Home বাজার দর

কারিকা ডেস্ক :
প্রাচীন বাংলার রাজধানী সোনারগাঁয় অবস্থিত পানাম নগর। এখানেই ছিল মসলিনের মূল বাণিজ্যকেন্দ্র। এখনো পানাম নগরে দেখা যায় অপূর্ব ও নিপুণ কারুকাজখচিত প্রাচীন সব ইমারত। সরু রাস্তার দুই পাশে অট্টালিকা, সরাইখানা, মসজিদ, মন্দির, মঠ, ঠাকুর ঘর, গোসলখানা, কূপ, নাচঘর, খাজাঞ্চিখানা, টাঁকশাল, দরবার কক্ষ, গুপ্তপথ, প্রশস্ত দেয়াল, প্রমোদালয় জানান দেয় এ নগরের প্রাচীন সমৃদ্ধির কথা।
আজ থেকে প্রায় চার শ বছর আগে পানাম নগর স্থাপন শুরু হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। ধাপে ধাপে মোগল নির্মাণশৈলীর সঙ্গে ব্রিটিশ স্থাপত্যশৈলীর সংমিশ্রণে নির্মিত হয় এ নগর।
কালে কালে পানাম নগর হারাতে বসেছে তার ঐতিহাসিক রূপ, সৌন্দর্য ও জৌলুস। এই নগরের অনেক প্রাচীন স্থাপনাই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। যেগুলো আছে সেগুলোর অবস্থাও জরাজীর্ণ। প্রায় ১০ বছর আগে এ নগর সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা স্থগিত হয়ে যায়। নগরের পুরনো ভবনগুলোর ইট, সুরকি ধসে পড়ছে। ভবনের দখল নিয়েছে শেওলা ও আগাছা। দূর থেকে দেখলে মনে হয় ভুতুড়ে বাড়ি।
পানাম নগর একসময় সন্ধ্যা নামার পর নাচ, গান, সুর ও সাকির আয়োজনে মেতে উঠত; নৃত্যের তালে তালে ঝুমুরের শব্দ ও তানপুরার সুরে মুখর হয়ে উঠত সোনারগাঁর বাতাস। আজ সেই নগরে সন্ধ্যা নামলে নেমে আসে গা-ছমছমে নীরবতা। নামিদামি বণিক ও পর্যটকদের ডিঙি নৌকা ভেড়ে না নগরের ময়ূরপঙ্খি ঘাটে। এখন যেন পানাম নগরের দেয়ালে কান পাতলে শোনা যায় নগরের হাহাকার আর আর্তনাদ।
তবু প্রতিদিন হাজারো পর্যটক ভিড় জমায় পানাম নগরে। দেশ-বিদেশের প্রচুর পর্যটক আসে এখানে। যারা সোনারগাঁ লোক ও কারুশিল্প জাদুঘরে বেড়াতে আসে, তারাও ঘুরে যায় বিবর্ণ এই নগরে।
পানাম নগর ঘুরে দেখা যায় ৪০০ বছরের পুরনো মঠবাড়ি, যার পশ্চিমে রয়েছে ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানির বাণিজ্যকুঠি (নীলকুঠি) পোদ্দারবাড়ি, কাশীনাথের বাড়িসহ নানা প্রাচীন ভবন। তবে সেগুলো আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে রয়েছে। শের শাহের আমলে নির্মিত সোনারগাঁ থেকে সিন্ধু পর্যন্ত প্রায় ৩০০ মাইল দীর্ঘ ঐতিহাসিক গ্র্যান্ডট্যাংক রোডের নির্দশন এখনো বর্তমান। পাঁচটি প্রশস্ত ছয় মিটার দীর্ঘ সড়কের দুই পাশে একতলা, দোতলা ও তিনতলা প্রায় ৫২টি ভবন রয়েছে পানাম নগরে, যার বেশির ভাগই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। ১০টি ভবন প্রায় বিলুপ্তির পথে। সব ভবনের বেশির ভাগ কক্ষের ইট খসে পড়েছে, কারুকাজগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দাঁড়িয়ে থাকা অবকাঠামো দেখে সহজেই অনুভব করা যায়, পানাম নগর কত সুন্দর ছিল! সরকার পানাম নগরকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় নিয়ে নিয়েছে।
পানাম নগরে প্রবেশের আগে দক্ষিণ দিকে পঙ্খিরাজ খালের ওপর ঐতিহ্যবাহী পঙ্খিরাজ সেতু। এখন এটি ব্যবহৃত হচ্ছে সোনারগাঁর একাংশের যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে। এই সেতুর একাংশে বিশাল গর্ত। ভেঙে যাচ্ছে সেতুর রেলিংও। পানামের প্রবেশপথে পঙ্খিরাজ খালের উপর থাকা প্রাচীন সেতুটি নিশ্চিহ্ন করে বেশ কয়েক বছর আগেই তৈরি করা হয়েছে বাস চলাচলের রাস্তা। ঈশা খাঁর নাচঘর হিসেবে কথিত বাড়ি নীহারিকার একাংশ ধ্বংস করে তৈরি হয়েছে একটি নতুন রাস্তা।
একইভাবে অস্তিত্ব হুমকির মুখে এই নগরের প্রাচীন বাড়িগুলোও। তবু প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অনেকে আসে প্রাচীন এ নগর দেখতে।তারা সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করে বলেন, অচিরেই পানাম নগর সংস্কার করা না হলে এই নগরকে কোনোভাবেই রক্ষা করা যাবে না।
পানাম নগরে মূলত উচ্চ মাধ্যবিত্ত শ্রেণির ব্যবসায়ী ও জমিদাররা বসবাস করতেন। এর পাশাপাশি রাজাদের আমির-ওমরাহদের জন্য পানাম নগর ও এর আশপাশের গ্রামগুলোতে গড়ে উঠেছিল নিপুণ কারুকাজখচিত পাকা ইমারত। পানাম ও এর আশপাশ ঘিরে পঞ্চদশ শতক থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত এক সমৃদ্ধ জনজীবন ছিল।
ইতিহাসবিদ জেমস টেলরের মতে, আড়ংয়ের তাঁতখানা সোনারগাঁর পানাম নামক স্থানে ছিল এবং মসলিন শিল্প কেনাবেচার এক প্রসিদ্ধ বাজার ছিল পানাম নগর।

