Home বাজার দর

কারিকা প্রতিবেদক
রাজধানী ঢাকায় বিগত ২০ বছরের তুলনায় এবার ডেঙ্গুজ্বরের প্রকোপ বেড়েছে। এবারের ডেঙ্গুর ধরনও ভিন্ন। ইতোমধ্যে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত বেশ ক’জন মারা যাওয়ায় এই নিয়ে চরম ভীতি কাজ করছে মানুষের মধ্যে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এতদিন ব্যবহার করে আসা মশকনিধন ওষুধ পাল্টে নতুন ওষুধের ব্যবহার শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) কর্তৃপক্ষ। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনও (ডিএসসিসি) মশা নির্মূলে ব্যাপক গুরুত্ব দিচ্ছে। এমতাবস্থায় শুধু সিটি করপোরেশনের দিকে তাকিয়ে না থেকে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো বেশি জরুরি বলে মনে করছেন চিকিৎসকসহ সচেতন মহল।
এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ছিটানো ওষুধে মশা মরছে না। রাজধানীর মানুষ মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ। এ বছর বর্ষা মৌসুম শুরুর সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, ডেঙ্গু ভাইরাসের বাহক এডিস মশা প্রচলিত কীটনাশক দিয়ে মরছে না। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৮ সালের মার্চের মধ্যে করা গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখতে পান, ঢাকা শহরের এডিস মশা ওষুধ-প্রতিরোধী।
আইসিডিডিআরবির প্যারাসাইটোলজি ল্যাবরেটরির সহযোগী বিজ্ঞানী ও এই গবেষণা দলের প্রধান মোহাম্মদ শফিউল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আজিমপুর, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, গুলশান, কড়াইল, মিরপুর-১, উত্তরা সেক্টর-৪, মালিবাগ চৌধুরীপাড়া ও খিলগাঁও এলাকা থেকে এডিস মশার ডিম সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষাগারে সেই ডিম থেকে লার্ভা ও পরে মশা তৈরি করা হয়। সেই মশাকে ঢাকা শহরে ব্যবহার করা হচ্ছে-এমন কীটনাশকের সংস্পর্শে আনা হয়। তাতে দেখা যায়, সব মশা মরছে না। কীটনাশকের বিষক্রিয়া সহ্য করেও অনেক মশা বেঁচে থাকছে।’
গবেষণাটির সঙ্গে আইসিডিডিআরবির তিনজন ও যুক্তরাষ্ট্রের দুটি প্রতিষ্ঠানের তিনজন বিজ্ঞানী যুক্ত ছিলেন। গত বছর ২২ মে এই গবেষণার ফলাফল একটি অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তাদের সামনে প্রকাশ করে আইসিডিডিআরবির বিজ্ঞানীরা। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সরকারের স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের (সিডিসি) পরিচালক অধ্যাপক সোনিয়া তাহমিনা এবং রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপক মিরজাদী সাব্রিনা ফ্লোরা উপস্থিত ছিলেন। দুই সিটির তখনকার প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তারাও ছিলেন।
জানা গেছে, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় মানোত্তীর্ণ নয়, ছিটালে মশা তেমন মরে না-সম্প্রতি মশকনিধনের এমন ওষুধ ব্যবহার বন্ধ করে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে উত্তর সিটি করপোরেশন। তারা নতুন ওষুধ ব্যবহার করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আগে দ্য লিমিট অ্যাগ্রো প্রডাক্ট লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানের ‘লিমিট লিকুইড ইনসেকটিসাইড’ নামের ওষুধটি ব্যবহার করত দুই সিটি করপোরেশন। উত্তর সিটি করপোরেশন ওই ওষুধ পরীক্ষার জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্ল্যান্ট প্রোটেকশন উইংয়ে (পিপিইউ) পাঠায়। সেখানে পরীক্ষায় ওষুধটি মানোত্তীর্ণ হয়নি। তাই ডিএনসিসিতে ওই ওষুধের ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মশা নিধনে বর্তমানে ডিএনসিসি নকন লিমিটেডের ‘নকন মসকিউটো ইনসেকটিসাইড’ নামের ওষুধটি ব্যবহার করছে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও করণীয়
ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সচেতনতায় বেশকিছু পরামর্শ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের সাবেক ডিন ও চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ। গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি জানিয়েছেন, ডেঙ্গুর কোনো ভ্যাক্সিন নেই। যেহেতু ডেঙ্গু ভাইরাস চার ধরনের, তাই চারটি ভাইরাস প্রতিরোধে কাজ করে-এমন ভ্যাক্সিন এখনও আবিষ্কৃৃত হয়নি। তাই ডেঙ্গুজ্বর প্রতিরোধের মূলমন্ত্রই হলো এডিস মশার বিস্তার রোধ এবং এই মশা যেন কামড়াতে না পারে-তার ব্যবস্থা করা।
এডিসকে ‘ভদ্র’ মশা আখ্যায়িত করে ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, ‘অভিজাত এলাকায় বড় বড় সুন্দর সুন্দর দালানকোঠায় এরা বসবাস করে থাকে। স্বচ্ছ পানিতে ডিম পাড়ে। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার ডিম পাড়ার উপযোগী স্থানগুলোকে পরিষ্কার রাখতে হবে এবং একই সঙ্গে মশক নিধনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’
তার মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সতর্কতার গুরুত্ব অপরিসীম। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই চিকিৎসক বলেন, ‘এডিস মশা মূলত দিনের বেলা, সকাল ও সন্ধ্যায় কামড়ায়, তবে রাতে উজ্জ্বল আলোতেও কামড়াতে পারে। দিনের বেলা যথাসম্ভব শরীর ভালোভাবে ঢেকে রাখতে হবে, মশার কামড় থেকে বাঁচার জন্য ঘুমানোর সময় দিনে ও রাতে মশারি ব্যবহার করতে হবে। সম্ভব হলে ঘরের দরজা ও জানালায় নেট লাগানো যেতে পারে। প্রয়োজনে মসকুইটো রিপ্লেন্ট স্প্রে, লোশন বা ক্রিম, কয়েল, ম্যাট ব্যবহার করা যেতে পারে। বাচ্চাদের হাফপ্যান্টের পরিবর্তে ফুলপ্যান্ট বা পায়জামা পরাতে হবে।’
বসতবাড়ির বাইরে মশার বংশ বিস্তার রোধে করণীয় সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘মাঝে মাঝে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হওয়ার ফলে ঘরের বাইরে পানি জমতে পারে। যেমন ফুলের টব, প্লাস্টিকের পাত্র, পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের ড্রাম, মাটির পাত্র, টিনের কৌটা, ডাবের পরিত্যক্ত খোসা, কন্টেইনার, মটকা, ব্যাটারির শেল, পলিথিন ও চিপসের প্যাকেট ইত্যাদি। এসব জায়গায় জমে থাকা পানি দ্রুত ফেলে দিতে হবে।’
বসতবাড়ির মশা নিধন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সবার আগে ঘরে সাজানো ফুলদানি, অব্যবহৃত কৌটা, বাড়িঘর এবং বাড়ির আশপাশে যেকোনো পাত্র বা জায়গায় জমে থাকা পানি তিন থেকে পাঁচদিন পরপর ফেলে দিলে এডিস মশার লার্ভা মারা যায়। পাত্রের গায়ে লেগে থাকা মশার ডিম অপসারণে পাত্রটি ভালোভাবে ঘষে পরিষ্কার করে নিতে হবে। ঘরের বাথরুমে কোথাও জমানো পানি পাঁচদিনের বেশি যেন না থাকে-সেটা নিশ্চিত করতে হবে। ঘরের অ্যাকুয়ারিয়াম, ফ্রিজ বা এয়ার কন্ডিশনারের নিচে এবং মুখ খোলা পানির ট্যাংকে যেন পানি জমে না থাকে, সে ব্যবস্থা করতে হবে। বাড়ির ছাদে অনেকেই বাগান করে থাকেন। সেখানে টবে বা পাত্রে যেন কোনো ধরনের পানি পাঁচদিনের বেশি জমে না থাকে, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। বাড়ির আশপাশে ঝোপঝাড়, জঙ্গল, জলাশয় ইত্যাদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।’

