Home মূল কাগজ বিশেষ রচনা

0 1082

আবু সাইদ চৌধুরী গুলশানের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি শুরু করেছেন মাস ছয়েক হলো। সাইদের বাসা খিলগাঁও। চাকরিতে ঢুকলেও বিশ্ববিদ্যালয়-জীবনের সবচেয়ে কাছের সঙ্গী প্রিয় বাইসাইকেলটি ছাড়েননি এখনও। শখে নয়, প্রয়োজনেই বাহন হিসেবে সাইকেল ব্যবহার করেন সাইদ। তিনি জানান, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন খিলগাঁও থেকে ধানমন্ডি যাতায়াতে প্রায় তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় নষ্ট হতো। তাছাড়া পাবলিক বাসের জন্য অপেক্ষা, ভিড়ের বাসে চিড়ে-চ্যাপ্টা হওয়া এসব তো ছিলই। সময় আর খরচ বাঁচাতে সাইকেল কিনে যাতায়াত শুরু করি আমি। সেই থেকে এখনও প্রয়োজনের বাহন হয়ে আছে সাইকেলটাই।’

গত কয়েক বছরে ঢাকা নগরীতে জনপ্রিয়তা বাড়তে শুরু করেছে বাইসাইকেলের। সাইকেল বিক্রিও বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত। এখন কেবল কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীরা নয়, অফিস-যাত্রীরাও সাইকেল ব্যবহার করছে।
ঢাকা নগরীর অসহনীয় যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে না থেকে বাইসাইকেলকে বাহন হিসেবে ব্যবহার করে সময় আর খরচ যেমন বাঁচানো যায়, তেমন পরিবেশ আর শরীরের জন্যও খুবই উপকারী এই বাহনটি।

সাইদ আরও জানান, ‘আমি গ্রাম থেকে ঢাকা শহরে এসেছি লেখাপড়া করার জন্য। প্রথমদিকে খেলাধুলার অভাবে আমার বেশ কষ্ট হতো। কিন্তু যখন থেকে সাইকেল চালানো শুরু করেছি, তখন থেকে এটি ব্যায়ামের চাহিদাও পূরণ করছে।’
শরীর সুস্থ রাখার জন্য প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট বাইসাইকেল চালানোর পরামর্শ দিয়েছেন অধ্যাপক ডা. শুভাগত চৌধুরী।

জনপ্রিয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাইসাইকেলের বাজারও সম্প্রসারণ হতে শুরু করেছে। বর্তমানের চাহিদার কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন বাইসাইকেল কোম্পানি এনেছে বৈচিত্র্য। বাইসাইকেল মূলত ভারত, চীন, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, কোরিয়া থেকে আমদানি করা হয়। এছাড়া আমাদের দেশের বেশ কয়েকটা কোম্পানিও বাইসাইকেল প্রস্তুত করছে। বড়দের ক্ষেত্রে বাঁকা হ্যান্ডেল, সোজা হ্যান্ডেল, স্পোর্টস এবং ছোটদের বিভিন্ন মাপের বাইসাইকেলের বেশ চাহিদা রয়েছে বাজারে। বাংলাদেশে তৈরি সাইকেল দেশের বাজারের চাহিদা মিটিয়ে এখন বিদেশেও রফতানি হচ্ছে। বাংলাদেশের সাইকেলের সবচেয়ে বড় বাজার বংশালে। বংশালে দেশি-বিদেশি সব ধরনের বাইসাইকেল পাওয়া যায়।

দেশে বাইসাইকেলের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর আরোহীরা নিজেদের সংগঠিতও করেছে। প্রায় ৩৮ হাজার সদস্য নিয়ে বিডি সাইক্লিস্ট নামক গ্র“পটার অবস্থান এখন বেশ শক্ত। ফেসবুকভিত্তিক গ্র“পটি তৈরি থেকে শুরু করে সংগঠিত করার বড় দায়িত্ব পালন করেছেন মোজাম্মেল হক। গ্র“পের আটজন মডারেটরের একজন তিনি। বিডি সাইক্লিস্ট সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অপেশাদার সাইক্লিস্টদের সব থেকে বড় কমিউনিটি হলো বিডি সাইক্লিস্ট পেজটি। মূলত জীবনটাকে আরও সুন্দরভাবে উপভোগ করার মানসিকতা থেকেই গ্র“পটার শুরু হয়েছিল ২০১১ সালের ১৭ মে।’