কারিকা ডেস্ক :
নগর জীবনে বর্তমানে সবুজের দেখা পাওয়া বেশ দুষ্কর। দিন দিন কমে যাচ্ছে সবুজের ছোঁয়া। কিছুদিন আগেও দু/চারটা গাছ নেই এমন কোন বাড়ি ছিল না। সময় দ্রুতই পাল্টাচ্ছে। এখন বড় বড় অট্টালিকার কবলে দেশ। অথচ শহরের অধিকাংশ বাড়ির ছাদগুলো এখনও ফাঁকা পরে আছে। এই ছাদগুলোকে অনায়াসেই সবুজ করা যায়। আর তাতে নগরীর প্রতিটি বাড়ির ছাদ হয়ে উঠতে পারে একখন্ড সবুজ বাগান।শহরের পরিবেশ রক্ষায় এ ধরণের ছাদ ও ব্যালকনি বাগানের ভূমিকা অপরিসীম।বিষমুক্ত টাটকা ফল-মূল, শাক-সবজির স্বাদ আস্বাদনের জন্য ছাদে বাগানের কোন বিকল্প নেই। গ্রীনহাউজ প্রতিক্রিয়ার কবল থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য গাছ-পালার মাধ্যমে সবুজায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে রুফ গার্ডেন সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। অবকাঠামো তৈরীতে যে পরিমান জমি নষ্ট হচ্ছে তা কিছুটা পুষিয়ে নেয়া যাবে রুফ গার্ডেনিং এর মাধ্যমে।
বাড়ির ছাদে বাগান করতে গেলে প্রথমেই যে বিষয়টি সামনে চলে আসে তা হলো ছাদ নষ্ট হওয়া। ছাদ সুরক্ষার জন্য প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নিয়েই ছাদ বাগান করতে হবে। ছাদে স্থায়ী বাগান করতে হলে প্রথমেই দুই ইঞ্চি পুরু করে অতিরিক্ত একটি ঢালাই দিয়ে নেট ফিনিশিং দিতে হবে। যদি উক্ত ছাদের উপর ভবিষ্যতে আরো ছাদ দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাহলে স্থায়ী বেড না করে টব বা ড্রামে বাগান করাই উত্তম। টব/ড্রাম যে কোন সময় স্থান পরিবরর্তন করার ফলে ছাদ পরিস্কার থাকে। আর তাতে ছাদ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও কম থাকে। টব বা ড্রামটিকে ছাদের ফ্লোর থেকে সামান্য উপরে বসালে পানি জমে থাকে না, ড্রামের নিচে পরিস্কার করতেও সুবিধা হয়।নতুন বাগান করার ক্ষেত্রে ছোট ছোট টব দিয়েই শুরু করা ভাল। ছোট টবের জন্য উপযোগী ফল গাছ যেমন – লেবু , ডালিম , কামরাংগা , করমচা , সফেদা , মিশরীয় ডুমুর , চেরী ফল , কমলা, বারমাসী আমড়া, আতা ইত্যাদি। যা খুব সহজেই ছাদে চাষ সম্ভব।
মাঝারী আকারের উপযোগী গাছ যেমন – থাই মিষ্টি তেতুল , পেয়ারা , জামরুল , আংগুর , বাতাবী লেবু , আম , অরবরই , আমলকি , মালটা ইত্যাদি। আর বড় টবের উপযোগী গাছ যেমন- যে কোন কূল জাতীয় গাছ , জলপাই , কতবেল , বেল , বারমাসী কাঁঠাল , জাম , পেঁপেঁ , কলা ইত্যাদি। টবের গাছে প্রতিবছর ফল পেতে হলে বছরে একবার টবের আংশিক মাটি পরিবর্তন করতে হবে। যদি গাছটি ছোট টবে হয় তাহলে বড় টবে নিতে হবে। আর যদি টবের সাইজ ১৬ ইঞ্চি থেকে ২০ ইঞ্চি বা তার চেয়ে বড় কোন টব বা হাফ ড্রাম হয় তবে টব পরিবর্তন করতে হবে না। শুধু টবের আংশিক মাটি পরিবর্তন করলেই চলবে এবং এটি ধারাবাহিক ভাবে প্রতিবছর করতে হবে। যদি নিয়ম মাফিক কাজটি করা যায় তাহলে প্রতিবছর উক্ত গাছ থেকে ফল পাওয়া যাবে।
ছাদে খুব অল্প পরিশ্রমে যে সব শাক-সবজির চাষ করা যায় তা হলো- করলা, টমেটো,করলা, ঢেঁড়শ, চিচিংগা, ঝিংগা, পুঁই শাক, চালকুমড়া, কলমীশাক, মুলা, কাচামরিচ, ক্যাপসিকাম, ধনেপাতা, কচু, ফুলকপি, বাধাকপি, ব্রুকলি, গাজর, ডাটা, লাল শাক ইত্যাদি।

