Home মূল কাগজ ইন্টেরিয়ার বর্ষায় সবুজ বাড়ি

বর্ষায় সবুজ বাড়ি

0 2022

কর্মব্যস্ত দিন। মন প্রফুল্ল রাখার কত উপায়ই না আমরা খুঁজি আজকাল। কীভাবে নিজেকে সুস্থ রাখা যায়, সেই সঙ্গে ঘরবাড়ি এবং প্রকৃতিতে কতটা আনা যায় সবুজের ছোঁয়া। একটা সময় গাছপালার সবুজ আমাদের ঘিরে রাখত। আর এখন এক টুকরো সবুজের আশায় আমাদের ছুটতে হয় ঢাকার বাইরে। রাজধানীতে সবুজের দেখা মেলা ভার। এমন একটা সময় ছিল যখন বাড়ির উঠোনে থাকত ফুলের বাগান। পেছন দিকে থাকত ফল-কিংবা সবজির আবাদ; এখন যা শুধুই স্মৃতি। স্মৃতি হাতড়িয়ে শুধু আফসোস না করে আপনি আপনার বারান্দা কিংবা ছাদটাকেই বানিয়ে নিতে পারেন ছোট্ট এক টুকরো বাগান। বর্ষাকালের দরুন এখন বিভিন্ন স্থানে হচ্ছে বৃক্ষমেলা। তাই গাছ সংগ্রহ করে মনের মতো বাগান বানিয়ে নিন ছাদ বা বারান্দায়। কীভাবে আপনার বাসায় গাছের পরিমাণ বাড়িয়ে এই বর্ষায় ইন্টেরিয়রে আনতে পারেন নজরকাড়া পরিবর্তন, তারই নানা পরামর্শ দিয়েছেন ইন্টেরিয়র ডিজাইনার নাজরানা লোপা

বারান্দায় সন্ধ্যায় হাসনাহেনার সুবাস কে না নিতে চায়? কিংবা বেলি ফুলের স্নিগ্ধতা? আর নানারূপের পাতাবাহারে চনমনে মনের অনুভূতি কার না কাম্য? এজন্য বারান্দায় গ্রিল ঘেঁষে আপনি টবেই লাগাতে পারেন নানা ফুল এবং পাতাবাহারের গাছ। ইচ্ছে করলে ছাদেও করতে পারেন ফুলবাগান। আর বারান্দার পরিসর যদি একটু বড় হয়, তাহলে ফুলের পাশাপাশি টুকটাক করে নিতে পারেন কিছু সবজির চাষ।

বাসার বারান্দা কিংবা ছাদে ফুলের দৃষ্টিনন্দন গাছ তো থাকবেই, সেই সঙ্গে টবেই এখন ইচ্ছে করলে চাষ করতে পারেন পুঁইশাক বা ডাঁটাশাকের মতো সবজিগুলো। তাই ফুলের পাশাপাশি ভোজনরসিকদের স্বাদ মেটাবে নিজের চাষ করা এসব সবজি।
ছাদে যদি সবজি ফলানোর জন্য বেড তৈরি করার কোনো সুযোগ থাকে, তাহলে প্রথমেই ১০ ফুট দীর্ঘ এবং ১ ফুট প্রস্থের একটি বেড তৈরি করে নিন। আর বারান্দায় টবেই লাগাতে পারেন এসব। তবে ছাদ থেকে একটু উঁচুতে বেড বানানো ভালো। তাহলে জমানো মাটি ছাদে জলাবদ্ধতা তৈরি করতে পারবে না। এ ক্ষেত্রে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা যথাযথ হওয়া চাই। তারপর প্রস্তুত করে নিতে হবে মাটি। এজন্য ঝুরঝুরে দোআঁশ মাটিই ভালো হবে। মাটির এক-তৃতীয়াংশ শুকনো গোবর সার, ২৫০ গ্রাম সরিষার খৈল এবং ১০ গ্রাম পটাশ ও টিএসপি পানি মিশিয়ে সাত দিন ভিজিয়ে রাখতে হবে। মাটি শুকিয়ে গেলে বেড বা টবে রাখার পর চারা লাগানোর কাজ শুরু করতে হবে। এই মৌসুমে আপনি চাষ করতে পারেন বরবটি, করলা, শসা, ক্যাপসিকাম, ডাঁটাশাক, কলমিশাক, ঢেঁড়শ, পুঁইশাক, পাটশাক, পুদিনা ও থানকুনির। আশপাশের বিভিন্ন নার্সারিতে এসব গাছের চারা মোটামুটি সহজলভ্য। এ ধরনের শাকসবজির জন্য খুব বেশি গভীর মাটি বা বেডের প্রয়োজন হয় না। যদি বেড করার কোনো সুযোগ না থাকে, তাহলে বড় মাপের টবে যেসব গাছ রয়েছে, তার গোড়ায়ই বুনে দিতে পারেন এসব শাকসবজি। এ মৌসুমে ভালো ফলন পেতে হলে দুইবেলা সেচ দেওয়া প্রয়োজন। ভালোভাবে পরিচর্যা করতে পারলে অল্প সময়ের মধ্যেই ফলন পাওয়া সম্ভব। নিজের হাতে বোনা বাগানের এসব টাটকা শাকসবজি খাওয়ার চেয়ে দেখেই অনেক আনন্দ।

শাকসবজিতে পোকামাকড়ের আক্রমণ একটু বেশিই থাকে। সুতরাং এ ক্ষেত্রে কীটনাশক ব্যবহার জরুরি। রাসায়নিক কীটনাশকের চেয়ে প্রাকৃতিক ও স্বাস্থ্যসম্মত কীটনাশক ব্যবহার করাই উত্তম। নিজেই বানিয়ে নিতে পারেন কীটনাশক। ১০০ গ্রাম শুকনো মরিচের গুঁড়ো ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে এক রাত ভিজিয়ে রেখে সকালে কাপড় দিয়ে ছেঁকে নিতে হবে। তারপর অল্প পরিমাণ গুঁড়ো সাবান মিশিয়ে ঝাঁকিয়ে একটু ফেনা করে নিলেই ¯েপ্র করা যাবে। রোদ থাকা অবস্থায় ¯েপ্র করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
নিয়ম করে বিকেলে সন্তানের সান্নিধ্যে বাবা-মা খুব সহজেই করতে পারেন এই ছাদ বাগান কিংবা বারান্দা বাগান। মনের খোরাক বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ঝিরিঝিরি সবুজের সমারোহে হেসে উঠবে আপনার আবাস।

NO COMMENTS

Leave a Reply