Home বাজার দর ইন্টেরিয়ার

ইতালীয় শিল্প-ডিজাইনার ও স্থপতি পাওলো রিজাত্তোর অনন্য সৃষ্টি ফ্লোরসের ২৬৫ ওয়াল লাইট চার দশক পর এখনও প্রাসঙ্গিক। দূরদর্শী পাওলো জানতেন তার সৃষ্টিশীলতা দিয়ে তিনি এমন কিছু তৈরি করতে পারবেন যেটা চার দশক পরও স্বমহিমায় উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।
ঝকঝকে আলো, অভিজাত ডিজাইন ও উজ্জ্বল উপস্থিতির কারণে পাওলা রিজাত্তোর ডিজাইন করা লাইট লাইটিংশিল্পে বেশ সমাদৃত।
সৃষ্টিশীল ডিজাইনার পাওলো রিজাত্তো পলিটেকনিকো ডি মিলানো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থাপত্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তার অনেক সহকর্মী এবং পূর্বসূরিদের মতে, সে সময় তিনি এলিয়াস, আর্টেলুস, আর্টেমাইড, ক্যাসিনা, গিজিনি, লেন্সভেল্ট, কার্টেল, নল, লুসেপলান, ম্যান্ডারিনা ডক, মোলেটেনি, মন্টিনা, নিমো, ফিলিপস, থোনেটসহ ইতালির অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক ডিজাইন কোম্পানির জন্য কিছু অনন্য সৃষ্টিকর্ম (মাস্টারপিস) তৈরি করেছিলেন।


পাওলো তার সৃজনশীল শিল্পকর্ম শুধু লাইট ডিজাইন এবং আসবাবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেননি, বরং বিভিন্ন প্রজেক্টে পুরোমাত্রার স্থাপত্য ডিজাইনও করেছেন।
ইতালির মিলান শহরে ১৯৪১ সালে জন্ম নেয়া পাওলো রিজাত্তো ১৯৬৫ সালে মিলান পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার পর ইতালির বিখ্যাত লাইটিং এবং ইন্টেরিয়র ডিজাইন কোম্পানি আর্টলুসে যোগ দেন।
পরে তিনি ১৯৬৮ সালে নিজস্ব একটি ডিজাইন ও আর্কিটেকচারাল স্টুডিও চালু করেন। তিনি এমন সময় ডিজাইন স্টুডিওটি চালু করেন, যখন স্থপতি ও ডিজাইনার হিসেবে তার নাম ইতালিসহ বিশ্বের অন্য প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে।
১৯৭২ থেকে ১৯৭৬ সালের মধ্যে তিনি একটি নার্সারি স্কুল, একটি অবকাশযাপনকেন্দ্র, শহরতলির কয়েকটি বাড়ি ও একটি পূর্ণাঙ্গ আবাসিক এলাকার ডিজাইন করেছিলেন।
সমগ্র ইতালিজুড়ে পাওলোর স্থাপত্যকর্মের সংখ্যা কম। তবুও তার সময়ে করা সৃষ্টিশীল স্থাপত্যকর্মের জন্য বিশ্বে তার প্রতিভা বিকাশ সময়ের ব্যাপার ছিল মাত্র। বিশ্বস্বীকৃতি তার জন্য অপেক্ষায় ছিল।

কারিকা ডেস্ক

কামরুজ্জামান কাজল
‘এসো হে বৈশাখ…এসো…এসো…’ গানের সঙ্গে সঙ্গে বরণ করা হয়ে গেল নতুন বছরকে। নতুন বছরে নিজের ঘরবাড়ি-গুছিয়ে নিয়েছেন অনেকেই। কেউবা আবার সময়ের সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে পারেননি। গোছানো হয়নি প্রিয় শান্তির নীড়। কিন্তু মনের কোণে তো উঁকি দিয়ে আছেই নিজের ঘরটাকে সুন্দর করে গুছিয়ে রাখার। ঘর-দোর স্বপ্নের মতো কিংবা শান্তির পরশে সাজিয়ে নিতে চান যারা, তাদের জন্য পরামর্শ দিয়েছেন ফারজানা’স ব্লিজের স্বত্বাধিকারী ফারজানা গাজী।

‘ঘর সাজাতে কার না ভালো লাগে? নতুন বছরে নিজেকে নতুন করে পেতে আমরা নতুন পোশাকে সেজেছি। সাজিয়েছি পরিবারের সবাইকে। অনেকে সাজিয়েছি ঘর-দুয়ারও। যারা পারেননি তারা এবার সময়-সুযোগ করে সাজিয়ে নিতে পারেন। গত বছরের নতুন সব হোম ইন্টেরিয়র ছিল থ্রিডি ফ্লোর ডিজাইন, ভিন্ন মাত্রার কিচেন ক্যাবিনেট, অন্দর আলোকিত করতে একসেন্ট লাইটিং, দেয়ালে ইলুশনের ছোঁয়া, ঘর সাজাতে আয়নার ব্যবহার, বহুদিনের অব্যবহৃত অ্যান্টিক পিস দিয়ে ঘর সাজানো। এমন অনেক বিষয় এসেছে অন্দরসজ্জায়।’ বিগত বছরে ঘর সাজানোতে কোন কোন বিষয় উল্লেখযোগ্য ছিল তা বর্ণনা করেন ফারজানা।
আপনার সাজানো-গোছানো ঘরটি আপনাকে প্রফুল্ল করে তুলবে প্রতি মুহূর্তে। ঘরের পরিবেশ সুন্দর তো মনের পরিবেশও সুন্দর। ঘরের সাজ অনুষঙ্গ সবসময়ই ব্যক্তিত্বের পরিচয়কে ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করে। তাই ঘরদুয়ার এবার সাজিয়ে নিতে পারেন সুন্দর করে।
বসার ঘরটাতেই বরণ করা হয় অতিথিদের। এই ঘরটা তাই একটু গোছানো দরকার নিয়ম করে। ঘরে যদি বড় কোনো পরিবর্তন আনতে চান, তবে প্রথমেই বদলে ফেলতে পারেন ঘরের পর্দা। যদি কেনার দরকার না হয় তবে আগেরগুলোকে পরিষ্কার করে ধুয়ে ইস্ত্রি করলেই দেখবেন ঘর কেমন ঝকঝকে। এতে করে উজ্জ্বল হবে পুরো ঘরের সাজসজ্জাই। আসবাবগুলো দীর্ঘদিন ধরে হয়তো একই স্থানে রয়েছে। সেগুলো জায়গা বদল করে রাখুন। বেশ পরিবর্তন চলে আসবে ঘরে। কাঠের আসবাবগুলোর রঙ বিবর্ণ হয়ে গেলে পলিশ করিয়ে নিন। নতুনের মতোই চকচকে হয়ে উঠবে। বসার ঘরে ক্যাকটাস কিংবা বনসাই রাখতে পারেন। দরজার বাইরে পাম ট্রি রাখা যেতে পারে। দেয়ালজুড়ে পাতাবাহারও রাখতে পারেন।
ঘরের পরিবেশে থাকা চাই স্নিগ্ধতা। মিষ্টি টুংটাং শব্দে অতিথিকে স্বাগত জানাতে দরজার সামনে ঝুলিয়ে নিন নজরকাড়া ডিজাইনের একটি উইন্ড চাইম। ফুল সাজিয়ে রাখার জন্য ক্রিস্টালের ফুলদানি কিনতে পারেন। মেঝেতে বিছানো শতরঞ্জি বা কার্পেটটি বদলে নতুন ডিজাইনের একটি বিছিয়ে দিন। পাশেই বসার ব্যবস্থা করে আরামদায়ক কিছু কুশন ছড়িয়ে দিন। একঘেয়েমি সাজ থেকে মুক্তি মিলবে কিছুটা হলেও। ঘরে মাটির পটারি থাকলে সেখানে নতুন রঙ লাগিয়ে ঝকঝকে করে তুলুন। চাইলে আইকা দিয়ে ছোট ছোট গ্লাস বসিয়ে সাধারণ পটারিকে নতুন আমেজ দিতে পারেন। সম্ভব হলে দেয়ালগুলোতেও দিতে পারেন রঙের ছোঁয়া। দেয়ালে সুন্দর একটি পেইন্টিং টানিয়ে দিতে পারেন।