কারিকা ডেস্ক
বিশ্ববাজারে সিমেন্টের অন্যতম কাঁচামাল ক্লিংকারের প্রধান সরবরাহকারী চীন। দেশটি থেকে মানভেদে প্রতি টন ক্লিংকার আমদানিতে খরচ পড়ে ৩০-৪০ ডলার। এর সঙ্গে অন্যান্য খরচ মিলিয়ে দেশে সিমেন্ট উৎপাদনে টনপ্রতি ব্যয় হয় সর্বোচ্চ ৭০ ডলার বা ৫ হাজার ৬০০ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে এখন প্রতি টন সিমেন্ট বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬০ ডলার বা ৪ হাজার ৮০০ টাকায়। অথচ দেশের বাজারে বর্তমানে ৫০ কেজি ওজনের প্রতি ব্যাগ সিমেন্টের গড় দাম কোম্পানিভেদে ৪০০-৪৫০ টাকা। এতে টনপ্রতি বাজারমূল্য দাঁড়ায় সর্বনিম্ন ৮ হাজার টাকা বা ১০০ ডলার। এ হিসাবে বাংলাদেশে সিমেন্ট বিক্রি হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের চেয়ে ৬০-৬৫ শতাংশ বেশি দামে।
বেশি দামে সিমেন্ট বিক্রির কথা স্বীকার করেন উৎপাদকরাও। তাদের দাবি, সিমেন্টে লাভের বড় একটা অংশ চলে যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগী বিতরণকারীদের পকেটে। আর বিতরণকারী ডিলাররা বলছেন, মালিকরাই বাড়তি মুনাফা করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে উপকরণের দাম কমলেও অলিগোপলি বা অপূর্ণ প্রতিযোগিতার (গুটি কয়েক প্রতিষ্ঠানের আধিপত্য) কারণে দেশে সিমেন্টের দাম কমছে না। যদিও দাম কমানো হয়েছে বলে দাবি উৎপাদকদের। তবে ব্যাগপ্রতি (৫০ কেজি) ১০-২০ টাকা কমানো আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান লাইটক্যাসলের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে সিমেন্ট শিল্পের বাজার ১৭৪ কোটি ডলারের। এর ৮৫ শতাংশই নিয়ন্ত্রণ করছে শীর্ষ ১০ কোম্পানি। আর শীর্ষ পাঁচ কোম্পানির হাতে রয়েছে মোট বাজারের ৪৮ দশমিক ১২ শতাংশ। এর মধ্যে ১৫ দশমিক ৯১ শতাংশ দখল করে আছে শাহ সিমেন্ট। ৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ বাজার দখল নিয়ে এর পরই রয়েছে হাইডেলবার্গ। অন্য বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মেঘনা সিমেন্টের দখলে রয়েছে এ বাজারের ৮ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ, হোলসিমের ৭ দশমিক ৪ ও লাফার্জের ৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ। কোম্পানিগুলো উৎপাদিত সিমেন্ট আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে ৬০-৬৫ শতাংশ বেশি দামে বিক্রি করছে। আর নিজেদের উৎপাদন খরচের চেয়ে বেশি রাখছে ৪০ শতাংশ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফ্রেশ ব্র্যান্ডের ৫০ কেজি ওজনের প্রতি ব্যাগ সিমেন্ট বিক্রি হচ্ছে ৪৪০ টাকায়। হাইডেলবার্গের স্ক্যান সিমেন্ট বিক্রি হচ্ছে ৪৮৫ টাকায়, লাফার্জের সুপারক্রিট ৪৫৫, হোলসিম ৫০০-৫১০ ও আকিজ সিমেন্ট ৪৬০ টাকায়।
এ প্রসঙ্গে আকিজ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ বশির উদ্দিন বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আকিজ সিমেন্টের দাম কমানো হয়েছে। বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।
একই কথা জানান কনফিডেন্স সিমেন্টের নির্বাহী পরিচালক নেওয়াজ মোহাম্মদ ইকবাল ইউসুফ। তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে আমরা সিমেন্টের দাম কমিয়েছি। এ বিষয়ে ঘোষণাও দেয়া হয়েছে। তবে খুচরা পর্যায়ে দাম না কমলে আমাদের কিছু করার নেই।’
পরিবেশকদের দাবি, লাভের বেশির ভাগই কোম্পানিগুলো নিয়ে যাচ্ছে। নগদে কিনলে কোম্পানিগুলো এক ধরনের দাম রাখে। আবার বাকিতে কিনলে আরেক দাম।
নেত্রকোনা সদর উপজেলার পরিবেশক মীরন তালুকদার বলেন, বাকিতে পণ্য কিনলে কোম্পানিগুলোকে ব্যাগপ্রতি ২৫-৩০ টাকা অতিরিক্ত দিতে হয়। প্রতি ব্যাগ ক্রাউন সিমেন্ট বাকিতে কিনলে ৪৬৩ টাকা পরিশোধ করতে হয়। আর নগদে কিনলে ৪৪০ টাকায় পাওয়া যায়। একইভাবে আকিজ সিমেন্ট বাকিতে কিনলে ব্যাগপ্রতি ৪৪০ ও নগদে ৪১০ টাকা পরিশোধ করতে হয়।
তবে পরিবেশকদের এ দাবির সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন উৎপাদকরা। বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি ও মেট্রোসেম সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শহীদুল্লাহ বলেন, ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত সুবিধা দেয়ার কারণে সিমেন্টের মূল্য সুবিধা গ্রাহকরা পান না। এক ব্যাগ সিমেন্টের দাম ৫০০ টাকা হলে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতার কমিশন এবং পরিবহনে ব্যয় হয় ১০০ টাকা। এ কারণে গ্রাহক পর্যায়ে দাম বেশি পড়ে।
তমা কনস্ট্রাকশনের পরিচালক শওকত আলী এ প্রসঙ্গে বলেন, নির্মাণ ব্যয়ের সিংহভাগই হয় রড ও সিমেন্ট বাবদ। দুটি নির্মাণসামগ্রীর দামই আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে দেশে বেশি। নির্মাণ খরচও তাই বেশি পড়ছে। সিমেন্টের দাম কম থাকলে নির্মাণ ব্যয়ও কম হতো। তাতে সরকারি-বেসরকারি সব প্রকল্প কম ব্যয়ে সম্পাদন করা যেত।
উল্লেখ্য, দেশে সিমেন্টের চাহিদা রয়েছে বছরে ১ কোটি ৮০ লাখ থেকে দুই কোটি টন। এর বিপরীতে খাতটির উৎপাদন সক্ষমতা ৩ কোটি ৩০ লাখ থেকে ৩ কোটি ৫০ লাখ টন। চাহিদা কম থাকায় কারখানাগুলো উৎপাদন ক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারছে না। সক্ষমতার গড়ে ৬০-৬৫ শতাংশ অব্যবহূত থাকছে।