মজার ব্যাপার হলো, এটা কোনো ‘সিরিয়াস’ গ্র“প নয়। সদস্য হতে হলে কঠিন কোনো নিয়ম-কানুনও মানার বালাই নেই। গ্র“পের মূল লক্ষ্য আসলে দুই চাকার সাইকেলে চড়ে আনন্দ করা, জীবনটাকে আর ১০ জনের থেকে অন্যভাবে দেখাÑ যার প্রমাণ মিলবে ফেসবুকের ওই গ্র“পে গেলেই। মোজাম্মেল হক বলেন, ‘এখন গ্র“পের লক্ষ্য হলো ঢাকা শহরে শতকরা ৫ শতাংশ মানুষকে বাইসাইকেল চালানোয় আগ্রহী করে তোলা। প্রতিদিন যানজটের কারণে আমাদের যে পরিমাণ সময় এবং অর্থ নষ্ট হয়, তার একটা প্রতিকার-আন্দোলন হবে সাইকেল-আরোহীদের এই সংখ্যার বিকাশ।’

এই সংগঠন নতুন আরোহীদের সাইকেল চালানো শেখানোসহ নানারকম সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মকা-েও অংশগ্রহণ করে থাকে। এবারের ঈদের আগে ঢাকার রাস্তার ছিন্নমূল মানুষগুলোর সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নানা উপহার বিতরণ করে তারা।

শরীর সুস্থ রাখতে কিংবা শখের বশে অ্যাডভেঞ্চার করতেও অনেকে বাইসাইকেল চালিয়ে থাকেন। এমনই একজন রাজধানীর পান্থপথের বাসিন্দা সজীব। সজীব প্রতিদিন বিকেলে তার শখের বাইসাইকেলটি নিয়ে হাতিরঝিলের নয়নাভিরাম রাস্তায় ছুটে চলে। সজীব জানায়, তাদের প্রায় ১৫ জনের একটা দল আছে, যারা প্রতিদিন হাতিরঝিলের রাস্তায় সাইকেল চালায়।

ঢাকার রাস্তায় সাইকেল চালানোর বিড়ম্বনাও আছে। বিডি সাইক্লিস্টের মোজাম্মেল হক বলেন, ‘বাংলাদেশের রাস্তাঘাট বাইসাইকেলের জন্য দারুণ উপযোগী। তাই এখানে সাইক্লিং-স্পোর্টসকে জনপ্রিয় করা সম্ভব। তবে বাস্তবায়নের জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’

বিশেষ করে এখানকার রাস্তাগুলোয় সাইকেল লেন, বাইসাইকেল ও এর যন্ত্রাংশ সহজলভ্য করা, মেরামতের জন্য মোবাইল-সার্ভিস চালু, ভাড়ায় বাইসাইকেল পাওয়ার মতো সুবিধাগুলোর জন্য সবার সহযোগিতা দরকার বলে মনে করেন তিনি।

সাইকেলের নিয়মিত আরোহী সাইদ আরও জানান, ‘বাইসাইকেলের নিরাপত্তা খুবই কম। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানে সাইকেল রাখার জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নেই। ফলে অহরহ চুরি হয়। ঢাকায় যেহেতু বাইসাইকেল জনপ্রিয় হচ্ছে, তাই সব প্রতিষ্ঠান, মার্কেট, শপিংমলে নিরাপদ সাইকেল-স্ট্যান্ড থাকা উচিত।’

অসহনীয় যানজটে নাকাল রাজধানীবাসী মুক্তির পথ খুঁজছে প্রতিনিয়তই। তাই পরিবেশবান্ধব বাহন বাইসাইকেলের ব্যবহার সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও বাড়বেÑএমনটাই বিশ্বাস করেন মোজাম্মেল হক ও সাইদের মতো বাইসাইকেলপ্রেমীরা।