একরাশ ক্লান্তি নিমিষে মুছে দিতে পারে আপনার প্রিয় শোবার ঘরটি। এই ঘরটাতে নিয়ে আসতে পারেন খানিকটা বিশেষত্ব। বিছানার চাদর ও পর্দা বদলে ফেলার পাশাপাশি পরিবর্তন করে ফেলতে পারেন দীর্ঘদিনের টেবিল ল্যাম্পটিও। ভিন্নতা চলে আসবে ঘরের সাজে। মাঝে মাঝে এই ঘরের আসবাবপত্রও জায়গা বদলে নিতে পারেন। এতে করে একঘেযেমি কেটে যাবে অনেকখানি। অগোছালো অবস্থায় থাকা টেবিল কিংবা বুক শেলফটিকে একটু যত্ন নিয়ে গুছিয়ে ফেলুন। ঘরের যেখানেই যা কিছু থাকুক না কেন তা যদি একটু পরিপাটি করে গুছিয়ে রাখেন, তাহলে দেখবেন সেই ঘর মন ছুঁয়ে যাবে আপনার। ঘরের ফ্যান ও লাইটও মুছে নিন। ঝকঝকে শোবার ঘর স্বস্তি নিয়ে আসবে মনে। শোবার ঘরে শেলফের ওপরে রাখতে পারেন তরতাজা কিছু ফুল। ফুলের স্নিগ্ধ সুবাস চারপাশ মাতিয়ে রাখবে। সেই সঙ্গে মেতে থাকবে আপনার মনও।
অতিথিদের খাবার পরিবেশন করতে হয় ডাইনিং রুমে। সেজন্য আকর্ষণীয়ভাবে খাবার রুম ও টেবিল সাজিয়ে তুলুন। টেবিল ক্লথটি পরিষ্কার করে ফেলতে পারেন। চাইলে ক্লথের পাড় ঘেঁষে লেইস লাগিয়ে নিতে পারেন। তবে পুরনোটা বদলে নতুন একটি কিনে নিলেই ভালো করবেন। টেবিল ম্যাটগুলোও পরিবর্তন করে নেওয়া যায়। পর্দা ও দেয়ালের রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাছাই করুন টেবিল ক্লথ। খাবারের টেবিল কিংবা খাবারের ঘরের এককোণে রাখতে পারেন কিছু গাছ। সবুজে ছেয়ে থাকলে তা প্রশান্তি দেবে মনে। অতিথি যখন আপনার ঘরে আপ্যায়িত হবেন, তখন না হয় রাখলেন ফুলদানি ভর্তি তাজা ফুল। ঘর ও মন মাতিয়ে রাখবে যা সবসময়।

কামরুজ্জামান কাজল

মাথার উপর সুবিশাল আকাশ। সেই আকাশে তাকিয়ে কেটে যাবে বেলা। এমন কাব্যিক ভাবনা মনের অগোচরে থাকলেও দিনশেষে আমাদের নিজ নীড়েই ফিরতে হয়। নিজ ঘর। আপন ভুবনে মনের মধ্যে বসত করে ছড়ানো -ছিটানো বিশাল এক বাসা। আলো-বাতাসের খেলায় মেতে উঠবে প্রতিটিক্ষণ। কিন্তু সাধ আর সাধ্য তো আমাদের এক হয় না। যেমন বিশাল পরিসরের বাসা আমরা চাই তেমন কি আমরা পাই? নিজের হোক কিংবা ভাড়া-ই হোক ইচ্ছেমত বিশাল পরিসরের বাসায় আর হয়না থাকা। কিন্তু মনের মধ্যে আফসোস থেকেই যায়…। ইস আমার বাসাটা যদি একটু বড় হতো!
এই আফসোস কিছুটা মেটাতে আপনাদের কিছু কৌশলেে পরামর্শ দিয়েছেন ইন্টেরিয়র ডিজাইনার ফারজানা গাজী।

আসবাবপত্রে বুদ্ধিমত্তা

ঘরের কোন জায়গায় কেমন আসবাব দিবেন সেক্ষেত্রে সচেতন হবেন। যেমন এর একটি উপায় হতে পারে প্রথমে বড় একটি বিছানা দিয়ে আপনার বেডরুমে একটি সম্পূর্ণতার অনুভূতি তৈরি। এরপর কক্ষের সঙ্গে মানানসই ছোট আকারের শেলফ ও অন্যান্য ফার্নিচার দিয়ে সাজান। একই কৌশল আপনার অন্যান্য ঘরেও খাটাতে পারেন। ছোট বাড়ির জন্য মাল্টিফাংশনাল ফার্নিচার একটি ভালো সমাধান। বর্তমানে বহু ধরনের মাল্টিফাংশনাল ফার্নিচার পাওয়া যায়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ভাজ করে রাখা চেয়ার, টেবিল কিংবা সোফা কাম বেড। আপনার দেয়ালের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে ফার্নিচারের রং পছন্দ করুন। পুরনো ফার্নিচার বাড়িতে যথেষ্ট স্থান নেয়। তাই আপনি যদি আধুনিক ছোট বাড়িতে থাকেন তাহলে পুরনো ফার্নিচার বদলে নতুন ও স্থান সাশ্রয়ী ফার্নিচার কিনুন। আপনার অব্যবহৃত জিনিসপত্রের ওপর নজর রাখুন। কোনো জিনিস যদি এক বছরেও ব্যবহৃত না হয় তাহলে এটি সরিয়ে ফেলুন।

রুচিসম্মত পর্দা

ঘরের পর্দা মন ভালো করে দেয় অনেকখানি। পর্দা সাজানোর উপর বাসার সৌন্দর্য নির্ভর করছে। কক্ষে পর্দা লাগানোর সময় লক্ষ্য রাখুন এটি যেন আপনার দেয়ালের রঙের সঙ্গে মিলে যায়। আর এতে কক্ষের আকার অনেক বড় মনে হবে। এছাড়া উঁচুতে পর্দা স্থাপন করে তা নিচ পর্যন্ত বিন্যস্ত রাখলে ভালো হয়। হালকা প্রিন্ট কিংবা একরঙা পর্দা ব্যবহার করুন। এটি ছোট ঘরকে বড় দেখাতে সহায়তা করবে।

স্লাইডিং দরজা
একঘর থেকে আরেকঘর। মাঝখানে দরজা। ঘরের দরজার কারণে জিনিসপত্রও ঠিকমত রাখতে পারছেন না আপনি।
ভেতরের বিভিন্ন কক্ষের মাঝের দরজা ও কাপবোর্ডের দরজা মূল্যবান স্থান নষ্ট করতে পারে। এক্ষেত্রে সমস্যা হলে দরজা সরিয়ে ফেলা যেতে পারে। বিকল্প হিসেবে স্লাইডিং দরজা ব্যবহার করুন।

ফ্লোর টু সিলিং
বাসায় প্রচুর বই? কোথায় রাখবেন বুঝে উঠতে পারেন না। এইঘরে ছোট সেলফ তো অন্যঘরে আরেকটি। এইভাবে বই রাখার চিন্তা মাথায় নিয়ে না ঘুরে উপায় খুঁজুন ভিন্নভাবে। বই রাখার জন্য ফ্লোর টু সিলিং বিস্তৃত সেলফ ব্যবহার করুন। এটি আপনার সিলিংয়ের উচ্চতা বাড়ানোর অনুভূতি দেবে। এছাড়া প্রচুর জিনিসও রাখা যাবে।

রঙের বাহার

আপনার ঘরের দেয়ালে যে রঙ ব্যবহার করবেন সে বিষয়ে সচেতন হতে হবে। হালকা ও প্রাকৃতিক রঙের ওপর গুরুত্ব দিন। এগুলো আপনার ছোট স্থানকেও বড় দেখাতে সহায়তা করবে। কক্ষের ভেতর সূর্যের আলো প্রতিফলন ঘটাতে বড় আয়না খুবই কার্যকর। ছোট কক্ষকে এটি বড় করে দেখাবে।

এছাড়াও মাথায় রাখতে পারেন যা…

নীড় ছোট। প্রস্থও কম। নজর তাই একটু আমরা ভিন্ন দিকে দেই। চারদেয়ালের বাইরে, ছাদের দিকে যাক না নজর। এজন্য আপনার দেয়ালের উঁচু স্থানে ছোট ছোট কিছু ছবি ঝুলান। চারদেয়ালের বাইরেও তখন যাবে চোখ। এতে ভিন্নধরনের অনুভূতি তৈরি হবে।সব ফার্নিচার সর্বদা দেয়ালের সঙ্গে রাখতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। কখনো কখনো মাঝামাঝি স্থানে বসালেও তা বড় অনুভূতি তৈরি করে। একটি ঘরের সবটুকু জায়গা আসবাব দিয়ে ঠেসে রাখবেন না। কক্ষের সব স্থানই ব্যবহার করবেন না। কিছু খালি স্থান রাখবেন। যেমন শেলফের সবগুলো খোপ ভর্তি না করে কিছু খালি রাখুন।
সবকটা জানালা খুলে দাওনা…। গানের কথামত খোলা রাখুন সব জানালা। এতে আপনার ছোট স্থানেরও আলাদা গভীরতা তৈরি হবে। আলো আসুক ঘরে। ঘরের ভেতর পর্যাপ্ত সূর্যের আলোর ব্যবস্থা করুন। যদিও আমাদের এই নগরীতে ঠাসা-ঠাসি করেই থাকতে হয় হয় আমাদের। এক বাড়ির দেয়াল ঘেষে অারেক বাড়ি। তারপরও যতটুকু আলো বাতাস আসার কিছুটা সুযোগ থাকে তার সবটুকুই ঘরে আসতে দিন। প্রাকৃতিক আলোবাতাসে ছোট ঘরও হয়ে উঠবে স্বাস্থ্যকর। সবুজে সাজুক আপনার ঘর। এজন্য যে বড় বাগান কিংবা মূল্যবান গাছ লাগাতে হবে, তা নয়। ঘরের ভেতর টবে রাখা একটি ছোট গাছই এজন্য যথেষ্ট। ইচ্ছে করলে পছন্দমত মানিপ্ল্যান্টে সাজিয়ে নিতে পারেন ঘরের বিভিন্ন কোনগুলো।

