Home বাজার দর

ইতালীয় শিল্প-ডিজাইনার ও স্থপতি পাওলো রিজাত্তোর অনন্য সৃষ্টি ফ্লোরসের ২৬৫ ওয়াল লাইট চার দশক পর এখনও প্রাসঙ্গিক। দূরদর্শী পাওলো জানতেন তার সৃষ্টিশীলতা দিয়ে তিনি এমন কিছু তৈরি করতে পারবেন যেটা চার দশক পরও স্বমহিমায় উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।
ঝকঝকে আলো, অভিজাত ডিজাইন ও উজ্জ্বল উপস্থিতির কারণে পাওলা রিজাত্তোর ডিজাইন করা লাইট লাইটিংশিল্পে বেশ সমাদৃত।
সৃষ্টিশীল ডিজাইনার পাওলো রিজাত্তো পলিটেকনিকো ডি মিলানো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থাপত্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তার অনেক সহকর্মী এবং পূর্বসূরিদের মতে, সে সময় তিনি এলিয়াস, আর্টেলুস, আর্টেমাইড, ক্যাসিনা, গিজিনি, লেন্সভেল্ট, কার্টেল, নল, লুসেপলান, ম্যান্ডারিনা ডক, মোলেটেনি, মন্টিনা, নিমো, ফিলিপস, থোনেটসহ ইতালির অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক ডিজাইন কোম্পানির জন্য কিছু অনন্য সৃষ্টিকর্ম (মাস্টারপিস) তৈরি করেছিলেন।


পাওলো তার সৃজনশীল শিল্পকর্ম শুধু লাইট ডিজাইন এবং আসবাবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেননি, বরং বিভিন্ন প্রজেক্টে পুরোমাত্রার স্থাপত্য ডিজাইনও করেছেন।
ইতালির মিলান শহরে ১৯৪১ সালে জন্ম নেয়া পাওলো রিজাত্তো ১৯৬৫ সালে মিলান পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার পর ইতালির বিখ্যাত লাইটিং এবং ইন্টেরিয়র ডিজাইন কোম্পানি আর্টলুসে যোগ দেন।
পরে তিনি ১৯৬৮ সালে নিজস্ব একটি ডিজাইন ও আর্কিটেকচারাল স্টুডিও চালু করেন। তিনি এমন সময় ডিজাইন স্টুডিওটি চালু করেন, যখন স্থপতি ও ডিজাইনার হিসেবে তার নাম ইতালিসহ বিশ্বের অন্য প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে।
১৯৭২ থেকে ১৯৭৬ সালের মধ্যে তিনি একটি নার্সারি স্কুল, একটি অবকাশযাপনকেন্দ্র, শহরতলির কয়েকটি বাড়ি ও একটি পূর্ণাঙ্গ আবাসিক এলাকার ডিজাইন করেছিলেন।
সমগ্র ইতালিজুড়ে পাওলোর স্থাপত্যকর্মের সংখ্যা কম। তবুও তার সময়ে করা সৃষ্টিশীল স্থাপত্যকর্মের জন্য বিশ্বে তার প্রতিভা বিকাশ সময়ের ব্যাপার ছিল মাত্র। বিশ্বস্বীকৃতি তার জন্য অপেক্ষায় ছিল।

কারিকা ডেস্ক

কামরুজ্জামান কাজল
‘এসো হে বৈশাখ…এসো…এসো…’ গানের সঙ্গে সঙ্গে বরণ করা হয়ে গেল নতুন বছরকে। নতুন বছরে নিজের ঘরবাড়ি-গুছিয়ে নিয়েছেন অনেকেই। কেউবা আবার সময়ের সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে পারেননি। গোছানো হয়নি প্রিয় শান্তির নীড়। কিন্তু মনের কোণে তো উঁকি দিয়ে আছেই নিজের ঘরটাকে সুন্দর করে গুছিয়ে রাখার। ঘর-দোর স্বপ্নের মতো কিংবা শান্তির পরশে সাজিয়ে নিতে চান যারা, তাদের জন্য পরামর্শ দিয়েছেন ফারজানা’স ব্লিজের স্বত্বাধিকারী ফারজানা গাজী।

‘ঘর সাজাতে কার না ভালো লাগে? নতুন বছরে নিজেকে নতুন করে পেতে আমরা নতুন পোশাকে সেজেছি। সাজিয়েছি পরিবারের সবাইকে। অনেকে সাজিয়েছি ঘর-দুয়ারও। যারা পারেননি তারা এবার সময়-সুযোগ করে সাজিয়ে নিতে পারেন। গত বছরের নতুন সব হোম ইন্টেরিয়র ছিল থ্রিডি ফ্লোর ডিজাইন, ভিন্ন মাত্রার কিচেন ক্যাবিনেট, অন্দর আলোকিত করতে একসেন্ট লাইটিং, দেয়ালে ইলুশনের ছোঁয়া, ঘর সাজাতে আয়নার ব্যবহার, বহুদিনের অব্যবহৃত অ্যান্টিক পিস দিয়ে ঘর সাজানো। এমন অনেক বিষয় এসেছে অন্দরসজ্জায়।’ বিগত বছরে ঘর সাজানোতে কোন কোন বিষয় উল্লেখযোগ্য ছিল তা বর্ণনা করেন ফারজানা।
আপনার সাজানো-গোছানো ঘরটি আপনাকে প্রফুল্ল করে তুলবে প্রতি মুহূর্তে। ঘরের পরিবেশ সুন্দর তো মনের পরিবেশও সুন্দর। ঘরের সাজ অনুষঙ্গ সবসময়ই ব্যক্তিত্বের পরিচয়কে ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করে। তাই ঘরদুয়ার এবার সাজিয়ে নিতে পারেন সুন্দর করে।
বসার ঘরটাতেই বরণ করা হয় অতিথিদের। এই ঘরটা তাই একটু গোছানো দরকার নিয়ম করে। ঘরে যদি বড় কোনো পরিবর্তন আনতে চান, তবে প্রথমেই বদলে ফেলতে পারেন ঘরের পর্দা। যদি কেনার দরকার না হয় তবে আগেরগুলোকে পরিষ্কার করে ধুয়ে ইস্ত্রি করলেই দেখবেন ঘর কেমন ঝকঝকে। এতে করে উজ্জ্বল হবে পুরো ঘরের সাজসজ্জাই। আসবাবগুলো দীর্ঘদিন ধরে হয়তো একই স্থানে রয়েছে। সেগুলো জায়গা বদল করে রাখুন। বেশ পরিবর্তন চলে আসবে ঘরে। কাঠের আসবাবগুলোর রঙ বিবর্ণ হয়ে গেলে পলিশ করিয়ে নিন। নতুনের মতোই চকচকে হয়ে উঠবে। বসার ঘরে ক্যাকটাস কিংবা বনসাই রাখতে পারেন। দরজার বাইরে পাম ট্রি রাখা যেতে পারে। দেয়ালজুড়ে পাতাবাহারও রাখতে পারেন।
ঘরের পরিবেশে থাকা চাই স্নিগ্ধতা। মিষ্টি টুংটাং শব্দে অতিথিকে স্বাগত জানাতে দরজার সামনে ঝুলিয়ে নিন নজরকাড়া ডিজাইনের একটি উইন্ড চাইম। ফুল সাজিয়ে রাখার জন্য ক্রিস্টালের ফুলদানি কিনতে পারেন। মেঝেতে বিছানো শতরঞ্জি বা কার্পেটটি বদলে নতুন ডিজাইনের একটি বিছিয়ে দিন। পাশেই বসার ব্যবস্থা করে আরামদায়ক কিছু কুশন ছড়িয়ে দিন। একঘেয়েমি সাজ থেকে মুক্তি মিলবে কিছুটা হলেও। ঘরে মাটির পটারি থাকলে সেখানে নতুন রঙ লাগিয়ে ঝকঝকে করে তুলুন। চাইলে আইকা দিয়ে ছোট ছোট গ্লাস বসিয়ে সাধারণ পটারিকে নতুন আমেজ দিতে পারেন। সম্ভব হলে দেয়ালগুলোতেও দিতে পারেন রঙের ছোঁয়া। দেয়ালে সুন্দর একটি পেইন্টিং টানিয়ে দিতে পারেন।

একরাশ ক্লান্তি নিমিষে মুছে দিতে পারে আপনার প্রিয় শোবার ঘরটি। এই ঘরটাতে নিয়ে আসতে পারেন খানিকটা বিশেষত্ব। বিছানার চাদর ও পর্দা বদলে ফেলার পাশাপাশি পরিবর্তন করে ফেলতে পারেন দীর্ঘদিনের টেবিল ল্যাম্পটিও। ভিন্নতা চলে আসবে ঘরের সাজে। মাঝে মাঝে এই ঘরের আসবাবপত্রও জায়গা বদলে নিতে পারেন। এতে করে একঘেযেমি কেটে যাবে অনেকখানি। অগোছালো অবস্থায় থাকা টেবিল কিংবা বুক শেলফটিকে একটু যত্ন নিয়ে গুছিয়ে ফেলুন। ঘরের যেখানেই যা কিছু থাকুক না কেন তা যদি একটু পরিপাটি করে গুছিয়ে রাখেন, তাহলে দেখবেন সেই ঘর মন ছুঁয়ে যাবে আপনার। ঘরের ফ্যান ও লাইটও মুছে নিন। ঝকঝকে শোবার ঘর স্বস্তি নিয়ে আসবে মনে। শোবার ঘরে শেলফের ওপরে রাখতে পারেন তরতাজা কিছু ফুল। ফুলের স্নিগ্ধ সুবাস চারপাশ মাতিয়ে রাখবে। সেই সঙ্গে মেতে থাকবে আপনার মনও।
অতিথিদের খাবার পরিবেশন করতে হয় ডাইনিং রুমে। সেজন্য আকর্ষণীয়ভাবে খাবার রুম ও টেবিল সাজিয়ে তুলুন। টেবিল ক্লথটি পরিষ্কার করে ফেলতে পারেন। চাইলে ক্লথের পাড় ঘেঁষে লেইস লাগিয়ে নিতে পারেন। তবে পুরনোটা বদলে নতুন একটি কিনে নিলেই ভালো করবেন। টেবিল ম্যাটগুলোও পরিবর্তন করে নেওয়া যায়। পর্দা ও দেয়ালের রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাছাই করুন টেবিল ক্লথ। খাবারের টেবিল কিংবা খাবারের ঘরের এককোণে রাখতে পারেন কিছু গাছ। সবুজে ছেয়ে থাকলে তা প্রশান্তি দেবে মনে। অতিথি যখন আপনার ঘরে আপ্যায়িত হবেন, তখন না হয় রাখলেন ফুলদানি ভর্তি তাজা ফুল। ঘর ও মন মাতিয়ে রাখবে যা সবসময়।