মিলি মৃন্ময়ী

নতুন আঙ্গিকে উন্মোচিত হলো আসন্ন ‘চট্টগ্রাম রিহ্যাব ফেয়ার’-এর লোগো। গত ৩১ মে চট্টগ্রাম ক্লাবের সম্মেলনকক্ষে নতুন আঙ্গিকে রিহ্যাব ফেয়ারের ঘোষণা দেন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) চট্টগ্রামের কর্মকর্তারা।
রিহ্যাব চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান আবদুল কৈয়ুমের সভাপতিত্বে লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে নতুন ধারার মেলার ঘোষণা দেন এবারের মেলা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী ইফতেখার হোসেন। তিনি বলেন, ২০০১ সাল থেকে ঢাকায় এবং ২০০৭ সাল থেকে চট্টগ্রামে রিহ্যাব ফেয়ারের আয়োজন হয়ে থাকলেও কখনো এ ধরনের লোগো উন্মোচন হয়নি। চট্টগ্রামের এবার আমরাই প্রথম উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে লোগো আহ্বান করেছি এবং তাদের মধ্যে যেটি সবচেয়ে ভালো হয়েছে এবং আমাদের চিন্তাধারার সঙ্গে মিলেছে সেই লোগোটি নির্বাচিত করেছি।

এবারের ফেয়ারে অনেক নতুনত্ব রয়েছে উল্লেখ করে প্রকৌশলী ইফতেখার হোসেন বলেন, রিয়েল এস্টেট খাত একটি সম্ভাবনার খাত। এই খাতে ভবিষ্যতে কী কী সম্ভাবনা রয়েছে তা নিয়ে এবার একটি গোলটেবিল বৈঠক হবে। এছাড়া বাড়ি নির্মাণে শিশুদের খেলার জন্য জায়গা রাখতে হবে, আর সেই চিন্তা থেকে এবার সারাদিনের জন্য একটি দিন রাখা হয়েছে কিডস ডে। এদিন শিশুরা এসে মনের মতো খেলাধুলা করবে।
আগামী ১৮ থেকে ২১ জুন চট্টগ্রাম ক্লাবের স্পোর্টস কমপ্লেক্সে এবারের ফেয়ার অনুষ্ঠিত হবে উল্লেখ করে ইফতেখার হোসেন বলেন, উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে আমরা বর্তমান সরকারের মন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছি। এর মধ্যে উদ্বোধন করার কথা রয়েছে গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের।

রিহ্যাব কর্মকর্তারা জানান, এবারের ফেয়ারে প্রথমবারের মতো রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোরও স্টল থাকবে। এদিকে রিহ্যাবের লোগোর ডিজাইনার আজিজ সোহেলকে রিহ্যাবের পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকার চেক পুরস্কার দেয়া হয়।
লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন রিহ্যাব চট্টগ্রামের কো-চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান, রিহ্যাব ফেয়ার কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ আবদুল কাদের জিলানী, দৈনিক পূর্বকোণ পত্রিকার সম্পাদক স্থপতি তসলিম উদ্দিন চৌধুরী ও দৈনিক আজাদীর পরিচালনা সম্পাদক ওয়াহিদ মালেক। লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী শাহ মুহম্মদ আখতার উদ্দিন প্রমুখ।

কারিকা প্রতিবেদক

0 810

ফ্ল্যাটের বাজারে চাহিদা বিদ্যমান থাকলেও দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে তা ক্রেতার নাগালের বাইরে। বিশেষ করে উচ্চ-মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত বা নিম্ন-মধ্যবিত্তের জন্য স্বপ্নের আবাসন স্বপ্নই থেকে যাচ্ছে। আবাসন ব্যবসায়ীরা বলছেন ক্রেতাবান্ধব ঋণ প্রয়োজন, প্রয়োজন সরকারের সুদৃষ্টিও, ব্যাংক-অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানে তারল্য যথেষ্ট থাকা সত্ত্বেও ঋণের সুদের হার কমছে না। অন্যদিকে নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, আবাসন-ঋণের জন্য থোক বরাদ্দ দিলে মূল্যস্ফীতি বাড়বে। কিন্তু কী হতে পারে সমাধান? বিশেষ অর্থায়ন ছাড়া কি আবাসন পণ্যের কেনাবেচা বাড়ানো সম্ভব?

