাঝে একটি পার্টিশন বা বিভাজন হলে ভালো হয়। প্রতি বিভাজনের বিপরীতে সামনে ও পেছনে ৩/২ ফুটের ২টি করে মোট ৪টি জানালা এবং ৬/২.৫ ফুটের ১টি করে মোট ২টি দরজা সংযোজন করতে হবে। ঘরটির চালের ছাউনিতে ভালো মানের ৯ ফুট দৈর্ঘ্যরে টিন লাগাতে হবে। এজন্য এ-আকৃতির ২২টি টিন লাগতে পারে। আর বারান্দার ছাউনির জন্য ৭ ফুট দৈর্ঘ্যরে ১১টি টিন খরচ হতে পারে। টুয়া লাগবে ৬ ফুট দৈর্ঘ্যরে ৯টি। সিলিংয়ের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে বাঁশের তৈরি বেড়া। ঘরটি নির্মাণে বর্তমান বাজারে খরচ পড়বে সবনিম্ন ৬০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা।

কারিকা প্রতিবেদক

0 1907

অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের বাসিন্দাদের অন্যতম সুখের অথবা বিড়ম্বনার নাম ছাদ! যারা ভবনের ছাদ ব্যবহারের সুযোগ পান তারা খুশি, যারা পান না তারা হা-হুতাশ করেন। নিজস্ব বাড়ি থাকলে হিসাবটা আলাদা। কিন্তু বহুতল ভবনের ফ্ল্যাটগুলো যদি হয় ভিন্ন মালিকানার?

ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে প্রায় গায়ে-গা-লাগোয়া ভবন। নিজের ফ্ল্যাটে থেকেও অনেকের পক্ষেই মুক্ত-বাতাস পাওয়া বা আকাশ দেখার সুযোগ হয় না। এক্ষেত্রে ছাদে যাওয়ার আকুতি মনে ঘুরপাক খেতেই পারে। যৌথ মালিকানার ভবনের ক্ষেত্রে ছাদ ব্যবহার নিয়ে কিছুটা জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। আবার কিছু নিয়ম করে নিলে ভবনের সব ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের জন্যই তা ভালো হতে পারে। রাজধানীর আদাবর লিঙ্ক রোডের একটি বাড়ির ফ্ল্যাটমালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ মারুফ খানের পরামর্শ অনুযায়ী এবারের আদব-কেতা।

  • ভবনের ছাদ যৌথ অধিকারে থাকলে প্রতি ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা চিহ্নিত করে নেওয়া যেতে পারে। যেখানে নির্দিষ্ট পরিবারগুলো রোদে কাপড় শুকানো থেকে শুরু করে বাগান করা বা বসার ব্যবস্থা করে নিতে পারে।
  • ছাদে অনেকেই গাছ লাগান। বিশেষ করে টবে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়। এমনকি আজকাল ছাদে বাগানও করা হচ্ছে। ছাদে উঠলে অন্যের গাছ যেন নষ্ট না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত। ইচ্ছাকৃত অন্যের গাছ বা বাগানের ক্ষতি করা ভীষণ অন্যায়ের কাজ।
  • বাগানে অন্য ফ্ল্যাটের কেউ কাপড় শুকাতে দিলে তাতে হাত না-দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। অন্য কোনো ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের কাপড়ে হাত-মুখ মোছার মতো জঘন্য কাজটি করা একদমই ঠিক নয়।
  • শৃঙ্খলার স্বার্থে যদি গার্ড বা অন্য কারও কাছে ছাদের দরজার চাবি থাকে, তবে তা অনুমতি নিয়ে নিজের কাছে নেওয়া এবং ছাদের কাজ শেষ হলে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা জায়গায় ফেরত দেওয়া উচিত।
  • উৎসব-আয়োজন ছাড়াও বিভিন্ন ছোটখাটো অনুষ্ঠান ছাদে করতে দেখা যায়। এক্ষেত্রে ভবনের সব ফ্ল্যাটের মালিক বা বাসিন্দাদের সম্মতি নেওয়া ভালো। অপরের অসুবিধা হয় এমন মাত্রার শব্দদূষণ যেন না হয়, সে ব্যাপরে সতর্ক থাকুন।
  • ইভটিজিং একটি জঘন্য মানসিকতা। ছাদে হাঁটা-চলা বা আড্ডা দেওয়ার সময় বিষয়টি মাথায় রাখুন। আপনার আচরণে অন্য ফ্ল্যাটের কোনো নারী বাসিন্দাকে যেন অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়তে না হয়।
  • ছাদের বাগানে বা টবে কারও ফুল/ফলের গাছ থাকলে অনুমতি ছাড়া কোনো ফুল/ফল তুলবেন না। ফলে না থাকুক, ফুলের প্রতি বেশিরভাগ মানুষেরই কিন্তু দুর্বলতা আছে!
  • ছাদ একটা, ফ্ল্যাট অনেক। তাই বলে নিজে একটু দায়িত্ব নিলে অসুবিধা কোথায়! ছাদ পরিষ্কার রাখার জন্য পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ওপর নির্ভর না করে নিজে সচেতন হোন। ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলুন। ছাদের কোথাও পানি বা শ্যাওলা জমতে দিলে তা কঠিন বিপদের কারণ হতে পারে।
  • ছাদের কিনার বা রেলিংয়ে নিজে বসা থেকে বিরত থাকুন। ছাদে কোনো ছোট শিশু থাকলে তার দিকেও নজর রাখুন। শিশুটি যে ফ্ল্যাটের বাসিন্দাই হোক না কেন, তাদের ছাদ ব্যবহারে সচেতন ও সতর্ক করুন।
  • ছাদ থেকে কখনোই নিচে থুথু, পানি, ময়লা বা অন্য কোনো ভারী বস্তু দুষ্টুমি করেও নিচে ফেলবেন না। এতে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
  • একটুখানি ছাদ হতে পারে একমুঠো শান্তির স্থান। তাই একে সঠিকভাবে ব্যবহারে সচেষ্ট হোন। বয়স্ক বা শিশুরা ছাদে উঠলে তাদের হাঁটাচলায় সহযোগিতা করার চেষ্টা করুন।