কামরুজ্জামান কাজল

মাথার উপর সুবিশাল আকাশ। সেই আকাশে তাকিয়ে কেটে যাবে বেলা। এমন কাব্যিক ভাবনা মনের অগোচরে থাকলেও দিনশেষে আমাদের নিজ নীড়েই ফিরতে হয়। নিজ ঘর। আপন ভুবনে মনের মধ্যে বসত করে ছড়ানো -ছিটানো বিশাল এক বাসা। আলো-বাতাসের খেলায় মেতে উঠবে প্রতিটিক্ষণ। কিন্তু সাধ আর সাধ্য তো আমাদের এক হয় না। যেমন বিশাল পরিসরের বাসা আমরা চাই তেমন কি আমরা পাই? নিজের হোক কিংবা ভাড়া-ই হোক ইচ্ছেমত বিশাল পরিসরের বাসায় আর হয়না থাকা। কিন্তু মনের মধ্যে আফসোস থেকেই যায়…। ইস আমার বাসাটা যদি একটু বড় হতো!
এই আফসোস কিছুটা মেটাতে আপনাদের কিছু কৌশলেে পরামর্শ দিয়েছেন ইন্টেরিয়র ডিজাইনার ফারজানা গাজী।

আসবাবপত্রে বুদ্ধিমত্তা

ঘরের কোন জায়গায় কেমন আসবাব দিবেন সেক্ষেত্রে সচেতন হবেন। যেমন এর একটি উপায় হতে পারে প্রথমে বড় একটি বিছানা দিয়ে আপনার বেডরুমে একটি সম্পূর্ণতার অনুভূতি তৈরি। এরপর কক্ষের সঙ্গে মানানসই ছোট আকারের শেলফ ও অন্যান্য ফার্নিচার দিয়ে সাজান। একই কৌশল আপনার অন্যান্য ঘরেও খাটাতে পারেন। ছোট বাড়ির জন্য মাল্টিফাংশনাল ফার্নিচার একটি ভালো সমাধান। বর্তমানে বহু ধরনের মাল্টিফাংশনাল ফার্নিচার পাওয়া যায়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ভাজ করে রাখা চেয়ার, টেবিল কিংবা সোফা কাম বেড। আপনার দেয়ালের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে ফার্নিচারের রং পছন্দ করুন। পুরনো ফার্নিচার বাড়িতে যথেষ্ট স্থান নেয়। তাই আপনি যদি আধুনিক ছোট বাড়িতে থাকেন তাহলে পুরনো ফার্নিচার বদলে নতুন ও স্থান সাশ্রয়ী ফার্নিচার কিনুন। আপনার অব্যবহৃত জিনিসপত্রের ওপর নজর রাখুন। কোনো জিনিস যদি এক বছরেও ব্যবহৃত না হয় তাহলে এটি সরিয়ে ফেলুন।

রুচিসম্মত পর্দা

ঘরের পর্দা মন ভালো করে দেয় অনেকখানি। পর্দা সাজানোর উপর বাসার সৌন্দর্য নির্ভর করছে। কক্ষে পর্দা লাগানোর সময় লক্ষ্য রাখুন এটি যেন আপনার দেয়ালের রঙের সঙ্গে মিলে যায়। আর এতে কক্ষের আকার অনেক বড় মনে হবে। এছাড়া উঁচুতে পর্দা স্থাপন করে তা নিচ পর্যন্ত বিন্যস্ত রাখলে ভালো হয়। হালকা প্রিন্ট কিংবা একরঙা পর্দা ব্যবহার করুন। এটি ছোট ঘরকে বড় দেখাতে সহায়তা করবে।

স্লাইডিং দরজা
একঘর থেকে আরেকঘর। মাঝখানে দরজা। ঘরের দরজার কারণে জিনিসপত্রও ঠিকমত রাখতে পারছেন না আপনি।
ভেতরের বিভিন্ন কক্ষের মাঝের দরজা ও কাপবোর্ডের দরজা মূল্যবান স্থান নষ্ট করতে পারে। এক্ষেত্রে সমস্যা হলে দরজা সরিয়ে ফেলা যেতে পারে। বিকল্প হিসেবে স্লাইডিং দরজা ব্যবহার করুন।

ফ্লোর টু সিলিং
বাসায় প্রচুর বই? কোথায় রাখবেন বুঝে উঠতে পারেন না। এইঘরে ছোট সেলফ তো অন্যঘরে আরেকটি। এইভাবে বই রাখার চিন্তা মাথায় নিয়ে না ঘুরে উপায় খুঁজুন ভিন্নভাবে। বই রাখার জন্য ফ্লোর টু সিলিং বিস্তৃত সেলফ ব্যবহার করুন। এটি আপনার সিলিংয়ের উচ্চতা বাড়ানোর অনুভূতি দেবে। এছাড়া প্রচুর জিনিসও রাখা যাবে।

রঙের বাহার

আপনার ঘরের দেয়ালে যে রঙ ব্যবহার করবেন সে বিষয়ে সচেতন হতে হবে। হালকা ও প্রাকৃতিক রঙের ওপর গুরুত্ব দিন। এগুলো আপনার ছোট স্থানকেও বড় দেখাতে সহায়তা করবে। কক্ষের ভেতর সূর্যের আলো প্রতিফলন ঘটাতে বড় আয়না খুবই কার্যকর। ছোট কক্ষকে এটি বড় করে দেখাবে।

এছাড়াও মাথায় রাখতে পারেন যা…

নীড় ছোট। প্রস্থও কম। নজর তাই একটু আমরা ভিন্ন দিকে দেই। চারদেয়ালের বাইরে, ছাদের দিকে যাক না নজর। এজন্য আপনার দেয়ালের উঁচু স্থানে ছোট ছোট কিছু ছবি ঝুলান। চারদেয়ালের বাইরেও তখন যাবে চোখ। এতে ভিন্নধরনের অনুভূতি তৈরি হবে।সব ফার্নিচার সর্বদা দেয়ালের সঙ্গে রাখতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। কখনো কখনো মাঝামাঝি স্থানে বসালেও তা বড় অনুভূতি তৈরি করে। একটি ঘরের সবটুকু জায়গা আসবাব দিয়ে ঠেসে রাখবেন না। কক্ষের সব স্থানই ব্যবহার করবেন না। কিছু খালি স্থান রাখবেন। যেমন শেলফের সবগুলো খোপ ভর্তি না করে কিছু খালি রাখুন।
সবকটা জানালা খুলে দাওনা…। গানের কথামত খোলা রাখুন সব জানালা। এতে আপনার ছোট স্থানেরও আলাদা গভীরতা তৈরি হবে। আলো আসুক ঘরে। ঘরের ভেতর পর্যাপ্ত সূর্যের আলোর ব্যবস্থা করুন। যদিও আমাদের এই নগরীতে ঠাসা-ঠাসি করেই থাকতে হয় হয় আমাদের। এক বাড়ির দেয়াল ঘেষে অারেক বাড়ি। তারপরও যতটুকু আলো বাতাস আসার কিছুটা সুযোগ থাকে তার সবটুকুই ঘরে আসতে দিন। প্রাকৃতিক আলোবাতাসে ছোট ঘরও হয়ে উঠবে স্বাস্থ্যকর। সবুজে সাজুক আপনার ঘর। এজন্য যে বড় বাগান কিংবা মূল্যবান গাছ লাগাতে হবে, তা নয়। ঘরের ভেতর টবে রাখা একটি ছোট গাছই এজন্য যথেষ্ট। ইচ্ছে করলে পছন্দমত মানিপ্ল্যান্টে সাজিয়ে নিতে পারেন ঘরের বিভিন্ন কোনগুলো।

স্থাপত্য-জীবনের শুরুতেই ইতালীয় নকশার কিংবদন্তি অ্যাকিল কাস্টিগ্লিওনের সান্নিধ্য পেয়েছিলেন প্যাট্রিসিয়া ইউক্রুইওলা। তাই প্যাট্রিসিয়ার স্থাপত্যকর্মেও নান্দনিকতা ও আভিজাত্যের ছোঁয়া দেখা যায়। তিনি তার কর্মজীবন শুরু করেন লাক্সারি লেবেল দ্য পাডোভাতে। আর্কিটেক্ট এবং প্রোডাক্ট ডিজাইনার হিসেবে সুপরিচিত প্যাট্রিসিয়া ইউক্রুইওলা তার এক্সপেরিমেন্টাল ইউনিক ফিউশন স্টাইলের জন্য বিখ্যাত। মুর্টিনা, কার্টেল, ফসকারিনি এবং মোরেসার মতো শীর্ষস্থানীয় ডিজাইন-হাউজের জন্য তার ডিজাইন করা টাইলস, লাইটিং, ফার্নিচার, ফ্রেবিক্স কিংবা কার্পেট যা-ই হোক-না কেন, আলাদা অনুভূতি তৈরি করে। তার স্টাইল, প্যাটার্ন এবং উপকরণ সম্মিলনের দক্ষতা, পুস্পশোভিত সাজসজ্জা এবং সঠিক অনুভূতির ব্যবহার সবাইকে অবাক করে।
প্যাট্রিসিয়া তার সৃষ্টিকর্মে এমন কৌতূহল সৃষ্টি করেন যে, তার শিল্পকর্ম যেন বলে ওঠে ছোঁও আমাকে।’
২০০৮ সালে এক্সওরের সঙ্গে যৌথভাবে বাথরুম ডিজাইন করে বোদ্ধামহলের নজর কাড়েন প্যাট্রিসিয়া। তিনি দেখিয়েছেন বাথরুম কিভাবে ব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটায়। স্টাইল ফিউশনে বাথরুমের নকশা করে প্যাট্রিসিয়া বিশ্বে অন্যরকম পরিচিতি লাভ করেন।
প্যাট্রিসিয়া ইউক্রুইওলার বেড়ে ওঠা স্পেনের ওভিডিও শহরে। স্থাপত্য বিষয় অধ্যায়নের জন্য তিনি মাদ্রিদে যান। সেখান থেকে পরে মিলানের পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। প্যাট্রিসিয়া ইউক্রুইওলা অসংখ্যবার ‘বর্ষসেরা ডিজাইনার’ নির্বাচিত হন। তিনি স্প্যানিশ সরকারের পক্ষে ফাইন আর্টসে গোল্ড মেডেলও লাভ করেছেন।

