Home বাজার দর

কারিকা ডেস্ক :
নোনা ধরা দেয়াল ভালো রাখতে ঘরে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন বা বাতাস চলাচলের সুবিধা থাকা প্রয়োজন। দেয়ালের ড্যাম্প পুরোপুরি সারিয়ে তোলা বেশ ব্যয়সাপেক্ষ। দেয়ালের পুরনো প্লাস্টার তুলে ড্যাম্প নিরোধক কেমিক্যাল ব্যবহার করে তারপর আবার প্লাস্টার করতে হবে। পুরনো দেয়ালে ছত্রাক জন্মালে রং করার আগে তা চেঁছে তুলে ফেলতে হবে। তারপর দেয়ালে অ্যান্টি-ফাঙ্গাশ সলিউশন ব্যবহার করুন। এতে দেয়ালের রং দীর্ঘস্থায়ী হবে। অবশ্যই দেয়ালের বাইরে ও ভেতরে ড্যাম্প নিরোধক রং ব্যবহার করতে হবে। ড্যাম্প দেয়ালে চুন রং ব্যবহার না করাই ভালো। এতে ছত্রাক আরো দ্রুত হয়। ড্যাম্প দেয়ালে রং করতে সাধারণত চারটি ধাপ অনুসরণ করতে হয়। ধাপগুলো হলো— সারফেস প্রিপারেশন, প্রাইমার বা আস্তর, পুটি, রঙের কোট।
সারফেস প্রিপারেশন :
প্লাস্টার ভালোভাবে শুকাতে হবে এবং খুব ভালোভাবে কিউরিং হতে হবে। প্লাস্টার করার ৪৫ দিন পর রং করা উচিত। রং শুরু করার আগে যেকোনো ধরনের ড্যাম্প, স্যাঁতসেঁতে, ভেজা বা নষ্ট থাকলে তা ঠিক করে নিন। এরপর পাথর বা স্যান্ডস্টোন দিয়ে ভালোভাবে ঘষে নিতে হবে। প্লাস্টার করা দেয়াল সমতল হতে হবে। সমতল না থাকলে পাথর দিয়ে ঘষে সমতল করতে হয়। এতে আলগা ময়লা বা অন্য কিছু থাকলে সরিয়ে ফেলতে হবে। এরপর চুনের পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললে ভালো হয়। এতে প্লাস্টার ভালোভাবে শুকিয়ে যায়। শেষে স্যান্ডপেপার বা শিরিষ কাগজ দিয়ে ঘষে নিন।
প্রাইমার বা আস্তর:
সারফেস প্রিপারেশন হলে পরে প্রাইমার বা আস্তর দিতে হয়। এক আস্তর দেওয়া হয় এই প্রাইমার। মূলত প্লাস্টার ও রঙের মধ্যে আঠালো সম্পর্ক তৈরি করে এই প্রাইমার। প্রতি গ্যালনে প্রাইমার ৪৫ স্কয়ার মিটার আস্তর দেওয়া যায়। রোলার বা ব্রাশ দিয়ে প্রাইমার দেওয়া হয়। দেওয়ার আগে এই প্রাইমার পানি দিয়ে পাতলা করে নেওয়া হয়। এটি আঠালো সম্পর্ক তৈরি হওয়ার পাশাপাশি সারফেসকে মসৃণ করে। এ ছাড়া শোষণক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং রং সুন্দরভাবে ও বেশি জায়গায় ছড়িয়ে দেয়।
পুটি:
কোনো ফাটল বা সমস্যা থাকলে পুটি করা হয়। একে ছিট পুটিও বলা হয়। কমপক্ষে চার দিন এই পুটি শুকিয়ে নিতে হবে। বেশি পুটি যেখানে থাকবে, সেখানে স্ক্র্যাপ করে নিতে হবে। এক গ্যালন প্লাস্টিক পেইন্টের সঙ্গে এক লিটার এনামেল পেইন্ট ও ২৫ কেজি চক পাউডার মিশিয়ে এই পুটি তৈরি করা হয়।
রঙের কোট :
রং দুই থেকে তিনবার প্রলেপ দেওয়া হয়। প্রথম প্রলেপের পর সাত দিন শুকানোর সময় দিতে হবে। এরপর দ্বিতীয় প্রলেপ দেওয়া হয়। এতেও যদি রং ভালো না হয়, যেমন—পরিচ্ছন্ন না হয়ে ছোপ ছোপ থাকে বা রং হালকা হয় তাহলে দ্বিতীয় প্রলেপের তিন দিন পর তৃতীয় প্রলেপ দেওয়া হয়। প্রথম প্রলেপের সঙ্গে সর্বোচ্চ ২০ ভাগ পানি মেশানো হয়। দ্বিতীয় প্রলেপের সঙ্গে সর্বোচ্চ ১৫ ভাগ পানি মেশানো হয়। ড্যাম্প, স্যাঁতসেঁতে বা ভেজা দেয়ালে পেইন্ট করা যাবে না। আর্দ্রতা ২০ থেকে ৫০ ভাগের মধ্যে থাকতে হবে। সরাসরি সূর্যের আলো যেন রং করার সময় না আসে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
বাইরের দেয়ালকে ঝড়-বৃষ্টি মোকাবিলা করতে হয়। তাই বাইরের দেয়ালে ব্যবহার করুন অ্যাক্রেলিক ইমালশন। দেয়ালের জন্য সাধারণত ডিসটেম্পার ও প্লাস্টিক পেইন্ট এই দুই ধরনের রং ব্যবহার করা যায়। তবে রং বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান থেকে জেনে নিন  আপনার কেনা রঙের মেয়াদকাল। সে অনুযায়ী বাড়ির পুরনো রং তুলে নতুন করে রং করিয়ে নিন। সাধারণত পুরনো বাড়ির ক্ষেত্রে বাইরের দেয়াল তিন বছর পর পর রং করা উচিত। ভেতরের দেয়ালের রং সাধারণত পাঁচ বছর পর্যন্ত উজ্জ্বল থাকে। দেয়ালের রং খুব ভালোভাবে শুকিয়ে গেলে সিলার ব্যবহার করতে পারেন। এতে দেয়াল মসৃণ ও রং দীর্ঘদিন ভালো থাকবে।

কারিকা ডেস্ক :
এ বৌদ্ধ বিহারটির ভূমি-পরিকল্পনা চতুষ্কোনাকার। উত্তর ও দক্ষিণ বাহুদ্বয় প্রতিটি ২৭৩.৭ মি এবং পূর্ব ও পশ্চিম বাহুদ্বয় ২৭৪.১৫ মি। এর চারদিক চওড়া সীমানা দেয়াল দিয়ে ঘেরা ছিল। সীমানা দেয়াল বরাবর অভ্যন্তর ভাগে সারিবদ্ধ ছোট ছোট কক্ষ ছিল। উত্তর দিকের বাহুতে ৪৫টি এবং অন্য তিন দিকের বাহুতে রয়েছে ৪৪টি করে কক্ষ। এই কক্ষগুলোর তিনটি মেঝে আবিষ্কৃত হয়েছে। প্রতিটি মেঝে বিছানো ইঁটের ওপর পুরু সুরকী দিয়ে অত্যন্ত মজবুত ভাবে তৈরি করা হয়েছিলো। সর্বশেষ যুগে ৯২টি কক্ষে মেঝের ওপর বিভিন্ন আকারের বেদী নির্মাণ করা হয়। এ থেকে অনুমান করা যায় যে, প্রথম যুগে সবগুলো কক্ষই ভিক্ষুদের আবাসকক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হলেও পরবর্তীকালে কিছু কক্ষ প্রার্থনাকক্ষে রুপান্তর করা হয়েছিলো।