0 1136
কারিকা ডেস্ক
অপরিশোধিত ইস্পাতের বৈশ্বিক উৎপাদন দীর্ঘদিন ধরে কমতির দিকে রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত মাসেও পণ্যটির উৎপাদন নিম্নমুখী ছিল বলে ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, চলতি বছরের এপ্রিলে বিশ্বব্যাপী ১৩ কোটি ৫০ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন হয়। এর পরিমাণ ২০১৫ সালের একই সময়ের তুলনায় দশমিক ৫ শতাংশ কম।
বিশ্বে অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদনকারী শীর্ষ দেশ চীন। গত মাসে দেশটিতে পণ্যটির উৎপাদন দাঁড়ায় ৬ কোটি ৯৪ লাখ টনে। ২০১৫ সালের এপ্রিলের তুলনায় যা দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। এশিয়ার অপর দেশ জাপানে এ সময় পণ্যটির উৎপাদন বাড়লেও কমেছে দক্ষিণ কোরিয়ায়। ২০১৬ সালের এপ্রিলে জাপানে ৮৫ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন হয়, যা পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের চেয়ে ১ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় গত মাসে পণ্যটির উৎপাদন ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৫৭ লাখ টনে দাঁড়ায়।
ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিলে রাশিয়ায় ৫৯ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে। ২০১৫ সালের একই সময়ের চেয়ে যা দশমিক ৪ শতাংশ কম। তবে গত মাসে ইউক্রেনে ১১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে পণ্যটির উৎপাদন দাঁড়ায় ২২ লাখ টনে। ২০১৬ সালের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন হয় ৬৬ লাখ টন ইস্পাত। পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের চেয়ে যা ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। এদিকে গত মাসে ব্রাজিলে উৎপাদন হয় ২৩ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত। ২০১৫ সালের এপ্রিলের চেয়ে যা ২০ দশমিক ৬ শতাংশ কম।
ওয়ার্ল্ড স্টিল বিশ্বের ইস্পাত উৎপাদনকারী ৬৬টি দেশের ওপর জরিপের ভিত্তিতে প্রতি মাসে পণ্যটির উৎপাদন-সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ করে থাকে। পণ্যটির উৎপাদন হ্রাসের পাশাপাশি ব্যবহার সক্ষমতাও ২০১৫ সালের এপ্রিলের তুলনায় ৬ দশমিক ৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে চলতি বছরের মার্চের চেয়ে গত মাসে পণ্যটির ব্যবহার কমেছে দেড় শতাংশ।
২০১৬ সালের এপ্রিলে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) ইস্পাত উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে ইতালিতে উৎপাদন বাড়লেও কমেছে অন্যান্য দেশে। অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, ২০১৬ সালের এপ্রিলে জার্মানিতে ৩৬ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন হয়। এর পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১ দশমিক ৫ শতাংশ কম। ২০১৬ সালের এপ্রিলে ইতালিতে ২১ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন হয়। পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের চেয়ে যা ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। গত মাসে স্পেনে ১০ দশমিক ৬ শতাংশ কমে পণ্যটির উৎপাদন দাঁড়ায় ১২ লাখ টনে।