ফাইজুল ইসলাম
সাম্প্রতিককালে বিশ্বে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বা সংক্ষেপে ভিআর প্রযুক্তির বিরাট অগ্রগতি হয়েছে। ইংরেজি শব্দগুচ্ছ ভার্চুয়াল রিয়েলিটি অর্থ যা বাস্তব না হলেও বাস্তব বলে গণ্য। আগে ভিআর প্রযুক্তিতে ভারী ভারী সরঞ্জাম ব্যবহৃত হতো। এখন তা বহনযোগ্য ও ব্যয়সাশ্রয়ী। মোবাইল ও হেডসেট ব্যবহার করেই এই প্রযুক্তি থেকে পাওয়া যাচ্ছে এর উপকারিতা। এই কারণে এ ধরনের ডিভাইসের কেনাবেচা ক্রমেই বাড়ছে। এর কনটেন্টও হচ্ছে অধিক মানসমৃদ্ধ ও বাস্তবসম্মত। ভিআর প্রযুক্তির ব্যবহারিক ও বাণিজ্যিক আবেদনও আছে। যেমন- রিয়েল এস্টেটে তথা প্লট, ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট ব্যবসার প্রসারে এই প্রযুক্তির ব্যবহারের কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়। রিয়েল এস্টেট এজেন্সিগুলো কাস্টমারদের আকর্ষণে এবং প্রপার্টিগুলো পরিদর্শনের খরচ কমাতে এখন ভিআর প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন অবলীলায়।
২০১৫ সাল থেকে ভিআর প্রযুক্তি রিয়েল এস্টেটসহ বিভিন্ন শিল্পে একটি নতুন মার্কেটিং কৌশল হিসেবে আবিভূত হয়েছে। এজেন্সিগুলো স্যামসাং ভিআর হেডসেটের মাধ্যমে আমেরিকার লসঅ্যাঞ্জেলেস, নিউইয়র্ক ও হামটনসহ অভিজাত শহরের মাল্টিমিলিয়ন ডলার মূল্যের অ্যাপার্টমেন্ট ও বাড়িগুলো তাদের ভিআইপি ক্রেতাদের দেখাতে শুরু করল। তারপর থেকে অসংখ্য ভিআর রিয়েল এস্টেট প্রজেক্ট তৈরি হতে থাকল। ভিআর প্রযুক্তিও বহুমুখী কর্মশক্তিসম্পন্ন ও ডাইনেমিক তথা গতিশীল হলো। বিশেষজ্ঞরা ভবিষ্যদ্বাণী করলেন এই বলে যে, রিয়েল এস্টেটে ভিআর প্রযুক্তির উত্থান হবে অপ্রতিরোধ্য। ২০২৫ সাল নাগাদ এই শিল্পে ভিআর/এআর সফটওয়্যার থেকে মোট আয় হবে ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। তারপরও এই শিল্পে এখনো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। এই চ্যালেঞ্জগুলো হলো হাইকোয়ালিটির কনটেন্ট তৈরি করা, কনটেন্ট তৈরিতে কম সময় নেয়া এবং হেডসেটের মূল্য ক্রয়সীমার মধ্যে রাখা ইত্যাদি।

রিয়েল এস্টেটে ভিআর প্রযুক্তির ব্যবহারিক আবেদন
রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় কয়েকটি ক্ষেত্রে ভিআর প্রযুক্তির প্রায়োগিক আবেদন রয়েছে। যেমন-
১. ভার্চুয়াল ট্যুরসঃ ব্যক্তিগত ব্যবহার বা ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য কোনো প্রপার্টি ক্রয় করা অনেক ঝক্কি-ঝামেলার ব্যাপার। এজন্য সময়ও লাগে অনেক। দিতে হয় সীমাহীন ধৈর্য্যের পরিচয়। যদি প্রপার্টি ও ক্রেতার ভৌগোলিক অবস্থান হয় ভিন্ন ও বেশি দূরত্বের, তাহলে তা ক্রয় করা হয়ে পড়ে আরও কঠিন। এক্ষেত্রে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি সময় ও অর্থ বাঁচাতে সহায়তা করে। রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে প্রজেক্ট এরিয়া ঘুরে আসা যায় কয়েক মুহুর্তের মধ্যে। প্রপার্টি সম্পর্কে প্রিভিউ বা একটি আগাম ধারণা দেওয়াও সম্ভব হয়। এ ধরনের রিয়েল এস্টেট ভার্চুয়াল ট্যুর প্রদর্শনের জন্য যে কোনো আধুনিক ভিআর হেডসেটই যথেষ্ট। সেই ট্যুর হতে পারে ৩৬০-ভিডিও ফরম্যাটে অথবা নৌ বা বিমান যাত্রার মধ্য দিয়েও তা দেখানো যেতে পারে, যা হবে আরো প্রাণবন্ত ও উপভোগ্য।
২. ভার্চুয়াল ভিজ্যুয়ালাইজেশনঃ রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় যেসব প্রপার্টি নির্মাণাধীন রয়েছে, ভিআর প্রযুক্তি তার বিক্রয়ের ক্ষেত্রেও ব্যাপক সহায়তা করতে পারে। মার্কেটিংয়ের কর্মী ও রিয়েল এস্টেট এজেন্টরা এ ধরনের হাউজিংয়ের বিজ্ঞাপনে বহু কষ্ট করে থাকেন। কেননা সেখানে দেখার মতো আসলে বাস্তব জিনিসের অভাব রয়েছে। কিন্তু ভার্চুয়াল ভিজ্যুয়ালাইজেশনের মাধ্যমে তা সহজে দেখানো যায়। স্থাপত্যগত থ্রিডি ভিজ্যুয়ালাইজেশন প্রপার্টির ভবিষ্যৎ চেহারা কেমন হবে তা প্রদর্শন করে অতি সহজে। এর ভেতর ও বাইরের ডিজাইনও প্রদর্শন করে চমৎকারভাবে।
৩. ভার্চুয়াল স্টেজিংঃ ম্লান দেয়াল, ফার্নিচারের অনুপস্থিতি, ডেকোরেশনের অভাব ইত্যাদি ক্ষেত্রে অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রির সুযোগ কমে যায়। ১৯৮৫ সালের দিকে রিয়েল এস্টেট এজেন্সিগুলো ইন্টেরিয়র ডিজাইনারদের সহযোগিতা নিতে শুরু করেন। তাদের সাহায্যে প্রপার্টি শো বাড়াতে থাকেন। একেই বলা হয় ভার্চুয়াল স্টেজিং। তারা দেখলেন স্টেজিং করা হাউস বা ফার্নিচার দিয়ে সাজানো-গোছানো অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি হচ্ছে হু হু করে। এতে অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি হতে লাগছে ৮০ ভাগ কম সময়। এই পদ্ধতি ভার্চুয়াল শোকেসের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে। তাছাড়া এমন সব উপাদান দিয়ে ভার্চুয়াল স্টেজিং করা হয়, যাতে তেমন একটা খরচ হয় না।
৪. ভি-কমার্সঃ প্রপার্টির স্টেজিংয়ের অন্য এক উপকারিতাও আছে। এতে রিয়েল এস্টেট এজেন্ট ও অ্যাপার্টমেন্ট মালিক উভয়ই একসঙ্গে উপকৃত হন। এজেন্টরা ব্যবসা করেন আর অ্যাপার্টমেন্ট মালিকরা অ্যাপার্টমেন্ট সাজাতে ভালো ধারণা পেয়ে যান। এজন্য ভার্চুয়াল ইন্টেরিয়র ডিজাইন হলো ভি-কমার্সেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

রিয়েল এস্টেটে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির উপকারিতা

আমাদের জীবনযাপনকে আরো সহজ ও সুবিধাজনক করে তোলার জন্য আজ ভিআর প্রযুক্তির গুরুত্ব সর্বাধিক। কাজের পরিবেশ আরো টেকসই করতেও এর কোনো জুড়ি নেই। রিয়েল এস্টেটের মতো ব্যবসায় ভার্চুয়াল রিয়েলিটির বেশকিছু সুবিধা রয়েছে, যেমনঃ