স্থাপত্য-জীবনের শুরুতেই ইতালীয় নকশার কিংবদন্তি অ্যাকিল কাস্টিগ্লিওনের সান্নিধ্য পেয়েছিলেন প্যাট্রিসিয়া ইউক্রুইওলা। তাই প্যাট্রিসিয়ার স্থাপত্যকর্মেও নান্দনিকতা ও আভিজাত্যের ছোঁয়া দেখা যায়। তিনি তার কর্মজীবন শুরু করেন লাক্সারি লেবেল দ্য পাডোভাতে। আর্কিটেক্ট এবং প্রোডাক্ট ডিজাইনার হিসেবে সুপরিচিত প্যাট্রিসিয়া ইউক্রুইওলা তার এক্সপেরিমেন্টাল ইউনিক ফিউশন স্টাইলের জন্য বিখ্যাত। মুর্টিনা, কার্টেল, ফসকারিনি এবং মোরেসার মতো শীর্ষস্থানীয় ডিজাইন-হাউজের জন্য তার ডিজাইন করা টাইলস, লাইটিং, ফার্নিচার, ফ্রেবিক্স কিংবা কার্পেট যা-ই হোক-না কেন, আলাদা অনুভূতি তৈরি করে। তার স্টাইল, প্যাটার্ন এবং উপকরণ সম্মিলনের দক্ষতা, পুস্পশোভিত সাজসজ্জা এবং সঠিক অনুভূতির ব্যবহার সবাইকে অবাক করে।
প্যাট্রিসিয়া তার সৃষ্টিকর্মে এমন কৌতূহল সৃষ্টি করেন যে, তার শিল্পকর্ম যেন বলে ওঠে ছোঁও আমাকে।’
২০০৮ সালে এক্সওরের সঙ্গে যৌথভাবে বাথরুম ডিজাইন করে বোদ্ধামহলের নজর কাড়েন প্যাট্রিসিয়া। তিনি দেখিয়েছেন বাথরুম কিভাবে ব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটায়। স্টাইল ফিউশনে বাথরুমের নকশা করে প্যাট্রিসিয়া বিশ্বে অন্যরকম পরিচিতি লাভ করেন।
প্যাট্রিসিয়া ইউক্রুইওলার বেড়ে ওঠা স্পেনের ওভিডিও শহরে। স্থাপত্য বিষয় অধ্যায়নের জন্য তিনি মাদ্রিদে যান। সেখান থেকে পরে মিলানের পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। প্যাট্রিসিয়া ইউক্রুইওলা অসংখ্যবার ‘বর্ষসেরা ডিজাইনার’ নির্বাচিত হন। তিনি স্প্যানিশ সরকারের পক্ষে ফাইন আর্টসে গোল্ড মেডেলও লাভ করেছেন।

ফাইজুল ইসলাম
সাম্প্রতিককালে বিশ্বে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বা সংক্ষেপে ভিআর প্রযুক্তির বিরাট অগ্রগতি হয়েছে। ইংরেজি শব্দগুচ্ছ ভার্চুয়াল রিয়েলিটি অর্থ যা বাস্তব না হলেও বাস্তব বলে গণ্য। আগে ভিআর প্রযুক্তিতে ভারী ভারী সরঞ্জাম ব্যবহৃত হতো। এখন তা বহনযোগ্য ও ব্যয়সাশ্রয়ী। মোবাইল ও হেডসেট ব্যবহার করেই এই প্রযুক্তি থেকে পাওয়া যাচ্ছে এর উপকারিতা। এই কারণে এ ধরনের ডিভাইসের কেনাবেচা ক্রমেই বাড়ছে। এর কনটেন্টও হচ্ছে অধিক মানসমৃদ্ধ ও বাস্তবসম্মত। ভিআর প্রযুক্তির ব্যবহারিক ও বাণিজ্যিক আবেদনও আছে। যেমন- রিয়েল এস্টেটে তথা প্লট, ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট ব্যবসার প্রসারে এই প্রযুক্তির ব্যবহারের কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়। রিয়েল এস্টেট এজেন্সিগুলো কাস্টমারদের আকর্ষণে এবং প্রপার্টিগুলো পরিদর্শনের খরচ কমাতে এখন ভিআর প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন অবলীলায়।
২০১৫ সাল থেকে ভিআর প্রযুক্তি রিয়েল এস্টেটসহ বিভিন্ন শিল্পে একটি নতুন মার্কেটিং কৌশল হিসেবে আবিভূত হয়েছে। এজেন্সিগুলো স্যামসাং ভিআর হেডসেটের মাধ্যমে আমেরিকার লসঅ্যাঞ্জেলেস, নিউইয়র্ক ও হামটনসহ অভিজাত শহরের মাল্টিমিলিয়ন ডলার মূল্যের অ্যাপার্টমেন্ট ও বাড়িগুলো তাদের ভিআইপি ক্রেতাদের দেখাতে শুরু করল। তারপর থেকে অসংখ্য ভিআর রিয়েল এস্টেট প্রজেক্ট তৈরি হতে থাকল। ভিআর প্রযুক্তিও বহুমুখী কর্মশক্তিসম্পন্ন ও ডাইনেমিক তথা গতিশীল হলো। বিশেষজ্ঞরা ভবিষ্যদ্বাণী করলেন এই বলে যে, রিয়েল এস্টেটে ভিআর প্রযুক্তির উত্থান হবে অপ্রতিরোধ্য। ২০২৫ সাল নাগাদ এই শিল্পে ভিআর/এআর সফটওয়্যার থেকে মোট আয় হবে ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। তারপরও এই শিল্পে এখনো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। এই চ্যালেঞ্জগুলো হলো হাইকোয়ালিটির কনটেন্ট তৈরি করা, কনটেন্ট তৈরিতে কম সময় নেয়া এবং হেডসেটের মূল্য ক্রয়সীমার মধ্যে রাখা ইত্যাদি।

রিয়েল এস্টেটে ভিআর প্রযুক্তির ব্যবহারিক আবেদন
রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় কয়েকটি ক্ষেত্রে ভিআর প্রযুক্তির প্রায়োগিক আবেদন রয়েছে। যেমন-
১. ভার্চুয়াল ট্যুরসঃ ব্যক্তিগত ব্যবহার বা ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য কোনো প্রপার্টি ক্রয় করা অনেক ঝক্কি-ঝামেলার ব্যাপার। এজন্য সময়ও লাগে অনেক। দিতে হয় সীমাহীন ধৈর্য্যের পরিচয়। যদি প্রপার্টি ও ক্রেতার ভৌগোলিক অবস্থান হয় ভিন্ন ও বেশি দূরত্বের, তাহলে তা ক্রয় করা হয়ে পড়ে আরও কঠিন। এক্ষেত্রে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি সময় ও অর্থ বাঁচাতে সহায়তা করে। রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে প্রজেক্ট এরিয়া ঘুরে আসা যায় কয়েক মুহুর্তের মধ্যে। প্রপার্টি সম্পর্কে প্রিভিউ বা একটি আগাম ধারণা দেওয়াও সম্ভব হয়। এ ধরনের রিয়েল এস্টেট ভার্চুয়াল ট্যুর প্রদর্শনের জন্য যে কোনো আধুনিক ভিআর হেডসেটই যথেষ্ট। সেই ট্যুর হতে পারে ৩৬০-ভিডিও ফরম্যাটে অথবা নৌ বা বিমান যাত্রার মধ্য দিয়েও তা দেখানো যেতে পারে, যা হবে আরো প্রাণবন্ত ও উপভোগ্য।
২. ভার্চুয়াল ভিজ্যুয়ালাইজেশনঃ রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় যেসব প্রপার্টি নির্মাণাধীন রয়েছে, ভিআর প্রযুক্তি তার বিক্রয়ের ক্ষেত্রেও ব্যাপক সহায়তা করতে পারে। মার্কেটিংয়ের কর্মী ও রিয়েল এস্টেট এজেন্টরা এ ধরনের হাউজিংয়ের বিজ্ঞাপনে বহু কষ্ট করে থাকেন। কেননা সেখানে দেখার মতো আসলে বাস্তব জিনিসের অভাব রয়েছে। কিন্তু ভার্চুয়াল ভিজ্যুয়ালাইজেশনের মাধ্যমে তা সহজে দেখানো যায়। স্থাপত্যগত থ্রিডি ভিজ্যুয়ালাইজেশন প্রপার্টির ভবিষ্যৎ চেহারা কেমন হবে তা প্রদর্শন করে অতি সহজে। এর ভেতর ও বাইরের ডিজাইনও প্রদর্শন করে চমৎকারভাবে।
৩. ভার্চুয়াল স্টেজিংঃ ম্লান দেয়াল, ফার্নিচারের অনুপস্থিতি, ডেকোরেশনের অভাব ইত্যাদি ক্ষেত্রে অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রির সুযোগ কমে যায়। ১৯৮৫ সালের দিকে রিয়েল এস্টেট এজেন্সিগুলো ইন্টেরিয়র ডিজাইনারদের সহযোগিতা নিতে শুরু করেন। তাদের সাহায্যে প্রপার্টি শো বাড়াতে থাকেন। একেই বলা হয় ভার্চুয়াল স্টেজিং। তারা দেখলেন স্টেজিং করা হাউস বা ফার্নিচার দিয়ে সাজানো-গোছানো অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি হচ্ছে হু হু করে। এতে অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি হতে লাগছে ৮০ ভাগ কম সময়। এই পদ্ধতি ভার্চুয়াল শোকেসের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে। তাছাড়া এমন সব উপাদান দিয়ে ভার্চুয়াল স্টেজিং করা হয়, যাতে তেমন একটা খরচ হয় না।
৪. ভি-কমার্সঃ প্রপার্টির স্টেজিংয়ের অন্য এক উপকারিতাও আছে। এতে রিয়েল এস্টেট এজেন্ট ও অ্যাপার্টমেন্ট মালিক উভয়ই একসঙ্গে উপকৃত হন। এজেন্টরা ব্যবসা করেন আর অ্যাপার্টমেন্ট মালিকরা অ্যাপার্টমেন্ট সাজাতে ভালো ধারণা পেয়ে যান। এজন্য ভার্চুয়াল ইন্টেরিয়র ডিজাইন হলো ভি-কমার্সেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