কারিকা ডেস্ক
আবাসন শিল্পে আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের যাত্রা ’৮০-এর দশকে। বর্তমানে আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের আবাসন প্রকল্প রয়েছে ৯টি। এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি প্রকল্পই ঢাকার আশপাশ ঘিরে। এ ছাড়া ঢাকার বাইরেও রয়েছে একাধিক প্রকল্প। ঢাকার অদূরবর্তী আশুলিয়া মডেল টাউন ও মতিঝিল সংলগ্ন গ্রীন মডেল টাউন দুটি প্রকল্প নগর জীবনের সকল সুবিধা নিয়ে গড়ে উঠেছে। ঢাকার বাইরে রয়েছে আশুলিয়া প্রভাতী (খাগান), আশুলিয়া বর্ণালী (গৌরীপুর), আশুলিয়া কিংডম (রাঙ্গামাটি), আশুলিয়া লাবণী (গৌরিপুর), আশুলিয়া স্বর্ণালী (চৌবাড়িয়া) ও শ্যামল ছায়া (সিলেট)
 প্লট: আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের প্রতিটি প্রকল্পেই রয়েছে ২, ২.৫, ৩, ৪, ৫ ও ১০ কাঠার প্লট। দামের ওপর নির্ভর করে বিভিন্নমুখী প্লট। আশুলিয়া মডেল টাউনে রয়েছে উত্তর/পশ্চিমমুখী প্লট, পূর্ব/দক্ষিণমুখী, সাধারণ কর্নার, এ্যাভিনিউ রোড সাইট, এ্যাভিনিউ কর্নার প্লট, গ্রীন মডেল টাউনে রয়েছে উত্তর-পশ্চিম, পূর্ব-দক্ষিণ, সাধারণ কর্নার, এ্যাভিনিউ রোড, এ্যাভিনিউ কর্নার লেকসাইট এবং লেক কর্নার সাইট।
দাম : আশুলিয়া মডেল টাউনে রয়েছে ৫ ধরনের প্লট। উত্তর-পশ্চিমমুখী প্লট কাঠাপ্রতি দশ লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা। পূর্ব-দক্ষিণমুখী প্লট এগারো লাখ টাকা, সাধারণ কর্নার প্লট এগারো লাখ ৫০ হাজার টাকা এ্যাভিনিউ রোড সাইট ১২ লাখ টাকা, এ্যাভিনিউ কর্নার সাইট ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
গ্রীন মডেল টাউনে রয়েছে ৯ ধরনের প্লট। উত্তর-পশ্চিমমুখী প্লট ২৩ লাখ টাকা কাঠাপ্রতি, পূর্ব-দক্ষিণমুখী ২৪ লাখ, সাধারণ কর্নার ২৫ লাখ, এ্যাভিনিউ রোড সাইট ২৬ লাখ, এ্যাভিনিউ কর্নার ২৭ লাখ, ১০০ ফুট এ্যাভিনিউ রোড সাইট ২৮ লাখ, ১০০ ফুট এ্যাভিনিউ কর্নার প্লট ৩১ লাখ, লেক সাইট ২৮ লাখ, লেক সাইট কর্নার ৩১ লাখ টাকা।
মূল্য পরিশোধ : প্লট ক্রয়ে টাকা পরিশোধের রয়েছে দুই ধরনের ব্যবস্থা। একটি হচ্ছে এককালীন পরিশোধ, অন্যটি কিস্তির মাধ্যমে পরিশোধ। কিস্তিতে টাকা পরিশোধ করতে চাইলে গ্রাহক দুইভাবে টাকা পরিশোধ করতে পারবেন। একটি হচ্ছে ২৪ কিস্তি, অন্যটি ৩৬ কিস্তি। কিস্তি সুবিধা নেয়ার ক্ষেত্রে এককালীন টাকা পরিশোধের থেকে ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা বেশি প্রদান করতে হবে।

ফারিয়া মৌ

ব্যস্ত জীবনের সব কিছুকে ছাপিয়ে যখন মানুষ আপন নীড়ে ফিরে আসে, তখন শোবার ঘরটাই যেন হয়ে ওঠে ক্লান্তি নিবারণের একমাত্র উপলক্ষ। তাই শোবার ঘরের সাজসজ্জায় প্রয়োজন খানিকটা বাড়তি মনোযোগ। অপ্রয়োজনীয় বা অতিরিক্ত আসবাবপত্র এ ঘরে না-থাকাই ভালো। এতে ঘরটা খোলামেলা থাকবে, ফলে বাতাস চলাচলে সুবিধা হবে।

আসবাবপত্রের ব্যবহার
শোবার ঘরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে বিছানা। পাশাপাশি আলমারি, ড্রেসিং টেবিল, ওয়ারড্রব ইত্যাদি ফার্নিচারও এই ঘরেই স্থান পায়। তবে যতটা সম্ভব কম আসবাবপত্র ব্যবহার করলে এ ঘরে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করা সম্ভব।

আলোর ব্যবহার
শোবার ঘরের জন্য হাল্কা ও উষ্ণ আলোর ব্যবহারই আরামদায়ক। চাইলে ঘুমানোর সময় মৃদু আলোর ব্যবহার করতে পারেন। সম্ভব হলে ঘরের জানালা বন্ধ রাখতে হয়, এমন স্থানে কোনো আসবাব না রাখাই ভালো।

দেয়ালের রঙ
হালকা অথচ উজ্জ্বল দেয়ালে এমন রঙ ব্যবহার করা ভলো। এতে আপনার ঘরের পরিবেশটা বেশ মোহনীয় লাগবে। উজ্জ্বল সাদা, চাপা সাদা, হাল্কা গোলাপি, হাল্কা সবুজ, নীল ইত্যাদি রঙ আপনার শোবার ঘরের জন্য মানানসই। আপনার ব্যক্তিগত রুচির সাথে যায় এমন রঙটিই বেছে নিন।