১. সময়ের সাশ্রয়ঃ আমাদের জীবনে সময়ের চেয়ে কোনো কিছুই মূল্যবান নয়। ভার্চুয়াল রিয়েলিটিকে ধন্যবাদ। এতে নতুন সম্পদের অনুসন্ধান ও পর্যালোচনা সম্পন্ন হতে পারে দ্রুত প্রক্রিয়ায়। ভার্চুয়াল ট্যুরের মাধ্যমে দিনের পর দিন ও ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্লট ও ফ্ল্যাট পরিদর্শনের আর দরকার পড়ে না। ক্রেতা ও বিক্রেতা কোনো ঝুট-ঝামেলা ছাড়াই অফিসে বা বাসায় বসে যে কোনো সময় ভিআর হেডসেট ব্যবহার করে তার সমাধান করে ফেলতে পারেন।
২. অর্থের সাশ্রয়ঃ প্রথমে ভিআর প্রযুক্তিকে অনেকে ব্যয়বহুল মনে করতে পারেন। মনে হতে পারে, এটা একটা হাই-টেকনোলজির ব্যাপার। তার কারণ ভার্চুয়াল ট্যুরে লাগে মানসম্মত গ্রাফিকস ও কমার্শিয়াল ফিচার। কিন্তু এটা ব্যয়বহুল হলেও মূল্যবান মুনাফাও এনে দেয়। প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ায় বিজ্ঞাপনের পেছনে যে খরচ হয় তা কমিয়ে দেয়। খরচ কমিয়ে দেয় ভার্চুয়াল স্টেজিংয়ের ক্ষেত্রেও। রিয়েল এস্টেটের ইন্টেরিয়র ডিজাইন, ফার্নিচার প্লেসমেন্ট ইত্যাদি থ্রিডি মডেল ব্যবহার করে উপস্থাপন করা যেতে পারে। পৃথক লোকেশনে আবার এটাই পুনঃব্যবহারযোগ্যও বটে।
৩. আবেগ তৈরি করা্রঃ টুডি প্রিন্ট ভিজ্যুয়ালাইজেশনের মতো নয়, ভার্চুয়াল ট্যুরস আসলে মানুষকে এমনভাবে সম্পৃক্ত করে যাতে বাস্তব উপস্থিতির অনুভূতি দেয়। সেখানে কোনো তাড়াহুড়োর প্রয়োজন নেই। একজন দর্শকের জন্য এতে আছে ভ্রমণের মাধ্যমে এক ধরনের আবিষ্কারের অনুভূতি ও মিথস্ক্রিয়ার স্বাধীনতা। বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও দেখার মাধ্যমে অ্যাপার্টমেন্টের এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে খুব সহজেই প্রবেশ করা যায়। এর মাধ্যমে এক ধরনের চেতনা ও আবেগ জাগিয়ে তোলে ভিআর প্রযুক্তি।
৪. পৃথিবীব্যাপী ব্যবসা করা যায়ঃ ভিআর প্রযুক্তি আমাদের দূরত্ব কমিয়ে দেয়। এ কারণে প্রথম ভিআর ট্যুর-ই তাদের ক্লায়েন্ট বাড়াতে শুরু করে। এটা শুধু স্থানীয় পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকে না, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। পৃথিবী আজ অনেক বেশি কসমোপলিটন বা সংকীর্ণতামুক্ত। ক্রমেই বাড়ছে বিশ্বনাগরিকের সংখ্যা। মানুষ আজ একস্থান থেকে আরেক স্থানে যাচ্ছে সহজেই। এমনকি এক গোলার্ধ থেকে অন্য গোলার্ধেও যাচ্ছে। তাই রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় ভার্চুয়াল রিয়েলিটির আবেদনও বিশ্বময়।

রিয়েল এস্টেট ভিআরের উদাহরণ
ভার্চুয়াল স্টেজিং সেবার জন্য রিয়েল এস্টেট এজেন্সিগুলোতে রয়েছে রুমি প্লাটফর্ম। তারা হাউস স্টেজিংকে গুরুত্ব দেন যাতে তা দ্রত ও উচ্চমূল্যে বিক্রি হয়। এর কল্যাণে শুধু রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীরাই নন, সাধারণ মানুষও তার নিজস্ব অ্যাপার্টমেন্ট বা বাড়ির ইন্টেরিয়র ডিজাইনার হিসেবে আর্বিভূত হতে পারেন।
যেহেতু প্রিন্ট ইমেজ বা ছবি আজ সেকেলে, এমনকি প্রথম যুগের ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হোম ট্যুরগুলোও আজ আর যুগোপযোগী নয়, কেননা এটা ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা দিয়ে তৈরি, তাই অত্যাধুনিক ভিআর প্রযুক্তি ব্যবহার করাই শ্রেয়। এমন একটি প্রযুক্তির নাম ম্যাটেপোর্ট। এর মাধ্যমে থ্রিডি ক্যামেরার সাহায্যে তৈরি হয় চমৎকার হোম ট্যুর, যা ‘একের মধ্যে সব’ হিসেবে কাজ করে। এই বিশেষ ক্যামেরা ফোর কে রেজল্যুশনে রিয়েল এস্টেটের জন্য ভিআর ট্যুর উৎপাদনে সহায়তা করে।
যেসব প্রপার্টি নির্মাণাধীন, সেখানে বিশেষ করে ‘ভার্চুয়াল এক্সপেরিয়েন্স’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমে কনস্ট্রাকশন কোম্পানির জন্য তৈরি হয় ভিআর কনটেন্ট। এটা অসম্পূর্ণ অ্যাপার্টমেন্ট পরিদর্শন করে সুন্দরভাবে। আবার অনলাইন ব্যবহারের জন্য থ্রিডি ভিজ্যুয়ালাইজেশন খুবই সহজলভ্য। কিংবা অকুলাস রিফট ও এইচটিসি ভাইভের মতো ভিআর হেডসেটও পাওয়া যায় সহজেই।

কামরুজ্জামান কাজল
শীতের আমেজ শেষ হলো। বসন্তের রঙে সাজবে ঘর। কোকিলের কুহু-কুহু আর লিলুয়া বাতাসে মেতে উঠবে মন। মেতে ওঠা মনের সঙ্গে এবার না-হয় মেতে উঠুক ঘরের সাজসজ্জাও। বসন্তের বাতাসে হু-হু করে দোলা দিয়ে উঠুক ঘরের পর্দাগুলো। এই নরম আবহাওয়ায় বৈচিত্র্যময় পর্দায় সাজিয়ে তুলতে পারেন আপনার প্রিয় নিবাস। সেটা কীভাবে? পরামর্শ দিয়েছেন ফারজানা’স ব্লিজের স্বত্বাধিকারী ফারজানা গাজী।
তিনি জানান, বসার ঘর থেকে শুরু করে খাবার ঘর, ঘরে রাখা আসবাবের আকৃতি, দেয়ালের রঙ ও আসবাবের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে পর্দা বাছাই করা ভালো। অন্যদিকে আবহাওয়া বুঝে দুই সেট পর্দা বানিয়ে নিলে সুবিধা। মূলত গরম ও শীতকালের জন্য। গরমের জন্য বাছাই করুন হালকা রঙের পাতলা পর্দা, এতে বাতাস চলাচল সহজ হবে, গরমে পাবেন স্বস্তি। আর শীতে পর্দা অপেক্ষাকৃত মোটা বা ভারী কাপড়ের ও গাঢ় রঙের হওয়া উচিত। এ সময় ধুলাবালি বেশি হয়, তাই পর্দা ময়লা হলেও বোঝা যাবে না আর রুমে ঠান্ডাও লাগবে কম।

বসার ঘরে পর্দা
অতিথি আপ্যায়নে বসার ঘরটাই মুখ্য। পরিবারের সবাই মিলে একসঙ্গে টিভি দেখা কিংবা অতিথিদের সঙ্গে সময় কাটানো হয় বসার ঘরেই। তাই বসার ঘরের পর্দায় মনোযোগী হতে হবে একটু বেশি।
এই ঘরে ব্যবহার করতে পারেন সিল্ক, সার্টিন, জর্জেট, ভেলভেট কিংবা কাতান কাপড়ের পর্দা। বসার ঘরের পর্দা মেঝে পর্যন্ত বড় হলে দেখতে সুন্দর লাগে। খাটো পর্দা ঘরের সঙ্গে মানায় না। তাই বসার ঘরে খাটো পর্দা না রাখাই ভালো। আর রঙ বাছাইয়ের চিন্তা যদি করতে হয়, তবে নির্বাচন করতে পারেন হালকা সবুজ, চকোলেট, নীল, গোলাপি কিংবা বাদামি রঙ। ইচ্ছে হলে একরঙা কাপড় ব্যবহার করতে পারেন। কিংবা চেক কাপড়েও ভালো মানাবে।

শোয়ার ঘর
ক্লান্ত শরীরে নিজেকে বিশ্রাম দিতে শোয়ার ঘরের ইন্টেরিয়রেও মনোযোগ দিতে হবে। শোয়ার ঘরের ক্ষেত্রে ভারী পর্দায় প্রাধান্য দিতে পারেন। কাপড় বাছাইয়ে মোটা কাপড় বাছাই করতে হবে। রঙ পছন্দের ক্ষেত্রে অফ হোয়াইট, গোলাপি বা হালকা সবুজকে প্রাধান্য দিতে পারেন।

সাজবে শিশুর ঘর
শিশুদের রঙিন দুনিয়া। সেটা তাদের কল্পনাতেও। আর বাস্তবে বাবা-মায়েরাও চান শিশুর ঘরটাকে সুন্দর করে রাঙিয়ে দিতে। সেই রাঙানোর ক্ষেত্রে মনোযোগ দিতে হবে রঙিন পর্দার দিকে। ছেলে-বাচ্চাদের ক্ষেত্রে নীল আর মেয়েদের ক্ষেত্রে পছন্দের তালিকায় রাখতে পারেন গোলাপি। তবে আপনার শিশুর পছন্দের দিকে আগে নজর দিন। নানা কার্টুন চরিত্র দিয়ে সাজিয়ে দিতে পারেন তার ঘরটি।

পর্দা শুধু ঘর সাজানোর অনুষঙ্গ হিসেবে নয়, এটি বহন করে আপনার রুচি ও ব্যক্তিত্ব। তাই বাসার সুবিধার্থে দুই সেট পর্দা রাখতে পারেন। একসেট সবসময় ব্যবহার করবেন। আরেক সেট রেখে দিতে পারেন অতিথিদের জন্য কিংবা বাড়িতে কোনো উৎসবের জন্য।
প্রতিদিন বা একদিন পরপর ভেজা কাপড়ে গ্রিল ও শুকনো কাপড়ে ফার্নিচার মুছে নিলে পর্দা কম ময়লা হয়।
যারা দেশি আমেজে ঘর সাজাতে চান, তারাও পর্দার দিকে মনোযোগী হতে পারেন। তাদের জন্য ভালো সমাধান হচ্ছে চেক, ব্লক প্রিন্ট, বাটিক ও নকশিকাঁথার পর্দা বেছে নেয়া। কারণ এ ধরনের পর্দায় ষোলআনা বাঙালিয়ানা ফুটিয়ে তোলা সম্ভব।
আপনার যে কক্ষে বেশি আলো-বাতাস খেলা করে সেই ঘরে দরজা-জানালায় হালকা রঙের নেটের পর্দা ভালো লাগবে। শুধু তা-ই নয়, ধুলাবালিতে নোংরা হলেও সমস্যা নেই, কারণ নেটের পর্দা ধুয়ে ফেলা সহজ।

