Home বাজার দর অন্যান্য

কারিকা প্রতিবেদক
বায়ুদূষণের মাত্রায় লাগাম টানতে দেশে প্রথমবারের মতো বায়ুদূষণবিরোধী আইন করতে যাচ্ছে সরকার।
‘নির্মল বায়ু আইন’ শিরোনামের আইনের মাধ্যমে বায়ুদূষণকারীদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে যেতে চায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।
খসড়া আইন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বায়ুদূষণের অপরাধ প্রমাণিত হলে দুই বছরের কারাদন্ড অথবা অনূর্ধ্ব ২ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দন্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আইনটি পাস হলে প্রথমবার শাস্তি ভোগ করার পর আবার বায়ুদূষণ করা হলে দুই থেকে দশ বছর পর্যন্ত কারাদন্ড দেওয়া হবে। জরিমানা গুনতে হবে ২ থেকে ১০ লাখ টাকার মধ্যে। কিংবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হতে হবে। তৃতীয়বার একই অপরাধ করলে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালত, বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট ও পরিবেশ আদালত- এই তিনটি আদালতে বায়ুদূষণের মামলা চলবে। খসড়া আইনটি তৈরি করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা)।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আইনটি বাস্তবায়ন করা কতটা সহজ হবে- জানতে চাইলে বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘বাংলাদেশে এমন অসংখ্য আইন আছে। আইনে কঠোর শাস্তির কথাও বলা আছে। কিন্তু আইন বাস্তবায়িত হয় না। আমরা ভারত, ভিয়েতনামসহ কয়েকটি দেশের বায়ুদূষণ আইন পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের বাস্তবতায় ‘নির্মল বায়ু আইন’টির খসড়া তৈরি করে দিয়েছি। দেখার বিষয়, আইনটির যথাযথ বাস্তবায়ন হয় কিনা। আমরা চাই, যারা বায়ুদূষণ করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। সেটা বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব সরকারের।’
বায়ুদূষণের অপরাধী চিহ্নিত করার উপায় সম্পর্কে খসড়া আইনে বলা হয়েছে, আইনের মাধ্যমে সরকার প্রথমে বায়ুদূষণের মানমাত্রা ঠিক করে দেবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সরকারের বেঁধে দেওয়া মানমাত্রা অতিক্রম করলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। আইনটি পাস হওয়ার এক বছরের মধ্যে সরকার বায়ুদূষণের মানমাত্রা, এর পদ্ধতি ও মানদন্ড নির্ধারণ করে দেবে। সরকারি সংস্থা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তি- যারা-ই নির্ধারিত মানমাত্রার চেয়ে বেশি বায়ুদূষণ করবে, তাদের একটি তালিকা করা হবে। সেই তালিকা ধরে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।
জানা গেছে, খসড়া আইনটি নিয়ে গত মাসে দিনভর বৈঠক হয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তরে। খসড়াটি পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে সংসদীয় কমিটি হয়ে পাঠানো হবে মন্ত্রিসভায়। তার আগে বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়া হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানান, বেশ কয়েকটি দিক বিবেচনা করে অর্থদন্ড কিংবা কারাদন্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। প্রথমেই দেখা হবে ওই ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানের বায়ুদূষণের পেছনে অবহেলা ও অসাবধানতার মাত্রা কতটা। জনস্বাস্থ্য, জনকল্যাণ ও পরিবেশের জন্য ওই অপরাধ কতটা প্রভাব রাখছে- এসব দিক বিবেচনা করে শাস্তি দেওয়া হবে। তবে দ্বিতীয়বার শাস্তি পাওয়ার পরও যদি কেউ বায়ুদূষণ করে তাহলে তার ওই শিল্প-কারখানা কিংবা প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়া হবে।
বাংলাদেশে কোন কোন খাত থেকে বায়ুদূষণ হয় এবং কাদের এই আইনের আওতায় আনা হবে, সে বিষয়ে আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্র, ইটভাটা, সিমেন্ট, বয়লার, ইস্পাত, লৌহ ও ঢালাই, অ্যালুমিনিয়াম, কাগজ, চামড়া, ওষুধ, সার, ব্যাটারি, রাসায়নিক, সিরামিক, কাচ, বর্জ্য, চুল্লি, কাঠ, কয়লা ও জাহাজভাঙা শিল্পের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের এই আইনের আওতায় আনা হবে। এছাড়া যানবাহন, ইঞ্জিন শক্তি, অভ্যন্তরীণ নৌযানের সঙ্গে যুক্তদেরও এই আইনের আওতায় আনা হবে।
এই আইনের আওতায় কোনো কোম্পানি নির্ধারিত মানমাত্রার বেশি বায়ুদূষণ করলে অপরাধটি সংঘটনের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত সব ব্যক্তি দায়ী হবে। তাদের বিরুদ্ধে যথারীতি আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কেউ যদি প্রমাণ করতে পারেন, অপরাধটি তার অজ্ঞাতসারে হয়েছে বা অপরাধটি না হওয়ার জন্য তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন, তাহলে তাকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে না। কোনো শিল্প-কারখানা ও প্রতিষ্ঠানে সরকারের বেঁধে দেওয়া মানমাত্রার চেয়ে বেশি পাওয়া যায় এবং সেখানে যদি প্রমাণিত হয় ওই অপরাধটি ওই কোম্পানির পরিচালক, ব্যবস্থাপক ও সচিবের সম্মতি এবং যোগসাজশে হয়েছে, তাহলে তাকে যথারীতি আইনি প্রক্রিয়ায় শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। সরকারি সংস্থার ক্ষেত্রেও একই বিধান রাখা হয়েছে।
আইনের সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক জিয়াউল হক বলেন, ‘বিদ্যমান পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে বায়ুদূষণের বিরুদ্ধে শক্ত কোনো ধারা নেই। শুধু বলা আছে, কেউ বায়ুদূষণ করলে পরিবেশ অধিদপ্তর ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বায়ুদূষণ বন্ধ করতে লিখিত নির্দেশ দিতে পারে। কিন্তু সরকার চায় একটা শক্ত আইন। যে আইনে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে শাস্তির আওতায় আনা যায়। আইনটি পাস হলে পরিবেশ অধিদপ্তরের ক্ষমতা আরও বাড়বে।’
খসড়া আইনটি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আইনের মাধ্যমে একটি বায়ুমান উন্নয়ন তহবিল গঠন করবে সরকার। সে তহবিলে টাকা আসবে সরকারের বাজেট অনুদান, বায়ুদূষণকারী ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া জরিমানা এবং আন্তর্জাতিক উৎস থেকে পাওয়া অনুদান থেকে। এই তহবিলের টাকা দিয়ে অভিযান, মামলা পরিচালনা করা হবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি বায়ুদূষণ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ, বায়ুর গুণগত মান রক্ষা ও উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখে, তাহলে সরকার সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করবে।
সম্প্রতি এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানা গেছে, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত ৩০ শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ১৭তম। বিশ্বের সবচেয়ে বায়ুদূষিত শহরের তালিকায় আছে বাংলাদেশের নাম। ২০১৮ সালের বায়ুদূষণের মাত্রা নিয়ে চলতি বছরের মার্চ মাসে গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে বেসরকারি সংস্থা এয়ারভিজ্যুয়াল ও গ্রিনপিস। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর বায়ুদূষণ রোধে নড়ে-চড়ে বসেন নীতিনির্ধারকরা। এরপরই বায়ুদূষণ রোধে কঠোর আইন প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। রাজধানীতে বছরজুড়েই খোঁড়াখুঁড়ি করে ওয়াসাসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থা। এতে বায়ুদূষণ হয় মারাত্মকভাবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৫৮ শতাংশ বায়ুদূষণ হয় ইটভাটা থেকে, যেসব ইটভাটা পরিচালনা করেন রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা। ফলে নতুন আইন পাস হলেও এটি কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় আছে পরিবেশবাদীদের মধ্যে।