রিয়েল এস্টেটে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির উপকারিতা

আমাদের জীবনযাপনকে আরো সহজ ও সুবিধাজনক করে তোলার জন্য আজ ভিআর প্রযুক্তির গুরুত্ব সর্বাধিক। কাজের পরিবেশ আরো টেকসই করতেও এর কোনো জুড়ি নেই। রিয়েল এস্টেটের মতো ব্যবসায় ভার্চুয়াল রিয়েলিটির বেশকিছু সুবিধা রয়েছে, যেমনঃ

১. সময়ের সাশ্রয়ঃ আমাদের জীবনে সময়ের চেয়ে কোনো কিছুই মূল্যবান নয়। ভার্চুয়াল রিয়েলিটিকে ধন্যবাদ। এতে নতুন সম্পদের অনুসন্ধান ও পর্যালোচনা সম্পন্ন হতে পারে দ্রুত প্রক্রিয়ায়। ভার্চুয়াল ট্যুরের মাধ্যমে দিনের পর দিন ও ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্লট ও ফ্ল্যাট পরিদর্শনের আর দরকার পড়ে না। ক্রেতা ও বিক্রেতা কোনো ঝুট-ঝামেলা ছাড়াই অফিসে বা বাসায় বসে যে কোনো সময় ভিআর হেডসেট ব্যবহার করে তার সমাধান করে ফেলতে পারেন।
২. অর্থের সাশ্রয়ঃ প্রথমে ভিআর প্রযুক্তিকে অনেকে ব্যয়বহুল মনে করতে পারেন। মনে হতে পারে, এটা একটা হাই-টেকনোলজির ব্যাপার। তার কারণ ভার্চুয়াল ট্যুরে লাগে মানসম্মত গ্রাফিকস ও কমার্শিয়াল ফিচার। কিন্তু এটা ব্যয়বহুল হলেও মূল্যবান মুনাফাও এনে দেয়। প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ায় বিজ্ঞাপনের পেছনে যে খরচ হয় তা কমিয়ে দেয়। খরচ কমিয়ে দেয় ভার্চুয়াল স্টেজিংয়ের ক্ষেত্রেও। রিয়েল এস্টেটের ইন্টেরিয়র ডিজাইন, ফার্নিচার প্লেসমেন্ট ইত্যাদি থ্রিডি মডেল ব্যবহার করে উপস্থাপন করা যেতে পারে। পৃথক লোকেশনে আবার এটাই পুনঃব্যবহারযোগ্যও বটে।
৩. আবেগ তৈরি করা্রঃ টুডি প্রিন্ট ভিজ্যুয়ালাইজেশনের মতো নয়, ভার্চুয়াল ট্যুরস আসলে মানুষকে এমনভাবে সম্পৃক্ত করে যাতে বাস্তব উপস্থিতির অনুভূতি দেয়। সেখানে কোনো তাড়াহুড়োর প্রয়োজন নেই। একজন দর্শকের জন্য এতে আছে ভ্রমণের মাধ্যমে এক ধরনের আবিষ্কারের অনুভূতি ও মিথস্ক্রিয়ার স্বাধীনতা। বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও দেখার মাধ্যমে অ্যাপার্টমেন্টের এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে খুব সহজেই প্রবেশ করা যায়। এর মাধ্যমে এক ধরনের চেতনা ও আবেগ জাগিয়ে তোলে ভিআর প্রযুক্তি।
৪. পৃথিবীব্যাপী ব্যবসা করা যায়ঃ ভিআর প্রযুক্তি আমাদের দূরত্ব কমিয়ে দেয়। এ কারণে প্রথম ভিআর ট্যুর-ই তাদের ক্লায়েন্ট বাড়াতে শুরু করে। এটা শুধু স্থানীয় পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকে না, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। পৃথিবী আজ অনেক বেশি কসমোপলিটন বা সংকীর্ণতামুক্ত। ক্রমেই বাড়ছে বিশ্বনাগরিকের সংখ্যা। মানুষ আজ একস্থান থেকে আরেক স্থানে যাচ্ছে সহজেই। এমনকি এক গোলার্ধ থেকে অন্য গোলার্ধেও যাচ্ছে। তাই রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় ভার্চুয়াল রিয়েলিটির আবেদনও বিশ্বময়।

রিয়েল এস্টেট ভিআরের উদাহরণ
ভার্চুয়াল স্টেজিং সেবার জন্য রিয়েল এস্টেট এজেন্সিগুলোতে রয়েছে রুমি প্লাটফর্ম। তারা হাউস স্টেজিংকে গুরুত্ব দেন যাতে তা দ্রত ও উচ্চমূল্যে বিক্রি হয়। এর কল্যাণে শুধু রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীরাই নন, সাধারণ মানুষও তার নিজস্ব অ্যাপার্টমেন্ট বা বাড়ির ইন্টেরিয়র ডিজাইনার হিসেবে আর্বিভূত হতে পারেন।
যেহেতু প্রিন্ট ইমেজ বা ছবি আজ সেকেলে, এমনকি প্রথম যুগের ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হোম ট্যুরগুলোও আজ আর যুগোপযোগী নয়, কেননা এটা ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা দিয়ে তৈরি, তাই অত্যাধুনিক ভিআর প্রযুক্তি ব্যবহার করাই শ্রেয়। এমন একটি প্রযুক্তির নাম ম্যাটেপোর্ট। এর মাধ্যমে থ্রিডি ক্যামেরার সাহায্যে তৈরি হয় চমৎকার হোম ট্যুর, যা ‘একের মধ্যে সব’ হিসেবে কাজ করে। এই বিশেষ ক্যামেরা ফোর কে রেজল্যুশনে রিয়েল এস্টেটের জন্য ভিআর ট্যুর উৎপাদনে সহায়তা করে।
যেসব প্রপার্টি নির্মাণাধীন, সেখানে বিশেষ করে ‘ভার্চুয়াল এক্সপেরিয়েন্স’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমে কনস্ট্রাকশন কোম্পানির জন্য তৈরি হয় ভিআর কনটেন্ট। এটা অসম্পূর্ণ অ্যাপার্টমেন্ট পরিদর্শন করে সুন্দরভাবে। আবার অনলাইন ব্যবহারের জন্য থ্রিডি ভিজ্যুয়ালাইজেশন খুবই সহজলভ্য। কিংবা অকুলাস রিফট ও এইচটিসি ভাইভের মতো ভিআর হেডসেটও পাওয়া যায় সহজেই।