আহসান রনি
চোখের সামনে ঘন গাঢ় সবুজ দেখতে কার-না ভালো লাগে। বিশেষ করে কম্পিউটারের সামনে একটানা তাকিয়ে থাকতে থাকতে হঠাৎ বারান্দা বা জানালার গ্রিল জড়িয়ে কাঁপতে থাকা কচি সবুজ পাতার দিকে তাকালেই যেন দু’চোখ জুড়িয়ে যায়। কিংবা পড়তে পড়তে, লিখতে লিখতে বা একাধারে কাজ করতে করতে যে একঘেয়েমি ও বিষণœতার ছাপ পড়ে চোখে-মুখে, তা দূর করতেও চাই চোখের সামনে শুধুই সবুজ আর সবুজ। সকালে ঘুম থেকে উঠে চোখ মেলেই ঘরের দেয়ালজুড়ে সবুজ দেখতে পারাটা চোখ ও মনের শান্তি ভরপুর মিটিয়ে দেয়। আর সবুজের এসব অসম্ভব আবদার কেবল সম্ভব করতে পারে ভার্টিক্যাল গার্ডেন।
বাগান সৃজনের একটি বিশেষ পদ্ধতি ‘ভার্টিক্যাল গার্ডেন’, যেখানে অল্প জায়গায় অধিক গাছ রোপণ করে স্থানটি সবুজে সাজিয়ে তোলা যায়। যাদের ছাদে বা আঙিনায় বাগান করার সুযোগ নেই, তাদের জন্য ভার্টিক্যাল গার্ডেন বা উলম্ব^ বাগান ইদানীং খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। যদিও ভার্টিক্যাল গার্ডেন বাড়ির ছাদে কিংবা যেকোনো পরিসরেই করা সম্ভব, তবুও শহরের সবুজপ্রিয় মানুষ বিকল্প জায়গা না পেয়ে বারান্দা ও ঘরের দেয়ালকেই বেছে নিচ্ছে।
যেহেতু ভার্টিক্যাল গার্ডেনে স্তরে স্তরে বা ধাপে ধাপে তুলনামূলক কম দূরত্বে একটার পর একটা গাছ রোপণ করা হয়, তাই অগভীরমূলীয় প্রায় সব বীরুৎজাতির উদ্ভিদ ভার্টিক্যাল গার্ডেনের জন্য সবচেয়ে বেশি উপযোগী। তবে রোদ বা আলো-বাতাসের প্রাপ্যতাভেদে অগভীরমূলীয় ফুল, সবজি, ফল কিংবা পাতাবাহারি গাছের চারা রোপণ করেও ভার্টিক্যাল গার্ডেন গড়ে তোলা যায়।
ছাদে বা বারান্দায়, যেখানে দিনে অন্তত ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা সরাসরি আলো পৌঁছে, সেসব জায়গায় চাইলেই ফুল বা শাক-সবজি লাগিয়ে ভার্টিক্যাল গার্ডেন গড়ে তোলা যায়। বিশেষত শীতের ফুল, যেমন- পিটুনিয়া, ভার্বেনা, ডায়ানথাস, এসটার, ফ্লক্স, সিলভিয়া, জিনিয়া ইত্যাদি ফুল দিয়ে সহজেই ভার্টিক্যাল গার্ডেন করা যায়। পাশাপাশি প্রায় সারা বছর ফোটে এমন ফুল যেমন মর্নিং ডোয়ার্ফ গøরি, পানিকা, চাইনিজ টগর ও পুর্তলিকা দিয়েও ভার্টিক্যাল গার্ডেন করা যায়। একইভাবে বারান্দা ও ছাদে ভার্টিক্যাল গার্ডেন করে তাতে শাক-সবজি লাগিয়েও ভালো ফলন পাওয়া যায়। টমেটো, চেরি টমেটো, লেটুস, ব্রোকলি, মরিচ, ক্যাপসিকাম, লালশাক, পালংশাক, ডাঁটাশাক ইত্যাদি শাক-সবজি সহজেই ভার্টিক্যাল গার্ডেন করে চাষাবাদ করা যায়।
ঘরের ভেতরে, লিভিং রুম বা অফিসেও চাইলে ছায়াবান্ধব পাতাবাহারি গাছ দিয়ে ভার্টিক্যাল গার্ডেন তৈরি করা যায়। মানিপ্ল্যান্ট, এলোকেশিয়া, ফার্ন, স্পাইডার, লিলি, এনথোরিয়াম, বোট লিলি, ড্রাসেনা, মেরেন্টা, মনস্টেরা ইত্যাদি গাছ দিয়ে ভার্টিক্যাল গার্ডেন করে অফিস বা বাসাবাড়ির ভেতরের দেয়ালগুলো নান্দনিকভাবে সাজিয়ে তোলা যায়। ইদানীং বিভিন্ন পদ্ধতিতে প্লাস্টিক, লোহা, স্টিল বা কাঠের ফ্রেম বানিয়ে দেয়ালে সেট করে তাতে পোর্টেবল টব ঝুলিয়ে ভার্টিক্যাল গার্ডেন তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেয়ালের ধাপে ধাপে সিমেন্টের স্থায়ী বেড বানিয়েও ভার্টিক্যাল গার্ডেন করা যায়। তবে আধুনিক পদ্ধতির ভার্টিক্যাল গার্ডেনের অনেক উপকরণ আমাদের দেশে উৎপাদন না হওয়ায় দেশের বাইরে থেকে আমদানি করতে হয়। ফলে বেশ খানিকটা খরচ পড়ে যায় উন্নত প্রযুক্তির ভার্টিক্যাল গার্ডেন সৃজনে। একই সঙ্গে দেশীয় প্রচলিত পদ্ধতিতে বাঁশ, কাঠ ও রডের মতো সহজলভ্য উপকরণ দিয়ে তুলনামূলক কম খরচেও ভার্টিক্যাল গার্ডেন করা সম্ভব। ভার্টিক্যাল গার্ডেনে যেহেতু পরিচিত ও দেশীয় সহজলভ্য গাছগুলোই রোপণ করা হয়, তাই এর যতœ ও পরিচর্যা-পদ্ধতি খুব একটা জটিল নয়। পরিমিত পানি ও প্রতি এক-দুই মাস অন্তর পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার, সার, ভিটামিন সরবরাহ করলেই গার্ডেন সবুজ ও সতেজ থাকে। এ ছাড়াও অটোমেটিক ড্রিপ ইরিগেশন সিস্টেম চালু করে তার সঙ্গে টাইমার কিংবা সেন্সর সেট করে সঠিক পানি-ব্যবস্থাপনা করা যায় ভার্টিক্যাল গার্ডেনে। আর একসঙ্গে যেহেতু পাশাপাশি অনেকগুলো গাছ থাকে, তাই রোগবালাই যেমন ছত্রাক বা ভাইরাসের আক্রমণ হলে তা দ্রæত ছড়ায়। ফলে আক্রান্ত গাছকে দ্রæত প্রতিস্থাপন করে সহজেই প্রতিকার পাওয়া সম্ভব। পাশাপাশি কিছু জৈব বালাইনাশক ও প্রাকৃতিক উপাদান থেকে তৈরি বায়ো পেস্টিসাইড স্প্রে করেও প্রতিকার পাওয়া সম্ভব।
ভার্টিক্যাল গার্ডেন আয়তনে বড় হলে মাটির পরিবর্তে কোকোডাস্ট, পার্লাইট, পিটমস, কম্পোস্ট কিংবা অর্ধেক মাটি অর্ধেক কোকোডাস্ট বা কম্পোস্ট মিশিয়েও গ্রোইং মিডিয়া তৈরি করা যায়। মাটিবিহীন ভার্টিক্যাল গার্ডেন একদিকে যেমন হালকা ও টেকসই হয়, অন্যদিকে কাদা-ময়লা ও রোগবালাইও তুলনামূলক কম হয়। পাশাপাশি হাইড্রোফোবিক বা জলচাষ পদ্ধতিতেও মাটিবিহীন ভার্টিক্যাল গার্ডেন করা যায়।

খালিদ জামিল


যারা ভবনের নকশা করেন তাদের মনে রাখতে হয় বেশকিছু বিষয়। সবচেয়ে বেশি কাজে লাগাতে হয় কল্পনাশক্তিকে। তবে বর্তমান সময়ে ভবনের নকশার ক্ষেত্রে সেটাকে আইকন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পাশাপাশি নিজের সৃষ্টির যাতে সর্বোচ্চ ব্যবহার মানুষ করতে পারে খেয়াল রাখতে হয় সেদিকেও। স্থপতি স্টিভেন হল তার ফার্মের নকশায় নির্মিত বেইজিংয়ের আবাসিক ও বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স লিঙ্কড হাইব্রিডের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘আপনি ব্যাপারটা কোনোভাবেই বুঝবেন না যদি এর ওপর, ভেতর এবং চারদিক সম্পর্কে না জানেন।’
হল বলছেন, ‘এই স্থাপনা একটি ‘আল্ট্র গ্রিন প্রজেক্ট’, যেখানে রয়েছে ৬৫৫টি জিওথারমাল দেয়াল। এগুলো কমপ্লেক্সের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। আবহাওয়ার কথা বিবেচনায় নিয়েই এই বিষয়গুলো রাখতে হয়েছে।
রেইকজাভিক’স হারপা কনসার্ট হল ও কনফারেন্স সেন্টারের উদাহরণও আসতে পারে এখানে। এই স্থাপনাটি স্থাপত্য ফার্ম হেনিং লারসন, বাটেরিও ও শিল্পী ওলাফুর ইলিয়াসনের যৌথ প্রচেষ্টায় তৈরি। অ্যাসাইমেট্রিক্যাল ধাঁচের এই স্থাপনাতে ব্যবহার করা হয়েছে এলইডি-অ্যালুমিনেটেড কাচ আর স্টিলের ইট। যে-কারণে প্রতিদিন সন্ধ্যায় স্থাপনাটি আভির্ভূত হয় অন্যরকম সৌন্দর্য নিয়ে। বিশ্বের এমন সেরা ১০ স্থাপনা নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজনের ১ম পর্ব।

