Home বাজার দর স্থাপত্য কোষ

কারিকা ডেক্স


সবুজ ভবনের ধারণা শুরুতে যতটা মনে করা হয়েছিল, তারচেয়ে বেশি দ্রুততার সঙ্গে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। একেকটা ভবন যেমন মানুষের কাজের জন্য নির্মিত হয়, একইভাবে এটা অবসর আর বিনোদনের কাজেও আসে। দালান-কোঠাকে এড়িয়ে চলা আধুনিক এই নগর জীবনে সম্ভব নয়। যুগের চাহিদা থাকার কারণে ইট-কাঠ-পাথরের ভবনই এখন পরিবেশ রক্ষায় রাখছে ভূমিকা।

কিন্তু পৃথিবীর মোট ব্যবহৃত শক্তির ৪০ শতাংশ এই ভবনগুলোর পেছনে ব্যয় হয়। মোট কার্বন নিঃসরণের ৪০ শতাংশও আসে এসব ভবন থেকে। তাই সম্প্রতি এক হাজার পরিবেশবান্ধব মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে ইন্দোনেশিয়ায়। রেকর্ডসংখ্যক কোম্পানি একত্রিত হয়েছে সারা বিশ্বে অতিমাত্রায় ব্যবহারের কারণে বালির যে সংকট তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করতে।

টেকসই উন্নয়নের পথে হাঁটছে রেকর্ডসংখ্যক রিয়েল স্টেট ফার্ম
রেকর্ডসংখ্যক রিয়েল স্টেট কোম্পানি আগ্রহ প্রকাশ করেছে সবুজ প্রকল্প নিয়ে কাজ করতে এবং তাদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে সামাজিক সেবার মান। শক্তির ব্যবহার, বর্জ্য-ব্যবস্থাপনা ও সেটার পুনর্ব্যবহার, পানির ব্যবহার সবকিছুতে আধুনিকায়নের কারণে এসবের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক টেকসই রিয়েল স্টেট বেঞ্চমার্ক জরিপে। এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের ১২৪টি কোম্পানি নিজেদের পরিবেশবান্ধব টেকসই উন্নয়নে অংশীদার হয়েছে। এর অর্ধেকের বেশি কোম্পানি এসেছে অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ড থেকেও।

৩.৪ ট্রিলিয়ন ডলারের সুযোগ
দ্রুতগতিতে নগরায়ণের কারণে বর্তমানের চেয়ে ভবনের সংখ্যা ২০১৫ সালে ২৫ শতাংশ বাড়বে। ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশনের জরিপ বলছে, একই সময় সবুজ ভবন নির্মাণে বিনিয়োগ বেড়ে দাঁড়াবে ৩.৪ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত। ফিলিপাইনের আইএফসি কান্ট্রি ম্যানেজার ইউয়ান জু বলেন, ‘সবুজ ভবনের যে বাজার সেখানে আলোড়ন তুলতে পারলে এই খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ আরো বাড়বে।’

 

biophilia-1024x683

ভালো মানের নির্মাণের জন্য ভালো মানের উপকরণ
আগেকার সেই মাটির ঘরের যুগে ফিরে যাওয়া গেলে সেটাই পরিবেশের জন্য সবচেয়ে বেশি ভালো হতো। হতো আর্থিকভাবেও অনেক সাশ্রয়ী। সম্প্রতি শ্রীলংকার এক গবেষণা বলছে এমন কথা। এমআইটির গবেষকরা কংক্রিটকে কীভাবে আরও পরিবেশবান্ধব করে তোলা যায়, সেটা নিয়ে কাজ করছেন। টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানের বাজারও দিন দিন বেড়েই চলেছে। ২০২৬ সাল নাগাদ এটা উঠতে পারে ১২৭ বিলিয়ন ইউএস ডলার পর্যন্ত!
অবশ্য এতকিছুর পরও ভবন নির্মাণে সেই বালুর চাহিদা কিন্তু কমছে না মোটেও। এ ব্যাপারটা পরিবেশকে আরো বেশি হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

সবুজ ভবনের চেয়েও বেশিকিছু
কেবল সবুজ ভবন নির্মাণ করেই কার্বনের পরিমাণ যতটা কমানো দরকার, ততটা সম্ভব নয়। অন্তত জার্মান পরিবেশ প্রকৌশল ফার্ম ট্রান্সসোলারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক থমাস অর তেমনটাই মনে করেন। গেল বছর হংকংয়ে ওয়ার্ল্ড সাসটেইনেবল এনভায়রনমেন্ট কনফারেন্সে ইকো-বিজনেসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় না এই প্রযুক্তি আমাদের যেখানে পৌঁছানো দরকার, সেখানে পৌঁছে দিতে পারবে। তবে এটাও সত্যি, পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এই সবুজ ভবনের ধারণা। কিন্তু একই সঙ্গে আমাদের আচরণেও পরিবর্তন আনতে হবে। তাহলেই লক্ষ্য অর্জিত হবে।’

পরিবেশবান্ধব মসজিদ
মুসলমানদের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হিসেবে এক হাজার পরিবেশবান্ধব মসজিদ নির্মিত হচ্ছে ইন্দোনেশিয়ায়। দেশটির শীর্ষ ধর্মীয় সংগঠন ইন্দোনেশিয়ান উলেমা কাউন্সিলের (এনইউআই) উদ্যোগে নির্মিতব্য এসব মসজিদে ব্যবহার করা হবে নবায়নযোগ্য শক্তি। পানির যাতে সর্বোচ্চ সাশ্রয় করা যায় থাকবে সে ব্যবস্থা। থাকছে উন্নত বর্জ্য-ব্যবস্থাপনাও। একই সঙ্গে এই মসজিদগুলো হবে পরিবেশ-সংক্রান্ত শিক্ষার কেন্দ্র।
এমইউআইয়ের এক মুখপাত্র বলেন, ‘ইন্দোনেশিয়ার মুসলিমরা সরকারের চেয়ে এই ধর্মীয় সংগঠনের সিদ্ধান্তকে বেশি মানেন। তাই তাদের এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে দেশের জনপ্রিয় প্রজেক্ট হতে যাচ্ছে।’

মুস্তাফা খালিদ পলাশ


স্থাপত্যের সঙ্গে কেটে যাচ্ছে দীর্ঘদিন। ১৯৮১ সালে বুয়েটে ভর্তি হয়েছি। শুরুতে স্থাপত্যকে একভাবে দেখেছি, শিক্ষাজীবনে আরেকভাবে, পেশাগত জীবনে অন্যভাবে। এখন তিন দশকেরও বেশি সময় পর এসে যদি প্রিয় স্থাপনার কথা বলি, তাহলে এক কথায় বলব সংসদ ভবন।
আমার মনে হয় বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের প্রত্যেকেরই প্রিয় স্থাপনা সংসদ ভবন। এমনকি ১৯৬১-৮২ সালে লুই আই কানের ডিজাইনে তৈরি আমাদের এ সংসদ ভবনটি বিশ্ব দরবারেও প্রিয়। কারণ স্থাপত্য বলতে কেবল একটি ভবনকে বোঝায় না, শিল্পকেও বোঝায়। কিন্তু সব স্থাপত্য শিল্পের পর্যায়ে পৌঁছতে পারে না। সব ভবন কবিতার মতো হয় না। মানে, গদ্য খুব সহজ একটি জিনিস। এটা ভেঙে বলা যায়। কিন্তু কবিতা তা নয়। একটা মোটা বইয়ের উপন্যসের মাধ্যমে যতটা-না বলা যায়, অনেক সময় একটা কবিতায় তার থেকে বেশি বলা সম্ভব। কবিতা আমার কাছে পেইন্টিংয়ের মতো। একটি পেইন্টিংয়ের মাধ্যমে যেমন অনেক কিছু বোঝানো যায়, তেমনি স্থাপত্যেরও কিছু বিশেষ দিক রয়েছে। এটা হলো ব্যবহারিক শিল্প। স্থাপত্য হলো একটা স্থানু বা সেডেন্টারি শিল্প-মাধ্যম। স্থাপত্যে যখন ব্যবহারের বিষয় চলে আসে, তখন তা কতটা শিল্প আর কতটা ব্যবহারিক সে বিষয়ে তুল্য জলাংকে মাপার বিষয়ও চলে আসে।

সংসদ ভবন এসবের মাত্রা অতিক্রম করেছে। এটিকে আমরা স্কাল্পচার বলতে পারি, কবিতা বলতে পারি এমনকি অ্যাবস্ট্রাক্ট পেইন্টিংও বলতে পারি। অ্যাবস্ট্রাক্ট পেইন্টিং বলছি, কারণ আমরা যে রিয়েলিস্টিক পেইন্টিং করি, তা অনেকটা ভেঙে ভেঙে গদ্যের মতোই করি। সেখানে বলে দেয়া থাকে এটা গাছ, এটা নদী, এটা নালা ইত্যাদি। কিন্তু অ্যাবস্ট্রাক্ট পেইন্টিংয়ে বিমূর্ততা আছে। বিমূর্ততা হলো এমন জিনিস, যেখানে একেকজন দর্শক ছবিটি দেখে নিজের মতোই অনুধাবন করে। সেই অর্থে সংসদ ভবন শিল্পমান অর্জন করেছে। বিশ্বব্যাপী তার সমাদরও অনেক বেশি।
দ্বিতীয়ত, আমাদের স্থাপত্যের ধারাবাহিকতা বা ঐতিহ্য কিন্তু খুব প্রাচীন নয়। আমরা কিন্তু নগর-সভ্যতায় অভ্যস্ত জাতি নই। আমরা কৃষক জাতি। মাটির ঘর, বেড়ার ঘর এগুলোই আমাদের ছিল। আমাদের স্থাপত্যের আধুনিক ধারার মূল সূত্রপাত হয়েছে সংসদ ভবন থেকে। লুই আই কান একজন বিদেশি স্থপতি হয়েও আমাদের জলবায়ু, আমাদের ম্যাটেরিয়ালকে কনসিডার করেছেন। তিনি আমাদের এ আবহাওয়ার জন্য অত্যন্ত নতুন, রেজিলিয়ান, ডিউরেবল ও সাসটেইনেবল ম্যাটেরিয়াল উপহার দিয়ে গেছেন, যা আমরা এখন ব্যবহার করছি। সংসদ ভবনে খুব সহজ ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করা হয়েছে। এটির অনেক অ্যান্সিলারি স্ট্রাকচার আছে। যদি বলি একটা মালার কথা, তাহলে লকেট অর্থাৎ মূল ভবন নিরেট কংক্রিটের তৈরি। সেই সময়ে ওই ধরনের একটা স্থাপনা চিন্তা করা, নির্মাণ করা বা সেটা ধারণ করা বেশ কষ্টসাধ্য ছিল। ধরুন আমি অনেক কিছু করলাম কিন্তু যে গ্রাহক, গ্রাহক বলতে আমি এ জাতিকে বোঝাচ্ছি, আমাদের সেটাকে ধারণ করতে প্রথমদিকে কিছুটা কষ্ট হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যখন আমাদের ইন্টেলেকচুয়াল অ্যাবিলিটি বেড়েছে, আমরা স্বাধীন জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছি, তখন আমরা মনে করেছি, এ কংক্রিটের সংসদ ভবন আমাদের নতুন স্থাপত্যের সূচনা। পুনঃসূচনাও বলা যেতে পারে। আমি আগেই বলেছি, আমাদের তো আসলে সেরকমভাবে নগর স্থাপত্য ছিল না। এখান থেকেই সূচনা বা পুনঃসূচনা হয়েছে।