সারাবিশ্বের উন্নত বা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে আবাসন-পণ্যের কেনাবেচা ঋণের ওপর ভিত্তি করেই হয়। এমনকি বাংলাদেশেও বছর কয়েক আগে আবাসনের জন্য স্বল্পসুদে ঋণ বরাদ্দ ছিল। কিন্তু ২০০৯ সালের পর বাংলাদেশ ব্যাংক এ বাবদ আর কোনো থোক বরাদ্দ দেয়নি। ফলে এখন ব্যাংক এবং অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যে আবাসন-ঋণ দিচ্ছে তাতে সুদের হার যেমন বেশি, তেমনি একটি বড় অঙ্কের ডাউন পেমেন্টও দেওয়া লাগছে। মোদ্দা কথা, যে গৃহঋণ-ব্যবস্থা বাংলাদেশে বিদ্যমান, তাকে কোনোমতেই ক্রেতাবান্ধব বলা যায় না।

আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশনের (রিহ্যাব) সাবেক সভাপতি এবং বাংলাদেশ বিল্ডিং ফর ফিউচারসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীরুল হক প্রবাল বলেন, ‘‘সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে আবাসনের বিকল্প নেই। আর সেক্ষেত্রে সবার জন্য সহজ আবাসনের ব্যবস্থা করতে এবং আবাসন খাতের এই দুর্দিন থেকে বেরিয়ে আসতে অবশ্যই একটা ‘আবাসন অর্থায়ন নীতিমালা’ প্রয়োজন এবং এক্ষেত্রে অবশ্যই সরকারি উদ্যোগ দরকার। সরকার উদ্যোগ না নিলে এ সমস্যা সমাধান কোনোভাবেই সম্ভব নয়।’’

তিনি আরও বলেন, ‘২০০৯ সালের পর থেকে বরাবরই স্বল্পসুদে ক্রেতাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঋণের জন্য সরকারের কাছে থোক বরাদ্দ চেয়ে আসছি। এই বছরও আমরা দুই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের কথা বলেছি। অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, সরকার এই বরাদ্দের ব্যাপারে উদ্যোগী হবে না। তাই এখন এই চক্র থেকে বেরিয়ে আসার একটা উপায় সরকারের পক্ষ থেকেই আসা উচিত।’

বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময় আবাসনের এমন দুর্দিন ছিল। আবাসনে অর্থায়ন পদ্ধতির খোলনলচে বদলে ফেলে ওই দেশগুলো আবাসনের জন্য যুগান্তকারী পদক্ষেপ রেখেছে। এই প্রসঙ্গে রিহ্যাব সভাপতি মোকাররম হোসেন খান বলেন, ‘এ খাতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি মর্টগেজ ঋণ প্রবর্তন করা দরকার। কীভাবে আবাসন খাতের পণ্যগুলো বাজারজাত করা যায় তা ভাবতে হবে। ধরা যাক, তিন কোটি টাকার একটি ফ্ল্যাটের জন্য মালিককে ৩ শতাংশ অর্থাৎ ১৫ লাখ টাকা জমা দিতে হবে। এই ১৫ লাখ টাকা বিনিয়োগের ওপর তাকে ২৫ বছরমেয়াদি তিন শতাংশ বা চার শতাংশ সুদে ঋণ দিতে হবে। উন্নত দেশ এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এ হারেই ঋণ দেওয়া হয়। এভাবে মর্টগেজ পদ্ধতিতে ঋণ দিলে সাধারণ মধ্যবিত্তরাও ফ্ল্যাট কিনতে পারবেন। ক্রেতাকে সক্ষম বানাতে হবে। ক্রেতা সক্ষম হলে ফ্ল্যাট বিক্রি হবে। ফ্ল্যাট বিক্রি হলে মানি সার্কুলেট হবে। সার্কুলেশন যত বেশি হবে, ততই সব পক্ষ উপকৃত হবে এবং অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে। ব্যাংক, ডেভেলপার, ক্রেতা সবাই উপকৃত হবে। আমাদের দেশে ফ্ল্যাটের একটি সেকেন্ডারি বাজার তৈরি হওয়া জরুরি। এজন্য সরকারকে ফ্ল্যাটের নিবন্ধন ফি কমাতে হবে। আমাদের পাশের দেশ ভারতে নিবন্ধন ফি মাত্র ৭-৮ ভাগ। সেখানে আমাদের দেশে ১২ ভাগ। নিবন্ধন ফি কমিয়ে সেকেন্ডারি বাজার তৈরি করতে হবে। যতদিন পর্যন্ত এই পদ্ধতি চালু করা না যাবে, ততদিন এই খাতের উন্নয়ন হবে না। ৫০-৬০ বছর আগে ইউরোপের বাজার এই অবস্থায় ছিল। মর্টগেজ ঋণের মাধ্যমে ফ্ল্যাট ক্রেতার নাগালের মধ্যে এনে এ পরিস্থিতি থেকে তারা বের হয়ে এসেছে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. এস কে সুর চৌধুরী বলেন, ‘আবাসন খাতে ঋণের বিষয়ে সচেতন বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এ খাতে এখন থোক বরাদ্দ দিলে মূল্যস্ফীতি আসবে। বাজার পর্যবেক্ষণ পলিসির কারণে আবাসন ঋণের ক্ষেত্রে এমন পলিসি নেওয়া হয়েছে। আবাসন খাতের পণ্যের দাম অনেক বেড়ে গেছে। এই বাজার পড়ে যেতে পারে। এ কারণেই অর্থায়নের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।’

