Home বাজার দর

কবিতা, জ্যামিতি, দর্শন ও স্থাপত্য


রফিক আজমের জন্ম পুরান ঢাকার লালবাগে, ১৯৬৩ সালে। স্থাপত্যে অভিনব ভাবনার জন্য তিনি দেশে ও দেশের বাইরে ব্যাপকভাবে পরিচিত। তার নির্মাণে নিসর্গের প্রাধান্য রয়েছে। প্রকৃতির সঙ্গে বিরুদ্ধতা নয়, ঐক্যের মাধ্যমে তিনি তৈরি করেন তার স্থাপনাগুলো। ১৯৯৫ সালে তিনি ‘সাতত্য’ নামে নিজের নির্মাণ প্রতিষ্ঠান দাঁড় করান। প্রতিষ্ঠানটি সবুজবান্ধব কাজের জন্য ইতোমধ্যেই ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। রফিক আজম বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে খন্ডকালীন শিক্ষকতার পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান ও সিঙ্গাপুরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়ান। দেশে ও বিদেশে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মর্যাদাশীল পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। এসবের মধ্যে রয়েছে, সাউথ এশিয়ান আর্কিটেক্ট অব দ্য ইয়ার, ওয়ার্ড আর্কিটেকচারাল কমিউনিটি অ্যাওয়ার্ড, লিডিং ইউরোপিয়ান আর্কিটেক্ট ফোরাম, এ আর অ্যাওয়ার্ড ফর ইমার্জিং আর্কিটেক্ট ইত্যাদি। এ মুহূর্তে রফিক আজম পুরান ঢাকার কিছু পার্ক নতুন করে নির্মাণে কাজ করছেন। তবে নিজের তৈরি ভবন নয়, রফিক আজম কথা বলেছেন তার ভালোলাগা স্থাপনাগুলো নিয়ে। দেশ ও দেশের বাইরে এ স্থপতির প্রিয় স্থাপনাগুলো নিয়ে থাকছে এবারের এ আয়োজন।

361bb70ef6967c257217534fdd73394d

চারুকলা ভবন, বাংলাদেশ
ফাইন আর্টস বিল্ডিং বা এখনকার চারুকলা ভবন স্থপতি মাজহারুল ইসলামের একটি চমৎকার কাজ। বাংলাদেশে এটাই প্রথম আধুনিক স্থাপনা, যেখানে আধুনিকতার সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্ক মিলে একটি ভিন্নতর কাজ হয়েছে। জলবায়ুর সঙ্গে স্থাপনার যে স¤পর্ক, সেটাকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছেন এ স্থপতি। এ ধারাটাও এ দেশে তিনিই তৈরি করেন। দক্ষিণের বাতাস, সূর্য, আলো সবকিছু হিসাব করেই এটি তৈরি করেছেন তিনি। বাতাসটা করিডোর দিয়ে ঢুকে ক্লাসের ভেতর দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে। দারুণ একটা ব্যবস্থা! এভাবে একটি জায়গার নিজস্ব যে সৌন্দর্য সেটিকে ব্যবহার করে, তার প্রকৃতিকে ব্যবহার করে এ রকম আধুনিক স্থাপনা বাংলাদেশে এটাই প্রথম। সেদিক দিয়ে এ স্থাপনাটা আমার পছন্দের একটি।

1201875168_466_FT3364_iaa0934

সংসদ ভবন, বাংলাদেশ
সংসদ ভবন হলো আমাদের গর্ব করার মতো একটি স্থাপনা। এর বিশালতার জন্যও এটি অনন্য। যদি আপনি খেয়াল করেন, দেখবেন কংক্রিটের তৈরি এত বড় ওজনদার একটি স্থাপনা কিন্তু দেখলে মনে হবে যেন পানির ওপর ভেসে আছে। এই যে একটা ভারী জিনিসকে হালকা করে ফেলা, এটা কিন্তু দারুণ। আর এর ল্যান্ডস্কেপও আমাদের দেশকে ধারণ করে। আমাদের ল্যান্ডস্কেপ কিন্তু পানি। সেই পানির ওপর নৌকার মতো যেন ভাসছে এ ভবনটি। একটি দেশের শক্তি বোঝাতে কংক্রিটের এই বিশাল স্থাপনা তৈরি করেছেন। এটি একটি ভয়াবহ সৌন্দর্য, জোরালো এর আবেদন। এটিকে পানির সঙ্গে সম্পর্কিত করে দিয়ে তিনি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট তৈরি করেছেন। আবার, শুধু বাইরে থেকে এটির পুরোটা বুঝে ফেলা অসম্ভব। এর ভেতরের আলোছায়ার খেলাটা অসাধারণ। এটি একটি উপন্যাসের মতো। আপনাকে পুরোটা পড়তে হবে বা দেখতে হবে। এটি আধুনিক একটি স্থাপনা এবং সেই সঙ্গে এ দেশের ঐতিহ্য থেকে উঠে আসা। অনেকটা প্রাচীন বৌদ্ধ বিহারেরও মিল পাবেন এর নির্মাণশৈলীতে। মাঝখানে যদি হয় মূল বিহারটা, এর চারপাশে শ্রমণদের থাকার এলাকা। সংসদ ভবন ঘিরে তৈরি হয়েছে সাংসদদের আবাসন। ফলে এটি ইতিহাসে ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কিতও বটে। যদি দেখেন, কৃষ্ণচূড়ার সারি এর চারপাশে, সোনালুর সারি। পুরো জগৎটাকে বাংলাদেশের প্রকৃতির সঙ্গে মিলিয়ে বানানো হয়েছে। এভাবে এটি বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ হয়ে উঠেছে।

 

NEW_ATH_ACROPOLIS_MUSEUM_01

অ্যাক্রোপলিস মিউজিয়াম, গ্রিস
গ্রিসের এথেন্সে অ্যাক্রোপলিস মিউজিয়াম বিশ্ববিখ্যাত ঐতিহাসিক পার্থানন বিল্ডিংয়ের খুব কাছে। ২০০৯ সালে এটি দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেয়া হয়। এটার একটা মজার ইতিহাস আছে। ব্রিটিশরা গ্রিকদের অনেক জিনিস চুরি করে নিয়ে গিয়েছিল। সেগুলো ব্রিটিশ মিউজিয়ামসহ বিভিন্ন জায়গায় রাখা আছে। একসময় গ্রিকরা বলল, আমাদের জিনিস ফেরত দাও। তখন ব্রিটিশরা একটা অজুহাত দাঁড় করল। তারা বলল, তোমরা যে এগুলো ফেরত চাচ্ছো, এগুলো নিয়ে রাখবে কোথায়? তোমাদের তো একটা ভালো মিউজিয়াম নেই। তো, তখন গ্রিকরা বলল, ঠিক আছে তাহলে, আমরা মিউজিয়াম একটা বানাব, তারপর তোমরা ফেরত দেবে আমাদের জিনিস। তখন ব্রিটিশরা রাজি হলো, ওরা বলল, ঠিক আছে, তোমরা যদি রাখার জায়গা বানাতে পার, তাহলে আমরা ফেরত দেব। এরপর তারা প্রায় পনের বছর ধরে চেষ্টা করল। তো এভাবে বার্নাডশুমি নামের একজন আর্কিটেক্ট, খুব নামকরা, দার্শনিক ধরনের আর্কিটেক্ট, তিনিই কাজটা পেলেন। এর পুরো এলাকাটা একটা আর্কিওলজিক্যাল সাইট। তার ওপরে খুব কায়দা করে নতুন বিল্ডিংটা বানানো হলো। ওটা এমনভাবে বানানো হয়েছে যে, পায়ের নিচের কাচের ভেতর দিয়ে হাজার বছরের পুরনো সেই আর্কিওলজিক্যাল সাইটের প্রায় পুরোটাই দেখা যায়। কাচের মেঝের কারণে ওখানে হাঁটতে ভয় লাগে। কিন্তু এর বিশেষত্ব হলো, ওপর দিয়ে হাঁটার সময়ও আমরা কিন্তু নিচের জায়গাটির সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতে থাকি, সম্পর্কিত থাকি। আবার এর চারপাশে তাকালে দৃষ্টিসীমানার মধ্যে অনেক পুরনো জিনিসপত্র দেখা যায়। যেগুলোর অনেকগুলোই ব্রিটিশরা ফেরত দিয়েছে। বিল্ডিংটা এমনভাবে বানানো হয়েছে যে, বিল্ডিংটা ভোজবাজির মতো হাওয়া হয়ে যায়, নাই হয়ে যায়। শুধু হাজার বছরের প্রত্নতাত্তিক নিদর্শনগুলোর মধ্যে আপনি ঘুরে বেড়াতে থাকেন। পুরনো দিনের অতভুতির মধ্যে আপনি বিচরণ করতে থাকেন ওখানে। তো, এ রকম ধারণা ও দর্শনের স্থাপনা আমি আর দেখিনি কখনো। ফলে এটিও আমার কাছে অভিনব, এবং পৃথিবীর ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য বলে আমার মনে হয়।

Boyd Art Center 2

বয়েড আর্ট সেন্টার, অস্ট্রেলিয়া
বয়েড আর্ট সেন্টার। বয়েড ছিলেন একজন ব্রিটিশ আর্টিস্ট। তিনি অধিকাংশ সময় অস্ট্রেলিয়ার ওই জায়গাটায় গিয়ে ছবি আঁকতেন। ওনার অনেক ছবি এ স্টোরটিতে সংরক্ষিত আছে। এখানে এখন আর্টিস্টরা আসেন, থাকেন, ছবি আঁকেন। এখানে একটা নদী আছে। নদীটার নাম সোল হ্যাভেন রিভার। এখানে গেলে মনে হয় একটা স্বর্গে এসেছি। এটি তৈরি করেছেন গ্লেন মার্কট। উনি আমার গুরু। আমি অনেক কিছু শিখেছি ওনার কাছে। ওনার স্থাপত্যে সুফি দর্শনের একটা প্রভাব রয়েছে। যেমন ধরুন, এর ছাদগুলো খুব চিকন, পাতলা। যদি আপনি গাছের পাতাকে দেখেন, তার যে বৈশিষ্ট্য, সেটাই যেন ধারণ করে এর ছাদগুলো। গাছের পাতা কেমন? খুব হালকা হয়ে বাতাসের সঙ্গে একটা সম্পর্ক স্থাপন করে, যেন দুলে দুলে কথা বলে বাতাসের সঙ্গে। আগার দিকটা চিকন হয়ে মিলিয়ে যায়, এমনই এর বৈশিষ্ট্য। তো, প্রকৃতির সঙ্গে, অনুষঙ্গের সঙ্গে যেন মিশে যায় এ স্থাপনাটি। পাতার মতো এর ছাদগুলো, যেন পুরো স্থাপনাটি ডানা মেলে উড়ে চলে যাবে এক্ষুণি। হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে। আবার এটি মাটিকে যেভাবে স্পর্শ করেছে, সেটা যদি খেয়াল করেন, দেখবেন এর খুঁটিগুলো খুব আলতো করে মাটিতে মিশে আছে। এমন ভঙ্গি, যেন মাটি কোনোরকম ব্যথা না পায়। তিনি বলতেন, মাটি হলো মা। একে এমনভাবে স্পর্শ করতে হবে যেন তার মধ্যে কোমল, পেলব একটা ব্যাপার থাকে। এ স্থাপনাটা এ রকম। এখানে বসলে মনে হবে আপনি ক্ষণিকের অতিথি। আপনার নশ্বরতার বোধ এখানে প্রকট হয়ে ওঠে। অস্ট্রেলিয়ায় এমনিতেই মানুষ কম, এখানে আরো কম। ফলে জায়গাটা নিস্তব্ধ, নিরিবিলি। জালালুদ্দিন রুমির ওই কথাটা মনে পড়ে এখানে এলে। তিনি বলেছিলেন, নীরবতা হলো ঈশ্বরের ভাষা। এর যেকোনো অনুবাদই দুর্বল। ফলে এ স্থাপনার নীরবতা স¤পর্কে আমি যা-ই বলি না কেন, সেটি খুব দুর্বল অনুবাদ হবে।

 

 

 

