Home বাজার দর ফিটিংস

কারিকা ডেক্স


ইসমাইল ফারুক চৌধুরী (মে. জে. অব.)
নির্বাহী পরিচালক
মিরপুর সিরামিক ওয়ার্কস লিমিটেড ও খাদিম সিরামিক লিমিটেড

স্বাধীনতার পূর্বে কলকারখানা, রাস্তাঘাট, অফিস-আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এসব দিক দিয়ে এ অঞ্চল ছিল অনেক পিছিয়ে। সেই সময়, পঞ্চাশ দশকের শেষের দিকে বিখ্যাত ব্যবসায়ী তাবানী পরিবারের পক্ষে দুই সহোদর আরিফ ওয়ালী মোহাম্মদ তাবানী ও রশীদ ওয়ালী মোহাম্মদ তাবানী জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের তৈরি মেশিনের সমন্বয়ে বেসরকারিভাবে গড়ে তোলেন মিরপুর সিরামিক ওয়ার্কস লি.। যা এখনো পরিবেশবান্ধব সিরামিক, ইট, ব্লক, ক্লিংকার, পেভার এবং সাধারণ ফ্লোর ও রুফ টাইলস উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে। এছাড়াও উলে­খযোগ্য পণ্যের মধ্যে রয়েছে ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিকস, আর্কিটেকচারাল ওয়াল টাইলস, ফেন্সি স্ক্রিন, পেভার্স টাইলস, রুফ টাইলস ইত্যাদি।

আমরা মনে করি বাজারে টিকতে হলে পণ্যের গুনগত মান, দৃষ্টিনন্দন ডিজাইন এবং ক্রেতাসন্তুটি অর্জন অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহকের চাহিদা পুরণে গবেষণা চালিয়ে নতুন নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকমানের টাইলস বাজারে নিয়ে আসা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছে মিরপুর সিরামিকস।
মিরপুর সিরামিক ওয়ার্কস লিমিটেড রপ্তানি ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ‘জাতীয় রপ্তানি ট্রফি ১৯৯৬-৯৭’ অর্জন করেছে। দেশে উলে­খযোগ্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও আমরা অবদান রেখে চলেছি।
আমাদের ব্রিকস দিয়ে তৈরি হয়েছে বাঙালির বীরত্বগাঁথা স্বাধীনতার প্রতীক শহীদ মিনার, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, জাতীয় সংসদ ভবন ইত্যাদি উলে­খযোগ্য স্থাপনা।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও মিরপুর সিরামিকস ও খাদিম সিরামিকের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারণ এটি ব্যবহারে বারবার রঙ ও প্লাস্টারের বাড়তি খরচ বেঁচে যায়। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদান থেকে তৈরি, তাই একবার ব্যবহার করেই আজীবন প্রকৃত বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে।

গ্রাহকের সুবিধার জন্য দেশজুড়ে পণ্য সরবরাহ করতে ডিলার ও নিজস্ব শো-রুমের মাধ্যমে বিক্রয় ও বিতরণ করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দেয়া হয়। ফলে দেশের অধিকাংশ গ্রাহকের চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে। এ ছাড়াও বিশেষ করে বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশসমূহে এর চাহিদা ব্যাপক। এক্ষেত্রে সরকারের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি আরো বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশে একমাত্র মিরপুর সিরামিকস দীর্ঘদিন ধরে তৈরি করে আসছে সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব ও অত্যাধুনিক মৈশিনে তৈরি সিরামিক ব্রিকস। আর্কিটেক্ট ও ইঞ্জিনিয়ারদের চাহিদার কারণে এবং সিরামিক শিল্পে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার আলোকে সিরামিক ব্রিকসের পাশাপাশি আগামী প্রজন্মের সিরামিক টাইলস, যেমন বিভিন্ন ডিজাইনের ওয়াল ও ফ্লোর টাইলস তৈরির পরিকল্পনা আমাদের আছে। এছাড়াও মিরপুর সিরামিকের সহযোগী-প্রতিষ্ঠান খাদিম সিরামিকস দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিকমানের সিরামিক-সামগ্রী তৈরি করছে। সম্প্রপ্তি খাদিম সিরামিক বাজারে নিয়ে এসেছে বিশ্বখ্যাত স্প্যানিশ টাইল্স Diseno ও Europa সিরিজ, যা ঘরের ভিতরে এবং বাইরে ব্যবহার-উপযোগী। এছাড়াও খাদিম সিরামিক তৈরি করছে টাইলস্ ফিটিংয়ে চিরদিনের বন্ধন খাদিম’স টাইল অ্যাডহেসিভ।

কারিকা ডেক্সঃ


ইটঃ
বাড়ি নির্মাণে সাধারণত যে ধরনের ইট ব্যবহার করা হয়, তার মধ্যে ১ নম্বর ইট হাজারপ্রতি পরিবহন-খরচ বাদে ৮ থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ২ নম্বর ইটের দাম ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা।

ব্লক ইট বা হলো ব্লকঃ
ইটের পরিবর্তে এখন অনেক নির্মাণকাজে ব্লক ইট বা হলো ব্লক ব্যবহার হচ্ছে। কারণ এগুলো তৈরিতে মাটি বা মাটি পোড়ানোর ঝামেলা নেই। ব্যবহার হয় পাথর, বালি এবং সিমেন্ট।
হাজারপ্রতি ব্লকের দাম ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা। একটি সাধারণ ইটের তুলনায় ব্লক ইট ৪ থকে ৬ গুন বড় এবং ভেতরে ফাঁপা। তাই ব্লক ইট পরিবেশবান্ধব, নির্মাণে খরচ কম এবং এটি ব্যবহারে ভবনের ওজনও কমে যায়।
সাধারণ ভবনে এক বর্গফুটের নির্মাণ-খরচ পড়ে ১ হাজার ৮০০ টাকা। অথচ ব্লক ইট ব্যবহার করে ভবন তৈরি করতে প্রতি বর্গফুটে খরচ হয় মাত্র ১ হাজার ১৫০ টাকা।

থ্রি হোল ও টেন হোল ইটঃ
এই দুই ধরণের ইটকে বলা হয় ‘ইঞ্জিনিয়ারিং ইট’। মীর সিরামিক্স এই ইট উৎপাদন করে। দাম তুলনামূলক বেশি হলেও এসব ইট অন্যান্য দিকে সাশ্রয়ী। থ্রি হোল ইট প্রতি হাজার পরিবহন-খরচ বাদে বিক্রি হচ্ছে ১৯ হাজার ৫০০ টাকা। ইটের সাইজ ৭.৫ ী ৪.৫ ী ৬.৫। এই ইট ব্যবহার করলে দেয়ালে প্লাস্টারের প্রয়োজন হয় না। সাধারণ ইটের তুলনায় এই ইট ভার্টিক্যালি বেশি লোড নিতে পারে। ১০০ এসএফটি নির্মাণে প্রয়োজন হয় গড়ে ২৯৫টি ইট। আর টেন হোল ইট প্রতি হাজার পরিবহন-খরচ বাদে বিক্রি হচ্ছে ১৮ হাজার ৯০০ টাকা। ইটের সাইজ ৯.৯ ী ৪.৫ ী ২.২৫। ১০০ এসএফটি নির্মাণে প্রয়োজন হয় গড়ে ৫০০টি ইট।

বালিঃ
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পরিবহন খরচসহ প্রতি ট্রাক (৫ টনি) ভালো মানের আস্তর বালি বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকায়। ভিটি বালি বিক্রি হচ্ছে ২ থেকে আড়াই হাজার টাকায়।

সিমেন্ট
বর্তমান বাজারে সিমেন্টের দাম অনেকটাই স্থিতিশীল। শাহ সিমেন্ট স্পেশাল ব্যাগ-প্রতি ৩৮০ থেকে ৩৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অপরদিকে শাহ পপুলারের ব্যাগ-প্রতি দাম ৩৭০ থেকে ৩৭৫ টাকা। সেভেন রিং স্পেশাল ব্যাগ-প্রতি ৪০০ টাকা, সেভেন রিং নরমাল ৩৮০ এবং সেভেন রিং গোল্ড ৪৩০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। হোলসিম নরমাল ব্যাগ-প্রতি ৪৩৫ থেকে ৪৪০ টাকা, হোলসিম ওপিসির ব্যাগ-প্রতি দাম ৪৮৫ থেকে ৪৯০ টাকা। স্ক্যান ব্যাগ-প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৪১০ টাকায়। ডায়মন্ড সিমেন্ট ব্যাগ-প্রতি দাম ৪১০ থেকে ৪১৫ টাকা।

রডঃ
কেএসআরএমের ৬০ গ্রেড এবং ৫০০ডব্লিউ রডের দাম প্রতি টন ৫১ হাজার থেকে ৫১ হাজার ৫০০ টাকা। বিএসআরএমের দাম প্রতি টন ৫২ হাজার টাকা। একেএস ৫০০টিএমটি প্রতি টন ৫১ হাজার টাকা। আনোয়ার ব্র্যান্ডের রড প্রতি টন ৪৯ হাজার থেকে ৪৯ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

টাইলসঃ
দেশে তৈরি ১২ ইঞ্চি বাই ২০ ইঞ্চি সাইজের ওয়াল টাইলস ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, ১০ ইঞ্চি বাই ১৬ ইঞ্চি ৫০ থেকে ৬৫ টাকা, ১২ ইঞ্চি বাই ১২ ইঞ্চি ৩৫ থেকে ৩৮ টাকা, ১২ ইঞ্চি বাই ১৮ ইঞ্চি ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফ্লোরের জন্য সাড়ে ১২ ইঞ্চি বাই সাড়ে ১২ ইঞ্চি সাইজের টাইলস বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, ১২ ইঞ্চি বাই ১২ ইঞ্চি সাইজের হোমোজিনাস টাইলস ৫৫ থেকে ৬০ টাকা এবং ১৬ ইঞ্চি বাই ১৬ ইঞ্চি সাইজের হোমোজিনাস টাইলসের দাম ৫৭ থেকে ৬৫ টাকা। অপরদিকে ১২ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চি সাইজের চায়না ওয়াল টাইলসের দাম ১৪০ থেকে ১৬৫ টাকা, ১২ ইঞ্চি বাই ১২ ইঞ্চি সাইজের দাম ১৪০ থেকে ১৬৫ টাকা। আর ১২ ইঞ্চি বাই ১২ ইঞ্চি সাইজের ফ্লোর টাইলসের দাম ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা।

রঙঃ
চাহিদাসম্পন্ন অধিকাংশ রঙের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। বার্জার, এশিয়ান ও আরএকের মতো শীর্ষ ব্র্যান্ডের রঙ আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। বার্জারের ১৮.২ লিটারের বালতি-ভর্তি প্লাস্টিক ইমালশন বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৬৫০ টাকা, অ্যানামেল পেইন্ট প্রতি গ্যালন ৯৬০ টাকা। অপরদিকে ১৮.২ লিটারের বালতি-ভর্তি ডিসটেম্পার বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫৫০ টাকা। একই পরিমাপের ওয়েদারকোট বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৬০০ টাকা। একই পরিমাপের ওয়াটার সিলার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৮৫০ টাকা। ২০ কেজি ডিওরোসেম বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকা। এশিয়ান অনুরূপ ওজনের রঙ যথাক্রমে বিক্রি করছে ৩ হাজার ৩৫০ টাকা, ২ হাজার ৬৫০ টাকা, ৬৮০ টাকা, ১ হাজার ৪৫০ টাকা, ৪ হাজার ৪০০ টাকা, ২ হাজার ৮০০ টাকা ও ১ হাজার ১৫০ টাকা। আরএকে বিক্রি করছে ৩ হাজার টাকা, ৯৫০ টাকা, ৪ হাজার ২০০ টাকা, ২ হাজার ৬০০ টাকা ও ১ হাজার ২০০ টাকা।

কারিকা ডেক্সঃ


রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও রাস্তার মোড়ে সাত-সকালে প্রতিদিনই জমে নির্মাণ-শ্রমিকের হাট। এসব হাটে শ্রম বিক্রির জন্য ভিড় জমায় নির্মাণ-পেশার নানা দক্ষতার শ্রমিক। নির্মাণ-কাজে কখনও কর্মঘণ্টার হিসাব ধরে আবার কখনও চুক্তিতে পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন তারা। রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণ-শ্রমিকের হাট ঘুরে তাদের বর্তমান হাজিরা ও চুক্তিমূল্য জানাচ্ছেন জগলুল হায়দার