অর্থনীতিবিদ হাসান মনসুর বলেন, ‘আমাদের দেশের ঋণ-মার্কেট অনুন্নত এবং এখানে আবাসনে অর্থায়ণ নেই বললেই চলে।’ তিনি বলেন, ‘ত্রিশ বছরমেয়াদি মর্টগেজ ঋণ চালু করে এই সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে। আবাসন পণ্যের সেকেন্ডারি বাজার তৈরির প্রতিও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আবাসনের অর্থায়নে সরকারকেই উদ্যোগী হতে হবে। স্বচ্ছতার মাধ্যমে বাজারে বন্ড ছেড়ে আবাসন খাতের জন্য ফান্ড তৈরি করা যেতে পারে বলেও অভিমত দেন তিনি।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের সামগ্রিক ঋণের বাজারকেই উন্নত করতে হবে। এখন যে ঋণ ব্যবস্থা চালু আছে, তাতে যার বাড়ি নেই তার পক্ষে বাড়ি কেনা সম্ভব নয়। সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে আবাসনের জন্য বিকল্প অর্থায়নের উৎসের কথা ভাবতে হবে।’

আবাসন অর্থায়নে বিকল্প উৎসের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট সবাই এ ব্যাপারে সরকারকে জরুরিভিত্তিতে উদ্যোগ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে।

মিলি মৃম্ময়ী

0 925

গ্রিক পুরাণে Labyrinth মানে গোলকধাঁধাঁময় এক বিশদ কাঠামো। কিংবদন্তি নির্মাতা ডায়ডালাস (Labyrinth) ক্রিটের রাজা মিনোসের জন্য নোসেসে (Knossos) একটি গোলকধাঁধাঁ নির্মাণ করেন। ডায়ডালাস গোলকধাঁধাটি এতোই জটিলভাবে তৈরি করেন যে, কাজ শেষে তিনি নিজেই কোন মতে বের হতে পেরেছিলেন। এই গোলকধাঁধাতেই গ্রিক উপকথার আর্ধমানব ও অর্ধ-ষ-মানব মেন্টরকে রাখা হয়। তারপরও শেষ রক্ষা হয়নি। সেখানে মেন্টরের মৃত্যু হয় এথেন্সের হিরো থেসাসের হাতে (Theseus)। আরিয়াডান (Ariadne) থেসাসকে গোলকধাঁধা থেকে বেরিয়ে আসার রহস্যের সুত্র দিয়ে সাহায্য করেছিল।

সাধারণভাবে দেখলে চলিত ইংরেজি Labyrinth-এর সমার্থক শব্দ গধুব। যার অর্থ বিভ্রান্ত, কিংকর্তব্যবিমূঢ়। কিন্তু সমসাময়িক বহু প-িতব্যক্তি এই দুয়ের মধ্যে পার্থক্য লক্ষ্য করেছেন। গধুব এক জটিল শাখাপ্রশাখা বিশিষ্ট ধাঁধা। একাধিক পথ ও দিক এর বৈশিষ্ট্য। Labyrinth-এর কিন্তু একটিই পথ, শাখাবিহীন যা কেন্দ্রের দিকে নিয়ে যায়। ৪৩০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে গোলকধাঁধা ডিজাইনে মুদ্রা তৈরি হয়। এরপর থেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে গোলকধাঁধা ডিজাইনের প্রসার বাড়তে থাকে। দিন দিন এর সম্প্রসারিত ঘটতে থাকে এবং রোমান সময়কাল থেকে রেঁনেসা পর্যন্ত এর বৈশিষ্ট্য প্রায় একই রকম ছিল। এই গোলক ধাঁধা নকশা হিসেবে হাজির হয় পটচিত্রে, আসবাবে, বডি আর্টে। খোদাই হয় গুহায়, গির্জার দেয়ালে। প্রথমে রোমানরাই দেয়াল ও ফ্লোরে টাইলস ও মোজাইকে গোলকধাঁধা নকশা করে। ব্যক্তিগত ধ্যান অথবা ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের জন্য বিশাল আকারের গোলকধাঁধা তৈরি হয় ফ্লোরে অথবা মাটিতে, যার ওপর হেঁটে যাওয়া যায়।