তাসনুভা রাইসা


সাধারণ মানুষ ‘আকাশ’কে আকাশ বলে কিন্তু একজন স্থপতি আকাশকে বলবে নীলিমা, তাদের দৃষ্টির সুদূরে সেটি শুধু আকাশ না, এটি একটা রঙ, যা বদলায় মেঘে বা রোদে। আর যে আকাশকে নীলিমা বলে, সে যখন কোনো স্থাপনার নকশা করেন, তার ভেতর দিয়েই সেই নীলিমা কীভাবে উপভোগ করা যায়, সেই ভাবনা দিয়ে স্থাপনায় সাহিত্য রচনা করেন। স্থপতি সুদূরের পিয়াসী, তারা কোথাও কোনো স্থাপনা থাকলে সেটাও দেখেন আর না থাকলেও দেখেন, কী হতে পারে শূন্য জায়গায়? ‘They Look up’ স্থপতিদের কাজকে চিহ্নিত করার জন্য আমেরিকা ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্ট ২০১৪ সালের শেষের দিকে আবার একটি ক্যাম্পেইনও চালায় ‘I Look up’ নামে যার মূল উদ্দেশ্য ছিল স্থপতির কাজকে চিহ্নিত করা। জীবনের চারপাশজুড়ে স্থপতিরা বিস্তৃত।
স্থাপত্য এবং ভ্রমণ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যে স্থপতিকে চেনে, সে জানে কেন তিনি সন্ধান করেন, কেন ভ্রমণ করেন। খাঁচার ভেতর অচিন পাখির আসা-যাওয়াটাকে মনবেড়ি দিয়ে পায়ে বেঁধে রাখতে জানে।
স্থপতি ভ্রমণের উদ্দেশ্য ও পছন্দ তা আলাদা, এ লেখায় স্থপতিদের প্রিয় কিছু স্থান নিয়ে আলোচনা করা হলো-

১. ক্ল্যাসিক্যাল এবং অকপট সৌন্দর্যের রোম নগরী
রোমান হলিডে চলচ্চিত্র যারা দেখেছেন, তাদের নিশ্চয়ই মনে আছে একঘেয়ে জীবনযাপনে হাঁপিয়ে ওঠা রাজকুমারী অ্যান ঘর থেকে পালিয়ে যায়, দেখা হয় এক সাংবাদিকের সঙ্গে এবং সব বাধা উপেক্ষা করে সাংবাদিকের সঙ্গে রোম শহরে ঘুরে বেড়ায়। সেই রাজকুমারী রোম শহরকে ঘিরে তার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিল কয়টি লাইন দিয়ে, ‘Rome. By all means. Rome!’
পশ্চিমা বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভবনের আবাসভূমি রোম সারা বিশ্বেরই পর্যটক, স্থপতি, ইতিহাসবিদ, প্রত্নতত্ত্ববিদদের আকর্ষণ করে। প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ এবং রেনেসাঁ চার্চগুলোর সঙ্গে ঘুরে বেড়ানো, হাজার বছরের পুরনো স্থাপত্য আর ঐতিহ্যকে ধারণ করে রোম সবসময়ই গর্বিত। প্রাচীন শৌর্যবীর্য এবং গরিমার জন্য বিখ্যাত রোমান কলোসিয়াম, প্যালাটাইন হিল। কলোসিয়াম তার বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেয়ে বিখ্যাত মূলত সুদীর্ঘ ইতিহাস এবং বিচিত্র স্থাপনাশৈলীর জন্য। এমনকি রোম নগরীর রাস্তাঘাটে শুধু ঘুরে বেড়ালেও চোখে পড়বে অগণিত বারোক স্টাইলের প্রাসাদ এবং জমকালো ফোয়ারা। ২০০০ বছরের প্রাচীন ইঞ্জিনিয়ারিং মাস্টারপিসপ্যানথিওনের মহিমা আলোড়িত করে দর্শনার্থীদের। প্যানথিওন (The Pantheon) ভবন ইতালির অন্যতম একটি প্রাচীন নিদর্শন। ভবনটি রোমান সাম্রাজ্যের গোড়াপত্তনকারী সম্রাট অগাস্তুসের (Augustus) শাসনামলে তৈরি হয় এবং পরবর্তীতে ১২৬ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট হাদ্রিয়ান এটিকে পুনর্নির্মাণ করেন। সপ্তম শতক থেকে প্যানথিওন ভবন গির্জা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা যিশুখ্রিস্টের মাতা মেরিকে উৎসর্গ করা হয়। শতকের পর শতক কলোসিয়াম আর প্যানথিওন টিকে আছে খুব সামান্য বা কোনোরকম রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াই। এর দীর্ঘস্থায়িত্ব নিয়ে গবেষণা হয়েছে প্রচুর। আসলেও আশ্চর্য ব্যাপার। সপ্তমাশ্চর্যের অন্যতম এক আশ্চর্য।
রোমের ভেতরেই বিশ্বের সবচেয়ে ছোট স্বাধীন রাষ্ট্র ভ্যাটিকান সিটিতে রয়েছে বিশ্বখ্যাত আর্কিটেকচারাল মাস্টারপিস এবং খ্রিস্টীয় ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের জন্য পবিত্র স্থান সেইন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকা। সেইন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকাতে মাইকেলেঞ্জেলো এবং বার্নিনির কাজের নিপুণতা এবং অনিন্দ্য সুন্দর উপস্থাপন সৃষ্টিশীল বা সাধারণ দর্শনার্থীদের মনোজগতে অনুরণন ঘটায়। সেইন্ট পিটার ব্যাসিলিকার ভেতরে রেনেসাঁ এবং বারোক আর্টের বহু মাস্টারপিসের নিদর্শন রয়েছে, যার মাঝে অন্যতম মাইকেলেঞ্জেলোর ‘পিয়েতা’. ইতালির কারারা মার্বেল পাথরের তৈরি অনন্য এ ভাস্কর্যে দেখা যায়, মাতা মেরির কোলে ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার পর যিশুর নিথর দেহ। রোমের পথে-প্রান্তরে প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ দেখতে দেখতে রোমের সেই পাগলাটে রাজার কথা মনে হবে, নিরো, যার খামখেয়ালিপনায় প্রতিপত্তিময় রাজকীয় রোম পতনের মুখে পড়ে।

 

EUBCPREHIGH-2

২. অ্যান্টোনিও গাউদির চোখ ধাঁধানো বার্সেলোনা

But man does not creat… he discovers nothing is art if it does not come form  nature.

-Antonio Gaudi
বার্সেলোনা শহরে গেলে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যাওয়া লাগতে পারে, এক দল একে বলবে মেসির শহর, আরেক দল বলবে অ্যান্টোনিও গাউদির শহর। বার্সেলোনার স্থাপত্যের ২০০০ বছরের ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে রোমান ধ্বংসাবশেষ, গথিক ক্যাথেড্রালের সঙ্গে ক্যাটালান মডার্নিস্ট অ্যান্টোনিও গাউদির অনন্যপ্যাটার্নের স্থাপত্য।
একটা দেশের স্থাপত্যের নিদর্শন দেখতেই প্রতি বছর প্রায় ৩০ লাখ লোকের সমাগম ঘটে। কী তাদের এমন আকৃষ্ট করে? ক্যাটালান মডার্নিজম নিয়ে বিভিন্ন বইয়ের লেখক ‘তাতে ক্যাব্রে’ এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘মানুষ মনোমুগ্ধ হয়ে দেখতে আসে ‘লা ফ্যামিলিয়া সাগ্রাদা’ কারণ পুরো বিশ্বে এমন স্থাপনা একটিও নেই, এ চার্চের প্রধান অংশের ছাদ ৬০ মিটার পর্যন্ত উচ্চতা ছুঁয়েছে। এটির সৌন্দর্য দর্শনার্থীদের আচ্ছন্ন করে রাখে। লেখকের গবেষণায় কেউ কেউ এ চার্চ দেখতে ১০ বারেরও বেশি এসেছেন। বিংশ শতাব্দীতে এ ক্যাটালান মডার্নিজমের উত্থান ঘটে, যেখানে অনেক বেশি অর্গানিক কাঠামো যুক্ত করা হয়েছে। স্প্যানিশ স্থপতি গাউদিই এ ধারণার প্রবর্তক। অ্যান্টোনি গাউদি সুবিখ্যাত তার এ অর্গানিক কাঠামো এবং জাঁকালো রঙের ব্যবহারের জন্য। তার অসম্পূর্ণ মাস্টারপিস লা সাগ্রাদা ফ্যামিলিয়া, ১৩০ বছর পরও এখনো বহাল তবিয়তে টিকে আছে, এ বিশাল, বৃহদাকৃতির চার্চের অর্গানিক কাঠামো আগের সব প্যাটার্নকে ছাপিয়ে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এটি ছাড়াও বার্সেলোনা শহরকে তিনি সাজিয়েছেন নানা চোখ ধাঁধানো স্থাপত্যে।

 

৩. ইস্তাম্বুল, যুগে যুগে ইতিহাসে নিদর্শনের মহাসম্মিলন

Either I conquer Istanbul or Istanbul conquers me.

-Mehmed the Conqueror

If the earth were a single state, Istanbul would be its capital.

-Napoleon Bonaparte

উক্তিকারীর মধ্যে একজনের হাতে অটোমান সাম্রাজ্যের সূচনা হয়েছিল এবং আরেকজন জগদ্বিখ্যাত বীরযোদ্ধা নেপোলিয়ন ইস্তাম্বুলের গুরুত্বকে সমীহ করে বলেছেন।
সিল্ক রোডের শেষে দুই মহাদেশের ওপরে আছড়ে থাকা ইস্তাম্বুল হাজার হাজার বছর ধরে বাণিজ্য, শক্তি ও সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। উত্তরাধিকারবলে এখানে গ্রিক, রোমান, বাইজানটাইন এবং অটোমান শাসনামলের স্মৃতিস্তম্ভ, প্রাসাদ এবং টাওয়ার রয়েছে। পরাক্রমশালী এ অটোমান শাসকদের নানা বিষয়ে উৎকর্ষের মাঝে সবচেয়ে উজ্জ্বলভাবে যা এখনো টিকে আছে, তা হলো অটোমান স্থাপত্যশৈলী। নান্দনিকতা, কারিগরি আর ইসলামী ভাবধারার ভারসাম্যে অটোমান স্থাপত্য শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার। ষষ্ঠ শতকের অসামান্য সৌন্দর্যমন্ডিত আয়া সোফিয়ার বাইজানটাইন ডোম এবং চমকপ্রদ মোজাইকের কারুকাজ ইস্তাম্বুলের ল্যান্ডমার্ক হিসেবে চিহ্নিত, যেটি ছিল বাইজানটাইন সাম্রাজ্যের সময়কার গির্জা; যা তারা পরে রূপান্তর ঘটায় সুন্দর এক মসজিদে। একই সঙ্গে নাম চলে আসে টপক্যাপি প্রাসাদ এবং আহমেদ সুলতান মসজিদ বা ব্লু মস্ক নামে পরিচিত। আয়া সোফিয়ার পাশেই এর অবস্থান। তুর্কি স্থাপত্যের রেনেসাঁর মূল কারিগর ছিলেন সিনান। তার সমসাময়িক মাইকেলেঞ্জেলোর সঙ্গে তাকে তুলনা করা হতো। তুর্কি ইতিহাসে সবচেয়ে সফল সুলতান-সুলতান সুলেমানের সময় মিমার পাশা প্রধান স্থপতি হিসেবে নিয়োগ পান। তার উল্লেখযোগ্য কীর্তির মধ্যে মিহরিমাহ মসজিদ, সুলায়মানিয়া মসজিদ, রুস্তম পাশা মসজিদ, খুররাম (হুররেম) সুলতান হাম্মামখানা এবং হাসপাতাল, সেলিমিয়া মসজিদ উল্লেখযোগ্য। তার নিজের জন্য যে ছোট সমাধি নির্মাণ করেছেন, তাও খুব দৃষ্টিনন্দন। যদিও মিমার সিনান নিজে তার কীর্তির মধ্যে সেলিমিয়া মসজিদকেই এগিয়ে রাখতেন, কিন্তু তার সবচেয়ে বিখ্যাত কাজ সুলায়মানিয়া মসজিদ। সিনানের স্থাপত্যের অথবা অটোমান স্থাপত্যের একটা বৈশিষ্ট্য বিশালাকৃতির ডোম। যদিও এই ডোমাকৃতির স্থাপত্যের ইতিহাস অনেক পুরনো। জেরুজালেমের ডোম অভ রক বা দামাস্কাসের উমাইয়া মসজিদের গম্বুজের সবই এসেছে বাইজানটাইন চার্চের আর্কিটেকচার থেকে। আয়া সোফিয়ার বিখ্যাত ডোমই সিনানের জন্য অনুপ্রেরণা এবং বিশাল চ্যালেঞ্জ হিসেবে এসেছে। সিনান সার্থকভাবেই বাইজানটাইন আর্কিটেকচারের সঙ্গে ইসলামী আর্কিটেকচারের এক অসাধারণ ফিউশন করেছেন। তারই এক চমৎকার উদাহরণ এ সুলায়মানিয়া মসজিদ।
দৃষ্টিনন্দন এসব স্থাপনা নানা দিক থেকেই স্বতন্ত্র তো বটেই, একটি দিক থেকে একেবারেই আলাদা। তা হলো, স্থাপনাগুলোতে পাখির জন্য আলাদা নিবাসের ব্যবস্থা থাকা। নানা দুর্গ, মসজিদ আর প্রাসাদের দেয়ালের গায়ে ঝুলন্ত আকারে দেখা যাবে অবিকল বড় প্রাসাদের প্রতিরূপ। সেগুলো বানানো হয়েছে পাখপাখালি থাকার জন্য। আকাশে ওড়ার অনন্য ক্ষমতার কারণে সময়ের শুরু থেকেই পাখি ছিল মানুষের জন্য শিল্প ও আধ্যাত্মিক অনুপ্রেরণার উৎস। পাখি সর্বদাই শান্তি, মুক্তি এবং কখনো শক্তিরও প্রতীক। অভিকর্ষকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সদর্পে আকাশে ভেসে বেড়ানোর ক্ষমতার কারণে নানা সংস্কৃতিতে পাখিকে দেখা হয় এক আশ্চর্য সৃষ্টি হিসেবে। যার কারণে বিজ্ঞান আর শিল্পকলা উভয় জায়গাতেই ছিল পাখি নিয়ে মাতামাতি। তুরস্কের সংস্কৃতিতে ঘুঘু হচ্ছে ভালোবাসা এবং বিশ্বস্ততার প্রতীক, কবুতর হলো শান্তি এবং চড়ুইই পাখি ঘরের নিরাপত্তার প্রতীক। তুর্কি বিশ্বাস অনুযায়ী পাখির আবাস নষ্ট করা দুর্ভাগ্য বয়ে আনে। বাসাগুলো বানানো হয়েছে বড় বড় প্রাসাদের ক্ষুদ্র প্রতিকৃতি আকারে। বাইরের দেয়ালে লেগে থাকা বহুতল ভবনের মতো বাসাগুলোতে রয়েছে সূক্ষ্ম কারুকাজ, এমনকি ফোয়ারা পর্যন্ত! প্রাসাদের মতো দেখতে এ ক্ষুদ্র পাখির বাসাগুলো পাখির প্রতি অটোমান শাসকদের ভালোবাসা আর মমতার প্রতীক।

Istanbul-Topkapi-Palace

 

৪. নাগরিক জাদুঘর অক্সফোর্ড, লন্ডন
Our sweetest songs are those the tell of saddest thought.