রাজমিস্ত্রিঃ
নির্মাণ-শ্রমিক বলতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সাধারণত আমরা রাজমিস্ত্রিকেই বুঝি। কারণ তাদের দক্ষ হাতেই গড়ে ওঠে শক্তিশালী স্থাপনা। বর্তমান বাজারে একজন রাজমিস্ত্রির কর্মঘণ্টা ৮ ঘণ্টা হিসাব ধরে তার হাজিরা-মূল্য ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা। আর তার সহযোগীর হাজিরা-মূল্য ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। চুক্তিতে নিচতলা পর্যন্ত প্রতি বর্গফুট কাজের পারিশ্রমিক ৭০ থেকে ৮০ টাকা। দোতলা পর্যন্ত কাজ সমাপ্ত করতে প্রতি বর্গফুটের পারিশ্রমিক ১৮০ টাকা। তবে সেপটিক ট্যাঙ্কের আলাদা মূল্য দিতে হয় তাদের। এক্ষেত্রেও প্রতি বর্গফুটের পারিশ্রমিক ১৮০ টাকা।

রডমিস্ত্রিঃ
বর্তমান বাজারে একজন রডমিস্ত্রির হাজিরা-মূল্য ৬০০ টাকা, সহযোগী রডমিস্ত্রির হাজিরা-মূল্য ৪০০ টাকা।

রংমিস্ত্রিঃ
একজন হেড রংমিস্ত্রির সারাদিনের (৮ ঘণ্টা) হাজিরা-মূল্য ৫০০ টাকা, সহযোগীর ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারা হাজিরার পরিবর্তে চুক্তিতে কাজ করে থাকেন।

কাঠমিস্ত্রিঃ
একজন কাঠমিস্ত্রির হাজিরা-মূল্য (৮ ঘণ্টা) ৫০০ টাকা, সহযোগীর ৪০০ টাকা। তবে কাঠমিস্ত্রিরা খাট, দরজা ও জানালা প্রস্তুতের ক্ষেত্রে চুক্তিতে কাজ করে থাকেন। একটি বঙ্খাট তৈরির ক্ষেত্রে ২০ হাজার টাকা (ফিনিশিং ও বার্নিশসহ), হাফ বঙ্খাট ১৫ হাজার টাকা, ইংলিশ খাট ৮ হাজার টাকা, দরজায় ৩ হাজার টাকার বেশি, জানালায় আড়াই হাজার টাকা, দরজার চৌকাঠে ১ হাজার টাকা ও জানালার চৌকাঠে দেড় হাজার টাকা পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন।

স্যানিটারি-মিস্ত্রিঃ
বাথরুম ও কিচেনের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সমাধান করে থাকেন স্যানিটারি-মিস্ত্রি। একজন স্যানিটারি-মিস্ত্রির বর্তমান হাজিরা-মূল্য ৬০০ টাকা আর সহযোগীর ৩৫০ টাকা।

টাইলস-মিস্ত্রিঃ
টাইলস-মিস্ত্রিরা বর্গফুট হিসাব ধরে কাজ করেন। একজন টাইলস-মিস্ত্রির হাজিরা-মূল্য ৭০০ টাকা আর সহযোগীর ৪০০ টাকা। তবে বেশিরভাগ টাইলস-মিস্ত্রি চুক্তিতে কাজ করে থাকেন।কারন টিলসের সাইজের অনেক ভিন্নতা রয়েছে। তারা বর্তমানে প্রতি বর্গফুটে টাইলসের সাইজের উপর নির্ভর করে পারিশ্রমিক নিচ্ছেন ১২ থেকে ২৫ টাকা।

থাই-মিস্ত্রিঃ
থাই-মিস্ত্রিরাও সাধারণত বর্গফুট হিসাব ধরে কাজ করেন। বর্তমানে তারা থাই দরজা ও জানালা তৈরির ক্ষেত্রে প্রতি বর্গফুট কাজের জন্য ১৫ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন।

ইলেকট্রিশিয়ানঃ
ইলেকট্রিশিয়ানের কাজের হিসাব সম্পূর্ণ ভিন্ন। তারা কাজ করেন পয়েন্ট হিসাব ধরে। প্রতি কনসোল (অভ্যন্তরীণ) পয়েন্টের জন্য ১৫০ টাকা আর বাটাম পয়েন্টের জন্য ৭০ টাকা থেকে ৮০ টাকা পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন।

কারিকা ডেক্সঃ


রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও রাস্তার মোড়ে সাত-সকালে প্রতিদিনই জমে নির্মাণ-শ্রমিকের হাট। এসব হাটে শ্রম বিক্রির জন্য ভিড় জমায় নির্মাণ-পেশার নানা দক্ষতার শ্রমিক। নির্মাণ-কাজে কখনও কর্মঘণ্টার হিসাব ধরে আবার কখনও চুক্তিতে পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন তারা। রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণ-শ্রমিকের হাট ঘুরে তাদের বর্তমান হাজিরা ও চুক্তিমূল্য জানাচ্ছেন জগলুল হায়দার

