Home বাজার দর

কারিকা ডেক্স


চলছে বর্ষা-মৌসুম। বৃষ্টির ছোঁয়া পেয়ে নগরীর ধুলিমাখা ধুসর গাছগুলোও নিজেদের ধুয়েমুছে সবুজে সাজাচ্ছে আর চারা-গাছগুলোও নতুন ডালপালা মেলতে শুরু করেছে। কারণ ঝুমবৃষ্টির এই বর্ষাই গাছের সুসময় আর গাছ লাগানোর উপযুক্ত সময়। ফলে এই বর্ষায় গাছ লাগিয়ে শহরে আমাদের বাড়ির ফাঁকা ছাদগুলোও ভরিয়ে তুলতে পারি সবুজে-সবুজে। পাশাপাশি ছাদের উন্মুক্ত জায়গাগুলো ফাঁকা না রেখে উৎপাদন করতে পারি বিভিন্ন শাক-সবজিও। তৈরি করতে পারি পরিবারের জন্য টাটকা ও বিষমুক্ত শাক-সবজি খাওয়ার একটা সুযোগ।
টব, ট্রে, পরিত্যক্ত বালতি, বস্তা, বোতল বা হাফ ড্রাম অথবা জিও ফেব্রিক ব্যাগ বা অন্য কোনো সুবিধামতো পাত্রে অথবা স্থায়ী বা অস্থায়ী বেড করে মাটির সঙ্গে প্রয়োজনীয় সার মিশিয়ে ছাদে শাক-সবজি চাষ করতে পারি। বর্ষাকালে ছাদে সহজেই শসা, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, কাকরোল, চালকুমড়া, বেগুন, বরবটি, ঢেঁড়শ, পুইশাক, লালশাক, ডাঁটা, পাটশাক, গিলকলমি, করলা ইত্যাদি চাষ করা যায়। ছাদে সবজি চাষ করার আগে ভাবতে হবে যে কোথায় কোথায় সারাদিন রোদ পড়ে, কোথায় বা কোন অংশজুড়ে পাশের বিল্ডিংয়ের ছায়া পড়ে। সে অনুযায়ী কোন অংশে কোন সবজি লাগানো যায় তার পরিকল্পনা করতে হবে ও সে অনুযায়ী দরকারী জিনিসপত্র যোগাড় করতে হবে। এরপর ছাদের অবস্থান ও আকার অনুযায়ী একটি নকশা তৈরি করতে হবে। স্থায়ী বা অস্থায়ী বেডে স্বল্প খরচে শাক-সবজি চাষ করতে চাইলে কিছু বিশেষ পদ্ধতি ও পর্যায় অনুসরণ করতে হবে। যেহেতু একটি বেড বেশ বড় হয় এবং সহজে স্থান পরিবর্তন করা যায় না, তাই এটি স্থাপনের আগে ভালোভাবে দেখে-বুঝে স্থাপন করতে হবে। বেডটি একটি কাঠামোর ওপর মূল ছাদ থেকে ৬ থেকে ৮ ইঞ্চি উঁচু করতে হয়। কাঠামোটি কাঠের খুঁটি বা কাঠের ফ্রেম অথবা ইট বা লোহার ফ্রেমের ওপর স্থাপন করতে হয়। জিআই পাতের বড় ট্রে ও বেড তৈরিতে ব্যবহার করা যায়। এমনকি ফেলে দেয়া বাথটাবেও সবজির বেড তৈরি করা যায়।
প্রথমে বেড তৈরির কাঠামোর জন্য কী কী জিনিস লাগবে তার হিসাব বের করুন। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করুন। কী ধরনের উপকরণ ব্যবহার করা হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এই কাঠামো হালকা যেকোনো কিছু দিয়েই করা যেতে পারে, যা কাঠামোর ভেতরে আলগা মাটিকে ধরে রাখে এবং ওজনে কম হয়। চেরাই কাঠের তক্তা বা প্লাস্টিকের উড ব্যবহার করে বেডের চারপাশের কাঠামো তৈরি করা সহজ। নিচে তক্তা বা টিনও ব্যবহার করা যেতে পারে, যার ওপর পলিথিন বিছিয়ে দেয়া ভালো। এতে বেডে সেচ দেয়া পানিতে তক্তা বা টিন নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে না। তবে ছাদ ড্যাম-প্রুফ বা ওয়াটার-প্রুফ করে নিলে ছাদের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে না বললেই চলে।
তবে বেডের কাঠামোটি স্থায়ী হিসেবে ইট বা কংক্রিট দিয়ে করতে চাইলে ছাদ ড্যাম-প্রুফ করে তৈরি করতে হবে। তা না-হলে বাতাস চলাচল সহজ হয় না এবং ছাদ আর্দ্র বা স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে পড়ে। স্থায়ী বা অস্থা যে ধরনের বেড হোক-না কেন, অর্ধেক মটি ও অর্ধেক কম্পোস্ট দিয়ে ভরতে হয়। কম্পোস্ট না থাকলে মাটির তিন ভাগের এক ভাগ গোবর দিতে হবে। যে সবজিই লাগাবেন, সেগুলো সারি করে লাগানো ভালো। তাতে ছাদের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়।

কারিকা ডেক্স


সবুজ ভবনের ধারণা শুরুতে যতটা মনে করা হয়েছিল, তারচেয়ে বেশি দ্রুততার সঙ্গে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। একেকটা ভবন যেমন মানুষের কাজের জন্য নির্মিত হয়, একইভাবে এটা অবসর আর বিনোদনের কাজেও আসে। দালান-কোঠাকে এড়িয়ে চলা আধুনিক এই নগর জীবনে সম্ভব নয়। যুগের চাহিদা থাকার কারণে ইট-কাঠ-পাথরের ভবনই এখন পরিবেশ রক্ষায় রাখছে ভূমিকা।

কিন্তু পৃথিবীর মোট ব্যবহৃত শক্তির ৪০ শতাংশ এই ভবনগুলোর পেছনে ব্যয় হয়। মোট কার্বন নিঃসরণের ৪০ শতাংশও আসে এসব ভবন থেকে। তাই সম্প্রতি এক হাজার পরিবেশবান্ধব মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে ইন্দোনেশিয়ায়। রেকর্ডসংখ্যক কোম্পানি একত্রিত হয়েছে সারা বিশ্বে অতিমাত্রায় ব্যবহারের কারণে বালির যে সংকট তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করতে।

টেকসই উন্নয়নের পথে হাঁটছে রেকর্ডসংখ্যক রিয়েল স্টেট ফার্ম
রেকর্ডসংখ্যক রিয়েল স্টেট কোম্পানি আগ্রহ প্রকাশ করেছে সবুজ প্রকল্প নিয়ে কাজ করতে এবং তাদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে সামাজিক সেবার মান। শক্তির ব্যবহার, বর্জ্য-ব্যবস্থাপনা ও সেটার পুনর্ব্যবহার, পানির ব্যবহার সবকিছুতে আধুনিকায়নের কারণে এসবের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক টেকসই রিয়েল স্টেট বেঞ্চমার্ক জরিপে। এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের ১২৪টি কোম্পানি নিজেদের পরিবেশবান্ধব টেকসই উন্নয়নে অংশীদার হয়েছে। এর অর্ধেকের বেশি কোম্পানি এসেছে অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ড থেকেও।

৩.৪ ট্রিলিয়ন ডলারের সুযোগ
দ্রুতগতিতে নগরায়ণের কারণে বর্তমানের চেয়ে ভবনের সংখ্যা ২০১৫ সালে ২৫ শতাংশ বাড়বে। ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশনের জরিপ বলছে, একই সময় সবুজ ভবন নির্মাণে বিনিয়োগ বেড়ে দাঁড়াবে ৩.৪ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত। ফিলিপাইনের আইএফসি কান্ট্রি ম্যানেজার ইউয়ান জু বলেন, ‘সবুজ ভবনের যে বাজার সেখানে আলোড়ন তুলতে পারলে এই খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ আরো বাড়বে।’

 

biophilia-1024x683

ভালো মানের নির্মাণের জন্য ভালো মানের উপকরণ
আগেকার সেই মাটির ঘরের যুগে ফিরে যাওয়া গেলে সেটাই পরিবেশের জন্য সবচেয়ে বেশি ভালো হতো। হতো আর্থিকভাবেও অনেক সাশ্রয়ী। সম্প্রতি শ্রীলংকার এক গবেষণা বলছে এমন কথা। এমআইটির গবেষকরা কংক্রিটকে কীভাবে আরও পরিবেশবান্ধব করে তোলা যায়, সেটা নিয়ে কাজ করছেন। টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানের বাজারও দিন দিন বেড়েই চলেছে। ২০২৬ সাল নাগাদ এটা উঠতে পারে ১২৭ বিলিয়ন ইউএস ডলার পর্যন্ত!
অবশ্য এতকিছুর পরও ভবন নির্মাণে সেই বালুর চাহিদা কিন্তু কমছে না মোটেও। এ ব্যাপারটা পরিবেশকে আরো বেশি হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

