Home বাজার দর

খালিদ জামিল


জার্ডিম বোটানিকো দি কুরিতিবা, ব্রাজিলঃ
বাগানটা ‘জার্দিম বোতানিকো ফ্রান্সেত্তে রিচবিয়েটার’ বা বোটানিকাল গার্ডেন অব কুরিতিবা নামেও পরিচিত। ব্রাজিলের কুরিতিবা শহরে এর অবস্থান, যেটা পারানা রাজ্যের রাজধানী। এটাই দক্ষিণ ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় শহর, যেখানে পর্যটকদের সবচেয়ে আকর্ষণের জায়গা এই বাগানটাই। জার্ডিম বোটানিকা একই সঙ্গে ফেডারেল ইউনিভার্সিটি অব পারানা ক্যাম্পাসের অংশও বটে। ফরাসি আদলে নির্মিত বাগানটি ১৯৯১ সালে খুলে দেওয়া হয়। একসময় প্রবেশপথের পরপরই একটা ঝরনা চোখে পড়বে। রয়েছে জলপ্রপাত আর লেকও। বাগানের মূল গ্রিনহাউসের আয়তন ৪৫৮ বর্গমিটার, যেখানে ক্রান্তীয় অঞ্চলের নানা প্রজাতির গাছকে সংরক্ষণ করা হয়েছে। আর অগণিত ফুলের গাছ তো বাগানের গেট থেকেই শুরু হয়েছে। মূল গ্রিনহাউসটি নউভিউ স্টাইলে নির্মাণ করা হয়েছে, যেটার কাঠামো আধুনিক মেটালিক ধাঁচের। অনেকটা উনিশ শতকের মধ্যবর্তী সময়ে নির্মিত লন্ডনের ক্রিস্টাল প্যালেসের মতো। বোটানিক মিউজিয়ামে দেখা মিলবে দেশি নানা প্রজাতির উদ্ভিদ, যেগুলো বরাবরই সারাবিশ্বের গবেষকদের আকর্ষণ করে এসেছে। এই বাগানে গাছের এমন কিছু প্রজাতি রয়েছে, যেটা পূর্ব ব্রাজিলের আটলান্টিক ফরেস্ট ছাড়া আর কোথাও দেখা যায় না।

কারিকা প্রতিবেদক


ইটকে বলা হয় স্থাপনা তৈরির প্রাচীন উপকরণগুলোর একটি। প্রাচীন বলতে বেশ প্রাচীন ধারণা এটা। দক্ষিণ তুরস্ক আর জেরিকো শহরের আশপাশে খ্রিস্টের জন্মেরও সাত হাজার বছর আগে গড়ে ওঠা সভ্যতায় ইট ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে। ভিন্ন মতামতও আছে। অনেকে মনে করেন, ইটের ব্যবহার শুরু আরও আগে থেকে। খ্রিস্টপূর্ব ৭,৫০০ বছর আগে সবচেয়ে প্রাচীনতম ইটের সন্ধান পাওয়া যায়, যা দক্ষিণ-পূর্ব আনাতোলিয়ার নিকটবর্তী দিয়াবাকির কাছাকাছি। তাই গ্রিস এলাকা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।
প্রথম দিকে অবশ্য কাদামাটির তৈরি ইট রোদে শুকিয়েই ব্যবহার করা হতো। আগুনে পুড়িয়ে ইট তৈরির পদ্ধতির পর যেকোনো বৈরী আবহাওয়ায় টিকে থাকতে সক্ষম স্থায়ী আবাস নির্মাণ করতে শেখে মানুষ, যা রোদে শুকানো ইট দিয়ে সম্ভব ছিল না। ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণেও এই পোড়ামাটির ইট আগের ইটের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর। স্থাপনা নির্মাণে প্রাচীন মিসরীয়রাও রোদের শুকানো ইট ব্যবহার করত। হরপ্পা বুহেন এবং মহেঞ্জোদারোতে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। দেয়ালে দেয়ালে ইট তৈরি আর সেগুলো পরিবহন করার চিত্র এখনও দেখা যায়। সেই সময়ের ইটের অনুপাত ছিল ৪:২:১। তাদের জন্য এটাই সবচেয়ে সুবিধাজনক ছিল। রোমানরা রোদে শুকানো এবং আগুনে পোড়ানো দুই ধরনের ইটই ব্যবহার করত। ইটগুলো সাধারণত বসন্তে তৈরি হতো। কেবল সাদাটে অথবা লাল মাটি তারা ইট তৈরির জন্য ব্যবহার করত।
স্থাপনা নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ইট অন্তত দুই বছর আগে তৈরি করে রাখা হতো। ভ্রাম্যমাণ ইটের ভাটা ছিল তাদের। যে কারণে বিশাল রোমান সাম্রাজ্যজুড়েই পোড়ামাটির ইট ব্যবহারে সফলতা ছিল তাদের। একটা পর্যায়ে ইট উৎপাদনের কাজটা সেনাবাহিনীর হাতে দেওয়া হয়। তাদের ইটগুলোর আকৃতি আগের প্রাচীন ইটের চেয়ে অনেকটা ভিন্ন হয়। বর্গ, ত্রিভুজ, গোল কিংবা আয়তাকার ইট তৈরি করত তারা। ভাটায় পোড়ানো ইট ছিল সাধারণত ১ অথবা ২ রোমান ফুট বাই ১ রোমান ফুট। কিছু ক্ষেত্রে ৩ রোমান ফুট পর্যন্ত হতো। এই ধরনের ইটের ব্যবহার তাদের সভ্যতার প্রথম শতক থেকেই শুরু হয়। পরবর্তীতে পুরো সাম্রাজ্যেই সবধরনের সরকারি ও ব্যক্তিগত স্থাপনা নির্মাণে ইটের ব্যবহার প্রচলন হয়। এ তো গেল রোমানদের কথা। গ্রিকরাও কিন্তু ইট ব্যবহারে বেশ পারদর্শী ছিল। তাদের ইটের খাড়া দেয়াল ছিল যেটা পাথরের দেয়াল থেকেও অনেক কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি। সরকারি স্থাপনাগুলেতেও ইটের ব্যবহার বাড়ানো হয়। তারা বুঝতে পেরেছিল আধুনিক ইটের দেয়াল মার্বেলের চেয়ে কম ক্ষয় হয়। ১২ শতকে উত্তর ইতালি থেকে উত্তর জার্মানি পর্যন্ত এলাকায় ইটের আবির্ভাব হয় নতুন রূপে।
সমকালটাকে ‘ব্রিক গথিক পিরিয়ড’ বলা হয়। কারণ এই ইটের ব্যবহার শুরুর আগে আগে উত্তর ইউরোপে গথিক স্থাপত্য কৌশলটা অনেক বেশি প্রচলিত ছিল। পরবর্তীতে লাল মাটি পুড়িয়ে তৈরি ইট ব্যবহার শুরু হয় ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে। ব্রিক গথিক ধাঁচের ভবন বাল্টিক দেশ অর্থাৎ সুইডেন, ডেনমার্ক, পোল্যান্ড, জার্মানি, ফিনল্যান্ড, লিথুনিয়া, লাটভিয়া, এস্তোনিয়া, বেলারুশ ও রাশিয়াতে দেখা যায়। ব্রিক গথিকের সময়টাতেই মূলত পাথর থেকে সরে এসে স্থাপনা নির্মাণে ইটের ব্যবহার করা হয়। যে কারণে গোটা স্থাপত্যবিদ্যাতেই বেশ বড়সড় একটা বিপ্লব ঘটে যায়। ইট দিয়ে হয়তো গথিক আমলের মতো ভারী দেয়াল তৈরি সম্ভব ছিল না। রঙের ভিন্নতা আনা যেত সহজেই। ছিল লাল ও গ্লেজড ইট। তার ওপর রঙ দেয়ার পদ্ধতি তো ছিলই। নানা আকৃতির ইট বিভিন্ন ভাস্কর্য নির্মাণেও ব্যবহৃত হতে শুরু করে।