-Percy Bysshe Shelley
ইংলিশ রোমান্টিক কবি শেলীর স্মৃতিবিজড়িত শহর অক্সফোর্ড। লন্ডন থেকে অক্সফোর্ড ৬০ মাইলের পথ। অক্সফোর্ড মূলত বিশ্ববিদ্যালয় শহরই। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরজুড়েই রয়েছে ইতিহাস ও ঐতিহ্যমন্ডিত সব স্থাপনা এবং দর্শনীয় স্থান। পঞ্চদশ শতাব্দীর মধ্যে অক্সফোর্ড ইউরোপের শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা লাভ করে। এ পর্যন্ত অক্সফোর্ডে পৃথিবীর অনেক জ্ঞানী-গুণী, বিখ্যাত মানুষ লেখাপড়া করেছেন। এদের অনেকে বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস স্মরণীয় করে রেখেছেন। রোমান্টিক যুগের বিখ্যাত কবি শেলীর নামে একটি চত্বর হয়েছে। মাত্র ৩০ বছর বয়সে এ প্রতিভাবান কবি নৌকাডুবিতে মারা যান। তার অমর কীর্তি স্মরণ রাখার জন্য অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরটি তার নামে উৎসর্গ করা হয়েছে।
এ অক্সফোর্ডের প্রায় হাজার বছরের স্মৃতি বুকে ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে সেন্ট মাইকেল টাওয়ার। সেন্ট মাইকেলের সর্বোচ্চ চূড়ায় উঠলেই চোখের সামনে মূর্ত হয়ে উঠবে হাজার হাজার বছর ধরে গড়ে ওঠা শহর অক্সফোর্ড। এখান থেকেই অক্সফোর্ডের সবচেয়ে বেশি চিত্রায়িত দলান রেডক্লিফ ক্যামেরাকে ভালোভাবে দেখা যায়। অক্সফোর্ড এর সবচেয়ে বেশি আইকনিক দালান রেডক্লিফ ক্যামেরাকে অক্সফোর্ডবাসীরা ডাকে রেড ক্যাম্প হিসেবে। ল্যাটিন শব্দ ক্যামেরা মানে ঘর। এই রেডক্লিফ স্কয়ারটিও অক্সফোর্ডের খুব পরিচিত একটি স্থান। তখন নির্মিত হয়েছিল বিজ্ঞান গ্রন্থাগার হিসেবে। এর পাশেই ১৬০২ সালে তৈরি হওয়া বোদলেয়ান লাইব্রেরি। আয়তনের দিক থেকে ব্রিটিশ লাইব্রেরির পরই এ বোদলেয়ান লাইব্রেরির স্থান। এর প্রবেশমুখের টাওয়ারটির ৫টি কলাম ৫টি স্থাপত্য রীতিকে প্রতিনিধিত্ব করে। ডরিক, টাসকান, আইওনিক, করিন্থিয়ান আর কম্পোজিট রীতির স্থাপত্য নকশা টাওয়ারটিতে দেখা যায়। আর পুরো অক্সফোর্ড সিটিতে ছড়িয়ে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবন এবং স্থাপনা। অক্সফোর্ডের কলেজের ভেতর ক্রাইস্ট চার্চ কলেজ এবং ম্যাগডালেন কলেজ যেমন বিশালাকার, তেমনই জাঁকজমকপূর্ণ। অক্সফোর্ডেই রয়েছে লন্ডনের প্রাচীনতম জাদুঘর অ্যাশমোলান। যারা পায়ে হেঁটে ঘোরাঘুরি করতে চান না, তারা ছাদ খোলা গাড়িতে সিটি ট্যুর দিতে পারেন। কানে লাগানো হেডফোনে চলতে থাকে শহরের বর্ণনা। বিশ্ব পর্যটকের সামনে অক্সফোর্ড সিটিকে নান্দনিক উপস্থাপনে এর ল্যাম্পপোস্টগুলোকে ফুল দিয়ে সাজানো থাকে। অক্সফোর্ডের আরেকটি স্থাপত্য নিদর্শন সেলডোনিয়ান থিয়েটার। ৮০০-১০০০ আসন বিশিষ্ট এ থিয়েটারেই সমাবর্তনের মূল অনুষ্ঠান হয়। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়টির দক্ষিণ ও পশ্চিম দু’দিক থেকে ঘিরে আছে টেমস নদী। টেমস নদীতে নৌকা বাওয়া শিক্ষার্থী ও পর্যটকদের কাছে খুব উপভোগের বিষয়। এ টেমসের কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে মডলিন ব্রিজ ও মডলিন কলেজ। মডলিন অক্সফোর্ডের সবচেয়ে মনোরম স্থান। মডলিন কলেজের পাশে বেল টাওয়ার এক সময় অক্সফোর্ডের ল্যান্ড মার্ক হিসেবে পরিচিত ছিল।

Oxford-University-2-1

৫. এস্কেপ টু সাংহাই
” And the moon and the srars are

the same ones you see

it’s the same  old sun up in the sky/

heaven to me

like the breezes here in the old Shanghai.”

-John Denver
জন ডেনভার তার Shanghai breezes গানে প্রেমিকার কণ্ঠ শোনার স্বর্গীয় অনুভূতির সঙ্গে তুলনা করেছেন পুরনো সাংহাই শহরে বয়ে যাওয়া বাতাসের, এ সাংহাই চীনের সবচেয়ে বড় এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি সুপরিকল্পিতভাবে ধরে রেখেছে তার প্রাচীন ঐতিহ্যকে আবার নিত্যনতুন ভবন নির্মাণে স্থাপত্য উৎকর্ষের মধ্য দিয়ে নিজেকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।
‘এস্কেপ টু সাংহাই’ বহুল জনপ্রিয় একটি বাক্য, বলতে ও শুনতে ভালো লাগে, যদি ও এর পেছনের ইতিহাস রক্তাক্ত ও বেদনাক্লিষ্ট, একই সঙ্গে গৌরবের। জার্মানি নাৎসি বাহিনীর ভয়ে পালিয়ে আসা অসংখ্য ইহুদি পরিবারকে আশ্রয় দেয় সাংহাই। দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করে এক অভূতপূর্ব বন্ধুত্ব ও ভালোবাসার নিদর্শন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের রক্তাক্ত ইতিহাসের এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ ব্যাটল অব সাংহাই। সাংহাইয়ের ইহুদি শরণার্থীদের বলা হতো ‘এস্কেপ টু সাংহাই’।
এবার সাংহাইয়ের আইকনিক কিছু স্থান থেকে ঘুরে আসা যাক। প্রথমেই বান্ড এলাকার কথা বলতে হবে। বলা হয়ে থাকে বান্ড দর্শন না করলে সাংহাই দর্শন বৃথা।
এক শতক ধরে ‘সাং হাই বান্ড’ একই সঙ্গে সাংহাই সিটিকে চেনার প্রতীক এবং গর্ব। হুয়াংপু নদীর পশ্চিম তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা বান্ড অঞ্চলজুড়ে রয়েছে পাশ্চাত্য এবং চাইনিজ স্থাপত্যের সমন্বয়ে ৫২টা ভবন। বান্ডের ভবনগুলোর স্থাপত্য তা আঠারো শতকের কলোনিয়াল ইতিহাসের ইতিহাস সমৃদ্ধ এক জীবন্ত জাদুঘর। বিশ্ব স্থাপত্য প্রদর্শনীর জন্য এ এলাকা সাংহাইকে করেছে অনন্য।
যেখানে ৫২টা ভবন অবস্থান করছে, সেখানে একই সঙ্গে গথিক, বারোক এবং নিও ক্ল্যাসিক্যাল ধারার স্থাপত্যের নিদর্শন রয়েছে। পাশ্চাত্যের নিদর্শন ছাড়াও চাইনিজ আর্ট ডেকো সমৃদ্ধ স্থাপত্যের নিদর্শন শুধু সাংহাইতেই দেখা যাবে আর বান্ড এলাকায় পাওয়া যাবে এমন কিছু ভবন।
চাইনিজ আর্ট ডেকো সমৃদ্ধ স্থাপত্য, পল্লবিত প্রশস্ত পথের ফ্রেঞ্চ কনসেশানের পাশাপাশি সাংহাই আকাশসীমায় সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকা আধুনিক সব অনুষঙ্গসমৃদ্ধ সুউচ্চ ভবনের জন্য সাংহাই সিটি এক অন্য উচ্চতায় পদার্পণ করেছে।সাংহাইয়ের পুডংয়ে অবস্থিত বিশ্বের দ্বিতীয় সবচেয়ে উঁচু ভবন সাং হাই টাওয়ার, চায়নার বুকে দৃপ্ত এক প্রত্যয় নিতে দাঁড়িয়ে আছে।প্যাঁচানো সাংহাই টাওয়ারের ওপর বিশ্বের সর্বাধিক উচ্চতায় নির্মিত অবজারভেশন ডেস্ক। চমকপ্রদ টাওয়ার ব্লকটি প্রতিটির দিকে ছড়িয়ে পড়ে, সবচেয়ে স্পষ্ট সাংহাই ওয়ার্ল্ড ফাইন্যান্সিয়াল সেন্টার। আবার ৩৭ তলায় আছে গুনাফু মিউজিয়াম, হুয়াংপু নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে মিউজিয়ামের প্রদর্শনী উপভোগ করেন আগত দর্শনার্থীরা।
মাটিতে নেমে এলে আছে হিমালয়াস মিউজিয়াম যার বহির্ভাগের আবরণে মাটির শিকড় সদৃশ নকশা। সাংহাইয়ের পুডং-এ অবস্থিত ফ্যাশনেবল ল্যান্ডমার্ক স্থাপনা ওরিয়েন্টাল আর্ট সেন্টার। ফরাসি স্থপতি পল এন্ড্রুর নকশায় এ স্থাপত্টিকে দেখলে পাপড়ি মেলে থাকা ফুলয়ের মতো মনে হয়, ৫টি পাপড়ি আলাদা কাজের জন্য নির্মিত, একটা এন্ট্রান্স হল, পারফরম্যান্স হল, কনসার্ট হল, এক্সিবিশন গ্যালারি এবং অপেরা হল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

shanghai-china-ritz-carlton-shanghai-pudong-flair.jpg.1200x800_q85_crop

 

 

এম এ মোমেন


হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে শোনা গানটি একসময় শহরবাসীদের নাড়া দিত
শোনো বন্ধু শোনো
প্রাণহীন এই শহরের ইতিকথা
ইটের পাঁজরে লোহার খাঁচায় দারুণ মর্মব্যথা
এখানে আকাশ নেই এখানে বাতাস নেই
এখানে অন্ধগলির নরকে মুক্তির আকুলতা…

এই গানের বাণীতে মিথ্যে কিছু নেই, কিন্তু এটাও তো সত্য সব আকুলতাকে ছাপিয়ে যায় গ্রাম ছেড়ে শহরে আসার আকুলতা। এই আকুলতা কেবল বাংলাদেশে নয়, উন্নয়নশীল বিশ্বে সর্বত্রই। এর কারণ জীবিকার অন্বেষণ।
নগরের জীবন নৈব্যক্তিক, সম্পর্ক চুক্তিভিত্তিক, গতিশীল ও পরিবর্তনশীল এবং যৌক্তিকতাভিত্তিক। আজ বিশ্বায়নের উত্তরোত্তর তাড়না নগর থেকে উদ্ভূত।
নগর পত্তনের ইতিহাস প্রত্নতাত্ত্বিক হিসেবে প্রায় দশ হাজার বছরের। আজ থাকল লন্ডন শহরের গড়ে ওঠার কাহিনি।