কারিকা প্রতিবেদক
চলতি বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ ব্যাপকতা লাভ করে। ৬৪ জেলাতেই ছড়িয়ে পড়ে এই মহামারী। যদিও আগস্টের মাঝামাঝি এসে এর প্রকোপ কমেছে, তবে উদ্বেগ কমেনি মানুষের। কারণ ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যাও কম নয়। মৃতদের মধ্যে বেশ ক’জন ডাক্তার-নার্স থাকায় উদ্বেগের মাত্রা আরও বেড়েছে। তাই আগামীতে যেন ডেঙ্গু ব্যাপকতা লাভ করতে না পারে, সেই কর্মপরিকল্পনা ঠিক করতে এখনই চিন্তা শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ডেঙ্গু মোকাবেলায় সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য বিভাগের নানা স্তর ব্যাপক কর্মসূচি চালাচ্ছে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি অন্যান্য সংস্থাও ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে এগিয়ে এসেছে। তবে আগামী বছর যাতে ডেঙ্গু এভাবে না ছড়ায়, সেজন্য কাজ শুরু করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। সংস্থাটি চলতি (সেপ্টেম্বর) মাসের মধ্যে জাতীয় পর্যায়ে একটি কর্মশালা আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে। সেখানে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে প্রয়োজনীয় কর্মকৌশল নির্ধারণ করার কথা। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী ডাক্তার, নার্স, টেকনোলজিস্ট, কীটতত্ত¡বিদ, পরিচ্ছন্নতা ও মশা মারার কাজে সম্পৃক্ত সবাই কর্মশালায় অংশ নেবেন জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতর বলেছে, সেখান থেকেই পরবর্তী কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্র জানিয়েছে, দেশের চারটি বিভাগে মশা জরিপের উদ্যোগ নিয়েছে অধিদফতরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখা। মশার প্রজাতি শনাক্ত ও দেশব্যাপী মশা নিয়ন্ত্রণে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য এ জরিপ করা হবে।
এদিকে আগস্টের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত ডেঙ্গুজ্বর সন্দেহে ১৬৯ জনের মৃত্যুর তথ্য রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) এসেছে বলে নিশ্চিত করা হয়। এর মধ্যে ৮০টি মৃত্যুর পর্যালোচনার পর ডেঙ্গুতে ৪৭ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে প্রতিষ্ঠানটি।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ২৫ আগস্ট আয়োজিত এক সেমিনারে বলা হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর হার ১ শতাংশ বা তার বেশি হলে সেটা অস্বাভাবিক। তবে বাংলাদেশে এই রোগে মৃত্যুর হার শূন্য দশমিক ২ শতাংশেরও কম। মোট মৃত্যুর ৫ শতাংশই ডেঙ্গু আক্রান্ত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের। মৃত্যুর এ সংখ্যা সাধারণের তুলনায় ২০-২৫ গুণ বেশি। তবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুসংখ্যা শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ।
বিএসএমএমইউর এ-ব্লকের মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিনার সাব-কমিটির উদ্যোগে ‘ডেঙ্গু : বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষিত’ শীর্ষক সেমিনারে বলা হয়, সরকারি হিসাব মতে, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৬২ হাজারেরও বেশি রোগী, মারা গেছেন ৪৭ জন। তবে বেসরকারি হিসাবে মৃত্যুর হার এর দ্বিগুণ।
সেমিনারে প্রধান অতিথি উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, ‘প্রতিরোধেই অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। মশা নিধনে সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।’
সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. সাহানা আখতার রহমান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ রফিকুল আলমসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক ও আবাসিক ছাত্র-ছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়াও প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. চৌধুরী আলী কাওসার, এডিটর-ইন-চিফ, ন্যাশনাল গাইডলাইন ফর ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট অব ডেঙ্গু, অধ্যাপক ডা. কাজী তরিকুল ইসলাম।

আগামী বছরের কর্মপরিকল্পনা চলতি মাসেই
আগামী মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ ঠেকাতে কর্মকৌশল নির্ধারণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আগামী বছর যেন ডেঙ্গু বা মশাবাহিত রোগের প্রকোপ না হয়, সেজন্য ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছি। জাতীয় পর্যায়ে একটি কর্মশালার আয়োজন করা হবে। এ বছর ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন, তাদের সবাইকে নিয়ে কর্মশালা হবে। বিশেষ করে চিকিৎসক ও চিকিৎসাসংশ্লিষ্টরা, কীটতত্ত্ববিদ, সাংবাদিকসহ এ কাজে সম্পৃক্ত সবার পরামর্শেই প্রয়োজনীয় কর্মকৌশল ঠিক করা হবে। সেই অনুসারে পরবর্তী সময়ে কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।’

