Home বাজার দর

কারিকা ডেক্সঃ


দ্যা বিগ বেন্ড

আপনাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু ভবন কোনটি? হয়তো এক মুহূর্ত অপেক্ষা না করে বলে দেবেন ‘বুর্জ আল খলিফা’র নাম, যা সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অবস্থিত। তবে শিগগিরই এ তথ্য ভুলতে হবে আপনাকে। কারণ বিশ্বের উচ্চতম স্থাপনা বুর্জ আল খলিফাকে এবার চ্যালেঞ্জ করতে আসছে ‘দ্য বিগ বেন্ড’।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটনে তৈরি হতে চলেছে এই ভবন। এরই মধ্যে ‘দ্য বিগ বেন্ড’ তৈরির পরিকল্পনা শুরু হয়ে গেছে। ভবনটির উচ্চতা হবে ৪ হাজার ফুট বা ১.২২ কিলোমিটার!
ভবনটি নির্মাণে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা জানিয়েছে, ‘দ্য বিগ বেন্ড’ হবে ইংরেজি অক্ষর ‘ইউ’-এর উল্টো আকৃতির। তাই ভবনটির নামের সঙ্গে ‘বেন্ড’ শব্দটি যুক্ত করা হয়েছে। পুরো ভবনটি কাচ দিয়ে ঘেরা থাকবে। অনুভূমিক ও উলম্বভাবে ভবনটিতে চলাচলের জন্য সেখানে থাকবে বিশেষ লিফটের ব্যবস্থা। ভবনের উপরিতল বাঁকা হওয়ায় সেখানে যাতে লিফটের কোনো সমস্যা না হয়, সে দিকটাও নজর রাখা হবে। সংস্থার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যদি এ রকম বাঁকানো ভবন তৈরি করতে পারা যায়, তাহলে এটাই হবে ম্যানহাটনের সবচেয়ে গর্বের বিষয়। একই সঙ্গে এটাই হবে বিশ্বের উচ্চতম ভবন।

screen-shot-2017-03-23-at-23-47-52

দ্যা বিগ বেন্ড

 

উল্লেখ্য, বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল পাঁচতারা হোটেল ‘বুর্জ আল খলিফা’ ১৫০ কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মিত। রকেটের মতো দেখতে এ ভবনটি ২ হাজার ৭১৭ ফুট উঁচু। ৬০ মাইল দূর থেকেও ভবনটি দেখা যায়। ভবনের ৭৬ তলায় রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচুতে অবস্থিত সুইমিংপুল ও ১৫৮ তলায় সবচেয়ে উঁচুতে অবস্থিত মসজিদ। নির্মাণের সময় নাম ছিল ‘বুর্জ দুবাই’। তবে আবুধাবির শাসক শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সম্মানে ভবনের নাম বুর্জ দুবাইয়ের পরিবর্তে ‘বুর্জ আল খলিফা’ রাখা হয়েছে। ৬ লাখ বর্গফুট বিশিষ্ট এ ভবনে এক সঙ্গে ১২ হাজারেরও বেশি লোকের সমাবেশ হতে পারে। বুর্জ ভবনে ৫৪টি এলিভেটর বা লিফট আছে।
অপরদিকে, বিগ বেন্ডের আগে প্রস্তাবিত দীর্ঘতম অট্টালিকা ছিল সৌদি আরবের ‘জেদ্দা টাওয়ার’। যার উচ্চতা ৩,৩০৭ ফুট (১.০০৮ কিলোমিটার)। ২০২০ সাল নাগাদ জেদ্দা টাওয়ারের নির্মাণ কাজ শেষ হবে।