রাজধানীতে ২৬ স্থানে কোরবানির পশুর হাট

সোহরাব আলম
কোরবানির পশুর চাহিদা মেটাতে রাজধানীতে স্থায়ী পশুর হাট গাবতলী ছাড়াও বেশকিছু অস্থায়ী হাট বসে। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন এলাকার ২৬টি স্থানে এবার অস্থায়ী পশুর হাট বসবে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন এলাকায় ১৪টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় বসবে ১২টি হাট।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় যে ১৪টি স্থানে হাট বসবে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ধূপখোলা মাঠসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউয়ারটেক মাঠসংলগ্ন আশপাশ এলাকার খালি জায়গা, আশুলিয়া মডেল টাউনের আশপাশের খালি জায়গা, দাওকান্দি ইন্দুলিয়া ভাগাপুরনগর (আফতাবনগর ইস্টার্ন হাউজিং মেরাদিয়া মৌজার সেকশন-১ ও ২) লোহারপুলের পূর্ব অংশ এবং খোলা মাঠসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, উত্তর শাহজাহানপুর খিলগাঁও রেলগেট বাজারের মৈত্রী সংঘের মাঠসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, শ্যামপুর বালুর মাঠসহ আশপাশের এলাকার খালি জায়গা; মেরাদিয়া বাজারসংলগ্ন আশপাশের এলাকার খালি জায়গা, ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সামসাবাদ মাঠসংলগ্ন আশপাশের এলাকার খালি জায়গা, জিগাতলা হাজারীবাগ মাঠসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, লালবাগের রহমতগঞ্জ খেলার মাঠসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, কামরাঙ্গীরচর চেয়ারম্যানের বাড়ির মোড় থেকে দক্ষিণ দিকে বুড়িগঙ্গা নদীর বাঁধসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, শ্যামপুর বালুর মাঠসহ আশপাশের খালি জায়গা, লিটিল ফ্রেন্ডস ক্লাবসংলগ্ন গোপীবাগ বালুর মাঠ ও কমলাপুর স্টেডিয়ামসংলগ্ন বিশ্বরোডের আশপাশের খালি জায়গা এবং শনির আখড়া-দনিয়া মাঠসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা।
অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় যে ১২টি স্থানে হাট বসবে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে কাওলা-শিয়ালডাঙ্গাসংলগ্ন খালি জায়গা, উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের উত্তরার স্লুইসগেট থেকে কামারপাড়া ব্রিজ পর্যন্ত ফাঁকা জায়গা, মিরপুর ডিওএইচএসের উত্তর পাশের সেতু প্রপার্টিসংলগ্ন খালি জায়গা, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট খেলার মাঠ, উত্তরখান ময়নারটেক শহিদনগর হাউজিংয়ের খালি জায়গা, বাড্ডা ইস্টার্ন হাউজিং (আফতাবনগর) ব্লক-ই সেকশন-৩-এর খালি জায়গা, মিরপুর সেকশন-৬ ওয়ার্ড-৬-এর (ইস্টার্ন হাউজিং) খালি জায়গা, খিলক্ষেত বনরূপা আবাসিক প্রকল্পের খালি জায়গা, উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের ১ নম্বর ব্রিজের পশ্চিম অংশ এবং ২ নম্বর ব্রিজের পশ্চিমে গোলচত্বর পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশের ফাঁকা জায়গা, ভাটারা (সাইদনগর) পশুর হাট, মোহাম্মদপুর বুদ্ধিজীবী সড়কসংলগ্ন (বসিলা) পুলিশ লাইনের খালি জায়গা এবং খিলক্ষেত ৩০০ ফুট সড়কসংলগ্ন উভয় পাশের বসুন্ধরা হাউজিংয়ের খালি জায়গা।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সদ্যবিদায়ী প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান কারিকাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, কোরবানির পশুর হাট ইজারার চূড়ান্ত কার্যাদেশ জারির পর দরপত্র অনুযায়ী প্রাপ্যদের ইজারা দিয়ে দেয়া হয়েছে।

কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কারে করণীয়
ঈদুল আজহায় কোরবানির পশু জবাইয়ের পর পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর রাখতে প্রতি বছরই আহবান জানিয়ে থাকে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। এ বিষয়ে প্রতিটি নাগরিকেরও দায়িত্ব আছে। পশু জবাইয়ের পর বর্জ্য যদি খোলা জায়গায় পড়ে থাকে, তবে তা মানবদেহ ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। পশুর রক্ত, ঘাস, লতাপাতা, নাড়িভুঁড়ির উচ্ছিষ্ট ও বর্জ্য রাস্তায় পড়ে থাকলে তার জীবাণু বাতাসের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে। ছড়িয়ে পড়া এই জীবাণু মারাত্মক স্বাস্থ্যহানি ঘটাতে পারে। তাই পশু জবাই ও মাংস বানানোর কাজ শেষ হলে বর্জ্য পরিষ্কারের জন্য নিজ নিজ সিটি করপোরেশনের দায়িত্বরত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। অথবা সিটি করপোরেশনের হটলাইনে যোগাযোগ করতে হবে। তারা বর্জ্য অপসারণে সহযোগিতা করবে।
কোরবানির পর বর্জ্য অপসারণে সচেতন নাগরিক হিসেবে নিজেদেরও কিছু দায়িত্ব পালন করা প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পৌঁছাতে দেরি হলে নিজ দায়িত্বেও কিছু কাজ করা যেতে পারে। এজন্য কোরবানির পশু জবাইয়ের গর্তটি মাটি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। গর্তের মধ্যে কিছু চুন বা ব্লিচিং পাউডার অথবা জীবাণুনাশক পদার্থ দেওয়া যেতে পারে। আশপাশে কোনো বর্জ্য থাকলে তা পরিষ্কার করতে হবে। এছাড়া জবাইকৃত পশুর রক্ত পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোরবানির পশুর দেহ থেকে নাড়িভুঁড়ির উচ্ছিষ্ট (অর্ধহজমযুক্ত খাদ্য/গোঘাষি) বের করে যত্রতত্র না ফেলে যথাযথ স্থানে ফেলতে হবে। সম্ভব হলে পশু জবাই করার স্থানটি গরম বা ঠান্ডা পানি ঢেলে পরিষ্কার করার পর ব্লিচিং পাউডার ছড়িয়ে দিতে হবে। তাহলে দুর্গন্ধ ছড়াবে না এবং স্থানটি জীবাণুমুক্ত হবে। বর্জ্য পরিষ্কারের পর নিজের হাত-পা ও সারা শরীর ভালোভাবে জীবাণুনাশক সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

মজুদ, পরিবহন ও ব্যবহারে মানা হচ্ছে না নিয়ম

কারিকা প্রতিবেদক
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ সাইফুল ইসলাম ওরফে রুবেল মারা যান গত বছরের ৬ নভেম্বর। একই ঘটনায় রুবেলের স্ত্রী সাজেনা আখতার আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চলতি বছরের ২৩ মে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে গাজীপুরে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু হয়। সম্প্রতি গ্যাস সিলিন্ডারজনিত অগ্নিদুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে সিলিন্ডার-ব্যবহারকারীদের মনে। এ-সংক্রান্ত দুর্ঘটনা বেড়ে গেলেও সিলিন্ডার বিক্রি, পরিবহন, মজুদ ও ব্যবহারে সচেতনতার অভাব এবং বিধিমালার তোয়াক্কা না করার বিস্তর অভিযোগ আছে। বেশিরভাগ ব্যবসায়ী ও ব্যবহারকারীরা সিলিন্ডার ব্যবহারের নিয়ম ও সংরক্ষণের উপায় জানেন না। আর যাদের এসব বিষয় দেখভালের কথা, তারাও জনবল সংকটের অজুহাতে দায় এড়িয়ে যাচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞ ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, গ্যাস সিলিন্ডারের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিতে কোম্পানিগুলোকে আরও সচেতন ও আন্তরিক হতে হবে, বাড়াতে হবে সংশ্লিষ্ট দফতরের তদারকি ও নজরদারি।
রাজধানীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, গ্যাস সিলিন্ডার প্রস্তুতকারক কোম্পানির মূল ডিলাররা সরকারি বিধি মেনে মজুদ, পরিবহন ও সরবরাহ করলেও খুচরা ব্যবসায়ীদের অনেকেই এসব নিয়মের ধার ধারছেন না। মগবাজার ও পুরান ঢাকার বেশিরভাগ এলাকায় সিলিন্ডার বিক্রির দোকানগুলো গড়ে উঠেছে আবাসিক ভবনের নিচে। এসব দোকানে নেই কোনো অগ্নিনির্বাপক-ব্যবস্থা। আবাসিক ভবনের নিচেই তারা ঝুঁকিপূর্ণভাবে গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ করছেন। এছাড়া ফুটপাত ও রাস্তার ওপরও দোকানিরা গ্যাস সিলিন্ডার সাজিয়ে রাখছেন।
রাজধানীর বিমানবন্দর ও মহাখালী এলাকার বিভিন্ন খাবারের হোটেল ও চায়ের দোকানগুলোতে দেখা যায়, চুলার একেবারে কাছাকাছি রেখে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করা হচ্ছে। কেউ কেউ সিলিন্ডার মাটিতে শুইয়ে রেখে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ব্যবহার করছেন।
বড় মগবাজারের লতিফ সরদার লেনে গিয়ে দেখা যায়, একটি রঙের দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। দোকানের সামনে দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে রঙে কয়েকটি বড় ক্যানের সঙ্গে রাখা হয়েছে গ্যাস সিলিন্ডার। দোকানটির ভেতরে রঙ ও রঙের কাজে ব্যবহৃত নানা ধরনের কেমিক্যাল রয়েছে। এ ছাড়াও সেখানে বিক্রি হচ্ছে গ্যাসের চুলাসহ হার্ডওয়্যারের বিভিন্ন পণ্য। দোকানের ভেতরে রঙের পাশেই রাখা হয়েছে ১২ কেজি ওজনের নয়টি গ্যাস সিলিন্ডার। শুধু তা-ই নয়, এসব সিলিন্ডারের ওপরে ঝুঁকিপূর্ণভাবে রাখা হয়েছে বিভিন্ন মালামালও। দোকানের মালিক সিদ্দিকুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের এটা হার্ডওয়্যার ও রঙের দোকান।’ গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির অনুমতি আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রঙের ব্যবসার পাশাপাশি বিক্রির জন্য কয়েকটি সিলিন্ডার রাখা হয়েছে।’ দোকানে অগ্নিনির্বাপক কোনো যন্ত্র আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, নেই’।
একই এলাকার একটি আবাসিক ভবনের নিচে দেখা যায়, গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির আরও দুটি দোকান পাশাপাশি। দুটি দোকানেই বেশকিছু সিলিন্ডার রাখা আছে। তবে এ দুটি দোকানে সামান্য কিছু অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র দেখা গেল। আলাপে দোকান-কর্মচারী রাজু জানান, দোকানে ফায়ার এক্সটিংগুইশার থাকলেও তিনি এটির ব্যবহার জানেন না। গ্রাহকরা ফোন করলে তারা সাইকেলে করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে গ্রাহকের বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার দিয়ে আসেন।
অনুমোদন ছাড়াই রঙের মতো দাহ্য পদার্থের দোকানে বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার গ্যাস। সিলিন্ডার বিক্রি ও মজুদের বিষয়ে বিস্ফোরক পরিদফতরের কোনো অনুমতি আছে কিনা জানতে চাইলে নাদিয়া এন্টারপ্রাইজের মালিক খুরশেদ মিয়া বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স আছে। কিন্তু বিস্ফোরক পরিদফতর লাইসেন্স দেয় নাই। অনেক টাকা লাগে। আর ছোট জায়গা বলে তারা লাইসেন্সও দেয় না।’
এদিকে, বিমানবন্দর এলাকার গোলচত্বরে ট্রাফিক পুলিশ বক্সের পেছনে রয়েছে কয়েকটি খাবার হোটেল। সরেজমিনে দেখা যায়, হোটেলের বাইরে একটি বড় গ্যাস সিলিন্ডার আড়াআড়িভাবে মাটিতে ফেলে রেখে ব্যবহার করা হচ্ছে। যদিও এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার-বিধিতে বলা আছে, কখনও উপুড় বা কাত করে নয়, সিলিন্ডার খাড়াভাবে রেখে ব্যবহার করতে হবে।
গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে কোনো ধারণা আছে কিনা জানতে চাইলে ওই খাবার হোটেলের ম্যানেজার রূপক বলেন, ‘আইনা চাবি দেই, পরে আগুন জ্বালাই। প্রয়োজন শেষ হলে বন্ধ করে দিই। কাইত কইরা রাখলে পইরা যাওয়ার রিস্ক থাকে না।’