s-01

সংসদ ভবন

স্থপতি মাজহারুল ইসলাম এবং স্থপতি লুই আই কানের মাধ্যমেই আমাদের আধুনিক স্থাপত্যের সূচনা বা সূত্রপাত হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় আমরা এখনো কাজ করে যাচ্ছি। তবে মাঝে কিছুটা বিঘ্নিত হয়েছে। আগেই বলেছি, আমরা ছিলাম কৃষক জনগোষ্ঠী। আর ধনাঢ্য জনগোষ্ঠী ছিল হিন্দু। হিন্দুদের যে জমিদার বাড়ি ছিল সেগুলোর নকশা তারা বাইরে থেকে করে নিয়ে আসত। এরপর আমরা যখন বড়লোক হলাম তখন বিপদটা ঘটল। আশির দশকে এসে আমরা বিপদটা অনুভব করলাম। তখন নব্য বড়লোকেরা সংসদ ভবনকে পাশ কাটিয়ে নতুন ধারা তৈরি করার চেষ্টা করল। ভিক্টোরিয়ান স্টাইল। বড়লোকরা ভাবত আমিও জমিদারদের মতো একটা বাড়ি বানাব, যেখানে আমার গ্রামের লোকেরা এসে স্যান্ডেল খুলে ভেতরে প্রবেশ করবে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, নব্বইয়ের দিকে এসে এ ধারা উবে যেতে থাকল। আবার সেই পিওরিটিতে আমরা ফিরে আসতে থাকলাম। পিওরিটি বলতে বোঝাচ্ছি কসমেটিক ছাড়া। যেমন সংসদ ভবনে কোনো কসমেটিকের কাজ নেই। অর্থাৎ ওটা যে ম্যাটেরিয়াল দিয়ে তৈরি, সেটারই প্রতিফলন দিচ্ছে।
আমরা অনেকেই মনে করি আমাদের স্থাপত্যের মূল উৎস কী হবে। এটা নিয়ে অনেক দ্বন্দ্ব আছে। আমার মতে, আমাদের স্থাপত্যের উৎস হচ্ছে স্বচ্ছতা। আমি মানবিক অর্থে স্বচ্ছতার কথা বলছি, কাচের স্বচ্ছতা না। অর্থাৎ আমি যা, তা-ই। আমরা নব্য বড়লোকের কথা বলতে পারি। যেমন সিঙ্গাপুর। সিঙ্গাপুরের নব্য বড়লোকেরা ছিল মূলত জেলে-গোষ্ঠী। চায়নার নিন্মবর্ণের চাইনিজরা একসময় সিঙ্গাপুরে থাকত। এরপর মালয়েশিয়া যখন সিঙ্গাপুর থেকে আলাদা হয়ে গেল, তখন সিঙ্গাপুরের ওই চাইনিজরা টাই পরে ফিটফাট বাবু হয়ে গেল। আবার মালয়েশিয়াতে গেলে আপনি অরিজিনাল কিছু চাইনিজের দেখা পাবেন। তারা কিন্তু টি-শার্ট পরেই দিব্যি অফিস করছে। যারা মাটির থেকে তৈরি হয়, তারা কিন্তু ওইসব বেশভূষা প্রাধান্য দেয় না। বেশভূষা তারাই প্রাধান্য দেয়, যারা মেকি।

স্থাপত্যে মেকি বিষয়ে আমরা বিশ্বাস করি না। গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, মাজহারুল ইসলামবা সংসদ ভবন থেকে উৎসরিত বিষয়গুলোর ভালো জিনিসগুলো নিয়েই আজ আমরা স্থাপত্যচর্চা করছি। প্রত্যেক স্থপতি এখন কয়েকটি বিষয় নিয়ে খুব সচেতন। কারণ স্থাপত্যের তো অনেক ভাষা থাকে, যেমন ইন্টারন্যাশনাল স্টাইল, রিজিওনাল, ডি-কনস্ট্রাকডিভ ইজম ইত্যাদি থেকে বেছে আমরা কিন্তু আমাদের একটা নিরেট স্থাপত্যধারা বের করতে পেরেছি। যেখানে পাশ্চাত্যের সঙ্গে আমাদের ভাবধারা, আমাদেরর ভ্যালুজ, মূল্যবোধ ইত্যাদির সংমিশ্রণ হয়েছে। এর মধ্যে কিছু কিছু এক্সপেরিমেন্ট হচ্ছে, যেমন আমরা যারা শহরে কাজ করছি তারা এক ধরনের কাজ করছি, কেউ কেউ রি-সাইকেল ম্যাটেরিয়াল নিয়ে কাজ করছে। কেউ গ্রামীণভাবে কাজ করার চেষ্টা করছে। গ্রামীণ স্টাইল নিয়ে কাজ করা যেতেই পারে। তবে ভবন যদি ২০তলা হয়, সেখানে এ স্টাইল সম্ভব না। কারণ এত বড় ভবন বাঁশ, বেত কিংবা মাটি দিয়ে নির্মাণ করা সম্ভব না। মাটি দিয়ে রিসোর্ট করা যেতে পারে।

আমাদের স্থপতিরা এখন খুব ভালো ভালো কাজ করছে। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশ থেকেও পুরস্কার পাচ্ছে। আমি মনে করি, একটি দেশের আর্কিটেকচার-চর্চার যদি এক শতাংশকেও আপনি শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারেন, তাহলেই সেটাকে সার্থক বলা যায়। বর্তমানে আমরা সেই অবস্থাতেই আছি।
লুই আই কানকে মাস্টারপ্ল্যানের জন্য দেয়া হয়েছিল ২০০ একর জমি। কিন্তু তিনি কাজ করেছিলেন ৬০০ একর জমির ওপর। সত্যি বলতে কি, যেকোনো ভালো কাজ ধরে রাখাই কঠিন, যদি সামগ্রিক চাপ থাকে। আমাদের সবচেয়ে বড় চাপ হচ্ছে, আমদের জনসংখ্যার চাপ। এ চাপেই ঢাকা শহরের যেখানে একতলা, দুইতলা ভবন ছিল সেখানে বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে। প্রয়োজন থেকেই এটা উৎসরিত হচ্ছে। এত চাপের মধ্যেও আমরা আর্কিটেকচারকে জলাঞ্জলি দিচ্ছি না। যেমন সংসদ ভবনে অনেক পরিবর্তন এসেছে। আসলে নিরাপত্তার পরিপ্রেক্ষিত পরিবর্তন হয়েছে। সংসদ ভবনে যেন দেয়াল তুলে দেয়া না হয়, এজন্য আমরা স্থপতিরা নিষেধ করেছি। কিন্তু নিরাপত্তার কিছু অঙ্ক আছে। সে অঙ্কও আপনাকে বুঝতে হবে। কারণ একজন মানুষ যতটাই আবেগ দিয়ে তাড়িত হোক না কেন, মনে রাখতে হবে নিরাপত্তার অঙ্ক, সেটা কেবলই অঙ্ক। সেটা কবিতা নয়, একটা নিরেট বিজ্ঞান। সেই বিজ্ঞানে তাদের মনে হয়েছে তাদের সেটা ঢাকতে হবে। দেয়াল সবসময় দূরত্ব তৈরি করে। তাই আমরা আন্দোলন করে যতটা পারা যায় নিরেট না করে পারফোরেটেড করাতে পেরেছি। ভেতরেও অনেক পরিবর্তন হয়েছে। তবে আমাদের জন্য আশার কথা হচ্ছে, বর্তমান সরকার সংসদ ভবনকে আগের চেহারায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে। সেই অনুসারে কাজও শুরু হয়েছে। যেমন সংসদ ভবনের নির্মাণের অনেক বছর কেটে গেলেও তার ফার্মেও কিছু ফি বাকি ছিল, এ সরকার তার এক্সপার্ট টিম পাঠিয়ে ফি পরিশোধ করে সব ড্রইং নিয়ে এসেছে। সেই ড্রইং অনুসারেই কাজ হবে। সংসদ ভবনকে ফিরিয়ে নেয়া হবে তার অরিজিনাল চেহারায়। আর এ কাজ বাস্তবায়নের জন্য অনেক ভবন ভেঙে ফেলা হবে। জিয়াউর রহমানের কবর সরিয়ে ফেলা হবে। মনে রাখতে হবে, এটা একটা বিশ্ব ঐতিহ্য। ইউনেস্কোর মতো একটা প্রতিষ্ঠান যখন বুঝতে পেরেছে, এটা কেবল ঐতিহ্যই নয় বরং এটি থেকে অনেক কিছুই আহরণ করা সম্ভব, তখনই তারা এটাকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করে।

s-02

সংসদ ভবন

সংসদ ভবন কোনো মসজিদ বা মন্দির নয়। এটা এমন একটা জায়গা, যেখান থেকে বাঙালি জাতি পরিচালিত হয়। সেই হিসেবে এটা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং সৌভাগ্যবশত পৃথিবীর অন্যতম ভালো স্থাপত্য। কারণ স্থাপত্য হলো এমন যেন একে ব্যবহার করা যায়। পিরামিড বা তাজমহলকে স্থাপত্য বলা যাবে না, সেগুলো স্কাল্পচার। পিরামিডও একটা স্কাল্পচার কারণ সেখানে একজন মানুষকে কবর দেয়া হয়েছে। সেখানে ভেতরে প্রবেশ করা যায় না। বাইরে থেকে কেবল দেখতে হয়। আমার কাছে তাজমহলও তাই। তাজমহলের শৈল্পিক-মূল্য থাকতে পারে কিন্তু কোনো স্থাপত্য-মূল্য নেই।
যদি মাজহারুল ইসলাম প্রসঙ্গে বলি, তাহলে বলব তিনি মনে হয় স্থপতি হওয়ার জন্যই জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি নিয়েছেন, ব্যাচেলর ডিগ্রি নিয়েছেন। এরপর ইয়েলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আর্কিটেকচার ডিগ্রি শেষ করে দেশে ফিরে আসেন। আসলে তিনি না থাকলে হয়তো আমরা লুই আই কানকেও পেতাম না। কারণ প্রথমে তাকেই সংসদ ভবনের কাজ করার জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি তখন আলবার আল্টো এবং লিকরবুশিওর এই দুজনের নাম প্রপোজ করেন। দেশভাগের পর যখন পাঞ্জাবকে দুই ভাগ করা হলো, পাঞ্জাবের রাজধানী লাহোর পড়ে গেল পাকিস্তানের দিকে। এরপর চন্দ্রীগড়কে যখন নতুন করে রাজধানী করা হলো, তখন চন্দ্রীগড়ের রাজধানীর মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে লিকরবুশিওর ব্যস্ত ছিলেন। অন্যদিকে আলবার আল্টো ছিলেন অসুস্থ। তখন লুই আই কানের বয়স ছিল পঞ্চান্নর মতো। মাজহারুল ইসলামের স্থাপত্যও আমাদের জন্য অনুকরণীয়। কারণ তারা একই গোষ্ঠীর। মাজহারুল ইসলামের কাজের সঙ্গে লিকরবুশিওরের কাজগুলো মেলে। কিন্তু সেদিক থেকে অনেকটাই আলাদা লুই আই কানের এ কাজ অর্থাৎ আমাদের গর্বের সংসদ ভবন।