কক্ষগুলোর প্রতিটিতে দরজা আছে। এই দরজাগুলো ভেতরের দিকে প্রশস্ত কিন্তু বাইরের দিকে সরু হয়ে গেছে। ভেতরের দিকে কক্ষগুলোর দৈর্ঘ্য ৪.২৬ মি এবং প্রস্থ ৪.১১ মি। কক্ষের পেছনের দিকের দেয়াল অর্থাৎ সীমানা দেয়াল ৪.৮৭মি এবং সামনের দেয়াল ২.৪৪মি চওড়া। কক্ষগুলোর সামনে ২.৫মি প্রশস্ত টানা বারান্দা আছে। ভেতরের দিকের উন্মুক্ত চত্বরের সাথে প্রতিটি বাহু সিঁড়ি দিয়ে যুক্ত।
বিহারের উত্তর বাহুর মাঝ বরাবর রয়েছে প্রধান ফটক। এর বাইরের ও ভেতরের দিকে একটি করে স্তম্ভ সম্বলিত হলঘর এবং পাশে ছোট ছোট কুঠুরি আছে। এই কুঠুরিগুলো বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হত। প্রধান ফটক এবং বিহারের উত্তর-পূর্ব কোনের মাঝামাঝি অবস্থানে আরও একটি ছোট প্রবেশ পথ ছিলো। এখান থেকে ভেতরের উন্মুক্ত চত্বরে প্রবেশের জন্য যে সিঁড়ি ব্যবহৃত হত তা আজও বিদ্যমান। উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিম বাহুতেও অনুরুপ সিঁড়ির ব্যবস্থা ছিলো। এদের মাঝে কেবল পশ্চিম বাহুর সিঁড়ির চিহ্ন আছে। উত্তর বাহুর প্রবেশ পথের সামনে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত একটি পুকুর ছিল। ১৯৮৪-৮৫ সালের খননে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী প্রথম নির্মাণ যুগের পরবর্তী আমলে এ পুকুর খনন করা হয় এবং এসময় এ অংশের সিঁড়িটি ধ্বংস করে দেয়া হয়। পরবর্তীকালে পুকুরটি ভরাট করে দেয়া হয়।
বিহারের অন্তর্বর্তী স্থানের উন্মুক্ত চত্বরের মধ্যবর্তী স্থানে রয়েছে কেন্দ্রীয় মন্দিরের ধ্বংশাবশেষ। এখন এটি ২১মি উঁচু হলেও মূল মন্দিরটি কমপক্ষে ৩০ মি উঁচু ছিল। তিনটি ক্রমহ্রাসমান ধাপে ঊর্ধ্বগামী এ মন্দিরের ভূমি-পরিকল্পনা ক্রুশাকার। প্রতিটি ক্রুশবাহুর দৈর্ঘ্য-প্রস্থ ১০৮.৩ মি ও ৯৫.৪৫মি। কুশের মধ্যবর্তী স্থানে আরও কয়েকটি অতিরিক্ত দেয়াল কৌণিকভাবে যুক্ত। মূল পরিকল্পনাটির কেন্দ্রে দরজা-জানালা বিহীন একটি শূন্যগর্ভ চতুষ্কোণাকার প্রকোষ্ঠ আছে। এই প্রকোষ্ঠটি মন্দিরের তলদেশ থেকে চূড়া পর্যন্ত বিস্তৃত। মূলতঃ এ শূন্যগর্ভ প্রকোষ্ঠটিকে কেন্দ্র করেই সুবিশাল এ মন্দিরের কাঠামো নির্মিত। এ কক্ষের চারদিকে মন্দিরের দ্বিতীয় ধাপে চারটি কক্ষ ও মন্ডপ নির্মাণ করা হয়েছে। এর ফলেই মন্দিরটি ক্রুশাকার ধারণ করেছে। মন্দির পরিকল্পনার সমান্তরালে দেয়াল পরিবেষ্টিত প্রদক্ষিণ পথ আছে। অনুরুপভাবে প্রথম ধাপে দ্বিতীয় ধাপের প্রদক্ষিণ পথের দেয়ালের চারদিকে চারটি কক্ষ যুক্ত করে ক্রুশাকৃতি বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে এবং এর সমান্তরালে প্রদক্ষিণ পথ নির্মাণ করা হয়েছে। প্রথম ধাপের সমান্তরালে মন্দিরের ভিত্তিভূমির পূর্ব, পশ্চিম ও দক্ষিণ দিকে দেয়াল তৈরি করা হয়েছে। উত্তর দিকের মধ্যবর্তীস্থলে সিঁড়ি ছিল। পরবর্তিতে এ সিঁড়ি ধ্বংস করে তার উপর কিছু নতুন কাঠামো নির্মাণ করা হয়।
কেন্দ্রীয় শূন্যগর্ভ কক্ষে একটি ইঁট বাধানো মেঝে আবিষ্কৃত হয়েছে। এ মেঝে কক্ষের বাইরে চারদিকের কক্ষ ও মন্ডপের প্রায় একই সমতলে অবস্তথিত। কিন্তু চারদিকের কক্ষগুলো থেকে কেন্দ্রীয় এ কক্ষে যাওয়ার কোন পথ বা দরজা নেই এবং আগে ছিলো,পরে বন্ধ করা হয়েছে এমন কোন প্রমাণও পাওয়া যায় না। তাই অনুমিত হয় ফাঁপা এ দন্ডটি মন্দিরের সুউচ্চ দেয়ালগুলোর সুদৃঢ় নির্মানের জন্য একটি উপকরণ ছিল। মূর্তিগুলো সম্ভবত এর চারদিকের কক্ষগুলোতে স্থাপন করা হয়েছিলো। মন্দিরের শীর্ষদেশের কোন নিদর্শন নেই বিধায় এর ছাদ সম্বন্ধে সুস্পষ্ট কিছু বলা যায় না।
কেন্দ্রীয় শূন্যগর্ভ কক্ষটির দেয়াল নিরাভরণ কিন্তু প্রতিটি ধাপের দেয়ালগুলোর বহির্ভাগ উদগত কার্নিশ, অলংকৃত ইঁট এবং সারিবদ্ধ পোড়ামাটির ফলকচিত্র দ্বারা সজ্জিত। ক্রুশাকার পরিকল্পনার বর্ধিত অংশগুলোর সংযোগস্থলে কার্নিশের প্রান্ত পর্যন্ত পানি নিষ্কাশন নালার ব্যবস্থা আছে। পাথর নির্মিত এ নালাগুলোর মুখ গর্জনরত সিংহের মুখের অবয়বে নির্মিত। এর প্রতিটিতে একটি করে পাথরের ভাস্কর্য ছিলো।

কারিকা ডেস্ক :
বাংলাদেশের বিশাল উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই স্থাপনা নির্মাণের জন্য লবণসহিঞ্চু বিশেষায়িত সিমেন্ট বাজারে আনছে দেশের খ্যাতনামা শিল্প প্রতিষ্ঠান ডায়মন্ড সিমেন্ট লিমিটেড (ডিসিএল)। ডায়মন্ড কোস্টাল প্লাস নামের প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে তৈরি এই সিমেন্ট উপকূলীয় রুক্ষ জলবায়ুর বিরুদ্ধে স্থাপনাকে দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরোধের শক্তি দেবে বলে জানিয়েছে উ‍ৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটি।