গ্যাস সিলিন্ডার বিধিমালায় যা আছে
‘গ্যাস সিলিন্ডার বিধিমালা ১৯৯১’-তে বলা হয়েছে, গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয়ের জন্য কমপক্ষে পাকা ফ্লোরসহ আধাপাকা ঘর থাকতে হবে। ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপণ সক্ষমতা-সংক্রান্ত লাইসেন্স ও ছাড়পত্রসহ অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র, ফায়ার এক্সটিংগুইশার এবং মজবুত ও ঝুঁকিমুক্ত সংরক্ষণাগার থাকতে হবে।
সিলিন্ডার আমদানির বিষয়ে বিধির তৃতীয় পরিচ্ছেদে বলা আছে, লাইসেন্স ছাড়া সিলিন্ডার আমদানি নিষিদ্ধ। কোনো ব্যক্তি বিনা লাইসেন্সে গ্যাসপূর্ণ বা খালি সিলিন্ডার আমদানি করতে পারবেন না।
সিলিন্ডার পরিবহনের বিষয়ে বিধিমালার চতুর্থ পরিচ্ছেদে বলা আছে, গ্যাসপূর্ণ সিলিন্ডার কোনো দ্বিচক্রযানে (মোটরসাইকেল, সাইকেল) পরিবহন করা যাবে না। কোনো যানে সিলিন্ডার পরিবহনের ক্ষেত্রে সিলিন্ডারের কোনো অংশ ওই যানের বাইরে থাকা চলবে না। যানের যে অংশে সিলিন্ডার রাখা হয়, সে অংশে কোনো ধারালো বস্তু থাকবে না।
বিধিমালার সপ্তম পরিচ্ছদে সিলিন্ডারে গ্যাস ভর্তি ও গ্যাসপূর্ণ সিলিন্ডার মজুদ রাখার বিষয়ে বলা আছে, লাইসেন্স ব্যতীত সিলিন্ডারে গ্যাস ভর্তি ও সংরক্ষণ নিষিদ্ধ। বিধি-৪১-এর বিধান অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি বিনা লাইসেন্সে সিলিন্ডারে গ্যাস ভর্তি করতে পারবেন না অথবা গ্যাসপূর্ণ কোনো সিলিন্ডার তার অধিকারে (মজুদ) রাখতে পারবেন না।
এ প্রসঙ্গে কথা হয় মগবাজারের তাজউদ্দিন রোডের ওমেরা গ্যাস সিলিন্ডার কোম্পানির ডিলার মো. লতিফ রেজার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘গ্যাস সিলিন্ডারের ডিলারশিপ নিতে হলে খোলা জায়গা প্রয়োজন। এছাড়া বিস্ফোরক পরিদফতরের লাইসেন্স ও নকশা নিয়েই আমরা ব্যবসা করছি। কিন্তু এখন অলিগলিতে খুচরা ব্যবসায়ীরা লাইসেন্স ছাড়া গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করছে।’
বিস্ফোরক পরিদফতরের পরিচালক মো. সামসুল আলম বলেন, ‘গ্যাস সিলিন্ডারের যারা ডিলার বা সাব-ডিলার রয়েছেন, তাদের অবশ্যই বিস্ফোরক অধিদফতরের লাইসেন্স নিতে হবে। এছাড়া যারা খুচরা ব্যবসায়ী আছেন, তারা বিস্ফোরক পরিদফতরের লাইসেন্স ছাড়া ন্যূনতম ১০টি সিলিন্ডার বিক্রি করতে পারবেন। ১০-এর বেশি সিলিন্ডার মজুদ বা বিক্রি করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশও ব্যবস্থা নিতে পারবে।’
বিস্ফোরক পরিদফতরের লোকবল সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘একটি বিভাগে মাত্র তিন-চারজন করে অফিসার রয়েছেন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এত কম লোকবল দিয়ে কাভার করা সম্ভব হয় না। তাছাড়া, অফিসিয়াল কাজের প্রচুর চাপ থাকে। তাই মাঠপর্যায়ে সব সময় অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। এক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ যদি আমাদের সহায়তা না করে, তবে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা খুব কঠিন হয়ে যাবে।’
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়কারী ডা. সামন্তলাল সেন বলেন, ‘সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দুর্ঘটনার হার আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এ বিষয়ে মানুষের সচেতনতার অভাবেই দুর্ঘটনা ঘটছে।’
এজন্য ব্যবহারকারীদের প্রতি ছয় মাসে সিলিন্ডারগুলো মনিটর করার ওপর জোর দেন ডা. সামন্তলাল।