আবুল হোসেন আসাদ


গনগনে সূর্যটা ঠিক মাথার ওপরে। তপ্ত লাল বালিতে ঢাকা মরুভূমির বুক। থেমে থেমে যেন মরুভূমির লাল বালির বুক থেকে গরম ভাপ বেরোচ্ছে। তাই ধোঁয়াশার মতো আবরণে ঢাকা চারদিক। গরমে চোখের পাতা মেলা দায়। এরই মাঝে হঠাৎই বইছে লু হাওয়া। সূক্ষ্ ঝরঝরে লাল বালিতে ঢেকে যাচ্ছে চোখ-মুখ-শরীর। বাড়তি জ্বালা হয়ে তেড়ে আসে ভনভন করা মরুভূমির বড় বড় মাছি। এমনিতে বেজায় গরম, তার ওপর ভরদুপুর, এসেছি দেখতে ‘হারিয়ে যাওয়া শহর’ বা ‘আটলান্টিস অব দ্য স্যান্ডস’, যেটি রুবা আল খালি মরুভূমির বুকে। যেই শহরের নাম সেমেটিক ধর্ম বিশেষত ইহুদি, খ্রিস্টান ও মুসলিম ধর্মগ্রন্থগুলোতে ঘুরে-ফিরে এসেছে।
হারিয়ে যাওয়া শহরটি ‘উবার’ (UBAR), ওয়াবার (WUBAR) কিংবা ‘ইরাম’ (IRAM) নামে পরিচিত। মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কুরআনে আরবের হারিয়ে যাওয়া শহরটি ‘ইরাম’ নামে পাই। ইরাম শহরটি ওমানের দোফার প্রদেশে পড়েছে। ওমানের শেসর এলাকায় এ পরিত্যক্ত শহরের অবস্থান। রাজধানী মাস্কাট থেকে ইরাম বা উবার শহরের দূরত্ব ৯০০ কিলোমিটার। আর বন্দরনগরী সালালাহ থেকে এর দূরত্ব ১৭০ কিমি, উত্তরদিকে। যাওয়ার পথে মাঝে পড়ে মরু শহর তামরিদ। ‘ইরাম অব দ্য পিলার’ শহরটি ছিল সহস্র পিলারের এক সুরক্ষিত নগরী। উঁচু উঁচু পিলার দিয়ে কোনো শহর হতে পারে এটা তখন কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। সেই শহরটি ছিল তখনকার সবচেয়ে চাকচিক্যময় ও আধুনিক শহর। ধর্মগ্রন্থগুলো বলছে, সেই শহরের মতো শক্তিশালী বাড়ি-ঘর এর আগে কেউ কখনো দেখেনি বা নির্মাণ করেনি। সুরা আল ফজরের ৬, ৭ ও ৮ নম্বর আয়াতে ‘ইরাম’ শহরের কথা বলা হয়েছে। এখানে স্বয়ং আল্লাহ তার শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে ‘আদ’ বংশের শৌর্য-বীর্য সম্পর্কে বলেছেন। ইরাম শহরটি তৈরি হয়েছিল উঁচু উঁচু পিলার দিয়ে। এসব পিলারের এই সুরক্ষিত শহরটিতে বসবাস করত জ্ঞান-বিজ্ঞানে উন্নত ‘আদ’ জাতি। আদ সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা জোরদার করেছিল সুউচ্চ এই পিলার। ইরাম নগরীর কল্পিত ছবিই যেন সে কথা বলে। ইরামের সুউচ্চ পিলার আদ’দের নিরাপত্তা দিত বলে সেই উঁচু পিলারের পূজা করত তাদের কেউ কেউ। আর বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজা তো নিয়মিত ছিলই আদদের। আদ সম্প্রদায়কে সুপথে আনার জন্য নবী হুদ (আ.)-কে প্রেরণ করা হয়। তিনি আদ সম্প্রদায়কে দ্বীনের দাওয়াত দেন। কুরআন শরিফে সুরা হা-মীম সাজদাহ’র বিভিন্ন আয়াতের বরাতে এ কথা জানা যায়। কিন্তু আদ সম্প্রদায়ের অধিকাংশ লোক যুগের থেকে কয়েক কদম এগিয়ে থাকার গর্বে নবী হুদ (আ.)-কে তাচ্ছিল্যের সঙ্গে বিদায় করে। তাদের কেউ কেউ আবার নবীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় আমাদের চেয়ে বড় শক্তিধর এ পৃথিবীতে আর কে আছে?
ফলে প্রাথমিক ‘গজব’ হিসেবে উপর্যুপরি তিন বছর শহরে বৃষ্টি বন্ধ থাকে। তাদের শস্যক্ষেত শুকিয়ে বালিময় মরুভূমিতে পরিণত হয়। বাগবাগিচা জ্বলে-পুড়ে ছারখার হয়ে যায় এবং সবশেষে নেমে আসে ভয়াবহ ‘আজাব’।
সূরা হা-ক্বক্বাহ ৭-৮ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, ‘তাদের মানে আদ সম্প্রদায়ের ওপর প্রচন্ড ঝড়ের বাতাস বয়েছিল টানা সাত রাত ও আট দিন। হে মুহাম্মাদ! তুমি থাকলে দেখতে পেতে, তারা অসার খেজুরগাছের কান্ডের মতো মাটিতে পড়ে রয়েছে। তুমি এখন তাদের কোনো অস্তিত্ব দেখতে পাও কি?’
কুরআন শরিফ অনুসারে এভাবেই আদ সম্প্রদায় ও তাদের শহর ইরাম বা উবার বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং চিরতরে বালিতে চাপা পড়ে যায়। হারিয়ে যায় কালের গর্ভে। আর নবী হুদ (আ.)-এর কবর অটুট থাকে সালালাহর একটি পাহাড়ে। যেটি এখনো রয়ে গেছে যুগের পর যুগ, কালের করাল গ্রাস উপেক্ষা করে।
হাজার বছরের পুরনো শহর ইরাম, যা দীর্ঘকাল লুকিয়ে ছিল বিস্মৃতির অতলে, মরুভূমির বালির নিচে। তা অবশেষে ১৯৯২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে খুঁজে পাওয়া যায় ওমানের শিসর (SHISR) এলাকায়। ‘দ্য লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এটি আবিষ্কারের কথা। প্রত্নতত্ত্ববিদ নিকোলাস ক্লাপের উদ্যোগে প্রাচীন মানচিত্র ঘেঁটে এবং মার্কিন গবেষণাকেন্দ্র ‘নাসা’র স্যাটেলাইটের সাহায্যে খুঁজে পাওয়া যায় ‘রুবা-আল খালি’ মরুভূমির ১২ মিটার বালির নিচে লুকিয়ে থাকা ‘ইরাম’ বা ‘উবার’ শহরকে। কুরআনের হারিয়ে যাওয়া শহর ইরামের আবিষ্কার বিশ্ববাসীকে অবাক করে দেয়। ওমান সরকার খনন করে এই আবিষ্কারকে মানুষের সামনে হাজির করেছে। বর্তমানে ইরাম বা ওয়াবার আর্কিওলজিক্যাল সাইট ইউনেস্কো ঘোষিত একটি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট। তবে কিংবদন্তি হয়ে দাঁড়ায় ‘দ্য ইনসেন্স রোড’। প্রাচীন ধ্বংসাবশেষগুলো থেকে এ রাস্তাটির অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে এখানে।
কেউ কেউ বলেন, বাদশাহ শাদ্দাদ পৃথিবীর বুকে জান্নাত তৈরি করেছিলেন, যার নাম ছিল ‘ইরাম’ বা ‘আরাম’। সেই জান্নাত স্রষ্টার অভিশাপে বালির নিচে চিরতরে হারিয়ে গেছে। এটিই ছিল সেই জান্নাত। কারো কারো ধারণা, জান্নাতের এই প্রবেশদ্বারটি বিশাল এক পাথরচাপা পড়ে আছে। তবে অনেকেই মনে করেন বিশাল পাথরচাপা পড়া অংশটি হলো পানির কূপ। কারণ সহস্র পিলারের শহরটির গোড়াপত্তন করেছিল নূহ (আ.)-এর বংশধররা। মরুভূমির কাফেলাগুলোকে পানি সরবরাহ করে তারা ধনী হয়ে উঠেছিল। পানির সেই কূপটি এখন বিশাল এক পাথরচাপা পড়ে আছে। পাথরের একদিকে বর্তমানে সিঁড়ি তৈরি করা হয়েছে।
সিঁড়ি দিয়ে নিচের দিকে নামতে খুব ইচ্ছে হচ্ছিল আমার, ভরদুপুরে। নিচের দিকে নামছি আর বাতাসও কেমন যেন ধীরে ধীরে ভারী হচ্ছে। তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। শ্বাস নিতে বেশ কষ্ট হচ্ছে। তার ওপর অজানা-অচেনা অন্য ধরনের এক বিশ্রী গন্ধ নাকে এসে লাগল। যতই পাথর কেটে বানানো সিঁড়ি দিয়ে নিচের দিকে নামছি, ততই গন্ধের তীব্রতা বাড়ছে। ভেতরের দিকে ভীষণ ঘুটঘুটে অন্ধকার আর পোকামাকড়ের শব্দ। অক্সিজেনের ঘাটতিও প্রচুর। উৎকট গন্ধে মাথার মগজ যেন গুলিয়ে আসতে চাইল, বমি এসে গেল প্রায়। কোনোরকমে দৌড়ে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে এলাম।
দোফার পাহাড়ে এখনো কিছু আরব বেদুঈনের গোত্র আছে, যারা নিজেদের উবারের রাজার বংশধর হিসেবে দাবি করে এবং তারা আরবের সবচেয়ে প্রাচীন উচ্চারণে কথা বলে থাকে। তাছাড়া নবী হুদ (আ.)-এর কবর, পারিপার্শ্বিক প্রমাণাদি, প্রাপ্ত নিদর্শনাদি নিশ্চিত করে ‘রুবা আল খালি’ মরুভূমিতে খুঁজে পাওয়া এই প্রত্নতাত্ত্বিক শহরই উবার বা ইরাম।
একসময় জীবনের কোলাহলে মুখর ছিল যে শহরটি, জ্ঞান-বিজ্ঞানে ছিল উন্নত সেই শহর আজ মৃত। হারিয়ে গেছে চিরতরে। সেখানে পোকামাকড় ছাড়া জীবনের কোনো স্পন্দন নেই। ১২ মিটার বালির নিচে চাপা পড়ে আছে আরবের সেই সময়ের সবচেয়ে চাকচিক্যময় ও আধুনিক শহর। সহস্র পিলারের শহর আজ হাজার বছরের সুদূর অতীত। সেই অতীতের কথাগুলো যেন আজো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ইরামের ধ্বংসস্তূপের পাথর ও বালির পরতে পরতে।