রমেশচন্দ্র দত্ত ১৮৬৮’র এপ্রিল থেকে ১৮৬৯’র জুলাই পর্যন্ত লন্ডনে অবস্থান করেছেন। একই বছরের জুনে তিনি সিডেনহেম কাচের প্রাসাদ দেখতে গিয়েছিলেন। তারই বর্ণনা ‘উহা অতি বৃহৎ প্রকাণ্ড অট্টালিকা, পাতলা লৌহখণ্ডের গরাদিয়া দ্বারা সংযুক্ত চিকন কাঁচখণ্ডে নির্মিত। মধ্যদেশে একটা প্রকাণ্ড খিলান ও তাহার উভয় পার্শ্বে দুইটা দালান আছে। সূর্যকিরণে যখন ঝকমক করিতে থাকে তখন উহার দর্শন অতি চমৎকার। উক্ত প্রাসাদের বাহিরে দুর্ব্বাদন আচ্ছাদিত ক্ষেত্র প্রস্তও খণ্ড বিনির্মিত পদবী ও জ্যামিতিক আকারের ন্যায় অতি সুন্দর রূপে নির্মিত ফুলের চৌকা আছে।’
ভবনের স্থাপত্যশৈলী ও নির্মাণ-কুশলতা নিয়ে তিনি অনেক কথা লিখেছেন ‘এটা মনুষ্য-নির্মিত। সাথে আছে প্রকৃতির বৈচিত্র্য। ৮ নভেম্বর প্রাতে (লন্ডনে) শয্যা হইতে গাত্রোত্থান করিয়া দেখি, কি পথ, কি অট্টালিকা, কি উপবন, কি পাদপশ্রেণি সকলই তুষারে আবৃত। বোধ হইল যেন সকল পদার্থ রৌপ্যমণ্ডিত হইয়া রহিয়াছে।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘এক লন্ডন নগরের মধ্যে দরিদ্র্যশালায় প্রায় এক লক্ষ বিশ হাজার লোক প্রতিপালিত হইতেছে। তদতিরিক্ত অগণ্য অনাথ-নিবাস ও চিকিৎসালয় আছে। …এখানে জারজ ও অনাথ সন্তানগণের পালনার্থে একটি গৃহ আছে। আমি তথায় সর্বদায় গিয়া থাকি। এই দুঃখী সন্তানগণ মাতাকর্তৃক পরিত্যক্ত হওয়াতে তাহারা এখানে ভরণপোষণ ও শিক্ষাপ্রাপ্ত হয়।’
বিলেতে তাকে আকৃষ্ট করেছে মানুষের স্বাধীনতা। লন্ডনের মানুষের স্বাধীন জীবন দেখে তিনি স্পষ্ট করেই বলেছেন, ‘বঙ্গদেশে মানুষের স্বাধীনতা নাই’।
এই হচ্ছে দেড়শ বছর আগে বাঙালির চোখে লন্ডন।
অপর একজন বাঙালি পরিব্রাজক লন্ডনের আন্ডারগ্রাউন্ড অর্থাৎ মাটির তলায় সুড়ঙ্গপথে ভ্রমণে যেমন মুগ্ধ, তেমনি বিষ্মিত উপরের দৃশ্য দেখে। তার বয়ান, ‘ভূতল ছাড়িয়া নভোমণ্ডলের দিকে একবার দৃষ্টি নিক্ষেপ করি। দেখিতে পাই আকাশপথ তারজালে আচ্ছন্ন; টেলিগ্রাফ তারের ঠাসবুনানি মাকড়সার জালকে হার মানাইয়াছে।’
বলা আবশ্যক, উপরের দিকে তাকিয়ে বিজ্ঞাপনের বোর্ড দেখা যায়, কিন্তু তার দেখা যায় না, তারও বেছে নিয়েছে ভূগর্ভস্থ পথ। টেলিগ্রাফের যুগ শেষ হয়ে গেছে। তার-নির্ভর প্রযুক্তিও বাতিল হতে চলেছে।’

কারিকা ডেক্স


চলছে বর্ষা-মৌসুম। বৃষ্টির ছোঁয়া পেয়ে নগরীর ধুলিমাখা ধুসর গাছগুলোও নিজেদের ধুয়েমুছে সবুজে সাজাচ্ছে আর চারা-গাছগুলোও নতুন ডালপালা মেলতে শুরু করেছে। কারণ ঝুমবৃষ্টির এই বর্ষাই গাছের সুসময় আর গাছ লাগানোর উপযুক্ত সময়। ফলে এই বর্ষায় গাছ লাগিয়ে শহরে আমাদের বাড়ির ফাঁকা ছাদগুলোও ভরিয়ে তুলতে পারি সবুজে-সবুজে। পাশাপাশি ছাদের উন্মুক্ত জায়গাগুলো ফাঁকা না রেখে উৎপাদন করতে পারি বিভিন্ন শাক-সবজিও। তৈরি করতে পারি পরিবারের জন্য টাটকা ও বিষমুক্ত শাক-সবজি খাওয়ার একটা সুযোগ।
টব, ট্রে, পরিত্যক্ত বালতি, বস্তা, বোতল বা হাফ ড্রাম অথবা জিও ফেব্রিক ব্যাগ বা অন্য কোনো সুবিধামতো পাত্রে অথবা স্থায়ী বা অস্থায়ী বেড করে মাটির সঙ্গে প্রয়োজনীয় সার মিশিয়ে ছাদে শাক-সবজি চাষ করতে পারি। বর্ষাকালে ছাদে সহজেই শসা, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, কাকরোল, চালকুমড়া, বেগুন, বরবটি, ঢেঁড়শ, পুইশাক, লালশাক, ডাঁটা, পাটশাক, গিলকলমি, করলা ইত্যাদি চাষ করা যায়। ছাদে সবজি চাষ করার আগে ভাবতে হবে যে কোথায় কোথায় সারাদিন রোদ পড়ে, কোথায় বা কোন অংশজুড়ে পাশের বিল্ডিংয়ের ছায়া পড়ে। সে অনুযায়ী কোন অংশে কোন সবজি লাগানো যায় তার পরিকল্পনা করতে হবে ও সে অনুযায়ী দরকারী জিনিসপত্র যোগাড় করতে হবে। এরপর ছাদের অবস্থান ও আকার অনুযায়ী একটি নকশা তৈরি করতে হবে। স্থায়ী বা অস্থায়ী বেডে স্বল্প খরচে শাক-সবজি চাষ করতে চাইলে কিছু বিশেষ পদ্ধতি ও পর্যায় অনুসরণ করতে হবে। যেহেতু একটি বেড বেশ বড় হয় এবং সহজে স্থান পরিবর্তন করা যায় না, তাই এটি স্থাপনের আগে ভালোভাবে দেখে-বুঝে স্থাপন করতে হবে। বেডটি একটি কাঠামোর ওপর মূল ছাদ থেকে ৬ থেকে ৮ ইঞ্চি উঁচু করতে হয়। কাঠামোটি কাঠের খুঁটি বা কাঠের ফ্রেম অথবা ইট বা লোহার ফ্রেমের ওপর স্থাপন করতে হয়। জিআই পাতের বড় ট্রে ও বেড তৈরিতে ব্যবহার করা যায়। এমনকি ফেলে দেয়া বাথটাবেও সবজির বেড তৈরি করা যায়।
প্রথমে বেড তৈরির কাঠামোর জন্য কী কী জিনিস লাগবে তার হিসাব বের করুন। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করুন। কী ধরনের উপকরণ ব্যবহার করা হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এই কাঠামো হালকা যেকোনো কিছু দিয়েই করা যেতে পারে, যা কাঠামোর ভেতরে আলগা মাটিকে ধরে রাখে এবং ওজনে কম হয়। চেরাই কাঠের তক্তা বা প্লাস্টিকের উড ব্যবহার করে বেডের চারপাশের কাঠামো তৈরি করা সহজ। নিচে তক্তা বা টিনও ব্যবহার করা যেতে পারে, যার ওপর পলিথিন বিছিয়ে দেয়া ভালো। এতে বেডে সেচ দেয়া পানিতে তক্তা বা টিন নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে না। তবে ছাদ ড্যাম-প্রুফ বা ওয়াটার-প্রুফ করে নিলে ছাদের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে না বললেই চলে।
তবে বেডের কাঠামোটি স্থায়ী হিসেবে ইট বা কংক্রিট দিয়ে করতে চাইলে ছাদ ড্যাম-প্রুফ করে তৈরি করতে হবে। তা না-হলে বাতাস চলাচল সহজ হয় না এবং ছাদ আর্দ্র বা স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে পড়ে। স্থায়ী বা অস্থা যে ধরনের বেড হোক-না কেন, অর্ধেক মটি ও অর্ধেক কম্পোস্ট দিয়ে ভরতে হয়। কম্পোস্ট না থাকলে মাটির তিন ভাগের এক ভাগ গোবর দিতে হবে। যে সবজিই লাগাবেন, সেগুলো সারি করে লাগানো ভালো। তাতে ছাদের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়।

কারিকা ডেক্স


সবুজ ভবনের ধারণা শুরুতে যতটা মনে করা হয়েছিল, তারচেয়ে বেশি দ্রুততার সঙ্গে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। একেকটা ভবন যেমন মানুষের কাজের জন্য নির্মিত হয়, একইভাবে এটা অবসর আর বিনোদনের কাজেও আসে। দালান-কোঠাকে এড়িয়ে চলা আধুনিক এই নগর জীবনে সম্ভব নয়। যুগের চাহিদা থাকার কারণে ইট-কাঠ-পাথরের ভবনই এখন পরিবেশ রক্ষায় রাখছে ভূমিকা।

কিন্তু পৃথিবীর মোট ব্যবহৃত শক্তির ৪০ শতাংশ এই ভবনগুলোর পেছনে ব্যয় হয়। মোট কার্বন নিঃসরণের ৪০ শতাংশও আসে এসব ভবন থেকে। তাই সম্প্রতি এক হাজার পরিবেশবান্ধব মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে ইন্দোনেশিয়ায়। রেকর্ডসংখ্যক কোম্পানি একত্রিত হয়েছে সারা বিশ্বে অতিমাত্রায় ব্যবহারের কারণে বালির যে সংকট তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করতে।

টেকসই উন্নয়নের পথে হাঁটছে রেকর্ডসংখ্যক রিয়েল স্টেট ফার্ম
রেকর্ডসংখ্যক রিয়েল স্টেট কোম্পানি আগ্রহ প্রকাশ করেছে সবুজ প্রকল্প নিয়ে কাজ করতে এবং তাদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে সামাজিক সেবার মান। শক্তির ব্যবহার, বর্জ্য-ব্যবস্থাপনা ও সেটার পুনর্ব্যবহার, পানির ব্যবহার সবকিছুতে আধুনিকায়নের কারণে এসবের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক টেকসই রিয়েল স্টেট বেঞ্চমার্ক জরিপে। এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের ১২৪টি কোম্পানি নিজেদের পরিবেশবান্ধব টেকসই উন্নয়নে অংশীদার হয়েছে। এর অর্ধেকের বেশি কোম্পানি এসেছে অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ড থেকেও।

৩.৪ ট্রিলিয়ন ডলারের সুযোগ
দ্রুতগতিতে নগরায়ণের কারণে বর্তমানের চেয়ে ভবনের সংখ্যা ২০১৫ সালে ২৫ শতাংশ বাড়বে। ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশনের জরিপ বলছে, একই সময় সবুজ ভবন নির্মাণে বিনিয়োগ বেড়ে দাঁড়াবে ৩.৪ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত। ফিলিপাইনের আইএফসি কান্ট্রি ম্যানেজার ইউয়ান জু বলেন, ‘সবুজ ভবনের যে বাজার সেখানে আলোড়ন তুলতে পারলে এই খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ আরো বাড়বে।’

 

biophilia-1024x683

ভালো মানের নির্মাণের জন্য ভালো মানের উপকরণ
আগেকার সেই মাটির ঘরের যুগে ফিরে যাওয়া গেলে সেটাই পরিবেশের জন্য সবচেয়ে বেশি ভালো হতো। হতো আর্থিকভাবেও অনেক সাশ্রয়ী। সম্প্রতি শ্রীলংকার এক গবেষণা বলছে এমন কথা। এমআইটির গবেষকরা কংক্রিটকে কীভাবে আরও পরিবেশবান্ধব করে তোলা যায়, সেটা নিয়ে কাজ করছেন। টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানের বাজারও দিন দিন বেড়েই চলেছে। ২০২৬ সাল নাগাদ এটা উঠতে পারে ১২৭ বিলিয়ন ইউএস ডলার পর্যন্ত!
অবশ্য এতকিছুর পরও ভবন নির্মাণে সেই বালুর চাহিদা কিন্তু কমছে না মোটেও। এ ব্যাপারটা পরিবেশকে আরো বেশি হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

সবুজ ভবনের চেয়েও বেশিকিছু
কেবল সবুজ ভবন নির্মাণ করেই কার্বনের পরিমাণ যতটা কমানো দরকার, ততটা সম্ভব নয়। অন্তত জার্মান পরিবেশ প্রকৌশল ফার্ম ট্রান্সসোলারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক থমাস অর তেমনটাই মনে করেন। গেল বছর হংকংয়ে ওয়ার্ল্ড সাসটেইনেবল এনভায়রনমেন্ট কনফারেন্সে ইকো-বিজনেসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় না এই প্রযুক্তি আমাদের যেখানে পৌঁছানো দরকার, সেখানে পৌঁছে দিতে পারবে। তবে এটাও সত্যি, পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এই সবুজ ভবনের ধারণা। কিন্তু একই সঙ্গে আমাদের আচরণেও পরিবর্তন আনতে হবে। তাহলেই লক্ষ্য অর্জিত হবে।’

পরিবেশবান্ধব মসজিদ
মুসলমানদের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হিসেবে এক হাজার পরিবেশবান্ধব মসজিদ নির্মিত হচ্ছে ইন্দোনেশিয়ায়। দেশটির শীর্ষ ধর্মীয় সংগঠন ইন্দোনেশিয়ান উলেমা কাউন্সিলের (এনইউআই) উদ্যোগে নির্মিতব্য এসব মসজিদে ব্যবহার করা হবে নবায়নযোগ্য শক্তি। পানির যাতে সর্বোচ্চ সাশ্রয় করা যায় থাকবে সে ব্যবস্থা। থাকছে উন্নত বর্জ্য-ব্যবস্থাপনাও। একই সঙ্গে এই মসজিদগুলো হবে পরিবেশ-সংক্রান্ত শিক্ষার কেন্দ্র।
এমইউআইয়ের এক মুখপাত্র বলেন, ‘ইন্দোনেশিয়ার মুসলিমরা সরকারের চেয়ে এই ধর্মীয় সংগঠনের সিদ্ধান্তকে বেশি মানেন। তাই তাদের এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে দেশের জনপ্রিয় প্রজেক্ট হতে যাচ্ছে।’

মুস্তাফা খালিদ পলাশ


স্থাপত্যের সঙ্গে কেটে যাচ্ছে দীর্ঘদিন। ১৯৮১ সালে বুয়েটে ভর্তি হয়েছি। শুরুতে স্থাপত্যকে একভাবে দেখেছি, শিক্ষাজীবনে আরেকভাবে, পেশাগত জীবনে অন্যভাবে। এখন তিন দশকেরও বেশি সময় পর এসে যদি প্রিয় স্থাপনার কথা বলি, তাহলে এক কথায় বলব সংসদ ভবন।
আমার মনে হয় বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের প্রত্যেকেরই প্রিয় স্থাপনা সংসদ ভবন। এমনকি ১৯৬১-৮২ সালে লুই আই কানের ডিজাইনে তৈরি আমাদের এ সংসদ ভবনটি বিশ্ব দরবারেও প্রিয়। কারণ স্থাপত্য বলতে কেবল একটি ভবনকে বোঝায় না, শিল্পকেও বোঝায়। কিন্তু সব স্থাপত্য শিল্পের পর্যায়ে পৌঁছতে পারে না। সব ভবন কবিতার মতো হয় না। মানে, গদ্য খুব সহজ একটি জিনিস। এটা ভেঙে বলা যায়। কিন্তু কবিতা তা নয়। একটা মোটা বইয়ের উপন্যসের মাধ্যমে যতটা-না বলা যায়, অনেক সময় একটা কবিতায় তার থেকে বেশি বলা সম্ভব। কবিতা আমার কাছে পেইন্টিংয়ের মতো। একটি পেইন্টিংয়ের মাধ্যমে যেমন অনেক কিছু বোঝানো যায়, তেমনি স্থাপত্যেরও কিছু বিশেষ দিক রয়েছে। এটা হলো ব্যবহারিক শিল্প। স্থাপত্য হলো একটা স্থানু বা সেডেন্টারি শিল্প-মাধ্যম। স্থাপত্যে যখন ব্যবহারের বিষয় চলে আসে, তখন তা কতটা শিল্প আর কতটা ব্যবহারিক সে বিষয়ে তুল্য জলাংকে মাপার বিষয়ও চলে আসে।

সংসদ ভবন এসবের মাত্রা অতিক্রম করেছে। এটিকে আমরা স্কাল্পচার বলতে পারি, কবিতা বলতে পারি এমনকি অ্যাবস্ট্রাক্ট পেইন্টিংও বলতে পারি। অ্যাবস্ট্রাক্ট পেইন্টিং বলছি, কারণ আমরা যে রিয়েলিস্টিক পেইন্টিং করি, তা অনেকটা ভেঙে ভেঙে গদ্যের মতোই করি। সেখানে বলে দেয়া থাকে এটা গাছ, এটা নদী, এটা নালা ইত্যাদি। কিন্তু অ্যাবস্ট্রাক্ট পেইন্টিংয়ে বিমূর্ততা আছে। বিমূর্ততা হলো এমন জিনিস, যেখানে একেকজন দর্শক ছবিটি দেখে নিজের মতোই অনুধাবন করে। সেই অর্থে সংসদ ভবন শিল্পমান অর্জন করেছে। বিশ্বব্যাপী তার সমাদরও অনেক বেশি।
দ্বিতীয়ত, আমাদের স্থাপত্যের ধারাবাহিকতা বা ঐতিহ্য কিন্তু খুব প্রাচীন নয়। আমরা কিন্তু নগর-সভ্যতায় অভ্যস্ত জাতি নই। আমরা কৃষক জাতি। মাটির ঘর, বেড়ার ঘর এগুলোই আমাদের ছিল। আমাদের স্থাপত্যের আধুনিক ধারার মূল সূত্রপাত হয়েছে সংসদ ভবন থেকে। লুই আই কান একজন বিদেশি স্থপতি হয়েও আমাদের জলবায়ু, আমাদের ম্যাটেরিয়ালকে কনসিডার করেছেন। তিনি আমাদের এ আবহাওয়ার জন্য অত্যন্ত নতুন, রেজিলিয়ান, ডিউরেবল ও সাসটেইনেবল ম্যাটেরিয়াল উপহার দিয়ে গেছেন, যা আমরা এখন ব্যবহার করছি। সংসদ ভবনে খুব সহজ ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করা হয়েছে। এটির অনেক অ্যান্সিলারি স্ট্রাকচার আছে। যদি বলি একটা মালার কথা, তাহলে লকেট অর্থাৎ মূল ভবন নিরেট কংক্রিটের তৈরি। সেই সময়ে ওই ধরনের একটা স্থাপনা চিন্তা করা, নির্মাণ করা বা সেটা ধারণ করা বেশ কষ্টসাধ্য ছিল। ধরুন আমি অনেক কিছু করলাম কিন্তু যে গ্রাহক, গ্রাহক বলতে আমি এ জাতিকে বোঝাচ্ছি, আমাদের সেটাকে ধারণ করতে প্রথমদিকে কিছুটা কষ্ট হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যখন আমাদের ইন্টেলেকচুয়াল অ্যাবিলিটি বেড়েছে, আমরা স্বাধীন জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছি, তখন আমরা মনে করেছি, এ কংক্রিটের সংসদ ভবন আমাদের নতুন স্থাপত্যের সূচনা। পুনঃসূচনাও বলা যেতে পারে। আমি আগেই বলেছি, আমাদের তো আসলে সেরকমভাবে নগর স্থাপত্য ছিল না। এখান থেকেই সূচনা বা পুনঃসূচনা হয়েছে।

s-01

সংসদ ভবন

স্থপতি মাজহারুল ইসলাম এবং স্থপতি লুই আই কানের মাধ্যমেই আমাদের আধুনিক স্থাপত্যের সূচনা বা সূত্রপাত হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় আমরা এখনো কাজ করে যাচ্ছি। তবে মাঝে কিছুটা বিঘ্নিত হয়েছে। আগেই বলেছি, আমরা ছিলাম কৃষক জনগোষ্ঠী। আর ধনাঢ্য জনগোষ্ঠী ছিল হিন্দু। হিন্দুদের যে জমিদার বাড়ি ছিল সেগুলোর নকশা তারা বাইরে থেকে করে নিয়ে আসত। এরপর আমরা যখন বড়লোক হলাম তখন বিপদটা ঘটল। আশির দশকে এসে আমরা বিপদটা অনুভব করলাম। তখন নব্য বড়লোকেরা সংসদ ভবনকে পাশ কাটিয়ে নতুন ধারা তৈরি করার চেষ্টা করল। ভিক্টোরিয়ান স্টাইল। বড়লোকরা ভাবত আমিও জমিদারদের মতো একটা বাড়ি বানাব, যেখানে আমার গ্রামের লোকেরা এসে স্যান্ডেল খুলে ভেতরে প্রবেশ করবে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, নব্বইয়ের দিকে এসে এ ধারা উবে যেতে থাকল। আবার সেই পিওরিটিতে আমরা ফিরে আসতে থাকলাম। পিওরিটি বলতে বোঝাচ্ছি কসমেটিক ছাড়া। যেমন সংসদ ভবনে কোনো কসমেটিকের কাজ নেই। অর্থাৎ ওটা যে ম্যাটেরিয়াল দিয়ে তৈরি, সেটারই প্রতিফলন দিচ্ছে।
আমরা অনেকেই মনে করি আমাদের স্থাপত্যের মূল উৎস কী হবে। এটা নিয়ে অনেক দ্বন্দ্ব আছে। আমার মতে, আমাদের স্থাপত্যের উৎস হচ্ছে স্বচ্ছতা। আমি মানবিক অর্থে স্বচ্ছতার কথা বলছি, কাচের স্বচ্ছতা না। অর্থাৎ আমি যা, তা-ই। আমরা নব্য বড়লোকের কথা বলতে পারি। যেমন সিঙ্গাপুর। সিঙ্গাপুরের নব্য বড়লোকেরা ছিল মূলত জেলে-গোষ্ঠী। চায়নার নিন্মবর্ণের চাইনিজরা একসময় সিঙ্গাপুরে থাকত। এরপর মালয়েশিয়া যখন সিঙ্গাপুর থেকে আলাদা হয়ে গেল, তখন সিঙ্গাপুরের ওই চাইনিজরা টাই পরে ফিটফাট বাবু হয়ে গেল। আবার মালয়েশিয়াতে গেলে আপনি অরিজিনাল কিছু চাইনিজের দেখা পাবেন। তারা কিন্তু টি-শার্ট পরেই দিব্যি অফিস করছে। যারা মাটির থেকে তৈরি হয়, তারা কিন্তু ওইসব বেশভূষা প্রাধান্য দেয় না। বেশভূষা তারাই প্রাধান্য দেয়, যারা মেকি।

স্থাপত্যে মেকি বিষয়ে আমরা বিশ্বাস করি না। গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, মাজহারুল ইসলামবা সংসদ ভবন থেকে উৎসরিত বিষয়গুলোর ভালো জিনিসগুলো নিয়েই আজ আমরা স্থাপত্যচর্চা করছি। প্রত্যেক স্থপতি এখন কয়েকটি বিষয় নিয়ে খুব সচেতন। কারণ স্থাপত্যের তো অনেক ভাষা থাকে, যেমন ইন্টারন্যাশনাল স্টাইল, রিজিওনাল, ডি-কনস্ট্রাকডিভ ইজম ইত্যাদি থেকে বেছে আমরা কিন্তু আমাদের একটা নিরেট স্থাপত্যধারা বের করতে পেরেছি। যেখানে পাশ্চাত্যের সঙ্গে আমাদের ভাবধারা, আমাদেরর ভ্যালুজ, মূল্যবোধ ইত্যাদির সংমিশ্রণ হয়েছে। এর মধ্যে কিছু কিছু এক্সপেরিমেন্ট হচ্ছে, যেমন আমরা যারা শহরে কাজ করছি তারা এক ধরনের কাজ করছি, কেউ কেউ রি-সাইকেল ম্যাটেরিয়াল নিয়ে কাজ করছে। কেউ গ্রামীণভাবে কাজ করার চেষ্টা করছে। গ্রামীণ স্টাইল নিয়ে কাজ করা যেতেই পারে। তবে ভবন যদি ২০তলা হয়, সেখানে এ স্টাইল সম্ভব না। কারণ এত বড় ভবন বাঁশ, বেত কিংবা মাটি দিয়ে নির্মাণ করা সম্ভব না। মাটি দিয়ে রিসোর্ট করা যেতে পারে।

আমাদের স্থপতিরা এখন খুব ভালো ভালো কাজ করছে। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশ থেকেও পুরস্কার পাচ্ছে। আমি মনে করি, একটি দেশের আর্কিটেকচার-চর্চার যদি এক শতাংশকেও আপনি শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারেন, তাহলেই সেটাকে সার্থক বলা যায়। বর্তমানে আমরা সেই অবস্থাতেই আছি।
লুই আই কানকে মাস্টারপ্ল্যানের জন্য দেয়া হয়েছিল ২০০ একর জমি। কিন্তু তিনি কাজ করেছিলেন ৬০০ একর জমির ওপর। সত্যি বলতে কি, যেকোনো ভালো কাজ ধরে রাখাই কঠিন, যদি সামগ্রিক চাপ থাকে। আমাদের সবচেয়ে বড় চাপ হচ্ছে, আমদের জনসংখ্যার চাপ। এ চাপেই ঢাকা শহরের যেখানে একতলা, দুইতলা ভবন ছিল সেখানে বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে। প্রয়োজন থেকেই এটা উৎসরিত হচ্ছে। এত চাপের মধ্যেও আমরা আর্কিটেকচারকে জলাঞ্জলি দিচ্ছি না। যেমন সংসদ ভবনে অনেক পরিবর্তন এসেছে। আসলে নিরাপত্তার পরিপ্রেক্ষিত পরিবর্তন হয়েছে। সংসদ ভবনে যেন দেয়াল তুলে দেয়া না হয়, এজন্য আমরা স্থপতিরা নিষেধ করেছি। কিন্তু নিরাপত্তার কিছু অঙ্ক আছে। সে অঙ্কও আপনাকে বুঝতে হবে। কারণ একজন মানুষ যতটাই আবেগ দিয়ে তাড়িত হোক না কেন, মনে রাখতে হবে নিরাপত্তার অঙ্ক, সেটা কেবলই অঙ্ক। সেটা কবিতা নয়, একটা নিরেট বিজ্ঞান। সেই বিজ্ঞানে তাদের মনে হয়েছে তাদের সেটা ঢাকতে হবে। দেয়াল সবসময় দূরত্ব তৈরি করে। তাই আমরা আন্দোলন করে যতটা পারা যায় নিরেট না করে পারফোরেটেড করাতে পেরেছি। ভেতরেও অনেক পরিবর্তন হয়েছে। তবে আমাদের জন্য আশার কথা হচ্ছে, বর্তমান সরকার সংসদ ভবনকে আগের চেহারায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে। সেই অনুসারে কাজও শুরু হয়েছে। যেমন সংসদ ভবনের নির্মাণের অনেক বছর কেটে গেলেও তার ফার্মেও কিছু ফি বাকি ছিল, এ সরকার তার এক্সপার্ট টিম পাঠিয়ে ফি পরিশোধ করে সব ড্রইং নিয়ে এসেছে। সেই ড্রইং অনুসারেই কাজ হবে। সংসদ ভবনকে ফিরিয়ে নেয়া হবে তার অরিজিনাল চেহারায়। আর এ কাজ বাস্তবায়নের জন্য অনেক ভবন ভেঙে ফেলা হবে। জিয়াউর রহমানের কবর সরিয়ে ফেলা হবে। মনে রাখতে হবে, এটা একটা বিশ্ব ঐতিহ্য। ইউনেস্কোর মতো একটা প্রতিষ্ঠান যখন বুঝতে পেরেছে, এটা কেবল ঐতিহ্যই নয় বরং এটি থেকে অনেক কিছুই আহরণ করা সম্ভব, তখনই তারা এটাকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করে।

s-02

সংসদ ভবন

সংসদ ভবন কোনো মসজিদ বা মন্দির নয়। এটা এমন একটা জায়গা, যেখান থেকে বাঙালি জাতি পরিচালিত হয়। সেই হিসেবে এটা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং সৌভাগ্যবশত পৃথিবীর অন্যতম ভালো স্থাপত্য। কারণ স্থাপত্য হলো এমন যেন একে ব্যবহার করা যায়। পিরামিড বা তাজমহলকে স্থাপত্য বলা যাবে না, সেগুলো স্কাল্পচার। পিরামিডও একটা স্কাল্পচার কারণ সেখানে একজন মানুষকে কবর দেয়া হয়েছে। সেখানে ভেতরে প্রবেশ করা যায় না। বাইরে থেকে কেবল দেখতে হয়। আমার কাছে তাজমহলও তাই। তাজমহলের শৈল্পিক-মূল্য থাকতে পারে কিন্তু কোনো স্থাপত্য-মূল্য নেই।
যদি মাজহারুল ইসলাম প্রসঙ্গে বলি, তাহলে বলব তিনি মনে হয় স্থপতি হওয়ার জন্যই জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি নিয়েছেন, ব্যাচেলর ডিগ্রি নিয়েছেন। এরপর ইয়েলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আর্কিটেকচার ডিগ্রি শেষ করে দেশে ফিরে আসেন। আসলে তিনি না থাকলে হয়তো আমরা লুই আই কানকেও পেতাম না। কারণ প্রথমে তাকেই সংসদ ভবনের কাজ করার জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি তখন আলবার আল্টো এবং লিকরবুশিওর এই দুজনের নাম প্রপোজ করেন। দেশভাগের পর যখন পাঞ্জাবকে দুই ভাগ করা হলো, পাঞ্জাবের রাজধানী লাহোর পড়ে গেল পাকিস্তানের দিকে। এরপর চন্দ্রীগড়কে যখন নতুন করে রাজধানী করা হলো, তখন চন্দ্রীগড়ের রাজধানীর মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে লিকরবুশিওর ব্যস্ত ছিলেন। অন্যদিকে আলবার আল্টো ছিলেন অসুস্থ। তখন লুই আই কানের বয়স ছিল পঞ্চান্নর মতো। মাজহারুল ইসলামের স্থাপত্যও আমাদের জন্য অনুকরণীয়। কারণ তারা একই গোষ্ঠীর। মাজহারুল ইসলামের কাজের সঙ্গে লিকরবুশিওরের কাজগুলো মেলে। কিন্তু সেদিক থেকে অনেকটাই আলাদা লুই আই কানের এ কাজ অর্থাৎ আমাদের গর্বের সংসদ ভবন।

আবুল হোসেন আসাদ


গনগনে সূর্যটা ঠিক মাথার ওপরে। তপ্ত লাল বালিতে ঢাকা মরুভূমির বুক। থেমে থেমে যেন মরুভূমির লাল বালির বুক থেকে গরম ভাপ বেরোচ্ছে। তাই ধোঁয়াশার মতো আবরণে ঢাকা চারদিক। গরমে চোখের পাতা মেলা দায়। এরই মাঝে হঠাৎই বইছে লু হাওয়া। সূক্ষ্ ঝরঝরে লাল বালিতে ঢেকে যাচ্ছে চোখ-মুখ-শরীর। বাড়তি জ্বালা হয়ে তেড়ে আসে ভনভন করা মরুভূমির বড় বড় মাছি। এমনিতে বেজায় গরম, তার ওপর ভরদুপুর, এসেছি দেখতে ‘হারিয়ে যাওয়া শহর’ বা ‘আটলান্টিস অব দ্য স্যান্ডস’, যেটি রুবা আল খালি মরুভূমির বুকে। যেই শহরের নাম সেমেটিক ধর্ম বিশেষত ইহুদি, খ্রিস্টান ও মুসলিম ধর্মগ্রন্থগুলোতে ঘুরে-ফিরে এসেছে।
হারিয়ে যাওয়া শহরটি ‘উবার’ (UBAR), ওয়াবার (WUBAR) কিংবা ‘ইরাম’ (IRAM) নামে পরিচিত। মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কুরআনে আরবের হারিয়ে যাওয়া শহরটি ‘ইরাম’ নামে পাই। ইরাম শহরটি ওমানের দোফার প্রদেশে পড়েছে। ওমানের শেসর এলাকায় এ পরিত্যক্ত শহরের অবস্থান। রাজধানী মাস্কাট থেকে ইরাম বা উবার শহরের দূরত্ব ৯০০ কিলোমিটার। আর বন্দরনগরী সালালাহ থেকে এর দূরত্ব ১৭০ কিমি, উত্তরদিকে। যাওয়ার পথে মাঝে পড়ে মরু শহর তামরিদ। ‘ইরাম অব দ্য পিলার’ শহরটি ছিল সহস্র পিলারের এক সুরক্ষিত নগরী। উঁচু উঁচু পিলার দিয়ে কোনো শহর হতে পারে এটা তখন কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। সেই শহরটি ছিল তখনকার সবচেয়ে চাকচিক্যময় ও আধুনিক শহর। ধর্মগ্রন্থগুলো বলছে, সেই শহরের মতো শক্তিশালী বাড়ি-ঘর এর আগে কেউ কখনো দেখেনি বা নির্মাণ করেনি। সুরা আল ফজরের ৬, ৭ ও ৮ নম্বর আয়াতে ‘ইরাম’ শহরের কথা বলা হয়েছে। এখানে স্বয়ং আল্লাহ তার শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে ‘আদ’ বংশের শৌর্য-বীর্য সম্পর্কে বলেছেন। ইরাম শহরটি তৈরি হয়েছিল উঁচু উঁচু পিলার দিয়ে। এসব পিলারের এই সুরক্ষিত শহরটিতে বসবাস করত জ্ঞান-বিজ্ঞানে উন্নত ‘আদ’ জাতি। আদ সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা জোরদার করেছিল সুউচ্চ এই পিলার। ইরাম নগরীর কল্পিত ছবিই যেন সে কথা বলে। ইরামের সুউচ্চ পিলার আদ’দের নিরাপত্তা দিত বলে সেই উঁচু পিলারের পূজা করত তাদের কেউ কেউ। আর বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজা তো নিয়মিত ছিলই আদদের। আদ সম্প্রদায়কে সুপথে আনার জন্য নবী হুদ (আ.)-কে প্রেরণ করা হয়। তিনি আদ সম্প্রদায়কে দ্বীনের দাওয়াত দেন। কুরআন শরিফে সুরা হা-মীম সাজদাহ’র বিভিন্ন আয়াতের বরাতে এ কথা জানা যায়। কিন্তু আদ সম্প্রদায়ের অধিকাংশ লোক যুগের থেকে কয়েক কদম এগিয়ে থাকার গর্বে নবী হুদ (আ.)-কে তাচ্ছিল্যের সঙ্গে বিদায় করে। তাদের কেউ কেউ আবার নবীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় আমাদের চেয়ে বড় শক্তিধর এ পৃথিবীতে আর কে আছে?
ফলে প্রাথমিক ‘গজব’ হিসেবে উপর্যুপরি তিন বছর শহরে বৃষ্টি বন্ধ থাকে। তাদের শস্যক্ষেত শুকিয়ে বালিময় মরুভূমিতে পরিণত হয়। বাগবাগিচা জ্বলে-পুড়ে ছারখার হয়ে যায় এবং সবশেষে নেমে আসে ভয়াবহ ‘আজাব’।
সূরা হা-ক্বক্বাহ ৭-৮ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, ‘তাদের মানে আদ সম্প্রদায়ের ওপর প্রচন্ড ঝড়ের বাতাস বয়েছিল টানা সাত রাত ও আট দিন। হে মুহাম্মাদ! তুমি থাকলে দেখতে পেতে, তারা অসার খেজুরগাছের কান্ডের মতো মাটিতে পড়ে রয়েছে। তুমি এখন তাদের কোনো অস্তিত্ব দেখতে পাও কি?’
কুরআন শরিফ অনুসারে এভাবেই আদ সম্প্রদায় ও তাদের শহর ইরাম বা উবার বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং চিরতরে বালিতে চাপা পড়ে যায়। হারিয়ে যায় কালের গর্ভে। আর নবী হুদ (আ.)-এর কবর অটুট থাকে সালালাহর একটি পাহাড়ে। যেটি এখনো রয়ে গেছে যুগের পর যুগ, কালের করাল গ্রাস উপেক্ষা করে।
হাজার বছরের পুরনো শহর ইরাম, যা দীর্ঘকাল লুকিয়ে ছিল বিস্মৃতির অতলে, মরুভূমির বালির নিচে। তা অবশেষে ১৯৯২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে খুঁজে পাওয়া যায় ওমানের শিসর (SHISR) এলাকায়। ‘দ্য লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এটি আবিষ্কারের কথা। প্রত্নতত্ত্ববিদ নিকোলাস ক্লাপের উদ্যোগে প্রাচীন মানচিত্র ঘেঁটে এবং মার্কিন গবেষণাকেন্দ্র ‘নাসা’র স্যাটেলাইটের সাহায্যে খুঁজে পাওয়া যায় ‘রুবা-আল খালি’ মরুভূমির ১২ মিটার বালির নিচে লুকিয়ে থাকা ‘ইরাম’ বা ‘উবার’ শহরকে। কুরআনের হারিয়ে যাওয়া শহর ইরামের আবিষ্কার বিশ্ববাসীকে অবাক করে দেয়। ওমান সরকার খনন করে এই আবিষ্কারকে মানুষের সামনে হাজির করেছে। বর্তমানে ইরাম বা ওয়াবার আর্কিওলজিক্যাল সাইট ইউনেস্কো ঘোষিত একটি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট। তবে কিংবদন্তি হয়ে দাঁড়ায় ‘দ্য ইনসেন্স রোড’। প্রাচীন ধ্বংসাবশেষগুলো থেকে এ রাস্তাটির অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে এখানে।
কেউ কেউ বলেন, বাদশাহ শাদ্দাদ পৃথিবীর বুকে জান্নাত তৈরি করেছিলেন, যার নাম ছিল ‘ইরাম’ বা ‘আরাম’। সেই জান্নাত স্রষ্টার অভিশাপে বালির নিচে চিরতরে হারিয়ে গেছে। এটিই ছিল সেই জান্নাত। কারো কারো ধারণা, জান্নাতের এই প্রবেশদ্বারটি বিশাল এক পাথরচাপা পড়ে আছে। তবে অনেকেই মনে করেন বিশাল পাথরচাপা পড়া অংশটি হলো পানির কূপ। কারণ সহস্র পিলারের শহরটির গোড়াপত্তন করেছিল নূহ (আ.)-এর বংশধররা। মরুভূমির কাফেলাগুলোকে পানি সরবরাহ করে তারা ধনী হয়ে উঠেছিল। পানির সেই কূপটি এখন বিশাল এক পাথরচাপা পড়ে আছে। পাথরের একদিকে বর্তমানে সিঁড়ি তৈরি করা হয়েছে।
সিঁড়ি দিয়ে নিচের দিকে নামতে খুব ইচ্ছে হচ্ছিল আমার, ভরদুপুরে। নিচের দিকে নামছি আর বাতাসও কেমন যেন ধীরে ধীরে ভারী হচ্ছে। তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। শ্বাস নিতে বেশ কষ্ট হচ্ছে। তার ওপর অজানা-অচেনা অন্য ধরনের এক বিশ্রী গন্ধ নাকে এসে লাগল। যতই পাথর কেটে বানানো সিঁড়ি দিয়ে নিচের দিকে নামছি, ততই গন্ধের তীব্রতা বাড়ছে। ভেতরের দিকে ভীষণ ঘুটঘুটে অন্ধকার আর পোকামাকড়ের শব্দ। অক্সিজেনের ঘাটতিও প্রচুর। উৎকট গন্ধে মাথার মগজ যেন গুলিয়ে আসতে চাইল, বমি এসে গেল প্রায়। কোনোরকমে দৌড়ে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে এলাম।
দোফার পাহাড়ে এখনো কিছু আরব বেদুঈনের গোত্র আছে, যারা নিজেদের উবারের রাজার বংশধর হিসেবে দাবি করে এবং তারা আরবের সবচেয়ে প্রাচীন উচ্চারণে কথা বলে থাকে। তাছাড়া নবী হুদ (আ.)-এর কবর, পারিপার্শ্বিক প্রমাণাদি, প্রাপ্ত নিদর্শনাদি নিশ্চিত করে ‘রুবা আল খালি’ মরুভূমিতে খুঁজে পাওয়া এই প্রত্নতাত্ত্বিক শহরই উবার বা ইরাম।
একসময় জীবনের কোলাহলে মুখর ছিল যে শহরটি, জ্ঞান-বিজ্ঞানে ছিল উন্নত সেই শহর আজ মৃত। হারিয়ে গেছে চিরতরে। সেখানে পোকামাকড় ছাড়া জীবনের কোনো স্পন্দন নেই। ১২ মিটার বালির নিচে চাপা পড়ে আছে আরবের সেই সময়ের সবচেয়ে চাকচিক্যময় ও আধুনিক শহর। সহস্র পিলারের শহর আজ হাজার বছরের সুদূর অতীত। সেই অতীতের কথাগুলো যেন আজো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ইরামের ধ্বংসস্তূপের পাথর ও বালির পরতে পরতে।

 

কামরুজ্জামান কাজল


‘আজি ঝরঝর মুখর বাদর দিনে…’ বর্ষার রিমঝিমের সঙ্গে সঙ্গে অজান্তেই গেয়ে ওঠে মন। বর্ষা আবেগের ঋতু। নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলার ঋতু। সেই সঙ্গে টুকটাক নাগরিক ভোগান্তিরও ঋতু। বর্ষায় রাস্তাঘাট পানিতে যেমন জনজীবন বিপর্যস্ত করে তোলে, তেমনি ঘরের ভেতর আছে পোকামাকড়ের ঘরবসতি। আলমারির কাপড় থেকে ভ্যাপসা গন্ধের ভোগান্তি। যারা একটু পরিপাটি থাকতে পছন্দ করেন ঘরের মাঝে, তাদের জন্য বাড়তি বিড়ম্বনা যোগ হয় এ মাসটাতে। তবে ইচ্ছায় কী না হয়। একটুখানি ইচ্ছা এবং কৌশলী হতে পারলেই এ বর্ষায় আপনার ঘরবাড়িও থাকবে পরিপাটি। মনের মতো। আর তার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন ফারজানা’স ব্লিজ এর স্বত্বাধিকারী ফারজানা গাজী। তিনি জানান, আসবাব সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হলে আর ঘরের মধ্যে আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করা গেলে এ মৌসুমেও ঘর থাকবে সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর।

দেয়ালে বর্ষার ছাপ
বৃষ্টি এলেই ঘরের জানালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। তবে এরই মধ্যে বৃষ্টির ছাঁট এলে ভিজে যেতে পারে জানালায় ঝোলানো পর্দাগুলো। তাই এ সময় এমন কাপড়ের পর্দা ব্যবহার করা উচিত, যেন তা ভিজে গেলেও সহজেই শুকিয়ে যায়। কারণ দীর্ঘক্ষণ পর্দা ভেজা থাকলে পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়তে পারে সোঁদা গন্ধ। পলিয়েস্টার, রেশম বা পাতলা সুতির কাপড়ে তৈরি পর্দা এ সময়টার জন্য বেশ উপযোগী।
বৃষ্টি থেমে গেলে খুলে দিন জানালা, সরিয়ে দিন পর্দা। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রটাও বন্ধ থাক খানিকটা সময়। প্রাকৃতিক হাওয়া ঘরে এলে ঘরের গুমোট ভাবটা কেটে যাবে। ঘরের স্যাঁতসেঁতে ভাব এড়াতে হলে খেয়াল রাখুন, ঘরে কোনো ভেজা জিনিস যেন না থাকে। ভেজা জুতা, ভেজা মোজা বা ভেজা কাপড়, যেকোনোটির জন্যই ঘরে সোঁদা গন্ধ পাবেন আপনি। ঘরের ভেতরের দেয়াল বা মেঝে ভেজা অবস্থায় রাখবেন না। দেয়াল বা ছাদ থেকে বৃষ্টির পানি চুইয়ে পড়লে নির্মাণকর্মীদের দিয়ে দেয়াল বা ছাদের সমস্যাটি সারিয়ে নিন তাড়াতাড়ি।

যত্নেরর বই যত্নেই থাকুক
যত্ন করে গুছিয়ে রাখা বইগুলোতেও বর্ষার প্রভাব পড়তে পারে। সাধারণত যে বইগুলো একটু কম নাড়াচাড়া হয়, সেগুলো এ মৌসুমে স্যাঁতসেঁতে হয়ে পড়ে। শখ করে কেনা হোক বা প্রয়োজনীয় কোনো বই, মাঝেমধ্যেই সেগুলোকে বইয়ের তাক থেকে নামিয়ে শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে রাখুন। এতে বইগুলো ভালো থাকবে বহুদিন। এ ছাড়া বইয়ের তাকে শুকনো নিমপাতা রাখতে পারেন। কোনো বইয়ের পাতায় বা মলাটে স্যাঁতসেঁতে ভাব দেখা গেলে অপেক্ষা করুন রোদের জন্য। যেদিন খানিক রোদের দেখা মিলবে, সেদিন বইগুলোকে বারান্দায় রোদে রাখুন কিছুটা সময়ের জন্য।

খবর নেই কাপড়ের
আলমারি বা ওয়্যারড্রোব থেকে কাপড় বের করার পর অবশ্যই তা ভালোভাবে আটকে রাখতে হবে। কাঠের তৈরি আসবাবপত্র সঠিকভাবে লাগানো হলো কিনা, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখুন, কারণ এগুলো অনেক সময়ই সঠিকভাবে লাগাতে পারা যায় না। আসবাবপত্র সঠিকভাবে লাগানো না হলে ভেতরে থাকা কাপড়গুলো বাতাসের আর্দ্রতার কারণে স্যাঁতসেঁতে হয়ে পড়তে পারে।

ফুলে সুরভিত ঘর
হালকা ঘ্রাণযুক্ত ফুল ঘরে রাখা যেতে পারে। তাজা বেলি ফুলের একটা মালা ঘরে রেখে দেখুন, সতেজ হয়ে উঠবে ঘরের পরিবেশটা। সুগন্ধি অন্য কোনো ফুলও পানিতে ভিজিয়ে রাখতে পারেন। গন্ধরাজ ফুলের মতো যেসব ফুলের পাপড়ি একটু পুরু, সেগুলো বেশ কিছুদিন পানিতে ভিজিয়ে রাখা যায়। তবে ফুলদানি বা বোতলে পানি দিয়ে ফুল রাখলে অবশ্যই প্রতিদিন পানি পাল্টে দিতে হবে। ফুল সতেজ থাকা অবস্থায় যদি ফুলের ডাঁটার কোনো অংশ পচে যায়, তাহলে পচা অংশটুকু কেটে ফেলে দিন।
আপনার মন চনমনে রাখতে ঘরের রঙে পরিবর্তন এনে লাল, হলুদ অথবা পার্পল ও গাঢ় পার্পল ওয়েদারকোট লাগাতে পারেন। বাড়ির বাগানে একটা বড় রঙচঙা ছাতা লাগাতে পারেন, যা আপনার বৃষ্টি দিনগুলোকে আরো উপভোগ্য করবে।

গ্রীষ্মে রোদের উত্তাপ থেকে বাঁচতে ঘরে যে হালকা রঙের পর্দাগুলো লাগিয়েছিলেন, সেখানে বৃষ্টির দিনে উজ্জ্বল রঙের পর্দা লাগান। বর্ষায় এমনিতেই চারপাশ কেমন ফ্যাকাশে হয়ে যায়। তাই ঘরের উজ্জ্বল ভাব আপনাকে প্রাণবন্ত করবে।
ঘরের পরিবেশ সুন্দর রাখতে ঘরে নরম আলোর বাল্ব ব্যবহার করুন। যেমন হালকা নীল অথবা হালকা সবুজ।
আপনার বেডশিট ও বেডকভারে হালকা স্প্রে করুন, এতে আর্দ্রভাব কমবে।
বিছানা ও বালিশের কভার নরম কটনের ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। গোলাপি, লাল, সাদা ও হালকা সবুজ রঙের চাদর ব্যবহার করতে পারেন।

খালিদ জামিল


ভবিষ্যতের শহর কেমন হতে পারে সেটা কল্পনা করতেও অন্যরকম অনুভূতি হয়। পানির নিচে বাবলের মধ্যে বাড়ি কিংবা এমন একটা শহর যেটা আদিগন্ত সাগরের ওপর ভাসছে, অথবা পাতায় ভরা গাছের মতো দেখতে কোনো ভবন যেকোনো কিছুই হতে পারে ভবিষ্যৎ-শহরের বৈশিষ্ট্য। তবে এসবের জন্য শিল্পী, স্থপতি কিংবা সেইসব সৃষ্টিশীলকে ধন্যবাদ দিতেই হবে, যারা এমন সব ভবিষ্যৎ-নগর গড়ে তোলার জন্য ভাবছেন। গার্ডেন ফরেস্ট কিংবা নিজস্ব জীবম-ল নিয়ে গড়ে ওঠা শহরের ধারণা নিয়ে তাদের কল্পনা কেবল ড্রইংবোর্ডের মধ্যে আটকে নেই। চলছে সেগুলোর বাস্তব রূপ দেয়ার পরিকল্পনা। বিস্তারিত জানাচ্ছেন খালিদ জামিল

 

১. সিস্ট্যান্ডিং ইনস্টিটিউটের ভাসমান শহরঃ
ধারণা করুন একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ শহর পানির ওপর ভাসছে। সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তিও উৎপাদিত হচ্ছে এখানেই। এমন কিছুই হতে যাচ্ছে সিস্ট্যান্ডিং ইনস্টিটিউটের ফ্লোটিং সিটি প্রজেক্টে। এটা কোনো কল্পনার মধ্যে আর সীমাবদ্ধ নেই। কীভাবে নির্মাণ করা যায়, তার জন্য শুরু হয়েছে আলোচনা। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২০ সালের মধ্যে পৃথিবীর প্রথম ভাসমান শহর বাস্তবে দেখতে পারবে মানুষ।

1_fi_seasteadinginstitutefloatingcities

২. সাব-বায়োস্ফিয়ার-২ঃ
শহরের জনসংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তাতে কেবল ভাসমান শহরের ধারণা মানুষকে নিশ্চিন্ত করতে পারে না। তাই আরও আধুনিক একটা আইডিয়া আছে ইংরেজ উদ্ভাবক ফিল পলির কাছে। পলি বলছেন, সাব-বায়োস্ফিয়ার-২ নামে এমন একটি স্বয়ংসম্পূর্র্ণ শহর তৈরি করা সম্ভব, যেটা ভালো আবহাওয়ার পানির ওপর ভেসে থাকবে। আর আবহাওয়া বিরূপ হলে বড় ঢেউ থেকে বাঁচতে পানির নিচে চলে যাবে, অনেকটা বর্তমানের সাবমেরিনের মতো।

2_fi_sub-biosphere2

৩. প্যারিস স্মার্ট সিটি ২০৫০ঃ

বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে পরিচিত শহরগুলো ২০৫০ সালে কেমন হবে সেটা ধারণা করা অনেকের কাছেই মজার খেলা। আর শহরটা যদি হয় প্যারিস তাহলে তো কথাই নেই। বেলজিয়ান স্থপতি ক্যালেবাউট ঠিক এমন কিছুই করার চেষ্টা করেছেন। তিনি অবশ্য প্রত্যাশা করেছেন, প্যারিস সে-সময় সবুজ শহরে পরিণত হবে। নগরজুড়ে থাকবে ধোঁয়া আর কুয়াশা দূর করার জন্য বিশেষ টাওয়ার। ভবনগুলো এমনভাবে সাজানো, যাতে দূষণ রোধ করা যায়। সেগুলোর শরীরজুড়ে ঘটবে গাছের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া। লম্ব আকৃতির বাগানগুলোর নাম হতে পারে ‘ফার্মসক্র্যাপার্স’। সব মিলিয়ে একটা সবুজ শহর।

3_fi_parissmartcity2050
৪. বেইজিং ২০৫০ঃ
২০৫০ সালের বেইজিং কেমন হবে সেটা কল্পনা করার চেষ্টা করেছে স্থাপত্য-ফার্ম ম্যাড আর্কিটেক্টস। যদিও চীনের এই রাজধানী ক্রমেই দূষণের পরিমাণ বাড়িয়েই চলছে, তবুও ম্যাড আর্কিটেক্টস আশা করে, চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে এ শহরটাও সবুজ হয়ে উঠবে। বেইজিংয়ের চলমান উন্নয়নের ধারণা বদলে এ কল্পনাকে বাস্তব করা কঠিন, কিন্তু একটা চেষ্টা তো করাই যায়।

4_fi_beijing2050

৫. গার্ডেন ব্রিজ, লন্ডনঃ
ভবিষ্যৎ নগর-পরিকল্পনায় সবুজ গুরুত্ব পাচ্ছে এটা নিঃসন্দেহে একটা ইতিবাচক ব্যাপার। লন্ডনের গার্ডেন ব্রিজের ধারণাও ভিন্ন কিছু নয়। স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্রমেই প্রসারিত হতে পারে এমন পায়ে চলার পথ থাকবে নানা ধরনের গাছ-গাছালিতে ছাওয়া। গার্ডেন ব্রিজে গাছ লাগানোর অনুমতি আগেই নেয়া হয়েছে। চলতি বছরই এটা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার পরিকল্পনা আছে।

 

৬. ওয়েসিসঃ
কখনো গাছের বাড়িতে বাস করার কথা চিন্তা করেছেন? ঠিক এভাবেই সাজানো হয়েছে ওয়েসিস নামের শহরের ধারণা। ভবিষ্যতের নগর-পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে প্রথম সারিতেই রাখতে হবে এটাকে। নগরের এ ধারণায় এটাকে পরিচালনার পদ্ধতিও নেয়া হয়েছে গাছের কাছ থেকে। গাছের অক্সিজেন উৎপাদন, পরিবেশ রক্ষায় এটার অবদান এবং নিজের খাদ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে অনুসরণ করা হবে এ শহরে। সাজানো হবে গাছের মতো সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবেই।

6_fi_oas1s

৭. প্যারিস অব দ্য ফিউচারঃ
পল চ্যাডিসন নামের একজন ইলাস্ট্রেটর নিজের কল্পনা থেকে ভবিষ্যৎ-প্যারিসের এ ছবি এঁকেছেন। কেবল চেরি বিস্ত্র দেখেই পুরনো প্যারিসকে চেনা যায়। এছাড়া বাকি সব উন্নত প্রযুক্তিতে গড়া বাসভবন আর শিল্পাঞ্চল; যেটার সঙ্গে এখনকার প্যারিসের কোনো মিল নেই। ছবিটা মূলত তৈরি করা হয়েছিল ডোন্টনড এন্টারটেইনমেন্টের ভিডিও গেম ‘রিমেম্বার মি’র জন্য। তাই খুব শিগগিরই প্যারিসের এমন চেহারা দেখার সুযোগ নেই। এটা জেনে অনেকেই হয়তো হাঁফ ছেড়ে বাঁচবেন, কারণ প্যারিসের বর্তমান যে রূপ তা দেখতেই এ শহরে বারোমাস পর্যটকের ভিড় লেগেই থাকে।

7_fi_parisofthefuture

৮. ভাসমান শহরঃ
এ প্রজেক্টটাকে সিস্ট্যান্ডিং ইনস্টিটিউটের সেই কল্পিত ভাসমান শহরের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা চলবে না। এটা চীনা ফার্ম ডিজাইন অফিসের একটি প্রকল্প। এটাও আপাতত কল্পিত হলেও তা বাস্তবে রূপ দিতে মাঠে নেমে পড়েছে ফার্মটি। সাবমেরিন ট্রানজিট থেকে শুরু করে আন্ডারওয়াটার এন্টারটেইনমেন্ট সেন্টার সবকিছুই থাকবে। ভবিষ্যতের এ শহর দেখে অনেকেই যেমন হৃদস্পন্দন মিস করতে পারেন, একই সঙ্গে এর নির্মাণকাজ যে এখনো শুরু করা যায়নি সেটা জেনে মনটা চাইলে কিঞ্চিৎ খারাপও করতে পারেন আপনি!

8_fi_floatingcity

৯. ভার্টিক্যাল ফরেস্টঃ
এটা অন্যগুলোর মতো শিল্পীর কল্পনায় আঁকা কিছু নয়, একেবারেই বাস্তব। তবে স্বীকার করতেই হবে, এটা ‘এ’ ক্যাটাগরির ডিজাইন। নকশাটা করেছেন মিলানের আর্কিটেকচারাল স্টুডিও স্টেফানো বোয়েরি আর্কিটেট্টি। এ যাবতকালে যে ক’টি সুপার-গ্রিন প্রজেক্টের বাস্তব রূপ দেয়া গেছে, সেগুলোর মধ্যে এটাকে বলা হচ্ছে সেরা। এ প্রজেক্টকে আমরা অনুপ্রেরণা হিসেবে নিতে পারি। আর সেটা যদি সত্যিই আমরা করতে পারি, তাহলে সবুজ নগরের অন্য প্রজেক্টগুলোও আমরা সহজেই বাস্তবায়ন করতে পারব।

9_fi_verticalforest

কারিকা ডেক্স


দেশের বাজারে হঠাৎই বেড়ে গেছে রডের দাম। এ নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে নির্মাণখাত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। ইস্পাত শিল্প-মালিকদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে পরিবহন-খরচ বৃদ্ধি, টাকার অবমূল্যায়ন, ব্যাংকের সুদের হার বৃদ্ধি এবং চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাস বিলম্বের কারণে রডের দাম বেড়েছে। তবে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রির (বিএসিআই) অভিযোগ, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দাম বাড়ানো হয়েছে।
গত ২৯ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলনে বিএসিআই’র পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, অধিক মুনাফা হাতিয়ে নিতে দেশের ইস্পাত শিল্প-মালিকরা নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়ে চলেছে। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) অনুষ্ঠিত ওই সংবাদ সম্মেলনে বিএসিআই সভাপতি মুনীর উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘রডের দাম এতটা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি যুক্তিযুক্ত নয়। প্রকৃতপক্ষে এসব কারণে দর বৃদ্ধির মধ্যে ধরলে দেশের বাজারে রডের মূল্য সর্বোচ্চ ৭ থেকে ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। কিন্তু গত ৬ মাসে দেশে রডের দাম ৫০ শতাংশ বেড়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া তথ্যানুসারে, দেশে গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে প্রতি টন রডের দাম ছিল ৪৮ হাজার টাকা। যা এখন ৭২ হাজার টাকায় উঠেছে। ছয় মাস ব্যবধানে পণ্যটির দাম ৯ দফা বাড়িয়েছে উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো। তবে এ সময়ের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক বাজারে রডের কাঁচামালের দাম উল্টো কমেছে। কারণ গত সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক বাজারে রডের দাম ছিল ৫৬০ ডলার, যা এখন নেমেছে ৫২৫ ডলারে।
বিএসিআই’র সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএসিআই’র সাবেক সভাপতি শেখ মো. রফিকুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি সফিকুল আলম ভুইয়া, সাবেক সভাপতি আতিকুর রহমান, সাবেক সভাপতি আফতাব উদ্দিন আহমেদ ও সহ-সভাপতি এসএম খোরশেদ আলম।
এদিকে, একই দিন অপর এক অনুষ্ঠানে ‘রডের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির’ কারণ জানতে চায় ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। রাজধানীর মতিঝিলে ফেডারেশন ভবনে এক মতবিনিময় সভায় এ বিষয়ে জানতে চান এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন। আসন্ন ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের বাজেট উপলক্ষে রাজস্ব নীতিমালা, আমদানি শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর (মুসক) ও আয়কর এবং মাঠ পর্যায়ে মুসক ও কর সম্পর্কিত নানাবিধ সমস্যা নিয়ে ওই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে ইস্পাত শিল্প-মালিকদের উদ্দেশে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘আপনাদের কত টাকা উৎপাদন খরচ বেড়েছে? আর বাজারে দাম বাড়িয়েছেন কত? দাম বাড়ানোর যৌক্তিকতা কতটুকু বলেন। এটার সঙ্গে ব্যবসায়ীদের ভাবমূর্তি জড়িত হয়ে পড়েছে।’
প্রতিউত্তরে রড ব্যবসায়ীদের একজন প্রতিনিধি বলেন, ‘দাম বাড়ার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো রডের কাঁচামাল যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করতে হয়। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র এ কাঁচামালের ওপর কর বাড়িয়েছে। আগে যেখানে আমদানি খরচ ৩০০ ডলার লাগতো, এখন লাগে ৪৩০ ডলার। এ ছাড়া বন্দর ও পরিবহন খরচ বেড়েছে।’
এরপর এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি রড ব্যবসায়ীদের দাম বাড়ার যৌক্তিক কারণ লিখিত আকারে জানাতে বলেন।
শুধু রড নয়, বাজারে নির্মাণ-খাতের অন্য প্রধান উপকরণ সিমেন্টের দামও বেড়েছে বস্তাপ্রতি ৬০ টাকা। সার্বিক এ পরিস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলনে সরকারের হস্তক্ষেপে আহব্বান করে বিএসিআই। অন্যথায় ১৫ এপ্রিল থেকে সমস্ত নির্মাণ-কাজ বন্ধ করে দেওয়ারও হুমকি দিয়েছে সংগঠনটি।
সংগঠনটির সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ভৌত অবকাঠামো নির্মাণে রড-জাতীয় পণ্যের পরিমাণ হয় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। তাই রডের মূল্য বৃদ্ধি পেলে পুরো স্থাপনার নির্মাণ-ব্যয় ৭ থেকে ৮ শতাংশ বেড়ে যায়। এতে পূর্বে চুক্তিবদ্ধ কাজে লোকসান করে ঠিকাদাররা। এছাড়া গ্রাম-গঞ্জে ব্যক্তিগত স্থাপনা নির্মাণ বাধাগ্রস্ত হয়। ইতিমধ্যে এমন পরিস্থিতিতে সারা দেশে প্রচুর নির্মাণ-কার্যক্রম বন্ধ হয়ে রয়েছে।
মুনীর উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আগে কয়েকবার সরকারের বিভিন্ন মহলকে চিঠি দিয়েছি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে অবগতও রয়েছে। এরমধ্যে এফবিসিসিআই আমাদের সঙ্গে ইস্পাত শিল্প-ব্যবসায়ীদের একটি বৈঠকের আশ্বাস দিয়েছে। সকলে আন্তরিক হলে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান সম্ভব। নতুবা কাজ বন্ধ করা ছাড়া আমাদের কোনো উপায় থাকবে না।’
অপরদিকে রড ও সিমেন্টের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে দেশে আবাসন খাতের কোম্পানিগুলো। তারা বলছে, এতে নির্মাণ-ব্যয় বাড়বে এবং ফ্ল্যাটের দামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করে আবাসন খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। সম্মেলনে রড সিমেন্টসহ অন্যান্য নির্মাণ-সামগ্রীর দাম বাড়ানোকে অযৌক্তিক বলে দাবি করে সংগঠনটি।