কারিকা প্রতিবেদক
ঢাকাকে তিলোত্তমা রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে বরাবরই চেষ্টা ছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। বর্তমান সময়েও নিয়মিত চলছে উন্নয়নযজ্ঞ। কিন্তু প্রায় দুই কোটি মানুষের এ শহরে বৃষ্টি-বিলাসের সুযোগ নেই বললেই চলে। ঢাকায় বৃষ্টি যেন এক আতঙ্কের নাম। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমের বৃষ্টি এ নগরের বাসিন্দাদের জন্য যতটা না আশীর্বাদ, তার চেয়ে বেশি অভিশাপ। সামান্য একটু বৃষ্টিতেই জলমগ্ন হয়ে পড়ে রাজধানীর সড়কগুলো। তৈরি হয় তীব্র যানজট। ছোট-বড় দুর্ঘটনাও ঘটে। পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকায় জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে অধিকাংশ এলাকা। বৃষ্টির দিনে উৎকণ্ঠা আর দুর্ভাবনায় পড়তে হয় রাজধানীর বাসিন্দাদের।
চলতি বৃষ্টি মৌসুমেও চিরচেনা জলাবদ্ধতার রূপ দেখেছে ঢাকাবাসী। ভয়াবহ জলাবদ্ধতার পেছনে রয়েছে অসংখ্য কারণ। নগরবিদরা বলছেন, নদী ভরাট রোধ, দখল হওয়া খাল উদ্ধার, পলিথিনের অবাধ ব্যবহার বন্ধ, অপরিকল্পিত বক্স কালভার্ট ও কার্যকর ড্রেনেজ সিস্টেম চালু করতে পারলে বহুলাংশে এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। এজন্য সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতাও জরুরি।
ঢাকা শহরের চারদিক বেষ্টন করে আছে তুরাগ, বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদ-নদী। শহরের ভেতরে শিরা-উপশিরার মতো ছড়িয়ে আছে ৬৫টি খাল। কিন্তু বেপরোয়া দখলদারিত্বে ভরাট হয়ে যাচ্ছে নদী ও খাল। রাজধানীর আশপাশে কয়েকটি খাল মৃতপ্রায় অবস্থায় থাকলেও অধিকাংশ খালের অস্তিত্বই এখন আর নেই। এসব নদী ও খাল এক সময় পানি নিষ্কাশনের প্রাকৃতিক পথ হিসেবে ব্যবহার হতো। ঢাকা ওয়াসার তৈরি বিভিন্ন ড্রেন ও বক্স কালভার্টও ময়লা-আবর্জনায় ভরপুর। ফলে বৃষ্টির পানি সরতে বাধাগ্রস্ত হয়। এসব ড্রেন ও কালভার্ট নিয়মিত পরিষ্কারে গড়িমসি দেখা যায়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকায় ময়লা ফেলার জন্য অসচেতন নাগরিকরা বেছে নেয় রাস্তাঘাট। নিষিদ্ধ পলিথিনও ফেলা হচ্ছে। পলিথিন মাটির পানি শোষণক্ষমতা নষ্টের পাশাপাশি নিষ্কাশনের পথও বন্ধ করে দেয়। এছাড়া বিভিন্ন উন্নয়নকাজে ব্যবহারের পর ফেলে রাখা জিনিসপত্র বৃষ্টি বা বিভিন্নভাবে গিয়ে ঠাঁই নেয় ড্রেনে। এতে ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায় পানিপ্রবাহ। এছাড়া রাজধানীতে কমে গেছে উন্মুক্ত মাটি। ভবন বা রাস্তা দিয়ে ঢেকে ফেলা হয়েছে অধিকাংশ জায়গা। গত কয়েক বছরে ঢাকা শহরের খোলা জায়গা ভরাট করে অপরিকল্পিতভাবে বিপুল পরিমাণ ভবন গড়ে উঠেছে। আরও নতুন ভবন নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। এসব নির্মীয়মাণ ভবনের কাজে ব্যবহৃত মাটি বৃষ্টির ঢলের সঙ্গে গিয়ে জমা হয়েছে ড্রেনে। ফলে মাটি জমে অকেজো হয়ে পড়েছে ড্রেনেজ-ব্যবস্থা।
এদিকে রাজধানীর উন্নয়নে বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও সেবা সংস্থা কাজ করে। একাধিক প্রতিষ্ঠানের কাজ আর দায় এড়ানোও জলাবদ্ধতা তৈরির নিয়ামক! কারণ কোনো সমন্বয় ছাড়াই যে যার মতো উন্নয়নকাজ করে যায়। বিভিন্ন প্রয়োজনে সারাবছরই চলতে থাকে খোঁড়াখুঁড়ি।
কয়েক বছর ধরে চলছে মেট্রোরেল নির্মাণকাজ। বৃষ্টির সময় পাথর ও মাটিতে বন্ধ হয়ে যায় পানিপ্রবাহের ড্রেনগুলো। রাজধানীর গ্রিন রোড, তেজকুনিপাড়া, তেজতুরী বাজার, খিলগাঁও, গোড়ান, বাড্ডা, সবুজবাগ, বাসাবো, বনশ্রী, নয়াপল্টন, কাকরাইল, শান্তিনগর, মৌচাক, মগবাজারের ভেতরের দিকে গলি ও ফার্মগেট থেকে কারওয়ান বাজার এলাকার অধিকাংশ সড়কই পানিতে তলিয়ে যায় অল্প বৃষ্টিতে। ধানমÐি, বনানী ও উত্তরার বিভিন্ন এলাকাও জলমগ্ন হয়ে যায়। এছাড়া কারওয়ান বাজার থেকে এফডিসি রোড, যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদসহ আশপাশের এলাকায় পানি জমে যায় স্বল্প সময়ের বৃষ্টিতেই। মিরপুর অঞ্চলের কালশী রোড, কাজীপাড়া, সেনপাড়া, ১৩ নম্বর সেকশন, মিরপুর-৬ নম্বরের একাংশ, ১০ নম্বর গোলচত্বরের সড়কের একাংশেও পানি জমে যায় হালকা বৃষ্টিতেই। রাজধানীর ব্যাংকপাড়াখ্যাত মতিঝিল এলাকাও জলাবদ্ধতা থেকে রেহায় পায় না। বিশেষ করে নটর ডেম কলেজের সামনের সড়ক, ফকিরাপুল, শাপলা চত্বরের অবস্থা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। পুরান ঢাকার প্রায় সর্বত্রই অল্প বৃষ্টিতে পানি জমে যায়।
সূত্র জানায়, রাজধানীর সড়কগুলোতে দুই হাজারের মতো ক্যাচপিট রয়েছে। এর মধ্যে ময়লা-আবর্জনা জমে এক হাজারের বেশি ক্যাচপিট বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টির পানি নেমে যাওয়ার সুযোগ থাকছে না।
নগরের জলাবদ্ধতা ও সার্বিক বিষয় নিয়ে ওয়াসার পরিচালক (কারিগরি) একেএম শহীদ উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে জলাবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নও করা হয়েছে। ড্রেনগুলো পরিষ্কার করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এ বছর জলাবদ্ধতা তুলনামূলক কম। অনেক জায়গায় ময়লা-আবর্জনা জমা হয়ে ক্যাচপিটগুলো বন্ধ হয়ে যায়, এতে পানি নামতে পারে না। আমাদের কর্মচারীরা সার্বক্ষণিক কাজ করছে।’
বিশিষ্ট নগর বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনের ব্যাপারে রাজধানী ঢাকায় কোনো একক সংস্থা নেই। একাধিক সংস্থা কাজ করে। তাদের মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। অথচ চাইলে ঢাকার সার্বিক সমস্যা সমাধানে একটা সুপার অথরিটি তৈরি করা যায়। যারা সুশাসন, পরিচালন ও সমন্বয়ের জন্য সর্বোচ্চ ক্ষমতা নিয়ে কাজ করবে। জলাবদ্ধতা নিরসনে কী কী বিষয় প্রাধান্য পেতে পারে-তা এ অথরিটি বসেই ঠিক করতে পারে।

একহারা গড়নের ছোটখাটো পেন্নি ড্রু বাইর্ডকে দেখতে সাধারণ মানুষ মনে হলেও কাজের ক্ষেত্রে তিনি হচ্ছেন ‘পাওয়ার হাউজ’। নিউইয়র্কে জন্ম নেয়া এই স্থপতির ইন্টেরিয়র ডিজাইনে বিষয়বস্তুর প্রতি ফোকাস, নিপুণতা ও সংকল্পবদ্ধতা লক্ষ্য করা যায়। পেন্নি ড্রু বাইর্ডকে ‘রুচিশীল ইন্টেরিয়র ডিজাইনের প্রবর্তক’ বলা হয়। তার স্থাপত্যকর্মে নকশার প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়।
ইন্টেরিয়র ডিজাইন ফার্ম পরিচালনার পাশাপাশি সংসারও সামলাচ্ছেন পেন্নি। অন্যসব স্থপতির মতো তিনি কখনো তীব্রভাবে প্যারিসে থাকার আকুলতা অনুভব করেননি। কিন্তু কয়েক বছর আগে হঠাৎ করে তিনি স্বামী ও তিন সন্তানসহ এক বছরের জন্য প্যারিসে বসবাস শুরু করেন। সেই সঙ্গে প্যারিসে থাকার তার সুপ্ত বাসনাও পূরণ হয়।
প্যারিসের দক্ষিণমুখী একটি বাড়িতে বেশ কয়েকটি গ্রীষ্ম কাটানোর পর পেন্নি খুব করে চাইছিলেন তার সন্তানরা দ্বিভাষিক হয়ে উঠুক। সেই সঙ্গে তিনি আরও চাইছিলেন তারা ইউরোপিয়ান সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত হোক। পেন্নি বাইর্ডের স্বামীরও একই চাওয়া ছিল।
পেন্নি বলেন, ‘প্যারিসে আমি অবকাশযাপন করতে আসিনি। প্যারিস ও লন্ডনে আমার অনেক কাজ আছে।’
তিনি জানতেন তার দক্ষ ও বিশ্বস্ত টিম নিউইয়র্কের সব কাজ সামাল দিতে পারবে। তাই তিনি নিউইয়র্কে টিম মেম্বারদের সঙ্গে মাসে একবার মিটিং করতেন এবং প্যারিস থেকে ইন্টেরিয়র ফার্ম পরিচালনা করতেন।
নিজের দৃঢ়চেতা মনোভাব আর স্বামীর সমর্থন থাকায় তিনি প্যারিসে একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানির কয়েকটি অ্যাপার্টমেন্ট রিনোভেশন করার দায়িত্ব পান।
নিজেকে ভাগ্যবান দাবি করে পেন্নি বলেন, ‘একদিন আমি তিন-চারটি নিখুঁত অ্যাপার্টমেন্ট দেখছিলাম। সেখান থেকেই রিনোভেশন করার জন্য তিনটি ব্লক বেছে নিলাম।’
পেন্নি ড্রু বাইর্ড যেসব অ্যাপার্টমেন্ট রিনোভেশন করার দায়িত্ব পেয়েছিলেন সেসব অ্যাপার্টমেন্ট ছিল প্যারিসের অভিজাত মানুষের আবাসস্থল। ১৯ শতকের শেষভাগে নির্মিত অ্যাপার্টমেন্টগুলো থেকে শহরের সৌন্দর্য পুরোপুরি উপভোগ করা যায়।
চার হাজার স্কয়ার ফিটের বিশাল অ্যাপার্টমেন্টে বিশাল আকারের ড্রইং রুম ছাড়াও একটি লিভিং রুম, একটি ডাইনিং রুম, একটি লাইব্রেরি রুম, একটি কিচেন ও পাঁচটি বেড রুম ছিল। এগুলোর সবকিছুই ভালো অবস্থায় ছিল, যা রিনোভেশন করার কোনো প্রয়োজন ছিল না। তাই বাইর্ড শুধু পুরনো রান্নাঘর এবং বাথরুমের বদলে নতুন রান্নাঘর ও বাথরুম তৈরি করলেন। তুলে দিলেন লিভিং রুম আর লাইব্রেরির মাঝখানের দরজাটা।
প্যারিসের অধিবাসীরা যেহেতু ঐতিহ্যগতভাবেই সংস্কৃতি-সচেতন, তাই অ্যাপার্টমেন্টগুলো রিনোভেশন করার সময় পেন্নিকে অনেক সতর্ক থাকতে হয়েছে।
পেন্নি বলেন, ‘আমি বাড়ি থেকে অনেক দূরে বসবাসকারী ফেঞ্চ-পরিবারের জন্য একটি দুর্দান্ত ফেঞ্চ-সংস্কৃতির সংস্করণ তৈরি করতে চেয়েছিলাম। ফ্রান্স যেভাবে ডেকোরেশন করা হয়েছে, আমিও অ্যাপার্টমেন্টটি সেভাবে ডেকোরেশন করেছি।’
পেন্নি মনে করেন অ্যাপার্টমেন্টের ইন্টেরিয়র ডেকোরেশনের ক্ষেত্রে পছন্দসই ডেকোরেশন আইটেমের ব্যবহার-ই মূল কথা নয়। পছন্দ করা ডেকোরেশন আইটেমটি অ্যাপার্টমেন্টের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করল কিনা, সেটাই বিবেচ্য বিষয়।
পেন্নি ড্রু বাইর্ড ইন্টেরিয়র ডিজাইন করার ক্ষেত্রে সস্তা কিন্তু এক্সক্লুসিভ ডেকোরেশন আইটেম ব্যবহার করে থাকেন। তিনি ফ্রান্সের বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে এসব এক্সক্লুসিভ ডেকোরেশন আইটেম খুঁজে বের করেন। তিনি বলেন, ‘ফ্রান্সের মার্কেট ঘুরে আমি একবার একটি প্রাচীন লম্বা কেসঘড়ি খুঁজে পেলাম। সম্ভবত ওই কেসঘড়িটি ছিল আমার সেরা অনুসন্ধান।’
প্যারিসে পেন্নি ড্রু বাইর্ডের দিনগুলো ভালোই কাটছিল। কাজের পাশাপাশি তিনি ওই সময়টাতে প্যারিসের সমৃদ্ধিশালী সংস্কৃতির অনুরক্ত হয়ে উঠেছিলেন।