সাবরিনা মিলি


ইটঃ
বর্তমানে বাড়ি নির্মাণের জন্য বিভিন্ন ধরনের এবং মানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। ধরন এবং মানের ওপর নির্ভর করে দামেরও ভিন্নতা রয়েছে।
আমরা বাড়ি নির্মাণে সাধারণত যে ধরনের ইট করি এ ধরনের ইটের মধ্যে ১ নম্বর ইট পরিবহন খরচ বাদে ৮ হাজার থেকে ৮ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ২ নম্বর ইটের দাম ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা। কিছুদিন আগেও দাম কিছুটা কম ছিল।

ব্লক ইট বা হলো ব্লকঃ
ইটের পরিবর্তে এখন অনেক নির্মাণ কাজে ব্লক ইট বা হলো ব্লক ব্যবহার হচ্ছে। কারণ তৈরিতে মাটি বা মাটি পোড়ানোর কোনো ঝামেলা নেই। ব্যবহার হয় পাথর, বালি এবং সিমেন্ট।
ইটের হাজার যেখানে ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা, সেখানে ১ হাজার হলো ব্লকের দাম ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা। ইটের তুলনায় একটি ব্লক ৪ থেকে ৬ গুণ বড় এবং ভেতরে ফাঁপা। তাই ব্লক ইট পরিবেশবান্ধব, নির্মাণে খরচ কম এবং ভবনের ওজনও কমে যায়।
সাধারণ ভবনে এক বর্গফুটের নির্মাণ খরচ পড়ে ১ হাজার ৮০০ টাকা। অথচ ব্লক ইট ব্যবহার করে ভবন তৈরি করতে প্রতি বর্গফুটে খরচ হয় মাত্র ১ হাজার ১৫০ টাকা।

থ্রি হোল ব্রিকঃ
এই ইটকে ইঞ্জিনিয়ারিং ইট বলে। মীর সিরামিক্স এই ইট উৎপাদন করে। এটির দাম একটু বেশি মনে হলেও অন্যান্য দিকে সাশ্রয়ী। থ্রি হোল ইট প্রতি হাজার পরিবহন খরচ বাদে বিক্রি হচ্ছে ১৯৫০০ টাকা। ইটের সাইজ ৭.৫ x ৪.৫ x ৬.৫ নির্মাণ কাজে এই ইট ব্যবহার করলে ওয়ালে প্লাস্টারের প্রয়োজন হয় না। সাধারণ ইটের থেকে এই ইট ভার্টিক্যালি বেশি লোড নিতে পারে। ১০০ এসেফটি নির্মাণে প্রয়োজন হয় ২৯৫টি ইট।

টেন হোল ইটঃ
এই ইটকে ইঞ্জিনিয়ারিং ইট বলে। এটির দাম একটু বেশি মনে হলেও অন্যান্য দিকে সাশ্রয়ী। টেন হোল ইট প্রতি হাজার পরিবহন খরচ বাদে বিক্রি হচ্ছে ১৮৯০০ টাকা। ইটের সাইজ ৯.৯x ৪.৫x ২.২৫। নির্মাণ কাজে এই ইট ব্যবহার করলে ওয়ালে প্লাস্টারের প্রয়োজন হয় না। সাধারণ ইটের থেকে এই ইট ভার্টিক্যালি বেশি লোড নিতে পারে। ১০০ এসেফটি নির্মাণে প্রয়োজন হয় ৫০০টি ইট। এটি মীর সিরামিক্সের একটি পণ্য।

বালিঃ
মাটিতে গর্ত করে এক ধরনের বালি পাওয়া যায়, যা মসৃণ, কোনাকার এবং ক্ষতিকারক লবণ থেকে মুক্ত থাকে। এই ধরনের বালি সাধারণত মর্টারের কাজে ব্যবহৃত হয়।
নদীর বালিঃএই ধরনের বালি নদীর উপকূলে পাওয়া যায়, যা চিকন ও গোলাকার হয়ে থাকে। এটা পিট বালি অপেক্ষা সূক্ষ্ম, তাই প্লাস্টারিংয়ের কাজে এই বালি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
মোটা দানাঃ বালির দানা তুলনামূলক একটু বড় আকৃতির হয়, তাই নির্মাণ কাজে ঢালাইয়ের সময় খুবই উপযোগী।
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পরিবহন খরচসহ প্রতি ট্রাক (৫ টনি) ভালো মানের আস্তর বালি বিক্রি হচ্ছে পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকায়। ভিটি বালি বিক্রি হচ্ছে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকায়। তৈরিতে সিলেট বালি সমান থাকে।

সিমেন্ট
নির্মাণ কাজে সিমেন্ট একটি অপরিহার্য পর্দাথ। বর্তমান বাজারে সিমেন্টের দাম অনেকটাই স্থিতিশীল। শাহ সিমেন্ট স্পেশাল ব্যাগ-প্রতি ৩৮০ থেকে ৩৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অপরদিকে শাহ পপুলারের ব্যাগ-প্রতি দাম ৩৭০ থেকে ৩৭৫ টাকা। সেভেন রিং স্পেশালের ব্যাগ-প্রতি দাম ৪০০ টাকা, সেভেন রিং নরমাল ব্যাগ-প্রতি ৩৮০ টাকা এবং সেভেন রিং গোল্ড ব্যাগ-প্রতি ৪৩০ টাকা। হোলসিম নরমাল ব্যাগ-প্রতি দাম ৪৩৫ থেকে ৪৪০ টাকা, হোলসিম ওপিসির ব্যাগ-প্রতি দাম ৪৮৫ থেকে ৪৯০ টাকা। স্ক্যান ব্যাগ-প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৪১০ টাকায়। ডায়মন্ড সিমেন্ট ব্যাগ-প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৪১০ থেকে ৪১৫ টাকা।

রডঃ
কেএসআরএমের ৬০ গ্রেড এবং ৫০০ডব্লিউ রডের প্রতি টন ৫১ হাজার থেকে ৫১ হাজার ৫০০ টাকা। বিএসআরএমের দাম প্রতি টন ৫২ হাজার টাকা। একেএস ৫০০টিএমটি প্রতি টন ৫১ হাজার টাকা। আনোয়ারের রডের প্রতি টন ৪৯ হাজার থেকে ৪৯ হাজার ৫০০ টাকা।

টাইলসঃ
দেশে তৈরি ১২ ইঞ্চি বাই ২০ ইঞ্চি সাইজের ওয়াল টাইলস ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, ১০ ইঞ্চি বাই ১৬ ইঞ্চি ৫০ থেকে ৬৫ টাকা, ১২ ইঞ্চি বাই ১২ ইঞ্চি ৩৫ থেকে ৩৮ টাকা, ১২ ইঞ্চি বাই ১৮ ইঞ্চি ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফ্লোরের জন্য সাড়ে ১২ ইঞ্চি বাই সাড়ে ১২ ইঞ্চি সাইজের টাইলস বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, ১২ ইঞ্চি বাই ১২ ইঞ্চি সাইজের হোমোজিনাস টাইলস ৫৫ থেকে ৬০ টাকা এবং ১৬ ইঞ্চি বাই ১৬ ইঞ্চি সাইজের হোমোজিনাস টাইলস ৫৭ থেকে ৬৫ টাকা। অপরদিকে ১২ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চি সাইজের চায়না ওয়াল টাইলসের দাম ১৪০ থেকে ১৬৫ টাকা, ১২ ইঞ্চি বাই ১২ ইঞ্চি সাইজের দাম ১৪০ থেকে ১৬৫ টাকা। আর ১২ ইঞ্চি বাই ১২ ইঞ্চি সাইজের ফ্লোর টাইলসের দাম ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা।

রঙঃ
চাহিদাসম্পন্ন অধিকাংশ রঙের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। বার্জার, এশিয়ান ও আরএকের মতো শীর্ষ ব্র্যান্ডের রঙ আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। বার্জারের ১৮.২ লিটারের বালতি-ভর্তি প্লাস্টিক ইমালশন বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৬৫০ টাকা, অ্যানামেল পেইন্ট প্রতি গ্যালন বিক্রি হচ্ছে ৯৬০ টাকা। অপরদিকে ১৮.২ লিটারের বালতি-ভর্তি ডিসটেম্পার বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫৫০ টাকা। একই পরিমাপের ওয়েদারকোট বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৬০০ টাকা। একই পরিমাপের ওয়াটার সিলার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৮৫০ টাকা। ২০ কেজি ডিওরোসেম বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকা। এশিয়ান অনুরূপ ওজনের রঙ যথাক্রমে বিক্রি করছে ৩ হাজার ৩৫০, ২ হাজার ৬৫০, ৬৮০, ১ হাজার ৪৫০, ৪ হাজার ৪০০, ২ হাজার ৮০০ ও ১ হাজার ১৫০ টাকা। আরএকে বিক্রি করছে ৩ হাজার, ৯৫০, ৪ হাজার ২০০, ২ হাজার ৬০০ ও ১ হাজার ২০০ টাকা।

বি. দ্র. : স্থান ও সময়ভেদে দামের তারতম্য হতে পারে।

সাবরিনা মিলি


ভ্যাকেশন হাউজটির অবস্থান ঢাকা শহর থেকে ৪০ কিলোমিটার উত্তরে। ২০ বছর আগেও এটি গ্রাম্য ও কৃষিভিত্তিক অঞ্চল ছিল। তবে বর্তমানে এই সাইটের উত্তর ও পূর্ব অংশে নিম্নমধ্যবিত্তদের ঘনবসতি গড়ে উঠেছে। বাড়িটির দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকে কৃষিজমি। মূল সড়ক থেকে সাইটের অবস্থান মাত্র সিকি কিলোমিটার দূরে। যাওয়া-আসার জন্য রয়েছে একটি রাস্তা। ভ্যাকেশন হাউজটির আকৃতি রাখা হয়েছে ৪০ ফিট বাই ৪০ ফিটের মধ্যে। প্ল্যানে তিনতলার কথা বলা হয়েছে, যাতে বাড়িটির ফুটপ্রিন্ট কমানো যায় এবং বেশি খোলা জমি বাঁচানো যায়। দক্ষিণ দিকে একটি পুকুর খোঁড়া হয়েছে, যেটার মাটি দিয়ে মূল রাস্তার সঙ্গে সংযোগ-সড়কের নিচু জায়গাগুলো ভরাট করা যায়। বাড়ির একটা অংশ সিঁড়ির মাধ্যমে পুকুরের সাথে সংযুক্ত। রয়েছে জলকেলির সুব্যবস্থা। স্থানীয় ভাষায় পুরো ব্যবস্থাকেই বলা হয় ঘাট। বাংলাদেশে যেসব বাড়ির নিজস্ব পুকুর আছে সেগুলোতে এই ঘাট খুবই সাধারণ একটা ব্যাপার। বাড়ির মালিক এই স্থাপনাটি নিয়ে বেশ গর্ব করেন। যে জমির ওপর এটা নির্মিত সেটা মূলত তার বাবা কিনেছিলেন, পঞ্চাশের দশকে।

উপাদান ও কাঠামো
ভ্যাকেশন হাউজটি আরসিসি ফ্রেম স্ট্রাকচারে তৈরি। এনক্লোজার হিসেবে রয়েছে নন-লোডবেয়ারিং দেয়াল। প্রতিটি কলামের আলাদা আলাদাভাবে গ্রেটবিমের সঙ্গে রয়েছে আরসিসি ফুটিং। কংক্রিটের কলাম, সিলিং এবং বিম তৈরিতে পোর্টল্যান্ড সিমেন্টের সঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে ৩০ শতাংশ হোয়াইট সিমেন্ট। ফেয়ার ফেসিং দেয়ালগুলো ঢেকে দেয়া হয়েছে নকশাকাটা প্লাস্টিক শিট দিয়ে। কোনোধরনের প্লাস্টার বা রং এই বাড়িতে ব্যবহার করা হয়নি। কলামের ভেতরে প্রতি ৩০ ইঞ্চি অন্তর যে গ্রুভস রয়েছে সেগুলো স্কেলের পাশাপাশি একটা ধারাবাহিকতার ধারণা দিচ্ছে। দরজা, কেবিনেট, সিঁড়ি এবং ভেতরের জানালাগুলো তৈরিতে কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে। বাইরের জানালাগুলো অ্যালুমিনিয়ামের, সেটা অবশ্য বৈরি আবহাওয়া থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য। সব জায়গায় ব্যবহার করা হয়েছে বার্মাটিক কাঠ।5