কামরুজ্জামান কাজল
শীতের আমেজ শেষ হলো। বসন্তের রঙে সাজবে ঘর। কোকিলের কুহু-কুহু আর লিলুয়া বাতাসে মেতে উঠবে মন। মেতে ওঠা মনের সঙ্গে এবার না-হয় মেতে উঠুক ঘরের সাজসজ্জাও। বসন্তের বাতাসে হু-হু করে দোলা দিয়ে উঠুক ঘরের পর্দাগুলো। এই নরম আবহাওয়ায় বৈচিত্র্যময় পর্দায় সাজিয়ে তুলতে পারেন আপনার প্রিয় নিবাস। সেটা কীভাবে? পরামর্শ দিয়েছেন ফারজানা’স ব্লিজের স্বত্বাধিকারী ফারজানা গাজী।
তিনি জানান, বসার ঘর থেকে শুরু করে খাবার ঘর, ঘরে রাখা আসবাবের আকৃতি, দেয়ালের রঙ ও আসবাবের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে পর্দা বাছাই করা ভালো। অন্যদিকে আবহাওয়া বুঝে দুই সেট পর্দা বানিয়ে নিলে সুবিধা। মূলত গরম ও শীতকালের জন্য। গরমের জন্য বাছাই করুন হালকা রঙের পাতলা পর্দা, এতে বাতাস চলাচল সহজ হবে, গরমে পাবেন স্বস্তি। আর শীতে পর্দা অপেক্ষাকৃত মোটা বা ভারী কাপড়ের ও গাঢ় রঙের হওয়া উচিত। এ সময় ধুলাবালি বেশি হয়, তাই পর্দা ময়লা হলেও বোঝা যাবে না আর রুমে ঠান্ডাও লাগবে কম।

বসার ঘরে পর্দা
অতিথি আপ্যায়নে বসার ঘরটাই মুখ্য। পরিবারের সবাই মিলে একসঙ্গে টিভি দেখা কিংবা অতিথিদের সঙ্গে সময় কাটানো হয় বসার ঘরেই। তাই বসার ঘরের পর্দায় মনোযোগী হতে হবে একটু বেশি।
এই ঘরে ব্যবহার করতে পারেন সিল্ক, সার্টিন, জর্জেট, ভেলভেট কিংবা কাতান কাপড়ের পর্দা। বসার ঘরের পর্দা মেঝে পর্যন্ত বড় হলে দেখতে সুন্দর লাগে। খাটো পর্দা ঘরের সঙ্গে মানায় না। তাই বসার ঘরে খাটো পর্দা না রাখাই ভালো। আর রঙ বাছাইয়ের চিন্তা যদি করতে হয়, তবে নির্বাচন করতে পারেন হালকা সবুজ, চকোলেট, নীল, গোলাপি কিংবা বাদামি রঙ। ইচ্ছে হলে একরঙা কাপড় ব্যবহার করতে পারেন। কিংবা চেক কাপড়েও ভালো মানাবে।

শোয়ার ঘর
ক্লান্ত শরীরে নিজেকে বিশ্রাম দিতে শোয়ার ঘরের ইন্টেরিয়রেও মনোযোগ দিতে হবে। শোয়ার ঘরের ক্ষেত্রে ভারী পর্দায় প্রাধান্য দিতে পারেন। কাপড় বাছাইয়ে মোটা কাপড় বাছাই করতে হবে। রঙ পছন্দের ক্ষেত্রে অফ হোয়াইট, গোলাপি বা হালকা সবুজকে প্রাধান্য দিতে পারেন।

সাজবে শিশুর ঘর
শিশুদের রঙিন দুনিয়া। সেটা তাদের কল্পনাতেও। আর বাস্তবে বাবা-মায়েরাও চান শিশুর ঘরটাকে সুন্দর করে রাঙিয়ে দিতে। সেই রাঙানোর ক্ষেত্রে মনোযোগ দিতে হবে রঙিন পর্দার দিকে। ছেলে-বাচ্চাদের ক্ষেত্রে নীল আর মেয়েদের ক্ষেত্রে পছন্দের তালিকায় রাখতে পারেন গোলাপি। তবে আপনার শিশুর পছন্দের দিকে আগে নজর দিন। নানা কার্টুন চরিত্র দিয়ে সাজিয়ে দিতে পারেন তার ঘরটি।

পর্দা শুধু ঘর সাজানোর অনুষঙ্গ হিসেবে নয়, এটি বহন করে আপনার রুচি ও ব্যক্তিত্ব। তাই বাসার সুবিধার্থে দুই সেট পর্দা রাখতে পারেন। একসেট সবসময় ব্যবহার করবেন। আরেক সেট রেখে দিতে পারেন অতিথিদের জন্য কিংবা বাড়িতে কোনো উৎসবের জন্য।
প্রতিদিন বা একদিন পরপর ভেজা কাপড়ে গ্রিল ও শুকনো কাপড়ে ফার্নিচার মুছে নিলে পর্দা কম ময়লা হয়।
যারা দেশি আমেজে ঘর সাজাতে চান, তারাও পর্দার দিকে মনোযোগী হতে পারেন। তাদের জন্য ভালো সমাধান হচ্ছে চেক, ব্লক প্রিন্ট, বাটিক ও নকশিকাঁথার পর্দা বেছে নেয়া। কারণ এ ধরনের পর্দায় ষোলআনা বাঙালিয়ানা ফুটিয়ে তোলা সম্ভব।
আপনার যে কক্ষে বেশি আলো-বাতাস খেলা করে সেই ঘরে দরজা-জানালায় হালকা রঙের নেটের পর্দা ভালো লাগবে। শুধু তা-ই নয়, ধুলাবালিতে নোংরা হলেও সমস্যা নেই, কারণ নেটের পর্দা ধুয়ে ফেলা সহজ।

আহসান রনি
চোখের সামনে ঘন গাঢ় সবুজ দেখতে কার-না ভালো লাগে। বিশেষ করে কম্পিউটারের সামনে একটানা তাকিয়ে থাকতে থাকতে হঠাৎ বারান্দা বা জানালার গ্রিল জড়িয়ে কাঁপতে থাকা কচি সবুজ পাতার দিকে তাকালেই যেন দু’চোখ জুড়িয়ে যায়। কিংবা পড়তে পড়তে, লিখতে লিখতে বা একাধারে কাজ করতে করতে যে একঘেয়েমি ও বিষণœতার ছাপ পড়ে চোখে-মুখে, তা দূর করতেও চাই চোখের সামনে শুধুই সবুজ আর সবুজ। সকালে ঘুম থেকে উঠে চোখ মেলেই ঘরের দেয়ালজুড়ে সবুজ দেখতে পারাটা চোখ ও মনের শান্তি ভরপুর মিটিয়ে দেয়। আর সবুজের এসব অসম্ভব আবদার কেবল সম্ভব করতে পারে ভার্টিক্যাল গার্ডেন।
বাগান সৃজনের একটি বিশেষ পদ্ধতি ‘ভার্টিক্যাল গার্ডেন’, যেখানে অল্প জায়গায় অধিক গাছ রোপণ করে স্থানটি সবুজে সাজিয়ে তোলা যায়। যাদের ছাদে বা আঙিনায় বাগান করার সুযোগ নেই, তাদের জন্য ভার্টিক্যাল গার্ডেন বা উলম্ব^ বাগান ইদানীং খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। যদিও ভার্টিক্যাল গার্ডেন বাড়ির ছাদে কিংবা যেকোনো পরিসরেই করা সম্ভব, তবুও শহরের সবুজপ্রিয় মানুষ বিকল্প জায়গা না পেয়ে বারান্দা ও ঘরের দেয়ালকেই বেছে নিচ্ছে।
যেহেতু ভার্টিক্যাল গার্ডেনে স্তরে স্তরে বা ধাপে ধাপে তুলনামূলক কম দূরত্বে একটার পর একটা গাছ রোপণ করা হয়, তাই অগভীরমূলীয় প্রায় সব বীরুৎজাতির উদ্ভিদ ভার্টিক্যাল গার্ডেনের জন্য সবচেয়ে বেশি উপযোগী। তবে রোদ বা আলো-বাতাসের প্রাপ্যতাভেদে অগভীরমূলীয় ফুল, সবজি, ফল কিংবা পাতাবাহারি গাছের চারা রোপণ করেও ভার্টিক্যাল গার্ডেন গড়ে তোলা যায়।
ছাদে বা বারান্দায়, যেখানে দিনে অন্তত ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা সরাসরি আলো পৌঁছে, সেসব জায়গায় চাইলেই ফুল বা শাক-সবজি লাগিয়ে ভার্টিক্যাল গার্ডেন গড়ে তোলা যায়। বিশেষত শীতের ফুল, যেমন- পিটুনিয়া, ভার্বেনা, ডায়ানথাস, এসটার, ফ্লক্স, সিলভিয়া, জিনিয়া ইত্যাদি ফুল দিয়ে সহজেই ভার্টিক্যাল গার্ডেন করা যায়। পাশাপাশি প্রায় সারা বছর ফোটে এমন ফুল যেমন মর্নিং ডোয়ার্ফ গøরি, পানিকা, চাইনিজ টগর ও পুর্তলিকা দিয়েও ভার্টিক্যাল গার্ডেন করা যায়। একইভাবে বারান্দা ও ছাদে ভার্টিক্যাল গার্ডেন করে তাতে শাক-সবজি লাগিয়েও ভালো ফলন পাওয়া যায়। টমেটো, চেরি টমেটো, লেটুস, ব্রোকলি, মরিচ, ক্যাপসিকাম, লালশাক, পালংশাক, ডাঁটাশাক ইত্যাদি শাক-সবজি সহজেই ভার্টিক্যাল গার্ডেন করে চাষাবাদ করা যায়।
ঘরের ভেতরে, লিভিং রুম বা অফিসেও চাইলে ছায়াবান্ধব পাতাবাহারি গাছ দিয়ে ভার্টিক্যাল গার্ডেন তৈরি করা যায়। মানিপ্ল্যান্ট, এলোকেশিয়া, ফার্ন, স্পাইডার, লিলি, এনথোরিয়াম, বোট লিলি, ড্রাসেনা, মেরেন্টা, মনস্টেরা ইত্যাদি গাছ দিয়ে ভার্টিক্যাল গার্ডেন করে অফিস বা বাসাবাড়ির ভেতরের দেয়ালগুলো নান্দনিকভাবে সাজিয়ে তোলা যায়। ইদানীং বিভিন্ন পদ্ধতিতে প্লাস্টিক, লোহা, স্টিল বা কাঠের ফ্রেম বানিয়ে দেয়ালে সেট করে তাতে পোর্টেবল টব ঝুলিয়ে ভার্টিক্যাল গার্ডেন তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেয়ালের ধাপে ধাপে সিমেন্টের স্থায়ী বেড বানিয়েও ভার্টিক্যাল গার্ডেন করা যায়। তবে আধুনিক পদ্ধতির ভার্টিক্যাল গার্ডেনের অনেক উপকরণ আমাদের দেশে উৎপাদন না হওয়ায় দেশের বাইরে থেকে আমদানি করতে হয়। ফলে বেশ খানিকটা খরচ পড়ে যায় উন্নত প্রযুক্তির ভার্টিক্যাল গার্ডেন সৃজনে। একই সঙ্গে দেশীয় প্রচলিত পদ্ধতিতে বাঁশ, কাঠ ও রডের মতো সহজলভ্য উপকরণ দিয়ে তুলনামূলক কম খরচেও ভার্টিক্যাল গার্ডেন করা সম্ভব। ভার্টিক্যাল গার্ডেনে যেহেতু পরিচিত ও দেশীয় সহজলভ্য গাছগুলোই রোপণ করা হয়, তাই এর যতœ ও পরিচর্যা-পদ্ধতি খুব একটা জটিল নয়। পরিমিত পানি ও প্রতি এক-দুই মাস অন্তর পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার, সার, ভিটামিন সরবরাহ করলেই গার্ডেন সবুজ ও সতেজ থাকে। এ ছাড়াও অটোমেটিক ড্রিপ ইরিগেশন সিস্টেম চালু করে তার সঙ্গে টাইমার কিংবা সেন্সর সেট করে সঠিক পানি-ব্যবস্থাপনা করা যায় ভার্টিক্যাল গার্ডেনে। আর একসঙ্গে যেহেতু পাশাপাশি অনেকগুলো গাছ থাকে, তাই রোগবালাই যেমন ছত্রাক বা ভাইরাসের আক্রমণ হলে তা দ্রæত ছড়ায়। ফলে আক্রান্ত গাছকে দ্রæত প্রতিস্থাপন করে সহজেই প্রতিকার পাওয়া সম্ভব। পাশাপাশি কিছু জৈব বালাইনাশক ও প্রাকৃতিক উপাদান থেকে তৈরি বায়ো পেস্টিসাইড স্প্রে করেও প্রতিকার পাওয়া সম্ভব।
ভার্টিক্যাল গার্ডেন আয়তনে বড় হলে মাটির পরিবর্তে কোকোডাস্ট, পার্লাইট, পিটমস, কম্পোস্ট কিংবা অর্ধেক মাটি অর্ধেক কোকোডাস্ট বা কম্পোস্ট মিশিয়েও গ্রোইং মিডিয়া তৈরি করা যায়। মাটিবিহীন ভার্টিক্যাল গার্ডেন একদিকে যেমন হালকা ও টেকসই হয়, অন্যদিকে কাদা-ময়লা ও রোগবালাইও তুলনামূলক কম হয়। পাশাপাশি হাইড্রোফোবিক বা জলচাষ পদ্ধতিতেও মাটিবিহীন ভার্টিক্যাল গার্ডেন করা যায়।

কামরুজ্জামান কাজল


‘আজি ঝরঝর মুখর বাদর দিনে…’ বর্ষার রিমঝিমের সঙ্গে সঙ্গে অজান্তেই গেয়ে ওঠে মন। বর্ষা আবেগের ঋতু। নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলার ঋতু। সেই সঙ্গে টুকটাক নাগরিক ভোগান্তিরও ঋতু। বর্ষায় রাস্তাঘাট পানিতে যেমন জনজীবন বিপর্যস্ত করে তোলে, তেমনি ঘরের ভেতর আছে পোকামাকড়ের ঘরবসতি। আলমারির কাপড় থেকে ভ্যাপসা গন্ধের ভোগান্তি। যারা একটু পরিপাটি থাকতে পছন্দ করেন ঘরের মাঝে, তাদের জন্য বাড়তি বিড়ম্বনা যোগ হয় এ মাসটাতে। তবে ইচ্ছায় কী না হয়। একটুখানি ইচ্ছা এবং কৌশলী হতে পারলেই এ বর্ষায় আপনার ঘরবাড়িও থাকবে পরিপাটি। মনের মতো। আর তার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন ফারজানা’স ব্লিজ এর স্বত্বাধিকারী ফারজানা গাজী। তিনি জানান, আসবাব সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হলে আর ঘরের মধ্যে আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করা গেলে এ মৌসুমেও ঘর থাকবে সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর।

দেয়ালে বর্ষার ছাপ
বৃষ্টি এলেই ঘরের জানালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। তবে এরই মধ্যে বৃষ্টির ছাঁট এলে ভিজে যেতে পারে জানালায় ঝোলানো পর্দাগুলো। তাই এ সময় এমন কাপড়ের পর্দা ব্যবহার করা উচিত, যেন তা ভিজে গেলেও সহজেই শুকিয়ে যায়। কারণ দীর্ঘক্ষণ পর্দা ভেজা থাকলে পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়তে পারে সোঁদা গন্ধ। পলিয়েস্টার, রেশম বা পাতলা সুতির কাপড়ে তৈরি পর্দা এ সময়টার জন্য বেশ উপযোগী।
বৃষ্টি থেমে গেলে খুলে দিন জানালা, সরিয়ে দিন পর্দা। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রটাও বন্ধ থাক খানিকটা সময়। প্রাকৃতিক হাওয়া ঘরে এলে ঘরের গুমোট ভাবটা কেটে যাবে। ঘরের স্যাঁতসেঁতে ভাব এড়াতে হলে খেয়াল রাখুন, ঘরে কোনো ভেজা জিনিস যেন না থাকে। ভেজা জুতা, ভেজা মোজা বা ভেজা কাপড়, যেকোনোটির জন্যই ঘরে সোঁদা গন্ধ পাবেন আপনি। ঘরের ভেতরের দেয়াল বা মেঝে ভেজা অবস্থায় রাখবেন না। দেয়াল বা ছাদ থেকে বৃষ্টির পানি চুইয়ে পড়লে নির্মাণকর্মীদের দিয়ে দেয়াল বা ছাদের সমস্যাটি সারিয়ে নিন তাড়াতাড়ি।

যত্নেরর বই যত্নেই থাকুক
যত্ন করে গুছিয়ে রাখা বইগুলোতেও বর্ষার প্রভাব পড়তে পারে। সাধারণত যে বইগুলো একটু কম নাড়াচাড়া হয়, সেগুলো এ মৌসুমে স্যাঁতসেঁতে হয়ে পড়ে। শখ করে কেনা হোক বা প্রয়োজনীয় কোনো বই, মাঝেমধ্যেই সেগুলোকে বইয়ের তাক থেকে নামিয়ে শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে রাখুন। এতে বইগুলো ভালো থাকবে বহুদিন। এ ছাড়া বইয়ের তাকে শুকনো নিমপাতা রাখতে পারেন। কোনো বইয়ের পাতায় বা মলাটে স্যাঁতসেঁতে ভাব দেখা গেলে অপেক্ষা করুন রোদের জন্য। যেদিন খানিক রোদের দেখা মিলবে, সেদিন বইগুলোকে বারান্দায় রোদে রাখুন কিছুটা সময়ের জন্য।

খবর নেই কাপড়ের
আলমারি বা ওয়্যারড্রোব থেকে কাপড় বের করার পর অবশ্যই তা ভালোভাবে আটকে রাখতে হবে। কাঠের তৈরি আসবাবপত্র সঠিকভাবে লাগানো হলো কিনা, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখুন, কারণ এগুলো অনেক সময়ই সঠিকভাবে লাগাতে পারা যায় না। আসবাবপত্র সঠিকভাবে লাগানো না হলে ভেতরে থাকা কাপড়গুলো বাতাসের আর্দ্রতার কারণে স্যাঁতসেঁতে হয়ে পড়তে পারে।

ফুলে সুরভিত ঘর
হালকা ঘ্রাণযুক্ত ফুল ঘরে রাখা যেতে পারে। তাজা বেলি ফুলের একটা মালা ঘরে রেখে দেখুন, সতেজ হয়ে উঠবে ঘরের পরিবেশটা। সুগন্ধি অন্য কোনো ফুলও পানিতে ভিজিয়ে রাখতে পারেন। গন্ধরাজ ফুলের মতো যেসব ফুলের পাপড়ি একটু পুরু, সেগুলো বেশ কিছুদিন পানিতে ভিজিয়ে রাখা যায়। তবে ফুলদানি বা বোতলে পানি দিয়ে ফুল রাখলে অবশ্যই প্রতিদিন পানি পাল্টে দিতে হবে। ফুল সতেজ থাকা অবস্থায় যদি ফুলের ডাঁটার কোনো অংশ পচে যায়, তাহলে পচা অংশটুকু কেটে ফেলে দিন।
আপনার মন চনমনে রাখতে ঘরের রঙে পরিবর্তন এনে লাল, হলুদ অথবা পার্পল ও গাঢ় পার্পল ওয়েদারকোট লাগাতে পারেন। বাড়ির বাগানে একটা বড় রঙচঙা ছাতা লাগাতে পারেন, যা আপনার বৃষ্টি দিনগুলোকে আরো উপভোগ্য করবে।

গ্রীষ্মে রোদের উত্তাপ থেকে বাঁচতে ঘরে যে হালকা রঙের পর্দাগুলো লাগিয়েছিলেন, সেখানে বৃষ্টির দিনে উজ্জ্বল রঙের পর্দা লাগান। বর্ষায় এমনিতেই চারপাশ কেমন ফ্যাকাশে হয়ে যায়। তাই ঘরের উজ্জ্বল ভাব আপনাকে প্রাণবন্ত করবে।
ঘরের পরিবেশ সুন্দর রাখতে ঘরে নরম আলোর বাল্ব ব্যবহার করুন। যেমন হালকা নীল অথবা হালকা সবুজ।
আপনার বেডশিট ও বেডকভারে হালকা স্প্রে করুন, এতে আর্দ্রভাব কমবে।
বিছানা ও বালিশের কভার নরম কটনের ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। গোলাপি, লাল, সাদা ও হালকা সবুজ রঙের চাদর ব্যবহার করতে পারেন।

সাবরিনা মিলি

•আলো আর সবুজের প্রাচুর্যতার মিশেল


অফিসটিতে ঢুকতেই মনের মধ্যে অন্যরকম একটা অনুভূতি উঁকি দিল। নাকে কৃত্রিম লেবুর সুগন্ধ ঠেকলেও কেন যেন সেখানে সতেজতার পাশাপাশি প্রাকৃতিক আলোর প্রাচুর্যতা মনে ভিন্নরকম প্রশান্তি এনে দিল। বলছি রাওয়া কমপ্লেক্সের ১১তলায় অবস্থিত ম্যাক্স গ্রুপের করপোরেট অফিসের গল্প।
‘গল্প’ শব্দটি ব্যবহারের কারণ আমাদের গতানুগতিক অফিসগুলোর ভেতরের পরিবেশ থেকে এটা ব্যতিক্রম। স্বপ্নের অফিস বলতে যা বোঝায় অনেকটা সে রকমই।
আঠারো হাজারের বেশি বর্গফুটের এই অফিসের খোলামেলা পরিবেশ, সবুজের সমারোহের সঙ্গে কাঠ এবং গ্লাসের চমৎকার মিশেলে তৈরি ইন্টেরিয়র ডিজাইন একজন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে স্থপতি, ইন্টেরিয়র ডিজাইনার বা যেকোনো শিল্পীর নজর কাড়তে বাধ্য।
রাওয়া কমপ্লেক্সের এই ভবনটির অবস্থানের সুযোগটাকে কাজে লাগাতেই অফিসের ইন্টেরিয়র ডিজাইনে মূল উপাদান হিসেবে গ্লাস ব্যবহার করা হয়েছে। ভবনটির সামনের কিছু অংশে রয়েছে মহাখালী ফ্লাইওভারের রাস্তা, এক পাশে মহাখালী ডিওএইচএসের রাস্তা এবং পেছনের অংশে মহাখালী ডিওএইচএস। ফলে সামনে ও পাশে রাস্তার সুবিধার পাশাপাশি পেছনে ডিওএইচএসের কারণে নেই কোনো বহুতল ভবন। এই সুযোগটাই পুরোপুরিভাবে লুফে নিয়েছেন ভবনটির ডিজাইনার স্থপতি আজরিন আলম। এটির ফ্লোরে ব্যবহার করা হয়েছে ইতালিয়ান মার্বেল আর দেয়ালে শোভা পাচ্ছে মালয়েশিয়ান এবং চায়নার রাস্টিক টাইলস। তবে কিছু দেয়ালে ডেকোরেটিভ টাইলসও ব্যবহার করা হয়েছে। এখানে চেয়ারম্যানের রুম থেকে শুরু করে ম্যানেজিং ডিরেক্টর, ডিরেক্টর, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের রুম ছাড়াও কনফারেন্স রুম, রিসিপশন ও ওয়েটিং জোনের প্রতিটা জায়গায় মিলবে ডিজাইনারের সূক্ষ্ চিন্তার বহিঃপ্রকাশ। ডিজাইনারের চিন্তা থেকে বাদ যায়নি কিচেন, নামাজের কক্ষ, স্টোর রুম, ওয়াশরুম এবং অজুখানার স্থানটিও। ওয়াশরুমে ঢুকতেই দু’পাশে রাস্টিক টাইলসের পাশাপাশি সামনের দেয়ালজুড়ে আছে মোজাইক টাইলস। রয়েছে পরিপাটি অজুখানা। এসব কেবল নান্দনিকতার পরিচয়ই বহন করে না, বরং শিল্পীর রুচিবোধ এবং সমৃদ্ধ মানসিকতাই ফুটিয়ে তোলে। লাইটিংয়ে ক্ষেত্রেও মেলে ভিন্ন চিন্তার প্রকাশ।

সার্বিক বিষয় নিয়ে কথা হয় ম্যাক্স গ্রুপের পরিচালক, ইন্টেরিয়র ডিজাইনার ও স্থপতি আজরিন আলমের সঙ্গে।

28461083_10156216433649511_978388825_o
কোন ভাবনা থেকে এই কাজটি করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন?
এটি ছিল আমার বাবার স্বপ্নের প্রকল্পের মধ্যে একটি। তিনি সবসময় ভাবতেন ম্যাক্স গ্রুপের করপোরেট অফিস হবে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন। আমাকেও তার স্বপ্ন ও অনুভূতির কথা জানিয়েছিলেন। তখন থেকেই এই অফিসের ডেকোরেশন নিয়ে আমি চিন্তা-ভাবনা শুরু করি। আমি বুয়েট থেকে স্থাপত্য বিষয়ে পড়াশোনা করেছি। লক্ষ্য ছিল গতানুগতিক ধারার বাইরে এসে ডিজাইন করব। কারণ বাংলাদেশের অধিকাংশ অফিসের পরিবেশ অনেক হিজিবিজি। তাই আমি চেয়েছিলাম এখানে খোলামেলা পরিবেশ এবং অনেক জায়গা ফাঁকা থাকবে। সেই ভাবনা থেকেই কাজটি করা।

কাজটি করতে গিয়ে মূল চ্যালেঞ্জ কী ছিল?
প্রথম দিকে আমার ভাই এ নিয়ে আমাকে অনেকবার বলেছে কেন এত জায়গা ফাঁকা রাখছি। আমি আমার সিদ্ধান্তে অটুট ছিলাম। আসলে আমি চাচ্ছিলাম পরিবেশটা এমন হোক যাতে এক জায়গা থেকে সম্পূর্ণ অফিস দৃষ্টিগোচর হয়। কারণ অফিস তো কাজেরই জায়গা, এখানে এত প্রাইভেসির কিছু নেই। তাই খোলা পরিবেশের পাশাপাশি গ্লাস ব্যবহারের কারণে স্বচ্ছতার এক নতুন আবহ সৃষ্টির চেষ্টা করেছি।

অন্য কোনো অফিসের ক্ষেত্রে এত সহজে কি কাজটি করা যেত?
গত পাঁচ-ছয় বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে দেখেছি, আগে কাজ করার জন্য এত বেশি স্বাধীনতা দিতেন না গ্রাহকরা। কিন্তু ধারণা পাল্টাচ্ছে। কারণ কিছু ভালো কাজ করার ফলে মানুষ বুঝতে পারছে। ফলে তারা ডিজাইনারদেরও সুযোগ দিচ্ছে।

আপনার ডিজাইনে কী কী ধরনের উপাদান রাখার চেষ্টা করেছেন?
আমি প্রধানত গ্লাস এবং অ্যালোবোর্ড ব্যবহার করেছি অনেক। গ্লাস এখানে মূল উপাদান। আমার চিন্তা ছিল বাইরের লাইটকে আমার ডিজাইনের ভেতরে নিয়ে আসব। এখানে কিছু মেটালিক টাস্কও রেখেছি। এ ছাড়া ফ্লোরে ইতালিয়ান মার্বেল, দেয়ালে রাস্টিক টাইলসের পাশাপাশি কিছু ডেকোরেটিভ টাইলস বা মোজাইক টাইলস ব্যবহার করেছি। অফিসের ভেতরে সবুজের ছোঁয়া আনার জন্য গাছ রেখেছি, যা মানসিক প্রশান্তির জন্য প্রয়োজন। লাইটিংয়েও আমি কিছু পরিবর্তন এনেছি। গতানুগতিকভাবে একই ধরনের লাইট না দিয়ে স্থান এবং কাজের ধরন বুঝে লাইটের ব্যবহার করেছি। যদিও এর সঙ্গে অতিরিক্ত কিছু লাইট দিয়ে একটি ড্রামা তৈরি করারও চেষ্টা করেছি। সার্বিকভাবে আমার লক্ষ্য ছিল একটি সুন্দর কর্মপরিবেশ তৈরি।

28459586_10156216433644511_516317015_o

এই অফিসটি ডিজাইনের সময় কোন জায়গাটি ইন্টারেস্টিং মনে হয়েছে?
আমার অফিস-রুমে দাঁড়িয়ে খোলা আকাশ, ফ্লাইওভার অর্থাৎ বাইরের পরিবেশটা দেখতে পারছি। বাইরের সেই খোলামেলা পরিবেশ আমি আমার ডিজাইনের মাধ্যমে ভেতরে আনার চেষ্টা করেছি। বাইরে যদি আমি এই পরিবেশ না পেতাম, তাহলে হয়তো ভেতরে এমন পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হতো না। এক কথায় ডে-লাইটের প্রাচুর্যতার পাশাপাশি খোলামেলা পরিবেশ একে ইন্টারেস্টিং করে তুলেছে। আমি মনে করি একজন ডিজাইনার তখনই সফল, যখন বাইরের সৌন্দর্যটাকে ভেতরে নিয়ে আসতে পারে। আমার কাছে মনে হয় এদিক দিয়ে আমি সফল।

এক্সটেরিয়র আর ইন্টেরিয়রকে আপনি পরস্পরের পরিপূরক মনে করেন কিনা?
অবশ্যই। ধরুন বাইরের থেকে দেখতে একটা ভবন খুব সুন্দর ডিজাইন করলাম কিন্তু ভেতরে ডিজাইনের সময় সেই গ্র্যামার ধরে রাখতে পারলাম না এমন হলে একজন ডিজাইনার ব্যর্থ। তাই ডিজাইনের সময় বাইরে এবং ভেতরে দুটো বিষয়ই মাথায় রেখে কাজ শুরু করতে হবে।

ডিজাইন নিয়ে বর্তমান ব্যস্ততা কেমন যাচ্ছে?
আমি আমাদের প্রতিষ্ঠানের কাজই বেশি করছি। কিছুদিন আগে আমার নিজের বাসার এক্সটেরিয়র এবং ইন্টেরিয়রও আমিই করেছি। তবে এর পাশাপাশি অন্যদেরও কিছু কাজ করি। এ ছাড়া পাওয়ার প্লান্টের কাজও করেছি। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে দুটি মসজিদের ডিজাইন করেছি।

কারিকা ডেক্স


অফিস কিংবা ঘরের অন্দর সাজসজ্জা নিয়ে বরাবরই আলোচনা চলে খাবার টেবিল থেকে ড্রইংরুমেও। গৃহশৈলীর নিত্যনতুন সামগ্রী সাধ আর সাধ্যের মধ্যে রেখে বসবাসের ঘরটি আকর্ষণীয় করে তুলতে চায় সবাই। এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখে আলোকসজ্জা। জেনে নিন লাইট ব্যবহারে কিছু প্রয়োজনীয় বিষয়

১. ঝাড়বাতির জন্য চাই বড় আয়তনের বসার ঘর। কারণ বড় বসার ঘরে ইচ্ছেমতো ঝাড়বাতি স্থাপন করা যায়। অন্যদিকে ছোট বাসার ঘরে ঝাড়বাতি বেমানান লাগে।
২. মাঝারি ধরনের বসার ঘরের জন্য সিলিং ছোট আকারের লাগোয়া ঝাড়বাতি বেছে নিতে পারেন। এক্ষেত্রে ফুলের নকশা বা চার কোণাকৃতির ঝাড়বাতি ভালো মানায়।
৩. ঘরের ইন্টেরিয়র পরিকল্পনার শুরুতেই লাইটিং প্ল্যান করে নেয়া ভালো। অন্দরসজ্জায় তিন ধরনের বাতির ব্যবহার হয়। জেনারেল, টাস্ক এবং একসেন্ট লাইটিং। আপনি পছন্দমতো এবং ইন্টেরিয়র ডিজাইনারের সঙ্গে আলোচনা করে পরিকল্পনামাফিক ব্যবহার করলে অতি সহজেই ঘরে জমকালো আমেজ এনে দেবে।
৪. ঘরের প্রতিটি অংশে পর্যাপ্ত আলো পৌঁছে দিতে জেনারেল লাইট ব্যবহার করা হয়। সিলিং লাইট, টেবিল এবং ফ্লোর ল্যাম্প, আপ অ্যান্ড ডাউন ওয়াল লাইট ইত্যাদি জেনারেল লাইটিংয়ের মধ্যে পড়ে।
৫. জরুরি কাজের জায়গাগুলো আলোকিত করার জন্য টাস্ক লাইট ব্যবহার করা হয়। যেমন শোবার ঘরের স্টাডি টেবিল, রান্নাঘরের কাউন্টারটপ ইত্যাদি।
৬. ঘরের কোণ কিংবা একটি নির্দিষ্ট জিনিসকে হাইলাইট করার জন্য একসেন্ট লাইটিং ব্যবহৃত হয়। দেয়ালের পেইন্টিং, স্কাল্পচার, গাছ অথবা কোনো বিশেষ শোপিস এর মাধ্যমে হাইলাইটেড হয়।
৭. বসার ঘরে লাগাতে পারেন রকমারি ওয়াল ব্র্যাকেট। ঝাড়বাতির সঙ্গে মিল রেখে স্টিল, পিতল ইত্যাদি ধরনের ওয়াল ব্রাকেট পাওয়া যায়। ব্রাকেট ব্যবহার করতে চাইলে বসার ঘরের জানালার ওপর স্থাপন করাই ভালো।
৮. বড় বসার ঘরে অথবা ফলস সিলিং বসানো থাকলে সোফার এক পাশে রাখতে পারেন গাছের আদলের স্ট্যান্ডিং লাইট। অ্যালুমিনিয়াম স্ট্যান্ডে ক্রিস্টাল আর কাচের তৈরি এই লাইট বেশ জমকালো ভাব আনবে ঘরে।
৯. খাবার টেবিলের ওপর পছন্দসই শেডযুক্ত পেনডেন্ট লাইটের ব্যবস্থা রাখতে পারেন।
১০. ঘর বড় হলে ওয়াল লাইট ব্যবহার করতে পারেন। বিশেষ কিছু হাইলাইট করার জন্য ব্যবহার করতে পারেন স্পটলাইটও।
১১. খাবার টেবিল বরাবর সিলিং থেকে ছোট-বড় কয়েকটি হ্যাংগিং লাইটও ঘরের পরিবেশে যোগ করবে ভিন্ন মাত্রা।
১২. শোবার ঘরে ওয়াল লাইটের সঙ্গে ঘরের এক কোণে পেনডেন্ট লাইটও লাগিয়ে নিন।
১৩. বিছানার পাশে ওয়াল ব্রাকেট লাগালে বই পড়ার কাজে লাগবে। শোবার ঘরে ডিমার লাইটিংয়ের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। আবার ড্রেসিং টেবিলের ওপর লাগানোর জন্য স্পটলাইটই উপযুক্ত।
১৪. ঘরের প্যাসেজ বা প্রবেশপথে দরকার পর্যাপ্ত আলো। তাই সিলিং লাইট কিংবা আপ অ্যান্ড ডাউন লাইটের ব্যবহার এখানে বেশি মানানসই।
১৫. দেয়ালে কোনো পেইন্টিং, আয়না বা শিল্পকর্ম থাকলে তার ওপর ব্যবহার করুন স্পটলাইটের মতো একসেন্ট লাইটিং।
১৬. ছোটদের ঘরেও ব্যবহার করুন বিভিন্ন ডেকোরেটিভ লাইট। যেমন খেলার ঘর সাজাতে পারেন রিকশা, সাইকেল, জিপ, ফুটবল ইত্যাদির আদলে তৈরি সিলিং হ্যাংগিং দিয়ে। পড়ার টেবিলে রাখার জন্য মজার কবিতা লেখা ল্যাম্পশেডও এখন বাজারে পাওয়া যায়।