সম্প্রতি চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডায়মন্ড কোস্টাল প্লাস সিমেন্ট বাজারে আনার ঘোষণা দেন ডায়মন্ড সিমেন্টের পরিচালক লায়ন হাকিম আলী।
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার নাফ নদীর মোহনা থেকে সাতক্ষীরার রায়মঙ্গল কালিন্দী নদী পর্যন্ত বাংলাদেশের উপকূল অঞ্চলের দৈর্ঘ্য ৭১০ কিলোমিটার।  চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের মোট ১৪টি উপকূলীয় জেলায় বিস্তৃত বিশাল এই অঞ্চলে বাস করে চার কোটিরও বেশি মানুষ।
বিশাল এই উপকূলীয় অঞ্চলে কংক্রিট স্থাপনার সুরক্ষার কথা চিন্তা করে ব্যাপক গবেষণার মাধ্যমে ডায়মন্ড কোস্টাল প্লাস সিমেন্ট তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন হাকিম আলী।
উপকূলীয় অঞ্চলে বাঁধ, জেটি, আশ্রয়কেন্দ্র, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, জলাধার, সাগরের পানি ও সালফেটে উন্মুক্ত মেরিন কংক্রিট এবং জলে ডুবে থাকা যে কোন স্ট্রাকচার, পানি ও পয়:নিস্কাশন পাইপলাইন ও ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, ব্রিজ, কালভার্ট, বহুতল ভবনসহ যে কোন ধরনের কংক্রিট কাঠামো নির্মাণে ডায়মন্ড কোস্টাল প্লাস একটি আদর্শ সিমেন্ট বলে মন্তব্য করেন হাকিম আলী।
সংবাদ সম্মেলনে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণসহিঞ্চু সিমেন্ট ব্যবহারের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম প্রযুক্তি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুর:প্রকৌশল বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক ড. সাদেকুল ইসলাম সাদী।
উপকূলীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থাপনার ছবি উপস্থাপন করে ড.সাদী বলেন, সমুদ্র লবণে থাকা ক্লোরাইড আয়রণের প্রভাবে উপকুলীয় এলাকায় কংক্রিট নির্মিত স্থাপনার ইস্পাতে সহজেই মরিচা ধরে যায়।  কংক্রিটের ভেতরে অতিমাত্রায় নুন ও আর্দ্রতা জমে গিয়ে ইস্পাতে মরিচা পড়ে এবং পুরো কাঠামোয় ক্ষয় ও ফাটল দেখা দেয়।  এর ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দূর্বল হয়ে পড়ে স্থাপনা।
‘তাই ক্লোরাইড আয়ন বা লবনাক্ততার অনুপ্রবেশ ঠেকানোর জন্যে ঘনবদ্ধ অভেদ্য কংক্রিট ব্যবহার জরুরি।  কিন্তু বাংলাদেশের বাজারে সেই ধরনের বিশেষায়িত কোন সিমেন্ট নেই।  ডায়মন্ড কোস্টাল প্লাস বাজারে এলে সেটি উপূকলীয় এলাকার স্থাপনার সুরক্ষার জন্য সহায়ক হবে। ’ বলেন ড.সাদী।
তিনি বলেন, ডায়মন্ড কোস্টাল প্লাস সিমেন্ট বিশেষ প্রক্রিয়ায় তৈরি ব্লাস্টফার্নেস পোর্টল্যান্ড স্ল্যাগ সিমেন্ট।  বাজারে এখন যেসব সিমেন্ট আছে অর্থাৎ অর্ডিনারি পোর্টল্যান্ড সিমেন্ট (ওপিসি) এবং পোর্টল্যান্ড কম্পোজিট সিমেন্টের লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ ঠেকানোর ক্ষমতা নেই।  এক্ষেত্রে স্ল্যাগ সিমেন্টই একমাত্র উপযোগী।
সংবাদ সম্মেলনে ডায়মন্ড সিমেন্ট লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক (সেলস এন্ড মার্কেটিং) জসীম উদ্দিন খোন্দকার, মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) এবিএম কামালউদ্দিন এবং উপ-মহাব্যবস্থাপক (সেলস এন্ড মার্কেটিং) আবদুর রহিম।
এছাড়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক ও জনপথ বিভাগের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

0 1098
কারিকা ডেস্ক:
বহুতল ভবনের ওপরে ওঠার জন্য অপরিহার্য লিফট। হুড়মুড় করে লিফটে ওঠানামা ঠিক নয়, অন্যান্য গণপরিবহন ব্যবহারের মতো লিফটে চড়ারও রয়েছে কিছু আদবকেতা। জেনে নিন সেগুলো-
সাধারণত ইংরেজি ফ্লোর হিসেবে লিফটের ফ্লোর নম্বর দেওয়া হয়। তবে কিছু ভবনে ব্যতিক্রম থাকে। সে ক্ষেত্রে আগেই জেনে নিন বিল্ডিংয়ে কত তলায় যাবেন আর সেটা লিফটের কত নম্বর।
খুব জরুরি না হলে দুই বা তিনতলায় ওঠার জন্য লিফট ব্যবহার না করাই ভালো।
বেঁধে দেওয়া সীমার চেয়ে অতিরিক্ত ওজনের জিনিসপত্র নিয়ে উঠবেন না। অপেক্ষা করুন। লিফটে চাপ যখন কম থাকবে তখন মালপত্র ওঠানামার কাজ সেরে ফেলুন।
কোনো পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে লিফটে দেখা হয়ে গেলে তার সঙ্গে সৌজন্যমূলক হাসি কিংবা কুশলবিনিময় সারতে পারেন লিফটে। তবে খেয়াল রাখবেন, সেটা যেন কোনো আড্ডায় রূপ না নেয়। লিফটে নিজেকে কিছুটা সংকুচিত করে রাখাই লিফটের ভদ্রতা।
লাইনে দাঁড়ান, ধীরেসুস্থে লিফটে উঠুন ও নামুন। লিফটে কথা কম বলুন। নিতান্তই বলতে হলে নিচু স্বরে বলুন। লিফটে গুনগুনিয়ে গান করা, তালি দেওয়া, আড়মোড়া ভাঙা, আঙুল ফোটানো-এসব করা চলবে না।
লিফটে চিপস, পপকর্ন, পানি, সফট ড্রিংকস খাবেন না। লিফটে উঠে সেলফোন, প্যাড কিংবা ট্যাবে জোরে গান বাজাবেন না। লিফটের ভেতর পারফিউম ব্যবহার করা বা ধূমপান করা মোটেই উচিত হবে না।