কারিকা ডেস্ক

ইতালীয় শিল্প-ডিজাইনার ও স্থপতি পাওলো রিজাত্তোর অনন্য সৃষ্টি ফ্লোরসের ২৬৫ ওয়াল লাইট চার দশক পর এখনও প্রাসঙ্গিক। দূরদর্শী পাওলো জানতেন তার সৃষ্টিশীলতা দিয়ে তিনি এমন কিছু তৈরি করতে পারবেন যেটা চার দশক পরও স্বমহিমায় উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।
ঝকঝকে আলো, অভিজাত ডিজাইন ও উজ্জ্বল উপস্থিতির কারণে পাওলা রিজাত্তোর ডিজাইন করা লাইট লাইটিংশিল্পে বেশ সমাদৃত।
সৃষ্টিশীল ডিজাইনার পাওলো রিজাত্তো পলিটেকনিকো ডি মিলানো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থাপত্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তার অনেক সহকর্মী এবং পূর্বসূরিদের মতে, সে সময় তিনি এলিয়াস, আর্টেলুস, আর্টেমাইড, ক্যাসিনা, গিজিনি, লেন্সভেল্ট, কার্টেল, নল, লুসেপলান, ম্যান্ডারিনা ডক, মোলেটেনি, মন্টিনা, নিমো, ফিলিপস, থোনেটসহ ইতালির অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক ডিজাইন কোম্পানির জন্য কিছু অনন্য সৃষ্টিকর্ম (মাস্টারপিস) তৈরি করেছিলেন।

পাওলো তার সৃজনশীল শিল্পকর্ম শুধু লাইট ডিজাইন এবং আসবাবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেননি, বরং বিভিন্ন প্রজেক্টে পুরোমাত্রার স্থাপত্য ডিজাইনও করেছেন।
ইতালির মিলান শহরে ১৯৪১ সালে জন্ম নেয়া পাওলো রিজাত্তো ১৯৬৫ সালে মিলান পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার পর ইতালির বিখ্যাত লাইটিং এবং ইন্টেরিয়র ডিজাইন কোম্পানি আর্টলুসে যোগ দেন।
পরে তিনি ১৯৬৮ সালে নিজস্ব একটি ডিজাইন ও আর্কিটেকচারাল স্টুডিও চালু করেন। তিনি এমন সময় ডিজাইন স্টুডিওটি চালু করেন, যখন স্থপতি ও ডিজাইনার হিসেবে তার নাম ইতালিসহ বিশ্বের অন্য প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে।
১৯৭২ থেকে ১৯৭৬ সালের মধ্যে তিনি একটি নার্সারি স্কুল, একটি অবকাশযাপনকেন্দ্র, শহরতলির কয়েকটি বাড়ি ও একটি পূর্ণাঙ্গ আবাসিক এলাকার ডিজাইন করেছিলেন।
সমগ্র ইতালিজুড়ে পাওলোর স্থাপত্যকর্মের সংখ্যা কম। তবুও তার সময়ে করা সৃষ্টিশীল স্থাপত্যকর্মের জন্য বিশ্বে তার প্রতিভা বিকাশ সময়ের ব্যাপার ছিল মাত্র। বিশ্বস্বীকৃতি তার জন্য অপেক্ষায় ছিল।

কারিকা ডেস্ক

কামরুজ্জামান কাজল
‘এসো হে বৈশাখ…এসো…এসো…’ গানের সঙ্গে সঙ্গে বরণ করা হয়ে গেল নতুন বছরকে। নতুন বছরে নিজের ঘরবাড়ি-গুছিয়ে নিয়েছেন অনেকেই। কেউবা আবার সময়ের সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে পারেননি। গোছানো হয়নি প্রিয় শান্তির নীড়। কিন্তু মনের কোণে তো উঁকি দিয়ে আছেই নিজের ঘরটাকে সুন্দর করে গুছিয়ে রাখার। ঘর-দোর স্বপ্নের মতো কিংবা শান্তির পরশে সাজিয়ে নিতে চান যারা, তাদের জন্য পরামর্শ দিয়েছেন ফারজানা’স ব্লিজের স্বত্বাধিকারী ফারজানা গাজী।

‘ঘর সাজাতে কার না ভালো লাগে? নতুন বছরে নিজেকে নতুন করে পেতে আমরা নতুন পোশাকে সেজেছি। সাজিয়েছি পরিবারের সবাইকে। অনেকে সাজিয়েছি ঘর-দুয়ারও। যারা পারেননি তারা এবার সময়-সুযোগ করে সাজিয়ে নিতে পারেন। গত বছরের নতুন সব হোম ইন্টেরিয়র ছিল থ্রিডি ফ্লোর ডিজাইন, ভিন্ন মাত্রার কিচেন ক্যাবিনেট, অন্দর আলোকিত করতে একসেন্ট লাইটিং, দেয়ালে ইলুশনের ছোঁয়া, ঘর সাজাতে আয়নার ব্যবহার, বহুদিনের অব্যবহৃত অ্যান্টিক পিস দিয়ে ঘর সাজানো। এমন অনেক বিষয় এসেছে অন্দরসজ্জায়।’ বিগত বছরে ঘর সাজানোতে কোন কোন বিষয় উল্লেখযোগ্য ছিল তা বর্ণনা করেন ফারজানা।
আপনার সাজানো-গোছানো ঘরটি আপনাকে প্রফুল্ল করে তুলবে প্রতি মুহূর্তে। ঘরের পরিবেশ সুন্দর তো মনের পরিবেশও সুন্দর। ঘরের সাজ অনুষঙ্গ সবসময়ই ব্যক্তিত্বের পরিচয়কে ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করে। তাই ঘরদুয়ার এবার সাজিয়ে নিতে পারেন সুন্দর করে।
বসার ঘরটাতেই বরণ করা হয় অতিথিদের। এই ঘরটা তাই একটু গোছানো দরকার নিয়ম করে। ঘরে যদি বড় কোনো পরিবর্তন আনতে চান, তবে প্রথমেই বদলে ফেলতে পারেন ঘরের পর্দা। যদি কেনার দরকার না হয় তবে আগেরগুলোকে পরিষ্কার করে ধুয়ে ইস্ত্রি করলেই দেখবেন ঘর কেমন ঝকঝকে। এতে করে উজ্জ্বল হবে পুরো ঘরের সাজসজ্জাই। আসবাবগুলো দীর্ঘদিন ধরে হয়তো একই স্থানে রয়েছে। সেগুলো জায়গা বদল করে রাখুন। বেশ পরিবর্তন চলে আসবে ঘরে। কাঠের আসবাবগুলোর রঙ বিবর্ণ হয়ে গেলে পলিশ করিয়ে নিন। নতুনের মতোই চকচকে হয়ে উঠবে। বসার ঘরে ক্যাকটাস কিংবা বনসাই রাখতে পারেন। দরজার বাইরে পাম ট্রি রাখা যেতে পারে। দেয়ালজুড়ে পাতাবাহারও রাখতে পারেন।
ঘরের পরিবেশে থাকা চাই স্নিগ্ধতা। মিষ্টি টুংটাং শব্দে অতিথিকে স্বাগত জানাতে দরজার সামনে ঝুলিয়ে নিন নজরকাড়া ডিজাইনের একটি উইন্ড চাইম। ফুল সাজিয়ে রাখার জন্য ক্রিস্টালের ফুলদানি কিনতে পারেন। মেঝেতে বিছানো শতরঞ্জি বা কার্পেটটি বদলে নতুন ডিজাইনের একটি বিছিয়ে দিন। পাশেই বসার ব্যবস্থা করে আরামদায়ক কিছু কুশন ছড়িয়ে দিন। একঘেয়েমি সাজ থেকে মুক্তি মিলবে কিছুটা হলেও। ঘরে মাটির পটারি থাকলে সেখানে নতুন রঙ লাগিয়ে ঝকঝকে করে তুলুন। চাইলে আইকা দিয়ে ছোট ছোট গ্লাস বসিয়ে সাধারণ পটারিকে নতুন আমেজ দিতে পারেন। সম্ভব হলে দেয়ালগুলোতেও দিতে পারেন রঙের ছোঁয়া। দেয়ালে সুন্দর একটি পেইন্টিং টানিয়ে দিতে পারেন।