সানজিদা সামরিন

0 2137

‘যদি কাগজে লিখো নাম কাগজ ছিঁড়ে যাবে/পাথরে লিখো নাম পাথর ক্ষয়ে যাবে/হƒদয়ে লিখো নাম সে নাম রয়ে যাবে…।’

প্রিয়তমাকে ভালোবাসার কথা বলতে গিয়ে শিল্পী মান্না দে গানে গানে এ-কথাই শুনিয়েছেন। কাগজ ও পাথর ছিঁড়ে বা ক্ষয়ে গেলেও তার নাম প্রিয়তমা হƒদয়ে পরমযতেœ রেখে দেবে এটাই ছিল তার চাওয়া। কিন্তু যুগের হাওয়া বদলের সঙ্গে বদলে গেছে অনেক কিছু। বর্তমানে হƒদয়ে লেখা নামও ক্ষয়ে যাচ্ছে। আবার থেকে যাচ্ছে পাথরে লেখা নাম। পাথরে লেখা কিছু নাম বা লাইন যে আজীবন থাকেÑ সে কথাই জানাব এখন।

রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের নিচতলায় কথা হয় পাথরে নাম লেখে এমন একজনের সঙ্গে। ‘মান্না দে-র গানের ভক্ত আমি। উপমা দেওয়ার জন্য তিনি একটি গানে পাথরে লেখা নাম ক্ষয়ে যাওয়ার ব্যাপারে একটি কথা বলেছেন। কিন্তু বাস্তব অর্থে কথাটি পুরোপুরি সঠিক না। আমার অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি।’ জানান মো. আবুবক্কর হোসেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের পাথরে লেখা লাইনগুলো সারা জীবনেও কিছু হবে না। একবার পাথরে নাম লিখে নিয়ে গেলে পাথরটি ভেঙে না ফেললে পাথরটিতে লেখা নামের কিছুই হবে না।’
মো. আবুবক্কর গত ৩০ বছর পাথরে নাম বা লাইন লেখার কাজ করছেন। ৫০ বছরের বেশি বয়সী আবুবক্কর জানান, নানা কাজের মানুষ পাথরে বিভিন্ন কথা লিখে নেয়। এর মধ্যে বাড়ির নাম পাথরে লিখতে আসা মানুষের সংখ্যাই বেশি। এছাড়াও অনেক কাজে পাথরে মানুষ লিখতে আসে। চাহিদা কেমন জানতে চাইলে আবুবক্করের এক শব্দে উত্তর, ‘ভালোই’। তবে ‘কেমন ভালো’ তার মুখের কথায় সেটা না বোঝা গেলেও অল্পসময়ে ‘মায়ের দোয়া’ পাথরে নাম লেখার দোকানটিতে থেকেই বোঝা গেল। কিছু সময়ের মধ্যে বেশ কয়েকজন ক্রেতা আসেন পাথরে নাম লেখাতে। কথা হয় তাদের একজনের সঙ্গে। নাম সাইদুর রহমান খান। পেশা ব্যবসা। তিনি বলেন, ‘নতুন বাড়ি বানিয়েছি। বাড়ির কাজ প্রায় শেষ। এখন বাড়ির জন্য একটি সুন্দর নেমপ্লেট বানাতে এসেছি।’ দরদাম করে ‘খান নিবাস’ নামের নতুন বাড়িটির জন্য একটি নেমপ্লেট বানাতে অর্ডার দিলেন তিনি। শুধু বাড়ির নামের নেমপ্লেটই নয়, নানা বিষয় নিয়ে পাথরে নাম লেখায় দোকানিরা। ‘পাথর ঘর’-এর স্বত্বাধিকারী মো. মামুন মিয়া জানান, বাড়ির নামের নেমপ্লেট অর্ডার বেশি হলেও বাসা ও রাস্তার নম্বর, কবর, বিশেষ কোনো বাণী, বিশেষ কোনো চিহ্ন দিয়ে অনেকেই পাথরে লিখিয়ে নেয়।

কিন্তু কেমন খরচ হয় পাথরে নাম বা লাইন লেখাতে? কয়েকটি দোকান ঘুরে জানা গেল, এই পণ্যগুলো বিভিন্ন দাম ও আকারের হয়ে থাকে। আকার ও লেখার মানের ওপর অনেক সময় এগুলোর দাম নির্ভর করে। ৮ বাই ১২ ইঞ্চি পাথরে লিখতে খরচ হবে ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা। ১০ বাই ১২ ইঞ্চির জন্য ৮০০ থেকে ১ হাজার ১০০, ১০ বাই ১৫ ইঞ্চি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০, ১২ বাই ১৮ ইঞ্চি ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৭০০, ১৫ বাই ১৮ ইঞ্চি ১ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার, ১৮ বাই ২০ ইঞ্চি ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৩০০, ২০ বাই ২৪ ইঞ্চি ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০, ২৪ বাই ২৬ ইঞ্চি ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৭০০, ২৬ বাই ৩০ ইঞ্চি ২ হাজার ৭০০ থেকে ৩ হাজার, ২৮ বাই ৩২ ইঞ্চি ২ হাজার ৯০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ এবং ৩০ বাই ৩৪ ইঞ্চি পাথরে লেখার জন্য ৩ হাজার ৩০০ থেকে ৩ হাজার ৬০০ টাকা খরচ পড়বে। তবে স্থান ও মানভেদে দামের কিছুটা তারতম্য হতে পারে।

রাজধানী ঢাকায় পাথরে নাম লেখার সবচেয়ে বড় স্থান হলো বায়তুল মোকাররম মার্কেটের নিচতলা। এছাড়া পল্টন মোড়, বিজয়নগর, নিউমার্কেট, মিরপুর, মৌচাক, পুরান ঢাকা, যাত্রাবাড়ী, রামপুরাসহ বেশ কিছু জায়গায় পাথরে নাম লেখার দোকান আছে। এছাড়া প্রতিটি জেলা শহরেও কম-বেশি এ রকম দোকান আছে।

বাদল খান

বহুতল ভবনে লিফট থাকবে না এ সময়ে এটা প্রায় অকল্পনীয়। দ্রুতগতিতে ওঠা-নামা করার জন্য লিফটের বিকল্প নেই। এছাড়া বহুতল ভবনে ওপরের তলায় ওঠার মতো শারীরিক শক্তি ও সামর্থ্যও শিশু, বৃদ্ধ বা অসুস্থদের থাকে না। বড় বড় বাণিজ্যিক ভবন ও বিপণিবিতানগুলোতে নানা রকমের লিফটের দেখা মেলে। থাকে এলিভেটর বা এস্কেলেটরও।

নিয়ম অনুযায়ী ৬ তলা বা তারচেয়ে বেশি তলাবিশিষ্ট ভবন হলেই সেখানে লিফট থাকতে হবে। রাজধানী ঢাকার অভিজাত এলাকাগুলোয় গড়ে ওঠা প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই লিফট রয়েছে। নতুন গড়ে ওঠা ভবনগুলোতে লিফটের বিষয়টি রাখা হচ্ছে গুরুত্বের সঙ্গেই। ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট, রাজশাহী, বরিশাল, রংপুরের মতো বিভাগীয় শহরগুলো ছাড়াও জেলা ও উপজেলা শহরের বহুতল ভবনগুলোতেও আজকাল লিফট স্থাপিত হচ্ছে। নতুন যারা ভবন নির্মাণ করছেন বা ফ্ল্যাট কিনছেন তারা নিশ্চয়ই লিফট কেনার কথা ভাবছেন।
বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত লিফট উৎপাদন কারখানা চালু হয়নি। তবে তুরস্ক এদেশে লিফট কারখানা করার ঘোষণা দিয়েছে, যা এখনো পরিকল্পনাধীন। মূলত ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এবং চীন থেকে লিফট আমদানি করা হয়। দেশীয় বিভিন্ন কোম্পানি ও এজেন্সি এসব লিফট আমদানি করে থাকে। ভবন-মালিক বা ডেভেলপাররা মূলত তাদের মাধ্যমেই লিফট কিনে থাকেন। এসব এজেন্সি লিফট-এলিভেটর-এস্কেলেটর বিক্রির পাশাপাশি বেশ কিছু সেবা দিয়ে থাকে। যেমন- ডিজাইন করে দেওয়া, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ করা, সরবরাহ এবং ইন্সটলেশন করে দেওয়া, লিফট ও জেনারেটর পরিবর্তন, খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহ। ব্যবহার, আকৃতি ও নকশা অনুযায়ী কয়েক প্রকারের লিফট ও এলিভেটর পাওয়া যায়। এস্কেলেটরেও আছে ভিন্নতা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রেসিডেন্সিয়াল লিফট, প্যাসেঞ্জার লিফট, গুডস লিফট, হসপিটাল বেড এলিভেটর, প্যানোর‌্যামিক লিফট (দৃশ্য/চিত্রসহ) ও এস্কেলেটর ইত্যাদি।