‘লেডিস ফার্স্ট’-এ প্রথা লিফটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। লিফটে লাইনে যে যেভাবে দাঁড়াবে, তাকে সেভাবেই উঠতে দিন। অতিরিক্ত সৌজন্যবোধে আবার হিতেবিপরীত হতে পারে। তবে অসুস্থ বা শিশু হলে ভিন্ন কথা।
লিফট যদি হাসপাতালের হয়, তাহলে রোগীই অগ্রাধিকার পাবে-সন্দেহ নেই। রোগীর স্ট্রেচার বা হুইল চেয়ার আগে যেতে দিন।
লিফটে উঠে ধীরেসুস্থে নিজের ফ্লোর-বাটনে প্রেস করুন। আপনি যদি লিফট বাটন থেকে দূরে থাকেন, তাহলে সামনের জনকে অনুরোধ করুন। কাউকে ধাক্কা দিয়ে বা ডিঙিয়ে বাটন প্রেস করতে যাবেন না। আর লিফটম্যান থাকলে তাকেই ফ্লোর নম্বর বলে দিন।
নিজে ঢোকার পর অন্যদের ঢোকা ও দাঁড়ানোর জন্য জায়গা করে দিন। আর কল বাটন চেপে থাকলে এলিভেটর না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।

কারিকা ডেস্ক :
মেট্রো রেল প্রকল্প ও বাস রেপিড ট্রানজিটের (বিআরটি) বাস ডিপো নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দুটি কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। ঢাকা শহরের যানজট নিরসন ও আধুনিক নগর যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে এই দুই প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় মেট্রো রেলের মোট ৬টি রুট থাকবে। এর মধ্যে উত্তরা থেকে শাপলা চত্বরের (রুট-৬) কাজ আগে শেষ হবে। ২০১৯ সালের মধ্যে উত্তরা থেকে আগারগাঁও এবং ২০২০ সালে শাপলা চত্বর পর্যন্ত মেট্রো রেল নির্মাণ কাজ শেষ হবে। প্রতি ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন করবে মেট্রো রেল।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছিলেন, ২০২০ সালের মধ্যে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রো রেল নির্মাণ কাজ শেষ করার লক্ষ্য ঠিক করা হলেও প্রথম পর্যায়ে ২০১৯ সালের মধ্যে আগারগাঁও পর্যন্ত বাণিজ্যিক চলাচল শুরুর আশা করছে সরকার।
প্রকল্পে অর্থায়নকারী জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (জাইকা) সূত্রে জানা গেছে, এমআরটি-৬ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। এ প্রকল্পে ১৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা দেবে জাইকা। বাকি ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ সরকার।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, উত্তরা থেকে মিরপুর ও ফার্মগেট হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত যাতায়াত করবে দ্রুত গতির মেট্রো রেল। উত্তরা তৃতীয় পর্যায় থেকে পল্লবী, রোকেয়া সরণীর পশ্চিম পাশ ও ফার্মগেট, হোটেল সোনারগাঁও, রূপসী বাংলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, দোয়েল চত্বর, তোপখানা রোড ও বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত ২০ দশমিক ১ কিলোমিটার রুটে চলাচল করবে এটি।
এই যাত্রা পথে ১৬টি স্টেশন থাকবে- উত্তরা নর্থ, সেন্ট্রাল ও সাউথ, পল্লবী, মিরপুর-১১, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, তালতলা, আগারগাঁও, বিজয় সরণী, ফার্মগেট, সোনারগাঁও, জাতীয় জাদুঘর, দোয়েল চত্বর, বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম এবং বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতি স্টেশনে ৪ মিনিট করে থামবে প্রস্তাবিত মেট্রোরেল। প্রতি ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন করতে পারবে এটি।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, এমআরটি লাইন-৬ চালু হলে মহনগরীর যাত্রী সাধারণ চলাচলের সুবিধা পাবেন এবং ক্রমবর্ধমান এই নগরীর যানজট থেকে মুক্তি পাবেন। ফুটপাতে স্বচ্ছন্দে চলাফেরা করতে পারবেন পথচারীরা। একইসঙ্গে সড়কে চলাচলকারী মানুষের চাপ কমাবে এই নতুন পরিবহন ব্যবস্থা। ভূমি উন্নয়ন ও ডিপো এলাকার স্থাপনা নির্মাণে ৫৬৭ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ২০১৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি এমআরটি লাইন ৬ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য জাইকার সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সরকার। গত মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে ডিপো স্থাপনের জন্য আন্তজাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে বাছাইকৃত জাপানি প্রতিষ্ঠান টোকিও কন্সট্রাকশন কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।