আর্কিটেক্টম্যাগাজিন.কম ও অন্যান্য ওয়েবসাইট অবলম্বনে

‘দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানো’ বলে একটা প্রবাদ আছে। বাথটাবে গোসল করা যেন সে রকমই এক ব্যাপার! আধুনিক ফ্ল্যাটের ভেতর এক টুকরো পুকুর! শহরের বাড়ির সামনে তো আর পুকুর মেলে না, তাই এই ব্যবস্থা। সাধারণত বিত্তশালীদের বাড়ি বা ফ্ল্যাটেই বাহারি বাথটাবের দেখা মেলে। যেখানে শুয়ে-বসে শাওয়ার নেওয়া হয়। এমনকি দাঁড়িয়ে শাওয়ার নেওয়ার মতো বাথটাবও দেখা যায়।
সারা দিন কাজের পর ঘরে ফিরে বাথটাবে কুসুম গরম পানিতে গোসল করার মজাই আলাদা। এতে যেন সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। ঋতুরাজ বসন্ত চলছে। সামনে গ্রীষ্মকাল। অবশ্য এখনই গরম টের পাওয়া যাচ্ছে। এ সময় বাথটাবে গোসল করে পুকুর-নদীর সামান্য তৃপ্তি মেটানো যেতেই পারে। শহরের স্যানিটারি-পণ্যের দোকানগুলোতে বাথটাব বিক্রি বাড়ছে। সাধারণত ফ্ল্যাটের মাস্টার-বাথরুমগুলোতে বাথটাব ব্যবহার করা হয়।
সাধারণ বাথটাব, জ্যাকুজি ইত্যাদি বাথটাব বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। এসব বাথটাবে আপনি শুয়ে-বসে যেকোনো ভঙ্গিতে গোসল করতে পারেন। দাঁড়িয়ে গোসল করার জন্য আছে ‘স্টুডিও বাথটাব’। আকৃতি ও নকশাভেদে এসব বাথটাবের দাম পড়বে সাড়ে চার হাজার থেকে ৭৫ হাজার টাকার মধ্যে জানালেন হাতিরপুলের আল আমান স্যানিটারির বিক্রয়কর্মী মো. জসিম উদ্দিন। অবশ্য বিশেষায়িত কিছু বাথটাবের দাম লাখ টাকারও বেশি।
রাজধানী ঢাকার গ্রিনরোড, পান্থপথ, হাতিরপুল, কলাবাগান, নিউমার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড, স্টেডিয়াম মার্কেট, গুলিস্তান, মৌচাক, মগবাজারসহ নানা হার্ডওয়্যার ও স্যানিটারির দোকানে খোঁজ করলেই পেয়ে যাবেন পছন্দের বাথটাব।
আরএকে সিরামিকসের সেলস বিভাগের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ সৈয়দ সাইফুল ইসলাম জানান, আমাদের দেশীয় সিরামিকস কোম্পানিগুলো এখনও বাথটাব উৎপাদনে সেভাবে কাজ শুরু করেনি। এখনও এ খাতের ব্যবসা আমদানিনির্ভর। তিনি জানান, মূলত ইতালি, কোরিয়া, ভিয়েতনাম থাইল্যান্ড, চীন ও ভারত থেকে বিভিন্ন আকৃতি, নকশা ও মানের বাথটাব আমদানি করা হয়।
আল আমান স্যানিটারির বিক্রয়কর্মী মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আরসি ফাইবার নামের দেশীয় একটি প্রতিষ্ঠান বাথটাব তৈরি করে। তবে মানের দিক দিয়ে দেশি বাথটাব ততটা উন্নত নয়। বিদেশি বাথটাবের দাম একটু বেশি হলেও দীর্ঘস্থায়ী হয়। দীর্ঘদিন ব্যবহারেও রঙের হেরফের হয় না। অর্থাৎ ডিসকালার হয় না। বিদেশি বাথটাবগুলোর ক্ষেত্রে দেশভেদে ৫ বছর থেকে ১০ বছরের ওয়ারেন্টি দেওয়া হয়।’
বাথটাব কেনার পর তা ফিটিং করার সময় সতর্ক থাকতে হবে। অভিজ্ঞ ও দক্ষ স্যানিটারি মিস্ত্রি দিয়ে বাথটাব ফিট করা উচিত। এতে বাথটাব মাপমতো বসানোর পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। কারণ বাথটাব বাথরুমে বসানোর সময় ভারসাম্য ঠিক না থাকলে পরবর্তী সময়ে তা দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা মূলত বাথটাব বিক্রি করে থাকে। বাসায় ফিটিং করে দেওয়ার দায়িত্ব নেয় না। তবে কোনো ক্রেতা যদি স্যানিটারি মিস্ত্রির খোঁজ চান, তখন তারা দক্ষ মিস্ত্রির খোঁজ দিয়ে সহযোগিতা করেন।
বাথরুমের আয়তনের ওপর নির্ভর করে বাথটাবটি কীভাবে রাখবেন। বাথরুম যদি আয়তাকার হয় তাহলে বাথরুমের একপাশে বাথটাব রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিক্রেতারা। বাথরুমের দেয়ালের টাইলসের সঙ্গে মিলিয়ে বাথটাব লাগালে সুন্দর দেখায়। তবে সাদা ও অফ হোয়াইট রঙের বাথটাব সব রঙের সঙ্গে যায়। বাথরুমে বেসিন কমোড শুষ্ক জায়গায় থাকে। তাই বাথটাবের পাশে গ্লাস লাগিয়ে পার্টিশন দেওয়া যেতে পারে। টেম্পার গ্লাস হলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা কমে যাবে। বাজারে বিভিন্ন ধরনের ডেকোরেটিভ গ্লাসও রয়েছে। গ্লাস লাগাতে না চাইলে বাথরুমের টাইলস বা রঙের সঙ্গে মিলিয়ে লাগিয়ে নিতে পারেন শাওয়ার কার্টেন বা পর্দা।
অধিক সৌন্দর্যের জন্য বাথটাবের ওপর ছোট রঙিন আলো কিংবা ঝাড়বাতি লাগানো যেতে পারে। বাথটাব লাগানোর পর বাথরুম ছোট মনে হলে বাথটাবের বিপরীত দেয়ালে বড় আয়না লাগিয়ে নিলে বাথরুম অনেক বড় দেখাবে। তাছাড়া দেয়ালে সাদা টাইলস ব্যবহার করলেও বাথরুম অনেক বড় দেখায়। বাথটাব লাগানো বাথরুমের ফ্লোরে স্লিপ রেসিস্ট্যান্ট টাইলস ব্যবহার করা ভালো। এছাড়া বাথটাবের পাশে কিংবা কিছুটা ওপরে কেবিনেটের মতো করে সেখানে গোসলের প্রয়োজনীয় জিনিস রাখা যায়।

সাবরিনা মিলি


স্থাপত্যের নান্দনিকতা আমাদের বরাবরই মুগ্ধ করে। স্থপতিদের চিন্তাভাবনা মাঝে মাঝে আমাদের কল্পনাকেও পেছনে ফেলে যায়।তাদের অপার সৃষ্টি নিয়ে আলোচনা চলে পৃথিবীর একোন থেকে সেকোনে।

বুর্জ খলিফা, সুবিশাল এই স্থগাপনার স্থপতি হলেন যুক্তরাষ্ট্রের স্কিডমোর ওয়িংস অ্যান্ড মেরিল (ওএমেস)এর অড্রিয়ান স্মিথ এবং প্রধান স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার বিল বাকের। স্থাপনার সাথে আরো যুক্ত ছিলেন প্রায় ৩৮০ জন দক্ষ প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদ।এর নকশা প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান হলো যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্কিডমোর ওয়িংস অ্যান্ড মেরিল নামের একটি প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে দক্ষিণ কোরিয়ার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্যামসাং, বেলজিয়ামের বিইএসআই এক্স গ্রুপ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের আর্বটেক।

বুর্জ খলিফাঃ  একুশ শতকের সবচেয়ে গগনচুম্বী বিল্ডিং বুর্জ খালিফা আরব আমিরাতের দুবাই শহরে অবস্থিত। এটি নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০০৪ সালে এবং শেষ হয় ২০০৯ সালে। ২০১০ সালের ৪ জানুয়ারী ভবনটি উদ্বোধন করা হয়।রকেটের মত দেখতে বিল্ডিংটির মোট উচ্চতা ২৭১৭ ফিট। এটি নির্মাণে মোট ব্যয় হয় ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশী টাকায় এর পরিমাণ ১১ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা।নির্মাণের সময় এটির নাম ছিল বুর্জ দুবাই। পরবর্তিতে উদ্বোধনীর সময় আবুধাবির শাসক এবং প্রেসিডেন্ট খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের প্রতি সম্মান রেখে এটির নামকরন করা হয় বুর্জ খালিফা।‘বুর্জ খলিফা’ আরবি শব্দ, এর বাংলা অর্থ ‘খলিফার টাওয়ার’।