 

খালিদ জামিল


ভবিষ্যতের শহর কেমন হতে পারে সেটা কল্পনা করতেও অন্যরকম অনুভূতি হয়। পানির নিচে বাবলের মধ্যে বাড়ি কিংবা এমন একটা শহর যেটা আদিগন্ত সাগরের ওপর ভাসছে, অথবা পাতায় ভরা গাছের মতো দেখতে কোনো ভবন যেকোনো কিছুই হতে পারে ভবিষ্যৎ-শহরের বৈশিষ্ট্য। তবে এসবের জন্য শিল্পী, স্থপতি কিংবা সেইসব সৃষ্টিশীলকে ধন্যবাদ দিতেই হবে, যারা এমন সব ভবিষ্যৎ-নগর গড়ে তোলার জন্য ভাবছেন। গার্ডেন ফরেস্ট কিংবা নিজস্ব জীবম-ল নিয়ে গড়ে ওঠা শহরের ধারণা নিয়ে তাদের কল্পনা কেবল ড্রইংবোর্ডের মধ্যে আটকে নেই। চলছে সেগুলোর বাস্তব রূপ দেয়ার পরিকল্পনা। বিস্তারিত জানাচ্ছেন খালিদ জামিল

 

১. সিস্ট্যান্ডিং ইনস্টিটিউটের ভাসমান শহরঃ
ধারণা করুন একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ শহর পানির ওপর ভাসছে। সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তিও উৎপাদিত হচ্ছে এখানেই। এমন কিছুই হতে যাচ্ছে সিস্ট্যান্ডিং ইনস্টিটিউটের ফ্লোটিং সিটি প্রজেক্টে। এটা কোনো কল্পনার মধ্যে আর সীমাবদ্ধ নেই। কীভাবে নির্মাণ করা যায়, তার জন্য শুরু হয়েছে আলোচনা। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২০ সালের মধ্যে পৃথিবীর প্রথম ভাসমান শহর বাস্তবে দেখতে পারবে মানুষ।

1_fi_seasteadinginstitutefloatingcities

২. সাব-বায়োস্ফিয়ার-২ঃ
শহরের জনসংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তাতে কেবল ভাসমান শহরের ধারণা মানুষকে নিশ্চিন্ত করতে পারে না। তাই আরও আধুনিক একটা আইডিয়া আছে ইংরেজ উদ্ভাবক ফিল পলির কাছে। পলি বলছেন, সাব-বায়োস্ফিয়ার-২ নামে এমন একটি স্বয়ংসম্পূর্র্ণ শহর তৈরি করা সম্ভব, যেটা ভালো আবহাওয়ার পানির ওপর ভেসে থাকবে। আর আবহাওয়া বিরূপ হলে বড় ঢেউ থেকে বাঁচতে পানির নিচে চলে যাবে, অনেকটা বর্তমানের সাবমেরিনের মতো।

2_fi_sub-biosphere2

৩. প্যারিস স্মার্ট সিটি ২০৫০ঃ

বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে পরিচিত শহরগুলো ২০৫০ সালে কেমন হবে সেটা ধারণা করা অনেকের কাছেই মজার খেলা। আর শহরটা যদি হয় প্যারিস তাহলে তো কথাই নেই। বেলজিয়ান স্থপতি ক্যালেবাউট ঠিক এমন কিছুই করার চেষ্টা করেছেন। তিনি অবশ্য প্রত্যাশা করেছেন, প্যারিস সে-সময় সবুজ শহরে পরিণত হবে। নগরজুড়ে থাকবে ধোঁয়া আর কুয়াশা দূর করার জন্য বিশেষ টাওয়ার। ভবনগুলো এমনভাবে সাজানো, যাতে দূষণ রোধ করা যায়। সেগুলোর শরীরজুড়ে ঘটবে গাছের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া। লম্ব আকৃতির বাগানগুলোর নাম হতে পারে ‘ফার্মসক্র্যাপার্স’। সব মিলিয়ে একটা সবুজ শহর।

3_fi_parissmartcity2050
৪. বেইজিং ২০৫০ঃ
২০৫০ সালের বেইজিং কেমন হবে সেটা কল্পনা করার চেষ্টা করেছে স্থাপত্য-ফার্ম ম্যাড আর্কিটেক্টস। যদিও চীনের এই রাজধানী ক্রমেই দূষণের পরিমাণ বাড়িয়েই চলছে, তবুও ম্যাড আর্কিটেক্টস আশা করে, চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে এ শহরটাও সবুজ হয়ে উঠবে। বেইজিংয়ের চলমান উন্নয়নের ধারণা বদলে এ কল্পনাকে বাস্তব করা কঠিন, কিন্তু একটা চেষ্টা তো করাই যায়।

4_fi_beijing2050

৫. গার্ডেন ব্রিজ, লন্ডনঃ
ভবিষ্যৎ নগর-পরিকল্পনায় সবুজ গুরুত্ব পাচ্ছে এটা নিঃসন্দেহে একটা ইতিবাচক ব্যাপার। লন্ডনের গার্ডেন ব্রিজের ধারণাও ভিন্ন কিছু নয়। স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্রমেই প্রসারিত হতে পারে এমন পায়ে চলার পথ থাকবে নানা ধরনের গাছ-গাছালিতে ছাওয়া। গার্ডেন ব্রিজে গাছ লাগানোর অনুমতি আগেই নেয়া হয়েছে। চলতি বছরই এটা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার পরিকল্পনা আছে।

 

৬. ওয়েসিসঃ
কখনো গাছের বাড়িতে বাস করার কথা চিন্তা করেছেন? ঠিক এভাবেই সাজানো হয়েছে ওয়েসিস নামের শহরের ধারণা। ভবিষ্যতের নগর-পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে প্রথম সারিতেই রাখতে হবে এটাকে। নগরের এ ধারণায় এটাকে পরিচালনার পদ্ধতিও নেয়া হয়েছে গাছের কাছ থেকে। গাছের অক্সিজেন উৎপাদন, পরিবেশ রক্ষায় এটার অবদান এবং নিজের খাদ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে অনুসরণ করা হবে এ শহরে। সাজানো হবে গাছের মতো সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবেই।

6_fi_oas1s

৭. প্যারিস অব দ্য ফিউচারঃ
পল চ্যাডিসন নামের একজন ইলাস্ট্রেটর নিজের কল্পনা থেকে ভবিষ্যৎ-প্যারিসের এ ছবি এঁকেছেন। কেবল চেরি বিস্ত্র দেখেই পুরনো প্যারিসকে চেনা যায়। এছাড়া বাকি সব উন্নত প্রযুক্তিতে গড়া বাসভবন আর শিল্পাঞ্চল; যেটার সঙ্গে এখনকার প্যারিসের কোনো মিল নেই। ছবিটা মূলত তৈরি করা হয়েছিল ডোন্টনড এন্টারটেইনমেন্টের ভিডিও গেম ‘রিমেম্বার মি’র জন্য। তাই খুব শিগগিরই প্যারিসের এমন চেহারা দেখার সুযোগ নেই। এটা জেনে অনেকেই হয়তো হাঁফ ছেড়ে বাঁচবেন, কারণ প্যারিসের বর্তমান যে রূপ তা দেখতেই এ শহরে বারোমাস পর্যটকের ভিড় লেগেই থাকে।

7_fi_parisofthefuture

৮. ভাসমান শহরঃ
এ প্রজেক্টটাকে সিস্ট্যান্ডিং ইনস্টিটিউটের সেই কল্পিত ভাসমান শহরের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা চলবে না। এটা চীনা ফার্ম ডিজাইন অফিসের একটি প্রকল্প। এটাও আপাতত কল্পিত হলেও তা বাস্তবে রূপ দিতে মাঠে নেমে পড়েছে ফার্মটি। সাবমেরিন ট্রানজিট থেকে শুরু করে আন্ডারওয়াটার এন্টারটেইনমেন্ট সেন্টার সবকিছুই থাকবে। ভবিষ্যতের এ শহর দেখে অনেকেই যেমন হৃদস্পন্দন মিস করতে পারেন, একই সঙ্গে এর নির্মাণকাজ যে এখনো শুরু করা যায়নি সেটা জেনে মনটা চাইলে কিঞ্চিৎ খারাপও করতে পারেন আপনি!

8_fi_floatingcity

৯. ভার্টিক্যাল ফরেস্টঃ
এটা অন্যগুলোর মতো শিল্পীর কল্পনায় আঁকা কিছু নয়, একেবারেই বাস্তব। তবে স্বীকার করতেই হবে, এটা ‘এ’ ক্যাটাগরির ডিজাইন। নকশাটা করেছেন মিলানের আর্কিটেকচারাল স্টুডিও স্টেফানো বোয়েরি আর্কিটেট্টি। এ যাবতকালে যে ক’টি সুপার-গ্রিন প্রজেক্টের বাস্তব রূপ দেয়া গেছে, সেগুলোর মধ্যে এটাকে বলা হচ্ছে সেরা। এ প্রজেক্টকে আমরা অনুপ্রেরণা হিসেবে নিতে পারি। আর সেটা যদি সত্যিই আমরা করতে পারি, তাহলে সবুজ নগরের অন্য প্রজেক্টগুলোও আমরা সহজেই বাস্তবায়ন করতে পারব।

9_fi_verticalforest

সাবরিনা মিলি


উত্তরার ৯ নম্বর রোডের ১০ নম্বর সেক্টরে ২৬ কাঠা জমির ওপর নির্মিত হচ্ছে টোকিও সিটি। প্রকল্পটির জেনারেল ম্যানেজার মো. শাহাদাত হোসাইন কারিকাকে বলেন, ‘এটি একটি কনডোমনিয়াম প্রজেক্ট। আমরা ঢাকা শহরের মানুষের ব্যস্ত জীবন এবং যানজটের কথা মাথায় রেখেই এই প্রজেক্টের কাজ শুরু করি। এখানে এক ছাদের নিচে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা। প্রকল্পটিতে কাজ হবে তিনটি ধাপে।’
টোকিও সিটি প্রকল্পের আওতায় রয়েছে তিনটি বহুতল ভবন। প্রথমটি ১২ কাঠা জায়গার ওপর ১০ তলা ভবন। এই ভবনটির প্রতিটি ফ্লোরে রয়েছে ১,৫০০ বর্গফুটের চারটি করে ইউনিট। বেজমেন্ট ও গ্রাউন্ড ফ্লোরে রয়েছে পার্কিয়ের ব্যবস্থা। এছাড়া গ্রাউন্ড ফ্লোরে মসজিদ, টপ ফ্লোরে বারবিকিউ, কমিউনিটি স্পেস এবং সুইমিং পুলের ব্যবস্থাও রয়েছে।
দ্বিতীয়টি ১০ কাঠা জায়গার ওপর ১০ তলা ভবন। এই ভবনের প্রতিটি ফ্লোরে ১,৩৫০ বর্গফুটের চারটি করে ইউনিট রয়েছে। বেজমেন্ট ও গ্রাউন্ড ফ্লোরে রয়েছে পার্কিং-ব্যবস্থা। এছাড়া টপ ফ্লোরে রয়েছে বারবিকিউ, কমিউনিটি স্পেস এবং সুইমিং পুলের ব্যবস্থা।
তৃতীয়টি চার কাঠা জায়গার ওপর আটতলা ভবন। এই ভবনের প্রতিটি ফ্লোরে ৯৫০ বর্গফুটের দুটি করে ইউনিট রয়েছে। গ্রাউন্ড ফ্লোরে আছে পার্কিং-ব্যবস্থা। এ ছাড়াও শিশুদের খেলাধুলার জন্য রাখা হয়েছে পর্যাপ্ত জায়গা।

যোগাযোগ : মোহাম্মদ শাহাদাত হোসাইন, জেনারেল ম্যানেজার

টোকিও ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড।

মোবাইল : ০১৬১৯-৪৫৬৪৫৬, ০১৭০৭-২০২৩০৩

রুমানা ইসলাম, স্থপতি ও সঙ্গীতশিল্পী


গান তার প্রাণের খোরাক মেটায়। স্থাপত্যবিদ্যা তার পেশা, দায়িত্ববোধের জায়গা। নিজের প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কাজ করে চলেছেন ল্যাব এইড প্রোপার্টিজ লিমিটেডের সঙ্গে। স্থাপত্য ও সঙ্গীতচর্চা নিয়ে কথা বলেছেন কারিকার সঙ্গে। সাক্ষাৎকারঃ সাবরিনা মিলি

স্থাপত্য না সঙ্গীত- কোনটিকে বেশি উপভোগ করেন?
দুটোই আমার প্রাণ। গানের প্রতি রয়েছে আত্মার অসীম ভালোবাসা এবং স্থাপত্য আমার পেশা, রোজগারের জায়গা। যেটির প্রতি আছে অগাধ সম্মান ও দায়িত্ববোধ।

আপনার স্থাপত্য-প্রতিষ্ঠানের শুরুটা কেমন ছিল?
১৯৮৯ সালে ‘বসতি কল্প’ নামে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। আমি ও আমার স্বামী স্থপতি আসফারুল ইসলামÑদুজনে এটি শুরু করি। যদিও বেশ কিছুদিন দেশের বাইরে ছিলাম বলে তেমন কাজ করার সুযোগ ছিল না। তবে ১৯৯১ সালে দেশে ফিরে বসতি কল্প ফার্মের হয়ে পুরোদমে কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ি।
কাজের প্রতি ভালোবাসা থেকেই নিজ প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ২০০৮ সালে ল্যাব এইডের সঙ্গেও যুক্ত হই। ল্যাব এইড বহুমুখী কাজ করে থাকে। ফলে আমিও হেলথ কেয়ার, হসপিটাল, ডায়াগনস্টিক, রিয়েল এস্টেট, ইউনিভার্সিটি এবং ফার্মাসিউটিক্যাল এসব সেক্টরেই কাজ করছি। ফলে আমার কাজটি যেমন বৈচিত্র্যময়, তেমনি চ্যালেঞ্জিংও।
এছাড়া এখানে যুক্ত থাকার কারণে কার্ডিয়াক হাসপাতাল, ক্যান্সার হাসপাতাল ইত্যাদি হাসপাতালের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিদেশি পারদর্শী পরামর্শকসহ দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পরামর্শকদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। তৈরী হয়েছে এই কাজের প্রতি প্রাণের টান।

19239756_2382953691719554_492040430_n আপনার উল্লেখযোগ্য কাজের বিষয়ে জানতে চাই?
উল্লেখ করার মত যদি বলতে হয় তাহলে বলব, ল্যাব এইডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বাংলোর কথা। বাংলোটি আশুলিয়ায় অবস্থিত। এটির ডিজাইনের সময় আমি দেশীয় ম্যাটেরিয়ালকেই প্রাধান্য দিয়েছি। ম্যাটেরিয়াল হিসেবে সিরামিক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিক, সেগুন কাঠ, মার্বেল ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়েছে। এই ডিজাইনে আমি বাংলোর সঙ্গে সবুজের মিশেলে নান্দনিকতা এনেছি। তাছাড়া গুলশানে কয়েকটি অ্যাপার্টমেন্টের ডিজাইন আমি করেছি। ওগুলোও আমার বেশ পছন্দের।

স্থপতি হয়ে ওঠার পেছনে অনুপ্রেরণা কার?
আমার নিজের ইচ্ছাটাই প্রধান ছিল। ছোটবেলায় ভীষণ ইচ্ছা ছিল সঙ্গীতকে পেশা হিসেবে বেছে নেব। কিন্তু বাবার কড়া নির্দেশনা ছিল সঙ্গীত যেন রুজি-রোজগারের জায়গা না হয়। বাবার নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছি। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়ে স্থাপত্য বিভাগে পড়া, পরবর্তীতে স্থপতি হয়ে ওঠা এবং আজ পর্যন্ত কাজ করে যাওয়া।

 তরুণ স্থপতিদের উদ্দেশে আপনার পরামর্শ কী?
তাদের অবশ্যই পুরোনো ঐতিহ্যবাহী কাজগুলো সম্পর্কে জানার চেষ্টা থাকতে হবে। সেই সঙ্গে স্থাপত্যের ইতিহাস সম্পর্কেও ভালো ধারণা রাখতে হবে, যা আমাদের ঐতিহ্যকে ধরে রেখে তাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে। এ সময়ের তরুণ স্থপতিরা ভালো কাজ করছে, তারপরও তাদের অবশ্যই দেশ-বিদেশের প্রতিভাবান স্থাপত্যবিদদের কাজগুলো বা নতুন আবিষ্কৃত কাজের সম্পর্কে ধারণা থাকা উচিত।
প্রযুক্তি অনেক এগিয়ে গেছে। প্রযুক্তির সুফল তাদের নিতে হবে। আমরা আগে হাতে স্কেচ করতাম, ড্রাফট করতাম। এখন সব কম্পিউটারে করা যায়। তাই পুরনো কাজগুলোকে মাথায় রেখে নতুন চিন্তাধারা প্রতিষ্ঠা করে কাজ করে যেতে হবে।
তবে সঙ্গীত থেকে শুরু করে, স্থপতি, ডাক্তার, প্রকৌশলী সব পেশায়ই নৈতিকতা, আদর্শ ঠিক থাকা প্রয়োজন। শুধু টাকার পেছনে না ছুটে কাজ করে নিজের জায়গা তৈরি করাই আমার কাছে মনে হয় খুবই জরুরি।

আপনার বাবা প্রখ্যাত গীতিকার ও সুরকার খান আতাউর রহমান। আপনার এ অবস্থানের পেছনে বাবার ভূমিকা কেমন?
এটা আমার একটা সৌভাগ্য  যে আমি এমন একটা পরিবারে জন্মগ্রহন করেছি। শুধু আমার বাবাই নয়, আমার মা মাহবুবা রহমান একজন কন্ঠশিল্পী। বাংলাদেশের প্রথম সবাক চলচিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এর গায়িকা ছিলেন তিনি। সুতরাং সঙ্গীত পরিবারেই জন্ম ও বেড়ে ওঠা নিঃসন্দেহে আমার জীবনকে আলোকিত করেছে।

নতুন শিল্পীদের প্রতি আপনার কী বলার আছে?
একটা বিষয় সবসময় মনে রাখতে হবে, সঙ্গীত গুরুমুখী বিদ্যা। নিজেকে সবসময় নমনীয় রাখতে হবে। সুর, সঙ্গীত সম্পর্কে চর্চা ও জ্ঞান একজন সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে থাকতেই হবে। পাশাপাশি আবেগ, অনুভূতি দুটোই সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ছোট্ট একটি ঘটনা মনে পড়ে যায়। আমি টেলিভিশনের অডিশনের জন্য ‘তোমার আগুনে পোড়ানো দুটি চোখে’ গানটি গেয়েছিলাম। এটি বাবার লেখা এবং সুর করা। বাবা আমাকে বলেছিলেন, মা, এই গানটা তুই গা তো, শুনি। আমি গানটি গাইলাম। বাবা বললেন, মারছে! গলায় আরও আবেগ আনতে হবে। আরও বললেন, গান গাওয়ার প্রধান হচ্ছে আবেগ। মনে কর এটা একটা গল্প, যা চোখে ভাসবে। গানের সুর-তাল তো থাকবেই, তা না হলে গান হবে না। কিন্তু আবেগটাও থাকতে হবে। আমরা যেটা বলি ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়। ঠিক তেমনি আবেগ হচ্ছে ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়। তা থাকতে হবে। তাহলেই গানটা উপরে উঠে আসবে। এটা যেমন আত্মতৃপ্তি হবে ঠিক তেমনি মানুষের কানে এবং হৃদয়ে গিয়ে লাগবে।

খালিদ জামিল


নিউইয়র্কের মেয়র মাইকেল ব্লমবার্গ ২০১৩ সালে একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন। সেটা ছিল মূলত সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতার ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধি থেকে শহরকে বাঁচানো। মোট সাড়ে ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রকল্প, যেটা বাস্তবায়ন করা হবে কয়েক যুগ ধরে। মেয়রের বিশ্বাস, এটা তার শহরকে বড় ঝড় আর বন্যা থেকে বাঁচাবে।
প্রথমত জলবায়ুর পরিবর্তন-প্রক্রিয়া প্রতিরোধ করার সময় পার হয়ে গেছে। যে কারণে নিজেদের পরিবেশগত বিপর্যয়ের হাত থেকে বাঁচাতে ব্যয়বহুল পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হচ্ছে। দ্বিতীয়ত নিউইয়র্কের মতো অর্থনৈতিকভাবে উন্নত নয় এমন অনেক শহর রয়েছে যেগুলো চরম পরিবেশগত ঝুঁকিতে। সেগুলোকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচানো তাই বেশ কঠিন, অনেক ক্ষেত্রে অসম্ভব।
ব্রুকলিন নেভি ইয়ার্ডে এক বক্তৃতায় মেয়র ব্লমবার্গ জানান, চলতি শতকের মাঝামাঝি সাগরে এমন সব ঢেউ সৃষ্টি হবে যেগুলোর উচ্চতা আজকেরগুলোর চেয়ে দুই ফিট বেশি। ফেডারেল এমারজেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির তৈরি নতুন ম্যাপে দেখা যায়, সেই ঢেউয়ের কারণে নিউইয়র্কের চার ভাগের এক ভাগ, যেখানে প্রায় ৮ লাখ মানুষ বর্তমানে বাস করে, পানির নিচে হারিয়ে যাবে।
এখনকার তুলনায় অনেক বড় ঢেউ সাগরের পাড়ে আছড়ে পড়বে কোনো ঝড়ের প্রভাব ছাড়াই। এই রূপ ধারণ থেকে পরিবেশকে আটাকানোর আর কোনো উপায় নেই। ব্লমবার্গের মতে কিন্তু আমরা আমাদের জলভাগকে বর্জন করব না, করতে পারবও না। তার সাড়ে ১৯ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্পে খরচের তালিকা অনেকটা সিডনি রক্ষার পরিকল্পনার মতোই। সেখানে আছে স্থায়ী বাঁধ, বালিয়াড়ি নির্মাণ, ভ্রাম্যমান ঝড়প্রতিহতকরণ-ব্যবস্থা ও আরও অনেক ধরনের পরিবেশ বিপর্যয় থেকে রক্ষার উপাদান। ম্যানহাটানের উপকূলে যারা বাস করবেন তারা ইদানিং সাগর ও বসতির মাঝখানে ডাচ ধাচের প্রতিরক্ষাবাঁধ লক্ষ করছেন।
‘এটা অনেক বড় পরিকল্পনা। এর মাধ্যমে সিডনি বন্যার ধ্বংসলীলা থেকে বাঁচবে। তবে এদিক থেকে নিউইয়র্ক একটু বেশিই ভাগ্যবান। সিডনি কিংবা আরও অনেক শহরের মতো এমন ব-দ্বীপ আকৃতির নয় আমেরিকার এই শহরটি। এটা সাগরের পানির উচ্চতার চেয়ে বেশ ওপরে এবং শক্ত-পোক্ত ভূমির ওপর দাঁড়িয়ে।’ বলছিলেন ডাচ ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্ম আর্কেডিসের নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়েট দিয়েকে। প্রায় প্রতি মহাদেশেই বন্যানিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। পিয়েটের মতে, নিউইয়র্কের তুলনায় পৃথিবীর অন্যান্য অনেক শহর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে কয়েক গুন বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

800px-Karnaphuli_River_at_night_(01)
অনাকাঙ্খিত ঢেউ পরিবেশ বিজ্ঞানিরা জানেন না সামনের যুগে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ঠিক কতখানি বাড়ছে। বছর পাঁচেক আগে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওসেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, মানুষ খুব বেশি ভাগ্যবান হলে ২১০০ সালে সাগরপৃষ্ঠের উচ্চতা ৬.৬ ফিট বৃদ্ধি পাবে। অর্থাৎ এর চেয়ে বেশি হওয়ার সম্ভবনাই বেশি।
এরও কয়েক বছর আগে অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওইসিডি) জানায়, পৃথিবীর বিভিন্ন শহরের প্রায় ৪০ মিলিয়ন মানুষ ও ৩ ট্রিলিয়ন মূল্যমানের সম্পদ উপকূলীয় বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে। সংস্থাটি বলছে, ২০৭০ সালে মানুষের সংখ্যা বেড়ে ১৫০ মিলিয়ন আর সম্পদের মূল্যমান বেড়ে ৩৫ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়াবে। এই হিসেব করা হয়েছে সাগরের উচ্চতা মাত্র ২০ ইঞ্চি বা আধা মিটার বাড়বে ধরে নিয়ে।
আমেরিকার অন্যান্য শহরের তুলনায় নিউইয়র্ক এসব বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশটির নর্থ ক্যারোলিনা রাজ্য তো ব্যাপারটাকে একেবারেই এড়িয়ে গেছে। তাদের সংসদে উপকূলীয় এলাকাগুলো ঘিরে নেয়া পরিকল্পনার ক্ষেত্রে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিকে আমলেই নেয়া হয়নি।
অবশ্য নিউইয়র্ক যে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সেটা সব শহরের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না। যেমন ওইসিডির পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে ঝুঁকিতে থাকা অঞ্চলের তালিকায় ওপরের দিকে আছে মিয়ামি। এখানকার ভূমিরূপ হালকা চুনাপাথরে তৈরি। যে কারণে তাদের যত বড় বাঁধই তৈরি করা হোক-না কেন, সাগরের পানি তা দিয়ে আটকানো সম্ভব হবে না।
এরই মধ্যে ফ্লোরিডার মাটির নীচের পানির স্তর বিপন্ন হয়ে পড়েছে। চাঁদ ও সূর্যের অবস্থানের কারণে যখন ভরা জোয়ার আসে তখন সেই স্তরও অনেক ওপরের দিকে উঠে পড়ে। অনেক সময় মাটির ওপরেও চলে আসে ভূগর্ভস্থ পানি। ভবিষ্যতে এটা আরও ভয়ঙ্কর রূপ নেবে, যে কারণে পানির নিচে চলে যাবে ফ্লোরিডার একটি বড় অংশ।
এসব কারণে এই অঞ্চলের কোনো কোনো জায়গায় বাঁধ নির্মাণ সম্ভব হলেও সেগুলো শহরকে বাঁচাতে পারবে না। হারিকেন ক্যাটরিনার পর নিউ অরল্যান্সে কয়েকটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। লুইজিয়ানার জন্য ব্যয় করা হচ্ছে ৫০ বিলিয়ন ডলার। এই টাকা খরচ করা হচ্ছে সেখানকার ক্রমশ হারিয়ে যেতে বসা উপকূল রক্ষার জন্য। অবশ্য অনেক বিশেষজ্ঞের ধারণা, টাকাটা যতই ঠিকঠাকভাবে ব্যয় করা হোক, সাগরের আগ্রাসন থেকে এইসব উপকূলীয় অঞ্চল বাঁচানো যাবে না।
ডিউক ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস অধ্যাপক ও ‘দ্য রাইসিং সি’ বইয়ের লেখক অরিন পিলকে বলেন, ‘মানুষ যতই আত্মবিশ্বাসী হোক-না কেন, এই মিসিসিপি অববাহিকাকে বাঁচানো সম্ভব নয়। আমাদের বরং পরিকল্পনা করতে হবে, এইসব এলাকা ছেড়ে আমরা কীভাবে পালিয়ে বাঁচতে পারব।’

এশিয়ার শহরগুলো সবচেয়ে ঝুঁকিতে
দুঃখজনক হলেও সত্য, সাগরের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলাফল ভোগকারী শহরের মধ্যে পৃথিবীর সবচেয়ে দরিদ্র ও ঘবসতিপূর্ণ শহরগুলোই বেশি। এর কারণ দুটি। একটি আবার বেশ অবাক করার মতো। সাগরের পানির উচ্চতা বাড়ছে, কারণ মেরু অঞ্চলের বরফ গলছে। সেই সঙ্গে এর উষ্ণতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বরফ গলে পানি হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু এই পানি সমানভাবে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে না। আমরা জানি, মূলত অ্যান্টার্টিকা ও গ্রিনল্যান্ডের বরফ গলছে। অর্থাৎ এই অঞ্চল প্রতিনিয়ত ছোট হচ্ছে। যে কারণে এখানকার মহাকর্ষীয় বলও কমে আসছে। ফলে পুরো পৃথিবী যেখানে সাগরের উচ্চতা বাড়ার কারণে চিন্তিত সেখানে এই অ্যান্টার্টিকা, গ্রিনল্যান্ড কিংবা আইসল্যান্ড অঞ্চলে সাগরপৃষ্ঠের উচ্চতা কমে যাচ্ছে। পানি চলে যাচ্ছে ক্রান্তীয় অঞ্চলের দিকে। আর এ কারণেই বেশি হুমকির মধ্যে পড়ে যাচ্ছে ভারত মহাসাগর ও পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের এমন কিছু শহর যেগুলো নিজেদের উন্নত দেশে পরিণত করতে লড়ে যাচ্ছে।
ব্যাপারটা ঘটছে কেবল এই অঞ্চলের মহাকর্ষ বল শক্ত হওয়ার কারণে নয়, এখানকার দেশগুলো বিভিন্ন নদী অববাহিকায় অবস্থান করছে। নদীর অবস্থান এই অঞ্চলকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। কলকাতা, ভারত; হো চি মিন সিটি, ভিয়েতনাম; ঢাকা, বাংলাদেশসহ সব ব-দ্বীপ আকৃতির শহর অনেক বেশি ঝুঁকিতে। ওইসিডির ঝুঁকিপূর্ণ শহরের তালিকায় এই দেশগুলো শীর্ষে অবস্থান করছে। দুঃখজনক ব্যাপার হলো, এগুলোই পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শহর যা সাগরের নিচে চলে যেতে পারে ২০৭০ সালের মধ্যেই।
তিন ফিটের মতো সাগরের উচ্চতা বাড়বে ২১০০ সালের মধ্যে, যে কারণে বাংলাদেশের বেশিরভাগ অংশ জনবসতিহীন হয়ে যাবে। ইন্টারগভর্মেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ’র তথ্য অনুসারে, ২০৫০ সালের মধ্যেই এই সাগরের উচ্চতার বৃদ্ধির কারণে ২০-৩০ মিলিয়ন শরণার্থী তৈরি করবে। তারা কোথায় যাবে? আমস্টারডামের পরিবেশ-গবেষক জেরোয়েন আর্টস বলছেন, ‘বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এর প্রভাব হবে ভয়াবহ।’ তিনি যোগ করেন, ‘আমরা কেবল একটা শহরের কথা বলছি না। পুরো জনবসতিই এর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
ওইসিডির ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা ২০ নম্বরে চলে এসেছে। কিন্তু ১৪ মিলিয়ন মানুষের শহর কলকাতা ২০৭০ সালের মধ্যেই পানির নিচে চলে যেতে পারে। সেই সময় আজকের আধা মিলিয়ন মানুষের জাকার্তার জনসংখ্যা ২.২ মিলিয়ন হবে। পিয়েট বলছেন, এই পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে কেবল প্রযুক্তির উন্নয়ন নয়, সংস্কৃতিতেও আনতে হবে পরিবর্তন। তিনি বলেন, ‘আমরা ডাচরা এটা করছি ৫০০ বছর ধরে। আজকে আমাদের যে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন সেটা গড়ে উঠেছে রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনার ওপর ভিত্তি করে। অনেকে জানতে চান, প্রযুক্তির এই ডাচ মডেল অন্য দেশে রপ্তানি করা যাবে কি না। আমি বলব, সেটা সম্ভব নয়, কারণ তা করতে গেলে ডাচদের মতো প্রশাসন আগে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

কারিকা ডেক্স


ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় ইজিবিল্ড নিয়ে এসেছে একই ছাদের নিচে নির্মাণ-সামগ্রীর সকল পণ্যের মেলা। মেলার ৮ নম্বর জেনারেল প্যাভিলিয়নে প্রতিষ্ঠানটি টেকসই ও উন্নতমানের তিন হাজার পণ্য প্রদর্শন করছে। ক্রেতা আকর্ষণ করতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ছাড়। পণ্যভেদে রয়েছে ৫ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়। বাথটাব কিনলে সিরামিক বেসিন ও কমোড ফ্রি, গ্যাস স্টোভ কিনলে নাইফ শার্পনার ফ্রি এরকম নানা ধরনের অফার রয়েছে তাদের। ইজিবিল্ডের প্যাভিলিয়নে পানি ও গ্যাস সরবরাহ স্যানিটারি, বৈদ্যুতিক, কিচেন, নিরাপত্তা সরঞ্জাম, নির্মাণ ও অন্যান্য এমন সাতটি ক্যাটাগরিতে পণ্যগুলো প্রদর্শিত হচ্ছে। এখান থেকে ক্রেতারা পণ্য ক্রয়ের সুবিধার পাশাপাশি সুদক্ষ প্রকৌশলীর কাছ থেকে বাড়ি নির্মাণ-বিষয়ক প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা পাচ্ছেন। এছাড়া পাঁচ হাজার টাকার পণ্য কিনলেই রয়েছে ফ্রি হোম ডেলিভারির সুবিধা।
বর্তমানে রাজধানীর রামপুরা, বাড্ডা, মিরপুর, যাত্রাবাড়ি, উত্তরা ও সাভার এবং ঢাকার বাইরে কুমিল্লা, বগুড়া ও রংপুরে ইজিবিল্ডের শো-রুম রয়েছে। শিগগিরই প্রতিষ্ঠানটি চট্রগ্রামসহ দেশের কয়েকটি জেলায় শো-রুম চালু করতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

খালিদ জামিল


প্যারিসের কেন্দ্রে প্রচুর পরিমাণে খালি জায়গা। সারা পৃথিবী থেকে আসা লাখো মানুষ আসেন এখানে। খালি জায়গাগুলোতে জড়ো হয়ে উপভোগ করেন ‘আন্তর্জাতিক সংস্কৃতি’র এই রাজধানীকে। অবশ্য এই শহরেই যে প্রাচীন রাজাদের প্রাসাদের নানা স্মৃতিবিজড়িত স্থান রয়েছে সেদিকে কারো তেমন নজর পড়তো না।
কিন্তু চীনা-আমেরিকান স্থপতি আই এম পেই একটু অন্যভাবে ভাবতে শুরু করলেন। আশির দশকে ল্যুভরকে সাজিয়ে তুললেন নতুন করে। প্যারিসের ইতিহাসের যে অংশগুলোর ওপর মানুষের নজর পড়ল না, সেগুলোর গুরুত্ব তাতে অনেক গুণ বেড়ে যায়। যেমন সম্রাটদের বাসস্থান টুইলেরিয়েস প্যালেসটি নির্মিত হয়েছিল ল্যুভর কমপ্লেক্সের পশ্চিম পাশে। এখন এটা ছাড়া গোটা ব্যবস্থাপনাকেই ভারসাম্যহীন মনে হবে।
কিছুক্ষণের জন্য মনে করুন এটা ১৮৭০ সাল। আপনি দাঁড়িয়ে আছেন টুইলেরিয়েসের দরজার সামনে। সেখান থেকে স্বাভাবিকভাবে অস্তগামী সূর্যের দিকে তাকালেই আপনার নজরে আসবে প্রাসাদের বাগান আর প্যালেস দ্য লা কনকর্ড। একই সঙ্গে আছে অ্যাভিনিউ দ্য ক্যাম্প এলিসিস। সব মিলিয়ে একীভূত হয়ে থাকা প্যারিসের জ্বলজ্বলে এক ইতিহাস। যারা ধ্রুপদি বিষয়গুলোতে আগ্রহী তাদের কাছে এটা পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকা উচিত। জ্যামিতির জটিল ব্যবহারও সবাইকে মুগ্ধ করার মতো।
অনেকেই বলেন, স্থাপত্যবিদ্যা মানে জমাটবাধা সঙ্গীত। প্যারিসে আপনার চোখে পড়বে এমন ছন্দময় স্থাপত্য, যেগুলো দেখে মনে হতে পারে জমাটবাধা কোনো ধ্রুপদি সুর। তবে আলাদাভাবে টুইলেরিসের দিকে খেয়াল করলে কিছুটা ছাড়া-ছাড়া মনে হতে পারে, ল্যুভর কমপ্লেক্সের বাকি অংশগুলোর মতো না।
টুইলেরিসের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ এবং রক্তাক্ত। গোটা ল্যুভরটাই প্রথম নির্মিত হয়েছিল নিষিদ্ধ দুর্গ হিসেবে। ফরাসি রাজা ক্রুসেডের সময়ে এটি ব্যবহার করতেন। ফ্রান্সের রেনেসাঁ কিং প্রথম ফ্রান্সিসের পতনের আগ পর্যন্ত এটি কোনো রাজপরিবারের বাসস্থান হিসেবে ব্যবহার হতো না। ১৫৬৪ সালে তার ক্ষমতাধর মা ক্যাথরিন ডি মেডিচি ল্যুভরের পশ্চিমে একটি প্রাসাদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। নির্মাণকাজ শুরুও হয়। মাঝে যুদ্ধের কারণে কাজ বন্ধ ছিল। সেই সময় ক্যাথলিক ও প্রোটেস্টেন্টদের মধ্যে ভয়াবহ যুদ্ধ শুরু হয়। ১৫৭২ সালে সেন্টবারথোলমেউ’স ডে ম্যাসাকারের জন্য কিছুটা দায় ক্যাথরিনেরও ছিল। ব্যাপারটা শুরুর দিকে ল্যুভরের ভেতরে বা তার চারপাশ ঘিরে শুরু হলেও এই হত্যাযজ্ঞ দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ে। সেই সময় সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যায় আলেকজান্ডার ডুমাসের উপন্যাস ‘লা রেইন মারগট’র একটি চরিত্রের মন্তব্যে আমি জানি না এটা বারুদ নাকি রক্তের গন্ধ। তবে হ্যাঁ, আমি নিশ্চিতভাবেই খুনের স্বাদ পেয়েছি।
চতুর্থ হেনরি ছিলেন ক্যাথরিনের জামাতা। রাজনীতির নানা ঘোরপ্যাঁচের মাধ্যমে তিনি রাজার মুকুট পরলেন। কাজ শুরু করলেন শান্তির জন্য। ফ্লোরেনটাইন পরিবারের বংশধর মেরি ডি মেদিচিকেও তিনি বিয়ে করেছিলেন। ১৬১০ সালে এক ক্যাথলিক ফ্যানাটিক তাকে খুন করার পর সেই স্ত্রী মেরি বসেন সিংহাসনে। কারণ হেনরির ছেলের বয়স ছিল মাত্র ৯ বছর।
এই মেরির নাতি ছিলেন চতুর্দশ লুইস। তিনি বেশ অস্থির প্রকৃতির। মন্ত্রীরা ভাবলেন, লুইসকে রাজধানী প্যারিসে ধরে রাখতে হলে এটাকে নতুন করে সাজাতে হবে। টুইলেরিস ও ল্যুভরকে ঘিরে শহরের মধ্যেই আরেকটি রাজকীয় শহর গড়ে তুলতে হবে।
এই কাজের জন্য ডেকে পাঠানো হলো ইতালিয়ান চিত্রশিল্পী, ভাস্কর ও স্থপতি গিয়ান লরেনজো বেরনিনিকে। ভ্যাটিকানের সেন্ট পিটার্স স্কয়ারের নকশাও তার করা ছিল। সময়ের শ্রেষ্ঠ স্থপতি ধরা হতো তাকে। তবে শেষ পর্যন্ত বেরনিনির করা নকশা বাতিল করা হয়। কারণ তার কাজে অতিমাত্রায় ইতালিয়ান ধাঁচ ফুটে উঠেছিল। ছিল না দৃশ্যমান কোনো ছাদ। অভ্যন্তরীণ নকশায়ও বেশকিছু ত্র“টি ধরা পড়ে। টয়লেটের অবস্থানও সুবিধাজনক স্থানে ছিল না। কাজটা পরে শেষ করেছিলেন আরেক স্থপতি আলেকজেন্ডার গেডি।
চতুর্দশ লুইসের সময়কালেই শুরু হয় বিপ্লব। বাস্তিল দুর্গের পতন ঘটে ১৭৮৯ সালের জুলাইয়ে, রায়ট শুরু অক্টোবরে। লুইস তার পরিবারকে ভার্সেলি থেকে সরিয়ে প্যারিসের টুইলেরিসে নিয়ে আসেন। তিনি ভেবেছিলেন, এভাবেই যে মানুষগুলো তার পক্ষে আছে তাদের আরো কাছাকাছি থাকতে পারবেন। কিন্তু পরবর্তী তিন বছরের চিত্র ছিল এর সম্পূর্ণ বিপরীত। ১৭৯১ সালে টুইলেরিস থেকেই রাজপরিবারের সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরের বছর রাজ্যের পতন ঘটে চূড়ান্তভাবে। সেই সময় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নতুন যন্ত্র গিলোটিং আবিষ্কৃত হয়েছিল। ল্যুভর ও টুইলেরিসের মধ্যখানে এমন একটি যন্ত্র স্থাপন করা হয়েছিল যেটাতে একে একে প্রাণ দিয়েছিলেন রাজা লুইস ও তার পরিবারের অন্যান্যরা।
বিপ্লবের পর প্যারিস নিজের আয়ত্বে আনেন নেপোলিয়ন বোনাপার্ট। প্রচুর সম্পদ জড়ো করেছিলেন তিনি এখানে।
আজ আপনি ল্যুভরের দারু গ্যালারির ভেতর দিয়ে ‘উইঙ্গড ভিক্টোরি’ ভাস্কর্যের দিকে গেলে দুটো মার্বেলের ফলক চোখে পড়বে। আলো বেশ কম আর প্রথম দেখায় মনোযোগ কাড়ার মতো কিছু আছে বলে মনে হবে না। একটি ফল হেনরি বারবেট দি জয়ের। তিনি ১৮৭১ সালে ল্যুভরের অভিভাবক ছিলেন। প্যারিসে যখন পার্সিয়ানরা হামলা করে তখন আর নিজেদের গৃহযুদ্ধের সময় রাজকোষ রক্ষার্থে নিজের সহকর্মীদের নিয়ে তিনি এর ভেতরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তারা তাদের কাজে সফলও হয়েছিলেন। কিন্তু মে’র ২৪ তারিখে টুইলেরিসে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। সেটা গ্র্যান্ড গ্যালারি পর্যন্ত পৌঁছে যায়। অন্যদিকে বাইরে যুদ্ধ চলছিল। সেনাপতিরা পালিয়ে যাওয়ার সব পথ বন্ধ কওে দেয়। বার্বেটের আর কিছু করার ছিল না।
জাদুঘরের দ্বিতীয় ফলকটি মার্টিন দি বেনার্দি দি সিগোয়েরের স্মরণে স্থাপিত। নিয়মিত ফরাসি সেনাবাহিনীর ২৬তম লাইট ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটেলিয়নের কমান্ডার ছিলেন তিনি। তার দলটাকে যখন টুইলেরিস গার্ডেনে পাঠানো হয়, প্রাসাদ তখন জ্বলছিল। বেনার্দি দেখলেন, এই আগুন যদি ছড়িয়ে যায় তাহলে তাদের জাতীয় ঐতিহ্য, যেটা একই সাথে বিশ্ব ঐতিহ্যও তার কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। তাই ওপরের নির্দেশের তোয়াক্কা না করেই তিনি আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেন। প্রাসাদের দখল নিতে তার কিছু সৈন্য জাদুঘরের জানালায় অবস্থান নেয়। বাকিরা ছাদ দিয়ে প্রাসাদ ও জাদুঘরের সংযোগকারী কাঠের সেতু দিয়ে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। বেনার্দির এই সাহসী পদক্ষেপের জন্যই তার নামে একটি ফলক রাখা হয়েছে ল্যুভরে।
সেই ঘটনার চার দিন পর সেইসব অফিসারদের বুলেটে ক্ষতবিক্ষত লাশ জাদুঘর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে পাওয়া যায়। তাদের মৃত্যু কীভাবে হয়েছিল সে ব্যাখ্যা কখনো পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে এই প্রাসাদে যে আগুন লাগিয়েছিল সেই জুলেস বেরগেরেট ইংল্যান্ডে পালিয়ে যেতে পেরেছিলেন। সেখান থেকে নিউইয়র্ক সিটিতে চলে যান তিনি। আমেরিকার নাগরিকত্ব নিয়ে শুরু করেন রংমিস্ত্রির কাজ। ১৯০৫ সালে বরণ করেন স্বাভাবিক মৃত্যু। ১৮৮৩ সালে টুইলেরিসের ধ্বংসাবশেষ সরানোর আগে ২০ বছর ধরে সেটা ধ্বংসস্তুপ অবস্থায়ই পড়ে ছিল।