মন্ত্রী আরো বলেছেন, এমআরটি লাইন ৬ অনুযায়ী বিদ্যমান রুট পরিবর্তনের আর কোন সম্ভাবনা নেই। কারণ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ইতোমধ্যে অনুমোদন করেছে। সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সাউন্ডপ্রুফ মেশিন সংযুক্ত করা হয়েছে এতে। কারণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার ভবন, টিএসসি এবং জাতীয় জাদুঘরের পাশ দিয়ে যাতায়াত করবে এই মেট্রো রেল।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিআরটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের বড় অংশ দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক।

কারিকা ডেস্ক :
প্রাচীন বাংলার রাজধানী সোনারগাঁয় অবস্থিত পানাম নগর। এখানেই ছিল মসলিনের মূল বাণিজ্যকেন্দ্র। এখনো পানাম নগরে দেখা যায় অপূর্ব ও নিপুণ কারুকাজখচিত প্রাচীন সব ইমারত। সরু রাস্তার দুই পাশে অট্টালিকা, সরাইখানা, মসজিদ, মন্দির, মঠ, ঠাকুর ঘর, গোসলখানা, কূপ, নাচঘর, খাজাঞ্চিখানা, টাঁকশাল, দরবার কক্ষ, গুপ্তপথ, প্রশস্ত দেয়াল, প্রমোদালয় জানান দেয় এ নগরের প্রাচীন সমৃদ্ধির কথা।
আজ থেকে প্রায় চার শ বছর আগে পানাম নগর স্থাপন শুরু হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। ধাপে ধাপে মোগল নির্মাণশৈলীর সঙ্গে ব্রিটিশ স্থাপত্যশৈলীর সংমিশ্রণে নির্মিত হয় এ নগর।
কালে কালে পানাম নগর হারাতে বসেছে তার ঐতিহাসিক রূপ, সৌন্দর্য ও জৌলুস। এই নগরের অনেক প্রাচীন স্থাপনাই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। যেগুলো আছে সেগুলোর অবস্থাও জরাজীর্ণ। প্রায় ১০ বছর আগে এ নগর সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা স্থগিত হয়ে যায়। নগরের পুরনো ভবনগুলোর ইট, সুরকি ধসে পড়ছে। ভবনের দখল নিয়েছে শেওলা ও আগাছা। দূর থেকে দেখলে মনে হয় ভুতুড়ে বাড়ি।
পানাম নগর একসময় সন্ধ্যা নামার পর নাচ, গান, সুর ও সাকির আয়োজনে মেতে উঠত; নৃত্যের তালে তালে ঝুমুরের শব্দ ও তানপুরার সুরে মুখর হয়ে উঠত সোনারগাঁর বাতাস। আজ সেই নগরে সন্ধ্যা নামলে নেমে আসে গা-ছমছমে নীরবতা। নামিদামি বণিক ও পর্যটকদের ডিঙি নৌকা ভেড়ে না নগরের ময়ূরপঙ্খি ঘাটে। এখন যেন পানাম নগরের দেয়ালে কান পাতলে শোনা যায় নগরের হাহাকার আর আর্তনাদ।
তবু প্রতিদিন হাজারো পর্যটক ভিড় জমায় পানাম নগরে। দেশ-বিদেশের প্রচুর পর্যটক আসে এখানে। যারা সোনারগাঁ লোক ও কারুশিল্প জাদুঘরে বেড়াতে আসে, তারাও ঘুরে যায় বিবর্ণ এই নগরে।
পানাম নগর ঘুরে দেখা যায় ৪০০ বছরের পুরনো মঠবাড়ি, যার পশ্চিমে রয়েছে ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানির বাণিজ্যকুঠি (নীলকুঠি) পোদ্দারবাড়ি, কাশীনাথের বাড়িসহ নানা প্রাচীন ভবন। তবে সেগুলো আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে রয়েছে। শের শাহের আমলে নির্মিত সোনারগাঁ থেকে সিন্ধু পর্যন্ত প্রায় ৩০০ মাইল দীর্ঘ ঐতিহাসিক গ্র্যান্ডট্যাংক রোডের নির্দশন এখনো বর্তমান। পাঁচটি প্রশস্ত ছয় মিটার দীর্ঘ সড়কের দুই পাশে একতলা, দোতলা ও তিনতলা প্রায় ৫২টি ভবন রয়েছে পানাম নগরে, যার বেশির ভাগই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। ১০টি ভবন প্রায় বিলুপ্তির পথে। সব ভবনের বেশির ভাগ কক্ষের ইট খসে পড়েছে, কারুকাজগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দাঁড়িয়ে থাকা অবকাঠামো দেখে সহজেই অনুভব করা যায়, পানাম নগর কত সুন্দর ছিল! সরকার পানাম নগরকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় নিয়ে নিয়েছে।
পানাম নগরে প্রবেশের আগে দক্ষিণ দিকে পঙ্খিরাজ খালের ওপর ঐতিহ্যবাহী পঙ্খিরাজ সেতু। এখন এটি ব্যবহৃত হচ্ছে সোনারগাঁর একাংশের যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে। এই সেতুর একাংশে বিশাল গর্ত। ভেঙে যাচ্ছে সেতুর রেলিংও। পানামের প্রবেশপথে পঙ্খিরাজ খালের উপর থাকা প্রাচীন সেতুটি নিশ্চিহ্ন করে বেশ কয়েক বছর আগেই তৈরি করা হয়েছে বাস চলাচলের রাস্তা। ঈশা খাঁর নাচঘর হিসেবে কথিত বাড়ি নীহারিকার একাংশ ধ্বংস করে তৈরি হয়েছে একটি নতুন রাস্তা।
একইভাবে অস্তিত্ব হুমকির মুখে এই নগরের প্রাচীন বাড়িগুলোও। তবু প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অনেকে আসে প্রাচীন এ নগর দেখতে।তারা সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করে বলেন, অচিরেই পানাম নগর সংস্কার করা না হলে এই নগরকে কোনোভাবেই রক্ষা করা যাবে না।
পানাম নগরে মূলত উচ্চ মাধ্যবিত্ত শ্রেণির ব্যবসায়ী ও জমিদাররা বসবাস করতেন। এর পাশাপাশি রাজাদের আমির-ওমরাহদের জন্য পানাম নগর ও এর আশপাশের গ্রামগুলোতে গড়ে উঠেছিল নিপুণ কারুকাজখচিত পাকা ইমারত। পানাম ও এর আশপাশ ঘিরে পঞ্চদশ শতক থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত এক সমৃদ্ধ জনজীবন ছিল।
ইতিহাসবিদ জেমস টেলরের মতে, আড়ংয়ের তাঁতখানা সোনারগাঁর পানাম নামক স্থানে ছিল এবং মসলিন শিল্প কেনাবেচার এক প্রসিদ্ধ বাজার ছিল পানাম নগর।

কারিকা ডেস্ক :