একরাশ ক্লান্তি নিমিষে মুছে দিতে পারে আপনার প্রিয় শোবার ঘরটি। এই ঘরটাতে নিয়ে আসতে পারেন খানিকটা বিশেষত্ব। বিছানার চাদর ও পর্দা বদলে ফেলার পাশাপাশি পরিবর্তন করে ফেলতে পারেন দীর্ঘদিনের টেবিল ল্যাম্পটিও। ভিন্নতা চলে আসবে ঘরের সাজে। মাঝে মাঝে এই ঘরের আসবাবপত্রও জায়গা বদলে নিতে পারেন। এতে করে একঘেযেমি কেটে যাবে অনেকখানি। অগোছালো অবস্থায় থাকা টেবিল কিংবা বুক শেলফটিকে একটু যত্ন নিয়ে গুছিয়ে ফেলুন। ঘরের যেখানেই যা কিছু থাকুক না কেন তা যদি একটু পরিপাটি করে গুছিয়ে রাখেন, তাহলে দেখবেন সেই ঘর মন ছুঁয়ে যাবে আপনার। ঘরের ফ্যান ও লাইটও মুছে নিন। ঝকঝকে শোবার ঘর স্বস্তি নিয়ে আসবে মনে। শোবার ঘরে শেলফের ওপরে রাখতে পারেন তরতাজা কিছু ফুল। ফুলের স্নিগ্ধ সুবাস চারপাশ মাতিয়ে রাখবে। সেই সঙ্গে মেতে থাকবে আপনার মনও।
অতিথিদের খাবার পরিবেশন করতে হয় ডাইনিং রুমে। সেজন্য আকর্ষণীয়ভাবে খাবার রুম ও টেবিল সাজিয়ে তুলুন। টেবিল ক্লথটি পরিষ্কার করে ফেলতে পারেন। চাইলে ক্লথের পাড় ঘেঁষে লেইস লাগিয়ে নিতে পারেন। তবে পুরনোটা বদলে নতুন একটি কিনে নিলেই ভালো করবেন। টেবিল ম্যাটগুলোও পরিবর্তন করে নেওয়া যায়। পর্দা ও দেয়ালের রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাছাই করুন টেবিল ক্লথ। খাবারের টেবিল কিংবা খাবারের ঘরের এককোণে রাখতে পারেন কিছু গাছ। সবুজে ছেয়ে থাকলে তা প্রশান্তি দেবে মনে। অতিথি যখন আপনার ঘরে আপ্যায়িত হবেন, তখন না হয় রাখলেন ফুলদানি ভর্তি তাজা ফুল। ঘর ও মন মাতিয়ে রাখবে যা সবসময়।

কামরুজ্জামান কাজল

মাথার উপর সুবিশাল আকাশ। সেই আকাশে তাকিয়ে কেটে যাবে বেলা। এমন কাব্যিক ভাবনা মনের অগোচরে থাকলেও দিনশেষে আমাদের নিজ নীড়েই ফিরতে হয়। নিজ ঘর। আপন ভুবনে মনের মধ্যে বসত করে ছড়ানো -ছিটানো বিশাল এক বাসা। আলো-বাতাসের খেলায় মেতে উঠবে প্রতিটিক্ষণ। কিন্তু সাধ আর সাধ্য তো আমাদের এক হয় না। যেমন বিশাল পরিসরের বাসা আমরা চাই তেমন কি আমরা পাই? নিজের হোক কিংবা ভাড়া-ই হোক ইচ্ছেমত বিশাল পরিসরের বাসায় আর হয়না থাকা। কিন্তু মনের মধ্যে আফসোস থেকেই যায়…। ইস আমার বাসাটা যদি একটু বড় হতো!
এই আফসোস কিছুটা মেটাতে আপনাদের কিছু কৌশলেে পরামর্শ দিয়েছেন ইন্টেরিয়র ডিজাইনার ফারজানা গাজী।

আসবাবপত্রে বুদ্ধিমত্তা

ঘরের কোন জায়গায় কেমন আসবাব দিবেন সেক্ষেত্রে সচেতন হবেন। যেমন এর একটি উপায় হতে পারে প্রথমে বড় একটি বিছানা দিয়ে আপনার বেডরুমে একটি সম্পূর্ণতার অনুভূতি তৈরি। এরপর কক্ষের সঙ্গে মানানসই ছোট আকারের শেলফ ও অন্যান্য ফার্নিচার দিয়ে সাজান। একই কৌশল আপনার অন্যান্য ঘরেও খাটাতে পারেন। ছোট বাড়ির জন্য মাল্টিফাংশনাল ফার্নিচার একটি ভালো সমাধান। বর্তমানে বহু ধরনের মাল্টিফাংশনাল ফার্নিচার পাওয়া যায়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ভাজ করে রাখা চেয়ার, টেবিল কিংবা সোফা কাম বেড। আপনার দেয়ালের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে ফার্নিচারের রং পছন্দ করুন। পুরনো ফার্নিচার বাড়িতে যথেষ্ট স্থান নেয়। তাই আপনি যদি আধুনিক ছোট বাড়িতে থাকেন তাহলে পুরনো ফার্নিচার বদলে নতুন ও স্থান সাশ্রয়ী ফার্নিচার কিনুন। আপনার অব্যবহৃত জিনিসপত্রের ওপর নজর রাখুন। কোনো জিনিস যদি এক বছরেও ব্যবহৃত না হয় তাহলে এটি সরিয়ে ফেলুন।

রুচিসম্মত পর্দা

ঘরের পর্দা মন ভালো করে দেয় অনেকখানি। পর্দা সাজানোর উপর বাসার সৌন্দর্য নির্ভর করছে। কক্ষে পর্দা লাগানোর সময় লক্ষ্য রাখুন এটি যেন আপনার দেয়ালের রঙের সঙ্গে মিলে যায়। আর এতে কক্ষের আকার অনেক বড় মনে হবে। এছাড়া উঁচুতে পর্দা স্থাপন করে তা নিচ পর্যন্ত বিন্যস্ত রাখলে ভালো হয়। হালকা প্রিন্ট কিংবা একরঙা পর্দা ব্যবহার করুন। এটি ছোট ঘরকে বড় দেখাতে সহায়তা করবে।

স্লাইডিং দরজা
একঘর থেকে আরেকঘর। মাঝখানে দরজা। ঘরের দরজার কারণে জিনিসপত্রও ঠিকমত রাখতে পারছেন না আপনি।
ভেতরের বিভিন্ন কক্ষের মাঝের দরজা ও কাপবোর্ডের দরজা মূল্যবান স্থান নষ্ট করতে পারে। এক্ষেত্রে সমস্যা হলে দরজা সরিয়ে ফেলা যেতে পারে। বিকল্প হিসেবে স্লাইডিং দরজা ব্যবহার করুন।

ফ্লোর টু সিলিং
বাসায় প্রচুর বই? কোথায় রাখবেন বুঝে উঠতে পারেন না। এইঘরে ছোট সেলফ তো অন্যঘরে আরেকটি। এইভাবে বই রাখার চিন্তা মাথায় নিয়ে না ঘুরে উপায় খুঁজুন ভিন্নভাবে। বই রাখার জন্য ফ্লোর টু সিলিং বিস্তৃত সেলফ ব্যবহার করুন। এটি আপনার সিলিংয়ের উচ্চতা বাড়ানোর অনুভূতি দেবে। এছাড়া প্রচুর জিনিসও রাখা যাবে।

রঙের বাহার

আপনার ঘরের দেয়ালে যে রঙ ব্যবহার করবেন সে বিষয়ে সচেতন হতে হবে। হালকা ও প্রাকৃতিক রঙের ওপর গুরুত্ব দিন। এগুলো আপনার ছোট স্থানকেও বড় দেখাতে সহায়তা করবে। কক্ষের ভেতর সূর্যের আলো প্রতিফলন ঘটাতে বড় আয়না খুবই কার্যকর। ছোট কক্ষকে এটি বড় করে দেখাবে।