ভ্যাকেশন হাউজ

প্রজেক্ট ইমপ্যাক্ট
বিল্ডিংটির স্থাপত্য-বৈশিষ্ট্য হলো, এটা ডিজাইনের ক্ষেত্রে চারপাশেই সমান গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। যার ফলে প্রতিটি দিকই সম্মুখ-অংশ বলে মনে হয়। এটি আরসিসি ফ্রেম স্ট্রাকচারে এমনভাবে তৈরি যেখানে স্কেলেটাল ফ্রেমের মাধ্যমে বিল্ডিংয়ের ভেতর থেকে বাইরের অংশটি অনায়াসে দৃষ্টিগোচর হয়। এখানে নন-লোডবেয়ারিং ব্রিকওয়াল ব্যবহার করা হয়েছে যা মূল স্ট্রাকচার থেকে ২০ ইঞ্চি বেরিয়ে এসেছে যাতে এটার আলাদা অস্তিত্ব প্রকাশ পায়। বিল্ডিংটির ভেতর ও বাইরের অংশ আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য কংক্রিট ও ইটের ব্যবহারে সামঞ্জস্যতা রাখা হয়েছে।
প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই বিল্ডিংয়ের নকশা করা হয়েছে। প্রতিটি রুমেই রয়েছে ক্রসভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা। প্রথম ও দ্বিতীয়তলার দক্ষিণ অংশে রয়েছে টেরাস, যে অংশটির ছাউনি তৈরি হয়েছে রিব বিম দিয়ে। সাব-ট্রপিক্যাল ও গরম এবং আর্দ্র আবহাওয়ার ক্ষেত্রে যা আদর্শ।
পুকুরঘাটটি বছরজুড়ে ব্যবহারের উপযোগী থাকে। সেখানে থাকা একমাত্র গাছটা বছরান্তে ফুল দেয়। আর ছায়া তো আছেই।
বিল্ডিংয়ের মালিক কেবল সাপ্তাহিক ছুটির দিনেই এখানে আসেন। অন্য পাঁচদিন দর্শনার্থীর জন্য বিকেল চারটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত ভ্যাকেশন হাউজের নিচতলা, ঘাটলা এবং আশেপাশের জায়গা খোলা থাকে।

মূল বিষয়
বাড়িটি ব্যক্তিগত সম্পত্তি হলেও সাধারণ মানুষকেও নানা সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আসছে। যেটা আশেপাশের মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এমএ মজিদ তার পরিবারের চার সদস্যের জন্য ভ্যাকেশন হাউজ তৈরির কথা চিন্তা করেন। প্রায় দুই একর জমির ওপর এটি নির্মিত। গ্রাহক চেয়েছিলেন চারটি বেডরুম যার প্রতিটিতে টেরাস থাকবে এবং প্রতিটি রুমই পানির খুব কাছাকাছি হবে।
সবুজের মাঝে একটুকরো বাড়ি। এখানে বাড়ি এবং পুকুরের মাঝে একটিমাত্র ফুল গাছ আছে। যদিও বাড়িটির চারপাশ ঘিরে রয়েছে অনেক ফুল এবং ফলের গাছ। পুকুরটিকে প্রয়োজনীয় আকৃতিতে আনার জন্য খনন করা হয়েছে। পুকুরের মাটি সাইটের বিভিন্ন স্থানের গর্ত ভরাট করে বিল্ডিং নির্মাণের উপযোগী করে তোলা হয়েছে। বাড়িটি একটি বর্গাকার (১২ মিমি ী ১২মিমি) আরসিসি ফ্রেম স্ট্রাকচার এবং নন-লোডবেয়ারিং দৃশ্যমান ইটের দেয়ালের ওপর অবস্থিত। প্রতিটি বিম, কলাম এবং ছাদ ফেয়ার ফেসিং কংক্রিট দিয়ে তৈরি। নির্মাণের জন্য মসৃন উপকরণই বাছাই করা হয়েছে। দেয়াল, ফ্লোর এবং সিঁড়িতে একই ধরনের ইটের ব্যবহার দেখা যাবে।

কারিকা ডেক্সঃ


নতুন বাজেটর হিসাব-নিকাশে নির্মাণ-সামগ্রী ব্যবসায়ীরাও আগাম হিসাব কষছেন। তারপরও চলতি মাসে অধিকাংশ নির্মাণ-সামগ্রীর বাজারদরে বড় ধরনের কোনো প্রভাব পড়েনি।

ইট
ইটের দাম হাজার-প্রতি বেড়েছে এক থেকে দেড় হাজার টাকা। বর্তমানে ১ নম্বর ইট প্রতি-হাজার পরিবহন খরচ বাদে আট থেকে সাড়ে আট হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে। দুই মাস আগে ১ নম্বর ইটের হাজার-প্রতি দাম ছিল সাত থেকে সাড়ে সাত হাজার টাকা। অপরদিকে একইভাবে বেড়েছে ২ নম্বর ইটের দামও। দুই নম্বর ইট পরিবহন খরচ বাদে হাজার-প্রতি বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ছয় থেকে সাত হাজার টাকা।

বালি
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পরিবহন খরচসহ প্রতি ট্রাক (৫ টনি) ভালো মানের আস্তর বালি বিক্রি হচ্ছে পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকায়। ভিটি বালি বিক্রি হচ্ছে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকায়। তবে রাজধানীর পার্শ্ববর্তী জেলা শহরগুলোতে বারোশ’ থেকে দেড় হাজার টাকায় ভালো মানের ভিটি বালি পাওয়া যাচ্ছে।

সিমেন্ট
বর্তমান বাজারে সিমেন্টের দাম অনেকটাই স্থিতিশীল। শাহ সিমেন্ট স্পেশাল ব্যাগ-প্রতি ৩৮০ থেকে ৩৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অপরদিকে শাহ পপুলারের ব্যাগ-প্রতি দাম ৩৭০ থেকে ৩৭৫ টাকা। সেভেন রিং স্পেশালের ব্যাগ-প্রতি দাম ৪০০ টাকা, সেভেন রিং নরমাল ব্যাগ-প্রতি ৩৮০ টাকা এবং সেভেন রিং গোল্ড ব্যাগ-প্রতি ৪৩০ টাকা। হোলসিম নরমাল ব্যাগ-প্রতি দাম ৪৩৫ থেকে ৪৪০ টাকা, হোলসিম ওপিসির ব্যাগ-প্রতি দাম ৪৮৫ থেকে ৪৯০ টাকা। স্ক্যান ব্যাগ-প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৪১০ টাকায়। ডায়মন্ড সিমেন্ট ব্যাগ-প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৪১০ থেকে ৪১৫ টাকা।