এক শতাব্দী পর স্থপতি আই এম পেই এবং তার সহকারীরা এইসব নাটকীয় ইতিহাস মাথায় রেখেছিলেন। এছাড়া প্রেসিডেন্ট ফ্রান্সিস মিতেরান্ড এটাকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই নিয়েছিলেন। তার উদ্যোগেই মূলত এটি বড় প্রজেক্টে পরিণত হয়। ‘গ্র্যান্ড এক্সিস’টা আগের চেয়ে আরো বড় করা হয়, যাতে বর্গাকৃতির গার্ডেন আর্চ তৈরি করা হয়।
ল্যুভরের মূল চত্বর কোর নেপোলিয়ন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আমলাদের পার্কিং হিসেবে একসময় ব্যবহৃত হতো। যে কারণে উত্তর অংশের পুরনো ভবনটি চোখে পড়ছিল না। কিন্তু পেই সেই চত্বরের মাঝখানে বর্গাকৃতির একটি জায়গায় নির্মাণ করলেন কাঁচের পিরামিড, যেটা এখন লাখো দর্শকের আগ্রহের কেন্দ্র।
পেইয়ের একটা ভয় ছিল, তার নকশাটাও হয়তো ৩০০ বছর আগের সেই বেরনিনির ভাগ্যই বরণ করবে। কারণ কাজ অনেকদূর এগোনোর পর নকশার বেশকিছু অংশ বাতিল করা হচ্ছিল (বলে রাখা ভালো, পিয়ের ল্যুভরে কিন্তু প্রচুর বাথরুম রাখা হয়েছে)। ফরাসিদের অনেকেই কাঁচের ওই পিরামিড বসানোর প্রস্তাবের সমালোচনা করছিলেন। কিন্তু আজ পেইয়ের সেই পিরামিড ছাড়া ল্যুভরকে কল্পনাই করা যায় না।
বেরনিনির ভাস্কর্যের ভূল কোনায় বসে ব্যাগ থেকে খাবার বের করায় ব্যস্ত থাকলে এর আসল সৌন্দর্য আপনার চোখে ধরা দেবে না। সৌন্দর্যের পূজারি হতে সেটাকে খুঁজে নিতে হবে। বিশ্ব ইতিহাসের জীবন্ত নিদর্শন ল্যুভরে যেমন সময়ের বিবর্তনে অনেক কিছু যুক্ত হয়েছে, তেমনি হারিয়েও গেছে। যেমন অদ্ভুত বাগান, খুনিদের গিলোটিন আর সেই টুইলেরিস প্রাসাদ।

 

কারিকা ডেক্স


একটি শহরের প্রতিছব্বি একটি স্থাপনায়! পৃথিবীর বিখ্যাত শহরগুলোর বিখ্যাত স্থাপনার ক্ষেত্রে এ-কথা বলাই যায়। স্থাপনাগুলো নির্মাণশৈলী, দৃষ্টিনন্দনতা, বিশালতা দিয়ে এতটাই বিখ্যাত হয়ে উঠেছে যে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্থাপনার সূত্র ধরে শহরের পরিচিতি ঘটে।
প্যারিসের আইফেল টাওয়ার, নিউইয়র্কের স্ট্যাচু অব লিবার্টি, সিডনির অপেরা হাউজ, লন্ডনের বিগবেন, কুয়ালালামপুরের টুইন টাওইয়ার এমন অসংখ্য চোখধাঁধানো অনন্য নির্মাণশৈলীর স্থাপনাগুলো নিজেদের পরিচয়ে শহরকে পরিচিত করেছে।
স্থপতি রবিউল হুসাইন মনে করেন, আমাদের প্রিয় নগরী ঢাকার জন্য এমন একটি স্থাপনা নির্মাণ প্রয়োজন। যা স্থাপনার পরিচয় অতিক্রম করে হয়ে উঠবে নগরীর আইকন। যেখানে থাকবে বিশালত্ব এবং নির্মাণশৈলীতে দৃষ্টিনন্দনতার ছাপ।
তিনি কারিকাকে বলেন, ‘হাতিরঝিলে এমন স্থাপনা তৈরি করা যেতে পারে। ঢাকার ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য আরও একটি উদ্যোগে নেয়া প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন এই স্থপতি। তিনি বলেন, বিশ্বের বিখ্যাত নগরীগুলোতে শহরের একটা মডেল থাকে।’ চীন ও ইসলামাবাদের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘নগরভবনেই এই উদ্যোগ থাকতে পারে। এসব দেশে এমনভাবে মডেলগুলো তৈরি করা হয়েছে, মনে হয় সত্যিকার-অর্থেই শহরটা এক নজরে দেখে নেয়া গেল।’ ঢাকার এমন একটি মডেল তৈরির উদ্যোগ নিতে কতৃপক্ষকে পরামর্শ দেন তিনি।
ঢাকার আইকন প্রসঙ্গে নগরবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলামের ভাবনাটা অন্যরকম। তিনি বলেন, ‘বিশ্বখ্যাত স্থাপনা যেভাবে অনেক বিখ্যাত শহরের আইকন হয়ে উঠেছে, আমাদের নগরী ঢাকার বেলায় সেরকম একটি স্থাপনার কথা চিন্তা করা কিছুটা কঠিন।’
মোগল আমলের লালবাগ, ব্রিটিশ আমলের কার্জন হল, পাকিস্তান আমলের বায়তুল মোকাররমের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আইকন হয়ে উঠতে হলে যতগুলো বৈশিষ্ট্য প্রয়োজন, এগুলোর কোথাও কোথাও ঘাটতি রয়েছে। লালবাগ কেল্লা যেমন অনন্য স্থাপনা কিন্তু ফটোগ্রাফিক উপস্থাপনায় কিছুটা দুর্বল। বিশালতার তুলনায় দুর্বল কার্জন হল।’
আর এসব কারণে এগুলোকে আইকন-স্থাপনা ভাবতে তিনি সহমত পোষণ করেন না। জাতীয় শহীদ মিনারের স্থাপনা হিসেব মানসিক উদ্দীপনা তৈরি করার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে। নির্মাণে রয়েছে একটি ইতিহাসের উপস্থাপনও, তবে নির্মাণশৈলীতে খানিকটা দুর্বল বলে মনে করেন নজরুল ইসলাম।
জাতীয় স্মৃতিসৌধ অনন্য কিন্তু ঢাকার বাইরে। জাতীয় স্মৃতিসৌধকে বরং বাংলাদেশের আইকন বলছেন তিনি। সেক্ষেত্রে জাতীয় সংসদ ভবনের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। তবে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, এই স্থাপনাটি গুরুত্বপূর্ণ সন্দেহ নেই, দৃষ্টিনন্দন নিয়েও দ্বিমত নেই কিন্তু এর নির্মাণের উদ্যোক্তা স্বৈরশাসক আইয়ুব খান এবং স্থপতিও বিদেশি। ফলে এটা আমাদের গর্বের জায়গাটি নিতে পারেনি। তাই সংসদ ভবন পৃথিবীর বিখ্যাত সংসদ-স্থাপনাগুলোর অন্যতম হলেও আইকন হিসেবে উপস্থাপনে পক্ষপাতী নন তিনি।
অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সাম্প্রতিক স্থাপনাগুলোর মধ্যে যে স্থাপনাটি ঢাকার প্রতীক বা আইকন হতে পারে, সেটি হলো স্বাধীনতা স্তম্ভ। সোহরাওয়ার্র্দী উদ্যানে তরুণ স্থপতিদের নির্মিত এই স্থাপনাটি ইতিহাসের উপস্থাপনা। এর বিশালত্ব আছে। সবুজের মাঝে এর স্থাপন। বাংলাদেশি চেতনার প্রতিচ্ছবি যেন এই স্থাপনাটি। এটি গর্বের স্থাপনা। আবার নির্মাণশৈলীও অনন্য। এই স্থাপনা ঘিরে আরও পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। পুরোটা বাস্তয়াবিত হলে এটা হয়তো আরও অনন্য হয়ে উঠবে। তবে আমার মনে হয়, এই স্থাপনাটিকেই ঢাকার আইকন বা প্রতীক হিসেবে পরিচিত করা যেতে পারে।’