১. হারপা কনসার্ট হল
রেইজাভিক আইল্যান্ড
হেনিং লারসন আর্কিটেক্ট এবং বাতেরিও আর্কিটেক্ট (২০১১)
আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার বেশ আগে থেকেই এই কনসার্ট হল আইল্যান্ডের চেহারাই বদলে দেয়। এক সময়ের ঘুমন্ত সৈকত যেন জেগে ওঠে। এর বিভিন্ন রঙের কাচ মানুষকে মোহিত করার ক্ষমতা রাখে। আর সে-কারণেই একে দেখতে স্থানীয়রা তো বটেই, বাইরে থেকেও মানুষ আসেন। শিল্পী ওলাফুর এলিসনের ক্রিস্টাল লাইন শেলটা পুরো স্থাপনার সঙ্গে মানিয়েছে অদ্ভুতভাবে। সাগরতীরে রাতে যখন এলইডি লাইটগুলো জ্বলে ওঠে, সেই সৌন্দর্য অবর্ণনীয়।

২. বুর্জ খলিফা
দুবাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত
স্কিডমোর, ওইংস অ্যান্ড মেরিল (২০১০)
মরুভূমির বুকে সবকিছুকে পেছনে ফেলে যেন মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে ২,৭১৭ ফুট উচ্চতার এই সুপার টাওয়ার। বাগিয়ে নিয়েছে বিশ্বের উচ্চতম ভবনের তকমা। ১৬২তলা এই ভবনটিতে অফিস থেকে শুরু করে বাসা, রেস্টুরেন্ট এমনকি একটি আরমানি হোটেলও রয়েছে। অবজারভেশন ডেকটা ১২৪তলায়। কেবল উচ্চতার দিক দিয়ে নয়, নকশার আরো অনেক দিক দিয়ে পৃথিবীর অন্যান্য স্থাপনাকে পেছনে ফেলেছে। স্টিলের ফ্রেমের ওপর গ্লাস-কার্টেন দেয়াল, যেটা আরবের প্রখর সূর্য থেকে ভবনের ভেতরটা রক্ষা করে। নিচ থেকে ধীরে ধীরে ওপরের দিকে ভবনটি ‘ওয়াই’ আকৃতি ধারণ করেছে।

৩. গার্ডেন্স বাই দ্য বে
সিঙ্গাপুর
উইলকিনসন আয়ের আর্কিটেক্টস, গ্র্যান্ট অ্যাসোসিয়েটস (২০১২)
২০১২ সালের ওয়ার্ল্ড আর্কিটেকচার ফেস্টিভ্যালে ‘বিল্ডিং অব দ্য ইয়ার’ মনোনীত হয় গার্ডেন্স বাই দ্য বে। মেরিনা বে ডিস্ট্রিক্টে প্যারাবোলিক আকৃতির বোটানিক্যাল গার্ডেন এটা। শুকনো এবং বর্ষা দুই মৌসুমের কথা মাথায় রেখেই এই নকশা করে উইলকিনসন আয়ের আর্কিটেক্টস। যে-কারণে তৃণভূমি কিংবা পাহাড়ি বনের মতোই আকর্ষণ এখানে। ভার্টিক্যাল বাগানটি তৈরিতে খুব বড় কিছু অবশ্য করেনি গ্র্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস। দর্শকদের হাঁটার জন্য শুধু এলিভেটেড ওয়াকওয়ের ব্যবস্থা করা আছে, যেটা গিয়ে মিলেছে ‘সুপার স্ট্রিটের’ সঙ্গে। সঙ্গেই রয়েছে কয়েকটি জায়গায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের জন্য সোলার প্যানেল।

৪. লিঙ্কড হাইব্রিড
বেইজিং
স্টিভেন হল আর্কিটেক্টস (২০০৯)
এটা মূলত আটটি টাওয়ারের সমন্বয়। প্রত্যেকটি পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত। আবাসিক ও বাণিজ্যিক দুই ধরনের কাজেই এটা ব্যবহৃত হয়। একুশ শতকের নগর উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রাকে মাথায় রেখেই নির্মাণ করা হয়েছে এই স্থাপনা। অভিজাত আবাসিক অংশটি যাতে স্থাপনার বাকি অংশ থেকে আলাদা না হয়ে পড়ে সেজন্য নিচতলায় খোলা প্যাসেজ রাখা হয়েছে। পাবলিক স্পেস যেমন বাগান, দোকান, রেস্টুরেন্ট এবং স্কুলগুলোতে যাওয়ার জন্য সব অংশ থেকেই রাখা হয়েছে পায়ে-চলার পথ। বাসিন্দা আর বাইরে থেকে আসা মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য রয়েছে কাচ আর ইস্পাতের মিশেলে তৈরি কয়েকটি সেতুও।

৫. দ্য শার্ড
লন্ডন
রেনজো পিয়ানো বিল্ডিং ওয়ার্কশপ (২০১২)
লন্ডনে আয়োজিত সর্বশেষ সামার অলিম্পিক যারা দেখেছেন তাদের কাছে ৭২তলাবিশিষ্ট এই ভবন পরিচিতই মনে হবে। পশ্চিম ইউরোপের সবচেয়ে উঁচু ভবন এটি। টেমস নদীর তীরে দাঁড়িয়ে ব্রিটিশ রাজধানীর স্কাইলাইনকে নতুন রূপ দিয়েছে এই বহুতল ভবন। কাচের আউটলাইনটার আটটি কোণ থাকায় শহরের প্রতিটা দিক যেমন এখান থেকে দেখা যায়, তেমনি ভেতরে সূর্যের আলো ঢুকতে পারে ভালোভাবেই। অফিস, অ্যাপার্টমেন্ট, রেস্টুরেন্ট আর হোটেল এ সবকিছু থাকায় ভবনটাকে বলা হয় ‘ভার্টিক্যাল ভিলেজ’। এ ছাড়া শহরটা অন্যভাবে দেখার জন্যও এখানে আসেন অনেকে। যেকোনো দিকে এখান থেকে দেখা যায় ৪০ মাইল পর্যন্ত।

 

খালিদ জামিল


ইউরোপের জ্ঞান আর অর্থনীতির অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হওয়ায় আমস্টারডামের জনসংখ্যা বাড়ছে দ্রুতগতিতে। শহরের সিটি কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, ২০৪০ সালের মধ্যে আমস্টারডামে আরও দেড় লাখ মানুষ বাইরে থেকে এসে যুক্ত হবে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে। শহরের পরিকল্পনাকারীরা যদি এই অতিরিক্ত মানুষের কথা মাথায় রেখে মাস্টারপ্ল্যান নতুন করে সাজাতে না পারেন, তবে এই বিপুল জনসংখ্যার চাপ সামাজিক এবং অর্থনৈতিক দিক দিয়ে বেশ বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।
মাস্টারকার্ড পরিচালিত ২০১৫ গ্লোবাল ডেস্টিনেশন সিটি ইনডেক্সের তথ্য বলছে, আমস্টারডাম শিপহোল এয়ারপোর্টের মাধ্যমে এই শহর সে বছর যে পরিমাণ আন্তর্জাতিক যাত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে, সেটা ইউরোপের মধ্যে পঞ্চম।
এসব কারণেই আমস্টারডামের সিটি কাউন্সিল তাদের শহরের আয়তন বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। সেগুলোকে একসঙ্গে বলা হচ্ছে ‘স্ট্রাকচারাল ভিশন আমস্টারডাম-২০৪০ সিটি মাস্টারপ্ল্যান’। শহরের নকশাকে নতুন করে সাজানো, বাইরের সঙ্গে আরও সহজ যোগাযোগ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে শহরকে নিয়ন্ত্রণ এবং শহরের মধ্যে চলাচলের জন্য আরও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এই পরিকল্পনার অন্যতম অংশ। শহরে জনসংখ্যার ঘনত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন বাণিজ্যিক ও আবাসিক অংশ নির্মাণ করা হবে, যেগুলো সংযুক্ত হবে একটি রিংরোডের মাধ্যমে।