0 76

কারিকা প্রতিবেদক
চলতি বছরের জুলাই থেকে ঢাকা ও সারা দেশে আলোচনার শীর্ষে ছিল ডেঙ্গু। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি এডিস মশা দমনে ব্যস্ত ছিল নগর প্রশাসন থেকে শুরু করে সরকারের শীর্ষ মহল। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি উদ্যোগেও অনেককে এডিস মশা দমনে পদক্ষেপ নিতে দেখা গেছে। কিন্তু দৃশ্যত কোনো কার্যকর ফল পাওয়া যায়নি।
পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের শহর কলকাতা। কলকাতার সঙ্গে ঢাকার আবহাওয়া, ভাষা ও সংস্কৃতির অনেকটা মিল আছে। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ডেঙ্গু দমনে কলকাতা অনেকটাই সফল। তাই এডিস মশা নিধনে সফল কলকাতা পৌর সংস্থার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। এজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সংস্থা দুটি। তাদের ব্যবহৃত ওষুধ এবং যন্ত্রপাতিও সংগ্রহের আগ্রহ দুই সিটির। ইতোমধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম কলকাতার ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে কথা বলেছেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে কীটনাশক প্রয়োগের চেয়ে এডিস মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংসের প্রতি গুরুত্ব দেয়ার কথা বলেছেন কলকাতার ডেপুটি মেয়র।
এ ছাড়াও কলকাতায় ‘মশারে করো উৎসে বিনাশ’-এই স্লোগান নিয়ে বাসা-বাড়ি কিংবা উন্মুক্ত জলাশয়-যেখানেই এডিস মশার প্রজননস্থল পাওয়া যায় তা ধ্বংস করা হয়।
ঢাকার কোন কোন এলাকা ডেঙ্গুপ্রবণ তা চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেন অতীন ঘোষ। তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনভিত্তিক কৌশলী হতে হবে।’
অতীন ঘোষ জানান, কলকাতা পৌরসভা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণকে প্রতিরোধ ও প্রতিকার-দুটি ভাগে বিভক্ত করেছে। সেখানে সারা বছর ধরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মনিটরিং এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
কলকাতার ডেপুটি মেয়র আরও বলেন, কলকাতা পৌরসভা নয় বছর ধরে ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আজকের অবস্থানে এসেছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি জানান, কিউলেক্স মশা নিয়ন্ত্রণে ফগার মেশিনের সাহায্যে ওষুধ প্রয়োগ কার্যকরী হলেও এডিস মশা দমনে এর কার্যকারিতা কম।
অতীন ঘোষ আরও বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধের লক্ষ্যে আইন পরিবর্ধন করে শাস্তির পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। ফলে মানুষ আগের চেয়ে অনেক সচেতন।
ডিএনসিসি মেয়র কলকাতার ডেপুটি মেয়রকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “এই ভিডিও কনফারেন্সিং থেকে আমাদের অনেক ‘নলেজ শেয়ারিং’ হলো। কলকাতার অভিজ্ঞতা আমরা কাজে লাগাতে পারব। কলকাতার সঙ্গে এ ধরনের নলেজ শেয়ারিং প্রথম হলেও শেষ নয়। ভবিষ্যতে দুই শহরের যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।”
এর আগে বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, একটা সময় ছিল যখন বর্ষা শুরু হলে কলকাতা করপোরেশন মশা নিয়ন্ত্রণ করতে নামত। কিন্তু ততদিনে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ত শহরের নানা অঞ্চলে। তবে বেশ কয়েক বছর ধরে কলকাতা করপোরেশন বছরজুড়েই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। শহরের প্রতিটি হাসপাতাল, নার্সিং হোম বা পরীক্ষাগারে রোগীদের কী কী রক্ত পরীক্ষা হচ্ছে, কী ভাইরাস পাওয়া যাচ্ছে, সেসবের প্রতিদিনের হিসাব রাখা হয়। যাতে ডেঙ্গু রোগীর খোঁজ পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, সংস্থাটি কয়েক স্তরে সারাবছরই ডেঙ্গু বিষয়ে নজরদারি করে থাকে। প্রথমত, কলকাতার ১৪৪টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতেই তাদের ২০ থেকে ২৫ জন করে কর্মী আছে। যাদের মধ্যে একটি গ্রুপ প্রচারের কাজ চালিয়ে থাকে, অন্য গ্রুপটি কোথাও পানি জমছে কিনা, সেটার ওপর নজর রাখে। এর পাশাপাশি ১৬টি বরো’র প্রত্যেকটির জন্য একটি করে র‌্যাপিড অ্যাকশন টিম রয়েছে। তাতে সব ধরনের সরঞ্জাম নিয়ে ৮ থেকে ১০ জন লোক থাকে। গাড়িও থাকে তাদের কাছে। কোনো জায়গায় লার্ভা পাওয়ার খবর পাওয়া গেলে দ্রুত তারা সেখানে পৌঁছান এবং এডিস মশার লার্ভা নিধন করেন।
তথ্যমতে, দেশে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৬০ হাজার ছাড়িয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে মৃতের সংখ্যা ১৬৯। তাই ডেঙ্গু দমনে মশা মারার নতুন ওষুধ আমদানির পাশাপাশি এডিস মশা দমনে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন।