দেয়ালসজ্জা
শোবার ঘরের সবচেয়ে দীর্ঘ দেয়ালে আপনার পরিবারের সবচেয়ে মিষ্টি মুহূর্তটিকে বড় কোনো ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখতে পারেন, যা আপনাদের প্রিয় সময়গুলোকে মনে করিয়ে দেবে। এছাড়া চাইলে অন্য কোনো শৌখিন কিছু দেয়ালসজ্জার উপকরণ হতে পারে। তবে লক্ষ্য রাখবেন তা যেন দেখতে ভালো লাগে এবং আপনার ঘরের আনুসঙ্গিক জিনিসগুলোর সাথে মানানসই হয়।

অন্যান্য অনুষঙ্গ
আপনার দেয়ালের রঙের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রঙের বিছানার চাদর, দরজা-জানালার পর্দা ব্যবহার করবেন। সম্ভব হলে পারিবারিক আড্ডার জন্য মেঝেতে বসার ব্যবস্থা করতে পারেন।

পরিচ্ছন্নতা
এই ঘরটিকে সবসময় পরিচ্ছন্ন রাখা উচিত। আর হাল্কা সুগন্ধির ব্যবহার আপনার শোবার ঘরকে করতে পারে আরো আকর্ষণীয়।

0 1149

মো. জগলুল হায়দার

সুস্থ ও আয়েশিভাবে বেঁচে থাকার জন্য কতই না আয়োজন। চলতে হবে নিরবচ্ছিন্নভাবে। শরীরে জাপটে এসে লাগতে হবে ফুরফুরে হাওয়া। আর দমটাও নিতে হবে আত্মার চাহিদামাফিক। তবেই না আত্মা তৃপ্ত! গ্রীষ্মকাল মানেই গরমে হাঁসফাঁস জীবন। তাই এ সময়টাতে আত্মাও চায় ‘কুল, কুল’ অর্থাৎ ঠা-া হাওয়ার শ্বাস-প্রশ্বাস। এ বিষয়টাকে মাথায় রেখে প্রযুক্তিও এগিয়ে চলছে। হাতপাখা থেকে টেবিল ও সিলিংফ্যান সর্বোপরি এয়ারকুলার থেকে এয়ারকন্ডিশনারÑ সবই মানুষের যাপিত জীবনে ব্যবহার হচ্ছে। বর্তমান সময়কে বলা হয় এয়ারকন্ডিশনারের যুগ। বাড়ি-গাড়ি, অফিস-আদালত, শপিংমল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাÑ সবক্ষেত্রেই এখন এর অপ্রতিরোধ্য প্রভাব। এয়ারকন্ডিশনার ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ভেতরকার বায়ুম-লের পরিবেশের কথা এখন চিন্তাও করা যায় না।

এয়ারকুলার বনাম এয়ারকন্ডিশনার
অনেকের ধারণা এয়ারকুলার ও এয়ারকন্ডিশনার একই প্রযুক্তির জিনিস। আসলে কিন্তু তা নয়। এ দুটি প্রযুক্তি কার্যকারিতার দিক থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এয়ারকুলারের কাজ হলো শুধু ঠা-া বাতাস প্রবাহিত করা। অর্থাৎ ঘরের ভেতরের তপ্ত পরিবেশকে ঠা-া করতে এটি ভূমিকা পালন করে থাকে। গ্রীষ্মকালে এটির ব্যবহার সম্ভব, শীতকালে নয়। আর এয়ারকন্ডিশনার এমন এক প্রযুক্তি, যা দ্বারা ঘরের ভেতরে থাকা আবদ্ধ বায়ুম-লের অনেকটা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত হয়। এ যন্ত্র শীতকালে গরম আর গরমকালে ঠা-া বাতাস প্রবাহ করতে পারে। ফলে গ্রীষ্ম ও শীতÑ উভয় ঋতুতেই এর ব্যবহার সম্ভব।
তবে ঢাকার বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আমাদের দেশে এয়ারকন্ডিশনারের চেয়ে এয়ারকুলারের চাহিদাই বেশি। কারণ হিসেবে উঠে এসেছে সামর্থ্যরে বিষয়টাই।

হিসাব ও দামদর
বারো হাজার ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট সমান এক টন, যা ১২০ থেকে ১৩০ বর্গফুট জায়গা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাখে। এ হিসাব ধরেই বাজারে বিক্রি হয় এয়ারকুলার ও এয়ারকন্ডিশনার। আবাসিক ক্ষেত্রে সাধারণত এক, দেড় ও দুই টনের এয়ারকুলার ও এয়ারকন্ডিশনার ব্যবহার করা হয়। বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে পাঁচ থেকে শুরু করে শতাধিক টন পর্যন্ত এয়ারকুলার ও এয়ারকন্ডিশনার
ব্যবহার করা হয়। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এক টনের এয়ারকুলার ৩০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা এবং এয়ারকন্ডিশনার ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান
বাংলাদেশের বাজারে ওয়ালটন, জেনারেল, এলজি, শার্প, প্যানাসনিক, গ্রে (চায়না), হিটাচি, মিৎসুবিশি, তোশিবা, ট্রান্সটেক, স্যামসাং ও সিঙ্গার ব্র্যান্ডের এয়ারকুলার পাওয়া যায়। আর এয়ারকন্ডিশনারের ব্র্যান্ডের মধ্যে জেনারেল, ওয়ালটন ও এলজির চাহিদাই বেশি।
এয়ারকুলার ও এয়ারকন্ডিশনার বিক্রিকে কেন্দ্র করে দেশের সবচেয়ে বড় বাজার গড়ে উঠেছে রাজধানীর স্টেডিয়াম মার্কেটে, যা বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম মার্কেট নামেও পরিচিত। এছাড়া বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা শহরের বিভিন্ন মার্কেটে এমনকি উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শোরুমেও বর্তমানে এয়ারকুলার ও এয়ারকন্ডিশনার বিক্রি
হচ্ছে।

যতœআত্তির কৌশল
এয়ার ফিল্টার সাধারণত ২ মাস পরপর সাবান-পানি দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। ফিল্টার পরিষ্কার থাকলে তা সহজে এয়ারকুলার ও এয়ারকন্ডিশনারের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে না। এছাড়া এয়ারকুলার ও এয়ারকন্ডিশনার ব্যবহারের জন্য আলাদা বিদ্যুৎ-লাইন টেনে নেয়া উচিত। এতে ভোল্টেজ-সমস্যা দূর হয়। ফলে এয়ারকুলার ও এয়ারকন্ডিশনারে অতিরিক্ত চাপ পড়ে না এবং সহজে নষ্ট হয় না। ইনভার্টার এয়ারকন্ডিশনার বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী। ইনভার্টার এসি নরমাল এসির তুলনায় ৬০ শতাংশ কম বিদ্যুৎ খরচ
করে।

0 1097
কারিকা ডেস্ক :
হাউজিং এন্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এইচবিআরআই)উদ্যোগে ১ জুন থেকে ৪ জুন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে পরিবেশ বান্ধব ইট ও ভূমিকম্প সহনশীল নির্মাণ প্রযুক্তি প্রদর্শনী। প্রদর্শনীতে থাকছে ভূমিকম্পসহ সকল দূর্যোগ সহনীয় নির্মাণ উপকরণ ও প্রযুক্তি। কৃষিবান্ধব, ব্যয় সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও উপকরণ এবং এইচবিআরআই উদ্ভাবিত, প্রত্যয়িত ও স্বীকৃত বিকল্প নির্মাণ প্রযুক্তি ও উপকরণ। হাউজিং এন্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত প্রদর্শনীটি সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৬ টা পর্যন্ত সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

মাহেনাজ এম

‘পারফেক্টলি ইমপারফেক্ট’ বা ‘সঠিকরূপে বেঠিক’ এই দুটি ছোট্ট শব্দ ইন্টেরিয়ার ডিজাইনার ও গ্রেস হোম ডিজাইন ফার্মের প্রতিষ্ঠাতা জেনিফার ভিসোস্কির সুপরিসর ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং ফিলোসফিকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করে। বর্তমান সময়ের স্বনামধন্য এই ইন্টেরিয়র ডিজাইনারের কাজের বৈশিষ্ট্য হলো, সঠিকতর মাপকাঠিতে ব্যতিক্রমি হওয়া। ভিসোস্কি ডিজাইনের কাজ শুরু করার আগে বাড়ির মালিকের সঙ্গে কথাবার্তা বলে নেন; তারপর তৈরি করেন স্টাইলিশ, আরামদায়ক আবেদনের সাজসজ্জা যা গৃহকে দেয় স্বতঃস্ফূর্ত স্বাভাবিক সৌন্দর্য্যরে অনুভূতি। ভিসোস্কির ভাষায়, ‘আমি এমনভাবে ঘর সাজাতে চাই যেন তা দেখতে ভালো হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বসবাসেও সুবিধাজনক হয়।’

মেধাবী এই ডিজাইনারের সঙ্গে সাক্ষাতকারে আলোকপাত হয় ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং নিয়ে ভবিষ্যত ভাবনার নানান দিক। আমেরিকার এই বিখ্যাত ইন্টেরিয়ার ডিজাইনার জানান, ইন্টেরিয়ার ডিজাইনিংয়ের ধারা আজকাল কোন দিকে যাচ্ছে, ওনার গ্রাহকরা কী চাচ্ছেন এবং আগামীতে গৃহ বা অফিসের ইন্টেরিয়র কেমন হবে।

 

জেনিফারের করা ইন্টেরিয়রের অংশবিশেষ

 

 

গৃহসজ্জা ও ব্যক্তিত্বকে এক সুঁতোয় গাঁথা

প্রত্যেকেরই নিজস্ব পছন্দ-অপছন্দ আছে, ভিসোস্কি তাঁর গ্রাহকদের মতামতের ব্যাপারটি প্রাধান্য দিয়ে বিবেচনা করেন। তিনি বলেন, ‘গ্রাহকেরা বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যম থেকে অসংখ্য ছবি জোগাড় করে আমার কাছে আসে। আমার কাজ হলো তাদের সেসব ছবি বা ইচ্ছাগুলোকে বাস্তবসম্মতভাবে তাঁদের বাড়ির ডিজাইনে সম্পৃক্ত করা।’