রড
দেশের শীর্ষ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সর্বাধুনিক প্রযুক্তির দাবি করে সেভেন্টি টু পয়েন্ট ফাইভ গ্রেডের রড বাজারে বিক্রি করছে। এর মধ্যে বিএসআরএম এমন গ্রেডের প্রতি টন রড বিক্রি করছে ৪৯,১০০ থেকে ৪৯,২০০ টাকায়। জিপিএইচ ও একেএস একই গ্রেডের রড টন-প্রতি বিক্রি করছে ৪৭,৫০০ টাকায়।

টাইলস
দেশে তৈরি ১২ ইঞ্চি বাই ২০ ইঞ্চি সাইজের ওয়াল টাইলস ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, ১০ ইঞ্চি বাই ১৬ ইঞ্চি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, ১২ ইঞ্চি বাই ১২ ইঞ্চি ৩৫ থেকে ৩৮ টাকা, ১২ ইঞ্চি বাই ১৮ ইঞ্চি ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফ্লোরের জন্য সাড়ে ১২ ইঞ্চি বাই সাড়ে ১২ ইঞ্চি সাইজের টাইলস বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, ১২ ইঞ্চি বাই ১২ ইঞ্চি সাইজের হোমোজিনাস টাইলস ৫৫ থেকে ৬০ টাকা এবং ১৬ ইঞ্চি বাই ১৬ ইঞ্চি সাইজের হোমোজিনাস টাইলস ৫৭ থেকে ৬৫ টাকা। অপরদিকে ১২ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চি সাইজের চায়না ওয়াল টাইলসের দাম ১৪০ থেকে ১৬৫ টাকা, ১২ ইঞ্চি বাই ১২ ইঞ্চি সাইজের দাম ১৪০ থেকে ১৬৫ টাকা। আর ১২ ইঞ্চি বাই ১২ ইঞ্চি সাইজের ফ্লোর টাইলসের দাম ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা।

রঙ
চাহিদাসম্পন্ন অধিকাংশ রঙের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। বার্জার, এশিয়ান ও আরএকের মতো শীর্ষ ব্র্যান্ডের রঙ আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। বার্জারের ১৮.২ লিটারের বালতি-ভর্তি প্লাস্টিক ইমালশন বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৬৫০ টাকা, অ্যানামেল পেইন্ট প্রতি গ্যালন বিক্রি হচ্ছে ৯৬০ টাকা। অপরদিকে ১৮.২ লিটারের বালতি-ভর্তি ডিসটেম্পার বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫৫০ টাকা। একই পরিমাপের ওয়েদারকোট বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৬০০ টাকা। একই পরিমাপের ওয়াটার সিলার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৮৫০ টাকা। ২০ কেজি ডিওরোসেম বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকা। এশিয়ান অনুরূপ ওজনের রঙ যথাক্রমে বিক্রি করছে ৩ হাজার ৩৫০ টাকা, ২ হাজার ৬৫০ টাকা, ৬৮০ টাকা, ১ হাজার ৪৫০ টাকা, ৪ হাজার ৪০০ টাকা, ২ হাজার ৮০০ টাকা ও ১ হাজার ১৫০ টাকা। আরএকে বিক্রি করছে ৩ হাজার টাকা, ৯৫০ টাকা, চার হাজার ২০০ টাকা, ২ হাজার ৬০০ টাকা ও ১ হাজার ২০০ টাকা।

বি. দ্র. : স্থান ও সময়ভেদে দামের তারতম্য হতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন কোম্পানির দেওয়া অফার ও ছাড় এ দামের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

 

কারিকা ডেক্সঃ


রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও রাস্তার মোড়ে সাত-সকালে প্রতিদিনই জমে নির্মাণ-শ্রমিকের হাট। এসব হাটে শ্রম বিক্রির জন্য ভিড় জমায় নির্মাণ-পেশার নানা দক্ষতার শ্রমিক। নির্মাণ-কাজে কখনও কর্মঘণ্টার হিসাব ধরে আবার কখনও চুক্তিতে পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন তারা। রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণ-শ্রমিকের হাট ঘুরে তাদের বর্তমান হাজিরা ও চুক্তিমূল্য জানাচ্ছেন জগলুল হায়দার

রাজমিস্ত্রিঃ
নির্মাণ-শ্রমিক বলতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সাধারণত আমরা রাজমিস্ত্রিকেই বুঝি। কারণ তাদের দক্ষ হাতেই গড়ে ওঠে শক্তিশালী স্থাপনা। বর্তমান বাজারে একজন রাজমিস্ত্রির কর্মঘণ্টা ৮ ঘণ্টা হিসাব ধরে তার হাজিরা-মূল্য ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা। আর তার সহযোগীর হাজিরা-মূল্য ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। চুক্তিতে নিচতলা পর্যন্ত প্রতি বর্গফুট কাজের পারিশ্রমিক ৭০ থেকে ৮০ টাকা। দোতলা পর্যন্ত কাজ সমাপ্ত করতে প্রতি বর্গফুটের পারিশ্রমিক ১৮০ টাকা। তবে সেপটিক ট্যাঙ্কের আলাদা মূল্য দিতে হয় তাদের। এক্ষেত্রেও প্রতি বর্গফুটের পারিশ্রমিক ১৮০ টাকা।

রডমিস্ত্রিঃ
বর্তমান বাজারে একজন রডমিস্ত্রির হাজিরা-মূল্য ৬০০ টাকা, সহযোগী রডমিস্ত্রির হাজিরা-মূল্য ৪০০ টাকা।

রংমিস্ত্রিঃ
একজন হেড রংমিস্ত্রির সারাদিনের (৮ ঘণ্টা) হাজিরা-মূল্য ৫০০ টাকা, সহযোগীর ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারা হাজিরার পরিবর্তে চুক্তিতে কাজ করে থাকেন।

কাঠমিস্ত্রিঃ
একজন কাঠমিস্ত্রির হাজিরা-মূল্য (৮ ঘণ্টা) ৫০০ টাকা, সহযোগীর ৪০০ টাকা। তবে কাঠমিস্ত্রিরা খাট, দরজা ও জানালা প্রস্তুতের ক্ষেত্রে চুক্তিতে কাজ করে থাকেন। একটি বঙ্খাট তৈরির ক্ষেত্রে ২০ হাজার টাকা (ফিনিশিং ও বার্নিশসহ), হাফ বঙ্খাট ১৫ হাজার টাকা, ইংলিশ খাট ৮ হাজার টাকা, দরজায় ৩ হাজার টাকার বেশি, জানালায় আড়াই হাজার টাকা, দরজার চৌকাঠে ১ হাজার টাকা ও জানালার চৌকাঠে দেড় হাজার টাকা পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন।

স্যানিটারি-মিস্ত্রিঃ
বাথরুম ও কিচেনের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সমাধান করে থাকেন স্যানিটারি-মিস্ত্রি। একজন স্যানিটারি-মিস্ত্রির বর্তমান হাজিরা-মূল্য ৬০০ টাকা আর সহযোগীর ৩৫০ টাকা।