কারিকা প্রতিবেদক
রাজধানী ঢাকায় বিগত ২০ বছরের তুলনায় এবার ডেঙ্গুজ্বরের প্রকোপ বেড়েছে। এবারের ডেঙ্গুর ধরনও ভিন্ন। ইতোমধ্যে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত বেশ ক’জন মারা যাওয়ায় এই নিয়ে চরম ভীতি কাজ করছে মানুষের মধ্যে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এতদিন ব্যবহার করে আসা মশকনিধন ওষুধ পাল্টে নতুন ওষুধের ব্যবহার শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) কর্তৃপক্ষ। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনও (ডিএসসিসি) মশা নির্মূলে ব্যাপক গুরুত্ব দিচ্ছে। এমতাবস্থায় শুধু সিটি করপোরেশনের দিকে তাকিয়ে না থেকে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো বেশি জরুরি বলে মনে করছেন চিকিৎসকসহ সচেতন মহল।
এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ছিটানো ওষুধে মশা মরছে না। রাজধানীর মানুষ মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ। এ বছর বর্ষা মৌসুম শুরুর সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, ডেঙ্গু ভাইরাসের বাহক এডিস মশা প্রচলিত কীটনাশক দিয়ে মরছে না। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৮ সালের মার্চের মধ্যে করা গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখতে পান, ঢাকা শহরের এডিস মশা ওষুধ-প্রতিরোধী।
আইসিডিডিআরবির প্যারাসাইটোলজি ল্যাবরেটরির সহযোগী বিজ্ঞানী ও এই গবেষণা দলের প্রধান মোহাম্মদ শফিউল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আজিমপুর, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, গুলশান, কড়াইল, মিরপুর-১, উত্তরা সেক্টর-৪, মালিবাগ চৌধুরীপাড়া ও খিলগাঁও এলাকা থেকে এডিস মশার ডিম সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষাগারে সেই ডিম থেকে লার্ভা ও পরে মশা তৈরি করা হয়। সেই মশাকে ঢাকা শহরে ব্যবহার করা হচ্ছে-এমন কীটনাশকের সংস্পর্শে আনা হয়। তাতে দেখা যায়, সব মশা মরছে না। কীটনাশকের বিষক্রিয়া সহ্য করেও অনেক মশা বেঁচে থাকছে।’
গবেষণাটির সঙ্গে আইসিডিডিআরবির তিনজন ও যুক্তরাষ্ট্রের দুটি প্রতিষ্ঠানের তিনজন বিজ্ঞানী যুক্ত ছিলেন। গত বছর ২২ মে এই গবেষণার ফলাফল একটি অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তাদের সামনে প্রকাশ করে আইসিডিডিআরবির বিজ্ঞানীরা। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সরকারের স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের (সিডিসি) পরিচালক অধ্যাপক সোনিয়া তাহমিনা এবং রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপক মিরজাদী সাব্রিনা ফ্লোরা উপস্থিত ছিলেন। দুই সিটির তখনকার প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তারাও ছিলেন।
জানা গেছে, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় মানোত্তীর্ণ নয়, ছিটালে মশা তেমন মরে না-সম্প্রতি মশকনিধনের এমন ওষুধ ব্যবহার বন্ধ করে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে উত্তর সিটি করপোরেশন। তারা নতুন ওষুধ ব্যবহার করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আগে দ্য লিমিট অ্যাগ্রো প্রডাক্ট লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানের ‘লিমিট লিকুইড ইনসেকটিসাইড’ নামের ওষুধটি ব্যবহার করত দুই সিটি করপোরেশন। উত্তর সিটি করপোরেশন ওই ওষুধ পরীক্ষার জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্ল্যান্ট প্রোটেকশন উইংয়ে (পিপিইউ) পাঠায়। সেখানে পরীক্ষায় ওষুধটি মানোত্তীর্ণ হয়নি। তাই ডিএনসিসিতে ওই ওষুধের ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মশা নিধনে বর্তমানে ডিএনসিসি নকন লিমিটেডের ‘নকন মসকিউটো ইনসেকটিসাইড’ নামের ওষুধটি ব্যবহার করছে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও করণীয়
ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সচেতনতায় বেশকিছু পরামর্শ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের সাবেক ডিন ও চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ। গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি জানিয়েছেন, ডেঙ্গুর কোনো ভ্যাক্সিন নেই। যেহেতু ডেঙ্গু ভাইরাস চার ধরনের, তাই চারটি ভাইরাস প্রতিরোধে কাজ করে-এমন ভ্যাক্সিন এখনও আবিষ্কৃৃত হয়নি। তাই ডেঙ্গুজ্বর প্রতিরোধের মূলমন্ত্রই হলো এডিস মশার বিস্তার রোধ এবং এই মশা যেন কামড়াতে না পারে-তার ব্যবস্থা করা।
এডিসকে ‘ভদ্র’ মশা আখ্যায়িত করে ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, ‘অভিজাত এলাকায় বড় বড় সুন্দর সুন্দর দালানকোঠায় এরা বসবাস করে থাকে। স্বচ্ছ পানিতে ডিম পাড়ে। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার ডিম পাড়ার উপযোগী স্থানগুলোকে পরিষ্কার রাখতে হবে এবং একই সঙ্গে মশক নিধনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’
তার মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সতর্কতার গুরুত্ব অপরিসীম। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই চিকিৎসক বলেন, ‘এডিস মশা মূলত দিনের বেলা, সকাল ও সন্ধ্যায় কামড়ায়, তবে রাতে উজ্জ্বল আলোতেও কামড়াতে পারে। দিনের বেলা যথাসম্ভব শরীর ভালোভাবে ঢেকে রাখতে হবে, মশার কামড় থেকে বাঁচার জন্য ঘুমানোর সময় দিনে ও রাতে মশারি ব্যবহার করতে হবে। সম্ভব হলে ঘরের দরজা ও জানালায় নেট লাগানো যেতে পারে। প্রয়োজনে মসকুইটো রিপ্লেন্ট স্প্রে, লোশন বা ক্রিম, কয়েল, ম্যাট ব্যবহার করা যেতে পারে। বাচ্চাদের হাফপ্যান্টের পরিবর্তে ফুলপ্যান্ট বা পায়জামা পরাতে হবে।’
বসতবাড়ির বাইরে মশার বংশ বিস্তার রোধে করণীয় সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘মাঝে মাঝে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হওয়ার ফলে ঘরের বাইরে পানি জমতে পারে। যেমন ফুলের টব, প্লাস্টিকের পাত্র, পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের ড্রাম, মাটির পাত্র, টিনের কৌটা, ডাবের পরিত্যক্ত খোসা, কন্টেইনার, মটকা, ব্যাটারির শেল, পলিথিন ও চিপসের প্যাকেট ইত্যাদি। এসব জায়গায় জমে থাকা পানি দ্রুত ফেলে দিতে হবে।’
বসতবাড়ির মশা নিধন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সবার আগে ঘরে সাজানো ফুলদানি, অব্যবহৃত কৌটা, বাড়িঘর এবং বাড়ির আশপাশে যেকোনো পাত্র বা জায়গায় জমে থাকা পানি তিন থেকে পাঁচদিন পরপর ফেলে দিলে এডিস মশার লার্ভা মারা যায়। পাত্রের গায়ে লেগে থাকা মশার ডিম অপসারণে পাত্রটি ভালোভাবে ঘষে পরিষ্কার করে নিতে হবে। ঘরের বাথরুমে কোথাও জমানো পানি পাঁচদিনের বেশি যেন না থাকে-সেটা নিশ্চিত করতে হবে। ঘরের অ্যাকুয়ারিয়াম, ফ্রিজ বা এয়ার কন্ডিশনারের নিচে এবং মুখ খোলা পানির ট্যাংকে যেন পানি জমে না থাকে, সে ব্যবস্থা করতে হবে। বাড়ির ছাদে অনেকেই বাগান করে থাকেন। সেখানে টবে বা পাত্রে যেন কোনো ধরনের পানি পাঁচদিনের বেশি জমে না থাকে, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। বাড়ির আশপাশে ঝোপঝাড়, জঙ্গল, জলাশয় ইত্যাদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।’

রাজধানীতে ২৬ স্থানে কোরবানির পশুর হাট

সোহরাব আলম
কোরবানির পশুর চাহিদা মেটাতে রাজধানীতে স্থায়ী পশুর হাট গাবতলী ছাড়াও বেশকিছু অস্থায়ী হাট বসে। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন এলাকার ২৬টি স্থানে এবার অস্থায়ী পশুর হাট বসবে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন এলাকায় ১৪টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় বসবে ১২টি হাট।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় যে ১৪টি স্থানে হাট বসবে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ধূপখোলা মাঠসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউয়ারটেক মাঠসংলগ্ন আশপাশ এলাকার খালি জায়গা, আশুলিয়া মডেল টাউনের আশপাশের খালি জায়গা, দাওকান্দি ইন্দুলিয়া ভাগাপুরনগর (আফতাবনগর ইস্টার্ন হাউজিং মেরাদিয়া মৌজার সেকশন-১ ও ২) লোহারপুলের পূর্ব অংশ এবং খোলা মাঠসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, উত্তর শাহজাহানপুর খিলগাঁও রেলগেট বাজারের মৈত্রী সংঘের মাঠসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, শ্যামপুর বালুর মাঠসহ আশপাশের এলাকার খালি জায়গা; মেরাদিয়া বাজারসংলগ্ন আশপাশের এলাকার খালি জায়গা, ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সামসাবাদ মাঠসংলগ্ন আশপাশের এলাকার খালি জায়গা, জিগাতলা হাজারীবাগ মাঠসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, লালবাগের রহমতগঞ্জ খেলার মাঠসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, কামরাঙ্গীরচর চেয়ারম্যানের বাড়ির মোড় থেকে দক্ষিণ দিকে বুড়িগঙ্গা নদীর বাঁধসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, শ্যামপুর বালুর মাঠসহ আশপাশের খালি জায়গা, লিটিল ফ্রেন্ডস ক্লাবসংলগ্ন গোপীবাগ বালুর মাঠ ও কমলাপুর স্টেডিয়ামসংলগ্ন বিশ্বরোডের আশপাশের খালি জায়গা এবং শনির আখড়া-দনিয়া মাঠসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা।
অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় যে ১২টি স্থানে হাট বসবে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে কাওলা-শিয়ালডাঙ্গাসংলগ্ন খালি জায়গা, উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের উত্তরার স্লুইসগেট থেকে কামারপাড়া ব্রিজ পর্যন্ত ফাঁকা জায়গা, মিরপুর ডিওএইচএসের উত্তর পাশের সেতু প্রপার্টিসংলগ্ন খালি জায়গা, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট খেলার মাঠ, উত্তরখান ময়নারটেক শহিদনগর হাউজিংয়ের খালি জায়গা, বাড্ডা ইস্টার্ন হাউজিং (আফতাবনগর) ব্লক-ই সেকশন-৩-এর খালি জায়গা, মিরপুর সেকশন-৬ ওয়ার্ড-৬-এর (ইস্টার্ন হাউজিং) খালি জায়গা, খিলক্ষেত বনরূপা আবাসিক প্রকল্পের খালি জায়গা, উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের ১ নম্বর ব্রিজের পশ্চিম অংশ এবং ২ নম্বর ব্রিজের পশ্চিমে গোলচত্বর পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশের ফাঁকা জায়গা, ভাটারা (সাইদনগর) পশুর হাট, মোহাম্মদপুর বুদ্ধিজীবী সড়কসংলগ্ন (বসিলা) পুলিশ লাইনের খালি জায়গা এবং খিলক্ষেত ৩০০ ফুট সড়কসংলগ্ন উভয় পাশের বসুন্ধরা হাউজিংয়ের খালি জায়গা।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সদ্যবিদায়ী প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান কারিকাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, কোরবানির পশুর হাট ইজারার চূড়ান্ত কার্যাদেশ জারির পর দরপত্র অনুযায়ী প্রাপ্যদের ইজারা দিয়ে দেয়া হয়েছে।

কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কারে করণীয়
ঈদুল আজহায় কোরবানির পশু জবাইয়ের পর পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর রাখতে প্রতি বছরই আহবান জানিয়ে থাকে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। এ বিষয়ে প্রতিটি নাগরিকেরও দায়িত্ব আছে। পশু জবাইয়ের পর বর্জ্য যদি খোলা জায়গায় পড়ে থাকে, তবে তা মানবদেহ ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। পশুর রক্ত, ঘাস, লতাপাতা, নাড়িভুঁড়ির উচ্ছিষ্ট ও বর্জ্য রাস্তায় পড়ে থাকলে তার জীবাণু বাতাসের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে। ছড়িয়ে পড়া এই জীবাণু মারাত্মক স্বাস্থ্যহানি ঘটাতে পারে। তাই পশু জবাই ও মাংস বানানোর কাজ শেষ হলে বর্জ্য পরিষ্কারের জন্য নিজ নিজ সিটি করপোরেশনের দায়িত্বরত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। অথবা সিটি করপোরেশনের হটলাইনে যোগাযোগ করতে হবে। তারা বর্জ্য অপসারণে সহযোগিতা করবে।
কোরবানির পর বর্জ্য অপসারণে সচেতন নাগরিক হিসেবে নিজেদেরও কিছু দায়িত্ব পালন করা প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পৌঁছাতে দেরি হলে নিজ দায়িত্বেও কিছু কাজ করা যেতে পারে। এজন্য কোরবানির পশু জবাইয়ের গর্তটি মাটি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। গর্তের মধ্যে কিছু চুন বা ব্লিচিং পাউডার অথবা জীবাণুনাশক পদার্থ দেওয়া যেতে পারে। আশপাশে কোনো বর্জ্য থাকলে তা পরিষ্কার করতে হবে। এছাড়া জবাইকৃত পশুর রক্ত পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোরবানির পশুর দেহ থেকে নাড়িভুঁড়ির উচ্ছিষ্ট (অর্ধহজমযুক্ত খাদ্য/গোঘাষি) বের করে যত্রতত্র না ফেলে যথাযথ স্থানে ফেলতে হবে। সম্ভব হলে পশু জবাই করার স্থানটি গরম বা ঠান্ডা পানি ঢেলে পরিষ্কার করার পর ব্লিচিং পাউডার ছড়িয়ে দিতে হবে। তাহলে দুর্গন্ধ ছড়াবে না এবং স্থানটি জীবাণুমুক্ত হবে। বর্জ্য পরিষ্কারের পর নিজের হাত-পা ও সারা শরীর ভালোভাবে জীবাণুনাশক সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

মজুদ, পরিবহন ও ব্যবহারে মানা হচ্ছে না নিয়ম

কারিকা প্রতিবেদক
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ সাইফুল ইসলাম ওরফে রুবেল মারা যান গত বছরের ৬ নভেম্বর। একই ঘটনায় রুবেলের স্ত্রী সাজেনা আখতার আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চলতি বছরের ২৩ মে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে গাজীপুরে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু হয়। সম্প্রতি গ্যাস সিলিন্ডারজনিত অগ্নিদুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে সিলিন্ডার-ব্যবহারকারীদের মনে। এ-সংক্রান্ত দুর্ঘটনা বেড়ে গেলেও সিলিন্ডার বিক্রি, পরিবহন, মজুদ ও ব্যবহারে সচেতনতার অভাব এবং বিধিমালার তোয়াক্কা না করার বিস্তর অভিযোগ আছে। বেশিরভাগ ব্যবসায়ী ও ব্যবহারকারীরা সিলিন্ডার ব্যবহারের নিয়ম ও সংরক্ষণের উপায় জানেন না। আর যাদের এসব বিষয় দেখভালের কথা, তারাও জনবল সংকটের অজুহাতে দায় এড়িয়ে যাচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞ ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, গ্যাস সিলিন্ডারের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিতে কোম্পানিগুলোকে আরও সচেতন ও আন্তরিক হতে হবে, বাড়াতে হবে সংশ্লিষ্ট দফতরের তদারকি ও নজরদারি।
রাজধানীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, গ্যাস সিলিন্ডার প্রস্তুতকারক কোম্পানির মূল ডিলাররা সরকারি বিধি মেনে মজুদ, পরিবহন ও সরবরাহ করলেও খুচরা ব্যবসায়ীদের অনেকেই এসব নিয়মের ধার ধারছেন না। মগবাজার ও পুরান ঢাকার বেশিরভাগ এলাকায় সিলিন্ডার বিক্রির দোকানগুলো গড়ে উঠেছে আবাসিক ভবনের নিচে। এসব দোকানে নেই কোনো অগ্নিনির্বাপক-ব্যবস্থা। আবাসিক ভবনের নিচেই তারা ঝুঁকিপূর্ণভাবে গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ করছেন। এছাড়া ফুটপাত ও রাস্তার ওপরও দোকানিরা গ্যাস সিলিন্ডার সাজিয়ে রাখছেন।
রাজধানীর বিমানবন্দর ও মহাখালী এলাকার বিভিন্ন খাবারের হোটেল ও চায়ের দোকানগুলোতে দেখা যায়, চুলার একেবারে কাছাকাছি রেখে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করা হচ্ছে। কেউ কেউ সিলিন্ডার মাটিতে শুইয়ে রেখে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ব্যবহার করছেন।
বড় মগবাজারের লতিফ সরদার লেনে গিয়ে দেখা যায়, একটি রঙের দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। দোকানের সামনে দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে রঙে কয়েকটি বড় ক্যানের সঙ্গে রাখা হয়েছে গ্যাস সিলিন্ডার। দোকানটির ভেতরে রঙ ও রঙের কাজে ব্যবহৃত নানা ধরনের কেমিক্যাল রয়েছে। এ ছাড়াও সেখানে বিক্রি হচ্ছে গ্যাসের চুলাসহ হার্ডওয়্যারের বিভিন্ন পণ্য। দোকানের ভেতরে রঙের পাশেই রাখা হয়েছে ১২ কেজি ওজনের নয়টি গ্যাস সিলিন্ডার। শুধু তা-ই নয়, এসব সিলিন্ডারের ওপরে ঝুঁকিপূর্ণভাবে রাখা হয়েছে বিভিন্ন মালামালও। দোকানের মালিক সিদ্দিকুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের এটা হার্ডওয়্যার ও রঙের দোকান।’ গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির অনুমতি আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রঙের ব্যবসার পাশাপাশি বিক্রির জন্য কয়েকটি সিলিন্ডার রাখা হয়েছে।’ দোকানে অগ্নিনির্বাপক কোনো যন্ত্র আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, নেই’।
একই এলাকার একটি আবাসিক ভবনের নিচে দেখা যায়, গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির আরও দুটি দোকান পাশাপাশি। দুটি দোকানেই বেশকিছু সিলিন্ডার রাখা আছে। তবে এ দুটি দোকানে সামান্য কিছু অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র দেখা গেল। আলাপে দোকান-কর্মচারী রাজু জানান, দোকানে ফায়ার এক্সটিংগুইশার থাকলেও তিনি এটির ব্যবহার জানেন না। গ্রাহকরা ফোন করলে তারা সাইকেলে করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে গ্রাহকের বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার দিয়ে আসেন।
অনুমোদন ছাড়াই রঙের মতো দাহ্য পদার্থের দোকানে বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার গ্যাস। সিলিন্ডার বিক্রি ও মজুদের বিষয়ে বিস্ফোরক পরিদফতরের কোনো অনুমতি আছে কিনা জানতে চাইলে নাদিয়া এন্টারপ্রাইজের মালিক খুরশেদ মিয়া বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স আছে। কিন্তু বিস্ফোরক পরিদফতর লাইসেন্স দেয় নাই। অনেক টাকা লাগে। আর ছোট জায়গা বলে তারা লাইসেন্সও দেয় না।’
এদিকে, বিমানবন্দর এলাকার গোলচত্বরে ট্রাফিক পুলিশ বক্সের পেছনে রয়েছে কয়েকটি খাবার হোটেল। সরেজমিনে দেখা যায়, হোটেলের বাইরে একটি বড় গ্যাস সিলিন্ডার আড়াআড়িভাবে মাটিতে ফেলে রেখে ব্যবহার করা হচ্ছে। যদিও এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার-বিধিতে বলা আছে, কখনও উপুড় বা কাত করে নয়, সিলিন্ডার খাড়াভাবে রেখে ব্যবহার করতে হবে।
গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে কোনো ধারণা আছে কিনা জানতে চাইলে ওই খাবার হোটেলের ম্যানেজার রূপক বলেন, ‘আইনা চাবি দেই, পরে আগুন জ্বালাই। প্রয়োজন শেষ হলে বন্ধ করে দিই। কাইত কইরা রাখলে পইরা যাওয়ার রিস্ক থাকে না।’