সবুজ ভবনের চেয়েও বেশিকিছু
কেবল সবুজ ভবন নির্মাণ করেই কার্বনের পরিমাণ যতটা কমানো দরকার, ততটা সম্ভব নয়। অন্তত জার্মান পরিবেশ প্রকৌশল ফার্ম ট্রান্সসোলারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক থমাস অর তেমনটাই মনে করেন। গেল বছর হংকংয়ে ওয়ার্ল্ড সাসটেইনেবল এনভায়রনমেন্ট কনফারেন্সে ইকো-বিজনেসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় না এই প্রযুক্তি আমাদের যেখানে পৌঁছানো দরকার, সেখানে পৌঁছে দিতে পারবে। তবে এটাও সত্যি, পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এই সবুজ ভবনের ধারণা। কিন্তু একই সঙ্গে আমাদের আচরণেও পরিবর্তন আনতে হবে। তাহলেই লক্ষ্য অর্জিত হবে।’

পরিবেশবান্ধব মসজিদ
মুসলমানদের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হিসেবে এক হাজার পরিবেশবান্ধব মসজিদ নির্মিত হচ্ছে ইন্দোনেশিয়ায়। দেশটির শীর্ষ ধর্মীয় সংগঠন ইন্দোনেশিয়ান উলেমা কাউন্সিলের (এনইউআই) উদ্যোগে নির্মিতব্য এসব মসজিদে ব্যবহার করা হবে নবায়নযোগ্য শক্তি। পানির যাতে সর্বোচ্চ সাশ্রয় করা যায় থাকবে সে ব্যবস্থা। থাকছে উন্নত বর্জ্য-ব্যবস্থাপনাও। একই সঙ্গে এই মসজিদগুলো হবে পরিবেশ-সংক্রান্ত শিক্ষার কেন্দ্র।
এমইউআইয়ের এক মুখপাত্র বলেন, ‘ইন্দোনেশিয়ার মুসলিমরা সরকারের চেয়ে এই ধর্মীয় সংগঠনের সিদ্ধান্তকে বেশি মানেন। তাই তাদের এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে দেশের জনপ্রিয় প্রজেক্ট হতে যাচ্ছে।’

মুস্তাফা খালিদ পলাশ


স্থাপত্যের সঙ্গে কেটে যাচ্ছে দীর্ঘদিন। ১৯৮১ সালে বুয়েটে ভর্তি হয়েছি। শুরুতে স্থাপত্যকে একভাবে দেখেছি, শিক্ষাজীবনে আরেকভাবে, পেশাগত জীবনে অন্যভাবে। এখন তিন দশকেরও বেশি সময় পর এসে যদি প্রিয় স্থাপনার কথা বলি, তাহলে এক কথায় বলব সংসদ ভবন।
আমার মনে হয় বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের প্রত্যেকেরই প্রিয় স্থাপনা সংসদ ভবন। এমনকি ১৯৬১-৮২ সালে লুই আই কানের ডিজাইনে তৈরি আমাদের এ সংসদ ভবনটি বিশ্ব দরবারেও প্রিয়। কারণ স্থাপত্য বলতে কেবল একটি ভবনকে বোঝায় না, শিল্পকেও বোঝায়। কিন্তু সব স্থাপত্য শিল্পের পর্যায়ে পৌঁছতে পারে না। সব ভবন কবিতার মতো হয় না। মানে, গদ্য খুব সহজ একটি জিনিস। এটা ভেঙে বলা যায়। কিন্তু কবিতা তা নয়। একটা মোটা বইয়ের উপন্যসের মাধ্যমে যতটা-না বলা যায়, অনেক সময় একটা কবিতায় তার থেকে বেশি বলা সম্ভব। কবিতা আমার কাছে পেইন্টিংয়ের মতো। একটি পেইন্টিংয়ের মাধ্যমে যেমন অনেক কিছু বোঝানো যায়, তেমনি স্থাপত্যেরও কিছু বিশেষ দিক রয়েছে। এটা হলো ব্যবহারিক শিল্প। স্থাপত্য হলো একটা স্থানু বা সেডেন্টারি শিল্প-মাধ্যম। স্থাপত্যে যখন ব্যবহারের বিষয় চলে আসে, তখন তা কতটা শিল্প আর কতটা ব্যবহারিক সে বিষয়ে তুল্য জলাংকে মাপার বিষয়ও চলে আসে।

সংসদ ভবন এসবের মাত্রা অতিক্রম করেছে। এটিকে আমরা স্কাল্পচার বলতে পারি, কবিতা বলতে পারি এমনকি অ্যাবস্ট্রাক্ট পেইন্টিংও বলতে পারি। অ্যাবস্ট্রাক্ট পেইন্টিং বলছি, কারণ আমরা যে রিয়েলিস্টিক পেইন্টিং করি, তা অনেকটা ভেঙে ভেঙে গদ্যের মতোই করি। সেখানে বলে দেয়া থাকে এটা গাছ, এটা নদী, এটা নালা ইত্যাদি। কিন্তু অ্যাবস্ট্রাক্ট পেইন্টিংয়ে বিমূর্ততা আছে। বিমূর্ততা হলো এমন জিনিস, যেখানে একেকজন দর্শক ছবিটি দেখে নিজের মতোই অনুধাবন করে। সেই অর্থে সংসদ ভবন শিল্পমান অর্জন করেছে। বিশ্বব্যাপী তার সমাদরও অনেক বেশি।
দ্বিতীয়ত, আমাদের স্থাপত্যের ধারাবাহিকতা বা ঐতিহ্য কিন্তু খুব প্রাচীন নয়। আমরা কিন্তু নগর-সভ্যতায় অভ্যস্ত জাতি নই। আমরা কৃষক জাতি। মাটির ঘর, বেড়ার ঘর এগুলোই আমাদের ছিল। আমাদের স্থাপত্যের আধুনিক ধারার মূল সূত্রপাত হয়েছে সংসদ ভবন থেকে। লুই আই কান একজন বিদেশি স্থপতি হয়েও আমাদের জলবায়ু, আমাদের ম্যাটেরিয়ালকে কনসিডার করেছেন। তিনি আমাদের এ আবহাওয়ার জন্য অত্যন্ত নতুন, রেজিলিয়ান, ডিউরেবল ও সাসটেইনেবল ম্যাটেরিয়াল উপহার দিয়ে গেছেন, যা আমরা এখন ব্যবহার করছি। সংসদ ভবনে খুব সহজ ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করা হয়েছে। এটির অনেক অ্যান্সিলারি স্ট্রাকচার আছে। যদি বলি একটা মালার কথা, তাহলে লকেট অর্থাৎ মূল ভবন নিরেট কংক্রিটের তৈরি। সেই সময়ে ওই ধরনের একটা স্থাপনা চিন্তা করা, নির্মাণ করা বা সেটা ধারণ করা বেশ কষ্টসাধ্য ছিল। ধরুন আমি অনেক কিছু করলাম কিন্তু যে গ্রাহক, গ্রাহক বলতে আমি এ জাতিকে বোঝাচ্ছি, আমাদের সেটাকে ধারণ করতে প্রথমদিকে কিছুটা কষ্ট হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যখন আমাদের ইন্টেলেকচুয়াল অ্যাবিলিটি বেড়েছে, আমরা স্বাধীন জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছি, তখন আমরা মনে করেছি, এ কংক্রিটের সংসদ ভবন আমাদের নতুন স্থাপত্যের সূচনা। পুনঃসূচনাও বলা যেতে পারে। আমি আগেই বলেছি, আমাদের তো আসলে সেরকমভাবে নগর স্থাপত্য ছিল না। এখান থেকেই সূচনা বা পুনঃসূচনা হয়েছে।

s-01

সংসদ ভবন

স্থপতি মাজহারুল ইসলাম এবং স্থপতি লুই আই কানের মাধ্যমেই আমাদের আধুনিক স্থাপত্যের সূচনা বা সূত্রপাত হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় আমরা এখনো কাজ করে যাচ্ছি। তবে মাঝে কিছুটা বিঘ্নিত হয়েছে। আগেই বলেছি, আমরা ছিলাম কৃষক জনগোষ্ঠী। আর ধনাঢ্য জনগোষ্ঠী ছিল হিন্দু। হিন্দুদের যে জমিদার বাড়ি ছিল সেগুলোর নকশা তারা বাইরে থেকে করে নিয়ে আসত। এরপর আমরা যখন বড়লোক হলাম তখন বিপদটা ঘটল। আশির দশকে এসে আমরা বিপদটা অনুভব করলাম। তখন নব্য বড়লোকেরা সংসদ ভবনকে পাশ কাটিয়ে নতুন ধারা তৈরি করার চেষ্টা করল। ভিক্টোরিয়ান স্টাইল। বড়লোকরা ভাবত আমিও জমিদারদের মতো একটা বাড়ি বানাব, যেখানে আমার গ্রামের লোকেরা এসে স্যান্ডেল খুলে ভেতরে প্রবেশ করবে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, নব্বইয়ের দিকে এসে এ ধারা উবে যেতে থাকল। আবার সেই পিওরিটিতে আমরা ফিরে আসতে থাকলাম। পিওরিটি বলতে বোঝাচ্ছি কসমেটিক ছাড়া। যেমন সংসদ ভবনে কোনো কসমেটিকের কাজ নেই। অর্থাৎ ওটা যে ম্যাটেরিয়াল দিয়ে তৈরি, সেটারই প্রতিফলন দিচ্ছে।
আমরা অনেকেই মনে করি আমাদের স্থাপত্যের মূল উৎস কী হবে। এটা নিয়ে অনেক দ্বন্দ্ব আছে। আমার মতে, আমাদের স্থাপত্যের উৎস হচ্ছে স্বচ্ছতা। আমি মানবিক অর্থে স্বচ্ছতার কথা বলছি, কাচের স্বচ্ছতা না। অর্থাৎ আমি যা, তা-ই। আমরা নব্য বড়লোকের কথা বলতে পারি। যেমন সিঙ্গাপুর। সিঙ্গাপুরের নব্য বড়লোকেরা ছিল মূলত জেলে-গোষ্ঠী। চায়নার নিন্মবর্ণের চাইনিজরা একসময় সিঙ্গাপুরে থাকত। এরপর মালয়েশিয়া যখন সিঙ্গাপুর থেকে আলাদা হয়ে গেল, তখন সিঙ্গাপুরের ওই চাইনিজরা টাই পরে ফিটফাট বাবু হয়ে গেল। আবার মালয়েশিয়াতে গেলে আপনি অরিজিনাল কিছু চাইনিজের দেখা পাবেন। তারা কিন্তু টি-শার্ট পরেই দিব্যি অফিস করছে। যারা মাটির থেকে তৈরি হয়, তারা কিন্তু ওইসব বেশভূষা প্রাধান্য দেয় না। বেশভূষা তারাই প্রাধান্য দেয়, যারা মেকি।

স্থাপত্যে মেকি বিষয়ে আমরা বিশ্বাস করি না। গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, মাজহারুল ইসলামবা সংসদ ভবন থেকে উৎসরিত বিষয়গুলোর ভালো জিনিসগুলো নিয়েই আজ আমরা স্থাপত্যচর্চা করছি। প্রত্যেক স্থপতি এখন কয়েকটি বিষয় নিয়ে খুব সচেতন। কারণ স্থাপত্যের তো অনেক ভাষা থাকে, যেমন ইন্টারন্যাশনাল স্টাইল, রিজিওনাল, ডি-কনস্ট্রাকডিভ ইজম ইত্যাদি থেকে বেছে আমরা কিন্তু আমাদের একটা নিরেট স্থাপত্যধারা বের করতে পেরেছি। যেখানে পাশ্চাত্যের সঙ্গে আমাদের ভাবধারা, আমাদেরর ভ্যালুজ, মূল্যবোধ ইত্যাদির সংমিশ্রণ হয়েছে। এর মধ্যে কিছু কিছু এক্সপেরিমেন্ট হচ্ছে, যেমন আমরা যারা শহরে কাজ করছি তারা এক ধরনের কাজ করছি, কেউ কেউ রি-সাইকেল ম্যাটেরিয়াল নিয়ে কাজ করছে। কেউ গ্রামীণভাবে কাজ করার চেষ্টা করছে। গ্রামীণ স্টাইল নিয়ে কাজ করা যেতেই পারে। তবে ভবন যদি ২০তলা হয়, সেখানে এ স্টাইল সম্ভব না। কারণ এত বড় ভবন বাঁশ, বেত কিংবা মাটি দিয়ে নির্মাণ করা সম্ভব না। মাটি দিয়ে রিসোর্ট করা যেতে পারে।

আমাদের স্থপতিরা এখন খুব ভালো ভালো কাজ করছে। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশ থেকেও পুরস্কার পাচ্ছে। আমি মনে করি, একটি দেশের আর্কিটেকচার-চর্চার যদি এক শতাংশকেও আপনি শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারেন, তাহলেই সেটাকে সার্থক বলা যায়। বর্তমানে আমরা সেই অবস্থাতেই আছি।
লুই আই কানকে মাস্টারপ্ল্যানের জন্য দেয়া হয়েছিল ২০০ একর জমি। কিন্তু তিনি কাজ করেছিলেন ৬০০ একর জমির ওপর। সত্যি বলতে কি, যেকোনো ভালো কাজ ধরে রাখাই কঠিন, যদি সামগ্রিক চাপ থাকে। আমাদের সবচেয়ে বড় চাপ হচ্ছে, আমদের জনসংখ্যার চাপ। এ চাপেই ঢাকা শহরের যেখানে একতলা, দুইতলা ভবন ছিল সেখানে বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে। প্রয়োজন থেকেই এটা উৎসরিত হচ্ছে। এত চাপের মধ্যেও আমরা আর্কিটেকচারকে জলাঞ্জলি দিচ্ছি না। যেমন সংসদ ভবনে অনেক পরিবর্তন এসেছে। আসলে নিরাপত্তার পরিপ্রেক্ষিত পরিবর্তন হয়েছে। সংসদ ভবনে যেন দেয়াল তুলে দেয়া না হয়, এজন্য আমরা স্থপতিরা নিষেধ করেছি। কিন্তু নিরাপত্তার কিছু অঙ্ক আছে। সে অঙ্কও আপনাকে বুঝতে হবে। কারণ একজন মানুষ যতটাই আবেগ দিয়ে তাড়িত হোক না কেন, মনে রাখতে হবে নিরাপত্তার অঙ্ক, সেটা কেবলই অঙ্ক। সেটা কবিতা নয়, একটা নিরেট বিজ্ঞান। সেই বিজ্ঞানে তাদের মনে হয়েছে তাদের সেটা ঢাকতে হবে। দেয়াল সবসময় দূরত্ব তৈরি করে। তাই আমরা আন্দোলন করে যতটা পারা যায় নিরেট না করে পারফোরেটেড করাতে পেরেছি। ভেতরেও অনেক পরিবর্তন হয়েছে। তবে আমাদের জন্য আশার কথা হচ্ছে, বর্তমান সরকার সংসদ ভবনকে আগের চেহারায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে। সেই অনুসারে কাজও শুরু হয়েছে। যেমন সংসদ ভবনের নির্মাণের অনেক বছর কেটে গেলেও তার ফার্মেও কিছু ফি বাকি ছিল, এ সরকার তার এক্সপার্ট টিম পাঠিয়ে ফি পরিশোধ করে সব ড্রইং নিয়ে এসেছে। সেই ড্রইং অনুসারেই কাজ হবে। সংসদ ভবনকে ফিরিয়ে নেয়া হবে তার অরিজিনাল চেহারায়। আর এ কাজ বাস্তবায়নের জন্য অনেক ভবন ভেঙে ফেলা হবে। জিয়াউর রহমানের কবর সরিয়ে ফেলা হবে। মনে রাখতে হবে, এটা একটা বিশ্ব ঐতিহ্য। ইউনেস্কোর মতো একটা প্রতিষ্ঠান যখন বুঝতে পেরেছে, এটা কেবল ঐতিহ্যই নয় বরং এটি থেকে অনেক কিছুই আহরণ করা সম্ভব, তখনই তারা এটাকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করে।

s-02

সংসদ ভবন

সংসদ ভবন কোনো মসজিদ বা মন্দির নয়। এটা এমন একটা জায়গা, যেখান থেকে বাঙালি জাতি পরিচালিত হয়। সেই হিসেবে এটা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং সৌভাগ্যবশত পৃথিবীর অন্যতম ভালো স্থাপত্য। কারণ স্থাপত্য হলো এমন যেন একে ব্যবহার করা যায়। পিরামিড বা তাজমহলকে স্থাপত্য বলা যাবে না, সেগুলো স্কাল্পচার। পিরামিডও একটা স্কাল্পচার কারণ সেখানে একজন মানুষকে কবর দেয়া হয়েছে। সেখানে ভেতরে প্রবেশ করা যায় না। বাইরে থেকে কেবল দেখতে হয়। আমার কাছে তাজমহলও তাই। তাজমহলের শৈল্পিক-মূল্য থাকতে পারে কিন্তু কোনো স্থাপত্য-মূল্য নেই।
যদি মাজহারুল ইসলাম প্রসঙ্গে বলি, তাহলে বলব তিনি মনে হয় স্থপতি হওয়ার জন্যই জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি নিয়েছেন, ব্যাচেলর ডিগ্রি নিয়েছেন। এরপর ইয়েলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আর্কিটেকচার ডিগ্রি শেষ করে দেশে ফিরে আসেন। আসলে তিনি না থাকলে হয়তো আমরা লুই আই কানকেও পেতাম না। কারণ প্রথমে তাকেই সংসদ ভবনের কাজ করার জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি তখন আলবার আল্টো এবং লিকরবুশিওর এই দুজনের নাম প্রপোজ করেন। দেশভাগের পর যখন পাঞ্জাবকে দুই ভাগ করা হলো, পাঞ্জাবের রাজধানী লাহোর পড়ে গেল পাকিস্তানের দিকে। এরপর চন্দ্রীগড়কে যখন নতুন করে রাজধানী করা হলো, তখন চন্দ্রীগড়ের রাজধানীর মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে লিকরবুশিওর ব্যস্ত ছিলেন। অন্যদিকে আলবার আল্টো ছিলেন অসুস্থ। তখন লুই আই কানের বয়স ছিল পঞ্চান্নর মতো। মাজহারুল ইসলামের স্থাপত্যও আমাদের জন্য অনুকরণীয়। কারণ তারা একই গোষ্ঠীর। মাজহারুল ইসলামের কাজের সঙ্গে লিকরবুশিওরের কাজগুলো মেলে। কিন্তু সেদিক থেকে অনেকটাই আলাদা লুই আই কানের এ কাজ অর্থাৎ আমাদের গর্বের সংসদ ভবন।

আবুল হোসেন আসাদ


গনগনে সূর্যটা ঠিক মাথার ওপরে। তপ্ত লাল বালিতে ঢাকা মরুভূমির বুক। থেমে থেমে যেন মরুভূমির লাল বালির বুক থেকে গরম ভাপ বেরোচ্ছে। তাই ধোঁয়াশার মতো আবরণে ঢাকা চারদিক। গরমে চোখের পাতা মেলা দায়। এরই মাঝে হঠাৎই বইছে লু হাওয়া। সূক্ষ্ ঝরঝরে লাল বালিতে ঢেকে যাচ্ছে চোখ-মুখ-শরীর। বাড়তি জ্বালা হয়ে তেড়ে আসে ভনভন করা মরুভূমির বড় বড় মাছি। এমনিতে বেজায় গরম, তার ওপর ভরদুপুর, এসেছি দেখতে ‘হারিয়ে যাওয়া শহর’ বা ‘আটলান্টিস অব দ্য স্যান্ডস’, যেটি রুবা আল খালি মরুভূমির বুকে। যেই শহরের নাম সেমেটিক ধর্ম বিশেষত ইহুদি, খ্রিস্টান ও মুসলিম ধর্মগ্রন্থগুলোতে ঘুরে-ফিরে এসেছে।
হারিয়ে যাওয়া শহরটি ‘উবার’ (UBAR), ওয়াবার (WUBAR) কিংবা ‘ইরাম’ (IRAM) নামে পরিচিত। মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কুরআনে আরবের হারিয়ে যাওয়া শহরটি ‘ইরাম’ নামে পাই। ইরাম শহরটি ওমানের দোফার প্রদেশে পড়েছে। ওমানের শেসর এলাকায় এ পরিত্যক্ত শহরের অবস্থান। রাজধানী মাস্কাট থেকে ইরাম বা উবার শহরের দূরত্ব ৯০০ কিলোমিটার। আর বন্দরনগরী সালালাহ থেকে এর দূরত্ব ১৭০ কিমি, উত্তরদিকে। যাওয়ার পথে মাঝে পড়ে মরু শহর তামরিদ। ‘ইরাম অব দ্য পিলার’ শহরটি ছিল সহস্র পিলারের এক সুরক্ষিত নগরী। উঁচু উঁচু পিলার দিয়ে কোনো শহর হতে পারে এটা তখন কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। সেই শহরটি ছিল তখনকার সবচেয়ে চাকচিক্যময় ও আধুনিক শহর। ধর্মগ্রন্থগুলো বলছে, সেই শহরের মতো শক্তিশালী বাড়ি-ঘর এর আগে কেউ কখনো দেখেনি বা নির্মাণ করেনি। সুরা আল ফজরের ৬, ৭ ও ৮ নম্বর আয়াতে ‘ইরাম’ শহরের কথা বলা হয়েছে। এখানে স্বয়ং আল্লাহ তার শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে ‘আদ’ বংশের শৌর্য-বীর্য সম্পর্কে বলেছেন। ইরাম শহরটি তৈরি হয়েছিল উঁচু উঁচু পিলার দিয়ে। এসব পিলারের এই সুরক্ষিত শহরটিতে বসবাস করত জ্ঞান-বিজ্ঞানে উন্নত ‘আদ’ জাতি। আদ সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা জোরদার করেছিল সুউচ্চ এই পিলার। ইরাম নগরীর কল্পিত ছবিই যেন সে কথা বলে। ইরামের সুউচ্চ পিলার আদ’দের নিরাপত্তা দিত বলে সেই উঁচু পিলারের পূজা করত তাদের কেউ কেউ। আর বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজা তো নিয়মিত ছিলই আদদের। আদ সম্প্রদায়কে সুপথে আনার জন্য নবী হুদ (আ.)-কে প্রেরণ করা হয়। তিনি আদ সম্প্রদায়কে দ্বীনের দাওয়াত দেন। কুরআন শরিফে সুরা হা-মীম সাজদাহ’র বিভিন্ন আয়াতের বরাতে এ কথা জানা যায়। কিন্তু আদ সম্প্রদায়ের অধিকাংশ লোক যুগের থেকে কয়েক কদম এগিয়ে থাকার গর্বে নবী হুদ (আ.)-কে তাচ্ছিল্যের সঙ্গে বিদায় করে। তাদের কেউ কেউ আবার নবীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় আমাদের চেয়ে বড় শক্তিধর এ পৃথিবীতে আর কে আছে?
ফলে প্রাথমিক ‘গজব’ হিসেবে উপর্যুপরি তিন বছর শহরে বৃষ্টি বন্ধ থাকে। তাদের শস্যক্ষেত শুকিয়ে বালিময় মরুভূমিতে পরিণত হয়। বাগবাগিচা জ্বলে-পুড়ে ছারখার হয়ে যায় এবং সবশেষে নেমে আসে ভয়াবহ ‘আজাব’।
সূরা হা-ক্বক্বাহ ৭-৮ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, ‘তাদের মানে আদ সম্প্রদায়ের ওপর প্রচন্ড ঝড়ের বাতাস বয়েছিল টানা সাত রাত ও আট দিন। হে মুহাম্মাদ! তুমি থাকলে দেখতে পেতে, তারা অসার খেজুরগাছের কান্ডের মতো মাটিতে পড়ে রয়েছে। তুমি এখন তাদের কোনো অস্তিত্ব দেখতে পাও কি?’
কুরআন শরিফ অনুসারে এভাবেই আদ সম্প্রদায় ও তাদের শহর ইরাম বা উবার বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং চিরতরে বালিতে চাপা পড়ে যায়। হারিয়ে যায় কালের গর্ভে। আর নবী হুদ (আ.)-এর কবর অটুট থাকে সালালাহর একটি পাহাড়ে। যেটি এখনো রয়ে গেছে যুগের পর যুগ, কালের করাল গ্রাস উপেক্ষা করে।
হাজার বছরের পুরনো শহর ইরাম, যা দীর্ঘকাল লুকিয়ে ছিল বিস্মৃতির অতলে, মরুভূমির বালির নিচে। তা অবশেষে ১৯৯২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে খুঁজে পাওয়া যায় ওমানের শিসর (SHISR) এলাকায়। ‘দ্য লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এটি আবিষ্কারের কথা। প্রত্নতত্ত্ববিদ নিকোলাস ক্লাপের উদ্যোগে প্রাচীন মানচিত্র ঘেঁটে এবং মার্কিন গবেষণাকেন্দ্র ‘নাসা’র স্যাটেলাইটের সাহায্যে খুঁজে পাওয়া যায় ‘রুবা-আল খালি’ মরুভূমির ১২ মিটার বালির নিচে লুকিয়ে থাকা ‘ইরাম’ বা ‘উবার’ শহরকে। কুরআনের হারিয়ে যাওয়া শহর ইরামের আবিষ্কার বিশ্ববাসীকে অবাক করে দেয়। ওমান সরকার খনন করে এই আবিষ্কারকে মানুষের সামনে হাজির করেছে। বর্তমানে ইরাম বা ওয়াবার আর্কিওলজিক্যাল সাইট ইউনেস্কো ঘোষিত একটি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট। তবে কিংবদন্তি হয়ে দাঁড়ায় ‘দ্য ইনসেন্স রোড’। প্রাচীন ধ্বংসাবশেষগুলো থেকে এ রাস্তাটির অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে এখানে।
কেউ কেউ বলেন, বাদশাহ শাদ্দাদ পৃথিবীর বুকে জান্নাত তৈরি করেছিলেন, যার নাম ছিল ‘ইরাম’ বা ‘আরাম’। সেই জান্নাত স্রষ্টার অভিশাপে বালির নিচে চিরতরে হারিয়ে গেছে। এটিই ছিল সেই জান্নাত। কারো কারো ধারণা, জান্নাতের এই প্রবেশদ্বারটি বিশাল এক পাথরচাপা পড়ে আছে। তবে অনেকেই মনে করেন বিশাল পাথরচাপা পড়া অংশটি হলো পানির কূপ। কারণ সহস্র পিলারের শহরটির গোড়াপত্তন করেছিল নূহ (আ.)-এর বংশধররা। মরুভূমির কাফেলাগুলোকে পানি সরবরাহ করে তারা ধনী হয়ে উঠেছিল। পানির সেই কূপটি এখন বিশাল এক পাথরচাপা পড়ে আছে। পাথরের একদিকে বর্তমানে সিঁড়ি তৈরি করা হয়েছে।
সিঁড়ি দিয়ে নিচের দিকে নামতে খুব ইচ্ছে হচ্ছিল আমার, ভরদুপুরে। নিচের দিকে নামছি আর বাতাসও কেমন যেন ধীরে ধীরে ভারী হচ্ছে। তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। শ্বাস নিতে বেশ কষ্ট হচ্ছে। তার ওপর অজানা-অচেনা অন্য ধরনের এক বিশ্রী গন্ধ নাকে এসে লাগল। যতই পাথর কেটে বানানো সিঁড়ি দিয়ে নিচের দিকে নামছি, ততই গন্ধের তীব্রতা বাড়ছে। ভেতরের দিকে ভীষণ ঘুটঘুটে অন্ধকার আর পোকামাকড়ের শব্দ। অক্সিজেনের ঘাটতিও প্রচুর। উৎকট গন্ধে মাথার মগজ যেন গুলিয়ে আসতে চাইল, বমি এসে গেল প্রায়। কোনোরকমে দৌড়ে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে এলাম।
দোফার পাহাড়ে এখনো কিছু আরব বেদুঈনের গোত্র আছে, যারা নিজেদের উবারের রাজার বংশধর হিসেবে দাবি করে এবং তারা আরবের সবচেয়ে প্রাচীন উচ্চারণে কথা বলে থাকে। তাছাড়া নবী হুদ (আ.)-এর কবর, পারিপার্শ্বিক প্রমাণাদি, প্রাপ্ত নিদর্শনাদি নিশ্চিত করে ‘রুবা আল খালি’ মরুভূমিতে খুঁজে পাওয়া এই প্রত্নতাত্ত্বিক শহরই উবার বা ইরাম।
একসময় জীবনের কোলাহলে মুখর ছিল যে শহরটি, জ্ঞান-বিজ্ঞানে ছিল উন্নত সেই শহর আজ মৃত। হারিয়ে গেছে চিরতরে। সেখানে পোকামাকড় ছাড়া জীবনের কোনো স্পন্দন নেই। ১২ মিটার বালির নিচে চাপা পড়ে আছে আরবের সেই সময়ের সবচেয়ে চাকচিক্যময় ও আধুনিক শহর। সহস্র পিলারের শহর আজ হাজার বছরের সুদূর অতীত। সেই অতীতের কথাগুলো যেন আজো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ইরামের ধ্বংসস্তূপের পাথর ও বালির পরতে পরতে।

 

কামরুজ্জামান কাজল


‘আজি ঝরঝর মুখর বাদর দিনে…’ বর্ষার রিমঝিমের সঙ্গে সঙ্গে অজান্তেই গেয়ে ওঠে মন। বর্ষা আবেগের ঋতু। নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলার ঋতু। সেই সঙ্গে টুকটাক নাগরিক ভোগান্তিরও ঋতু। বর্ষায় রাস্তাঘাট পানিতে যেমন জনজীবন বিপর্যস্ত করে তোলে, তেমনি ঘরের ভেতর আছে পোকামাকড়ের ঘরবসতি। আলমারির কাপড় থেকে ভ্যাপসা গন্ধের ভোগান্তি। যারা একটু পরিপাটি থাকতে পছন্দ করেন ঘরের মাঝে, তাদের জন্য বাড়তি বিড়ম্বনা যোগ হয় এ মাসটাতে। তবে ইচ্ছায় কী না হয়। একটুখানি ইচ্ছা এবং কৌশলী হতে পারলেই এ বর্ষায় আপনার ঘরবাড়িও থাকবে পরিপাটি। মনের মতো। আর তার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন ফারজানা’স ব্লিজ এর স্বত্বাধিকারী ফারজানা গাজী। তিনি জানান, আসবাব সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হলে আর ঘরের মধ্যে আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করা গেলে এ মৌসুমেও ঘর থাকবে সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর।

দেয়ালে বর্ষার ছাপ
বৃষ্টি এলেই ঘরের জানালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। তবে এরই মধ্যে বৃষ্টির ছাঁট এলে ভিজে যেতে পারে জানালায় ঝোলানো পর্দাগুলো। তাই এ সময় এমন কাপড়ের পর্দা ব্যবহার করা উচিত, যেন তা ভিজে গেলেও সহজেই শুকিয়ে যায়। কারণ দীর্ঘক্ষণ পর্দা ভেজা থাকলে পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়তে পারে সোঁদা গন্ধ। পলিয়েস্টার, রেশম বা পাতলা সুতির কাপড়ে তৈরি পর্দা এ সময়টার জন্য বেশ উপযোগী।
বৃষ্টি থেমে গেলে খুলে দিন জানালা, সরিয়ে দিন পর্দা। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রটাও বন্ধ থাক খানিকটা সময়। প্রাকৃতিক হাওয়া ঘরে এলে ঘরের গুমোট ভাবটা কেটে যাবে। ঘরের স্যাঁতসেঁতে ভাব এড়াতে হলে খেয়াল রাখুন, ঘরে কোনো ভেজা জিনিস যেন না থাকে। ভেজা জুতা, ভেজা মোজা বা ভেজা কাপড়, যেকোনোটির জন্যই ঘরে সোঁদা গন্ধ পাবেন আপনি। ঘরের ভেতরের দেয়াল বা মেঝে ভেজা অবস্থায় রাখবেন না। দেয়াল বা ছাদ থেকে বৃষ্টির পানি চুইয়ে পড়লে নির্মাণকর্মীদের দিয়ে দেয়াল বা ছাদের সমস্যাটি সারিয়ে নিন তাড়াতাড়ি।

যত্নেরর বই যত্নেই থাকুক
যত্ন করে গুছিয়ে রাখা বইগুলোতেও বর্ষার প্রভাব পড়তে পারে। সাধারণত যে বইগুলো একটু কম নাড়াচাড়া হয়, সেগুলো এ মৌসুমে স্যাঁতসেঁতে হয়ে পড়ে। শখ করে কেনা হোক বা প্রয়োজনীয় কোনো বই, মাঝেমধ্যেই সেগুলোকে বইয়ের তাক থেকে নামিয়ে শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে রাখুন। এতে বইগুলো ভালো থাকবে বহুদিন। এ ছাড়া বইয়ের তাকে শুকনো নিমপাতা রাখতে পারেন। কোনো বইয়ের পাতায় বা মলাটে স্যাঁতসেঁতে ভাব দেখা গেলে অপেক্ষা করুন রোদের জন্য। যেদিন খানিক রোদের দেখা মিলবে, সেদিন বইগুলোকে বারান্দায় রোদে রাখুন কিছুটা সময়ের জন্য।

খবর নেই কাপড়ের
আলমারি বা ওয়্যারড্রোব থেকে কাপড় বের করার পর অবশ্যই তা ভালোভাবে আটকে রাখতে হবে। কাঠের তৈরি আসবাবপত্র সঠিকভাবে লাগানো হলো কিনা, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখুন, কারণ এগুলো অনেক সময়ই সঠিকভাবে লাগাতে পারা যায় না। আসবাবপত্র সঠিকভাবে লাগানো না হলে ভেতরে থাকা কাপড়গুলো বাতাসের আর্দ্রতার কারণে স্যাঁতসেঁতে হয়ে পড়তে পারে।

ফুলে সুরভিত ঘর
হালকা ঘ্রাণযুক্ত ফুল ঘরে রাখা যেতে পারে। তাজা বেলি ফুলের একটা মালা ঘরে রেখে দেখুন, সতেজ হয়ে উঠবে ঘরের পরিবেশটা। সুগন্ধি অন্য কোনো ফুলও পানিতে ভিজিয়ে রাখতে পারেন। গন্ধরাজ ফুলের মতো যেসব ফুলের পাপড়ি একটু পুরু, সেগুলো বেশ কিছুদিন পানিতে ভিজিয়ে রাখা যায়। তবে ফুলদানি বা বোতলে পানি দিয়ে ফুল রাখলে অবশ্যই প্রতিদিন পানি পাল্টে দিতে হবে। ফুল সতেজ থাকা অবস্থায় যদি ফুলের ডাঁটার কোনো অংশ পচে যায়, তাহলে পচা অংশটুকু কেটে ফেলে দিন।
আপনার মন চনমনে রাখতে ঘরের রঙে পরিবর্তন এনে লাল, হলুদ অথবা পার্পল ও গাঢ় পার্পল ওয়েদারকোট লাগাতে পারেন। বাড়ির বাগানে একটা বড় রঙচঙা ছাতা লাগাতে পারেন, যা আপনার বৃষ্টি দিনগুলোকে আরো উপভোগ্য করবে।

গ্রীষ্মে রোদের উত্তাপ থেকে বাঁচতে ঘরে যে হালকা রঙের পর্দাগুলো লাগিয়েছিলেন, সেখানে বৃষ্টির দিনে উজ্জ্বল রঙের পর্দা লাগান। বর্ষায় এমনিতেই চারপাশ কেমন ফ্যাকাশে হয়ে যায়। তাই ঘরের উজ্জ্বল ভাব আপনাকে প্রাণবন্ত করবে।
ঘরের পরিবেশ সুন্দর রাখতে ঘরে নরম আলোর বাল্ব ব্যবহার করুন। যেমন হালকা নীল অথবা হালকা সবুজ।
আপনার বেডশিট ও বেডকভারে হালকা স্প্রে করুন, এতে আর্দ্রভাব কমবে।
বিছানা ও বালিশের কভার নরম কটনের ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। গোলাপি, লাল, সাদা ও হালকা সবুজ রঙের চাদর ব্যবহার করতে পারেন।

খালিদ জামিল


ভবিষ্যতের শহর কেমন হতে পারে সেটা কল্পনা করতেও অন্যরকম অনুভূতি হয়। পানির নিচে বাবলের মধ্যে বাড়ি কিংবা এমন একটা শহর যেটা আদিগন্ত সাগরের ওপর ভাসছে, অথবা পাতায় ভরা গাছের মতো দেখতে কোনো ভবন যেকোনো কিছুই হতে পারে ভবিষ্যৎ-শহরের বৈশিষ্ট্য। তবে এসবের জন্য শিল্পী, স্থপতি কিংবা সেইসব সৃষ্টিশীলকে ধন্যবাদ দিতেই হবে, যারা এমন সব ভবিষ্যৎ-নগর গড়ে তোলার জন্য ভাবছেন। গার্ডেন ফরেস্ট কিংবা নিজস্ব জীবম-ল নিয়ে গড়ে ওঠা শহরের ধারণা নিয়ে তাদের কল্পনা কেবল ড্রইংবোর্ডের মধ্যে আটকে নেই। চলছে সেগুলোর বাস্তব রূপ দেয়ার পরিকল্পনা। বিস্তারিত জানাচ্ছেন খালিদ জামিল

 

১. সিস্ট্যান্ডিং ইনস্টিটিউটের ভাসমান শহরঃ
ধারণা করুন একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ শহর পানির ওপর ভাসছে। সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তিও উৎপাদিত হচ্ছে এখানেই। এমন কিছুই হতে যাচ্ছে সিস্ট্যান্ডিং ইনস্টিটিউটের ফ্লোটিং সিটি প্রজেক্টে। এটা কোনো কল্পনার মধ্যে আর সীমাবদ্ধ নেই। কীভাবে নির্মাণ করা যায়, তার জন্য শুরু হয়েছে আলোচনা। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২০ সালের মধ্যে পৃথিবীর প্রথম ভাসমান শহর বাস্তবে দেখতে পারবে মানুষ।

1_fi_seasteadinginstitutefloatingcities

২. সাব-বায়োস্ফিয়ার-২ঃ
শহরের জনসংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তাতে কেবল ভাসমান শহরের ধারণা মানুষকে নিশ্চিন্ত করতে পারে না। তাই আরও আধুনিক একটা আইডিয়া আছে ইংরেজ উদ্ভাবক ফিল পলির কাছে। পলি বলছেন, সাব-বায়োস্ফিয়ার-২ নামে এমন একটি স্বয়ংসম্পূর্র্ণ শহর তৈরি করা সম্ভব, যেটা ভালো আবহাওয়ার পানির ওপর ভেসে থাকবে। আর আবহাওয়া বিরূপ হলে বড় ঢেউ থেকে বাঁচতে পানির নিচে চলে যাবে, অনেকটা বর্তমানের সাবমেরিনের মতো।

2_fi_sub-biosphere2

৩. প্যারিস স্মার্ট সিটি ২০৫০ঃ

বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে পরিচিত শহরগুলো ২০৫০ সালে কেমন হবে সেটা ধারণা করা অনেকের কাছেই মজার খেলা। আর শহরটা যদি হয় প্যারিস তাহলে তো কথাই নেই। বেলজিয়ান স্থপতি ক্যালেবাউট ঠিক এমন কিছুই করার চেষ্টা করেছেন। তিনি অবশ্য প্রত্যাশা করেছেন, প্যারিস সে-সময় সবুজ শহরে পরিণত হবে। নগরজুড়ে থাকবে ধোঁয়া আর কুয়াশা দূর করার জন্য বিশেষ টাওয়ার। ভবনগুলো এমনভাবে সাজানো, যাতে দূষণ রোধ করা যায়। সেগুলোর শরীরজুড়ে ঘটবে গাছের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া। লম্ব আকৃতির বাগানগুলোর নাম হতে পারে ‘ফার্মসক্র্যাপার্স’। সব মিলিয়ে একটা সবুজ শহর।

3_fi_parissmartcity2050
৪. বেইজিং ২০৫০ঃ
২০৫০ সালের বেইজিং কেমন হবে সেটা কল্পনা করার চেষ্টা করেছে স্থাপত্য-ফার্ম ম্যাড আর্কিটেক্টস। যদিও চীনের এই রাজধানী ক্রমেই দূষণের পরিমাণ বাড়িয়েই চলছে, তবুও ম্যাড আর্কিটেক্টস আশা করে, চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে এ শহরটাও সবুজ হয়ে উঠবে। বেইজিংয়ের চলমান উন্নয়নের ধারণা বদলে এ কল্পনাকে বাস্তব করা কঠিন, কিন্তু একটা চেষ্টা তো করাই যায়।

4_fi_beijing2050

৫. গার্ডেন ব্রিজ, লন্ডনঃ
ভবিষ্যৎ নগর-পরিকল্পনায় সবুজ গুরুত্ব পাচ্ছে এটা নিঃসন্দেহে একটা ইতিবাচক ব্যাপার। লন্ডনের গার্ডেন ব্রিজের ধারণাও ভিন্ন কিছু নয়। স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্রমেই প্রসারিত হতে পারে এমন পায়ে চলার পথ থাকবে নানা ধরনের গাছ-গাছালিতে ছাওয়া। গার্ডেন ব্রিজে গাছ লাগানোর অনুমতি আগেই নেয়া হয়েছে। চলতি বছরই এটা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার পরিকল্পনা আছে।

 

৬. ওয়েসিসঃ
কখনো গাছের বাড়িতে বাস করার কথা চিন্তা করেছেন? ঠিক এভাবেই সাজানো হয়েছে ওয়েসিস নামের শহরের ধারণা। ভবিষ্যতের নগর-পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে প্রথম সারিতেই রাখতে হবে এটাকে। নগরের এ ধারণায় এটাকে পরিচালনার পদ্ধতিও নেয়া হয়েছে গাছের কাছ থেকে। গাছের অক্সিজেন উৎপাদন, পরিবেশ রক্ষায় এটার অবদান এবং নিজের খাদ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে অনুসরণ করা হবে এ শহরে। সাজানো হবে গাছের মতো সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবেই।

6_fi_oas1s

৭. প্যারিস অব দ্য ফিউচারঃ
পল চ্যাডিসন নামের একজন ইলাস্ট্রেটর নিজের কল্পনা থেকে ভবিষ্যৎ-প্যারিসের এ ছবি এঁকেছেন। কেবল চেরি বিস্ত্র দেখেই পুরনো প্যারিসকে চেনা যায়। এছাড়া বাকি সব উন্নত প্রযুক্তিতে গড়া বাসভবন আর শিল্পাঞ্চল; যেটার সঙ্গে এখনকার প্যারিসের কোনো মিল নেই। ছবিটা মূলত তৈরি করা হয়েছিল ডোন্টনড এন্টারটেইনমেন্টের ভিডিও গেম ‘রিমেম্বার মি’র জন্য। তাই খুব শিগগিরই প্যারিসের এমন চেহারা দেখার সুযোগ নেই। এটা জেনে অনেকেই হয়তো হাঁফ ছেড়ে বাঁচবেন, কারণ প্যারিসের বর্তমান যে রূপ তা দেখতেই এ শহরে বারোমাস পর্যটকের ভিড় লেগেই থাকে।

7_fi_parisofthefuture

৮. ভাসমান শহরঃ
এ প্রজেক্টটাকে সিস্ট্যান্ডিং ইনস্টিটিউটের সেই কল্পিত ভাসমান শহরের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা চলবে না। এটা চীনা ফার্ম ডিজাইন অফিসের একটি প্রকল্প। এটাও আপাতত কল্পিত হলেও তা বাস্তবে রূপ দিতে মাঠে নেমে পড়েছে ফার্মটি। সাবমেরিন ট্রানজিট থেকে শুরু করে আন্ডারওয়াটার এন্টারটেইনমেন্ট সেন্টার সবকিছুই থাকবে। ভবিষ্যতের এ শহর দেখে অনেকেই যেমন হৃদস্পন্দন মিস করতে পারেন, একই সঙ্গে এর নির্মাণকাজ যে এখনো শুরু করা যায়নি সেটা জেনে মনটা চাইলে কিঞ্চিৎ খারাপও করতে পারেন আপনি!

8_fi_floatingcity

৯. ভার্টিক্যাল ফরেস্টঃ
এটা অন্যগুলোর মতো শিল্পীর কল্পনায় আঁকা কিছু নয়, একেবারেই বাস্তব। তবে স্বীকার করতেই হবে, এটা ‘এ’ ক্যাটাগরির ডিজাইন। নকশাটা করেছেন মিলানের আর্কিটেকচারাল স্টুডিও স্টেফানো বোয়েরি আর্কিটেট্টি। এ যাবতকালে যে ক’টি সুপার-গ্রিন প্রজেক্টের বাস্তব রূপ দেয়া গেছে, সেগুলোর মধ্যে এটাকে বলা হচ্ছে সেরা। এ প্রজেক্টকে আমরা অনুপ্রেরণা হিসেবে নিতে পারি। আর সেটা যদি সত্যিই আমরা করতে পারি, তাহলে সবুজ নগরের অন্য প্রজেক্টগুলোও আমরা সহজেই বাস্তবায়ন করতে পারব।

9_fi_verticalforest

কারিকা ডেক্স


দেশের বাজারে হঠাৎই বেড়ে গেছে রডের দাম। এ নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে নির্মাণখাত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। ইস্পাত শিল্প-মালিকদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে পরিবহন-খরচ বৃদ্ধি, টাকার অবমূল্যায়ন, ব্যাংকের সুদের হার বৃদ্ধি এবং চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাস বিলম্বের কারণে রডের দাম বেড়েছে। তবে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রির (বিএসিআই) অভিযোগ, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দাম বাড়ানো হয়েছে।
গত ২৯ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলনে বিএসিআই’র পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, অধিক মুনাফা হাতিয়ে নিতে দেশের ইস্পাত শিল্প-মালিকরা নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়ে চলেছে। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) অনুষ্ঠিত ওই সংবাদ সম্মেলনে বিএসিআই সভাপতি মুনীর উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘রডের দাম এতটা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি যুক্তিযুক্ত নয়। প্রকৃতপক্ষে এসব কারণে দর বৃদ্ধির মধ্যে ধরলে দেশের বাজারে রডের মূল্য সর্বোচ্চ ৭ থেকে ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। কিন্তু গত ৬ মাসে দেশে রডের দাম ৫০ শতাংশ বেড়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া তথ্যানুসারে, দেশে গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে প্রতি টন রডের দাম ছিল ৪৮ হাজার টাকা। যা এখন ৭২ হাজার টাকায় উঠেছে। ছয় মাস ব্যবধানে পণ্যটির দাম ৯ দফা বাড়িয়েছে উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো। তবে এ সময়ের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক বাজারে রডের কাঁচামালের দাম উল্টো কমেছে। কারণ গত সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক বাজারে রডের দাম ছিল ৫৬০ ডলার, যা এখন নেমেছে ৫২৫ ডলারে।
বিএসিআই’র সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএসিআই’র সাবেক সভাপতি শেখ মো. রফিকুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি সফিকুল আলম ভুইয়া, সাবেক সভাপতি আতিকুর রহমান, সাবেক সভাপতি আফতাব উদ্দিন আহমেদ ও সহ-সভাপতি এসএম খোরশেদ আলম।
এদিকে, একই দিন অপর এক অনুষ্ঠানে ‘রডের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির’ কারণ জানতে চায় ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। রাজধানীর মতিঝিলে ফেডারেশন ভবনে এক মতবিনিময় সভায় এ বিষয়ে জানতে চান এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন। আসন্ন ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের বাজেট উপলক্ষে রাজস্ব নীতিমালা, আমদানি শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর (মুসক) ও আয়কর এবং মাঠ পর্যায়ে মুসক ও কর সম্পর্কিত নানাবিধ সমস্যা নিয়ে ওই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে ইস্পাত শিল্প-মালিকদের উদ্দেশে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘আপনাদের কত টাকা উৎপাদন খরচ বেড়েছে? আর বাজারে দাম বাড়িয়েছেন কত? দাম বাড়ানোর যৌক্তিকতা কতটুকু বলেন। এটার সঙ্গে ব্যবসায়ীদের ভাবমূর্তি জড়িত হয়ে পড়েছে।’
প্রতিউত্তরে রড ব্যবসায়ীদের একজন প্রতিনিধি বলেন, ‘দাম বাড়ার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো রডের কাঁচামাল যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করতে হয়। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র এ কাঁচামালের ওপর কর বাড়িয়েছে। আগে যেখানে আমদানি খরচ ৩০০ ডলার লাগতো, এখন লাগে ৪৩০ ডলার। এ ছাড়া বন্দর ও পরিবহন খরচ বেড়েছে।’
এরপর এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি রড ব্যবসায়ীদের দাম বাড়ার যৌক্তিক কারণ লিখিত আকারে জানাতে বলেন।
শুধু রড নয়, বাজারে নির্মাণ-খাতের অন্য প্রধান উপকরণ সিমেন্টের দামও বেড়েছে বস্তাপ্রতি ৬০ টাকা। সার্বিক এ পরিস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলনে সরকারের হস্তক্ষেপে আহব্বান করে বিএসিআই। অন্যথায় ১৫ এপ্রিল থেকে সমস্ত নির্মাণ-কাজ বন্ধ করে দেওয়ারও হুমকি দিয়েছে সংগঠনটি।
সংগঠনটির সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ভৌত অবকাঠামো নির্মাণে রড-জাতীয় পণ্যের পরিমাণ হয় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। তাই রডের মূল্য বৃদ্ধি পেলে পুরো স্থাপনার নির্মাণ-ব্যয় ৭ থেকে ৮ শতাংশ বেড়ে যায়। এতে পূর্বে চুক্তিবদ্ধ কাজে লোকসান করে ঠিকাদাররা। এছাড়া গ্রাম-গঞ্জে ব্যক্তিগত স্থাপনা নির্মাণ বাধাগ্রস্ত হয়। ইতিমধ্যে এমন পরিস্থিতিতে সারা দেশে প্রচুর নির্মাণ-কার্যক্রম বন্ধ হয়ে রয়েছে।
মুনীর উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আগে কয়েকবার সরকারের বিভিন্ন মহলকে চিঠি দিয়েছি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে অবগতও রয়েছে। এরমধ্যে এফবিসিসিআই আমাদের সঙ্গে ইস্পাত শিল্প-ব্যবসায়ীদের একটি বৈঠকের আশ্বাস দিয়েছে। সকলে আন্তরিক হলে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান সম্ভব। নতুবা কাজ বন্ধ করা ছাড়া আমাদের কোনো উপায় থাকবে না।’
অপরদিকে রড ও সিমেন্টের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে দেশে আবাসন খাতের কোম্পানিগুলো। তারা বলছে, এতে নির্মাণ-ব্যয় বাড়বে এবং ফ্ল্যাটের দামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করে আবাসন খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। সম্মেলনে রড সিমেন্টসহ অন্যান্য নির্মাণ-সামগ্রীর দাম বাড়ানোকে অযৌক্তিক বলে দাবি করে সংগঠনটি।

সাবরিনা মিলি


আবাসন খাত-সংক্রান্ত সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিপ্রোপার্টি গত মঙ্গলবার বনানীতে নিজেদের নতুন আউটলেট উদ্বোধন করেছে। গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে আউটলেটটি উদ্বোধন করেন বিপ্রোপার্টির প্রধান নির্বাহী মার্ক নসওয়ার্দি।
দু’বছর আগে বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করে বিপ্রোপার্টি। বর্তমানে দুই শ’র বেশি কর্মী নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি আবাসন খাতের নানা প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ ও সম্পত্তি-সংক্রান্ত সেবা প্রদান করে আসছে।
বর্তমানে রাজধানী ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামে সেবা প্রদান করছে তারা। আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের আরও অনেক শহরে নিজেদের সেবাদান কার্যক্রম চালু করবে বলে জানিয়েছে তারা।
বিপ্রোপার্টি’র ওয়েব পোর্টালে ২৫ হাজারেরও বেশি প্রোপার্টি (যার মধ্যে পাঁচ হাজার বিক্রির জন্য) রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নতুন ও রেডি অ্যাপার্টমেন্ট। ক্রেতারা তাদের স্বপ্নের ঘর কেমন চান সে অনুযায়ী অ্যাপার্টমেন্ট নির্বাচনের অপশন রয়েছে।
কেনা ও বেচা উভয় ক্ষেত্রেই সম্পত্তির সঠিক দরদাম নির্ধারণ এবং সম্পত্তি সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ সহায়তা প্রদানে, বিপ্রোপার্টি ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়কেই সুযোগ করে দেয়। পাশাপাশি আইনি নথি প্রস্তুতে এবং সুনিশ্চিত আর্থিক লেনদেনে ক্রেতা ও বিক্রেতাকে সহায়তা প্রদান করে। চুক্তি থেকে শুরু করে আইনি নথির প্রস্তুতি এবং সুরক্ষিত লেনদেনে সহায়তা দেয় প্রতিষ্ঠানটি।
বিপ্রোপার্টি’র প্রধান নির্বাহী মার্ক নসওয়ার্দি বলেন, ‘বিপ্রোপার্টি’র অনলাইন পোর্টাল এবং স্থানীয় অফিসগুলোর মাধ্যমে আবাসন খাতের লেনদেন আরো সহজতর হয়েছে। আমরা যে ওয়ান স্টপ সমাধানটি দিচ্ছি তা নিশ্চিত করে যেন বাংলাদেশের মানুষ আস্থার সঙ্গে আবাসন খাতের বাজারে ক্রয়-বিক্রয় এবং ভাড়া দেওয়া-নেওয়া শুরু করতে পারে সেটাই আমাদের চাওয়া।’
বিস্তারিত জানা যাবে :www.bproperty.com

সাবরিনা মিলি


উত্তরার ৯ নম্বর রোডের ১০ নম্বর সেক্টরে ২৬ কাঠা জমির ওপর নির্মিত হচ্ছে টোকিও সিটি। প্রকল্পটির জেনারেল ম্যানেজার মো. শাহাদাত হোসাইন কারিকাকে বলেন, ‘এটি একটি কনডোমনিয়াম প্রজেক্ট। আমরা ঢাকা শহরের মানুষের ব্যস্ত জীবন এবং যানজটের কথা মাথায় রেখেই এই প্রজেক্টের কাজ শুরু করি। এখানে এক ছাদের নিচে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা। প্রকল্পটিতে কাজ হবে তিনটি ধাপে।’
টোকিও সিটি প্রকল্পের আওতায় রয়েছে তিনটি বহুতল ভবন। প্রথমটি ১২ কাঠা জায়গার ওপর ১০ তলা ভবন। এই ভবনটির প্রতিটি ফ্লোরে রয়েছে ১,৫০০ বর্গফুটের চারটি করে ইউনিট। বেজমেন্ট ও গ্রাউন্ড ফ্লোরে রয়েছে পার্কিয়ের ব্যবস্থা। এছাড়া গ্রাউন্ড ফ্লোরে মসজিদ, টপ ফ্লোরে বারবিকিউ, কমিউনিটি স্পেস এবং সুইমিং পুলের ব্যবস্থাও রয়েছে।
দ্বিতীয়টি ১০ কাঠা জায়গার ওপর ১০ তলা ভবন। এই ভবনের প্রতিটি ফ্লোরে ১,৩৫০ বর্গফুটের চারটি করে ইউনিট রয়েছে। বেজমেন্ট ও গ্রাউন্ড ফ্লোরে রয়েছে পার্কিং-ব্যবস্থা। এছাড়া টপ ফ্লোরে রয়েছে বারবিকিউ, কমিউনিটি স্পেস এবং সুইমিং পুলের ব্যবস্থা।
তৃতীয়টি চার কাঠা জায়গার ওপর আটতলা ভবন। এই ভবনের প্রতিটি ফ্লোরে ৯৫০ বর্গফুটের দুটি করে ইউনিট রয়েছে। গ্রাউন্ড ফ্লোরে আছে পার্কিং-ব্যবস্থা। এ ছাড়াও শিশুদের খেলাধুলার জন্য রাখা হয়েছে পর্যাপ্ত জায়গা।

যোগাযোগ : মোহাম্মদ শাহাদাত হোসাইন, জেনারেল ম্যানেজার

টোকিও ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড।

মোবাইল : ০১৬১৯-৪৫৬৪৫৬, ০১৭০৭-২০২৩০৩

রুমানা ইসলাম, স্থপতি ও সঙ্গীতশিল্পী


গান তার প্রাণের খোরাক মেটায়। স্থাপত্যবিদ্যা তার পেশা, দায়িত্ববোধের জায়গা। নিজের প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কাজ করে চলেছেন ল্যাব এইড প্রোপার্টিজ লিমিটেডের সঙ্গে। স্থাপত্য ও সঙ্গীতচর্চা নিয়ে কথা বলেছেন কারিকার সঙ্গে। সাক্ষাৎকারঃ সাবরিনা মিলি

স্থাপত্য না সঙ্গীত- কোনটিকে বেশি উপভোগ করেন?
দুটোই আমার প্রাণ। গানের প্রতি রয়েছে আত্মার অসীম ভালোবাসা এবং স্থাপত্য আমার পেশা, রোজগারের জায়গা। যেটির প্রতি আছে অগাধ সম্মান ও দায়িত্ববোধ।

আপনার স্থাপত্য-প্রতিষ্ঠানের শুরুটা কেমন ছিল?
১৯৮৯ সালে ‘বসতি কল্প’ নামে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। আমি ও আমার স্বামী স্থপতি আসফারুল ইসলামÑদুজনে এটি শুরু করি। যদিও বেশ কিছুদিন দেশের বাইরে ছিলাম বলে তেমন কাজ করার সুযোগ ছিল না। তবে ১৯৯১ সালে দেশে ফিরে বসতি কল্প ফার্মের হয়ে পুরোদমে কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ি।
কাজের প্রতি ভালোবাসা থেকেই নিজ প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ২০০৮ সালে ল্যাব এইডের সঙ্গেও যুক্ত হই। ল্যাব এইড বহুমুখী কাজ করে থাকে। ফলে আমিও হেলথ কেয়ার, হসপিটাল, ডায়াগনস্টিক, রিয়েল এস্টেট, ইউনিভার্সিটি এবং ফার্মাসিউটিক্যাল এসব সেক্টরেই কাজ করছি। ফলে আমার কাজটি যেমন বৈচিত্র্যময়, তেমনি চ্যালেঞ্জিংও।
এছাড়া এখানে যুক্ত থাকার কারণে কার্ডিয়াক হাসপাতাল, ক্যান্সার হাসপাতাল ইত্যাদি হাসপাতালের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিদেশি পারদর্শী পরামর্শকসহ দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পরামর্শকদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। তৈরী হয়েছে এই কাজের প্রতি প্রাণের টান।

19239756_2382953691719554_492040430_n আপনার উল্লেখযোগ্য কাজের বিষয়ে জানতে চাই?
উল্লেখ করার মত যদি বলতে হয় তাহলে বলব, ল্যাব এইডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বাংলোর কথা। বাংলোটি আশুলিয়ায় অবস্থিত। এটির ডিজাইনের সময় আমি দেশীয় ম্যাটেরিয়ালকেই প্রাধান্য দিয়েছি। ম্যাটেরিয়াল হিসেবে সিরামিক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিক, সেগুন কাঠ, মার্বেল ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়েছে। এই ডিজাইনে আমি বাংলোর সঙ্গে সবুজের মিশেলে নান্দনিকতা এনেছি। তাছাড়া গুলশানে কয়েকটি অ্যাপার্টমেন্টের ডিজাইন আমি করেছি। ওগুলোও আমার বেশ পছন্দের।

স্থপতি হয়ে ওঠার পেছনে অনুপ্রেরণা কার?
আমার নিজের ইচ্ছাটাই প্রধান ছিল। ছোটবেলায় ভীষণ ইচ্ছা ছিল সঙ্গীতকে পেশা হিসেবে বেছে নেব। কিন্তু বাবার কড়া নির্দেশনা ছিল সঙ্গীত যেন রুজি-রোজগারের জায়গা না হয়। বাবার নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছি। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়ে স্থাপত্য বিভাগে পড়া, পরবর্তীতে স্থপতি হয়ে ওঠা এবং আজ পর্যন্ত কাজ করে যাওয়া।

 তরুণ স্থপতিদের উদ্দেশে আপনার পরামর্শ কী?
তাদের অবশ্যই পুরোনো ঐতিহ্যবাহী কাজগুলো সম্পর্কে জানার চেষ্টা থাকতে হবে। সেই সঙ্গে স্থাপত্যের ইতিহাস সম্পর্কেও ভালো ধারণা রাখতে হবে, যা আমাদের ঐতিহ্যকে ধরে রেখে তাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে। এ সময়ের তরুণ স্থপতিরা ভালো কাজ করছে, তারপরও তাদের অবশ্যই দেশ-বিদেশের প্রতিভাবান স্থাপত্যবিদদের কাজগুলো বা নতুন আবিষ্কৃত কাজের সম্পর্কে ধারণা থাকা উচিত।
প্রযুক্তি অনেক এগিয়ে গেছে। প্রযুক্তির সুফল তাদের নিতে হবে। আমরা আগে হাতে স্কেচ করতাম, ড্রাফট করতাম। এখন সব কম্পিউটারে করা যায়। তাই পুরনো কাজগুলোকে মাথায় রেখে নতুন চিন্তাধারা প্রতিষ্ঠা করে কাজ করে যেতে হবে।
তবে সঙ্গীত থেকে শুরু করে, স্থপতি, ডাক্তার, প্রকৌশলী সব পেশায়ই নৈতিকতা, আদর্শ ঠিক থাকা প্রয়োজন। শুধু টাকার পেছনে না ছুটে কাজ করে নিজের জায়গা তৈরি করাই আমার কাছে মনে হয় খুবই জরুরি।

আপনার বাবা প্রখ্যাত গীতিকার ও সুরকার খান আতাউর রহমান। আপনার এ অবস্থানের পেছনে বাবার ভূমিকা কেমন?
এটা আমার একটা সৌভাগ্য  যে আমি এমন একটা পরিবারে জন্মগ্রহন করেছি। শুধু আমার বাবাই নয়, আমার মা মাহবুবা রহমান একজন কন্ঠশিল্পী। বাংলাদেশের প্রথম সবাক চলচিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এর গায়িকা ছিলেন তিনি। সুতরাং সঙ্গীত পরিবারেই জন্ম ও বেড়ে ওঠা নিঃসন্দেহে আমার জীবনকে আলোকিত করেছে।

নতুন শিল্পীদের প্রতি আপনার কী বলার আছে?
একটা বিষয় সবসময় মনে রাখতে হবে, সঙ্গীত গুরুমুখী বিদ্যা। নিজেকে সবসময় নমনীয় রাখতে হবে। সুর, সঙ্গীত সম্পর্কে চর্চা ও জ্ঞান একজন সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে থাকতেই হবে। পাশাপাশি আবেগ, অনুভূতি দুটোই সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ছোট্ট একটি ঘটনা মনে পড়ে যায়। আমি টেলিভিশনের অডিশনের জন্য ‘তোমার আগুনে পোড়ানো দুটি চোখে’ গানটি গেয়েছিলাম। এটি বাবার লেখা এবং সুর করা। বাবা আমাকে বলেছিলেন, মা, এই গানটা তুই গা তো, শুনি। আমি গানটি গাইলাম। বাবা বললেন, মারছে! গলায় আরও আবেগ আনতে হবে। আরও বললেন, গান গাওয়ার প্রধান হচ্ছে আবেগ। মনে কর এটা একটা গল্প, যা চোখে ভাসবে। গানের সুর-তাল তো থাকবেই, তা না হলে গান হবে না। কিন্তু আবেগটাও থাকতে হবে। আমরা যেটা বলি ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়। ঠিক তেমনি আবেগ হচ্ছে ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়। তা থাকতে হবে। তাহলেই গানটা উপরে উঠে আসবে। এটা যেমন আত্মতৃপ্তি হবে ঠিক তেমনি মানুষের কানে এবং হৃদয়ে গিয়ে লাগবে।