টাইলস-মিস্ত্রিঃ
টাইলস-মিস্ত্রিরা বর্গফুট হিসাব ধরে কাজ করেন। একজন টাইলস-মিস্ত্রির হাজিরা-মূল্য ৭০০ টাকা আর সহযোগীর ৪০০ টাকা। তবে বেশিরভাগ টাইলস-মিস্ত্রি চুক্তিতে কাজ করে থাকেন।কারন টিলসের সাইজের অনেক ভিন্নতা রয়েছে। তারা বর্তমানে প্রতি বর্গফুটে টাইলসের সাইজের উপর নির্ভর করে পারিশ্রমিক নিচ্ছেন ১২ থেকে ২৫ টাকা।

থাই-মিস্ত্রিঃ
থাই-মিস্ত্রিরাও সাধারণত বর্গফুট হিসাব ধরে কাজ করেন। বর্তমানে তারা থাই দরজা ও জানালা তৈরির ক্ষেত্রে প্রতি বর্গফুট কাজের জন্য ১৫ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন।

ইলেকট্রিশিয়ানঃ
ইলেকট্রিশিয়ানের কাজের হিসাব সম্পূর্ণ ভিন্ন। তারা কাজ করেন পয়েন্ট হিসাব ধরে। প্রতি কনসোল (অভ্যন্তরীণ) পয়েন্টের জন্য ১৫০ টাকা আর বাটাম পয়েন্টের জন্য ৭০ টাকা থেকে ৮০ টাকা পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন।

কারিকা ডেক্সঃ


রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও রাস্তার মোড়ে সাত-সকালে প্রতিদিনই জমে নির্মাণ-শ্রমিকের হাট। এসব হাটে শ্রম বিক্রির জন্য ভিড় জমায় নির্মাণ-পেশার নানা দক্ষতার শ্রমিক। নির্মাণ-কাজে কখনও কর্মঘণ্টার হিসাব ধরে আবার কখনও চুক্তিতে পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন তারা। রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণ-শ্রমিকের হাট ঘুরে তাদের বর্তমান হাজিরা ও চুক্তিমূল্য জানাচ্ছেন জগলুল হায়দার

রাজমিস্ত্রি:
নির্মাণ-শ্রমিক বলতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সাধারণত আমরা রাজমিস্ত্রিকেই বুঝি। কারণ তাদের দক্ষ হাতেই গড়ে ওঠে শক্তিশালী স্থাপনা। বর্তমান বাজারে একজন রাজমিস্ত্রির কর্মঘণ্টা ৮ ঘণ্টা হিসাব ধরে তার হাজিরা-মূল্য ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা। আর তার সহযোগীর হাজিরা-মূল্য ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। চুক্তিতে নিচতলা পর্যন্ত প্রতি বর্গফুট কাজের পারিশ্রমিক ৭০ থেকে ৮০ টাকা। দোতলা পর্যন্ত কাজ সমাপ্ত করতে প্রতি বর্গফুটের পারিশ্রমিক ১৮০ টাকা। তবে সেপটিক ট্যাঙ্কের আলাদা মূল্য দিতে হয় তাদের। এক্ষেত্রেও প্রতি বর্গফুটের পারিশ্রমিক ১৮০ টাকা।

রডমিস্ত্রি:
বর্তমান বাজারে একজন রডমিস্ত্রির হাজিরা-মূল্য ৬০০ টাকা, সহযোগী রডমিস্ত্রির হাজিরা-মূল্য ৪০০ টাকা।

রংমিস্ত্রি:
একজন হেড রংমিস্ত্রির সারাদিনের (৮ ঘণ্টা) হাজিরা-মূল্য ৫০০ টাকা, সহযোগীর ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারা হাজিরার পরিবর্তে চুক্তিতে কাজ করে থাকেন।

কাঠমিস্ত্রি:
একজন কাঠমিস্ত্রির হাজিরা-মূল্য (৮ ঘণ্টা) ৫০০ টাকা, সহযোগীর ৪০০ টাকা। তবে কাঠমিস্ত্রিরা খাট, দরজা ও জানালা প্রস্তুতের ক্ষেত্রে চুক্তিতে কাজ করে থাকেন। একটি বঙ্খাট তৈরির ক্ষেত্রে ২০ হাজার টাকা (ফিনিশিং ও বার্নিশসহ), হাফ বঙ্খাট ১৫ হাজার টাকা, ইংলিশ খাট ৮ হাজার টাকা, দরজায় ৩ হাজার টাকার বেশি, জানালায় আড়াই হাজার টাকা, দরজার চৌকাঠে ১ হাজার টাকা ও জানালার চৌকাঠে দেড় হাজার টাকা পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন।

স্যানিটারি-মিস্ত্রি:
বাথরুম ও কিচেনের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সমাধান করে থাকেন স্যানিটারি-মিস্ত্রি। একজন স্যানিটারি-মিস্ত্রির বর্তমান হাজিরা-মূল্য ৬০০ টাকা আর সহযোগীর ৩৫০ টাকা।

টাইলস-মিস্ত্রি:
টাইলস-মিস্ত্রিরা বর্গফুট হিসাব ধরে কাজ করেন। একজন টাইলস-মিস্ত্রির হাজিরা-মূল্য ৬০০ টাকা আর সহযোগীর ৪০০ টাকা। তবে বেশিরভাগ টাইলস-মিস্ত্রি চুক্তিতে কাজ করে থাকেন। তারা বর্তমানে প্রতি বর্গফুটের পারিশ্রমিক নিচ্ছেন ১২ থেকে ১৫ টাকা।

থাই-মিস্ত্রি:
থাই-মিস্ত্রিরাও সাধারণত বর্গফুট হিসাব ধরে কাজ করেন। বর্তমানে তারা থাই দরজা ও জানালা তৈরির ক্ষেত্রে প্রতি বর্গফুট কাজের জন্য ১৫ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন।

ইলেকট্রিশিয়ান:
ইলেকট্রিশিয়ানের কাজের হিসাব সম্পূর্ণ ভিন্ন। তারা কাজ করেন পয়েন্ট হিসাব ধরে। প্রতি কনসোল (অভ্যন্তরীণ) পয়েন্টের জন্য ১৫০ টাকা আর বাটাম পয়েন্টের জন্য ৭০ টাকা থেকে ৮০ টাকা পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন।