নগর জীবনে বর্তমানে সবুজের দেখা পাওয়া বেশ দুষ্কর। দিন দিন কমে যাচ্ছে সবুজের ছোঁয়া। কিছুদিন আগেও দু/চারটা গাছ নেই এমন কোন বাড়ি ছিল না। সময় দ্রুতই পাল্টাচ্ছে। এখন বড় বড় অট্টালিকার কবলে দেশ। অথচ শহরের অধিকাংশ বাড়ির ছাদগুলো এখনও ফাঁকা পরে আছে। এই ছাদগুলোকে অনায়াসেই সবুজ করা যায়। আর তাতে নগরীর প্রতিটি বাড়ির ছাদ হয়ে উঠতে পারে একখন্ড সবুজ বাগান।শহরের পরিবেশ রক্ষায় এ ধরণের ছাদ ও ব্যালকনি বাগানের ভূমিকা অপরিসীম।বিষমুক্ত টাটকা ফল-মূল, শাক-সবজির স্বাদ আস্বাদনের জন্য ছাদে বাগানের কোন বিকল্প নেই। গ্রীনহাউজ প্রতিক্রিয়ার কবল থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য গাছ-পালার মাধ্যমে সবুজায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে রুফ গার্ডেন সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। অবকাঠামো তৈরীতে যে পরিমান জমি নষ্ট হচ্ছে তা কিছুটা পুষিয়ে নেয়া যাবে রুফ গার্ডেনিং এর মাধ্যমে।
বাড়ির ছাদে বাগান করতে গেলে প্রথমেই যে বিষয়টি সামনে চলে আসে তা হলো ছাদ নষ্ট হওয়া। ছাদ সুরক্ষার জন্য প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নিয়েই ছাদ বাগান করতে হবে। ছাদে স্থায়ী বাগান করতে হলে প্রথমেই দুই ইঞ্চি পুরু করে অতিরিক্ত একটি ঢালাই দিয়ে নেট ফিনিশিং দিতে হবে। যদি উক্ত ছাদের উপর ভবিষ্যতে আরো ছাদ দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাহলে স্থায়ী বেড না করে টব বা ড্রামে বাগান করাই উত্তম। টব/ড্রাম যে কোন সময় স্থান পরিবরর্তন করার ফলে ছাদ পরিস্কার থাকে। আর তাতে ছাদ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও কম থাকে। টব বা ড্রামটিকে ছাদের ফ্লোর থেকে সামান্য উপরে বসালে পানি জমে থাকে না, ড্রামের নিচে পরিস্কার করতেও সুবিধা হয়।নতুন বাগান করার ক্ষেত্রে ছোট ছোট টব দিয়েই শুরু করা ভাল। ছোট টবের জন্য উপযোগী ফল গাছ যেমন – লেবু , ডালিম , কামরাংগা , করমচা , সফেদা , মিশরীয় ডুমুর , চেরী ফল , কমলা, বারমাসী আমড়া, আতা ইত্যাদি। যা খুব সহজেই ছাদে চাষ সম্ভব।
মাঝারী আকারের উপযোগী গাছ যেমন – থাই মিষ্টি তেতুল , পেয়ারা , জামরুল , আংগুর , বাতাবী লেবু , আম , অরবরই , আমলকি , মালটা ইত্যাদি। আর বড় টবের উপযোগী গাছ যেমন- যে কোন কূল জাতীয় গাছ , জলপাই , কতবেল , বেল , বারমাসী কাঁঠাল , জাম , পেঁপেঁ , কলা ইত্যাদি। টবের গাছে প্রতিবছর ফল পেতে হলে বছরে একবার টবের আংশিক মাটি পরিবর্তন করতে হবে। যদি গাছটি ছোট টবে হয় তাহলে বড় টবে নিতে হবে। আর যদি টবের সাইজ ১৬ ইঞ্চি থেকে ২০ ইঞ্চি বা তার চেয়ে বড় কোন টব বা হাফ ড্রাম হয় তবে টব পরিবর্তন করতে হবে না। শুধু টবের আংশিক মাটি পরিবর্তন করলেই চলবে এবং এটি ধারাবাহিক ভাবে প্রতিবছর করতে হবে। যদি নিয়ম মাফিক কাজটি করা যায় তাহলে প্রতিবছর উক্ত গাছ থেকে ফল পাওয়া যাবে।
ছাদে খুব অল্প পরিশ্রমে যে সব শাক-সবজির চাষ করা যায় তা হলো- করলা, টমেটো,করলা, ঢেঁড়শ, চিচিংগা, ঝিংগা, পুঁই শাক, চালকুমড়া, কলমীশাক, মুলা, কাচামরিচ, ক্যাপসিকাম, ধনেপাতা, কচু, ফুলকপি, বাধাকপি, ব্রুকলি, গাজর, ডাটা, লাল শাক ইত্যাদি।

কারিকা ডেস্ক
বিশ্ববাজারে সিমেন্টের অন্যতম কাঁচামাল ক্লিংকারের প্রধান সরবরাহকারী চীন। দেশটি থেকে মানভেদে প্রতি টন ক্লিংকার আমদানিতে খরচ পড়ে ৩০-৪০ ডলার। এর সঙ্গে অন্যান্য খরচ মিলিয়ে দেশে সিমেন্ট উৎপাদনে টনপ্রতি ব্যয় হয় সর্বোচ্চ ৭০ ডলার বা ৫ হাজার ৬০০ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে এখন প্রতি টন সিমেন্ট বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬০ ডলার বা ৪ হাজার ৮০০ টাকায়। অথচ দেশের বাজারে বর্তমানে ৫০ কেজি ওজনের প্রতি ব্যাগ সিমেন্টের গড় দাম কোম্পানিভেদে ৪০০-৪৫০ টাকা। এতে টনপ্রতি বাজারমূল্য দাঁড়ায় সর্বনিম্ন ৮ হাজার টাকা বা ১০০ ডলার। এ হিসাবে বাংলাদেশে সিমেন্ট বিক্রি হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের চেয়ে ৬০-৬৫ শতাংশ বেশি দামে।
বেশি দামে সিমেন্ট বিক্রির কথা স্বীকার করেন উৎপাদকরাও। তাদের দাবি, সিমেন্টে লাভের বড় একটা অংশ চলে যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগী বিতরণকারীদের পকেটে। আর বিতরণকারী ডিলাররা বলছেন, মালিকরাই বাড়তি মুনাফা করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে উপকরণের দাম কমলেও অলিগোপলি বা অপূর্ণ প্রতিযোগিতার (গুটি কয়েক প্রতিষ্ঠানের আধিপত্য) কারণে দেশে সিমেন্টের দাম কমছে না। যদিও দাম কমানো হয়েছে বলে দাবি উৎপাদকদের। তবে ব্যাগপ্রতি (৫০ কেজি) ১০-২০ টাকা কমানো আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান লাইটক্যাসলের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে সিমেন্ট শিল্পের বাজার ১৭৪ কোটি ডলারের। এর ৮৫ শতাংশই নিয়ন্ত্রণ করছে শীর্ষ ১০ কোম্পানি। আর শীর্ষ পাঁচ কোম্পানির হাতে রয়েছে মোট বাজারের ৪৮ দশমিক ১২ শতাংশ। এর মধ্যে ১৫ দশমিক ৯১ শতাংশ দখল করে আছে শাহ সিমেন্ট। ৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ বাজার দখল নিয়ে এর পরই রয়েছে হাইডেলবার্গ। অন্য বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মেঘনা সিমেন্টের দখলে রয়েছে এ বাজারের ৮ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ, হোলসিমের ৭ দশমিক ৪ ও লাফার্জের ৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ। কোম্পানিগুলো উৎপাদিত সিমেন্ট আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে ৬০-৬৫ শতাংশ বেশি দামে বিক্রি করছে। আর নিজেদের উৎপাদন খরচের চেয়ে বেশি রাখছে ৪০ শতাংশ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফ্রেশ ব্র্যান্ডের ৫০ কেজি ওজনের প্রতি ব্যাগ সিমেন্ট বিক্রি হচ্ছে ৪৪০ টাকায়। হাইডেলবার্গের স্ক্যান সিমেন্ট বিক্রি হচ্ছে ৪৮৫ টাকায়, লাফার্জের সুপারক্রিট ৪৫৫, হোলসিম ৫০০-৫১০ ও আকিজ সিমেন্ট ৪৬০ টাকায়।
এ প্রসঙ্গে আকিজ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ বশির উদ্দিন বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আকিজ সিমেন্টের দাম কমানো হয়েছে। বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।
একই কথা জানান কনফিডেন্স সিমেন্টের নির্বাহী পরিচালক নেওয়াজ মোহাম্মদ ইকবাল ইউসুফ। তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে আমরা সিমেন্টের দাম কমিয়েছি। এ বিষয়ে ঘোষণাও দেয়া হয়েছে। তবে খুচরা পর্যায়ে দাম না কমলে আমাদের কিছু করার নেই।’
পরিবেশকদের দাবি, লাভের বেশির ভাগই কোম্পানিগুলো নিয়ে যাচ্ছে। নগদে কিনলে কোম্পানিগুলো এক ধরনের দাম রাখে। আবার বাকিতে কিনলে আরেক দাম।
নেত্রকোনা সদর উপজেলার পরিবেশক মীরন তালুকদার বলেন, বাকিতে পণ্য কিনলে কোম্পানিগুলোকে ব্যাগপ্রতি ২৫-৩০ টাকা অতিরিক্ত দিতে হয়। প্রতি ব্যাগ ক্রাউন সিমেন্ট বাকিতে কিনলে ৪৬৩ টাকা পরিশোধ করতে হয়। আর নগদে কিনলে ৪৪০ টাকায় পাওয়া যায়। একইভাবে আকিজ সিমেন্ট বাকিতে কিনলে ব্যাগপ্রতি ৪৪০ ও নগদে ৪১০ টাকা পরিশোধ করতে হয়।
তবে পরিবেশকদের এ দাবির সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন উৎপাদকরা। বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি ও মেট্রোসেম সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শহীদুল্লাহ বলেন, ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত সুবিধা দেয়ার কারণে সিমেন্টের মূল্য সুবিধা গ্রাহকরা পান না। এক ব্যাগ সিমেন্টের দাম ৫০০ টাকা হলে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতার কমিশন এবং পরিবহনে ব্যয় হয় ১০০ টাকা। এ কারণে গ্রাহক পর্যায়ে দাম বেশি পড়ে।
তমা কনস্ট্রাকশনের পরিচালক শওকত আলী এ প্রসঙ্গে বলেন, নির্মাণ ব্যয়ের সিংহভাগই হয় রড ও সিমেন্ট বাবদ। দুটি নির্মাণসামগ্রীর দামই আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে দেশে বেশি। নির্মাণ খরচও তাই বেশি পড়ছে। সিমেন্টের দাম কম থাকলে নির্মাণ ব্যয়ও কম হতো। তাতে সরকারি-বেসরকারি সব প্রকল্প কম ব্যয়ে সম্পাদন করা যেত।
উল্লেখ্য, দেশে সিমেন্টের চাহিদা রয়েছে বছরে ১ কোটি ৮০ লাখ থেকে দুই কোটি টন। এর বিপরীতে খাতটির উৎপাদন সক্ষমতা ৩ কোটি ৩০ লাখ থেকে ৩ কোটি ৫০ লাখ টন। চাহিদা কম থাকায় কারখানাগুলো উৎপাদন ক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারছে না। সক্ষমতার গড়ে ৬০-৬৫ শতাংশ অব্যবহূত থাকছে।

0 1216
কারিকা ডেস্ক
অপরিশোধিত ইস্পাতের বৈশ্বিক উৎপাদন দীর্ঘদিন ধরে কমতির দিকে রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত মাসেও পণ্যটির উৎপাদন নিম্নমুখী ছিল বলে ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, চলতি বছরের এপ্রিলে বিশ্বব্যাপী ১৩ কোটি ৫০ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন হয়। এর পরিমাণ ২০১৫ সালের একই সময়ের তুলনায় দশমিক ৫ শতাংশ কম।
বিশ্বে অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদনকারী শীর্ষ দেশ চীন। গত মাসে দেশটিতে পণ্যটির উৎপাদন দাঁড়ায় ৬ কোটি ৯৪ লাখ টনে। ২০১৫ সালের এপ্রিলের তুলনায় যা দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। এশিয়ার অপর দেশ জাপানে এ সময় পণ্যটির উৎপাদন বাড়লেও কমেছে দক্ষিণ কোরিয়ায়। ২০১৬ সালের এপ্রিলে জাপানে ৮৫ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন হয়, যা পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের চেয়ে ১ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় গত মাসে পণ্যটির উৎপাদন ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৫৭ লাখ টনে দাঁড়ায়।
ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিলে রাশিয়ায় ৫৯ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে। ২০১৫ সালের একই সময়ের চেয়ে যা দশমিক ৪ শতাংশ কম। তবে গত মাসে ইউক্রেনে ১১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে পণ্যটির উৎপাদন দাঁড়ায় ২২ লাখ টনে। ২০১৬ সালের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন হয় ৬৬ লাখ টন ইস্পাত। পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের চেয়ে যা ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। এদিকে গত মাসে ব্রাজিলে উৎপাদন হয় ২৩ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত। ২০১৫ সালের এপ্রিলের চেয়ে যা ২০ দশমিক ৬ শতাংশ কম।
ওয়ার্ল্ড স্টিল বিশ্বের ইস্পাত উৎপাদনকারী ৬৬টি দেশের ওপর জরিপের ভিত্তিতে প্রতি মাসে পণ্যটির উৎপাদন-সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ করে থাকে। পণ্যটির উৎপাদন হ্রাসের পাশাপাশি ব্যবহার সক্ষমতাও ২০১৫ সালের এপ্রিলের তুলনায় ৬ দশমিক ৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে চলতি বছরের মার্চের চেয়ে গত মাসে পণ্যটির ব্যবহার কমেছে দেড় শতাংশ।
২০১৬ সালের এপ্রিলে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) ইস্পাত উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে ইতালিতে উৎপাদন বাড়লেও কমেছে অন্যান্য দেশে। অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, ২০১৬ সালের এপ্রিলে জার্মানিতে ৩৬ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন হয়। এর পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১ দশমিক ৫ শতাংশ কম। ২০১৬ সালের এপ্রিলে ইতালিতে ২১ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন হয়। পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের চেয়ে যা ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। গত মাসে স্পেনে ১০ দশমিক ৬ শতাংশ কমে পণ্যটির উৎপাদন দাঁড়ায় ১২ লাখ টনে।

কারিকা ডেস্ক
আবাসন শিল্পে আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের যাত্রা ’৮০-এর দশকে। বর্তমানে আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের আবাসন প্রকল্প রয়েছে ৯টি। এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি প্রকল্পই ঢাকার আশপাশ ঘিরে। এ ছাড়া ঢাকার বাইরেও রয়েছে একাধিক প্রকল্প। ঢাকার অদূরবর্তী আশুলিয়া মডেল টাউন ও মতিঝিল সংলগ্ন গ্রীন মডেল টাউন দুটি প্রকল্প নগর জীবনের সকল সুবিধা নিয়ে গড়ে উঠেছে। ঢাকার বাইরে রয়েছে আশুলিয়া প্রভাতী (খাগান), আশুলিয়া বর্ণালী (গৌরীপুর), আশুলিয়া কিংডম (রাঙ্গামাটি), আশুলিয়া লাবণী (গৌরিপুর), আশুলিয়া স্বর্ণালী (চৌবাড়িয়া) ও শ্যামল ছায়া (সিলেট)
 প্লট: আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের প্রতিটি প্রকল্পেই রয়েছে ২, ২.৫, ৩, ৪, ৫ ও ১০ কাঠার প্লট। দামের ওপর নির্ভর করে বিভিন্নমুখী প্লট। আশুলিয়া মডেল টাউনে রয়েছে উত্তর/পশ্চিমমুখী প্লট, পূর্ব/দক্ষিণমুখী, সাধারণ কর্নার, এ্যাভিনিউ রোড সাইট, এ্যাভিনিউ কর্নার প্লট, গ্রীন মডেল টাউনে রয়েছে উত্তর-পশ্চিম, পূর্ব-দক্ষিণ, সাধারণ কর্নার, এ্যাভিনিউ রোড, এ্যাভিনিউ কর্নার লেকসাইট এবং লেক কর্নার সাইট।
দাম : আশুলিয়া মডেল টাউনে রয়েছে ৫ ধরনের প্লট। উত্তর-পশ্চিমমুখী প্লট কাঠাপ্রতি দশ লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা। পূর্ব-দক্ষিণমুখী প্লট এগারো লাখ টাকা, সাধারণ কর্নার প্লট এগারো লাখ ৫০ হাজার টাকা এ্যাভিনিউ রোড সাইট ১২ লাখ টাকা, এ্যাভিনিউ কর্নার সাইট ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
গ্রীন মডেল টাউনে রয়েছে ৯ ধরনের প্লট। উত্তর-পশ্চিমমুখী প্লট ২৩ লাখ টাকা কাঠাপ্রতি, পূর্ব-দক্ষিণমুখী ২৪ লাখ, সাধারণ কর্নার ২৫ লাখ, এ্যাভিনিউ রোড সাইট ২৬ লাখ, এ্যাভিনিউ কর্নার ২৭ লাখ, ১০০ ফুট এ্যাভিনিউ রোড সাইট ২৮ লাখ, ১০০ ফুট এ্যাভিনিউ কর্নার প্লট ৩১ লাখ, লেক সাইট ২৮ লাখ, লেক সাইট কর্নার ৩১ লাখ টাকা।
মূল্য পরিশোধ : প্লট ক্রয়ে টাকা পরিশোধের রয়েছে দুই ধরনের ব্যবস্থা। একটি হচ্ছে এককালীন পরিশোধ, অন্যটি কিস্তির মাধ্যমে পরিশোধ। কিস্তিতে টাকা পরিশোধ করতে চাইলে গ্রাহক দুইভাবে টাকা পরিশোধ করতে পারবেন। একটি হচ্ছে ২৪ কিস্তি, অন্যটি ৩৬ কিস্তি। কিস্তি সুবিধা নেয়ার ক্ষেত্রে এককালীন টাকা পরিশোধের থেকে ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা বেশি প্রদান করতে হবে।