এসব অনলাইন মাধ্যমকে দু’মুখো তলোয়ারের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘একদিকে এসব থেকে ডিজাইনার ও গ্রাহকদেরর ডিজাইনের উপলব্ধি সংবৃদ্ধ হয়, অন্যদিকে এগুলো নানান বিভ্রান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘যখন কোনো গ্রাহক অনলাইন থেকে জোগাড় করা আইডিয়া ও ছবিসহ আমাদের কাছে আসেন তখন সেসব ভাবনা খতিয়ে দেখে তাঁর মূল চাওয়া পর্যন্ত পৌঁছানো বেশ মুশকিল হয়ে পরে। তাছাড়া জোগাড় করা সেসব ছবির হুবহু কপি তৈরি না করে তাতে স্বাতন্ত্র আনাও কঠিন হয়ে পরে।’

তবে অনলাইন সুবিধাগুলোকে চমৎকার উল্লেখ করে ভিসোস্কি বলেন, ‘পক্ষান্তরে একটি বাড়ির অরিজিনালিটি বা মৌলিকত্ব বজায় রেখে স্বতন্ত্র অন্দরসজ্জার জন্য গ্রাহকদের উচিৎ ডিজাইনারের ওপর আস্থা রাখা।’

0 5522

নতুন সংসার পাততে হলে খাট, আলমিরা, আলনা, চেয়ার টেবিল তো লাগবেই। সাধ আর সাধ্যের মিল ঘটাতে হিমশিম খেতে থাকা দম্পতিদের জন্য আছে জাহাজের ফার্নিচারের খবর। চট্টগ্রাম নগরের কর্নেলহাট, ফৌজদারহাট এলাকায় পাওয়া যায় শিপের ফার্নিচার নামে পরিচিত এসব আসবাবপত্র। ইদানিংকালে ঘরে ব্যবহার্য আসবাব হিসেবে এসব ফার্নিচারের কদরও বেড়েছে। কাঠের আসবাবের তুলনায় দাম অনেকটা সহনীয় হওয়ায় মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোতে এসব আসবাবপত্র দেখা যায় সচরাচর। টেকসই এবং তুলনামূলক সস্তা হওয়ায় জাহাজের পুরনো আসবাবপত্র জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। চট্টগ্রামের কর্নেলহাট থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত কয়েকটি দোকান ঘুরলে দেখা যাবে টেবিল, সোফা, ওয়ারড্রোব, শোকেস, ডাইনিং টেবিল, কম্পিউটার টেবিল, আলমারি, ফাইল কেবিনেট, চেস্ট অব ড্রয়ার, সেক্রেটারি টেবিল, টি-টেবিল, টিভি ট্রলি ইত্যাদি। খাটের মধ্যে আছে বিট খাট, রাউন্ড খাট, মিনার খাট, চাল খাট, ফিটিং খাট ইত্যাদি। কোট-হ্যাঙ্গারসহ আছে ওয়ারড্রোব ও শোকেস। আলমারি আছে সিঙ্গেল ও ডাবল।
ওইসব দোকানে থাকা লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, ৩০ বছর আগে চট্টগ্রামে শুরু হয়েছিল পুরনো জাহাজ ভাঙা ব্যবসা। সেই সঙ্গে ফৌজদারহাট, ভাটিয়ারি, মাদাম বিবিরহাট এলাকায় গড়ে ওঠে জাহাজের আসবাবপত্র বিক্রির ব্যবসাও। জাহাজে ব্যবহৃত আসবাবপত্র বিক্রি হয় এখানে। ধীরে ধীরে এ ব্যবসা প্রসার লাভ করেছে চট্টগ্রাম থেকে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে।
রকমফেরে আসবাবের দাম ভিন্ন। খাটের দাম পড়বে তিন হাজার ৫০০ থেকে বার হাজার টাকা, ড্রেসিং টেবিলের দাম পড়বে আড়াই হাজার থেকে চার হাজার ৫০০ টাকা, সোফা সাত থেকে ১৩ হাজার টাকা। ওয়ারড্রোব কেনা যাবে আটত্রিশ শ’ থেকে ৯ হাজার টাকায়, শোকেস দুই হাজার ৮০০ থেকে ১০ হাজার টাকায়, ডাইনিং টেবিল তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকায় এবং কম্পিউটার টেবিল পাওয়া যাবে দুই হাজার ২০০ থেকে চার হাজার টাকায়। আলমারির দাম তিন থেকে ৯ হাজার টাকা, ফাইল কেবিনেট চার থেকে আট হাজার টাকা, চেস্ট অব ড্রয়ার দুই থেকে তিন হাজার টাকা, সেক্রেটারিয়েট টেবিলের দাম পড়বে দুই হাজার ২০০ থেকে তিন হাজার ৫০০ টাকা, টি-টেবিল কেনা যাবে এক হাজার ৫০০ থেকে তিন হাজার টাকায় আর টিভি ট্রলি এক হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার টাকায়। কামাল। বয়স ষাট ছুঁই ছুঁই। ভাটিয়ারিতে শিপের ফার্নিচার আনা নেয়ার কাজ করছেন তিনি বিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে। তিনি বললেন, চট্টগ্রামের নানা জায়গায় এবং দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতেও এ আসবাবপত্র সরবরাহ করা হয় এখান থেকে। এ ছাড়া কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী, ঢাকা, সিলেট, যশোর, বগুড়া, দিনাজপুর, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন জেলা শহরে এ আসবাবপত্র যায়। ক্রেতা প্রয়োজনীয় আসবাব পছন্দ করে দরদাম আর গাড়িভাড়া পেমেন্ট করে গেলেই ঠিকানা মতো ফার্নিচার পৌঁছে যায়।