শহরের ঘনত্ব বাড়ানো, উন্নয়ন এবং জমি পুনরুদ্ধার
শহরকে নতুন করে সাজানোর মাধ্যমে বিভিন্ন অংশের ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। জমি পুনরুদ্ধারের এই প্রক্রিয়া বিশ্বের অনেক শহরেই করা হয়। তবে আমস্টারডামের মতো এত বড় পরিসরে এমনটা হওয়ার দৃষ্টান্ত নেই। আমস্টারডামের এই ‘স্ট্রাকচারাল ভিশন আমস্টারডাম-২০৪০’ মেগা প্রজেক্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে আধুনিক নগরপরিকল্পনার দিক দিয়ে সেটা অন্যান্য শহরের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
এই মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় সাতটি বিশেষ কর্মপরিকল্পনা রয়েছে, যেগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে শহরের বাসিন্দাদের জীবনযাপন বর্তমানের তুলনায় আরও সহজ হয়ে উঠবে। সেই বিশেষ কর্মপরিকল্পনার মধ্যে একটি হলো আমস্টারডামের ঘনত্ব বাড়ানো। ২০৪০ সালের মধ্যে ৭০ হাজার নতুন ভবন নির্মাণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে আবাসিক ভবনের পাশাপাশি থাকবে স্কুল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং খেলাধুলার সুযোগ-সুবিধা। তবে সব ক্ষেত্রেই ভূমির সর্বোচ্চ ব্যবহার আর বহুমুখী ব্যবহারযোগ্য ভবন নির্মাণের দিকে লক্ষ্য রাখা হবে।
ভূমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার আরেকটা উপায় হলো বাণিজ্যিক অঞ্চল নতুনভাবে গড়ে তোলা। একই এলাকায় বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভবন গড়ে তোলারও পরিকল্পনা করা হচ্ছে, অনেকটা সাম্প্রতিক আমস্টারডামের পোর্ট সিটির মতো। ২০৩০ সালের মধ্যে শহরের ওয়াটার ফ্যাসিলিটিতে ১৯ হাজার মানুষের বাসস্থান গড়ে তোলা সম্ভব হবে, যেটা সংযুক্ত থাকবে সামুদ্রিক অর্থনীতির সঙ্গে।
রিং রোডের মধ্যকার শহরের অংশগুলোর মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করা বেশ বড় চ্যালেঞ্জ। এই সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে গোটা শহর একটা মেট্রোপলিটন অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তার জন্য এই যোগাযোগ ব্যবস্থার মূল অংশগুলোতে বিশেষ বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিটি কাউন্সিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী শহরের মূল অংশগুলোর সামাজিক পরিবেশের উন্নয়ন করা হবে দোকান এবং খাবার সরবরাহের ধরনের উন্নয়ন ও ভিন্নতা আনার মাধ্যমে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আরও আছে –
• শহরের এক অংশের সঙ্গে অন্য অংশের সংযোগের জায়গাগুলোতে সবুজ অঞ্চল বাড়ানো।
• শহরকে মোটা দাগে দ্বিখ-িত করা আইজে ওয়াটারওয়েকে নতুন করে সাজানো।
•  শিপহোল বিমানবন্দরের কাছে সেন্ট্রাল আমস্টারডামে জুইডাস বাণিজ্যিক অঞ্চলের উন্নয়ন।
• ২০২৮ সামার অলিম্পিককে সামনে রেখে দুটি ভিন্ন নগর-পরিকল্পনা।
জুইডাসে শীর্ষ স্থপতিরা ভবিষ্যতের নগর গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন। যেমন- রেম কোলহ্যাস করছেন আমস্টারডাম আরএআই হোটেলের নকশা। আরএআই কনভেনশন সেন্টারের এক্সপেনশন হিসেবে নির্মিত হচ্ছে এই হোটেল, যার নকশা মূলত উলম্ব অংশের ওপর কিউব আকৃতির স্থাপনা। শহরের এই অংশে এমন দারুণ কিছু স্থাপনা গোটা এলাকার চেহারাই বদলে দিচ্ছে।
আমস্টারডামের নুর্ড ডিস্ট্রিক্টে মূল জলপথের উত্তরে নতুন ইওয়াইই ফিল্ম ইনস্টিটিউট এবং ক্রান্সপোর বিল্ডিং এই অঞ্চলকে সৃজনশীলতার হটস্পটে পরিণত করেছে। আমস্টারডাম যদি এভাবেই নিজেকে সাজিয়ে এবং বিভিন্ন অংশের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে একটি মেট্রোপলিটনে রূপান্তরিত হতে পারে, তাহলে স্মার্ট ও অভিনব নগর উন্নয়নের দিক দিয়ে সারা বিশ্বের জন্য রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হবে।

কীভাবে আমস্টারডাম এর বিভিন্ন অংশকে সংযুক্ত করছে?
মেট্রোপলিটন শহরে রূপান্তরকরণের মাধ্যমে শহরের প্রত্যেক অংশের সঙ্গে সুষ্ঠু যোগাযোগ গড়ে তুলতে হবে। সেজন্য হাঁটার পথ, সাইকেলের পথ আর গণপরিবহন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। সেই সঙ্গে এই নতুন স্মার্ট সিস্টেমের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে আমস্টারডামের বাসিন্দা থেকে শুরু করে এই শহরে বেড়াতে আসা সবাইকে। ‘স্ট্রাকচারাল ভিশন আমস্টারডাম-২০৪০’ পরিকল্পনার একটি অন্যতম অংশ এই গণপরিবহনের রুট সংস্কার। পাশাপাশি আরও পার্ক এবং বাইসাইকেল লেন নির্মাণ করা হবে। যতটা সম্ভব কমিয়ে ফেলা হবে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা।
সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদন বলছে, এখানকার আঞ্চলিক গণপরিবহন ব্যবস্থায় বিভিন্ন ধরনের সীমাবদ্ধতা আছে। তবে যেসব প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে, তাতে ২০৪০ সালের মধ্যে একটি প্রশস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা অবশ্যই গড়ে তোলা সম্ভব। গোটা শহরের যেকোনো জায়গা থেকে বাস বা ট্রেন ব্যবহার আরও সুবিধাজনক করতে স্টেশনের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
জুইডাস এবং দক্ষিণ-পূর্ব আমস্টারডাম শহরের কেন্দ্র এবং বিমানবন্দরের কাছে হওয়ায় এই অংশের বাণিজ্যিক ও আবাসিক উন্নয়নকে আলাদাভাবে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। দক্ষিণ অংশে এরই মধ্যে বড় আকারের প্রজেক্ট বাস্তবায়নের কাজ চলছে। ২০৪০ সালের মধ্যে পরিকল্পনা পুরোপুরি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সবকিছুই শিপহোল বিমানবন্দরের বর্ধিতকরণ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত। একই সঙ্গে জুইডাসের কেন্দ্রেই নতুন একটি রেলস্টেশনের নির্মাণ কাজ চলমান, যেটা হবে গোটা শহরের মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম রেল যোগাযোগের কেন্দ্র। শহরের বাকি অংশগুলোর সঙ্গে তো বটেই, এই স্টেশন নেদারল্যান্ডসের অন্যান্য অংশ এমনকি পশ্চিম ইউরোপের অনেক শহরের সঙ্গেও যোগাযোগ সহজতর করতে রাখবে অনন্য ভূমিকা।
অন্যদিকে বেসরকারি উদ্যোগে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য বেশ কয়েকটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। সংখ্যায় সেগুলো ডজনখানেকের বেশি। যেমন ‘ইয়েলার’ মোবাইল অ্যাপ নিয়ে বর্তমানে একটি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে, যেটার মাধ্যমে একজন ভ্রমণকারী আরেকজন ভ্রমণকারীর সঙ্গে নিজের ক্যাব শেয়ার করতে পারেন। ‘উইগো’ নামের আরেকটি অ্যাপের মাধ্যমে যার গাড়ি নেই, তিনি একজন গাড়ির মালিক, যার গাড়িটি কিছু সময়ের জন্য দরকার হচ্ছে না, তার কাছ থেকে ভাড়া নিতে পারেন। এছাড়া ‘মোবিপার্ক’ পার্কিং প্ল্যাটফর্ম অ্যাপের মাধ্যমে ধারে-কাছে কোথাও পার্কিংয়ের সুবিধা থাকলে সেটার খোঁজ পাওয়া যায়। যে-কারণে গাড়ি পার্ক করার জন্য এদিক-ওদিক ঘোরাঘুরি করে চালকদের সময় নষ্ট করতে হয় না।
আশা করা হচ্ছে, আমস্টারডামে গাড়িতে যাতায়াতের জন্য যে পরিমাণ জ্বালানি ব্যবহৃত হয়, ২০৪০ সালের মধ্যে সেটার ৬০-৯০ শতাংশ জোগান আসবে উইন্ডমিল, বায়োগ্যাস কিংবা সৌরবিদ্যুতের মতো প্রকৃতিবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস থেকে। ২০৪০ সালের পর শহরের খালগুলোতে কেবল বৈদ্যুতিক শব্দবিহীন নৌযান চলাচলের অনুমতি থাকবে। এর মাধ্যমে আমস্টারডামে পুরনো ইউরোপের মতো পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে এটাকে রূপান্তরিত করা হবে স্মার্ট শহরে।

নাগরিক অভিজ্ঞতা নিয়ে নতুন ভাবনা : আমস্টারডাম স্মার্ট শহর প্রকল্প
টেকসই উন্নয়ন নিয়ে চিন্তাভাবনার সময়ে আমস্টারডামের এই প্রকল্প বিশ্বের সেরা প্রকল্পগুলোর একটি বলেই উল্লেখ করা যেতে পারে। যেকোনো স্মার্ট সিটি গড়ে তোলার জন্য সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ের উদ্যোগের ক্ষেত্রে সমন্বয় প্রশ্নে এই শহর হতে পারে আদর্শ। তাই ‘স্ট্রাকচারাল ভিশন আমস্টারডাম-২০৪০’ প্রকল্পকে যদি হার্ডওয়্যার বলা হয়, ‘আমস্টারডাম স্মার্ট শহর প্রকল্প’কে বলতে হবে সফটওয়্যার।
এই পরিকল্পনা মূলত আমস্টারডাম সিটি কাউন্সিলের। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে প্রায় ১০০ স্থানীয় মিউনিসিপ্যালিটিস, বাণিজ্যিক, আবাসিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শুধু আমস্টারডাম নয়, এরা একই সঙ্গে ৭৫টি শহরকে স্মার্ট শহর হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে।
‘সিটি-জেন’ নামের একটি পাইলট প্রকল্প চালু করা হয়েছে, যেটার মাধ্যমে একই অঞ্চলের বাসিন্দারা নিজেদের চাহিদা অনুযায়ী সবুজ জ্বালানি একে অন্যের সঙ্গে শেয়ার করতে পারেন।
২০১৬ সালে আমস্টারডামে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়, যেটার নাম ‘আইবেকন অ্যান্ড আইওটি (Internet of things) লিভিং ল্যাব’। এর মাধ্যমে শহরে প্রায় দেড় মাইল পায়ে চলার পথ একটি নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হয় যাতে পথচারী সহজে গন্তব্য খুঁজে পায়। ‘স্মার্ট সিটিজেন’ প্রকল্পের আওতায় শহরের নাগরিকরা সাশ্রয়ী দামের কিছু সেন্সরের মাধ্যমে আশপাশের পরিবেশ দূষণ এবং শব্দের মাত্রা সংগ্রহ করে শহরে ওপেন ডাটা প্রোগ্রামের সঙ্গে শেয়ার করতে পারে। তাতে মানুষ পরিবেশ সম্পর্কে আরও সচেতন হচ্ছে। গাড়ি কিংবা গণপরিবহনের বদলে চলাচলের জন্য সাইকেল ব্যবহারের প্রতি হয়ে উঠছে আগ্রহী।
স্মার্ট শহর পরিকল্পনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ এর সঙ্গে স্মার্ট নাগরিকদের সম্পৃক্ত করা। তারাই মূলত সৃষ্টিশীল এই মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।