সোহরাব শান্ত

0 2462

সুখদর্শন নামটি অনেকাংশেই যথার্থ। কারণ ফুলটির বর্ণবৈভব মনকে প্রফুল্ল করবে। তবে পোশাকি নাম টাইগার লিলি। এ এক দুঃখ আমাদের, দীর্ঘদিন ধরেই অনেকগুলো বিদেশি নাম বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। গাছপালা কোনো ভৌগলিক সীমা মানে না। সেই সূত্রে আমাদের দেশেও এসেছে অনেক দূর-দুরান্তের গাছ। কিন্তু আমরা তাদের নাম দিয়ে আপন করে নিতে পারিনি। ইদানিং এখানেও অনেক ধরনের লিলি পাওয়া যায়, কিন্তু বেশিরভাগ লিলিরই কোনো বাংলা নাম নেই। সে তুলনায় সুখদর্শন ভাগ্যবতী। তার একটা সুন্দর নাম জুটেছে। তবে অন্যান্য লিলির মতো এই ফুল খুব একটা সহজলভ্য নয়। কেউ কেউ টবেও চাষ করেন। টবে চাষ করার জন্য আবার রোদ-বৃষ্টি প্রয়োজন। মাঝে মাঝে খোলা আকাশের নিচে রাাখলে গাছটি তার বেঁচে থাকার প্রয়োজনীয় উপাদান সংগ্রহ করতে পারবে। ফুল সারাবছর না থাকলেও এ-গাছের পাতার সৌন্দর্যও দারুণ উপভোগ্য। তবে টবে চাষ করার জন্য একটু বড় ধরনের টব নির্বাচন করাই উত্তম। ঢাকায় বলধা গার্ডেন, শিশু একাডেমির বাগান, ইস্কাটন লেডিস ক্লাব, মিরপুর জাতীয় উদ্ভিদউদ্যানসহ বিভিন্ন বাগানে সুখদর্শন চোখে পড়ে।

সুখদর্শন (Crinum amabile) পিঁয়াজকন্দীয় গাছ, কা- অনেকটা কাঠকচুর মতো, গোড়ায় পাতার গুচ্ছসহ ১ মিটারের মতো উঁচু হতে পারে। পাতা আনারস পাতার মতো লম্বা তবে গড়নের দিক থেকে আরো পুরু, ভারি, আগা চোখা ও উজ্জ্বল সবুজ। ফুল ফোটার প্রধান মৌসুম গ্রীষ্মের শেষভাগ থেকে বর্ষা অবধি। বর্ষার ভেজা বাতাসে ফুলের মধুরিম সুবাস ভেসে বেড়ায়। পাতার কোল থেকে বের হওয়া লম্বা, চ্যাপ্টা ও পুরু মঞ্জরিদন্ডের আগায় পুটকে ঢাকা অনেকগুলো গাঢ়-বেগুনি কলি ক্রমান্বয়ে ফুটতে থাকে। ফুল সুগন্ধি ও লম্বা, দলনলের আগায় ছড়ান ৬টি পাপড়ির উপরটা সাদাটে, নিচের দিক গাঢ়-বেগুনি বা গাঢ়-লাল। জন্মস্থান দক্ষিণ আফ্রিকা হলেও বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় সব উষ্ণম-লীয় অঞ্চলেই ছড়িয়ে পড়েছে।

মোকারম হোসেন