গ্যাস সিলিন্ডার বিধিমালায় যা আছে
‘গ্যাস সিলিন্ডার বিধিমালা ১৯৯১’-তে বলা হয়েছে, গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয়ের জন্য কমপক্ষে পাকা ফ্লোরসহ আধাপাকা ঘর থাকতে হবে। ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপণ সক্ষমতা-সংক্রান্ত লাইসেন্স ও ছাড়পত্রসহ অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র, ফায়ার এক্সটিংগুইশার এবং মজবুত ও ঝুঁকিমুক্ত সংরক্ষণাগার থাকতে হবে।
সিলিন্ডার আমদানির বিষয়ে বিধির তৃতীয় পরিচ্ছেদে বলা আছে, লাইসেন্স ছাড়া সিলিন্ডার আমদানি নিষিদ্ধ। কোনো ব্যক্তি বিনা লাইসেন্সে গ্যাসপূর্ণ বা খালি সিলিন্ডার আমদানি করতে পারবেন না।
সিলিন্ডার পরিবহনের বিষয়ে বিধিমালার চতুর্থ পরিচ্ছেদে বলা আছে, গ্যাসপূর্ণ সিলিন্ডার কোনো দ্বিচক্রযানে (মোটরসাইকেল, সাইকেল) পরিবহন করা যাবে না। কোনো যানে সিলিন্ডার পরিবহনের ক্ষেত্রে সিলিন্ডারের কোনো অংশ ওই যানের বাইরে থাকা চলবে না। যানের যে অংশে সিলিন্ডার রাখা হয়, সে অংশে কোনো ধারালো বস্তু থাকবে না।
বিধিমালার সপ্তম পরিচ্ছদে সিলিন্ডারে গ্যাস ভর্তি ও গ্যাসপূর্ণ সিলিন্ডার মজুদ রাখার বিষয়ে বলা আছে, লাইসেন্স ব্যতীত সিলিন্ডারে গ্যাস ভর্তি ও সংরক্ষণ নিষিদ্ধ। বিধি-৪১-এর বিধান অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি বিনা লাইসেন্সে সিলিন্ডারে গ্যাস ভর্তি করতে পারবেন না অথবা গ্যাসপূর্ণ কোনো সিলিন্ডার তার অধিকারে (মজুদ) রাখতে পারবেন না।
এ প্রসঙ্গে কথা হয় মগবাজারের তাজউদ্দিন রোডের ওমেরা গ্যাস সিলিন্ডার কোম্পানির ডিলার মো. লতিফ রেজার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘গ্যাস সিলিন্ডারের ডিলারশিপ নিতে হলে খোলা জায়গা প্রয়োজন। এছাড়া বিস্ফোরক পরিদফতরের লাইসেন্স ও নকশা নিয়েই আমরা ব্যবসা করছি। কিন্তু এখন অলিগলিতে খুচরা ব্যবসায়ীরা লাইসেন্স ছাড়া গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করছে।’
বিস্ফোরক পরিদফতরের পরিচালক মো. সামসুল আলম বলেন, ‘গ্যাস সিলিন্ডারের যারা ডিলার বা সাব-ডিলার রয়েছেন, তাদের অবশ্যই বিস্ফোরক অধিদফতরের লাইসেন্স নিতে হবে। এছাড়া যারা খুচরা ব্যবসায়ী আছেন, তারা বিস্ফোরক পরিদফতরের লাইসেন্স ছাড়া ন্যূনতম ১০টি সিলিন্ডার বিক্রি করতে পারবেন। ১০-এর বেশি সিলিন্ডার মজুদ বা বিক্রি করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশও ব্যবস্থা নিতে পারবে।’
বিস্ফোরক পরিদফতরের লোকবল সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘একটি বিভাগে মাত্র তিন-চারজন করে অফিসার রয়েছেন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এত কম লোকবল দিয়ে কাভার করা সম্ভব হয় না। তাছাড়া, অফিসিয়াল কাজের প্রচুর চাপ থাকে। তাই মাঠপর্যায়ে সব সময় অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। এক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ যদি আমাদের সহায়তা না করে, তবে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা খুব কঠিন হয়ে যাবে।’
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়কারী ডা. সামন্তলাল সেন বলেন, ‘সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দুর্ঘটনার হার আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এ বিষয়ে মানুষের সচেতনতার অভাবেই দুর্ঘটনা ঘটছে।’
এজন্য ব্যবহারকারীদের প্রতি ছয় মাসে সিলিন্ডারগুলো মনিটর করার ওপর জোর দেন ডা. সামন্তলাল।