আবুল হোসেন আসাদ


কিছুটা দূর থেকে তাকাতেই চোখ ধাঁধিয়ে যায় পদ্মফুলাকৃতির শুভ্র-সফেদ স্থাপত্যের সৌন্দর্যে। এ যেন মার্বেল, ইট, বালু, পাথর আর সিমেন্টের সমন্বয়ে পৃথিবীর বুকে পদ্মফুলের এক অপার্থিব সুন্দরের সূচনা। হঠাৎ মনে হতে পারে এটি বুঝি সিডনির অপেরা হাউজ। কিন্তু পরক্ষণেই সবুজ প্রান্তরে চোখ পড়লে ভুল ভেঙে যায়, সঙ্গে ভরে যায় নয়নও। সবুজ প্রান্তরের মাঝখানে পদ্মফুলের বিশাল বিশাল সাদা রঙের পাপড়িগুলোর অপরূপ শোভা নিমিষেই সৌন্দর্য পিপাসুর মনে জ্বালা ধরিয়ে দেয়। এই পদ্মফুল-সদৃশ স্থাপত্যটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে আধ্যাত্মিক ও আত্মিক এক সম্পর্কের কথা; জড়িয়ে আছে এক ধর্ম-বিশ্বাসের কথা। সেটি হলো বাহাই ধর্ম-বিশ্বাস। পদ্মফুল স্থাপত্যটি মূলত একটি মন্দির বা টেম্পল, যা বাহাই সম্প্রদায়ের উপাসনালয়। বাহাই সম্প্রদায়ের লোকেরা এই মন্দির নির্মাণ করেছে। ফারিবোর্জ সাহাবা এই টেম্পলের প্রধান স্থপতি। ২৪ ডিসেম্বর ১৯৮৬ সাল, এই স্থাপত্যটি টেম্পল হিসেবে উপাসনার জন্য খুলে দেয়া হয়। পদ্মফুল-সদৃশ দেখতে বলে স্থাপত্যশিল্পটির নাম হয়েছে পদ্ম মন্দির বা লোটাস টেম্পল।
বাহাই বিশ্বাস হচ্ছে এক ঈশ্বরবাদী বিশ্বাস। বর্তমানকালের ইরান অর্থাৎ তৎকালীন পারস্য দেশে ঊনবিংশ শতাব্দীতে এই ধর্মের উৎপত্তি ঘটে। বাহাউল্লাহ (নভেম্বর ১২, ১৮১৭ মে ২৯, ১৮৯২) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ধর্ম-বিশ্বাসই হলো বাহাই বিশ্বাস বা বাহাই ধর্ম। বাহাই ধর্ম পৃথিবীর একটি নবীনতম ধর্ম। যে ধর্ম সব ধর্মের মানুষকে স্বাগত জানায়। সব ধর্মের মানুষ একযোগে এখানে ধর্মচর্চা করতে পারে কেবল ধ্যানের মাধ্যমে। বাহাই ধর্ম-বিশ্বাসকে এক অর্থে বলা চলে আধ্যাত্মিকতার আন্দোলন বা ধ্যানের একটি ভিন্নমাত্রা। ঐক্যবদ্ধতা সম্পর্কেও বাহাই ধর্মে আলোচনা করা হয়।
পদ্মফুল বা লোটাস নকশার মাধ্যমে বাহাই ধর্মের সরলতা তুলে ধরার জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল এই টেম্পল। কিন্তু নকশাটি এখন তার নিজস্ব স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যেই বেশি দ্যুতি ছড়াচ্ছে। ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুভূতি প্রতিফলিত করার জন্য ভারতীয় স্থাপত্যশৈলীর দিক খেয়াল রেখেই পদ্মফুল নকশার প্রণয়ন করা হয়েছিল। কারণ টেম্পল দেখতে আসার সময় ভারতীয়রা যাতে তাদের সুপরিচিত ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িত বিষয়ের মিল খুঁজে পায় এবং একই সঙ্গে লোটাস টেম্পলের শৈলী, প্রতীক চিত্র ও দৃশ্যায়ন যাতে বাহাই ধর্ম-বিশ্বাস সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণা দেয়। পদ্মফুল ভারতীয়দের কাছে খুবই সুপরিচিত ও পবিত্র একটি ফুল। পঙ্কজ নামে পদ্মফুল নানা ভারতীয় ভাষায় রয়েছে, যা পঙ্কিল জল বা পা’কে জন্মে কিন্তু নিষ্কলুষিত ও বিশুদ্ধ থাকে। ব্রহ্মা বা ঈশ্বরের আসনস্থান হচ্ছে পদ্মফুল যেটি রয়েছে পুরাণে এবং গৌতম বুদ্ধের জীবনীতেও ব্যাপকভাবে রয়েছে এই পদ্মফুল। এ ছাড়াও পদ্মফুলের মোটিফে রয়েছে পার্সি স্থাপত্যশিল্পের বৈশিষ্ট্য।

ইরানে বাহাউল্লাহর জন্ম হলেও তার সমাধি রয়েছে ইসরায়েলে। বাহাই ধর্মের অনুসারীরা রয়েছে সারা পৃথিবীজুড়ে প্রায় ৬০ লাখ। লোটাস টেম্পল দেখতে প্রতি বছর প্রায় ৪০ হাজার লোক এখানে আসে। এটি ভারতের রাজধানী নতুন দিল্লির নেহরু প্যালেসের পাশঘেঁষা বিস্তৃত জায়গার সবুজ গাছপালার মাঝে অবস্থিত। দূর থেকে দেখলেও লোটাস টেম্পলকে এক কাব্যিক স্থাপত্যশিল্পই মনে হয়। পদ্মফুলের মোট ২৭টি পাপড়ি রয়েছে পরিকাঠামোতে। নয়টি করে পদ্ম-পাপড়ি মোট তিনটি স্তরে সাজানো। বাইরের পাপড়িগুলোর ফাঁক গলে আকাশের দিক সূর্যের আলো টেম্পলের মাঝে ঢোকে এবং এই আলো মৃদুভাবে ছড়িয়ে পড়ে টেম্পলজুড়ে। নয়টি পুকুর লোটাস টেম্পলকে বুকে আগলে রেখেছে পানির ওপর। যাতে মনে হয় সত্যিকারের একটি পদ্মফুল বিরাজ ইট-পাথরের পাষাণ প্রাচীর উপেক্ষা করে। পাপড়ির বাইরের অংশ মার্বেল দ্বারা আবৃত। গ্রিসের পেন্টেলি পর্বত থেকে এই মার্বেলগুলো আনা হয়েছিল।
টেম্পলের ভেতরের সুবিশাল জায়গাটিকে নির্মাণকালীন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা করা আর্থিকভাবে সম্ভবপর না হওয়ায় তখন প্রাকৃতিকভাবে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা এখনো অটুট। দিনের বেলায় সূর্যের আলো পদ্ম পাপড়ির ফাঁক গলে মৃদুভাবে টেম্পলের ভেতরে প্রবেশ করে, মেঘাচ্ছন্ন দিন বা সূর্যের আলো না থাকলেও যাতে টেম্পলের ভেতরে মৃদু আলো থাকে তার বিকল্প ব্যবস্থাও রয়েছে। গোলাকার টেম্পলটির ভেতরে সুবিশাল ফাঁকা জায়গায় বেঞ্চি পাতা রয়েছে। বেঞ্চিগুলোর সামনের দিক অর্থাৎ পশ্চিম দিকে রয়েছে একটি স্টেজ। স্টেজে ভাষণ দেয়ার জন্য রয়েছে একটি ডায়াস। বেঞ্চগুলো পাতা হয়েছে কায়মনে বসে ধ্যান করার জন্য। টেম্পলে ঢোকার সময় গাইড বলে দেয়, যার যার স্রষ্টার কাছে কায়মনে প্রার্থনা করার জন্য এবং চুপচাপ কিছুক্ষণ ধ্যান করার জন্য। প্রায় এক হাজার তিনশ লোক একসঙ্গে টেম্পলের ভেতরে প্রার্থনা করতে পারে। লোটাস টেম্পলের ভেতরে চিৎকার করলে বা জোরে কথা বললে পাপড়িসদৃশ দেয়ালে কথাগুলো প্রতিধ্বনিত হতে থাকে। জুতা খুলতে হয় টেম্পলে প্রবেশের আগেই। অবশ্য সেজন্য টেম্পলের পক্ষ থেকেই জুতা রাখার জন্য ব্যাগও দেয়া হয়। বাহাই ধর্ম-বিশ্বাস সম্পর্কে এবং টেম্পলে প্রবেশের যাবতীয় নিয়ম-কানুন গাইডরা আগেভাগেই কয়েকটি ভাষায় জানিয়ে দেয়। লোটাস টেম্পলে প্রবেশের জন্য কোনো টিকিট লাগে না বা টাকা-পয়সার বিষয় জড়িত নেই। সবচেয়ে বড় কথা হলো, টেম্পল-প্রাঙ্গণটি পরিচ্ছন্ন, নির্মল ও সবুজে সবুজে আচ্ছাদিত। অপূর্ব এই স্থাপত্যটিকে বাইরে থেকে কৃত্রিম উজ্জ্বল আলোকছটায় উদ্ভাসিত করা হয় রাতের বেলায়। পাপড়ির বাইরের প্রান্তগুলোয় তখন উজ্জ্বল আলোর বর্ণালিতে অসাধারণ এক রূপের সৃষ্টি হয় নিকষ গাঢ় অন্ধকারের মাঝে।

লেখক : সাইক্লিস্ট ও বিশ্ব-অভিযাত্রী