এছাড়াও মাথায় রাখতে পারেন যা…

নীড় ছোট। প্রস্থও কম। নজর তাই একটু আমরা ভিন্ন দিকে দেই। চারদেয়ালের বাইরে, ছাদের দিকে যাক না নজর। এজন্য আপনার দেয়ালের উঁচু স্থানে ছোট ছোট কিছু ছবি ঝুলান। চারদেয়ালের বাইরেও তখন যাবে চোখ। এতে ভিন্নধরনের অনুভূতি তৈরি হবে।সব ফার্নিচার সর্বদা দেয়ালের সঙ্গে রাখতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। কখনো কখনো মাঝামাঝি স্থানে বসালেও তা বড় অনুভূতি তৈরি করে। একটি ঘরের সবটুকু জায়গা আসবাব দিয়ে ঠেসে রাখবেন না। কক্ষের সব স্থানই ব্যবহার করবেন না। কিছু খালি স্থান রাখবেন। যেমন শেলফের সবগুলো খোপ ভর্তি না করে কিছু খালি রাখুন।
সবকটা জানালা খুলে দাওনা…। গানের কথামত খোলা রাখুন সব জানালা। এতে আপনার ছোট স্থানেরও আলাদা গভীরতা তৈরি হবে। আলো আসুক ঘরে। ঘরের ভেতর পর্যাপ্ত সূর্যের আলোর ব্যবস্থা করুন। যদিও আমাদের এই নগরীতে ঠাসা-ঠাসি করেই থাকতে হয় হয় আমাদের। এক বাড়ির দেয়াল ঘেষে অারেক বাড়ি। তারপরও যতটুকু আলো বাতাস আসার কিছুটা সুযোগ থাকে তার সবটুকুই ঘরে আসতে দিন। প্রাকৃতিক আলোবাতাসে ছোট ঘরও হয়ে উঠবে স্বাস্থ্যকর। সবুজে সাজুক আপনার ঘর। এজন্য যে বড় বাগান কিংবা মূল্যবান গাছ লাগাতে হবে, তা নয়। ঘরের ভেতর টবে রাখা একটি ছোট গাছই এজন্য যথেষ্ট। ইচ্ছে করলে পছন্দমত মানিপ্ল্যান্টে সাজিয়ে নিতে পারেন ঘরের বিভিন্ন কোনগুলো।

স্থাপত্য-জীবনের শুরুতেই ইতালীয় নকশার কিংবদন্তি অ্যাকিল কাস্টিগ্লিওনের সান্নিধ্য পেয়েছিলেন প্যাট্রিসিয়া ইউক্রুইওলা। তাই প্যাট্রিসিয়ার স্থাপত্যকর্মেও নান্দনিকতা ও আভিজাত্যের ছোঁয়া দেখা যায়। তিনি তার কর্মজীবন শুরু করেন লাক্সারি লেবেল দ্য পাডোভাতে। আর্কিটেক্ট এবং প্রোডাক্ট ডিজাইনার হিসেবে সুপরিচিত প্যাট্রিসিয়া ইউক্রুইওলা তার এক্সপেরিমেন্টাল ইউনিক ফিউশন স্টাইলের জন্য বিখ্যাত। মুর্টিনা, কার্টেল, ফসকারিনি এবং মোরেসার মতো শীর্ষস্থানীয় ডিজাইন-হাউজের জন্য তার ডিজাইন করা টাইলস, লাইটিং, ফার্নিচার, ফ্রেবিক্স কিংবা কার্পেট যা-ই হোক-না কেন, আলাদা অনুভূতি তৈরি করে। তার স্টাইল, প্যাটার্ন এবং উপকরণ সম্মিলনের দক্ষতা, পুস্পশোভিত সাজসজ্জা এবং সঠিক অনুভূতির ব্যবহার সবাইকে অবাক করে।
প্যাট্রিসিয়া তার সৃষ্টিকর্মে এমন কৌতূহল সৃষ্টি করেন যে, তার শিল্পকর্ম যেন বলে ওঠে ছোঁও আমাকে।’
২০০৮ সালে এক্সওরের সঙ্গে যৌথভাবে বাথরুম ডিজাইন করে বোদ্ধামহলের নজর কাড়েন প্যাট্রিসিয়া। তিনি দেখিয়েছেন বাথরুম কিভাবে ব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটায়। স্টাইল ফিউশনে বাথরুমের নকশা করে প্যাট্রিসিয়া বিশ্বে অন্যরকম পরিচিতি লাভ করেন।
প্যাট্রিসিয়া ইউক্রুইওলার বেড়ে ওঠা স্পেনের ওভিডিও শহরে। স্থাপত্য বিষয় অধ্যায়নের জন্য তিনি মাদ্রিদে যান। সেখান থেকে পরে মিলানের পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। প্যাট্রিসিয়া ইউক্রুইওলা অসংখ্যবার ‘বর্ষসেরা ডিজাইনার’ নির্বাচিত হন। তিনি স্প্যানিশ সরকারের পক্ষে ফাইন আর্টসে গোল্ড মেডেলও লাভ করেছেন।

ফাইজুল ইসলাম
সাম্প্রতিককালে বিশ্বে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বা সংক্ষেপে ভিআর প্রযুক্তির বিরাট অগ্রগতি হয়েছে। ইংরেজি শব্দগুচ্ছ ভার্চুয়াল রিয়েলিটি অর্থ যা বাস্তব না হলেও বাস্তব বলে গণ্য। আগে ভিআর প্রযুক্তিতে ভারী ভারী সরঞ্জাম ব্যবহৃত হতো। এখন তা বহনযোগ্য ও ব্যয়সাশ্রয়ী। মোবাইল ও হেডসেট ব্যবহার করেই এই প্রযুক্তি থেকে পাওয়া যাচ্ছে এর উপকারিতা। এই কারণে এ ধরনের ডিভাইসের কেনাবেচা ক্রমেই বাড়ছে। এর কনটেন্টও হচ্ছে অধিক মানসমৃদ্ধ ও বাস্তবসম্মত। ভিআর প্রযুক্তির ব্যবহারিক ও বাণিজ্যিক আবেদনও আছে। যেমন- রিয়েল এস্টেটে তথা প্লট, ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট ব্যবসার প্রসারে এই প্রযুক্তির ব্যবহারের কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়। রিয়েল এস্টেট এজেন্সিগুলো কাস্টমারদের আকর্ষণে এবং প্রপার্টিগুলো পরিদর্শনের খরচ কমাতে এখন ভিআর প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন অবলীলায়।
২০১৫ সাল থেকে ভিআর প্রযুক্তি রিয়েল এস্টেটসহ বিভিন্ন শিল্পে একটি নতুন মার্কেটিং কৌশল হিসেবে আবিভূত হয়েছে। এজেন্সিগুলো স্যামসাং ভিআর হেডসেটের মাধ্যমে আমেরিকার লসঅ্যাঞ্জেলেস, নিউইয়র্ক ও হামটনসহ অভিজাত শহরের মাল্টিমিলিয়ন ডলার মূল্যের অ্যাপার্টমেন্ট ও বাড়িগুলো তাদের ভিআইপি ক্রেতাদের দেখাতে শুরু করল। তারপর থেকে অসংখ্য ভিআর রিয়েল এস্টেট প্রজেক্ট তৈরি হতে থাকল। ভিআর প্রযুক্তিও বহুমুখী কর্মশক্তিসম্পন্ন ও ডাইনেমিক তথা গতিশীল হলো। বিশেষজ্ঞরা ভবিষ্যদ্বাণী করলেন এই বলে যে, রিয়েল এস্টেটে ভিআর প্রযুক্তির উত্থান হবে অপ্রতিরোধ্য। ২০২৫ সাল নাগাদ এই শিল্পে ভিআর/এআর সফটওয়্যার থেকে মোট আয় হবে ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। তারপরও এই শিল্পে এখনো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। এই চ্যালেঞ্জগুলো হলো হাইকোয়ালিটির কনটেন্ট তৈরি করা, কনটেন্ট তৈরিতে কম সময় নেয়া এবং হেডসেটের মূল্য ক্রয়সীমার মধ্যে রাখা ইত্যাদি।

রিয়েল এস্টেটে ভিআর প্রযুক্তির ব্যবহারিক আবেদন
রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় কয়েকটি ক্ষেত্রে ভিআর প্রযুক্তির প্রায়োগিক আবেদন রয়েছে। যেমন-
১. ভার্চুয়াল ট্যুরসঃ ব্যক্তিগত ব্যবহার বা ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য কোনো প্রপার্টি ক্রয় করা অনেক ঝক্কি-ঝামেলার ব্যাপার। এজন্য সময়ও লাগে অনেক। দিতে হয় সীমাহীন ধৈর্য্যের পরিচয়। যদি প্রপার্টি ও ক্রেতার ভৌগোলিক অবস্থান হয় ভিন্ন ও বেশি দূরত্বের, তাহলে তা ক্রয় করা হয়ে পড়ে আরও কঠিন। এক্ষেত্রে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি সময় ও অর্থ বাঁচাতে সহায়তা করে। রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে প্রজেক্ট এরিয়া ঘুরে আসা যায় কয়েক মুহুর্তের মধ্যে। প্রপার্টি সম্পর্কে প্রিভিউ বা একটি আগাম ধারণা দেওয়াও সম্ভব হয়। এ ধরনের রিয়েল এস্টেট ভার্চুয়াল ট্যুর প্রদর্শনের জন্য যে কোনো আধুনিক ভিআর হেডসেটই যথেষ্ট। সেই ট্যুর হতে পারে ৩৬০-ভিডিও ফরম্যাটে অথবা নৌ বা বিমান যাত্রার মধ্য দিয়েও তা দেখানো যেতে পারে, যা হবে আরো প্রাণবন্ত ও উপভোগ্য।
২. ভার্চুয়াল ভিজ্যুয়ালাইজেশনঃ রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় যেসব প্রপার্টি নির্মাণাধীন রয়েছে, ভিআর প্রযুক্তি তার বিক্রয়ের ক্ষেত্রেও ব্যাপক সহায়তা করতে পারে। মার্কেটিংয়ের কর্মী ও রিয়েল এস্টেট এজেন্টরা এ ধরনের হাউজিংয়ের বিজ্ঞাপনে বহু কষ্ট করে থাকেন। কেননা সেখানে দেখার মতো আসলে বাস্তব জিনিসের অভাব রয়েছে। কিন্তু ভার্চুয়াল ভিজ্যুয়ালাইজেশনের মাধ্যমে তা সহজে দেখানো যায়। স্থাপত্যগত থ্রিডি ভিজ্যুয়ালাইজেশন প্রপার্টির ভবিষ্যৎ চেহারা কেমন হবে তা প্রদর্শন করে অতি সহজে। এর ভেতর ও বাইরের ডিজাইনও প্রদর্শন করে চমৎকারভাবে।
৩. ভার্চুয়াল স্টেজিংঃ ম্লান দেয়াল, ফার্নিচারের অনুপস্থিতি, ডেকোরেশনের অভাব ইত্যাদি ক্ষেত্রে অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রির সুযোগ কমে যায়। ১৯৮৫ সালের দিকে রিয়েল এস্টেট এজেন্সিগুলো ইন্টেরিয়র ডিজাইনারদের সহযোগিতা নিতে শুরু করেন। তাদের সাহায্যে প্রপার্টি শো বাড়াতে থাকেন। একেই বলা হয় ভার্চুয়াল স্টেজিং। তারা দেখলেন স্টেজিং করা হাউস বা ফার্নিচার দিয়ে সাজানো-গোছানো অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি হচ্ছে হু হু করে। এতে অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি হতে লাগছে ৮০ ভাগ কম সময়। এই পদ্ধতি ভার্চুয়াল শোকেসের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে। তাছাড়া এমন সব উপাদান দিয়ে ভার্চুয়াল স্টেজিং করা হয়, যাতে তেমন একটা খরচ হয় না।
৪. ভি-কমার্সঃ প্রপার্টির স্টেজিংয়ের অন্য এক উপকারিতাও আছে। এতে রিয়েল এস্টেট এজেন্ট ও অ্যাপার্টমেন্ট মালিক উভয়ই একসঙ্গে উপকৃত হন। এজেন্টরা ব্যবসা করেন আর অ্যাপার্টমেন্ট মালিকরা অ্যাপার্টমেন্ট সাজাতে ভালো ধারণা পেয়ে যান। এজন্য ভার্চুয়াল ইন্টেরিয়র ডিজাইন হলো ভি-কমার্সেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

রিয়েল এস্টেটে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির উপকারিতা

আমাদের জীবনযাপনকে আরো সহজ ও সুবিধাজনক করে তোলার জন্য আজ ভিআর প্রযুক্তির গুরুত্ব সর্বাধিক। কাজের পরিবেশ আরো টেকসই করতেও এর কোনো জুড়ি নেই। রিয়েল এস্টেটের মতো ব্যবসায় ভার্চুয়াল রিয়েলিটির বেশকিছু সুবিধা রয়েছে, যেমনঃ

১. সময়ের সাশ্রয়ঃ আমাদের জীবনে সময়ের চেয়ে কোনো কিছুই মূল্যবান নয়। ভার্চুয়াল রিয়েলিটিকে ধন্যবাদ। এতে নতুন সম্পদের অনুসন্ধান ও পর্যালোচনা সম্পন্ন হতে পারে দ্রুত প্রক্রিয়ায়। ভার্চুয়াল ট্যুরের মাধ্যমে দিনের পর দিন ও ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্লট ও ফ্ল্যাট পরিদর্শনের আর দরকার পড়ে না। ক্রেতা ও বিক্রেতা কোনো ঝুট-ঝামেলা ছাড়াই অফিসে বা বাসায় বসে যে কোনো সময় ভিআর হেডসেট ব্যবহার করে তার সমাধান করে ফেলতে পারেন।
২. অর্থের সাশ্রয়ঃ প্রথমে ভিআর প্রযুক্তিকে অনেকে ব্যয়বহুল মনে করতে পারেন। মনে হতে পারে, এটা একটা হাই-টেকনোলজির ব্যাপার। তার কারণ ভার্চুয়াল ট্যুরে লাগে মানসম্মত গ্রাফিকস ও কমার্শিয়াল ফিচার। কিন্তু এটা ব্যয়বহুল হলেও মূল্যবান মুনাফাও এনে দেয়। প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ায় বিজ্ঞাপনের পেছনে যে খরচ হয় তা কমিয়ে দেয়। খরচ কমিয়ে দেয় ভার্চুয়াল স্টেজিংয়ের ক্ষেত্রেও। রিয়েল এস্টেটের ইন্টেরিয়র ডিজাইন, ফার্নিচার প্লেসমেন্ট ইত্যাদি থ্রিডি মডেল ব্যবহার করে উপস্থাপন করা যেতে পারে। পৃথক লোকেশনে আবার এটাই পুনঃব্যবহারযোগ্যও বটে।
৩. আবেগ তৈরি করা্রঃ টুডি প্রিন্ট ভিজ্যুয়ালাইজেশনের মতো নয়, ভার্চুয়াল ট্যুরস আসলে মানুষকে এমনভাবে সম্পৃক্ত করে যাতে বাস্তব উপস্থিতির অনুভূতি দেয়। সেখানে কোনো তাড়াহুড়োর প্রয়োজন নেই। একজন দর্শকের জন্য এতে আছে ভ্রমণের মাধ্যমে এক ধরনের আবিষ্কারের অনুভূতি ও মিথস্ক্রিয়ার স্বাধীনতা। বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও দেখার মাধ্যমে অ্যাপার্টমেন্টের এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে খুব সহজেই প্রবেশ করা যায়। এর মাধ্যমে এক ধরনের চেতনা ও আবেগ জাগিয়ে তোলে ভিআর প্রযুক্তি।
৪. পৃথিবীব্যাপী ব্যবসা করা যায়ঃ ভিআর প্রযুক্তি আমাদের দূরত্ব কমিয়ে দেয়। এ কারণে প্রথম ভিআর ট্যুর-ই তাদের ক্লায়েন্ট বাড়াতে শুরু করে। এটা শুধু স্থানীয় পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকে না, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। পৃথিবী আজ অনেক বেশি কসমোপলিটন বা সংকীর্ণতামুক্ত। ক্রমেই বাড়ছে বিশ্বনাগরিকের সংখ্যা। মানুষ আজ একস্থান থেকে আরেক স্থানে যাচ্ছে সহজেই। এমনকি এক গোলার্ধ থেকে অন্য গোলার্ধেও যাচ্ছে। তাই রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় ভার্চুয়াল রিয়েলিটির আবেদনও বিশ্বময়।

রিয়েল এস্টেট ভিআরের উদাহরণ
ভার্চুয়াল স্টেজিং সেবার জন্য রিয়েল এস্টেট এজেন্সিগুলোতে রয়েছে রুমি প্লাটফর্ম। তারা হাউস স্টেজিংকে গুরুত্ব দেন যাতে তা দ্রত ও উচ্চমূল্যে বিক্রি হয়। এর কল্যাণে শুধু রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীরাই নন, সাধারণ মানুষও তার নিজস্ব অ্যাপার্টমেন্ট বা বাড়ির ইন্টেরিয়র ডিজাইনার হিসেবে আর্বিভূত হতে পারেন।
যেহেতু প্রিন্ট ইমেজ বা ছবি আজ সেকেলে, এমনকি প্রথম যুগের ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হোম ট্যুরগুলোও আজ আর যুগোপযোগী নয়, কেননা এটা ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা দিয়ে তৈরি, তাই অত্যাধুনিক ভিআর প্রযুক্তি ব্যবহার করাই শ্রেয়। এমন একটি প্রযুক্তির নাম ম্যাটেপোর্ট। এর মাধ্যমে থ্রিডি ক্যামেরার সাহায্যে তৈরি হয় চমৎকার হোম ট্যুর, যা ‘একের মধ্যে সব’ হিসেবে কাজ করে। এই বিশেষ ক্যামেরা ফোর কে রেজল্যুশনে রিয়েল এস্টেটের জন্য ভিআর ট্যুর উৎপাদনে সহায়তা করে।
যেসব প্রপার্টি নির্মাণাধীন, সেখানে বিশেষ করে ‘ভার্চুয়াল এক্সপেরিয়েন্স’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমে কনস্ট্রাকশন কোম্পানির জন্য তৈরি হয় ভিআর কনটেন্ট। এটা অসম্পূর্ণ অ্যাপার্টমেন্ট পরিদর্শন করে সুন্দরভাবে। আবার অনলাইন ব্যবহারের জন্য থ্রিডি ভিজ্যুয়ালাইজেশন খুবই সহজলভ্য। কিংবা অকুলাস রিফট ও এইচটিসি ভাইভের মতো ভিআর হেডসেটও পাওয়া যায় সহজেই।