বাংলাদেশে লিফট-এলিভেটর-এস্কেলেটরের আমদানি ও বিক্রয়োত্তর সেবা প্রদানকারী কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা দেওয়া হলো

এনেক্স ইন্টারন্যাশনাল (প্রা.) লি.
২১ আরমানিয়ান স্ট্রিট (বাবুবাজার), মোনা কমপ্লেক্স (৩য় তলা), ঢাকা-১২১২।
মান বাংলাদেশ ট্রেডিং (প্রা.) লি.
৪-বি, চন্দ্রশীলা সুবাস্তু টাওয়ার, ৬৯/১ পান্থপথ, গ্রিন রোড, ঢাকা-১২০৫।
প্রোপার্টি লিফট
প্রাণ-আরএফএল সেন্টার, ১০৫ মধ্যবাড্ডা, ঢাকা-১২১২।
বিডি লিফট লিমিটেড
করপোরেট অফিস : এক্সিকিউটিভ হোম (৫ম তলা), বাড়ি ২৪/এ, সড়ক-৪২, গুলশান-২, ঢাকা-১২১২।
এশিয়ান এলিভেটর অ্যান্ড টেকনোলজি
৮৫/১ (৪র্থ তলা), পুরানা পল্টন লাইন, পল্টন, ঢাকা-১০০০।
তাওর’স এলিভেটরস লিমিটেড
বাড়ি-৮০, সড়ক-২৩, গুলশান-১, ঢাকা।
প্রোভাইড এনার্জি লিফট কোম্পানি
৪৩৫/১/৩ ওয়্যারলেস রেলগেট (২য় তলা), মগবাজার, ঢাকা।
রহমান অ্যান্ড কোং বাংলাদেশ লিমিটেড
৮০ মতিঝিল বা/এ, জীবনবীমা ভবন (ষষ্ঠ ও সপ্তম তলা), ঢাকা-১০০০।
রয়াল টেকনোজোন লি.
আজিম কোর্ট (৪র্থ তলা), ৪১৩/বি আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম।
তোকাই পাওয়ার প্রোডাক্টস লি.
৬৯/সি গ্রিন রোড (৩য় তলা), পান্থপথ, ঢাকা-১২০৫।
টাওয়ার কর্পোরেশন
২৯৫ ইনার সার্কুলার রোড (৪র্থ তলা), ফকিরাপুল, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
ট্রেড রেডিক্স
১৯/৩ বাবর রোড (নিচতলা), মোহাম্মদপুর, ঢাকা।
চ্যালেঞ্জার এলিভেটর অ্যান্ড এস্কেলেটর লি.
সিটি হার্ট (৫ম তলা), স্যুট-৫/৬, ৬৭ নয়াপল্টন, ভিআইপি রোড, ঢাকা-১০০০।
ক্রিয়েটিভ ইঞ্জিনিয়ার্স লি.
৬২-৬৩ মতিঝিল বা/এ, আমিন কোর্ট (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
সাইবারনেটিক সিস্টেম লি.
৫১৫/১১ মালিবাগ বাগানবাড়ী, ঢাকা-১২১৭।
করপোরেট অফিস : বাড়ি-৭, সড়ক-৩ (৩য় তলা) ধানম-ি-১২০৫।
কীকো পলিমারস (প্রা.) লি.
১১৯/এ, সেগুনবাগিচা, ঢাকা-১০০০।
প্রোফেশনাল সার্ভিসেস
১৮ ডিআইটি অ্যাভিনিউ, লালবাগ (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১০০০।

সোহরাব আলম