কারিকা ডেক্সঃ


দরজা, জানালা ও গ্রিল-ব্যবস্থাপনাকে একটি ভবনের নিরাপত্তার সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্তর হিসেবে গণ্য করা হয়। যখন যে উপাদানের প্রচলন ছিল, তার সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই নির্মিত হয়েছে দরজা, জানালা ও গ্রিল। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনে বহুলাংশে ব্যবহৃত হচ্ছে লোহার তৈরি দরজা, জানালা ও গ্রিল। সম্প্রতি বাজার ঘুরে জানা যায়, কয়েক বছর আগেও রডের পাতি দিয়ে তৈরি গ্রিল ও তার সঙ্গে সংযুক্ত জানালার বেশ কদর ছিল। বর্তমানে সে-স্থান দখল করে নিয়েছে স্কয়ার বারের (চারকোনা রড) তৈরি গ্রিল ও তার সঙ্গে সংযুক্ত দরজা ও জানালা।
রাজধানীর ওয়ার্কশপ ব্যবসায়ীরা জানান, গ্রিল তৈরিতে বর্তমানে চাহিদার শীর্ষে রয়েছে স্কয়ার বার। আর এ চাহিদাকে পুঁজি করে দেশের শীর্ষ রড প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারে বিভিন্ন মানের স্কয়ার বার সরবরাহ করছে। যার বর্তমান কেজি-প্রতি দাম ৪৪ থেকে ৪৬ টাকা।
রাজধানীর খিলগাঁওয়ের সামিয়া ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের মালিক মো. মনজু মিয়া জানান, গ্রিল তৈরিতে পাতির ব্যবহার অনেকাংশে কমে এসেছে। তবে স্কয়ার বারের গ্রিল তৈরির ক্ষেত্রে মূল কাঠামোটি তৈরিতে স্কয়ার বারের ব্যবহার থাকলেও কাঠামোর ধাপে ধাপে ছিদ্র করে পাতির ব্যবহার করেই বর্তমান প্রচলিত স্কয়ার বারের গ্রিল তৈরি করতে হয়।
তিনি আরও জানান, গ্রিল তৈরিতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে চার সুতার স্কয়ার বার ও দেড় সুতার পাতি ব্যবহার করা হয়। বাজারদর নির্ণয় করা সাধারণত দু’ভাবে। অনেক ক্ষেত্রে কেজি হিসেবে, অনেক ক্ষেত্রে ফুট হিসেবে ধরে। কেজি হিসেবে ধরে আলাদাভাবে একটি গ্রিল তৈরিতে প্রতি কেজির মূল্য ৮০ টাকা। দৈর্ঘ্যরে ক্ষেত্রে প্রতি বর্গফুটের মূল্য ১৫০ টাকা। একইভাবে গ্রিলসহ বক্স জানালার প্রতি কেজির মূল্য ১০০ টাকা ও প্রতি বর্গফুটের মূল্য ৩৫০ টাকা। অনুরূপভাবে গ্রিলসহ সাধারণ জানালার প্রতি কেজির মূল্য ১০০ টাকা ও প্রতি বর্গফুটের মূল্য ৩২০ টাকা।
তার দেওয়া তথ্যানুসারে, ফ্ল্যাটবার ও প্লেইনশিটের তৈরি একটি সাধারণ মানের সাত ফুট বাই তিন ফুট আকৃতির দরজার দাম সাড়ে তিন হাজার টাকা। অনুরূপ আকৃতি ও উপাদানের কর্ণফুলি ডিজাইনের দরজার দাম ছয় হাজার টাকা ও বক্স দরজার দাম সাড়ে সাত হাজার টাকা। অপরদিকে, জিপিসহ একটি কেচি গেট তৈরিতে প্রতি বর্গফুটের দাম ৬০০ টাকা। জিপি ছাড়া হলে প্রতি বর্গফুটের দাম ৪৫০ টাকা। কেজি হিসেবে জিপিসহ প্রতি কেজির দাম ১২০ টাকা, জিপি ছাড়া প্রতি কেজির দাম ১০০ টাকা।

কারিকা ডেক্সঃ


দ্যা বিগ বেন্ড

আপনাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু ভবন কোনটি? হয়তো এক মুহূর্ত অপেক্ষা না করে বলে দেবেন ‘বুর্জ আল খলিফা’র নাম, যা সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অবস্থিত। তবে শিগগিরই এ তথ্য ভুলতে হবে আপনাকে। কারণ বিশ্বের উচ্চতম স্থাপনা বুর্জ আল খলিফাকে এবার চ্যালেঞ্জ করতে আসছে ‘দ্য বিগ বেন্ড’।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটনে তৈরি হতে চলেছে এই ভবন। এরই মধ্যে ‘দ্য বিগ বেন্ড’ তৈরির পরিকল্পনা শুরু হয়ে গেছে। ভবনটির উচ্চতা হবে ৪ হাজার ফুট বা ১.২২ কিলোমিটার!
ভবনটি নির্মাণে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা জানিয়েছে, ‘দ্য বিগ বেন্ড’ হবে ইংরেজি অক্ষর ‘ইউ’-এর উল্টো আকৃতির। তাই ভবনটির নামের সঙ্গে ‘বেন্ড’ শব্দটি যুক্ত করা হয়েছে। পুরো ভবনটি কাচ দিয়ে ঘেরা থাকবে। অনুভূমিক ও উলম্বভাবে ভবনটিতে চলাচলের জন্য সেখানে থাকবে বিশেষ লিফটের ব্যবস্থা। ভবনের উপরিতল বাঁকা হওয়ায় সেখানে যাতে লিফটের কোনো সমস্যা না হয়, সে দিকটাও নজর রাখা হবে। সংস্থার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যদি এ রকম বাঁকানো ভবন তৈরি করতে পারা যায়, তাহলে এটাই হবে ম্যানহাটনের সবচেয়ে গর্বের বিষয়। একই সঙ্গে এটাই হবে বিশ্বের উচ্চতম ভবন।

screen-shot-2017-03-23-at-23-47-52

দ্যা বিগ বেন্ড

 

উল্লেখ্য, বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল পাঁচতারা হোটেল ‘বুর্জ আল খলিফা’ ১৫০ কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মিত। রকেটের মতো দেখতে এ ভবনটি ২ হাজার ৭১৭ ফুট উঁচু। ৬০ মাইল দূর থেকেও ভবনটি দেখা যায়। ভবনের ৭৬ তলায় রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচুতে অবস্থিত সুইমিংপুল ও ১৫৮ তলায় সবচেয়ে উঁচুতে অবস্থিত মসজিদ। নির্মাণের সময় নাম ছিল ‘বুর্জ দুবাই’। তবে আবুধাবির শাসক শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সম্মানে ভবনের নাম বুর্জ দুবাইয়ের পরিবর্তে ‘বুর্জ আল খলিফা’ রাখা হয়েছে। ৬ লাখ বর্গফুট বিশিষ্ট এ ভবনে এক সঙ্গে ১২ হাজারেরও বেশি লোকের সমাবেশ হতে পারে। বুর্জ ভবনে ৫৪টি এলিভেটর বা লিফট আছে।
অপরদিকে, বিগ বেন্ডের আগে প্রস্তাবিত দীর্ঘতম অট্টালিকা ছিল সৌদি আরবের ‘জেদ্দা টাওয়ার’। যার উচ্চতা ৩,৩০৭ ফুট (১.০০৮ কিলোমিটার)। ২০২০ সাল নাগাদ জেদ্দা টাওয়ারের নির্মাণ কাজ শেষ হবে।

আর্কিটেক্টম্যাগাজিন.কম ও অন্যান্য ওয়েবসাইট অবলম্বনে

‘দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানো’ বলে একটা প্রবাদ আছে। বাথটাবে গোসল করা যেন সে রকমই এক ব্যাপার! আধুনিক ফ্ল্যাটের ভেতর এক টুকরো পুকুর! শহরের বাড়ির সামনে তো আর পুকুর মেলে না, তাই এই ব্যবস্থা। সাধারণত বিত্তশালীদের বাড়ি বা ফ্ল্যাটেই বাহারি বাথটাবের দেখা মেলে। যেখানে শুয়ে-বসে শাওয়ার নেওয়া হয়। এমনকি দাঁড়িয়ে শাওয়ার নেওয়ার মতো বাথটাবও দেখা যায়।
সারা দিন কাজের পর ঘরে ফিরে বাথটাবে কুসুম গরম পানিতে গোসল করার মজাই আলাদা। এতে যেন সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। ঋতুরাজ বসন্ত চলছে। সামনে গ্রীষ্মকাল। অবশ্য এখনই গরম টের পাওয়া যাচ্ছে। এ সময় বাথটাবে গোসল করে পুকুর-নদীর সামান্য তৃপ্তি মেটানো যেতেই পারে। শহরের স্যানিটারি-পণ্যের দোকানগুলোতে বাথটাব বিক্রি বাড়ছে। সাধারণত ফ্ল্যাটের মাস্টার-বাথরুমগুলোতে বাথটাব ব্যবহার করা হয়।
সাধারণ বাথটাব, জ্যাকুজি ইত্যাদি বাথটাব বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। এসব বাথটাবে আপনি শুয়ে-বসে যেকোনো ভঙ্গিতে গোসল করতে পারেন। দাঁড়িয়ে গোসল করার জন্য আছে ‘স্টুডিও বাথটাব’। আকৃতি ও নকশাভেদে এসব বাথটাবের দাম পড়বে সাড়ে চার হাজার থেকে ৭৫ হাজার টাকার মধ্যে জানালেন হাতিরপুলের আল আমান স্যানিটারির বিক্রয়কর্মী মো. জসিম উদ্দিন। অবশ্য বিশেষায়িত কিছু বাথটাবের দাম লাখ টাকারও বেশি।
রাজধানী ঢাকার গ্রিনরোড, পান্থপথ, হাতিরপুল, কলাবাগান, নিউমার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড, স্টেডিয়াম মার্কেট, গুলিস্তান, মৌচাক, মগবাজারসহ নানা হার্ডওয়্যার ও স্যানিটারির দোকানে খোঁজ করলেই পেয়ে যাবেন পছন্দের বাথটাব।
আরএকে সিরামিকসের সেলস বিভাগের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ সৈয়দ সাইফুল ইসলাম জানান, আমাদের দেশীয় সিরামিকস কোম্পানিগুলো এখনও বাথটাব উৎপাদনে সেভাবে কাজ শুরু করেনি। এখনও এ খাতের ব্যবসা আমদানিনির্ভর। তিনি জানান, মূলত ইতালি, কোরিয়া, ভিয়েতনাম থাইল্যান্ড, চীন ও ভারত থেকে বিভিন্ন আকৃতি, নকশা ও মানের বাথটাব আমদানি করা হয়।
আল আমান স্যানিটারির বিক্রয়কর্মী মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আরসি ফাইবার নামের দেশীয় একটি প্রতিষ্ঠান বাথটাব তৈরি করে। তবে মানের দিক দিয়ে দেশি বাথটাব ততটা উন্নত নয়। বিদেশি বাথটাবের দাম একটু বেশি হলেও দীর্ঘস্থায়ী হয়। দীর্ঘদিন ব্যবহারেও রঙের হেরফের হয় না। অর্থাৎ ডিসকালার হয় না। বিদেশি বাথটাবগুলোর ক্ষেত্রে দেশভেদে ৫ বছর থেকে ১০ বছরের ওয়ারেন্টি দেওয়া হয়।’
বাথটাব কেনার পর তা ফিটিং করার সময় সতর্ক থাকতে হবে। অভিজ্ঞ ও দক্ষ স্যানিটারি মিস্ত্রি দিয়ে বাথটাব ফিট করা উচিত। এতে বাথটাব মাপমতো বসানোর পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। কারণ বাথটাব বাথরুমে বসানোর সময় ভারসাম্য ঠিক না থাকলে পরবর্তী সময়ে তা দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা মূলত বাথটাব বিক্রি করে থাকে। বাসায় ফিটিং করে দেওয়ার দায়িত্ব নেয় না। তবে কোনো ক্রেতা যদি স্যানিটারি মিস্ত্রির খোঁজ চান, তখন তারা দক্ষ মিস্ত্রির খোঁজ দিয়ে সহযোগিতা করেন।
বাথরুমের আয়তনের ওপর নির্ভর করে বাথটাবটি কীভাবে রাখবেন। বাথরুম যদি আয়তাকার হয় তাহলে বাথরুমের একপাশে বাথটাব রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিক্রেতারা। বাথরুমের দেয়ালের টাইলসের সঙ্গে মিলিয়ে বাথটাব লাগালে সুন্দর দেখায়। তবে সাদা ও অফ হোয়াইট রঙের বাথটাব সব রঙের সঙ্গে যায়। বাথরুমে বেসিন কমোড শুষ্ক জায়গায় থাকে। তাই বাথটাবের পাশে গ্লাস লাগিয়ে পার্টিশন দেওয়া যেতে পারে। টেম্পার গ্লাস হলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা কমে যাবে। বাজারে বিভিন্ন ধরনের ডেকোরেটিভ গ্লাসও রয়েছে। গ্লাস লাগাতে না চাইলে বাথরুমের টাইলস বা রঙের সঙ্গে মিলিয়ে লাগিয়ে নিতে পারেন শাওয়ার কার্টেন বা পর্দা।
অধিক সৌন্দর্যের জন্য বাথটাবের ওপর ছোট রঙিন আলো কিংবা ঝাড়বাতি লাগানো যেতে পারে। বাথটাব লাগানোর পর বাথরুম ছোট মনে হলে বাথটাবের বিপরীত দেয়ালে বড় আয়না লাগিয়ে নিলে বাথরুম অনেক বড় দেখাবে। তাছাড়া দেয়ালে সাদা টাইলস ব্যবহার করলেও বাথরুম অনেক বড় দেখায়। বাথটাব লাগানো বাথরুমের ফ্লোরে স্লিপ রেসিস্ট্যান্ট টাইলস ব্যবহার করা ভালো। এছাড়া বাথটাবের পাশে কিংবা কিছুটা ওপরে কেবিনেটের মতো করে সেখানে গোসলের প্রয়োজনীয় জিনিস রাখা যায়।