কারিকা প্রতিবেদক
ঢাকাকে তিলোত্তমা রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে বরাবরই চেষ্টা ছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। বর্তমান সময়েও নিয়মিত চলছে উন্নয়নযজ্ঞ। কিন্তু প্রায় দুই কোটি মানুষের এ শহরে বৃষ্টি-বিলাসের সুযোগ নেই বললেই চলে। ঢাকায় বৃষ্টি যেন এক আতঙ্কের নাম। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমের বৃষ্টি এ নগরের বাসিন্দাদের জন্য যতটা না আশীর্বাদ, তার চেয়ে বেশি অভিশাপ। সামান্য একটু বৃষ্টিতেই জলমগ্ন হয়ে পড়ে রাজধানীর সড়কগুলো। তৈরি হয় তীব্র যানজট। ছোট-বড় দুর্ঘটনাও ঘটে। পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকায় জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে অধিকাংশ এলাকা। বৃষ্টির দিনে উৎকণ্ঠা আর দুর্ভাবনায় পড়তে হয় রাজধানীর বাসিন্দাদের।
চলতি বৃষ্টি মৌসুমেও চিরচেনা জলাবদ্ধতার রূপ দেখেছে ঢাকাবাসী। ভয়াবহ জলাবদ্ধতার পেছনে রয়েছে অসংখ্য কারণ। নগরবিদরা বলছেন, নদী ভরাট রোধ, দখল হওয়া খাল উদ্ধার, পলিথিনের অবাধ ব্যবহার বন্ধ, অপরিকল্পিত বক্স কালভার্ট ও কার্যকর ড্রেনেজ সিস্টেম চালু করতে পারলে বহুলাংশে এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। এজন্য সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতাও জরুরি।
ঢাকা শহরের চারদিক বেষ্টন করে আছে তুরাগ, বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদ-নদী। শহরের ভেতরে শিরা-উপশিরার মতো ছড়িয়ে আছে ৬৫টি খাল। কিন্তু বেপরোয়া দখলদারিত্বে ভরাট হয়ে যাচ্ছে নদী ও খাল। রাজধানীর আশপাশে কয়েকটি খাল মৃতপ্রায় অবস্থায় থাকলেও অধিকাংশ খালের অস্তিত্বই এখন আর নেই। এসব নদী ও খাল এক সময় পানি নিষ্কাশনের প্রাকৃতিক পথ হিসেবে ব্যবহার হতো। ঢাকা ওয়াসার তৈরি বিভিন্ন ড্রেন ও বক্স কালভার্টও ময়লা-আবর্জনায় ভরপুর। ফলে বৃষ্টির পানি সরতে বাধাগ্রস্ত হয়। এসব ড্রেন ও কালভার্ট নিয়মিত পরিষ্কারে গড়িমসি দেখা যায়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকায় ময়লা ফেলার জন্য অসচেতন নাগরিকরা বেছে নেয় রাস্তাঘাট। নিষিদ্ধ পলিথিনও ফেলা হচ্ছে। পলিথিন মাটির পানি শোষণক্ষমতা নষ্টের পাশাপাশি নিষ্কাশনের পথও বন্ধ করে দেয়। এছাড়া বিভিন্ন উন্নয়নকাজে ব্যবহারের পর ফেলে রাখা জিনিসপত্র বৃষ্টি বা বিভিন্নভাবে গিয়ে ঠাঁই নেয় ড্রেনে। এতে ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায় পানিপ্রবাহ। এছাড়া রাজধানীতে কমে গেছে উন্মুক্ত মাটি। ভবন বা রাস্তা দিয়ে ঢেকে ফেলা হয়েছে অধিকাংশ জায়গা। গত কয়েক বছরে ঢাকা শহরের খোলা জায়গা ভরাট করে অপরিকল্পিতভাবে বিপুল পরিমাণ ভবন গড়ে উঠেছে। আরও নতুন ভবন নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। এসব নির্মীয়মাণ ভবনের কাজে ব্যবহৃত মাটি বৃষ্টির ঢলের সঙ্গে গিয়ে জমা হয়েছে ড্রেনে। ফলে মাটি জমে অকেজো হয়ে পড়েছে ড্রেনেজ-ব্যবস্থা।
এদিকে রাজধানীর উন্নয়নে বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও সেবা সংস্থা কাজ করে। একাধিক প্রতিষ্ঠানের কাজ আর দায় এড়ানোও জলাবদ্ধতা তৈরির নিয়ামক! কারণ কোনো সমন্বয় ছাড়াই যে যার মতো উন্নয়নকাজ করে যায়। বিভিন্ন প্রয়োজনে সারাবছরই চলতে থাকে খোঁড়াখুঁড়ি।
কয়েক বছর ধরে চলছে মেট্রোরেল নির্মাণকাজ। বৃষ্টির সময় পাথর ও মাটিতে বন্ধ হয়ে যায় পানিপ্রবাহের ড্রেনগুলো। রাজধানীর গ্রিন রোড, তেজকুনিপাড়া, তেজতুরী বাজার, খিলগাঁও, গোড়ান, বাড্ডা, সবুজবাগ, বাসাবো, বনশ্রী, নয়াপল্টন, কাকরাইল, শান্তিনগর, মৌচাক, মগবাজারের ভেতরের দিকে গলি ও ফার্মগেট থেকে কারওয়ান বাজার এলাকার অধিকাংশ সড়কই পানিতে তলিয়ে যায় অল্প বৃষ্টিতে। ধানমÐি, বনানী ও উত্তরার বিভিন্ন এলাকাও জলমগ্ন হয়ে যায়। এছাড়া কারওয়ান বাজার থেকে এফডিসি রোড, যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদসহ আশপাশের এলাকায় পানি জমে যায় স্বল্প সময়ের বৃষ্টিতেই। মিরপুর অঞ্চলের কালশী রোড, কাজীপাড়া, সেনপাড়া, ১৩ নম্বর সেকশন, মিরপুর-৬ নম্বরের একাংশ, ১০ নম্বর গোলচত্বরের সড়কের একাংশেও পানি জমে যায় হালকা বৃষ্টিতেই। রাজধানীর ব্যাংকপাড়াখ্যাত মতিঝিল এলাকাও জলাবদ্ধতা থেকে রেহায় পায় না। বিশেষ করে নটর ডেম কলেজের সামনের সড়ক, ফকিরাপুল, শাপলা চত্বরের অবস্থা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। পুরান ঢাকার প্রায় সর্বত্রই অল্প বৃষ্টিতে পানি জমে যায়।
সূত্র জানায়, রাজধানীর সড়কগুলোতে দুই হাজারের মতো ক্যাচপিট রয়েছে। এর মধ্যে ময়লা-আবর্জনা জমে এক হাজারের বেশি ক্যাচপিট বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টির পানি নেমে যাওয়ার সুযোগ থাকছে না।
নগরের জলাবদ্ধতা ও সার্বিক বিষয় নিয়ে ওয়াসার পরিচালক (কারিগরি) একেএম শহীদ উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে জলাবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নও করা হয়েছে। ড্রেনগুলো পরিষ্কার করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এ বছর জলাবদ্ধতা তুলনামূলক কম। অনেক জায়গায় ময়লা-আবর্জনা জমা হয়ে ক্যাচপিটগুলো বন্ধ হয়ে যায়, এতে পানি নামতে পারে না। আমাদের কর্মচারীরা সার্বক্ষণিক কাজ করছে।’
বিশিষ্ট নগর বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনের ব্যাপারে রাজধানী ঢাকায় কোনো একক সংস্থা নেই। একাধিক সংস্থা কাজ করে। তাদের মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। অথচ চাইলে ঢাকার সার্বিক সমস্যা সমাধানে একটা সুপার অথরিটি তৈরি করা যায়। যারা সুশাসন, পরিচালন ও সমন্বয়ের জন্য সর্বোচ্চ ক্ষমতা নিয়ে কাজ করবে। জলাবদ্ধতা নিরসনে কী কী বিষয় প্রাধান্য পেতে পারে-তা এ অথরিটি বসেই ঠিক করতে পারে।

কারিকা ডেক্স


চিকিৎসাসেবা
নানা ধরনের সেবার মধ্যে অতি প্রয়োজনীয় একটি চিকিৎসাসেবা। প্রযুক্তি এ সেবাটিকেও সহজ করেছে। চিকিৎসাসেবা এখন নগরবাসীর জন্য হাতের মুঠোয় থাকা স্মার্টফোনের অ্যাপের মাধ্যমে নেওয়ার সুযোগ চলে এসেছে। এমন একটি সেবার নাম ‘ডক্টরোলা’। চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট-ভিত্তিক ওয়েবসাইট ও কলসেন্টারসেবা নিয়ে কাজ করছে উদ্যোগটি। ২০১৩ সালে এক আড্ডা-ভাবনাকে বাস্তবে পরিণত করেই যাত্রা শুরু হয় ডক্টরোলার। ২০১৪ সালের ডিসেম্বর থেকে শুরু হয় অ্যাপয়েন্টমেন্ট-সার্ভিস। এরপর ২০১৫ সালে পুরোদমে শুরু হয়ে যায় ডক্টরোলার কাজ। মূলত সাধারণ মানুষকে সঠিক ডাক্তার খুঁজতে কাজ করা, অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত করা এবং ফলোআপের জন্য সাহায্য করা এ তিনটি বিষয়ে কাজ করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। এ উদ্যোগের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ের প্রায় ৪০০ অধ্যাপক যুক্ত রয়েছেন। এছাড়া চিকিৎসক যুক্ত রয়েছেন প্রায় ছয় হাজারের বেশি। তিনশ’র বেশি হাসপাতাল এবং ডায়াগনোসিস সেন্টারও ডক্টরোলার সঙ্গে যুক্ত। একই ধরনের আরেকটি সেবা ‘ডক্টরসবিডি’। নগরের পাশাপাশি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মোবাইলের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে ডক্টরসবিডি। যে কেউ নির্দিষ্ট ফি’র বিনিময়ে এই সেবা নিতে পারবেন।

কারিকা ডেক্স


প্রাকৃতিক পরিবেশ ও নগর-ব্যবস্থাপনার ওপর পলিথিনের বিরূপ প্রভাবের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে অনেক আগেই। পচনশীল না হওয়ায় এই বস্তুটি প্রকৃতির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যহত করে। অন্যদিকে পানি-চলাচলকেও পুরোপুরি আটকে দেয়। সে-কারণেই শহরের খাল ও নর্দমায় পলিথিন পানির প্রবাহ আটকে তৈরি করে জলাবদ্ধতা। বাধ্য হয়েই প্রায় ১৫ বছর আগে পলিথিন ব্যবহারকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সরকার।
কিন্তু নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় এই বস্তুটির সুনির্দিষ্ট ও সহজলভ্য কোনো বিকল্প মানুষের সামনে আনা হয়নি। কিংবা হলেও সঠিক প্রচারের অভাবে সেটি থেকে গেছে অগোচরেই। তাই কমেনি পলিথিনের ব্যবহার। কমেনি এর কারণে সৃষ্ট সমস্যাগুলো।
পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) পরিচালিত এক পরিসংখ্যান বলছে, কেবল ঢাকা শহরে দিনে জমা হচ্ছে এক কোটি ৮০ লাখ পলিথিন ব্যাগ। যেগুলো একবারের বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে না। এই বিপুল পরিমাণ পলিথিন ব্যাগ নগরীর জলাবদ্ধতার পেছনে মূখ্য ভূমিকা রাখছে। এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অরগানাইজেশনের (ইএসডিও) তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার ৮০ শতাংশ জলাবদ্ধতার কারণ এই পলিথিন।
আশির দশকে বাণিজ্যিকভাবে পলিব্যাগ উৎপাদন শুরু হলেও ২০০২ সালে পরিবেশবাদীদের আন্দোলনের মুখে সেটা আইন করে নিষিদ্ধ করে সরকার। তবে উৎপাদন বন্ধ হয়নি মোটেও। সেই কাজটা গোপনে হলেও পলিথিনের বিক্রি ও ব্যবহার চলছে সবার সামনেই। এটির ব্যবহার বন্ধে মাঝে কিছুদিন অভিযান পরিচালিত হলেও সেটা সাম্প্রতিক সময়ে বন্ধ। একটা সময়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের যে তোড়জোড় চোখে পড়ত সেটা এখন আর দেখা যায় না। এমনকি দেশে কী পরিমাণ অবৈধ পলিথিন কারখানা আছে সেই হিসেবেও নেই তাদের কাছে।
আইন আনুযায়ী পলিথিন উৎপাদন, আমদানি ও বাজারজাতকরণের শাস্তি দুই বছর জেল এবং দুই লাখ টানা জরিমানা। একসঙ্গে দুটি দন্ড হওয়ারও বিধান আছে। পাশাপাশি পলিথিন বিক্রি, প্রদর্শন, মজুদ, বিতরণ, বাণিজ্যিক উদ্দেশে পরিবহন, বাণিজ্যিক উদ্দেশে ব্যবহারের শাস্তি এক বছর জেল অথবা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা দুটিই একসঙ্গে।
ভোক্তা-পর্যায়ে পলিথিনের ব্যবহার কমানো সম্ভব হচ্ছে না মূলত এর বিকল্পের অভাবে। বাজারে প্রচলিত কাগজের ব্যাগ পলিথিনের মতো মজবুত হয়ে উঠতে পারে। আর পাটের ব্যাগের দাম আর সহজলভ্যতার অভাবের কারণে ভোক্তারা ঝুঁকছেন সেই পলিব্যাগের দিকেই। আর চাহিদা থাকায় রাতের আঁধারে হলেও পুরোদমে চলছে পলিথিনের উৎপাদন।
পরিবেশ রক্ষাসংক্রান্ত এই আইনের বাস্তবায়নের দায়িত্ব আইনগতভাবেই পরিবেশ অধিদপ্তরের কাঁধে। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অধিদপ্তরের কার্যক্রম বা উদ্যোগ সফলতার মুখ দেখেনি।

0 1204
কারিকা ডেস্ক :
হাউজিং এন্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এইচবিআরআই)উদ্যোগে ১ জুন থেকে ৪ জুন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে পরিবেশ বান্ধব ইট ও ভূমিকম্প সহনশীল নির্মাণ প্রযুক্তি প্রদর্শনী। প্রদর্শনীতে থাকছে ভূমিকম্পসহ সকল দূর্যোগ সহনীয় নির্মাণ উপকরণ ও প্রযুক্তি। কৃষিবান্ধব, ব্যয় সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও উপকরণ এবং এইচবিআরআই উদ্ভাবিত, প্রত্যয়িত ও স্বীকৃত বিকল্প নির্মাণ প্রযুক্তি ও উপকরণ। হাউজিং এন্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত প্রদর্শনীটি সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৬ টা পর্যন্ত সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।