স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যঃ বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল এই বিল্ডিংটি ২০৭৩ ফিট উঁচ্চতার সাংহাই টাওয়ারকে ফিছনে ফেলে বর্তমানে উচ্চতায় বিশ্বের সকল বিল্ডিং য়ের শির্ষে রয়েছে। ২৭১৭ ফিট উচ্চতার এই বিল্ডিংটি ১৬৩ তলাবিশিষ্ট। যার বিভিন্ন তলাতে রয়েছে বিশ্বের আরো কয়েকটি রেকর্ডের গল্প। যেমন এই বিল্ডিংটির ৭৬ তলায় রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে উচু সুইমিংপুল। অন্যদিকে ১৫৮ তলায় আছে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচুতে অবস্থিত মসজিদ। এসকল রেকর্ডের পাশাপাশি রয়েছে আত্মহত্যা রেকর্ডও। চালু হওয়ার মাত্র ১৮ মাস পর  ২০১১ সালের  ১০মে তারিখ এক ব্যক্তি বিল্ডিংটির ১৪৬ তলা থেকে লাফিয়ে পড়ার পর ৩৮ তলায় পড়ে নিহত হন। এটিই হচ্ছে সবচেয়ে উঁচু স্থান থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করার রেকর্ড।

ভবনের ১৯ থেকে ৩৭ তলা এবং ৭৭ থেকে ১০৮ তলায় থাকার ব্যবস্থা আছে।যা বিশ্বে সচেয়ে উঁচু বাসস্থানের রেকর্ড গড়েছে। বিল্ডিংটিতে প্রায় ৯০০টি অ্যাপার্টমেন্ট আছে । ১৫৮তলায় একটি মসজিদ আছে। ৪৩তম এবং ৭৬তম তলায় আছে দুটি সুইমিং পুল। আরো আছে ১৬০ কক্ষবিশিষ্ট একটি হোটেল। ১২৪তম তলায় দর্শকদের জন্য রয়েছে প্রকৃতি দর্শনের সুব্যবস্থা।

৬ লাখ বর্গফুটবিশিষ্ট এ বিল্ডিয়ে একসঙ্গে ১২ হাজারেরও বেশি লোকের সমাবেশ হতে পারে। বিল্ডিংটিতে ৫৪টি লিফট আছে।এগুলোর গতি ঘণ্টায় ৪০ মাইল। যা একই সাথে বিশ্বের দীর্ঘ এবং  দ্রুততম লিফট। স্থাপত্যের এই অনন্য নিদর্শনটি আপনি ৬০ মাইল বা ৯৫ কিলো মিটার দূর থেকেও দেখতে পাবেন।

বিল্ডিংটি ওয়াই আকৃতিতে তৈরি করা হয়েছে যাতে বৈরী আবহাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত না হয় বা ভেঙে না পড়ে। এর ওজন সমভাবে বহন নিশ্চিত করতে তিনটি উইং রয়েছে।

বুর্জ খলিফার মালিক দুবাইয়ের রিয়েল এস্টেট কোম্পানি ইমার প্রপার্টিসের মতে, দুবাইয়ে শত শত ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রির অপেক্ষায় থাকলেও ক্রেতাদের দৃষ্টি ছিল বুর্জ খলিফাতে।

 

 

 

 

 

কারিকা ডেস্ক :
সিমেন্ট কোম্পানি হোলসিম বাংলাদেশকে কিনে নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট। ১১ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯৩৬ কোটি টাকায় হোলসিমকে কিনে নেবে লাফার্জ। বুধবার লাফার্জ সুরমা সিমেন্টের পরিচালনা পর্ষদের বিশেষ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের সিমেন্টের যে বাজার, তাতে আলাদাভাবে অষ্টম ও নবম অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে লাফার্জ ও হোলসিম। এখন দুটি কোম্পানি এক হয়ে গেলে সিমেন্টের বাজারে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে যাবে এটি। তখন তাদের বাজার অংশ হবে ১০ শতাংশের বেশি। শীর্ষে অবস্থানকারী শাহ সিমেন্টের বাজার অংশ হচ্ছে সাড়ে ১৪ শতাংশ। সিমেন্ট খাতের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এ বছর শেষে বাংলাদেশে সিমেন্টের বাজারটির আকার বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকায়।
লাফার্জের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের বিশেষ সভায় হোলসিম বাংলাদেশের শতভাগ শেয়ার কেনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। এর আগে গত ২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত লাফার্জের পর্ষদ সভা শেষে জানানো হয়েছিল, হোলসিমের সঙ্গে লাফার্জের একীভূত ব্যবসার সম্ভাবনা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
এর আগে ২০১৪ সালের এপ্রিলে বৈশ্বিকভাবে লাফার্জ ও হোলসিম একীভূত হওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। সেই অনুযায়ী, বৈশ্বিকভাবে কোম্পানি দুটির একীভূত কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। ফলে বিশ্বের সিমেন্ট খাতে জায়ান্ট দুই কোম্পানি এক ছাতার নিচে এসে ‘লাফার্জহোলসিম’ হিসেবে যাত্রা শুরু করে। এতে করে দুই কোম্পানি মিলে হয়ে যায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় সিমেন্ট কোম্পানি।
বৈশ্বিকভাবে একীভূত হওয়ার পর বাংলাদেশেও কোম্পানি দুটি একীভূতকরণের বিষয়টি সামনে চলে আসে। কারণ, এ দেশেও দুই কোম্পানির আলাদা কার্যক্রম ছিল। এর মধ্যে লাফার্জ সুরমা বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হলেও হোলসিম তালিকাভুক্ত নয়। তাই এ দেশে লাফার্জ ও হোলসিমের একীভূত হওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা জটিলতা থাকায় তাতে কিছুটা বিলম্ব ঘটে। শেষ পর্যন্ত হোলসিমকে কিনে নেওয়ার মাধ্যমে এ জটিলতা নিরসনের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে লাফার্জকে।

কারিকা ডেস্ক :
বাড়ির সৌন্দর্য ফুটে উঠে রঙের উপর। তাই তো চিন্তায় থাকেন কোন রং করাবেন? কোন রং করালে বাড়ি আরও সুন্দর দেখাবে।
এখনকার সময়ে গাঢ় রঙেরই চল বেশি। তাই বেছে নিতে পারেন পছন্দসই কোনও রং। এতে বাড়ির সৌন্দর্য ফুটে উঠে।
বাড়িতে রং করানোর আগে অনেককিছু খেয়াল রাখতে হবে। যেমন আপনি যদি চান রঙে ড্যাম্প না ধরে তবে বর্ষার আগেই করা ভালো। রইল কিছু টিপস—
ফাঙ্কি ইয়লো
বেডরুম, ডাইনিং বা অন্যান্য জায়গার জন্য এই রংটি আদর্শ হতে পারে। বিশেষ করে ঘরের বারান্দা, সিঁড়ি, ব্যালকনি, বাগানে এই ধরনের রং বেশ মানানসই। শুধু ঘরের কথা বাদ দিলে, রান্নার সরঞ্জামও কিনতে পারেন এই রঙের। তাহলে আপনার ডিনার টেবিল বা কফি ট্রে আরও উজ্জ্বল ও মানানসই দেখাবে।
লাইল্যাকস্ ও পার্পল
ঘরে নরম রঙের ছোঁয়া আনতে ব্যবহার করতে পারেন এই রংগুলি। তবে সরাসরি না করে, তার সঙ্গে ধূসর বা নীল রংও মিশিয়ে নিতে পারেন। এতে গরমের দিনেও ঘরে একটা আলাদা স্পন্দন পাবেন আপনি। এর সঙ্গে ঘরের প্রবেশ পথে ল্যাভেন্ডার গাছ, ল্যাভেন্ডার কালারের ল্যাম্প শেড, ডোর ম্যাট ও পর্দা ভালো মানাবে।
ব্রিঞ্জল
এ বছর ঘরের জন্য রোমাঞ্চের রং হল এই ব্রিঞ্জল বা বেগুনি রং। আপনি লাল ও কমলা রঙে একঘেঁয়ে বোধ করলে এবার ঘর রং করাতে পারেন বেগুনি রঙে। এতে আপনার লিভিং রঙের চাকচিক্যই বদলে যাবে। দেখতে লাগবে অনেক বেশি সফিস্টিকেডেট। ঘরের দেওয়াল বেগুনি হলে তার সঙ্গে মানাবে লাল, সবুজ ও হলুদ রঙের সজ্জা সামগ্রী। তাতে ঘরে একটা কম্বিনেশন লুকও আসবে।
মিল্কি ব্লু
এই রঙের সব জিনিসই সবসময় একটা আলাদা আবেদন রাখে। তাই ঘর রঙিন করতে পারেন মিল্কি ব্লু রং দিয়েও। গরমের সময় বেশ ভালোই মানাবে এই রং।
ব্লাশিং পিঙ্ক
ঘর রং করতে পারেন গোলাপি রঙেও। তার সঙ্গে ঘরের কোণায় কোণায় বা দেওয়া ব্রোঞ্জ়ের রঙের নকশা এনে দেবে আলাদা মাত্রা।
বোল্ড গ্রিন
শুধু গৃহসজ্জার উপকরণ হিসেবেই নয়। এই রংটি দেওয়াল এমনকী শুধু সিলিংয়েও ভালোই মানায়।

কারিকা ডেস্ক :
নোনা ধরা দেয়াল ভালো রাখতে ঘরে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন বা বাতাস চলাচলের সুবিধা থাকা প্রয়োজন। দেয়ালের ড্যাম্প পুরোপুরি সারিয়ে তোলা বেশ ব্যয়সাপেক্ষ। দেয়ালের পুরনো প্লাস্টার তুলে ড্যাম্প নিরোধক কেমিক্যাল ব্যবহার করে তারপর আবার প্লাস্টার করতে হবে। পুরনো দেয়ালে ছত্রাক জন্মালে রং করার আগে তা চেঁছে তুলে ফেলতে হবে। তারপর দেয়ালে অ্যান্টি-ফাঙ্গাশ সলিউশন ব্যবহার করুন। এতে দেয়ালের রং দীর্ঘস্থায়ী হবে। অবশ্যই দেয়ালের বাইরে ও ভেতরে ড্যাম্প নিরোধক রং ব্যবহার করতে হবে। ড্যাম্প দেয়ালে চুন রং ব্যবহার না করাই ভালো। এতে ছত্রাক আরো দ্রুত হয়। ড্যাম্প দেয়ালে রং করতে সাধারণত চারটি ধাপ অনুসরণ করতে হয়। ধাপগুলো হলো— সারফেস প্রিপারেশন, প্রাইমার বা আস্তর, পুটি, রঙের কোট।
সারফেস প্রিপারেশন :
প্লাস্টার ভালোভাবে শুকাতে হবে এবং খুব ভালোভাবে কিউরিং হতে হবে। প্লাস্টার করার ৪৫ দিন পর রং করা উচিত। রং শুরু করার আগে যেকোনো ধরনের ড্যাম্প, স্যাঁতসেঁতে, ভেজা বা নষ্ট থাকলে তা ঠিক করে নিন। এরপর পাথর বা স্যান্ডস্টোন দিয়ে ভালোভাবে ঘষে নিতে হবে। প্লাস্টার করা দেয়াল সমতল হতে হবে। সমতল না থাকলে পাথর দিয়ে ঘষে সমতল করতে হয়। এতে আলগা ময়লা বা অন্য কিছু থাকলে সরিয়ে ফেলতে হবে। এরপর চুনের পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললে ভালো হয়। এতে প্লাস্টার ভালোভাবে শুকিয়ে যায়। শেষে স্যান্ডপেপার বা শিরিষ কাগজ দিয়ে ঘষে নিন।
প্রাইমার বা আস্তর:
সারফেস প্রিপারেশন হলে পরে প্রাইমার বা আস্তর দিতে হয়। এক আস্তর দেওয়া হয় এই প্রাইমার। মূলত প্লাস্টার ও রঙের মধ্যে আঠালো সম্পর্ক তৈরি করে এই প্রাইমার। প্রতি গ্যালনে প্রাইমার ৪৫ স্কয়ার মিটার আস্তর দেওয়া যায়। রোলার বা ব্রাশ দিয়ে প্রাইমার দেওয়া হয়। দেওয়ার আগে এই প্রাইমার পানি দিয়ে পাতলা করে নেওয়া হয়। এটি আঠালো সম্পর্ক তৈরি হওয়ার পাশাপাশি সারফেসকে মসৃণ করে। এ ছাড়া শোষণক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং রং সুন্দরভাবে ও বেশি জায়গায় ছড়িয়ে দেয়।
পুটি:
কোনো ফাটল বা সমস্যা থাকলে পুটি করা হয়। একে ছিট পুটিও বলা হয়। কমপক্ষে চার দিন এই পুটি শুকিয়ে নিতে হবে। বেশি পুটি যেখানে থাকবে, সেখানে স্ক্র্যাপ করে নিতে হবে। এক গ্যালন প্লাস্টিক পেইন্টের সঙ্গে এক লিটার এনামেল পেইন্ট ও ২৫ কেজি চক পাউডার মিশিয়ে এই পুটি তৈরি করা হয়।
রঙের কোট :
রং দুই থেকে তিনবার প্রলেপ দেওয়া হয়। প্রথম প্রলেপের পর সাত দিন শুকানোর সময় দিতে হবে। এরপর দ্বিতীয় প্রলেপ দেওয়া হয়। এতেও যদি রং ভালো না হয়, যেমন—পরিচ্ছন্ন না হয়ে ছোপ ছোপ থাকে বা রং হালকা হয় তাহলে দ্বিতীয় প্রলেপের তিন দিন পর তৃতীয় প্রলেপ দেওয়া হয়। প্রথম প্রলেপের সঙ্গে সর্বোচ্চ ২০ ভাগ পানি মেশানো হয়। দ্বিতীয় প্রলেপের সঙ্গে সর্বোচ্চ ১৫ ভাগ পানি মেশানো হয়। ড্যাম্প, স্যাঁতসেঁতে বা ভেজা দেয়ালে পেইন্ট করা যাবে না। আর্দ্রতা ২০ থেকে ৫০ ভাগের মধ্যে থাকতে হবে। সরাসরি সূর্যের আলো যেন রং করার সময় না আসে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
বাইরের দেয়ালকে ঝড়-বৃষ্টি মোকাবিলা করতে হয়। তাই বাইরের দেয়ালে ব্যবহার করুন অ্যাক্রেলিক ইমালশন। দেয়ালের জন্য সাধারণত ডিসটেম্পার ও প্লাস্টিক পেইন্ট এই দুই ধরনের রং ব্যবহার করা যায়। তবে রং বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান থেকে জেনে নিন  আপনার কেনা রঙের মেয়াদকাল। সে অনুযায়ী বাড়ির পুরনো রং তুলে নতুন করে রং করিয়ে নিন। সাধারণত পুরনো বাড়ির ক্ষেত্রে বাইরের দেয়াল তিন বছর পর পর রং করা উচিত। ভেতরের দেয়ালের রং সাধারণত পাঁচ বছর পর্যন্ত উজ্জ্বল থাকে। দেয়ালের রং খুব ভালোভাবে শুকিয়ে গেলে সিলার ব্যবহার করতে পারেন। এতে দেয়াল মসৃণ ও রং দীর্ঘদিন ভালো থাকবে।

কারিকা ডেস্ক :
এ বৌদ্ধ বিহারটির ভূমি-পরিকল্পনা চতুষ্কোনাকার। উত্তর ও দক্ষিণ বাহুদ্বয় প্রতিটি ২৭৩.৭ মি এবং পূর্ব ও পশ্চিম বাহুদ্বয় ২৭৪.১৫ মি। এর চারদিক চওড়া সীমানা দেয়াল দিয়ে ঘেরা ছিল। সীমানা দেয়াল বরাবর অভ্যন্তর ভাগে সারিবদ্ধ ছোট ছোট কক্ষ ছিল। উত্তর দিকের বাহুতে ৪৫টি এবং অন্য তিন দিকের বাহুতে রয়েছে ৪৪টি করে কক্ষ। এই কক্ষগুলোর তিনটি মেঝে আবিষ্কৃত হয়েছে। প্রতিটি মেঝে বিছানো ইঁটের ওপর পুরু সুরকী দিয়ে অত্যন্ত মজবুত ভাবে তৈরি করা হয়েছিলো। সর্বশেষ যুগে ৯২টি কক্ষে মেঝের ওপর বিভিন্ন আকারের বেদী নির্মাণ করা হয়। এ থেকে অনুমান করা যায় যে, প্রথম যুগে সবগুলো কক্ষই ভিক্ষুদের আবাসকক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হলেও পরবর্তীকালে কিছু কক্ষ প্রার্থনাকক্ষে রুপান্তর করা হয়েছিলো।
কক্ষগুলোর প্রতিটিতে দরজা আছে। এই দরজাগুলো ভেতরের দিকে প্রশস্ত কিন্তু বাইরের দিকে সরু হয়ে গেছে। ভেতরের দিকে কক্ষগুলোর দৈর্ঘ্য ৪.২৬ মি এবং প্রস্থ ৪.১১ মি। কক্ষের পেছনের দিকের দেয়াল অর্থাৎ সীমানা দেয়াল ৪.৮৭মি এবং সামনের দেয়াল ২.৪৪মি চওড়া। কক্ষগুলোর সামনে ২.৫মি প্রশস্ত টানা বারান্দা আছে। ভেতরের দিকের উন্মুক্ত চত্বরের সাথে প্রতিটি বাহু সিঁড়ি দিয়ে যুক্ত।
বিহারের উত্তর বাহুর মাঝ বরাবর রয়েছে প্রধান ফটক। এর বাইরের ও ভেতরের দিকে একটি করে স্তম্ভ সম্বলিত হলঘর এবং পাশে ছোট ছোট কুঠুরি আছে। এই কুঠুরিগুলো বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হত। প্রধান ফটক এবং বিহারের উত্তর-পূর্ব কোনের মাঝামাঝি অবস্থানে আরও একটি ছোট প্রবেশ পথ ছিলো। এখান থেকে ভেতরের উন্মুক্ত চত্বরে প্রবেশের জন্য যে সিঁড়ি ব্যবহৃত হত তা আজও বিদ্যমান। উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিম বাহুতেও অনুরুপ সিঁড়ির ব্যবস্থা ছিলো। এদের মাঝে কেবল পশ্চিম বাহুর সিঁড়ির চিহ্ন আছে। উত্তর বাহুর প্রবেশ পথের সামনে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত একটি পুকুর ছিল। ১৯৮৪-৮৫ সালের খননে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী প্রথম নির্মাণ যুগের পরবর্তী আমলে এ পুকুর খনন করা হয় এবং এসময় এ অংশের সিঁড়িটি ধ্বংস করে দেয়া হয়। পরবর্তীকালে পুকুরটি ভরাট করে দেয়া হয়।
বিহারের অন্তর্বর্তী স্থানের উন্মুক্ত চত্বরের মধ্যবর্তী স্থানে রয়েছে কেন্দ্রীয় মন্দিরের ধ্বংশাবশেষ। এখন এটি ২১মি উঁচু হলেও মূল মন্দিরটি কমপক্ষে ৩০ মি উঁচু ছিল। তিনটি ক্রমহ্রাসমান ধাপে ঊর্ধ্বগামী এ মন্দিরের ভূমি-পরিকল্পনা ক্রুশাকার। প্রতিটি ক্রুশবাহুর দৈর্ঘ্য-প্রস্থ ১০৮.৩ মি ও ৯৫.৪৫মি। কুশের মধ্যবর্তী স্থানে আরও কয়েকটি অতিরিক্ত দেয়াল কৌণিকভাবে যুক্ত। মূল পরিকল্পনাটির কেন্দ্রে দরজা-জানালা বিহীন একটি শূন্যগর্ভ চতুষ্কোণাকার প্রকোষ্ঠ আছে। এই প্রকোষ্ঠটি মন্দিরের তলদেশ থেকে চূড়া পর্যন্ত বিস্তৃত। মূলতঃ এ শূন্যগর্ভ প্রকোষ্ঠটিকে কেন্দ্র করেই সুবিশাল এ মন্দিরের কাঠামো নির্মিত। এ কক্ষের চারদিকে মন্দিরের দ্বিতীয় ধাপে চারটি কক্ষ ও মন্ডপ নির্মাণ করা হয়েছে। এর ফলেই মন্দিরটি ক্রুশাকার ধারণ করেছে। মন্দির পরিকল্পনার সমান্তরালে দেয়াল পরিবেষ্টিত প্রদক্ষিণ পথ আছে। অনুরুপভাবে প্রথম ধাপে দ্বিতীয় ধাপের প্রদক্ষিণ পথের দেয়ালের চারদিকে চারটি কক্ষ যুক্ত করে ক্রুশাকৃতি বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে এবং এর সমান্তরালে প্রদক্ষিণ পথ নির্মাণ করা হয়েছে। প্রথম ধাপের সমান্তরালে মন্দিরের ভিত্তিভূমির পূর্ব, পশ্চিম ও দক্ষিণ দিকে দেয়াল তৈরি করা হয়েছে। উত্তর দিকের মধ্যবর্তীস্থলে সিঁড়ি ছিল। পরবর্তিতে এ সিঁড়ি ধ্বংস করে তার উপর কিছু নতুন কাঠামো নির্মাণ করা হয়।
কেন্দ্রীয় শূন্যগর্ভ কক্ষে একটি ইঁট বাধানো মেঝে আবিষ্কৃত হয়েছে। এ মেঝে কক্ষের বাইরে চারদিকের কক্ষ ও মন্ডপের প্রায় একই সমতলে অবস্তথিত। কিন্তু চারদিকের কক্ষগুলো থেকে কেন্দ্রীয় এ কক্ষে যাওয়ার কোন পথ বা দরজা নেই এবং আগে ছিলো,পরে বন্ধ করা হয়েছে এমন কোন প্রমাণও পাওয়া যায় না। তাই অনুমিত হয় ফাঁপা এ দন্ডটি মন্দিরের সুউচ্চ দেয়ালগুলোর সুদৃঢ় নির্মানের জন্য একটি উপকরণ ছিল। মূর্তিগুলো সম্ভবত এর চারদিকের কক্ষগুলোতে স্থাপন করা হয়েছিলো। মন্দিরের শীর্ষদেশের কোন নিদর্শন নেই বিধায় এর ছাদ সম্বন্ধে সুস্পষ্ট কিছু বলা যায় না।
কেন্দ্রীয় শূন্যগর্ভ কক্ষটির দেয়াল নিরাভরণ কিন্তু প্রতিটি ধাপের দেয়ালগুলোর বহির্ভাগ উদগত কার্নিশ, অলংকৃত ইঁট এবং সারিবদ্ধ পোড়ামাটির ফলকচিত্র দ্বারা সজ্জিত। ক্রুশাকার পরিকল্পনার বর্ধিত অংশগুলোর সংযোগস্থলে কার্নিশের প্রান্ত পর্যন্ত পানি নিষ্কাশন নালার ব্যবস্থা আছে। পাথর নির্মিত এ নালাগুলোর মুখ গর্জনরত সিংহের মুখের অবয়বে নির্মিত। এর প্রতিটিতে একটি করে পাথরের ভাস্কর্য ছিলো।

কারিকা ডেস্ক :
বাংলাদেশের বিশাল উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই স্থাপনা নির্মাণের জন্য লবণসহিঞ্চু বিশেষায়িত সিমেন্ট বাজারে আনছে দেশের খ্যাতনামা শিল্প প্রতিষ্ঠান ডায়মন্ড সিমেন্ট লিমিটেড (ডিসিএল)। ডায়মন্ড কোস্টাল প্লাস নামের প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে তৈরি এই সিমেন্ট উপকূলীয় রুক্ষ জলবায়ুর বিরুদ্ধে স্থাপনাকে দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরোধের শক্তি দেবে বলে জানিয়েছে উ‍ৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটি।
সম্প্রতি চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডায়মন্ড কোস্টাল প্লাস সিমেন্ট বাজারে আনার ঘোষণা দেন ডায়মন্ড সিমেন্টের পরিচালক লায়ন হাকিম আলী।
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার নাফ নদীর মোহনা থেকে সাতক্ষীরার রায়মঙ্গল কালিন্দী নদী পর্যন্ত বাংলাদেশের উপকূল অঞ্চলের দৈর্ঘ্য ৭১০ কিলোমিটার।  চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের মোট ১৪টি উপকূলীয় জেলায় বিস্তৃত বিশাল এই অঞ্চলে বাস করে চার কোটিরও বেশি মানুষ।
বিশাল এই উপকূলীয় অঞ্চলে কংক্রিট স্থাপনার সুরক্ষার কথা চিন্তা করে ব্যাপক গবেষণার মাধ্যমে ডায়মন্ড কোস্টাল প্লাস সিমেন্ট তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন হাকিম আলী।
উপকূলীয় অঞ্চলে বাঁধ, জেটি, আশ্রয়কেন্দ্র, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, জলাধার, সাগরের পানি ও সালফেটে উন্মুক্ত মেরিন কংক্রিট এবং জলে ডুবে থাকা যে কোন স্ট্রাকচার, পানি ও পয়:নিস্কাশন পাইপলাইন ও ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, ব্রিজ, কালভার্ট, বহুতল ভবনসহ যে কোন ধরনের কংক্রিট কাঠামো নির্মাণে ডায়মন্ড কোস্টাল প্লাস একটি আদর্শ সিমেন্ট বলে মন্তব্য করেন হাকিম আলী।
সংবাদ সম্মেলনে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণসহিঞ্চু সিমেন্ট ব্যবহারের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম প্রযুক্তি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুর:প্রকৌশল বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক ড. সাদেকুল ইসলাম সাদী।
উপকূলীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থাপনার ছবি উপস্থাপন করে ড.সাদী বলেন, সমুদ্র লবণে থাকা ক্লোরাইড আয়রণের প্রভাবে উপকুলীয় এলাকায় কংক্রিট নির্মিত স্থাপনার ইস্পাতে সহজেই মরিচা ধরে যায়।  কংক্রিটের ভেতরে অতিমাত্রায় নুন ও আর্দ্রতা জমে গিয়ে ইস্পাতে মরিচা পড়ে এবং পুরো কাঠামোয় ক্ষয় ও ফাটল দেখা দেয়।  এর ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দূর্বল হয়ে পড়ে স্থাপনা।
‘তাই ক্লোরাইড আয়ন বা লবনাক্ততার অনুপ্রবেশ ঠেকানোর জন্যে ঘনবদ্ধ অভেদ্য কংক্রিট ব্যবহার জরুরি।  কিন্তু বাংলাদেশের বাজারে সেই ধরনের বিশেষায়িত কোন সিমেন্ট নেই।  ডায়মন্ড কোস্টাল প্লাস বাজারে এলে সেটি উপূকলীয় এলাকার স্থাপনার সুরক্ষার জন্য সহায়ক হবে। ’ বলেন ড.সাদী।
তিনি বলেন, ডায়মন্ড কোস্টাল প্লাস সিমেন্ট বিশেষ প্রক্রিয়ায় তৈরি ব্লাস্টফার্নেস পোর্টল্যান্ড স্ল্যাগ সিমেন্ট।  বাজারে এখন যেসব সিমেন্ট আছে অর্থাৎ অর্ডিনারি পোর্টল্যান্ড সিমেন্ট (ওপিসি) এবং পোর্টল্যান্ড কম্পোজিট সিমেন্টের লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ ঠেকানোর ক্ষমতা নেই।  এক্ষেত্রে স্ল্যাগ সিমেন্টই একমাত্র উপযোগী।
সংবাদ সম্মেলনে ডায়মন্ড সিমেন্ট লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক (সেলস এন্ড মার্কেটিং) জসীম উদ্দিন খোন্দকার, মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) এবিএম কামালউদ্দিন এবং উপ-মহাব্যবস্থাপক (সেলস এন্ড মার্কেটিং) আবদুর রহিম।
এছাড়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক ও জনপথ বিভাগের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

0 994
কারিকা ডেস্ক:
বহুতল ভবনের ওপরে ওঠার জন্য অপরিহার্য লিফট। হুড়মুড় করে লিফটে ওঠানামা ঠিক নয়, অন্যান্য গণপরিবহন ব্যবহারের মতো লিফটে চড়ারও রয়েছে কিছু আদবকেতা। জেনে নিন সেগুলো-
সাধারণত ইংরেজি ফ্লোর হিসেবে লিফটের ফ্লোর নম্বর দেওয়া হয়। তবে কিছু ভবনে ব্যতিক্রম থাকে। সে ক্ষেত্রে আগেই জেনে নিন বিল্ডিংয়ে কত তলায় যাবেন আর সেটা লিফটের কত নম্বর।
খুব জরুরি না হলে দুই বা তিনতলায় ওঠার জন্য লিফট ব্যবহার না করাই ভালো।
বেঁধে দেওয়া সীমার চেয়ে অতিরিক্ত ওজনের জিনিসপত্র নিয়ে উঠবেন না। অপেক্ষা করুন। লিফটে চাপ যখন কম থাকবে তখন মালপত্র ওঠানামার কাজ সেরে ফেলুন।
কোনো পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে লিফটে দেখা হয়ে গেলে তার সঙ্গে সৌজন্যমূলক হাসি কিংবা কুশলবিনিময় সারতে পারেন লিফটে। তবে খেয়াল রাখবেন, সেটা যেন কোনো আড্ডায় রূপ না নেয়। লিফটে নিজেকে কিছুটা সংকুচিত করে রাখাই লিফটের ভদ্রতা।
লাইনে দাঁড়ান, ধীরেসুস্থে লিফটে উঠুন ও নামুন। লিফটে কথা কম বলুন। নিতান্তই বলতে হলে নিচু স্বরে বলুন। লিফটে গুনগুনিয়ে গান করা, তালি দেওয়া, আড়মোড়া ভাঙা, আঙুল ফোটানো-এসব করা চলবে না।
লিফটে চিপস, পপকর্ন, পানি, সফট ড্রিংকস খাবেন না। লিফটে উঠে সেলফোন, প্যাড কিংবা ট্যাবে জোরে গান বাজাবেন না। লিফটের ভেতর পারফিউম ব্যবহার করা বা ধূমপান করা মোটেই উচিত হবে না।
‘লেডিস ফার্স্ট’-এ প্রথা লিফটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। লিফটে লাইনে যে যেভাবে দাঁড়াবে, তাকে সেভাবেই উঠতে দিন। অতিরিক্ত সৌজন্যবোধে আবার হিতেবিপরীত হতে পারে। তবে অসুস্থ বা শিশু হলে ভিন্ন কথা।
লিফট যদি হাসপাতালের হয়, তাহলে রোগীই অগ্রাধিকার পাবে-সন্দেহ নেই। রোগীর স্ট্রেচার বা হুইল চেয়ার আগে যেতে দিন।
লিফটে উঠে ধীরেসুস্থে নিজের ফ্লোর-বাটনে প্রেস করুন। আপনি যদি লিফট বাটন থেকে দূরে থাকেন, তাহলে সামনের জনকে অনুরোধ করুন। কাউকে ধাক্কা দিয়ে বা ডিঙিয়ে বাটন প্রেস করতে যাবেন না। আর লিফটম্যান থাকলে তাকেই ফ্লোর নম্বর বলে দিন।
নিজে ঢোকার পর অন্যদের ঢোকা ও দাঁড়ানোর জন্য জায়গা করে দিন। আর কল বাটন চেপে থাকলে এলিভেটর না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।

কারিকা ডেস্ক :
মেট্রো রেল প্রকল্প ও বাস রেপিড ট্রানজিটের (বিআরটি) বাস ডিপো নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দুটি কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। ঢাকা শহরের যানজট নিরসন ও আধুনিক নগর যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে এই দুই প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় মেট্রো রেলের মোট ৬টি রুট থাকবে। এর মধ্যে উত্তরা থেকে শাপলা চত্বরের (রুট-৬) কাজ আগে শেষ হবে। ২০১৯ সালের মধ্যে উত্তরা থেকে আগারগাঁও এবং ২০২০ সালে শাপলা চত্বর পর্যন্ত মেট্রো রেল নির্মাণ কাজ শেষ হবে। প্রতি ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন করবে মেট্রো রেল।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছিলেন, ২০২০ সালের মধ্যে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রো রেল নির্মাণ কাজ শেষ করার লক্ষ্য ঠিক করা হলেও প্রথম পর্যায়ে ২০১৯ সালের মধ্যে আগারগাঁও পর্যন্ত বাণিজ্যিক চলাচল শুরুর আশা করছে সরকার।
প্রকল্পে অর্থায়নকারী জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (জাইকা) সূত্রে জানা গেছে, এমআরটি-৬ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। এ প্রকল্পে ১৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা দেবে জাইকা। বাকি ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ সরকার।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, উত্তরা থেকে মিরপুর ও ফার্মগেট হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত যাতায়াত করবে দ্রুত গতির মেট্রো রেল। উত্তরা তৃতীয় পর্যায় থেকে পল্লবী, রোকেয়া সরণীর পশ্চিম পাশ ও ফার্মগেট, হোটেল সোনারগাঁও, রূপসী বাংলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, দোয়েল চত্বর, তোপখানা রোড ও বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত ২০ দশমিক ১ কিলোমিটার রুটে চলাচল করবে এটি।
এই যাত্রা পথে ১৬টি স্টেশন থাকবে- উত্তরা নর্থ, সেন্ট্রাল ও সাউথ, পল্লবী, মিরপুর-১১, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, তালতলা, আগারগাঁও, বিজয় সরণী, ফার্মগেট, সোনারগাঁও, জাতীয় জাদুঘর, দোয়েল চত্বর, বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম এবং বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতি স্টেশনে ৪ মিনিট করে থামবে প্রস্তাবিত মেট্রোরেল। প্রতি ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন করতে পারবে এটি।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, এমআরটি লাইন-৬ চালু হলে মহনগরীর যাত্রী সাধারণ চলাচলের সুবিধা পাবেন এবং ক্রমবর্ধমান এই নগরীর যানজট থেকে মুক্তি পাবেন। ফুটপাতে স্বচ্ছন্দে চলাফেরা করতে পারবেন পথচারীরা। একইসঙ্গে সড়কে চলাচলকারী মানুষের চাপ কমাবে এই নতুন পরিবহন ব্যবস্থা। ভূমি উন্নয়ন ও ডিপো এলাকার স্থাপনা নির্মাণে ৫৬৭ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ২০১৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি এমআরটি লাইন ৬ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য জাইকার সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সরকার। গত মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে ডিপো স্থাপনের জন্য আন্তজাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে বাছাইকৃত জাপানি প্রতিষ্ঠান টোকিও কন্সট্রাকশন কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।
মন্ত্রী আরো বলেছেন, এমআরটি লাইন ৬ অনুযায়ী বিদ্যমান রুট পরিবর্তনের আর কোন সম্ভাবনা নেই। কারণ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ইতোমধ্যে অনুমোদন করেছে। সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সাউন্ডপ্রুফ মেশিন সংযুক্ত করা হয়েছে এতে। কারণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার ভবন, টিএসসি এবং জাতীয় জাদুঘরের পাশ দিয়ে যাতায়াত করবে এই মেট্রো রেল।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিআরটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের বড় অংশ দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক।