Home মূল কাগজ আপন আবাস ঘরের সৌন্দর্য সুখদর্শন

ঘরের সৌন্দর্য সুখদর্শন

0 2134

সুখদর্শন নামটি অনেকাংশেই যথার্থ। কারণ ফুলটির বর্ণবৈভব মনকে প্রফুল্ল করবে। তবে পোশাকি নাম টাইগার লিলি। এ এক দুঃখ আমাদের, দীর্ঘদিন ধরেই অনেকগুলো বিদেশি নাম বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। গাছপালা কোনো ভৌগলিক সীমা মানে না। সেই সূত্রে আমাদের দেশেও এসেছে অনেক দূর-দুরান্তের গাছ। কিন্তু আমরা তাদের নাম দিয়ে আপন করে নিতে পারিনি। ইদানিং এখানেও অনেক ধরনের লিলি পাওয়া যায়, কিন্তু বেশিরভাগ লিলিরই কোনো বাংলা নাম নেই। সে তুলনায় সুখদর্শন ভাগ্যবতী। তার একটা সুন্দর নাম জুটেছে। তবে অন্যান্য লিলির মতো এই ফুল খুব একটা সহজলভ্য নয়। কেউ কেউ টবেও চাষ করেন। টবে চাষ করার জন্য আবার রোদ-বৃষ্টি প্রয়োজন। মাঝে মাঝে খোলা আকাশের নিচে রাাখলে গাছটি তার বেঁচে থাকার প্রয়োজনীয় উপাদান সংগ্রহ করতে পারবে। ফুল সারাবছর না থাকলেও এ-গাছের পাতার সৌন্দর্যও দারুণ উপভোগ্য। তবে টবে চাষ করার জন্য একটু বড় ধরনের টব নির্বাচন করাই উত্তম। ঢাকায় বলধা গার্ডেন, শিশু একাডেমির বাগান, ইস্কাটন লেডিস ক্লাব, মিরপুর জাতীয় উদ্ভিদউদ্যানসহ বিভিন্ন বাগানে সুখদর্শন চোখে পড়ে।

সুখদর্শন (Crinum amabile) পিঁয়াজকন্দীয় গাছ, কা- অনেকটা কাঠকচুর মতো, গোড়ায় পাতার গুচ্ছসহ ১ মিটারের মতো উঁচু হতে পারে। পাতা আনারস পাতার মতো লম্বা তবে গড়নের দিক থেকে আরো পুরু, ভারি, আগা চোখা ও উজ্জ্বল সবুজ। ফুল ফোটার প্রধান মৌসুম গ্রীষ্মের শেষভাগ থেকে বর্ষা অবধি। বর্ষার ভেজা বাতাসে ফুলের মধুরিম সুবাস ভেসে বেড়ায়। পাতার কোল থেকে বের হওয়া লম্বা, চ্যাপ্টা ও পুরু মঞ্জরিদন্ডের আগায় পুটকে ঢাকা অনেকগুলো গাঢ়-বেগুনি কলি ক্রমান্বয়ে ফুটতে থাকে। ফুল সুগন্ধি ও লম্বা, দলনলের আগায় ছড়ান ৬টি পাপড়ির উপরটা সাদাটে, নিচের দিক গাঢ়-বেগুনি বা গাঢ়-লাল। জন্মস্থান দক্ষিণ আফ্রিকা হলেও বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় সব উষ্ণম-লীয় অঞ্চলেই ছড়িয়ে পড়েছে।

মোকারম হোসেন

NO COMMENTS

Leave a Reply