রাজমিস্ত্রি:
নির্মাণ-শ্রমিক বলতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সাধারণত আমরা রাজমিস্ত্রিকেই বুঝি। কারণ তাদের দক্ষ হাতেই গড়ে ওঠে শক্তিশালী স্থাপনা। বর্তমান বাজারে একজন রাজমিস্ত্রির কর্মঘণ্টা ৮ ঘণ্টা হিসাব ধরে তার হাজিরা-মূল্য ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা। আর তার সহযোগীর হাজিরা-মূল্য ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। চুক্তিতে নিচতলা পর্যন্ত প্রতি বর্গফুট কাজের পারিশ্রমিক ৭০ থেকে ৮০ টাকা। দোতলা পর্যন্ত কাজ সমাপ্ত করতে প্রতি বর্গফুটের পারিশ্রমিক ১৮০ টাকা। তবে সেপটিক ট্যাঙ্কের আলাদা মূল্য দিতে হয় তাদের। এক্ষেত্রেও প্রতি বর্গফুটের পারিশ্রমিক ১৮০ টাকা।

রডমিস্ত্রি:
বর্তমান বাজারে একজন রডমিস্ত্রির হাজিরা-মূল্য ৬০০ টাকা, সহযোগী রডমিস্ত্রির হাজিরা-মূল্য ৪০০ টাকা।

রংমিস্ত্রি:
একজন হেড রংমিস্ত্রির সারাদিনের (৮ ঘণ্টা) হাজিরা-মূল্য ৫০০ টাকা, সহযোগীর ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারা হাজিরার পরিবর্তে চুক্তিতে কাজ করে থাকেন।

কাঠমিস্ত্রি:
একজন কাঠমিস্ত্রির হাজিরা-মূল্য (৮ ঘণ্টা) ৫০০ টাকা, সহযোগীর ৪০০ টাকা। তবে কাঠমিস্ত্রিরা খাট, দরজা ও জানালা প্রস্তুতের ক্ষেত্রে চুক্তিতে কাজ করে থাকেন। একটি বঙ্খাট তৈরির ক্ষেত্রে ২০ হাজার টাকা (ফিনিশিং ও বার্নিশসহ), হাফ বঙ্খাট ১৫ হাজার টাকা, ইংলিশ খাট ৮ হাজার টাকা, দরজায় ৩ হাজার টাকার বেশি, জানালায় আড়াই হাজার টাকা, দরজার চৌকাঠে ১ হাজার টাকা ও জানালার চৌকাঠে দেড় হাজার টাকা পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন।

স্যানিটারি-মিস্ত্রি:
বাথরুম ও কিচেনের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সমাধান করে থাকেন স্যানিটারি-মিস্ত্রি। একজন স্যানিটারি-মিস্ত্রির বর্তমান হাজিরা-মূল্য ৬০০ টাকা আর সহযোগীর ৩৫০ টাকা।

টাইলস-মিস্ত্রি:
টাইলস-মিস্ত্রিরা বর্গফুট হিসাব ধরে কাজ করেন। একজন টাইলস-মিস্ত্রির হাজিরা-মূল্য ৬০০ টাকা আর সহযোগীর ৪০০ টাকা। তবে বেশিরভাগ টাইলস-মিস্ত্রি চুক্তিতে কাজ করে থাকেন। তারা বর্তমানে প্রতি বর্গফুটের পারিশ্রমিক নিচ্ছেন ১২ থেকে ১৫ টাকা।

থাই-মিস্ত্রি:
থাই-মিস্ত্রিরাও সাধারণত বর্গফুট হিসাব ধরে কাজ করেন। বর্তমানে তারা থাই দরজা ও জানালা তৈরির ক্ষেত্রে প্রতি বর্গফুট কাজের জন্য ১৫ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন।

ইলেকট্রিশিয়ান:
ইলেকট্রিশিয়ানের কাজের হিসাব সম্পূর্ণ ভিন্ন। তারা কাজ করেন পয়েন্ট হিসাব ধরে। প্রতি কনসোল (অভ্যন্তরীণ) পয়েন্টের জন্য ১৫০ টাকা আর বাটাম পয়েন্টের জন্য ৭০ টাকা থেকে ৮০ টাকা পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন।